শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ১
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ১
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দুটি ব্যবহার লিখ।
উত্তর: শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো-
তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়।
তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসে যেকোনো পরীক্ষার ফলাফল জানা যায়।
২. প্রযুক্তি প্রসারে অর্থ প্রেরণ বর্তমানে খুবই সহজসাধ্য ব্যাপার- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অর্থ প্রেরণ এখন খুব সহজ হয়ে গেছে। মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন অর্থ প্রেরণ অ্যাপসের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খুব সহজেই অর্থ প্রেরণ করতে পারি। এতে সময় এবং খরচ উভয়ই অনেক কমে গেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক।
৩. পরিবহন ক্ষেত্রে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিবহন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। GPS, স্মার্টফোন অ্যাপ এবং অনলাইন বুকিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা সহজেই যানবাহন বুক করতে, যানজট এড়াতে এবং সর্বোত্তম রুট খুঁজে পেতে পারি। এছাড়া নতুন প্রযুক্তি যেমন- স্বয়ংচালিত গাড়ি এবং ড্রোন পরিবহন ব্যবস্থায় আরও বেশি দক্ষতা এবং নিরাপত্তা আনছে।
৪. ইন্টারনেট চালাতে মডেম কেন প্রয়োজন হয়?
উত্তর: ইন্টারনেট চালাতে মডেম প্রয়োজন হয় কারণ মডেমই ইন্টারনেট সংকেতকে কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইস বুঝতে পারে এমন ভাষায় রূপান্তর করে। মডেম ইন্টারনেট সংযোগের জন্য একটি সেতু হিসেবে কাজ করে। এটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের নেটওয়ার্ককে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করে। কর্মসৃজন ও কর্মপ্রাপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
৫. তথ্য প্রযুক্তির বিকাশে কিছু সনাতনী কাজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে অনেক সনাতনী কাজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেমন, টাইপরাইটারের জায়গায় কম্পিউটার, হিসাব রক্ষকের জায়গায় স্প্রেডশিট এবং মানি অর্ডার এর জায়গায় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ এসেছে। এছাড়া, অনেক কারখানায় যান্ত্রিক কাজগুলো রোবট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মানুষের হাতে কুম কাজ থাকছে এবং তাদেরকে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে।
৬. তথ্যপ্রযুক্তি কীভাবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে?
উত্তর: তথ্যপ্রযুক্তি সংযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। ড. ইকবাল কাদিরের মতে, সংযুক্তিই উৎপাদনশীলতা। প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিষ্ঠান স্বল্প কর্মী দিয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মূল কারণ।
৭. কর্মস্থল তথা অফিসে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার বর্ণনা কর।
উত্তর: আধুনিক কর্মস্থলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত প্রচলিত। ই-মেইল, ভিডিয়ো কনফারেন্সিং, ক্লাউড স্টোরেজ, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ইত্যাদির মাধ্যমে কর্মচারীরা তথ্য আদান-প্রদান করে, কাজের সমন্বয় করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া, অনলাইন ট্রেনিং, অটোমেশন এবং ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। অনেক কোম্পানি এখন উপস্থিতি, বেতন, ভাতা ইত্যাদি তথ্যও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং পরিচালনা করে।
৮. তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে কর্মক্ষেত্রে কর্মীর দক্ষতা কীভাবে বাড়ে?
উত্তর: তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দক্ষতা বাড়ায় কারণ এটি কাজকে সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করে। যেমন- ফটোগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো কাজ এখন কম্পিউটারের মাধ্যমে ঘরে বসে করা যায়। ফলে কর্মীরা সময়ের সাথে নিজেদের ক্রমাগত দক্ষ করে তুলতে পারেন।
৯. ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠান কী এবং এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠান হলো এমন প্রতিষ্ঠান যা অনলাইন-ভিত্তিক। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা ঘরে বসে কাজ করে।
২. কর্মীদের কাজ অনলাইন মনিটরিং এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
১০. ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠানে কর্ম সম্পাদন হয় কিভাবে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকলেও, তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে একত্রিত হয়ে কাজ করে। ভিডিয়ো কনফারেন্সিং, মেসেজিং অ্যাপ, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুলস এবং ক্লাউড স্টোরেজের মাধ্যমে তারা যোগাযোগ করে, কাজ বণ্টন করে এবং প্রকল্প পরিচালনা করে। ভার্চুয়াল প্রতিষ্ঠানে অফিসের মতো একটি ভার্চুয়াল অফিস থাকে যেখানে সব তথ্য এবং ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকে।
১১. তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের কাজের ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কীভাবে কমায়?
