বাবা-মাই সন্তানকে নির্যাতন করেন সবচেয়ে বেশি
কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি কথা। কখনও জেনেশুনে, কখনও অজান্তে, আবার কখনও অনিচ্ছাসত্ত্বে বাধ্য হয়ে বাবা-মা সন্তানদের সাথে অহরহ এমন কিছু আচরণ করেন, যার মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের উপর নির্যাতন করেন। কখনও শারীরিক, কখনও মানসিক নির্যাতন। সংখ্যায় কম হলেও কখনও কখনও সন্তানরা বাবা দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকারও হয়। বাবা-মার নানা নির্যাতনের উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন -
১। বাবা-মার ক্রটিপূর্ণ প্রতিপালন:
ক) কলহপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ: একটা শিশুর দেহ ও মনের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সুস্থ ও স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ খুবই জরুরি।
মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন যে, শিশুদের সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের জন্য ভগ্নগৃহ বা ব্রোকেন হোমের (পরিবারে মৃত্যু, বিবাহবিচ্ছেদ, সেপারেশন বা ডিজারশনের কারণে স্বামী বা স্ত্রী যে কোনো একজনের অনুপস্থিতি) চেয়ে কলহপূর্ণ পরিবার (যে পরিবারে বাবা-মা অধিকাংশ সময়ে কলহে লিপ্ত) অনেক বেশি ক্ষতিকর।
বাবা-মার ঘন ঘন কলহ শিশুর মনে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। কেননা তার নিরাপত্তা বিধান ও স্বার্থ রক্ষার একান্ত আশ্রয়স্থল (বাবা-মা) স¤পূর্ণরূপে ভেঙ্গে পড়ে। বাবা-মার দ্বন্দ্ব শিশুর আত্মদ্বন্দ্বে পরিণত হয়, যার মীমাংসা সে করতে পারে না। পরিণামে শিশুর চরম মানসিক বিপর্যয় ঘটে। অনেক বাবা-মা সন্তানের সামনে কলহ করেন বা তাঁদের সমস্যা সমাধানে সন্তানকে মধ্যস্থতা করতে বলেন। অল্প অভিজ্ঞতার কারণে শিশু এ কলহ মেটানোর কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে হিনম্মন্যতায় ভোগে। এ কলহের জন্য শিশু দুশ্চিন্তা নিয়ে বড় হয়। সে ভীরু হয় ও তার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তাছাড়া বাবার দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনে মা যখন কষ্টে থাকে, তখন সে সন্তানদের দিকে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারে না। ফলে শিশুরা হতাশা, ভয়, নিরাপত্তাহীনতা, অপরাধবোধ, স্নেহবঞ্চনা, দুশ্চিন্তা... এসবে ভোগে। অনেক বাবা-মায়েরা কলহের সময় সন্তানদেরও গালি দেয় ও মারে।
বাবা-মার মধ্যে কলহপূর্ণ স¤পর্কের মধ্যে বড় হলে শিশুদের নানারকম মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রচণ্ড মানসিক চাপ থেকে নানা মানসিক সমস্যা ও রোগ যেমন- দুর্বল ব্যক্তিত্ব, পরনির্ভরশীল, নানা পরিবেশ ও মানুষের সাথে সঙ্গতিবিধানের অক্ষমতা, কাউকে বিশ্বাস করতে বা ভালোবাসতে না পারা, ট্রমা, এংজাইটি, ক্রনিক ডিপ্রেশন, ফোবিয়া, অবসেসিভ অ্যান্ড ক¤পালসিভ ডিজঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, পোস্ট ট্রমেটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার... ইত্যাদিতে ভুগতে পারে।
পরকীয়া বা দ্বিতীয় বিয়ে বা অন্য কোনো কারণে সন্তান বাবা-মার কাছে অবাঞ্ছিত হলে তারা সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত ঔদাসীন্য ও অনীহা প্রদর্শন করে। একে নিষ্ক্রিয় প্রত্যাখ্যান ( চধংংরাব জবলবপঃরড়হ) বলে। আবার কখনও বাবা-মা সন্তানের প্রতি রূঢ় ও উৎপীড়নমূলক আচরণ করতে পারে। একে সক্রিয় প্রত্যাখ্যান ( অপঃরাব জবলবপঃরড়হ) বলে। এ উভয় প্রত্যাখ্যানই শিশুর উপর অত্যন্ত বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। তারা সমস্ত জগৎ-সংসারকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর স্থান মনে করে। তার সামাজিক অভিযোজন প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হয়। পরিণামে বিভিন্ন মানসিক গোলযোগে আক্রান্ত হয়। কৃত্রিম পরিবেশ (যেখানে সামাজিক কারণে বাবা-মা সুস¤পর্ক বজায় রেখে চলেন, প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে কোনো সুস¤পর্ক থাকে না) ও শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশে শতকরা ৮০ ভাগ নারী তার নিজ গৃহে অতি আপনজন দ্বারা নির্যাতিত। তার মানে এই আশি ভাগ নারীর সন্তানেরা প্রতিনিয়ত মাকে নির্যাতিত হতে দেখে। এসব কলহপূর্ণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুরা ভয়, দুশ্চিন্তা, কষ্ট নিয়ে বড় হয়।
