শ্রেণি : ষষ্ঠ || অধ্যায় - ৩
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : ষষ্ঠ || অধ্যায় - ৩
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, যেমন কম্পিউটার, মডেম বা প্রিন্টার সঠিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে ব্যবহারের কারণে বৈদ্যুতিক শক বা যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বৈদ্যুতিক শক শরীরের মস্তিষ্কের সংকেতকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যা হাত-পা নাড়ানো বা হৃৎপিন্ডের স্পন্দন বন্ধ করার মতো গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই সঠিক সকেটে প্লাগ দেওয়া, খোলা তার স্পর্শ না করা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগে সতর্ক থাকা জরুরি।
২. কম্পিউটার ব্যবহারের সময় তাপমাত্রা নিয়ে কী সতর্কতা নিতে হবে?
উত্তর: কম্পিউটারের প্রসেসর ও মাদারবোর্ড অনেক তাপ উৎপন্ন করে। তাই কম্পিউটারের ভেতরে ফ্যান লাগানো হয়, যা বাইরের ঠান্ডা বাতাস টেনে, এনে ভেতরের গরম বাতাস বের করে দেয়। কম্পিউটার ব্যবহারের সময় নিশ্চিত করতে হবে যেন ফ্যানের বাতাস প্রবেশ ও নির্গমনের পথ বন্ধ না হয়। ফ্যান ঠিকভাবে কাজ না করলে কম্পিউটার তাপজনিত সমস্যায় পড়তে পারে।
৩. বৈদ্যুতিক সংযোগে কী কী সতর্কতা মেনে চলতে হবে?
উত্তর: বৈদ্যুতিক সংযোগ সব সময় সঠিক সকেটে দিতে হবে। কখনোই খোলা তারের প্লাস্টিক সরিয়ে প্লাগে ঢুকিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া উচিত নয়। যদি খোলা তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়, তাহলে ভয়ানক বৈদ্যুতিক শকের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বৈদ্যুতিক সংযোগে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং কারও ভুল দেখলে তাৎক্ষণিক বাধা দেওয়া উচিত।
৪. কম্পিউটার দীর্ঘস্থায়ী রাখতে কী কী বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন?
উত্তর: কম্পিউটার দীর্ঘস্থায়ী রাখতে সঠিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কম্পিউটারের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রসেসরের ওপর লাগানো ফ্যানের বায়ু চলাচল বাধাহীন রাখতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগে সঠিক সকেট ও প্লাগ ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই খোলা তারে সংযোগ দেওয়া উচিত নয়। এসব সতর্কতা মেনে চললে কম্পিউটার দীর্ঘদিন ভালোভাবে কাজ করবে।
৫. বাড়িতে কী করে গ্লাস ক্লিনার তৈরি করা যায়?
উত্তর: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ভিনেগার দিয়ে সেটাকে গ্লাস ক্লিনার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নরম সুতি কাপড়ে এই গ্লাস ক্লিনার লাগিয়ে মনিটর বা অন্যান্য গ্লাস পরিষ্কার করা যায়।
৬. এলসিডি বা এলইডি মনিটর পরিষ্কার করা উচিত নয় কেন?
উত্তর: এলসিডি বা এলইডি মনিটরের পৃষ্ঠদেশ কাচ নয়, তাই পরিষ্কার করার সময় দাগ পড়ে যেতে পারে। ঘষাঘষি করলে পিক্সেলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এ ধরনের মনিটর পরিষ্কার করার চেষ্টা না করাই ভালো।
৭. সিআরটি মনিটর সঠিকভাবে পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া কী?
উত্তর: সিআরটি মনিটরে ধুলাবালি পড়ে অপরিষ্কার হলে প্রথমে নরম সুতি কাপড় দিয়ে মুছে সেটা পরিষ্কার করা যায়। প্রয়োজনে নরম সুতি কাপড়টিতে একটু গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে। যদি গ্লাস ক্লিনার না থাকে তাহলে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ভিনেগার দিয়ে সেটাকে গ্লাস ক্লিনার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তবে পরিষ্কার করার আগে কম্পিউটার বন্ধ করে তার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা উচিত।
৮. পানি বা যেকোনো পানীয় কম্পিউটারে ঢুকে গেলে কি করতে হবে?
