শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ২
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ২
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কিভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি হয় দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে তার, ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা ওয়াইফাই এর মতো মাধ্যমে সংযুক্ত করে। এই সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত থেকে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড, হাব, সুইচ, রাউটার এবং নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম।
২. সার্ভার কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সার্ভার হলো একটি কম্পিউটার যা নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটারকে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে। এটি নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার হিসেবে কাজ করে। সার্ভার ফাইল শেয়ারিং, ই- মেইল, ওয়েব পেইজ হোস্টিং, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য অনেক সেবা প্রদান করতে পারে।
৩. কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ক্লায়েন্ট কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নেটওয়ার্কে সার্ভার থেকে সেবা গ্রহণকারী কম্পিউটারকে ক্লায়েন্ট বলা হয়। ক্লায়েন্ট সার্ভার থেকে ফাইল ডাউনলোড করতে পারে, ই-মেইল পাঠাতে পারে, ওয়েব ব্রাউজ করতে পারে এবং আরও অনেক কাজ করতে পারে। ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ইত্যাদি ক্লায়েন্টের উদাহরণ।
৪. ই-মেইল সার্ভার কী কাজ করে?
উত্তর: ই-মেইল সার্ভার হলো একটি সার্ভার, যা ইমেইল প্রেরণ, গ্রহণ ও সংরক্ষণের কাজ করে। ব্যবহারকারীরা ক্লায়েন্ট কম্পিউটার থেকে ইমেইল পাঠালে, ইমেইল সার্ভার সেটি প্রাপকের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়।
৫. নেটওয়ার্ক গঠনে বিভিন্ন প্রকার মিডিয়া উল্লেখ কর।
উত্তর: যে বস্তু ব্যবহার করে কম্পিউটারগুলো জুড়ে দেওয়া হয় সেটা হচ্ছে মিডিয়া। যেমন- বৈদ্যুতিক তার, কো-এক্সিয়াল তার, অপটিক্যাল ফাইবার ইত্যাদি। কোনো মিডিয়া ব্যবহার না করেও তার বিহীন (যেমন- Wi-Fi) পদ্ধতিতে কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে জুড়ে দেওয়া যায়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
৬. রিসোর্স বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ক্লায়েন্টের কাছে ব্যবহারের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তার সবই হচ্ছে রিসোর্স। কম্পিউটারের সাথে যদি একটি প্রিন্টার কিংবা একটি ফ্যাক্স মেশিন লাগানো হয় সেটি হচ্ছে এক প্রকার রিসোর্স।
৭. অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অনেকগুলো কম্পিউটার একসাথে জুড়ে দেওয়া হয়, যেন একটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। জুড়ে দেওয়া কম্পিউটারগুলোর অবস্থানের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়-
PAN (Personal Area Network)
LAN (Local Area Network)
MAN (Metropolitan Area Network)
WAN (Wide Area Network)
৮. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলতে কি বুঝ?
উত্তর: পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) হলো একটি ছোট আকারের নেটওয়ার্ক যা ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। সাধারণত এই নেটওয়ার্কটি একটি সীমিত এলাকা, যেমন একটি অফিস ডেস্ক বা একটি বাড়ি জুড়ে বিস্তৃত থাকে। PAN-এ সাধারণত কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, প্রিন্টার এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোকে সংযুক্ত করা হয়। Bluetooth বা Wi-Fi প্রযুক্তি ব্যবহার করে PAN তৈরি করা হয়।
৯. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) হলো একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যা একটি ছোট ভৌগোলিক এলাকা, যেমন- একটি অফিস, একটি স্কুল বা একটি বাড়ি জুড়ে বিস্তৃত থাকে। LAN-এ সাধারণত কম্পিউটার, প্রিন্টার, সার্ভার এবং অন্যান্য নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলোকে সংযুক্ত করা হয়। LAN-এর মাধ্যমে সংযুক্ত ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
১০. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক কিভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN) হলো একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যা একটি শহর বা মহানগরের মতো বড় ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে। MAN সাধারণত একাধিক LAN-কে সংযুক্ত করে গঠিত হয়। MAN-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা, সরকারি অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারগুলোকে সংযুক্ত করা হয়। MAN-এর গঠনে সাধারণত ফাইবার অপটিক ক্যাবল, মাইক্রোওয়েভ লিংক এরং স্যাটেলাইট লিংক ব্যবহার করা হয়।
১১. সর্বোচ্চ বিস্তৃতির নেটওয়ার্ক হলো ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN) হলো সবচেয়ে বড় ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত থাকতে পারে। ইন্টারনেট হলো এর একটি উদাহরণ। WAN- এর গঠনে সাধারণত টেলিফোন লাইন, স্যাটেলাইট লিংক, এবং অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। WAN-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারকে সংযুক্ত করা সম্ভব, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তথ্য আদান- প্রদান সহজ হয়েছে।
১২. টপোলজি বলতে কি বুঝ?
