শ্রেণি : ষষ্ঠ || অধ্যায় - ১
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : ষষ্ঠ || অধ্যায় - ১
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: তথ্য দেওয়া-নেওয়া কিংবা সংরক্ষণ করার যে প্রযুক্তি সেটাই হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি। বিজ্ঞানের তথ্যের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা নানারকম যন্ত্রপাতি আর কলাকৌশল ব্যবহার করে মানুষের জীবনটাকে সহজ করে দেয়ার প্রযুক্তিই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
২. ইন্টারনেট কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া একটি বিশাল নেটওয়ার্ক, যা একসাথে বিভিন্ন কম্পিউটার, সার্ভার এবং নেটওয়ার্ক ডিভাইসকে সংযুক্ত করে। এটি একটি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। যেখানে ব্যবহারকারীরা তথ্য আদান-প্রদান করার পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারে।
৩. জ্ঞানকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলা হয় কেন?
উত্তর: বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানকেই সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তথ্যের চর্চা ও বিশ্লেষণ থেকেই জন্ম নেয় জ্ঞান। যে দেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যহার করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি, সে দেশই তত উন্নত। ফলে যে দেশের মানুষ আইসিটির মাধ্যমে লেখাপড়া বা জ্ঞান চর্চা করে যত বেশি জ্ঞানী ও শিক্ষিত হতে পারে, সেই দেশকে তত বেশি সম্পদশালী দেশ বলা হয়।
৪. তারবিহীন মাধ্যম বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানের জন্য যে মাধ্যম ব্যবহৃত হয় তাকেই তারবিহীন মাধ্যম বলে। তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থায় তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের সাহায্যে দূরবর্তী স্থানে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়।
৫. গ্লোবাল ভিলেজ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে পৃথিবীটা একেবারে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। একটা গ্রামে যেরকম একজন মানুষ আরেকজনের সাথে যখন খুশি যোগাযোগ করতে পারে; ঠিক সেরকম পুরো পৃথিবীটাই যেন একটা গ্রাম, সবাই সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। সেটি বুঝানোর জন্যে গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম নামে নতুন শব্দ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে। বাস্তবে পাশাপাশি না থাকলেও 'কার্যত' এখন আমরা সবাই পাশাপাশি।
৬. "আমাদের প্রিয় দেশটাকেই আমরা ডিজিটাল করে ফেলব"- এর অর্থ কী?
উত্তর: আমাদের প্রিয় দেশটাকেই আমরা ডিজিটাল করে ফেলব- যার অর্থ একেবারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সব মানুষের জীবন সহজ করে দেবো, সবার দুঃখ দুর্দশা দূর করে জীবনকে আনন্দময় করে দেবো।
৭. কম্পিউটার কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: কম্পিউটার হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। এটি ইনপুট হিসেবে তথ্য গ্রহণ করে, তা প্রক্রিয়াকরণ করে এবং আউটপুট হিসেবে ফলাফল প্রদান করে।
৮. তথ্য কীভাবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: তথ্য হলো যোগাযোগের মূল উপাদান। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে মানুষ সহজে যোগাযোগ করতে পারে। এটি কাজের গতি বাড়ায় এবং সিন্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য দ্রুত আদান প্রদান করা যায়। তাই বলা যায় যে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
৯. উপত্তি বা ডাটা কী? উপাত্ত কী ধরনের হতে পারে?
উত্তর: উপাত্ত বা ডাটা এমন তথ্য যার কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ পায় না। কাউকে যদি শুধু উপাত্ত দেওয়া হয় এবং আর কিছু বলে না দেওয়া হয় তাহলে সেই উপাত্তগুলোর কোনো অর্থ নেই। উপাত্ত বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন সংখ্যা, শব্দ, ছবি বা চিত্র।
১০. ইনফরমেশন কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইনফরমেশন হলো এমন তথ্য যা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ এবং ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। ইনফরমেশন নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে সঠিক ধারণা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর হলো তথ্য, কিন্তু সকল বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর প্রক্রিয়াকরণের (যোগ করে) মাধ্যমে তৈরি করা রিপোর্ট হচ্ছে ইনফরমেশন।
১১. ডাটা এবং ইনফরমেশন এর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ডাটা এবং ইনফরমেশন এর মধ্যে পার্থক্য হলো-
ডাটা
১. অপরিশোধিত এবং অগোছালো
২. সংখ্যা, শব্দ বা চিত্র যা বিশ্লেষণ করা হয়নি।
৩. এটি অর্থবোধক নয়।
ইনফরমেশন
১. প্রক্রিয়াকৃত তথ্য যা অর্থপূর্ণ তথ্য যা কোনো নির্দিস্ট্র অর্থ
২. ডাটা বিশ্লেষণ করে পাওয়া উপসংহার বা সিদ্ধান্ত।
৩. এটি অর্থপূর্ণ এবং সহজে বোঝা যায়।
১২. কম্পিউটারের আকারগত পরিবর্তন কীভাবে ঘটছে?
