শ্রেণি : নবম - দশম || অধ্যায় - ১
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও আমাদের বাংলাদেশ
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : নবম - দশম || অধ্যায় - ১
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও আমাদের বাংলাদেশ
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. একুশ শতকের সম্পদ হিসেবে কী বিবেচিত হয় এবং কেন?
উত্তর: একুশ শতকের সম্পদ হিসেবে জ্ঞানকে বিবেচনা করা হয়। মানুষকে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে, সৃজনশীল চিন্তা করতে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম করে। প্রাকৃতিক সম্পদের পরিবর্তে এখন মানুষের মেধা, দক্ষতা ও জ্ঞানই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
২. 'Globalization' ও 'Internationalization' কীভাবে একুশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে?
উত্তর: একুশ শতকে 'Globalization' এবং 'Internationalization' ত্বরান্বিত হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির কারণে। এগুলোর মাধ্যমে দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষ ও সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের মানুষ সারা আজ বিশ্বে ছড়িয়ে থেকে দেশকে উপস্থাপন করছে। ফলে দেশের গন্ডি ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়েছে। ফলে Globalization বিষয় হয়ে উঠেছে। Internationalization একুশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ।
৩. 'Globalization' বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: এই একুশ শতকে এসে একটি দেশের সীমানা এখন আর ভৌগোলিকভাবে সীমাবদ্ধ নেই। আজ বিভিন্ন দেশ, জাতি, ধর্মের মানুষ সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একটি দেশের নাগরিক বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেনো, সে তার দেশকে সারা বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির কারণে একটি দেশের মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরছে, একেই বলে 'Globalization' |
৪. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কীভাবে একুশ শতকের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে?
উত্তর: একুশ শতকের অর্থনীতি হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দ্রুত তথ্য বিনিময়, ব্যবসার প্রসার এবং জ্ঞানভিত্তিক কাজকে সহজতর করে একুশ শতকের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি অর্থনীতির প্রতিটি খাতে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে।
৫. একুশ শতকে টিকে থাকার জন্য কোন দক্ষতাগুলো প্রয়োজন?
উত্তর: একুশ শতকের এই আধুনিক যুগে টিকে থাকার জন্য কিছু বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন। এই দৃক্ষতাগুলোর মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে পারদর্শিতা।
৬. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ করে দেয়। এটি সৃজনশীল চিন্তা এবং জ্ঞান সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিত্য নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদেরকে নতুন পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে পারে। এভাবেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে।
৭. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কীভাবে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে সহায়তা করে?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংযোজন ও মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে সহায়তা করে। কারণ এর মাধ্যমে সকল তথ্যই মানুষের হাতের মুঠোয় এসে পড়ে, যা সে নিত্য নতুন জিনিস উদ্ভাবনে কাজে লাগাতে পারে। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্ভাবন ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
৮. আধুনিক কম্পিউটারের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয় চার্লস ব্যাবেজকে। তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন তৈরি করেন এবং এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে একটি গণনা যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন। তাঁর পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে ১৯৯১ সালে লন্ডনের বিজ্ঞান জাদুঘরে একটি ইঞ্জিন তৈরি করা হয়।
৯. ডিফারেন্স ইঞ্জিন কী এবং কে এটি তৈরি করেন?
উত্তর: ডিফারেন্স ইঞ্জিন হলো একটি প্রাথমিক গণনা যন্ত্র। এটি জটিল গণনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। যা আধুনিক কম্পিউটারের বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করে। এ যন্ত্রটি তৈরির কারণে চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।
১০. প্রোগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
উত্তর: প্রোগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক হিসেবে অ্যাডা লাভলেসকে গণ্য করা হয়। চার্লস ব্যাবেজের এনালিটিক্যাল ইঞ্জিনে তিনি প্রোগ্রামিংয়ের ধারণা প্রয়োগ করেন। অ্যাডা লাভলেস অ্যালগরিদম প্রোগ্রামিংয়ের পথিকৃৎ হিসেবে সম্মানিত হন।
১১. প্রোগ্রামিং এর ধারণা প্রবর্তিত হয় কিভাবে?
