ভূপৃষ্ঠের এই পাঁচটি গঠন দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে আলাদা। পাহাড় হল নিচু ও গোলাকার, পর্বত উঁচু ও তীক্ষ্ণ শীর্ষ বিশিষ্ট। মালভূমি সমতল উপরিভাগসহ বিশাল উঁচু ভূখণ্ড। মেসা ছোট ও সমতল ছাদযুক্ত উচ্চভূমি, আর বিউট হলো মেসার চেয়েও সরু এবং খাড়া দেয়ালযুক্ত একটি প্রাকৃতিক স্তম্ভ। 


1

পৃথিবীতে বহু গোপন সংগঠনের গল্প প্রচলিত আছে। ইলুমিনাতি, ফ্রিমেসন, স্কাল এন্ড বোন, রথচা৳ল্ড কিংবা বিল্ডারবার্গ গ্রুপের নাম অনেকেই আপনারা শুনেছেন। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ধারণাগুলোর একটি হলো কমিটি অফ ৩০০। কারন এই সংগঠনের কোনো প্রকাশ্য অফিস, ওয়েবসাইট, সদস্য তালিকা বা আনুষ্ঠানিক অস্তিত্বের প্রমাণ নেই। তবুও বিশ্বের বড় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করে একটি অদৃশ্য শক্তি, যার নাম কমিটি অফ ৩০০। যেখানে সরকার, নির্বাচন বা আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো কেবল দৃশ্যমান অংশ প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পর্দার আড়ালে তাদের হাত ধরে।

https://en.wikipedia.org/wiki/Committee_of_300

https://youtu.be/cEHB-Z0QxVo?si=epjoorYchUkklaRm

১৯৭০-এর দশকে ব্রিটিশ লেখক জন কোলম্যানের  The Committee of 300 বইয়ের তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রভাব কমে যাওয়ার পর একটি শক্তিশালী গোপন গোষ্ঠী বিশ্বব্যবস্থাকে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করতে শুরু করে। যদিও অনেক গবেষকের মতে, এ ধারণার শিকড় আরও পুরোনো। উনিশ শতকের শেষভাগ থেকেই ইউরোপের ধনী ব্যাংকার পরিবার ও অভিজাত গোষ্ঠীকে ঘিরে ক্ষমতার গোপন কেন্দ্র নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত ছিল। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে এই বিশ্বাস জন্ম নেয় যে পৃথিবীতে আগামীতে সব ছোট-বড় ঘটনা কয়েকজন প্রভাবশালী মানুষের হাতেই নির্ধারিত হয়।

https://youtu.be/MxDwLLr2lOo?si=cUOlvdpIw4r5BXTz

এই তত্ত্ব অনুযায়ী, গণতন্ত্র মূলত একটি ভ্রম। সাধারণ মানুষ মনে করে তারা ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করছে, অথচ বাস্তবে নেতাদের উত্থান, ক্ষমতায় আসা ও নীতিনির্ধারণের পেছনে কাজ করে একটি অদৃশ্য গোষ্ঠী। কথিত এই কাঠামোর শীর্ষে রয়েছে ৩০০ জন প্রকৃত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী, তাদের নিচে কয়েক হাজার পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী এবং আরও বিস্তৃত পর্যায়ে বিভিন্ন সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ নাও থাকতে পারে, কিন্তু একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য ও স্বার্থ তাদের পরিচালিত করে বলে এই তত্ত্বে দাবি করা হয়।

এই গোষ্ঠী কখনো প্রকাশ্যে ক্ষমতা দখল করে না; বরং সংকট সৃষ্টি করে, তারপর সেই সংকটের সমাধান হিসেবে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত নীতি প্রতিষ্ঠা করে। অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে তারা এমন পরিস্থিতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খুলে দেয়। একই সঙ্গে বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে ভবিষ্যতের নেতা, অর্থনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তৈরি করা হয় বলেও দাবি করা হয়। জনমত গঠন, কোন বিষয় আলোচনায় থাকবে আর কোনটি আড়ালে থাকবে—এসবও নাকি পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার অভিযোগ এই তত্ত্বে উল্লেখ রয়েছে।https://medium.com/@the.../the-committee-of-300-25bc3d4b3f11

কমিটি অফ ৩০০-এর সমর্থকেরা প্রায়ই কয়েকটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন—রয়েল সোসাইটি, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড, রথচা৳ল্ড পরিবার, বিল্ডারবার্গ গ্রুপ, ট্রাইল্যাটারাল কমিশন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। এসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে এই তত্ত্বের দাবি হলো, এগুলো নাকি আরও বৃহত্তর একটি গোপন ক্ষমতা কাঠামোর অংশ। যদিও এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।https://youtu.be/nIASTs0j2JE?si=Fetg43VTQ2FdyUx3