খ) বাবা-মার অতিরক্ষণ : কিছু বাবা-মা সন্তানদের অতিরিক্ত আগলে রেখে বড় করেন। তাদেরকে নিজে নিজে কোনো কিছু করার স্বাধীনতা দেন না। সবসময় বাবা-মার হুকুম মেনে চলতে বাধ্য করেন। হুকুম না মানলে বাবা-মা দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন করেন।
গ) অরক্ষণ : কেনো কোনো বাবা-মা নিজেদের ব্যস্ততার কারণে সন্তানের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল করতে পারেন না। সন্তানের দেখাশোনা কাজের লোকের উপর দিয়ে রাখেন। সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, কার সাথে মিশছে, এসব কিছুই খেয়াল করেন না। এসব শিশুকে অরক্ষিত শিশু বলে। বস্তির শিশুরা অরক্ষিত বলেই নানা অপরাধে জড়ায়। অনাদরে বেড়ে ওঠা এসব শিশুরা অবহেলিত ও নির্যাতিত হয়। বাবা-মার আর্থিক অসঙ্গতি কখনও কখনও শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতনের কারণ। সম্প্রতি কাজের মেয়ে নির্যাতনের বিভৎসতায় বিষয়টি প্রকটভাবে উঠে এসেছে।
ঘ) সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ : বাবা-মার কোনো কোনো সন্তানের প্রতি (ছেলে সন্তান, পড়ালেখায় ভাল সন্তান, ছোট সন্তান ইত্যাদি) পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ অন্য সন্তানদের প্রতি, বিশেষ করে মেয়ে সন্তানের প্রতি মানসিক নির্যাতনের কারণ।
ঙ) অতিরিক্ত পড়ার চাপ : বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল পদ্ধতি, পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষা, অতিরিক্ত পাঠ্যবই ও গাইড বই পড়ার চাপ, প্রাইভেটের চাপ, পরীক্ষার চাপ, ভর্তি পরীক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কারণে আমরা ছেলে-মেয়েদের সারাক্ষণ পড়তে বাধ্য করি, যা ওদের প্রতি মানসিক নির্যাতন। আমরা ওদের খেলার, বিনোদনের সময় দেই না। আগে পরীক্ষার পর ছেলে-মেয়েরা আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যেত। এতে তাদের বিনোদন, আবেগিক, মানসিক, সামাজিক বিকাশ হতো। এখন ওরা পরীক্ষার পরের দিন থেকেই প্রাইভেট পড়ে। ফলে ওরা আত্মকেন্দ্রিক ও অমানবিক হয়ে গড়ে উঠছে।
আমরা সবসময় পড়ার বিষয়ে সন্তানদের সামনে অন্য বাচ্চার তুলনা করি, নিজের সন্তানের দোষ ধরি, সমালোচনা করি, জোর করে নিজের মত ওদের উপরে চাপাই, পারিবারিক কোনো বিষয়ে ওদের মত নেই না... এগুলো সবই ক্ষতিকারক ও নির্যাতন।
চ) বাবা-মার অতি প্রশ্রয় : কেনো কোনো বাবা-মা অতি প্রশ্রয়, অতিরিক্ত টাকা, মোবাইল, এসব দিয়ে সন্তানকে উচ্ছৃংখল বানান। সন্তানের অপরাধকে উপেক্ষা করেন। (যেমন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে।) এতেও সন্তানের ক্ষতি হয়। বাবা-মার উচিত, তাঁদের যা আছে, সন্তানকে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শেখানো। অপচয় না করতে শেখানোও দরকার। সন্তানের মতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে তার সব আবদার রাখা যাবে না।
তার কেনো কথা মানা সম্ভব না হলে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া যাবে না। আবার টাকা জমিয়ে না রেখে খরচ করাও জরুরি। সন্তানের ছোটখাট ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। সন্তান দোষ করলে বাবা-মা একসাথে শাসন করবে। একজন শাসন করলেও অন্যকেউ প্রশ্রয় দিলে শিশুর আচরণ শোধরানো যাবে না।
২। বাবা-মার অসৎ চরিত্র :
বিজ্ঞানীররা প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের আচরণের জন্য দায়ী তার জিন ও পরিবেশ। বাবা-মা ও শিশুর চারপাশের পরিবেশ ভালো হলে সন্তান ভালো হবে। আর বাবা-মা অপরাধী ও খারাপ হলে শিশুও অপরাধী বা খারাপ হবে।
