কোন পৃষ্ঠায় কি আছে :
১। লেখকের কথা ২। ভূমিকা ৩। মহাবিশ্বের সৃষ্টি ৪। মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ ৫। মহাকাশ পরিচিতি ৬। আটটি গ্রহের পরিচয় ৭। পৃথিবীর জন্মের প্রথম অবস্থা ৮। এককোষি প্রাণী থেকে বহুকোষি প্রাণী ৯। উদ্ভিদের জন্ম ১০। মস্তিষ্ক ও শিরদাঁড়া ১১। উভচরদের জন্ম ১২। উভচর থেকে সরীসৃপ ১৩। ডাইনোসারদের যুগ ১৪। ডাইনোসরের বিবর্তিত প্রজাতি ১৫। পাখিদের পূর্বপুরুষ ১৬। স্তন্যপায়ী প্রাণী ১৭। প্রাইমেটদের কথা ১৮। বিবর্তন কি ১৯। বিবর্তনের সাক্ষ্য ২০। জিরাফের লম্বা গলা কেনো? ২১। মধ্যবর্তী ফসিল নিয়ে টানাটানি ২২। মানুষ আর শিম্পাঞ্জি ২৩। আর্ডি নিয়ে এত হৈচৈ কেনো? ২৪। আমাদের পূর্বপুরুষ ২৫। আদিম মানুষ ২৬। হোমো সেপিয়েন্স ২৭। গূহামানব ২৮। বন্য থেকে সভ্য হওয়ার স্তরগুলো ২৯। প্রস্তর যুগ ৩০। কৃষি সভ্যতা ৩১। কাজের ভাগাভাগি ৩২। নারী-প্রধান সমাজ ৩৩। সে যুগে মায়েরা বড় ৩৪। ঘর তৈরী, কাপড় বোনা ৩৫। খাদ্য-সংগ্রহ থেকে খাদ্য-উৎপাদন ৩৬। আদিম মানুষের প্রজননের রহস্য ৩৭। লৌহ যুগ ৩৮। তামা ও লোহার হাতিয়ার ৩৯। হেনরী লুইস মর্গান ৪০। মিশরীয় সভ্যতা ৪১। সুমেরীয় সভ্যতা ৪২। ব্যবিলনীয় সভ্যতা ৪৩। পারস্য সভ্যতা ৪৪। হিব্রু সভ্যতা ৪৫। ফিনিশীয় সভ্যতা ৪৬। চীনা সভ্যতা ও সিল্ক রোড ৪৭। সিন্ধু সভ্যতা ও আর্য সমাজ ৪৮। গ্রীক সভ্যতা ৪৯। প্রচীন গ্রিস ও ভাস্কযৃ শিল্প ৫০। প্রাচীন গ্রিস ও জ্ঞান চর্চা ৫১। সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টটল ৫২। রোমান সভ্যতা ৫৩। মানব সমাজের অগ্রগতি ৫৪। চিত্রলিপি ৫৫। ভাব ব্যঞ্জক লিপি ৫৬। বর্ণমালার আবিস্কার ৫৭। ব্রাহ্মীলিপি থেকে বাংলা ৫৮। পৃথিবীর নানা জায়গার আদিবাসী ৫৯। এখনো যাদের আদিম অবস্থা ৬০। এস্কিমো ৬১। নিগ্রো ৬২। মাসাই ৬৩। পিগমি ৬৪। বুশম্যান ৬৫। সাহারার তুয়ারেগ ৬৬। আরবের বেদুইন ৬৭। মধ্য এশিয়ার কিরঘিজ ৬৮। মঙ্গোল ৬৯। ল্যাপ ৭০। মালয় ৭১। ওশিয়ানিয়া মহাদেশের আদিম বাসিন্দা ৭২। নাগা ৭৩। খাসিয়া ৭৪। গারো ও চাকমা ৭৫। সাঁওতাল ৭৬। আদিম মানুষের ধর্ম ও ঈশ্বরের আইন ৭৭। ধর্মচেতনার বিকাশ ৭৮। স্রষ্টার জন্য লড়াই শুরু ৭৯। সভ্যতার বিকাশ ও ধর্ম ৮০। ইশ্বর ও ধর্ম ৮১। ধর্ম যেভাবে সৃষ্টি হয় ৮২। ব্রাহ্মণ্যবাদ ৮৩। আর্য দ্রাবিড় মিশ্র সংস্কৃতি ৮৪। বাংলার প্রাচীনতম জাতি ৮৫। তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ৮৬। লোকায়ত দর্শন ও সহজিয়া সম্প্রদায় ৮৭। বামাচার / কামাচার ৮৮। হিন্দু ধর্ম, শাক্ত ধর্ম ৮৯। বৈষ্ণব ধর্ম ৯০। শৈব ধর্ম ৯১। দ্বৈতবাদ ৯২। ব্রাহ্ম সমাজ নতুন একটি ধর্ম ৯৩। হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলী ৯৪। হিন্দুধর্মে দেব-দেবী ৯৫। বৌদ্ধ ধর্ম ৯৬। বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তি ৯৭। জৈন ধর্ম ৯৮। জরাথুস্ট্রবাদ ৯৯। ইহুদি ধর্ম ১০০। খ্রিস্টান ধর্ম ১০১। ইসলাম ধর্ম ১০২। উত্তাল গৃহযুদ্ধে মুসলিমরা ১০৩। যেভাবে ইসলামের স্বর্ণযুগ শুরু হয় ১০৪। ইসলামের স্বর্ণযুগ. ছয় শতাব্দী জুড়ে ১০৫। অটোমান সাম্রাজ্য ১০৬। ভাররবর্ষে ইসলামী শাসন, অশোক ও আকবর ১০৭। রাজা গোবিন্দ ও হযরত শাহ জালাল ও ইবনে বতুতা ১০৮। বাঙালিরা যেভাবে মুসলমান হল! ১০৯। চিতোরের রানা প্রতাপ ১১০। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ শাসন ১১১। টিপু সুলতান ১১২। স্তনকর ১১৩। তেভাগা আন্দোলন ১১৪। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার জমিদার ১১৫। মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়া ১১৬। দূর্গা পুজায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ১১৭। কারা বাংলাকে দ্বিখন্ডিত করলো, দুই বাংলার পার্থক্য ১১৮। যেভাবে পাকিস্তান ধারণার জন্ম নিল- ১১৯। যেভাবে ভারত ভাগ হলো ১২০। পাকিস্তানে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ১২১। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ১২২। শিয়া মতবাদ ১২৩। আহমদীয়া সম্প্রদায় ১২৪। ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ১২৫। সুফীবাদ ১২৬। বিশুদ্ধ ইসলাম মতবাদ ১২৭। সালাফি মতবাদ ওহাবীবাদ ১২৮। মুতাজিলা মতবাদ ১২৯। দ্রুজ ধর্ম-২৬৫১৩০। ইয়াজিদি ধর্ম ১৩১। লৌকিক দর্শন ১৩২। আধ্যাত্মবাদ ১৩৩। সাবমিশন ইসলাম ১৩৪। বাহাই ধর্ম ১৩৫। আলাওয়িবাদ ১৩৬। জায়েদিবাদ ১৩৭। কাদারবাদ ১৩৮। মায়াবাদ ১৩৯। বাউল দর্শন-২৮০ ১৪০। শিখ ধর্ম ১৪১। তাও ধর্ম ১৪২। কনফুসীয় ধর্ম ১৪৩। কাও দাই ধর্ম ১৪৪। শিন্তৌ ধর্ম ১৪৫। পুঁজিবাদ ১৪৬। মৌলবাদ ১৪৭। প্রগতিবাদ ১৪৮। মানবতাবাদ ১৪৯। অজ্ঞেয়বাদ ১৫০। বিবর্তনবাদ ১৫১। নাস্তিক্যবাদ ১৫২। চার্বাক দর্শন ১৫৩। কমিউনিজম ১৫৪। নগ্নতাবাদ ১৫৫। নারীবাদ ১৫৬। নারী নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ১৫৭। নারী পুরুষের যৌনতার পার্থক্য ১৫৮। নারীর পোশাক ১৫৯। নারী নির্যাতন ১৬০। পারফেক্ট হওয়ার চাপে নারীরা ১৬১। বিবর্তনে মূল্য দিতে হয়েছে নারীকেই ১৬২। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি ১৬৩। নারী-পুরুষের বহুগামিতা ১৬৪। বাংলা সংস্কৃতির পোষাক ১৬৫। রোহিঙ্গা ও আরকাম রাজ্য ১৬৬। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ১৬৭। কৌম সমাজ ১৬৮। কিছু মাতৃপ্রধান সমাজের পরিচিতি ১৬৯। বিটগেনস্টাইন-এর যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ ১৭০। ফুকোর প্রেম ও যৌনতার ডিসকোর্স ১৭১। বৈশিক কলা ১৭২। অর্থ জমানোর প্রতিযোগিতা ১৭৩। বুদ্ধিমান রোবট সাইবোর্গ ১৭৪। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ১৭৫। কার্বন ন্যানোটিউব ১৭৬। অমরত্বের খোঁজে ১৭৭। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ১৭৮। মস্তিষ্কের ডাটা ট্রান্সপার ১৭৯। ডিএনএ এবং জিন প্রযুক্তি ১৮০। এ আই প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের হাইব্রিড মানুষ? ১৮১। আমাদের সমাজ ও মিডিয়া
হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলীর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়
