স¤পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর নিজেকে যেভাবে সামলাবে
স¤পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়: মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়। বদলাবে তোমরাও। দুজনের পরিবর্তনকে দুজন মেনে নিতে না পারলে স¤পর্কে বিচ্ছেদ আসবে স্বভাবতই। তবে তার মানে এই নয় যে, জীবন এখানেই শেষ। কষ্ট পাবে ঠিক, তবে ভেঙে পড়লে চলবে না। মনে রাখতে হবে, যা হয় ভালোর জন্যই হয়।
কেউ চান না তাদের মধুর স¤পর্কটি ভেঙ্গে যাক। কিন্তু না চাইলেও অনেক সময় নানা কারণে ভেঙ্গে যায় স¤পর্ক। স¤পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর অনেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। একা হয়ে যান। অনেকে স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স¤পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর নিজেকে সামলে নিতে বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন নানা মতামত। একনজরে দেখে নাও:
পরিস্থিতি মেনে নাও
স¤পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে কারো সঙ্গে স¤পর্ক থাকার পর হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে পারে না অনেকে। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হলে সকল কষ্ট মেনে নিতে হবে। যত কষ্ট হোক মেনে নাও।
নিজেকে সময় দাও
নিজেকে প্রচুর সময় দাও। নিজের শরীর ও মনের যত্ন নাও। কি করলে নিজে সুখে থাকবে তা করো। বন্ধু ও পরিবারের লোকজনদের সময় দাও। খেলাধুলা করো। নিজের প্রতিভার চর্চা করো বা নতুন কিছু করার চেষ্টা করো। গিটার শিখো অথবা ছবি তুলতে বেরিয়ে পড়ো। এক কথায় জীবনে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করো।
অন্যের সাহায্য নিতে পিছুপা হবে না
অনেক সময় পার¯পরিক সমঝোতার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স¤পর্কের বিচ্ছেদ হয় না। যে কোনো একপক্ষ হুট করে এসে স¤পর্কের ইতি টানে। তোমার সঙ্গী তোমার সঙ্গে স¤পর্কচ্ছেদ করেছে বলে ভাববে না তুমি আর কারো ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না। নিজে কি ভুল করেছো সেটা না দেখে কি করলে নিজে অনেক ভালো থাকবে তা করো। বিশ্বস্ত কাছের লোকদের সঙ্গে তোমার অনুভূতি শেয়ার করো।
সময় সবকিছু বদলে দেয়
সময় সবকিছু বদলে দেয়। স¤পর্ক শুরুর সময় তোমার পছন্দের মানুষটিকে যেমন দেখেছিলে, সে যে সবসময় তেমনই থাকবে তা ভাবা বন্ধ করো। সময় ও পরিস্থিতির কারণে অনেক কিছু বদলে যায়। তোমার স¤পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার সময় যে কষ্ট পেয়েছিলে ,কয়েকদিন পর সে পরিমাণ আর পাবে না। এর কয়েকমাস পর দেখবে তোমার কষ্ট আরো কমবে। তোমার সঙ্গীর কথা অবশ্যই মনে পড়বে। তার সঙ্গে তোমার ভালো মুহূর্তগুলোর কথা মনে করলে ভালো লাগবে। খুব যত্নে গড়া প্রেম ভেঙে গেছে? মন একেবারেই খারাপ। কাজ, খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকতে ইচ্ছা করছে? স¤পর্কে ফিরতে ইচ্ছে করছে, আবার মাঝেমাঝে তিক্ততা ভর করছে। স¤পর্ক ভাঙলে এমন সমস্যা তো হবেই। কিন্তু সবকিছু চুকিয়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না, জীবনকে নতুন করে সাজাও। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও দিব্যি মানিয়ে নাও। কিভাবে উতরে উঠতে হবে এই অবস্থা থেকে, দেখে নাও একবারÑ
১. স¤পর্ক ভাঙলে সবাই শরীর মন স¤পর্কে উদাসীন হয়ে যায়, আমরা সবসময় সেটাই ভাবি। বাস্তব কিন্তু আলাদা। দিন বদলেছে, এখনকার দিনে মানুষ স¤পর্ক ভাঙার পর তারা নিজেদের শরীরের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হচ্ছেন। খাওয়া-দাওয়া বেড়ে যাচ্ছে, ওজনও বাড়ছে। অর্থাৎ ডিপ্রেশন বা মনখারাপ খুব একটা কাজ করছে না। কাজেই এগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে নিজেকে সুন্দর রাখার দিকে মনোযোগ দাও।
২. স¤পর্ক ভাঙার পর জীবনে একটা গভীর শূন্যতাবোধ তৈরি হয়, এ কথা সত্য। কিন্তু সেই শূন্যতায় ডুবে যাওয়ার কোনো মানে নেই। তখন একটা দীর্ঘসময় ধরে মনের মধ্যে ঝড় চলতে থাকে। তা না করে মনের ভাঙা টুকরোগুলোকে নতুন করে গুছিয়ে নাও। যা কিছু মনে আসে তা একটা খাতায় লিখে রাখো। এতে অনেকটাই হালকা লাগবে। মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
৩. আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একটা ডিফেন্স মেকানিজম রয়েছে। এটা আমাদের সব ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে উঠে জীবনের মূলস্রোতে ফেরাতে পারে। আমাদের মস্তিষ্কের গঠন এমনই, প্রেম ভেঙে গেলেও মানিয়ে নিয়ে স্বাভাবিকতায় সে ফিরে আসে। তাই ঘাবড়াবে না, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটিয়ে নতুন জীবনের পথে তোমাকে ফিরতে হবে।
৪. তোমার জীবনটা তো শুধু একজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সে চলে গেছে বলে দুনিয়াতে সব চলে গেছে নাকি? তুমি হতাশা থেকে বের হয়ে জেগে উঠো। পৃথিবী আর মানুষগুলোকে নতুনভাবে দেখো। আশেপাশের সবকিছুকে নিজের জীবনের শক্তি বলে ভাবতে শিখো। দেখবে তুমি ভালো আছো।
৫. প্রেম আর স¤পর্ক বিষয়ে একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। কারো মতে প্রেম একবারই আসে, কেউ ভাবে প্রেম বারবার আসে, কারো কাছে প্রেমই ভালো না। এই ভাবনা ধরে বসে না থেকে তুমি কি ভাবো সেটা জরুরি। স¤পর্ক শেষ মানে তুমি শেষ নওÑ এটাই তোমার ধারণায় রাখো। তুমি এরপর স¤পর্কে জড়াবে, না একাই থাকবে, সেটা পরেই ভাববে।
৬. অনেকেই দুঃখবিলাসে মেতে থাকে। দুঃখের গান, দুঃখের সিনেমা, মেসেজ পড়ে মনকে আরও ভারাক্রান্ত করে ফেলেন। এতে নিজের চারপাশে নেতিবাচকতা তৈরি হবে। তোমার বন্ধু, আত্মীয়রাও বিরক্ত হবে তোমার প্রতি। পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে চাইলে দুঃখবিলাস বাদ দাও।
৭. তোমার ব্যস্ততা প্রয়োজন এসময়। যাতে মানুষটির কথা বারবার মনের কোণে উঁকি না দেয়। বিশেষ মুহূর্ত, সুখের স্মৃতিগুলো ঝেড়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে মনকে তোমারই ভুলিয়ে রাখতে হবে। তোমার স্বাভাবিক কাজগুলোতে মন দাও। পছন্দের কাজগুলো করো। সবচেয়ে বড় কথা নিজেকে সময় দাও, নিজেকে ভালোবাসো।
