হাসিমুখ
কথায় বলে, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। মুখের সৌন্দর্যের প্রথম এবং প্রধান উৎস হলো স্নিগ্ধ হাসি। যে মুখ হাসতে জানে না, সে মুখ কখনো সুন্দর নয়। যে মন খুুলে হাসতে পারে না, সে-ই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী ব্যক্তি। মাত্র সামান্য কিছু লোক আছেন, যারা ঘুম থেকে উঠে সুন্দর করে একটু মিষ্টি করে হাসেন। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই নাস্তা সারা পর্যন্ত মুখটাকে হাঁড়ি করে রাখেন। তারা জানেন না সুখ-শান্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মূল রহস্য হলো মধুর স্বভাব, হাস্যোজ্জ্বল মুখ। দৈনন্দিন কাজে হাজারো বাধা-বিপত্তি আর ঝামেলাকে আপনি হাসিমুখে (রসিকতার মধ্য দিয়ে) দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারলে আপনার জীবন হয়ে উঠবে আরো আনন্দময়। পরিবেশটাও হবে ঝলমলে আনন্দমুখর। সবসময় হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করুন। সদাহাস্য বিনম্রভাব ইচ্ছা করলে কিন্তু রপ্ত করা যায় না। রপ্ত করার জিনিস হলো অনুশীলন। সদাহাস্য বিনম্র ভাবটা জন্মায় বিদ্যাবুদ্ধি আর জ্ঞান থেকে। আপনি যত নামজাদা ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষ হবেন, ততবেশি নম্র, মধুর ও জাগ্রত চিত্তের অধিকারী হবেন।
মনে রাখবেন- একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখ পৃথিবীর হাজারো দামী সুপারিশপত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। হাসির চেয়ে আনন্দদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। প্রথম দর্শনেই মনে একটা স্থায়ী এবং অনুকুল ছাপ রাখার জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় আর কিছু নেই। নির্মল হাসি দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়। রসবোধসম্পন্ন মানুষেরা বেশি সৃষ্টিশীল, কম গোঁয়ার এবং নতুন ধারণা ও পদ্ধতি গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী।
মনোযোগ ও মতামত
মনোযোগী শ্রোতা পেলে সবাই আরামবোধ করে। কারণ মানুষ নিজেই মনের ভাব অন্য মনে নামিয়ে দিয়ে হালকা হতে চায়। এ পৃথিবীর প্রায় সবাই বলনেওয়ালা, শোনার মানুষ নেই বললেই চলে। কারণ সবজান্তা মনোভাব আমাদের রক্তে। জানার স্পৃহা যাদের, কেবল তারাই অন্যকে গুরুত্ব দেয়। তারা জানে, প্রতিটি মানুষের কাছে শেখার কিছু না কিছু আছে। তারা মৌমাছির মতো।
মৌমাছি যেমন ফুলের বুকে হুল ফুটিয়ে মধুটুকু সংগ্রহ করে। জ্ঞান প্রত্যাশী, উন্নতকামী মানুষেরাও তেমনি মনোযোগী হয়ে প্রতিটি মানুষের জ্ঞান-অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করে এবং প্রয়োজন মত কাজে লাগায়। কাজেই অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে নিজের সম্পর্কে বলতে উৎসাহিত করুন। কথার মাঝে কথা বলবেন না। যখন আপনার কিছু বলার থাকে না, তখন অবশ্যই চুপ করে থাকবেন। বিভিন্ন বিষয়ে অন্যের কাছে পরামর্শ চান এবং তার মতামত মন দিয়ে শুনুন।
সব স্তরের হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি: যে যত বড় মাপের মানুষ হয়, সে তত বেশি কথা বলার সুযোগ দেয়। যে যত তুচ্ছ সে তত বেশি জ্ঞান দেয়। বড়, মহৎ ব্যক্তিরা প্রধানত কথা শোনেন। ছোট, তুচ্ছ ব্যক্তিরা প্রধানত কথা বলেন। জীবনের সব ক্ষেত্রের গণ্যমান্য মানুষেরা অন্যের মতামত শোনেন, পরামর্শ দিতে যান না। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, ‘এ ব্যাপারে আপনার কি মতামত?’, ‘আপনি কি করতে বলেন?’
