বক্তৃতা প্রশিক্ষণ
ডায়লগ: বিজ্ঞানীরা বলেন যে, শিম্পাঞ্জী আর মানুষের জীনের মধ্যে কেবলমাত্র ২শতাংশ পার্থক্য আছে। এই দুই শতাংশ আর কিছু নয়, মানুষের জ্ঞান আর কথা বলার ক্ষমতা।
ছন্দ:
সাহসীর কি না হয়,
ভীতুর কি না ভয়।
বিস্তারিত: বক্তৃতা প্রশিক্ষণ কেন
➲ আপনি কি মাইকের মুখোমুখি হতে ভয় পান?
➲ মাইকের সামনে দাঁড়ালে কি আপনার মুখ থেকে কথা বের হয় না?
➲ আপনার কি মনে হয়, ভাল করে কথা বলতে না পারার কারণে অনেক সুযোগ হারিয়ে ফেলছেন?
➲ আপনার মাথায় যেসব চিন্তা বা আইডিয়া আসে, সেসব কি আপনি কথায় গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারেন না?
➲ আপনি কি কথা বলার নিজস্ব দুর্বলতার কারণে বেশি বন্ধু-বান্ধবী বানাতে পারেন না?
➲ আপনি কি আলোচনা সভায় নিজেকে নেতা হিসাবে তুলে ধরতে পারেন না?
যদি উপরের এইসব গুণগুলির মধ্যে একটিরও উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে এই অধ্যায় আপনাকে নতুনভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে সহায়তা করবে।
আমি বিভিন্ন ধরণের নানা দলের সঙ্গে কাজ করে এমন অনেক মানুষের সংস্পর্শে এসেছি, যাদের অসাধারণ বুদ্ধি ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। এরা যে অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না, তা নয়। এদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাববশত সবার সঙ্গে মিশতে পারে না।
অধিবেশনের মূক অংশগ্রহণকারী মনে মনে ভাবে, ‘আমার মতামত হয়তো একেবারেই অর্থহীন। কিছু বললে নিজের বোকামি প্রকাশ করা হবে, তার চেয়ে চুপ করে থাকা ভালো। বাকিরা হয়তো আমার চেয়ে বেশি জানে। আমি সবার সামনে নিজের অজ্ঞতা প্রমাণ করতে চাই না।’
যতবার এই মূক ব্যক্তি কথা বলতে ব্যর্থ হয়, সে আরো অসম্পূর্ণ অনুভব করে, আরো বেশি হীনম্মন্যতায় ভোগে। এটা খুবই জরুরি, যতবার এই মূক অংশগ্রহণকারী কথাবার্তায় অংশ নেওয়ার ব্যর্থ হয়, ততবার আত্মবিশ্বাসের অভাব তাকে আরো বেশি ভীতু করে তোলে। সে নিজের ওপর আস্থা হারায়।
অথচ, আপনি যত বেশি আলোচনায় অংশ নেবেন ততই বাড়বে আপনার আত্মবিশ্বাস, পরেরবার আলোচনায় অংশ নেওয়া সহজ হবে। কথা বলুন, এটা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ভিটামিন।
সব উন্ম্ক্তু আলোচনায় অংশ নিন। মন্তব্য জানান, মতামত প্রকাশ করুন, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। আর সবার শেষে কথা বলবেন না। সবার প্রথমে আলোচনায় প্রথম বক্তা হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।
যদি কেউ আপনার মন্তব্যের সঙ্গে একমত না হয়, হয়তো আরেকজন হবে। ‘কথা বলাটা কি ঠিক হবে’ নিজেকে এ প্রশ্ন করা বন্ধ করুন। বরঞ্চ, আলোচনায় নেতৃস্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন যাতে আপনার অংশগ্রহণ সহজ হয়।
বক্তৃতা শিক্ষার মূল পাঠ
বক্তৃতা শিক্ষার প্রথম পাঠ হল, নিজের মনের ভয় জড়তা কাটিয়ে উঠার জন্য নিয়মিত বন্ধুদের মাঝে স্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলা, গ্রুপ ডিসকাশন আর সভা-সমিতিতে এ্যাঙ্কারিং করার অভ্যাস করতে হবে। দ্বিতীয় পাঠ হল- কেনো অনুষ্ঠানে বক্তৃতার দেবার জন্য মাথায় প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাড় করে নিতে হবে।
তথ্য সংগ্রহের উৎস: ইন্টারনেট, বইপত্র, পত্রিকা, সে বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি। আপনাকে যে বিষয়ে বক্তব্য রাখতে হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে সে বিষয় সম্পর্কিত সঠিক তথ্যগুলি একত্রিত করুন। এছাড়া ভাষণকে মনোজ্ঞ করে তোলার জন্য কেনো হালকা সংক্ষিপ্ত গল্প, জোকস, ছন্দ, প্রবাদ-প্রবচন, প্রশংসাবাক্য, স্মৃতিকথা ইত্যাদি একত্রিত করুন। তথ্য সংগ্রহ করতে আপনাকে বেশ পরিশ্রম করতে হবে।
তথ্য বাছাই: শ্রোতাদের বয়স, শিক্ষা ও আর্থিক অবস্থা মাথায় রেখে তথ্যগুলি বাছুন। তথ্যকে কখনো অতিরঞ্জিত করে পেশ করবেন না। তথ্য বাছাইয়ে অশ্লীল, অভদ্র, আক্রমণাত্মক বা মূল্যবোধে আঘাত করে এমন কোনো বিষয় রাখবেন না।
প্রতিটি বক্তৃতা হচ্ছে একটি জীবিত প্রাণীর মত। সে বক্তৃতার শরীর ও হাত পা থাকে। মাথা শরীর আর শেষ থাকে; যেগুলো পরষ্পরের সংগে যুক্ত হয়ে বক্তৃতাকে সম্পূর্ণ করে। বক্তৃতা বা ভাষণের তিনটি অংশ থাকে।
১। ভূমিকা ২। মধ্যবর্তী আলোচনা / বিশ্লেষণ ৩। উপসংহার।
বক্তব্যটা যদি ১০ মিনিটের হয়, তাহলে ভূমিকার জন্য ২ মিনিট, আলোচনা ৬ মিনিট এবং উপসংহারের জন্য ২ মিনিট বরাদ্ধ করুন। ৫ মিনিটের বক্তৃতা হলে ১+৩+২ এভাবে ভাগ করুন।
ভূমিকা:
♦ মাইক আর মুখের মধ্যে তিন-চার ইঞ্চি দূরত্ব রাখুন।
♦ শুরুতে পূজনীয়, সম্মানীয় ইত্যাদি বলে নামের দীর্ঘ সূচি তৈরি করবেন না।
♦ শুরুটা সংক্ষিপ্ত অথচ চিত্তাকর্ষক হতে হবে।
♦ ক্ষমা প্রার্থনা করে বা কোনো অপারগতা প্রকাশ করে শুরু করবেন না।
♦ নিজের ব্যস্ততা ব্যাখ্যা করে শুরু করবেন না।
♦ বক্তৃতার শুরুতে কোনো অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে উল্লেখ করবেন না।
♦ শুরুতে কোনো আকর্ষণীয় কথা বা তথ্য বা শ্লোক দিয়ে শ্রোতাদের মনযোগ টেনে নিন।
♦ শ্রোতাদের সংকোচ দূর করে তাদের সহজ করে তুলুন।
♦ সভায় বক্তৃতা দেবার সময় জোরে কথা বলুন যাতে শেষ বেঞ্চের লোকও শুনতে পায়।
বক্তৃতার মধ্যবর্তী অংশ
♦ সমস্যার মূল কারণ সম্পর্কে বলুন। যেমন-পানি সংকট নিয়ে যদি হয় আপনার বক্তৃতা, তাহলে পানির সমস্যাটার মূলে কোন কারণ, তা তুলে ধরুন।
♦ সমস্যার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করুন।
