কোন পৃষ্ঠায় কি আছে :
১। লেখকের কথা ২। ভূমিকা ৩। মহাবিশ্বের সৃষ্টি ৪। মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ ৫। মহাকাশ পরিচিতি ৬। আটটি গ্রহের পরিচয় ৭। পৃথিবীর জন্মের প্রথম অবস্থা ৮। এককোষি প্রাণী থেকে বহুকোষি প্রাণী ৯। উদ্ভিদের জন্ম ১০। মস্তিষ্ক ও শিরদাঁড়া ১১। উভচরদের জন্ম ১২। উভচর থেকে সরীসৃপ ১৩। ডাইনোসারদের যুগ ১৪। ডাইনোসরের বিবর্তিত প্রজাতি ১৫। পাখিদের পূর্বপুরুষ ১৬। স্তন্যপায়ী প্রাণী ১৭। প্রাইমেটদের কথা ১৮। বিবর্তন কি ১৯। বিবর্তনের সাক্ষ্য ২০। জিরাফের লম্বা গলা কেনো? ২১। মধ্যবর্তী ফসিল নিয়ে টানাটানি ২২। মানুষ আর শিম্পাঞ্জি ২৩। আর্ডি নিয়ে এত হৈচৈ কেনো? ২৪। আমাদের পূর্বপুরুষ ২৫। আদিম মানুষ ২৬। হোমো সেপিয়েন্স ২৭। গূহামানব ২৮। বন্য থেকে সভ্য হওয়ার স্তরগুলো ২৯। প্রস্তর যুগ ৩০। কৃষি সভ্যতা ৩১। কাজের ভাগাভাগি ৩২। নারী-প্রধান সমাজ ৩৩। সে যুগে মায়েরা বড় ৩৪। ঘর তৈরী, কাপড় বোনা ৩৫। খাদ্য-সংগ্রহ থেকে খাদ্য-উৎপাদন ৩৬। আদিম মানুষের প্রজননের রহস্য ৩৭। লৌহ যুগ ৩৮। তামা ও লোহার হাতিয়ার ৩৯। হেনরী লুইস মর্গান ৪০। মিশরীয় সভ্যতা ৪১। সুমেরীয় সভ্যতা ৪২। ব্যবিলনীয় সভ্যতা ৪৩। পারস্য সভ্যতা ৪৪। হিব্রু সভ্যতা ৪৫। ফিনিশীয় সভ্যতা ৪৬। চীনা সভ্যতা ও সিল্ক রোড ৪৭। সিন্ধু সভ্যতা ও আর্য সমাজ ৪৮। গ্রীক সভ্যতা ৪৯। প্রচীন গ্রিস ও ভাস্কযৃ শিল্প ৫০। প্রাচীন গ্রিস ও জ্ঞান চর্চা ৫১। সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টটল ৫২। রোমান সভ্যতা ৫৩। মানব সমাজের অগ্রগতি ৫৪। চিত্রলিপি ৫৫। ভাব ব্যঞ্জক লিপি ৫৬। বর্ণমালার আবিস্কার ৫৭। ব্রাহ্মীলিপি থেকে বাংলা ৫৮। পৃথিবীর নানা জায়গার আদিবাসী ৫৯। এখনো যাদের আদিম অবস্থা ৬০। এস্কিমো ৬১। নিগ্রো ৬২। মাসাই ৬৩। পিগমি ৬৪। বুশম্যান ৬৫। সাহারার তুয়ারেগ ৬৬। আরবের বেদুইন ৬৭। মধ্য এশিয়ার কিরঘিজ ৬৮। মঙ্গোল ৬৯। ল্যাপ ৭০। মালয় ৭১। ওশিয়ানিয়া মহাদেশের আদিম বাসিন্দা ৭২। নাগা ৭৩। খাসিয়া ৭৪। গারো ও চাকমা ৭৫। সাঁওতাল ৭৬। আদিম মানুষের ধর্ম ও ঈশ্বরের আইন ৭৭। ধর্মচেতনার বিকাশ ৭৮। স্রষ্টার জন্য লড়াই শুরু ৭৯। সভ্যতার বিকাশ ও ধর্ম ৮০। ইশ্বর ও ধর্ম ৮১। ধর্ম যেভাবে সৃষ্টি হয় ৮২। ব্রাহ্মণ্যবাদ ৮৩। আর্য দ্রাবিড় মিশ্র সংস্কৃতি ৮৪। বাংলার প্রাচীনতম জাতি ৮৫। তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ৮৬। লোকায়ত দর্শন ও সহজিয়া সম্প্রদায় ৮৭। বামাচার / কামাচার ৮৮। হিন্দু ধর্ম, শাক্ত ধর্ম ৮৯। বৈষ্ণব ধর্ম ৯০। শৈব ধর্ম ৯১। দ্বৈতবাদ ৯২। ব্রাহ্ম সমাজ নতুন একটি ধর্ম ৯৩। হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলী ৯৪। হিন্দুধর্মে দেব-দেবী ৯৫। বৌদ্ধ ধর্ম ৯৬। বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তি ৯৭। জৈন ধর্ম ৯৮। জরাথুস্ট্রবাদ ৯৯। ইহুদি ধর্ম ১০০। খ্রিস্টান ধর্ম ১০১। ইসলাম ধর্ম ১০২। উত্তাল গৃহযুদ্ধে মুসলিমরা ১০৩। যেভাবে ইসলামের স্বর্ণযুগ শুরু হয় ১০৪। ইসলামের স্বর্ণযুগ. ছয় শতাব্দী জুড়ে ১০৫। অটোমান সাম্রাজ্য ১০৬। ভাররবর্ষে ইসলামী শাসন, অশোক ও আকবর ১০৭। রাজা গোবিন্দ ও হযরত শাহ জালাল ও ইবনে বতুতা ১০৮। বাঙালিরা যেভাবে মুসলমান হল! ১০৯। চিতোরের রানা প্রতাপ ১১০। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ শাসন ১১১। টিপু সুলতান ১১২। স্তনকর ১১৩। তেভাগা আন্দোলন ১১৪। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার জমিদার ১১৫। মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়া ১১৬। দূর্গা পুজায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ১১৭। কারা বাংলাকে দ্বিখন্ডিত করলো, দুই বাংলার পার্থক্য ১১৮। যেভাবে পাকিস্তান ধারণার জন্ম নিল- ১১৯। যেভাবে ভারত ভাগ হলো ১২০। পাকিস্তানে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ১২১। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ১২২। শিয়া মতবাদ ১২৩। আহমদীয়া সম্প্রদায় ১২৪। ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ১২৫। সুফীবাদ ১২৬। বিশুদ্ধ ইসলাম মতবাদ ১২৭। সালাফি মতবাদ ওহাবীবাদ ১২৮। মুতাজিলা মতবাদ ১২৯। দ্রুজ ধর্ম-২৬৫১৩০। ইয়াজিদি ধর্ম ১৩১। লৌকিক দর্শন ১৩২। আধ্যাত্মবাদ ১৩৩। সাবমিশন ইসলাম ১৩৪। বাহাই ধর্ম ১৩৫। আলাওয়িবাদ ১৩৬। জায়েদিবাদ ১৩৭। কাদারবাদ ১৩৮। মায়াবাদ ১৩৯। বাউল দর্শন-২৮০ ১৪০। শিখ ধর্ম ১৪১। তাও ধর্ম ১৪২। কনফুসীয় ধর্ম ১৪৩। কাও দাই ধর্ম ১৪৪। শিন্তৌ ধর্ম ১৪৫। পুঁজিবাদ ১৪৬। মৌলবাদ ১৪৭। প্রগতিবাদ ১৪৮। মানবতাবাদ ১৪৯। অজ্ঞেয়বাদ ১৫০। বিবর্তনবাদ ১৫১। নাস্তিক্যবাদ ১৫২। চার্বাক দর্শন ১৫৩। কমিউনিজম ১৫৪। নগ্নতাবাদ ১৫৫। নারীবাদ ১৫৬। নারী নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ১৫৭। নারী পুরুষের যৌনতার পার্থক্য ১৫৮। নারীর পোশাক ১৫৯। নারী নির্যাতন ১৬০। পারফেক্ট হওয়ার চাপে নারীরা ১৬১। বিবর্তনে মূল্য দিতে হয়েছে নারীকেই ১৬২। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি ১৬৩। নারী-পুরুষের বহুগামিতা ১৬৪। বাংলা সংস্কৃতির পোষাক ১৬৫। রোহিঙ্গা ও আরকাম রাজ্য ১৬৬। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ১৬৭। কৌম সমাজ ১৬৮। কিছু মাতৃপ্রধান সমাজের পরিচিতি ১৬৯। বিটগেনস্টাইন-এর যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ ১৭০। ফুকোর প্রেম ও যৌনতার ডিসকোর্স ১৭১। বৈশিক কলা ১৭২। অর্থ জমানোর প্রতিযোগিতা ১৭৩। বুদ্ধিমান রোবট সাইবোর্গ ১৭৪। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ১৭৫। কার্বন ন্যানোটিউব ১৭৬। অমরত্বের খোঁজে ১৭৭। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ১৭৮। মস্তিষ্কের ডাটা ট্রান্সপার ১৭৯। ডিএনএ এবং জিন প্রযুক্তি ১৮০। এ আই প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের হাইব্রিড মানুষ? ১৮১। আমাদের সমাজ ও মিডিয়া
সন্ধু সভ্যতা:
আনুমানিক ৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে সিন্ধু নদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ভারত উপমহাদেশের সিন্ধু সভ্যতা। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে সভ্যতার প্রধান নিদর্শনগুলো আবিষ্কৃত হলেও পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ বেলুচিস্তানে এ সভ্যতার অস্তিত্ব লক্ষণীয়।