অন্যদের কথা বলার ব্যাপারে উৎসাহিত করুন। পাস্পরিক আলোচনা বা দলের মিটিংয়ে এ প্রশ্ন করুন, ‘আপনার অভিজ্ঞতা শুনি...?’ অথবা ‘আপনার কি মনে হয়...?’ ‘মূল কথাটা কি বলুন তো...?’ অন্যদের কথা বলায় প্রণোদিত করুন, এভাবে আপনার দ্বিগুণ লাভ হবে। আপনার মন পাবে প্রচুর কাঁচামাল যা দিয়ে সৃজনশীল ভাবনা-চিন্তা করা যাবে এবং আপনার বন্ধু সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কথা বলায় অন্যদের উৎসাহিত করে তুললে আপনার জনপ্রিয়তা বাড়বে। নিজের ধ্যান-ধারণাগুলি আরো সূক্ষ্ম ও পরিশিলীত করে তোলায় বাকিদের সাহায্য নিন। নিজের মত জাহির করতে যাবেন না। মতামত পেশ করার আগে অল্প-স্বল্প গবেষণা করে নিন।
অন্যদের কথাগুলি ভালোমত শুনুন। শুধু নিজের মুখ বন্ধ রাখা মানেই শোনা নয়। শোনার অর্থ অন্যের বক্তব্য মনে মনে গ্রহণ করা। লোকেরা প্রায়ই শোনার ভঙ্গি করে, শোনে না। এরা শুধু অন্যের কাছ থেকে কথা বলার সুযোগটা কেড়ে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকে। মনোযোগ সহকারে অন্যের কথা শুনুন।
তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা হেয় করা
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাউকে এমন কোনো মন্তব্য করতে যাবেন না- যা অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করে। তার কোনো অদক্ষতা, অক্ষমতার প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন না। কারণ, এই আচরণ দ্বারা আপনি শুধু তাকে আঘাতই করবেন- যদিও সে কিছুই মনে না করার ভান করতে পারে। এমনভাবে দ্বিতীয় কারো সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করবেন না, যাতে তৃতীয়জন ভাবতে পারেন, তাকে নিয়ে হাসি তামাশা বা টিপ্পনি কাটা হচ্ছে। অন্যের সঙ্গে ফিসফিস করে বা ইশারা ইঙ্গিতে কথা বলবেন না- যা তৃতীয় জনের পক্ষে বোধগম্য নয়, আর মাত্র একজনের সঙ্গে কথা বলবেন না।
কোনো গল্প বা হাসির টিপ্পনি যদি বলেন, তা হওয়া চাই সংক্ষিপ্ত, অথচ জোরালো এবং চিত্ত আকর্ষক। যদি অপর কেউ কোনো কৌতুক- রহস্যের অবতারণা করেন, সেটা আপনার জানা থাকলেও তা অপরকে বলতে বাধা দেবেন না বরং খুব উৎসাহ নিয়ে শুনবেন এবং প্রয়োজন মতো অভিনয় করে মুখের রং পাল্টাবেন। কিছুতেই তাকে বুঝতে দেবেন না যে গল্পটা আপনি আগে থেকে জানতেন। অপরের দুর্বলতায় খোঁচা দিবেন না। যে কথা বা কাজ অন্যজনে দেখতে চায় না, জানতে চায় না- সে কথা ও কাজের প্রতি উৎসাহী হবেন না। মনে রাখবেন, প্রতিটি মানুষই চাঁদের মতো- যার একটা অন্ধকার দিক আছে। যে দিক সে কাউকে দেখাতে চায় না।
তর্কযুদ্ধ
প্রত্যেক মানুষই নিজের জ্ঞান, ধারণা এবং মতকে নির্ভুল এবং বড় মনে করে। মানুষ তার চিন্তা, বিশ্বাস ও ধারণাকে সত্য ও নির্ভুল হিসাবে প্রমাণ করার জন্য অপরের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। আসলে তর্কে লিপ্ত হওয়া নির্বোধের কাজ। প্রতিপক্ষ যদি বুঝতেও পারে যে, তার তথ্য ভুল, তবুও তার মন সেটাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারবে না।
