কোন পৃষ্ঠায় কি আছে :
১। লেখকের কথা ২। ভূমিকা ৩। মহাবিশ্বের সৃষ্টি ৪। মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ ৫। মহাকাশ পরিচিতি ৬। আটটি গ্রহের পরিচয় ৭। পৃথিবীর জন্মের প্রথম অবস্থা ৮। এককোষি প্রাণী থেকে বহুকোষি প্রাণী ৯। উদ্ভিদের জন্ম ১০। মস্তিষ্ক ও শিরদাঁড়া ১১। উভচরদের জন্ম ১২। উভচর থেকে সরীসৃপ ১৩। ডাইনোসারদের যুগ ১৪। ডাইনোসরের বিবর্তিত প্রজাতি ১৫। পাখিদের পূর্বপুরুষ ১৬। স্তন্যপায়ী প্রাণী ১৭। প্রাইমেটদের কথা ১৮। বিবর্তন কি ১৯। বিবর্তনের সাক্ষ্য ২০। জিরাফের লম্বা গলা কেনো? ২১। মধ্যবর্তী ফসিল নিয়ে টানাটানি ২২। মানুষ আর শিম্পাঞ্জি ২৩। আর্ডি নিয়ে এত হৈচৈ কেনো? ২৪। আমাদের পূর্বপুরুষ ২৫। আদিম মানুষ ২৬। হোমো সেপিয়েন্স ২৭। গূহামানব ২৮। বন্য থেকে সভ্য হওয়ার স্তরগুলো ২৯। প্রস্তর যুগ ৩০। কৃষি সভ্যতা ৩১। কাজের ভাগাভাগি ৩২। নারী-প্রধান সমাজ ৩৩। সে যুগে মায়েরা বড় ৩৪। ঘর তৈরী, কাপড় বোনা ৩৫। খাদ্য-সংগ্রহ থেকে খাদ্য-উৎপাদন ৩৬। আদিম মানুষের প্রজননের রহস্য ৩৭। লৌহ যুগ ৩৮। তামা ও লোহার হাতিয়ার ৩৯। হেনরী লুইস মর্গান ৪০। মিশরীয় সভ্যতা ৪১। সুমেরীয় সভ্যতা ৪২। ব্যবিলনীয় সভ্যতা ৪৩। পারস্য সভ্যতা ৪৪। হিব্রু সভ্যতা ৪৫। ফিনিশীয় সভ্যতা ৪৬। চীনা সভ্যতা ও সিল্ক রোড ৪৭। সিন্ধু সভ্যতা ও আর্য সমাজ ৪৮। গ্রীক সভ্যতা ৪৯। প্রচীন গ্রিস ও ভাস্কযৃ শিল্প ৫০। প্রাচীন গ্রিস ও জ্ঞান চর্চা ৫১। সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টটল ৫২। রোমান সভ্যতা ৫৩। মানব সমাজের অগ্রগতি ৫৪। চিত্রলিপি ৫৫। ভাব ব্যঞ্জক লিপি ৫৬। বর্ণমালার আবিস্কার ৫৭। ব্রাহ্মীলিপি থেকে বাংলা ৫৮। পৃথিবীর নানা জায়গার আদিবাসী ৫৯। এখনো যাদের আদিম অবস্থা ৬০। এস্কিমো ৬১। নিগ্রো ৬২। মাসাই ৬৩। পিগমি ৬৪। বুশম্যান ৬৫। সাহারার তুয়ারেগ ৬৬। আরবের বেদুইন ৬৭। মধ্য এশিয়ার কিরঘিজ ৬৮। মঙ্গোল ৬৯। ল্যাপ ৭০। মালয় ৭১। ওশিয়ানিয়া মহাদেশের আদিম বাসিন্দা ৭২। নাগা ৭৩। খাসিয়া ৭৪। গারো ও চাকমা ৭৫। সাঁওতাল ৭৬। আদিম মানুষের ধর্ম ও ঈশ্বরের আইন ৭৭। ধর্মচেতনার বিকাশ ৭৮। স্রষ্টার জন্য লড়াই শুরু ৭৯। সভ্যতার বিকাশ ও ধর্ম ৮০। ইশ্বর ও ধর্ম ৮১। ধর্ম যেভাবে সৃষ্টি হয় ৮২। ব্রাহ্মণ্যবাদ ৮৩। আর্য দ্রাবিড় মিশ্র সংস্কৃতি ৮৪। বাংলার প্রাচীনতম জাতি ৮৫। তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ৮৬। লোকায়ত দর্শন ও সহজিয়া সম্প্রদায় ৮৭। বামাচার / কামাচার ৮৮। হিন্দু ধর্ম, শাক্ত ধর্ম ৮৯। বৈষ্ণব ধর্ম ৯০। শৈব ধর্ম ৯১। দ্বৈতবাদ ৯২। ব্রাহ্ম সমাজ নতুন একটি ধর্ম ৯৩। হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলী ৯৪। হিন্দুধর্মে দেব-দেবী ৯৫। বৌদ্ধ ধর্ম ৯৬। বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তি ৯৭। জৈন ধর্ম ৯৮। জরাথুস্ট্রবাদ ৯৯। ইহুদি ধর্ম ১০০। খ্রিস্টান ধর্ম ১০১। ইসলাম ধর্ম ১০২। উত্তাল গৃহযুদ্ধে মুসলিমরা ১০৩। যেভাবে ইসলামের স্বর্ণযুগ শুরু হয় ১০৪। ইসলামের স্বর্ণযুগ. ছয় শতাব্দী জুড়ে ১০৫। অটোমান সাম্রাজ্য ১০৬। ভাররবর্ষে ইসলামী শাসন, অশোক ও আকবর ১০৭। রাজা গোবিন্দ ও হযরত শাহ জালাল ও ইবনে বতুতা ১০৮। বাঙালিরা যেভাবে মুসলমান হল! ১০৯। চিতোরের রানা প্রতাপ ১১০। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ শাসন ১১১। টিপু সুলতান ১১২। স্তনকর ১১৩। তেভাগা আন্দোলন ১১৪। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার জমিদার ১১৫। মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়া ১১৬। দূর্গা পুজায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ১১৭। কারা বাংলাকে দ্বিখন্ডিত করলো, দুই বাংলার পার্থক্য ১১৮। যেভাবে পাকিস্তান ধারণার জন্ম নিল- ১১৯। যেভাবে ভারত ভাগ হলো ১২০। পাকিস্তানে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ১২১। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ১২২। শিয়া মতবাদ ১২৩। আহমদীয়া সম্প্রদায় ১২৪। ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ১২৫। সুফীবাদ ১২৬। বিশুদ্ধ ইসলাম মতবাদ ১২৭। সালাফি মতবাদ ওহাবীবাদ ১২৮। মুতাজিলা মতবাদ ১২৯। দ্রুজ ধর্ম-২৬৫১৩০। ইয়াজিদি ধর্ম ১৩১। লৌকিক দর্শন ১৩২। আধ্যাত্মবাদ ১৩৩। সাবমিশন ইসলাম ১৩৪। বাহাই ধর্ম ১৩৫। আলাওয়িবাদ ১৩৬। জায়েদিবাদ ১৩৭। কাদারবাদ ১৩৮। মায়াবাদ ১৩৯। বাউল দর্শন-২৮০ ১৪০। শিখ ধর্ম ১৪১। তাও ধর্ম ১৪২। কনফুসীয় ধর্ম ১৪৩। কাও দাই ধর্ম ১৪৪। শিন্তৌ ধর্ম ১৪৫। পুঁজিবাদ ১৪৬। মৌলবাদ ১৪৭। প্রগতিবাদ ১৪৮। মানবতাবাদ ১৪৯। অজ্ঞেয়বাদ ১৫০। বিবর্তনবাদ ১৫১। নাস্তিক্যবাদ ১৫২। চার্বাক দর্শন ১৫৩। কমিউনিজম ১৫৪। নগ্নতাবাদ ১৫৫। নারীবাদ ১৫৬। নারী নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ১৫৭। নারী পুরুষের যৌনতার পার্থক্য ১৫৮। নারীর পোশাক ১৫৯। নারী নির্যাতন ১৬০। পারফেক্ট হওয়ার চাপে নারীরা ১৬১। বিবর্তনে মূল্য দিতে হয়েছে নারীকেই ১৬২। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি ১৬৩। নারী-পুরুষের বহুগামিতা ১৬৪। বাংলা সংস্কৃতির পোষাক ১৬৫। রোহিঙ্গা ও আরকাম রাজ্য ১৬৬। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ১৬৭। কৌম সমাজ ১৬৮। কিছু মাতৃপ্রধান সমাজের পরিচিতি ১৬৯। বিটগেনস্টাইন-এর যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ ১৭০। ফুকোর প্রেম ও যৌনতার ডিসকোর্স ১৭১। বৈশিক কলা ১৭২। অর্থ জমানোর প্রতিযোগিতা ১৭৩। বুদ্ধিমান রোবট সাইবোর্গ ১৭৪। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ১৭৫। কার্বন ন্যানোটিউব ১৭৬। অমরত্বের খোঁজে ১৭৭। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ১৭৮। মস্তিষ্কের ডাটা ট্রান্সপার ১৭৯। ডিএনএ এবং জিন প্রযুক্তি ১৮০। এ আই প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের হাইব্রিড মানুষ? ১৮১। আমাদের সমাজ ও মিডিয়া
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব
বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিল্পবিপ্লবের ফলে। বর্তমান বিশ্বও টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট তিনটি শিল্পবিপ্লব ঘটেছে। প্রথম শিল্পবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল ১৭৮৪ সালে পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মাধ্যমে। এতে এক ধাপে অনেকদূর এগিয়ে যায় বিশ্ব। এরপর দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব শুরু হয় ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে। এতে শারীরিক পরিশ্রমের জায়গা দখল করে নেয় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি। দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট। শুরু হয় তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। ইন্টারনেটের আবির্ভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময় শুরু হলে সারা বিশ্বের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বর্তমান স্মার্টফোন হচ্ছে এই বিপ্লবের শেষ অবদান। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব হচ্ছে যন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ বিপ্লবের ফলে নানামুখী সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। যেমন-রোবটিক্স্, ব্লকচেইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, হেলথ ও নিউরোসায়েন্সের অ্যাডভান্স গবেষণা ইত্যাদি।
ইতিমধ্যে এই শিল্প বিপ্লবের আউটপুট শুরু হয়ে গেছে যেমন-আমেরিকার এরিজোনা অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্প হিসেবে ড্রাইভার বিহীন হাজার হাজার গাড়ি রাস্তায় নামানো হয়েছে। এতে ওই অঙ্গরাজ্যের পেশাদার ড্রাইভাররা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের ধর্মঘট ইতিমধ্যে বিশ্ববাসী দেখেছে। হয়তো অচিরেই পুরো আমেরিকাসহ সারা বিশ্ব থেকে এই ড্রাইভিং পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এর উপকারী দিক হলো এইসব গাড়ির চারিদিকে বিপরীতমুখী চুম্বকী ক্ষমতা ও সেন্সর থাকার কারণে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে থাকবে অন্য গাড়ি, ফলে এক্সিডেন্ট করার ঝুঁকি থাকছে না এবং গাড়ির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই শর্টকাট রাস্তা খুঁজে বের করে। এরকম আরেকটি হলো দিক হল রোবটিক শিল্প।,গত ২৮এপ্রিল অর্থাৎ এক সপ্তাহ আগে চিনের বেইজিংয়ে উন্মোচিত হলো বিশেষ রোবট থিয়ানকং। এই রোবট গৎবাঁধা কোনো কাজ নয়, গ্রাহকের চাহিদামতো যেকোনো কাজ করতে পারে। যেমন—বাড়ির কাজ, শিল্প কারখানার কাজ। অর্থাৎ ছোট-বড় সকল কাজ করতে পারে এই যান্ত্রিক রোবট, এমনকি এটি সেকেন্ডে ৫৫০ ট্রিলিয়ন গাণিতিক হিসাব করতে পারে। ভাবা যায়? এর ফলে সকল হিসাব পত্র বা অ্যাকাউন্টিং পেশাও বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। সবচেয়ে যেটা ভয়াবহ ব্যাপার সেটা হচ্ছে, কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে মানুষের ন্যূনতম সংস্পর্শ ছাড়াই অটোমেটিক পদ্ধতিতে।