♦ এই সমস্যা চলতে থাকলে পরিণতি কি হবে, তা তুলে ধরুন।
♦ কোথায় কোন অপব্যবহার আটকানো দরকার, তা বলতে হবে।
♦ কিভাবে নিরাপদে সমস্যার সমাধান সম্ভব তা বুঝিয়ে দিন।
♦ অডিও-ভিস্যুয়েল-এর মাধ্যমে বক্তব্যকে আরো আর্কষণীয় করা যায়।
♦ বক্তব্যে আপনার কন্ঠস্বর ওঠা-নামা বজায় রাখুন।
♦ হাস্যরস দিয়ে বক্তব্যকে প্রাণবন্ত করে তুলুন।
♦ খুব বেশি তথ্য ভরা ভাষণের পরিবর্তে মাত্র দু’তিনটি সঠিক তথ্য দিন।
উপসংহার
♦ ভাষণের সমাপ্তিটা যত প্রভাবশালী হবে, তত দীর্ঘ সময় তা শ্রোতাদের মনে থাকবে।
♦ ভাষণের উপসংহার বারবার করবেন না। সহজ সরলভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে উপসংহার শেষ করুন।
♦ বক্তব্যের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত ছড়া, টিপ্পনি বা কবিতার মাধ্যমে পরিসমাপ্তি করতে পারলে সবচেয়ে ভাল। তবে মনে রাখবেন কবিতা পাঠ স্পষ্ট উচ্চারণ ও পূর্ণ অভ্যাসের সংগে করা উচিত।
♦ হালকা হাসির ছোঁয়া দিয়ে শেষ করা যায়। এতে শ্রোতা তরতাজা হয়ে উঠে। তবে সিরিয়াস বিষয়ে, শোকাহত সমাবেশে হাস্যরসে শেষ করতে যাবেন না।
♦ উপসংহারে নিজের বক্তব্যের সারাংশ টেনে শেষ করতে পারেন।
♦ বক্তৃতার শেষের শব্দগুলো যেন স্পষ্ট, অর্থপূর্ণ এবং প্রভাবশালী হয়, সেদিকে নজর দিন।
শ্রোতাদের মন জয় করার কৌশল
১. শ্রোতাদের মনের মত কথা বলুন:
সফল বক্তা তিনিই হতে পারেন, যিনি শ্রোতাদের পছন্দের কথাটা মাথায় রাখেন। আপনি যখনই শ্রোতাদের অঞ্চল, তাদের পেশা, তাদের সমস্যার ব্যাপারে কথা বলবেন, তখন শ্রোতারা আপনার আন্তরিকতা অনুভব করবেন। ওদের ছোট ছোট খুশি আর দুঃখ আপনার ভাষণে এলে শ্রোতারা আপনাকে আপন করে নেবে।
২. শ্রোতাদের একজন হয়ে উঠুন:
শ্রোতাদের সাথে নিজেকে যুক্ত করার চেষ্টা করুন। আপনার নিজের সাথে শ্রোতাদের সংগঠনের স্মৃতি থাকলে, তা প্রসংশার সাথে বলুন। এমনভাবে বলা উচিত আপনার নিজের অনেক কিছু ত্যাগ করে আপনি তাদের এলাকা বা সংগঠনকে প্রচণ্ড ভালবেসে ফেলেছেন।
৩. শ্রোতাদের সরাসরি প্রশংসা করুন:
ভাষণে এভাবে বলুন, আপনাদের সম্বন্ধে আগে আমার খুবই সাধারণ ধারণ ছিল...কিন্তু আমি অবাক হলাম...ইত্যাদি
৪. নিজের উপর হাসার সাহস করুন:
নিজেকে ছোট করা বা নিজের উপর হাসাটা হচ্ছে এক বিরাট আর্ট। আপনি নিজের প্রতি হতে থাকা সমালোচনাকেও নিজের ওপরে হেসে প্রভাবহীন করে তুলতে পারেন। এর আরো বেশকিছু ইতিবাচক দিক আছে। এই জিনিসটা ব্যক্তিত্বের বিনম্রতাকে ফুটিয়ে তোলে, আপনার আত্মবিশ্বাস তুলে ধরে এবং আপনার সাহসিকতা ও জ্ঞানের প্রতি- নিধিত্ব করে।
৫. অন্য কাউকে নকল করবেন না:
প্রায়ই আমরা কোনো ব্যাক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাকে নকল করা শুরু করি। আপনি যদি কাউকে নকল করেন, তাহলে আপনার নিজম্ব মৌলিকতা হারাতে হবে। তাতে আপনি হাস্যকর হিসাবে পরিগণিত হবেন।
আপনি যদি আপনার বাবা-মা অথবা দাদু-নানু কিংবা বন্ধুদের সামনে আপনার বক্তৃতার বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলা প্র্যাকটিস করেন তাহলে আপনার নার্ভাসনেস অনেক কমে যাবে, আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। এই অভিজ্ঞতা পাবলিক স্টেজে আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলতে সাহায্য করবে। তবে বন্ধুদের সামনে বলার আগে আপনি নিজে কয়েকবার আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি ¯পীচ দেওয়ার পর ভুলগুলো শুধরে নিতে পারবেন। প্র্যাকটিস করার সময়ই আপনার এই উন্নতি হচ্ছে। এই ধারা স্টেজে উঠা পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে আপনি নিশ্চিতভাবে ভালো বক্তা হয়ে উঠতে পারবেন।
নিচের বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখুন:
১) বক্তব্যের বিষয় অনুযায়ী একটি ভালো স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন।
২) সেই স্ক্রিপ্ট স্মরণ করো কয়েকবার আয়নার সামনে/বন্ধুদের সামনে প্র্যাকটিস করুন।
৩) সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। পারলে স্টপওয়াচ ব্যবহার করুন।
৪) স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। বক্তৃতার মাঝে মাঝে দম নিয়ে নিন।
৫) আপনার ভয়েস টোনের প্রতি খেয়াল রাখুন।
৬) পোশাক পরিধানের প্রতি ভালোভাবে নজর দিন।
৭) আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের দিকে খেয়াল রাখুন।
৮) বক্তব্য উপস্থাপনের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।
৯) পাবলিকলি বক্তব্য প্রদানের সময় হঠাৎ মনে আসা কোনো পয়েন্ট/কোট নিয়ে কথা বলবেন না।
সেরা পারফরমেন্সের জন্য
যা করতে হবে
১. চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন
ভালো বক্তা হওয়ার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হচ্ছে, শ্রোতার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা। প্রথম দিকে আপনার অস্বস্তি হবে, তখন চোখ সরিয়ে শ্রোতার মাথার ওপরের দিকে তাকান। ধীরে ধীরে যখন চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।
২. বিষয় ঠিক করুন
কারও সঙ্গে কথা বলার সময় এলোমেলো বিচ্ছিন্ন ধরনের কথা না বলে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত বিষয়ের ওপর ফোকাস করা ভীষণ জরুরি। ক্রমাগত এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে গেলে কথার খেই হারিয়ে ফেলবেন, বাজে হয়ে যাবে আপনার বক্তব্য।
৩. কণ্ঠস্বরে বৈচিত্র আনুন
