শ্রেণি : নবম - দশম || অধ্যায় - ৩
ইন্টারনেট ও ওয়েব পরিচিতি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : নবম - দশম || অধ্যায় - ৩
ইন্টারনেট ও ওয়েব পরিচিতি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. ইন্টারনেট কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্ক, যা সারা বিশ্বের কম্পিউটার এবং ডিভাইসমূহকে সংযুক্ত করে। তার বা বেতার মাধ্যমে এটি মানুষ কিংবা ডিভাইসকে তথ্য শেয়ার করতে এবং একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে, ই-মেইল পাঠাতে এবং চ্যাটিং করতেও ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়।
২. ডিজিটাল কনটেন্টের ধারণা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কোনো তথ্য বা কনটেন্ট যদি ডিজিটাল উপাত্ত আকারে বিরাজ করে, প্রকাশিত হয় কিংবা প্রেরিত-গৃহীত হয় তাহলে সেটিই ডিজিটাল কনটেন্ট। ডিজিটাল কনটেন্ট টেক্সট বা লিখিত হতে পারে, ছবি, ভিডিও ও এনিমেশন হতে পারে, শব্দ বা অডিও আকারে হতে পারে। সব ধরনের লিখিত কনটেন্ট টেক্সট কনটেন্ট, সবধরনের ছবি বা কম্পিউটারে সৃষ্ট ছবি, ছবি ধারার ডিজিটাল কনটেন্ট। অন্যদিকে শব্দ বা অডিও আকারের সকল কনটেন্ট শব্দ কনটেন্টের অন্তর্ভুক্ত। আর ভিডিও ও এনিমেশনের মধ্যে রয়েছে ভিডিও, ভিডিও শেয়ারিং সাইট, ভিডিও স্ট্রিমিং ইত্যাদি। এসব ডিজিটাল কনটেন্ট কম্পিউটারের ফাইল আকারে অথবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্প্রচারিত হতে পারে।
৩. ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ডিজিটাল কনটেন্ট প্রধানত চার প্রকার। যথা-
টেক্সট বা লিখিত কনটেন্ট
ছবি
শব্দ বা অডিয়ো এবং
ভিডিয়ো ও এনিমেশন।
৪. টেক্সট বা লিখিত কনটেন্ট কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ডিজিটাল মাধ্যমে লিখিত তথ্যই টেক্সট বা লিখিত কনটেন্ট। সব ধরনের লিখিত তথ্যই এই ধারার কনটেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধ, ব্লগ পোস্ট, ই-বুক সংবাদপত্র, পণ্য বা সেবার তালিকা ও বর্ণনা, পণ্যের বিবরণ ইত্যাদি। ডিজিটাল কনটেন্টের মধ্যে লিখিত তথ্যের পরিমাণ বেশি।
৫. ছবির কনটেন্ট কী কী হতে পারে?
উত্তর: ছবির কনটেন্টের মধ্যে ক্যামেরায় তোলা ছবি, হাতে আঁকা ছবি, কার্টুন, ইনফো-গ্রাফিক্স এবং এনিমেটেড ছবি অন্তর্ভুক্ত। সব ধরনের ছবি কম্পিউটারে সৃষ্ট বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাপ্ত ছবি এই ধারার হতে পারে।
৬. অডিয়ো কনটেন্ট কী? ব্যাখ্যা কর। বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: শব্দ বা অডিয়ো আকারের সব কনটেন্ট অডিয়ো কনটেন্টের অন্তর্ভুক্ত। যেকোনো বিষয়ের অডিয়ো ফাইল ও ইন্টারনেটে প্রচারিত ব্রডকাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত।
৭. ভিডিয়ো কনটেন্ট কীভাবে জনপ্রিয় হয়েছে?