৮. একা না থাকার চেষ্টা করবে। সঙ্গী নেই বলে আড্ডা, পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকবে না। এতে সমস্যা আরও বাড়বে। একা বসে দুঃখ করলে অবসাদ আরও বেড়ে যাবে। সবার সঙ্গে সময় কাটাও।
৯. মনে করবে যা হয়েছে তা ভালোর জন্যই হয়েছে। যে যাওয়ার সে তো চলেই গেছে। হয়ত স¤পর্কটা টিকে থাকার মতো ছিল না। কোনো না কোনো জটিলতা ছিল বলেই তোমার বিচ্ছেদটা হয়েছে। এই জটিলতা বাড়তে থাকলে স¤পর্ক আরও খারাপের দিকেই যেত। তাই মিটে গেছে, ভালো হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক স¤পর্ক শক্তিশালী করার টিপস
১. গ্রাহকদের বেশি কিছু দিতে হবে এটা মেনে নাও
তোমার কাছে সবকিছুর উত্তর থাকবে না এটা স্বাভাবিক। হয়ত তোমার বিজনেসের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও এর আসল সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
২. নিজের সীমাবদ্ধতা জানো এবং আলোচনা করাকে প্রাধান্য দাও
তোমার টিমের কর্মীদেরকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে উৎসাহিত করো এবং নিজেদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন নতুন উত্তর খোঁজার জন্য তাগাদা দাও।
৩. নতুন আইডিয়া ও অনুপ্রেরণার জন্য সময় দাও
বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সফর করতে তোমার কর্মচারী ও সহকর্মীদের অনুরোধ করো। এরপর সেসব প্রতিষ্ঠানের লোকদের সাথে স¤পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহিত করো, তারা হয়ত এমন কিছু জানে যা তুমি জানো না।
৪. তোমার বিজনেস উন্নত করতে প্রতিষ্ঠানের বাইরের মেধাকে কাজে লাগাও
গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবর জানতে বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়ে দেখো সবাই কি নিয়ে আগ্রহী, তোমার কাজের বাইরে কোনো বিষয় নিয়ে লেকচারে যোগ দাও এবং নতুন নতুন ইভেন্টে নিয়ে নতুন নতুন সৃজনশীল বিষয়ের স¤পর্কে জান।
৫. অন্য পেশার নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হও
তোমার প্রতিষ্ঠানে অন্য পেশার লোকদেরকে আমন্ত্রণ জানাও এবং তাদের কাছ থেকে তোমার প্রতিষ্ঠান স¤পর্কে জান। এরপর তোমাকে এবং তোমার কর্মচারীদের চিন্তা করতে বলো কিভাবে অন্যদের চিন্তা থেকে তোমারা নতুন কিছু শিখতে পারো এবং নতুনভাবে চিন্তা করতে পারো।
৬. ভাগ্য মেনে নাও এবং যেকোন স¤পর্কের সম্ভাবনার উপর ভরসা রাখো
নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায় এমন স্থানে নিজেকে নিয়ে যাও এবং নতুন মানুষদের সাথে কথা বলো। পথ জানা না থাকলে অচেনা কাউকে জিজ্ঞেস করো। রাস্তায় কারো সাহায্যের দরকার হলে এগিয়ে যাও। নিজেই হ্যালো বলে তার সাথে কথা বলা শুরু করো।
৭. তোমার সহকর্মীরা যাতে একে অপরের সাথে সময় কাটিয়ে ভালো স¤পর্ক গড়ে তুলতে পারে সেদিকে নজর দাও।
এই প্রক্রিয়াতে তুমি আলাপ-আলোচনার শক্তিশালী পরিবেশ গড়ে তুলবে, যা সবাইকে একসাথে সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
৩টি সেরা উপহার যা তুমি সবাইকে দিতে পারো
কর্পোরেট গ্রিটিং কার্ড ও গিফট দেওয়ার প্রচলন মোটামুটি সবখানেই আছে। এটি করা হয় যাতে ব্যবসার মার্কেটিং বিনিয়োগ থেকে একটি ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়। এসব কর্পোরেট গিফটে বিনিয়োগ করা ছাড়াও তুমি কিছু ছোটো ছোটো বিনিয়োগ করতে পারো, যা তুমি বছরের পর বছর ব্যবহার করতে পারবে। এসব বিনিয়োগের জন্য কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না এবং যারা এই বিনিয়োগ পাবে তাদের উপর এর একটি সুদূর প্রসারী প্রভাব বিরাজ করবে। তুমি নিঃস্বার্থভাবে যা করতে পারো তা হল:
তারিফ বা প্রশংসা করা
তুমি তোমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছো, এমন সময় তোমার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে তোমাকে বলল যে, সে তোমার কাজের নীতির ভক্ত এবং তার মতে তুমি প্রতিষ্ঠানে অনেক ভালো করতে পারবে। এই কথাটি তোমার কিন্তু সব সময় মনে দাগ কেটে থাকবে। তার সেই তারিফের ফলে তুমি কাজের জন্য প্রেরণা পাবে এবং হয়ত ভবিষ্যতে প্রমোশনও পেয়ে যেতে পারো। উপযুক্ত সময় ও স্থানে কোনো তারিফ করলে সেটার আমেজ সব সময়ই থেকে যায়।
সম্মান দেওয়া
অনেক বিনয়ী মানুষই আছে যারা নিজেরা যতটা সম্মান পেয়েছে তার থেকে অন্যদেরকে বেশি সম্মান দিতে পছন্দ করে। কোনো আইডিয়া বা অর্জন যদি তাদের হয়েও থাকে, তাদের দল বা অন্য কাউকেই তারা এর কৃতিত্ব দিয়ে থাকে। এটি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাস্বরূপ। প্রতিটি ভালো আইডিয়া বা স্ট্যাটেজিই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। পুরোপুরি প্রাপ্য না হলেও যে কাউকে তার কাজ বা অর্জনের জন্য কৃতিত্ব দাও এবং হয়ত তোমার ব্যবসার পরবর্তী বড় আইডিয়াটি তার মাথা থেকেই আসতে পারে।
সাহস দেওয়া
চাপের সময় মানুষ স্থিতিশীলতা খোঁজে। বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এছাড়াও অন্য আরো অনাকাংক্ষিত ঘটনা ঘটেই চলছে। এই সময়েই কিন্তু নেতাদেরকে সামনে এগিয়ে এসে অন্যদেরকে সাহস দিয়ে বলতে হবে যে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তোমার দেওয়া সাহসেই অন্যরা এগিয়ে যাবে এবং ভরসা পাবে, যা তাদের মনোবল দৃঢ় করে তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
স¤পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কমন পাঁচটি ভুল
শুভাকাক্ষির সংখ্যা বাড়াতে চাইলে নিচের ব্যাপারগুলো থেকে দূরে থাকো।
১। কিছু দেওয়ার আগেই পাওয়ার ইচ্ছা
যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য হল এমন কাউকে তোমার দলে টানা, যে তোমাকে ভবিষ্যতে সাহায্য করবে। তোমার কথা অন্যদের জানাবে। দীর্ঘ মেয়াদে কিছু পাওয়ার জন্যই এই স¤পর্ক তৈরি করতে হয়। মানুষের কাছ থেকে কিছু পাবার জন্য কিছু দিতে হয়। প্রথমে তোমাকেই দিতে হবে। যদি না দাও, তাহলে হয়ত বড় ভুল করছো। কিন্তু প্রথমে নিজে কি চাও তা বলতে যাবে না। আসলে তোমার নিজের প্রয়োজন কাউকে বলারই দরকার নাই। তোমার কি দরকার ভুলে গিয়ে তুমি কি দিতে পারবে সেদিকে মনোযোগ দাও। প্রাপ্তিটা এমনিতেই তোমার অজান্তে এসে যাবে।