উত্তর: তথ্যপ্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যক্রম তদারকি করে। ফলে তারা নিয়মিত কাজ সম্পন্ন করতে উদ্বুদ্ধ হয়। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বাড়ে। যার সুফল কর্মী এবং প্রতিষ্ঠান উভয় পক্ষই ভোগ করে।
১২. বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বিস্তার কীভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বিস্তার দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বিপুল পরিবর্তন এনেছে। মোবাইল কোম্পানিতে কাজের সুযোগ, মোবাইল সেট বিক্রয়, বিপণন ও রক্ষণাবেক্ষণ, মোবাইল সেবা প্রদান, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি নতুন নতুন খাত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ৩ লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
১৩. 'জবসাইট' কিভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জবসাইট হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে নিয়োগদাতা এবং চাকরিপ্রার্থীরা একে অপরকে খুঁজে পায়। নিয়োগদাতারা তাদের প্রতিষ্ঠানের খালি পদগুলোতে আবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অন্যদিকে, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সাথে মিল রেখে চাকরির সন্ধান করে এবং আবেদন করে। জবসাইটে রেজুমি আপলোড করার এবং নিয়োগদাতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার সুবিধা থাকে।
১৪. ইন্টারনেট কীভাবে চাকরির সুযোগ প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে?
উত্তর: ইন্টারনেটের মাধ্যমে জবসাইটগুলোতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যা কর্মপ্রত্যাশীরা তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারেন। নিবন্ধিত প্রার্থীদের ই-মেইল বা এসএমএস-এর মাধ্যমে নতুন চাকরির খবর জানানো হয়। ফলে চাকরির সুযোগ প্রাপ্তি সহজ হয়েছে।
১৫. আউটসোর্সিং কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আউটসোর্সিং হলো কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাজের একটি অংশ বা পুরোটাই অন্য দেশের কর্মীকে দিয়ে করানো। সাধারণত, কোনো কাজ যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ না হয় বা যদি সেই কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা সম্পদ না থাকে, তখন সেই কাজটি আউটসোর্স দিয়ে করানো হয়। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজের মূল কাজে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে এবং খরচ কমাতে পারে। পাশাপাশি কর্মীরা ঘরে বসে আয় করার সুযোগ পায়।
১৬. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মুক্ত পেশা বা ফ্রিল্যান্সিং এর সম্ভাবনা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে মুক্ত পেশা বা ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় পেশা তা হয়ে উঠছে। ওয়েবসাইট উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, মাসিক বেতন-ভাতার বিল প্রস্তুতকরণ, ওয়েবসাইটে তথ্য যুক্তকরণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন এর মতো অনেক কাজ বর্তমানে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা ঘরে । বসেই করছে। বাংলাদেশ সরকারও মুক্ত পেশাকে উৎসাহিত করছে এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করছে।
১৭. যোগাযোগের পদ্ধতিকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
উত্তর: যোগাযোগের পদ্ধতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় একমুখী এবং দ্বিমুখী। একমুখী পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনেকের সাথে যোগাযোগ করে, যেমন রেডিও ও টেলিভিশন। অন্যদিকে, দ্বিমুখী পদ্ধতিতে উভয়পক্ষ যোগাযোগে অংশগ্রহণ করতে পারে, যেমন টেলিফোন।
