কোন পৃষ্ঠায় কি আছে :
১। লেখকের কথা ২। ভূমিকা ৩। মহাবিশ্বের সৃষ্টি ৪। মহাবিশ্ব ও সৌরজগৎ ৫। মহাকাশ পরিচিতি ৬। আটটি গ্রহের পরিচয় ৭। পৃথিবীর জন্মের প্রথম অবস্থা ৮। এককোষি প্রাণী থেকে বহুকোষি প্রাণী ৯। উদ্ভিদের জন্ম ১০। মস্তিষ্ক ও শিরদাঁড়া ১১। উভচরদের জন্ম ১২। উভচর থেকে সরীসৃপ ১৩। ডাইনোসারদের যুগ ১৪। ডাইনোসরের বিবর্তিত প্রজাতি ১৫। পাখিদের পূর্বপুরুষ ১৬। স্তন্যপায়ী প্রাণী ১৭। প্রাইমেটদের কথা ১৮। বিবর্তন কি ১৯। বিবর্তনের সাক্ষ্য ২০। জিরাফের লম্বা গলা কেনো? ২১। মধ্যবর্তী ফসিল নিয়ে টানাটানি ২২। মানুষ আর শিম্পাঞ্জি ২৩। আর্ডি নিয়ে এত হৈচৈ কেনো? ২৪। আমাদের পূর্বপুরুষ ২৫। আদিম মানুষ ২৬। হোমো সেপিয়েন্স ২৭। গূহামানব ২৮। বন্য থেকে সভ্য হওয়ার স্তরগুলো ২৯। প্রস্তর যুগ ৩০। কৃষি সভ্যতা ৩১। কাজের ভাগাভাগি ৩২। নারী-প্রধান সমাজ ৩৩। সে যুগে মায়েরা বড় ৩৪। ঘর তৈরী, কাপড় বোনা ৩৫। খাদ্য-সংগ্রহ থেকে খাদ্য-উৎপাদন ৩৬। আদিম মানুষের প্রজননের রহস্য ৩৭। লৌহ যুগ ৩৮। তামা ও লোহার হাতিয়ার ৩৯। হেনরী লুইস মর্গান ৪০। মিশরীয় সভ্যতা ৪১। সুমেরীয় সভ্যতা ৪২। ব্যবিলনীয় সভ্যতা ৪৩। পারস্য সভ্যতা ৪৪। হিব্রু সভ্যতা ৪৫। ফিনিশীয় সভ্যতা ৪৬। চীনা সভ্যতা ও সিল্ক রোড ৪৭। সিন্ধু সভ্যতা ও আর্য সমাজ ৪৮। গ্রীক সভ্যতা ৪৯। প্রচীন গ্রিস ও ভাস্কযৃ শিল্প ৫০। প্রাচীন গ্রিস ও জ্ঞান চর্চা ৫১। সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টটল ৫২। রোমান সভ্যতা ৫৩। মানব সমাজের অগ্রগতি ৫৪। চিত্রলিপি ৫৫। ভাব ব্যঞ্জক লিপি ৫৬। বর্ণমালার আবিস্কার ৫৭। ব্রাহ্মীলিপি থেকে বাংলা ৫৮। পৃথিবীর নানা জায়গার আদিবাসী ৫৯। এখনো যাদের আদিম অবস্থা ৬০। এস্কিমো ৬১। নিগ্রো ৬২। মাসাই ৬৩। পিগমি ৬৪। বুশম্যান ৬৫। সাহারার তুয়ারেগ ৬৬। আরবের বেদুইন ৬৭। মধ্য এশিয়ার কিরঘিজ ৬৮। মঙ্গোল ৬৯। ল্যাপ ৭০। মালয় ৭১। ওশিয়ানিয়া মহাদেশের আদিম বাসিন্দা ৭২। নাগা ৭৩। খাসিয়া ৭৪। গারো ও চাকমা ৭৫। সাঁওতাল ৭৬। আদিম মানুষের ধর্ম ও ঈশ্বরের আইন ৭৭। ধর্মচেতনার বিকাশ ৭৮। স্রষ্টার জন্য লড়াই শুরু ৭৯। সভ্যতার বিকাশ ও ধর্ম ৮০। ইশ্বর ও ধর্ম ৮১। ধর্ম যেভাবে সৃষ্টি হয় ৮২। ব্রাহ্মণ্যবাদ ৮৩। আর্য দ্রাবিড় মিশ্র সংস্কৃতি ৮৪। বাংলার প্রাচীনতম জাতি ৮৫। তেত্রিশ কোটি দেবদেবী ৮৬। লোকায়ত দর্শন ও সহজিয়া সম্প্রদায় ৮৭। বামাচার / কামাচার ৮৮। হিন্দু ধর্ম, শাক্ত ধর্ম ৮৯। বৈষ্ণব ধর্ম ৯০। শৈব ধর্ম ৯১। দ্বৈতবাদ ৯২। ব্রাহ্ম সমাজ নতুন একটি ধর্ম ৯৩। হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলী ৯৪। হিন্দুধর্মে দেব-দেবী ৯৫। বৌদ্ধ ধর্ম ৯৬। বাংলা থেকে বৌদ্ধ ধর্মের অবলুপ্তি ৯৭। জৈন ধর্ম ৯৮। জরাথুস্ট্রবাদ ৯৯। ইহুদি ধর্ম ১০০। খ্রিস্টান ধর্ম ১০১। ইসলাম ধর্ম ১০২। উত্তাল গৃহযুদ্ধে মুসলিমরা ১০৩। যেভাবে ইসলামের স্বর্ণযুগ শুরু হয় ১০৪। ইসলামের স্বর্ণযুগ. ছয় শতাব্দী জুড়ে ১০৫। অটোমান সাম্রাজ্য ১০৬। ভাররবর্ষে ইসলামী শাসন, অশোক ও আকবর ১০৭। রাজা গোবিন্দ ও হযরত শাহ জালাল ও ইবনে বতুতা ১০৮। বাঙালিরা যেভাবে মুসলমান হল! ১০৯। চিতোরের রানা প্রতাপ ১১০। