শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ১
প্রত্যাহিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ১
প্রত্যাহিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলেছে। এটি আমাদের কাজের গতি বাড়িয়েছে এবং জীবনের মান উন্নত করেছে। এটি আমাদের সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন এবং পরিবহন-সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার লিখ
উত্তর: দৈনন্দিন জীবনে তথ্য প্রযুক্তির নানামুখী ব্যবহার রয়েছে। এরকম কয়েকটি ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা পাঠানো এবং গ্রহণ।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরীক্ষার ফলাফল জানা।
ইন্টারনেট-এ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্যের অর্ডার দেওয়া এবং বিল পে-করা।
ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ই-মেইল, ফেসবুক ব্যবহার করে যোগাযোগ করা।
৩. মোবাইল টেলিফোন কীভাবে ব্যক্তিগত যোগাযোগ সহজ করেছে?
উত্তর: মোবাইল টেলিফোন ব্যক্তিগত যোগাযোগে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এটি আমাদের যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে অন্য কারও সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেয়। এমনকি এখন ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরের মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলা সম্ভব। এছাড়া মেসেজ, ই-মেইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে। এটি শুধু সময় বাঁচায় না, আমাদের পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনের মানও উন্নত করে।
৪. বিনোদনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিনোদনের জগতে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। আগে ছবি তোলার জন্য ক্যামেরার ব্যবহার শুধুমাত্র ধনীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই ছবি তোলা এবং ভিডিও তৈরি করা যায় যা সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে সিনেমা দেখা, গেম খেলার সুবিধাসহ অন্যান্য বিনোদন এখন সবার জন্য সহজলভ্য।
৫. মোবাইল টেলিফোন কেমন করে বুদ্ধিমান যন্ত্রে পরিণত হয়েছে?
উত্তর: মোবাইল টেলিফোন এখন শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি একাধিক কাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য একটি বুদ্ধিমান যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এতে গান শোনা, ছবি তোলা, ভিডিয়ো করা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ডকুমেন্ট তৈরি এবং গেম খেলার মতো কাজ করা যায়। স্মার্টফোন প্রযুক্তি এটিকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা বর্তমানে কম্পিউটারের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।
৬. কম্পিউটার কীভাবে ছোট থেকে ছোটতর হয়েছে?
উত্তর: কম্পিউটার প্রযুক্তি সময়ের সাথে সাথে আরও ছোট, দ্রুত এবং শক্তিশালী হয়েছে। ডেস্কটপ কম্পিউটারের জায়গায় ল্যাপটপ এসেছে, যা বহনযোগ্য এবং আরও কার্যকর। ল্যাপটপ থেকে নোটবুক এবং এখন স্মার্টফোন- সবকিছুই বহনযোগ্য প্রযুক্তির উদাহরণ। স্মার্টফোন আমাদের হাতের মুঠোয় এসে অসংখ্য কাজে সহায়তা করছে।
৭. জিপিএস কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে সাহায্য করে। এটি উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সংকেত বিশ্লেষণ করে - ব্যবহারকারীকে তার অবস্থান জানায়। এর মাধ্যমে গাড়িচালক বা পথচারীরা তাদের গন্তব্যের সঠিক দিক নির্ণয় করতে পারে।
৮. জিপিএস ব্যবহারের সুবিধা কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: জিপিএস ব্যবহারের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো জায়গার অবস্থান বের করা যায়। এর মাধ্যমে গাড়িচালক বা পথচারীরা তাদের গন্তব্যের সঠিক দিক নির্ণয় করতে পারে। জিপিএস বর্তমানে গাড়ি, স্মার্টফোন এবং অন্যান্য যন্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি মানুষকে পথ চিনতে সহায়তা করে এবং সময় সাশ্রয় করে।
৯. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সম্পর্কে যা জান লেখ।
উত্তর: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট হিসেবে ১২ই মে, ২০১৮ সালে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। স্যাটেলাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়/এবং এটি বাংলাদেশকে স্যাটেলাইটের অধিকারী ৫৭তম দেশ হিসেরে পরিচিত করেছে।
১০. দিনের শুরুতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দুটি ব্যবহার লেখ।
উত্তর: দিনের শুরুতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দুটি ব্যবহার হলো:
মোবাইল টেলিফোনে দেওয়া এলার্মের শব্দে সকালের ঘুম ভাঙে।
মোবাইল টেলিফোনের ক্যালেন্ডার অ্যাপ থেকে তারিখ ও বার জানা যায়।
১১. তুমি কিভাবে তোমার বন্ধুর জন্মদিনের কথা মনে রাখতে পারো?