উত্তর: দুই বা ততোধিক কম্পিউটার একসাথে নেটওয়ার্কিং করার জিজ ভিন্ন পদ্ধতিকে টপোলজি বলে। এটি নির্দেশ করে যে নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ডিভাইস (যেমন কম্পিউটার, প্রিন্টার) কীভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং তাদের মধ্যে তথ্য কীভাবে প্রবাহিত হয়। মূলত টপোলজি হলো একটি নেটওয়ার্কের নকশা।
১৩. বাস টপোলজির অসুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: বাস টপোলজির অসুবিধা নিম্নরূপ:
নেটওয়ার্কে কম্পিউটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ডেটা বা তথা আদান-প্রদানে সমস্যা হয়।
একসাথে একই সময়ে যেশি ডেটা আদান-প্রদানে সময় বেশি লাগে।
ব্যাকবোন তারটি নষ্ট হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।
ত্রুটি খুঁজে পাওয়া কষ্টকর।
১৪. রিং টপোলজি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রিং টপোলজি নেটওয়ার্কের এমন একটি কাঠামো যেখানে সবগুলো ডিভাইস একটি বন্ধ বৃত্তাকার পথে সংযুক্ত থাকে। ডেটা এই বৃত্তাকার পথে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে একই দিকে প্রবাহিত হয়। একে একটি রিং-এর মতো দেখা যায় বলেই এর নাম রিং টপোলজি।
১৫. রিং টপোলজির দুটি সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: রিং টপোলজির দুটি সুবিধা নিম্নরূপ:
নতুন ডিভাইস যোগ করতে বা অপসারণ করতে বাস টপোলজির মতোই রিং টপোলজিতেও অন্যান্য টপোলজির তুলনায় কম জটিলতা থাকে।
যদি নেটওয়ার্কে খুব বেশি ডিভাইস না থাকে, তাহলে রিং টপোলজি বেশ দ্রুত ডেটা ট্রান্সমিশন করতে পারে।
১৬. কোন টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার অন্য দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে? সেই টপোলজির চিত্রসহ বিবরণ দাও।
উত্তর: রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার অন্য দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। নিচে রিং টপোলজির বিবরণ দেওয়া হলো- যে টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো একে অন্যের সাথে রিং বা বৃত্তের আকারে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে তাকে রিং টপোলজি বলে। এ টপোলজিতে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য যায় একটা নির্দিষ্ট দিকে। অর্থাৎ সব সময়েই যখন কম্পিউটারগুলোর মাঝে বৃত্তাকার যোগাযোগ থাকে, তাহলেই সেটা রিং টপোলজি।
১৭. রিং টপোলজির সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: রিং টপোলজির প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো, নেটওয়ার্কের কোনো একটি ডিভাইস বিকল হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্কের ডেটা ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও যদি নেটওয়ার্কে অনেক ডিভাইস থাকে, তাহলে ডেটা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে পৌঁছাতে অনেক সময় নিতে পারে।
১৮. স্টার টপোলজি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্টার টপোলজি নেটওয়ার্কের এমন একটি কাঠামো যেখানে সবগুলো ডিভাইস একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইস (যেমন- হাব, সুইচ) এর সাথে সংযুক্ত থাকে। এই কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি নেটওয়ার্কের সকল ডেটা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর মধ্যে ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণের ব্যবস্থা করে। এটি একটা তারার মতো দেখা যারা বলেই এর নাম স্টার টপোলজি।
১৯. ট্রি টপোলজির সুবিধাগুলো লিখ।
উত্তর: ট্রি টপোলজির সুবিধাগুলো হলো-
যেকোনো সময় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করা যায়।
ডেটা নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি।
নেটওয়ার্কের কোনো শাখা নষ্ট হলে, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে না।
২০. ট্রি টপোলজির অসুবিধাগুলো লিখ।
