শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ২
কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
শ্রেণি : সপ্তম || অধ্যায় - ২
কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. ইনপুট ডিভাইস কী? দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: ইনপুট ডিভাইস হলো কম্পিউটারের জন্য তথ্য বা ডেটা সরবরাহকারী যন্ত্র। এটি ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশ বা ডেটা কম্পিউটারে প্রবেশ করায়, যা প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। দুটি ইনপুট ডিভাইস:
কীবোর্ড ও
মাউস।
২. কীবোর্ড কীভাবে কাজ করে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কীবোর্ড হলো কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার প্রধান যন্ত্র। এটি দিয়ে বর্ণ, সংখ্যা বা বিশেষ চিহ্ন ইনপুট দেওয়া হয়। কীবোর্ডের বোতাম চেপে কম্পিউটারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আধুনিক কীবোর্ডের ধারণা টাইপরাইটার থেকে এসেছে। টাইপ রাইটারের মতো হলেও কম্পিউটার কীবোর্ডে অতিরিক্ত কী থাকে।
৩. কীবোর্ড ব্যবহারের দুটি সুবিধা উল্লেখ কর।
উত্তর: কীবোর্ড ব্যবহারের দুটি সুবিধা হলো-
কম্পিউটার কীবোর্ডে বিশেষ কাজের জন্য অতিরিক্ত কী থাকে যা টাইপ রাইটারে থাকে না।
ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা লেখার জন্য কীবোর্ড পাওয়া যায় যা ব্যবহার সুবিধাজনক।
৪. কীবোর্ডে অতিরিক্ত কী থাকে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কম্পিউটার কীবোর্ডে বিশেষ কাজের জন্য অতিরিক্ত কী থাকে। এগুলো টাইপ রাইটারের কীবোর্ডে পাওয়া যায় না। যেমন, ফাংশন কী, কন্ট্রোল কী ইত্যাদি। এসব কী দিয়ে দ্রুত এবং সহজে কমান্ড দেওয়া যায়।
৫. মাউসের নামকরণের কারণ ও বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: মাউসের আকার ইঁদুরের মতো হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে মাউস। এটি একটি ইনপুট যন্ত্র এবং পয়েন্টিং ডিভাইস। মাউসের মাধ্যমে মনিটরের পর্দায় পয়েন্টার নড়াচড়া করা যায়। মাউসের বাটন ক্লিক করে কম্পিউটারে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ল্যাপটপে মাউসের বিকল্প হিসেবে টাচপ্যাড ব্যবহার করা হয়।
৬. মাউস কীভাবে কাজ করে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মাউস নড়াচড়া করলে মনিটরের পর্দায় পয়েন্টারের অবস্থান পরিবর্তন হয়। মাউসের বাটনের মাধ্যমে কম্পিউটারে বিভিন্ন কমান্ড দেওয়া যায়। চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে মাউসের বহুল ব্যবহার লক্ষ করা যায়। নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের চিহ্নের (আইকনের) উপর মাউসের বাম বাটন একবার ক্লিক করলে প্রোগ্রামটি সিলেক্ট এবং পরপর দুবার দ্রুত ক্লিক করলে প্রোগ্রাম চালু হয়।
৭. মাউসের গঠন ও পর্দায় এর অবস্থান কেমন?
উত্তর: মাউসে সাধারণত দুটি বাটন ও একটি স্কুল চক্র (হুইল) থাকে। কম্পিউটারে ইনপুট দিতে এ বাটনগুলো বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটারের মনিটরের পর্দায় মাউসের অবস্থান দেখানো হয় তীরের ফলার মতো একটি পয়েন্টারের মাধ্যমে।
৮. কীবোর্ড এবং মাউসের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য কী?
উত্তর: কীবোর্ড এবং মাউসের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য হলো-
কীবোর্ড দিয়ে বর্ণ, সংখ্যা বা চিহ্ন টাইপ করা হয়, যেখানে মাউস পয়েন্টিং ডিভাইস হিসেবে কাজ করে।
কীবোর্ড দিয়ে সরাসরি ইনপুট দেওয়া হয়, অন্যদিকে মাউসের মাধ্যমে পর্দায় পয়েন্টার নড়াচড়া করিয়ে কমান্ড দেওয়া হয়।
৯. ল্যাপটপে মাউসের বিকল্প কী এবং কেন?