বাবা-মার অসৎ চরিত্র সন্তানদের মানসিক ক্ষতি করে সবচেয়ে বেশি। বাবা-মা পরকীয়া করলে, ঘুষখোর, দুর্নীতিপরায়ণ, অপরাধী হলে, বাবা একাধিক বিয়ে করলে, নিকট আত্মীয়দের দেখাশোনা না করলে, বৃদ্ধ বাবা-মাকে অবহেলা করলে সন্তানরাও তাই শেখে। ওদের সামনে কোনো গুরুজনদের সমালোচনা বা মিথ্যে বদনাম করলে শিশুরা আপনার প্রতিও শ্রদ্ধা হারাবে, তাদের আচরণে সে অশ্রদ্ধা প্রকাশ পাবে।
বৃদ্ধ বয়সে তারা আপনাকে ঐশীর মত খুন করবে। অথবা বৃদ্ধাশ্রমে বা কোনো মসজিদের বারান্দায় ফেলে রাখবে। যেসব পরিবারে বাবা সব খারাপ বা নেতিবাচক ঘটনার জন্য (যেমন- সন্তান ফেল করলে, বখে গেলে, দোষ করলে, ভুল করলে, প্রেম করলে, চুরি করলে, ইত্যাদি) মাকে দায়ী করে এবং যেসব পরিবারে বাবা প্রায় সবসময় মাকে নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে, সেসব পরিবারের শিশুরা বাবার কাছ থেকে ওসব আচরণ অনুকরণ করে। পরে দা¤পত্য জীবনে তারাও একই আচরণ করে। এভাবে বংশ পর¤পরায় বাবা, স্বামী, ছেলে... এভাবে নারী ও শিশুদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন চলতে থাকে।
সন্তানের সুস্থ রুচিবোধ তৈরি করে দেয়া, তাদের সাথে সময় কাটানো, তাদেরকে বোঝা জরুরি। অনেক বাবা-মা সময় অভাবে বা টাকা অপচয় হবে বলে পরিবারকে বেড়াতে নিয়ে যান না। বাচ্চার পড়ার ক্ষতি হবে বলে অতিথি এ্যালাও করেন না, গরীব আত্মীয়কে সাহায্য করেন না, অসুস্থ হলে সময়ের অজুহাতে দেখতে যান না। সন্তানকে সামাজিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, মানবতা শেখাতে হলে নিজে এগুলোর চর্চা করুন। কারণ আপনিই শিশুর রোলমডেল। আপনাকে দেখেই শিশু শিখবে।
নিজে কেনো ভুল বা দোষ করলে সন্তানকে 'সরি' বলুন, সন্তাকেও বলতে শেখান। সে যেন কোনো কথা আপনার কাছে গোপন না করে। সন্তানের বন্ধু হোন। তাকে সত্যি কথা বলার, নিজের অপরাধ স্বীকার করার সৎসাহস তৈরি করে দিন। কোনোভাবে আপনার সন্তান কারো দ্বারা নির্যাতিত হলে তার প্রতিকার করুন।
৩। সন্তানের মতকে অগ্রাহ্য করা :
আমাদের সমাজে সন্তানের ইচ্ছার স্বাধীনতা কম। সে জন্যই পরিবার ছেলে বা মেয়েকে জোর করে অপছন্দের কারো সাথে বিয়ে দেয়। মেয়েদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর নির্যাতন, পরকীয়া, বহুবিবাহ সহ্য করে সংসার করতে বাধ্য করে, তালাক দিতে দেয় না। ছেলেরা অবশ্য বৌ পছন্দ না হলে তালাক দেয়, দিতে পারে। আমাদের সমাজে প্রেম করার অপরাধে মেয়েদেরকে বাবা-মা, ভাই, চাচারা পিটিয়ে তক্তা বানায়, যা কোনো সভ্য সমাজে ঘটে না। বিয়ের পরেও বাবা-মা ছেলের বউকে যৌতুক ও নানা কারণে নির্যাতন করে। ফলে ছেলে কষ্ট পায়। কোনো কোনো মা বউয়ের মতকে প্রাধান্য দিলে ছেলেকে স্ত্রৈণ বলেন, আর মেয়ের মতকে প্রাধান্য দিলে জামাইকে মহান বলেন। ভারতে ও পাকিস্তানে কোনো ছেলে বা মেয়ে পরিবারের অমতে ভিন্ন ধর্ম, জাত বা স্টেটাসের কাউকে বিয়ে করতে চাইলে যদি পরিবার তাকে নিবৃত করতে না পারে, তাহলে পরিবারের সবাই মিলে পরিকল্পনা করে ঠাণ্ডা মাথায় তাকে, কখনো কখনো তার প্রেমিকা বা প্রেমিকসহ তাকে হত্যা করা হয়। একে "যড়হড়ঁৎ শরষষরহম" বা "পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যা" বলা হয়। সমাজ একে 'হত্যা' বা 'অপরাধ' মনে করে না। কি জঘন্য চিন্তা! নিজের সন্তানের সুখ, ভালোবাসা, এমন কি জীবনের চেয়ে পরিবারের সম্মান বেশি প্রিয়, সম্মান রক্ষা বেশি জরুরি।
আমাদের অভিভাবকরা মনে করেন, বিয়ের জন্য ছেলের শিক্ষা, স্টেটাস বা উপার্জনটাই মূখ্য। নিজের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের সমতূল্য বা বেশি হলেই মেয়ে সুখে থাকবে। মেয়ে তাকে পছন্দ করে কিনা, তার সাথে মানসিকতা মেলে কিনা - এসব দেখার দরকার নেই। অনেক ফালতু অজুহাতে ছেলেদেরকেও বাধ্য করা হয় অপছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে।
অভিভাবকরা মনে করেন, একবার বিয়ে হয়ে গেলেই ভালোবাসা আসবে হাওয়া থেকে, আল্লাহর রহমত থেকে। না এলেই বা ক্ষতি কি? একবার বাচ্চা হয়ে গেলে ভালো না বেসে যাবে কোথায়? তখন তো আর তার উপায় নেই। বাড়িতে কুকুর পুষলেও তো মায়া হয়, আর সেখানে স্বামী বা স্ত্রী!
অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের সুখের কথা ভেবেই বড় যত্ন করে তাদের অমতে বিয়ে দিয়ে তাদেরকে চরম অসুখী করেন। একটাই অমূল্য জীবনে পছন্দের মানুষের সাথে সুখে-দুখে জীবন কাটানোর আনন্দের তুলনায় স¤পদ, জাত, ধর্ম ইত্যাদি কোনো কিছুই যে গুরুত্বপূর্ণ নয়, একথা অভিভাবকদের কে বোঝাবে? অনেক বাবা-মা মেয়ের ও ছেলের বউয়ের পড়া বন্ধ করে দেন, চাকরি ছাড়ান। এসব মেয়েদের প্রতি নির্যাতন।
প্রতিটা শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম প্রতিষ্ঠান হল তার বাড়ি, তার পরিবার। এটিই তার আচরণ, মূল্যবোধ, ধারণা, বিশ্বাস, নৈতিকতা, সাহস, শিক্ষা.. ইত্যাদির ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এই ভিত্তিই তার সারাজীবনের আচরণের মূল চাবিকাঠি। এখান থেকে সে যা শিখবে, সারাজীবন সে তাইই করবে।
বাবা-মা হিসেবে সন্তানের সাথে কিভাবে গড়ে তুলবেন নিবিড় বন্ধন
বাবার কাছে তার সন্তান নির্ভরতা খোঁজে। বাবার কণ্ঠস্বর, চেহারা, শরীরের গন্ধ ইত্যাদি মিলিয়ে সবকিছু প্রতিটি সন্তানের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। সন্তানের পরিপূর্ণ বিকাশে যা গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
সন্তানের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার প্রথম আইডল হিসেবে কাজ করে তার বাবা। একটি শিশু প্রথম থেকেই তার বাবাকে সার্বক্ষণিক অনুসরণ করে। সন্তানদের দিকে বাবার একটু নজর, তাদের কথাবার্তায় বন্ধু হয়ে মিশে যাওয়া, তাদের কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়াÑ সন্তানের মনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। বাবার সাথে সুস¤পর্কের কারণে সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ঘটে খুবই দ্রুত ও অনেক সুদৃঢ়ভাবে।
বাবা হিসেবে সন্তানের সাথে সুদৃঢ়, সুস¤পর্ক গড়ে তুলতে একজন বাবার কিছু ভূমিকা রয়েছে। এমনই কিছু পদ্ধতি বা উপায় স¤পর্কে বলবো, যা সন্তানের সাথে বাবার একটি নিবিড় স¤পর্ক গড়ে তুলতে সহজ করে।
সন্তানের পাশে থাকুন সবসময়:
আপনার সন্তানের পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। সে হয়তো গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার বাবার জন্য। বাবাকে পরীক্ষার রেজাল্ট দেখিয়ে, তবেই সে ঘুমাতে যাবে। এ সময় বাবা হিসেবে উৎসাহ বা প্রশংসাসূচক বাক্য সন্তানকে পরবর্তী কাজটি আরো ভালো ভাবে করতে উৎসাহ দেবে।
ছেলে আর মেয়েতে তফাৎ করবেন না:
ছেলে বা মেয়ে যে-ই হোক না কেন, একজন বাবার প্রধান দায়িত্বই হলো উভয়ের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি রাখা বা উভয়কেই সমান চোখে দেখা। কোনো অবস্থাতেই ছেলে বা মেয়ের ভেদাভেদ করা উচিত নয়। মেয়ে সন্তান হলে মা দেখবে, ছেলে সন্তান হলে বাবা দেখবেÑ এমন ধ্যান-ধারণা কিছুতেই রাখা উচিত নয়। মেয়ে সন্তান হলেও তার সাথে বন্ধন দৃঢ়ভাবেই তৈরি করতে হবে বাবার।
শিশুকে উৎসাহ দিন:
সন্তানকে সাথে নিয়ে যদি আপনি একটি ভালো কাজ করেন, এই কাজটি আপনার সন্তানকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে তুলবে নিঃসন্দেহে। কারণ শিশুবেলায় সন্তান প্রতিনিয়ত তার বাবাকে অনুসরণ করতে থাকে। বাবার ভালো বা মন্দ কাজ, তার কথাবার্তা, চলাফেরা সে অনুসরণ করে। তাই সন্তানের সামনে এমন কোনো কাজ করা উচিৎ নয় যা আপনার তার মনে পরবর্তীতে খারাপ প্রভাব ফেলবে।
শিশুর যত্নে মনযোগী হোন :
পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, পরিবার পরিজন, সমাজ শিশুর মননে বেশ প্রভাব বিস্তার করে। শিশুরা শরীরের ¯পর্শ খুব সহজেই অনুভব করতে পারে। শিশুকে জড়িয়ে রাখা, মাঝে মাঝে ঘুম পাড়ানো ইত্যাদি ছোট ছোট নিত্যদিনের কিছু স্বাভাবিক কাজই বাবা হিসেবে শিশুর সাথে বন্ধন খুব সহজেই তৈরি করে দেয়।
সন্তানের প্রতি সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখান:
প্রকৃতির নিয়মে শিশু একসময় বাবার কাছাকাছি হয়। সন্তানের বেড়ে ওঠা, বাবার সঙ্গ, বাবার পরামর্শ তার জীবনের ইতিবাচক গুণাবলিকে দৃঢ় করে। শিক্ষক, আত্মীয়, বন্ধুদের কাছ থেকে নেওয়া পরামর্শও কাজে লাগে, কিন্তু এ সময় সন্তানের প্রতি বাবার দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হলে সন্তান হতোদ্যম হয়ে পড়ে। শিশুরা যেন নিজের সব কথা বাবার সাথে শেয়ার করতে পারে এমন স¤পর্ক গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন একজন বাবার।