উত্তর: ট্রি টপোলজির অসুবিধাগুলো হলো-
প্রধান কম্পিউটার নষ্ট হলে সমগ্র নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।
অন্যান্য টপোলজির তুলনায় জটিল প্রকৃতির।
বাস্তবায়ন খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি।
২১. মেশ টপোলজি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মেশ টপোলজি হলো এমন একটি নেটওয়ার্কের গঠন যেখানে প্রতিটি ডিভাইস অন্য সব ডিভাইসের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। এটি একটি সম্পূর্ণ সংযুক্ত নেটওয়ার্ক। মেশ টপোলজি খুবই নির্ভরযোগ্য কারণ যদি কোনো কারণে একটি সংযোগ ব্যর্থ হয়, তাহলে ডেটা অন্য পথে পাঠানো যেতে পারে।
২২. মেশ টপোলজি নির্ভরযোগ্য হলেও ব্যয়বহুল কেন?
উত্তর: মেশ টপোলজি ব্যবহার করা সুবিধাজনক কারণ এটি খুবই - নির্ভরযোগ্য। যদি কোনো সংযোগ ব্যর্থ হয়, তাহলে ডেটা অন্য পথে পাঠানো যেতে পারে। এছাড়া, মেশ টপোলজি খুবই দ্রুত ডেটা ট্রান্সমিশন করতে পারে। তবে, মেশ টপোলজি স্থাপন করতে অনেকগুলো ক্যাবল প্রয়োজন হয়, ফলে এটি খুবই ব্যয়বহুল হতে পারে।
২৩. নেটওয়ার্ক ব্যবহারে কোন টপোলজি অধিক সুবিধাজনক? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নেটওয়ার্ক ব্যবহারে মেশ টপোলজি অধিক সুবিধাজনক। মেশ - টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত থাকে এবং একাধিক পথে যুক্ত হতে পারে। ফলে একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও পুরো নেটওয়ার্কের উপর কোনো প্রভাব পরে না। মেশ টপোলজিতে নেটওয়ার্কের সমস্যা খুব সহজে সমাধান করা যায়। এতে ডেটা কমিউনিকেশনের নিশ্চয়তা অনেক বেশি থাকে। তাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারে মেশ টপোলজি অধিক সুবিধাজনক।
২৪. কোন টপোলোজিতে প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি লিংক থাকে? সেই টপোলোজির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: মেশ টপোলোজিতে প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি লিংক থাকে। নিচে মেশ টপোলজির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হলো- মেশ টপোলোজিতে কম্পিউটারগুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে কম্পিউটারগুলো পরস্পর একাধিক পথে যুক্ত হতে পারে। এ ধরনের নেটওয়ার্কের কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটারের সাথে তথ্য আদান-প্রদানে কোনো অসুবিধা হয় না। অর্থাৎ মেশ টপোলজি নেটওয়ার্ক হলো সহজ নেটওয়ার্ক।
২৫. নেটওয়ার্ক তথ্য ব্যবস্থাপনায় কীভাবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে?
উত্তর: নেটওয়ার্ক তথ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি - মুহূর্তের মধ্যেই তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ করে দেয়। আগে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ ছিল, কিন্তু এখন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য সহজেই সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এছাড়া, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে, যেমন- ডেটাবেসে তথ্য সংরক্ষণ করা এবং দ্রুত অনুসন্ধানের সুবিধা।
২৬. তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ডেটাবেজ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ডেটাবেজ তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরঞ্জাম। এটি বিপুল পরিমাণ তথ্যকে একটি সুসংগত ও সুগঠিতভাবে সংরক্ষণ করে, যা পরবর্তীতে বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করে। ডেটাবেজের সাহায্যে তথ্য খুঁজে পাওয়া খুব সহজ হয়ে যায় এবং তথ্যের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, ডেটাবেজের মাধ্যমে তথ্যকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়, যেমন- চার্ট, গ্রাফ ইত্যাদির মাধ্যমে।
২৭. ই-টিকিট ব্যবস্থার সুবিধাগুলো কী কী?