পুরো বক্তব্যজুড়ে একই কণ্ঠস্বর শুনতে শুনতে শ্রোতারা ক্লান্ত হয়ে যায় খুব সহজেই। তাই কণ্ঠস্বরের ওঠানামা করুন। যেখানে দরকার সেখানে কণ্ঠস্বরের ওঠানামা আপনার বক্তব্যকে প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে। শ্রোতারাও ক্লান্ত হয়ে পড়বে না সহজে।
৪. সাজিয়ে লিখুন
যখন আপনি দীর্ঘ বক্তব্য দিতে যান তার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সব বিষয় সাজিয়ে লিখে ফেলুন একটা কাগজে। যখন একই বক্তব্যে অনেক বিষয় তুলে ধরবেন তখন কোন বিষয়টির পর কোনটি তুলে ধরবেন তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাজিয়ে ফেলুন। বক্তব্যের শুরু এবং শেষ অংশটা ইন্টারেস্টিং হওয়া খুব জরুরি।
৫. ধীরস্থির হোন
আপনি যা বলতে চান তা খুব দ্রুত হড়বড় করে বলতে গেলে কথা জড়িয়ে ফেলবেন। শ্রোতারাও কনফিউজড হয়ে যাবে। তাই দীর্ঘ একটা শ্বাস নিন, তারপর ধীরস্থিরভাবে ¯পষ্টভাবে আপনার বক্তব্যটা তুলে ধরুন। আপনার প্রতিটি শব্দ যেন শ্রোতাদের কাছে ¯পষ্টভাবে পৌঁছায় সেদিকে নজর রাখুন।
৬. অন্যকে আঘাত করবেন না
আপনার বক্তব্যে অন্য কোনো ব্যক্তি, সমাজ, জাতি কিংবা ধর্মকে আঘাত করবেন না। বিনয়ী হোন, অন্যের আবেগ অনুভূতির জায়গাগুলোকে সম্মান করুন, তাহলে বক্তা হিসেবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
৭. নিজস্বতা বজায় রাখুন
আপনি যে বিষয় নিয়েই কথা বলুন না কেন বক্তব্যে আপনার নিজস্বতা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, আপনার সামনের শ্রোতারা আপনার কথা, আপনার ধারণা, আপনার চিন্তা-চেতনার ভাগ নিতে এসেছে। তাই সবসময় বক্তব্যে নিজস্বতা বা মৌলিকতা বজায় রাখুন।
সাজসজ্জা (ষড়ড়শ)
➲ এটা এমন একটা বিষয় যে, সুন্দর ও মননশীল হলেই মানুষ আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে। যেহেতু উপস্থাপনা এবং বক্তৃতা একটি পাবলিক এবং আনুষ্ঠানিক বিষয়। তাই স্থান ও অবস্থা ভেদে আপনার পোশাক নির্বাচন করুন।
➲ কয়েকদিন আগেই নির্ধারিত পোশাক ধুয়ে মুছে ইস্ত্রি করে রাখুন। ছেলেরা শার্ট- প্যান্ট এবং মেয়েরা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরিধান করতে পারেন।
➲ খুব বেশি উজ্জ্বল না, আবার খুব বেশি অনুজ্জ্বলও না, আরামদায়ক ও দেখতে মানানসই এরকম কাপড় নির্বাচন করুন।
➲ ছেলেরা শীতকালে এবং অবস্থা ভেদে টাইও পরতে পারেন এবং তার আগে চুল, দাড়ি কাটিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে নিন।
➲ মেয়েরা অধিক সাজসজ্জা পরিহার করুন এবং হালকা সাজসজ্জার উপর নিজেকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন।
➲ উৎকট বডি ¯েপ্র বা সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। প্রতিষ্ঠানের বা প্রোগ্রামের আইডি কার্ড, ঘড়ি, চশমা এগুলো প্রস্তুত রাখুন। মোট কথা, উপস্থাপনা ও বক্তৃতার জন্য আপনার ব্যক্তিত্ব সাজসজ্জায় ৫০ ভাগের মত ফুটে উঠে।
স্ক্রিপ্ট তৈরি (ংপৎরঢ়ঃ)
➲ উপস্থাপনায় বা বক্তৃতায় কি বলবেন তার জন্য একটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন। প্রয়োজন হলে সেই বিষয়ে পড়াশুনা করে নিন। নতুবা আপনি হঠাৎ করে ঘাবড়ে যেতে পারেন দর্শকশ্রোতাদের সামনে। উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের আকর্ষণ করে এরকম কিছু শব্দ বা লাইনও টুকে রাখতে পারেন স্ক্রিপ্টে। স্ক্রিপ্টটা এমনভাবে কিছু সাংকেতিক বিষয় দিয়ে সাজাবেন যাতে আপনার এক নজর দেখার সাথে সাথে মনে পড়ে।
➲ নিজের বিষয় বা স্ক্রিপ্ট স¤পর্কে আত্মবিশ্বাসী থাকুন। অপ্রয়োজনীয় ও অমার্জিত বিষয় স্ক্রিপ্টে পরিহার করুন।
➲ সময়, দর্শকশ্রোতাদের ক্যাটাগরি এবং অবস্থার কথা মাথায় রেখে স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন এবং আয়না বা অন্য কারো মুখোমুখি হয়ে স্ক্রিপ্ট অনুশীলন করুন।
➲ স্ক্রিপ্টের মূল বিষয়গুলো মাথায় থাকলে আপনি সবার সামনে ভালোভাবে উপস্থাপনা করতে পারবেন বা বক্তৃতা দিতে পারবেন।
➲ সার্থক একটি উপস্থাপনা ও বক্তৃতার জন্য একজন ভালো উপস্থাপক বা বক্তার স্ক্রিপ্ট কিংবা ইউটিউব থেকে ভিডিও অনুসরণ করতে পারেন।
শারীরিক অঙ্গভঙ্গি
(নড়ফু ষধহমঁধমব)
উপস্থাপনা এবং বক্তৃতার জন্য আপনার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি অবশ্যই পরিশীলিত এবং মার্জনীয় হতে হবে। প্রয়োজনে আপনি কয়েক ধাপ অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি হেঁটে নিতে পারেন অথবা দর্শকসারির মাঝামাঝি গিয়ে একটু ঘুরে আসতে পারবেন।
মনে রাখবেন আপনি আপনার স্ক্রিপ্ট স¤পর্কে যদি ওয়াকিবহাল থাকেন, তাহলে আপনি সুন্দরভাবে অঙ্গভঙ্গি ও চমকপ্রদ কিছু কথা দিয়ে অল্প সময়েই দর্শকশ্রোতাদের মন জয় করে ফেলতে পারবেন। কারণ সামনে যারা থাকবেন তারা সবাই পুতুল আর আপনি মানুষ। আপনি যা বলবেন তাই তারা শুনবেন। কাজেই শারীরিক অঙ্গভঙ্গিতে সেটা ফুটিয়ে তুলুন।
উপস্থাপনা ও বক্তৃতা প্রদান একটি অনন্য গুণ। নিজেকে এই গুণে গুণান্বিত করতে পারলে জীবনে অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারবেন।
বক্তব্য দেয়ার সময়
এই বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখুন
১) বক্তব্যের বিষয় স¤পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। বক্তব্যকে তথ্যবহুল করুন।
২) বক্তব্যের বিষয় অনুযায়ী একটি ভালো স্ক্রিপ্ট তৈরি করুন।
৩) সেই স্ক্রিপ্ট স্মরণ করে কয়েকবার আয়নার সামনে/বন্ধুদের সামনে প্রাকটিস করুন।
৪) সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। পারলে স্টপওয়াচ ব্যবহার করুন।