১৮. একমুখী যোগাযোগ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: একমুখী যোগাযোগ এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে তথ্য একদিক থেকে পাঠানো হয় এবং প্রাপক তা গ্রহণ করেন কিন্তু উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকে না। রেডিও এবং টেলিভিশন একমুখী যোগাযোগের উদাহরণ।
১৯. ব্রডকাস্ট বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ব্রডকাস্ট হলো এক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে একজন প্রেরক তার বার্তা একসাথে অনেক গ্রাহকের কাছে পাঠাতে পারে। এটি টেলিভিশন, রেডিও এবং ইন্টারনেটের মতো মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। একজন ব্রডকাস্টার তার বার্তা একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করে এবং তার শ্রোতা বা দর্শকরা সেই চ্যানেলের মাধ্যমে সেই বার্তা গ্রহণ করে। তবে এক্ষত্রে দর্শক বা শ্রোতারা পাল্টা -যোগাযোগ করতে পারে না।
২০. একমুখী ও দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার পার্থক্য লেখ।
উত্তর: একমুখী ও দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার পার্থক্য নিম্নরূপ-
একমুখী যোগাযোগ
১। যেখানে একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ জানানোর সুযোগ থাকে না। করে, তবে প্রতিক্রিয়া
২। এটি একমুখী বা Broadcast পদ্ধতিতে কাজ করে। যেমন- রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদি।
দ্বিমুখী যোগাযোগ
১। যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি তথ্য বিনিময়ের সুযোগ থাকে।
২। এটি সংলাপ ভিত্তিক পদ্ধতিতে কাজ করে। যেমন- ফোন, ভিডিও কল, চ্যাটিং ইত্যাদি।
২১. মহান মুক্তিযুদ্ধে আইসিটির পুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংকেত দেওয়ার জন্য আইসিটি যন্ত্র রেডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুক্তিযোদ্ধাদের অনুরোধে আকাশবানী রেডিও থেকে ১৩ই আগস্ট বেজে উঠে বিখ্যাত গায়ক পঙ্কজ মল্লিকের গাওয়া একটি পান "আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান"। সেই গানটি একটি ছিল একটি সংকেত, সেটি শুনে নৌ কমান্ডোরা বুঝতে পেরেছিল তাদের এখন আঘাত হানার সময় এসেছে। এভাবেই আইসিটি যন্ত্র রেডিওটি মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২২. কোন কোন ক্ষেত্রে ব্রডকাস্ট ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: ব্রডকাস্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যেমন- সংবাদ প্রচার, বিনোদন, শিক্ষা, বিজ্ঞাপন এবং সরকারি ঘোষণা। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সংবাদ, ধারাবাহিক নাটক, চলচ্চিত্র প্রচারের জন্য ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করে। রেডিও চ্যানেলগুলো সংবাদ, গান এবং অন্যান্য শ্রবণযোগ্য বিষয় প্রচার করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিয়ো অন ডিমান্ড এবং ওয়েবকাস্টিংয়ের মতো সেবাগুলো ব্রডকাস্টিংয়ের উদাহরণ।
২৩. দ্বিমুখী যোগাযোগ বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: দ্বিমুখী যোগাযোগ হলো এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে দুই পক্ষই পরস্পরের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এটি একটি ইন্টারেক্টিভ প্রক্রিয়া যেখানে প্রেরক এবং গ্রাহক উভয়ই তাদের মতামত, চিন্তাভাবনা এবং তথ্য একই সময়ে বিনিময় করতে পারে। ফোন কল, ভিডিয়ো কনফারেন্স, চ্যাট এবং ই-মেইল হলো দ্বিমুখী যোগাযোগের কিছু উদাহরণ।
২৪. ওয়েব কনফারেন্সিং বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ওয়েব কনফারেন্সিং এমন একটি প্রযুক্তি, যা ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন মিটিং, সেমিনার এবং ভিডিয়ো বা অডিয়ো কনফারেন্সিং করতে সাহায্য করে। এটি ভৌগোলিক দূরত্ব অতিক্রম করে ভার্চুয়াল সভা আয়োজনের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে দুইজন থেকে কয়েক হাজার লোক পর্যন্ত একই সময়ে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ পায়।
২৫. জনপ্রিয় ওয়েব কনফারেন্সিং সফটওয়্যার কোনগুলো?