সাহায্য করলে আসল স¤পর্ক আর যোগাযোগ তৈরি হবে। যদি নিজের লাভের জন্য বেশি ঘাটাঘাটি করো, তবে কোনো লাভজনক কিছু করতে পারবে না। দুই পক্ষের কারো জন্যই এটা ভালো হবে না। যদি মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে চাও, তবে মনে রাখবে অন্যের জন্যই তোমাকে কাজ করতে হবে।
২। অন্যরা নিজে থেকে তোমার প্রয়োজন বুঝবে
তুমি খুব বিপদে থাকতে পারো। হয়ত বড় কোনো কো¤পানির সাথে কাজ করলে তোমার ব্যবসা বেঁচে যাবে। এটা নিয়ে কারো মাথাব্যথা থাকবে না। কেউ চিন্তাও করবে না। এটা স¤পূর্ণই তোমার নিজের সমস্যা। কেউ তোমাকে সাহায্য করবে সেই আশায় থাকবে না। মানুষ তোমার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে পারে কিন্তু তোমার জন্য সে কাজ করতে বাধ্য নয়। সাহায্য পাওয়ার একমাত্র উপায় হল অন্যের জন্য কিছু করা। মানুষের খোঁজ নাও, তাদের কিসে সাহায্য লাগবে জেনে নাও। অন্যের জন্য কাজ করো, কেবলমাত্র তখনই তারা তোমাকে সাহায্য করবে।
৩। সবার সাথে খাতির করা
কিছু কিছু মানুষ নিজের কার্ড কোচিং সেন্টারের লিফলেটের মত করে বিলি করে। নেটওয়ার্ক তৈরি করতে এত সংখ্যায় কার্ড বিলানোর দরকার নাই। তুমি যাকে সাহায্য করতে পারবে এমন কাউকে খুঁজে বের করো। ভেবে দেখো সে তোমাকে ভবিষ্যতে সাহায্য করবে কিনা, এরপর নিজের মত কাজ করো। নিজে যাকে চাও তার সাথেই খাতির করো। আর লিস্ট ছোটো রাখো, কারণ অনেক মানুষের সাথে একই সঙ্গে ভালো স¤পর্ক রাখা সম্ভব নয়।
৪। যন্ত্রের উপর বেশি ভরসা করা
টুইটারের ফলোয়ার আর ফেইসবুক বন্ধু থাকা ভালো, যদি তাদের নিয়ে কিছু করতে পারো। তবে সম্ভাবনা আছে যে, তোমার টুইট আর ফেইসবুকের হোম পেইজ তোমার বন্ধুরা খুব কমই দেখে। আসলে এইসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ভরসা নেই। সবাই নিজের বাদ্য বাজাতে ব্যস্ত থাকে।
এইসব ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগের সূত্রপাত হতে পারে, কিন্তু যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য তোমাকে কাজ করতেই হবে। সহজে আর আটোম্যাটিক কোনো কিছু দিয়ে ফলপ্রসূ যোগাযোগ খুব বেশিদিন করতে পারবে না।
৫। উচ্চাকাঙ্খা
তুমি যদি অর্থনৈতিক সেবা প্রদান করো তবে, নাম করা ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ থাকলে খুবই ভালো অথবা ধরো তুমি ক¤িপউটারের যন্তাংশ বিক্রি করো তবে ইন্টেলের মালিকের সাথে যোগাযোগ থাকা যেমন ভালো তেমনি অসম্ভব। সবচেয়ে ভালো স¤পর্ক থাকে যখন দুই পক্ষেরই লাভ হয়। তুমি ইন্টেল বা নাম করা ব্যাংককে কিছুই দিতে পারবে না। তোমার উঁচু লেভেলে কানেকশন দরকার, কিন্তু দুই পক্ষের লাভ ছাড়া যোগাযোগ রক্ষা হবে না। তোমাকে যোগাযোগের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এমন কাউকে খুঁজ যাকে তুমি তোমার জ্ঞান, চিন্তা আর তোমার শুভাকাক্সিক্ষদের দিয়ে সাহায্য করতে পারবে।
আত্মবিশ্বাস/মনোবল
আত্মবিশ্বাস মানে হল নিজের যোগ্যতার উপর বিশ্বাস। পিথাগোরাস বলেছিলেন, ‘ যে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, সে কখনো স্বাধীন নয়’। তাহলে বলাই যায়, স্বাধীন হতে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। দার্শনিক কার্ল পপার বলেছেন-‘অল লাইফ ইজ প্রবলেম সলভিং’। জীবন মানেই সমস্যার সমাধান। জীবন মানেই চ্যালেঞ্জ। আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি মাত্রই সাহসী হয়ে থাকে, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। আর কর্মক্ষেত্রে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসটাই মূল অস্ত্র। অনেকে আত্মবিশ্বাস না থাকায় সুযোগ এলেও কাজে লাগাতে পারে না। ভালো চাকরি পেলেও কর্মস্থল পরিবর্তন করে না। মনোবল না থাকায় আগের অফিসেই পড়ে থাকে। এদের প্রমোশন হয় ধীরগতিতে। মনে রাখবে নিজের যোগ্যতার প্রতি যার আস্থা নেই, সে বেশি দূর যেতে পারে না। তারা সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। তাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিত্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করো। নিশ্চিত থাক আজ না হয় কাল তুমি সফল হবে-ই।
প্যারাসুট অফ হ্যাপিনেস:
দীর্ঘদিন ধরে চাকরির চেষ্টা করে যাচ্ছো, অথচ একটা ভালো অফারও পাচ্ছো না? হাতে চলার মতো একটা টাকাও নেই, সন্তানের ছোটখাটো কোনো শখ পূরণের সামর্থ্য নেই, জীবনসঙ্গী তার একার আয়ে আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না, থমকে গেছে সংসারের চাকা। অপেক্ষা করতে করতে যখন মনে হবে এই জীবন রেখে আর কি হবে, ঠিক তখনই একবার দেখে ফেল ‘পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস’ চলচ্চিত্রটি।
এই চলচ্চিত্রটিতে কঠিন জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক গ্যাব্রিয়েল মুচিনো। গৃহহীন এক সেলসম্যান তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ক্রিস্টোফার আর স্ত্রী লিন্ডাকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় কোনোমতে দিন কাটাচ্ছিল। প্রতি মাসে তার যে স্ক্যানার বিক্রি করার কথা ছিল, চুক্তিমতো তা বিক্রি করতে ব্যর্থ হয় সে। জমতে থাকে ট্যাক্স, বিলের পর বিল, বাড়িভাড়া, ছেলের লেখাপড়ার খরচ আর ডে কেয়ারের বেতন। কিন্তু একসময় সত্যি সত্যি মিলিয়নিয়র হন ক্রিস গার্ডেনার। টয়লেটে যার রাত কেটেছে, টাকার অভাবে যিনি স্ত্রীর সম্মান রাখতে পারেননি, সেই ক্রিস গার্ডেনার যেন বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি উদ্যোক্তার জীবনযুদ্ধের প্রতীক। যেভাবে তিনি পেশা পরিবর্তন করে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
আমাদের জীবন সবসময় একই স্রোতে চলে না। কখনো আসে সুখ, কখনো দুঃখ। কখনো বা এক ঝড় এসে আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু জীবনে চলার পথে আমাদের থেমে থাকলে চলে না। জীবনে যত দুঃখ-কষ্ট যাই আসুক না কেন, আমাদের সব কিছুর সাথে যুদ্ধ করেই এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এই যুদ্ধ করার জন্য আমাদের দরকার হয় অনুপ্রেরণার। অনুপ্রেরণা আমাদের জীবনের চলার পথের অন্যতম শক্তি। একটু উৎসাহ, একটু অনুপ্রেরণাই পারে ঝড়ে হারিয়ে মানুষকে আবার ঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে। সে শক্তি পায় নতুন কিছু করার। নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর। আমাদের মনে রাখতে হবে জীবনে আমাদের যত ঝড়-ঝঞ্ঝাটই আসুক না কেন আমাদের থেমে পড়া যাবে না।
বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে:
প্রচণ্ড ঝড়ে বনের উঁচু গাছগুলিই আক্রান্ত হয়। শিকড় বেরিয়ে মাটির উপর উঠে আসে শিখর। গাছের ফলগুলো ঝরে পড়ে সমগ্র বনের মাঝে! একটা মাত্র কঠিন ঝড় কেড়ে নেয় একটি গাছের সদা দণ্ডায়মান অস্তিত্ব! তবে তার এমন পতনে গাছটির সমাপ্তি ঘটে না। কিছুদিন পর গাছের গোড়া থেকে বেরিয়ে আসে নতুন কাণ্ড, নতুন লতাপাতা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফলগুলো পায় নবজীবনের অস্তিত্ব! ছোটো ছোটো নতুন গজানো গাছের চারা বনটাকে আবার ভরিয়ে তোলে। ধীরে ধীরে গাছগুলো বড় হয়...ফুল হয়...। আর এভাবেই একটি বৃহৎ গাছের ধ্বংস হাজারটা নতুন গাছের আগমনের বার্তা হয়ে আসে।
করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীকে একটা কাঁপুনি দিয়ে গেল। প্রকৃতির ধ্বংস লীলা প্রাণীদের একটা উপকার করে গেল। এরপর মানুষ ভাইরাস ও জীবাণুদের বিরুদ্ধে একটা কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এমন হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে যে কোনো ভাইরাস মানব শরীরে আক্রমণ করার কার্যকারিতা হারাবে, রোগ প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে। কারণ প্রয়োজনই আবিষ্কারের জননী। জীবন কখনো কখনো খানিকটা ভিন্ন দিকে মোড় নেবে এটিই স্বাভাবিক কিন্তু জীবনের আশাকে ধ্বংস করে দেবে- এমনটা হবার নয়! গতকালের ইতিহাস পিছনে পড়ে রবে, এবং আগামীর ইতিহাস হবে আরও উজ্জ্বল! সুতরাং আজকের ইতিহাসটা ঠিক কর।
সব সময় মনে রাখবে, তোমার জন্ম হয়েছে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্য! ‘সাহস নিয়ে কোনো কাজ শুরু করলে শুরুতেই অর্ধেক বিজয় হয়ে যায়’ বলে বলেছিলেন কবি হাইরিন হাইনে। আর সফলতার এক প্রবাদ পুরুষ বিজ্ঞানী এপিজে আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন ‘সূর্যের মতো দীপ্তিমান হতে হলে তোমাকে সূর্যের মতোই পুড়তে হবে।’ দারিদ্রের সর্বনিম্ন রেখায় থাকার পরও কেবল নিজের মেধা আর আত্মবিশ্বাসের সাথে সততার মিশ্রণে যিনি হয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।
মানুষকে ভালো কাজে এগিয়ে যাওয়ার পথে উৎসাহ দিতে না পারলেও মন্দ কাজে উৎসাহ দেয়ার মতো কিছু মানুষ আমাদের সমাজে বসবাস করে এখনো। তারা কোনো ব্যক্তির উন্নতি দেখলে তার সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। তাদের কাজ হয়ে দাঁড়ায় কোথায় কার কি ভুল হয়েছে তার বিশ্লেষণ করা। কিন্তু সেই ভুলের সমাধান কেউ দেয় না।
কবি বলেছেন, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’, অর্থাৎ অন্যের কথায় কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের নিজেদের স্থানে নিজেদের পৌঁছাতে হবে। কে কি বলছে সেটা শুনে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় সামান্য উৎসাহের অভাবে ঝরে যায় অনেক প্রতিভা। তারা হয়তো একদিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকত। কিন্তু সেই উৎসাহ দেয়ার মতো মানুষ ছিল না তাদের। আমরা মানুষের মনোবল ভেঙে দিতে কার্পণ্য করি না। আমরা ‘না’ বলতে খুব বেশি পছন্দ করি, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বলাটা যেন আমাদের জন্য কষ্টের বিষয়। আমাদের মধ্যে আধুনিকতা এখনও আসেনি। আগে নিজেদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, তবেই আমরা আমাদের দেশ ও সমাজকে পাব আধুনিকভাবে। আমরা শুধু ভুলটা তুলে ধরি, কিন্তু সেই ভুলের সমাধান কি হবে সেটা তুলে ধরি না। কখনই আত্মবিশ্বাস হারালে চলবে না। সাফল্য না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিবার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। জীবনে সফল হওয়ার জন্য দৃঢ় মনোবল আর প্রবল আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য শক্ত এবং দুর্বলতাগুলি বাস্তবিকভাবে বোঝার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।
আত্মবিশ্বাস অর্জন করা কোনো রাতারাতি ব্যাপার নয়। দীর্ঘদিনের চর্চা এবং অভ্যাসে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠে। আত্মবিশ্বাস কেউ কাউকে দিতে পারে না, নিজে নিজেই অর্জন করতে হয়। যে কোনো কাজে সফল হতে হলে আত্মবিশ্বাসী হওয়া জরুরি। আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন কাজে বা ভাইভা বোর্ডে শুনতে হয় আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। সফলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি হচ্ছে আত্মবিশ্বাস। অনেকে আছেন যারা আত্মবিশ্বাসের অভাবেই নিজেকে তুলে ধরতে পারে না।
পোশাক ও স্মার্টনেস আমাদের আস্থাকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এটি ভালোভাবে প্রস্তুত করা হলে, আমাদের মধ্যে একটি আলাদা শক্তি আসে এবং এটি ইন্টিগ্রেটারের উপর খুব ভালো প্রভাব ফেলে। আমরা যদি পোশাক স¤পর্কে ছোটো ছোটো যত্ন নেই তাহলে তা খুব সুন্দর আত্মবিশ্বাস ও মনোবলের একটা স্তর তৈরি করতে পারে।
জীবন লক্ষ্য শূন্য থাকলে আত্মবিশ্বাসও ফাঁপা হয়ে যায়। অতএব, সবাইকে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সময়কে আরও ব্যবহার করতে হবে। কিছু করার আগে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে সেই কাজটা করতে হবে। তারপরে অবশ্যই মনোবল, প্রবল আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা সম্ভব, এটা অন্তত আমার বিশ্বাস।
আত্মবিশ্বাসী মানুষ জীবনের সব মুহূর্তেই ইতিবাচক থাকে। এরা খুব একটা ভেঙে পড়ে না। আত্মবিশ্বাসীরা অপরিচিত লোকদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে। আত্মবিশ্বাসী মানুষ আরেকজন মানুষের নেতিবাচক দিক নিয়ে খুব বেশি কথা বলে না। কারণ তাঁরা নিজেদের নিয়েই থাকে। বরং তাঁরা প্রিয়জনকে সহযোগিতা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কারোর ব্যাপারে কথা বলার সময় অনেক হিসাব করে কথা বলে। পেশাগত জীবনই হোক বা ব্যক্তিজীবন, আত্মবিশ্বাসীরা নিজের কাজের বিষয়ে সব সময় মনোযোগী থাকে।
নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা মানুষেরা কখনো কোনো কিছু নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে না। আত্মবিশ্বাসের প্রথম শর্তই হচ্ছে নিজের ওপর নিজে সন্তুষ্ট থাকা। সব মানুষের মাঝেই কিছু না কিছু খুঁত থাকে। সেগুলোকে নিয়ে যত বেশি নাড়াচাড়া করা হবে, ততই হীনম্মন্যতা সৃষ্টি হবে।
আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের লক্ষণ:
০১) কোনো কাজ করার আগে অন্য লোকজন কি ভাববে, এটা নিয়ে চিন্তা করা। ফলে কাজটি করা নিয়ে দ্বিধায় থাকা।
০২) কোনো কাজে পরাজিত হলে বা ভুল করলে মানতে না পারা। নিজের ভুলগুলো স্বীকার না করা।
০৩) নিজের ভুলগুলোর জন্য নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করা।
০৪) ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নিয়ে একই কাজ পুনরায় করা।
০৫) নতুন কোনো উদ্যোগ নিতে গিয়েও পিছিয়ে পড়া।
০৬) সব কাজে লজ্জা এবং অস্বস্তি অনুভব করা।
০৭) নিজেকে অন্যের চেয়ে ছোটো ভাবা।
আত্মবিশ্বাস না থাকার কারণ:
জন্মের পর থেকেই একজন মানুষ আত্মবিশ্বাসী বা আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে গড়ে উঠে না, পারিপার্শ্বিক পরিবেশই মানুষের আত্মবিশ্বাস থাকা এবং না থাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন Ñ
০১) অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতা; বড় হওয়ার সময়টুকুতে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা।
০২) এমন লক্ষ্য স্থির করা যা বাস্তবসম্মত নয়।
০৩) ছোটবেলা থেকে অতিরিক্ত শাসনে বড় হওয়া।
০৪) পরিবারের সদস্যদের বিচ্ছিন্ন হওয়া।
০৫) অন্যদের কাছ থেকে সফলতার জন্য অনেক বেশি প্রেশার পাওয়া।
০৬) যতটুকু ক্ষতি হয়েছে তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতি কল্পনা করা।
০৭) অনেক বেশি অন্তর্মুখী হওয়া।
আত্মবিশ্বাসের উপকারিতা:
# তুমি যত বেশি আত্মবিশ্বাসী, তত কম হতাশা অনুভব করবে । হোক সেটা সামাজিক স¤পর্কের ক্ষেত্রে, ব্যক্তিগত জীবনে।
# আত্মবিশ্বাস মানুষকে ঝুঁকি নিতে শেখায়। যার ফলে আত্মবিশ্বাসীরা একের পর এক সুযোগের সম্মুখীন হয়।
# আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনো সমালোচনার দ্বারা প্রভাবিত হয় না, বরং খারাপ সমালোচনাকে উপেক্ষা বা হাসির ছলে উড়িয়ে দেয়।
# আত্মবিশ্বাস মানুষকে অযথা উদ্বিগ্ন হতে বিরত রাখে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল বের করতে সহায়তা করে।
বাড়াও আত্মবিশ্বাস, বাড়বে সফলতা:
ফিরে দেখো: নিজেকে জানার চেষ্টা করো ভালোভাবে। কোনো কোনো বিষয় তোমার নিয়ন্ত্রণের ভিতরে আছে আর কোনটি নেই। নিজের ডায়েরিতে লিখো এবং সে সকল বিষয় নিয়েই চিন্তা করো যা পরিবর্তনের ক্ষমতা তোমার আছে। তা হতে পারে তোমার পেশাগত দিক বা ব্যক্তিগত স¤পর্ক। যেটুকু তুমি সক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারো তাতেই নিজের সময় ও শক্তি ব্যয় করো। যদি কোনো কিছু তোমার সাধ্যের বাইরে থাকে তবে তা মেনে নাও এবং সামনে অগ্রসর হও। তোমার শক্তি অন্য কোথাও ব্যয় করো।
পরিবর্তন হও : নোট করে প্রতিদিনের কাজগুলো থেকে ভুল চিহ্নিত করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। এভাবে প্রতিদিন একটি করে ভুল শুধরাতে থাকলে নিজের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন আসতে থাকবে। তাই নতুন নতুন বাধা আসলে তাকে মোকাবেলা করার জন্য নিজের মধ্যেই পরিবর্তন আনতে পারা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির একটি ভালো উপায়।
কঠিন সময়ে হাসো : হাসিকে বলা হয় সর্বোত্তম ওষুধ। তবে কষ্টের মুহূর্তগুলোতে মানুষ হাসতে পারে না। সেই সময় আমাদের সুখের সময়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ। নেতিবাচক ধারণা বদলাতে পারলে সে সময়ও ভেঙে পড়ে না মানুষ। তাই মনের মধ্যে নিজের স¤পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখা উচিৎ।
নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে চলো: যদি কোনো ব্যক্তি বা পরিস্থিতি তোমার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে একটু ভেবে নাও সেই ব্যক্তি বা পরিস্থিতির তোমার জীবনে ঠিক কতটা গুরুত্ব আছে। ইতিবাচক বন্ধুত্ব এবং কাজকর্মকে জীবনে প্রাধান্য দাও।
নিজেকে দোষারোপ করা বন্ধ করো: মনে রাখবে, তুমি তোমার সাধ্যের অতিরিক্ত কখনই কিছু করতে পারবে না। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে নিজেকে দোষ দিবে না বরং ভাবো তোমার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে।
কিছু শরীরচর্চা করো: নিয়মিত কিছু শরীরচর্চা তোমাকে চিন্তামুক্ত এবং শরীর গঠনেও সাহায্য করবে। কিছু ভালো ব্যায়াম তোমাকে চাপমুক্ত করবে এবং সতেজ করবে। এসব তোমার আত্মবিশ্বাস গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। মেডিটেশন করতে পারো।
প্রিয়জনদের সাথে ভালো সময় কাটাও: কাছের মানুষদের সাথে কিছু ভালো সময় কাটাও। যা জীবনের কঠিন সময়েও তুমি মনে করতে পারবে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিবে। এটা তোমার ভিতরে আত্মসম্মান গড়ে তুলবে।
চাপকে দূরে রাখো: বের করো কোনো জিনিসটা তোমাকে চাপে ফেলছে। তুমি কি খুব বেশি কাজ করছ। নিজের কাজকে বোঝা হতে দিবে না। কার্য তালিকায় এমন কিছু কাজ অন্তর্ভূক্ত করো যা তোমাকে আনন্দ দিবে।
নতুন কিছু করো: নতুন কোনো শখ বা কাজ আয়ত্ব করো। নতুনত্ব মন ও মস্তিষ্কের জন্য ভালো। এটা তোমাকে নতুন কিছু অর্জনের অনুভূতি দিবে এবং নিজের মূল্য বুঝতে সাহায্য করবে।
ছোটো এবং সহজ লক্ষ্য নির্ধারণ করো: কাজের এমন মানদণ্ড বের করো যা তুমি অর্জন করতে পারবে। লক্ষ্য অর্জনের পর একটু থামো এবং ভেবে দেখো তুমি কতটুকু অর্জন করতে পারলে। নিজের সাফল্য শনাক্ত করতে পারলে তা তোমার মনোভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পুরানো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করো: এমন কোনো বন্ধুকে ফোন করো যার সাথে অনেকদিন তোমার কোনো যোগাযোগ হয়নি। পুরানো স¤পর্ক নতুন করে ফিরিয়ে আনলে তোমার ভিতর সামাজিক বন্ধনের চেতনা গড়ে উঠবে। নিজেকে সকলের সাথে যুক্ত করলে তোমার মনও সতেজ হবে এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