উত্তর: ল্যাপটপে মাউসের বিকল্প হিসেবে টাচপ্যাড ব্যবহার করা হয়। এটি মাউসের মতোই পয়েন্টিং ডিভাইস। এটি মাউসের মতো আলাদা ইনপুট ডিভাইস নয়, ল্যাপটপের সাথেই সংযুক্ত থাকে। টাচপ্যাড দিয়ে পয়েন্টারের অবস্থান পরিবর্তন করা যায় এবং বিভিন্ন কমান্ড সম্পন্ন করা যায়।
১০. মাইক্রোফোন কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মাইক্রোফোন একটি ইনপুট ডিভাইস, যা আমাদের কথা, গান বা যেকোনো ধরনের শব্দ কম্পিউটারে প্রবেশ করায়। ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ এবং টেলিফোনে এটি খুব জনপ্রিয়। এখন নিয়মিতভাবে কম্পিউটার ইনপুটে মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয়।
১১. মাইক্রোফোন ব্যবহারের দুটি ক্ষেত্র উল্লেখ কর।
উত্তর: মাইক্রোফোন ব্যবহারের দুটি ক্ষেত্র:
ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ও টেলিফোন এবং
ভয়েস রিকগনিশন।
১২. ডিজিটাল ক্যামেরা কীভাবে কম্পিউটারের ইনপুট যন্ত্র হিসেবে কাজ করে?
উত্তর: ডিজিটাল ক্যামেরা ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে কম্পিউটারের ইনপুট যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। ক্যামেরা থেকে তোলা ছবি সরাসরি কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যায়। প্রথম দিকে এটি মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে সকল প্রকার ডিজিটাল ক্যামেরা এভাবে ব্যবহৃত হয়।
১৩. "ওয়েব ক্যাম" নামকরণ করা হয়েছে কেন?
উত্তর: ওয়েব ক্যাম বা ওয়েব ক্যামেরা জিজিটাল ক্যামেরার একটি বিশেষ রূপ। ওয়েব ক্যামের মাধ্যমে স্থির চিত্র বা ভিডিও চিত্র সরাসরি নেটওয়ার্কে আদান-প্রদান করা যায়। এটি ইন্টারনেটে বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে ব্যাপক ব্যবহৃত হওয়ার কারণেই এর নাম হয়েছে "ওয়েব ক্যাম"।
১৪. ওয়েব ক্যামেরা কী কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: ওয়েব ক্যামেরা ব্যবহার করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে সরাসরি ছবি বা ভিডিও আদান-প্রদান করতে পারে। সামাজিক ওয়েব সাইটগুলোতে পারস্পরিক আলাপচারিতায় ওয়েব ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়। ভিডিও কনফারেন্স বা ভিডিও ফোনে ওয়েব ক্যামেরার ব্যবহার সর্বাধিক।
১৫. স্ক্যানার কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্ক্যানার হচ্ছে ছবি, লেখা বা ডকুমেন্ট বা কোনো বস্তুর ডিজিটাল প্রতিলিপি কম্পিউটারে দেওয়ার জন্য একটি ইনপুট ডিভাইস। স্ক্যানার ব্যবহার করে ছবি, ডকুমেন্ট বা কোনো বস্তুর ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করে কম্পিউটারে ফাইল আকারে সংরক্ষণ করা যায়। প্রয়োজনে এ ডিজিটাল প্রতিলিপি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে যে কোনো সময়ে ব্যবহার করা যায়।
১৬. স্ক্যানারের প্রধান কাজ কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: স্ক্যানারের প্রধান কাজ হলো যেকোনো ছবি, মুদ্রিত বা হাতে লেখা ডকুমেন্ট অথবা বস্তুর ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করা। স্ক্যানার তথ্যকে ফাইল আকারে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করার সুযোগ দেয়, যা ফটোকপি মেশিনের চেয়ে কার্যকর।
১৭. OMR কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: OMR (Optical Mark Reader) একটি ইনপুট ডিভাইস। OMR এর কাজের ধরন স্ক্যানারের মতো কারণ এটি আলোর প্রতিফলন বিচার করে বিভিন্ন তথ্য বুঝতে পারে। তবে OMR বিশেষ চিহ্ন বা দাগ শনাক্ত করে, যা সাধারণত উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
১৮. ওএমআর কীভাবে বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র যাচাই করে?