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ শাসন ১১১। টিপু সুলতান ১১২। স্তনকর ১১৩। তেভাগা আন্দোলন ১১৪। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলার জমিদার ১১৫। মুসলমানদের পিছিয়ে যাওয়া ১১৬। দূর্গা পুজায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ১১৭। কারা বাংলাকে দ্বিখন্ডিত করলো, দুই বাংলার পার্থক্য ১১৮। যেভাবে পাকিস্তান ধারণার জন্ম নিল- ১১৯। যেভাবে ভারত ভাগ হলো ১২০। পাকিস্তানে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি ১২১। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ ১২২। শিয়া মতবাদ ১২৩। আহমদীয়া সম্প্রদায় ১২৪। ইসমাইলিয়া সম্প্রদায় ১২৫। সুফীবাদ ১২৬। বিশুদ্ধ ইসলাম মতবাদ ১২৭। সালাফি মতবাদ ওহাবীবাদ ১২৮। মুতাজিলা মতবাদ ১২৯। দ্রুজ ধর্ম-২৬৫১৩০। ইয়াজিদি ধর্ম ১৩১। লৌকিক দর্শন ১৩২। আধ্যাত্মবাদ ১৩৩। সাবমিশন ইসলাম ১৩৪। বাহাই ধর্ম ১৩৫। আলাওয়িবাদ ১৩৬। জায়েদিবাদ ১৩৭। কাদারবাদ ১৩৮। মায়াবাদ ১৩৯। বাউল দর্শন-২৮০ ১৪০। শিখ ধর্ম ১৪১। তাও ধর্ম ১৪২। কনফুসীয় ধর্ম ১৪৩। কাও দাই ধর্ম ১৪৪। শিন্তৌ ধর্ম ১৪৫। পুঁজিবাদ ১৪৬। মৌলবাদ ১৪৭। প্রগতিবাদ ১৪৮। মানবতাবাদ ১৪৯। অজ্ঞেয়বাদ ১৫০। বিবর্তনবাদ ১৫১। নাস্তিক্যবাদ ১৫২। চার্বাক দর্শন ১৫৩। কমিউনিজম ১৫৪। নগ্নতাবাদ ১৫৫। নারীবাদ ১৫৬। নারী নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ১৫৭। নারী পুরুষের যৌনতার পার্থক্য ১৫৮। নারীর পোশাক ১৫৯। নারী নির্যাতন ১৬০। পারফেক্ট হওয়ার চাপে নারীরা ১৬১। বিবর্তনে মূল্য দিতে হয়েছে নারীকেই ১৬২। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কৃতি ১৬৩। নারী-পুরুষের বহুগামিতা ১৬৪। বাংলা সংস্কৃতির পোষাক ১৬৫। রোহিঙ্গা ও আরকাম রাজ্য ১৬৬। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ১৬৭। কৌম সমাজ ১৬৮। কিছু মাতৃপ্রধান সমাজের পরিচিতি ১৬৯। বিটগেনস্টাইন-এর যৌক্তিক প্রত্যক্ষবাদ ১৭০। ফুকোর প্রেম ও যৌনতার ডিসকোর্স ১৭১। বৈশিক কলা ১৭২। অর্থ জমানোর প্রতিযোগিতা ১৭৩। বুদ্ধিমান রোবট সাইবোর্গ ১৭৪। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ১৭৫। কার্বন ন্যানোটিউব ১৭৬। অমরত্বের খোঁজে ১৭৭। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ১৭৮। মস্তিষ্কের ডাটা ট্রান্সপার ১৭৯। ডিএনএ এবং জিন প্রযুক্তি ১৮০। এ আই প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের হাইব্রিড মানুষ? ১৮১। আমাদের সমাজ ও মিডিয়া
খ্রিস্টান ধর্ম