উত্তর: ই-টিকিট ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো এটি যাত্রীদের কাগজের টিকিট বহন করার প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে। যাত্রীরা শুধু তাদের পরিচয় প্রদান করলেই বিমান কর্তৃপক্ষ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টিকিটের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এতে সময় বাঁচে, টিকিট হারানোর ঝামেলা কমে, এবং বিমানবন্দরে চেক-ইন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়ে যায়।
২৮. তথ্য প্রযুক্তি মানুষের সময় সাশ্রয় করে কীভাবে?
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সময়ের অপচয় কমিয়ে আনে। উদাহরণস্বরূপ, এখন আর দীর্ঘ সময় লাইনে না দাঁড়িয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আমরা যে কোনো সময়, যে কোনো স্থান থেকে অর্থ লেনদেন করতে পারি। ই-টিকেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই বিমান, ট্রেন বা বাসের টিকিট কিনতে পারি। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় থাকা রোগীরাও দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য দূরদূরান্তে ঘুরতে হয় না।
২৯. নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সফটওয়্যার ভাগাভাগির সুবিধা কী?
উত্তর: নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সফটওয়্যার ভাগাভাগির প্রধান সুবিধা হলো প্রত্যেকটি কম্পিউটারে আলাদাভাবে সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না। একটি মূল সার্ভারে সফটওয়্যার সংরক্ষণ করা হয়, এবং অন্য কম্পিউটারগুলো সেটি ব্যবহার করতে পারে। এতে সফটওয়্যার ব্যবহারের খরচ কমে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা অনেক সফটওয়্যার বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে ব্যবহার করতে পারেন।
৩০. নেটওয়ার্ক কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সাশ্রয় করে?
উত্তর: নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যয় অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সার্ভার কিনে রাখার প্রয়োজন পড়ে না, ফলে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের খরচ অনেক কমে যায়।
৩১. ক্লাউড কম্পিউটিং এর ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ক্লাউড কম্পিউটিং একটি প্রযুক্তি যা দিয়ে ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কোথাও অবস্থিত কম্পিউটারের স্টোরেজ স্পেস, কম্পিউটিং পাওয়ার এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে। এটি ব্যবহারকারীর নিজস্ব কম্পিউটারে সবকিছু রাখার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা তাদের ফাইল, ছবি, ডকুমেন্ট ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখতে পারে এবং যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গা থেকে সেগুলো অ্যাক্সেস করতে পারে।
৩২. ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারের প্রধান সুবিধাগুলো কী কী?
উত্তর: ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারের প্রধান সুবিধাগুলো হলো-
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ব্যয় কমায়।
প্রয়োজন অনুসারে সেবা নেওয়া ও খরচ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
যেকোনো স্থান থেকে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যায়।
তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
৩৩. জিমেইল একটি ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জিমেইল হলো গুগলের একটি ই-মেইল পরিষেবা। আমরা যখন জিমেইল ব্যবহার করি, তখন আমাদের ই-মেইলগুলো গুগলের সার্ভারে সংরক্ষণ করি। এই সার্ভারগুলোই হলো ক্লাউড। অর্থাৎ, আমাদের ই-মেইলগুলো আমাদের কম্পিউটারে না রেখে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাক্সেস করতে পারি। তাই এটি ক্লাউড কম্পিউটিং এর একটি উদাহরণ।
৩৪. সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যাখ্যা কর?
