কোন পৃষ্ঠায় কি আছে :
১। লেখকের কথা ২। ভূমিকা ৩। মহাবিশ্বের সৃষ্টি ৪। মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ ৫। মহাকাশ পরিচিতি ৬। আটটি গ্রহের পরিচয় ৭। পৃথিবীর জন্মের প্রথম অবস্থা ৮। এককোষি প্রাণী থেকে বহুকোষি প্রাণী ৯। উদ্ভিদের জন্ম ১০। মস্তিষ্ক ও শিরদাঁড়া ১১। উভচরদের জন্ম ১২। উভচর থেকে সরীসৃপ ১৩। ডাইনোসারদের যুগ ১৪। ডাইনোসরের বিবর্তিত প্রজাতি ১৫। পাখিদের পূর্বপুরুষ ১৬। স্তন্যপায়ী প্রাণী ১৭। প্রাইমেটদের কথা ১৮। বিবর্তন কি ১৯। বিবর্তনের সাক্ষ্য ২০। জিরাফের লম্বা গলা কেনো? ২১। মধ্যবর্তী ফসিল নিয়ে টানাটানি ২২। মানুষ আর শিম্পাঞ্জি ২৩। আর্ডি নিয়ে এত হৈচৈ কেনো? ২৪। আমাদের পূর্বপুরুষ ২৫। আদিম মানুষ ২৬। হোমো সেপিয়েন্স ২৭। গূহামানব ২৮। বন্য থেকে সভ্য হওয়ার স্তরগুলো ২৯। প্রস্তর যুগ ৩০। কৃষি সভ্যতা ৩১। কাজের ভাগাভাগি ৩২। নারী-প্রধান সমাজ ৩৩। সে যুগে মায়েরা বড় ৩৪। ঘর তৈরী, কাপড় বোনা ৩৫। খাদ্য-সংগ্রহ থেকে খাদ্য-উৎপাদন ৩৬। আদিম মানুষের প্রজননের রহস্য ৩৭। লৌহ যুগ ৩৮। তামা ও লোহার হাতিয়ার ৩৯। হেনরী লুইস মর্গান ৪০। মিশরীয় সভ্যতা ৪১। সুমেরীয় সভ্যতা ৪২। ব্যবিলনীয় সভ্যতা ৪৩। পারস্য সভ্যতা ৪৪। হিব্রু সভ্যতা ৪৫। ফিনিশীয় সভ্যতা ৪৬। চীনা সভ্যতা ও সিল্ক রোড ৪৭। সিন্ধু সভ্যতা ও আর্য সমাজ ৪৮। গ্রীক সভ্যতা ৪৯। প্রচীন গ্রিস ও ভাস্কযৃ শিল্প ৫০। প্রাচীন গ্রিস ও জ্ঞান চর্চা ৫১। সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টটল ৫২। রোমান সভ্যতা ৫৩। মানব সমাজের অগ্রগতি ৫৪। চিত্রলিপি ৫৫। ভাব ব্যঞ্জক লিপি ৫৬। বর্ণমালার আবিস্কার ৫৭। ব্রাহ্মীলিপি থেকে বাংলা ৫৮। পৃথিবীর নানা জায়গার আদিবাসী ৫৯। এখনো যাদের আদিম অবস্থা ৬০। এস্কিমো ৬১। নিগ্রো ৬২। মাসাই ৬৩। পিগমি ৬৪। বুশম্যান ৬৫। সাহারার তুয়ারেগ ৬৬। আরবের বেদুইন ৬৭। মধ্য এশিয়ার কিরঘিজ ৬৮। মঙ্গোল ৬৯। ল্যাপ ৭০। মালয় ৭১। ওশিয়ানিয়া মহাদেশের আদিম বাসিন্দা ৭২। নাগা ৭৩। খাসিয়া ৭৪। গারো ও চাকমা ৭৫। সাঁওতাল ৭৬। আদিম মানুষের ধর্ম ও ঈশ্বরের আইন ৭৭। ধর্মচেতনার বিকাশ ৭৮। স্রষ্টার জন্য লড়াই শুরু ৭৯। সভ্যতার বিকাশ ও ধর্ম ৮০। ইশ্বর ও ধর্ম ৮১। ধর্ম যেভাবে সৃষ্টি হয় ৮২। ব্রাহ্মণ্যবাদ ৮৩। আর্য দ্রাবিড় মিশ্র সংস্কৃতি ৮৪। বাংলার প্রাচীনতম জাতি ৮৫। তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ৮৬। লোকায়ত দর্শন ও সহজিয়া সম্প্রদায় ৮৭। বামাচার / কামাচার ৮৮। হিন্দু ধর্ম, শাক্ত ধর্ম ৮৯। বৈষ্ণব ধর্ম ৯০। শৈব ধর্ম ৯১। দ্বৈতবাদ ৯২। ব্রাহ্ম সমাজ নতুন একটি ধর্ম ৯৩। হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলী ৯৪। হিন্দুধর্মে দেব-দেবী ৯৫। বৌদ্ধ ধর্ম ৯৬। বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তি ৯৭। জৈন ধর্ম ৯৮। জরাথুস্ট্রবাদ ৯৯। ইহুদি ধর্ম ১০০। খ্রিস্টান ধর্ম ১০১। ইসলাম ধর্ম ১০২। উত্তাল গৃহযুদ্ধে মুসলিমরা ১০৩। যেভাবে ইসলামের স্বর্ণযুগ শুরু হয় ১০৪। ইসলামের স্বর্ণযুগ. ছয় শতাব্দী জুড়ে ১০৫। অটোমান সাম্রাজ্য ১০৬। ভাররবর্ষে ইসলামী শাসন, অশোক ও আকবর ১০৭। রাজা গোবিন্দ ও হযরত শাহ জালাল ও ইবনে বতুতা ১০৮। বাঙালিরা যেভাবে মুসলমান হল! ১০৯। চিতোরের রানা প্রতাপ ১১০। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ শাসন ১১১। টিপু সুলতান ১১২। স্তনকর ১১৩। তেভাগা আন্দোলন ১১৪। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার জমিদার ১১৫। মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়া ১১৬। দূর্গা পুজায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ১১৭। কারা বাংলাকে দ্বিখন্ডিত করলো, দুই বাংলার পার্থক্য ১১৮। যেভাবে পাকিস্তান ধারণার জন্ম নিল- ১১৯। যেভাবে ভারত ভাগ হলো ১২০। পাকিস্তানে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ১২১। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ১২২। শিয়া মতবাদ ১২৩। আহমদীয়া সম্প্রদায় ১২৪। ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ১২৫। সুফীবাদ ১২৬। বিশুদ্ধ ইসলাম মতবাদ ১২৭। সালাফি মতবাদ ওহাবীবাদ ১২৮। মুতাজিলা মতবাদ ১২৯। দ্রুজ ধর্ম-২৬৫১৩০। ইয়াজিদি ধর্ম ১৩১। লৌকিক দর্শন ১৩২। আধ্যাত্মবাদ ১৩৩। সাবমিশন ইসলাম ১৩৪। বাহাই ধর্ম ১৩৫। আলাওয়িবাদ ১৩৬। জায়েদিবাদ ১৩৭। কাদারবাদ ১৩৮। মায়াবাদ ১৩৯। বাউল দর্শন-২৮০ ১৪০। শিখ ধর্ম ১৪১। তাও ধর্ম ১৪২। কনফুসীয় ধর্ম ১৪৩। কাও দাই ধর্ম ১৪৪। শিন্তৌ ধর্ম ১৪৫। পুঁজিবাদ ১৪৬। মৌলবাদ ১৪৭। প্রগতিবাদ ১৪৮। মানবতাবাদ ১৪৯। অজ্ঞেয়বাদ ১৫০। বিবর্তনবাদ ১৫১। নাস্তিক্যবাদ ১৫২। চার্বাক দর্শন ১৫৩। কমিউনিজম ১৫৪। নগ্নতাবাদ ১৫৫। নারীবাদ ১৫৬। নারী নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ১৫৭। নারী পুরুষের যৌনতার পার্থক্য ১৫৮। নারীর পোশাক ১৫৯। নারী নির্যাতন ১৬০। পারফেক্ট হওয়ার চাপে নারীরা ১৬১। বিবর্তনে মূল্য দিতে হয়েছে নারীকেই ১৬২। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি ১৬৩। নারী-পুরুষের বহুগামিতা ১৬৪। বাংলা সংস্কৃতির পোষাক ১৬৫। রোহিঙ্গা ও আরকাম রাজ্য ১৬৬। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ১৬৭। কৌম সমাজ ১৬৮। কিছু মাতৃপ্রধান সমাজের পরিচিতি ১৬৯। বিটগেনস্টাইন-এর যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ ১৭০। ফুকোর প্রেম ও যৌনতার ডিসকোর্স ১৭১। বৈশিক কলা ১৭২। অর্থ জমানোর প্রতিযোগিতা ১৭৩। বুদ্ধিমান রোবট সাইবোর্গ ১৭৪। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ১৭৫। কার্বন ন্যানোটিউব ১৭৬। অমরত্বের খোঁজে ১৭৭। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ১৭৮। মস্তিষ্কের ডাটা ট্রান্সপার ১৭৯। ডিএনএ এবং জিন প্রযুক্তি ১৮০। এ আই প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের হাইব্রিড মানুষ? ১৮১। আমাদের সমাজ ও মিডিয়া
নারী-পুরুষের বহুগামিতা
