মানুষের সাথে ইন্টার্যা কশনের ছয়টি দৃষ্টান্ত
আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হোন, কিংবা সাধারণ কর্মী, কিংবা একজন সাদামাটা মা-বাবা, আপনি যখনই অন্য কারও সাথে ইন্টার্যাপক্ট করতে যাবেন, সেই মুহূর্তে আসলে আপনি অন্যের উপর নিজের ছাপ রেখে যাচ্ছেন। সেটা মা-বাবা হিসেবে যেমনটা করছেন আপনার সন্তানের উপর, একজন বিক্রেতা হিসেবে করছেন ক্রেতার উপর, একজন কর্মী হিসেবে করছেন অন্যান্য কর্মীর উপর। আপনি যদি সেই ইন্টার্যাকেশনকে পাত্তা না দেন, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু যদি দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব ফেলতে চান, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে এই আদান-প্রদানের ফরম্যাটটা কেমন হয়।
মানুষ মূলত ছয়টি উপায়ে অন্য মানুষের সাথে আদান-প্রদান করে থাকে। সেগুলো হলো-
১. উইন/উইন, ২. উইন/লুস, ৩. লুস/উইন, ৪. লুস/লুস, ৫. উইন, ৬. উইন/উইন, নয়তো নো-ডিল।
আমি ইচ্ছে করেই এই টার্মগুলোকে বাংলা করলাম না। এগুলো বহুল প্রচলিত শব্দ। বাংলা করতে গেলে মূল ভাবটি নষ্ট হতে পারে। উইন/লুস এগুলো আমরা সবাই কম/বেশি বুঝি। তাই এটা নিয়েই আগানো যাক। এবং এই ছয়টি বিষয় নিয়ে কিছুটা আলোচনা করি, যেন আপনি বুঝতে পারেন আপনার ব্রেইনটি কীভাবে প্রোগ্রাম করা। তার উপর নির্ভর করবে, আপনি আসলে কতটা ইফেক্টিভ হতে পারবেন।
১. উইন/উইন
উইন/উইন হলো মানুষের মনের একটি ফ্রেমওয়ার্ক, যা প্রতিনিয়ত উভয় পক্ষের ভালোটা খুঁজতে থাকে। এটা আসলে কোনোও টেকনিক কিংবা উপায় নয় যে আপনি ক্ষেত্র বিশেষ প্রয়োগ করে লাভবান হয়ে যাবেন। এটা হলো একধরনের দর্শন যা আপনার ভেতর থাকবে, নয়তো থাকবে না। যদি থাকে, তাহলে সব সময়ই থাকবে। আর যদি না থাকে, তাহলে আপনি এটাকে একটা টেকনিক হিসেবে প্রয়োগ করতে পারবেন না। আপনাকে মূলত এই গুণটি অর্জন করতে হবে।
এই গুণের মানুষগুলো সবকিছুতেই উভয়পক্ষের স্বার্থটি খেয়াল রাখে। তারা বিশ্বাস করে, যেকোনোও ইন্টার্যারকশনেই উভয়কেই জিততে হবে, উভয়কেই ভালো অনুভব করতে হবে এবং উভয়কেই পরিতৃপ্ত হতে হবে। উইন/উইন চিন্তার মানুষগুলো একটু ভিন্ন ধরনের হয়। তারা উভয়ই সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে ভালো অনুভব করে, এবং সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য অনেক বেশি দৃঢ় সংকল্প থাকে।
এরা পৃথিবীকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ কোনোও খেলার মাঠ হিসেবে দেখে না; এরা মূলত সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা দিয়ে পরিচালিত হয়। এরা সব কিছুতেই সহযোগিতার হাত দেখতে পায়। অনেকেই সব কিছুতেই হার/জিত দেখতে পায় এবং সেভাবেই পৃথিবীতে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু উইন/উইন মানসিকতার মানুষগুলো সেভাবে পৃথিবীতে দেখে না। তারা মনে করে না যে, এই পৃথিবীতে রিসোর্সের সংকট রয়েছে। তারা মনে করে না যে, অন্যেরটা কেড়ে নিয়ে নিজেরটা বড় করতে হবে। তারা বিশ্বাস করে, এই পৃথিবীতে অনেক আছে, সেটা সবাই ভাগ করে নিলেও নিজের কমতি হবে না। তারা একটা নীতির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। তারা মনে করে না যে, একজনের সাফল্য আরকজনের ব্যর্থতার উপর দাঁড়িয়ে করতে হবে।
২. উইন/লুস
বাংলাদেশের আমি যত মানুষের সাথে উঠাবসা করেছি, সেখান সবচে’ বেশি সংখ্যক মানুষ হলো‘উইন/লুস’ স্ক্রিপ্ট পরিচালিত মানুষ। তাদের ব্রেইনে এই স্ক্রিপ্টটা ট্যাটু করে ছাপ দেওয়া রয়েছে। তারা সব সময় জিততে চায় এবং অন্যকে ঠকিয়ে জিততে চায়। এর বাইরে এরা ভাবতেই পারে না। সবসময় মাথায় থাকে,‘আমি জিতব, তুমি হারবে’। একটা কঠিন প্রতিযোগিতার ভেতর নিজেকে গড়ে তুলেছে এই গোত্রের মানুষগুলো।
আপনি যখনই কোনোও লিডারশীপ পজিশনে যাবেন, এবং ভেতর আপনার স্ক্রিপ্টটা হলো‘উইন/লুস’ দিয়ে লেখা, আপনি সবসময় আপনার ক্ষমতা, অবস্থান, লিংক সবকিছু ব্যবহার করবেন যেন আপনি সবসময় জিততে পারেন। এবং আপনি সবসময় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন, অন্যেরা যেন পরাজিত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের স্ক্রিপ্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের খুব ছোটবেলা থেকেই মাথায় গেথে যায়। তারা বেড়ে ওঠে এই ফর্মূলা দিয়ে। তারা তাদের পরিবার থেকে এটা পেয়ে থাকে।
ছোটবেলায় তার মা-বাবা যখন তার সাথে অন্য ভাইবোনদের তুলনা করা শিখিয়েছে, তখন থেকেই তার ভেতর এটা ঢুকে গেছে। পরিবারের যে ছেলেটি কিংবা মেয়েটি লেখাপড়ায় ভালো, তাকে যখন বেশি আদর করা হচ্ছে, সবার ব্রেইনে এটা ঢুকে যাচ্ছে যে, মা-বাবার ভালোবাসা অর্জন করতে হলে তাকে লেখাপড়ায় জিততে হবে। তাকে কোনোও না কোনোও কিছুতে জিততে হবে, তখনই তার ভেতর অন্যকে হারিয়ে নিজে জেতার একক মানসিকতা তৈরি হয়ে যায়। আমরা মা-বাবারা প্রতিনিয়ত একেকটি বাচ্চার সাথে অন্য বাচ্চার তুলনা করি, কখনও নিজের পরিবারের ভেতর, কখনও খালাতো-চাচাতো ভাই-বোনদের ভেতর। এই তুলনামূলক আচরণ শিশুটির ভেতর যে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করছে, সেটা আমরা খেয়াল করি না। আমরা তাদের ভেতর সহযোগিতার মনোভাব জাগিয়ে তুলি না। আমরা তাদেরকে একটি কঠিন প্রতিযোগিতার ভেতর ফেলে দেই।
এবং এই বয়সে প্রতিটি শিশু খুব ভালনারেবল থাকে। সে বুঝতে শেখে,‘আমি যদি আমার ভাইয়ের চেয়ে ভালো করি, তাহলে আমার মা-বাবা আমাকে বেশি আদর করবে’। সে ভাবতে শেখে,‘আমাকে আমার মা-বাবা আমার বোনের মতো ভালোবাসে না। আমার মূল্য কম’।