উত্তর: আগে কম্পিউটার বলতে টেলিভিশনের মতো বড় মনিটর, বাক্সের মতো সিপিইউ এবং কী-বোর্ড নিয়ে গঠিত যন্ত্রকে বুঝানো হতো। এখন এটি ছোট হয়ে ল্যাপটপ, নোটবুক, ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোনে পরিণত হয়েছে। এমনকি কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা মোবাইল ফোনেও পাওয়া যাবে, যা আমরা পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারি।
১৩. কম্পিউটারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার কোনটি?
উত্তর: কম্পিউটারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে কম্পিউটার এখন এত ছোট করে তৈরি করা সম্ভব যে, আমাদের মোবাইল ফোনের ভেতরেও সেটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমরা যে কাজগুলো শুধুমাত্র কম্পিউটার দিয়ে করতে পারতাম সেগুলো এখন মোবাইল টেলিফোন দিয়েও করা সম্ভব।
১৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করেছে। এটি তথ্য শেয়ার করা এবং সহজে যোগাযোগ করার একটি প্রধান মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে একসাথে কাজ করার এবং মতামত ভাগাভাগি করার সুযোগ দেয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
১৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কুফল কী?
উত্তর: মোবাইল ফোন, এসএমএস, ই-মেইল এবং চ্যাটিংসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন একে অপরের সাথে যোগাযোগকে অনেক সহজ করেছে। তবে, অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় নষ্ট করা অনেক ক্ষেত্রে অসামাজিকতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ সত্যিকারের সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তে এই ভার্চুয়াল যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
১৬. বিনোদনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিনোদনে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছে। বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে কম্পিউটার গেম খেলায় ইত্যাদিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির চমৎকার ব্যবহারের কারণে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা সরাসরি মাঠে না গিয়েও ঘরে বসে উপভোগ করতে পারি। এ ছাড়াও অনলাইন শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষামূলক বিনোদনও জনপ্রিয় হয়েছে।
১৭. কম্পিউটার গেম খেলার বিপক্ষে যুক্তি লিখ।
উত্তর: কম্পিউটারে গেম খেলার বিপক্ষে যুক্তি নিচে দেয়া হলো: অতিরিক্ত মাত্রায় গেম খেললে নিচের ক্ষতিগুলো হতে পারে-
চোখের ক্ষতি হতে পারে।
শারীরিক ক্ষতি হতে পারে।
মানসিক ক্ষতি হতে পারে।
লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে।
ভালো গেমের মতো অনেক খারাপ গেমও আছে যেগুলো ছেলেমেয়েদের ক্ষতি করে।
১৮. শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটি কীভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা তৈরি করেছে?
উত্তর: শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার শিক্ষাকে আরও আনন্দময় এবং সহজ করেছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে বিজ্ঞানের জটিল বিষয় স্ক্রিনে প্রদর্শন করা যায়, যা শিক্ষার্থীদের বুঝতে সহায়ক। শিক্ষকদের বক্তৃতার বাইরে ইন্টারেকটিভ পদ্ধতিতে শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার খাতা ছাড়াই কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়া যায়। ভবিষ্যতে ই-বুক ডিভাইসের মাধ্যমে পাঠ্যবইসহ লাইব্রেরির হাজারো বই বহন করা যাবে।
১৯. ই-বুক ডিভাইস কীভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী?
উত্তর: ই-বুক ডিভাইস শিক্ষার্থীদের ব্যাগের ভার কমিয়ে দিয়েছে। একটি ডিভাইসে হাজারো বই রাখা সম্ভব, যা পাঠ্যবই ছাড়াও অন্যান্য বই পড়ার সুযোগ দেয়। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আর বই বহন করতে হবে না। এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে সময় এবং খরচ বাঁচাবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আইসিটি মাধ্যমের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করবে।
২০. আইসিটি কীভাবে শিক্ষাজীবনকে আনন্দময় করেছে?
উত্তর: আইসিটি শিক্ষাজীবনকে আনন্দময় এবং সহজ করেছে। শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষকের বক্তৃতার ওপর নির্ভর না করে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠ শেখার সুযোগ পাচ্ছে। বিজ্ঞান বা ইতিহাসের জটিল বিষয়গুলো চমৎকার ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে বুঝতে পারছে। পরীক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব। ফলে শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।
২১. আইসিটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন এনেছে?
উত্তর: আইসিটির ব্যবহার চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব, হচ্ছে। রোগীর সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে। টেলিমেডিসিন ও অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেও রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব। আইসিটি ব্যবহারে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেওয়া এখন অনেক দ্রুত এবং নির্ভুল হয়েছে।
২২. টেলিমেডিসিন কী এবং এটি কীভাবে কার্যকর?