উত্তর: আমার মোবাইল টেলিফোনের ক্যালেন্ডার অ্যাপ আমাকে বন্ধুর জন্মদিনের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। ক্যালেন্ডারে পূর্বেই আমি বন্ধুর জন্মতারিখ সেট করে রাখতে পারি। নির্দিষ্ট দিনে নোটিফিকেশন দেখে আমি আমার বন্ধুর জন্মদিনের কথা জানতে পারি এবং তাকে শুভেচ্ছা জানাতে পারি।
১২. ল্যাপটপ কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ল্যাপটপ (Laptop) শব্দের অর্থ হচ্ছে কোলের উপর। সাধারণত যাত্রা পথে কোলের উপর রেখে এ জাতীয় কম্পিউটারে কাজ করা যায় বলে এর নাম রাখা হয়েছে ল্যাপটপ কম্পিউটারণ এটা দেখতে অনেকটা ব্রিফকেসের মতো। এটা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে বহন করা যায়।
১৩. ল্যাপটপের মাধ্যমে দৈনন্দিন কি কি কাজ করা যেতে পারে?
উত্তর: দৈনন্দিন যেসব কাজ ল্যাপটপের মাধ্যমে করা যায় তা হলো-
ইন্টারনেটে ই-মেইল প্রেরণ ও গ্রহণ করা।
গান শোনা, ই-বুক রিডারে বই পড়া।
ইন্টারনেটে খাবারের অর্ডার দেওয়া।
পৃথিবীর খবরাখবর নেওয়া।
ট্রেনের টিকেট বুক করা।
কম্পিউটার গেম খেলা।
১৪. ই-বুক রিডার বলতে কী বুঝ?
উত্তর: ই-বুক রিডারের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ইলেকট্রনিক বুক রিডার। ই-বুক রিডার হচ্ছে ই-বুক পড়ার একটি সফটওয়্যার। ই-বুক রিডারে সহস্রাধিক বই ডাউনলোড করে রাখা যায়। পরবর্তীতে ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো বই ওপেন করে সাধারণ বইয়ের মতো পড়া যায়। বইয়ের মতো এখানে পৃষ্ঠা উল্টানো যায়। প্রয়োজনে যেকোনো পৃষ্ঠায় চলে যাওয়া যায়।
১৫. অনলাইনে কীভাবে খাবার অর্ডার করা সম্ভব?
উত্তর: মোবাইল অ্যাপ কিংবা কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই একটি অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিস থেকে প্রিয় খাবার অর্ডার করা যায়। প্রযুক্তির এই সুবিধার ফলে বাজার বা রান্নার ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে যেকোনো রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দের খাবার অর্ডার করে উপভোগ কর যায়।
১৬. জ্ঞান বিজ্ঞানের খবর সম্পর্কে কোথায় তথ্য পাওয়া যায়?
উত্তর: জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কিত খবর জানার আগ্রহ আমাদের সবার। কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা পৃথিবীর খবরাখবর জানতে পারি। উইকিপিডিয়াতে নতুন নতুন খবর বা বিস্তারিত আর্টিকেল পড়ে আমরা বিষয়টি বুঝতে ও জ্ঞান অর্জন করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, উইকিপিডিয়াতে বিজ্ঞানের চমকপ্রদ বিষয় নিউট্রিনো সম্পর্কিত আর্টিকেল পড়ে নতুন তথ্য জানা।
১৭. অনলাইনে বন্ধুর জন্য কীভাবে উপহার অর্ডার করা যায়?