উত্তর: ওএমআর বিশেষভাবে তৈরি করা চিহ্ন বা দাগ পড়তে পারে। তাই বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরপত্র যাচাইয়ে এটির ব্যাপক ব্যবহার - রয়েছে। সঠিক উত্তরের বৃত্তটি কম্পিউটারে আগে থেকে জানিয়ে রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা সঠিক বৃত্ত ভরাট করলে ওএমআর আলোর প্রতিফলন বিচার করে তা শনাক্ত করে এবং নম্বর প্রদান করে। তবে সঠিকটিসহ একের অধিক বৃত্ত ভরাট করলে নম্বর পাওয়া যায় না। মূল্যায়নে ভুল বা পক্ষপাতিত্ব হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই বলে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
১৯. পাঁচটি ইনপুট ডিভাইসের নাম লেখ।
উত্তর: পাঁচটি ইনপুট ডিভাইসের নাম:
কীবোর্ড,
মাউস,
মাইক্রোফোন,
স্ক্যানার ও
ওএমআর।
২০. মেমোরি কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: মেমোরি মূলত দুই প্রকার। যথা-
প্রধান বা প্রাথমিক মেমোরি এবং
সহায়ক বা সেকেন্ডারি মেমোরি।
২১. মেমোরি কীভাবে কাজ করে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মেমোরি হলো ডেটা সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাত করার একটি মাধ্যম। এটি তথ্য সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার করার মাধ্যমে কাজ করে। এটি ডেটা বিট আকারে রাখে এবং সিপিইউ নির্দেশ দিলে সেই ডেটা প্রসেসিংয়ের জন্য সরবরাহ করে। প্রাথমিক মেমোরি দ্রুতগতিতে কাজ করে এবং সাময়িক তথ্য ধরে রাখে, যেখানে সহায়ক মেমোরি স্থায়ীভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে।
২২. প্রধান মেমোরির প্রকারভেদ পূর্ণরূপসহ লেখ।
উত্তর: সাধারণত প্রধান বা প্রাথমিক মেমোরি দুই ধরনের- একটি 2 হচ্ছে র্যাম RAM (Random Access Memory) এবং অন্যটি রম ROM (Read Only Memory)
২৩. প্রাইমারি মেমোরির ক্ষমতা কী এককে প্রকাশ করা যায়?
উত্তর: প্রধান মেমোরির ক্ষমতা দুইভাবে প্রকাশ করা হয়। একটি হচ্ছে গতি যা হার্টজ (Hz) এককে এবং অন্যটি হলো ধারণ ক্ষমতা যা বাইট (Byte) একক দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
২৪. কত বিটে ১ বাইট? ১ মেগাবাইট= কত বাইট?
উত্তর: ৮ বিটে ১ বাইট। ১ মেগাবাইট = (১০২৪ × ১০২৪) বাইট।
২৫. এক মেগাবাইটে কত বিট এবং এক টেরাবাইটে কত বাইট?
উত্তর: এক মেগাবাইটে (৮ × ১০২৪ × ১০২৪) বিট থাকে। এক টেরাবাইট = (১০২৪ × ১০২৪ × ১০২৪ × ১০২৪) বাইট।
২৬. র্যাম (RAM) কী?/ র্যাম কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: RAM বা Random Access Memory হলো প্রধান মেমোরির একটি অংশ, যা কম্পিউটার বা মাদারবোর্ডের সাথে যুক্ত থাকে। এটি বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল এবং বিদ্যুৎ বন্ধ হলে তথ্য হারিয়ে যায়। প্রসেসরের র্যামে তথ্য জমা রাখে, আবার র্যাম থেকে তথ্য নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে কাজ সম্পন্ন করে। তথ্য
২৭. র্যাম (RAM) কে অস্থায়ী মেমোরি বলা হয় কেন?