৫) স্বাভাবিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন। বক্তৃতার মাঝে মাঝে দম নিয়ে নিন।
৬) বক্তৃতার শুরুতেই শ্রোতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নিতে পারেন।
৭) আপনার বক্তৃতা প্রদানের পরিবেশ চিনে নিন।
৮) স্বাভাবিকভাবে আসা নার্ভাসনেসকে রিলাক্সেশানে পরিণত করে নিন।
৯) আপনার ভয়েস টোনের প্রতি খেয়াল রাখুন।
১০) বক্তব্য প্রদানের সময় আনন্দদায়ক ও মজার কথা বলুন।
১১) শ্রোতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মাঝে মাঝে প্রশ্ন করতে পারেন।
১২) পোশাক পরিধানের প্রতি ভালোভাবে নজর দিন।
১৩)আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের দিকে খেয়াল রাখুন।
১৪) বক্তব্য উপস্থাপনের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।
১৫) নিজের নার্ভাসনেসের জন্য অ্যাপোলজি জানানোর দরকার নেই। আপনার শ্রোতারা হয়তো সেটি লক্ষ্যই করেনি।
১৬) পাবলিকলি বক্তব্য প্রদানের সময় হঠাৎ মনে আসা কোন পয়েন্ট/কোট নিয়ে কথা বলবেন না।
১৭) সবার শেষে আপনার বক্তব্যের সারাংশ দিন।
১৮) প্রতিবার বক্তব্যদানের পর কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুন।
জনসম্মুখে কথা বলার জড়তা
কাটিয়ে উঠার ৫টি টিপস
১) প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস নিজে নিজে করুন
এই কথাটা শুনতে শুনতে আপনি হয়তো ক্লান্ত। কিন্তু এই কথাটা অমূল্য। আপনি যদি আপনার বাবা-মা অথবা দাদু-নানু কিংবা বন্ধুদের সামনে কোনো বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলা প্র্যাকটিস করেন, তাহলে আপনার নার্ভাসনেস অনেক কমে যাবে, আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। এই অভিজ্ঞতা পাবলিক স্টেজে আপনাকে স্বাচ্ছন্দে কথা বলতে সাহায্য করবে। তবে বন্ধুদের সামনে বলার আগে আপনি নিজে কয়েকবার আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি প্রথমবার ¯পীচ দেওয়ার পর পরেরবার ¯পীচ দেওয়ার সময় প্রথমবারের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারবেন। প্রাকটিস করার সময়ই আপনার এই উন্নতি হচ্ছে। এই ধারা স্টেজে উঠা পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে আপনি নিশ্চিতভাবে ভালো বক্তা হয়ে উঠতে পারবেন। আরো ব্যাপার হলো আপনি আপনজনের সাথে ভালো আই-কন্টাক্ট (চোখাচোখি) করতে পারবেন। তারা আপনার ভুলগুলো সহজে ধরিয়ে দিতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি পাবলিক স্টেজে আপনার অডিয়েন্সকে আপনজন মনে করেন।
২) খেয়াল রাখুন কোথায় বক্তৃতা দিচ্ছেন
কোথায় কথা বলবেন সেটি মাথায় রাখুন। আপনি জেনে নিন আপনি কোথায় বক্তৃতা দিচ্ছেন। কারণ একেক পরিবেশে আপনি একেক রকমভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। কোনো কনফারেন্সে আপনি যেভাবে কথা বলবেন, পাবলিক স্থানে নিশ্চয় তেমনিভাবে কথা বলবেন না। তাছাড়া জেনে নিন আপনি মাইক্রোফোন ব্যবহার করে বক্তব্য দিচ্ছেন কি না? স্টেজে কোথায় দাঁড়িয়ে কথা বলছেন? সবার সাথে চোখাচোখি হচ্ছে কি না? মানে সবাই আপনাকে দেখছে কি না? বা আপনি সবাইকে দেখছেন কি না?
৩) দর্শক-শ্রোতাদের স¤পর্কে জানুন
দর্শক স¤পর্কে অভিজ্ঞতা নিন। আপনি বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে আপনার অডিয়েন্সকে বোঝার চেষ্টা করুন। আপনার শ্রোতাদের মধ্যে একেক মানসিকতার মানুষ থাকবে। তাঁদের সকলের স¤পর্কে ধারণা নিতে চেষ্টা করুন। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আপনাকে এই কাজটি করতে হবে, তাই বিচক্ষণতার পরিচয় দিন। সফল হতে না পারলেও অন্তত চেষ্টা করুন। অডিয়েন্সকে আপন লোকজন ভাবুন। তাঁদের কীভাবে সম্বোধন করবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধরুন, কোনো হলরুমে মধ্যবয়স্ক অডিয়েন্স অথবা কলেজ স্টুডেন্টে পূর্ণ। এই দুই ধরণের নাগরিকের সামনে আপনার কথা বলার ধরণ, সম্বোধন অবশ্যই ভিন্ন হবে। আরো খেয়াল রাখুন আপনার বক্তব্য টিভিতে বা ইন্টারনেটে লাইভ দেখাচ্ছে কিনা? সেখানে আপনাকে কথা বলার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকতে হবে। এমন অবস্থায় প্রথম দুটি টিপস মেনে চলুন।
৪) আপনার ব্যালেন্স বজায় রাখতে (প্রিপারেশন নিন)
আপনি যখন কোনো একটি বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন, তখন সেই বিষয়ে ভালো করে জেনে নিন। কোনো বিষয়ে ভালো না জেনে কথা বলা উচিত নয়। জেনে রাখুন, আপনার অডিয়েন্সের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারে, যিনি ওই বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন। তাই আপনার সাবধান হওয়া উচিত। আপনি যখন বক্তব্য দিচ্ছেন তখন আপনি আপনার বক্তব্যের মাঝে ডুবে থাকুন। একাগ্রচিত্তে আপনার বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করুন।
বক্তৃতার বিষয় মনে রাখার সুবিধার জন্য কোনো কাগজে/ব্যানারে লিখে রাখুন। যেমন, কোনো আলোচনাসভা হলে ব্যানারে সভার বিষয়বস্তু, আয়োজকের নাম ইত্যাদি; কো¤পানির পণ্য/ব্র্যান্ড পরিচিতি অনুষ্ঠানে সøাইডে কো¤পানির নাম, ওয়েবসাইট, পণ্যের মটো ইত্যাদি লিখে রাখতে পারেন। অন্য একটি বিষয় হলো- আপনার কণ্ঠস্বর যেনো স্বাভাবিক থাকে- গলাফাটা চিৎকারও নয়, আবার নিচুস্বরও নয়, এমন টোনে কথা বলুন। মনে রাখুন, সাহিত্যসভায় আপনার ভয়েস ন্যাচারাল থাকলেই চলবে, কিন্তু প্রতিবাদসভায় আপনার ভয়েস হতে হবে জোরালো। কন্ঠধ্বনি বা স্বরের উত্থান-পতন সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো হবে। মাঝে মাঝে খানিকক্ষণের থামুন। দম নিন। আবার বলতে শুরু করুন।