এই ধারণা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ পৃথিবীর জটিল বাস্তবতা। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, পরিবেশ বিপর্যয় বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সহজ ব্যাখ্যা মানুষ সব সময় খুঁজে পায় না। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এসব কি কেবল ঘটনাচক্র, নাকি এর পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত শক্তি কাজ করছে? পাশাপাশি সরকারের ব্যর্থতা, জনপ্রিয় সংস্কৃতি, সিনেমা, উপন্যাস এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য তথ্যও এই ধারণাকে আরও জনপ্রিয় করেছে। যেহেতু কমিটি অফ ৩০০-এর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই, তাই নানা কল্পনা ও দাবি মানুষের আগ্রহ বাড়ায়।https://rumble.com/embed/ucfsd.v3g8uue/

সবচেয়ে বড় আপত্তি হলো—এর অস্তিত্বের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি, সদস্য তালিকা, ছবি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই। অধিকাংশ ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক একে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা (Conspiracy Theory) হিসেবেই বিবেচনা করেন। তাঁদের মতে, বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি ও ইতিহাস এতটাই জটিল যে কয়েকশ মানুষ বসে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। @ Farhan Sadik Nafij



2


পৃথিবীর ইতিহাসে বড় কোনো ঘটনা ঘটলেই তার সঙ্গে প্রায়শই জন্ম নেয় অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। চাঁদে মানুষের অবতরণ, ৯/১১ হামলা, মহামারি, টিকা, জলবায়ু পরিবর্তন, এমনকি মহাকাশ গবেষণার বিষয়ে নানা বিকল্প ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব তত্ত্বের অনেকগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলেও লক্ষ লক্ষ মানুষ সেগুলো বিশ্বাস করেন। প্রশ্ন হলোঃ "কেন?"

এর উত্তর মানুষের মনোবিজ্ঞান, সামাজিক আচরণ এবং তথ্য গ্রহণের পদ্ধতির মধ্যে লুকিয়ে আছে। মানুষের মস্তিষ্ক স্বভাবগতভাবেই প্যাটার্ন বা সম্পর্ক খুঁজতে ভালোবাসে। বিবর্তনের ধারায় এই ক্ষমতা আমাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে। ঝোপের শব্দে বাতাস নাকি শিকারি প্রাণী—দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই প্রবণতা কখনো কখনো এমন জায়গাতেও সম্পর্ক খুঁজে পায়, যেখানে বাস্তবে কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে অনেকেই কাকতালীয় ঘটনাকেও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অনিশ্চয়তা ও ভয়। যখন সমাজে যুদ্ধ, মহামারি, অর্থনৈতিক সংকট বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন মানুষ সহজ ও নিশ্চিত ব্যাখ্যা খুঁজতে চায়। "এটি কিছু শক্তিশালী মানুষের পরিকল্পনা" এই ধারণা অনেকের কাছে "আমরা জানি না কী ঘটেছে" এর চেয়ে মানসিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়। কারণ অজানা বাস্তবতা অনেক সময় পরিকল্পিত শত্রুর চেয়েও বেশি ভীতিকর।

নিয়ন্ত্রণের অনুভূতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। যদি কেউ বিশ্বাস করে যে সবকিছুর পেছনে একটি গোপন পরিকল্পনা রয়েছে, তাহলে অন্তত তার মনে হয় ঘটনাগুলো এলোমেলো নয়। এই বিশ্বাস বাস্তব সমস্যার সমাধান না করলেও মানসিকভাবে একটি ব্যাখ্যার অনুভূতি দেয়।

মানুষের আরেকটি স্বাভাবিক প্রবণতা হলো কনফার্মেশন বায়াস। অর্থাৎ আমরা সাধারণত সেই তথ্যই বেশি গ্রহণ করি, যা আমাদের আগের বিশ্বাসকে সমর্থন করে; আর বিপরীত তথ্যকে সহজেই অগ্রাহ্য করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমও একই ধরনের বিষয় বারবার দেখিয়ে এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে একটি ইকো চেম্বারের মধ্যে আটকে যেতে পারে, যেখানে কেবল নিজের বিশ্বাসের প্রতিধ্বনিই শোনা যায়।

অনেকের কাছে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্বাস করা একটি পরিচয়ের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করেন, তারা এমন একটি গোপন সত্য জানেন যা সাধারণ মানুষ জানে না। এই অনুভূতি মানুষকে বিশেষ বা ব্যতিক্রমী হওয়ার মানসিক তৃপ্তি দিতে পারে। তাই নতুন প্রমাণ এলেও তারা অনেক সময় নিজের বিশ্বাস পরিবর্তন করতে চান না।

তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি যে সব ষড়যন্ত্রের অভিযোগই মিথ্যা নয়। ইতিহাসে সত্যিকারের গোপন ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি, কর্পোরেট প্রতারণা এবং অবৈধ গোপন কর্মসূচির বহু প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু কোনো দাবি সত্য হওয়ার জন্য কেবল সন্দেহ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন যাচাইযোগ্য ও স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা যায় এমন প্রমাণ। বিজ্ঞানের মূল শক্তি এখানেই। এটি দাবি নয়, প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এগুলো অনেক সময় মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়। ভুয়া চিকিৎসা গ্রহণ, জীবনরক্ষাকারী টিকা প্রত্যাখ্যান, বিজ্ঞানীদের প্রতি অবিশ্বাস, সামাজিক বিভাজন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা কমে যাওয়ার মতো বাস্তব ক্ষতি এর মাধ্যমে ঘটতে পারে।

তাহলে কীভাবে আমরা সত্য ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মধ্যে পার্থক্য করব? প্রথমত, কোনো তথ্য শুনেই বিশ্বাস বা অস্বীকার না করে তার উৎস যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দাবিটির পক্ষে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আছে কি না তা দেখতে হবে। তৃতীয়ত, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য কী সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন ও শক্তিশালী প্রমাণ এলে নিজের মত পরিবর্তন করার মানসিক প্রস্তুতি রাখা।

বিজ্ঞান সন্দেহ করতে শেখায়, কিন্তু সেই সন্দেহের উত্তর খুঁজতে প্রমাণের পথ অনুসরণ করতে শেখায়। অন্যদিকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রায়ই সন্দেহকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বোঝাই একজন সমালোচনামূলক চিন্তাশীল মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

মানুষের কৌতূহল আমাদের সভ্যতার অন্যতম বড় শক্তি। কিন্তু সেই কৌতূহল যদি প্রমাণের বদলে কেবল অনুমানকে অনুসরণ করে, তবে তা আমাদের সত্যের কাছাকাছি নয়, বরং আরও দূরে নিয়ে যেতে পারে। তাই প্রশ্ন করুন, সন্দেহ করুন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিন তথ্য, যুক্তি এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই। @Bigyan Tottho


3


পোল্ট্রির মুরগি, বিশেষ করে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। মূল উদ্বেগের জায়গাগুলো মূলত তিনটি: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া), হরমোন ও গ্রোথ প্রোমোটার এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ।

​নিচে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং শক্তিশালী কিছু গবেষণার রেফারেন্সসহ মূল প্রভাবগুলো তুলে ধরা হলো:

​১. সুপারবাগ এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Superbugs & Antibiotic Resistance)

​বাণিজ্যিক পোল্ট্রি ফার্মগুলোতে মুরগিকে দ্রুত বড় করতে এবং রোগমুক্ত রাখতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। এর ফলে মুরগির শরীরে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী (Superbugs)। এই মুরগি খাওয়ার মাধ্যমে বা ফার্মের সংস্পর্শে এসে মানুষের শরীরেও সেই রেজিস্ট্যান্স ছড়িয়ে পড়ে।

​গবেষণা ও রেফারেন্স: The Lancet Infectious Diseases (2017)

​গবেষণার বিষয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ল্যানসেটের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে যে, পোল্ট্রি ও অন্যান্য গবাদি পশুতে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মানুষের শরীরে E. coli এবং Salmonella এর মতো ব্যাকটেরিয়াগুলো প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এর ফলে সাধারণ ইনফেকশনও এখন মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

​গবেষণা ও রেফারেন্স: Science (2019 - "Global trends in antimicrobial resistance in animals")

​মূল তথ্য: এই গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে (যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া অন্যতম) পোল্ট্রি ফার্মে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের হার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে টেট্রাসাইক্লিন ও পেনিসিলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলো কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

​২. ক্রনিক ইনফেকশন এবং ইউটিআই (Urinary Tract Infections - UTI)

​মুরগির মাংসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করা রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বিভিন্ন ইনফেকশন তৈরি করতে পারে।

​গবেষণা ও রেফারেন্স: American Society for Microbiology (mBio, 2023)

​গবেষণার বিষয়: জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারমার্কেটে বিক্রি হওয়া পোল্ট্রি মুরগির শরীরের E. coli ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ এবং মানুষের মারাত্মক ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)-এর ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ-র মধ্যে সরাসরি মিল রয়েছে। গবেষণার অনুমান, প্রতি বছর শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই হাজার হাজার ইউটিআই কেসের পেছনে দায়ী এই পোল্ট্রির ব্যাকটেরিয়া।

​৩. ফুড পয়জনিং বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (Foodborne Illness)