উত্তর: কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোনের মাদারবোর্ডের সাথে র্যাম সংযুক্ত থাকে। র্যামে তথ্য থাকা না থাকা বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দিলে এর, সমস্ত তথ্য মুছে যায়। অর্থাৎ কম্পিউটার চালু করলেই র্যাম প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে থাকে। আবার কম্পিউটার বন্ধ করলে র্যাম তথ্য-শূন্য হয়ে যায়। এজন্য র্যাম (RAM) কে অস্থায়ী মেমোরি বলা হয়।
২৮. ROM এর বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর: ROM বা Read Only Memory হলো স্থায়ী মেমোরি, যা মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি বিদ্যুৎ ছাড়াও তথ্য ধরে রাখতে পারে। ROM-এ সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহারকারী বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া সংযোজন, বিয়োজন বা মুছতে পারে না। এই মেমোরি শুধুমাত্র পড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৯. RAM এবং ROM-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ।
উত্তর: RAM এবং ROM-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো:
RAM
RAM হলো অস্থায়ী মেমোরি যা বিদ্যুৎ নির্ভর।
RAM স্যময়িকভাবে ডেটা সংরক্ষণ করে।
ROM
ROM হলো স্থায়ী মেমোরি যা বিদ্যুৎ নির্ভর নয়।
ROM-এ হার্ডওয়্যার পরিচালনার জন্য স্থায়ী নির্দেশনা থাকে।
৩০. হার্ডডিস্ক কী এবং এটি কবে ও কোথায় প্রথম ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: হার্ডডিস্ক হলো তথ্য সংরক্ষণের প্রধান যন্ত্র, যা কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে ডেটা সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার করতে ব্যবহৃত হয়। IBM কোম্পানি ১৯৫৬ সালে মেইনফ্রেম ও মিনি কম্পিউটারে প্রথম হার্ডডিস্ক ব্যবহার করে।
৩১. ১৯৮০ সালে ১ গিগাবাইট হার্ডডিস্কের আকার ও দাম কেমন ছিল?
উত্তর: ১৯৮০ সালে ১ গিগাবাইট ক্ষমতার হার্ডডিস্ক একটি বড় ফ্রিজের সমান ছিল এবং প্রতি মেগাবাইটে ১৫ হাজার ডলার বা ১২ লাখ টাকা খরচ হতো।
৩২. হার্ডডিস্কের গ্লটারের কাজ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হার্ডডিস্কের পাতলা চাকতিগুলোই হলো প্লটার। এগুলো অ্যালুমিনিয়াম এলয়, কাচ বা সিরামিকের চাকতির উপর পাতলা চুম্বকীয় পদার্থের আচরণ দিয়ে তৈরি করা হয়। এর উপরেই তথ্য সংরক্ষিত থাকে। হার্ডডিস্ক চালু হলে এই প্লটারগুলো ঘুরতে থাকে। ঘূর্ণায়মান চাকতিগুলোর সংস্পর্শে হার্ডডিস্কের লেখা/পড়া (Write/Read) হেডটি এলে সেটি প্লটারে তথ্য সংরক্ষণ অথবা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে।
৩৩. এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা হয় কেন?
উত্তর: দুই ধরনের হার্ডডিস্কের মধ্যে অন্যতম এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক হলো একটি বাহ্যিক স্টোরেজ ডিভাইস, যা কম্পিউটারের সাথে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত থাকে। এটি USB পোর্টের মাধ্যমে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সাথে সংযুক্ত করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সহজে স্থানান্তর করা যায়।
৩৪. SSD এর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: SSD বা সলিড স্টেট ড্রাইভ হলো এক ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস যা কম্পিউটার এবং ল্যাপটপে ব্যবহৃত হয়। এটিতে কোনো চলমান অংশ থাকে না, ফলে এটি আরও দ্রুত এবং আরও অধিক টেকসই হয়। এটি ডেটা সংরক্ষণ করতে ফ্লাশ মেমরি ব্যবহার করে, যা ফাইল এবং অ্যাপ্লিকেশনে দ্রুত অ্যাক্সেসের সুযোগ দেয়। এটি দ্রুত, টেকসই, শব্দহীন এবং শক ও ড্রপ প্রতিরোধী।
৩৫. এসএসডি ব্যবহার সুবিধাজনক কেন?