‘পুরুষ সাধারণত এমন হয় যে, সে মনে করে জগতের প্রতিটি নারীই তার। আর নারী মনে করে জগতের একটি মাত্র পুরুষ তার, তবে সে শুধুই তার।’ অর্থাৎ পুরুষ মূলত তার মনোজগতে বহুগামী স্বভাব ধারণ করে আছে। আর নারী তার মনোজগতে একগামী স্বভাব ধারণ করে আছে। এমন চরম পরস্পরবিরোধী মনোজাগতিক চেতনা পুরুষকে নারী থেকে ভিন্ন একটি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
নারীর মনোজাগতিক বৈশিষ্ট্যটা এমন যে, সে সাধারণত বহুগামী হতে পারে না। তার মূল কারণ নারী প্রজন্মের ধারক; সে যদি বহুগামী হয় তবে, প্রজন্ম ধ্বংস হতে বাধ্য। প্রজন্মের প্রয়োজনেই সে নিরাপত্তা খুঁজে ফেরে, আর নিরাপত্তার প্রয়োজনেই সে একগামী হয়। তবে কিছু নারীই যে বহুগামী হয় না, তা কিন্তু নয়। গবেষণায় দেখা গেছে বহুগামী নারীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাঝেও একগামিতা প্রকট। তবে একজন বহুগামী নারী তার প্রত্যেক পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক রসায়নে সমান সাড়া দেয় না, আর মানসিকভাবে তো নয়ই। একাধিক সঙ্গীর মধ্য থেকে কেবল একজনের প্রতি তার মনোনিবেশ থাকে। অর্থাৎ তার বহুগামিতা মূলত একরকম বাধ্য হয়ে। অপরদিকে বহুগামী পুরুষ, তার প্রত্যেক সঙ্গীনির সঙ্গে শারীরিক রসায়নে সমান অনুভূতিপ্রবণ হয়, এমনকি তার স্বীয় মনোজগতেও তার প্রত্যেক সঙ্গিনীকে সমানভাবে লালন করতে পারে। যে কয়টি কারণে নারী বহুগামী হতে পারে তা এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে শারীরিক, অর্থনৈতিক বা মনোজাগতিক কোনো বিকার নারীকে বহুগামী করে তোলে। তবে অর্থনৈতিক কারণে নারী বেশি বহুগামী হতে পারে, কিন্তু এরকম বহুগামিতা তার স্বেচ্ছা বহুগামিতা নয়।
বহুগামিতা কি আমাদের স্বভাবজাত
পশ্চিমের সমাজে প্রাক-বৈবাহিক সেক্স খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ওইসব দেশে হাই-স্কুলের রেস্ট-রুমে কনডম রাখা আর যৌন-শিক্ষা দেওয়ার পরও অপরিকল্পিত টিন সেক্সের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। আমেরিকায় হাইস্কুল পর্যন্ত সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বৃত্তি না পেলে উচ্চশিক্ষা খুবই ব্যয়বহুল।
আমেরিকায় ডিভোর্সগুলোর মূল কারণ পরকীয়া। পশ্চিমের মানুষেরা জীবনকে পানসে মনে করলে তাতে ঝাঁজ আনার জন্য নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। হোক সে বিবাহিত কি অবিবাহিত। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সহ্য করে সংসার করে যাওয়া এদের ধাঁচে নেই। ফলশ্রুতিতে একটা বিশালসংখ্যক আমেরিকান শিশু সিঙ্গেল প্যারেন্ট-এর তত্ত্বাবধানে মানুষ হচ্ছে। যেসব ছেলে-মেয়ে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই ব্যাংক ঋণ নেন, সে ঋণ শোধ করতে জীবনের অনেকটা বছর তারা অতি চাপে কাটায়। স্কুলে সবচেয়ে জনপ্রিয় থাকে ফুটবল বা বাস্কেটবল টিমের অধিনায়করা। স্কুলের মেয়েদের অনেকে তো মুখিয়েই থাকে এদের সঙ্গ পাওয়ার জন্য। অনেকাংশেই দেখা যায়, মেয়েরা তাদের সঙ্গে শারীরিকভাবে সেক্স করে, অনেকটা আমাদের করমর্দনের মতো। তারা সেক্সটা করে মূলত ‘ছেলেটা তাকে ভালোবাসে বা আরও ভালোবাসবে’ অথবা ক্লাসের অ্যাডভান্স মেয়েদের দলে থাকার জন্য। টিন সেক্স তাদের কাছে স্বাভাবিক। তাদের মনোভাব হচ্ছে, যিশু মাতা মেরী তো ছিলেন কুমারী। তারপরও তো মা হয়েছিলেন।
