শ্রেণি : একাদশ - দ্বাদশ || অধ্যায় - ২
কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং
জ্ঞান ও অনুধাবন মুলক প্রশ্ন
শ্রেণি : একাদশ - দ্বাদশ || অধ্যায় - ২
কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং
জ্ঞান ও অনুধাবন মুলক প্রশ্ন
জ্ঞানমুলক প্রশ্ন
১. ডেটা কমিউনিকেশন কী?
উত্তর: ডেটা কমিউনিকেশন হলো উৎস (প্রেরণকারী) ও গ্রহণকারীর মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা।
২. ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড কী?
উত্তর: এক ডিভাইস হতে অন্য ডিভাইসে ডেটা বিটের বিন্যাসের মাধ্যমে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াই হলো ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড।
৩. প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে বিট বিন্যাস সমান্তরালভাবে এক ডিভাইস হতে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তর হয় তাই প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন।
৪. সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যেকোনো দূরত্বে অবস্থিত প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে ডেটার বিট বিন্যাস অনুক্রমিক বা ধারাবাহিকভাবে এক বিটের পর অপর একটি বিট স্থানান্তরিত হলে তাকে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে।
৫. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে প্রেরক যখন খুশি তখন ডেটা প্রেরণ করতে পারে, গ্রাহক সবসময়েই সেই ডেটা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে সেটিই হচ্ছে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন।
৬. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: যে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে বিরতিহীনভাবে প্রেরক যন্ত্র থেকে গ্রাহক যন্ত্রে ডেটা পাঠানো যায় তাই হচ্ছে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন।
৭. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন কী?
উত্তর: অ্যাসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাস এর একটি মিশ্র পদ্ধতিই হচ্ছে আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন।'
৮. ডেটা ট্রান্সমিশন স্পীড/ ব্যান্ডউইথ কী?
উত্তর: প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ ডেটা এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় অর্থাৎ ডেটা স্থানান্তরের হারই ব্যান্ডউইথ।
৯. ন্যারোব্যান্ড কী?
উত্তর: যে ব্যান্ডের গতি ৪৫-৩০০ bps এর মধ্যে তাকে ন্যারো ব্যান্ড বলে।
১০. ভয়েস ব্যান্ড কী?
উত্তর: যে ব্যান্ডের গতি ১২০০-৯৬০০ bps এর মধ্যে তাকে ভয়েস ব্যান্ড বলে।
১১. ব্রডব্যান্ড কী?
উত্তর: 1 Mbps হতে আরম্ভ করে অনেক উচ্চগতি সম্পন্ন (যেমন: 1 Gbps) ডেটা স্থানান্তরের ব্যান্ড হলো ব্রডব্যান্ড।
১২. ডেটা ট্রান্সমিশন মোড কী?
উত্তর: দুটি ডিভাইসের মধ্যে তথ্য বা ডেটা প্রবাহের দিক নির্দেশকে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড বলে।
১৩. সিমপ্লেক্স মোড কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে শুধু একদিকে ডেটা পাঠানো সম্ভব হয়, প্রেরক শুধু ডেটা প্রেরণ করে এবং গ্রাহক শুধু ডেটা গ্রহণ করে সেটিই হচ্ছে সিমপ্লেক্স মোড। যেমন- মাউস, পেজার ইত্যাদি।
১৪. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড কী?
উত্তর: যে ব্যবস্থাপনায় দু'টি ডিভাইসের মধ্যে উভয়ের দিকেই ডেটা প্রবাহ করা হয় তাই হাফ-ডুপ্লেক্স মোড। যেমন- ওয়াকিটকি, ফ্যাক্স, এস.এম.এস প্রেরণ ইত্যাদি হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে চলে।
১৫. ফুল-ডুপ্লেক্স কী?
উত্তর: যে ব্যবস্থাপনায় দুটি ডিভাইসের মধ্যে একই সাথে ডেটা আদান-প্রদান করা যায় তাই ফুল-ডুপ্লেক্স মোড। যেমন- টেলিফোন, মোবাইল ইত্যাদি।
১৬. ইউনিকাস্ট মোড কী?
উত্তর: যে ব্যবস্থায় একটি প্রেরকের কাছ থেকে শুধু একটি গ্রাহকই ডেটা গ্রহণ করতে পারে তাই হলো ইউনিকাস্ট মোড।
১৭. ব্রডকাস্ট মোড কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে শুধু একজন প্রেরক থাকে, কিন্তু ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের আওতাধীন সব গ্রাহকই ডেটা গ্রহণ করতে পারে তাই ব্রডকাস্ট মোড।
১৮. মাল্টিকাস্ট মোড কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে শুধু একজন প্রেরক থাকে, কিন্তু ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের আওতাধীন শুধুমাত্র অনুমোদিত সদস্যরা ডেটা গ্রহণ করতে পারে তাই মাল্টিকাস্ট মোড।
১৯. ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম কী?
উত্তর: ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে প্রেরক থেকে গ্রাহক পর্যন্ত যেসব সংযোগ স্থাপন করা হয় তাই ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম বা চ্যানেল।
২০. কো-এক্সিয়েল ক্যাবল কী?
উত্তর: কো-এক্সিয়েল ক্যাবল মূলত তামা বা কপার-নির্মিত তিন স্তর বিশিষ্ট তারের ক্যাবল।
২১. থিননেট ক্যাবল কী?
উত্তর: থিননেট ক্যাবল হলো হালকা ও নমনীয় তার। এটি 10BASE-2 নামেও পরিচিত।
২২. থিকনেট ক্যাবল কী?
উত্তর: থিকনেট ক্যাবল হলো ভারী ও নন-ফ্লেক্সিবল ক্যাবল। এটি 10BASE-5 নামেও পরিচিত।
২৩. টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল কী?
উত্তর: দুটি পরিবাহী তারকে পরস্পর সুষমভাবে প্যাঁচিয়ে যে ক্যাবল তৈরি করা হয় তাই টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল।
২৪. STP কী?
উত্তর: Shielded Twisted Pair ক্যাবল।
২৫. UTP কী?
উত্তর: Unshielded Twisted Pair ক্যাবল।
২৬. ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল কী?
