উজ্জ্বলভাবে জ্বলে উঠার দক্ষতা জন্মসূত্রে কেউই পান না।
লোককে আকর্ষিত করার কৌশল আপনাকে শিখতে হবে। জীবনের গতি পরিবর্তন শুরু করার সময় আপনাকে অবশ্যই আপনার নামকে একটি উপমার সাথে জুড়ে দিতে হবে, যা আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। যেমন -আপনার নাম নাসির, কোথাও নাম লেখার সময় লিখলেন স.ম. নাসির। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবেন এর অর্থ 'সহজ মানুষ নাসির'। একবার এই উপমা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, আপনি অন্যদের থেকে আলাদা একটা চেহারা পেয়ে গেলেন। এবার নিজেকে আকাশে তুলেএকটা জায়গা অর্থাৎ তারকা খ্যাতি অর্জনের জন্য অন্যদের থেকে বেশি কিছু জানার তথ্য জানার চেষ্টা করুন। যারা বেশি জানে বা যেসব পেইজ /প্রোফাইল জ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত সেইসব নিয়মিত দেখে ভিন্ন কিছু বলার জন্য চেষ্টা করুন।
ষোড়শ লুইয়ের সভায় অনেক প্রতিভাবান লেখক, শিল্পী, প্রচণ্ড সুন্দরী মহিলাও ছিলেন। কিন্তু ডিউক লৌজুনের মতো কাউকে নিয়ে এতো আলোচনা হতো না। ডিউক বেঁটে ছিলেন এবং দেখতেও ভালো ছিলো না। কিন্তু লুই এবং অন্যান্য সবাই এতো আহ্লাদিত ছিলেন যে, সভায় কেউই তাঁর অনুপস্থিতি সহ্য করতে পারতেন না। অর্থাৎ আপনি দেখতে কেমন, পোশাক কেমন এসব কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। দরকার হচ্ছে আপনার চিন্তা-চেতনার বিকাশ, মানসিকতা্র ইতিবাচক পরিবর্তন এবং গুছিয়ে কথা বলার চর্চা করা।
তোমার সাফল্যের পথে বাধা শুধুমাত্র একজন ব্যাক্তি
অনেক বড় এক কোম্পানি ব্যবসায় লোকসান করে যাচ্ছিল। অনেক স্ট্যাপ ছাটাই করা হল। নতুন পরিচালক এসে এক দুপুরে কোম্পানির কর্মচারীরা বাইরের ক্যান্টিনে লাঞ্চ করে ফেরার সময় অফিসের প্রবেশমুখে একটি নোটিশ লাগিয়ে দিল। নোটিশে লেখা ছিল, 'আমাদের কোম্পানির লোকসানের জন্য যে ব্যক্তিটি দায়ী, সে গতকাল মারা গেছে। সেমিনার রুমে একটি কফিনে তার লাশ রাখা হয়েছে। যে কেউ তা দেখতে চাইলে আমন্ত্রিত।'
একজন সহকর্মীর মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমে লোকেরা দুঃখ পেল। তবে এরপর তারা কৌতুহলী হয়ে উঠলো এই ভেবে যে, যে আমাদের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল? একে একে তারা যখন কফিনের কাছে গেল এবং কফিনের ভেতরে তাকাতেই হঠাৎ তারা কেমন যেন বাকশূন্য হয়ে গেল, হতভম্ভ হয়ে গেল। যেন তাদের খুব আপন কারো লাশ সেখানে রাখা ছিল।
কফিনের ভেতর আসলে রাখা ছিল একটা আয়না। যে-ই ভেতরে তাকিয়েছিলো সে তার নিজে চেহারাই দেখতে পাচ্ছিলো। আয়নার নিচে একটা কাগজে লেখা ছিল, তোমার সাফল্যের পথে বাধা দিতে সক্ষম শুধুমাত্র একজনই আছে গোটা পৃথিবীতে, আর সে হচ্ছো 'তুমি' নিজে। তুমিই সেই একমাত্র ব্যক্তি যে তোমার জীবন পরিবর্তন আনতে পারে, তোমাকে সুখী করতে পারে, তোমাকে সাহায্য করতে পারো। তোমার জীবন তখন বদলে যায় না, যখন তোমার অফিসের বস বদলায়, যখন তোমার অভিভাবক বদলায়, তোমার বন্ধুরা বদলায়। তোমার জীবন তখনই বদলায়, যখন তুমি নিজে বদলাও। তোমার সক্ষমতা সম্পর্কে তোমার নিজের বিশ্বাসের সীমাটা যখন তুমি অতিক্রম করতে পারো, শুধু তখনই তোমার জীবন বদলায়, পূরণ হয় জীবনের লক্ষ্যগুলো।
অন্যদের দিয়ে আপনার কাজ করান কিন্তু সম্মান আপনি অর্জন করুন
অন্যদের বুদ্ধি, জ্ঞান এবং কায়িক শক্তি নিজের স্বার্থে ব্যবহার করুন। এটা শুধু যে আপনার সময় ও শক্তি বাঁচাবে তাই নয়, এটা আপনার চারিদিকে প্রভাব প্রতিপত্তির বলয় সৃষ্টি করবে। পরিশেষে আপনার সাহায্যকারীদের কথা লোকে ভুলে যাবেন এবং আপনাকে স্মরণ করবে। অন্যরা যেটা আপনার জন্য করতে পারে, সেটা নিজে কখনও করবেন না। এর বাস্তব উদাহরণ স্টিভ জবস্্।
একটা মুরগি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো এবং অন্ধ হয়ে গেলেও অভ্যাসবশত খাবারের জন্য ভালোভাবে মাটি আঁচড়াতো। অন্য একটি তীক্ষè দৃষ্টির মুরগি নিজের পায়ে মাটি না আঁচড়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো। যখন অন্ধ মুরগিটা কোনো যবের দানা আঁচড়ে তুলতো তার সঙ্গী সেটা খেয়ে নিতো। বনে এমন অনেকে আছে যারা শিকার ধরে মেরে খেয়ে বেঁচে থাকে, আবার সেখানে (হায়েনা, শকুনের মতো) বহু সংখ্যক আছে যারা অন্যের ধরা শিকারের থেকে খেয়ে বেঁচে থাকে। কম উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারীরা প্রায়শই ক্ষমতা সৃষ্টির জন্য অন্য কোনো প্রাণি পেয়ে যাবে। আপনার সৃষ্টির ওপর ভাগ বসাবার জন্য মাথার ওপর শকুনেরা চক্কর দিচ্ছে। এ ব্যাপারে অনুযোগ বা বিরক্ত হয়ে বসে থাকা অর্থহীন। বরং আপনি নিজেকে রক্ষা করুন।
