শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ৩
নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ৩
নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. ইন্টারনেটের সকল ওয়েবসাইট দেখা উচিত নয় কেন?
উত্তর : পৃথিবীতে যেরকম অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে, ঠিক সেরকম অনেক ভয়ংকর বিপজ্জনক জায়গাও আছে- যেখান থেকে সব সময় সর্তক এবং দূরে থাকতে হবে। ইন্টারনেটের বেলাতেও একই ব্যাপার ঘটে, চোখের সামনে অনেক চমৎকার ওয়েবসাইট রয়েছে যেটা উপভোগ করা যায় আবার তার পাশাপাশি অনেক বিপজ্জনক ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো কোনোভাবেই দেখা উচিত না। তাই ইন্টারনেটের সকল ওয়েবসাইট দেখা উচিত নয়।
২. ইন্টারনেটে অপরিচিত মানুষের সাথে যোগাযোগ উচিত নয় কেন?
উত্তর: ইন্টারনেটে অপরিচিত মানুষদের সাথে যোগাযোগ করলে অনেক রকম বিপদ হতে পারে। যেহেতু কেউ দেখছে না, তাই তাদের কথাবার্তা অনেক সময় অসংযত হয়ে যেতে পারে, শালীনতা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই ইন্টারনেটে অপরিচিত মানুষের সাথে যোগাযোগ উচিত নয়।
৩. ইন্টারনেটে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় বিষয় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করার প্রথম নিয়মটিই হচ্ছে কখনো অপরিচিত মানুষকে নিজের পরিচয়, নাম, ঠিকানা আর পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না। অচেনা কাউকে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ছবি শেয়ার করলে সেই মানুষটি সেগুলো কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। তাই এ সকল বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
৪. ইন্টারনেট ব্যবহারের তিনটি নিয়ম উল্লেখ কর।
উত্তর: ইন্টারনেট ব্যবহারের তিনটি নিয়ম হলো-
ইন্টারনেট কখনো একা অনাদের চোখের আড়ালে ব্যবহার করা যাবে না।
ভুলেও কোনো অপরিচিত মানুষকে নিজের নাম, পরিচয়, ছবি বা পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না।
ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে আনন্দের জন্য, কারো ক্ষতি করার জন্য নয় এবং ইন্টারনেটে কারও সাথে রূঢ়, অসংযত ও অশালীন হওয়া যাবে না।
৫. কম্পিউটার গেমের প্রতি আসক্তির বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কম্পিউটার গেমের আসক্তি হলো একটি আধুনিক সমস্যা যেখানে একজন ব্যক্তি গেম খেলার প্রতি অতিরিক্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। এই আসক্তির ফলে তার দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক সম্পর্ক এবং শিক্ষাগত কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গেম খেলার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া, গেম ছাড়া অন্য কোনো কাজে মনোযোগ না দিতে পারা, গেম খেলার জন্য ঘুম, খাওয়া, সামাজিক কাজ এড়িয়ে চলা ইত্যাদি এই আসক্তির লক্ষণ।
৬. MMO বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: MMO বা Massively Multiplayer Online হলো এক ধরনের ভিডিও গেম যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচুর সংখ্যক খেলোয়াড়কে একইসাথে একই ভার্চুয়াল জগতে যুক্ত করে। ΜΜΟ গেমে সাধারণত খেলোয়াড়রা একটি বিশাল, খোলা বিশ্বে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে, মিশন সম্পন্ন করে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বা সহযোগিতা করে।
৭. কোনো বিষয়ে নিজের আসক্তি জন্মাচ্ছে কিনা তা বোঝার উপায় কী?