উত্তর: ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল হলো বিশেষভাবে পরিশুদ্ধ কাচের তৈরি অত্যন্ত সূক্ষ্ম তত্ত্ব বিশেষ যার মধ্যে আলোর পূর্ণঅভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে থাকে।
২৭. কোর কী?
উত্তর: ফাইবার অপটিক ক্যাবলের কেন্দ্রের যে অংশের প্রতিসরাংক বেশি সেই অংশই হলো কোর।
২৮. ক্ল্যাড কী?
উত্তর: ফাইবার অপটিক ক্যাবলের কেন্দ্রের যে অংশের প্রতিসরাংক কম সেই অংশই হলো ক্ল্যাড।
২৯. জ্যাকেট কী?
উত্তর: ফাইবার অপটিক ক্যাবলের সবচেয়ে বাইরের অংশকে জ্যাকেট বলে।
৩০. তারবিহীন মাধ্যম কী?
উত্তর: কোনো ধরনের মাধ্যম ছাড়া যখন প্রেরক ও গ্রাহকযন্ত্রের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা হয় সেটিই তারবিহীন মাধ্যম বা ওয়্যারলেস মিডিয়াম।
৩১. রেডিও ওয়েভ কী?
উত্তর: রেডিও ওয়েভ হলো ৩ কিলোহার্টজ থেকে ৩০০ গিগাহার্টজের মধ্যে সীমিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম।
৩২. মাইক্রোওয়েভ কী?
উত্তর: মোটামুটিভাবে ১ গিগাহার্টজ হতে ১০০ গিগাহার্টজের ভিতরে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডই হলো মাইক্রোওয়েভ।
৩৩. ইনফ্রারেড কী?
উত্তর: 300 GHz হতে 430 TH2 পর্যন্ত ফ্রিকোয়েন্সিকে ইনফ্রারেড বলে।
৩৪. স্যাটেলাইট কী?
উত্তর: স্যাটেলাইট হলো কৃত্রিম উপগ্রহ, যা ভূ-পৃষ্ঠ হতে ৩৪০০০ কি মি. উর্ধ্বাকাশে স্থাপন করা হয় ফলে পৃথিবীর অক্ষে ঘূর্ণনের সমান গতিতে পৃথিবীকে পরিক্রমণ করতে পারে।
৩৫. হটস্পট কী?
উত্তর: হটস্পট এক ধরনের ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক একসেস পয়েন্ট যা দ্বারা মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, পিডিএ, ট্যাব, নোটবুক ইত্যাদিতে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করে যায়।
৩৬. ব্লুটুথ কী?
উত্তর: ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং জগতে ব্লুটুথ হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যা স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তার-বিহীনভাবে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করে থাকে।
৩৭. Wi-Fi কী?
উত্তর: ওয়াই-ফাই হলো বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, যেটা উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারসহ কম্পিউটারের লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে ডেটা আদান-প্রদান করে থাকে।
৩৮. WiMax কী?
উত্তর: WiMax দ্রুতগতির যোগাযোগ প্রযুক্তি, যেটি প্রচলিত DSL এবং তারযুক্ত ইন্টারনেটের পরিবর্তে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে থাকে।
৩৯. পিকোনেট কী?
উত্তর: ব্লু-টুথ প্রযুক্তির সাহায্যে যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয় তার মৌলিক উপাদান হলো পিকোনেট।
৪০. রোমিং কী?
উত্তর: যে মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হয় সেটির কভারেজ এরিয়ার বাইরে গিয়েও অনবরত ডেটা সার্ভিস পাওয়াকে
রোমিং বলা হয়।
৪১. GSM কী?
উত্তর: GSM বা Global System for Mobile Communication জনপ্রিয় মোবাইল টেলিফোন সিস্টেম।
৪২. CDMA কী?
উত্তর: CDMA হলো একটি চ্যানেল অ্যাকসেস মেথড যা কি-না বিভিন্ন ধরনের রেডিও কমিউনিকেশন প্রযুক্তি দ্বারা বাস্তবায়িত হয়।
৪৩. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) কী?
উত্তর: কোনো ব্যক্তির দৈনন্দিন ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়, তাই পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা PAN।
৪৪. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) কী?
উত্তর: লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক হলো একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যা একটি সীমিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে একাধিক কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইসকে (যেমন প্রিন্টার, সার্ভার ইত্যাদি) সংযুক্ত করে।
৪৫. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN) কী?
উত্তর: মেট্রোপলিটন এরিয়া বলতে একটি শহর বা ছোট অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়, এরকম একটি বড় এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কতকগুলো কম্পিউটার নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক হলো MAN।
৪৬. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN) কী?
উত্তর: ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক হলো একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যা একটি বিশাল ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে। এটি মূলত শহর, দেশ বা এমনকি মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত একাধিক ছোট নেটওয়ার্ক, যেমন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) এবং মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN)-কে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করে।
৪৭. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং হলো দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে সংযোগ ব্যবস্থা।
৪৮. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: পৃথক সার্ভার কম্পিউটার ব্যতীত দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে রিসোর্স শেয়ার করার জন্য যে নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তাই পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক।
৪৯. ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: একাধিক ক্লায়েন্ট/ওয়ার্কস্টেশন ও একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক হলো ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক।
৫০. হাইব্রিড নেটওয়ার্ক কী?
উত্তর: পিয়ার-টু-পিয়ার ও ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক হলো হাইব্রিড নেটওয়ার্ক।
৫১. মডেম কী?
উত্তর: মডেম হচ্ছে একটি নেটওয়ার্ক ডিভাইস যা মডুলেশন ও ডিমডুলেশনের মাধ্যমে এক কম্পিউটারের তথ্যকে অন্য কম্পিউটারে পৌছে দেয়।
৫২. মডুলেশন কী?
উত্তর: ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ সংকেতে রূপান্তর করার পদ্ধতিই হলো মডুলেশন।
৫৩. ডিমডুলেশন কী?
উত্তর: অ্যানালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করার পদ্ধতিই হলো মডুলেশন।
৫৪. হাব কী?
উত্তর: একটি কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটার বা ডিভাইসের নেটওয়ার্কিং করার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সেটিই হচ্ছে হাব।
৫৫. সুইচ কী?