সবশেষের বিষয় হচ্ছে- বক্তব্য শেষে শ্রোতাদের সাথে প্রশ্নের খাতিরে বা শুভেচ্ছা বিনিময়ের খাতিরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে আপনি কেমন বক্তা তা জানতে পারবেন।
৫) স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন
আপনি বক্তৃতা দেওয়ার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। ভালো হয় বক্তৃতা শুরু করার আগে কয়েকবার গভীরভাবে ৫/৭ সেকেন্ডব্যাপী শ্বাস (মুখ ব্যবহার করুন) নিয়ে নিন। তাতে পরবর্তী সময়টা শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে।
অনুপ্রেরণীয় ঘটনা
বিখ্যাত ঝানু বক্তা-ব্যক্তিগণের অনেকেই প্রথম প্রথম নানান অসুবিধায় পড়েছিলেন বক্তৃতা প্রদানের ক্ষেত্রে। পরে তাঁরা সেইসব সমস্যা অতিক্রম করে সফল বক্তায় পরিণত হয়েছিলেন। শুনুন কয়েকজনের কথা-
# আমেরিকার খ্যাতনামা বক্তা উইলিয়াম জেনিং ব্লায়ান (১৮৬০-১৯২৫) প্রথম দিন বক্তৃতা করার চেষ্টা করলে ক¤পনের ফলে তাঁর হাঁটুদ্বয় জোড়া লেগে গিয়েছিলো।
# হাস্যরসমূলক লেখালেখির জন্য বিশ্বখ্যাত মার্ক টোয়েন (প্রকৃত নাম স্যামুয়েল ক্লিমেন্স) প্রথম দিন বক্তৃতা করতে উঠলে এমন অনুভব করেন- তাঁর মুখগহ্বর তুলা দিয়ে পরিপূর্ণ এবং তাঁর নাড়ীর ¯পন্দন অস্বাভাবিকরূপে বেড়ে চলেছে।
# জার্মানির পুনর্গঠনের অন্যতম নেতা ও এর স্থপতি অটোফন বিসমার্ক স্বীকার করতেন তিনি যখন জনসমক্ষে বক্তৃতা করার সময় অত্যন্ত বেকায়দায় পড়ে যেতেন। বারবার চেষ্টার ফলে তিনি এই অবস্থার থেকে পরিত্রাণ পান।
# ফ্রান্সের রাজনৈতিক বক্তা জীন জুরিস ডেপুটিদের চেম্বারে একটি বছর বোবার মতো বসে কাটিয়েছেন শুধুমাত্র নিজেকে তৈরি করতে। ভার্সাই চুক্তির অন্যতম নায়ক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ প্রথম প্রথম বক্তৃতা দেওয়ার সময় মুখ শুকিয়ে যেতো, জিহ্বা মুখগহ্বরের সাথে লেপ্টে যেতো। তারপরেও তিনি দমে যেতেন না।
ভালো বক্তার দশ গুণ
দলকে মোটিভেটেড রাখার জন্য ভালো বক্তা হওয়া কেন দরকার?
এটা খুবই স্বাভাবিক যে দলের সব সদস্যই সব সময় উৎসাহী ও উজ্জীবিত থাকেন না। একজন প্রাণবন্ত ও উদ্দীপ্ত সদস্য যেমন অন্যদেরও প্রভাবিত করেন, তেমনি একজন হতাশ সদস্যও আরো অনেককে নেতিবাচক করে তোলেন। ফলে দলনেতা, ব্যবস্থাপক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার, যাতে দলের কেউ বিষণ্নতায় না ভোগেন, ঝিমিয়ে না পড়েন। কর্মক্ষেত্র বা ব্যক্তিগত সমস্যা বা যেকোনো কারণেই হোক না কেন তার এই মøান উপস্থিতি দূর করতে এগিয়ে আসা উচিত। আর এ জন্য প্রয়োজন তার সমস্যা বুঝে তাকে উপযুক্ত বাক্য ব্যবহারে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা। আর একজন ভালো বক্তাই পারেন পরিস্থিতি বুঝে বক্তব্য সাজাতে, যা তাকে আবারও আশার আলো দেখাবে, তাকে করে তুলবে উচ্ছল ও কর্মচঞ্চল।
এক.
একজন ভালো বক্তার কমনসেন্স থাকতে হবে সবার আগে। শুনতে খুব সাধারণ মনে হতে পারে। একটু ভালো করে চারপাশে তাকালেই বুঝবেন এই গুণ যত সহজ মনে করেছেন, আসলে ততটা সহজ নয়। কমনসেন্স খাটিয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝে নিজের অবস্থান ও বক্তব্য ঠিক করা একজন চৌকস ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব।
দুই.
ভালো বক্তার থাকতে হবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার এবং এসব শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে আদর্শ বাক্য তৈরির কৌশল থাকতে হবে তার করায়ত্বে। কিছু কিছু পরিস্থিতিতে আপনি #হয়তো সময় পাবেন এসব বাক্য রচনার, তাকে নিয়ে ভাবার বা চর্চা করার কিন্তু অধিকাংশ সময়ই আপনাকে হতে হবে তাৎক্ষণিক। উপস্থিতবুদ্ধি ও ক্ষিপ্রতা কাজে লাগিয়ে বাক্যের পর বাক্য সাজিয়ে আপনার বক্তব্যকে করে তুলতে হবে হৃদয়গ্রাহী, মনোমুগ্ধর ও প্রাণবন্ত। যেন মন্ত্রবাণী পাঠ করছেন কেউ।
তিন.
অনবরত চর্চা করে যেতে হবে। চর্চা থাকতে হবে। যেন তিনি মনে না করেন, তিনি ইতিমধ্যেই শ্রেষ্ঠ বক্তার আসনে বসে আছেন। তিনি আরো এগিয়ে যেতে পারবেন, যদি মনে করেন তার যাওয়ার আরো অনেকটাই বাকি। একজন ভালো বক্তা একটি বক্তব্যের উপস্থাপনে অনেক সতর্ক থাকেন। চর্চাই তার প্রমাণ। চর্চাই তাকে নিখুঁত করে।
চার.
পড়াশোনা। শুধুই কি তার বিভাগীয় বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে? না, আরো অনেক বিষয়েই জ্ঞানপিপাসু হতে হবে। তবে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব বরাবরই বেশি থাকতে হবে। পাশাপাশি সমাজ, সংস্কৃতি, দেশ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, রাজনীতি, সাহিত্য সব বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স¤পর্কে জ্ঞাত থাকতে হবে। তবেই বক্তব্য হয়ে উঠবে তথ্যবহুল, আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত।
পাঁচ.
হাস্যরস কিংবা বাক্য গঠনে চমক থাকা চাই। বক্তা যতই ভালো হোন না কেন, হাস্যরস কিংবা বাক্য গঠনে চমক ছাড়া বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। শ্রোতা চান বৈচিত্র্য। একঘেঁয়েমি কাটানোর জন্য এটা একটা দারুণ পথ। অনেক বক্তা তাই সময় পেলেই ছোট ছোট ঘটনা, গল্প, উদারহণ সঞ্চয় করে রাখেন, যথাসময়ে যথাস্থানে ব্যবহার করবেন বলে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথা সময়ে গল্পগুলো আর মনে আসে না। তাই প্রয়োজন চর্চা ও মনোঃসংযোগ। রসবোধ আপনাকে অতিদ্রুত ভালো বক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় করে তুলবে।
ছয়.