উত্তর: মোবাইল ফোনে ভিডিয়ো ধারণের সুবিধা এবং ইউটিউবের মতো বিভিন্ন ভিডিয়ো শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের কারণে ভিডিয়ো কনটেন্ট জনপ্রিয় হয়েছে। ভিডিয়ো স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিয়ো যেমন- খেলা, কনসার্ট ইত্যাদি বর্তমানে অনেক জনপ্রিয়।
৮. ভিডিয়ো স্ট্রিমিং বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ভিডিয়ো স্ট্রিমিং হলো কোনো ঘটনার ভিডিয়ো সরাসরি ইন্টারনেটে প্রচার। এটি ভিডিয়ো কনটেন্টের একটি প্রকার, যা লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে তথ্য প্রদান করে।
৯. ডিজিটাল কনটেন্ট কীভাবে সংরক্ষণ ও সম্প্রচার করা হয়?
উত্তর: ডিজিটাল কনটেন্ট কম্পিউটারের ডিজিটাল বা এনালগ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। তবে এটি কম্পিউটারে ফাইল আকারে বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্প্রচারিত হতে পারে।
১০. ডিজিটাল কনটেন্টের সুবিধা কী?
উত্তর: ডিজিটাল কনটেন্টের সুবিধাগুলো হলো-
ডিজিটাল কনটেন্ট তথ্য উপস্থাপন ও স্থানান্তর সহজতর করে।
এটি দ্রুত সংরক্ষণ ও শেয়ার করা যায়।
এটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য বহুমুখী তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করে।
১১. ই-বুক বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ই-বুক বা ইলেকট্রনিক বুক হলো মুদ্রিত বইয়ের ইলেকট্রনিক সংস্করণ। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় এতে শব্দ, অ্যানিমেশন ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ইত্যাদি যুক্ত করা সম্ভব। বর্তমানে অনেক ই-বুক কেবল ইলেকট্রনিক মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। এগুলো কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ই-বুক রিডার দিয়ে পড়া
১২. ই-বুকের মাধ্যমে পাঠকদের কী সুবিধা হয়?
উত্তর: ইবুকের মাধ্যমে পাঠকদের যে সকল সুবিধা হয় তা হলো-
ই-বুক দ্রুত ডাউনলোড করে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো স্থানে পড়া সম্ভব।
ব্যবহারিকভাবে এটি সংরক্ষণের জন্য কোনো লাইব্রেরি বা কক্ষের প্রয়োজন নেই, কম্পিউটার বা রিডিং ডিভাইসেই ই-বুক সংরক্ষণ করা যায়।
এমনকি মুদ্রণযোগ্য বলে প্রিন্ট করেও পড়া যায়।
১৩. ই-বুককে কয়টি ভাগে ও কী কী নামে ভাগ করা যায়?
উত্তর: ই-বুককে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো-
পিডিএফ
এইচটিএমএল
ই-পাব
চৌকস ই-বুক এবং
ই-বুক অ্যাপস।
১৪. পিডিএফ বই এর সুবিধা কী?