উত্তর: অ্যাডা লাভলেস বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজের এনালিটিক্যাল ইঞ্জিনকে কাজে লাগানোর জন্য প্রোগ্রামিং এর ধারণা প্রবর্তন করেন। ১৮৪০ সালে চার্লস ব্যাবেজ যখন তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ইঞ্জিন সম্পর্কে বক্তব্য দেন, তখন অ্যাডা লাভলেস ব্যাবেজের সহায়তা নিয়ে বক্তব্যের সাথে ইঞ্জিনের কাজের ধাপ অনুসারে ক্রমাঙ্কিত করেন, যা পরবির্তিতে প্রোগ্রামিং এর প্রথম ধারণা হিসেবে স্বীকৃত পায়।
১২. তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের ধারণা কে প্রথম প্রকাশ করেন?
উত্তর: বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল সর্বপ্রথম তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের ধারণা প্রকাশ করেন। তাঁর এই তত্ত্ব বিনা তারে বার্তা প্রেরণের সম্ভাবনা তৈরি করে, যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৩. বিনা তারে বার্তা প্রেরণে প্রথম সফল ব্যক্তি কে ছিলেন?
উত্তর: বিনা তারে বার্তা প্রেরণে প্রথম সফল হন বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বন্ধু। ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরণ করতে সক্ষম হন, যা রেডিও প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করে। কিন্তু তাঁর এই অাবিষ্কার প্রকাশিত না হওয়ায় তিনি সার্বজনীন স্বীকৃতি পাননি।
১৪. বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে কাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
উত্তর: বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যদিও জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম এ কাজে সফল হন, মার্কনির আবিষ্কারটি প্রথম প্রকাশিত হওয়ায় তিনি সার্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে IEEE তাকে রেডিও বিজ্ঞানের অগ্রপথিক ও অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করে।
১৫. কম্পিউটারের অগ্রগতিতে আইবিএমের ভূমিকা কী?
উত্তর: বিশ শতকে ইলেকট্রনিক্সের বিকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইবিএম কোম্পানি প্রথম মেইনফ্রেম কম্পিউটার তৈরি করে। ধীরে ধীরে এই কোম্পানি মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহারের মাধ্যমে পার্সোনাল কম্পিউটারের বিকাশ সাধন করে। এটি কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১৬. মাইক্রোপ্রসেসর তথ্য প্রযুক্তিতে কি ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কারের ফলে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের আকার ছোট হয়ে আসে। ফলে যে কম্পিউটার রাখতে আগে পুরো একটি রুম দরকার হতো, তা একটি টেবিলের মধ্যেই রাখা সম্ভব হয়। এটি সাশ্রয়ী পার্সোনাল কম্পিউটার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে মাইক্রোপ্রসেসর তথ্য প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৭. ই-মেইল কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ই-মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল হলো ডিজিটাল ম্যাসেজ সার্ভিস যার দ্বার ইন্টারনেটের সাহায্যে ইলেকট্রনিক মোডে ম্যাসেজ পাঠানো যায়। এটি মানুষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি সহজলভ্য, কার্যকরী ও সময় উপযোগী মাধ্যম। বিজ্ঞানী রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে এর সূচনা হয়। পরবর্তিতে এটী বিশ্বব্যাপী তথ্য বিনিময়ের একটি প্রধান পদ্ধতি হয়ে ওঠে।
১৮. আরপানেট কী এবং এটি কেনো গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: আরপানেট হলো বিশ্বের প্রথম নেটওয়ার্ক, যা বিশ শতকের ষাট-সত্তরের দশকে আবিষ্কৃত হয় এটি ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে বিভিন্ন কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি ইন্টারনেটের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্কিংয়ের পথ উন্মুক্ত করে। ১৯৭১ সালে আরপানেটের মাধ্যমেই ইলেকট্রনিক পত্রালাপের সূচনা হয়।
১৯. পার্সোনাল কম্পিউটারের বিকাশে কারা অবদান রেখেছেন?
উত্তর: স্টিভ জবস, স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েইন পার্সোনাল কম্পিউটারের বিকাশে অবদান রেখেছেন। ১৯৭৬ সালে এই তিন বন্ধু মিলে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন এবং পার্সোনাল কম্পিউটারের নানান পর্যায় উন্নত করেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত অ্যাপল কোম্পানির হাত ধরেই ধাপে ধাপে পার্সোনাল কম্পিউটার আজকের পর্যায়ে এসেছে।
২০. স্টিভ জবস তথ্য প্রযুক্তিতে কী অবদান রেখেছেন?