উত্তর: কোনো বিষয়ে আসক্তি জন্মাচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য নিজের আচরণ লক্ষ করা জরুরি। যদি কোনো কাজে মাত্রাতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে, অন্য কাজের থেকে সেই কাজটিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, সেই কাজ না করলে অস্থিরতা, উদ্বেগ বা বিরক্তি অনুভূত হচ্ছে, সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়ছে তাহলে বুঝতে হবে যে সেই নির্দিষ্ট কাজের প্রতি আসক্তি জন্মাচ্ছে।
৮. IAD বলতে কী বুঝ?
উত্তর: IAD এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Internet Addiction Disorder I IAD হলো একটি মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত অবস্থা যেখানে ব্যক্তি অতিরিক্ত সময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যা তার দৈনন্দিন জীবন, কাজ, পড়াশোনা এবং সামাজিক সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। যারা খুব বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের জন্যে IAD নামটি আবিষ্কার করা হয়েছে।
৯. কম্পিউটার আসক্ত ব্যক্তির লক্ষণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: একজন কম্পিউটারে আসক্ত ব্যক্তি তার মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবকে সময় না দিয়ে সেই সময়টা কম্পিউটারের পেছনে দেয়। কম্পিউটার ব্যবহারের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ, ব্যক্তিগত ও দৈনন্দিন কাজে সময়, না দেওয়া, খাওয়া, ঘুম, পড়াশোনা ছেড়ে দিনরাত কম্পিউটার ব্যবহার, সামাজিক সম্পর্ক এড়িয়ে ভার্চুয়াল সম্পর্কে মনোযোগ ইত্যাদি কম্পিউটার আসক্ত ব্যক্তির লক্ষণ।
১০. কম্পিউটার আসক্তির কুফল কী?
উত্তর: কম্পিউটারে আসক্ত হলে বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দেয়। কম বয়সী ছেলেমেয়েদের বেড়ে ওঠার জন্য মাঠে ঘাটে ছোটাছুটি করতে হয়, খেলতে হয়। যে সময় খেলার মাঠে ছোটাছুটি করে খেলার কথা, সে সময় ঘরের কোণায় কম্পিউটারের সামনে মাথা গুঁজে বসে থাকে। কম্পিউটারে আসক্ত হলে কম্পিউটারের বাইরে চিন্তা করা যায় না। প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, লেখাপড়া কোনোটাই ঠিক মতো করা যায় না। ফলে তাদের মানসিকতা এবং চিন্তাজগৎ সংকীর্ণ হয়ে আসে।
১১. কম্পিউটারে আসক্তি থেকে বের করে আনার উপায় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কম্পিউটার আসক্তি থেকে বের করে আনার জন্য কম্পিউটারের বাইরের জগৎ থেকেও আনন্দ পাওয়া শিখিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হচ্ছে খেলাধুলা। যার আসক্তি জন্মেছে তাকে সময় ঠিক করে নিতে হবে- দিনে কতক্ষণ সে কম্পিউটার ব্যবহার করবে। শুধু তাই নয়, অন্য কোনো একটি কাজ করে তাকে কম্পিউটার ব্যবহারের সেই সময়টুকু অর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করি, কম্পিউটার আমাদেরকে নয়।
১২. সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: আজকাল তথ্য প্রযুক্তির জগতে নতুন এক ধরনের আসক্তি দেখা দিয়েছে সেটার নাম হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এরকম অনেক ধরনের সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেমন- ফেসবুক, এক্স, লিংকড-ইন ইউটিউব।
১৩. স্বৈরশাসক সরাতে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো কেমন ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: পৃথিবীর অনেক দেশে গণতন্ত্র নেই বলে সরকার জোর করে দেশটাকে শাসন করে এবং অনেক সময় এই সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাধারণ জনগণ সংগঠিত হয় এবং রীতিমতো আন্দোলন শুরু করতে পারে। আজকাল পৃথিবীর অনেক দেশের স্বৈরশাসক বা সামরিক শাসককে আন্দোলন করে সরিয়ে দেয়ার পিছনে এই সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে।
১৪. উপযুক্ত বয়স ছাড়াই তরুণরা কিভাবে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোতে যোগ দেয়?