উত্তর: পিডিএফ (পোর্টেবল ডকুমেন্ট ফরম্যাট) বইগুলো মুদ্রিত বইয়ের হুবহু প্রতিলিপি। এগুলো মুদ্রিত বই-ই তবে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে পড়ার উপযোগী যা সহজে বহনযোগ্য, স্থানান্তরযোগ্য ও আর্থিক সাশ্রয়ী। এগুলো পূর্ণাঙ্গ বই আকারে একসঙ্গে বা অধ্যায় হিসেবেও পাওয়া যায়।
১৫. বই এর ওয়েবসাইট কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাধারণত যেসব ই-বুক অনলাইন তথা ইন্টারনেটে পড়া যায়, সেগুলোকেই বই এর ওয়েবসাইট বলে। এগুলো সচরাচর HTML (Hypertext Markup Language) আকারে প্রকাশিত হয় যা 'যে কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই পড়া যায়।
১৬. ই-পাব সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: মুদ্রিত বইয়ের মতো কিছু বাড়তি সুবিধাযুক্ত ই-বুক হলো ই-পাব (Electronic Publication)। এগুলোতে বই এর কনটেন্ট ছাড়াও পাঠকের নিজের নোট লেখা, শব্দের অর্থ জানা ইত্যাদি সুবিধা থাকে। তবে এগুলো বিশেষ ডিভাইসে যেমন- কিন্ডল বা আইবুক রিডারে পড়া যায়।
১৭. চৌকস ই-বুক বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: চৌকস ই-বুক বলতে বুঝায় মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ই-বুক, যাতে অডিয়ো, ভিডিয়ো এবং কুইজ থাকে। এতে পাঠকের জন্য কুইজের উত্তর করা ও উত্তর যাচাইয়ের সুবিধাও থাকে। এটি ইন্টারঅ্যাকটিভ শিক্ষার অভিজ্ঞতা দেয় এবং ত্রিমাত্রিক ছবিও উপস্থাপন করে। এই বইগুলোকে স্মার্ট ই-বুকও বলা হয়।
১৮. দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা কীভাবে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারে এমন চারটি উপায় লেখ?
উত্তর: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারে উপকৃত হতে পারে এমন চারটি উপায় নিচে প্রদান করা হলো-
শব্দ বা অডিও ডিজিটাল কনটেন্ট কাজে লাগিয়ে এক ধরনের Digital Accessible Information System নামে প্লেয়ার এবং অডিও বুক তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে শব্দ শুনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা বই পড়তে পারবে।
এছাড়া-Braille Device নামে একটি যন্ত্র আছে, যা টেক্সট কনটেন্টকে dot pattern এর প্রতিস্থাপন করতে পারে যাতে টেক্সটগুলো আঙুলের মাধানে অনুভব করে পড়া যায়।
ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের অডিও রেকর্ড শুনেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা শিক্ষাগ্রহণ করতে পারেন।
বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে আগ্রহী মানুষেরা মিলে পাঠ্যবইয়ের সফট কপি তৈরি করে তাতে কণ্ঠ দিয়ে বইগুলো সংরক্ষণ করতে শুরু করেছে যাতে- দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা এ বইগুলো থেকে উপকৃত হতে পারে।
১৯. ই-বুকের জনপ্রিয় ফরম্যাট কোনটি?
উত্তর: ই-বুকের জনপ্রিয় ফরম্যাটগুলোর মধ্যে পিডিএফ এবং ই-পাব উল্লেখযোগ্য। পিডিএফ মুদ্রিত বইয়ের হুবহু প্রতিলিপি হিসেবে পাওয়া যায়। ই-পাব ফরম্যাটে নোট নেওয়া ও শব্দের অর্থ দেখার সুবিধা থাকে। কিছু ই-বুক নির্দিষ্ট ডিভাইস, যেমন কিন্ডল বা আইবুক রিডারে পড়া যায়।
২০. ই-বুক অ্যাপস কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: ই-বুক অ্যাপস আলাদা অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে প্রকাশিত হয়। এগুলো স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে ডাউনলোড করে পড়া যায়। অ্যাপসে ই-বুকের সব কনটেন্ট সহজে উপভোগ করা যায় এবং এটি ব্যবহারবান্ধব। এমনকি এটি কপিরাইটের আওতায় প্রকাশিত হয়।
২১. শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ কী?