উত্তর: এসএসডি ব্যবহার সুবিধাজনক কারণ এটি কম্পিউটার চালু করার সময় কমিয়ে এবং সফ্টওয়্যার লোড করার গতি বাড়িয়ে সিস্টেমের কর্মক্ষমতা উন্নত করে। এসএসডিতে কোনো স্পিনিং ডিস্ক নেই, তাই এটি কোনো শব্দ উৎপন্ন করে না এবং হার্ডডিস্ক এর চেয়ে কম তাপ উৎপন্ন করে। এটি বাহ্যিক ক্ষতি যেমন শক এবং ড্রপ হিসাবে আরও বেশি প্রতিরোধী।
৩৬. ফ্ল্যাশ মেমরি কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফ্ল্যাশ মেমরি হলো একটি ইলেকট্রনিক নন-ভোলাটাইল স্টোরেজ ডিভাইস যাতে ডেটা বৈদ্যুতিকভাবে মুছে ফেলা ও পুনরায় প্রোগ্রাম করা যায়। এটি SSD পেনড্রাইভ এবং মেমোরি কার্ডে ব্যবহৃত হয়।
৩৭. SSD কীভাবে সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়ায়?
উত্তর: SSD কম্পিউটার চালুর সময় কমিয়ে ও সফটওয়্যার লোড করার গতি বাড়িয়ে সিস্টেমের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে। এতে কোনো স্পিনিং ডিস্ক না থাকায় এটি কোনো শব্দ উৎপন্ন করে না এবং হার্ডডিস্ক এর চেয়ে কম তাপ উৎপন্ন করে। এতে ফাইল ও অ্যাপ্লিকেশনে দ্রুত অ্যাক্সেস পাওয়া যায়।
৩৮. SSD ও HDD-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: HDD-তে চলমান অংশ থাকলেও SSD-তে কোনো চলমান অংশ নেই। SSD দ্রুত, শব্দহীন এবং টেকসই হলেও HD - তুলনামূলক সস্তা এবং বেশি তথ্য ধারণক্ষমতা প্রদান করে।
৩৯. পেনড্রাইভ এর সুবিধাগুলো লিখ।
উত্তর: পেনড্রাইভ একটি ছোট এবং সহজে বহনযোগ্য স্টোরেজ ডিভাইস। ২০০০ সালে পেনড্রাইভের ধারণক্ষমতা ছিল ৩২ মেগাবাইট। বর্তমানে ১ টেরাবাইট ক্ষমতার পেনড্রাইভ সহজলভ্য। । এটি নেটওয়ার্ক ছাড়াই তথ্য স্থানান্তরের সহজ পদ্ধতি এবং সিডি- - ডিভিডির তুলনায় বেশি টেকসই।
৪০. মাদারবোর্ড কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মাদারবোর্ড হলো একটি প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড যা কম্পিউটারের সকল যন্ত্রাংশকে সংযুক্ত করে। এটি প্রসেসর, মেমোরি, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস এবং স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বজায় রাখে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করে। এটি সিস্টেম বোর্ড, মেইন বোর্ড বা লজিক বোর্ড নামেও পরিচিত।
৪১. মাদারবোর্ডের প্রধান কাজ কী? বুঝিয়ে লেখ।।
উত্তর: মাদারবোর্ডের প্রধান কাজ হলো প্রসেসরসহ কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ যেমন- মেমোরি, অন্যন্য ইনপুট, আউটপুট বা স্টোরেজ ডিভাইসসহ সকল যন্ত্রপাতির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা, ডেটা আদান-প্রদান করা এবং যন্ত্রাংশগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।
৪২. আধুনিক মাদারবোর্ডে কী কী থাকে?
