কোন পৃষ্ঠায় কি আছে :
১। লেখকের কথা ২। ভূমিকা ৩। মহাবিশ্বের সৃষ্টি ৪। মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ ৫। মহাকাশ পরিচিতি ৬। আটটি গ্রহের পরিচয় ৭। পৃথিবীর জন্মের প্রথম অবস্থা ৮। এককোষি প্রাণী থেকে বহুকোষি প্রাণী ৯। উদ্ভিদের জন্ম ১০। মস্তিষ্ক ও শিরদাঁড়া ১১। উভচরদের জন্ম ১২। উভচর থেকে সরীসৃপ ১৩। ডাইনোসারদের যুগ ১৪। ডাইনোসরের বিবর্তিত প্রজাতি ১৫। পাখিদের পূর্বপুরুষ ১৬। স্তন্যপায়ী প্রাণী ১৭। প্রাইমেটদের কথা ১৮। বিবর্তন কি ১৯। বিবর্তনের সাক্ষ্য ২০। জিরাফের লম্বা গলা কেনো? ২১। মধ্যবর্তী ফসিল নিয়ে টানাটানি ২২। মানুষ আর শিম্পাঞ্জি ২৩। আর্ডি নিয়ে এত হৈচৈ কেনো? ২৪। আমাদের পূর্বপুরুষ ২৫। আদিম মানুষ ২৬। হোমো সেপিয়েন্স ২৭। গূহামানব ২৮। বন্য থেকে সভ্য হওয়ার স্তরগুলো ২৯। প্রস্তর যুগ ৩০। কৃষি সভ্যতা ৩১। কাজের ভাগাভাগি ৩২। নারী-প্রধান সমাজ ৩৩। সে যুগে মায়েরা বড় ৩৪। ঘর তৈরী, কাপড় বোনা ৩৫। খাদ্য-সংগ্রহ থেকে খাদ্য-উৎপাদন ৩৬। আদিম মানুষের প্রজননের রহস্য ৩৭। লৌহ যুগ ৩৮। তামা ও লোহার হাতিয়ার ৩৯। হেনরী লুইস মর্গান ৪০। মিশরীয় সভ্যতা ৪১। সুমেরীয় সভ্যতা ৪২। ব্যবিলনীয় সভ্যতা ৪৩। পারস্য সভ্যতা ৪৪। হিব্রু সভ্যতা ৪৫। ফিনিশীয় সভ্যতা ৪৬। চীনা সভ্যতা ও সিল্ক রোড ৪৭। সিন্ধু সভ্যতা ও আর্য সমাজ ৪৮। গ্রীক সভ্যতা ৪৯। প্রচীন গ্রিস ও ভাস্কযৃ শিল্প ৫০। প্রাচীন গ্রিস ও জ্ঞান চর্চা ৫১। সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টটল ৫২। রোমান সভ্যতা ৫৩। মানব সমাজের অগ্রগতি ৫৪। চিত্রলিপি ৫৫। ভাব ব্যঞ্জক লিপি ৫৬। বর্ণমালার আবিস্কার ৫৭। ব্রাহ্মীলিপি থেকে বাংলা ৫৮। পৃথিবীর নানা জায়গার আদিবাসী ৫৯। এখনো যাদের আদিম অবস্থা ৬০। এস্কিমো ৬১। নিগ্রো ৬২। মাসাই ৬৩। পিগমি ৬৪। বুশম্যান ৬৫। সাহারার তুয়ারেগ ৬৬। আরবের বেদুইন ৬৭। মধ্য এশিয়ার কিরঘিজ ৬৮। মঙ্গোল ৬৯। ল্যাপ ৭০। মালয় ৭১। ওশিয়ানিয়া মহাদেশের আদিম বাসিন্দা ৭২। নাগা ৭৩। খাসিয়া ৭৪। গারো ও চাকমা ৭৫। সাঁওতাল ৭৬। আদিম মানুষের ধর্ম ও ঈশ্বরের আইন ৭৭। ধর্মচেতনার বিকাশ ৭৮। স্রষ্টার জন্য লড়াই শুরু ৭৯। সভ্যতার বিকাশ ও ধর্ম ৮০। ইশ্বর ও ধর্ম ৮১। ধর্ম যেভাবে সৃষ্টি হয় ৮২। ব্রাহ্মণ্যবাদ ৮৩। আর্য দ্রাবিড় মিশ্র সংস্কৃতি ৮৪। বাংলার প্রাচীনতম জাতি ৮৫। তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ৮৬। লোকায়ত দর্শন ও সহজিয়া সম্প্রদায় ৮৭। বামাচার / কামাচার ৮৮। হিন্দু ধর্ম, শাক্ত ধর্ম ৮৯। বৈষ্ণব ধর্ম ৯০। শৈব ধর্ম ৯১। দ্বৈতবাদ ৯২। ব্রাহ্ম সমাজ নতুন একটি ধর্ম ৯৩। হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলী ৯৪। হিন্দুধর্মে দেব-দেবী ৯৫। বৌদ্ধ ধর্ম ৯৬। বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তি ৯৭। জৈন ধর্ম ৯৮। জরাথুস্ট্রবাদ ৯৯। ইহুদি ধর্ম ১০০। খ্রিস্টান ধর্ম ১০১। ইসলাম ধর্ম ১০২। উত্তাল গৃহযুদ্ধে মুসলিমরা ১০৩। যেভাবে ইসলামের স্বর্ণযুগ শুরু হয় ১০৪। ইসলামের স্বর্ণযুগ. ছয় শতাব্দী জুড়ে ১০৫। অটোমান সাম্রাজ্য ১০৬। ভাররবর্ষে ইসলামী শাসন, অশোক ও আকবর ১০৭। রাজা গোবিন্দ ও হযরত শাহ জালাল ও ইবনে বতুতা ১০৮। বাঙালিরা যেভাবে মুসলমান হল! ১০৯। চিতোরের রানা প্রতাপ ১১০। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ শাসন ১১১। টিপু সুলতান ১১২। স্তনকর ১১৩। তেভাগা আন্দোলন ১১৪। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার জমিদার ১১৫। মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়া ১১৬। দূর্গা পুজায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ১১৭। কারা বাংলাকে দ্বিখন্ডিত করলো, দুই বাংলার পার্থক্য ১১৮। যেভাবে পাকিস্তান ধারণার জন্ম নিল- ১১৯। যেভাবে ভারত ভাগ হলো ১২০। পাকিস্তানে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ১২১। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ১২২। শিয়া মতবাদ ১২৩। আহমদীয়া সম্প্রদায় ১২৪। ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ১২৫। সুফীবাদ ১২৬। বিশুদ্ধ ইসলাম মতবাদ ১২৭। সালাফি মতবাদ ওহাবীবাদ ১২৮। মুতাজিলা মতবাদ ১২৯। দ্রুজ ধর্ম-২৬৫১৩০। ইয়াজিদি ধর্ম ১৩১। লৌকিক দর্শন ১৩২। আধ্যাত্মবাদ ১৩৩। সাবমিশন ইসলাম ১৩৪। বাহাই ধর্ম ১৩৫। আলাওয়িবাদ ১৩৬। জায়েদিবাদ ১৩৭। কাদারবাদ ১৩৮। মায়াবাদ ১৩৯। বাউল দর্শন-২৮০ ১৪০। শিখ ধর্ম ১৪১। তাও ধর্ম ১৪২। কনফুসীয় ধর্ম ১৪৩। কাও দাই ধর্ম ১৪৪। শিন্তৌ ধর্ম ১৪৫। পুঁজিবাদ ১৪৬। মৌলবাদ ১৪৭। প্রগতিবাদ ১৪৮। মানবতাবাদ ১৪৯। অজ্ঞেয়বাদ ১৫০। বিবর্তনবাদ ১৫১। নাস্তিক্যবাদ ১৫২। চার্বাক দর্শন ১৫৩। কমিউনিজম ১৫৪। নগ্নতাবাদ ১৫৫। নারীবাদ ১৫৬। নারী নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ১৫৭। নারী পুরুষের যৌনতার পার্থক্য ১৫৮। নারীর পোশাক ১৫৯। নারী নির্যাতন ১৬০। পারফেক্ট হওয়ার চাপে নারীরা ১৬১। বিবর্তনে মূল্য দিতে হয়েছে নারীকেই ১৬২। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি ১৬৩। নারী-পুরুষের বহুগামিতা ১৬৪। বাংলা সংস্কৃতির পোষাক ১৬৫। রোহিঙ্গা ও আরকাম রাজ্য ১৬৬। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ১৬৭। কৌম সমাজ ১৬৮। কিছু মাতৃপ্রধান সমাজের পরিচিতি ১৬৯। বিটগেনস্টাইন-এর যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ ১৭০। ফুকোর প্রেম ও যৌনতার ডিসকোর্স ১৭১। বৈশিক কলা ১৭২। অর্থ জমানোর প্রতিযোগিতা ১৭৩। বুদ্ধিমান রোবট সাইবোর্গ ১৭৪। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ১৭৫। কার্বন ন্যানোটিউব ১৭৬। অমরত্বের খোঁজে ১৭৭। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ১৭৮। মস্তিষ্কের ডাটা ট্রান্সপার ১৭৯। ডিএনএ এবং জিন প্রযুক্তি ১৮০। এ আই প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের হাইব্রিড মানুষ? ১৮১। আমাদের সমাজ ও মিডিয়া
গ্রীক সভ্যতা:
মানব সভ্যতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অতীতের জন্য ঈর্ষণীয় গৌরবের অধিকারী গ্রীকরা। এদেশে জন্ম নিয়েছেন মহাকবি হোমার, এখানেই ভূমিষ্ঠ হয়েছন জ্ঞানতাপস সক্রেটিস, স্থাপত্য- ভাস্কর্যের অবিস্মরনীয় দিকপাল ইকটিনাস ও ফিডিয়াস, রাজনীতি মঞ্চের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌশলী থেমিস, টকলস, এরিস্টাইডিস ও পেরিক্লিস, সাহিত্যের অনির্বাণ জ্যোতিষ্ক সফোক্লিস, এরিস্টোফেলেস, ইউর্পিাইডিস প্রমুখ, দর্শনের শিখাগ্নি প্লেটো ও এরিস্টটল ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস, থুকিডিডিস প্রমুখ। সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটলের চিন্তাধারা পাশ্চাত্য দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে। কি পদার্থ বিদ্যা, কি ভূগোল সর্বত্র গ্রীসের উর্বর মননের ছাপ সু¯পষ্ট।