আপনি অন্যদের দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নিতে শিখুন। যদি আপনি মনে করেন যে, সব কাজ নিজে করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে শক্তির নষ্ট করবেন এবং নিজেকে নিঃশেষ করবেন। আপনার নিজের যে গুণে ঘাটতি সে রকম গুণসম্পন্ন লোক খুঁজে বের করুন। তাদের কাজ গুছিয়ে নিয়ে নিজের কাজে পরিণত করুন। এই কাজের জন্য অতীতের বুকে অনেক জ্ঞান এবং বুদ্ধির ভাণ্ডার গচ্ছিত আছে; সেগুলিকে ব্যবহার করুন।
সেক্সপিয়ার অন্যান্য অনেক লেখকের মধ্যে থেকে কাহিনী, চরিত্র এবং এমনকি সংলাপও নিয়েছিলেন। আপনি নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করে, অসংখ্য ভুল করে, সময় ও শক্তির অপচয় করে জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এতে সাফল্য আসবে না। শকুন, বনের প্রাণিদের মধ্যে সব থেকে সহজে বাঁচে। অন্যদের কঠিন পরিশ্রম তার কাজে লাগে। সবার কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করা খুব সুন্দর পন্থা। তাহলে অন্যদের পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে আপনি সাফল্য অর্জন করবেন।
অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক দরকার হলে টোপ দিন
আমি যখন হরিণের জন্য টোপ দিই, তখন প্রথম যে হরিণীটি ফাঁদে আসে তাকেই গুলি করি না, পুরো পালটা জড়ো না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। উদ্যমী নেতা এমন অনেক সাহসী পদক্ষেপের সূত্রপাত করেন, যা তার জন্য অনেক ক্ষমতা হানা দিতে শুরু করে। ক্রমে তিনি ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছে যান। সব কিছু তার বিরুদ্ধে চলে যায়। তার অসংখ্য শত্রু একত্রিত হয়, তার অবস্থা বজায় রাখার জন্য একবার এটা করেন তো একবার সেটা করে নিজের শক্তি ক্ষয় করেন। তা করতে গিয়ে অনিবার্যভাবে ঢলে পড়েন। তিনি বুঝতে পারেন না কোন পদক্ষেপের ফল কী হবে। কারণ তাকে অনবরত শত্রুদের পদক্ষেপের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার উদ্যম শক্তি তারই বিরুদ্ধে যায়।
মনে রাখবেন, ক্ষমতার সারকথা হলো উদ্যোগ নেয়া। পারিপার্শ্বে যারা আছেন তাদের রক্ষণাত্মক রাখা। যখন আপনি অন্য লোকদের আপনার কাছে আসতে সুযোগ করতে পারেন তখন হঠাৎ করে দেখবেন, আপনি নিয়ন্ত্রণের অবস্থানে এবং যার হাতে নিয়ন্ত্রণ আছে তার হাতে ক্ষমতা আছে। অন্যদের আক্রমণ করা থেকে আপনার কাছে আসতে বাধ্য করা অনেক ক্ষমতাশালী অস্ত্র।
আপনার টোপের মিষ্টতার ওপর সব কিছু নির্ভর করে। যদি আপনার টোপ যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়, তবে আপনার শত্রুদের চোখ অন্ধ করে দেবে। তারা যত বেশি লোভী হবে, তাদের তত বেশি কাছে আনা যাবে। ভালুক শিকারী তার শিকারকে তাড়া করে না; যদি ভালুক বুঝতে পারে তাকে শিকার করা হচ্ছে, তাহলে ধরা প্রায় অসম্ভব এবং ঘিরে ফেললে অত্যন্ত হিংস্র। পরিবর্তে শিকার মধুর টোপ দিয়ে ফাঁদ পাতেন। জীবনের ঝুঁকিও নেন না।
অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন
আপনি মনে করতে পারেন যে আপনি একজন ডুবন্ত মানুষকে সাহায্য করছেন, কিন্তু আসলে আপনি আপনার নিজের বিপদ ঘনিয়ে আনছেন। হতভাগ্যরা কখনও কখনও নিজেদের জন্য দুর্ভাগ্য নিয়ে আসে, তারা এটা আপনার জন্যও নিয়ে আসতে পারে। বরং আপনি সুখী এবং ভাগ্যবানদের সঙ্গে মিশুন।
সে-ই হতভাগ্য, যারা পরিস্থিতির চাপে অসহায়; তাদের সাহায্য করা এবং সহানুভূতি দেখানো আমাদের উচিত। কিন্তু এমন অনেকে আছেন যারা হতভাগ্য বা অসুখী হয়ে জন্মাননি। তাদের ধ্বংসাত্মক কাজের জন্য নিজেদের ওপর তা এনেছেন। এটা একটা মহান কাজ হবে, যদি আমরা তাদের টেনে তুলতে পারি, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তাদের প্রভাব আমাদের মধ্যে ঢুকে আমাদেরই পরিবর্তিত করে দেয়। কারণটা খুবই সহজÑ যাদের সঙ্গে সময় কাটায়, তাদের মেজাজ, আবেগ এবং এমনকি চিন্তাধারার প্রতি আমরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ি নিজের অজান্তে।
এটা বুঝুন : ক্ষমতার খেলায় কার সঙ্গে আপনি মিশবেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ছোঁয়াচেদের সঙ্গে মেশার ঝুঁকি হচ্ছে, এদের থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য আপনাকে মূল্যবান সময় এবং শক্তির অপচয় করতে হবে। অন্যদের চোখে আপনার ভাবমূর্তি মার খাবে। কাজেই কাউকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ফেলবেন না। ছোঁয়াচের কাছ থেকে পালান, না হলে ফল ভোগ করতে হবে।