এই ধরনের স্ক্রিপ্ট তৈরিতে আরেকটি স্থান হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও সহযোগিতার মনোভাব নেই। আমরা ক্লাসে একটি চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করি। প্রতিদিন ক্লাসে শিখাই, ও ফার্স্ট হয়েছে (তাকে বেশি আদর করো), এই মেয়েটি সবচে’ ভালো (তার মা-বাবাকে জানিয়ে খুশি করো), ওই ছেলটি ফুল মার্কস পায়নি (তাকে আদর করা যাবে না) ইত্যাদি স্ক্রিপ্ট আমাদের কাছে লেখা আছে। ছাত্রছাত্রীরাও এটা জানে। তাই আমাদের দেশে ফার্স্ট বয় আর সেকেন্ড বয় (কিংবা গার্ল)-এর ভেতর বন্ধুত্ব তৈরি হয় না। একটু বন্ধুত্ব হলেও সহযোগিতার হাত খোলা থাকে না। তাদের ভেতর এক ধরনের চরম বৈরী প্রতিযোগিতামূলক স¤পর্ক থাকে। তারা টিম প্লেয়ার হয় না।
আমাদের জীবনে প্রতিযোগিতার জায়গা রয়েছে। খেলায় হার/জিত থাকবে। কিন্তু একটি দলের খেলোয়ারদের নিজেদের ভেতর প্রতিযোগিতা থাকলে সেখানে ভালো কিছু হওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে বিশ্বাস থাকে না, পার¯পারিক আস্থা থাকে না। ফুটবলে খেলায় সবাই যখন গোল দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন আসলে পুরো দলকেই গোল খেতে হয়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিদিন নিজের ভাইবোনের মধ্য প্রতিযোগিতা, সহকর্মীদের সাথে প্রতিযোগিতা, আমাদের সন্তানদের ভেতর প্রতিযোগিতা, প্রতিবেশীর সাথে প্রতিযোগিতা, বন্ধুদের সাথে প্রতিযোগিতা করে বেঁচে থাকাটা অর্থহীন। একটি বিয়েতে যদি প্রশ্ন করা হয়,‘এই বিয়েতে কে জিতল?’ কেমন শোনায় প্রশ্নটি? এখানে উভয়ই যদি না জিতে, তাহলে কেউই আসলে জিতল না; উভয়ই হারল।
৩. লুস/উইন
আমাদের আশেপাশে এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়, যারা সারাক্ষণ নিজেকে ‘হেরে’ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে রাখে। তাদের ব্রেইনে স্ক্রিপ্টটা এভাবে লেখা-
- আমি হারলাম, তুমি জিতো।
- আমার বলার কিছু ছিল না, না গো...
- যাও, তোমার যেভাবে সুবিধা হয় করো...
- আমাকে মারিয়ে যাও, সবাই তো তাই করছে।
- আমি একজন হেরে যাওয়া মানুষ; আমি লুসার।
- আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমি শান্তির জন্য সব করতে পারি।
যাদের ব্রেইনে সবসময় ‘লুস/উইন’ করার মানসিকতা চলতে থাকে, তারা আসলে ‘উইন/লুস’ করার মানসিকতার থেকেও খারাপ। অনেকেই ভাবতে পারেন, না আমি অন্যকে জিততে সাহায্য করি, তাতে খারাপের কি আছে? আমি মানুষের উপকার করি, এবং নিজে হেরে গিয়ে অন্যকে জেতানোর মতো আনন্দে আপ্লতিত হই। কিন্তু বিষয়টি অন্য জায়গায়। এই ধরনের মানুষদের কোনোও মানদণ্ড থাকে না।
তাদের কোনোও স্ট্যান্ডার্ড নেই। তাদের চাহিদা নেই, প্রত্যাশা নেই, ভিশন নেই। তারা অন্যকে খুশি করার জন্য যে কোনোও পর্যায়ে নামতে পারে। তারা সস্তা জনপ্রিয়তা কিংবা অন্য মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে পরিচালিত হয়। তাদের নিজের কোনোও ব্যক্তিত্ব থাকে না। নিজেকে প্রকাশ করার মতো সাহস এদের থাকে না।
সমস্যা আরও আছে। যদিও এরা নিজে হেরে গিয়ে অন্যকে জিততে সাহায্য করে বলে দাবি করে থাকে, কিন্তু অবচেতন মনে তাদের সেই চাহিদা থেকেই যায়। অবচেতন মনের সেই চাওয়ার কখনই মৃত্যু হয় না। তারা বেঁচে থাকে; আর যখন সেগুলো ফিরে আসে তখন তা খুবই নোংরা একটা রূপ নেয়। এটা তখন একটি রোগে পরিণত হয়। আপনারা কেউ কি কখনও এমন কোনোও নারীকে দেখেছেন যিনি দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সব কিছু মেনে নিয়ে অবহেলায় জীবন-যাপন করেছেন? তারপর সামান্য কোনোও প্ররোচনায় সেই রাগের আগুন কীভাবে বাইরে বেরিয়ে এসেছে? সেই আগুনের তাপ কি দেখেছেন কেউ?
উইন/লুস এবং লুস/উইন উভয়ের ভেতরই এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা থাকে। সাময়িকভাবে উইন/লুস মানুষের ফলাফল ভালো দেখা যায়, কারণ তারা দ্রুত ফলাফলে বিশ্বাস করে। চট করেই কিছু জিতে ফেলা, কিংবা অন্যকে ঠকিয়ে কোনোও কাজ হাসিল করে ফেলতে এদের জুড়ি নেই। তাই সাময়িকভাবে এদের অনেক উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। অপরপক্ষে লুস/উইন দলের মানুষরা দুর্বল এবং বিশৃঙ্খল হয়। অনেক এক্সিকিউটিভ, ম্যানেজার এমন-কি মা-বাবারা প্রতিনিয়ত উইন/লুস আর লুস/উইন-এর দোলাচলে দুলতে থাকেন, অনেকটা ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো। তারা একবার উইন/লুস দিকে যান, আরেকবার ধাক্কা খেয়ে লুস/উইন দিকে চলে আসেন। পরে আবার অভিমানে, রাগে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে আবার উইন/লুস-এর দিতে যেতে থাকেন। এভাবেই কেটে যায় তাদের সারাটা জীবন।
৪. লুস/লুস
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এমন মানুষও কি এই পৃথিবীতে আছে যারা উভয়ের ক্ষতি চায়? কেউ কি এমনভাবে ভাবতে পারে যে, দুজনেরই এক সাথে ক্ষতি হবে, আমিও ডুবব, তোকে নিয়ে ডুবব?
জ্বী, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
আমার নিজের দেখা একজন মানুষের কথা বলি। সম্প্রতি তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। আমেরিকার কোর্ট ছেলেটিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তাদের স¤পত্তির অর্ধেক মেয়েটিকে দিতে হবে, আগামী পাঁচ বছর মেয়েটির ভরণ-পোষণের জন্য ছেলেটির মাসিক বেতনের অর্ধেক টাকা মেয়েটিকে দিতে হবে।
ছেলেটি বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, আমেরিকার খুব ভালো একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করত। তার বেতনও ছিল বেশ ভালো। কিন্তু সে একদিন সেই চাকরি ছেড়ে দিল। সে নিকটবর্তী শহরে গিয়ে একটি ভবনের দারোয়ানের চাকরি নিল, যেখানে তার থাকা-খাওয়া ফ্রি, আর বেতন খুবই সামান্য।
মেয়েটিকে যেন কোনোও টাকা দিতে না হয়, সেজন্য সে ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন নেওয়া বন্ধ করে দিল। বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ক্যাশে বেতন নিত। তার স্ত্রী-কে অর্ধেক দিতে হবে বলে নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, যেই জীবন সে কখনই হয়তো কল্পনা করেনি। একেই হয়তো বলে, নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা।এমন মানুষের সংখ্যা কি কম পাওয়া যাবে?
