শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ৪
স্প্রেডশিটের ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ৪
স্প্রেডশিটের ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. মানুষের গণনা প্রযুক্তির বিবর্তন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কখনো পাথরে কখনো গাছের বাকলে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দিয়ে মানুষ হিসাব রাখার চেষ্টা করত। এ চেষ্টা থেকেই মানুষ আবিষ্কার করে অ্যাবাকাস। এখন থেকে ৫০ বছর আগে মানুষের কাছে কাগজ- কলমই ছিল হিসাব করা ও সংরক্ষণের প্রধান উপায়। প্রযুক্তিগত বিকাশে ক্যালকুলেটরের আবিষ্কার মানুষকে হিসাবের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেয়। তবুও জটিল ও দীর্ঘ হিসাবের সমস্যা থেকেই যায়। এ সকল সমস্যা নিরসন হয় কম্পিউটার আবিষ্কারের পর।
২. "ক্যালকুলেটরের চেয়ে স্প্রেডশিট প্রোগ্রামে কাজ করা সুবিধাজনক" আলোচনা কর।
উত্তর: "ক্যালকুলেটরের চেয়ে স্প্রেডশিট প্রোগ্রামে কাজ করা সুবিধাজনক" নিচে তা আলোচনা করা হলো-
স্প্রেডশিটে দৈনন্দিন হিসাব সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায় যা ক্যালকুলেটরে করা সম্ভব নয়।
স্প্রেডশিটে প্রতিবেদন তৈরি করা যায়। ক্যালকুলেটরে প্রতিবেদন তৈরি করা যায় না। স্প্রেডশিটে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করা যায়।
স্প্রেডশিটে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।
তথাকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায় যা ক্যালকুলেটরে সম্ভব নয়।
৩. স্প্রেডশিট বলতে কী বুঝ? উদাহরণ দাও।
উত্তর: স্প্রেডশিটের আভিধানিক অর্থ হলো ছড়ানো বড়ো মাপের কাগজ। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিশাল বিশাল হিসাব সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি হলো স্প্রেডশিট। এটি একটি ইলেকট্রনিক টেবিল যা তথ্য সংগঠিত করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং হিসাব করতে ব্যবহৃত হয়। এটি রো এবং কলামে বিভক্ত থাকে এবং প্রতিটি সেল একটি নির্দিস্ট ডেটা ধারণ করে। কয়েকটি স্প্রেডশিট সফটওয়্যার হলো মাইক্রোসফট এক্সেল, ওপেন অফিস ক্যালক, কেস্প্রেড ইত্যাদি।
৪. প্রথম স্প্রেডশিট সফটওয়্যার কোনটি এবং এটি কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: প্রথম স্প্রেডশিট সফটওয়্যার হলো VisiCalc, যা সত্তর দশকের শেষের দিকে অ্যাপল কোম্পানি তৈরি করেছিল। এটি ব্যবসায়িক উপাত্ত ব্যবস্থাপনা সহজ করার জন্য উদ্ভাবিত হয়। পরবর্তীতে মাইক্রোসফট এক্সেল, ওপেন অফিস ক্যালক ও কেম্প্রেডের মতো উন্নত স্প্রেডশিট সফটওয়্যার বাজারে আসে।
৫. বর্তমানে স্প্রেডশিটের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কেন?
উত্তর: স্প্রেডশিটের ব্যবহার করে তথ্য খুব সহজে সংগঠিত করা যায়, তথ্য বিশ্লেষণ করা সহজ হয় এবং হিসাবের কাজ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা যায়। এ সফটওয়্যারে সূত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় হিসাবের কাজ সয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও, স্প্রেডশিটে বিভিন্ন ধরনের চার্ট ও গ্রাফ তৈরি করা যায় যা তথ্য উপস্থাপনকে আরও সহজ করে। এ সকল কারণে স্প্রেডশিটের ব্যবহার বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
৬. মাইক্রোসফট এক্সেল এর ২টি ব্যবহারিক ক্ষেত্র লিখ।
উত্তর: মাইক্রোসফট এক্সেল হলো একটি স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম। এটি মাইক্রোসফট কোম্পানি কর্তৃক উদ্ভাবিত এক্সেল প্রোগ্রাম। এর সাহায্যে গাণিতিক হিসাব-নিকাশের কাজ সহজ করা যায়। মাইক্রোসফট এক্সেলের বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি ব্যবহারিক ক্ষেত্র নিম্নরূপ:
দৈনন্দিন হিসাব সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ
বেতনের হিসাব তৈরিকরণ।
৭. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্প্রেডশিটের ব্যবহার ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্প্রেডশিটের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতনভোগীদের বেতন তালিকা তৈরি, বাজেট তৈরি, বিক্রয় বিশ্লেষণ, স্টক ম্যানেজমেন্ট, আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে স্প্রেডশিট ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি, ডেটাবেজ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন তৈরিতে স্প্রেডশিট ব্যবহার করা হয়।
৮. স্প্রেডশিট সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধাগুলো কী কী?