আপনারা অনেকেই ইতিমধ্যে ঢাকায় এক্সপ্রোতে দেখেছেন গার্মেন্টস অটোমেশন মেশিন। চীন ও জাপানের যৌথভাবে তৈরি এই মেশিনের মাধ্যমে ১০০% নিখুঁতভাবে গার্মেন্টসের পোশাক তৈরি সম্ভব করছে হাজার হাজার শ্রমিকের কাজ একটি মাত্র মেশিন দিয়েই। আমাদের জন্য আরও ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, ইতিমধ্যে আফ্রিকায় বিভিন্ন গার্মেন্টস প্রকল্প হাতে নিয়েছে চীন, যাতে করে এই মেশিনের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপ আমেরিকায় পাঠানোর খরচ কমে যায়। অর্থাৎ আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে দুর্যোগ চলে আসছে অতি শীঘ্রই। এমনিভাবে ধেয়ে আসছে ব্লকচেইন প্রযুক্তি। ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করে সমস্ত হিসাব নিকাশ লেনদেন নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে, এই পদ্ধতিতে যেকোন লেনদেন হাজার হাজার ক্লাউড কম্পিউটারে একত্রে সংরক্ষিত হচ্ছে। ফলে কেউ সেখানে এডিটিং করলে ধরা পড়ে যাচ্ছে, বলা হচ্ছে ব্লকচেইন প্রযুক্তির কারণে ট্রেআগামী বিশ্ব দুর্নীতিমুক্ত ও অবৈধ লেনদেন মুক্ত হতে বাধ্য হবে।
এসকল বিষয় ১/২ বছরের মধ্যে না হলেও খুব শীঘ্রই আমরা এ নতুনত্বের স্বাদ পেতে যাচ্ছি। প্রশাসন, আইন, চিকিৎসা, নির্মাণ শ্রমিক, এমনকি যুদ্ধের সৈনিকসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে। অর্থাৎ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দৃশ্যমান প্রধান সমস্যা হয়ে যাবে নির্বিচারে চাকরি হারানো। আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% কাজ মানুষের শ্রম বাদ দিয়ে যন্ত্রের মাধ্যমে অটোমেটেড হয়ে যাবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব-এ ধীরে ধীরে মানুষের সকল পরিধেয়- থেকে শুরু করে ঘরে-বাইরে ব্যবহৃত নানা আসবাবপত্র ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত সেন্সরের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে চশমা, ঘড়িসহ ইত্যাদি সংযুক্ত হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে দুবাইসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের পুলিশেরা google চশমা ব্যবহার করে অপরাধী সনাক্ত করছে। অর্থাৎ মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনধারণের পদ্ধতিকেই আমূল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। আর এ পরিবর্তন হবে পৃথিবীর জন্য এক মহান সম্ভাবনার অথবা এক সম্ভাব্য দুর্যোগের। কারণ সময়টি এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের হলেও পৃথিবীর প্রায় ১৭% মানুষ এখনো দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের নাগাল পায়নি এবং ৪০০ কোটি মানুষ তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সুবিধা ভোগ করতে পারেনি। এসময় প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- সারা পৃথিবী কি একসাথে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা তুলে নিয়ে আসতে পারবে? নাকি আগের শিল্প বিপ্লবগুলোর সুবিধাগুলো যেমনটি গ্রহণ করতে পেরেছিল গুটিকয়েক শিল্পোন্নত দেশগুলো, পিছিয়ে পড়েছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো - একই সমস্যা দাঁড়াবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্রেও? ধনী-গরিবের ব্যবধান আরো বাড়বে, নাকী কমবে? এটা নির্ভর করবে দেশগুলোর প্রস্তুতির উপর। এই শিল্প বিপ্লবের জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত? চলুন দেখি-
