শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ৩
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : অষ্টম || অধ্যায় - ৩
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. তথ্যপ্রযুক্তি কেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলেছে। এটি ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্ব আজ সংযুক্ত, যা যোগাযোগ ও তথ্যপ্রবাহকে সহজ করেছে। তবে, এর সাথে কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকিও রয়েছে, যার প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২. ফায়ারওয়াল কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: প্রত্যেকটি কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কেরই নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, কেউ যেন সেই নিরাপত্তার দেয়াল ভেঙে ঢুকতে না পারে। নিরাপত্তার এ অদৃশ্য দেয়ালকে ফায়ারওয়াল বলা হয়। এটি একটি নিরাপত্তা প্রাচীরের মতো কাজ করে, যা ক্ষতিকারক ট্রাফিককে ফিল্টার করে এবং কেবল অনুমোদিত ডেটা এবং অ্যাপ্লিকেশনকে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে দেয়। ফায়ারওয়াল ইন্টারনেটের মাধ্যমে হওয়া হ্যাকিং, ভাইরাস আক্রমণ এবং অন্যান্য সাইবার হামলা থেকে কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ককে রক্ষা করে।
৩. হ্যাকিং কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হ্যাকিং হলো একটি কম্পিউটার সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া। হ্যাকাররা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে কম্পিউটার সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে এবং তারপর সেই দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে সিস্টেমে প্রবেশ করে। তারা গোপনীয় তথ্য চুরি করতে পারে, সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বা অন্যান্য অপরাধ করতে পারে।
৪. পাসওয়ার্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়?
উত্তর: পাসওয়ার্ড হলো ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম, যা অনুমোদিত ব্যক্তিকে নেটওয়ার্ক বা অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ দেয়। এটি সহজেই অনুমান করা যায় না এমন হতে হবে। সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত, যেখানে সংখ্যা, অক্ষর ও চিহ্নের মিশ্রণ থাকবে এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত।
৫. Captcha কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আজকাল প্রায় সবক্ষেত্রেই সঠিক পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরও একজনকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। একটি বিশেষ লেখা পড়ে সেটি টাইপ করে দিতে হয়। একজন সত্যিকার মানুষ যেটি সহজেই বুঝতে পারে কিন্তু একটি যন্ত্র বা রোবট তা বুঝতে পারে না। মানুষ এবং যন্ত্রকে আলাদা করার এ পদ্ধতিই হলো Captcha।
৬. নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্যাপচা ব্যবহারের সুবিধা আলোচনা কর।
উত্তর: নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্যাপচা ব্যবহারের সুবিধা নিচে দেওয়া হলো-
ক্যাপচা ব্যবহারের ফলে বিশেষ কম্পিউটার বা বিশেষ রোবট নিরাপত্তা ভেদ করতে পারে না।
ক্যাপচাতে একটি বিশেষ লেখা থাকে যা মানুষ ছাড়া যন্ত্র বা রোবট বুঝতে পারে না। ফলে নিরাপত্তা বজায় থাকে।
৭. ডেটা সেন্টার বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ডেটা সেন্টার বলতে একটি ভৌত স্থান বুঝায় যেখানে বৃহৎ পরিসরে কম্পিউটার সিস্টেম, সার্ভার এবং নেটওয়ার্কিং উপাদান রাখা হয়। এই সিস্টেমগুলো ব্যবহৃত হয় ডেটা সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিচালনা করার জন্য। ডেটা সেন্টারগুলো সাধারণত বড় কোম্পানি, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং সরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়।
৮. সিস্টেম সফটওয়্যার বলতে কী বুঝায়? উদাহরণ দাও।
উত্তর: সিস্টেম সফটওয়্যার হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। এটি কম্পিউটারের মূল কার্যক্রম পরিচালনা করে, যেমন ফাইল ম্যানেজমেন্ট, মেমরি ম্যানেজমেন্ট, ইনপুট/আউটপুট অপারেশন এবং অন্যান্য সিস্টেম সেবা। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম হলো সিস্টেম সফটওয়্যারের একটি উদাহরণ।
৯. বহুল পরিচিত অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার কোনগুলো?
উত্তর: কার্যপদ্ধতির ভিত্তিতে সফটওয়্যার মূলত দুই প্রকার। প্রথমটি হলো সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অন্যটি হলো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। আমরা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার সচরাচর ব্যবহার করে থাকি। যেমন অফিস ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (মাইক্রোসফট অফিস বা ওপেন অফিস বা লিবরা অফিস), ডেটাবেস সফটওয়্যার (ওরাকল বা মাইএসকুয়েল), ওয়েবসাইট দেখার ব্রাউজার (মজিলা ফায়ারফক্স বা গুগলক্রোম) ইত্যাদি।
১০. ম্যালওয়্যার কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: ম্যালওয়্যার হলো ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে এবং ক্ষতি করে। কম্পিউটার ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান হর্স, ব্লুটকিটস, কিলগার, ডায়ালার, স্পাইওয়্যার, এডওয়্যার প্রভৃতি ম্যালওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত। ভাইরাস নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ওয়ার্ম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ট্রোজান হর্স কোনো উপকারী সফটওয়্যারের ভান করে কম্পিউটারে প্রবেশ করে।
১১. এক্সিকিউটেবল ফাইল বলতে কী বুঝ?