​পোল্ট্রি প্রসেসিংয়ের সময় অসাবধানতার কারণে মুরগির মাংসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়, যা মানুষের পেটের রোগের প্রধান কারণ।

​গবেষণা ও রেফারেন্স: Centers for Disease Control and Prevention (CDC) & EFSA Report

​মূল তথ্য: ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA) এবং সিডিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, Campylobacter এবং Salmonella সংক্রমণের প্রধান উৎস হলো ঠিকমতো রান্না না করা পোল্ট্রির মাংস। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মানুষের পরিপাকতন্ত্রে তীব্র সংক্রমণ, ডায়রিয়া এবং ক্র্যাম্প তৈরি করে।

​৪. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রারম্ভিক বয়ঃসন্ধি (Hormonal Imbalance & Early Puberty)

​যদিও আধুনিক পোল্ট্রি বিজ্ঞানে সরাসরি হরমোন ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়টি অনেক দেশে নিষিদ্ধ, তবুও কিছু বাণিজ্যিক ফার্মে দ্রুত বৃদ্ধির জন্য গ্রোথ প্রোমোটার বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মুরগির স্ট্রেস হরমোনও মাংসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

​গবেষণা ও রেফারেন্স: Journal of Clinical Research in Pediatric Endocrinology (2019)

​গবেষণার বিষয়: এই গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ব্রয়লার মুরগি খাওয়া শিশুদের (বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের) ক্ষেত্রে "ইডিওপ্যাথিক প্রিকোসিয়াস পিউবার্টি" বা সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধি আসার প্রবণতা বাড়ছে। মুরগির মাংসে থাকা এস্ট্রোজেন-সদৃশ উপাদান বা গ্রোথ কেমিক্যালকে এর জন্য আংশিক দায়ী করা হয়। অনেক কম বয়সে পিরিয়ড শুরু হওয়ার ঘটনা আশা করি প্রায়শই আজকাল শুনতে পান, তাই না?

​সতর্কতা ও বাঁচার উপায়:

গবেষণাগুলো মূলত অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত পোল্ট্রি খাওয়ার নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে। তবে ভালো মানের ফার্মের মুরগি, যা সঠিক নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক মুক্ত রেখে পালন করা হয় এবং উচ্চ তাপমাত্রায় (কমপক্ষে ৭৪° সেলসিয়াস বা ১৬৫° ফারেনহাইট) ভালো করে রান্না করা হয়, তা ব্যাকটেরিয়াজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়(বলাই বাহুল্য এইধরণের "ভালো ফার্ম" নেই বললেই চলে)

ব্রয়লার মুরগির ফার্ম থেকে বীভৎস দুর্গন্ধ বেরোয়।

ব্রয়লার মুরগির ফার্মের তীব্র ও ঝাঁঝালো দুর্গন্ধের পেছনে মূলত নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক ও পরিবেশগত কারণ রয়েছে। যে খাদ্য উৎপাদনেই এত দুর্গন্ধ, পরিবেশ যার এত দূষিত সেখান থেকে আসা খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ?

​নিচে দুর্গন্ধের বৈজ্ঞানিক কারণ এবং এটি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, তা বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।

​১. ফার্মে এত দুর্গন্ধ হওয়ার আসল কারণ কী?

​ব্রয়লার ফার্মের দুর্গন্ধ কোনো সাধারণ পচনশীল গন্ধ নয়, এটি মূলত একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

​অ্যামোনিয়া (NH_3) এবং হাইড্রোজেন সালফাইড (H_2S): মুরগির মল বা বিষ্ঠায় প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন এবং সালফার থাকে। ফার্মের মেঝেতে থাকা কাঠের গুঁড়ো বা তুষের (Litter) সাথে যখন এই মল মেশে, তখন সেখানে ব্যাকটেরিয়া ভাঙন শুরু করে। এই ভাঙনের ফলে বাতাসে তীব্র অ্যামোনিয়া এবং পচা ডিমের মতো গন্ধযুক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়ায়।

​অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও গাদাগাদি পরিবেশ: বাণিজ্যিক ফার্মগুলোতে খুব ছোট জায়গায় হাজার হাজার মুরগি ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়। মুরগির শ্বাস-প্রশ্বাস, মলমূত্র এবং পানের জল পড়ে মেঝে সবসময় স্যাঁতসেঁতে থাকে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের (Ventilation) অভাব হলে এই আর্দ্রতা গ্যাস তৈরির প্রক্রিয়াকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

​উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার: ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করার জন্য যে ফিড (খাবার) দেওয়া হয়, তাতে প্রোটিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে। মুরগির পরিপাকতন্ত্র এই প্রোটিনের পুরোটা শোষণ করতে পারে না, ফলে মলের সাথে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন নির্গত হয়, যা গন্ধের তীব্রতা বাড়ায়।