বিখ্যাত ব্যক্তি স্টিভ জবস বলুন আর বারাক ওবামা কিংবা বিল ক্লিনটন। এরা সবাই অবিবাহিত টিনএজ মায়েদের দুর্ঘটনাবশত গর্ভধারণ। এরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। পেছনের কারণটা হলো এদের মা তাদের নিজস্ব জীবনে যাই ঘটে থাকুক না কেন, সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। নিন্দুকরা বলেন, আমরা আসলে সন্তানদের বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করাই না, সেজন্য সন্তানরা অত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে না। কথাটা ভেবে দেখার বিষয় বটে।
যুক্তরাজ্যের ম্যারি কালভার্ট নামের ৬৩ বছরের এক নারী তার যৌন জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা দিয়েছেন দ্য গার্ডিয়ানের কাছে। সেখানে ৩,০০০ পুরুষের সঙ্গে সেক্স করার অভিজ্ঞতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার বয়স যখন ১৫ বছর তখন থেকে আমি এবং আমার স্বামী ব্যারি এক সঙ্গে রয়েছি। বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত আমরা কেবল দু’জন দু’জনের সঙ্গে যৌন মিলন করে যাব সেটাকে আমরা কখনোই প্রাকৃতিক বলে মনে করিনি। জীবন উপভোগের এবং নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার।
আমার স্বামী অন্য নারীদের সঙ্গে যৌন মিলন করে। এটাকে কখনোই আমি খারাপভাবে নেইনি, কারণ আমি মনে করি সে আমাকে খুবই ভালোবাসে। বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত আমরা নিজেদের মধ্যেই যৌন মিলন করতাম। কিন্তু আমার স্বামী একদিন হঠাৎ তার এক সহকর্মীর কাছ থেকে একটি বহুগামিতার ম্যাগাজিন নিয়ে আসে এবং মজা করে বলে, আমাদের এটা পরীক্ষা করা উচিত। তখন আমি ম্যাগাজিনটি দেখতে থাকি এবং ভাবি যে, এটা কতটাই মজার বিষয় হতো। অবশেষে আমরা ম্যাগাজিনে বহুগামী যুগলদের তালিকা থেকে এক যুগলের সঙ্গে দেখা করি।
ওই যুগলের বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিল। এক শুক্রবার আমরা তাদের সঙ্গে মিলিত হই। আমি তখন খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম তবে খুব উত্তেজিত ছিলাম। আমি তখন জনের সঙ্গে মিলন করেছিলাম এবং আমার স্বামী ব্যারি করেছিল জনের স্ত্রীর সঙ্গে। সে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। এরপর থেকেই প্রতি সপ্তাহের ছুটিতেই আমরা কোনো এক যুগলের সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হতাম। ১৯৯৭ সালে আমরা নিজেরাই একটি ক্লাব খোলার উদ্যোগ নেই এবং সফলভাবে ক্লাবটি চালাতে সক্ষম হই। আমি এখনো আগের মতোই যৌন মিলন করে যাচ্ছি। যদিও এখন আমার বয়স হয়ে গেছে এবং পুরুষকে আকর্ষণ করার মতো পোশাক আমাকে মানায় না। এরপরও যদি কোনো পুরুষ আমার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে তাহলে এখনো কেন নয়?