উত্তর : স্টিভ জবস হলেন অ্যাপল কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি এই কোম্পানির মাধ্যমে পার্সোনাল কম্পিউটারের নকশা ও ব্যবহার সহজ করেছেন। তাঁর উদ্ভাবনী কাজগুলো কম্পিউটার প্রযুক্তিকে আরও উন্নত এবং সৃজনশীল করেছে। ফলে কম্পিউটারের মতো একটি জটিল যন্ত্র আজ সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।
২১. মাইক্রোসফট কীভাবে কম্পিউটার জগতে পরতপর্ণ ভূমিকা পালন করেছে?
উত্তর: ১৯৮১ সালে আইবিএম কোম্পানি তাদের বানানো পার্সোনাল কম্পিউটারের ২জন্য অপারেটিং সিস্টেম বানানোর দায়িত্ব দেয় মাইক্রোসফট কোম্পানিকে। মাইক্রোসফট আইবিএমের পার্সোনাল কম্পিউটারের জন্য এমএস ডস এবং উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে। তাদের তৈরি এই অপারেটিং সিস্টেম বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটায়।
২২. বিল গেটস প্রযুক্তি খাতে কী ভূমিকা রেখেছেন?
উত্তর: বিল গেটস হলেন মাইক্রোসফট কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি এমএস ডস এবং উইন্ডোজের মতো অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন। উইন্ডোজ হলো বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম। তাই বলা যায় যে, বিল গেটস প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২৩. ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: স্যার টিমোথি জন বার্নাস-লি ১৯৮৯ সালে হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকল (HTTP) ব্যবহার করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রস্তাবনা তৈরি করেন এবং তা বস্তবায়ন করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের নানা দেশের মধ্যে ইন্টারনেট বিস্তার লাভ করে। এটি ইন্টারনেটকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য আরও সহজ করে তোলে।
২৪. ইন্টারনেট কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: বিশ শতকের ষাট-সত্তরের দশকে ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে আরপানেট নামক একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়। বলা যায়, তখন থেকেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটারসমূহের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বিকশিত হতে শুরু করে। এই বিকাশের ফলে তৈরি হয় ইন্টারনেট। ধীরে ধীরে এটি বৈশ্বিক যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে।
২৫. HTTP কী এবং এটি কেনো গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: HTTP (Hypertext Transfer Protocol) হলো তথ্য বিনিময়ের একটি পদ্ধতি। এটি ব্যবহার করেই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব তৈরি করা হয়। এর ফলে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি বিকশিত হয় এবং বিশ্বের নানান দেশের মধ্যে ইন্টারনেট বিস্তৃত হয়। সারা বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা।
২৬. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের জগত বিকশিত হয় কিভাবে?
উত্তর: ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের আবিষ্কারের ফলে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ সাধন হয়। এতে করে বিশ্বের নানান দেশে ইন্টারনেট বিস্তৃতি লাভ করে। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের জগত বিকশিত হয়।
২৭. ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেছেন কারা? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর চার বন্ধু মিলে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম এটি চালু হয়। পরে এটি একটি বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে ওঠে। এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ফেসবুক।
২৮. ই-লার্নিং কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ই-লার্নিং হলো ইলেকট্রনিক লার্নিং-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সিডি রম, ইন্টারনেট, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক, কিংবা টেলিভিশন চ্যানেল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে জ্ঞান পৌঁছানোর একটি পদ্ধতি। ই-লার্নিং সনাতন পদ্ধতির বিকল্প নয়, বরং তার একটি পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
২৯. ই-লার্নিং ব্যবস্থায় প্রাপ্ত সুবিধাগুলো কী কী?
উত্তর: ই-লার্নিং ব্যবস্থায় প্রাপ্ত সুবিধাগুলো নিম্নে দেওয়া হলো:
এ ব্যবস্থাটি ইন্টারঅ্যাকটিভ হতে পারে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে হাতে কলমে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
দক্ষ শিক্ষকেরা তাদের পাঠদান ভিডিও করে শিক্ষার্থীদের বিতরণ করতে পারেন। এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা দক্ষ শিক্ষকের ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
এ ব্যবস্থায় অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স করার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও সার্টিফিকেট অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
পাঠবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্যও ই-লার্নিং ভূমিকা রাখে।
৩০ ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায়?