উত্তর: শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব, যেমন- উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগ এবং ইন্টারনেট-সক্ষম ডিভাইস। দেশের অনেক জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ সমানভাবে নেই; আবার, ভালো স্পিড পেতে হলে অনেক খরচ করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল।
২২. 'শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণকে সহজ করেছে।'- বিষয়টির ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণকে সহজ করেছে কেননা একজন শিক্ষার্থী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা এবং পাঠ্যবইয়ের তথ্যের সীমাবদ্ধতায় তাদের শেখার চাহিদাকে পূরণ করতে পারে না। আর এ সীমাবদ্ধতা দূর করে শিক্ষা গ্রহণকে সহজ করেছে ইন্টারনেট। একজন শিক্ষার্থী কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে ইন্টারনেটকে জিজ্ঞেস করতে পারে, কোনো বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জনে ডিভিও দেখতে পারে, নিজেদের যাচাই করতে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন কুইজে অংশগ্রহণ করতে পারে, ঘরে বসেই পছন্দের স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম কিনতে পারে এবং পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বই ও পাঠ্যবই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারে।
২৩. শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহারসমূহ উল্লেখ কর।
উত্তর: নিচে শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহারসমূহ উল্লেখ করা হলো-
ই-লার্নিং ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ব্যবহার করে বা ইন্টারনেটে নানা রকম মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষা প্রদান বা প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।
শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে করতে কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে তা ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তরটি জানতে পারবে।
ইন্টারনেটে বিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাতে-কলমে দেখার জন্য ওয়েবসাইট রয়েছে। এছাড়াও অত্যন্ত চমৎকার সাইট রয়েছে যেখানে গণিতের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়।
এছাড়া ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের ফোরাম রয়েছে। যেখানে উৎসাহী মানুষেরা নানান বিষয়ে গ্রুপ তৈরি করে রেখেছেন, তাদের কাছে যেকোন প্রশ্ন জানতে চাওয়া হলে তারা উত্তর দিতে পারেন।
২৪. স্মার্টফোনের তুলনায় ট্যাবলেট ব্যবহার শিক্ষায় কতটা কার্যকর?
উত্তর: স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা গেলেও, এর ছোট স্ক্রিনের কারণে শিক্ষার ক্ষেত্রে তা সীমাবদ্ধ। তবে এর বিকল্প হিসেবে ট্যাবলেট কার্যকর, কারণ এটি ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের মাঝামাঝি ডিভাইস এবং শিক্ষার জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য। বর্তমানে কোম্পানিগুলো ট্যাবলেটে ব্যবহার উপযোগী শিক্ষার অ্যাপ তৈরি করছে।
২৫. বাংলা ভাষায় শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরির অগ্রগতি কতটা?
উত্তর: শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং ট্যাবলেট ব্যবহারের সুযোগ থাকাই মুখ্য নয়, পাশাপাশি প্রয়োজন শিক্ষামূলক কনটেন্ট। যদিও এখনো বাংলায় পর্যাপ্ত শিক্ষামূলক কনটেন্ট নেই, তবে বাংলা ভাষায় শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরির উদ্যোগ সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এগুলো সহজলভ্য হবে বলে আশা করা যায়।
২৬. ইন্টারনেট শিক্ষায় কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: ইন্টারনেট শিক্ষার্থীদের নতুন জগৎ উন্মোচন করতে সাহায্য করে। ইন্টারনেটের সাহায্যে তারা পাঠ্যবই ডাউনলোড করে পড়তে পারে, এতে বই ছিড়ে বা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে না। তাছাড়া, শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন কোর্স ও প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ পায়। তবে, এটি শিক্ষার্থীদের উপর নির্ভর করে তারা কীভাবে এই সুযোগ ব্যবহার করবে।
২৭. বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কীভাবে পাঠ্যবই সহজলভ্য করা হয়েছে?
উত্তর: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দূরদর্শী ব্যক্তিরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঠ্যবইয়ের সফট কপিতে কণ্ঠ সংযোজন করে সংরক্ষণ করা শুরু করেছেন। এতে । করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিরা বইগুলো অডিয়ো ফরম্যাটে শোনার সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে।
২৮. কীভাবে ইন্টারনেট থেকে পাঠ্যবই পাওয়া যায়?
উত্তর: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বইগুলো ইন্টারনেটে NCTB এর ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। এটি শিক্ষার্থীদের হারানো বা নষ্ট হওয়া বই পুনরুদ্ধারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।
২৯. শিক্ষার্থীরা কীভাবে ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে?