সিন্ধু সভ্যতার যে সমস্ত নগরীর সন্ধান পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে আছে রাজস্থানের কালিবাঙ্গান, পাকিস্তানের হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো। এই তিনটি নগরী এবং আরো প্রায় দুশ ছোট বড় শহরের এক বিশাল নগর সভ্যতা পূর্বে ঊর্ধ্ব গঙ্গা এবং দক্ষিণে বর্তমান মুম্বাই শহর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সিন্ধু সভ্যতা আকারে ছিল সমসাময়িক প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ। সিন্ধু নদ হিমালয় পর্বতমালায় উৎপত্তি লাভ করে পাঞ্জাবের নিম্নভূমি ও ঊষর রাজস্থানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সিন্ধু মরুভূমির মধ্য দিয়ে আধুনিক করাচি শহরের কাছে গিয়ে সাগরে পড়েছে। সিন্ধু সভ্যতা ছিল একটি ব্রোঞ্জ যুগীয় সভ্যতা।
প্রাচীন সিন্ধু-উপত্যকার এই সভ্যতার দুটি প্রধান বসতি হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো নামে অভিহিত হলেও এই নাম দুটি কোনোটিই প্রাচীন নাম নয়। পাঞ্জাব এবং সিন্ধুতে যে দুটি জায়গার প্রাচীন সভ্যতার এই দুটি চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেছে, তার আশপাশে প্রধান দুটি গ্রামের এখনকার নাম লো হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো। স্থানীয় সিন্ধী ভাষার মোহেনজোরদারো নামটির মানে হলো ‘মৃতের স্তূপ’ বা ‘মৃতের পুরী’। হাজার হাজার বছর ধরে প্রাচীন বসতির ধ্বংসাবশেষের উপর প্রায় ত্রিশ ফুট যে উঁচু ঢিবি আটেল গড়ে উঠেছিল।
প্রাচীন এই শহর দুটির আবিষ্কারের কাহিনিও খুব মজার। একশ’ বছর আগে ১৮৫৬ সালের কথা। ভারতবর্ষের নানা জায়গায় তখন সবেমাত্র রেললাইন পাতার কাজ শুরু হয়েছে। করাচি থেকে লাহোর পর্যন্ত রেললাইন পাতবার ভার পড়েছিল জন এবং উইলিয়াম ব্রানটন্ নামে দুই ভাইয়ের উপর। মধ্য যুগের পুরনো একটি শহরের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হলো রেললাইনের দক্ষিণ অংশ আর উত্তর অংশে মুলতান থেকে লাহোর প্রায় একশ’ মাইল রেলপথের সমস্ত মালমসলা যোগাড় হলো আরেকটি প্রাচীন শহরের অজস্র ইট দিয়ে। জেনারেল কানিংহাম তখন ভারতবর্ষের সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত। খুব প্রাচীন একটি শহরের ধ্বংসাবশেষ থেকে রেলের মালমসলা যোগাড় হচ্ছে এই খবর শুনে তিনি ১৮৫৬ সালেই হরপ্পা পরিদর্শন করেছিল। এখানে তিনি প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ থেকে যে দু’চারটি নমুনা সংগ্রহ করেন, সেগুলো পরীক্ষা করে তিনি তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে, এগুলো খুবই প্রাচীন। এরপর বহুদিন যাবৎ এই ধ্বংসস্তূপ সম্পর্কে আর কারো কোনো উৎসাহ চোখে পড়ে না।
১৯২১ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত পুরোদমে হরপ্পার প্রাচীন ইতিহাস উদ্ঘাটনের কাজ চলে। রেললাইন পাতবার জন্য ইট যোগাড়ের ফলে হরপ্পার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের অনেক ক্ষতি হয়েছিল; কিন্তু মহেঞ্জোদারোর ক্ষেত্রে সে রকম ক্ষতি হয়নি। হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো আবিষ্কৃত হবার ফলে ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসের একটা অন্ধকার পর্দা যেন উঠে গেল। হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারোর আরেকটি বিশেষত্ব হলো এই যে, দুটি শহরের কোনোটিতেই আদিম বসতি থেকে নগর সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ এই ধারাবাহিক ছবি পাওয়া যায় না। হরপ্পা ‘ঢিবি’ খুঁড়ে পরপর ছ’টি বসতির সন্ধান মেলে। আর মহেঞ্জোদারোয় মেলে ন’টি। অবশ্য এখনো পর্যন্ত মহেঞ্জোদারোর সব চেয়ে নিচু যে স্তরটিতে পৌঁছানো গেছে, তার নিচেও আরো বসতির অস্তিত্ব হয়তো আছে; তবে সে বসতির এখনো পর্যন্ত খুঁড়ে বের করা সম্ভব হয়নি। কারণ এখনকার সবচেয়ে নিচের স্তরে খুঁড়তে খুঁড়তে কখন কীভাবে এখানে মানুষের প্রথম বসতি স্থাপিত হয়েছিল এবং আদিম সেই বসতি কীভাবেই বা ধাপে ধাপে নগর সভ্যতার পথে এগিয়ে এসেছিল এ সব খবর আমরা এখনো পর্যন্ত জানি না।
ভারতবর্ষে দক্ষিণ অঞ্চলে এখন যে দ্রাবিড় ভাষাভাষি জাতির বসবাস আছে, অনেক পণ্ডিতের মতে এদেরই পূর্বপুরুষরা সিন্ধু উপত্যকার এই সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। দ্রাবিড় জাতি বলতে মূলত কোনো নরগোষ্ঠী বুঝায় না। দ্রাবিড় জাতি বলতে অস্ট্রালয়েড পরবর্তী ও আর্য পূর্ববর্তী উপমহাদেশে আগমনকারী ও একটি ভাষার দ্বারা প্রভাবিত একাধিক গোষ্ঠীভুক্ত জনসংহতিকে বুঝায়। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে প্রাপ্ত নরমুণ্ড পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেখানে যেমন দীর্ঘমুণ্ড, সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ গড়নের মানুষের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তেমনি খর্বাকৃতির দীর্ঘ নাসিকা, ধনুকের মতো বঙ্কিম ও উন্নত কপালের অপেক্ষাকৃত দুর্বল গড়নের মানুষের চিহ্নও পাওয়া গেছে। দ্রাবিড় ভাষার মধ্যে বর্তমানে প্রচলিত প্রধান ভাষাসমূহ হচ্ছে তামিল, কানাড়া (কর্ণাটক ও কেরালায় প্রচলিত), মালয়ালাম (কেরালায় প্রচলিত), তেলেগু (উড়িষ্যায় প্রচলিত), টুলু , কুরুক প্রভৃতি। এর মধ্যে বাংলাদেশে কুরুক ভাষার প্রচলন আছে। উত্তরবঙ্গ ও শ্রীহট্টের চা-বাগানে বসবাসরত ওরাও উপজাতির ভাষা কুরুক।
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর শহর-পরিকল্পনা থেকে শুরু করে এই সভ্যতার সমস্ত কিছুর মধ্যে সওদাগরী ব্যবসার প্রাধান্যের ছাপটা খুবই সুস্পষ্ট। রাস্তাঘাট দোকানপাটের ছড়াছড়ি। নিজেদের ব্যবহারের চেয়ে সাধারণ বাজারে বিক্রি করার জন্যই যেন সমস্ত জিনিসপত্র প্রচুর পরিমাণে তৈরি হতো। মহেঞ্জোদারোর রাস্তার দোকানপাট অঞ্চলে সাদাসিধে মাটির পাত্রের অজস্র টুকরো পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। পানি বা অন্য কোনো পানীয় খাবার জন্যই লোকে এগুলো ব্যবহার করত। এ সভ্যতার ব্যবসা-বাণিজ্যের যে খুবই প্রসার ছিল দূরা-দূরান্তে এই সভ্যতারই কয়েকটি ঘাঁটি আরো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর পাথরের জিনিস, নকশা-কাটা মাটির পাত্র এবং সিলমোহর সুমের পাওয়া গেছে।
হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো-সিন্ধু-উপত্যকার প্রাচীন নগর-সভ্যতার চূড়ান্ত বিকাশের এই দুটি শহর যে খ্রিস্ট-পূর্ব ২৫০০ থেকে খ্রিস্ট-পূর্ব ১৫০০ পযর্ন্ত মহাআড়ম্বর এবং জাঁকজমকের সঙ্গেই টিকেছিল। হরপ্পা সভ্যতা মেসোপটেমিয়া এবং সুমেরীয় সভ্যতার সমসাময়িক।