খ্রিস্টধর্ম হচ্ছে একেশ্বরবাদী ধর্ম। যিশুর জীবন ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে এই ধর্ম বিকশিত হয়েছে। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে যিশু খ্রিস্ট হচ্ছেন ঈশ্বরের পুত্র। বর্তমানে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ধর্ম। ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ বা হিব্রু বাইবেলকে খ্রিস্টানরা পুরাতন বাইবেল বলে থাকে। নতুন বাইবেল বা নিউ টেস্টামেন্ট খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের শেষভাগ। ৪৫ থেকে ১৪০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে একাধিক লেখক এটি রচনা করেন। এই বিভিন্ন লেখকের রচনা কয়েক শতাব্দী ধরে সংগৃহীত হয়ে একখণ্ড গ্রন্থের আকার ধারণ করে। নতুন বাইবেল খ্রিস্টধর্মের ভিত্তি। পাশ্চাত্যে গড়ে ওঠা সভ্যতা ও নৈতিকতা বোধের উপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এই গ্রন্থের। খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্মে প্রচলিত একটি বিশ্বাস হলো যিশুর কুমারী গর্ভে জন্ম। এই মত অনুসারে, মেরি কুমারী অবস্থাতেই অলৌকিক উপায়ে যিশুকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন।
ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে-খ্রিস্টীয় পূর্ব ৪ থেকে ৮ অব্দে যিশু জন্মগ্রহণ করেন। কাঠমিস্ত্রী যোসেফের সঙ্গে ম্যারির বাগদানের পরে যোসেফ স্বপ্নের মাধ্যমে দেখতে পান যে, ম্যারি অলৌকিকভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন এবং তার গর্ভে যেই পুত্র সন্তানটি জন্মগ্রহণ করবে, সে পবিত্র আত্মা নিয়ে জন্ম নিবে। তারা ‘জুড়িয়া দেশের নাজরাথ’ নামক গ্রামে বসবাস করতেন। যোসেফ ম্যারিকে নিয়ে জেরুজালেমের দিকে আসছিলেন। তখন তারা পথিমধ্যে বেথেলহ্যামের এক ঘরে এসে আশ্রয় নিলেন। অতঃপর বেথেলহাম শহরে এক গোয়ালঘরে অলৌকিকভাবে তার জন্ম হয়। সম্প্রতি যিশু খ্রিষ্টের জন্ম বৃত্তান্ত সম্পর্কে প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে দস্তুরমত আক্রমণ করেছেন নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রেভারেন্ড পল। তিনি গবেষণা করে দেখেছেনÑ যিশু আদৌ কোনও আস্তাবলে জন্মগ্রহণ করেননি। বেশকিছু দিন পর নিজের পৈতৃক গ্রামে ফিরেছিলেন সস্ত্রীক যোসেফ। তারা উঠেছিলেন কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও সম্পন্ন গৃহস্থের বাড়িতে পারিবারিক ঘর ছাড়া থাকত একটি অতিথি নিবাস এবং ছাদের উপরের ঘর। অতিথি নিবাসটি কোনও কারণে আগেই পূর্ণ ছিল। এই কারণে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে পরিবারের নিভৃত চিলেকোঠায় ঠাঁই নেন যোসেফ। আর সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন যিশু। প্রবল ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচাতে স্বাভাবিকভাবেই উষ্ণ জায়গার প্রয়োজন দেখা দেয়। এই কারণে যোসেফের আত্মীয়ের বাড়ির পেছনের অংশে গৃহপালিত পশুদের খাওয়ার কাঠের গামলায় খড় বিছিয়ে নবজাতককে রাখা হয়। বিষয়টি সে যুগের রীতি মেনেই হয়েছিল। ৩০ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত তার জীবনীর ব্যাপারে তেমন কিছু জানা যায় না। ৩০ বছর বয়সে একদিন জর্ডান নদীর তীরে ডুব দিয়ে তিনি ব্যাপ্টাইজে তথা পবিত্র হন। এরপর থেকে তার দাওয়াতি কার্যক্রম গালীল, দিকাপলী, জেরুজালেম এবং জর্দান নদীর তীর পর্যন্ত ছড়াতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় প্রচার হতে থাকেÑ তার হাতের ছোঁয়ায় অন্ধ তার দৃষ্টিশক্তি, বধির তার শ্রবণশক্তি, খোড়া তার সুস্থ পা, মৃত ব্যক্তি ফিরে পায় তার জীবন, কুষ্ঠরোগী রোগমুক্তি প্রভৃতি। তার ইচ্ছায় ঝড়-বৃষ্টি থেমে যায় এবং তার ইচ্ছায় খাদ্য উৎপাদন বেড়ে যায়।
যিশু বিয়ে করেছিলেন কি? ড্যান ব্রাউনের থ্রিলারধর্মী উপন্যাস ‘দ্য ডা ভিঞ্চি কোড’ মূলত এ কাহিনির ওপর ভিত্তি করে। ইউরোপে এখনও খ্রিস্টানদের মধ্যে একটি মিস্টিক ও গুপ্ত সম্প্রদায় রয়েছে- যাদেরকে ‘সেক্রেড সোসাইটি’ বলে; মনে করা হয় এরা যিশুর উত্তরাধিকার। গ্রিক দার্শনিক ও লেখক কাজান জাকিসকে বলা হয় সে দেশের মেগনাম ওপাস বা জ্ঞানের বিশ্বকোষ। তার লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট গ্রন্থে যিশু যে মেরি মেগদালিয়ানকে বিয়ে করেছেন, সে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। নিউ টেস্টামেন্টের চারটি গসপেল বা সুসমাচারে মেরি মেগদালিনয়ানকে যিশুর একজন শিষ্য হিসেবেই দেখানো হয়েছে; স্ত্রী হিসেবে নয়। তবে সম্প্রতি ইসরাইল-কানাডিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সিমকা জ্যাকোভিকি ও টরন্টোর ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক বেরি ইউলসন- নতুন আবিষ্কৃত ‘পঞ্চম সুসমচার’ গবেষণা করে দেখেছেন, যিশু ও মেরি মেগদালিনয়ান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। দ্য লস্ট গসপেল নামে ওই সুসমাচার দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে রক্ষিত ছিল। ছয় বছর ধরে তারা এ নিয়ে গবেষণা করছেন।
এ গসপেলটি প্রাচীন সিরীয় ভাষায় লিখিত; গসপেলটিতে মেগদালিয়ানের গর্ভে যিশুর দুটি সন্তানের বিষয়ও উল্লেখ আছে। তিনি যখন তার দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন, তখন তার পথে অনেক বাধা-কষ্ট ও নির্যাতন নেমে আসে। ইহুদি রাব্বীগণ মনে করতে থাকেন যে, তার দাওয়াতি কার্যক্রমের ফলে তাদের কর্তৃত্ব দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তাই তারা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থাকে। তারা তাকে পাগল, যাদুকর, অবৈধ সন্তান, মুরতাদ বলে হেয়প্রতিপন্ন করতে থাকে। পাথর নিক্ষেপ করে, দেশ হতে বের করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। অতঃপর একদিন তাকে ব্লাসফেমী আইনে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয় যে, তার দ্বারা খোদা অবমাননামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