বর্তমানে বাংলাদেশ দুটি সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত, তৃতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে কানেক্টিভিটির কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৬৪টি জেলার ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন পরিষদের সবক’টিই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারের প্রধান সেবাগুলো, বিশেষ করে ভূমি নামজারি, জন্মনিবন্ধন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা চাকরিতে আবেদন ইত্যাদি কাজ করা হচ্ছে।দেশে অনেকগুলো হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের হাইটেক পার্কগুলো হবে আগামীর সিলিকন ভ্যালি। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সব ধরনের কাজ সম্পাদন করা, ও আইটিকে ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে হাইটেক পার্কের প্রধান কাজ।
এছাড়া দেশের তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল শিক্ষায় দক্ষ করে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকারের আইসিটি বিভাগ, যার মধ্যে রয়েছে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প। হয়তো শিগগিরই দেশব্যাপী চালু করবে এ কার্যক্রম। শি পাওয়ার’ বা ‘প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন’ নামে এ প্রকল্প নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশকে শিল্পায়িত সমাজ, নাকি কৃষিভিত্তিক সমাজ, নাকি অনেক কিছুর মিশ্র সমাজ বলা হবে- তা নিয়ে তর্ক আছে। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের অনেক দেশই পুরো শিল্পায়িত বা পুরো কৃষিভিত্তিক রূপ পায়নি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশকেই বলা চলে ‘ট্রানজিশন্যাল সোসাইটি’। অতীতের শিল্প বিপ্লবগুলো প্রধানত ইউরোপ ও পরবর্তীতে আমেরিকা-কেন্দ্রিক হলেও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পরিধি সারা দুনিয়া। কারণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মূলত প্রযুক্তির বিপ্লব, যা অতীতের শিল্প বিপ্লগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল, সম্প্রসারিত ও দ্রুতগামী। ফলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পৃথিবীর মানুষকে এক লাফেই শতশত বছর সামনে নিয়ে যাবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পৃথিবীকে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বগ্রামে পরিণত করবে। যোগাযোগব্যবস্থা হবে অভাবনীয় উন্নত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হবে পাড়ার দোকানে কেনাবেচার মতোই সহজ। মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব হবে সমস্যা-নির্ণয়, সমস্যার-সমাধান।
নানা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণে, জাপান ছাড়া এশিয়ার প্রায় সব দেশেই শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পশ্চিমা দুনিয়ার তুলনায় বিলম্বে এসেছে। তা সত্ত্বেও চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান, ইরান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া প্রভৃতি এশীয় দেশে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের শেষের দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানকে বলা হচ্ছে ‘এশিয়ান জায়ান্ট’ আর চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং প্রভৃতি দেশকে ‘এশিয়ান টাইগারর্স’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে, যারা চলমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনাস্বরূপ। এই বিপ্লবে যে প্রযুক্তিগত প্লাবন সূচিত হবে, তাকে কার্যকর করবে প্রযুক্তিগত দক্ষ মানবসম্পদ।
বলাবাহুল্য, অতীতের শিল্প বিপ্লবের একচেটিয়া সুবিধা পেয়েছে গুটিকয়েক শিল্পোন্নত দেশ আর পিছিয়ে পড়েছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। বিশ্বে তৈরি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আইওটি,ব্লকচেইন ও রোবটিক্স হয়েছিল সম্পদের ভারসাম্যহীনতা। তাই স্বাভাবিকভাবে এই সন্দেহ সৃষ্টি হতেই পারে যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রেও তেমন ভারসাম্যহীনতা দেখা দেবে? নাকি অতীতের সমস্যাগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রেও? ক্রমশ প্রশস্ত হওয়া ধনী-গরিবের ব্যবধান, শক্তিশালী ও দুর্বলের ব্যবধান বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্তরে আরও বেশি প্রসারিত ও ঘনীভূত হবে কি?