উত্তর: সামাজিক নেটওয়ার্ক হল এমন একটি ডিজিটাল মাধ্যম যেখানে মানুষ একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। এটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছবি, ভিডিয়ো, বার্তা ও তথ্য শেয়ার করার সুযোগ দেয়। ফেসবুক ও টুইটার হলো বর্তমানে জনপ্রিয় দুটি সামাজিক নেটওয়ার্ক, যা বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ সহজ করে দিয়েছে এবং তথ্য আদান-প্রদানকে আরও গতিশীল করেছে।
৩৫. হাব সম্পর্কে যা জানো লিখ।
উত্তর: সাধারণত তারযুক্ত নেটওয়ার্কে থাকা অনেকগুলো আইসিটি যন্ত্র - একসাথে যুক্ত করতে হাব ব্যবহার করা হয়। হাব এক যন্ত্রকে অন্য - যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ দেয়। হাব বললেই আমরা ইন্টারনেট হাব বা নেটওয়ার্ক হাবকেই বুঝে থাকি। তবে ইদানিং USB হাবও দেখা যায়। -
৩৬. হাব নির্দিষ্ট ঠিকানা অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে পারে না- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হাবের মধ্য দিয়ে যখন তথ্য বা উপাত্ত এক যন্ত্র থেকে অন্য যন্ত্রে যায়, হাব তখন সেগুলো পড়তে পারে না। এক কম্পিউটার থেকে অন্য একটি কম্পিউটারে তথ্য বা উপাত্ত পাঠালে হাব তার সাথে সংযুক্ত সকল কম্পিউটারে ঐ তথ্য বা উপাত্ত পাঠিয়ে দেয়। এমনকি যে কম্পিউটার থেকে তথ্য পাঠানো হলো, তাকেও হাব আবার ঐ তথ্য পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ হাব নির্দিষ্ট ঠিকানা অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে পারে না।
৩৭. সুইচ কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: সুইচ হাবের চেয়ে উন্নত একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস। সুইচ ডেটা প্যাকেটের গন্তব্যের ঠিকানা দেখে শুধু সেই নির্দিষ্ট ডিভাইসে ডেটা পাঠায়। ফলে সুইচ হাবের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ এবং নিরাপদ। সুইচ ব্যবহার করা হয় কারণ:
সুইচ ডেটা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ডিভাইসে পাঠায়, ফলে নেটওয়ার্কের ট্রাফিক কমে যায়।
সুইচ ডেটা ব্রডকাস্ট করে না, ফলে অননুমোদিত ডিভাইস ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারে না।
সুইচের মাধ্যমে বড় এবং জটিল নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায়।
৩৮. সুইচ কীভাবে কাজ করে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: সুইচ তার সাথে সংযুক্ত প্রত্যেকটি আইসিটি যন্ত্রের একটি করে ঠিকানা বরাদ্দ করে এবং ঐ ঠিকানা অনুযায়ী তথ্যের আদান প্রদান করে। অর্থাৎ কোনো একটি ঠিকানা থেকে অন্য কোনো ঠিকানায় উপাত্ত বা ডেটা পাঠাতে চাইলে সুইচ এক ঠিকানার তথ্য অন্য ঠিকানায় পৌঁছে দেয়। আলাদা আলাদা ঠিকানা ব্যবহারের কারণে সুইচ অনেক দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে।
৩৯. ডেটা প্যাকেট কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ডেটা প্যাকেট হলো ডেটার ছোট ছোট টুকরা যা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠানো হয়। প্রতিটি প্যাকেটে গন্তব্য ঠিকানা, উৎস ঠিকানা এবং ডেটা থাকে। ডেটা প্যাকেট ব্যবহার করে ডেটা বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে দিয়ে পাঠানো হয়।
৪০. ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতে মডেম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতে মডেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস। মডেম আমাদের কম্পিউটার বা অন্য যে কোনো ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করে। এটি আমাদের ডিভাইস থেকে প্রদান করা ডিজিটাল সংকেতকে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করে, যা ইন্টারনেট ক্যাবলের মাধ্যমে পাঠানো যেতে পারে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট থেকে আসা এনালগ সংকেতকে আবার ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে আমাদের ডিভাইসে পাঠায়।
৪১. মডেমের কাজ বর্ণনা কর।
উত্তর: মডেমের দুটি অংশ রয়েছে- মডুলেশন এবং ডিমডুলেশন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা বা উপাত্ত পাঠানোর জন্য মডেম ব্যবহৃত হয়। কোনো কম্পিউটার হতে প্রাপ্ত ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে। এ কাজটিকে মডুলেশন বলে। আবার অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করার কাজকে ডিমডুলেশন বলে। সিগন্যালকে মডুলেশন ও ডিমডুলেশন করাই হলো মডেমের কাজ।
৪২. ল্যানকার্ড কখন প্রয়োজন হয়?