নিজের মত-বিশ্বাস-চিন্তা বা ধারণা পরাজিত হওয়ায় তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে আঘাত লাগে। ফলে তার মন বিরোধিতায় ভরে উঠে। এক্ষেত্রে নিজের তথ্য সঠিক এবং নির্ভুল হলেও ভুল বলে স্বীকার করে নেওয়া কিংবা কৌতুক করে হেসে প্রসঙ্গ পাল্টানো বা কৌশলে তর্ক এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
সোজা কথা: কারো কোনো কথা-কাজ-মত কিংবা সিদ্ধান্তের সাথে যদি আপনি একমত হতে না পারেন, তবে সে জন্য তার মুখের ওপর জবাব দেবেন না। অন্যের মতকে গুরুত্ব দিয়েও কথা বলা যায়, কাজ করা যায়। যে কোনো আলোচনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুন্দর ভাষায় সংক্ষেপে আপনার সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করুন। বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারেÑ এমন কথা বলা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকুন।
অন্যজন কিছু বললো, আপনি মনে মনে জানছেন, লোকটা ভুল বলছে, আপনি তার সঙ্গে তর্ক করতে যাবেন না। তাকে সমর্থনেরও দরকার নেই। বিরোধিতা করার দরকারও নেই। তার বক্তব্য শুনুন। অবাস্তব মনে হলে মনে মনে হাসুন। আর বাস্তব হলে নিজের মতামত সংশোধন করে নিন। তর্কে জিততে চেষ্টা করবেন না। কারণ তর্ক হলো এমন অস্ত্র যার দুদিকেই ধার। তর্কে আপনি প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে দিলে প্রতিপক্ষ আপাতত চুপ করে যাবে বটে কিন্তু আপনার প্রতি রেগে থাকবে। আপনার চিরশত্রু হয়ে থাকবে। আর যদি আপনার প্রতিপক্ষ জেতে তাহলে মনে মনে আপনিও রেগে থাকবেন। আপনার অহং ঘা খাবে। আপনার মধ্যে হীনম্মন্যতা জাগবে। তাই যখনই দেখবেন আপনার হক কথারও কেউ প্রতিবাদ করছে, উল্টোপাল্টা যুক্তি দিচ্ছে, এঁড়ে তর্ক করতে যাচ্ছে, আপনি তার ফাঁদে পা দেবেন না। বলবেন, এ নিয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাই না। এই বলে অন্য প্রসঙ্গে আসবেন।
ছেলে-মেয়েদের ছোটবেলা থেকে কোনো সামাজিক ইসু্যূ নিয়ে ভালো-মন্দ অভিমত দিতে উৎসাহিত করুন। তাদের থামিয়ে দেবেন না। তারা ভুল বললে তাদের মিষ্টি করে ভুল ধরিয়ে দিন। যদি তা সত্ত্বেও তারা এঁড়ে তর্ক করে যাচ্ছে তাহলেও ধমক দিয়ে বসিয়ে দেবেন না। বলবেন, আরও পড়াশোনা করো, তোমার ভুল ভেঙে যাবে।
তর্কে কখনো জেতা যায় না। জিতলেও আপনি হারবেন, আবার হারলেও হারবেন। তর্ক করার অর্থ হলো হেরে যাওয়া যুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। জিতলেও জয়ের কোনো মূল্য পাওয়া যায় না। তর্ক যখন ভাবাবেগের যুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় তখন কর্তটা মিটলেও মনের মধ্যে একটা অপ্রীতিকর ঘটনার রেশ থেকেই যায়। যত তর্কে জিতবেন বন্ধুর সংখ্যা তত কমবে।
প্রত্যেক মানুষের চরিত্রে কতগুলি প্রধান গুণ ও স্বভাব থাকে। যেমনÑ কেউ মন খোলা, সদা প্রফুল্ল, আবার কেউ ভাবনাগ্রস্ত, চাপা স্বভাবের। কেউ বিনয়ী, মিশুক আবার কেউ লাজুক, আত্মকেন্দ্রিক। কেউ চটপটে, বাস্তববাদী আবার কেউ বোকা, কল্পনাবাদী। কেউ অস্থিরমনা কেউ বা খুঁতখুতে, কেউ হিংসুটে, কেউ নারীকামী, কেউ নারীতে অনাসক্ত।