উত্তর: সুইচ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরির বিশেষ ডিভাইস যা কোনো সংকেতকে ব্রডকাস্ট করে না, সংঘর্ষে এড়ানোর জন্য MAC এড্রেস ব্যবহার করে শুধু নির্দিষ্ট পোর্টে সিগন্যালটি পাঠায়।
৫৬. রাউটার কী?
উত্তর: একই প্রোটোকলভুক্ত দুই বা ততোধিক স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কের জন্য সংযোগ স্থাপন করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাই রাউটার।
৫৭. গেটওয়ে কী?
উত্তর: যে যন্ত্র ভিন্নধর্মী প্রটোকলবিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয় সেটিই হচ্ছে গেটওয়ে।
৫৮. ব্রিজ কী?
উত্তর: একাধিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করে একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক গঠনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ডিভাইসকে
ব্রিজ বলা হয়।
৫৯. রিপিটার কী?
উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ক্যাবলের মাধ্যমে যুক্ত কম্পিউটারটি যদি দূরে হয় তাহলে এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডেটা সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়। এ দুর্বল সংকেতকে সবল করা এবং গন্তব্য স্থানের দিকে প্রেরণ করার জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসকে বলা হয় রিপিটার।
৬০. NIC কী?
উত্তর: যে যন্ত্র কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিভাইসকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য আলাদা করে ব্যবহার করতে হয় তাই হচ্ছে নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)।
৬১. নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?
উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর সাথে অপর কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক - যন্ত্রপাতির সংযোগ ব্যবস্থা বা কৌশলই হলো নেটওয়ার্ক টপোলজি।
৬২. বাস টপোলজি কী?
উত্তর: যে টপোলজিতে একটি সংযোগ লাইনের সাথে সব ধরনের নোড অর্থাৎ কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি বা ডিভাইস ইত্যাদি সংযুক্ত থাকে তাই বাস টপোলজি।
৬৩. রিং টপোলজি কী?
উত্তর: যে টপোলজিতে রিং-এর ন্যায় কম্পিউটার নোডগুলো চক্রাকার পথে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করে তাই রিং টপোলজি।
৬৪. স্টার টপোলজি কী?
উত্তর: যে টপোলজিতে কম্পিউটার বা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন- প্রিন্টার সরাসরি একটি হাৰ বা সুইচের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে তাই স্টার টপোলজি।
৬৫. ট্রি টপোলজি কী?
উত্তর: যে টপোলজিতে কম্পিউটার বা নোডগুলো পরস্পরের সাথে গাছের শাখা-প্রশাখার ন্যায় বিন্যস্ত ও যুক্ত থাকে তাই হচ্ছে ট্রি টপোলজি।
৬৬. মেশ টপোলজি কী?
উত্তর: যে টপোলজিতে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে, তাই মেশ টপোলজি।
৬৭. হাইব্রিড টপোলজি কী?
উত্তর: স্টার, রিং, বাস, মেশ প্রভৃতি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে যে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাই হাইব্রিড টপোলজি।
৬৮. Cloud computing কী?
উত্তর: নিজস্ব ছোট্ট কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে একটি বিশালাকার কম্পিউটার ভাড়া করে যথেচ্ছা ব্যবহার এবং যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেই কম্পিউটারে সংরক্ষণের ধারণাটি হলো ক্লাউড কম্পিউটিং।
অনুধাবনমুলক প্রশ্ন
১. কমিউনিকেশন সিস্টেম বলতে কী বুঝ?
উত্তর: কমিউনিকেশন (Communication) বা যোগাযোগ কতকগুলো উপাদানের সুসমন্বয়ে কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা যন্ত্রের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের একটি প্রক্রিয়া। এটি প্রেরক, প্রাপক, যোগাযোগ-মাধ্যম এবং কিছু যন্ত্রপাতির মাধ্যমে মৌখিক কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের তথ্য বা বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
২. মডুলেশন ও ডিমডুলেশনের মধ্যে পার্থক্য লিখ।
উত্তর: মডুলেশন ও ডিমডুলেশনের মধ্যে পার্থক্য:
মডুলেশন
ডিজিটাল, সংকেতকে এনালগ সংকেতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে মডুলেশন বলে।
ডিজিটাল সংকেত পরিবর্তিত হয়ে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ রূপান্তর হয়।
ডিমডুলেশন
এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে ডিমডুলেশন বলে।
এনালগ সংকেত পরিবর্তিত হয়ে (0, 1) বা ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর হয়।
৩. "ডেটা আদান-প্রদানে মডুলেশন-ডিমডুলেশন গুরুত্বপূর্ণ"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ডেটা আদান-প্রদানে মডুলেশন, ডিমডুলেশন গুরুত্বপূর্ণ। ডেটা কমিউনিকেশনের জন্য ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ সংকেতে এবং অ্যানালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করতে হয়। কেননা কম্পিউটারে প্রদত্ত ডেটা ডিজিটাল সংকেত এবং টেলিফোন লাইনের মধ্য দিয়ে আদান-প্রদান হয় অ্যানালগ সংকেত। তাই মডুলেশন, ডিমডুলেশন প্রয়োজন হয়।
৪. ব্যান্ডউইথ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: বর্তমান বিশ্বে আমাদের সবারই কম-বেশি ইন্টারনেট এবং তার গতি বা স্পিড সম্পর্কে একটি ধারণা আছে। এই 'ইন্টারনেট' - এর গতি বা স্পিড তার ব্যান্ডউইথের উপর নির্ভরশীল। প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ ডেটা এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় তাকে অর্থাৎ ডেটা স্থানান্তরের হারকে ব্যান্ডউইথ বলে। ব্যান্ডউইথ সাধারণত bit per second (bps) -এ হিসাব করা হয়।
৫. ভয়েসব্যান্ড বলতে কী বুঝ?