ইহুদি স্বার্থান্বেষী ধর্মযাজকদের প্ররোচনায় পড়ে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ডের ঘুষ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারক তার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। যেইদিন তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় সেইদিন ছিল শুক্রবার এবং তারিখ ছিল এপ্রিলের ৩ মতান্তরে ১২ তারিখ। যিশুকে হত্যা করার তিনদিন পর তিনি নাকি পুনরায় এই দুনিয়াতে আগমন করেন এবং তার ১১ জন অনুসারীদের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে তার ধর্ম প্রচার করার নির্দেশ জ্ঞাপন করেন। এরপর তাকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে যিশু খ্রিষ্টের জীবনাসন হয়।
এই খ্রিস্ট মতবাদ দরিদ্র রোমান বিশেষ করে দাসদের মধ্যে ব্যাপক আবেদন সষ্টি করে এবং দলে দলে তারা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা নিতে থাকে। এই ব্যাপক সাড়ায় সম্রাট ডায়োকিটিয়ান (২৮৪-৩০৫ খ্রিস্টাব্দে) শঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর প্রসার রোধে তিনি যে হত্যাকাণ্ড চালান, খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু এই নিধন খ্রিস্টমতবাদকে নির্জীব করতে পারে না। ৩১৩ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট কনস্টানটাইন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন।
কনস্টানটাইন খ্রিস্ট মতবাদে বিশ্বাসীদের প্রতি সহনশীল হওয়ার নীতি গ্রহণ করেন। আদতে কনস্টানটাইনের খ্রিস্টধর্ম অনুরাগের ব্যাপারটি ছিল পুরোদস্তুর রাজনৈতিক। খ্রিস্টমতবাদ এক প্রবল জোয়ার সষ্টি করে সারা রোমান সাম্রাজ্যে। জোয়ারের তোড়ে ভাসিয়ে নেয় দাস ও সাধারণ দরিদ্র রোমানদের। এ পরিস্থিতি শঙ্কিত করে তোলে কনস্টানটাইনকে। খ্রিস্ট মতবাদের প্রতি অসহিষ্ণু মনোভাব ধরে রাখলে পরিণামে তা বিদ্রোহাত্মক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, এ আশঙ্কা তার মনে দানা বাঁধে। তাই সাম্রাজ্যের ঐক্য অটুট রাখার জন্য তিনি খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা নেন কিংবা খ্রিস্টধর্মীদের প্রতি সহনশীল হওয়ার নীতি গ্রহণ করেন।
সম্রাট কনস্টানটাইন রোম থেকে কৃষ্ণসাগরের প্রবেশমুখে বাইজেনটিয়াম দুর্গের কাছে রাজধানী সরিয়ে আনেন এবং রাজধানীর নামকরণ করেন ‘নোভা রোমা’ অর্থাৎ নতুন রোম। কিন্তু অচিরেই তার নামকরণ হয়ে যায় কনস্টানটিনোপল (আজকের ইস্তাম্বুল)। ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট থিওডেসিয়াস খ্রিস্ট ধর্মকে রাজধর্ম ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি দুই পুত্র-হনোরিয়াস ও আর্কাডিয়াসের মধ্যে সাম্রাজ্য ভাগ করে দেন। পশ্চিমাংশ পান হনোরিয়াস,-রাজধানী মিলান। পূর্বাংশ পান আর্কাডিয়াস, রাজধানী কনস্টানটিনোপল। যেহেতু এই নগরী গড়ে ওঠে বাইজেনটিয়াম দুর্গকে কেন্দ্র করে তাই এই সাম্রাজ্যের নাম হয়ে যায় বাইজেনটাইন সাম্রাজ্য। বাইজেনটাইন সম্রাট খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করায় গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় কনস্টানটিনোপল। রোমে কী ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন জীবন কাটিয়েছে দাস ও দরিদ্ররা। তাদের কাছে যিশুখ্রিষ্টের মতবাদ ছিল সুস্থ ও সুন্দর জীবনের প্রতীক।