উত্তর: দুটো বা অধিকসংখ্যক কম্পিউটারকে একসাথে যুক্ত করতে যে যন্ত্রটি অবশ্যই প্রয়োজন হয়, তা হলো ল্যানকার্ড। অর্থাৎ আমরা যদি কোনো নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাই, তবে অবশ্যই ল্যান কার্ডের প্রয়োজন হবে। নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত এক আইসিটি যন্ত্র থেকে অন্য যন্ত্রে কোনো তথ্য বা উপাত্ত পাঠাতে কিংবা গ্রহণ করতে ল্যান কার্ডের প্রয়োজন হয়।
৪৩. স্যাটেলাইট কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: মানবসৃষ্ট যেসব বস্তু নির্দিষ্ট কতকগুলো কাজের জন্য পৃথিবীর চারদিকে মহাশূন্যে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে পারে তাদেরকে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট বলে। এটি পৃথিবী থেকে প্রেরিত সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং পুনরায় পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পাঠিয়ে দেয়। বিশেষ করে জিও স্টেশনারি স্যাটেলাইট ৩৬ হাজার কিলোমিটার উপরে নির্দিষ্ট কক্ষপথে অবস্থান করে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ ও কার্যকর করে তোলে।
৪৪. যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট এর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে সিগন্যাল পাঠানোর জন্য স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে রেডিও, টেলিফোন, মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেট সিগন্যাল পাঠানো যায়। এর ফলে মানুষ যেকোনো সময় অন্য প্রান্তে অবস্থানকারী ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এতে করে সেই দেশের বিভিন্ন সংবাদ ও সংস্কৃতির তথ্য অন্য দেশের মানুষ জানতে পারে। এমনকি মোবাইল ফোনে ভিডিও কল করে অন্য দেশের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায়। এভাবেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৪৫. জিও স্টেশনরি স্যাটেলাইটকে স্থির মনে হয় কেন?
উত্তর: জিও স্টেশনরি স্যাটেলাইটকে পৃথিবী থেকে দেখলে এটিকে স্থির মনে হয় কারণ এটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে সমান গতিতে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী যে হারে ঘোরে, স্যাটেলাইটও সেই হারে ঘোরে বলে আমাদের কাছে মনে হয় যে এটি আকাশে একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে।
৪৬. অপটিক্যাল ফাইবারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু এক ধরনের প্লাস্টিক কাঁচের তন্তু। শব্দ বা বিদ্যুৎ শক্তিকে আলোকশক্তিতে রূপান্তর করার পর তা অপটিক্যাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অপটিক্যাল ফাইবারে যে আলোক সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়, সেটি ইনফ্রারেড আলো এবং এ আলো আমাদের চোখে দৃশ্যমান নয়। একটি অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতর দিয়ে একসাথে কয়েক লক্ষ টেলিফোন কল পাঠানো সম্ভব। বর্তমানে অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ এত উন্নত হয়েছে যে পৃথিবীর সবদেশেই অপটিক্যাল ফাইবারের নেটওয়ার্ক দিয়ে একে অন্যের সাথে সংযুক্ত।
৪৭. স্যাটেলাইটের চেয়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলে যোগাযোগ দ্রুত কেন?
উত্তর: অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলে আলোর মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ করা হয়, যার গতি খুব বেশি। অনাদিকে, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণের জন্য তথ্যকে রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর করতে হয় এবং এই তরজাগুলোকে স্যাটেলাইটে পাঠাতে হয়। তারপর স্যাটেলাইট আবার সেই তরঙ্গগুলোকে গ্রহণ করে এবং পৃথিবীতে, পাঠায়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগে। ফলে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের তুলনায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগে কিছুটা বিলম্ব হয়। তথ্য