উত্তর: ১২০০ থেকে ১৬০০ বিপিএস (bps) বা 9.6 kbps পর্যন্ত ডেটা স্থানান্তরের ব্যান্ডউইথকে ভয়েসব্যান্ড বলা হয়। এটি সাধারণত টেলিফোন সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। টেলিফোন লাইনে এ ব্যান্ডউইথের ফ্রিকোয়েন্সি 200-3600 Hz। শ্রাব্যতার সীমার মধ্যে যে ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাংক থাকে তার সবই এই ব্যান্ডউইথে থাকে। কম্পিউটার ও পেরিফেরাল যন্ত্রপাতিতে (ডায়াল-আপ মডেম, স্ক্যানার, প্রিন্টার, মনিটর ইত্যাদি) ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হয়।
৬. 300Mbps ব্যান্ডউইথ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: একক সময়ে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটার বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডেটা স্থানান্তর হারকে ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড বলে। 300 Mbps ব্যান্ডউইথ বলতে বোঝায় প্রতি সেকেন্ডে 300 মেগাবিট ডেটা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তরিত হয়।
৭. সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশনকে বিরতিহীন ডেটা ট্রান্সমিশন বলা হয় কেন?
উত্তর: সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশনকে বিরতিহীন ডেটা ট্রান্সমিশন বলা হয়। কারণ এই পদ্ধতিতে বিরতিহীনভাবে প্রেরক যন্ত্র থেকে গ্রাহক যন্ত্রে ডেটা পাঠানো হয়। যেহেতু প্রেরিত ডেটা ব্যবহার করে গ্রাহক যন্ত্র তার ক্লককে সমন্বিত করে তাই প্রেরণ করার জন্য কোনো ডেটা না থাকলেও আইডল সিকোয়েন্স হিসেবে পূর্ব নির্ধারিত ডেটা পাঠানো হয়।
৮. ডেটা ট্রান্সমিশনে সিনক্রোনাস সুবিধাজনক-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ডেটা ট্রান্সমিশনে সিনক্রোনাস সুবিধাজনক, কারণ-
এই ট্রান্সমিশনের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
বিরতিহীন ট্রান্সমিশন বৈশিষ্ট্যের জন্য এর গতি অপেক্ষাকৃত বেশি।
প্রতিটি ক্যারেকটার ট্রান্সমিশনের জন্য সময় বিরতির প্রয়োজন হয় না।
প্রতিটি ক্যারেকটারের শুরু ও শেষে স্টার্ট ও স্টপ বিট এর প্রয়োজন নেই।
ডেটার আকার ছোট এবং তার ফলে ডেটা-রেট বেশি বলে ট্রান্সমিশনে সময় কম লাগে।
৯. সিনক্রোনাস এবং অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের তুলনা কর।
উত্তর: সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন সিস্টেমে ক্যারেক্টারসমূহকে বুক বাই ব্লক আকারে ডেটা ট্রান্সমিট করে। এতে প্রতিটি ব্লকের মাঝের বিরতি সমান হয়ে থাকে। ট্রান্সমিশন দক্ষতা বেশি এবং কম সময় লাগে।
অপরদিকে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন সিস্টেমে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার আকারে ট্রান্সমিট করে। এখানে ট্রান্সমিট করার মাঝের বিরতি সব সময় সমান হয় না, ট্রান্সমিশনে দক্ষতা কম। এতে বেশি সময় লাগে।
১০. ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় বিরতি সবসময় সমান হয়- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা ব্লক বাই ব্লক ট্রান্সমিট হয়। সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে প্রতিটি বুকে সর্বনিম্ন ৮০টি থেকে সর্বোচ্চ ল ১৩২ টি ক্যারেক্টার থাকে। দুটি ব্লকের মাঝখানের সময় বিরতি সর্বদাই সমান হয়। যেমন- কয়েক মিলি থেকে মাইক্রো সেকেন্ড।
১১. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে প্রাইমারি মেমোরির প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যবস্থায় প্রেরক স্টেশনে প্রথমে ডেটাকে কোনো প্রাইমারি মেমোরিতে সংরক্ষণ করে নেওয়া হয় যাতে ন এখানে ক্যারেক্টারসমূহ ব্লক বাঁধতে পারে। অতঃপর ভেটার ক্যারেক্টারসমূহকে ব্লক আকারে ভাগ করে প্রতিবারে একটি করে বুক ট্রান্সমিট করা হয়। এজন্য সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে প্রাইমারি মেমোরি প্রয়োজন।
১২. কেন সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যয়বহুল? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যবস্থায় প্রেরক স্টেশনে থেকে প্রতিবারে ৪০ থেকে 132টি ক্যারেক্টারের ১টি বুক ট্রান্সমিট করা হয়। সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের প্রতি দুটি ব্লকের মাঝখানে সময় বিরতি ১টি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত থাকে, সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। এ প্রাইমারি স্টোরেজের জন্য সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যয়বহুল।
১৩. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর: অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার গ্রাহকের নিকট ডেটা ট্রান্সফার হয়।
একটি ক্যারেকটারের পর অন্যটি অথবা তার পরবর্তী ক্যারেকটারটি প্রেরণে বা স্থানান্তরে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না।
১৪. ডেটা কমিউনিকেশন মোড বলতে কী বুঝ?
উত্তর: দুটি ডিভাইসের মধ্যে তথ্য বা ডেটা প্রবাহের দিক নির্দেশকে ডেটা ট্রান্সমিশন বা ডেটা কমিউনিকেশন মোড বলে। কোন দিক থেকে কোন দিকে ডেটা প্রবাহ হচ্ছে এবং কতজন ডেটা প্রাপ্তির অধিকারী নয় হচ্ছে মূলত এটিই ডেটা ট্রান্সমিশন বা কমিউনিকেশন মোড। এটিকে ডেটা প্রবাহের ডিরেকশনাল মুড হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
১৫. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যে ব্যবস্থাপনায় দু'টি ডিভাইসের মধ্যে উভয়ের দিকেই ডেটা প্রবাহ করা হয় তাই হাফ-ডুপ্লেক্স মোড। এতে ডেটা এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে পৌছানোর পর বিপরীত প্রান্তের ডেটা শুরুর দিকের প্রান্তে প্রবাহিত করে। যেমন- ওয়াকিটকি, ফ্যাক্স, এস.এম.এস প্রেরণ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে চলে।
১৬. ডেটা ট্রান্সমিশনে একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা আদান প্রদান করা সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফুল-ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে একই সময়ে ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ডেটা একই সাথে উভয় দিকে আদান-প্রদান করা যায়। অর্থাৎ প্রেরক ও প্রাপক উভয়ই এক সাথে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। বর্তমানে আমরা দ্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলার জন্য যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকি, সেগুলোর প্রায় সবগুলোই ফুল-ডুপ্লেক্স ডিভাইস। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রেরক ও গ্রাহক একই সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
১৭. সম্প্রচারের জন্য যে মোডটি ব্যবহৃত হয় সেটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সম্প্রচারের জন্য সিমপ্লেক্স মোড পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ মোডে ডেটা শুধু এক দিকে প্রেরণ করা যায়। আমরা যখন টেলিভিশন দেখি তখন শুধু দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। এক্ষেত্রে আমরা শুধু ডেটা পাই, পাঠাতে পারি না। অর্থাৎ প্রেরক প্রাপকের কাছে ডেটা পাঠাতে পারে, কিন্তু প্রাপক প্রেরকের কাছে পাঠাতে পারবে না।
১৮. ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম বলতে কী বুঝ?