উত্তর: শিক্ষার্থীরা যেভাবে ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে তা হলো-
ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার না করে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করা।
গেম খেলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা।
৩০. ওয়েব পেইজ কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ওয়েব পেইজ হলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন দেশের সার্ভারে রাখা ফাইল। এটি এক ধরনের ডকুমেন্ট যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) ও ইন্টারনেটে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। এটি সাধারণত এইচটিএমএল (HTML) দিয়ে তৈরি হয় এবং এতে টেক্সট, ছবি, ভিডিয়ো, অডিয়ো এবং হাইপারলিংক থাকতে পারে।
৩১. ওয়েব পোর্টাল কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ওয়েব পোর্টাল হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের মধ্যে বিভিন্ন লিংক, কনটেন্ট ও সার্ভিস বা সেবার সংগ্রহক যা ব্যবহারকারীদেরকে তথ্য জানানোর জন্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়। ওয়েবসাইটের যে কোনো একটি সার্ভিস ওয়েব পোর্টালের একটি অংশ হতে পারে। একটি পোর্টাল পেইজে বাইরের সোর্স হতে তথ্য উপস্থাপনের ব্যবস্থা থাকে।
৩২. ওয়েব পেইজ, ওয়েবসাইট ও ওয়েব পোর্টালের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: ওয়েব পেইজ হলো একটি নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট যা HTML দিয়ে তৈরি, আর ওয়েবসাইট হলো একাধিক ওয়েব পেইজের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থান, যা ইন্টারনেটে তথ্য বা সেবা প্রদানে ব্যবহৃত হয় এবং ওয়েব পোর্টাল হলো একটি ওয়েবসাইটের মধ্যে বিভিন্ন লিংক, কনটেন্ট ও সেবার সংগ্রহ যা সহজে উপস্থাপিত হয়।
৩৩. ওয়েব পোর্টালের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: বাংলাদেশ সরকারের 'বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন' (www.bangladesh.gov.bd) ওয়েব পোর্টালের একটি উদাহরণ। এটি বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ের সকল ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা সহজে পাওয়া যায় এমন একটি ওয়েব পোর্টাল।
৩৪. ই-কমার্স ওয়েব পোর্টালের দুটি সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: ই-কমার্স ওয়েব পোর্টালের দুটি সুবিধা হলো:
পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে যেখান থেকে প্রয়োজনীয় ও পছন্দমতো পন্য নির্বাচন করা যায়।
পণ্য কেনাবেচার ব্যবস্থা থাকে, যেখানে অর্ডার ও পেমেন্ট সার্ভিস যুক্ত থাকে।
৩৫. ওয়েব সার্ভার ও ওয়েব ক্লায়েন্টের কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ওয়েব সার্ভার একটি বিশেষ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীদের রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে এবং রেসপন্স প্রদান করে। ওয়েব ক্লায়েন্ট (যেমন: ওয়েব - ব্রাউজার) ব্যবহারকারীর ইনপুট নিয়ে সার্ভারের কাছে রিকোয়েস্ট পাঠায় এবং সার্ভারের রেসপন্স ব্যবহারকারীর কাছে প্রদর্শন করে।
৩৬. forms.gov.bd ওয়েবসাইটের কাজ কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: forms.gov.bd হলো একটি ওয়েবসাইট যেখানে বাংলাদেশ সরকারের সকল প্রয়োজনীয় ফরম ওয়েব এনাবেলড ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। যে কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করে এ ঠিকানা থেকে ফরম ডাউনলোড করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতে পারে।
৩৭. মিডলওয়্যার কী এবং এটি কী কাজ করে?