উত্তর: জনপ্রিয় ওয়েব কনফারেনন্সিং সফটওয়্যারের মধ্যে জুম (Zoom), ফেসটাইম (FaceTime), ফেসবুক মেসেঞ্জার বুম (Facebook Messenger Room), মাইক্রোসফট টিম (Microsoft Team), সিসকো ওয়েব এক্স (Cisco Webex), স্কাইপ (Skype), গুগল মিট (Google Meet) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব সফটওয়্যারের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে-সেমিনার, সভা, মিটিং, ওয়েবিনার ইত্যাদি করা যায়।
২৬. ব্যবসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) গুরুত্ব লিখ।
উত্তর: ব্যবসায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. কম সময়ে অধিক পরিমাণ কাজ করা যায়। এতে ব্যবসার খরচ কমে।
২. বিশেষায়িত সফটওয়্যার কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মজুদের হালনাগাদ তথ্য জানা যায় ফলে সেই অনুযায়ী উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়।
৩. উৎপাদন স্বয়ংক্রিয়করণসহ আইসিটি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলে কম সময়ে অধিক উৎপাদন করা যায়।
৪. ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্যের খবর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে, সামাজিক যোগাযোগ সাইটে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এতে পণ্যের প্রচারে সহায়তা পাওয়া যায়।
২৭. আইসিটি ব্যবহার করে কীভাবে ব্যবসায়ের খরচ কমানো যায় ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আইসিটি ব্যবহার করে যেভাবে ব্যবসায়ের খরচ কমানো যায় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. বিশেষায়িত সফটওয়্যার ব্যবহার করে পণ্যের মজুদ নিয়ন্ত্রণ।
২. উৎপাদন ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়করণ।
৩. উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
৪. সঠিক হিসাব সংরক্ষণ।
৫. পণ্য বা সেবার বিপণন বা প্রচার।
৬. বিক্রয় ব্যবস্থাপনা ও হিসাব।
৭. মূল্য সংগ্রহ।
২৮. মজুদ নিয়ন্ত্রণে আইসিটির কী ভূমিকা রয়েছে?
উত্তর: আইসিটির মাধ্যমে বিশেষায়িত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের মজুদ সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পেতে পারেন। এটি বাজার চাহিদার ভিত্তিতে মজুদ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুদ না রেখে উৎপাদন বায় হ্রাস করা যায় এবং ব্যবসার লাভ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
২৯. উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় আইসিটির কী ভূমিকা রয়েছে?
উত্তর: আইসিটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থাকে উন্নত করে। এতে কম সময়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হয় এবং খরচ কমে যায়। তাছাড়া কর্মী ব্যবস্থাপনায় আইসিটির ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং উৎপাদনে গতিশীলতা আনতে সহায়তা করে।
৩০. উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় আইসিটির অবদান কী?
উত্তর: মোবাইল ফোন, ইমেইল, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট ও ইন্ট্রানেটের মাধামে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে দূর থেকে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়, ফ্যাক্সের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নথি পাঠানো যায় এবং ইমেইলের মাধ্যমে পণ্য সম্পর্কিত তথ্য ও ছবি সহজেই আদান-প্রদান করা যায়। এভাবেই যোগাযোগ ব্যবস্থা আইসিটি অবদান রেখে চলেছে।
৩১. ব্যবসার জন্য ই-মেইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: ই-মেইল ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে লিখিত যোগাযোগ করা যায়। এমনকি পণ্যের ছবি ক্রেতার কাছে পাঠানো যায়। পণ্য সম্পর্কে অন্য কোনো ক্রেতার মূল্যায়ন যদি ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটির লিংকও পাঠানো যায়।
৩২. মোবাইল ফোন ব্যবসায় কীভাবে সহায়ক?
উত্তর: মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দ্রুত যোগাযোগে সহায়তা করে। এটি দূরবর্তী অবস্থান থেকেও কোনো ব্যবসায়ীকে ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম করে। কনফারেন্স কলের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একযোগে আলোচনা করা যায়। ফলে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করা সম্ভব হয় এবং সেবার মান উন্নত হয়।
৩৩. ব্যবসায় ইন্টারনেট কীভাবে সহায়তা করে?
