শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ৪
ওয়ার্ড প্রসেসিং
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ৪
ওয়ার্ড প্রসেসিং
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. সর্বপ্রথম কে, কবে বাংলা কীবোর্ড লে-আউট তৈরি করেন?
উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে বাংলা টাইপ রাইটারের জন্য প্রথম বিজ্ঞানসম্মত কীবোর্ড লে-আউট তৈরি করেন। এটি ইংরেজি কীবোর্ডের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই লে-আউট কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্যও ব্যবহারযোগ্য হয়।
২. শহীদ লিপি সফটওয়্যারটি কবে প্রবর্তিত হয় এবং এটি কতটা জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল?
উত্তর: শহীদ লিপি সফটওয়্যারটি ১৯৮৫ সালে প্রবর্তিত হয়। এতে কিছু বাংলা ফন্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা কম্পিউটারে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল। তবে এই সফটওয়্যারটি উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। এর সীমাবদ্ধতাগুলোর কারণে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়।
৩. বিজয় সফটওয়্যারটি কেন বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল?
উত্তর: বিজয় সফটওয়্যারটি এর উন্নত ফিচার এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রথম সারির বাংলা লেখার সফটওয়্যার হিসেবে জায়গা দখল করে নেয়। বিজয় কীবোর্ড লে-আউটের সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং প্রচলনও এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাংলা লেখার সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে প্রথম সারির সফটওয়্যার কোনগুলো ছিল?
উত্তর: বাংলা লেখার সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে প্রথম সারির সফটওয়্যার হিসেবে বিজয়, প্রশিকা শব্দ, প্রবর্তনা এবং লেখনী উল্লেখযোগ্য ছিল। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বই দশকের শেষ পর্যন্ত এই সফটওয়্যারগুলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। এর মধ্যে বিজয় সফটওয়্যারটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো।
৫. ওয়ার্ড প্রসেসরে দুটি বাংলা অক্ষর যুক্ত করা হয় কীভাবে?
উত্তর: ওয়ার্ড প্রসেসরে বিজয় কীবোর্ড সচল করতে Ctrl + Alt + B একসাথে চাপতে হবে। বিজয় কী-বোর্ডে যেকোনো দুটি অক্ষরকে যুক্ত করতে হলে প্রথম অক্ষরটি চেপে ইংরেজি জি (৪) চাপতে হবে। তারপর দ্বিতীয় অক্ষরটি চাপতে হবে।
৬. নিচের যুক্তাক্ষরগুলো লিখতে কীবোর্ডের কোন বোতাম চাপতে হবে?
ক্ষ, জ্ঞ, ক, এও, লা
উত্তর: অক্ষরগুলো লিখতে কী-বোর্ডের যে বোতামগুলো চাপতে হবে তা নিচে দেওয়া হলো- ক্ষ =jgN, জ্ঞ = ugl,NgB. = Igy. কা=qgo
৭. অভ্র সফটওয়্যার তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় কেন?
উত্তর: ২০০০ সালের পর থেকে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তার কারণে প্রয়োজন হয় এমন একটি সফটওয়্যারের যা ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলা লেখার সুবিধা এনে দিবে। ২০০৭ সালে মেহেদী হাসান খান কর্তৃক বিনামূল্যের ইউনিকোড সফটওয়্যার অভ্র প্রবর্তিত হয়। এটির উচ্চারণভিত্তিক (ফোনেটিক) বাংলা টাইপিং ব্যবস্থা এটিকে তরুণ সমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয় করে তোলে।
৮. উচ্চারণভিত্তিক বাংলা টাইপের কৌশল লিখ।
উত্তর: উচ্চারণভিত্তিক (ফোনেটিক) বাংলা টাইপিং ব্যবস্থায় যদি "ami banglay gan gai" টাইপ করা হয় তবে লেখা হবে আমি বাংলায় গান গাই। এছাড়া এতে যুক্ত করা হয় মাউস দিয়ে বাংলা লেখার সুবিধা। ফলে কম্পিউটারে বাংলার ব্যবহারে যাদের ভীতি ছিল তারা সহজেই বাংলা ব্যবহার করতে শুরু করে।
৯. ওয়ার্ড প্রসেসরকে বাংলায় লেখার জন্য প্রস্তুত করা হয় কীভাবে?
উত্তর: বাংলায় লেখালেখি করার জন্য প্রথমে ওয়ার্ড প্রসেসরে বিজয় সফটওয়্যারে Ctrl+Alt+b একসাথে চাপতে হবে এবং অভ্র সফটওয়্যারে F12 কী চাপতে হবে। পরবর্তী কাজ হলো ফন্ট নির্বাচন করা। বিজয় সফটওয়্যারে SutonnyMJ এবং অভ্র সফটওয়্যারে Nikosh বা যেকোনো ইউনিকোড ফন্ট নির্বাচন করতে হবে। এভাবে ওয়ার্ড প্রসেসর বাংলা লেখার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।
১০. ডকুমেন্ট সম্পাদনা বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একটি ডকুমেন্টের ভুল-ভ্রান্ডিগুলো সংশোধন করা হয় সে কাজটিকে বলা হয় সম্পাদনা (Editing)। সম্পাদনায় সাধারণত বিভিন্ন রকমের কাজ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাট, কপি, পেস্ট ইত্যাদি।
১১. ডকুমেন্টের নির্দিষ্ট অংশ নির্বাচন করা হয় কীভাবে?