ইত্যাদির ব্যবহার করতে দ্রুত কৌশলগত পরিকল্পনা করতে হবে। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য হতে হবে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী সুদক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, আর এজন্য প্রয়োজন হবে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৬ লাখ যা মোট জনসংখ্যার ৩০%। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আগামী ৩০ বছর জুড়ে তরুণ বা উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। বাংলাদেশের জন্য ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগ করার এটাই সব থেকে বড় হাতিয়ার। জ্ঞানভিত্তিক এই শিল্প বিপ্লবে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে দক্ষ মানবসম্পদই হবে বেশি মূল্যবান। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বিপুল পরিমাণ মানুষ চাকরি হারালেও এর বিপরীতে সৃষ্টি হবে নতুন ধারার নানাবিধ কর্মক্ষেত্র। এই কর্মক্ষেত্র দখলের লড়াইয়ে যাতে আমাদের তরুণেরা টিকে থাকতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় আরো পদক্ষেপ নিতে হবে। ফিলিপাইনের মত দেশের সকল তরুণদেরকে আইটি সেক্টরের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিয়ে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলে তারপর বিদেশে পাঠাতে হবে। করোনার পর ভারত প্রায় ৬৩ হাজার প্রশিক্ষিত কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে এইচ-১ ভিসার মাধ্যমে। ফিলিপাইন প্রায় 29 হাজার মহিলা কর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে কানাডা পাঠিয়েছে গৃহ ব্যবস্থাপনা, নার্সিং ইত্যাদি পেশায়, অথচ আমরা অদক্ষ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্ছে পাঠাচ্ছি, যাদের আয় আমাদের প্রায় কাছাকাছি। এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আমাদের দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি প্রধানতঃ তিনটি শ্রেণীর পেশাজীবিদের কঠোর পরিশ্রমের ভিতের উপর দাড়িয়ে আছে। এরা হলো গার্মেন্টসের শ্রমিকরা- যাদের অধিকাংশই নারী – যারা আর্থিক এবং শিক্ষাগত সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দ্বিতীয় দলে আছে নানা দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী শ্রমিকরা। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বছরগুলো তারা অধিকারহীন অভিবাসী হিসেবে পরিজন বিবর্জিত পরিবেশে অনাদর আর অবহেলায় শেষ করেন। তাদের পরিশ্রমের বিনিময়ে আজ আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ভরে উঠেছে। সব শেষের দলটি এই দেশের কৃষক, – রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে যাদের বিরামহীন খাটুনির বিনিময়ে আমাদের জাতি খাদ্যের নিশ্চয়তা পাচ্ছে। এই তিনটি অর্থনৈতিক খাত হলো একটি গাড়ির তিনটি চাকার মতো। গাড়িটি গতিশীল হতে হলে একটি চতুর্থ চাকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আজকে অর্থনীতির গাড়িতে প্রযুক্তির চতুর্থ চাকা জুড়ে দিতে হবে।
বর্তমান আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি গার্মেন্টস, বিদেশে শ্রম বাজার এবং কৃষিকাজ এই ৩টি খাত বেশিরভাগ উন্নত দেশে অটোমেশনের মাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে । সেখানে প্রযুক্তি নির্ভর, মেধা এবং প্রশিক্ষণ ভিত্তিক বেশি আয়ের কাজের পরিমান বেড়েছে। ফলে প্রতিবছর যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী যুবক বিদেশে শ্রমবিক্রি করতে যায়। ধীরে ধীরে তারা কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরত আসছে বাধ্য হবে এবং এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একবিংশ শতকে একটি দেশের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ভিত্তির উপরেই গড়া সম্ভব হতে পারে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের একটি বড় ভয়ের দিক হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনের কারণে কর্মবাজারে সাধারণ মানুষ চাকরি হারাবে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মানুষ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন , রোবট এবং এ-আই প্রযুক্তির কারণে চাকরি হারাব। এসব চাকরির বেশির ভাগই শ্রমনির্ভর। ফলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলো।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব অর্থনৈতিক বৈষম্যের পাশাপাশি জন্ম দিতে চলেছে জৈবিক বৈষম্যের। বায়ো-টেকনোলজির উন্নয়নের ফলে আমেরিকা-ইউরোপের কোনো দম্পতি তাদের পছন্দমতো অসুখ-বিসুখবিহীন, আকর্ষণীয় দৈহিক কাঠামোর সন্তান জন্ম দেওয়ার সুযোগ পাবে জিন এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে। অসুখ হলেও শিরার মধ্যে ন্যানো রবোট পাটিয়ে, ডিএনএ-নির্ভর মেডিসিন অথবা থ্রি-ডি বায়ো প্রিন্টারের মাধ্যমে লিভার, হার্ট কিংবা কিডনির মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রাপ্তির মাধ্যমে আরোগ্য লাভ এবং দীর্ঘায়ুপ্রাপ্তি সম্ভব হবে। উচ্চপর্যায়ের এসব ব্যয়বহুল প্রযুক্তি নাগালের বাইরে থাকবে অনুন্নত বিশ্বের মানুষ।
এআই, রোবোটিকস, জিন এডিটিং ইত্যাদি প্রযুক্তি উন্নত দেশগুলোর মানুষদেরকে আগামীতে ‘সুপার হিউম্যান’-এ পরিণত করবে। অপরদিকে অনুন্নত বিশ্ব, যারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে না, তাদের জীবন হবে আফ্রিকার বঞ্চিত মানুষদের মত।
দুর্নীতি, পরিকল্পনাহীনতা, প্রযুক্তির অপ্রাতুলতা, সামাজিক অস্থীরতা, স্বজনপ্রীতি আর রাজনীতিবিদদের স্বার্থান্বেষী মনোভাব যদি বাধা হয়ে না দাড়ায়, তাহলে যে কোনো উন্নয়নশীল দেশ সহজেই ২০% হারেও প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। আজারবাইজান, চীন, এঙ্গোলা এবং আরো বেশ কিছু দেশ কোনো কোনো বছর ১০% থেকে ৩০% পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। নতুন শতাব্দীর শুরুতে তুরস্ক প্রতিষ্ঠা করেছে অনেকগুলো গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী তুর্কী বিজ্ঞানী, প্রকোশলী এবং শিল্পপতি দেশে ফিরে এসেছে দেশের দেয়া অনুকুল পরিবেশের সুযোগ নিয়ে। তাদের সমষ্টিগত মেধা, আর পরিকল্পনা তুরস্ককের অর্থনীতিকে সফলভাবে রক্ষা করেছে যখন তাদের প্রতিবেশী গ্রীস হয়ে গেছে আর্থিকভাবে দেউলিয়া এবং সিরিয়া আর ইরাক জড়িয়ে পড়েছে ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধে। আজকের বাংলাদেশের মতই প্রবাসী তুর্কী শ্রমিকদের প্রেরিত অর্থ তুর্কী অর্থনীতির বড় খাতগুলোর একটি ছিল। সেই দেশটি দুই দশকের কম সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বলে বলিয়ান হয়ে পৃথিবীর শীর্ষ ধনী দেশের তালিকায় ১৭ নম্বরে আছে। তারা দৃঢ় প্রত্যয়ী – ২০২৫ সালে শীর্ষ ১০ ধনী দেশের তালিকায় স্থান করে নিবেই। “তুরস্কের বার্ষিক রপ্তানীর পরিমান ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ ওজনে সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানী করে জার্মানী অর্জন করে দেড় ট্রিলিয়ন (১৫০০ বিলিয়ন) ডলার। দুই দেশের জনসংখা প্রায় কাছাকাছি, যদিও তুরস্কের আয়তন জার্মানীর প্রায় দ্বিগুন। তাহলে পার্থক্যটা হচ্ছে কি কারনে? কারণ মেধা গত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা। কেন আপেল (Apple) কম্পিউটার কোম্পানির প্রতি কিলোগ্রাম পণ্যের গড়পড়তা বিক্রয় মূল্য ২০০০ ডলারের উপরে?