উত্তর: ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে প্রেরক থেকে গ্রাহক পর্যন্ত যে সকল সংযোগ স্থাপন করা হয় তাই ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম বা চ্যানেল। অথবা উৎস থেকে গন্তব্য পর্যন্ত যার মধ্যে দিয়ে তথ্য প্রবাহিত হয় তাই ডেটা কমিউনিকেশন চ্যানেল বা মাধ্যম। এই চ্যানেল বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রকার মাধ্যম থাকে। রেডিও, টি.ডি, ডিস চ্যানেল ইত্যাদি গ্রাহক পর্যন্ত পৌছানোর জন্য তারযুক্ত বা তারবিহীন যে সংযোগ প্রদান করা হয়, তা হলো মাধ্যম বা মিডিয়াম।
১৯. ক্যাবল মডেমের তুলনায় দ্রুতগতির তারবিহীন হটস্পট প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ক্যাবল মডেমের তুলনায় দ্রুতগতির তারবিহীন হটস্পট প্রযুক্তিটি হলো ওয়াইফাই (Wi-Fi অথবা Wireless Fidelity) Wi-Fi হচ্ছে LAN ভিত্তিক ওয়্যারলেস ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় বহনযোগ্য দিলি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কম্পিউটার এর যন্ত্রপাতির সাথে সহজে ইন্টারনেট যুক্ত করা যায়। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলোকে তারবিহীন উপায়ে সংযুক্ত করার একটি কৌশল হলো Wi-Fi। এটি WLAN এর জন্য IEEE 802.11 প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড। এটি নির্দিষ্ট এলাকা বা হটস্পট এর নেটওয়ার্ক সৃষ্টির জন্য ব্যবহূত হয়।
২০. উঁচু ভবনের উপর টেরিস্ট্রিয়াল ট্রান্সমিটার বসানোর কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাধারণত যেসব জায়গায় ক্যাবল ব্যবহার করার অনুপযোগী সেসব স্থানে টেরিস্ট্রিয়াল ট্রান্সমিটার বসানো হয়। কারণ মাইক্রোওয়েভ সংকেতের মধ্যে বাঁধা থাকলে ডেটা স্থানান্তর হয় না। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন এবং সুষ্ঠু করার জন্য সাধারণত বড় টাওয়ার, উঁচু ভবন বা পাহাড়ে টেরিস্ট্রিয়াল ট্রান্সমিটার এবং রিসিভার বসানো হয়ে থাকে।
২১. ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল বলতে কী বুঝ?
উত্তর: ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল হলো বিশেষভাবে পরিশুদ্ধ কাচের তৈরি অত্যন্ত সূক্ষ্ম তত্ত্ব বিশেষ যার মধ্যে আলোর পূর্ণঅভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে - গমন করে থাকে। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো-
অতি স্বচ্ছতা,
রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা ও
তড়িৎ চৌম্বকীয় প্রভাব মুক্ত।
কোর, ক্ল্যাডিং এবং জ্যাকেট এর সমন্বয়ে - ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল তৈরি। ফাইবার অপটিক কমিউনিকেশনে ডেটা প্রেরণের জন্য আলোক উৎস হিসেবে এল.ই.ডি বা লেজার ব্যবহার করা হয়।
২২. "অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলকে নেটওয়ার্কের ব্যাকবোন বলা হয়"-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল হলো বিশেষভাবে পরিশুদ্ধ কাচের তৈরি অত্যন্ত সূক্ষ্ম তত্ত্ব বিশেষ যার মধ্যে আলোর পূর্ণঅভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে থাকে। এর ব্যান্ডউইথ অত্যন্ত বেশি এবং বিদ্যুৎচুম্বকীয় প্রভাবমুক্ত। প্রতিকূল পরিবেশেও ডেটার নিরাপত্তা রক্ষা হয়। এর মধ্য দিয়ে আলোর গতিতে অর্থাৎ সর্বোচ্চ গতিতে ডেটা ট্রান্সফার হয়। এই দ্রুতগতি এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলকে নেটওয়ার্কের ব্যাকবোন বলা হয়।
২৩. অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা লেখ।
উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা হলো-
আলোর গতিতে অর্থাৎ সর্বোচ্চ গতিতে ডেটা ট্রান্সফার হয়।
ব্যান্ডউইথ অত্যন্ত বেশি।
বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় প্রভাব হতে মুক্ত।
প্রতিকূল পরিবেশেও (যেমন- চাপ, তাপ ইত্যাদি) ডেটার নিরাপত্তা রক্ষা হয়।
দ্রুতগতি ও নিরাপত্তা-বৈশিষ্ট্যের কারণে নেটওয়ার্ক ব্যাকবোন (যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড) হিসেবে ব্যাপকহারে সমাদৃত ও ব্যবহৃত।
২৪. ফাইবার অপটিক্স ক্যাবল ইএমআই (EMI) যুক্ত কেন?
উত্তর: ফাইবার অপটিক্স অন্তরক পদার্থ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় প্রভাব বা EMI মুক্ত। ফাইবার অপটিক্স এর উপাদানগুলো হলো- সোডা, বোরো সিলিকেট, সোডা লাইম সিলিকেট এবং সোডা অ্যালুমিনা সিলিকেট যা অন্তরক পদার্থ। এছাড়াও ফাইবার অপটিক্স এর বহিরাবরণ হিসেবে যে জ্যাকেট ব্যবহার করা হয় তা হলো প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিকও অন্তরক পদার্থ। ফলে ফাইবার অপটিক্স সর্বদাই EMI মুক্ত থাকে।
২৫. ডেটা পরিবহনে ফাইবার অপটিক ক্যাবল নিরাপদ কেন?