উত্তর: আধুনিক মাদারবোর্ডে মাইক্রোপ্রসেসর বা সিপিইউ সকেট, র্যাম স্লট, চিপসেট, রম, এক্সপানশন স্লট, ক্লক জেনারেটর, পাওয়ার সংযোগ স্লট, ইউএসবি পোর্ট এবং নেটওয়ার্কিং কার্ড ও পোর্ট ইত্যাদি সংযোজিত অবস্থায় থাকে।
৪৩. মাদারবোর্ডের চিপসেটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মাদারবোর্ডের অত্যাবশ্যকীয় অংশ হচ্ছে সহায়ক চিপসেট যা মাদারবোর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সিপিইউ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের মধ্যে ডেটা বিনিময়ের কাজ করে। মাদারবোর্ডের কার্যক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য এ চিপসেটের উপরই নির্ভর করে। মাদারবোর্ডটি কোন ধরনের প্রসেসর ব্যবহার উপযোগী তাও চিপসেটের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।
৪৪. পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের কাজ কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কম্পিউটারের মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ কার্যক্ষম করার জন্য বিভিন্ন মাত্রার বিদ্যুৎশক্তির যোগান যে যন্ত্রাংশ থেকে পাওয়া যায় তাই-ই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট এসি বিদ্যুৎকে ডিসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে। এটি বিভিন্ন মাত্রার বিদ্যুৎ (+১২ ভোল্ট থেকে+৩ ভোল্ট) প্রদান করে।
৪৫. পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের গুণগত মান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে বিভিন্ন মাত্রার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের কানেক্টর থাকে। ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট পাওয়া যায়। তবে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের গুণগত মান ভালো না হলে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। তাই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের গুণগত মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৪৬. প্রসেসর বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: প্রসেসর বা সিপিইউ বলতে বুঝায় কম্পিউটার বা যেকোনো ডিভাইসের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ। এটি সফটওয়্যারের নির্দেশ বোঝে এবং সেই অনুযায়ী তথ্য প্রক্রিয়া করে। ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ প্রসেসর নিয়ন্ত্রণ করে। এটি গাণিতিক, যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের সমন্বয় ঘটায়।
৪৭. প্রসেসরের প্রধান অংশ কয়টি ও কী কী?
উত্তর: প্রসেসরের প্রধান অংশ তিনটি। সেগুলো হলো-
গাণিতিক যুক্তি ইউনিট (Arithmetic Logic Unit),
নিয়ন্ত্রক অংশ (Control Unit) এবং
রেজিস্টার স্মৃতি (Register Memory)
৪৮. প্রসেসরের প্রধান অংশ তিনটির কাজগুলো লেখ।
উত্তর: প্রসেসরের প্রধান তিনটি অংশের কাজ হলো-
গাণিতিক যুক্তি ইউনিট: গাণিতিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তমূলক কাজ করে।
নিয়ন্ত্রক অংশ: কোন নির্দেশের পর কোন নির্দেশ পালিত হবে তা নির্ধারণ করে।
রেজিস্টার স্মৃতি: দ্রুতগতি সম্পন্ন অস্থায়ী মেমরি, যা তথ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
৪৯. ১৯৭১ সালে কী কী উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। একই বছরে ইন্টেল প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন করে। যার নাম দেওয়া হয়েছিল ৪০০৪।
৫০. প্রসেসরের আকার ছোট হলেও ক্ষমতা কেন বেশি হয়?
উত্তর: প্রসেসরের আকার ছোট হলেও এতে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ট্রানজিস্টরের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এর কাজ করার ক্ষমতাও বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ৪০০৪ প্রসেসরের তুলনায় বর্তমান কোর আই সেভেন প্রসেসরে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা কয়েক কোটি গুণ বেশি।
৫১. ইন্টেল ৪০০৪ মাইক্রোপ্রসেসরের উদ্ভাবক কারা ছিলেন?
উত্তর: ইন্টেল ৪০০৪ মাইক্রোপ্রসেসরের উদ্ভাবকরা ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেড হফ, স্ট্যান মেজর, ফেডরিকো ফ্যাগিন এবং জাপানের মাসাতোশি শিমা।
৫২. কম্পিউটার মানুষের ভাষা কীভাবে বোঝে?