উত্তর: মিডলওয়্যার হলো সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারী এবং সার্ভারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। এটি ডেটা রিকোয়েন্ট ও রেসপন্সের প্রক্রিয়া সহজ করে এবং ডেটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করে। এর সাহায্যে ব্যবহারকারী পূর্বে রক্ষিত ডেটা ইন্টারনেট বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করতে পারে।
৩৮. ওয়েব এনাবেলড ডেটাবেজের সুবিধা কী?
উত্তর: ওয়েব এনাবেলড ডেটাবেজ ইন্টারনেট বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডেটা অ্যাক্সেসের সুবিধা দেয় এটি ব্যবহারকারীদের দূর থেকে ডেটা সার্চ, ভিজিট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাউনলোড করার সুযোগ করে দেয় যেমন- ঘরে বসেই ক্রেতা বিক্রতোর ওয়েব এনাবলেড ডেটাবেজের মাধ্যমে তৈরিকৃত ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস ও পণ্য সার্চ করতে পারে।
৩৯. ওয়েব ক্লায়েন্ট কীভাবে সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করে?
উত্তর: ইন্টারনেট ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে কোনো ওয়েব ক্লায়েন্ট সাধারণত HTTP বা HTTPS প্রোটোকল ব্যবহার করে সার্ভারের কাছে তথ্য বা উপাত্ত চেয়ে অনুরোধ পাঠায়। অনুরোধগুলো সাধারণত ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং অনুরোধের ফলাফল ওয়েব সার্ভার থেকে প্রাপ্ত হয়ে ওয়েব ব্রাউজারেই প্রদর্শিত হয়।.
৪০. TCP/IP প্রোটোকল ওয়েব কমিউনিকেশনে গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: TCP/IP এক ধরনের কমিউনিকেশন প্রোটোকল যা ইন্টারনেটে ব্যবহৃত হয়। এটি ওয়েব ক্লায়েন্ট ও সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এটি ডেটা প্যাকেট তৈরি, ট্রান্সমিশন এবং সঠিক ডেলিভারি নিশ্চিত করে।
৪১. HTTP এবং HTTPS-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য লেখ?
উত্তর: HTTP (Hypertext Transfer Protocol) একটি অরক্ষিত প্রোটোকল যা ডেটা ট্রান্সমিশনে এনক্রিপশন ব্যবহার করে না। অন্যদিকে, HTIPS (Hypertext Transfer Protocol Secure) একটি সুরক্ষিত প্রোটোকল যা SSL/TLS এনক্রিপশন ব্যবহার করে ডেটা নিরাপদ রাখে এবং তৃতীয় পক্ষের অননুমোদিত অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করে।
৪২. ডাউনলোড কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ডাউনলোড হলো দূরবর্তী সিস্টেম থেকে স্থানীয় সিস্টেমে তথ্য পাওয়ার উপায়। অর্থাৎ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট হতে কোনো তথ্য নিজস্ব কম্পিউটার বা ডিভাইসে সংরক্ষণ করা। যেমন: ই-মেইল বা ওয়েবসাইট থেকে কোনো ফাইল নিজের ডিভাইসে সংরক্ষণ বা সেভ করা।
৪৩. আপলোড কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আপলোড হলো স্থানীয় সিস্টেম থেকে ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূরবর্তী কোনো বিস্টেমে তথ্য পাঠানোর প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, ই-মেইলের মাধ্যমে কোনো ফাইল কাউকে পাঠানো হলে তা ই-মেইল সার্ভারে সেভ হয়।
৪৪. ইন্টারনেটকে তথ্যের মহাসমুদ্র বলা হয় কেন?