উত্তর: ফাইবার অপটিক ক্যাবল হলো বিশেষভাবে পরিশুদ্ধ কাচের তৈরি অত্যন্ত সূক্ষ্ম তন্তু বিশেষ যার মধ্যে আলোর পূর্ণঅভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে থাকে। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো-
অতি স্বচ্ছতা,
রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা ও
তড়িৎ চৌম্বকীয় প্রভাব মুক্ত।
এই ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ অত্যন্ত বেশি। প্রতিকূল পরিবেশেও (যেমন-তাপ, চাপ ইত্যাদি) এ ক্যাবলে ডেটার নিরাপত্তা রক্ষিত হয়। মূলত দ্রুতগতি এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণেই ডেটা পরিবহনে ফাইবার অপটিক ক্যাবল নিরাপদ।
২৬. কোন ক্যাবল জোড়ায় জোড়ায় পেঁচানো থাকে এবং কেন?
উত্তর: টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল জোড়ায় জোড়ায় পেঁচানো থাকে। টুইস্টেড পেয়ার প্রায় 1 mm চওড়া দু'টি কপার তার দ্বারা গঠিত। তার দুটিকে পেঁচানো হয় কারণ দুটি সমান্তরাল তার একটি Fine antenna গঠন করে। এই ক্যাবল প্রতি সেন্টিমিটারে পরপর পেঁচানো থাকে। ফলে পাশাপাশি দুটি তারের মধ্যে Cross talk কম হয় এবং অনেক দূরত্ব পর্যন্ত ভালো Singal পাওয়া যায়। পেঁচানোর কারণে তার দুটি electromagnetic interference (EMI) এর প্রভাব থেকে মুক্ত, ফলে তারগুলো কম বিকিরণ করে।
২৭. ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সিগন্যাল জ্যাম তৈরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ওয়াই-ফাই বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়্যারলেস প্রযুক্তি। এটি উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহার উপযোগী নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের জন্য কোনো লাইসেন্স বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না এবং যেকোনো মানের Wi-Fi ডিভাইস পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পারে। বিপুল জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহার সহজ হওয়ার কারণে একসাথে অনেক ব্যবহারকারী খুব সহজেই Wi-Fi ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর সংখ্যা অধিক হওয়ার কারণেই মূলত Wi-Fi নেটওয়ার্কে সিগন্যাল জ্যাম তৈরি হতে পারে।
২৮. মাইক্রোওয়েভ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: মোটামুটিভাবে 1 গিগাহার্টজ হতে 100 গিগাহার্টজের ভিতরে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডকেই মাইক্রোওয়েভ বলে। এ ধরনের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ সাধারণত 2 গিগাহার্টজ বা তার অধিক ফ্রিকোয়েন্সিতে ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারে। এটি রেডিও ওয়েভের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে না, সোজাসুজি যায়। তাই এই কমিউনিকেশনের জন্য ট্রান্সমিটার এন্টেনা ও রিসিভার এন্টেনাকে মুখোমুখি থাকতে হয় বা সংযোগ লাইন অব সাইট (LOS: Line of site) অবলম্বন করতে হয়।
২৯. ব্লুটুথ এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
উত্তর: ব্লুটুথ এর বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো-
এটি 2.45 GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
এর কভারেজ এরিয়া ৩ থেকে ১০ মিটার।
বিদ্যুৎ খরচ কম এবং ব্লুটুথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনফিগার করতে পারে।
এই নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথ ও ডেটা ট্রান্সফার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কম।
৩০. Wi-Fi এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
উত্তর: Wi-Fi এর বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো-
2.4 থেকে 5 GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে Wi-Fi কাজ করে।
এর কভারেজ এরিয়া 50 থেকে 200 মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
নেটওয়ার্কের জন্য কোনো লাইসেন্স বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
যেকোনো মানের Wi-Fi ডিভাইস বিশ্বের যেকোনো স্থানে কাজ করতে পারে।
৩১. WIMax বলতে কী বুঝ?
উত্তর: WiMax দ্রুতগতির যোগাযোগ প্রযুক্তি, যেটি প্রচলিত DSL (Digital Subscriber Line) এবং তারযুক্ত ইন্টারনেটের পরিবর্তে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করে। WiMax এর প্রধান অংশ দু'টি। যথা- একটি বেস স্টেশন, যা ইনডোর ডিভাইস ও আউটডোর টাওয়ার নিয়ে গঠিত। অন্যটি অ্যান্টেনাযুক্ত WiMax রিসিভার, যা কম্পিউটারে সংযুক্ত করা হয়।
৩২. "স্বল্প দূরত্বে বিনা খরচে ডেটা স্থানান্তর সম্ভব"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্বল্প দূরত্বে বিনা খরচে ডেটা স্থানান্তর সম্ভব। যেমন- বুটুথের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক যন্ত্রের মধ্যে তারবিহীন যোগাযোগ রক্ষা করে বিনা খরচে ডেটা স্থানান্তর করা যায়। বুটুথ সমন্বিত যন্ত্রপাতি সুইচ অন করার সাথে সাথে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা স্থানান্তরের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ ঘটাতে সক্ষম হয়। ব্লুটুথ 10 সেন্টিমিটার থেকে 100 মিটার পর্যন্ত দূরত্বের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করতে পারে।
৩৩. 4G এর তুলনায় 5G অনেকগুণ বেশি কর্মক্ষমতা প্রদানে সক্ষম-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: 5G বা পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সিস্টেম মোবাইল ফোনের মধ্যে অত্যাধুনিক ও সর্বশেষ সংস্করণ। এই প্রজন্মের মোবাইল ফোনের পারফর্ম্যান্স 4Gর তুলনায় অনেকগুণ এবং অনেক দ্রুতগতিতে ডেটা ট্রান্সফার করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে 4K টিভি বা ভিডিও (4000x2000 পিক্সেল) উপভোগ করা যায়। ইতোমধ্যে 2018 সালের অলিম্পিক গেমস- এ দক্ষিণ কোরিয়া 5G নেটওয়ার্কের ব্যবহার প্রাথমিকভাবে প্রদর্শন করে সফলতা দেখিয়েছে।
৩৪. কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বলতে কী বুঝ।
উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং হলো দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে সংযোগ ব্যবস্থা। এই ধরনের সংযোগ ব্যবস্থার জন্য কিছু বিশেষ ধরনের মিডিয়া এবং নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রয়োজন হয়।
৩৫. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলতে কী বুঝ?