এরিস্টল, গল প্রমুখ দার্শনিকেরা বলেছেনÑ মুখের আকৃতি, মাথার ভেতরের ও বাইরের গঠন ইত্যাদির সাথে মন মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বেও যোগ আছে। এ জন্য বলা হয় যে মুখ হচ্ছে মনের আয়না। কারণ মুখের মধ্যেই পাঁচ ইন্দ্রিয়ের অবস্থান রয়েছে।
জ্যোতিশাস্ত্র মতে- মানুষের স্বভাব চরিত্র নির্ভর করে রাশির উপর। মানুষের জন্মের সময় গ্রহ-নক্ষত্রের লগ্ন ও পারস্পরিক অবস্থিতি অনুসারে রাশি হয়। এই রাশি সমস্ত ব্যক্তিজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থাৎ জন্ম থেকেই নির্ধারিত হয়ে যায় ব্যক্তিত্বের মূল ছাঁচ।
তবে এ কথা ঠিক যে মানুষের শরীরের গঠনের সাথে স্বভাবের তারতম্য ঘটে। অবশ্য স্বভাবের সবচেয়ে ভালো গঠন ক্ষেত্র হলো পরিবার ও পরিবেশ। যোগ্য পরিবারের বোকা ছেলে আর বোকা পরিবারের বোকা ছেলে হওয়া এক কথা নয়। দু’জনের দু’ধরনের ব্যক্তিত্ব হবে।
এছাড়াও কোনো বিশেষ অবস্থায় একটি লোক কেমন ব্যবহার করবে তা বুঝতে হলে তার এসব ভালো-মন্দ স্বভাব ছাড়াও তার উদ্দেশ্য ও অভিজ্ঞতা বুঝতে হবে। লোকের সাথে চলতে গিয়ে প্রথমেই দেখতে হবে আপনাকে সাহায্য-সহযোগিতা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহারের পিছনে তার স্বার্থ কি। শুধু নিজের লাভের হিসাবে করবেন না। বরং উভয়ের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। যাতে উভয়ের দ্বারা উভয়ের উপকার হয়। মনে রাখবেন, অপরের সমস্যা সমাধানের দ্বারাই নিজের উন্নতি সাধন করা যায়।
স্বার্থপর লোভী ব্যক্তি বোকা ছাড়া কিছুই নয়। ভোগ নয়, ত্যাগেই সুখ। ত্যাগ মানে বর্জন নয় বরং বড় কিছুকে পাওয়া বা চাওয়ারই প্রমাণ বহন করে ত্যাগ। ফুল ফলে পরিণত হয় তার সুন্দর পাপড়িকে ঝরিয়ে দিয়ে।
মোট কথা হলো আপনার জনপ্রিয়তা, আপনার সুখ নির্ভর করবে, আপনি কেমন করে লোকদের সাথে ব্যবহার করেন তার উপর। অন্যকে যারা প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান করে, কেবল তারাই প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা পেয়ে থাকেন। ব্যাপারটা ঠিক আয়নার মতো। আপনি আয়নার মধ্যে নিজের হাসিমুখ দেখতে চাইলে অবশ্যই নিজের মুখটা হাসি দিয়ে ভরতে হবে। অন্যের কাছ থেকে যে রকম ব্যবহার আশা করেন না, ভুলেও অন্যের সঙ্গে সে রকম ব্যবহার করবেন না। সর্বদা মনে রাখবেনÑ যে ভদ্র, কথায় সে নম্র।
ব্যবহারে মানুষকে বিচার করুন জাত-পাত ও ডিগ্রিতে নয়। জাত-পাত, পজিশন ক্ষমতা ও মিডিয়ার প্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। কে বিশিষ্ট বা কে সুশীল তা আপনি বিচার করবেন তার ব্যবহারে, তার চালচলনে বলনে। অধিকাংশ মানুষ অকৃতজ্ঞ, অভদ্র, সংকীর্ণচেতা, ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে তাদের বাস। তবু আপনি মানুষকে ভালোবাসুন, তা না হলে আপনি উদার ও মুক্তমন হতে পারবেন না।