৫. শুধুই উইন
আমাদের চারপাশে আরেক দল মানুষ আছে যারা শুধু নিজেরটা দেখতে পায়, এবং সেটা অবশ্যই ‘উইন’; আর অপর পক্ষ জিতল নাকি হারল তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। সে নিজে জিতেছে কিনা, সেটাই মুখ্য বিষয়। অন্যরা কি পেল আর পেল না, তা নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। সে নিজে যা চেয়েছে তা পেয়েছে কি না, সেটাই মূখ্য।
এই ধরনের মানুষরা নিজেরটা বুঝে নিয়ে চুপ করে থাকে। তারা অন্যেরটা অন্যপক্ষ বুঝুক, সেটাই ছেড়ে দিয়ে বসে থাকে। এরা ভাবে, যারটা সে বুঝে নিক, আমি কেন মাথা ঘামাব!
৬. উইন/উইন, নয়তো নো-ডিল
অনেক সময় উইন/উইন মানসিকতা নিয়ে কোথাও গেলে, উল্টো পাশেও যে একই মানসিকতার লোকজন থাকবে তা কিন্তু নয়। আপনি চাইলে উভয়ের ভালো হোক, কিন্তু আপনার উল্টো দিকে বসে আছে একজন কট্টর উইন/লুস মানুষ; অর্থাৎ সে আপনাকে ঠকাবেই। সেক্ষেত্রে আপনাকে কম্প্রোমাইজ করা লাগতে পারে। অনেক সময় আমরা কম্প্রোমাইজ করে জীবন চালিয়ে নিই। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা সেটা করবে না। তারা চাইবে একটি উইন/উইন অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য। যদি সেটা করা না যায়, সেক্ষেত্রে পুরো ডিলটাই বন্ধ করে দেবে; তারা কোনোও ডিলে যাবে না।
এই দলের মানুষরা খুব পরিস্কার করে বলে দেবে, আমি কেবলমাত্র উইন/উইন অবস্থান ছাড়া সামনে এগুবো না। আমি নিজে জিততে চাই এবং আমি চাই আপনিও জিতুন। আমি চাই, দু’জনই এই থেকে জিতুন। নইলে কিছুদিন পর এই ডিলটা কাজ করবে না। আপনি নয়তো আমি উৎসাহ হারিয়ে ফেলব। সেক্ষেত্রে এটা কারো জন্যই মঙ্গল হবে না।
এমন-কি পারিবারিক ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। ধরুন, এক সন্ধ্যায় আপনি আপনার মামাতো-চাচাতো ভাই-বোনদের নিয়ে ভিডিও দেখার পরিকল্পনা করলেন। কিন্তু একেকজন একেক কাজ করবে বলে ঠিক করল। কেউ ভিডিওতে এই ছবি দেখতে চায়, অন্যরা অন্য কিছু। আপনি চাইলে কিছু সংখ্যক মানুষকে নিয়ে পছন্দের একটি মুভি দেখতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি পুরো ভিডিও দেখার পরিকল্পনাটাই বাদ দিয়ে দেন, তাহলে সেটা হয়তো আরও ভালো হবে। সবাইকে যদি একটি উইন/উইন অবস্থানে আনা না যায়, সেক্ষেত্রে সেটা বাদ দিয়ে দেওয়াটাও মন্দ নয়।
কোন অপশনটা ভালো?
আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশে আপনি যাদের সাথে কাজ করতে যাবেন সেখানে উইন/লুস মানসিকতার মানুষ অনেক বেশি পাবেন। তারা যেকোনোও অবস্থাতেই জিততে চাইবে। আপনার দিকটা দেখবে না। আর আপনি নিজেও যদি উইন/লুস ধরনের হন, তাহলে তো বুঝতেই পারছেন অবস্থা।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে ব্যবসা করছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব কম। তার মূল কারণই হলো, তারা উইন/লুস হিসাবে বিশ্বাস করে। তারা তাদের ক্রেতাদেরকে ঠকাতে পর্যন্ত কুণ্ঠিত নয়।
বাংলাদেশের গ্রাহকরা ঠকবেন, সেটা মাথায় নিয়েই দোকানে যান। তারা কদাচিৎ কোনোও প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করেন। তাই এখানে বিগত ৪০ বছরে কয়টি প্রতিষ্ঠান আপনি দেখাতে পারবেন, যারা নিষ্ঠা এবং সততার সাথে প্রকৃত উইন/উইন মেনে টিকে আছেন। এরা খুব স্বল্প সময়ে অনেক টাকার মালিক হয়ে তারপর মাঠ থেকে সরে যান। এটাই বাংলাদেশের ব্যবসার ধর্ম। একই প্রভাব পড়ে সামাজিক জীবনে, বন্ধুত্বে, পারিবারিক বন্ধনে।
উপরের আলোচনা থেকে যদি এবারে জিজ্ঞেস করি, কোন পš’াটি সেরা তাহলে আপনার উত্তর কী হবে? নিশ্চই মনে মনে ভাবছেন, উত্তর সোজা- উইন/উইন।
আসলে তা নয়। এটা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর। যেমন আপনি একটি ব্যবসা করছেন এবং বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে হয়তো উইন/লুস পদ্ধতি অনুসরণ করতে হতে পারে। কিন্তু নিজের প্রতিষ্ঠানের ভেতর কর্মীদের ভেতর যদি উইন/লুস প্রয়োগ করেন, কিংবা আপনার গ্রাহকের সাথে- তাহলে আপনি দীর্ঘ মেয়াদে হেরে যাবেন।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে লুস/উইন অবস্থানে যাওয়া লাগতে পারে। যেমন ধরুন একটি স¤পর্কে জড়ালেন। অপর দিকের মানুষটিকে কমফোর্ট দেওয়ার জন্য আপনাকে মাঝে মাঝে হারতে হতে পারে। তাতে তেমন কিছু আসে যায় না, যখন আপনি জানেন কেন কাজটি করছেন।
তবে উপরের সবগুলো বিবেচনা করলে, সাধারণ ক্ষেত্রে আপনি সবসময় উইন/উইন অবস্থানে থাকার চেষ্টা করুন। কিছু কর্নার কেস থাকবে। সেগুলোকে বিবেচনায় না এনে, দীর্ঘ মেয়াদী যদি লাভবান হতে চান, তাহলে উইন/উইন হবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান। তাতে আপনার সাথে কাজ করতে সবাই সাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, আপনার সাথে ব্যবসা করতে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পছন্দ করবে, আপনার উপর মানুষ আস্থা রাখবে। কেউ এটা মনে করবে না যে, আপনার সাথে কাজ করতে গিয়ে তাকে ঠকতে হতে পারে।
আমি আমার জীবন দিয়ে বাংলাদেশে দেখেছি, কদাচিৎ কেউ উইন/উইন চিন্তা করে। আমার সাথে যারাই উইন/লুস মোডে কাজ করতে এসেছেন, তাদেরকে আমি একটি বার মাত্র সুযোগ দিয়েছি।
তারপর তাদের সাথে স¤পর্ক নষ্ট হয়েছে। এবং এটা যে হবেই, সেটা লিখিত। তাই এখন থেকে আমি ‘উইন/উইন, নয়তো নো-ডিল’ মোডে চলে গেছি। অনেকেই আমাকে অনেক কিছু করতে বলেন।
অনেকেই অনেক কিছু অফার করেন। যতক্ষণ না সেটা উভয়ের জন্য উইন/উইন ততক্ষণ আমি সেটাতে জড়াই না। এজন্য অনেক সময় অনেক কাজ হয় না। তাতে সমস্যা নেই। আপাত দৃষ্টিতে সেটা হলো না, কিন্তু যদি সেটা হতো, সেই মানুষটির সাথে পরবর্তীতে গিয়ে ঝামেলা হতোই। কারণ সে হয়তো আমাকে ঠকিয়েছে, নয়তো আমি তাকে ঠকিয়েছি। এর কোনোটাই কারও জন্য ভালো বয়ে আনতে পারে না।
লেখার শুরুতেই যে গল্পটি বলেছিলাম, তা আমাদের জীবনে বর্তমান। আমরা সবকিছুতেই একটা প্রতিযোগিতামূলক উইন/লুস হিসাবে ফেলে দিয়েছি। আমরা সহযোগিতার হাত বাড়াতে শিখিনি;