​২. যে খাবারে এত দুর্গন্ধ, তা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

​সরাসরি বলতে গেলে—যে পরিবেশ থেকে এই তীব্র দুর্গন্ধ আসছে, সেই পরিবেশটি মুরগি এবং মানুষ উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর। তবে বিষয়টি একটু গভীরভাবে বোঝা দরকার:

​ক) মুরগির মাংসের ওপর প্রভাব

​তীব্র অ্যামোনিয়াযুক্ত বদ্ধ পরিবেশে থাকা মুরগিগুলো ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক চাপে (Stress) থাকে।

​শ্বাসনালীর রোগ: এই গ্যাসের কারণে মুরগির ফুসফুস ও শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে তারা সহজেই বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

​ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা: রোগ এড়াতে খামারিরা তখন আরও বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে বাধ্য হন। ফলে মাংসের পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি বাড়ে।

​খ) খামারি ও আশেপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

​গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগি খাওয়ার চেয়েও এই দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের বাতাস মানুষের জন্য সরাসরি বেশি ক্ষতিকর।

​Respiratory Medicine (2021) জার্নালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পোল্ট্রি ফার্মের কর্মী এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাসের হার অনেক বেশি।

​বাতাসে ভেসে থাকা এন্ডোটক্সিন (Endotoxin) নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়াল কণা ফুসফুসে তীব্র প্রদাহ তৈরি করে।

​গ) মাংস রান্নার পর কি গন্ধের প্রভাব থাকে?

​মুরগি সঠিকভাবে প্রসেস করার পর এবং উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে এই গ্যাসগুলো (অ্যামোনিয়া বা হাইড্রোজেন সালফাইড) মাংসে অবশিষ্ট থাকে না। তাই রান্না করা মাংস খেলে সরাসরি গ্যাসের বিষক্রিয়া হবে না। কিন্তু পরোক্ষ ক্ষতিটি রয়েই যায়—অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বড় হওয়া মুরগির মাংসের গুণগত মান (Meat Quality) প্রাকৃতিকভাবে মুক্ত পরিবেশে বড় হওয়া মুরগির (যেমন দেশি মুরগি) চেয়ে অনেক কম হয়।

​সারকথা:

দুর্গন্ধযুক্ত পোল্ট্রি ফার্ম মূলত ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের ফল। আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত 'বায়োসিকিউরিটি' এবং উন্নত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করলে এই গন্ধ ৯০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব। যে ফার্মে দুর্গন্ধ যত বেশি, বুঝতে হবে সেখানকার মুরগির স্বাস্থ্য এবং মাংসের মান ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ।

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গভীর এবং দূরদর্শী। দুই দশক বা তার কিছু আগে গ্রামীণ বা আধা-শহুরে জীবনে বাড়ির আঙিনায় মুক্ত অবস্থায় (Backyard Poultry) মুরগি পালনই ছিল প্রধান উৎস। সেখানে এমন তীব্র, দমবন্ধ করা পরিবেশ বা দুর্গন্ধ ছিল না।

​তাহলে কেন এই আমূল পরিবর্তন? কেন একটি বিতর্কিত ও অস্বাস্থ্যকর জেনেও এই ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলো? এর পেছনে বৈজ্ঞানিক, রাজনৈতিক এবং পুঁজিবাদের একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট সমীকরণ রয়েছে।

​চলুন, রাজনৈতিক-অর্থনীতি (Political Economy) এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে এর ভেতরের সত্যটা বিশ্লেষণ করা যাক।

​১. কেন এই ইন্ডাস্ট্রি আনা হলো? (বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট)

​দুই দশক আগে মানুষ অবশ্যই মাংস খেত, তবে তা ছিল মূলত "উৎসবকেন্দ্রিক" বা সাময়িক। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মাংসের উপস্থিতি আজকের মতো ছিল না। এই ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল "সস্তা ও দ্রুত প্রোটিনের জোগান দেওয়া"।

​জনসংখ্যা বিস্ফোরণ ও নগরায়ন: ২০ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ্বজুড়ে (বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়) জনসংখ্যা এবং নগরায়ন দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রথাগত দেশি মুরগি ডিম থেকে বড় হতে ৫ থেকে ৬ মাস সময় নেয়। কিন্তু ল্যাবরেটরিতে জেনেটিক সিলেকশনের মাধ্যমে তৈরি ব্রয়লার মুরগি মাত্র ৩৫ থেকে ৪২ দিনে বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়।

​পুষ্টির রাজনীতিকীকরণ (Nutritional Policy): জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিভিন্ন দেশের সরকার অপুষ্টি দূর করতে এবং প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে "কম খরচে মাংস উৎপাদন"কে জাতীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করে।