প্রাচীন গ্রীস কোনো অখন্ড রাষ্ট্র ছিল না। এটা ছিল মূলত অসংখ্য নগর রাষ্ট্রের সমষ্টি। নদীনালা গ্রীসে নেই বললেই চলে। শত শত দ্বীপে গ্রীসবেষ্টিত। নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সর্বপ্রধান দুটি হচ্ছে ¯পার্টা এবং এথেন্স । এথেন্স ছিল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং উন্নত সংস্কৃতির অধিকারী, আর ¯পার্টা ছিল অভিজাততান্ত্রিক, রক্ষণশীল, পশ্চাৎমুখী এবং অনুন্নত সংস্কৃতির অধিকারী। ফলে এ দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে পর¯পরের প্রতি মনোভাব ছিল খুবই বিদ্বেষমূলক। ¯পার্টা ছিল একটি পশ্চাৎপদ নগর রাষ্ট্র। ¯পার্টানদের আগমন ঘটেছিল আক্রমণকারী হিসেবে। স্থানীয় একিয়ান (মাইসিনীয়) অধিবাসীদের চূড়ান্তভাবে পরাস্থ করতে তাদের কয়েকশত বছর যুদ্ধ করতে হয়েছিল, ততদিনে সামরিক অভ্যাস তাদের এমন মজ্জাগত হয়েছিল যে, পরবর্তী সময়ে তা আর তাদের পক্ষে পরিত্যাগ করা সম্ভব হয়নি। ¯পার্টানদের জীবনের সমস্ত দিক তাদের সামরিক প্রয়োজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো।
সারা ¯পার্টা যেন ছিল যুদ্ধের বিরাট এক ক্যা¤প। এজন্য প্রতিটি ¯পার্টানকে প্রথমে সৈনিক জীবনযাপনে বাধ্য ছিল। প্রত্যেক নবজাতক ছেলে শিশুকে একটি সংস্থার নিকট হাজির করা হতো। শিশুটি স্বাস্থ্যবান এবং রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি বলে বিবেচিত হলেই কেবল তাকে লালনপালন করার অনুমতি দেওয়া হতো। দুর্বল শিশুকে পাহাড়ের গুহায় ফেলে আসা হতো। সে ওখানেই মারা যত । সাত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা পরিবারের সাথে থাকার সুযোগ পেত। তারপর তাকে রাষ্ট্রের হাতে সমর্পণ করা হতো। সে তখন অন্যান্যের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যারাকে জীবনযাপন করতো। রাষ্ট্রের একমাত্র লক্ষ্য ছিল অপরাজেয় যোদ্ধা তৈরি করা। ¯পার্টার মেয়েরাও কঠোর দৈহিক প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য ছিল। তারা ব্যায়ামাগারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতো। বিশ বছর বয়সের পর তারা বিয়ের অনুমতি পেত। যখন কোন ¯পার্টান মা তার ছেলেকে যুদ্ধের শিল্ড বা ঢাল দিতেন তখন তিনি বলতেন, “এই ঢালসহ অথবা এর ওপর চড়ে তুমি ফিরে এসো”। এই ঢাল এত বড় হতো যে, কোন সন্তানই তা ফেলে রেখে পালাতে পারত না।
অন্যদিকে ‘এথেন্স’ নগর রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল গ্রীসের এটিকা নামক স্থানে এক পার্বত্য এবং অনুর্বর ভূমিতে। ফলে এখানে কোনো যুদ্ধবাজ শাসক গোষ্ঠীর উদয় ঘটেনি। এথেন্সের নাগরিক সমাজ ছিল চার ভাগে বিভক্ত । প্রথম শ্রেণিতে ছিল ধনী অভিজাত শ্রেণির লোক। এরা পূর্ণ রাজনৈতিক ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করতো। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল কৃষক, বণিক, নাবিক, কারিগর ও ব্যবসায়ী প্রমুখ। এদের নাগরিক অধিকার ছিল কিন্তু রাজনৈতিক অধিকার ছিল না । তৃতীয় শ্রেণিতে ছিল অন্য দেশ হতে আগত জনগণ। এদের কোন রাজনৈতিক বা নাগরিক অধিকার ছিল না। এরা সাধারণত শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়ে নিয়োজিত থাকত। চতুর্থ শ্রেণিতে ছিল দাস। এথেন্সে বহুসংখ্যক দাস ছিল। এরা মনিবের স¤পত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। কৃষিজ স¤পদের মধ্যে ছিল জলপাই ও আক্সগুরের বাগান। এথেন্সে তাই শিল্প-বাণিজ্য এবং নাগরিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে এথেন্স বাইরে থেকে খাদ্য শস্য আমদানি করতে বাধ্য হয়।
পৃথিবীর গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার ইতিহাসে প্রাচীন এথেন্সের গণতন্ত্রের বিকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অবিস্মরণীয় এক অধ্যায় । সোলন, ক্লিসথিনিস, পেরিক্লিস প্রমুখ ছিলেন গ্রীসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অগ্রনায়ক। তবে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিল পেরিক্লিসের আমলে (৪৬১-৪২৯ খ্রিঃপূঃ) ।
ক্লিসথেনিস ছিলেন খুবই জনপ্রিয় গণতন্ত্রমনা এক শাসক । পেরিক্লিসের সময় (৪৬১-৪২৯ খ্রিঃপূঃ) এথেন্স ক্ষমতা ও সমৃদ্ধির উচ্চ শিখরে আরোহন করে এবং গণতন্ত্রের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে। উল্লেখ্য ইতোপূর্বে গ্রীক পারসিক যুদ্ধ চলাকালে ডেলিয়ান লীগ নামে এথেন্সের নেতৃত্বে যে নৌ জোট গঠিত হয়েছিল তাই কালক্রমে এথেনীয় সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। নৌবহরের এই বিকাশ এথেন্সের গণতন্ত্র বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখে। ৫৪৬ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে পারস্য সম্রাট সাইরাস লিডিয়া রাজ্য জয় করেন। এর অল্প কিছুদিন পরে তিনি এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গ্রীসের মূল ভূখণ্ডের নগরসমূহ করায়ত্ব করতে উদ্যোগী হন। এথেন্সের সৈন্যদল তাদের বাধা দিয়ে ম্যারাথন নগরের কাছে পরাস্ত করে। কিন্তু তারা গ্রীসের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এ অবস্থায় ¯পার্টারের নেতৃত্বে গ্রিক নগর রাষ্ট্রসমূহের একটা প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হয়। তখন এথেন্সের উদীয়মান নেতা ও সেনানায়ক থেমিষ্টোক্লিস এথেনীয় নৌবাহিনী গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। সালামিসের যুদ্ধে পারসিকরা গ্রীকদের হাতে শোচনীয় পরাজয় বরণ করে (৪৭৯ খৃঃপূঃ)। ঈজিয়ান সাগরে পারসিক যুদ্ধ জাহাজের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় ।
নৌযুদ্ধে এথেন্সের নৌবহর ছিল সবচেয়ে বড়। ফলে গ্রীক রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে এথেন্স এক উচু স্থান অধিকার করে। গ্রীক-পারসিক যুদ্ধ চলাকালেই এথেন্সের নেতৃত্বে যে নৌশক্তির জোট গঠিত হয় তারই নাম ছিল ডেলিয়ান লীগ। আড়াই শতাধিক গ্রীক নগর রাষ্ট্র এ জোটে যোগ দিয়েছিল।