আমরা উভয়ের মঙ্গল হবে এটা ভাবতে শিখিনি। তাই জাতি হিসেবেও আমাদেরকে অনেকটা পিছিয়ে থাকতে হয়েছে। এখন থেকে যখনই কোনোও কাজে হাত দেবেন, মাথায় রাখবেন বিষয়টি সবার জন্য উইন/উইন হচ্ছে কি না।দেখবেন, দীর্ঘমেয়াদে আপনি একজন ইফেক্টিভ মানুষে পরিনত হয়েছেন।
ড. স্টিফেন কোভে-এর লেখা‘দি সেভেন হ্যাবিটস অফ হাইলি ইফেক্টিভ পিপল’ বইটিতে যে সাতটি অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে, এভারের অভ্যাসটি তার ভেতর সবচে’ কঠিন। আমরা কথা বলছিলাম একজন মানুষ সামাজিকভাবে সফল হতে হলে কি ধরনের গুণ বা অভ্যাস থাকতে হবে। সেখানে মূলত তিনটি অভ্যাসের কথা বলা হয়েছে। সেই অভ্যাসগুলোর ভেতর প্রথমটি ছিল‘উইন/উইন মানসিকতা’, যা আমরা আগে আলোচনা করেছি। এখনআলোচনা করছি সেই ধারার দ্বিতীয় অভ্যাসটি নিয়ে (যা মোট সাতটি অভ্যাসের পঞ্চম)।
শিরোনামটি একটু বিদঘুটে, তবে বিষয়টি সোজা। কিন্তু এর বাস্তবায়ন সবচে’ কঠিন। আমরা বলে থাকি, মানুষ অভ্যাসের দাস। আসলেই তাই। কিন্তু এই অভ্যাসটি আয়ত্তে আনতে আপনাকে অনেক বেশি কাঠ-খড় পোড়াতে হবে।
পাঠকদের জন্য এটুকু বলে রাখি, আমি নিজেও কিন্তু এর কোনোও কিছুই পারি না। কেউ যেন ভেবে না বসেন, এসবের সবগুলো আমি আয়ত্তে আনতে পেরেছি। লেখকদের নিয়ে সমাজের মানুষের সোজাসাপ্টা কথা হলো, যেটা লিখছেন সেটা নিজে আগে করে দেখান। কিন্তু একজন কোচ খুব ভালো খেলোয়াড় নাও হতে পারেন। তিনি টেকনিকটা জানেন, কিন্তু প্রয়োগ করার জন্য যে কষ্টটুকু করতে হয়, সেটা হয়তো করতে চান না। তাই বলে থিউরিটা কিন্তু মিথ্যা নয়।
দুই.
এই পৃথিবীর সবচে’ কঠিন কাজটি হলো‘কমিউনিকেশন’ বা‘যোগাযোগ’। আমরা যখন কোথাও চাকরির জন্য মানুষ খুঁজি, সেখানে একটি বিষয় উল্লেখ থাকে, প্রার্থীর ভালো কমিউনিকেশন স্কিল বা দক্ষতা থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনি যা অনুভব করছেন, সেটাকে সঠিকভাবে অন্যকে বুঝাতে পারার ক্ষমতা থাকতে হবে।
আমাদের মতো দেশে কমিউনিকেশন দক্ষতা নিয়ে ততোটা লেখাপড়া করানো হয় না। কিংবা আমরা ততোটা জোর দেই না। বিশেষ করে কারিগরি বিষয়ে যারা লেখাপড়া করেন (ডাক্তার, প্রকৌশলী ইত্যাদি) তাদের কমিউনিকেশন দক্ষতার উপর মোটেও জোর দেওয়া হয় না; অথচ তাদের জন্য এটা খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আপনার মাথায় আছে একটা ছবি, আর মানুষকে বুঝাতে গিয়ে বললেন আরেকটা ছবি, এর ফলাফল কী হবে? মানুষ তো আর অন্তর্যামী নয় যে, সে আপনার ব্রেইন থেকে গিয়ে পড়ে আসবে। আপনি যা বোঝাতে চাইবেন, সে আসলে সেখান থেকেই কিছু জিনিস বুঝে নিবে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে যতগুলো মাধ্যম রয়েছে তার ভেতর টেক্সট (লেখার মাধ্যমে) মাত্র শতকতা ১০ ভাগ সঠিকভাবে বোঝানো যায়। অর্থাৎ এই যে আমি লিখছি, এটার মাত্র ১০ ভাগ একজন পাঠক বুঝতে পারছেন। বাকিটুকু হারিয়ে যাচ্ছে। এখন এই আমি যদি আপনার সাথে ফোনে কথা বলতাম, তাহলে সেটা হতো ৩০ ভাগে। অর্থাৎ ভয়েস কমিউনিকেশন শতকরা ৩০ ভাগ ইফেক্টিভ। সেখানে আপনি অপরপক্ষের গলার টোনের উঠানামা শুনতে পান, তার ইমোশনাল যে সিগনালগুলো আছে সেটাকে আপনার কান বিবেচনায় নিতে পারে।
তবে সবচে’ ভালো যোগাযোগ মাধ্যম হলো বডি ল্যাংগুয়েজ। আপনি শতকরা ৬০ ভাগ ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন করতে পারেন সামনা-সামনি, নয়তো ভিডিও কমিউনিকেশনে। মানুষের শরীরের অঙ্গভঙ্গি অনেক কিছু বলে দেয় যা টেক্সট বা অডিও সেটাকে ধারণ করতে পারে না। এই কারণে সারা পৃথিবীতে রেডিও-এর চেয়ে টিভি অনেক বেশি জনপ্রিয় কিংবা অনেক বেশি ভালো যোগাযোগের মাধ্যম। আপনি যদি আমার এই লেখাটি না পড়ে, আমার কোনোও লেকচারে অংশ নেন, সেটা অনেক বেশি ইফেক্টিভ হবে এটাই স্বাভাবিক। মুখোমুখি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আপনার গলার স্বর, শরীরের ভাষা সবকিছু চোখ/কান ক্যাপচার করে আপনার ব্রেইনকে দিতে পারে; আপনার ব্রেইন সেগুলো প্রসেস করে আপনাকে যা বোঝায়, আপনি তাই বোঝেন। একবার চিন্তা করুন তো- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ যারা সামনে থেকে ওই ভাষণ শুনেছেন তাদের অনুভূতি, আর আমরা যারা এখন টিভি কিংবা ইন্টারনেটে দেখি তার অনুভূতির পার্থক্য কতটুকু?
মানুষ প্রতিনিয়ত তার চারপাশের মানুষের সাথে যোগাযোগ করছে। আপনি হেঁটে যাচ্ছেন, কারো সাথে কোনোও কথা বলছেন না- কিন্তু এই হেঁটে যাওয়ার ভেতর দিয়েও কিন্তু আপনি অন্যদের সাথে যোগাযোগ করছেন। অন্যরা আপনাকে পড়ছে। মানুষ আপনাকে নিত্যদিন, প্রতিমুহূর্তে পড়ছে। আপনি চারপাশে যে সিগনাল দিচ্ছেন, সেই সিগনালগুলো পড়ছে। আপনি ভাবতে পারেন, আমি এগুলো কেয়ার করি না, আমি আমার মতো থাকি, তাতে আমার কী! আমরা আসলে কেউ একা একা বাঁচি না। আমরা কোথাও কাজ করি, বাজার করি, কেনাকাটা করি, কারো তৈরি খাবার খাই, অন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নেই, চিকিৎসা নেই, অন্যের বানানো সফটওয়্যার ব্যবহার করি ইত্যাদি নানানভাবে আমরা আসলে সামাজিকভাবে বাঁচি। আর যারা এটা পারেন না, তারা একটা সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তাদের জীবন মোটেও ইফেক্টিভ হয় না।
আপনি যদি ইফেক্টিভ হতে চান, তাহলে আপনার ভালো যোগাযোগ দক্ষতা তৈরি করতে হবে। আপনি যদি অন্য মানুষকে সাহায্য করতে চান, তাহলে আপনাকে বিশেষ যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আপনি যদি আপনার সন্তানদেরকে সঠিকভাবে গাইড করতে চান, আপনার যোগাযোগ করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর এই যোগাযোগ করার ক্ষমতা বাড়ানোর একটি বড় উপায় হলো, কাউকে নিজের কিছু বুঝাতে যাওয়ার আগে সেই মানুষটিকে বুঝতে পারা। অর্থাৎ আগে সেই মানুষটিকে বুঝুন, তারপর আপনার বিষয়টি বোঝান। আর কাউকে বুঝতে গেলে আপনার ভেতর যে অভ্যাসটি তৈরি করতে হবে তাহলো‘হৃদয় দিয়ে শোনা’। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। সেটা করার আগে, চলুন দেখে নেই বিষয়টি আমাদের ভেতর কীভাবে কাজ করে।
তিন.