​বৈজ্ঞানিক স্টাডি: আন্তর্জাতিক জার্নাল World's Poultry Science Journal (2016)-এর একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে 'ভার্টিক্যাল ইন্টিগ্রেশন' (Vertical Integration) মডেলের মাধ্যমে মুরগিকে একটি জৈবিক প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ একটি "কারখানাজাত পণ্যে" রূপান্তর করা হয়েছে।

​২. পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির রাজনৈতিক কারণ (The Politics of Meat)

​পোল্ট্রি খাতের প্রসারের পেছনে তীব্র ভূ-রাজনীতি এবং করপোরেট লবিং জড়িয়ে আছে। এর প্রধান রাজনৈতিক কারণগুলো হলো:

​ভর্তুকি ও সস্তা ভুট্টার রাজনীতি (The Grain Lobby): আমেরিকা এবং ইউরোপে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো (যেমন Cargill, ADM) বিপুল পরিমাণে ভুট্টা এবং সয়াবিন উৎপাদন করে। এই অতিরিক্ত শস্যের বাজার তৈরি করার জন্য পোল্ট্রি ফিড (মুরগির খাবার) একটি আদর্শ খাত হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সয়াবিন ও ভুট্টা এশিয়ার বাজারে রপ্তানি করার জন্য এই অঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্পকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালার মাধ্যমে উৎসাহিত করে।

​খাদ্য নিরাপত্তা বনাম খাদ্য সার্বভৌমত্ব: রাষ্ট্রগুলোর কাছে "খাদ্য নিরাপত্তা" (Food Security) মানে হলো মানুষের থালায় সস্তায় খাবার পৌঁছে দেওয়া, তা সেটার মান যতই খারাপ হোক না কেন। এতে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ কম থাকে। কিন্তু এর ফলে "খাদ্য সার্বভৌমত্ব" (Food Sovereignty) বা স্থানীয় কৃষকের নিজস্ব পদ্ধতিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের অধিকার খর্ব হয়।

​৩. এই উৎপাদনের ক্ষমতা কাদের হাতে? কারা মুনাফা করে? এই ক্ষমতার মালিক কারা?

বর্তমান পোল্ট্রি শিল্প আর পাঁচটা সাধারণ কৃষিকাজের মতো স্বাধীন নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে করপোরেট নিয়ন্ত্রিত।

​ক) গ্লোবাল মনোপলি (বীজ ও ফিডের নিয়ন্ত্রণ):

​ব্রয়লার মুরগির যে বাচ্চা (Chicks) খামারিরা লালন-পালন করেন, তার "প্যারেন্ট স্টক" মাত্র দু-তিনটি বৈজ্ঞানিক বহুজাতিক কোম্পানির হাতে বন্দি (যেমন: Aviagen এবং Cobb-Vantress)। অর্থাৎ, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের খামারি চাইলেও নিজে থেকে ব্রয়লার মুরগির বংশবৃদ্ধি করতে পারবেন না। প্রতিবার তাকে এই করপোরেটদের কাছ থেকেই বাচ্চা কিনতে হবে।

​খ) চুক্তিবদ্ধ চাষ বা কন্ট্রাক্ট ফার্মিং (Contract Farming):

​আজকাল স্থানীয় ছোট খামারিরা স্বাধীন নন। Tyson Foods (আমেরিকা) কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার বড় বড় করপোরেট গ্রুপগুলো কন্ট্রাক্ট ফার্মিং মডেল চালায়।

​কর্পোরেটদের নিয়ন্ত্রণ: কোম্পানি খামারিকে বাচ্চা, ফিড এবং ওষুধ দেয়। খামারি শুধু শ্রম ও তার জমি ব্যবহার করে মুরগি বড় করেন।

​মুনাফার বণ্টন: মুরগি বিক্রির সিংহভাগ মুনাফা চলে যায় করপোরেটদের পকেটে। আর তীব্র দুর্গন্ধ, বর্জ্যের পরিবেশগত ক্ষতি এবং রোগব্যাধির সমস্ত ঝুঁকি বহন করতে হয় স্থানীয় খামারি ও সেই এলাকার সাধারণ মানুষকে। পোলট্রি ফার্ম আছে এমন যে কোনও জায়গার মানুষের সঙ্গে কথা বললে বুঝতে পারবেন।

​বৈজ্ঞানিক ও সমাজতাত্ত্বিক স্টাডি: প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম এইচ. ফ্রাইডল্যান্ড (William H. Friedland) এবং ফিলিপ ম্যাকমাইকেল (Philip McMichael)-এর "গ্লোবাল ফুড রেজিমস" (Global Food Regimes) তত্ত্বের ওপর করা গবেষণাগুলো স্পষ্ট দেখায় যে, কীভাবে বিশ্বায়নের যুগে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ক্ষমতা কৃষকের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মুষ্টিমেয় গ্লোবাল এলিট ও বহুজাতিক পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