আবেগের ধনাত্মক দিকটার ব্যবহার করুন। উদাহরণস্বরূপ যদি আপনি কৃপণ স্বভাবের হোন, তাহলে যাঁরা মুক্তহস্ত তাঁদের সঙ্গে মিশুন। তাঁদের স্¦ভাব আপনাকে ছুঁয়ে আপনার মধ্যে আঁটসাঁট এবং সীমাবদ্ধতাকে খুলে দেবে। যদি আপনি গুমড়োমুখো হোন, তাহলে হাসিখুশিদের কাছাকাছি থাকুন। যদি আপনি বিচ্ছিন্নতাপ্রবণ হোন, তাহলে সঙ্গপ্রিয়দের সঙ্গে মিশুন। আপনার দোষ যাদের আছে তাদের সঙ্গে মিশবেন নাÑ তাঁরা আপনার মধ্যে সেগুলোকেই সমৃদ্ধ করবে, যার জন্য আপনি পিছিয়ে পড়ছেন।
সৌভাগ্যবানদের চিনুন, যাতে আপনি তাদের সঙ্গে মিশতে পারেন, হতভাগ্যদের চিনুন, যাতে আপনি তাঁদের এড়িয়ে চলতে পারেন।
লোককে আপনার ওপর নির্ভরশীল করুন
ভদ্রতার চেয়ে এই নির্ভরতাই লাভজনক। যার তৃষ্ণা মিটে যায়, তিনি আর দরকার না থাকায় কুয়ো থেকে দূরে চলে যান। যখন নির্ভরতা শেষ হয়ে যায়। অভিজ্ঞতার যে প্রথম শিক্ষা আপনার পাওয়া উচিত, তা হলো আশা জিইয়ে রাখা, কিন্তু কখনো তৃপ্ত না হওয়া, যাতে করে একজন রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকেরও আপনাকে প্রয়োজন হয়।
লোককে নিয়ে আপনি যা চান তাই করানোর ক্ষমতাই হচ্ছে সর্বোচ্চ ক্ষমতা। যখন আপনি লোকের ওপর বলপ্রয়োগ না করে, বা আঘাত না করে তাদের দিয়ে এটা করাতে পারেন, আপনি যা চান তারা স্বেচ্ছায় দিয়ে দেয়। এটা করার সর্বোত্তম পন্থা হলো একটা নির্ভরতার সম্পর্ক গড়ে তোলা। আপনি তার কাজে এমনভাবে নিমজ্জিত হন, আপনাকে বাদ দিলে তার অনেক অসুবিধা হবে। যখনই এরকম সম্পর্ক স্থাপিত হবে আপনি উচ্চাসন পাবেন, যাতে করে প্রভুকে আপনি যা বলবেন সেরকমই করবে। উদাহরণ, সিংহাসনের পিছনের মানুষটি রাজাকে নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি যদি আপনার জন্য কোনো প্রয়োজন সৃষ্টি করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে প্রথম সুযোগেই বাদ দিয়ে দেওয়া হবে।
নেওয়ার পূর্বে দেওয়া
স¤পর্কের ক্ষেতে গিভ অ্যান্ড টেক প্রয়োগ করুন। জোর করে কারো কাছ থেকে কিছু নেওয়া এমনকি ক্ষমতাবানদের পক্ষেও বিপজ্জনক। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভাববে। যতই বিনয়ের সঙ্গে হোক, আপনার যা প্রয়োজন সেটা চাওয়াও বিপজ্জনক। পাওয়ার পূর্বে দিতে শিখুন। এটা ভূমি প্রস্তুত করে। সত্যিকার উপহার, উদার কাজ, অনুগ্রহ, সৎ স্বীকারোক্তি- তারা যা নিতে চান।
প্রাচীন চীনে চেং-এর ডিউক উ ফু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাশীল হু রাজ্য কেড়ে নেবার এটাই সময়। কাউকে এটা না বলে হু-র শাসকদের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দিলেন। তারপর তিনি পরিষদ সভা ডেকে মন্ত্রীদের বললেন, ‘আমি একটা সামরিক অভিযানের কথা ভাবছি। কোন দেশ আক্রমণ করা যায়?’ তার প্রত্যাশামতোই একজন মন্ত্রী বললেন, ‘হু আক্রমণ করতে হবে।’ ডিউক ক্ষোভ দেখানোর ভান করে বললেন, ‘হু এখন বন্ধুভাবাপন্ন দেশ। আপনি কেন তা আক্রমণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন?’ অরাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য তিনি ঐ মন্ত্রীর সাজার ব্যবস্থা করলেন। হু-র শাসক এ কথা শুনলেন। হু-র সততার অন্যান্য দিক এবং তার মেয়ের সঙ্গে নিজের বিয়ের কথা ভেবে চেঙ্গের আক্রমণ থেকে হু-কে রক্ষা করার জন্য তিনি কোনো সতর্কতা অবলম্বন করলেন না। কয়েক সপ্তাহ পরে চেং বাহিনী হু দখল করে নিলো। আর কোনোদিন ছাড়লো না।
খুব কম লোক এমনকি সব থেকে কঠিন শত্রুর কাছ থেকেও উপহার অস্বীকার করতে পারে, যার জন্য এটা অবশ্যই লোককে বশ করার জন্য উত্তম পন্থা। উপহার আমাদের মধ্যেকার শিশুটিকে বাইরে আনে। তাই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা প্রায় কখনোই উপহারের মেকি দিকটা, যা অন্তর্নিহিত গোপন লুকিয়ে রাখে তা লক্ষ্য করি না। প্রতারণামূলক পদক্ষেপ লুকিয়ে রাখার জন্য উপহার উত্তম বস্তু। এই জন্য বলা হয়, ‘আপনি যখন উপহার নিতে যাচ্ছে তখন আপনাকে দিতে হবেই।’
এক কৃষকের বাগানে একটি আপেল গাছ ছিলো। তাতে কোনো ফল ধরতো না। কিন্তু সেখানে কিছু পাখি বাস করতো। তিনি এটা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং কুড়াল হাতে নিয়ে গিয়ে গোড়ায় জোরে কোপ বসালেন। পাখিরা অনুনয় করে তাকে যে গাছটি আশ্রয় দেয়, না কাটার জন্য অনুরোধ করলো। তারা বললো, তারা গান শুনিয়ে তার শ্রমের ভার লাঘব করবে। কিন্তু তিনি তাদের অনুরোধে কোনোরকম কান না দিয়ে তার কুড়াল দিয়ে গাছে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কোপও দিলেন। তখন তিনি লক্ষ্য করলেন অনেকগুলি মৌমাছি তাকে ঘিরে ধরেছে। উপরের দিকে তাকিয়ে মধুপূর্ণ একটি মৌচাক দেখলেন। তিনি হাতের কুড়াল ফেলে দিলেন। আশায় তার বুক ভরে উঠলো।