উত্তর: এক্সিকিউটেবল ফাইল হলো এমন একটি ফাইল যা কম্পিউটারে কোনো কাজ সম্পাদন করতে পারে। এটি সাধারণত একটি প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন। এক্সিকিউটেবল ফাইলগুলোতে ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে এবং যখন এই ফাইলগুলো চালু করা হয়, তখন ভাইরাসটি কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
১২. মরিস ওয়ার্ম কী?
উত্তর: মরিস ওয়ার্ম ছিল প্রথম ওয়ার্মগুলোর একটি যা ১৯৮৮ সালে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমে চলমান কম্পিউটারগুলোকে আক্রমণ করেছিল। মরিস ওয়ার্মের কারণে ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য অচল হয়ে পড়েছিল।
১৩. কম্পিউটার ভাইরাস কী?
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস হলো এমন ধরনের ম্যালওয়্যার, যা কোনো কার্যকরী ফাইলের (executable file) সঙ্গে যুক্ত হয়। যখন ওই প্রোগ্রামটি (এক্সিকিউটিবল ফাইল) চালানো হয়, তখন ভাইরাসটি অন্যান্য কার্যকরী ফাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমিত হয়। এটি নিজে নিজের অনুলিপি তৈরি করে এবং অন্যান্য ফাইল বা প্রোগ্রামকে সংক্রমিত করে। ভাইরাস সাধারণত ই-মেইল এটাচমেন্ট, ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা ফাইল বা ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
১৪. কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রান্ত হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়? বর্ণনা কর।
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম। যখন কোনো কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণ করে তখন কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন-
কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়া।
কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যাওয়া।
ঘন ঘন রিবুট হওয়া।
কম্পিউটারের ফাইলে প্রকৃত রূপ পরিবর্তন হওয়া।
মাঝে মাঝে কিছু অপ্রত্যাশিত বার্তা প্রদর্শন করা।
১৫. কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাস কীভাবে শুরু হয়?
উত্তর: কম্পিউটার ভাইরাসের ধারণা প্রথম ১৯৪৯ সালে জন ভন নিউম্যান দেন। এরপর ১৯৮২ সালে এলক ক্লোনার ভাইরাস ফ্লপি ডিস্কের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৬ সালে ব্রেইন ভাইরাস প্রথম ক্ষতিকারক ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময় অনেক বিপজ্জনক ভাইরাস তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নানারকম এ ক্ষতির কারণ হয়েছে।
১৬. উল্লেখযোগ্য কিছু ক্ষতিকারক কম্পিউটার ভাইরাসের নাম লিখ।
উত্তর: বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য কিছু ক্ষতিকারক ভাইরাস হলো ব্রেইন, ভিয়েনা, জেরুজালেম, পিংপং, মাইকেল এঞ্জেলো, ডার্ক এভেঞ্জার, সিআইএইচ (চেরনোবিল), অ্যানাকুর্নিকোভা, কোড রেড ওয়ার্ম, এ নিমডা এবং ভাপরোসি ওয়ার্ম। এসব ভাইরাস বিভিন্ন সময়ে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করেছে।
১৭. ভাইরাস কীভাবে কাজ করে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ভাইরাস কম্পিউটার সিস্টেমের নানারকম ক্ষতি করে থাকে। কখনও দৃশ্যমান ক্ষতি কখনও ক্ষতির ব্যাপারটি অনেক দেরিতে বোঝা যায়। পুনরুৎপাদনের জন্য অবশ্যই ভাইরাস এর প্রোগ্রাম কোডটিকে চালাতে হয়। কেউ জেনে শুনে যেহেতু এ ক্ষতিকর কোড চালাবে না প্র সেহেতু যেসব প্রোগ্রাম ব্যবহারকারী সচরাচর চালিয়ে থাকেন সেগুলোর কার্যকরী ফাইলের পিছনে ভাইরাসটি নিজের কোডটি ঢুকিয়ে দেয়। যখন কোনো ব্যবহারকারী ঐ কার্যকরী ফাইলটি চালায়, তখন ভাইরাস প্রোগ্রামটিও সক্রিয় হয়ে উঠে।
১৮. ভাইরাসের প্রকারভেদের বর্ণনা কর।
উত্তর: কাজের ধরনের ভিত্তিতে ভাইরাসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
১. অনিবাসী ভাইরাস: অনিবাসী ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হলো- ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠার পর অন্যান্য কোন কোন প্রোগ্রামকে সংক্রমণ করা যায় সেটি খুঁজে বের করে। তারপর সেগুলো সংক্রমণ করে এবং পরিশেষে মূল প্রোগ্রামের কাছে নিয়ন্ত্রণ দিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
২. নিবাসী ভাইরাস: নিবাসী ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হলো- ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠার পর মেমোরিতে স্থায়ীভাবে বসে থাকে। যখনই অন্য কোনো প্রোগ্রাম চালু হয়, তখনই সেটি সেই প্রোগ্রামকে সংক্রমিত করে।
১৯. অনলাইন পরিচয় কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: অনলাইন পরিচয় হলো ইন্টারনেটে একজন ব্যক্তির স্বতন্ত্র সত্তা, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। একজন ব্যক্তির অনলাইন পরিচয় তার ইমেইল ঠিকানা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রোফাইলের নামের মধ্যে যেকোন একটি বা তাদের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা পেতে অনলাইন পরিচয়কে নিরাপদ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২০. সামাজিক যোগাযোগ সাইটে নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সামাজিক যোগাযোগ সাইটে নিরাপদ থাকার জন্য কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যেমন, শক্তিশালী এবং অনন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, প্রাইভেসি সেটিংস সঠিকভাবে কনফিগার করা, অজানা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসা বার্তা বা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করা, সামাজিক যোগাযোগ সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা ইত্যাদি।
২১. হ্যাকিং কেন করা হয়?