উত্তর: কম্পিউটার মেশিন ভাষা বোঝে, যা কেবল '০', এবং '১'; দিয়ে গঠিত। '০' মানে '০' থেকে ২ ভোল্ট এবং '১' মানে ৩ থেকে ৫ ভোল্ট বিদ্যুৎ। এটি মেশিন ভাষা হিসেবে পরিচিত। কম্পিউটারকে মানুষের ভাষা বোঝাতে অনুবাদক সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা মেশিন ভাষায় রূপান্তরের প্রয়োজন হয়। অনুবাদক প্রোগ্রাম মানুষের ভাষাকে প্রসেসর বা মেশিনের বোধগম্য কোডে রূপান্তর করে।
৫৩. Unicode কেন বেশি জনপ্রিয়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: Unicode অনেক বেশি জনপ্রিয়, কারণ এটি বহুভাষিক সমর্থন প্রদান করে। এটি যেকোনো ভাষার অক্ষর এবং প্রতীক সহজে বুঝতে এবং প্রক্রিয়া করতে সক্ষম। বর্তমানে এটি সর্বাধিক ব্যবহৃত কোড।
৫৪. সাউন্ড কার্ড কীভাবে কাজ করে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: সাউন্ড কার্ড ডিজিটাল উপাত্তকে এনালগ শব্দে রূপান্তর করে। বাইরে থেকে মাইক্রোফোন বা অন্য কোনো ইনপুট যন্ত্রে ইনপুট দিলে সাউন্ড কার্ড তা প্রসেসরে পাঠায়। প্রসেসর সেই ইনপুটকে প্রক্রিয়া করে আবার সাউন্ড কার্ডে পাঠায়, সেখান থেকে আউটপুট অংশের মাধ্যমে হেডফোন বা স্পিকারে আমরা শব্দ শুনতে পাই।
৫৫. সাউন্ড কার্ড ব্যবহারের সুবিধা লেখ।
উত্তর: বেশিরভাগ সাউন্ড কার্ডই মাদারবোর্ডে সংযুক্ত (Built in) অবস্থায় থাকে। আলাদা করে সাউন্ড কার্ড লাগাতে হয় না। সাউন্ড কার্ডের মাধ্যমেই মাল্টিমিডিয়া পূর্ণতা পায়। এর সাহায্যে গান শোনা, চলচ্চিত্র দেখা এবং গেমস খেলার সময় শব্দ উপভোগ করা যায়। তবে প্রফেশনাল কাজে ব্যবহৃত সাউন্ড কার্ড সাধারণত আলাদা করে মাদারবোর্ডে লাগাতে হয়, যেমন- Mozart-161
৫৬. গ্রাফিক্স কার্ড বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: গ্রাফিক্স কার্ড বলতে, এমন একটি ডিভাইস বুঝায়, যা কম্পিউটারে ছবি বা ভিডিও প্রদর্শনের কাজ করে। এটি ২ডি এবং ৩ডি ছবি প্রদর্শন করতে পারে। আধুনিক গ্রাফিক্স কার্ডে ইনপুট-আউটপুট কানেক্টর এবং গেমস খেলার জন্য আলাদা পোর্ট থাকে।
৫৭. টাচস্ক্রিনের প্রধান দুইটি ব্যবহার লেখ।
উত্তর: টাচস্ক্রিনের প্রধান দুইটি ব্যবহার হলো-
টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ও অন্যন্য ইলকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়।
শিল্প-কারখানায় অটোমেশন কাজে ব্যবহৃত হয়।
৫৮. মনিটর কী ধরনের ডিভাইস এবং এটি কীভাবে ইনপুট ডিভাইস হিসেবেও কাজ করে?
উত্তর: মনিটর মূলত একটি আউটপুট ডিভাইস। তবে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির মনিটর ইনপুট ডিভাইস হিসেবেও কাজ করে। টাচস্ক্রিন মনিটরের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সরাসরি স্ক্রিনে স্পর্শ করে ডেটা ইনপুট দিতে পারে। এটি মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ এবং সাধারণ মনিটরেও পাওয়া যায়।
৫৯. মনিটরের আকার কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
উত্তর: মনিটরের কর্ণের দৈর্ঘ্যকে (diagonal length) এর আকার হিসেবে ধরা হয়। এটি বিভিন্ন আকৃতিতে পাওয়া যায়। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট থেকে বড় স্ক্রিন নির্বাচিত হয়। যেমন- টেলিভিশন বা কম্পিউটার মনিটর।
৬০. সাধারণত কয় ধরনের এবং কী কী মনিটর পাওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত তিন ধরনের মনিটর দেখা যায়। যথা-
ক্যাথোড-রে টিউব (সিআরটি),
লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসে সিডি) এবং
লাইট ইমিটিং ডায়োড (এলইডি)।
৬১. সিআরটি মনিটরের তুলনায় এলসিডি এবং এলইডি মনিটর সুবিধাজনক কেন?