উত্তর: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব কারণ এটি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়ায়। এটি নাগরিকদের হয়রানি কমায়, দ্রুত সেবা প্রদান করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করে। ফলে শাসন ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
৩১. ই-গর্ভন্যান্স এর সুবিধাগুলো উল্লেখ কর।
উত্তর: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধাগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে এবং ইন্টারনেটে পরীক্ষার ফলাফল জানা যায়।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোনে আবেদন করার সুবিধা পাওয়া যায়।
স্বল্প সময়ে, কম খরচে এবং ঝামেলাহীনভাবে সেবা নিশ্চিত করা যায়।
মোবাইল কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে পরিসেবাসমূহের- বিল অর্থাৎ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের বিল পরিশোধ করার সুবিধা পাওয়া যায়।
ই-গভর্ন্যান্স চালুর ফলে সরকারি দপ্তরসমূহের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি পায়।
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে কোনো কোনো কার্যক্রমের সময় ২৪ x ৭ × ৩৬৫ দিনে পরিণত করা যায়। এতে করে নাগরিকেরা নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে সেবা গ্রহণ করতে পারে।
৩২. বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না কেন?
উত্তর: বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্সের কিছু সেবা চালু হলেও সবক্ষেত্রে এটি এখনো কার্যকর করা যাচ্ছে না। কারণ এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদ দরকার। এর জন্য আরও বড়ো সরকারি উদ্যোগ এবং নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা প্রয়োজন। তবে ই-গভার্ন্যান্স পুরোপুরি চালু হলে দেশের সুশাসন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
৩৩. ই-সেবা কীভাবে সেবাগ্রহীতার জীবনকে সহজ করে?
উত্তর: ই-সেবা সেবাগ্রহীতাদের সময় এবং অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করে। মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা সরাসরি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। পাশাপাশি ই-সেবার মাধ্যমে সেবার আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়। এতে করে সেবাগ্রহীতার দৈনন্দিন জীরুন আরও সহজ হয়।
৩৪. ই-সার্ভিস এর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
উত্তর: ই-সার্ভিস বা ই-সেবার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
স্বল্প খরচে এই সেবা পাওয়া যায়।
দ্রুত এবং স্বল্প সময়ে সেবা গ্রহীতার নিকট সেবা পৌছে যায়।
ই-সেবা হয়রানিমুক্ত এবং ঝামেলাহীন সেবা নিশ্চিত করে।
সেবার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা বিধান করে।
যেকোনো স্থান থেকে ডিজিটাল উপায়ে এ সেবা গ্রহণ করা যায়।
এটি একটি ডিজিটাল পদ্ধতি। তাই যেকোনো ক্ষেত্রে সেবা প্রদানে ভুল হবার সম্ভাবনা কমে যায়।
৩৫. ই-পূর্জি কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ই-পূর্জি হলো আখচাষিদের চিনিকলে আখ সরবরাহের সময়সূচি জানিয়ে দেওয়ার একটি অনুমতিপত্র। বর্তমানে এটি এসএমএসের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, যার ফলে আখচাষিরা হয়রানি ও বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পান। এটি আখ সরবরাহের সঠিক সময় নিশ্চিত করে চিনিকলের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করছে।
৩৬. ই-এমটিএস কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম (ই-এমটিএস) হলো বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি সেবা, যার মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টাকা পাঠানো যায়। এটি দ্রুত, নিরাপদ এবং খরচ সাশ্রয়ী। এর মাধ্যমে মাত্র ১ মিনিটের মধ্যেই ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্থানান্তর সম্ভব।
৩৭. ই-পর্চা সেবা কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ই-পর্চা সেবা হলো জমির রেকর্ডের অনুলিপি অনলাইনে সহজেই সংগ্রহ করার পদ্ধতি। পূর্বে জমির রেকর্ডের অনুলিপি দপ্তরে গিয়ে সংগ্রহ করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। এখন আবেদনকারী যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে জমির পর্চা সংগ্রহ করতে পারেন।
৩৮. ই-স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে সেবা প্রদান করে?