আপনার চোখের সমস্যা নিয়ে একজন চক্ষু ডাক্তারের কাছে গেলেন। তিনি মোটামুটি একটু দেখে তার নিজের পড়া চশমাটা আপনাকে দিয়ে বললেন, এটা চোখে লাগাও তো।আপনি সেই চশমাটা চোখে দিয়ে বললেন, কিছুই তো দেখি না, সব ঝাপসা লাগে।
ডাক্তার আপনার পরিচিত। তিনি বললেন, কী বলছ। এই চশমা দিয়ে আমি গত দশ বছর ধরে দেখছি। একদম কাজ করে। তুমি ভালো করে চেষ্টা করো।
আপনি একটু ভ্রু বাঁকা করলেন। ডাক্তারের মুখের উপর তেমন কিছু বলা যায় না। আপনি ভদ্রতা করে বললেন, আমি চেষ্টা করছি। কিন্তু অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ। আমার পুরনো চশমাই ভালো ছিল। এটা আরও খারাপ করে দিচ্ছে।
আপনার কথায় ডাক্তার বিরক্ত হলেন। তিনি একটু ধমকের সুরে বললেন, এত দামি একটা গ্লাস দিলাম তাও তুমি প্রশংসা করছ না! তুমি একটু ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করো। পরিষ্কার দেখতে পাবে।
আপনিও আরও বিরক্ত হলেন। বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি না তো। সব ঝাপসা লাগছে।ডাক্তারের আরও রোগী আছে। আপনাকে সময় দেওয়ার মতো আর সময় নেই। প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে বললেন, তুমি বাসায় গিয়ে কিছুদিন চেষ্টা করো। তারপর দশ দিন পরে আবার আসো। দেখো, এর ভেতর কী হয়।
আপনি বুঝতে পারলেন, ডাক্তার আপনার সমস্যাটি ভালো করে না দেখেই প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিয়েছে। আপনি কি আর সেই ডাক্তারের কাছে যাবেন? কাউকে যাওয়ার কথা বলবেন?
চার.
আপনার ছেলেটা প্রতিদিন মন খারাপ করে থাকে। এটা দেখতে কোন মা-বাবার ভালো লাগে! বাবা তার বাইরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। মা ঘর সামলান। তিনি ছোট ছেলের এমন মন খারাপ অবস্থা দেখে একদিন বিষয়টা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেন।
মা বললেন, সোনা কী হয়েছে তোমার? এমন মন খারাপ করে থাকো কেন আজকাল?
ছেলের উত্তর, তেমন কিছু না মা।
- কিছু একটা তো বটেই। বলো না আমাকে?
- বললাম তো কিছু হয়নি।
- তাহলে কি কেউ এমনি এমনি মন খারাপ করে থাকে?
- তেমন কিছু না। ঠিক হয়ে যাবে।
- আমি তোমার মা। আমার কাছে লুকালে আর কার কাছে বলবে তুমি?
- বিষয়টা তোমার ভালো লাগবে না, মা।
- সবকিছু আমার ভালো লাগতে হবে না। আমি তোমার ভালো চাই। তোমার ভালো হলেই আমি খুশি।
তোমার বাবাও খুশি।
- আমি শিওর না।
- কি শিওর না?
- এই যে বললে, আমার ভালোতেই তোমরা খুশি।
- তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না? তোমার বাবা এই যে দিনরাত খেটে মরছে, আমি এই যে দিনরাত সংসারটার পেছনে জীবন দিচ্ছি, কার জন্য বলো? তোমার মঙ্গলই আমরা চাই।
- কী জানি?
- আচ্ছা, তুমি বলেই দেখো না। না বললে বুঝব কীভাবে? আমরা সত্যি তোমাকে সাহায্য করতে চাই। বলো সোনা মানিক।
- ওকে মা। সত্যি কথা কি জানো?
- কি?
- আমার আর স্কুল ভালো লাগছে না।
- হোয়াট! বলো কি তুমি?
- হুম মা। আমি স্কুল একদমই এনজয় করছি না।
- তুমি কি পাগল হয়ে গেলে নাকি? তুমি জানো তোমার এই স্কুলের জন্য আমাদেরকে কত জায়গায় দৌড়-ঝাঁপ করতে হয়েছে? কত টাকা ডোনেশন দিতে হয়েছে? তোমার লেখাপড়ার জন্য তোমার বাবাকে বাড়তি কষ্ট করতে হচ্ছে। লেখাপড়া হলো তোমার জীবনের ভবিষ্যৎ। এটা হলো তোমার জীবনের উপরে ওঠার সিঁড়ি। এটাই হলো একমাত্র ভিত্তি। আর তুমি কি না বলছ, লেখাপড়া ভালো লাগছে না। তুমি এমন অকৃতজ্ঞ হয়ে গেলে কীভাবে? আমাদের এই কষ্টটুকুর কোনোও মূল্য নেই?
তুমি কি রিকশা চালিয়ে জীবন চালাবে? নাকি চুরি-ডাকাতি করবে? আমি একটি চাকরি করতে চেয়েছিলাম। তোমার অসুবিধা হবে বলে সেটাও করলাম না। এগুলো তোমার চোখে পড়ে না। তুমি আছো বন্ধুদের সাথে পার্টি আর ফান নিয়ে। কথায় কথায় বোরড হয়ে যাও। তোমাকে টিভি, পিএস-ফোর, ইন্টারনেট, ল্যাপটপ কী দেওয়া হয় নাই। তবুও তুমি বলছ লেখাপড়া ভালো লাগছে না।
স্কুল ভালো লাগছে না। কতবার বলেছি, তোমার ব্রেইন ভালো, একটু মোনযোগ দাও। সেটা করছ না। এটা শোনার আগে আমার মরণ হওয়া ভালো ছিল।
লম্বা একটা লেকচার দিয়ে মা থামলেন। পুরো ঘর চুপচাপ। সুই পরলে টের পাওয়া যাবে। একটু পরে ছেলেটি আস্তে করে বলল, আমি বলেছিলাম তুমি বুঝবে না।
মা ছেলের চলে যাওয়া দেখলেন।
এমন ঘটনা কি প্রতিটি ঘরেই ঘটছে না? আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অসুখটা কী সেটা না বুঝেই ঔষুধ দিয়ে ফেলি। আমরা কারো ভালো চাই বলেই হয়তো সেটা করি। কিন্তু যাকে ঔষুধ দিচ্ছি, তার সমস্যাটা আগে বুঝতে পারলে ঔষুধ সেভাবে দিলে কাজে লাগতে পারে। মানুষের সাথে স¤পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম যে শর্ত তাহলো, প্রথমেই তাকে বোঝার চেষ্টা করা, তারপর সে আপনাকে বুঝবে। ইফেক্টিভ ইন্টারপারসোনাল কমিউনিকেশনের এটাই হলো মূল নীতি।
পাঁচ.