উত্তর: ইন্টারনেট ব্যবসার তথ্য প্রচার, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, অনলাইন বিপণন এবং প্রতিযোগীদের তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে। এটি বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবার প্রচার করে, যার মাধ্যমে ব্যবসার প্রসার ঘটে। এছাড়া, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য বিক্রিও সম্ভব হয়।
৩৪. ব্যবসা ক্ষেত্রে ইন্ট্রানেট কিভাবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দপ্তর ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে সংস্থাপিত ইন্টারনেট তাদের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করছে। নিজেদের মধ্যে সংস্থাপিত ইন্টারনেটই হলো ইন্ট্রানেট। অর্থাৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমগ্র সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য ইন্ট্রানেট ব্যবহার করা হয়।
৩৫. EPOS প্রযুক্তি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: EPOS (Electronic Point of Sale) হলো একটি কম্পিউটারাইজড সিস্টেম যা পণ্য বিক্রয় এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত দোকান, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য খুচরা বিক্রেতাদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। EPOS সিস্টেমগুলো পণ্যের তথ্য, গ্রাহকের তথ্য এবং বিক্রয়ের তথ্য রেকর্ড করে এবং বিক্রয়ের রসিদ তৈরি করে। এটি স্টক ম্যানেজমেন্ট, ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট এবং কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টে সহায়তা করে।
৩৬. তথ্যাদি প্রকাশে সরকার কিভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে?
উত্তর: বর্তমানে ওয়েবসাইট বা পোর্টালের মাধ্যমে সকল তথ্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল ঠিকানা হলো www.bangladesh.gov.bd। এছাড়াও সরকার মোবাইল অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি নোটিশ, আদেশ, নির্দেশনা এবং জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজে প্রকাশ করে।
৩৭. মোবাইল ফোন কীভাবে সরকারি তথ্য প্রচারে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী থাকায় এটি সরকারি তথ্য প্রচারের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন জরুরি ঘোষণা, সরকারি সিদ্ধান্ত বা বিশেষ দিবস সংক্রান্ত বার্তা মোবাইল ফোনের Short Message Service (SMS) বা ভয়েস কলের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা, টিকা সংক্রান্ত তথ্য ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। এটি দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য পৌছে দেওয়ার একটি যুগান্তকারী মাধ্যম।
৩৮. "দোরগোড়ায় সরকারি সেবা"- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: জনগণের কাছে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার সেবাকে বলা হয় দোর গোড়ায় সরকারি সেবা। মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে নাগরিক সেবাসমূহ সরাসরি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়া যায়। উন্নত দেশগুলোতে এর মাধ্যমে জনগণ ঘরে বসেই পাসপোর্ট প্রাপ্তি, আয়কর প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, সরকারি কোষাগারে অর্থপ্রদান প্রভৃতি কাজ নিমিষেই সম্পন্ন করতে পারে। আমাদের দেশেও বর্তমানে অনেক নাগরিক সেবা খুব সহজে পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযো্য হলো- ই-পর্চা, ই-বই, ই-পুর্জি, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, ই-স্বাস্থ্য সেবা, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকরণ, টাকা হস্তান্তর, পরিসেবার বিল পরিশোধ, পরিবহন ক্ষেত্র ইত্যাদি।
৩৯. ই-পর্চা কী এবং এটি কীভাবে জনগণকে সাহায্য করছে?
উত্তর: পর্চা বলতে বোঝায় জমির দলিলের রেকর্ড বা অনুলিপি। ই- পর্চা হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমির রেকর্ড সংরক্ষণ ও সরবরাহের একটি ব্যবস্থা। আগে জমির মালিকানা বা এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে জনগণকে বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হতো এবং দুর্নীতির । শিকার হতে হতো। বর্তমানে ৬৪টি জেলায় ই-সেবা কেন্দ্র চালু ৪ হওয়ায় জনগণ অনলাইনে আবেদন করে সহজেই জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারছে। এটি হয়রানি কমানোর পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করেছে।
৪০. ই-বুক কী এবং ই-বুক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের মানুষ কী সুবিধা পাচ্ছে?