মনের খোরাক যোগাও: কিছু ভালো বই পড় বা ভালো গান শুন, যা তোমার চিন্তাজগৎকে আরও সমৃদ্ধ করবে। নিজেকে শিল্পচর্চায় ব্যস্ত রাখো যা তোমাকে পূর্ণতা এনে দিবে। কিছু ছবিও দেখতে পারো। হলিউডে এ নিয়ে প্রচুর ছবি তৈরি হয়েছে অগাস্ট রাশ, ফরেস্ট গা¤প, থ্রি ইডিয়টস, সোয়াশাংক রিডে¤পশান, দ্য ব্লাইন্ড সাইড, ১২৭ আওয়ার্স, কোচ কার্টার ইত্যাদি। আমাদের নেতাবিডি ডট কম-এ প্রচুর ভাল ছবির লিংক আছে।
শেখার আগ্রহ তৈরি করো: প্রতিদিনের দৈনন্দিন জীবনে আমরা কিছু না কিছু শিখি। ব্যক্তিত্ব গঠনে সবচেয়ে কার্যকর শিক্ষা অর্জন করা। আত্মবিশ্বাস তৈরি হতে পারে যদি ব্যক্তির ভুল থেকে শিক্ষার্জন করার অভ্যাস থাকে। তাই জীবন থেকে শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে অবশ্যই নোট রেখে ভুলগুলোকে চিহ্নিত করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। মিকি মাউসের স্রষ্টা ওয়াল্ট ডিজনি পত্রিকার চাকুির থেকে চাকরীচ্যুত হয়েছিলেন। অভিযোগ ছিলো তার ইমাজিনেশন ক্যাপাসিটি এবং অরজিনাল আইডিয়া নাই। এরপর ২২টি অ্যাকাডেমিক ৪অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন তিনি। তাই নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, তুমিও পারবে।
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কিছু উপায়
জীবনে বারবার হারের মুখোমুখি হলে আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে। নিজের উপর আস্থা হারায় মানুষ, আর এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন। ভেঙে পড়বে না, ইচ্ছে থাকলে এই মানসিক অবস্থা থেকেও বেরিয়ে আসা সম্ভব। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কিছু সহজ রাস্তা আছে। তবে সেগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে তোমাকে অর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে কোনো কিছুই বিনা চেষ্টায় পাওয়া যায় না। আর চেষ্টা করলে মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
অ্যাটিচিউড বদলাও: মানুষ চাইলে সব পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সব কাজই তুমি ভালো পারবে বা কখনো ব্যর্থ হবে না। ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নাও। ‘আমার দ্বারা কিছুই সম্ভব নয়’ বলে মুষড়ে পড়বে না। সোজা কথায়, নেগেটিভ চিন্তাভাবনাকে মোটেই প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলো যে তুমি পারবে। নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা কখনো বন্ধ করবে না।
লক্ষ্য স্থির করো: নিজের জন্য লক্ষ্য স্থির করে নাও। প্রতিদিন সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য একটু একটু করে তৈরি হও। নিজের দুর্বলতাগুলিকে চিন, জোরের জায়গাগুলিকেও। একমাত্র তা হলেই বুঝতে পারবে যে অভীষ্ট সিদ্ধ করার জন্য ঠিক কতটা প্ল্যানিং বা পরিশ্রম করতে হবে তোমাকে।
রোজ এমন কিছু একটা করো, যা করতে ভয় লাগে: প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়টা তাড়া করে বেড়ায় তোমাকে? তা হলে প্রতিদিন প্রত্যাখ্যান হজম করাটা প্রাকটিস করতে হবে। সেটা কিভাবে সম্ভব ভেবে পাচ্ছ না? মানুষের কাছে এমন অনুরোধ নিয়ে যাও, যা প্রত্যাখ্যাত হতে বাধ্য। প্রতিদিন দশবার রিজেকশন সহ্য করলে সাতদিন পর দেখবে মুখের উপর ‘না’ শুনলে গায়ে লাগছে না!
জেতার অভ্যেস তৈরি করো: যেদিন থেকে তুমি জিততে আরম্ভ করবে, সেদিন থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। শুরু দিকে সেট করো ছোটো টার্গেট, পরে বড়ো লক্ষ্যের দিকে যাবে। টানা সাতদিন আধ ঘণ্টা ব্যায়াম করো, রাত দশটায় ঘুমোতে যাও, পেস্ট্রি-বার্গার থেকে দূরে থাক। এইভাবে ছোটো ছোটো হার্ডল পার হলে নিজেরই ভালো লাগতে আরম্ভ করবে। অন্য কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে বাড়িয়ে দাও সাহায্যের হাত। তাকে জিততে দেখলেও তোমার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে।
বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও সাজপোশাকে পরিবর্তন আনো: যারা জীবনে খুব সফল, তাদের মধ্যে কতগুলো সাধারণ গুণ থাকে। তারা সুন্দর সাজগোজ করেন, মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন, নিজের বক্তব্য পেশ করেন সুচারুভাবে। তোমাকেও এগুলি অভ্যেস করতে হবে। নিজের যত্ন নাও, ত্বক-চুল-নখ ঝকঝকে রাখো। উজ্জ্বল হাসি আর ঝকঝকে ব্যক্তিত্ব অনেক যুদ্ধ জিতিয়ে দিতে পারে তোমাকে। যেমন-তেমন পোশাক পরে অফিস যাবে না, সুন্দর সাজগোজ বা ব্যক্তিগত গ্রুমিংয়ের জন্যও একটু সময় রাখো।
স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নাও: যিনি চাকরির সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউতে তোমাকে প্রশ্ন করছেন, তাঁর চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে জবাব দাও। তাঁকে খুশি করার চেষ্টা না করে মনোসংযোগের ওপর গুরুত্ব দাও। তাহলেই তোমার আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ পাবে। ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে উত্তেজনায় দম আটকে রাখবে না। স্বাভাবিক থাক। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা করলে আমাদের মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ধরন পাল্টে যায়। এতে বোধশক্তি সাময়িক বিঘ্নিত হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে গভীরভাবে শ্বাস নাও। এতে তোমার মস্তিষ্ক ¯পষ্টভাবে চিন্তা করার সুযোগ পাবে।
নিজের প্রতি সদয় হও: নিজের প্রতি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো মনোভাব বজায় রাখো। মাথা থেকে যেকোনো জটিল ভাবনা ঝেড়ে ফেলো। নিজে যে রকমই হও, তা নিয়ে মনের মধ্যে কোনো ভয় পুষে রাখবে না। যাঁরা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাঁরা তো তোমার ব্যাপারে তেমন কিছুই জানেন না। কাজেই নিজের যোগ্যতার ব্যাপারে গুছিয়ে তাঁদের কাছে বলাটা তোমারই দায়িত্ব।