খ্রিস্টধর্ম রাজধর্মে পরিণত হওয়ায় যাজকরা হয়ে ওঠে পরাক্রান্ত। পরধর্ম বা মতবাদের প্রতি চরম অসহিষ্ণুতা যেন খ্রিস্ট ধর্মের একটি অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। মিসর তখন বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের অংশ। ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের পঞ্চম চার্লস আইন করে ধর্মত্যাগীদের প্রাণ কেড়ে নেন। তার যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। আগুনে পুরিয়ে মারা, ফাঁসি দেয়া, জিহ্বা তুলে ফেলা ও বিকৃত করা ছিল খ্রিস্টধর্ম পরিত্যাগ করার স্বাভাবিক শাস্তি।
ইংল্যান্ডের খ্রিস্ট মতধারা গৃহীত হওয়ার পর প্রেজবিটেরিয়ান পুরোহিতদের দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন রাজার অধীনে বন্দিদশা ভোগ করতে হয়। তাদের শরীরে উত্তপ্ত লৌহ শলাকা চেপে ধরা হতো; অঙ্গচ্ছেদন করা হতো, বেত্রাঘাতও পিলোরিত (এক ধরনের কাঠের তৈরি যন্ত্র-যাতে মাথা ও হাত ঢুকিয়ে দেবার মতো ফোঁকড় থাকত) শাস্তি দেয়া হতো। স্কটল্যান্ডে তাদেরকে পাহাড়ের ওপরে নিয়ে অপরাধীদের মতো শিকার করা হতো। এক ধরনের যন্ত্র দিয়ে তাদের পায়ের হাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলা হতো। ক্যাথলিকদের ওপর চালানো হতো ভয়ঙ্কর নির্যাতন, ঝুলানো হতো ফাঁসিতে।
অ্যানাব্যাপ্টিস্ট ও অ্যারিয়ানদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো। রোম নগরীতে ইহুদিদের সঙ্গে যখন একত্রে বসবাস করেছে খ্রিস্ট ধর্মীরা, সর্বক্ষণ রোমক সৈন্যদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থেকেছে, নিজেদের সুখ-দুঃখ নিয়েছে ভাগাভাগি করে। সেই তখন তারা ছিল নম্রতা আর সমর্পিত চিত্তের প্রতিমূর্তি। কিন্তু যেই পেছনে রাজশক্তির ছায়া ফেলে তখনই ধারণ করে রুদ্রমূর্তি। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়া ইহুদিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চালায় তাদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন, নিপীড়ন। চালায় হত্যাযজ্ঞ।
জেরুজালেম ছিল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধীন। নিস্তার পায়নি সেখানকার ইহুদিরা। লাঞ্ছিত হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে বারংবার। রোমান সম্রাট যে পদ্ধতিতে ইহুদি নিধনযজ্ঞ চালায়, খ্রিস্টান যাজকরা একই প্রক্রিয়ায় তাদের তাড়িয়ে ফেরে। এ প্রক্রিয়া থাকে আরবীয় মুসলিমদের আগমন পর্যন্ত। মুসলমানদের আগমন জেরুজালেমের ইহুদিদের জীবনে আনে স্বস্তি। প্রাণে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা মেলে।