আপনি এই মুহূর্তে আমার এই লেখাটা পড়ছেন। পড়া এবং লেখা- দুটোই কমিউনিকেশনের একটি অংশ। একইভাবে বলা এবং শোনা- এই দুটিও কমিউনিকেশনের অংশ। এই চারটি মাধ্যমকে কমিউনিকেশনের মূল মাধ্যম বলা যেতে পারে। এবারে একটু চিন্তা করুন তো, এই চারটি মাধ্যম শিখতে কোথায় আপনি কতটা সময় ব্যয় করেছেন?
‘যোগাযোগ’ হলো যেকোনোও মানুষের জন্য সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা। আমরা যতক্ষণ জেগে থাকি, তার বেশিরভাগ সময়টাই আমরা ব্যজয় করি কোনোও না কোনো যোগাযোগ করে। আপনি হাঁটছেন, কাজ করছেন, অফিসে যাচ্ছেন, মিটিং যাচ্ছেন, রান্না ঘর সামলাচ্ছেন- আপনি কারো না কারো সাথে কথা বলছেন; অর্থাৎ যোগাযোগ করছেন, নিজেকে প্রকাশ করছেন। জীবনের কতটা বছর পার করেছেন লিখতে এবং পড়তে? মনে আছে সেটা? সেই স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কতগুলো বছর পার করলেন? আর কথা বলা শেখার জন্য কতটা সময়? অনেকে এখনও কথা কীভাবে বলতে হয়, সেটা ট্রেনিং নিয়ে থাকে। এখনও শিখছে। কিন্তু কখনও কি‘শোনা’-র জন্য সময় ব্যয় করেছেন? ট্রেনিং নিয়েছেন?
কাউকে বুঝতে হলে শুনতে হবে। হৃদয় দিয়ে শুনতে হবে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শোনার জন্য কোনোও কোর্স নেই, সময় নেই। আমরা ধরেই নিয়েছি, কান আছে আপনি শুনবেন। কিন্তু একইভাবে যদি ধরে নিতাম, আপনার মুখ আছে আপনি কথা বলতে শিখে যাবেন- সেটা কি করেছি? নাকি বছরের পর বছর ধরে কথা বলা শিখেছি? বছরের পর বছর ধরে লিখতে শিখেছি, পড়তে শিখেছি (যদিও আমাদের হাত এবং চোখ ছিলই)। ওগুলো শেখার জন্য ট্রেনিং নিয়েছি। কিন্তু‘শোনা’-র জন্য কোনোও ট্রেনিং আমরা নিই না। যে কারণে আমরা কাউকে ততোটা বুঝতে পারি না।
ধরুন, আপনি আমাকে কিছু একটি বিষয়ে প্রভাবিত করতে চান। আপনি অর্থাৎ আপনার স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা, আপনার প্রতিবেশী, আপনার বস, আপনার সহকর্মী, আপনার বন্ধু- সে যেই হোক, যদি আপনাকে প্রভাবিত করতে চায়, তাদেরকে আগে আপনার কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। আমাকে প্রভাবিত করতে চাইলে, আমার কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। আমাকে বুঝতে হবে। আর সেটা করতে হবে সততার সাথে। অর্থাৎ আমি যদি বুঝতে পারি আপনি কোনোও ভনিতা করছেন, কিংবা কোনোও চালাকি করছেন, তখন আমি সেটা ধরতে পারব এবং আপনাকে আমি গ্রহণ করব না। ফলে আপনি যতই আমার কথা কান দিয়ে শোনেন না কেন, আপনি আমাকে যতই বুঝতে শিখেন না কেন, আমি আপনার কথা শুনব না; কিংবা আপনার পরামর্শ আমি নিব না।
মূল বিষয়টা হলো, আমি দেখব আপনি আসলে কী! আমার সাথে আপনার আচরণটুকু কী! মানুষ আপনাকে কী বলে কিংবা কী ভাবে, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমার সাথে আপনি কীভাবে ব্যবহার করছেন। এটা আপনার ব্যক্তিত্বের অংশ; আপনার মূল মানুষটার অংশ। মোদ্দা কথা হলো, আপনি আমাকে যে এক্সপেরিয়েন্সটুকু দিচ্ছেন, তার উপর ভিত্তি করেই আমি আপনাকে পরিমাপ করব।
আপনার চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য প্রতিনিয়ত আপনার শরীর থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা অনেকটা সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত আলো ছড়ানোর মতো বিষয়। আপনি প্রতিটি মুহূর্তে চারপাশে আপনার বৈশিষ্ট্যকে ছড়াচ্ছেন। আপনি আসলে কমিউনিকেট করছেন। এবং দীর্ঘ সময় ধরে আপনার এই বৈশিষ্ট্যের কারণে আপনার প্রতি আমার বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস তৈরি হবে। আর যতক্ষণ না আপনার উপর আমার সেই বিশ্বাস জন্ম নেবে, ততোক্ষণ আমি নিজেকে আপনার কাছে খুলে ধরব না। কে জান, আপনি আমার কী ক্ষতি করে ফেলেন! মানুষের ব্রেইন এভাবেই কাজ করে।
আর যতক্ষণ না আমি আপনার কাছে নিজেকে উন্মুক্ত করছি, ততোক্ষণ আপনি যা কিছুই বলেন না কেন, আমি সেগুলো গ্রহণ করব না। আমাকে আপনি প্রভাবিত করতে পারবেন না। আপনার যদি ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন স্কিল তৈরি করতে হয়, তাহলে আপনাকে আগে হৃদয় দিয়ে আরেকজন মানুষকে শুনতে হবে। তারপর সেখানে এক ধরনের বিশ্বাস এবং আস্থা তৈরি হবে। তখন মানুষ তার দরজা খুলে দিবে। যতক্ষণ না ওই দরজা খুলছে, আপনার সাথে তার যোগাযোগ কখনই ইফেক্টিভ হবে না। আর যখন দরজাটা খুলে যাবে, তখন ওই মানুষটার সাথে আপনার ইমোশনাল ব্যাংক একাউন্ট তৈরি হবে, যার আদান প্রদান হবে দুটি হৃদয়ের মাঝে।
ছয়.
একবার স্টিফেন কোভের কাছে একজন বাবা এসে অভিযোগ করে বললেন,‘আমি আসলেই আমার ছেলেকে বুঝতে পারি না। ও আমার কথা একদমই শোনে না!’