উত্তর: ইন্টারনেটকে তথ্যের মহাসমুদ্র বলা হয় কারণ এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা নেটওয়ার্কে সংযুক্ত লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার ও সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার। এখানে বিভিন্ন প্রকারের তথ্য, যেমন শিক্ষামূলক, বিনোদন, ব্যবসা, গবেষণা ইত্যাদি সহজে খুঁজে পাওয়া যায় এবং ব্যবহার করা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে এই বিশাল তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করা সম্ভব
৪৫. ওয়েব ব্রাউজার কী? জনপ্রিয় কিছু ওয়েব ব্রাউজারের নাম লিখ।
উত্তর: ওয়েব ব্রাউজার হলো একটি সফটওয়্যার যা ইন্টারনেটের বিভিন্ন ইনফরমেশন বা ওয়েব পেইজ বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) প্রদর্শনের কাজ করে। জনপ্রিয় কয়েকটি ওয়েব ব্রাউজারের নাম হলো-
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার
মজিলা ফায়ারফক্স
সাফারি
ওপেরা
গুগল ক্রোম ইত্যাদি।
৪৬. Web Browsing বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: Web Browsing বলতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ওয়েব সার্ভারে সংরক্ষিত পরস্পর সংযুক্ত ওয়েব পেইজ বা WWW পরিদর্শনের প্রক্রিয়াকে বুঝায়। ওয়েব ব্রাউজিং এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী বিভিন্ন তথ্য নিজের কম্পিউটারে দেখতে এবং সংরক্ষণ করতে পারে।
৪৭. URL কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: URL হলো একটি ওয়েবসাইট বা পেইজের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা। URL এর পূর্ণরূপ Uniform Resources Locator। যেমন: http://www.shikkha.c URL প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত- প্রোটোকল নেইম, হোস্টনেইম এবং ফাইলের অবস্থানসহ নাম।
৪৮. URL এর প্রধান অংশ কয়টি ও কী কী উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর: URL এর প্রধান অংশ তিনটি। যথা:
প্রোটোকলের নাম
হোস্টনেইম ও
ফাইলের অবস্থানসহ নাম।
৪৯. হোম পেইজ (Home page) কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হোম পেইজ হলো কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা ব্যক্তির ওয়েবসাইটের মূল পেইজ। এটি সাধারণত Start page হিসেবে সেট করা থাকে। ব্রাউজারে ওয়েব অ্যাড্রেস টাইপ করার পর প্রথমে যে পেইজ প্রদর্শিত হয় সেই পেইজটিকেই হোম পেইজ বলে।
৫০ বুকমার্ক (Bookmark) কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বুকমার্ক (Bookmark) হলো একটি লিস্ট বা তালিকা, যেখানে প্রিয় বা প্রয়োজনীয় ওয়েব পেইজ সংরক্ষণ করা হয়। বুকমার্ক থেকে ওয়েব পেইজের নাম সিলেক্ট করে সরাসরি সেই নির্দিষ্ট ওয়েব পেইজে যাওয়া যায়।
৫১. Reload/Refresh কমান্ড কেন দরকার?
উত্তর: যে সকল ওয়েব পেইজের ডেটা অনবরত পরিবর্তন হয় সে সকল ওয়েব পেইজ পড়ার সময় মাঝ পথে কোনো তথ্য পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা দেখতে Reload Refresh কমান্ড দিতে হয়। ডাইনামিক ওয়েব পেইজের জন্য এই কমান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা ব্যবহারকারীকে ওয়েব পেইজের সর্বশেষ ডেটা দেখায়।
৫২. সার্চ (Search) কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইন্টারনেটে কোনো কিছু খোঁজাকে সার্চ (Search) বলে। এটি ব্যবহারকারীকে ওয়েবসাইট, ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিয়ো বা অন্য যেকোনো ডেটা খুঁজে পেতে সাহায্য করে। সার্চের কাজটি সম্পন্ন করতে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন, যেমন: Google, Yahoo বা Bing ব্যবহার করা হয়।
৫৩. সার্চ ইঞ্জিন কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: সার্চ ইঞ্জিন হলো একটি সফটওয়্যার টুল, যা-ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করে। প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিনের নিজস্ব অ্যালগরিদম এবং ফিচার রয়েছে যা ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট ধরণের তথ্য দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করে। উদাহরণ:
Yahoo
Bing ইত্যাদি।