উত্তর: এলসিডি ও এলইডি মনিটর সিআরটি মনিটরের তুলনায় হালকা, পাতলা এবং দেখতে আকর্ষণীয়। এগুলোতে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়। সিআরটি মনিটর ভারী এবং বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, যা নতুন প্রযুক্তির মনিটরের চেয়ে সুবিধাজনক।
৬২. প্রিন্টার কত ধরনের হয়? ধরনগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: প্রিন্টার তিন ধরনের হয়। সেগুলো হলো-
ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার
ইঙ্কজেট প্রিন্টার ও
লেজার প্রিন্টার।
৬৩. ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার প্রথম দিকের প্রযুক্তি এবং ছাপার খরচ কম। এটি খুব ধীর গতির এবং নিখুঁত প্রিন্টিংয়ের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে ব্যয়ের দিক থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি এখনো অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হয়।
৬৪. প্লটারের ব্যবহার কী কী কাজে দেখা যায়?
উত্তর: প্লটার আর্কিটেকচারাল নকশা, মানচিত্র, বা গ্রাফের নিখুঁত এবং বড় কাগজে প্রিন্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষত ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিজাইন সংক্রান্ত কাজে গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে ছাপার যন্ত্রও বলা হয়।
৬৫. স্পিকারের কাজ কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: স্পিকার হলো একটি আউটপুট ডিভাইস যা আমাদের সব ধরনের শব্দ শোনাতে পারে। এটি কম্পিউটারের ভিতরে স্থাপন করা যেতে পারে বা বাহ্যিকভাবে সংযুক্ত করা যায়। সাউন্ড কার্ড বা রিসিভার থেকে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক তরঙ্গকে শ্রবণযোগ্য শব্দতরঙ্গে রূপান্তরিত করা স্পিকারের কাজ। ভালো মানের শব্দের জন্য উন্নত মানের স্পিকার ব্যবহার করা হয়।
৬৬. হেডফান কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: হেডফোন হলো একটি আউটপুট ডিভাইস যা কানের কাছে শব্দ শোনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মোবাইল ফোন, সিডি/ডিভিডি প্লেয়ার, এমপিথ্রি/এমপিফোর প্লেয়ার, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করা যায়। একাকী ব্যবহারের জন্য এটি উপযোগী এবং এতে অন্যের বিরক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
৬৭. তারবিহীন হেডফোন কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: তারবিহীন হেডফোন ব্লুটুথ বা ওয়াইফাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করে। এতে কোনো তারের প্রয়োজন হয় না এবং এটি সহজে বহনযোগ্য। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি শব্দ শোনার সুবিধা আরও উন্নত করেছে। ফলে বর্তমানে অনেকেই এটি ব্যবহার করে।
৬৮. মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের প্রধান কাজ কী?
উত্তর: মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ইলেকট্রো অপটিক্যাল যন্ত্র যা কম্পিউটার বা ভিডিও উৎস থেকে ডেটা ইমেজে রূপান্তর করে। এটি ইমেজ লেন্স পদ্ধতির মাধ্যমে ইমেজকে বহুগুণে বিবর্ধিত করে দেয়ালে বা স্ক্রিনে ফেলে উজ্জ্বল ইমেজ প্রদর্শন করে। এটি মূলত প্রেজেন্টেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৬৯. মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর কীসের আধুনিক রূপ এবং এর ঔজ্জ্বল্য কত লুমেন্স হতে হয়?
উত্তর: মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্লাইড প্রজেক্টর এবং ওভারহেড প্রজেক্টরের আধুনিক রূপ। এটি ডিজিটাল ইমেজকে যেকোনো সমতলে যেমন- দেয়াল বা ডেস্কের উপর বড় করে ফেলতে সক্ষম। বিশাল সভাকক্ষে ব্যবহারের জন্য এর ঔজ্জ্বল্য এক হাজার থেকে চার হাজার লুমেন্সের হতে হয়। এটি ল্যাম্পের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।