পরিমিতিবোধ এক ভালো বক্তার আরেকটি দুর্দান্ত গুণ। কোথায় শুরু করে, কখন, কিভাবে এবং কোথায় থামতে হবে তা তাকে বুঝতেই হবে। সময়জ্ঞান এবং একটি বক্তব্যকে উপস্থাপনের জন্য পরিমিত বাক্যচয়ন খুবই জরুরি। বক্তব্যের শুরুতেই ধারণা করার চেষ্টা করতে হবে তিনি কোথায় গিয়ে থামবেন। অবিরাম কথা বলতে পারার ক্ষমতাকে কেউ ভালো গুণ মনে করবেন না। অনেক ক্ষেত্রে এটি একজন ভালো বক্তার সব ভালো গুণকে শুধু মøানই করে তোলে না, বিরক্তিরও উদ্রেক করে। সবচেয়ে বড় কথা প্রাসঙ্গিক ও পরিমিত হওয়া। এরপর আপনি এক মিনিটে কথা শেষ করলেন নাকি একদিনে শেষ করলেন, সেটা গৌণ হয়ে দাঁড়ায়।
সাত.
শুরুর চমক। নাটকীয়তা। শ্রোতার মনোযোগের শেষবিন্দু পর্যন্ত নিংড়ে নেওয়া। একজন ভালো বক্তা এটা মাথায় রেখেই শুরু করবেন। একজন ভালো বক্তাকে দুটো প্রবাদই মাথায় রাখতে হয়, প্রথম চমকই সেরা চমক, আর শেষ ভালো যার সব ভালো তার। বক্তব্য এবং তার ধারাবাহিকতা কদাচিৎই আগাগোড়া টানটান উত্তেজনায় ভরা থাকে। ফলে নির্দিষ্ট বিরতিতে তাকে শব্দ ও বাক্য বিন্যাসে সতর্ক থাকতে হয়। শ্রোতাকে চমকে দিতে হয়। আলোড়িত করতে হয়। বক্তব্যে এমন কিছু বাক্য থাকতে হয়, যা মনে দাগ কাটে।
আট.
শ্রোতাকে বুঝুন। বক্তব্যের আগে এবং বক্তব্যের সময়। কথা বলতে বলতেই লক্ষ করুন শ্রোতার চেহারা। বোঝার চেষ্টা করুন তারা কী মনোযোগ দিয়ে শুনছেন নাকি বিরক্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি বুঝে পরিবর্তন করুন প্রসঙ্গ কিংবা বাক্য।
নয়.
নিজের বক্তব্য রেকর্ড করুন। আগে নিজে শুনুন। প্রথম দিকে নিজের কণ্ঠ নিজে শুনে ধাক্কা খেতে পারেন। মনে হতে পারে একদম হচ্ছে না। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। মনোবল বাড়বে। এই চর্চা থামাবেন না। একজন ভালো বক্তা হওয়া কঠিন; কিন্তু এর সুফল সর্বত্র এবং খুবই জোরালো। একজন ভালো বক্তার ক্ষমতা ঈর্ষণীয়।
দশ.
শ্রোতার ফিডব্যাক নিন। ভুলগুলো শুধরান। আরো ভালো করার জন্য সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যান। এই চেষ্টা অবিরাম। কারণ সাফল্য কোনো গন্তব্যের নাম নয়, সাফল্য এক নিরন্তর যাত্রার নাম। সাফল্যের কোনো শেষ নেই। সাফল্যের কোনো চূড়া হয় না। প্রতিনিয়ত মানুষ চূড়ার ওপর চূড়া তৈরি করে সাফল্যের নতুন নতুন মানদণ্ড তৈরি করে চলেছে বিরামহীন।
ভালো বক্তার সাতকাহন
১. চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন
ভালো বক্তা হওয়ার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হচ্ছে, শ্রোতার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা। প্রথম দিকে আপনার অস্বস্তি হবে, তখন চোখ সরিয়ে শ্রোতার মাথার ওপরের দিকে তাকান। ধীরে ধীরে যখন চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।
২. বিষয় ঠিক করুন
কারও সঙ্গে কথা বলার সময় এলোমেলো বিচ্ছিন্ন ধরনের কথা না বলে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত বিষয়ের ওপর ফোকাস করা ভীষণ জরুরি। ক্রমাগত এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে গেলে কথার খেই হারিয়ে ফেলবেন, বাজে হয়ে যাবে আপনার বক্তব্য।
৩. কণ্ঠস্বরে বৈচিত্র্য আনুন
পুরো বক্তব্যজুড়ে একই কণ্ঠস্বর শুনতে শুনতে শ্রোতারা ক্লান্ত হয়ে যায় খুব সহজেই। তাই কণ্ঠস্বরের ওঠানামা করুন। যেখানে দরকার সেখানে কণ্ঠস্বরের ওঠানামা আপনার বক্তব্যকে প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে। শ্রোতারাও ক্লান্ত হয়ে পড়বে না সহজে।
৪. সাজিয়ে লিখুন
যখন আপনি দীর্ঘ বক্তব্য দিতে যান, তার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সব বিষয় সাজিয়ে লিখে ফেলুন একটা কাগজে। যখন একই বক্তব্যে অনেক বিষয় তুলে ধরবেন তখন কোন বিষয়টির পর কোনটি তুলে ধরবেন তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাজিয়ে ফেলুন। বক্তব্যের শুরু এবং শেষ অংশটা ইন্টারেস্টিং হওয়া খুব জরুরি।
৫. ধীরস্থির হোন
আপনি যা বলতে চান তা খুব দ্রুত হড়বড় করে বলতে গেলে কথা জড়িয়ে ফেলবেন। শ্রোতারাও কনফিউজড হয়ে যাবে। তাই দীর্ঘ একটা শ্বাস নিন, তারপর ধীরস্থিরভাবে ¯পষ্টভাবে আপনার বক্তব্যটা তুলে ধরুন। আপনার প্রতিটি শব্দ যেন শ্রোতাদের কাছে ¯পষ্টভাবে পৌঁছায় সেদিকে নজর রাখুন।
৬. অন্যকে আঘাত করবেন না
আপনার বক্তব্যে অন্য কোনো ব্যক্তি, সমাজ, জাতি কিংবা ধর্মকে আঘাত করবেন না। বিনয়ী হোন, অন্যের আবেগ অনুভূতির জায়গাগুলোকে সম্মান করুন, তাহলে বক্তা হিসেবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
৭. নিজস্বতা বজায় রাখুন
আপনি যে বিষয় নিয়েই কথা বলুন না কেন, বক্তব্যে আপনার নিজস্বতা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, আপনার সামনের শ্রোতারা আপনার কথা, আপনার ধারণা, আপনার চিন্তা-চেতনার ভাগ নিতে এসেছে। তাই সবসময় বক্তব্যে নিজস্বতা বা মৌলিকতা বজায় রাখুন
সূচিপত্র