উত্তর: বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে যেকোনো উপহার দেওয়ার জন্য আমরা সরাসরি উপস্থিত না হয়েও অনলাইনের সাহায্য নিতে পারি। ইন্টারনেট থেকে বন্ধুর পছন্দ অনুযায়ী একটি বই অর্ডার করে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দিলে উপহারটি সরাসরি বন্ধুর বাসায় পৌঁছে যাবে।
১৮. তুমি ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে কোথা থেকে খবর পেতে পারো?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে আমি ঘরে বসেই ইন্টারনেট থেকে বা টেলিভিশনে খবর দেখে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে জানতে পারি। ঘূর্ণিঝড়টি কবে, কখন, কোথায় আঘাত হানবে এবং তার গতিপথ কেমন হবে সে তথ্যও জানতে পারি। উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর প্রচার করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের পথ পরিবর্তনের খবরও খুব সহজেই জেনে নিতে পারি।
১৯. পূর্বে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো?
উত্তর: পূর্বে শিক্ষার্থীদের অনেক দূর থেকে দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসে, ট্রেনে যেতে হতো। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভর্তির ফর্ম আনতে হতো। সেই ফর্ম পূরণ করে আবার তাদের সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হতো, ক্যাশ টাকা জমা দিতে হতো, ফর্ম জমা দিয়ে পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিতে হতো, সেই প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো। পরীক্ষার খাতা দেখা শেষ হলে ফলাফল প্রকাশিত হতো- খবরের কাগজে সেই ফলাফল দেখে যারা সুযোগ পেত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতো।
২০. বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: ২০০৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। এতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে আবেদন করতে পারে। পুরো প্রক্রিয়ায় কাগজ ব্যবহার বন্ধ করা হয় এবং ২০০৯ সাল থেকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ পদ্ধতি চালু হয়।
২১. কাগজবিহীন অফিসের ধারণাটি প্রথম কোথায় এবং কখন উল্লেখ করা হয়েছিল?
উত্তর: কাগজবিহীন অফিসের ধারণাটি প্রথম ১৯৭৫ সালে বিজনেস উইক নামের একটি ম্যাগাজিনে উল্লেখ করা হয়। তবে তখন এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল, কারণ সবার কাছে কম্পিউটার থাকা সম্ভব ছিল না।
২২. কাগজবিহীন অফিসে কাগজের পরিবর্তে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: কাগজবিহীন অফিসে কাগজের পরিবর্তে কম্পিউটার, ই-মেইল এবং নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। আজকাল অফিস ব্যবস্থাপনার সকল তথ্য হাতে-কলমে না করে কম্পিউটারেই সম্পন্ন করা হয়। এমনকি ফাইল প্রেরণে সেখানে উপস্থিত না হয়ে ই-মেইল বা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়।
২৩. কাগজবিহীন অফিস পরিবেশের জন্য কীভাবে উপকারী?
উত্তর: কাগজ তৈরি হয় গাছ থেকে তাই কাগজবিহীন অফিসে কাগজের ব্যবহার কমে যাওয়ায় গাছ বা বন রক্ষা পায়। এতে করে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে। এছাড়া লেখার কালি ও টোনারের ব্যবহার কমায় রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পরিবেশ দূষণও কম হয়।
২৪. তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে ছবি সংরক্ষণে কী পরিবর্তন এসেছে?
উত্তর: আগে ক্যামেরায় তোলা ছবি প্রিন্ট করতে হতো। এখন তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে ক্যামেরায় বা স্মার্টফোনে তোলা ছবি সরাসরি কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনে দেখা যায়, প্রিন্ট করার প্রয়োজন হয় না।
২৫. অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেম কীভাবে গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক?
উত্তর: অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রাহকরা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, তহবিল স্থানান্তর এবং বাহ্যিক কোনো কাগজপত্রের ব্যবহার ছাড়াই বিল পরিশোধসহ সব কাজ অনলাইনে করতে পারে। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে স্মার্টফোন থেকে সরাসরি এসব সেবা পাওয়া
২৬. কাগজবিহীন অফিসের পরবর্তী ধাপ কী এবং এর সুবিধা কী?