অধিকাংশ মানুষই নিজ স্বার্থ ছাড়া আর কিছুতে তাদের আগ্রহ নেই। যখনই স্বার্থের লোভ দেখেন, তখনই সব সহজ করে দেন।
অন্য বক্তির স্বার্থ বুঝুন
আপনার ক্ষমতা লাভের জন্য আপনার থেকে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন লোকদের কাছ থেকে বারবার সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন পড়বে। এই সাহায্য চাওয়ার একটা পদ্ধতি আছে, যাদের কাছে সাহায্য চাইছেন তাদের স্বার্থ বোঝা। অধিকাংশ লোকই এতে সফল হয় না, কারণ তারা তাদের নিজের প্রয়োজন এবং নিজের চাওয়ার মধ্যে বন্দী থাকে। তারা ধরে নেন যে, যার কাছে তারা সাহায্য চাইছেন, সেই বড় নেতা নিঃস্বার্থভাবে তাদেরকে সাহায্য করবে। যা তারা উপলব্ধি করে না, তা হলো এই যে, সব থেকে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিও নিজের প্রয়োজনের পিঞ্জরে আবদ্ধ থাকে এবং আপনি যদি তার স্বার্থ না দেখেন, তাহলে তিনি আপনাকে হতাশ করবে।
বারো শতকে যখন মঙ্গোলরা চীন আক্রমণ করেন, তারা দু’হাজার বছর ধরে চলে আসা একটা সংস্কৃতিকে মুছে দিতে চাইছিলেন। তাদের নেতা চেঙ্গিস খান চীনে অন্য কিছু না দেখে দেখেন যে, সে দেশে তার ঘোড়াদের জন্য কোনো গোচারণ ভূমি নেই, কাজেই তিনি জায়গাটিকে ধ্বংস করার ও শহরগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে করে চীনাদের শেষ করে ঘাস জন্মানোই বেশি কাম্য হবে। কোনো সৈনিক, সেনাপ্রধান বা রাজা চীনকে এই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচায়নি, বাঁচিয়েছিলো ইয়েলু চু সাই নামে একজন লোক। চু সাই নিজে বিদেশি ছিলেন এবং চীনা সংস্কৃতি দেখার জন্য তিনি এসে ছিলেন। তিনি নিজেকে চেঙ্গিস খানের বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা রূপে প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাকে বোঝাতে সমর্থ হন যে, ধ্বংস করার পরিবর্তে তিনি যদি সেখানকার প্রত্যেকের ওপর কর বসান তবে অনেক অর্থ লাভ করবেন। খান এর মধ্যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পান এবং চু সাই যে রকম বলেন, সে রকমই করেন।
আপনি যদি নেতাকে বোঝাতে পারেন, আপনি কিভাবে তার প্রয়োজন মেটাতে পারেন বা তার সুবিধা করে দিতে পারেন, আপনাকে সুবিধা ও সাহায্যের জন্য তাদের বাধা যাদুর মতো উড়ে যাবে। ক্ষমতা লাভের প্রতিটি পদক্ষেপ প্রয়োজন ভাবার জন্য নিজেকে প্রশিক্ষিত করতে হবে।
কৃতজ্ঞতার তার দিয়ে স¤পর্ক জোড়া লাগাবার চেষ্টা করো না , তা প্রথম আঘাতেই ছিঁড়ে যাবে। পারস্পরিক স্বার্থ এমন উপকরণ দিয়ে গাঁথা এবং সহজে ছিঁড়বে না। এটা অনেক বছর ধরে আপনার কাজে লাগবে।
শত্রুকে খাটো করে দেখবেন না
যদি আপনার কখনো মনে হয় যে, কোনো ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলছেন, আপনি এমন ভাব করুন যে, তার প্রতিটি কথা আপনি বিশ্বাস করছেন। এটা তাকে আরো বলতে উৎসাহ দেবে; তিনি তার বক্তব্যে আরো উদ্দীপ্ত হবেন এবং শেষে নিজের ক্ষতি করবেন। আবার যদি আপনার মনে হয় যে, কেউ আংশিক সত্যি কথা বলছেন, খানিকটা লুকোচ্ছেন, আপনি এমন ভাব দেখান যে, তার কথা বিশ্বাস করেননি। আপনার বিরোধিতা তাকে বাকি সত্যাটা বলতে এবং আপনার অবিশ্বাস ভাঙাতে প্ররোচিত করবে।
লোকেরা আপনাকে তাদের চিন্তা, আবেগ এবং পরিকল্পনার কথা বলবে না। তাদের দুর্বলতা, গোপন উদ্দেশ্যসমূহ, বাধ্যবাধকতা গোপন রাখে। ফলে আপনি ধারাবাহিকভাবে অন্ধকারে থাকেন। সমাধান হলো, তাদের কথা জানার উপায় বের করতে হবে, আপনি কি করছেন সেটা তাদের বুঝতে না দিয়ে, তাদের গোপন কথা এবং সুপ্ত ইচ্ছের কথা জানতে হবে।
নিজের মনের কথা খুলে অন্যদের বলার ভান করে, আপনি তাদেরকে তাদের গোপন কথা প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুত করবেন। তাদের কাছে স্বীকারোক্তি করার ভান করুন, তারা সত্যি স্বীকারোক্তি করবেন।