উত্তর: পানি বা অন্যান্য পানীয় বিদ্যুৎ পরিবাহী, কম্পিউটারের ভিতর সেটা ঢুকে গেলে বৈদ্যুতিক সার্কিটগুলো শর্ট সার্কিট হতে পারে। এরকম কিছু হলে সাথে সাথে কম্পিউটার বন্ধ করে দীর্ঘ সময় একটা ফ্যানের নিচে রেখে অপেক্ষা করতে হবে যেন পানিটুকু শুকিয়ে যায়।
৯. কম্পিউটারের কাছে পানি বা অন্যান্য তরল রাখা কেন ক্ষতিকর?
উত্তর: কম্পিউটারের কাছে পানি, কোনো ধরনের ড্রিংক বা অন্যান্য তরল রাখলে তা দুর্ঘটনাক্রমে পড়ে যেতে পারে। তরল বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় এটি কম্পিউটারের ভেতরে ঢুকে বৈদ্যুতিক সার্কিট শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে। ফলে কম্পিউটার নষ্ট হতে পারে। যদি তরল পড়ে যায়, তাহলে সাথে সাথে কম্পিউটার বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ ফ্যানের নিচে রেখে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।
১০. কম্পিউটার ভাইরাস কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাহ হয়। এই ধরনের প্রোগ্রামের কারণে কম্পিউটার ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এটি সাধারণত নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে আরও অনেক কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
১১. কম্পিউটার ভাইরাস কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস একটি ছোট প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এটি একটি কম্পিউটারে প্রবেশ করে বংশবৃদ্ধি করে এবং নেটওয়ার্ক বা তথ্য কপি করার মাধ্যমে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস ব্যবহারকারীর অজান্তে কম্পিউটারে ঢুকে ডেটা নষ্ট করা, প্রোগ্রাম কাজ না করা বা সিস্টেম ধীরগতির মতো সমস্যার সৃষ্টি করে।
১২. কম্পিউটার ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যমগুলো কী কী?
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস প্রধানত সিডি, পেনড্রাইভ, ই-মেইল বা ফাইল শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছড়ায়। নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্য কোনো কম্পিউটার থেকে কোনো ফাইল বা সফটওয়্যার কপি করার সময় সতর্ক না থাকলে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে।
১৩. কম্পিউটার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যগুলো লিখ।
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
ভাইরাস এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কম্পিউটারে কোনো ভাইরাস ঢুকতে পারলে অসংখ্য ভাইরাসে পরিণত হয়।
ভাইরাস সবার অজান্তে একটি কম্পিউটারে বাসা বাঁধে।
১৪. কম্পিউটার ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী?
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করা প্রয়োজন। নিয়মিত এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম আপডেট করা উচিত, কারণ নতুন ভাইরাস প্রতিনিয়ত তৈরি হয়। এছাড়া মুক্ত সফটওয়্যার বা ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করলে ভাইরাসের ঝুঁকি কমে যায়।
১৫. মুক্ত সফটওয়্যার ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: মুক্ত সফটওয়্যার বা ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম সাধারণত ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকে, কারণ এগুলোর জন্য ভাইরাস তৈরি করা হয় না। মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করলে এন্টিভাইরাস' প্রোগ্রামে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না এবং ভাইরাসজনিত সমস্যার সম্ভাবনা কম থাকে।
১৬. অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কম্পিউটারকে ভাইরাস এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক প্রোগ্রামের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অ্যান্টিভাইরাস নিয়মিত স্ক্যান করে সন্দেহজনক ফাইল শনাক্ত ও মুছে ফেলে। এটি অনলাইনে ব্রাউজিং এবং ডাউনলোডের সময়ও সুরক্ষা দেয়। অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করলে কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নিরাপদ থাকে। আইসিটি ব্যবহারে ঝুঁকি ও সতর্কতা অবলম্বনের পন্থা।
১৭. কেন কম্পিউটার ব্যবহারে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন?
উত্তর: কম্পিউটার আমাদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার জন্য তৈরি হয়েছে। তবে এটি ব্যবহার করতে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন, কারণ অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ছোট বাচ্চারা মাঠে খেলার পরিবর্তে অতিরিক্ত কম্পিউটার গেমে আসক্ত হলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই কম্পিউটারের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
১৮. অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে কী ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, আঙুলে ব্যথা এবং চোখের সমস্যার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকার কারণে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এমনকি এতে করে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।