উত্তর: কাগজবিহীন অফিসের পরবর্তী ধাপ হলো ভার্চুয়াল অফিস। এর সুবিধা হলো অফিসে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও কাজ করা যায় এবং অফিস পরিচালনার খরচ কমে যায়।
২৭. ভার্চুয়াল অফিস বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ভার্চুয়াল অফিস বলতে এমন একটি অফিস ব্যবস্থা বুঝায় যেখানে কর্মীরা শারীরিকভাবে অফিসে উপস্থিত না থেকেও কাজ করতে পারে। এটি ইন্টারনেট, কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কর্মীরা বাসা বা যেকোনো জায়গা থেকে অফিসের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এই পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাপী কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করতে পারে এবং অফিস ২৪ ঘণ্টা চালানো সম্ভব হয়।
২৮. ভার্চুয়াল অফিসে কাজ করার সুবিধা কী?
উত্তর: ভার্চুয়াল অফিসের সুবিধা হলো- এটি অফিস পরিচালনার খরচ কমায়, ট্রাফিক জ্যামে সময় নষ্ট হয় না এবং কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়, দিনে বা রাতে যেকোনো সময় কাজ করা যায়।
২৯. সাধারণ অফিসের তুলনায় ভার্চুয়াল অফিস বেশ সুবিধাজনক- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সব অফিসকেই যে ভার্চুয়াল অফিস বানানো যাবে তা নয়। কিন্তু যেগুলো বানানো যাবে সেখানে অনেক লাভ। প্রথমত অফিসের জন্যে বড় বিল্ডিং করতে হবে না। রাস্তাঘাটের ট্রাফিক জ্যামের সাথে যুদ্ধ করে কাউকে অফিসে আসতে হবে না। বাসায় বসে কাজ করতে পারবে বলে অফিসের কাজের পাশাপাশি বাসার কাজকর্মও করতে পারবে। সাধারণ অফিসে যারা কাজ করে তাদেরকে অফিসের কাছাকাছি থাকতে হয়। ভার্চুয়াল অফিসে যেহেতু কাউকে স্বশরীরে থাকতে হয় না তাই তারা যেখানে ইচ্ছে সেখানে থাকতে পারে।
৩০. ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য কী প্রযুক্তির প্রয়োজন?
উত্তর: ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য একটি কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং দক্ষতার প্রয়োজন। নির্দিস্ট সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করা হয়।
৩১. ঘরে বসে টাকা উপার্জন সম্ভব- বুঝিয়ে বলো
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে আজকাল ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কাজকর্ম এখন ঘরে বসেই করা যাচ্ছে। অনেক তরুণ-তরুণী অফিসে না গিয়ে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে ব্যক্তি স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এ ধরনের কাজ করতে একটা কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের সংযোগ দরকার তার সাথে দরকার দক্ষতা। এভাবে একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ নিজের ঘরে, বা যেকোনো জায়গায় বসে বিভিন্ন কোম্পানির কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।
৩২. বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে মানুষ কীভাবে দক্ষতা অর্জন করেছে?
উত্তর: বাংলাদেশের মানুষ প্রাকৃতিকভাবে নদী-বিল ও সমুদ্রের সঙ্গে বেড়ে ওঠে। তাদের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যবাহী নৌকা তৈরির দক্ষতা আধুনিক জাহাজ নির্মাণে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশের মানুষ বড় বড় জাহাজ তৈরি করছে এবং সেগুলো বিদেশে রপ্তানি করছে।
৩৩. ওয়েল্ডিং কাজটি বিপজ্জনক কেন?
উত্তর: বড় বড় জাহাজ বা গাড়ি নির্মাণে ধাতব টুকরো কেটে ওয়েন্ডিং করতে হয়। ওয়েন্ডিং কাজের সময় তীব্র আলো বের হয়, যা সরাসরি চোখে লাগলে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও প্রচুর তাপ এবং ছিটকে পড়া ধাতব টুকরো এই কাজটিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
৩৪. ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট কীভাবে কাজের ক্ষেত্রে মানুষকে সহায়তা করে?