উত্তর: কোনো ব্যক্তির দৈনন্দিন ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়, তাই পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা PAN PAN এর ডিভাইসগুলোর মধ্যে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ওয়েব ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, পিডিএ, মোবাইল, স্ক্যানার, প্রিন্টার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
৩৬. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বলতে কী বুঝ?
উত্তর: মেট্রোপলিটন এরিয়া বলতে একটি শহর বা ছোট অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়, এরকম একটি বড় এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কতকগুলো কম্পিউটার নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক হলো MAN MAN এর বিস্তৃতি LAN এর চেয়ে বড় কিন্তু WAN এর চেয়ে ছোট হয়। প্রায় ৫০ কি. মি. দূরত্ব পর্যন্ত MAN এর নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয় টেলিফোন লাইন, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, রেডিও ওয়েভ বা টেরিস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ।
৩৭. রাউটারকে অতি বুদ্ধিমান ব্রীজ বলা হয় কেন?
উত্তর: একই প্রটোকলভুক্ত দুই বা ততোধিক স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কের জন্য সংযোগ স্থাপন করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাই রাউটার। কোনো একটি ডেটা প্যাকেটকে কোন পথ দিয়ে পাঠানো সবচেয়ে সুবিধাজনক রাউটার সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নেটওয়ার্কে কোনো পথ যদি অধিক ডেটার চাপে ব্যস্ত থাকে তাহলে রাউটার সেই জায়গা পরিহার করে অন্য পথ দিয়ে ডেটা পাঠাতে পারে। এজন্য একে একটি 'অতি বুদ্ধিমান' ব্রীজ বলা হয়।
৩৮. গেটওয়ে বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যে যন্ত্র ভিন্নধর্মী প্রটোকলবিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয় সেটিই হচ্ছে গেটওয়ে। গেটওয়ে একই বা ভিন্ন ভিন্ন প্রটোকলবিশিষ্ট একাধিক নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান- প্রদানের সুযোগ করে দেয়। তাই এটি মূলত নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি ডিভাইস।
৩৯. রাউটারের সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: রাউটারের সুবিধা হলো-
একই প্রটোকলবিশিষ্ট একাধিক স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে পারে।
শুধুমাত্র টার্গেট আই.পি অ্যাড্রেসে সংকেত পাঠায়।
রাউটার ডেটা সংঘর্ষ বা কলিশনের আশংকা কমায়।
ভিন্ন ভিন্ন গঠনের নেটওয়ার্ক যেমন- ইন্টারনেট, টোকেন রিং কে সংযুক্ত করতে পারে।
৪০. গেটওয়ের সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: গেটওয়ের সুবিধা হলো-
ভিন্ন ভিন্ন প্রটোকলবিশিষ্ট একাধিক নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
শুধামাত্র টার্গেট আই.পি অ্যাড্রেসে সংকেত পাঠায়।
ডেটা ফিল্টারিং করা সম্ভব হয়।
রাউটার অপেক্ষা দ্রুতগতিসম্পন্ন।
৪১. নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যে যন্ত্র কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিভাইসকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য আলাদা করে ব্যবহার করতে হয় তাই হচ্ছে নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)। এই ইলেকট্রনিক সার্কিটযুক্ত কার্ডকে বলা হয় নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড। এটি LAN Card বা Network Adapter নামেও পরিচিত। একটি নেটওয়ার্কের দক্ষতা কেমন হবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে NIC এর উপর। তাই নেটওয়ার্কে সম্ভাব্য গতির নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড ব্যবহার করা উত্তম।
৪২. হাবের পরিবর্তে সুইচ ব্যবহার করলে কী সুবিধা পাওয়া যায়- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে তার দিয়ে একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করতে যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সেটি হলো হাব। অন্যদিকে বিভিন্ন কম্পিউটার ও পেরিফেরাল যন্ত্র থেকে আসা ক্যাবলগুলোকে এক সাথে যুক্ত করতে হাবের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় সেটাই সুইচ। হাবের ক্ষেত্রে ডেটা কলিশন বা সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে এবং বেশিরভাগ ডেটা ফিল্টারিং করা সম্ভব হয় না। কিন্তু হাবের পরিবর্তে সুইচ ব্যবহার করলে ডেটা কলিশনের সম্ভাবনা কমে এবং ডেটা ফিল্টারিং করাও সম্ভব হয়।
৪৩. নেটওয়ার্ক টপোলজি বলতে কী বুঝ?