১) ছোটদের সাথে আমাদের আচরণ ২) পরিবার ও সন্তান, সুপার পাওয়ার যেভাবে তৈরি হয়, ৩) দীর্ঘস্থায়ী ভয়ের উৎপত্তির মূলে শৈশবকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব , ৪) সন্তানের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বাড়ানো, ৫) আপনার শিশুটি ঘুমুক শান্তিতে এবং নির্ভরতায় , ৬) কিছু অব্যর্থ টিপস, যা আপনার শিশুকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে, ৭) শিশুকে কিভাবে বড় করবেন, ৮) বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে কী করবেন? ৯) বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্যতম পথ, দৌড়, ১০) বাচ্চাকে কখনো আড়ালে লুকিয়ে খেতে দেবেন না, ১১) পিটার সিংগারের দর্শন, ১২) দুষ্টু শিশুরা তাড়াতাড়ি শেখে, ১৩) সন্তানকে যতই শাস্তি দেবেন ততই সে অসামাজিক হবে, ১৪) বাবা-মাই সন্তানকে নির্যাতন করেন সবচেয়ে বেশি , ১৫) সন্তানের সাথে কিভাবে গড়ে তুলবেন নিবিড় বন্ধন, ১৬) যে ১১টি কথা শিশুকে কখনোই বলবেন না!, ১৭) শিশুকে গল্প শোনান প্রতিদিন, ১৮) সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ১০টি কৌশল, ১৯) সৃজনশীলতা হচ্ছে নতুন কিছু করার যোগ্যতা, ২০) যারা মুখস্থ করতে পারেন না, ২১) তারা মেধাবী, মেধাবী হওয়ার উপায়,
২২) কথা ও ভাষা, ২৩) এলিভেটর পিচ, ২৪) সুন্দর করে কথা বলে সমস্যা জয়ের কৌশল, ২৫) ফোনে কথা বলার আদবকেতা, ২৬) ১২টি কর্ম বিধান, ২৭) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২৮) আলতু-ফালতু কাজে সময় অপচয় করে স্বপ্ন পূরণের কল্পনা, ২৯) স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ৩০) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর জীবন থেকে শিক্ষা, ৩১) অভিজ্ঞতা ও অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ, ৩২) বর্তমানকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিন, ৩৩) ২৪ ঘণ্টা কেউ সুখী হয় না, ৩৪) কিছু অভ্যাস যা আপনাকে আরও সুখী করবে , ৩৫) আপনার অবয়ব , ৩৬) সফলতার 25টি হট কৌশল-1, ৩৭) সাফল্যের 25টি হট কৌশল-2, ৩৮) সফলতার 55 সূত্র, ৩৯) কিভাবে নিজেকে নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে, ৪০) সময় ব্যবস্থাপনা, ৪১) সময় ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপ, ৪২) সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপায়গুলো, ৪৩) সাফল্য, ড. কোভের ইমোশনাল একাউন্ট কনসেপ্ট, ৪৪) সবচে বড় ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৫) আপনার ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৬) বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ বর্জিত কর্মফল বিপজ্জনক, ৪৭) অন্যদের দিয়ে আপনার কাজ করান কিন্তু সম্মান আপনি অর্জন করুন, ৪৮) অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক দরকার হলে টোপ দিন, ৪৯) অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন, ৫০) লোককে আপনার ওপর নির্ভরশীল করুন , ৫১) নেওয়ার পূর্বে দেওয়া অন্য বক্তির স্বার্থ বুঝুন, ৫২) শত্রুকে খাটো করে দেখবেন না, ৫৩) নিজেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ নির্মাণ করবেন না, ৫৪) কারোর পক্ষ অবলম্বন করে বসে থাকবেন না, ৫৫) আপনার শক্তিসমূহকে সংহত করুন, ৫৫) নিজের ভুলগুলোকে লুকিয়ে রাখুন, ৫৬) শুধু সাহসের জোরে নয়, পরিণতিও বিবেচনায় রাখুন, ৫৭) প্রতিটি মানুষের গোপন ইচ্ছা খুঁজে বের করুন, ৫৮) রাগ বিপজ্জনক ও অভদ্রতা, ৫৯) কোনো দলকে ধরার জন্য দলপতিকে প্রথমে ধরুন, ৬০) নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন, ৬০) পরিবেশ সামলাতে শিখুন, ৬১) প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন, ৬২) আপনার সামাজিক পরিবেশ ‘প্রথম শ্রেণি’র করে তোলার উপায়, ৬৩) ‘সস্তার তিন অবস্থা’ প্রধম শ্রেণিভুক্ত হয়ে উঠুন , ৬৪) যত বেশি বন্ধুত্ব তত বেশি উপরে ওঠার সম্ভাবনা, ৬৫) সাহস করে কাজটা শুরু করুন, ৬৬) সাফল্য মানে বারবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করা, ৬৭) ১- ১০ ভাল অভ্যাস, ১১- ২০ ভাল অভ্যাস, ২১- ৩০ ভাল অভ্যাস, ৩১- ৪০ ভাল অভ্যাস, ৪১- ৫০ ভাল অভ্যাস, ৫১- ৬০ ভাল অভ্যাস, ৬১- ৭০ ভাল অভ্যাস, ৭১- ৮০ ভাল অভ্যাস, ৮১- ৯০ ভাল অভ্যাস, ৯১- ১০২ ভাল অভ্যাস, ৬৮) জিরো থেকে হিরো, ৬৯) সৃজনশীলদের সফলতার ৭ সূত্র, ৬৯) জীবনে পরিবর্তন আনুন ৪৮টি উপায়ে, ৭০) জীবন-যাপন, ৭১) জাপানী ও চিন লাইফ স্টাইল , ৭২) ৩০টি দর্শন, যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে, ৭৩) সম্পর্ক তৈরি করা, বন্ধুত্ব, ৭৪) যে আচরণগুলো মানুষের মনের কথা জানাবে, ৭৫) কথা বলার সূত্র, ৭৬) আপনি ও আপনার ব্যবহার, ৭৭) নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, ৭৮) কথা বলার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, ৭৯) কিভাবে নিজেকে বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করবেন, ৮০) কিভাবে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলবেন, ৮১) কথা বলার ৫টি বিস্ময়কর টেকনিক, ৮২) কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করবেন? ৮৩) অকারণে সময় নষ্ট? মেল রবিনের ৫ সেকেন্ড রুল, ৮৪) কর্পোরেট আদবকেতা, ৮৫) ৩৫টি কর্পোরেট কালচার ও আপনার করণীয়, ৮৬) যা না জানলে লজ্জায় পড়তে হয় , ৮৭) কাজের সময়ে যে বিষয়গুলো একেবারেই করা উচিৎ না , ৮৮) ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে ছুড়ে ফেলুন ৭টি দোষ, ৮৯) আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে বা স্বপ্ন,