ডেলিয়ান লীগ কালক্রমে এথেনীয় সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। এথেনীয় সাম্রাজ্যের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক ছিলেন পেরিক্লিস। এথেন্সের স্বর্ণযুগের সূচনা তারই শাসনামলে। তার শাসনামলে তথা খ্রিস্ট পূর্ব পাঁচ শতকে শিক্ষা, দীক্ষা, রাজনীতি, শিল্পকলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও দর্শন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে এথেনীয়রা চরম উন্নতি সাধন করে। পেরিক্লিসের নেতৃত্বেই আইন ব্যবস্থার পূর্ণ বিকাশ ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র । এথেনীয়দের জীবনযাত্রায় অহেতুক আমোদ প্রমোদের প্রবণতা দেখা যায় না। তারা বিলাসী ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের পক্ষপাতী ছিল না। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল পারিবারিক শান্তি ও নিরাপত্তা। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভব ও বিকাশ নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে গ্রীক দার্শনিকগণ বিশ্বকে একটি সমৃদ্ধ দর্শন উপহার দেন।
দার্শনিক থেলিস সর্বপ্রথম(৫৮৫ খ্রীঃপূর্বঃ ) সূর্যগ্রহণ স¤পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, মানুষের পাপের কারণে সূর্য গ্রহণ হয় বলে ধারণা প্রচলিত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক কারণেই সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়ে থাকে। থেলিস ছিলেন প্রাক সক্রেটিস যুগের প্রধান দার্শনিক। থেলিসের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যান তারই শিষ্য অ্যানাক্সিমানদার । মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ স¤পর্কিত চিন্তার ক্ষেত্রে গ্রীসে একশ্রেণির যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে, যারা সফিস্ট নামে পরিচিত। সফিস্ট চিন্তাবিদগণ ছিলেন যে কোনো বক্তব্য প্রমাণ সাপেক্ষে গ্রহণের পক্ষে। এভাবে তারা চিন্তা চর্চার ক্ষেত্রে গ্রীসে এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবর্তন করেছিলেন।
সক্রেটিস ছিলেন সফিস্ট চিন্তার অনুসারী। ৪৬৯ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে তার জন্ম। প্রশ্নের পর প্রশ্ন তুলে ভাল মন্দ অথবা ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদি বিষয়ে জানা ও বোঝার চেষ্টা করাই ছিল সক্রেটিসের শিক্ষার প্রকৃত পদ্ধতি। প্লেটো ছিলেন সক্রেটিসের ছাত্র। বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক পেরিক্লিসের মৃত্যুর প্রায় দুই বৎসর পর প্লেটো জন্মগ্রহণ করেন। প্লেটোর জীবনের একটি মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সক্রেটিসের আদর্শকে যথার্থ বলে প্রমাণ করা। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন রাজনীতিতে সক্রেটিসের মত জ্ঞানী ব্যক্তিদের প্রয়োজন সবচাইতে বেশি। প্লেটোর তার আদর্শ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকেই বুঝিয়েছেন যে রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনায় জ্ঞান প্রাধান্য লাভ করে। এরিস্টোটল ছিলেন প্লেটোর ছাত্র। কিন্তু চিন্তা চেতনায় তিনি প্লেটোকেও ছাড়িয়ে যান। দি পলিটিক্স নামক পুস্তকে আদর্শ নগর রাষ্ট্র সম্বন্ধে লিখতে যেয়ে তিনি প্লেটোকে অনুসরণ করলেও প্লেটো অপেক্ষা তিনি অধিকতর বাস্তবধর্মী প্রশ্ন তুলে ধরেন এবং এ গুলোর উপর আলোচনা করেন।