উত্তর: স্প্রেডশিট সফটওয়্যারের সুবিধা অনেক। এটি ব্যবহার করে বিশাল পরিমাণ উপাত্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করা যায়। এটি স্বয়ংক্রিয় সূত্র ব্যবহারের সুবিধা দেয়, ফলে বারবার হিসাব করতে হয় না। এছাড়া গ্রাফ বা চার্ট তৈরি করে উপাত্ত চিত্ররূপে উপস্থাপন করা যায় এবং ঠিকানা বা ই-মেইল ব্যবস্থাপনাও সহজে করা সম্ভব হয়।
৯. মাইক্রোসফট এক্সেল এর বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তর: মাইক্রোসফট এক্সেল হলো একটি শক্তিশালী স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম যা তথ্য সংগঠিত করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং হিসাব করতে ব্যবহৃত হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে:
তথ্য সারণিতে সাজানো
বিভিন্ন ধরনের সূত্র ব্যবহার করে হিসাব করা,
চার্ট ও গ্রাফ তৈরি করা,
ডেটা ফিল্টার করা এবং সাজানো,
টেবিল ব্যবহার করে জটিল ডেটা বিশ্লেষণ করা ইত্যাদি।
১০. মাইক্রোসফট এক্সেল এ নতুন ওয়ার্কশিট খোলা হয় কিভাবে?
উত্তর: মাইক্রোসফট এক্সেল এ নতুন ওয়ার্কশিট খোলার একাধিক উপায় আছে। প্রথমত অফিস বাটনে ক্লিক করে নিউ অপশনটি ক্লিক করলে নতুন ওয়ার্কশিট তৈরি হবে। এছাড়াও শর্টকাট কী কম্বিনেশন Ctrl+N টিপেও নতুন ওয়ার্কশিট খোলা সম্ভব।
১১. মাইক্রোসফট এক্সেল এ অফিস বাটনের মাধ্যমে কি কি কাজ করা যায়?
উত্তর: মাইক্রোসফট এক্সেলের অফিস বাটন হলো এই অ্যাপ্লিকেশনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্যানেল। এই বাটনটি ক্লিক করে নতুন ওয়ার্কশিট খোলা, বিদ্যমান ওয়ার্কশিট খোলা, ওয়ার্কবুক সেভ করা, প্রিন্ট করাসহ আরও অনেক কাজ করা সম্ভব। অফিস বাটনে ক্লিক করলে একটি ড্রপডাউন মেনু আসে, যেখান থেকে উপরে উল্লেখিত কাজগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি কাজ নির্বাচন করা যায়। ।
১২. স্প্রেডশিট ও ওয়ার্কশিটের মধ্যে পার্থক্য লিখ।
উত্তর: স্প্রেডশিট ও ওয়ার্কশিটের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
স্প্রেডশিট
এক্সেল প্রোগ্রাম চালু করলে প্রথমে যে স্ক্রিনটি পাওয়া যায় সেটি হলো স্প্রেডশিট।
একটি স্প্রেডশিটে একাধিক ওয়ার্কশিট থাকে।
সাধারণত একটি স্প্রেডশিটে ৩টি ওয়ার্কশিট ডিফল্ট হিসেবে থাকে।
ওয়ার্কশিট
এক্সেল প্রোগ্রামের সুবিশাল পাতার যে অংশে কাজ করা হয় সেটিই হলো ওয়ার্কশিট।
ওয়ার্কশিট হলো স্প্রেডশিটের অংশ।
প্রয়োজন অনুসারে ওয়ার্কশিটের সংখ্যা বাড়ানো যায়।
১৩. মাইক্রোসফট এক্সেল ২০০৭ উইন্ডোর পরিচিতি বর্ণনা কর।
উত্তর: স্প্রেডশিট মাইক্রোসফট এক্সেল ২০০৭ উইন্ডোর পরিচিতি নিচে আলোচনা করা হলো-
টাইটেল বার: এক্সেল উইন্ডোর একেবারে উপরে ওয়ার্কবুকের শিরোনাম লেখা থাকে। এটাকে টাইটেল বার বলা হয়।
অফিস বাটন: এক্সেল উইন্ডোর উপরের বাম দিকে কোণার দিকের বাটনটি হলো অফিস বাটন।
রিবন: মাইক্রোসফট এক্সেলে বিভিন্ন কমান্ডকে গুচ্ছাকারে সাজানো হয়েছে। এগুলোকে একত্রে রিবন বলা হয়।
ফর্মুলা বার: রিবনের ঠিক নিচেই এর অবস্থান। এখানে সেলের অবস্থান বা সেল রেফারেন্স প্রদর্শন করা হয়।
শিট ট্যাব': একটা ওয়ার্কবুকে যতগুলো ওয়ার্কশিট থাকে শিট ট্যাবে সেগুলো দেখানো হয়।
১৪. নতুন একটি ওয়ার্কশিট খোলার পদ্ধতি লিখ।
উত্তর: নতুন একটি ওয়ার্কশিট খোলার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