উত্তর: হ্যাকিং বিভিন্ন কারণে করা হয়, যেমন- অসৎ উদ্দেশ্য, আর্থিক লাভ, নিরাপত্তা দুর্বলতা পরীক্ষা, প্রতিবাদ জানানো, কিংবা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি সাধন করা। কিছু হ্যাকার সিস্টেমের নিরাপত্তা উন্নত করতে কাজ করলেও, বেশিরভাগ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা প্রতারণা, তথ্য চুরি এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়।
২২. হ্যাকার কাকে বলে এবং তাদের কী কী প্রকারভেদ রয়েছে?
উত্তর: যারা অনুমতি ছাড়া কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে, তাদের হ্যাকার বলা হয়। হ্যাকার মূলত তিন ধরনের। যথা- হোয়াইট হ্যাট, ব্ল্যাক হ্যাট এবং গ্রে হ্যাট।
হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কাজ করে।
ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা অসৎ উদ্দেশ্যে সিস্টেমে প্রবেশ করে।
আর গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা কখনো ভালো, কখনো খারাপ উদ্দেশ্যে কাজ করে।
২৩. বাংলাদেশ ব্যাংক সাইবার হাইস্ট কী ছিল?
উত্তর: ২০১৬ সালে সংঘটিত বাংলাদেশ ব্যাংক সাইবার হাইস্ট ছিল একটি বড় মাপের সাইবার চুরির ঘটনা, যেখানে হ্যাকাররা SWIFT নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরির চেষ্টা করে। এর মধ্যে ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরিত হয়, যার কিছু অংশ পরে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
২৪. সাইবার অপরাধ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সাইবার অপরাধ হলো কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে করা যে কোনো অপরাধ। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হ্যাকিং, ফিশিং, আইডেন্টিটি থেফট, ম্যালওয়্যার, ডস অ্যাটাক ইত্যাদি। এই অপরাধগুলো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, আর্থিক ক্ষতি এবং অন্যান্য নেতিবাচক পরিণতি ঘটাতে পারে।
২৫. সাইবার অপরাধের ফলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: সাইবার অপরাধের ফলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, আর্থিক ক্ষতি, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ধর্মীয় সহিংসতা সৃষ্টি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ক্রেডিট কার্ড প্রতারণা এবং সাইবার যুদ্ধের মাধ্যমে একটি দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
২৬. কীভাবে সাইবার অপরাধে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়? ব্যাখ্যা কর।.
উত্তর: সাইবার অপরাধে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
অপ্রয়োজনীয়, উদ্দেশ্যমূলক কিংবা আপত্তিকর ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে।
ভুল পরিচয় এবং ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে।
ইন্টারনেটে কোনো মানুষ সম্পর্কে ভুল কিংবা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ করার মাধ্যমে।
ইন্টারনেট, ই-মেইল বা কোনো একটি সামাজিক যোগাযোগ সাইটে হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে।
২৭. দুর্নীতি নিরসনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সহজ হয়েছে। কোথাও কোনো দুর্নীতি করা হলে সেটি সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্যকে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করার সম্পূর্ণ পদ্ধতিটিকে তথ্য প্রযুক্তির আনার ফলে দুর্নীতি করে আর্থিক লেনদেন করা হলে সেটি প্রতিষ্ঠানের মূল তথা ভান্ডারে চলে আসে এবং স্বচ্ছতার কারণে সেটি প্রকাশ পেয়ে যায়। তাই দুর্নীতি নিরসনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
২৮. তথ্য অধিকার কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর : তথ্য অধিকার হলো জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য জানার অধিকার। এটি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে জনগণ সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্য অধিকার ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অন্যতম পূর্বশর্ত।
২৯. বিশ্বের কতটি দেশে তথ্য অধিকার আইন বলবৎ রয়েছে?
উত্তর: ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৯৩টি দেশে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর রয়েছে। এসব দেশে জনগণ সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার আইনি অধিকারভুক্ত সুবিধা ভোগ করে। এ আইন কার্যকর থাকায় রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড আরও স্বচ্ছ হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।