নিজের সাফল্যের কল্পনা করো: ইন্টারভিউর আগেই কল্পনা করো, চাকরিটা তোমার হয়ে গেছে। এই ভাবনা তোমার আত্মবিশ্বাস বা নিজের প্রতি শ্রদ্ধা অনেকটা বাড়িয়ে দেবে। পরীক্ষাকে হেঁটে যাওয়া, প্রশ্নকর্তার সঙ্গে হাত মেলানো এবং তাঁদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তুমি এক ধরনের অন্যরকম বাড়তি মানসিক জোর পাবে। তুমিই কাক্সিক্ষত পদটির জন্য সেরা প্রার্থীÑএমন মনোবল রাখতে পারলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যাবে।
প্রস্তুতি ও মহড়া: ইন্টারভিউতে কি কি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারো, আর সেগুলোর জবাবই বা কেমন হবেÑ সে স¤পর্কে আগে থেকে কিছুটা ধারণা রাখা ভালো। প্রয়োজনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চর্চা করো। নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত গুণাবলি ইত্যাদি সুন্দরভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করার কৌশল রপ্ত করতে হবে। এতে তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
সূচিপত্র
১) ছোটদের সাথে আমাদের আচরণ ২) পরিবার ও সন্তান, সুপার পাওয়ার যেভাবে তৈরি হয়, ৩) দীর্ঘস্থায়ী ভয়ের উৎপত্তির মূলে শৈশবকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব , ৪) সন্তানের উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বাড়ানো, ৫) আপনার শিশুটি ঘুমুক শান্তিতে এবং নির্ভরতায় , ৬) কিছু অব্যর্থ টিপস, যা আপনার শিশুকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলবে, ৭) শিশুকে কিভাবে বড় করবেন, ৮) বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে কী করবেন? ৯) বাচ্চাদের বুদ্ধি বিকাশের অন্যতম পথ, দৌড়, ১০) বাচ্চাকে কখনো আড়ালে লুকিয়ে খেতে দেবেন না, ১১) পিটার সিংগারের দর্শন, ১২) দুষ্টু শিশুরা তাড়াতাড়ি শেখে, ১৩) সন্তানকে যতই শাস্তি দেবেন ততই সে অসামাজিক হবে, ১৪) বাবা-মাই সন্তানকে নির্যাতন করেন সবচেয়ে বেশি , ১৫) সন্তানের সাথে কিভাবে গড়ে তুলবেন নিবিড় বন্ধন, ১৬) যে ১১টি কথা শিশুকে কখনোই বলবেন না!, ১৭) শিশুকে গল্প শোনান প্রতিদিন, ১৮) সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ১০টি কৌশল, ১৯) সৃজনশীলতা হচ্ছে নতুন কিছু করার যোগ্যতা, ২০) যারা মুখস্থ করতে পারেন না, ২১) তারা মেধাবী, মেধাবী হওয়ার উপায়,
২২) কথা ও ভাষা, ২৩) এলিভেটর পিচ, ২৪) সুন্দর করে কথা বলে সমস্যা জয়ের কৌশল, ২৫) ফোনে কথা বলার আদবকেতা, ২৬) ১২টি কর্ম বিধান, ২৭) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২৮) আলতু-ফালতু কাজে সময় অপচয় করে স্বপ্ন পূরণের কল্পনা, ২৯) স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ৩০) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর জীবন থেকে শিক্ষা, ৩১) অভিজ্ঞতা ও অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ, ৩২) বর্তমানকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিন, ৩৩) ২৪ ঘণ্টা কেউ সুখী হয় না, ৩৪) কিছু অভ্যাস যা আপনাকে আরও সুখী করবে , ৩৫) আপনার অবয়ব , ৩৬) সফলতার 25টি হট কৌশল-1, ৩৭) সাফল্যের 25টি হট কৌশল-2, ৩৮) সফলতার 55 সূত্র, ৩৯) কিভাবে নিজেকে নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে, ৪০) সময় ব্যবস্থাপনা, ৪১) সময় ব্যবস্থাপনার তিনটি ধাপ, ৪২) সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপায়গুলো, ৪৩) সাফল্য, ড. কোভের ইমোশনাল একাউন্ট কনসেপ্ট, ৪৪) সবচে বড় ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৫) আপনার ইমোশনাল একাউন্ট, ৪৬) বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ বর্জিত কর্মফল বিপজ্জনক, ৪৭) অন্যদের দিয়ে আপনার কাজ করান কিন্তু সম্মান আপনি অর্জন করুন, ৪৮) অন্য লোকেরা আপনার কাছে আসুক দরকার হলে টোপ দিন, ৪৯) অসুখী এবং ভাগ্যহীনদের বর্জন করুন, ৫০) লোককে আপনার ওপর নির্ভরশীল করুন , ৫১) নেওয়ার পূর্বে দেওয়া অন্য বক্তির স্বার্থ বুঝুন, ৫২) শত্রুকে খাটো করে দেখবেন না, ৫৩) নিজেকে রক্ষা করার জন্য চারিদিকে দুর্গ নির্মাণ করবেন না, ৫৪) কারোর পক্ষ অবলম্বন করে বসে থাকবেন না, ৫৫) আপনার শক্তিসমূহকে সংহত করুন, ৫৫) নিজের ভুলগুলোকে লুকিয়ে রাখুন, ৫৬) শুধু সাহসের জোরে নয়, পরিণতিও বিবেচনায় রাখুন, ৫৭) প্রতিটি মানুষের গোপন ইচ্ছা খুঁজে বের করুন, ৫৮) রাগ বিপজ্জনক ও অভদ্রতা, ৫৯) কোনো দলকে ধরার জন্য দলপতিকে প্রথমে ধরুন, ৬০) নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন, ৬০) পরিবেশ সামলাতে শিখুন, ৬১) প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন, ৬২) আপনার সামাজিক পরিবেশ ‘প্রথম শ্রেণি’র করে তোলার উপায়, ৬৩) ‘সস্তার তিন অবস্থা’ প্রধম শ্রেণিভুক্ত হয়ে উঠুন , ৬৪) যত বেশি বন্ধুত্ব তত বেশি উপরে ওঠার সম্ভাবনা, ৬৫) সাহস করে কাজটা শুরু করুন, ৬৬) সাফল্য মানে বারবার ভিন্নভাবে চেষ্টা করা, ৬৭) ১- ১০ ভাল অভ্যাস, ১১- ২০ ভাল অভ্যাস, ২১- ৩০ ভাল অভ্যাস, ৩১- ৪০ ভাল অভ্যাস, ৪১- ৫০ ভাল অভ্যাস, ৫১- ৬০ ভাল অভ্যাস, ৬১- ৭০ ভাল অভ্যাস, ৭১- ৮০ ভাল অভ্যাস, ৮১- ৯০ ভাল অভ্যাস, ৯১- ১০২ ভাল অভ্যাস, ৬৮) জিরো থেকে হিরো, ৬৯) সৃজনশীলদের সফলতার ৭ সূত্র, ৬৯) জীবনে পরিবর্তন আনুন ৪৮টি উপায়ে, ৭০) জীবন-যাপন, ৭১) জাপানী ও চিন লাইফ স্টাইল , ৭২) ৩০টি দর্শন, যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে, ৭৩) সম্পর্ক তৈরি করা, বন্ধুত্ব, ৭৪) যে আচরণগুলো মানুষের মনের কথা জানাবে, ৭৫) কথা বলার সূত্র, ৭৬) আপনি ও আপনার ব্যবহার, ৭৭) নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা, ৭৮) কথা বলার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, ৭৯) কিভাবে নিজেকে বিনয়ী হিসেবে উপস্থাপন করবেন, ৮০) কিভাবে বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলবেন, ৮১) কথা বলার ৫টি বিস্ময়কর টেকনিক, ৮২) কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করবেন? ৮৩) অকারণে সময় নষ্ট? মেল রবিনের ৫ সেকেন্ড রুল, ৮৪) কর্পোরেট আদবকেতা, ৮৫) ৩৫টি কর্পোরেট কালচার ও আপনার করণীয়, ৮৬) যা না জানলে লজ্জায় পড়তে হয় , ৮৭) কাজের সময়ে যে বিষয়গুলো একেবারেই করা উচিৎ না , ৮৮) ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে ছুড়ে ফেলুন ৭টি দোষ, ৮৯) আকাক্সক্ষা, ইচ্ছে বা স্বপ্ন,