​সারসংক্ষেপ:

​দুই দশক আগের ব্যবস্থায় পুষ্টির কোনো ঘাটতি ছিল না, কারণ তখন মানুষের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য ছিল (স্থানীয় মাছ, শাকসবজি, ডাল এবং দেশি পশুপাখি)। পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির আসল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ নয়, বরং পুঁজিবাদের এমন এক চেইন তৈরি করা, যেখানে ফিড প্রস্তুতকারক, ওষুধ কোম্পানি এবং মাংসের করপোরেট জায়ান্টরা প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি ডলার মুনাফা করতে পারে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্য এবং আমাদের পরিবেশকে। পুষ্টির যোগান? নাকি ডিপ ফ্রাই করে হাজারে হাজারে ফ্রোজেন ভাজা মাংস মানুষকে খেতে প্রলোভিত করা? আপনার শহর মফস্বলের অজস্র রেস্ত্রোঁ, ডিপ ফ্রায়েড চিকেন এর কাউন্টারে হামলে পড়া ভীড় দেখে কী মনে হয়? যারা রাতদিন এসব খাচ্ছে তাদের টাকার অভাব? তারা পুষ্টির জন্য ওসব খেতে এসেছে?

আর একটা কথা, শেষ কবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পালিত মুরগির ডিম মাংস খেয়েছেন? ওই ডিম মাংসের স্বাদ আর দুর্গন্ধ ভরা পোল্ট্রির মুরগির ডিম মাংসের স্বাদের ফারাক কতখানি?

@  বিজ্ঞানকথা


4


এই ৩টি অমূল্য নিয়ম সবার জীবনেই সমানভাবে কার্যকর:

অনুশাসন বা ডিসিপ্লিন (Discipline):

· ‎সহজ কথা: নিজেকে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা।

· ‎দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ: অনুশাসন মানে বাইরের কোনো নিয়ম নয়, এটি হলো নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ। ধরুন, আপনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করলেন যে আজ থেকে স্বাস্থ্যের যত্ন নেবেন, ফাস্টফুড খাওয়া কমিয়ে দেবেন, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন কিংবা অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাবেন; তবে তা যেকোনো পরিস্থিতিতে মেনে চলাই হলো অনুশাসন। অনেকেই শুরুতে বড় বড় পরিকল্পনা করেন, কিন্তু কিছুদিন পর তা আর মানেন না। নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অনড় থাকা এবং ক্ষণিকের আবেগের বশে লক্ষ্য থেকে সরে না যাওয়াই হলো আসল ডিসিপ্লিন।

ধারাবাহিকতা বা কনসিস্টেন্সি (Consistency):

· ‎সহজ কথা: কাজ যতই কঠিন হোক, হাল না ছেড়ে প্রতিদিন নিয়মিত একটু একটু করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

· ‎দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ: কোনো কাজ ১ বা ২ মাস করার পর ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। আমাদের জীবনে নানারকম বাধা বা পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা আসবেই। কিন্তু মনে রাখবেন, সমস্যা সবার জীবনেই থাকে, একমাত্র মৃত মানুষের জীবনে

কোনো সমস্যা থাকে না। তাই সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে। বছরের যেকোনো দিন বা মেজাজ (Mood) যেমনই হোক না কেন, প্রতিদিন নিজের স্বপ্নের পেছনে একটু করে সময় দেওয়াই হলো ধারাবাহিকতা। কাজের শুরুতে কষ্ট হলেও নিয়মিত করতে করতে একসময় তা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।

আত্মবিশ্বাস বা বিলিফ (Belief):

· ‎সহজ কথা: নিজের যোগ্যতা এবং নিজের স্বপ্নের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখা।

· ‎দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ: সমাজ, প্রতিবেশী বা আশেপাশের মানুষ অনেক সময় আপনার পরিকল্পনার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করতে পারে। তারা আপনাকে বলতে পারে, "তুমি এটা পারবে না" বা "তোমার এই চিন্তা অবাস্তব।" অন্যের এমন নেতিবাচক কথায় কান দিয়ে নিজের প্রচেষ্টা থামিয়ে দিলে আপনি শুরুতেই হেরে গেলেন। দুনিয়া আপনার সম্পর্কে কী ভাবছে তা ভুলে যান। নিজের কর্ম ও ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখুন যে আপনি পারবেন। যদি আপনার মনের ভেতর এই বিশ্বাসটি দৃঢ় থাকে, তবে পৃথিবীর কোনো বাঁধাই আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না।