প্রাচীনকালে এর নাম ছিল আর্য ধর্ম। কারণ ইরান থেকে আগত আর্য গোত্ররা এ ধর্মের বাহক ছিল। আর্যরা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব প্রায় পাঁচ হাজার অব্দে উপমহাদেশে আগমন করে’ ভারতের আদি অধিবাসী অনার্যদেরকে বিতাড়িত করে পাঞ্জাব ও সিন্ধু অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
হিন্দু ধর্মের পরিচয়:
এ ধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম ঋক বেদ। এ বেদের সূচনাতে একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম ছিল। অতঃপর যুগে যুগে ব্রহ্মের অবতারগণ আগমন করতঃ ঋক বেদের অনুশীলন করতে গিয়ে এর সাথে স্থান-কাল উপযোগী সংযোজন-সংবর্ধন করে আরো ৪টি সংস্করণ তৈরি করে। এগুলোই হিন্দু ধর্মের অনুসরণীয় পঞ্চবেদ। এ পঞ্চবেদে বিশ্বাস করাকেই হিন্দু ধর্ম বলে।
হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ ও শিক্ষা:
হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থের সংখ্যা অনেক। এ ধর্মগ্রন্থগুলো হল ১. বেদ, ২. উপবেদ, ৩. বেদান্ত, ৪. স্মৃতি সংহিতা, ৫. গীতা, ৬. পুরাণ, ৭. আগামশাস্ত্র, ৮. রামায়ণ ও মহাভারত, ৯. চন্ডী এবং ১০. ষড়দর্শন, উপনিষদ ইত্যাদি।
১. বেদ:
হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে বেদের স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেদ অর্থ জানা (ঞড় কহড়)ি। বৈদিক যুগে ঋষিগণ বেদকে ভিত্তি করে কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। যারা এই বেদকে আবিষ্কার করেছেন তাদের ঋষি বলা হয়। জনায়েক মহাপ্রাজ্ঞা হলেন বেদের মূল আবিষ্কারক আর ঋষিগণ আবিষ্কার করেছেন বেদের অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিকতা। এই গ্রন্থে প্রকৃতির পূজার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বেদের সংখ্যা চারটি। যথা- ১. ঋকবেদ, ২. সামবেদ, ৩. যজুবেদ ও ৪. অথর্ববেদ।
১. ঋগে¦দ: ঋকবেদে চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী, আকাশ, অবনি, বারি, প্রভাত, সন্ধ্যা মলয়, ঝড়, নদ-নদী, জলপ্রপাত, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদির ন্যায় ছিয়াত্তরটি প্রাকৃতিক পূজার কথা বলা হয়েছে। এই বেদে মনু, বিশ্বমিত্র, বিশ্বধারা ও লোপা মুদ্রায় ন্যায় চার পুরুষ ও দুই মহিলা ঋষির কথা উল্লেখ রয়েছে। এটা পৃথিবীর সকল শাস্ত্র অপেক্ষা প্রাচীন। এখানে সর্বমোট ১০৫৫২টি মন্ত্রের দ্বারা যজ্ঞে দেবতাদের আহবান করা হয়েছে।
২. সামবেদ: সামবেদ ব্রহ্মার উত্তর মুখ থেকে নিঃসৃত। এটি ২য় বেদ।
বেদমন্ত্র,গান-বাজনা,সাধনা,সান্ত্বনা,প্রিয় বচন ইত্যাদি সামবেদ। সামবেদের বাক্যসমূহ সুরের মাধ্যমে করা হয়েছে। সামবেদ ঋগে¦দের একটি অংশ। এই বেদের মন্ত্রসংখ্যা হল ১৮৭৫টি। ৭৫টি মন্ত্র সামবেদের নিজস্ব আর বাকিগুলো ঋকবেদ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত প্রার্থনা সঙ্গীতের একটি গ্রন্থ। এটি দুইভাগে বিভক্ত একটি হল আর্চিক আরেকটি হল গান। যে ভাগে কেবল সঙ্গীতের সংকলন আছে তা হল আর্চিক আর যে খণ্ডে কেবল সঙ্গীতের স্বরলিপি আছে তা হল গান। গান বা সঙ্গীতের মাধ্যমে দেবতার প্রশংসা করা।