উত্তর: কম বয়সিরা তথ্য প্রযুক্তিকে খুব সহজে গ্রহণ করতে পারে বলে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো কমবয়সিদের মাঝে খুবই জনপ্রিয়। সাধারণত একটা নির্দিষ্ট বয়স না হওয়া পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়া যায় না কিন্তু তারপরেও অনেক কমবয়সিরাও নিজের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্কে যোগ দিয়ে দেয়।
১৫. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে সামাজিক নেটওয়ার্ক গুলো ব্যবহার করা উচিত নয় কেন?
উত্তর: সামাজিক নেটওয়ার্কে একজন আরেকজনকে সামনাসামনি দেখতে পায় না তাই ছোটরা কাদের সাথে সামাজিকভাবে মিশছে তা অনেক সময় বোঝা যায় না। তাই যদি কখনো দেখা যায় কমবয়সি ছেলেমেয়েরা প্রাপ্তবয়স্ক বড় মানুষদের সাথে ওঠাবসা করছে তখন সেটা কমবয়সি ছেলেমেয়েদের জন্যে ভালো নাও হতে পারে। এ কারণে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়। তথা
১৬. অনেক অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে সামাজিক নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কেন?
উত্তর: মানুষজন সামাজিক নেটওয়ার্কে বসে একজন আরেকজনের সাথে তথ্য বিনিময় করে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো বিষয়টা এত সহজ করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো মানুষ সত্যিকার অর্থে কোনো কাজ না করে ঘণ্টার পর ঘন্টা সামাজিক নেটওয়ার্কের পরিচিত, অর্ধ-পরিচিত কিংবা অপরিচিত মানুষের সাথে কাটিয়ে দিতে পারে। বিষয়টা বড় সমস্যা হয়ে গেছে বলে অনেক জায়গাতে অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১৭. সামাজিক নেটওয়ার্ক প্রকৃত বন্ধুত্ব থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: যারা একে অন্যের সাথে সামাজিক নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে বন্ধুত্ব করে তারা অনেক সময় নিজেরা একে অন্যকে "বন্ধু" বলে বিবেচনা করে এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে একজন আরেকজনের কাছে তথ্য পাঠানোকেই বন্ধুত্ব বলে মনে করে। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্ব আরও অনেক গভীর অনেক বেশি আন্তরিক, অনেক বেশি বাস্তব। কাজেই, তথ্য প্রযুক্তির বন্ধুত্বকে সত্যিকার বন্ধুত্ব মনে করে কেউ যদি তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে যায় তাহলে সে তার জীবনের অনেক বড় কিছু থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
১৮. কপিরাইট বলতে কী বুঝ?
উত্তর: পৃথিবীর প্রতিটি দেশে সৃজনশীল সৃষ্টিকর্মের কপি বা পুনরুৎপাদন, অবৈধ ব্যবহার ইত্যাদি বন্ধের জন্য আইনের বিধান রাখা হয়। যেহেতু এই আইন কপি বা পুনরুৎপাদনের অধিকার সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি তাই এটিকে কপিরাইট (Copyright) আইন বা সংক্ষেপে কপিরাইট বলে।
১৯. কপিরাইট আইনের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার পর বই কপি করা বা নকল করাটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। লেখকদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে ১৬৬২ সালে একটি আইন (Licensing of the Press Act 1662) পার্লামেন্টে পাস করে। এই আইনের আওতায় যারা তাদের বইয়ের অননুমোদিত কপি করা বন্ধ করতে চায় তারা তাদের বই রেজিস্ট্রেশন করে একটা লাইসেন্স নিতে হতো। এভাবে কপিরাইট আইনের সূচনা হয়।
২০. কপিরাইটের বর্তমান বিস্তৃতি সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: বই দিয়ে সূচনা হলেও পরে বিভিন্ন আবিষ্কার, ব্যবসার মার্কা ইত্যাদিও বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদ বা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের আওতায় চলে আসে। কম্পিউটার আবিষ্কারের পর কম্পিউটারের মাধ্যমে পুনরুৎপাদন এবং বিতরণও এখন এই আইনের আওতায় চলে এসেছে। একই সঙ্গে কম্পিউটারের প্রোগ্রামও যেহেতু একটি সৃজনশীল কর্মকান্ড, তাই এই আইনের আওতায় এর স্রষ্টা তার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারেন।
২১. কপিরাইট স্রষ্টার মৃত্যুর পরও বলবৎ থাকে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বর্তমানে যেসব দেশে কপিরাইট আইন আছে সেসব দেশে সৃজনশীল কাজের কপিরাইট স্রষ্টার মৃত্যুর পরও বলবৎ থাকে। এটি কোনো কোনো দেশে এমনকি ১০০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে সাধারণত এটি লেখক, শিল্পী, নাট্যকারের মৃত্যুর পর ৫০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে। বাংলাদেশের কপিরাইট আইনে (কপিরাইট আইন ২০০০) এর মেয়াদ ৬০ বছর।
২২. কম্পিউটারের বিষয়গুলোর চোরাই কপি সব থেকে বেশি কেন?