স্টিফেন ভ্রু কুঁচকে জবাব দিলেন,‘কি বললে! দাঁড়াও, তুমি এইমাত্র যা বললে আমি সেটাকে আবার বলি। তুমি তোমার সন্তানকে বুঝতে পারছ না, কারণ সে তোমার কথা ঠিকমতো শুনছে না।’
সেই বাবা জবাব দিলেন,‘একদম ঠিক বলেছ।’
স্টিফেন বললেন,‘দাঁড়াও, আমি আবারও চেষ্টা করি। তুমি তোমার সন্তানকে বুঝতে পারছ না, কারণ সে তোমার কথা শুনছে না! অর্থাৎ তুমি তাকে যা করতে বলছ, সেটা সে করছে না।’
সেই বাবা বিরক্ত হয়ে বললেন,‘হুম, আমি তো বারবার এটাই বলছি তোমাকে।’
স্টিফেন তখন বললেন,‘আমার ধারণা, কাউকে বুঝতে হলে আগে তাকে শুনতে হয়।’
বাবা উত্তর দিলেন,‘ওহ!’ তারপর লম্বা একটি বিরতি। তারপর আবার বললেন,‘ওহ!’ কিছুটা সময় নিয়ে বললেন,‘সত্যিই তো! কিন্তু আমি সত্যি ওকে বুঝতে পারছি না। আমি বুঝতে পারছি কিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে ও। আমিও জীবনে একই সমস্যার ভেতর দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমি সত্যি বুঝতে পারছি না, কেন সে আমার কথাটা শুনছে না।’
আসলে ওই বাবার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, তার ছেলের ভেতর দিয়ে কী যাচ্ছে। বাবা তার নিজের জীবন দিয়ে, নিজের চশমা দিয়ে এই পৃথিবীকে দেখছে; একইভাবে তার নিজের ছেলেকেও।
এমনটাই ঘটে আমাদের বেশিরভাগ মানুষের জীবনে। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে, আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে, আমাদের সময় দিয়ে এই পৃথিবীকে দেখি; অন্যকে বোঝার চেষ্টা করি। আমরা মূলত আমাদের অটোবায়োগ্রাফি দিয়ে অন্যকে বুঝার চেষ্টা করি। আমার জীবনের চশমা দিয়ে অন্যকে বোঝার চেষ্টা করি। তাই আমার চোখে যদি থাকে রঙিন চশমা, তাহলে সবই রঙিন। আর আমার চোখে যদি থাকে সাদা-কালো গ্লাস, তাহলে সবই সাদাকালো। আমরা আমাদের সফলতা কিংবা ব্যর্থতা দিয়ে আরেকটি মানুষকে বুঝতে যাই। ফলে আমরা কখনই বুঝতে পারি না, ঠিক কী বয়ে যাচ্ছে ওই মানুষটির ভেতর। লেখক: জাকারিয়া স্বপন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ
সূচিপত্র
১) ছোটদের সাথে আমাদের আচরণ ২) পরিবার ও সন্তান, সুপার পাওয়ার যেভাবে তৈরি হয়, ৩) দীর্ঘস্থায়ী ভয়ের উৎপত্তির মূলে শৈশবকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব , ৪) সন্তানের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বাড়ানো, ৫) আপনার শিশুটি ঘুমুক শান্তিতে এবং নির্ভরতায় , ৬) কিছু অব্যর্থ টিপস, যা আপনার শিশুকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে, ৭) শিশুকে কিভাবে বড় করবেন, ৮) বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে কী করবেন? ৯) বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্যতম পথ, দৌড়, ১০) বাচ্চাকে কখনো আড়ালে লুকিয়ে খেতে দেবেন না, ১১) পিটার সিংগারের দর্শন, ১২) দুষ্টু শিশুরা তাড়াতাড়ি শেখে, ১৩) সন্তানকে যতই শাস্তি দেবেন ততই সে অসামাজিক হবে, ১৪) বাবা-মাই সন্তানকে নির্যাতন করেন সবচেয়ে বেশি , ১৫) সন্তানের সাথে কিভাবে গড়ে তুলবেন নিবিড় বন্ধন, ১৬) যে ১১টি কথা শিশুকে কখনোই বলবেন না!, ১৭) শিশুকে গল্প শোনান প্রতিদিন, ১৮) সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ১০টি কৌশল, ১৯) সৃজনশীলতা হচ্ছে নতুন কিছু করার যোগ্যতা, ২০) যারা মুখস্থ করতে পারেন না, ২১) তারা মেধাবী, মেধাবী হওয়ার উপায়,
২২) কথা ও ভাষা, ২৩) এলিভেটর পিচ, ২৪) সুন্দর করে কথা বলে সমস্যা জয়ের কৌশল, ২৫) ফোনে কথা বলার আদবকেতা, ২৬) ১২টি কর্ম বিধান, ২৭) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২৮) আলতু-ফালতু কাজে সময় অপচয় করে স্বপ্ন পূরণের কল্পনা, ২৯) স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ৩০) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর জীবন থেকে শিক্ষা, ৩১) অভিজ্ঞতা ও অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ, ৩২) বর্তমানকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিন, ৩৩) ২৪ ঘণ্টা কেউ সুখী হয় না, ৩৪) কিছু অভ্যাস যা আপনাকে আরও সুখী করবে , ৩৫) আপনার অবয়ব , ৩৬) সফলতার 25টি হট কৌশল-1, ৩৭) সাফল্যের 25টি হট কৌশল-2, ৩৮) সফলতার 55 সূত্র, ৩৯) কিভাবে নিজেকে নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে, ৪০) সময় ব্যবস্থাপনা, ৪১) সময় ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপ, ৪২) সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপায়গুলো, ৪৩) সাফল্য, ড. কোভের ইমোশনাল একাউন্ট কনসেপ্ট, ৪৪) সবচে বড় ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৫) আপনার ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৬) বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ বর্জিত কর্মফল বিপজ্জনক, ৪৭) অন্যদের দিয়ে আপনার কাজ করান কিন্তু সম্মান আপনি অর্জন করুন, ৪৮) অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক দরকার হলে টোপ দিন, ৪৯) অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন, ৫০) লোককে আপনার ওপর নির্ভরশীল করুন , ৫১) নেওয়ার পূর্বে দেওয়া অন্য বক্তির স্বার্থ বুঝুন, ৫২) শত্রুকে খাটো করে দেখবেন না, ৫৩) নিজেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ নির্মাণ করবেন না, ৫৪) কারোর পক্ষ অবলম্বন করে বসে থাকবেন না, ৫৫) আপনার শক্তিসমূহকে সংহত করুন, ৫৫) নিজের ভুলগুলোকে লুকিয়ে রাখুন, ৫৬) শুধু সাহসের জোরে নয়, পরিণতিও বিবেচনায় রাখুন, ৫৭) প্রতিটি মানুষের গোপন ইচ্ছা খুঁজে বের করুন, ৫৮) রাগ বিপজ্জনক ও অভদ্রতা, ৫৯) কোনো দলকে ধরার জন্য দলপতিকে প্রথমে ধরুন, ৬০) নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন, ৬০) পরিবেশ সামলাতে শিখুন, ৬১) প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন, ৬২) আপনার সামাজিক পরিবেশ ‘প্রথম শ্রেণি’র করে তোলার উপায়, ৬৩) ‘সস্তার তিন অবস্থা’ প্রধম শ্রেণিভুক্ত হয়ে উঠুন , ৬৪) যত বেশি বন্ধুত্ব তত বেশি উপরে ওঠার সম্ভাবনা, ৬৫) সাহস করে কাজটা শুরু করুন, ৬৬) সাফল্য মানে বারবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করা, ৬৭) ১- ১০ ভাল অভ্যাস, ১১- ২০ ভাল অভ্যাস, ২১- ৩০ ভাল অভ্যাস, ৩১- ৪০ ভাল অভ্যাস, ৪১- ৫০ ভাল অভ্যাস, ৫১- ৬০ ভাল অভ্যাস, ৬১- ৭০ ভাল অভ্যাস, ৭১- ৮০ ভাল অভ্যাস, ৮১- ৯০ ভাল অভ্যাস, ৯১- ১০২ ভাল অভ্যাস, ৬৮) জিরো থেকে হিরো, ৬৯) সৃজনশীলদের সফলতার ৭ সূত্র, ৬৯) জীবনে পরিবর্তন আনুন ৪৮টি উপায়ে, ৭০) জীবন-যাপন, ৭১) জাপানী ও চিন লাইফ স্টাইল , ৭২) ৩০টি দর্শন, যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে, ৭৩) সম্পর্ক তৈরি করা, বন্ধুত্ব, ৭৪) যে আচরণগুলো মানুষের মনের কথা জানাবে, ৭৫) কথা বলার সূত্র, ৭৬) আপনি ও আপনার ব্যবহার, ৭৭) নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, ৭৮) কথা বলার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, ৭৯) কিভাবে নিজেকে বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করবেন, ৮০) কিভাবে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলবেন, ৮১) কথা বলার ৫টি বিস্ময়কর টেকনিক, ৮২) কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করবেন? ৮৩) অকারণে সময় নষ্ট? মেল রবিনের ৫ সেকেন্ড রুল, ৮৪) কর্পোরেট আদবকেতা, ৮৫) ৩৫টি কর্পোরেট কালচার ও আপনার করণীয়, ৮৬) যা না জানলে লজ্জায় পড়তে হয় , ৮৭) কাজের সময়ে যে বিষয়গুলো একেবারেই করা উচিৎ না , ৮৮) ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে ছুড়ে ফেলুন ৭টি দোষ, ৮৯) আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে বা স্বপ্ন,