উত্তর: সম্পাদনার বিভিন্ন কাজে অনেক সময়ই ডকুমেন্টের কোনো অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা কোনো অংশকে নির্বাচন করতে হয়। নির্বাচন করার জন্য কার্সরকে নির্ধারিত জায়গার শুরুতে নিতে হবে। এরপর শিফট কী চেপে ধরে ডান এ্যারো (Shift+) কী চেপে নির্ধারিত কোনো অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা কোনো অংশকে নির্বাচন করা হয়।
১২. ডকুমেন্টের নির্দিষ্ট অংশ স্থানান্তর করা হয় কীভাবে?
উত্তর: অনেক সময় ডকুমেন্টের কোনো অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা কোনো অংশকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরাতে হয়। এজন্য প্রথমে ঐ অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা অংশকে নির্বাচন করে কাটার জন্য কী বোর্ডের Ctrl এবং কী- (Ctr+ x) একসাথে চাপতে হয়।
১৩. ডকুমেন্টের নির্ধারিত অংশ কপি করা হয় কীভাবে?
উত্তর: অনেক সময় ডকুমেন্টের কোনো অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা কোনো অংশের অনুলিপি বা কপি করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে হয়। এজন্য প্রথমে ঐ অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা অংশকে নির্বাচন করে = কী-বোর্ডের Ctrl এবং কী- (Cu+ c) একসাথে চাপতে হয়।
১৪. ডকুমেন্টে কোন কিছু পেস্ট করার নিয়ম লিখ ।
উত্তর: পেস্ট শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো আঠা লাগানো। কাট ও কপি করার পরের কাজ হলো নির্বাচিত অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা অংশকে নির্ধারিত স্থানে পেস্ট করা। এজন্য কাট বা কপি কমান্ড ব্যবহার করার পর কার্সরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে Ctrl এবং কী- (Ctr + v) একসাথে চাপতে হবে।
১৫. ডকুমেন্টে কোন কিছু মুছে ফেলতে কী করতে হবে?
উত্তর: ডকুমেন্টের কোনো অক্ষর, শব্দ, বাক্য বা কোনো অংশকে মুছে ফেলতে হলে কী বোর্ডের Delete বা Del কী ব্যবহার করা হয়। যা মুছে ফেলতে হবে প্রথমে তা নির্বাচন করতে হবে। তারপর Delete বা Del বা BACKSPACE কী চাপলে নির্বাচিত অংশ মুছে যাবে।
১৬. ডকুমেন্ট সম্পাদনায় শর্টকাট কী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ডকুমেন্ট সম্পাদনায় শর্টকাট কী হল এমন কিছু নির্দিষ্ট কী কম্বিনেশন যা ব্যবহার করে দ্রুত এবং সহজে বিভিন্ন কাজ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, * Ctrl+C কী চাপলে নির্বাচিত টেক্সট কপি হয়, Ctrl+V চাপলে তা পেস্ট হয়। এছাড়াও, টেক্সট বোল্ড, ইটালিক করা, নতুন ডকুমেন্ট খোলা, ফাইল সংরক্ষণ করা ইত্যাদি কাজের জন্য বিভিন্ন শর্টকাট কী রয়েছে।
১৭. সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য ডকুমেন্ট কিভাবে সংরক্ষণ করতে হবে?
উত্তর: প্রয়োজনের সময় ডকুমেন্টটি সহজে খুঁজে পেতে যে কাজগুলো করতে হবে:
মাই ডকুমেন্ট ফোল্ডার খুলে তার মধ্যে একটি নতুন ফোল্ডার খুলতে হবে।
ফোল্ডারটির নাম, কাজের ধরন অনুযায়ী নিজের মতো করে নামকরণ করতে হবে। নিজের নাম অথবা তারিখ অনুযায়ী ফোল্ডারের নামকরণ করা যেতে পারে।
এরপর ডায়ালগ বক্সে ডাবল ক্লিক করে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে সহজেই ডকুমেন্টটি খুঁজে পাওয়া যাবে।
১৮. ডকুমেন্ট ফরম্যাটিং বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: ডকুমেন্ট ফরম্যাটিং বলতে কোনো ডকুমেন্টকে সুন্দর এবং পড়ার উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এতে টেক্সটের আকার, রং, ফন্ট, অক্ষরের দূরত্ব, অনুচ্ছেদের আকার ইত্যাদি সাজানোর কাজ জড়িত। ডকুমেন্ট ফরম্যাটিংয়ের মাধ্যমে একটি ডকুমেন্টকে আরও আকর্ষণীয় এবং পেশাদারীভাবে উপস্থাপন করা যায়। এটি পাঠকের জন্য তথ্যকে আরও সহজে বোধগম্য করে তোলে।
১৯. ডকুমেন্টে অক্ষরের আকার পরিবর্তন করার নিয়ম লিখ?