উত্তর: ই-বুক হলো কোনো বই এর ডিজিটাল রূপ, যা যেকোনো ন কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে পড়া যায়। বাংলাদেশ সরকার ই- বুক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে www.ebook.gov.bd ওয়েবসাইটটি চালু করেছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির বই অনলাইনে পাওয়া যায়। এটি শিক্ষার্থীদের বই কেনার বাড়তি খরচ কমিয়েছে এবং দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে বই পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির সময় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
৪১. ই-পুর্জি বলতে কি বুঝায়?
উত্তর: ই-পুর্জি হলো চিনিকলের পুর্জি বা ইক্ষু সরবরাহের অনুমতিপত্রের ইলেকট্রনিক সংস্করণ। আগে চিনিকলে ইক্ষু সরবরাহ করার জন্য কাগজের পূর্জি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু ই-পুর্জির ব্যবহার শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ এবং সহজ হয়েছে। ই-পুর্জি চাষীদের তাদের ইক্ষু সরবরাহের বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য পেতে সাহায্য করে এবং চিনিকল কর্তৃপক্ষকে তাদের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে।
৪২. পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকা কী?
উত্তর: বর্তমানে দেশের সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আগে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় বা কলেজের নোটিশ বোর্ড থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ছিল। এখন শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে ওয়েবসাইটে গিয়ে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহজেই ফলাফল জানতে পারে, যা সময় বাঁচায় ও পরিশ্রম কমায়।
৪৩. চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির সাফল্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তথ্যপ্রযুক্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি অত্যাবশ্যক। মেডিকেল ইমেজিং, জিনগত পরীক্ষা এবং টেলিমেডিসিনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির অবদান অপরিসীম। এছাড়াও, চিকিৎসা গবেষণা, নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪৪. রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে অনুমানভিত্তিক চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে? উত্তর: অতীতে ডাক্তাররা রোগীর লক্ষণ দেখে অনুমানের ভিত্তিতে চিকিৎসা করতেন, কিন্তু এখন তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে রোগ নির্ণয় করা আরও সহজ ও নির্ভুল হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগীর শরীর বিশ্লেষণ করা হয়, যা ডাক্তারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ফলে অনুমানের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেই চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে।
৪৫. টেলিমেডিসিন কিভাবে চিকিৎসা জগতে বিপ্লব ঘটাতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আমাদের দেশে এখনো ডাক্তারের সংখ্যা বেশি নয়। এ অপ্রতুলতার কারণে অনেক সময়েই দেখা যায় ছোট শহরে বা গ্রামে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের পাওয়া যায় না। দূর থেকে টেলিফোন বা মোবাইল প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক টিপস নেওয়াকে টেলিমেডিসিন বলা হয়। যখন হাতের কাছে কোনো ডাক্তারকে জরুরি কিছু জিজ্ঞেস করার উপায় নেই, তখন টেলিমেডিসিন ব্যবহার করে ডাক্তারের সাহায্য নেওয়া যায়। এভাবেই টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা জগতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে। এবার বাং
৪৬. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে গবেষণা কাজ সহজতর হয়েছে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : তথ্য প্রযুক্তির কারণে গবেষণার জগতে সম্পূর্ণ নতুন একটা মাত্রা যোগ হয়েছে। মানুষ এখন সাহিত্য, শিল্প, সমাজবিজ্ঞান, গণিত অথবা প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান, যা নিয়েই গবেষণা করুক না কেন তারা কম্পিউটার এবং তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া এই গবেষণার কথা চিন্তাও করতে পারে না। বর্তমানে বৈজ্ঞানিক সকল কর্মকাণ্ডে কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল। জটিল গাণিতিক হিসাব-নিকাশে, অণু-পরমাণুর গঠন প্রকৃতি নির্ণয়ে, ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণে, মহাকাশযান ডিজাইন, পাঠানোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কম্পিউটার দ্বারা দ্রুত সমাধান করা যায়। তাই বলা যায় যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে গবেষণার কাজ সহজতর হয়েছে।