পশ্চিমা সমাজে বর্তমানের বহুল আলোচিত রোমান্টিক স¤পর্কের আর একটি রূপ হচ্ছে ট্রায়াড রিলেশনশিপ। ট্রায়াড রিলেশনশিপে তিনজন ব্যক্তি (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে) একটি রোমান্টিক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকেন এবং এক্ষেত্রে তিনজনই পরস্পরের সঙ্গে রোমান্টিকভাবে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্কে সংযুক্ত। এটি পলিগেমাস সম্পর্কের এক বৈচিত্র্যময় ও জটিল রূপ। তসলিমা নাসরিন লিখেছেনÑ ‘সভ্য শিক্ষিত বিশ্ব থেকে বিয়ে প্রায় উঠেই যাচ্ছে। কিছু লোক অবশ্য করছে বিয়ে! এভারেস্টটা আছে বলে যেমন অনেকে এভারেস্টে চড়ে, বিয়েটা আছে বলেই অনেকে বিয়েটা করে। বিয়ের চল চলে গেলে আর করবে না। যে প্রথা চলছে, অধিকাংশ লোক সেই প্রথাকেই চালিয়ে নিয়ে যায়। আর, যার প্রচলন নেই, তাকে চালু করতে খুব অল্প ক’জনই উদ্যোগ নেয়।’
ষাট দশকের শেষদিকে সমাজের বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ বেরিয়ে এসেছিল পুরনো সমাজব্যবস্থা আমূল পাল্টে ফেলতে। ভালো মেয়ে হতে হলে কৌমার্য, সতীত্ব, মাতৃত্ব ইত্যাদি বজায় রাখতে হয়Ñ পুরনো এই ধারণাটির গায়েও কুড়োল বসিয়েছিল। রীতিমত বিয়ে করাই বন্ধ করে দিয়েছিল সেদিনকার হিপ্পিরা। তাদের অনেকে এক বাড়িতে বাস করত, সবার সঙ্গে সবারই সেক্স হতো, বাচ্চাকাচ্চা হলে সবাই মিলে দেখাশোনা করত। কিন্তু সেই ‘কমিউন’ জীবন বেশি বছর টেকেনি। হিপ্পিরা জয়ী হলে আজ বিয়েটা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেত, সমাজে নয়।
মুসলিম সমাজ অনেক বেশি পারলৌকিক। পশ্চিমের মতো জীবনবাদিতা তাদের খুবই অপছন্দ। তারপরও অবাধ যৌনতা ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলছে তাদের। ইন্দোনেশিয়ার কথাই ধরা যাক। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণে এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মুখে। কারণ সেক্স ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে সহজলভ্য। ওখানে কনডমের ব্যবহার একটি বড় সমস্যা। পুরুষরা এ জিনিসটি ব্যবহার করতেই চায় না। অন্যদিকে নারীরা অসহায়। সারা ইন্দোনেশিয়ায় যৌন বাণিজ্য বিস্তার লাভ করছে। এমন কোনো বাস/ট্রেন টার্মিনাল নেই, এমন কোনো বাজার নেই, যার পাশে কোনো পতিতালয় নেই। এরপর ইরানের দিকে চোখ ফেরানো যাক। সম্প্রতি ৮২ পাতার এই ডকুমেন্টরি ইস্যু করেছে ইরানের পার্লামেন্টারি রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট। তাতে বলা হয়, সদ্য প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরাই যে শুধু যৌনতায় আসক্ত তা নয়, অবিবাহিত ৮০ শতাংশ ইরানি নারীর প্রেমিক রয়েছে। এদের মধ্যে স্কুল পড়ুয়ারাও রয়েছেন। তরুণ-তরুণীদের এই অনৈতিক যৌনতা থেকে বের করে আনতে সরকারিভাবে ‘সিগহে’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
‘সিগহে’ শিয়া মুসলমান সংস্কৃতির এক প্রাচীন চর্চা, যার মাধ্যমে নারী-পুরুষ অস্থায়ীভাবে বিয়ে করতেন। প্রাচীন আমলের এই ‘সিগহে’ ব্যবস্থাটি আসলে এক ধরনের পতিতাবৃত্তি।
এবার আসুন আমাদের অবস্থা জানি। একটি ছেলের সঙ্গে সারা জীবন কাটিয়ে দিবÑ আমরা মানসিকভাবে এভাবেই বড় হই। বৈচিত্র না থাকায় আমরা ক্লান্ত ও মহা বিরক্ত হয়ে আমাদের ঘরে স্ত্রীর সঙ্গে সব সময়ই দাম্পত্য কলহে জড়িয়ে পড়ছি। অবস্থাটা এমনই যে ‘অসুখী’ এবং ‘বিরক্ত’ হয়ে থাকাটাই এখন আমাদের স্বামী-স্ত্রীর জন্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাম্পত্য সম্পর্কের আবেগ-অনুভূতি যখন ভোঁতা হতে শুরু করে, তখন মানসিকভাবে অসন্তুষ্ট কিছু পুরুষ ভাবতে শুরু করেন যে, এ জীবনে কোনো আনন্দ নেই। ফলে তারা সব সময়ই স্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকে। এ অবস্থায় সে গোপনে অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন। যার নাম পরকীয়া।
আমাদের অবিবাহিত যুবকদের অবস্থা আরও করুণ। যখন তাদের শরীরে যৌন হরমোন উৎপাত শুরু করে, তখন তারা যৌনতা কন্টোলের সাধনা করে পড়াশোনায় ব্যস্ত হয়ে। এর ফলে যৌন বিকারে ভোগে ভিড়ের মধ্যে যৌনতার স্বাদ খোঁজে। যখন তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করে সংসারী হয়, তখন তাদের যৌন জীবন নিম্নগামী। কিন্তু পশ্চিমে? যৌবনের পুরো সময়টাই ওরা যৌন মজা নিয়ে কাটায় আর ষাটোর্ধ বয়সে টোনাটুনির মতো পরম নির্ভরতায় সুখের সংসার করে। সঙ্গীর প্রয়োজন আসলে পৌঢ় বয়সেই বেশি হয়। দারিদ্র্যের কষ্ট, অপ্রাপ্তির কষ্টের থেকে একাকিত্বের কষ্ট কোনো অংশেই কম নয়। মজার ব্যাপার হলো পশ্চিমে বুড়ো-বুড়িরাও ডেটিং করে, আবার জোট বাঁধে। আবার জোট না বাঁধলেও শুধু বৃদ্ধ/বৃদ্ধারা একসঙ্গে ঘুরতে যায়। মিটআপ বলে কিছু ওয়েবসাইট আর স্থানীয় ক্লাব তাদের আছে। যেখানে বাসার ঠিকানা দিলে আশপাশের ক্লাব, হাইকিং গ্রুপ, চার্চ গ্রুপ এরকম বিভিন্ন সামাজিক মেলামেশার সন্ধান দেয়। একাকিত্ব দূর করার জন্য টেকনোলজির এই এক ভালো দিক।