সন্তানকে সময় দিন:
শিশুর পছন্দমতো খাবার বা খেলনা কিনে দেওয়াই বাবার একমাত্র কর্তব্য নয়। শিশুদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সময় বাবার অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। বাচ্চার খেলার সঙ্গী হওয়া, তার সাথে অলস দুপুর কাটানো, অফিস থেকে ফিরে এসে প্রথমেই বাচ্চার খবর নেয়া, তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এসব কিছুই শিশুর গড়ে ওঠার পিছনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বকা-ঝকা নয়, শিশুদেরকে আনন্দের মাঝে রাখুন:
বাচ্চা মানুষ, ভুল তো করবেই। তাই বলে বেশি বকা-ঝকা করতে যাবেন না। কোনো দোষ করে ফেললে তাকে ভালো করে বুঝিয়ে বলুন। তার ভুলের কারণে কী কী খারাপ হয়েছে বা হতে পারে তা বোঝানোর চেষ্টা করবেন। ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল আর না করে সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলুন। বিনা কারণে সন্তানকে ধমকানো বা শারীরিক নির্যাতন কোনো অবস্থাতেই ঠিক নয়। শিশুর কোমল মনে এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তাই অকারণে এসব ব্যাপারে মেজাজ খারাপ করা একদমই ঠিক নয়।
সন্তানের পড়াশোনা, খেলাধুলায় উৎসাহ দেয়া:
শিশুর পড়াশোনা ও খেলাধুলায় সবসময় উৎসাহ দিতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে, পড়ার সময় পড়া আর খেলার সময় খেলা। শুধু পড়াশোনার দিকে নজর দিলেই বাবার চলবে না। খেলাধুলাতে শিশুকে উৎসাহ দিতে হবে। কারণ খেলাধুলোর মধ্য দিয়েই শিশু শিখতে পারবে কিভাবে দলকে নেতৃত্ব দিতে হয়, নিয়মানুবর্তিতা শিখতে হয়। অন্যকে সম্মান দেয়া, জয় বা পরাজয় মেনে নেয়া, বিরুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা এসব কিছুই একটা শিশু খেলার মাঠ থেকে ভালোভাবে শিখে নেয়।
শিশুর মননের পরিচর্যা করুন:
কাজেই একজন বাবার দায়িত্ব হলো সন্তানকে খেলাধুলোতে অনুপ্রেরণা দেয়ার, পাশাপাশি শিশুর মনোজগতে বিষয়গুলোকে আত্মস্থ করতে শেখানো। এ ছাড়াও বাবার উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুর কিভাবে মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানো যায় তার খেয়াল রাখা। শিশুর যেকোনো পর্যায়ের সাফল্যে বাবার প্রশংসা করতে হবে। শিশুদের মধ্যে প্রথম থেকেই প্রতিযোগিতামূলক আচরণ তৈরি করবেন না।
সন্তানের উৎসাহের বিষয়ে সাথে থাকুন:
শিশুদের কোনো কাজে বাধা দেওয়া উচিত নয়। সন্তানের কি করতে ইচ্ছে হয় সেটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করার উচিত। কাজটি যদি যথাযথ বলে মনে না হয়, তাহলে সন্তানকে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। সন্তান যেন বাবা-মায়ের আড়ালে কিছু করার চেষ্টা না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। “বাবাকে বললেই বাবা নিষেধ করবে” এমন চিন্তা-ভাবনা যেন বাচ্চারা পোষণ না করে সে জন্য বাবাদের অনেক বেশি সচেষ্ট হতে হবে।
সন্তানের আগ্রহকে গুরুত্ব দিন:
একজন বাবা হিসেবে নিজের জীবনের অতৃপ্তি কোনোভাবেই শিশুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিশুর ওপর চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়। প্রতিটি বাচ্চারই নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা থাকে, এর প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। বাবাকে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে এবং অনেক উদার হতে হবে। নিজে কী চাই সেটা না দেখে বাচ্চা কী হতে চায়, কী করতে চায় সেই দিকটিই ভালভাবে খেয়াল রাখতে পারলে শিশুরা বাবার কাছে খুব সহজেই তাদের ইচ্ছে আর সুপ্ত প্রতিভাগুলো মেলে ধরতে পারবে।
স্কুলের ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ:
আপনি কী জানেন ক্লাস ফোরে ওঠার আগ পর্যন্ত জাপানী শিশুদের স্কুলে কেনো পরীক্ষা দিতে হয় না? প্রথম ৩ বছরে তাদের শেখানো হয় বড়দের সম্মান করা এবং ভালো চরিত্র গড়ে ওঠার অনুশীলন। তারা নৈতিকতা ও উদারতার পরীক্ষা দেয়, যা পরবর্তীতে তাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসাবে বেড়ে উঠতে ভিত্তি তৈরি করে! জাপানে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় আপনি দেখবেন, স্কুলশিক্ষিকা ছোট শিশুদের নিয়ে দল বেঁধে রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করে চলেছেন।