মাইক্রোসফট এক্সেল ওপেন করার পর Office button-এ মাউস Click করতে হবে।
সেখানে একাধিক Option এর মধ্য থেকে New option-টি তে Click করতে হবে।
এতে একটি নতুন ওয়ার্কশিট Open হবে।
এছাড়া কি-বোর্ডের মাধ্যমে Ctrl + n চেপে নতুন ওয়ার্কশিট খোলা যায়।
এ প্রক্রিয়ায় একটি নতুন ওয়ার্কশিট খোলা সম্ভব। একই সাথে একাধিক ওয়ার্কশিটও খোলা যেতে পারে।
১৫. স্প্রেডশিট ব্যবহার করে মৌলিক গাণিতিক কাজ করা যায়- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্প্রেডশিট হলো একটি শক্তিশালী টুল যা মৌলিক গাণিতিক কাজকে সহজ করে দেয়। এতে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, শতকরা হিসাব, গড় নির্ণয় এবং আরও অনেক কিছু করা যায়। স্প্রেডশিটে সূত্র ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক্সেল ব্যবহার করে দুটি সংখ্যার যোগফল, কোনো তালিকার সংখ্যাগুলোর গড় বা কোনো বিনিয়োগের উপর সুদ নির্ণয় করা সম্ভব।
১৬. স্প্রেডশিটে দুটি ভিন্ন সেলের কনটেন্ট যোগ করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্প্রেডশিটে দুটি ভিন্ন সেলের কনটেন্ট যোগ করার জন্য যে সেলে ফলাফল প্রদর্শিত করতে হবে সেই সেলে গিয়ে চিহ্ন দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর যোগ করতে চাওয়া সেল দুটির নাম লিখতে হবে এবং এর মাঝে '+' চিহ্ন দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি A1 এবং B1 সেলের মান যোগ করে C1 সেলে দেখতে চাওয়া হয়, তাহলে C1 সেলে 'A1+B1' লিখে এন্টার চাপতে হবে।
১৭. স্প্রেডশিটে অনেকগুলো সেলের মান একবারে যোগ করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্প্রেডশিটে অনেকগুলো সেলের মান একবারে যোগ করার জন্য SUM ফাংশন ব্যবহার করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, A1 থেকে A10 পর্যন্ত সবগুলো সেলের মান যোগ করতে চাইলে যে সেলে ফলাফল দেখতে চাই সেই সেলে =SUM(A1:A10)' লিখে এন্টার চাপতে হবে। এখানে A1:A10 বলতে A1 থেকে A10 পর্যন্ত সবগুলো সেলকে বুঝায়।
১৮. স্প্রেডশিটে দুটি ভিন্ন সেলের কনটেন্ট বিয়োগ করার পদ্ধতিটি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্প্রেডশিটে দুটি ভিন্ন সেলের কনটেন্ট বিয়োগ করার জন্য যে সেলে ফলাফল প্রদর্শিত করতে হবে সেই সেলে গিয়ে চিহ্ন দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর বিয়োগ করতে চাওয়া সেল দুটির নাম লিখতে হবে এবং এর মাঝে'-' চিহ্ন দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি A1 থেকে B1 সেলের মান বিয়োগ করে C1 সেলে দেখতে চাওয়া হয়, তাহলে C1 সেলে '=A1 - B1' লিখে এন্টার চাপতে হবে।
১৯. স্প্রেডশিটে কিভাবে উপাত্ত থেকে ডায়াগ্রাম প্রস্তুত করা হয়?
উত্তর : স্প্রেডশিটে উপাত্ত বা ডেটা থেকে বিভিন্ন ধরনের ডায়াগ্রাম তৈরি করা যায়। প্রথমে যে ডেটা থেকে ডায়াগ্রাম তৈরি করা হবে সেই ডেটাগুলো সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ইনসার্ট ট্যাবে গিয়ে চার্ট গ্রুপে ক্লিক করলে বিভিন্ন ধরনের চার্টের অপশন থেকে একটি নির্বাচন করা হলে ডায়াগ্রাম তৈরি হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো তথ্যের পরিবর্তন দেখাতে চাইলে লাইন চার্ট ব্যবহার করা যায় অথবা বিভিন্ন ক্যাটাগরির তুলনা করতে বার চার্ট ব্যবহার করা যায়।