উত্তর: মানুষ একঘেয়ে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায় এবং কাজের ইচ্ছাও কমে যায়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট এই বিপজ্জনক ও একঘেয়ে কাজগুলো করে, যা মানুষকে শারীরিক পরিশ্রম থেকে মুক্তি দেয়। রোবট ক্লান্ত হয় না এবং অভিযোগও করে না, ফলে কাজ দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়।
৩৫. কর্মক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের ভূমিকা লেখ
উত্তর: কর্মক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের ভূমিকা বর্তমান শিল্পায়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোবটের প্রধান ভূমিকাগুলো হলো-
ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে সক্ষম, যা উৎপাদনশীলতা বহু গুণ বাড়ায়।
রোবট ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁত ও মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। মানুষ কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, একঘেয়ে কাজের ভাড় করতে পারে।
৩৬. রোবট দিয়ে কী ধরনের কাজ করানো যেতে পারে?
উত্তর: রোবট দিয়ে বিভিন্ন বিপজ্জনক কাজ করানো যেতে পারে। যেমন-
জাহাজ শিল্পে ওয়েন্ডিং এবং লেজার কাটিং।
একঘেয়ে কাজ যেমন প্যাকেজিং, কারখানার মেশিন পরিচালনা ইত্যাদি।
৩৭. চালকবিহীন গাড়ি বা পাইলটবিহীন প্লেনের সুবিধা কী?
উত্তর: চালকবিহীন গাড়ি তথ্য প্রযুক্তি যন্ত্র ব্যবহার করে নিজে নিজে চলে। এটি মানুষের ভুল-ত্রুটি কমিয়ে এনে সড়ক দুর্ঘটনার হার হ্রাস করে। পাইলটবিহীন প্লেনগুলোতে কম্পিউটারের মাধ্যমেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাইলটবিহীন যুদ্ধবিমান এখন যুদ্ধে ব্যবহার করা হয় এবং ড্রোনগুলোর সাহায্যে আজকাল ছবি তোলা ও ভিডিও করা হয়।
৩৮. তথ্য প্রযুক্তি অফিসের কাজকে কীভাবে সহজ করেছে?
উত্তর: দাপ্তরিক কাজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অফিসের চিঠিপত্র এবং ফাইল স্থানান্তর দ্রুত করেছে। ইলেকট্রনিক ফাইলের মাধ্যমে এক সেকেন্ডেই ডকুমেন্ট অন্য জায়গায় পৌঁছে যায়, যা আগে দিনের পর দিন সময় নিতো। এমনকি অফিসের মিটিংগুলোও আজকাল সরাসরি উপস্থিত না হয়েও তথ্য প্রযুক্তি যন্ত্রের সাহায্যে অন্যভাবে হয়। ফলে কাজের গতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩৯. ই-ক্লাসরুম বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ই-ক্লাসরুম বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একজন শিক্ষক একটি ক্লাসরুমে থেকে সারা দেশের কিংবা বিশ্বের অসংখ্য শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারেন। এটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয় যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলছে।
৪০. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখে?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে ই-মেইল, খুদেবার্তা, ই-কার্ড, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ছবি ও ভিডিও শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ করে। এর ফলে দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও মানুষ পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে এবং নিজেদের সম্পর্ক আরও বিকশিত করতে পারে।
৪১. সামাজিক সম্পর্ক বিকাশে আইসিটি ব্যবহারের তিনটি ক্ষেত্র উল্লেখ কর।
উত্তর: সামাজিক সম্পর্ক বিকাশে আইসিটি ব্যবহারের তিনটি ক্ষেত্র-
অনুষ্ঠানাদিতে আমন্ত্রণ,
বিশেষ দিবসসমূহে শুভেচ্ছা বার্তা এবং
স্মৃতি সংরক্ষণ ও বিনিময়।
৪২. ই-কার্ড পাঠানোর উপায় কয়টি ও কী কী?