৯০) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, কাজ কিভাবে করবেন? ৯১) আত্মশক্তিতে বলিয়ান হতে, ৯২) একনাগাড়ে চলবেন না, ৯৩) মারফিস ’ল , কাজের রোডম্যাপ তেরি , ৯৪) জব স্যাটিসফেকশন, ৯৫) কাজে সফলতার সূত্রাবলী, ৯৬) যেভাবে জীবনযাপন করবেন, ৯৭) পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা যে কাজগুলো কখনোই করেন না, ৯৮) জীবনে দক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়, ৯৯) সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও কাজ করার উপায় , ১০০) সফলতা ও সার্থকতা, ১০১) জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করা, ১০২) সফলতার কিছু পদ্ধতি, ১০৩) সফল হতে চাইলে যে ৮ টি জিনিস বাদ দেয়া প্রয়োজন, ১০৪) সফল ব্যক্তিরা যে ১০টি কাজ কখনোই করেন না, ১০৫) সর্বদা স্মরণ রাখুন, ১০৬) চিন্তাশক্তি , ১০৭) স্বাধীনতা, ১০৮) জ্ঞান অর্জন খাদ্য গ্রহণের মতো , ১০৯) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে চেষ্টা করলে কখনোই বিফল হবেন না, ১১০) বুদ্ধির সংজ্ঞা হলো, প্রতিটি কাজ ভেবে-চিন্তে করা, ১১১) ব্যক্তিত্ব, চেহারা ও ব্যক্তিত্ব , ১১২) সেলডন-এর গবেষণা , ১১৩) ব্যক্তিত্ব ও উচ্চারণ, ১১৪) পোশাক ও ব্যক্তিত্ব, ১১৫) প্রথম দেখায় ব্যক্তিত্বের ছাপ, ১১৬) বিচ্ছিন্নতা ব্যক্তিত্বের বড় শত্রু, ১১৭) ব্যক্তিত্বে জিনগত প্রভাব, ১১৮) অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব, ১১৯) মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের ১০ বৈশিষ্ট্য, ১২০) ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার জন্যে ১০ নির্দেশনা, ১২১) কিভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবেন? , ১২২) নিজেকে স্মার্ট করতে ৫টি কৌশল, ১২৩) আকর্ষণীয় মানুষ হবার ৬টি পরামর্শ, ১২৪) আত্মশুদ্ধি , ১২৫) হতাশ হবেন না, ১২৬) পাছে লোকে কিছু বলে, ১২৭) সুখ-শান্তি উন্নতি , ১২৮) চাহিদা, ১২৯) খাদ্য, ঘুম ও বিশ্রাম, ১৩০) স্বাস্থ্য ভাল রাখার নিয়ম, ১৩১) টেনশন দূর করতে হলে, ১৩২) শুধু নিজের কথা নয়, অন্যের কথাও ভাবুন, ১৩৩) চাহিদা যত বেশি সুখ তত কম, ১৩৪) সুখী জীবনের জন্য ১৮ টি টিপস, ১৩৫) আত্মবিশ্বাস, আত্ম বিশ্বাসের শক্তি, ১৩৬) অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যর্থ মানুষ, ১৩৭) দি সেভেন হ্যাবিট অফ হাইলি এ্যা ফেক্টিভ পিপল, ১৩৮) সামাজিক আয়না, ১৩৯) প্রোএ্যাক্টিভিটি, ১৪০) সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স, ১৪১) শুরু করুন আজই, ১৪২) আপনার কেন্দ্রবিন্দু কোনটি?, ১৪৩) মাথার দুটি অংশই ব্যবহার করুন, ১৪৪) সময়ের ব্যবস্থাপনা, ১৪৫) ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা, ১৪৬) গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি, ১৪৭) পরনির্ভরশীল জীবন, ১৪৮) ছয়টি উপায়ে অন্য মানুষের সাথে আদান-প্রদান, ১৪৯) অধ্যয়ন, ১৫০) পড়াশোনায় ১২ কার্যকর কৌশল, ১৫১) ঘুম থেকে উঠতে ১০-৩-২-১-০ ফর্মুলা, ১৫২) আয়-ব্যয়- টাকা, ১৫৩) অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে কারণে অর্থহীন, ১৫৪) খরচের লাগাম টেনে ধরতে.. ১৫৫) নারী, ১৫৬) সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে কিছু “মিথ্যা” বলা জরুরী , ১৫৭) ছেলেদের কোন জিনিস দেখে মেয়েরা? , ১৫৮) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস, ১৫৯) ভুঁড়ি ঠেকাতে ৫টি নিয়ম, ১৬০) যেসব কারণে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া উচতি , ১৬১) বিয়ে-সংসার, ১৬২) সফল বিয়ের তিনটি মন্ত্র, ১৬৩) সুখী হবার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র, ১৬৪) কিছু গল্প, ১৬৫) ভালোবাসাহীন সম্পর্ক, ১৬৬) কেন স্পর্শের প্রয়োজন হয় প্রতিদিন, ১৬৭) যে কারণে একা থাকাই আপনার জন্য ভালো, ১৬৮) ব্যবসা, ১৬৯) বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল, ১৭০) যে ৭টা ব্যাপার বিজনেসে করবেন না, ১৭১) স্বাস্থ্য, ১৭২) দুগ্ধজাত খাবারে পুরুষের বন্ধ্যত্ব, ১৭৩) একাকিত্বের বিপদ, ১৭৪) কর্মক্ষম ও প্রফুল্ল রাখতে, ১৭৫) মন ভালো করার উপায়, ১৭৬) যৌন স্বাস্থ্য, ১৭৭) পুরুষদের কেজেল, ১৭৮) মহিলাদের কেজেল, ১৭৯) দক্ষতা , ১৮০) আলসেমি দূর করার সহজ কিছু উপায়, ১৮১) কীভাবে সামলাবেন নিন্দুকদের ?, ১৮২) সুখী হতে চাইলে যা কখনোই করবেন না, ১৮৩) সব ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা রাখতে ৫টি টিপস, ১৮৪) বয়সের ভারে বৃদ্ধ না হয়ে বরং কাজের ভারে যুবক থাকার চেষ্টা করো, ১৮৫) নিজেকে কাজের সঙ্গে সম্পক্ত করার তিনটে স্টেপ, ১৮৬) জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে দ্রুত পদ্ধতিগুলো, ১৮৭) প্রতিদান পাওয়ার আশায় কাজ করবেন না, ১৮৮) প্রেম একটি মানসিক রোগ, ১৮৯) সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর নিজেকে যেভাবে সামলাবে, ১৯০) সময় সবকিছু বদলে দেয়, ১৯১) সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কমন পাঁচটি ভুল, ১৯২) আত্মবিশ্বাস/মনোবল, ১৯৩) প্যারাসুট অফ হ্যাপিনেস, ১৯৪) বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে, ১৯৫) আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের লক্ষণ, ১৯৬) বাড়াও আত্মবিশ্বাস, বাড়বে সফলতা, ১৯৭) প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার টিপস, ১৯৮) কিভাবে ধরে রাখবে দু'জনের সম্পর্ক, ১৯৯) কিভাবে বুঝবে সম্পর্ক শেষ করতে হবে, ২০০) সম্পর্ক যখন প্রেম-ভালোবাসার, ২০১) যেসব বিষয়ের উপর স¤পর্ক গড়ে ওঠে, ২০২) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২০৩) সম্পর্কের গুণগত মান বাড়বে কিভাবে, ২০৪) মস্তিস্ক ঠিক রাখার ৩০ উপায়, ২০৫) মানুষের আচরণের পেছনে একটা কারণ থাকে, ২০৬) কোনো কাজে নিজেকে সম্পক্ত না করেই আমরা নিজ ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাই ২০৭) স্রোতের বিপরীতে চিন্তা করুন, ২০৮) আপনার টাইমজোনে সময় আসবেই, ২০৯) চাইল্ডহুড অ্যামনেসিয়া এবং আমাদের শিক্ষণীয়,