উত্তর: যখন কোনো সৃজনশীল কর্মের কপিরাইট ভঙ্গ করে সেটি পুনরুৎপাদন করা হয় তখন সেটিকে বলা হয় চোরাই (Pirated) কপি। যেহেতু কম্পিউটারের বিষয়গুলো সহজে কপি করা যায় তাই এগুলোর চোরাই কপি পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি।
২৩. কপিলেফট বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যারা ওপেন সোর্স দর্শনের অনুসারী তারা তাদের সৃজনশীল কর্মকে কয়েকটি লাইসেন্সের মাধ্যমে সবাইকে ব্যবহার করতে দেন। এর মধ্যে কপিরাইটের একেবারে উল্টোটি হলো কপিলেফট (Copyleft)। যার অর্থ সৃজনশীল কর্মের স্রষ্টা সবাইকে এই কাজ কপি করার সানন্দ অনুমতি দিয়ে দিচ্ছেন।
২৪. ওয়েব সাইটের গোপন অংশটুকুতে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয় কেন?
উত্তর: ওয়েবসাইটের নিজস্ব বা গোপন অংশটুকুতে নির্দিষ্ট মানুষজন গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট তথ্য সাজিয়ে রাখে, বা কাজ করে। যাদের সেখানে যাবার অনুমতি নেই তারাও কিন্তু সেখানে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে। কোনো কিছু পরিবর্তন করে বা নষ্ট করেও চলে আসতে পারে। পাসওয়ার্ড জানা না থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিস্তর' পক্ষে এসব করা সম্ভব হয় না। তাই ওয়েবসাইটের গোপন অংশে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়।
২৫. হ্যাকিং বলতে কী বুঝ?
উত্তর: হ্যাকিং (Hacking) বলতে কোনো ব্যক্তির কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসের সিস্টেমে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা বা প নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে বুঝায়। অর্থাৎ, কোনো ওয়েবসাইটের নিজস্ব বা প গোপনীয় অংশটুকু দেখা ও পরিবর্তন করাই হ্যাকিং। এটি সাধারণত ডেটা চুরি, সিস্টেম নষ্ট করা বা আর্থিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে করা হয়। তবে, হ্যাকিং সবসময় ক্ষতিকারক নয়; এটি সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করার জন্যও ব্যবহার করা হতে পারে।
২৬. সকল হ্যাকার একই রকম নয়- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হ্যাকারদের কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে হ্যাকার দুই ধরনের হয়। কেউ যদি শুধু কৌতূহলী হয়ে অন্যের ওয়েবসাইটে ঢুকে কোনো ক্ষতি না করে বের হয়ে আসে তাকে বলে White hat hacker বা সাদা টুপি হ্যাকার। আর যদি কোনো কিছু ক্ষতি করে আসে, নষ্ট করে বসে তখন তাকে বলে Black hat hacker বা কালো টুপি হ্যাকার। অর্থাৎ সকল হ্যাকার একই রকম নয়।
২৭. হ্যাকিং একটি অনৈতিক কাজ- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হ্যাকিং একটি অনৈতিক কাজ, কারণ এটি অনুমতি ছাড়া কারো কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে এবং ক্ষতিকারক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে, যা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার হরণ করে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক - তথ্য চুরি, সিস্টেম ধ্বংস বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা ব্যক্তি - ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। এটি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই হ্যাকিং কেবল অবৈধই নয়, এটি নৈতিকতার পরিপন্থী একটি কাজ।
২৮. কৃত্তিমভাবে ওয়েবসাইটকে অচল করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সাধারণত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিক লোক একই সাথে কোন নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে তা অচল হয়ে পড়ে। অনেক সময় এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হয় যেখানে একটা কম্পিউটারের একটা প্রোগ্রাম কৃত্রিমভাবে কোনো একটা ওয়েবসাইটে প্রতি সেকেন্ডে শত সহস্রবার প্রবেশ করতে পারে। তখন তার ধাক্কায় ওয়েবসাইটটি অচল হয়ে পড়ে।
২৯. ইন্টারনেটে মত প্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার হয় কীভাবে?