উত্তর: ডকুমেন্টের যে অংশের অক্ষর বা লেখার আকার পরিবর্তন করতে হবে প্রথমে তা নির্বাচন করতে হবে। তারপর যেকোনো ওয়ার্ড প্রসেসরে টুলবার বা রিবনে ফন্টের নামের পাশে যে সংখ্যাটি থাকে তা পরিবর্তন করতে হবে। আকার বড় করতে হলে সংখ্যাটি বাড়াতে হবে এবং ছোট করতে হলে সংখ্যাটি কমাতে হবে। এছাড়াও ctrl + | এবং ctrl+] কী-বোর্ড শর্টকাট এর মাধ্যমে লেখার আকার ১ পয়েন্ট ছোট বা বড় করা সম্ভব।
২০. অক্ষর বা লেখার আকার বোল্ড, ইটালিক বা আন্ডারলাইন করা হয় কীভাবে?
উত্তর: ডকুমেন্টের যে অংশের অক্ষর বা লেখার আকার পরিবর্তন করতে হবে প্রথমে তা নির্বাচন করতে হবে। তারপর যেকোনো ওয়ার্ড প্রসেসরে টুলবার বা রিবনে ফন্টের নামের পাশে B. I. U থাকে তাতে মাউস ক্লিক করতে হবে। এছাড়াও ctrl+b, ctrl+i ও ctrl+u কী-বোর্ড শর্টকাট এর মাধ্যমে লেখার আকার বোল্ড, ইটালিক বা আন্ডারলাইন করা সম্ভব।
২১. ডকুমেন্টের এলাইনমেন্ট ঠিক করা হয় কীভাবে?
উত্তর: কোনো ডকুমেন্টের প্যারাগ্রাফ মার্জিনের কোনদিকে মিশে থাকবে তা এলাইনমেন্টের দ্বারা নির্ধারণ করা হয়। প্যারাগ্রাফের এলাইনমেন্ট চার ধরনের হতে পারে। বামদিক থেকে, ডানদিক থেকে, মাঝ বরাবর অথবা সবদিকে সমান (জাস্টিফাইড) প্যারাগ্রাফ এলাইন করা যায়। কোনো প্যারাগ্রাফের এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে তা নির্বাচন করতে হয়। তারপর নির্ধারিত আইকনগুলোতে মাউস ক্লিকের মাধ্যমে এলাইনমেন্ট করা হয়।
২২. প্যারাগ্রাফের এলাইনমেন্ট কয় ধরনের ও কী কী?
উত্তর: প্যারাগ্রাফের এলাইনমেন্ট চার ধরনের। যথা-
বামদিক থেকে (Left Alignment),
ডানদিক থেকে (Right Alignment),
মাঝ বরাবর (Centre Alignment) এবং
সবদিকে সমান (Justified Alignment)
২৩. কীবোর্ড ব্যবহার করে লেখার এলাইনমেন্ট ঠিক করা যায়- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কোনো প্যারাগ্রাফের এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর নিম্নে বর্ণিত কীবোর্ড শর্টকাট এর মাধ্যমে এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করা যাবে: যা করতে চাই যে কী চাপতে হবে বামদিকে এলাইন Ctrl+1 ডানদিকে এলাইন Ctrl+r মাঝখানে এলাইন Ctrl+e জাস্টিফাইড এলাইন Ctrl+j
২৪. ডকুমেন্ট মুদ্রণের জন্য কি কি প্রয়োজন?
উত্তর: ডকুমেন্ট মুদ্রণের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রয়োজন।
কম্পিউটারের সাথে যথাযথভাবে সংযুক্ত একটি প্রিন্টার
প্রিন্টারের জন্য দরকারি সফটওয়্যার
উপযুক্ত সাইজের কাগজ
২৫. ডকুমেন্ট প্রিন্ট করার উপায়গুলো উল্লেখ কর।
উত্তর: দুটি ভিন্ন উপায়ে ডকুমেন্ট প্রিন্ট করা যায়। যথা:
(Print) আইকনে মাউস ক্লিক করে
কী-বোর্ডের সাহায্যে CTRL + p চেপে
২৬. ডকুমেন্ট কীভাবে সংরক্ষণ (save) করা হয়?
উত্তর: ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা হলো ডকুমেন্টটিকে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য নিরাপদে রাখার প্রক্রিয়া। সাধারণত, "File" মেনুতে গিয়ে "Save" বা "Save As" অপশনটি ক্লিক করে ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়াও, Ctrl+S শর্টকাট কী ব্যবহার করে দ্রুত ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়। সংরক্ষণের সময় ডকুমেন্টের নাম এবং সংরক্ষণ করার লোকেশন নির্বাচন করতে হবে।
২৭. ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনা বলতে ডকুমেন্টটি এমনভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা বোঝায় যাতে এটি হারিয়ে না যায় এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনের সময় সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এটি ডকুমেন্ট হারানোর ঝুঁকি কমায় এবং প্রয়োজনের সময় সহজে খুঁজে পাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করে।