উত্তর: ই-স্বাস্থ্যসেবা হলো- ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রদত্ত স্বাস্থ্যসেবা। এ প্রক্রিয়ায় অনেক দূর দূরান্তের রোগীদের ইলেকট্রনিক মাধ্যমের সাহায্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসকরা এখন মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এজন্য দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে একটি করে মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো নাগরিক এভাবে যেকোনো চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে পারেন। এছাড়া দেশের কয়েকটি হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সেবাও চালু হয়েছে। টেলিমেডিসিন হলো দূর-দূরান্তে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা।
৩৯. ই-টিকিটিং কি? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ই-টিকিটিং এক ধরনের ই-সেবা যার মাধ্যমে যাত্রীরা অনলাইনে বা মোবাইল ফোনে ট্রেনের টিকিট কিনতে পারেন। ক্রয়ের পর তারা একটি গোপন নম্বর পান, যা স্টেশনে গিয়ে প্রদর্শন করলে মূল টিকিট সংগ্রহ করা যায়। এটি সময় সাশ্রয় করে।
৪০. ই-কমার্স কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ই-কমার্স হলো ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা বেচাকেনার পদ্ধতি। এতে ক্রেতারা অনলাইনে পণ্য নির্বাচন করেন এবং ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড,. মোবাইল ব্যাংকিং অথবা ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করেন। এ পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয়ের জন্য সরাসরি বিক্রেতার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
৪১. ই-কমার্স ব্যবস্থায় পণ্যের মূল্য পরিশোধের পদ্ধতিগুলো কী কী?
উত্তর: ই-কমার্স ব্যবস্থায় পণ্যের মূল্য পরিশোধের পদ্ধতিগুলো নিচে দেওয়া হলো।
কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে: ই-কমার্স ব্যবস্থায় কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা। এ ধরনের কার্ড ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নামে পরিচিত।
মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কোনো মোবাইল ব্যাংকিং এর আকাউন্ট থাকলে এ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যায়।
ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD): ই-কর্মাস ব্যবস্থায় সবচেয়ে জনপ্রিয় মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি এটি। এ প্রক্রিয়ায় ক্রেতা বিক্রেতার ওয়েবসাইটে বসে তার পছন্দের পণ্যটির অর্ডার দেন। বিক্রেতা পণ্যের অর্ডার কনফার্ম হবার পর তা ক্রেতার কাছে পাঠিয়ে দেন এবং ক্রেতা পণ্য পেয়ে এর মূল্য পরিশোধ করেন। তাই একে বলা হয় পণ্য প্রাপ্তির পর মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি।
৪২. ই-কমার্সে বিক্রেতা কীভাবে তার পণ্য বিক্রয় করেন?
উত্তর: ই-কমার্সে বিক্রেতা তার পণ্যের ছবি ও ভিডিয়ো নির্দিষ্ট ই-কমার্স বা অন্য কোনো ওয়েবসাইটে আপলোড করেন। ক্রেতারা সেগুলো দেখে পছন্দ করে নির্দিষ্ট পণ্য অর্ডার করেন। পণ্য অর্ডারের পর বিক্রেতা ক্রেতার নিকট পণ্যটি পাঠিয়ে দেন। এক্ষেত্রে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং বা ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হয়।
৪৩. বর্তমান চাকরির ক্ষেত্রে আইসিটি দক্ষতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: বর্তমান চাকরির ক্ষেত্রে আইসিটির দক্ষতা একটি প্রাথমিক যোগ্যতা। ওয়ার্ড প্রসেসর, উপস্থাপনা সফটওয়্যার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল এবং নানান ধরনের বিশ্লেষণী সফটওয়্যার ব্যবহারে পারদর্শিতা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আবশ্যক। অনেক চাকরিতে বিশেষায়িত সফটওয়্যারের দক্ষতাও প্রয়োজন।
৪৪. আইসিটি কীভাবে নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করছে?
উত্তর: আইসিটি হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করছে। এসব ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীরা দেশে এবং বিদেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
৪৫. আউটসোর্সিং কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের বাজার উন্মুক্ত করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক দেশে বসেই অন্য দেশের কোন কাজ করা যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশ তাদের অনলাইন নির্ভর কাজগুলো অন্যান্য দেশের লোকজন দিয়ে করিযে নিচ্ছে। এই ধরনের কাজকে বলা হয় আউটসোর্সিং। অন্যভাবে বলা যায়, আউটসোর্সিং হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে তৃতীয় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেওয়া।
৪৬. আউটসোর্সিং কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে?
উত্তর: আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের আইসিটিতে দক্ষ কর্মীরা দেশের বাইরের কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এই কাজের বেশিরভাগই দেশে বসে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াচ্ছে।
৪৭. বাংলাদেশে আইসিটির ব্যবহার কীভাবে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে?