৯০) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, কাজ কিভাবে করবেন? ৯১) আত্মশক্তিতে বলিয়ান হতে, ৯২) একনাগাড়ে চলবেন না, ৯৩) মারফিস ’ল , কাজের রোডম্যাপ তেরি , ৯৪) জব স্যাটিসফেকশন, ৯৫) কাজে সফলতার সূত্রাবলী, ৯৬) যেভাবে জীবনযাপন করবেন, ৯৭) পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা যে কাজগুলো কখনোই করেন না, ৯৮) জীবনে দক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়, ৯৯) সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও কাজ করার উপায় , ১০০) সফলতা ও সার্থকতা, ১০১) জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করা, ১০২) সফলতার কিছু পদ্ধতি, ১০৩) সফল হতে চাইলে যে ৮ টি জিনিস বাদ দেয়া প্রয়োজন, ১০৪) সফল ব্যক্তিরা যে ১০টি কাজ কখনোই করেন না, ১০৫) সর্বদা স্মরণ রাখুন, ১০৬) চিন্তাশক্তি , ১০৭) স্বাধীনতা, ১০৮) জ্ঞান অর্জন খাদ্য গ্রহণের মতো , ১০৯) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে চেষ্টা করলে কখনোই বিফল হবেন না, ১১০) বুদ্ধির সংজ্ঞা হলো, প্রতিটি কাজ ভেবে-চিন্তে করা, ১১১) ব্যক্তিত্ব, চেহারা ও ব্যক্তিত্ব , ১১২) সেলডন-এর গবেষণা , ১১৩) ব্যক্তিত্ব ও উচ্চারণ, ১১৪) পোশাক ও ব্যক্তিত্ব, ১১৫) প্রথম দেখায় ব্যক্তিত্বের ছাপ, ১১৬) বিচ্ছিন্নতা ব্যক্তিত্বের বড় শত্রু, ১১৭) ব্যক্তিত্বে জিনগত প্রভাব, ১১৮) অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব, ১১৯) মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের ১০ বৈশিষ্ট্য, ১২০) ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার জন্যে ১০ নির্দেশনা, ১২১) কিভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবেন? , ১২২) নিজেকে স্মার্ট করতে ৫টি কৌশল, ১২৩) আকর্ষণীয় মানুষ হবার ৬টি পরামর্শ, ১২৪) আত্মশুদ্ধি , ১২৫) হতাশ হবেন না, ১২৬) পাছে লোকে কিছু বলে, ১২৭) সুখ-শান্তি উন্নতি , ১২৮) চাহিদা, ১২৯) খাদ্য, ঘুম ও বিশ্রাম, ১৩০) স্বাস্থ্য ভাল রাখার নিয়ম, ১৩১) টেনশন দূর করতে হলে, ১৩২) শুধু নিজের কথা নয়, অন্যের কথাও ভাবুন, ১৩৩) চাহিদা যত বেশি সুখ তত কম, ১৩৪) সুখী জীবনের জন্য ১৮ টি টিপস, ১৩৫) আত্মবিশ্বাস, আত্ম বিশ্বাসের শক্তি, ১৩৬) অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যর্থ মানুষ, ১৩৭) দি সেভেন হ্যাবিট অফ হাইলি এ্যা ফেক্টিভ পিপল, ১৩৮) সামাজিক আয়না, ১৩৯) প্রোএ্যাক্টিভিটি, ১৪০) সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স, ১৪১) শুরু করুন আজই, ১৪২) আপনার কেন্দ্রবিন্দু কোনটি?, ১৪৩) মাথার দুটি অংশই ব্যবহার করুন, ১৪৪) সময়ের ব্যবস্থাপনা, ১৪৫) ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা, ১৪৬) গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি, ১৪৭) পরনির্ভরশীল জীবন, ১৪৮) ছয়টি উপায়ে অন্য মানুষের সাথে আদান-প্রদান, ১৪৯) অধ্যয়ন, ১৫০) পড়াশোনায় ১২ কার্যকর কৌশল, ১৫১) ঘুম থেকে উঠতে ১০-৩-২-১-০ ফর্মুলা, ১৫২) আয়-ব্যয়- টাকা, ১৫৩) অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে কারণে অর্থহীন, ১৫৪) খরচের লাগাম টেনে ধরতে.. ১৫৫) নারী, ১৫৬) সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে কিছু “মিথ্যা” বলা জরুরী , ১৫৭) ছেলেদের কোন জিনিস দেখে মেয়েরা? , ১৫৮) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস, ১৫৯) ভুঁড়ি ঠেকাতে ৫টি নিয়ম, ১৬০) যেসব কারণে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া উচতি , ১৬১) বিয়ে-সংসার, ১৬২) সফল বিয়ের তিনটি মন্ত্র, ১৬৩) সুখী হবার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র, ১৬৪) কিছু গল্প, ১৬৫) ভালোবাসাহীন সম্পর্ক, ১৬৬) কেন স্পর্শের প্রয়োজন হয় প্রতিদিন, ১৬৭) যে কারণে একা থাকাই আপনার জন্য ভালো, ১৬৮) ব্যবসা, ১৬৯) বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল, ১৭০) যে ৭টা ব্যাপার বিজনেসে করবেন না, ১৭১) স্বাস্থ্য, ১৭২) দুগ্ধজাত খাবারে পুরুষের বন্ধ্যত্ব, ১৭৩) একাকিত্বের বিপদ, ১৭৪) কর্মক্ষম ও প্রফুল্ল রাখতে, ১৭৫) মন ভালো করার উপায়, ১৭৬) যৌন স্বাস্থ্য, ১৭৭) পুরুষদের কেজেল, ১৭৮) মহিলাদের কেজেল, ১৭৯) দক্ষতা , ১৮০) আলসেমি দূর করার সহজ কিছু উপায়, ১৮১) কীভাবে সামলাবেন নিন্দুকদের ?, ১৮২) সুখী হতে চাইলে যা কখনোই করবেন না, ১৮৩) সব ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা রাখতে ৫টি টিপস, ১৮৪) বয়সের ভারে বৃদ্ধ না হয়ে বরং কাজের ভারে যুবক থাকার চেষ্টা করো, ১৮৫) নিজেকে কাজের সঙ্গে সম্পক্ত করার তিনটে স্টেপ, ১৮৬) জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে দ্রুত পদ্ধতিগুলো, ১৮৭) প্রতিদান পাওয়ার আশায় কাজ করবেন না, ১৮৮) প্রেম একটি মানসিক রোগ, ১৮৯) সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর নিজেকে যেভাবে সামলাবে, ১৯০) সময় সবকিছু বদলে দেয়, ১৯১) সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কমন পাঁচটি ভুল, ১৯২) আত্মবিশ্বাস/মনোবল, ১৯৩) প্যারাসুট অফ হ্যাপিনেস, ১৯৪) বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে, ১৯৫) আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের লক্ষণ, ১৯৬) বাড়াও আত্মবিশ্বাস, বাড়বে সফলতা, ১৯৭) প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার টিপস, ১৯৮) কিভাবে ধরে রাখবে দু'জনের সম্পর্ক, ১৯৯) কিভাবে বুঝবে সম্পর্ক শেষ করতে হবে, ২০০) সম্পর্ক যখন প্রেম-ভালোবাসার, ২০১) যেসব বিষয়ের উপর স¤পর্ক গড়ে ওঠে, ২০২) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২০৩) সম্পর্কের গুণগত মান বাড়বে কিভাবে, ২০৪) মস্তিস্ক ঠিক রাখার ৩০ উপায়, ২০৫) মানুষের আচরণের পেছনে একটা কারণ থাকে, ২০৬) কোনো কাজে নিজেকে সম্পক্ত না করেই আমরা নিজ ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাই ২০৭) স্রোতের বিপরীতে চিন্তা করুন, ২০৮) আপনার টাইমজোনে সময় আসবেই, ২০৯) চাইল্ডহুড অ্যামনেসিয়া এবং আমাদের শিক্ষণীয়,