একজন আমেরিকান ও একজন বাঙালির মস্তিষ্কের ওজন এক। কেউ আলাদা নন। তবে মানুষ বিশিষ্টতা অর্জন করে মনুষ্যত্বে- মানবিক আচরণে। মনুষ্যত্ব অর্জন না করলে আপনাকে পূর্ণ মানুষ বলবো না। কারো প্রতি উদাসীন ভাব দেখাবেন না। প্রথম দেখায় আন্তরিকতা প্রকাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে হলে আচার ব্যবহার সুন্দর হতে হবে। আচার ব্যবহার সুন্দর না হলে বাহ্যিক সৌন্দর্যের কোনো মূল্য নেই।
সূচিপত্র
১) ছোটদের সাথে আমাদের আচরণ ২) পরিবার ও সন্তান, সুপার পাওয়ার যেভাবে তৈরি হয়, ৩) দীর্ঘস্থায়ী ভয়ের উৎপত্তির মূলে শৈশবকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব , ৪) সন্তানের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বাড়ানো, ৫) আপনার শিশুটি ঘুমুক শান্তিতে এবং নির্ভরতায় , ৬) কিছু অব্যর্থ টিপস, যা আপনার শিশুকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে, ৭) শিশুকে কিভাবে বড় করবেন, ৮) বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে কী করবেন? ৯) বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্যতম পথ, দৌড়, ১০) বাচ্চাকে কখনো আড়ালে লুকিয়ে খেতে দেবেন না, ১১) পিটার সিংগারের দর্শন, ১২) দুষ্টু শিশুরা তাড়াতাড়ি শেখে, ১৩) সন্তানকে যতই শাস্তি দেবেন ততই সে অসামাজিক হবে, ১৪) বাবা-মাই সন্তানকে নির্যাতন করেন সবচেয়ে বেশি , ১৫) সন্তানের সাথে কিভাবে গড়ে তুলবেন নিবিড় বন্ধন, ১৬) যে ১১টি কথা শিশুকে কখনোই বলবেন না!, ১৭) শিশুকে গল্প শোনান প্রতিদিন, ১৮) সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ১০টি কৌশল, ১৯) সৃজনশীলতা হচ্ছে নতুন কিছু করার যোগ্যতা, ২০) যারা মুখস্থ করতে পারেন না, ২১) তারা মেধাবী, মেধাবী হওয়ার উপায়,
২২) কথা ও ভাষা, ২৩) এলিভেটর পিচ, ২৪) সুন্দর করে কথা বলে সমস্যা জয়ের কৌশল, ২৫) ফোনে কথা বলার আদবকেতা, ২৬) ১২টি কর্ম বিধান, ২৭) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২৮) আলতু-ফালতু কাজে সময় অপচয় করে স্বপ্ন পূরণের কল্পনা, ২৯) স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ৩০) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর জীবন থেকে শিক্ষা, ৩১) অভিজ্ঞতা ও অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ, ৩২) বর্তমানকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিন, ৩৩) ২৪ ঘণ্টা কেউ সুখী হয় না, ৩৪) কিছু অভ্যাস যা আপনাকে আরও সুখী করবে , ৩৫) আপনার অবয়ব , ৩৬) সফলতার 25টি হট কৌশল-1, ৩৭) সাফল্যের 25টি হট কৌশল-2, ৩৮) সফলতার 55 সূত্র, ৩৯) কিভাবে নিজেকে নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে, ৪০) সময় ব্যবস্থাপনা, ৪১) সময় ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপ, ৪২) সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপায়গুলো, ৪৩) সাফল্য, ড. কোভের ইমোশনাল একাউন্ট কনসেপ্ট, ৪৪) সবচে বড় ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৫) আপনার ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৬) বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ বর্জিত কর্মফল বিপজ্জনক, ৪৭) অন্যদের দিয়ে আপনার কাজ করান কিন্তু সম্মান আপনি অর্জন করুন, ৪৮) অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক দরকার হলে টোপ দিন, ৪৯) অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন, ৫০) লোককে আপনার ওপর নির্ভরশীল করুন , ৫১) নেওয়ার পূর্বে দেওয়া অন্য বক্তির স্বার্থ বুঝুন, ৫২) শত্রুকে খাটো করে দেখবেন না, ৫৩) নিজেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ নির্মাণ করবেন না, ৫৪) কারোর পক্ষ অবলম্বন করে বসে থাকবেন না, ৫৫) আপনার শক্তিসমূহকে সংহত করুন, ৫৫) নিজের ভুলগুলোকে লুকিয়ে রাখুন, ৫৬) শুধু সাহসের জোরে নয়, পরিণতিও বিবেচনায় রাখুন, ৫৭) প্রতিটি মানুষের গোপন ইচ্ছা খুঁজে বের করুন, ৫৮) রাগ বিপজ্জনক ও অভদ্রতা, ৫৯) কোনো দলকে ধরার জন্য দলপতিকে প্রথমে ধরুন, ৬০) নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন, ৬০) পরিবেশ সামলাতে শিখুন, ৬১) প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন, ৬২) আপনার সামাজিক পরিবেশ ‘প্রথম শ্রেণি’র করে তোলার উপায়, ৬৩) ‘সস্তার তিন অবস্থা’ প্রধম শ্রেণিভুক্ত হয়ে উঠুন , ৬৪) যত বেশি বন্ধুত্ব তত বেশি উপরে ওঠার সম্ভাবনা, ৬৫) সাহস করে কাজটা শুরু করুন, ৬৬) সাফল্য মানে বারবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করা, ৬৭) ১- ১০ ভাল অভ্যাস, ১১- ২০ ভাল অভ্যাস, ২১- ৩০ ভাল অভ্যাস, ৩১- ৪০ ভাল অভ্যাস, ৪১- ৫০ ভাল অভ্যাস, ৫১- ৬০ ভাল অভ্যাস, ৬১- ৭০ ভাল অভ্যাস, ৭১- ৮০ ভাল অভ্যাস, ৮১- ৯০ ভাল অভ্যাস, ৯১- ১০২ ভাল অভ্যাস, ৬৮) জিরো থেকে হিরো, ৬৯) সৃজনশীলদের সফলতার ৭ সূত্র, ৬৯) জীবনে পরিবর্তন আনুন ৪৮টি উপায়ে, ৭০) জীবন-যাপন, ৭১) জাপানী ও চিন লাইফ স্টাইল , ৭২) ৩০টি দর্শন, যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে, ৭৩) সম্পর্ক তৈরি করা, বন্ধুত্ব, ৭৪) যে আচরণগুলো মানুষের মনের কথা জানাবে, ৭৫) কথা বলার সূত্র, ৭৬) আপনি ও আপনার ব্যবহার, ৭৭) নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, ৭৮) কথা বলার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, ৭৯) কিভাবে নিজেকে বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করবেন, ৮০) কিভাবে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলবেন, ৮১) কথা বলার ৫টি বিস্ময়কর টেকনিক, ৮২) কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করবেন? ৮৩) অকারণে সময় নষ্ট? মেল রবিনের ৫ সেকেন্ড রুল, ৮৪) কর্পোরেট আদবকেতা, ৮৫) ৩৫টি কর্পোরেট কালচার ও আপনার করণীয়, ৮৬) যা না জানলে লজ্জায় পড়তে হয় , ৮৭) কাজের সময়ে যে বিষয়গুলো একেবারেই করা উচিৎ না , ৮৮) ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে ছুড়ে ফেলুন ৭টি দোষ, ৮৯) আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে বা স্বপ্ন,