উত্তর: ই-কার্ড দুই উপায়ে পাঠানো যায়। একটি উপায় হলো একজন নিজে কম্পিউটারে ই-কার্ড তৈরি করে সেটি ই-মেইলে পাঠাতে পারে। অন্যটি হলো ইন্টারনেটে অনেক ই-কার্ডের সাইট আছে যেখান থেকে নিজের পছন্দের ই-কার্ডটি প্রিয়জনের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারে।
৪৩. বিশেষ দিবসগুলোতে শুভেচ্ছা জানানোর আধুনিক পদ্ধতি কোনগুলো?
উত্তর: বিয়ে, জন্মদিন ইত্যাদির মতো বিশেষ দিবসগুলোতে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ই-কার্ড, ই-মেইল, খুদেবার্তা (এসএমএস) এবং এফএম রেডিওর মাধ্যমে প্রিয়জনের পছন্দের গান বাজানো ইত্যাদি হলো আধুনিক পদ্ধতি। এগুলো যেমন সহজ, দ্রুত তেমন ব্যয়সাশ্রয়ী।
৪৪. সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহারের সুবিধা লেখ।
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের সামাজিক যোগাযোগকে । দ্রুত আকর্ষণীয় এবং কার্যকরী করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগের সাইটসমূহের ব্যবহারের সুবিধা হলো-
সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সামাজিক বন্ধন অটুট রাখা।
তথ্য আদান-প্রদান করা।
নিজের মতামত বন্ধুদের জানানো এবং বন্ধুদের মতামত জানা।
সামাজিক আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লব গড়ে তোলা।
৪৫. সামাজিক যোগাযোগের সাইট কীভাবে আমাদের সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করে তুলেছে?
উত্তর: সামাজিক যোগাযোগের সাইট আমাদের যোগাযোগকে দ্রুত, আকর্ষণীয় এবং কার্যকর করেছে। এগুলো ব্যবহার করে সহজে বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ব্যক্তিগত অনুভূতি, অনুষ্ঠানাদি, চাকরিতে প্রমোশন, বিয়ে ইত্যাদি নানা বিষয়ের তথ্য, এ ছবি, ভিডিয়ো ইত্যাদি শেয়ার করার মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
৪৬. চারটি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম লেখ।
উত্তর: চারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম হলো:
ফেসবুক
লিংকডইন
এক্স ও
ইনস্টাগ্রাম।
৪৭. ফেসবুক প্রোফাইল কী এবং এর মাধ্যমে কী কী করা যায়?
উত্তর: ফেসবুক প্রোফাইল হলো ব্যবহারকারীর পরিচিতিমূলক একটি বিশেষায়িত ওয়েব পেইজ। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার নিজের তথ্য, তার ভালো লাগা, না লাগা ইত্যাদি বিষয় প্রকাশ করতে পারে, বন্ধু খুঁজে নিতে পারে এবং স্ট্যাটাস, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করতে পারে। প্রোফাইলের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায় এবং বন্ধুদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ রাখা যায়।
৪৮. ফেসবুকে 'সোশ্যাল নেটওয়ার্ক' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ফেসবুকে 'সোশ্যাল নেটওয়ার্ক' বলতে ব্যবহারকারী ও তার বন্ধুদের একটি সংযোগময় ব্যবস্থাকে বোঝায়। এটি এমন এক সামাজিক নেটওয়ার্ক যেখানে একজন ব্যবহারকারী তার প্রোফাইলন থেকে অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে যুক্ত হয়। নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে বড় হয় এবং ছোট বেলার বন্ধু থেকে সম্প্রতি পরিচিত বন্ধুদের সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।
৪৯. স্ট্যাটাস এবং পোস্ট কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্ট্যাটাস হলো ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে মনের ভাব বা কোনো তথ্য প্রকাশ করা। একইভাবে, এক্স-এ নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে কিছু লেখাকে বলা হয় পোস্ট।
৫০. ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের জন্য জন্মদিন স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সুবিধাটি কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্মদিনের তথ্য সংরক্ষণ করে এবং নির্দিষ্ট দিনে তাদের বন্ধুদের তা মনে করিয়ে দেয়। ফলে বন্ধু ও পরিচিতজনরা শুভেচ্ছা জানাতে পারে, যা বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করে।