উত্তর: টেলিমেডিসিন হলো দূর থেকে টেলিফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান। এটি গ্রামাঞ্চল বা দূরবর্তী এলাকার রোগীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা সরাসরি উপস্থিত না থেকেও রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সেবা দিতে পারেন। এটি সময় এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করে। বাংলাদেশেও টেলিমেডিসিন সেবা শুরু হয়েছে, যা মানুষের চিকিৎসা সহজতর করেছে।
২৩. বিজ্ঞান ও গবেষণায় আইসিটির ব্যবহার উল্লেখ কর।
উত্তর: আইসিটির সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বিজ্ঞান ও গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা আইসিটির মাধ্যমে গবেষণার জটিল কাজ অনেক সহজে করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ- আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন আইসিটি ব্যবহারের কল্যাণে। অর্থাৎ আইসিটি বিজ্ঞান ও গবেষণায় নির্ভুল ফল অর্জন ও সময় বাঁচাতে যথাযথ সহায়তা করে।
২৪. কৃষি উন্নয়নে কীভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: কৃষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আধুনিক পদ্ধতির প্রচলন করেছে। রেডিও ও টেলিভিশনে কৃষি নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে ইন্টারনেটে কৃষির উপর ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে, এমনকি চাষিরা মোবাইল ফোনে কৃষি কল সেন্টারে ফোন করেও কৃষি বিষয়ক সমস্যার সমাধান পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৫. আইসিটির ব্যবহারে পরিবেশ ও আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় মোকাবিলায় কী সুবিধা হয়?
উত্তর: আইসিটি ব্যবহারে পরিবেশ ও আবহাওয়া সম্পর্কিত বিপর্যয় মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ- ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস আইসিটির মাধ্যমে আগে থেকেই পাওয়া যায়। রেডিও ও টেলিভিশনে উপকূলীয় মানুষদের সতর্ক করার ব্যবস্থা করা যায়। তথ্য দ্রুত পাওয়ার কারণে মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে, ফলে পূর্বের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো ও প্রাণহানী এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
২৬. প্রচার ও গণমাধ্যমে আইসিটির ভূমিকা কী?
উত্তর: আইসিটির কারণে প্রচার ও গণমাধ্যমে বিপ্লব ঘটেছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের খবর মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া যায়। শুধু খবরই নয়, ভিডিওসহ ঘটনাগুলো সরাসরি দেখা সম্ভব। রেডিও, টেলিভিশন, খবরের কাগজ এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যম আইসিটির কল্যাণে আরও উন্নত হয়েছে। এটি তথ্য আদান-প্রদানে গতিশীলতা এবং নির্ভুলতা এনেছে।
২৭. কে, কবে এবং কোথায় অলিম্পিক গেমের মশাল বহন করেন?
উত্তর: নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমের মশাল বহন করেন, যা সারা বিশ্বে সরাসরি দেখানো হয়েছিল।
২৮. আইসিটি কীভাবে বই প্রকাশনায় সহায়তা করে?
উত্তর: আইসিটি ব্যবহার করে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ কোটি পাঠ্যপুস্তক নির্ভুল ও আকর্ষণীয়ভাবে মুদ্রণ করা হয়। এসব বই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়, যেন শিক্ষার্থীরা সহজে ডাউনলোড করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এনসিটিবি ওয়েবসাইট থেকে ই-বুক ভার্সন ডাউনলোড করা যায়। এটি বই প্রকশনা ও সরবরাহ সহজতর করেছে।
২৯. ব্যাংকিং খাতে আইসিটির প্রভাব কী?
উত্তর: আইসিটির সাহায্যে ব্যাংকিং এখন আরও সহজ ও দ্রুততর হয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের হিসাবধারী যে কোনো শাখা থেকে টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়ার সুবিধা পেয়ে থাকেন। এটিএম মেশিন ব্যবহার করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টাকা তোলা সম্ভব। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে লেনদেন করা যায়।
৩০. মোবাইল ব্যাংকিং কী এবং এর সুবিধা কী?
উত্তর: মোবাইল ব্যাংকিং হলো মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করার পদ্ধতি। এর মাধ্যমে যে কোনো স্থান থেকে টাকা পাঠানো, গ্রহণ করা, বিল প্রদান এবং ব্যালেন্স চেক করা যায়। এটি গ্রাহকদের সময় ও পরিশ্রম বাঁচায় এবং ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করে।
৩১. ব্যবসায় উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে সম্ভব?
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যবসায় প্রচারণা, গ্রাহক ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন লেনদেন সহজ হয়েছে। ই-কমার্সের মাধ্যমে ডিজিটাল প্লাটফর্মে গ্রাহকের কাছে ব্যবসা দ্রুত পৌছানোয় ব্যবসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি ব্যবসায়ীদের খরচ কমিয়ে লাভ বাড়াতে সাহায্য করে।
৩২. তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহজতা এনে দিয়েছে। এটি যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনোদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ এখন সহজেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং যে কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়। অনলাইন শিক্ষা, ই-বাণিজ্য এবং মোবাইল ব্যাংকিং আমাদের সময় ও খরচ বাঁচায়। এছাড়া, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।