চীনা নেতারা আধুনিকীকরণ প্রকল্পে (Thousand Talents Program) এক হাজার প্রতিভাবান গবেষককে দেশে নিয়ে আসার প্রকল্প নিয়েছিল প্রথমে। প্রতিটি গবেষককে ১০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনাগার খোলার সুযোগ করে দিয়েছে তারা। লক্ষ্য একটাই – চীনের গবেষনার মান দ্রুতগতিতে পশ্চিমের পর্যায়ে নিয়ে আশা। ভারত গত তিন দশক ধরে প্রবাসী কর্মদক্ষ জনশক্তি আর বিশেষজ্ঞদের দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং বাপকভাবে উপকৃত হয়েছে। ভারতের এক বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠী দেশে ফেরত গিয়েছেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তির আর ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে। মাহাথিরের শাসনামলে তিনি নিজে টেলিফোন করে অনেক যোগ্য প্রবাসীদের মালয়েশিয়ায় ফেরৎ নিয়ে এসেছেন।
অন্যদিকে শুধু জীবিকা সংগ্রহের জন্য নিজেদের মেধার অনাকাংখিত অপচয়ে লিপ্ত হচ্ছেন আমাদের মেধাবীরা। কিন্তু গবেষণাই এদের জীবিকার প্রধান উৎস হতে পারত। তাতে তাদের সৃজনশীলতা আর প্রতিভা দেশকে শতগুনে আলোকিত করতে পারত, অর্থনীতিতে লক্ষ-কোটিগুনে প্রভাব ফেলতে পারত।
প্রতিটি প্রবাসী সব সময়ই নিজের দেশে মাটিতে ফিরে আসার, দেশের ঋণ শোধ করার জন্যে সুযোগ খুঁজে, সে যে দেশেরই হোক না কেন। বেশিরভাগ বাংলাদেশীই পৃথিবীর অন্য জাতির তুলনায় দেশকে নিয়ে বেশি ভাবেন, সবসময়ই কিছু করতে চান। তাদের শক্তি আর মেধাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন যুক্তিসঙ্গত পথনির্দেশনা, সুযোগ্য নেতৃত্ব আর পরিকল্পনা। “এই দেশের উৎসাহী ছেলেমেয়েরা প্রতি বছর বাইরে পিএইচ-ডি করতে যায়। এদের অনেকে এত উৎসাহী, এত সৃজনশীল, এত প্রতিভাবান যে তাদের একটা ছোট অংশও যদি দেশে ফিরে আসত তাহলে দেশে মোটামুটি একটা বিপ্লব ঘটে যেত” –
দেশ নিয়ে হতাশা আর অভাবের কারণে একসময় বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ইরান আর ইন্দোনেশিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠি বৈধ-অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আজ এসব দেশের বেশিরভাগ তরুনরাই নিজের দেশে ফিরে আসার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে -আমরা ছাড়া। বৈধ বা অবৈধভাবে বছরের পর বছর বিদেশে পাড়ি দেয়া এই মানুষগুলো মানবেতরভাবে নিজেদের শ্রম সস্তায় বিক্রি করছেন। এদের অনেকেই উচ্চ-শিক্ষিত এবং পরিশ্রমী সুনাগরিক হতে পারতেন। অনুকূল পরিবেশ পেলে এরাই হতে হতে পারতেন আমাদের অর্থনীতির নির্মাতা।
যে মধ্যবিত্ত শ্রেণী আমদের দেশে এক শক্তিশালী অর্থনীতি এবং সুস্থ্য রাজনীতির জন্ম দিতে পারতো, সেটার একটা বড় অংশ সবসময় সুযোগ খুজছে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়ায়, কানাডায় আর আমেরিকায় চলে যাবার জন্য। তাদের হাতে আমরা প্রয়োজনীয় উন্নয়নের হাতিয়ার, আধুনিক প্রশিক্ষণ অথবা অনুদান দিতে পারছি না। আমাদের দেশের সবচেয়ে যোগ্যতাবান আর ভাগ্যবানরা নিজের ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় দেশ ছেড়ে নিজেকে বিদেশের মাটিতে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যারা থেকে যাচ্ছেন তারাও অসুস্থ্য রাজনীতির যাতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বেচে থাকার সংগ্রাম করছেন। খুব অল্প সংখ্যক প্রবাসীই আজ দেশে ফিরে আসেন; বছর না পুরুতেই আবার ফিরে যাচ্ছেন প্রবাসে । আমরা যদি আমাদের জনশক্তির উন্নয়ন আর সদ্ব্যবহার নিয়ে এভাবে উদাসীন থাকি, আজকের ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ আমাদের যোগ্য মানুষগুলোকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য অনেক দেশই আগ্রহ দেখাবে। যেভাবে অস্ট্রেলিয়া আর কানাডা এই সুযোগ নিচ্ছে এখন।