দুর্বল বলে কোনো শত্রুকে খাটো করে দেখা উচিত নয়। খড়ের গাদায় আগুনের ফুলকির মতো তিনি একসময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। যাই ঘটুক না কেন, এমন অনেক লোক থাকবে যাদের আপনি পক্ষে টানতে পারবেন না। তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে আপনি যদি উদারতাবশত বা মিটমাটের আশায় মাঝপথে থামেন, তাহলে আপনি আরো তিক্ততার সুযোগ দিচ্ছেন, যাতে করে তারা একদিন প্রতিশোধ নিতে পারে। মাও সে তুং এই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব জানতেন। এ কমিউনিস্ট নেতা রাষ্ট্রের বড়ো সেনাবাহিনীর আক্রমণ এড়াতে ৭৫,০০০-এর মতো যৎসামান্য অস্ত্রসহ সৈন্য নিয়ে লংমার্চ করে পশ্চিম চীনের নির্জন পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রতিটি কমিউনিস্ট সেনাকে শেষ করার জন্য রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু ১৯৩৭ নাগাদ যখন জাপান চীন আক্রমণ করলো তখন সেনাবাহিনী হিসেব করে দেখলেন যে, কমিউনিস্টরা আর বিপদের কারণ নয়। তিনি তাদের তাড়া করা বন্ধ করে জাপানের বিরুদ্ধে মনোসংযোগ করলেন। এ সুযোগে কমিউনিস্টরা শক্তি সঞ্চয় করে রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীকে হারিয়ে দিলেন।
শত্রুকে একদম শেষ করে দেওয়ার যুক্তি সেনাবাহিনী ভুলে গিয়েছিলেন; কিন্তু মাও ভোলেননি। যতক্ষণ না রাজা এবং তার সম্পূর্ণ বাহিনী তাইওয়ানে পালিয়ে না গেলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের তাড়া করা হলো। মূল চীন ভূখণ্ডে রাজত্বের আর সুযোগ হল না। এখনো চিনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় এবং তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ড দাবী করে। কাজেই শত্রুকে কোনো সুযোগই দেবেন না। আপনি মাঝপথে থামার মতো নির্বুদ্ধিতা করবেন না। যদি কোনো ভাইপার আপনার পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে জীবন্ত ছাড়া পায়, আপনাকে দ্বিগুণ বিষ ঢেলে কামড়াবে। দুঃসময়ে সময়ে বিষ বেশি শক্তিশালী হয়।
নিজেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ নির্মাণ করবেন না
রাজা [ষোড়শ লুই]। উচ্চ আভিজাতরা যাতে তার সভায় থাকেন শুধু তাই খেয়াল রাখতেন না, তিনি নিম্ন অভিজাতদের সর্বদা খুঁজতেন। সবকিছু খেয়াল করতেন। অভিজাতরা স্থায়ীভাবে সভায় না থাকলে তিনি অসন্তুষ্ট হতেন এবং যাদের খুব কম দেখা যেতো তারা তার পুরো রোষে পড়তেন।
তিনি যুক্তি দেখাতেন যে, সামরিক অর্থে দুর্গ নির্মাণ ভুল। এটা ক্ষমতার বিচ্ছিন্নতা এবং শত্রুর আক্রমণের লক্ষ্যস্থল হয়ে দাঁড়ায়। নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত দুর্গ আসলে আপনাকে সাহায্য পাওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং কৌশল পরিবর্তনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কৌশলগত দিক থেকে বিচ্ছিন্নতা দুর্গকে কোনো সুরক্ষা দেয় না।
পরিবর্তে নিজেকে অন্যের কাছে মেলে ধরুন। পুরনো বন্ধু খুঁজুন, নতুন বন্ধু করুন, নিজেকে আরো বিভিন্ন মহলে প্রবেশ করান। শত শত বছর ধরে এটাই ক্ষমতাবান লোকদের কৌশল। আপনি অন্যদের সঙ্গে যত মিশবেন, আপনি তত উদার ও সহজ হতে পারবেন। দুর্গমানসিকতার শিকার না হয়ে দুনিয়াকে একটা বিরাট প্রাসাদ ভাবুন। প্রত্যেকটি ঘর অন্যের সঙ্গে যুক্ত। আপনাকে প্রকাশ্য হতে হবে। আপনাকে যত্রতত্র যেতে হবে, বিভিন্ন মহলে ও বিভিন্ন ধরনের লোকের সঙ্গে মিশতে হবে।
কোথাও বসে বা স্থায়ী না হয়ে আপনি সর্বদা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরুন। দেখা গেছে যেসব ব্যাক্তি শৈশবে বাবার কর্মসূত্রে বা অন্য কারনে বিভিন্ন জায়গায় বেড়ে উঠেছেন, তারাই পরবর্তীতে সফলতা পেয়েছেন। যেসব ভাড়াটিয়া ঘুরে ঘুরে বাসা পাল্টিয়ে থাকেন, তাদের সন্তানরা বাস্তব ক্ষেত্রে হিরো হয়।
কারোর পক্ষ অবলম্বন করে বসে থাকবেন না
বোকারা সব সময় পক্ষ অবলম্বন করার জন্য ছোটেন। নিজের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করে আপনি অন্যদের প্রভু হোন। আপনার স্বতন্ত্রতার খ্যাতি যত ছড়াবে, আপনাকে পক্ষে টানার জন্য তত বেশি লোক আপনার কাছে আসবেন। চাওয়া একটা ভাইরাস। আমরা যদি দেখি যে একজন লোককে অন্যরা চাইছেন, আমরাও তাকে চাওয়ার আগ্রহ দেখাই। পক্ষ অবলম্বনের চেয়ে প্রয়োজনে দু’পক্ষের কাছে নতি স্বীকার করুন।
৪৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন চীনে উয়ে-র রাজা গৌজিয়াও-এর যুদ্ধে উ-এর শাসকের কাছে করুণভাবে পরাজিত হন গৌজিয়ান । গৌজিয়ান পালাবেন ভাবছিলেন, কিন্তু তাঁর একজন পরামর্শদাতা ছিলেন, তিনি তাকে আত্মসমর্পণ করে উ-এর শাসকের কাছে নতি স্বীকার করতে বললেন, যাতে তিনি শাসককে জেনে প্রতিশোধ নেওয়ার ছক কষতে পারবেন। তাঁর পরামর্শ মতো গৌজিয়ান তাঁর সব ধন-সম্পদ উ-এর শাসককে দিয়ে দিলেন এবং তাঁর আস্তাবলে সব থেকে নীচের কাজে যোগ দিলেন।