উত্তর: বাংলাদেশের আইসিটিতে দক্ষ কর্মীরা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। দেশে থেকেও অন্য দেশের বিভিন্ন কাজের অর্ডার পেয়ে দেশে বসেই কাল সম্পন্ন করছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ দেশীয় কর্মিদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা লাভ হচ্ছে। এভাবেই আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টী হচ্ছে।
৪৮. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো এমন ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ তথ্য, ছবি, ভিডিয়ো এবং অনুভূতি বিনিময় করে। উদাহরণ হিসেবে ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন এবং ইনস্টাগ্রাম উল্লেখযোগ্য। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষ সহজে যোগাযোগ স্থাপন করে।
৪৯. ফেসবুক কী এবং এটি কবে চালু হয়?
উত্তর: ফেসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি - মার্ক জাকারবার্গ তার বন্ধুদের নিয়ে চালু করেন। এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় - এবং এতে বার্তা প্রেরণ, অডিয়ো-ভিডিয়ো শেয়ার, গ্রুপ তৈরি এবং পেজ চালু করা যায়। এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
৫০. টুইটার বা এক্স কী এবং এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: টুইটার বা এক্স হলো একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম। এতে ১৪০ অক্ষরের মধ্যে বার্তা প্রকাশ করা হয়, যাকে টুইট বলা হয়। এর ব্যবহারকারীরা এতে প্রোফাইল খোলা, টুইট করা এবং অপর কোনো ব্যবহারকারীকে অনুসরণ বা ফলো করা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ করতে পারেন।
৫১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে বিনোদনের জগতে নতুন দিক উন্মোচিত হয় কয় ভাবে?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে বিনোদনের জগতে নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে দুই ভাবে। প্রথমত, বিনোদনটি কীভাবে মানুষ গ্রহণ করবে সেই প্রকিয়াটিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিনোদনের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমগুলোতে একটি গুণগত পরিবর্তন হয়েছে।
৫২. কম্পিউটার গেম কেন এতো জনপ্রিয়?
উত্তর: কম্পিউটার গেমের জনপ্রিয়তা এর বহুমুখী বিনোদন ক্ষমতার জন্য। এটি শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে তাদের রুচি অনুযায়ী আনন্দ দেয়। নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গেমিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করার সুযোগ এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
৫৩. কম্পিউটার গেমের নেতিবাচক দিকগুলো লেখ।
উত্তর: কম্পিউটার গেম অতিরিক্ত আসক্তির কারণ হতে পারে, যা মানুষের সময় নষ্ট করতে পারে এবং তাকে মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ফেলতে পারে। এই কারণে সারা বিশ্বে গেমিং আসক্তি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৫৪. অ্যানিমেশন ও গ্রাফিক্স প্রযুক্তি বিনোদনে কী পরিবর্তন এনেছে?
উত্তর: অ্যানিমেশন এবং গ্রাফিক্স প্রযুক্তি বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি কাল্পনিক জগত, প্রাণী ও চরিত্র তৈরি সহজ করেছে। গ্রাফিক্স-নির্ভর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি সৃজনশীল বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে। এটি মানুষের কল্পনার জগতকে আরও বিস্তৃত করেছে।
৫৫. বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন কীভাবে হয়েছে?
উত্তর: বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন দেরিতে শুরু করলেও বর্তমানে সরকার ফাইবার অপটিক লাইন, ই-সেন্টার এবং ই-গভর্নেন্সের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রযুক্তির প্রসার ঘটাচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রযুক্তি পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে দেশের মানুষের জীবনমান আরও উন্নত ও সহজ হচ্ছে।
৫৬. সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ কী কী সুবিধা পাচ্ছে?
উত্তর: সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ পেয়েছে। এটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা প্রদান আরও সহজ করেছে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেশের মানুষের হাতের নাগালে এসেছে।
৫৭. আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন?
উত্তর: ২০২৪ সালে আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০-এর মধ্যে ৬২। এটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের গড় স্কোর ৬৪.৮ এবং এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ৭৭.৩-এর তুলনায় কম। এই সূচকে মিয়ানমার. শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও ভুটান বাংলাদেশের চেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে উপরে অবস্থান করছে আর পাকিস্তান বাংলাদেশের পরে অবস্থান করছে।