উত্তর: ইন্টারনেটে যেহেতু মানুষের নিজের মত প্রকাশের বিশাল স্বাধীনতা রয়েছে সেহেতু যে কেউ যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সেটা প্রকাশ করতে পারে। তাই মাঝে মাঝে কেউ কেউ এই সুযোগের অপব্যবহার করে থাকে। ই-মেইলে অনেক সময় কাউকে আঘাত দিয়ে কিংবা হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আবার কখনো কখনো দেখা যায় কোনো একজনকে অসম্মান করার জন্যে তার সম্পর্কে মিথ্যা কিংবা অসম্মানজনক কোনো তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
৩০. প্রতারণার কাজ অনলাইনে বেশি হয় কেন?
উত্তর: অনলাইন জগৎটি বিশাল এবং বেনামী হওয়ায় প্রতার জন্য এটি একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল বনে যায়। অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা, জাল ওয়েবসাইট তৈরি করা এবং ভুয়া অফারের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণা করা খুব সহজ। এছাড়া, অনলাইনে লেনদেনের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে, যা প্রতারকদের সুযোগ করে দেয়।
৩১. কম্পিউটার ভাইরাস কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম। ভাইরার্স হল এমন কতকগুলো অবৈধ নির্দেশের সেট বা প্রোগ্রাম যা সুন্দর জিনিসকে ধ্বংসকারী হিসেবে নিজেকে অন্যান্য প্রোগ্রামের সাথে সংক্রমণ ঘটায় এবং পর্যায়ক্রমে নিজে নিজেই বিস্তার লাভ করে। মাইডুম ওয়ার্ম নামে একটা কম্পিউটার ভাইরাস ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে একদিনে আড়াই লক্ষ কম্পিউটারকে আক্রান্ত করেছিল।
৩২. ইতিহাসে কম্পিউটার ভাইরাসের দুটি উল্লেখযোগ্য অপব্যবহার উল্লেখ কর।
উত্তর: ইতিহাসে কম্পিউটার ভাইরাসের দুটি উল্লেখযোগ্য অপব্যবহার হলো-
Mydoom Worm নামে একটা কম্পিউটার ভাইরাস ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে একদিনে আড়াই লক্ষ কম্পিউটারকে আক্রান্ত করেছিল।
১৯৯৯ সালে Melissa নামে একটা কম্পিউটার ভাইরাস এত শক্তিশালীভাবে সাইবার জগৎকে আক্রমণ করেছিল যে, মাইক্রোসফটের মতো বড় কোম্পানিকে তাদের ই-মেইল সার্ভারকে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
৩৩. প্লেজারিজম বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ইন্টারনেটে পৃথিবীর প্রায় সব বিষয়েই কিছু না কিছু তথ্য আছে তাই তারা সেখান থেকে হুবহু বিষয়টা নিয়ে নিজের নামে জমা দিয়ে দেয়। এটি খুব বড় ধরনের অনৈতিক কাজ, এটাকে বলে প্লেজারিজম।