তিন বছর ধরে তিনি শাসকের সামনে সাধারণভাবে থাকলেন। তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট শাসক তাঁকে ঘরে ফিরতে দিলেন। ভিতরে ভিতরে কিন্তু গৌজিয়ান ঐ তিন বছরে খবরাখবর সংগ্রহ করেছেন এবং প্রতিশোধের ছক কষেছেন। যখন উ-তে এক ভয়াবহ খরা দেখা দিলো এবং অভ্যন্তরীণ গোলমালে রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লো, গৌজিয়ান সৈন্য সংগ্রহ করলেন, আক্রমণ করলেন এবং সহজেই জয় করলেন। গৌজিয়ান পালালে এ সুযোগ পেতেন না।
ইংরেজি প্রবাদ আছে যে, একটি ওক গাছ যখন ঝড়কে বাধা দেয়, একে একে তার শাখাগুলোকে হারায়, তাকে রক্ষা করার কিছুই থাকে না। গুঁড়িটাও মট করে ভেঙে পড়ে। কিন্তু যে ওক গাছ ঝড়ের সামনে ঝুঁকে পড়ে, সে দীর্ঘদিন বাঁচে, তার গুঁড়ি মোটা হয়, শিকড় গভীরে যায়।
আপনার শক্তিসমূহকে সংহত করুন
রবীন্দ্রনাথ স্কুল পালিয়েছেন। নজরুল তো বেশি পড়তেই পারলো না। লালন তো বুঝলই না স্কুল কি?
আজ মানুষ তাঁদেরকে নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করছে। আন্ড্রু কার্নেগীকে তো ময়লা পোশাকের জন্যই পার্কেই ঢুকতে দেয়নি। ৩০ বছর পরে উনি সেই পার্কটি কিনে ফেলেন, আর সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেন "সবার জন্য উন্মুক্ত"। স্টিভ জবস্ শুধু মাত্র ১ দিন ভাল খাবারের আশায় ৭ মাইল দূরে পায়ে হেঁটে গির্জায় যেতেন। ভারতের সংবিধান প্রণেতা বাবা আম্বেদকর নিম্ন বর্ণের হিন্দু ছিলেন বলে স্কুলের বারান্দায় বসে বসে ক্লাস করতেন। কোনো গাড়ি তাঁকে নিতো না। মাইলের পর মাইল হেঁটে পরীক্ষা দিয়েছেন। সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিকুর রহমান বাজার থেকে চাঁদা তুলে পড়ালেখা করেছেন। সুন্দর চেহারার কথা ভাবছেন? শেখ সাদীর চেহারা যথেষ্ট কদাকার ছিল, তৈমুর লং খোঁড়া ছিলেন, নেপোলিয়ন বেঁটে ছিলেন। আব্রাহাম লিঙ্কনের মুখ ও হাত যথেষ্ট বড় ছিল। স্মৃতিশক্তির কথা ভাবছেন? আইনস্টাইন নিজের বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নাম্বার মনে রাখতে পারতেন না। এইসব কোন প্রতিবন্ধকতা সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারিনি।
সূচিপত্র
১) ছোটদের সাথে আমাদের আচরণ ২) পরিবার ও সন্তান, সুপার পাওয়ার যেভাবে তৈরি হয়, ৩) দীর্ঘস্থায়ী ভয়ের উৎপত্তির মূলে শৈশবকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব , ৪) সন্তানের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বাড়ানো, ৫) আপনার শিশুটি ঘুমুক শান্তিতে এবং নির্ভরতায় , ৬) কিছু অব্যর্থ টিপস, যা আপনার শিশুকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে, ৭) শিশুকে কিভাবে বড় করবেন, ৮) বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে কী করবেন? ৯) বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্যতম পথ, দৌড়, ১০) বাচ্চাকে কখনো আড়ালে লুকিয়ে খেতে দেবেন না, ১১) পিটার সিংগারের দর্শন, ১২) দুষ্টু শিশুরা তাড়াতাড়ি শেখে, ১৩) সন্তানকে যতই শাস্তি দেবেন ততই সে অসামাজিক হবে, ১৪) বাবা-মাই সন্তানকে নির্যাতন করেন সবচেয়ে বেশি , ১৫) সন্তানের সাথে কিভাবে গড়ে তুলবেন নিবিড় বন্ধন, ১৬) যে ১১টি কথা শিশুকে কখনোই বলবেন না!, ১৭) শিশুকে গল্প শোনান প্রতিদিন, ১৮) সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ১০টি কৌশল, ১৯) সৃজনশীলতা হচ্ছে নতুন কিছু করার যোগ্যতা, ২০) যারা মুখস্থ করতে পারেন না, ২১) তারা মেধাবী, মেধাবী হওয়ার উপায়,
২২) কথা ও ভাষা, ২৩) এলিভেটর পিচ, ২৪) সুন্দর করে কথা বলে সমস্যা জয়ের কৌশল, ২৫) ফোনে কথা বলার আদবকেতা, ২৬) ১২টি কর্ম বিধান, ২৭) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২৮) আলতু-ফালতু কাজে সময় অপচয় করে স্বপ্ন পূরণের কল্পনা, ২৯) স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ৩০) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর জীবন থেকে শিক্ষা, ৩১) অভিজ্ঞতা ও অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ, ৩২) বর্তমানকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিন, ৩৩) ২৪ ঘণ্টা কেউ সুখী হয় না, ৩৪) কিছু অভ্যাস যা আপনাকে আরও সুখী করবে , ৩৫) আপনার অবয়ব , ৩৬) সফলতার 25টি হট কৌশল-1, ৩৭) সাফল্যের 25টি হট কৌশল-2, ৩৮) সফলতার 55 সূত্র, ৩৯) কিভাবে নিজেকে নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে, ৪০) সময় ব্যবস্থাপনা, ৪১) সময় ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপ, ৪২) সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপায়গুলো, ৪৩) সাফল্য, ড. কোভের ইমোশনাল একাউন্ট কনসেপ্ট, ৪৪) সবচে বড় ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৫) আপনার ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৬) বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ বর্জিত কর্মফল বিপজ্জনক, ৪৭) অন্যদের দিয়ে আপনার কাজ করান কিন্তু সম্মান আপনি অর্জন করুন, ৪৮) অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক দরকার হলে টোপ দিন, ৪৯) অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন, ৫০) লোককে আপনার ওপর নির্ভরশীল করুন , ৫১) নেওয়ার পূর্বে দেওয়া অন্য বক্তির স্বার্থ বুঝুন, ৫২) শত্রুকে খাটো করে দেখবেন না, ৫৩) নিজেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ নির্মাণ করবেন না, ৫৪) কারোর পক্ষ অবলম্বন করে বসে থাকবেন না, ৫৫) আপনার শক্তিসমূহকে সংহত করুন, ৫৫) নিজের ভুলগুলোকে লুকিয়ে রাখুন, ৫৬) শুধু সাহসের জোরে নয়, পরিণতিও বিবেচনায় রাখুন, ৫৭) প্রতিটি মানুষের গোপন ইচ্ছা খুঁজে বের করুন, ৫৮) রাগ বিপজ্জনক ও অভদ্রতা, ৫৯) কোনো দলকে ধরার জন্য দলপতিকে প্রথমে ধরুন, ৬০) নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন, ৬০) পরিবেশ সামলাতে শিখুন, ৬১) প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন, ৬২) আপনার সামাজিক পরিবেশ ‘প্রথম শ্রেণি’র করে তোলার উপায়, ৬৩) ‘সস্তার তিন অবস্থা’ প্রধম শ্রেণিভুক্ত হয়ে উঠুন , ৬৪) যত বেশি বন্ধুত্ব তত বেশি উপরে ওঠার সম্ভাবনা, ৬৫) সাহস করে কাজটা শুরু করুন, ৬৬) সাফল্য মানে বারবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করা, ৬৭) ১- ১০ ভাল অভ্যাস, ১১- ২০ ভাল অভ্যাস, ২১- ৩০ ভাল অভ্যাস, ৩১- ৪০ ভাল অভ্যাস, ৪১- ৫০ ভাল অভ্যাস, ৫১- ৬০ ভাল অভ্যাস, ৬১- ৭০ ভাল অভ্যাস, ৭১- ৮০ ভাল অভ্যাস, ৮১- ৯০ ভাল অভ্যাস, ৯১- ১০২ ভাল অভ্যাস, ৬৮) জিরো থেকে হিরো, ৬৯) সৃজনশীলদের সফলতার ৭ সূত্র, ৬৯) জীবনে পরিবর্তন আনুন ৪৮টি উপায়ে, ৭০) জীবন-যাপন, ৭১) জাপানী ও চিন লাইফ স্টাইল , ৭২) ৩০টি দর্শন, যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে, ৭৩) সম্পর্ক তৈরি করা, বন্ধুত্ব, ৭৪) যে আচরণগুলো মানুষের মনের কথা জানাবে, ৭৫) কথা বলার সূত্র, ৭৬) আপনি ও আপনার ব্যবহার, ৭৭) নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, ৭৮) কথা বলার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, ৭৯) কিভাবে নিজেকে বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করবেন, ৮০) কিভাবে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলবেন, ৮১) কথা বলার ৫টি বিস্ময়কর টেকনিক, ৮২) কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করবেন? ৮৩) অকারণে সময় নষ্ট? মেল রবিনের ৫ সেকেন্ড রুল, ৮৪) কর্পোরেট আদবকেতা, ৮৫) ৩৫টি কর্পোরেট কালচার ও আপনার করণীয়, ৮৬) যা না জানলে লজ্জায় পড়তে হয় , ৮৭) কাজের সময়ে যে বিষয়গুলো একেবারেই করা উচিৎ না , ৮৮) ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে ছুড়ে ফেলুন ৭টি দোষ, ৮৯) আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে বা স্বপ্ন,
৯০) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, কাজ কিভাবে করবেন? ৯১) আত্মশক্তিতে বলিয়ান হতে, ৯২) একনাগাড়ে চলবেন না, ৯৩) মারফিস ’ল , কাজের রোডম্যাপ তেরি , ৯৪) জব স্যাটিসফেকশন, ৯৫) কাজে সফলতার সূত্রাবলী, ৯৬) যেভাবে জীবনযাপন করবেন, ৯৭) পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা যে কাজগুলো কখনোই করেন না, ৯৮) জীবনে দক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়, ৯৯) সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও কাজ করার উপায় , ১০০) সফলতা ও সার্থকতা, ১০১) জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করা, ১০২) সফলতার কিছু পদ্ধতি, ১০৩) সফল হতে চাইলে যে ৮ টি জিনিস বাদ দেয়া প্রয়োজন, ১০৪) সফল ব্যক্তিরা যে ১০টি কাজ কখনোই করেন না, ১০৫) সর্বদা স্মরণ রাখুন, ১০৬) চিন্তাশক্তি , ১০৭) স্বাধীনতা, ১০৮) জ্ঞান অর্জন খাদ্য গ্রহণের মতো , ১০৯) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে চেষ্টা করলে কখনোই বিফল হবেন না, ১১০) বুদ্ধির সংজ্ঞা হলো, প্রতিটি কাজ ভেবে-চিন্তে করা, ১১১) ব্যক্তিত্ব, চেহারা ও ব্যক্তিত্ব , ১১২) সেলডন-এর গবেষণা , ১১৩) ব্যক্তিত্ব ও উচ্চারণ, ১১৪) পোশাক ও ব্যক্তিত্ব, ১১৫) প্রথম দেখায় ব্যক্তিত্বের ছাপ, ১১৬) বিচ্ছিন্নতা ব্যক্তিত্বের বড় শত্রু, ১১৭) ব্যক্তিত্বে জিনগত প্রভাব, ১১৮) অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব, ১১৯) মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের ১০ বৈশিষ্ট্য, ১২০) ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার জন্যে ১০ নির্দেশনা, ১২১) কিভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবেন? , ১২২) নিজেকে স্মার্ট করতে ৫টি কৌশল, ১২৩) আকর্ষণীয় মানুষ হবার ৬টি পরামর্শ, ১২৪) আত্মশুদ্ধি , ১২৫) হতাশ হবেন না, ১২৬) পাছে লোকে কিছু বলে, ১২৭) সুখ-শান্তি উন্নতি , ১২৮) চাহিদা, ১২৯) খাদ্য, ঘুম ও বিশ্রাম, ১৩০) স্বাস্থ্য ভাল রাখার নিয়ম, ১৩১) টেনশন দূর করতে হলে, ১৩২) শুধু নিজের কথা নয়, অন্যের কথাও ভাবুন, ১৩৩) চাহিদা যত বেশি সুখ তত কম, ১৩৪) সুখী জীবনের জন্য ১৮ টি টিপস, ১৩৫) আত্মবিশ্বাস, আত্ম বিশ্বাসের শক্তি, ১৩৬) অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যর্থ মানুষ, ১৩৭) দি সেভেন হ্যাবিট অফ হাইলি এ্যা ফেক্টিভ পিপল, ১৩৮) সামাজিক আয়না, ১৩৯) প্রোএ্যাক্টিভিটি, ১৪০) সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স, ১৪১) শুরু করুন আজই, ১৪২) আপনার কেন্দ্রবিন্দু কোনটি?, ১৪৩) মাথার দুটি অংশই ব্যবহার করুন, ১৪৪) সময়ের ব্যবস্থাপনা, ১৪৫) ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা, ১৪৬) গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি, ১৪৭) পরনির্ভরশীল জীবন, ১৪৮) ছয়টি উপায়ে অন্য মানুষের সাথে আদান-প্রদান, ১৪৯) অধ্যয়ন, ১৫০) পড়াশোনায় ১২ কার্যকর কৌশল, ১৫১) ঘুম থেকে উঠতে ১০-৩-২-১-০ ফর্মুলা, ১৫২) আয়-ব্যয়- টাকা, ১৫৩) অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে কারণে অর্থহীন, ১৫৪) খরচের লাগাম টেনে ধরতে.. ১৫৫) নারী, ১৫৬) সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে কিছু “মিথ্যা” বলা জরুরী , ১৫৭) ছেলেদের কোন জিনিস দেখে মেয়েরা? , ১৫৮) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস, ১৫৯) ভুঁড়ি ঠেকাতে ৫টি নিয়ম, ১৬০) যেসব কারণে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া উচতি , ১৬১) বিয়ে-সংসার, ১৬২) সফল বিয়ের তিনটি মন্ত্র, ১৬৩) সুখী হবার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র, ১৬৪) কিছু গল্প, ১৬৫) ভালোবাসাহীন সম্পর্ক, ১৬৬) কেন স্পর্শের প্রয়োজন হয় প্রতিদিন, ১৬৭) যে কারণে একা থাকাই আপনার জন্য ভালো, ১৬৮) ব্যবসা, ১৬৯) বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল, ১৭০) যে ৭টা ব্যাপার বিজনেসে করবেন না, ১৭১) স্বাস্থ্য, ১৭২) দুগ্ধজাত খাবারে পুরুষের বন্ধ্যত্ব, ১৭৩) একাকিত্বের বিপদ, ১৭৪) কর্মক্ষম ও প্রফুল্ল রাখতে, ১৭৫) মন ভালো করার উপায়, ১৭৬) যৌন স্বাস্থ্য, ১৭৭) পুরুষদের কেজেল, ১৭৮) মহিলাদের কেজেল, ১৭৯) দক্ষতা , ১৮০) আলসেমি দূর করার সহজ কিছু উপায়, ১৮১) কীভাবে সামলাবেন নিন্দুকদের ?, ১৮২) সুখী হতে চাইলে যা কখনোই করবেন না, ১৮৩) সব ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা রাখতে ৫টি টিপস, ১৮৪) বয়সের ভারে বৃদ্ধ না হয়ে বরং কাজের ভারে যুবক থাকার চেষ্টা করো, ১৮৫) নিজেকে কাজের সঙ্গে সম্পক্ত করার তিনটে স্টেপ, ১৮৬) জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে দ্রুত পদ্ধতিগুলো, ১৮৭) প্রতিদান পাওয়ার আশায় কাজ করবেন না, ১৮৮) প্রেম একটি মানসিক রোগ, ১৮৯) সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর নিজেকে যেভাবে সামলাবে, ১৯০) সময় সবকিছু বদলে দেয়, ১৯১) সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কমন পাঁচটি ভুল, ১৯২) আত্মবিশ্বাস/মনোবল, ১৯৩) প্যারাসুট অফ হ্যাপিনেস, ১৯৪) বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে, ১৯৫) আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের লক্ষণ, ১৯৬) বাড়াও আত্মবিশ্বাস, বাড়বে সফলতা, ১৯৭) প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার টিপস, ১৯৮) কিভাবে ধরে রাখবে দু'জনের সম্পর্ক, ১৯৯) কিভাবে বুঝবে সম্পর্ক শেষ করতে হবে, ২০০) সম্পর্ক যখন প্রেম-ভালোবাসার, ২০১) যেসব বিষয়ের উপর স¤পর্ক গড়ে ওঠে, ২০২) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২০৩) সম্পর্কের গুণগত মান বাড়বে কিভাবে, ২০৪) মস্তিস্ক ঠিক রাখার ৩০ উপায়, ২০৫) মানুষের আচরণের পেছনে একটা কারণ থাকে, ২০৬) কোনো কাজে নিজেকে সম্পক্ত না করেই আমরা নিজ ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাই ২০৭) স্রোতের বিপরীতে চিন্তা করুন, ২০৮) আপনার টাইমজোনে সময় আসবেই, ২০৯) চাইল্ডহুড অ্যামনেসিয়া এবং আমাদের শিক্ষণীয়,