উত্তর: কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো কীভাবে অপর কম্পিউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর সাথে সংযুক্ত হয়ে ডেটা আদান-প্রদান করে থাকে, তার পরিকল্পনা বা ধারণাই হলো নেটওয়ার্ক টপোলজি। এ ব্যবস্থাপনায় নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলোকে এমনভাবে যুক্ত করা হয় যাতে সংযোগকারী তারের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান সহজসাধ্য এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়। তাই বলা চলে, লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিগুলোর ভৌত সংযোগ বিন্যাস এবং নির্বিঘ্নে ডেটা আদান-প্রদানের যুক্তিনির্ভর সুনিয়ন্ত্রিত পথের পরিকল্পনা, এ দু'য়ের সমন্বিত ধারণা-ই টপোলজি।
৪৪. বাস টপোলজির সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: বাস টপোলজির সুবিধা হলো-
কম তার এবং সরল সংগঠনের কারণে বাস টপোলজি ইনস্টলেশন সহজ ও সাশ্রয়ী।
কানেক্টর বা রিপিটার দ্বারা সহজেই নেটওয়ার্কের ব্যাকবোন বাস- এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ঘটানো যায়।
নেটওয়ার্কে যে কোনো সময়ে নতুন নতুন ডিভাইস বা কম্পিউটার সংযুক্ত করা যায়।
কোনো কম্পিউটার বিচ্ছিন্নকরণ বা নষ্ট হলেও সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে না।
নেটওয়ার্কে কেন্দ্রীয় কোনো ডিভাইস বা সার্ভারের প্রয়োজন হয় না।
৪৫. রিং টপোলজির সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: রিং টপোলজির সুবিধা হলো-
এই টপোলজিতে হোস্ট কম্পিউটার বা কেন্দ্রীয় সার্ভারের দরকার হয় না।
সংকেত প্রবাহ একমুখী হওয়ায় ডেটা কমিশন বা সংঘর্ষ হয় না।
প্রতিটি কম্পিউটার ডেটা ট্রান্সমিশনে সমান গুরুত্ব পায়।
তারের পরিমাণ কম প্রয়োজন হয়, তাই বাস্তবায়ন খরচ কম।
৪৬. স্টার টপোলজি বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যে টপোলজিতে কম্পিউটার বা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন- প্রিন্টার সরসরি একটি হাব বা সুইচের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে তাই স্টার টপোলজি। ফলে সংকেত আদান-প্রদানে কম সময় প্রয়োজন হয়। সংকেত প্রবাহ দ্বিমুখী হয়। হাব বা স্যুইচ বা সার্ভার দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত স্টার টপোলজির নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করা সহজ হয়।
৪৭. স্টার টপোলজির সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: স্টার টপোলজির সুবিধা হলো-
অপেক্ষাকৃত দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদান হয়।
সংকেত সংঘর্ষ ঘটনার আশঙ্কা কমায়।
সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক সচল রেখেই যে কোনো সময়ে নেটওয়ার্কে নতুন নোড যুক্ত করা যায়।
কোনো নোড বিচ্ছিন্ন বা অচল হলেও নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ সচল থাকে।
সুইচ ব্যবহারের কারণে বাস বা রিং টপোলজির তুলনায় এর ডেটা নিরাপত্তা বেশি।
কম্পিউটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ডেটা ট্রান্সমিশনের গতি স্বাভাবিক থাকে।
৪৮. ট্রি টপোলজির সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: ট্রি টপোলজির সুবিধা হলো-
যে কোনো সময়ে নতুন শাখা সৃষ্টি করে এর নেটওয়ার্ক সহজেই সম্প্রসারিত করা যায়।
বড় ধরনের নেটওয়ার্ক গঠনে অন্যান্য টপোলজির তুলনায় এটি বেশি সুবিধা প্রদান করে।
কোনো নোড বিচ্ছিন্ন বা নতুন নোড যুক্ত করা হলে নেটওয়ার্ক কার্যক্রম ব্যাহত হয় না।
ডেটা নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি।
নেটওয়ার্কের কোনো শাখা নষ্ট হলে, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে না।
৪৯. মেশ টপোলজি বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যে টপোলজিতে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে, তাই মেশ টপোলজি। এ ধরনের সংগঠনে নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগকে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট (পিয়ার-টু-পিয়ার) লিংক বলা হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে আন্তঃসংযুক্ত টপোলজি নামেও পরিচিত। এই টপোলজিতে ॥ সংখ্যক নোডের জন্য প্রতিটি নোডে (n-1) টি সংযোগের প্রয়োজন হয়। ডেটা যোগাযোগের নির্ভরশীলতাই যেখানে মুখ্য সেসব ক্ষেত্রে মেশ টপোলজি ব্যবহার হয়।
৫০. হাইব্রিড টপোলজি বলতে কী বুঝ?
উত্তর: স্টার, রিং, বাস, মেশ ইত্যাদি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে যে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাই হাইব্রিড টপোলজি। বিশেষ কোনো কাজের ক্ষেত্রে একটিমাত্র টপোলজি স্বয়ংসম্পূর্ণ না-ও হতে পারে। এজন্য এসব ক্ষেত্রে হাইব্রিড টপোলজি ব্যবহৃত হয়। ইন্টারনেট একটি হাইব্রিড নেটওয়ার্ক কেননা এতে প্রায় সব ধনের টপোলজির নেটওয়ার্কই সংযুক্ত আছে।
৫১. কোন টপোলজিতে নোডসমূহ পরস্পর তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মেশ বা পরস্পর সংযুক্ত নেটওয়ার্ক টপোলজিতে নোডসমূহ পরস্পর তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। যে টপোলজিতে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে, ফলে যেকোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য যেকোনো কম্পিউটারের সাথে সরাসরি দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে তাই মেশ টপোলজি। এ পদ্ধতিতে যেকোনো দুটি কম্পিউটারের মধ্যে দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করা যায়।
৫২. ক্লাউড কম্পিউটিং বলতে কী বুঝ?
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষতার দরুন আজকের যুগে আমরা নিজের ঘরের কোণে বসে নিজস্ব ছোট কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগের মাধামে একটি বিশালাকার কম্পিউটারকে ভাড়ার মাধ্যমে যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারি এবং আমাদের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেই কম্পিউটারে সংরক্ষণও করতে পারি। এই বিশালাকার কম্পিউটারের ধারণাটিই ক্লাউড কম্পিউটিং।
৫৩. স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় কিভাবে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে। বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- নেটওয়ার্ক, সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার ও সার্ভিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্রেতার সুবিধা অনুসারে, চাহিবামাত্র ও চাহিদা অনুসারে সহজে ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান ও ভাড়া দেওয়ার সিস্টেম হলো ক্লাউড কম্পিউটিং। ক্লাউডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকে বিধায় সার্ভিস গ্রহণকারী গ্রাহকের এসব বিষয় নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় না।
৫৪. ক্লাউড কম্পিউটিং রিসোর্স শেয়ারিংয়ে সুবিধাজনক কেন?
উত্তর: ক্লাউড কম্পিউটিং রিসোর্স শেয়ারিংয়ে সুবিধাজনক। কারণ এ প্রযুক্তিতে স্টোরেজ, মেমোরি, প্রসেসিং এবং ব্যান্ডউইথ অনেক বেশি কার্যক্ষমতা সম্পন্ন। এতে চাহিদা মোতাবেক সফটওয়্যার রিসোর্স ও তথ্যগুলো শেয়ার বা বিনিময় করা যায়।