৯০) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, কাজ কিভাবে করবেন? ৯১) আত্মশক্তিতে বলিয়ান হতে, ৯২) একনাগাড়ে চলবেন না, ৯৩) মারফিস ’ল , কাজের রোডম্যাপ তেরি , ৯৪) জব স্যাটিসফেকশন, ৯৫) কাজে সফলতার সূত্রাবলী, ৯৬) যেভাবে জীবনযাপন করবেন, ৯৭) পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা যে কাজগুলো কখনোই করেন না, ৯৮) জীবনে দক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়, ৯৯) সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও কাজ করার উপায় , ১০০) সফলতা ও সার্থকতা, ১০১) জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করা, ১০২) সফলতার কিছু পদ্ধতি, ১০৩) সফল হতে চাইলে যে ৮ টি জিনিস বাদ দেয়া প্রয়োজন, ১০৪) সফল ব্যক্তিরা যে ১০টি কাজ কখনোই করেন না, ১০৫) সর্বদা স্মরণ রাখুন, ১০৬) চিন্তাশক্তি , ১০৭) স্বাধীনতা, ১০৮) জ্ঞান অর্জন খাদ্য গ্রহণের মতো , ১০৯) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে চেষ্টা করলে কখনোই বিফল হবেন না, ১১০) বুদ্ধির সংজ্ঞা হলো, প্রতিটি কাজ ভেবে-চিন্তে করা, ১১১) ব্যক্তিত্ব, চেহারা ও ব্যক্তিত্ব , ১১২) সেলডন-এর গবেষণা , ১১৩) ব্যক্তিত্ব ও উচ্চারণ, ১১৪) পোশাক ও ব্যক্তিত্ব, ১১৫) প্রথম দেখায় ব্যক্তিত্বের ছাপ, ১১৬) বিচ্ছিন্নতা ব্যক্তিত্বের বড় শত্রু, ১১৭) ব্যক্তিত্বে জিনগত প্রভাব, ১১৮) অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব, ১১৯) মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের ১০ বৈশিষ্ট্য, ১২০) ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার জন্যে ১০ নির্দেশনা, ১২১) কিভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবেন? , ১২২) নিজেকে স্মার্ট করতে ৫টি কৌশল, ১২৩) আকর্ষণীয় মানুষ হবার ৬টি পরামর্শ, ১২৪) আত্মশুদ্ধি , ১২৫) হতাশ হবেন না, ১২৬) পাছে লোকে কিছু বলে, ১২৭) সুখ-শান্তি উন্নতি , ১২৮) চাহিদা, ১২৯) খাদ্য, ঘুম ও বিশ্রাম, ১৩০) স্বাস্থ্য ভাল রাখার নিয়ম, ১৩১) টেনশন দূর করতে হলে, ১৩২) শুধু নিজের কথা নয়, অন্যের কথাও ভাবুন, ১৩৩) চাহিদা যত বেশি সুখ তত কম, ১৩৪) সুখী জীবনের জন্য ১৮ টি টিপস, ১৩৫) আত্মবিশ্বাস, আত্ম বিশ্বাসের শক্তি, ১৩৬) অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যর্থ মানুষ, ১৩৭) দি সেভেন হ্যাবিট অফ হাইলি এ্যা ফেক্টিভ পিপল, ১৩৮) সামাজিক আয়না, ১৩৯) প্রোএ্যাক্টিভিটি, ১৪০) সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স, ১৪১) শুরু করুন আজই, ১৪২) আপনার কেন্দ্রবিন্দু কোনটি?, ১৪৩) মাথার দুটি অংশই ব্যবহার করুন, ১৪৪) সময়ের ব্যবস্থাপনা, ১৪৫) ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা, ১৪৬) গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি, ১৪৭) পরনির্ভরশীল জীবন, ১৪৮) ছয়টি উপায়ে অন্য মানুষের সাথে আদান-প্রদান, ১৪৯) অধ্যয়ন, ১৫০) পড়াশোনায় ১২ কার্যকর কৌশল, ১৫১) ঘুম থেকে উঠতে ১০-৩-২-১-০ ফর্মুলা, ১৫২) আয়-ব্যয়- টাকা, ১৫৩) অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে কারণে অর্থহীন, ১৫৪) খরচের লাগাম টেনে ধরতে.. ১৫৫) নারী, ১৫৬) সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে কিছু “মিথ্যা” বলা জরুরী , ১৫৭) ছেলেদের কোন জিনিস দেখে মেয়েরা? , ১৫৮) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস, ১৫৯) ভুঁড়ি ঠেকাতে ৫টি নিয়ম, ১৬০) যেসব কারণে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া উচতি , ১৬১) বিয়ে-সংসার, ১৬২) সফল বিয়ের তিনটি মন্ত্র, ১৬৩) সুখী হবার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র, ১৬৪) কিছু গল্প, ১৬৫) ভালোবাসাহীন সম্পর্ক, ১৬৬) কেন স্পর্শের প্রয়োজন হয় প্রতিদিন, ১৬৭) যে কারণে একা থাকাই আপনার জন্য ভালো, ১৬৮) ব্যবসা, ১৬৯) বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল, ১৭০) যে ৭টা ব্যাপার বিজনেসে করবেন না, ১৭১) স্বাস্থ্য, ১৭২) দুগ্ধজাত খাবারে পুরুষের বন্ধ্যত্ব, ১৭৩) একাকিত্বের বিপদ, ১৭৪) কর্মক্ষম ও প্রফুল্ল রাখতে, ১৭৫) মন ভালো করার উপায়, ১৭৬) যৌন স্বাস্থ্য, ১৭৭) পুরুষদের কেজেল, ১৭৮) মহিলাদের কেজেল, ১৭৯) দক্ষতা , ১৮০) আলসেমি দূর করার সহজ কিছু উপায়, ১৮১) কীভাবে সামলাবেন নিন্দুকদের ?, ১৮২) সুখী হতে চাইলে যা কখনোই করবেন না, ১৮৩) সব ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা রাখতে ৫টি টিপস, ১৮৪) বয়সের ভারে বৃদ্ধ না হয়ে বরং কাজের ভারে যুবক থাকার চেষ্টা করো, ১৮৫) নিজেকে কাজের সঙ্গে সম্পক্ত করার তিনটে স্টেপ, ১৮৬) জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে দ্রুত পদ্ধতিগুলো, ১৮৭) প্রতিদান পাওয়ার আশায় কাজ করবেন না, ১৮৮) প্রেম একটি মানসিক রোগ, ১৮৯) সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর নিজেকে যেভাবে সামলাবে, ১৯০) সময় সবকিছু বদলে দেয়, ১৯১) সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কমন পাঁচটি ভুল, ১৯২) আত্মবিশ্বাস/মনোবল, ১৯৩) প্যারাসুট অফ হ্যাপিনেস, ১৯৪) বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে, ১৯৫) আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের লক্ষণ, ১৯৬) বাড়াও আত্মবিশ্বাস, বাড়বে সফলতা, ১৯৭) প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার টিপস, ১৯৮) কিভাবে ধরে রাখবে দু'জনের সম্পর্ক, ১৯৯) কিভাবে বুঝবে সম্পর্ক শেষ করতে হবে, ২০০) সম্পর্ক যখন প্রেম-ভালোবাসার, ২০১) যেসব বিষয়ের উপর স¤পর্ক গড়ে ওঠে, ২০২) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২০৩) সম্পর্কের গুণগত মান বাড়বে কিভাবে, ২০৪) মস্তিস্ক ঠিক রাখার ৩০ উপায়, ২০৫) মানুষের আচরণের পেছনে একটা কারণ থাকে, ২০৬) কোনো কাজে নিজেকে সম্পক্ত না করেই আমরা নিজ ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাই ২০৭) স্রোতের বিপরীতে চিন্তা করুন, ২০৮) আপনার টাইমজোনে সময় আসবেই, ২০৯) চাইল্ডহুড অ্যামনেসিয়া এবং আমাদের শিক্ষণীয়,