আগামীতে ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে বড়-ছোট নানা বস্তু থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে কম্পিউটারের কমান্ডে তৈরি হবে। অডিট-হিসেব-ট্যাক্স কালেকশনের কাজ হবে ব্লকচেইন এর মাধ্যমে। থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে তৈরিকৃত মানুষের কৃত্রিম অঙ্গসমূহ দিয়ে অসুস্থ অঙ্গ রিপ্লেস করা যাবে। রোবট সৈনিক বোমা মারবে, ন্যানো রোবট শরীরে ঢুকে ভাইরাস ধ্বংস করে রোগের চিকিৎসা করবে। যানবাহনগুলো মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে সুচারুরূপে পরিচালিত হবে । যদি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী মানুষ তৈরি করতে চায় দক্ষ কর্মী তৈরি করতে চাই, তবে আমাদের ক্রিয়েটিভ (সৃজনশীল) হওয়ার কোন বিকল্প নেই। আর শিক্ষার্থীদের ক্রিয়েটিভ হয়ে গড়ে উঠতে নতুন শিক্ষাক্রম এক সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে।
সিংগাপুর বর্তমান পৃথিবীতে প্রথম ধনী পাঁচ দেশের একটি। কিন্তুু সিংগাপুর দেশটির কোন খনি নেই, চাষ যোগ্য জমিও নেই। তারপরেও ওরা ধনী দেশের তালিকায় ১-৫ এর মধ্যে থাকে।
আজকেই বিশ্বের সেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং ভারতের ৪৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় , বিশ্বের সবচেয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের ১৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে আর উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশের ৩ টি। আমদের উন্নয়ন কোটি কোটি প্রবাসী আর দেশী গারমেন্টস কর্মীদের জন্য। এসবের বাইরে আমাদের কিছু নেই। এসব কর্মীদের টাকা খরচ করে আমরা ফুতানী করি। ১৪ কিমি আলপনা করি, কোটি লোক এক সাথে জাতীয় সংগীত গাই।
এক অদ্ভুত পাগলের গল্প শুনসিলাম। সে নাকি কোন কাগজ বা গাছের পাতা জাতিয় পাতলা কিছু পেলে 'আংগুল' দিয়া ফুটা করে বলতো 'পাইছি, পাইছি'।এইতো চশমা পাইছি এখন আমি সবকিছু দেখে ফেলবো। এখন আমাদের মিডিয়াগুলোতেও পাইছি, পাগলের মেলা জমেছে। অন্ধকারেও তারা অনেক কিছু দেখতে পায়। কাউকেও কিংস পার্টি, কেউ ভারতের এজেন্ট, কেউ সরকারের হয়ে কাজ করছে ইত্যাদি অনেক কিছু অন্ধকারে তারা দেখতে পায়। আমি বলব অন্ধকারে এইসব দেখার অভ্যাস ছেড়ে মানুষের ফুটানিগুলো সনাক্ত করুন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য যুবসমাজকে তৈরি হতে উৎসাহিত করুন।ধন্যবাদ সবাইকে।
মানুষের যৌনতার প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠা রোবটের পক্ষে এখন শুধু সময়েরই ব্যাপার। যৌন রোবটের প্রসার খুব দ্রুতই বাড়ছে। বর্তমানে যৌনতায় পারদর্শী বেশ কিছু রোবট বাজারে এসেছে। এগুলোর মধ্যে একটির নাম রকি বা রক্সি। রোবটের প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিকি মা নামে হংকংয়ের এক ব্যক্তি তারকা স্কারলেট জোহানসনের মতো রোবট তৈরি করেছেন। এ ধরনের প্রযুক্তি আরও প্রসারিত করে মানুষ তার মনের মতো তারকাকে বিছানাতেই পেয়ে যাচ্ছে। ফলে যৌনতার বিষয়গুলো আর আগের মতো থাকবে না। এ বছর বাজারে এসেছে স্বয়ংক্রিয় সেক্স রোবট ‘রেড ডল’। এতে আছে স্বয়ংক্রিয় যৌনাঙ্গ। যা মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বুঝে কাজ করবে এবং উপভোক্তার শারীরিক চাহিদা মেটাতে বৈচিত্র্যপূর্ণ আচরণ করবে, এতদিন পর্যন্ত ‘সেক্স ডল’গুলোর সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু, মানুষের কাল্পনিক চাহিদার আনেকটাই মেটাতে সক্ষম বিজ্ঞানের এই নয়া আবিষ্কার ‘রেড ডল’।