৩.যজুর্বেদ: এই বেদে যজ্ঞানুসারে মন্ত্রসমূহ ও নিয়ম পালনের বিষয় রয়েছে। এই বেদ দুই ভাগে বিভক্ত। তা হল কৃষ্ণ যজু ও শুক্লা যজু। এই যুগে যাকে গদ্য বলা হয় তাই হল যজু। এখানে পূজা-অর্চনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে মন্ত্র সংখ্যা মোট ১৯৭৫টি।
৪. অর্থব বেদ: অর্থববেদে পার্থিব-অপার্থিব বা পরকালের বিদ্যা স¤পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই গ্রন্থে পূর্বের তিনটি গ্রন্থ থেকে মন্ত্র নেওয়া হয়েছে। এখানে মন্ত্রের সংখ্যা সর্বমোট ৫৫৭৭টি। এখানে ধর্ম,অর্থ,কাম,মোক্ষ জগৎ সংসার কোন কিছুকেই অস্বীকার করা হয় নাই। এখানে রোগ-ব্যাধির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এজন্যে এই অর্থব বেদকে আয়ুর্বেদের গ্রন্থ বলা হয়।
বেদের শিক্ষা: বেদগ্রন্থের শিক্ষা একমাত্র কর্ম। হিন্দু ধর্মে বলা হয়, মানুষ কর্মের মাধ্যমেই ঈশ্বর, স্বর্গ ও যাবতীয় কল্যাণ পেতে পারে এবং মুক্তির পথ অনুসন্ধান করতে পারে।
২. উপবেদ:
মূল বেদ ছাড়াও চারটি উপবেদ আছে। যথা- ১. আয়ুর্বেদ, ২. ধনুর্বেদ, ৩. গন্ধর্বেদ এবং ৪. স্থাপত্যর্বেদ।
আয়ুর্বেদ হল ভেষজ শাস্ত্র, ধনুর্বেদ হল অস্ত্রবিদ্যা, গন্ধর্বেদ হল সঙ্গীত বিদ্যা আর স্থাপত্যর্বেদ হল কৃষিবিদ্যা। মানবকল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বেদ ঋষিগণ রচনা করে থাকেন।
উপবেদের শিক্ষা: উপবেদ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে চিকিৎসা, সঙ্গীত, স্থাপত্য ও অস্ত্রবিদ্যার শিক্ষা দিয়ে থাকে।
৩. বেদান্ত:
বেদান্ত বলতে বেদের শেষকে বুঝানো হয়। বেদের মূল ভাবকে হৃদয়ঙ্গম করার জন্য বেদের সাহায্যকারী ছয়খানা অবয়বগ্রন্থ অধ্যয়ন করতে হয়। আর এই অবয়বগুলোকে বলা হয় বেদান্ত। এগুলো হল- ১. শিক্ষা, ২. কল্প, ৩. ব্যাকরণ, ৪. নিরুক্ত, ৫. ছন্দ এবং ৬. জ্যোতিষ।
বেদান্তের শিক্ষা: বেদান্তের শিক্ষা হল মানুষকে কর্মের চেয়ে শিক্ষার প্রতি অনুগামী করে তোলে। যাতে করে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধি পেয়ে স্রষ্টাকে বেশি উপলব্ধি করতে পারে।
৪. স্মৃতি সংহিতা:
হিন্দু ধর্মের অনুসারীগণের ধর্ম-কর্ম কি হবে তা এই স্মৃতিতে বর্ণনা করা হয়েছে। কুড়িখানা স্মৃতি সংহিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ১. মনুস্মৃতি, ২. যজ্ঞবলক, ৩. পরাশ্বর স্মৃতি ইত্যাদি। এই স্মৃতিশাস্ত্র শুধুমাত্র ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনকে ঘিরেই নয় বরং, তা রাজরাজড়দের প্রতি উপদেশ, আইনসমূহের রুপরেখা,নীতি ও নৈতিকতা,চিকিৎসা বিজ্ঞান,সমর বিজ্ঞান,শিল্প বিজ্ঞান ও সঙ্গীতবিদ্যা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
স্মৃতি সংহিতার শিক্ষা: আর্য জীবনকে সুনিয়ন্ত্রিত করার জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে এই গ্রন্থে। দশবিধি সংস্কার, খাদ্য বিচার, ব্রত, পূজা, প্রায়ঃশ্চিত্য, রাজধর্ম, শাসননীতি ইত্যাদি ছাড়াও এতে সমাজতত্ত্ব ও গার্থস্থ্য বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৫. গীতা:
বেদের সার উপনিষদ আর উপনিষদের সার গীতা। গীতা মহাভারতের ভীষ্মপর্বের অন্তর্গত ১৮টি অধ্যায়। এর বক্তা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রোতা অর্জুন। এর অপর নাম হল সপ্তশাতী। কারণ এতে সাতশত শ্লোক আছে। গীতা একাধারে ধর্ম, দর্শন ও কাব্যগ্রন্থ। এতে বেদ, বেদান্ত,উপনিষদ প্রভৃতি বিষয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
গীতার শিক্ষা: গীতা শিক্ষা প্রদান করে, ঈশ্বর লাভ করতে হলে যোগ, কর্ম, ভক্তি ও জ্ঞান -এ চারটি মার্গের অনুসরণ করা আবশ্যক। এখানে ধর্মতত্ত্ব, জ্ঞানতত্ত্ব, সমাজতত্ত্ব, রাজনীতি, গার্হস্থনীতি ইত্যাদি স¤পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
৬. পুরাণ:
যা পুরাতন তাই পুরাণ। একটি সময় যখন বেদ গ্রন্থ পাঠ করা জনসাধারণের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাড়ায়, তখন খৃষ্টীয়পূর্ব ৫ম থে ৭ম শতক পর্যন্ত পুরাণ গ্রন্থটি সংকলিত হয়। পুরাণের লক্ষণ পাঁচটি। যথা- স্বর্গ, প্রতিস্বর্গ, বংশ, মন্বন্তর ও বংশানুচরিত। আবার পুরাণকে দু'শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে। যথা- ক.
মহাপুরাণ, খ. উপপুরাণ। উভয়ের সংখ্যা ১৮। এর মধ্যে বিষ্ণুপুরাণ,পক্ষপুরাণ,বায়ুপুরাণ,অগ্নিপুরাণ ও ভাবগত পূরান অন্যতম। এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে পূজা-পার্বন ও ব্রতকেন্দ্রিক করা হয়। পূরানে দেবদেবীদের মানবায়ন ও জীবের আকৃতি দেওয়া হয়। এখানে অগ্নি, গণেশ, বরুন, দূর্গা, চন্ডী ইত্যাদি পৌরাণিক দেবতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
পুরাণের শিক্ষা: এখানে সৃষ্টিতত্ত্ব,ইতিহাস,দার্শনিকতত্ত্ব ও সাধকপ্রণালীর শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই গ্রন্থে দেব-দেবীর নামে পূজার প্রচলন,দেব-দেবীর মহাত্ম ও শ্রেষ্ঠত্ব এর শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
৭. আগামশাস্ত্র:
হিন্দু সমাজের মধ্যে আগামশাস্ত্রের অনেক জনপ্রিয়তা রয়েছে। কারণ আগামশাস্ত্রে নানা দেবদেবীর পূজার পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন আলোচনা করা হয়েছে।
৮. রামায়ণ :
রামায়ণ হল প্রাচীন ভারতীয় সূর্যবংশীয় রাজাদের কাহিনী অবলম্বণে মহর্ষি বাল্মীকি রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য। এই গ্রন্থটির রচনাকাল খৃস্টপূর্ব ৩য় শতকে। অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র এর জীবনী হল এই গ্রন্থের মূল কথা। এই গ্রন্থটি সাত খণ্ডে বিভক্ত। রাম,সীতা,লক্ষণ,রাবণের জীবনাতিহাস এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এই গ্রন্থে শ্লোক সংখ্যা হল মোট ১৮৮৫৫টি।
রামায়ণের শিক্ষা: রামায়ণ এ ধর্ম, রাজধর্ম, গার্হস্থ্য ধর্ম, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সকল দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই অধিকাংশ হিন্দু এ গ্রন্থটিকে শিক্ষা অনুযায়ী জীবনযাপন করে থাকে।
৯. মহাভারত:
এটি ঋষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাস কর্তৃক সংস্কৃত ভাষায় রচিত। চন্ড্রবংশীয় কুরু-পাণ্ডবদের ভ্রাতৃবিদ্বেষ ও যুদ্ব হল এর মূল উপজীব্য। বড়ভাই ধৃতরাষ্ট্র ও ছোটভাই পাণ্ডুর সন্তানদের মধ্যে কুরুক্ষেত্রে যে যুদ্ব হয় সেই যুদ্বই হল এই মহাভারতের মূল ঘটনা। যুদ্বে শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন পাণ্ডুর সন্তানদের পক্ষে। সেখানে ছিলেন অর্জুন। এখানে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যে সকল উপদেশ দিয়েছেন তার সারাংশ হল শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা। আর তার বিস্তারিতাংশ হল মহাভারত।
মহাভারতের শিক্ষা: মহাভারতের ধর্ম, রাজধর্ম, গার্হস্থ্য ধর্ম, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সকল দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই অধিকাংশ হিন্দু এ গ্রন্থটির শিক্ষা অনুযায়ী জবিনযাপন করে থাকে। মহাভারতের চরিত্রসমূহে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাওয়া-পাওয়া, লাভ-ক্ষতি, লোভ-লালসা, আশা-নিরাশা, ধর্ম-অধর্ম ও পাপ-পূণ্যের প্রতীক।
১০. চন্ডী:
গীতার ন্যায় চন্ডীও হিন্দুদের নিত্য পাঠ্যবিষয়। তবে অনেকের মতে, চন্ডী মূলত স্বতন্ত্র ধর্মগ্রন্থ হলেও পুরাণের অন্তর্ভুক্ত ছিল। শ্রী দূর্গা দেবীর অপর নাম হল চন্ডী। চন্ডী নাম হওয়ার অন্যতম কারণ হল মহিষাসুরকে সে বধ করার সময় চন্ড (ভয়ংকর) নাম ধারন করেছিল।
চন্ডীর বৈশিষ্ট্যাবলী
১. চন্ডী,দেবী দূর্গার মূর্তি
২. পুরাণে অন্তর্গত দেব-দেবীদের মহাত্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. এর শ্লোক সংখ্যা হল ৭০০।
১১. ষড়দর্শন:
হিন্দু ধর্মে মোক্ষ অনুসরণের উদ্দেশ্যে ষড়দর্শনের ব্রহ্ম, জীবজগৎ ইত্যাদি তথ্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এই ষড়দর্শন মূলত সংখ্যা, যোগ, ন্যায়, বৈদিক সূত্রি, মীমাংসা, উত্তর মীমাংসার বেদান্ত দর্শন। অর্থাৎ এ ছয় দর্শন মিলেই ষড়দর্শন।
১২. উপনিষদ:
উপনিষদ মূলত বেদের সর্বশেষ অংশ। এখান থেকে যেই জ্ঞানার্জিত হয় তা হল গুহ্যজ্ঞান নামে খ্যাত। ঈশ্বর কোথায় এবং কীভাবে বিরাজমান, মানুষ্য জগতের সঙ্গে ঈশ্বরের স¤পর্ক নিয়ে উপনিষদে আলোচনা করা হয়েছে। যে জ্ঞানের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সন্ধান পাওয়া যায় তাই হল উপনিষদ। হিন্দু ধর্মে উপনিষদ মতে-মূর্তিপূজা নয় বরং এক ঈশ্বর ভাবনার গভীর আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা- যাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। উপনিষদ সংখ্যায় অনেক। বর্তমানে ১১২ খানা উপনিষদের নাম জানা গেছে। তন্মধ্যে ১. বৃহদারণ্যক, ২. শ্বেতাশ্বেতরো, ছন্দোগ্য, ৪. কেন এবং ৫. কব, ৬.ঐতরেয়,৭.ঈশ, ৮.কঠ, ৯.প্রশ্ন, ১০.সন্তক উল্লেখযোগ্য।
উপনিষদের শিক্ষা: উপনিষদ গ্রন্থের মৌলিক শিক্ষা হল মানুষকে স্রষ্টার চিন্তা- চেতনার দিকে আগ্রহী করে তোলা, যাতে মানুষ তার স্রষ্টাকে চিনতে পারে।
১৩.আগামশাস্ত্র:
আগামশাস্ত্র হল হিন্দু ধর্ম গ্রন্থাবলীর মধ্যে অন্যতম একটি প্রধান গ্রন্থ। এতে দেব-দেবীর ও পূজা অর্চনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।