যদি আপনি কোনো জাপানী নাগরিককে সার্জিকেল মাস্ক পরে ঘুরতে দেখেন তাহলে মনে করবেন না যে, তিনি নিজেকে দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য এটা পরেছেন। আসলে তিনি নিজে অসুস্থ এবং তার কাছ থেকে এই সংক্রামক ভাইরাস যেন অন্যদের মধ্যে না ছড়ায় সে জন্য তিনি এটা পরেছেন। জাপানে কেনো মোটা মানুষ দেখা যায় না। মোটা মেয়ে তো প্রশ্নই আসে না। এর কারণ সেখানে কর্মক্ষেত্রে মোটাদের নিয়োগ দেয়া হয় না। মোটাদের বাতিল হিসাবে হেয় করা হয়। জাপানীরা প্রচুর হাঁটেন। বুড়ো-বুড়িরাও প্রতিদিন সাধ্যমত শারিরীক কসরত করেন। আর জাপানীদের খাদ্য তালিকায় থাকে মাপা দুকাপ ভাত আর বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ। ফলাফল তারা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘায়ু মানুষ।
জাপানে যদি কেউ পথ হারিয়ে ফেলেন তাহলে তারা হাত দিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন না। এর পরিবর্তে তারা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মানচিত্র এঁকে দেবেন এবং প্রয়োজনে নিজে নিয়ে যাবেন। জাপানীদের মধ্যে ঝগড়া বা রাগে উচ্চস্বরে কথা বলার দৃশ্য দেখা যায় না। আর কাউকে ঠকানো বা প্রতারণা তো প্রশ্নই আসে না। ভুলক্রমে যদি কোন মিসিং হয়, তার সংশোধন করাকে তারা সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেন।
সূচিপত্র
১) ছোটদের সাথে আমাদের আচরণ ২) পরিবার ও সন্তান, সুপার পাওয়ার যেভাবে তৈরি হয়, ৩) দীর্ঘস্থায়ী ভয়ের উৎপত্তির মূলে শৈশবকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব , ৪) সন্তানের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বাড়ানো, ৫) আপনার শিশুটি ঘুমুক শান্তিতে এবং নির্ভরতায় , ৬) কিছু অব্যর্থ টিপস, যা আপনার শিশুকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে, ৭) শিশুকে কিভাবে বড় করবেন, ৮) বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে কী করবেন? ৯) বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্যতম পথ, দৌড়, ১০) বাচ্চাকে কখনো আড়ালে লুকিয়ে খেতে দেবেন না, ১১) পিটার সিংগারের দর্শন, ১২) দুষ্টু শিশুরা তাড়াতাড়ি শেখে, ১৩) সন্তানকে যতই শাস্তি দেবেন ততই সে অসামাজিক হবে, ১৪) বাবা-মাই সন্তানকে নির্যাতন করেন সবচেয়ে বেশি , ১৫) সন্তানের সাথে কিভাবে গড়ে তুলবেন নিবিড় বন্ধন, ১৬) যে ১১টি কথা শিশুকে কখনোই বলবেন না!, ১৭) শিশুকে গল্প শোনান প্রতিদিন, ১৮) সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ১০টি কৌশল, ১৯) সৃজনশীলতা হচ্ছে নতুন কিছু করার যোগ্যতা, ২০) যারা মুখস্থ করতে পারেন না, ২১) তারা মেধাবী, মেধাবী হওয়ার উপায়,
২২) কথা ও ভাষা, ২৩) এলিভেটর পিচ, ২৪) সুন্দর করে কথা বলে সমস্যা জয়ের কৌশল, ২৫) ফোনে কথা বলার আদবকেতা, ২৬) ১২টি কর্ম বিধান, ২৭) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২৮) আলতু-ফালতু কাজে সময় অপচয় করে স্বপ্ন পূরণের কল্পনা, ২৯) স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ৩০) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর জীবন থেকে শিক্ষা, ৩১) অভিজ্ঞতা ও অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ, ৩২) বর্তমানকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিন, ৩৩) ২৪ ঘণ্টা কেউ সুখী হয় না, ৩৪) কিছু অভ্যাস যা আপনাকে আরও সুখী করবে , ৩৫) আপনার অবয়ব , ৩৬) সফলতার 25টি হট কৌশল-1, ৩৭) সাফল্যের 25টি হট কৌশল-2, ৩৮) সফলতার 55 সূত্র, ৩৯) কিভাবে নিজেকে নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে, ৪০) সময় ব্যবস্থাপনা, ৪১) সময় ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপ, ৪২) সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপায়গুলো, ৪৩) সাফল্য, ড. কোভের ইমোশনাল একাউন্ট কনসেপ্ট, ৪৪) সবচে বড় ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৫) আপনার ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৬) বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ বর্জিত কর্মফল বিপজ্জনক, ৪৭) অন্যদের দিয়ে আপনার কাজ করান কিন্তু সম্মান আপনি অর্জন করুন, ৪৮) অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক দরকার হলে টোপ দিন, ৪৯) অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন, ৫০) লোককে আপনার ওপর নির্ভরশীল করুন , ৫১) নেওয়ার পূর্বে দেওয়া অন্য বক্তির স্বার্থ বুঝুন, ৫২) শত্রুকে খাটো করে দেখবেন না, ৫৩) নিজেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ নির্মাণ করবেন না, ৫৪) কারোর পক্ষ অবলম্বন করে বসে থাকবেন না, ৫৫) আপনার শক্তিসমূহকে সংহত করুন, ৫৫) নিজের ভুলগুলোকে লুকিয়ে রাখুন, ৫৬) শুধু সাহসের জোরে নয়, পরিণতিও বিবেচনায় রাখুন, ৫৭) প্রতিটি মানুষের গোপন ইচ্ছা খুঁজে বের করুন, ৫৮) রাগ বিপজ্জনক ও অভদ্রতা, ৫৯) কোনো দলকে ধরার জন্য দলপতিকে প্রথমে ধরুন, ৬০) নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন, ৬০) পরিবেশ সামলাতে শিখুন, ৬১) প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন, ৬২) আপনার সামাজিক পরিবেশ ‘প্রথম শ্রেণি’র করে তোলার উপায়, ৬৩) ‘সস্তার তিন অবস্থা’ প্রধম শ্রেণিভুক্ত হয়ে উঠুন , ৬৪) যত বেশি বন্ধুত্ব তত বেশি উপরে ওঠার সম্ভাবনা, ৬৫) সাহস করে কাজটা শুরু করুন, ৬৬) সাফল্য মানে বারবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করা, ৬৭) ১- ১০ ভাল অভ্যাস, ১১- ২০ ভাল অভ্যাস, ২১- ৩০ ভাল অভ্যাস, ৩১- ৪০ ভাল অভ্যাস, ৪১- ৫০ ভাল অভ্যাস, ৫১- ৬০ ভাল অভ্যাস, ৬১- ৭০ ভাল অভ্যাস, ৭১- ৮০ ভাল অভ্যাস, ৮১- ৯০ ভাল অভ্যাস, ৯১- ১০২ ভাল অভ্যাস, ৬৮) জিরো থেকে হিরো, ৬৯) সৃজনশীলদের সফলতার ৭ সূত্র, ৬৯) জীবনে পরিবর্তন আনুন ৪৮টি উপায়ে, ৭০) জীবন-যাপন, ৭১) জাপানী ও চিন লাইফ স্টাইল , ৭২) ৩০টি দর্শন, যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে, ৭৩) সম্পর্ক তৈরি করা, বন্ধুত্ব, ৭৪) যে আচরণগুলো মানুষের মনের কথা জানাবে, ৭৫) কথা বলার সূত্র, ৭৬) আপনি ও আপনার ব্যবহার, ৭৭) নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, ৭৮) কথা বলার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, ৭৯) কিভাবে নিজেকে বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করবেন, ৮০) কিভাবে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলবেন, ৮১) কথা বলার ৫টি বিস্ময়কর টেকনিক, ৮২) কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করবেন? ৮৩) অকারণে সময় নষ্ট? মেল রবিনের ৫ সেকেন্ড রুল, ৮৪) কর্পোরেট আদবকেতা, ৮৫) ৩৫টি কর্পোরেট কালচার ও আপনার করণীয়, ৮৬) যা না জানলে লজ্জায় পড়তে হয় , ৮৭) কাজের সময়ে যে বিষয়গুলো একেবারেই করা উচিৎ না , ৮৮) ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে ছুড়ে ফেলুন ৭টি দোষ, ৮৯) আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে বা স্বপ্ন,
৯০) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, কাজ কিভাবে করবেন? ৯১) আত্মশক্তিতে বলিয়ান হতে, ৯২) একনাগাড়ে চলবেন না, ৯৩) মারফিস ’ল , কাজের রোডম্যাপ তেরি , ৯৪) জব স্যাটিসফেকশন, ৯৫) কাজে সফলতার সূত্রাবলী, ৯৬) যেভাবে জীবনযাপন করবেন, ৯৭) পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা যে কাজগুলো কখনোই করেন না, ৯৮) জীবনে দক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়, ৯৯) সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও কাজ করার উপায় , ১০০) সফলতা ও সার্থকতা, ১০১) জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করা, ১০২) সফলতার কিছু পদ্ধতি, ১০৩) সফল হতে চাইলে যে ৮ টি জিনিস বাদ দেয়া প্রয়োজন, ১০৪) সফল ব্যক্তিরা যে ১০টি কাজ কখনোই করেন না, ১০৫) সর্বদা স্মরণ রাখুন, ১০৬) চিন্তাশক্তি , ১০৭) স্বাধীনতা, ১০৮) জ্ঞান অর্জন খাদ্য গ্রহণের মতো , ১০৯) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে চেষ্টা করলে কখনোই বিফল হবেন না, ১১০) বুদ্ধির সংজ্ঞা হলো, প্রতিটি কাজ ভেবে-চিন্তে করা, ১১১) ব্যক্তিত্ব, চেহারা ও ব্যক্তিত্ব , ১১২) সেলডন-এর গবেষণা , ১১৩) ব্যক্তিত্ব ও উচ্চারণ, ১১৪) পোশাক ও ব্যক্তিত্ব, ১১৫) প্রথম দেখায় ব্যক্তিত্বের ছাপ, ১১৬) বিচ্ছিন্নতা ব্যক্তিত্বের বড় শত্রু, ১১৭) ব্যক্তিত্বে জিনগত প্রভাব, ১১৮) অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব, ১১৯) মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের ১০ বৈশিষ্ট্য, ১২০) ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার জন্যে ১০ নির্দেশনা, ১২১) কিভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবেন? , ১২২) নিজেকে স্মার্ট করতে ৫টি কৌশল, ১২৩) আকর্ষণীয় মানুষ হবার ৬টি পরামর্শ, ১২৪) আত্মশুদ্ধি , ১২৫) হতাশ হবেন না, ১২৬) পাছে লোকে কিছু বলে, ১২৭) সুখ-শান্তি উন্নতি , ১২৮) চাহিদা, ১২৯) খাদ্য, ঘুম ও বিশ্রাম, ১৩০) স্বাস্থ্য ভাল রাখার নিয়ম, ১৩১) টেনশন দূর করতে হলে, ১৩২) শুধু নিজের কথা নয়, অন্যের কথাও ভাবুন, ১৩৩) চাহিদা যত বেশি সুখ তত কম, ১৩৪) সুখী জীবনের জন্য ১৮ টি টিপস, ১৩৫) আত্মবিশ্বাস, আত্ম বিশ্বাসের শক্তি, ১৩৬) অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যর্থ মানুষ, ১৩৭) দি সেভেন হ্যাবিট অফ হাইলি এ্যা ফেক্টিভ পিপল, ১৩৮) সামাজিক আয়না, ১৩৯) প্রোএ্যাক্টিভিটি, ১৪০) সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স, ১৪১) শুরু করুন আজই, ১৪২) আপনার কেন্দ্রবিন্দু কোনটি?, ১৪৩) মাথার দুটি অংশই ব্যবহার করুন, ১৪৪) সময়ের ব্যবস্থাপনা, ১৪৫) ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা, ১৪৬) গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি, ১৪৭) পরনির্ভরশীল জীবন, ১৪৮) ছয়টি উপায়ে অন্য মানুষের সাথে আদান-প্রদান, ১৪৯) অধ্যয়ন, ১৫০) পড়াশোনায় ১২ কার্যকর কৌশল, ১৫১) ঘুম থেকে উঠতে ১০-৩-২-১-০ ফর্মুলা, ১৫২) আয়-ব্যয়- টাকা, ১৫৩) অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে কারণে অর্থহীন, ১৫৪) খরচের লাগাম টেনে ধরতে.. ১৫৫) নারী, ১৫৬) সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে কিছু “মিথ্যা” বলা জরুরী , ১৫৭) ছেলেদের কোন জিনিস দেখে মেয়েরা? , ১৫৮) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস, ১৫৯) ভুঁড়ি ঠেকাতে ৫টি নিয়ম, ১৬০) যেসব কারণে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া উচতি , ১৬১) বিয়ে-সংসার, ১৬২) সফল বিয়ের তিনটি মন্ত্র, ১৬৩) সুখী হবার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র, ১৬৪) কিছু গল্প, ১৬৫) ভালোবাসাহীন সম্পর্ক, ১৬৬) কেন স্পর্শের প্রয়োজন হয় প্রতিদিন, ১৬৭) যে কারণে একা থাকাই আপনার জন্য ভালো, ১৬৮) ব্যবসা, ১৬৯) বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল, ১৭০) যে ৭টা ব্যাপার বিজনেসে করবেন না, ১৭১) স্বাস্থ্য, ১৭২) দুগ্ধজাত খাবারে পুরুষের বন্ধ্যত্ব, ১৭৩) একাকিত্বের বিপদ, ১৭৪) কর্মক্ষম ও প্রফুল্ল রাখতে, ১৭৫) মন ভালো করার উপায়, ১৭৬) যৌন স্বাস্থ্য, ১৭৭) পুরুষদের কেজেল, ১৭৮) মহিলাদের কেজেল, ১৭৯) দক্ষতা , ১৮০) আলসেমি দূর করার সহজ কিছু উপায়, ১৮১) কীভাবে সামলাবেন নিন্দুকদের ?, ১৮২) সুখী হতে চাইলে যা কখনোই করবেন না, ১৮৩) সব ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা রাখতে ৫টি টিপস, ১৮৪) বয়সের ভারে বৃদ্ধ না হয়ে বরং কাজের ভারে যুবক থাকার চেষ্টা করো, ১৮৫) নিজেকে কাজের সঙ্গে সম্পক্ত করার তিনটে স্টেপ, ১৮৬) জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে দ্রুত পদ্ধতিগুলো, ১৮৭) প্রতিদান পাওয়ার আশায় কাজ করবেন না, ১৮৮) প্রেম একটি মানসিক রোগ, ১৮৯) সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর নিজেকে যেভাবে সামলাবে, ১৯০) সময় সবকিছু বদলে দেয়, ১৯১) সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কমন পাঁচটি ভুল, ১৯২) আত্মবিশ্বাস/মনোবল, ১৯৩) প্যারাসুট অফ হ্যাপিনেস, ১৯৪) বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে, ১৯৫) আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের লক্ষণ, ১৯৬) বাড়াও আত্মবিশ্বাস, বাড়বে সফলতা, ১৯৭) প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার টিপস, ১৯৮) কিভাবে ধরে রাখবে দু'জনের সম্পর্ক, ১৯৯) কিভাবে বুঝবে সম্পর্ক শেষ করতে হবে, ২০০) সম্পর্ক যখন প্রেম-ভালোবাসার, ২০১) যেসব বিষয়ের উপর স¤পর্ক গড়ে ওঠে, ২০২) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২০৩) সম্পর্কের গুণগত মান বাড়বে কিভাবে, ২০৪) মস্তিস্ক ঠিক রাখার ৩০ উপায়, ২০৫) মানুষের আচরণের পেছনে একটা কারণ থাকে, ২০৬) কোনো কাজে নিজেকে সম্পক্ত না করেই আমরা নিজ ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাই ২০৭) স্রোতের বিপরীতে চিন্তা করুন, ২০৮) আপনার টাইমজোনে সময় আসবেই, ২০৯) চাইল্ডহুড অ্যামনেসিয়া এবং আমাদের শিক্ষণীয়,