৯০) বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, কাজ কিভাবে করবেন? ৯১) আত্মশক্তিতে বলিয়ান হতে, ৯২) একনাগাড়ে চলবেন না, ৯৩) মারফিস ’ল , কাজের রোডম্যাপ তেরি , ৯৪) জব স্যাটিসফেকশন, ৯৫) কাজে সফলতার সূত্রাবলী, ৯৬) যেভাবে জীবনযাপন করবেন, ৯৭) পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা যে কাজগুলো কখনোই করেন না, ৯৮) জীবনে দক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়, ৯৯) সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও কাজ করার উপায় , ১০০) সফলতা ও সার্থকতা, ১০১) জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করা, ১০২) সফলতার কিছু পদ্ধতি, ১০৩) সফল হতে চাইলে যে ৮ টি জিনিস বাদ দেয়া প্রয়োজন, ১০৪) সফল ব্যক্তিরা যে ১০টি কাজ কখনোই করেন না, ১০৫) সর্বদা স্মরণ রাখুন, ১০৬) চিন্তাশক্তি , ১০৭) স্বাধীনতা, ১০৮) জ্ঞান অর্জন খাদ্য গ্রহণের মতো , ১০৯) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে চেষ্টা করলে কখনোই বিফল হবেন না, ১১০) বুদ্ধির সংজ্ঞা হলো, প্রতিটি কাজ ভেবে-চিন্তে করা, ১১১) ব্যক্তিত্ব, চেহারা ও ব্যক্তিত্ব , ১১২) সেলডন-এর গবেষণা , ১১৩) ব্যক্তিত্ব ও উচ্চারণ, ১১৪) পোশাক ও ব্যক্তিত্ব, ১১৫) প্রথম দেখায় ব্যক্তিত্বের ছাপ, ১১৬) বিচ্ছিন্নতা ব্যক্তিত্বের বড় শত্রু, ১১৭) ব্যক্তিত্বে জিনগত প্রভাব, ১১৮) অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব, ১১৯) মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্বের ১০ বৈশিষ্ট্য, ১২০) ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার জন্যে ১০ নির্দেশনা, ১২১) কিভাবে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাবেন? , ১২২) নিজেকে স্মার্ট করতে ৫টি কৌশল, ১২৩) আকর্ষণীয় মানুষ হবার ৬টি পরামর্শ, ১২৪) আত্মশুদ্ধি , ১২৫) হতাশ হবেন না, ১২৬) পাছে লোকে কিছু বলে, ১২৭) সুখ-শান্তি উন্নতি , ১২৮) চাহিদা, ১২৯) খাদ্য, ঘুম ও বিশ্রাম, ১৩০) স্বাস্থ্য ভাল রাখার নিয়ম, ১৩১) টেনশন দূর করতে হলে, ১৩২) শুধু নিজের কথা নয়, অন্যের কথাও ভাবুন, ১৩৩) চাহিদা যত বেশি সুখ তত কম, ১৩৪) সুখী জীবনের জন্য ১৮ টি টিপস, ১৩৫) আত্মবিশ্বাস, আত্ম বিশ্বাসের শক্তি, ১৩৬) অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যর্থ মানুষ, ১৩৭) দি সেভেন হ্যাবিট অফ হাইলি এ্যা ফেক্টিভ পিপল, ১৩৮) সামাজিক আয়না, ১৩৯) প্রোএ্যাক্টিভিটি, ১৪০) সার্কেল অফ ইনফ্লুয়েন্স, ১৪১) শুরু করুন আজই, ১৪২) আপনার কেন্দ্রবিন্দু কোনটি?, ১৪৩) মাথার দুটি অংশই ব্যবহার করুন, ১৪৪) সময়ের ব্যবস্থাপনা, ১৪৫) ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা, ১৪৬) গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি, ১৪৭) পরনির্ভরশীল জীবন, ১৪৮) ছয়টি উপায়ে অন্য মানুষের সাথে আদান-প্রদান, ১৪৯) অধ্যয়ন, ১৫০) পড়াশোনায় ১২ কার্যকর কৌশল, ১৫১) ঘুম থেকে উঠতে ১০-৩-২-১-০ ফর্মুলা, ১৫২) আয়-ব্যয়- টাকা, ১৫৩) অন্যকে খুশি করতে পয়সা খরচ যে কারণে অর্থহীন, ১৫৪) খরচের লাগাম টেনে ধরতে.. ১৫৫) নারী, ১৫৬) সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে কিছু “মিথ্যা” বলা জরুরী , ১৫৭) ছেলেদের কোন জিনিস দেখে মেয়েরা? , ১৫৮) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস, ১৫৯) ভুঁড়ি ঠেকাতে ৫টি নিয়ম, ১৬০) যেসব কারণে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া উচতি , ১৬১) বিয়ে-সংসার, ১৬২) সফল বিয়ের তিনটি মন্ত্র, ১৬৩) সুখী হবার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র, ১৬৪) কিছু গল্প, ১৬৫) ভালোবাসাহীন সম্পর্ক, ১৬৬) কেন স্পর্শের প্রয়োজন হয় প্রতিদিন, ১৬৭) যে কারণে একা থাকাই আপনার জন্য ভালো, ১৬৮) ব্যবসা, ১৬৯) বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল, ১৭০) যে ৭টা ব্যাপার বিজনেসে করবেন না, ১৭১) স্বাস্থ্য, ১৭২) দুগ্ধজাত খাবারে পুরুষের বন্ধ্যত্ব, ১৭৩) একাকিত্বের বিপদ, ১৭৪) কর্মক্ষম ও প্রফুল্ল রাখতে, ১৭৫) মন ভালো করার উপায়, ১৭৬) যৌন স্বাস্থ্য, ১৭৭) পুরুষদের কেজেল, ১৭৮) মহিলাদের কেজেল, ১৭৯) দক্ষতা , ১৮০) আলসেমি দূর করার সহজ কিছু উপায়, ১৮১) কীভাবে সামলাবেন নিন্দুকদের ?, ১৮২) সুখী হতে চাইলে যা কখনোই করবেন না, ১৮৩) সব ভুলে যাচ্ছেন? স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা রাখতে ৫টি টিপস, ১৮৪) বয়সের ভারে বৃদ্ধ না হয়ে বরং কাজের ভারে যুবক থাকার চেষ্টা করো, ১৮৫) নিজেকে কাজের সঙ্গে সম্পক্ত করার তিনটে স্টেপ, ১৮৬) জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে দ্রুত পদ্ধতিগুলো, ১৮৭) প্রতিদান পাওয়ার আশায় কাজ করবেন না, ১৮৮) প্রেম একটি মানসিক রোগ, ১৮৯) সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবার পর নিজেকে যেভাবে সামলাবে, ১৯০) সময় সবকিছু বদলে দেয়, ১৯১) সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে কমন পাঁচটি ভুল, ১৯২) আত্মবিশ্বাস/মনোবল, ১৯৩) প্যারাসুট অফ হ্যাপিনেস, ১৯৪) বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে, ১৯৫) আত্মবিশ্বাসহীন মানুষের লক্ষণ, ১৯৬) বাড়াও আত্মবিশ্বাস, বাড়বে সফলতা, ১৯৭) প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার টিপস, ১৯৮) কিভাবে ধরে রাখবে দু'জনের সম্পর্ক, ১৯৯) কিভাবে বুঝবে সম্পর্ক শেষ করতে হবে, ২০০) সম্পর্ক যখন প্রেম-ভালোবাসার, ২০১) যেসব বিষয়ের উপর স¤পর্ক গড়ে ওঠে, ২০২) ভালোবাসার অপর নাম প্রয়োজন, ২০৩) সম্পর্কের গুণগত মান বাড়বে কিভাবে, ২০৪) মস্তিস্ক ঠিক রাখার ৩০ উপায়, ২০৫) মানুষের আচরণের পেছনে একটা কারণ থাকে, ২০৬) কোনো কাজে নিজেকে সম্পক্ত না করেই আমরা নিজ ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাই ২০৭) স্রোতের বিপরীতে চিন্তা করুন, ২০৮) আপনার টাইমজোনে সময় আসবেই, ২০৯) চাইল্ডহুড অ্যামনেসিয়া এবং আমাদের শিক্ষণীয়,