        ‎শেষ কথা

‎আজ থেকেই আপনার দৈনন্দিন কাজে এই ৩টি গুণের চর্চা শুরু করুন। এই ছোট ছোট ‎পরিবর্তনগুলোই একদিন আপনার জীবনে বড় এবং ইতিবাচক সাফল্য নিয়ে আসবে।

@ gayan


শিক্ষাখাতে অবদান রাখা 

কাতারের সাবেক আমির হামাদ বিন খলিফা আলথানি তার বাপকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করার পরপরই রিয়েলাইজ করতে পারছে যে তার দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৩ লাখ। এই লোকবল দিয়ে ঠিকঠাক একটা গুণ্ডাবাহিনি চালানোই সম্ভব না। আর্মি তো দূর। তাহলে কী করা যায়? বিকল্প হিসেবে তারা সফট পাওয়ারকে বেছে নেয়। যেখানে অস্ত্রশস্ত্রের পরিবর্তে জ্ঞানই হল প্রধান অস্ত্র। সে বছরই কাতার ফাউন্ডেশন গঠন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষাখাতে অবদান রাখা। পশ্চিমের বাঘা বাঘা ইউনিভার্সিটিগুলো যেন কাতারে ক্যাম্পাস খুলেবিদেশী বড় বড় ইউনিভার্সিটিগুলো কাতারে ক্যাম্পাস খুললে খরচ বহন করবে কাতার সরকার। ২০০১ সালে আমেরিকার আইভি লীগ ইউনিভার্সিটি ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজ কাতারে ক্যাম্পাস খুলে।  জাস্ট একটা ক্যাম্পাস ওয়েইল মেডিক্যাল কলেজের প্রথম দশ বছরের খরচ ছিল ৭৫০ মিলিয়ন ডলার! বাংলা টাকায় বর্তমান হিসেবে ৯২ হাজার কোটি টাকা! কাতারের দোহায় গোটা সিটির নামই আছে এডুকেশন সিটি। এটা করাই হইছে ইউনিভার্সিটিগুলোর জন্য। সেসব ক্যাম্পাস আর রাষ্ট্রের বিনিয়োগের আউটপুট কাতার এখন ভোগ করতেছে। সোশ্যাল সায়েন্সে, স্পেশালি নেগোশিয়েসনে কাতারিদের অবস্থান পৃথিবীর শীর্ষে।



5


আমাদের মোটা ঘাড় নিয়ে চলাফেরা করা স্বাভাবিক ভাবা উচিত নয়।  

এটি মূলত নিচের সমস্যাগুলোর লক্ষণ:

* ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মূল কারণ)

* প্রি-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিসের পূর্বলক্ষণ)

* উচ্চ রক্তচাপ

* মেটাবলিক ফেইলিওর (বিপাকীয় কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া)

> যখন আপনি এমন ঘাড়ওয়ালা কোনো নারীর দেখা পাবেন, তখন নিশ্চিত থাকবেন যে তিনি হয় হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন অথবা অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার ও চিনি খাচ্ছেন, যার ফলে তার হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

এর ফলে তার পিরিয়ডের সমস্যা, কম যৌন ইচ্ছা এবং উর্বরতার সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া তিনি যদি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

যদি আপনি এমন ঘাড়ওয়ালা কোনো পুরুষের দেখা পান, তবে বুঝতে হবে তার যৌন অক্ষমতা রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে এবং তিনি রাতে নাক ডাকেন। আপনার ডায়েট ঠিক করে এবং শারীরিক কসরত বাড়িয়ে এই ঘাড় ঠিক করুন। আপনার ঘাড়কে ব্যাঙের মতো হতে দেবেন না।

মুখে চর্বি জমা এবং ডাবল চিন থাকার কারণে আপনাকে আপনার আসল বয়সের চেয়ে বেশি বয়স্ক দেখাতে পারে। স্থায়ীভাবে মুখের চর্বি দূর করার ৫টি ধাপ নিচে দেওয়া হলো:

১. ঘন ঘন স্ন্যাক্স বা হালকা খাবার খাওয়া বন্ধ করুন, আপনি বেঁচে থাকার জন্য খাবেন, খাওয়ার জন্য বাঁচবেন না।

যতবারই আপনি খাবার খান, ততবারই আপনার শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। ঘন ঘন স্ন্যাক্স খেলে সারাদিন ইনসুলিনের মাত্রা উঁচুতে থাকে, যা আপনার শরীরকে চর্বি জমানোর মোডে লক করে দেয় এবং চর্বি গলানো কঠিন করে তোলে।

খাবারের মাঝখানে আপনার শরীরকে দীর্ঘ সময় বিরতি দিন। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে, এনার্জি বাড়াতে এবং স্বাভাবিকভাবে চর্বি কমাতে সাহায্য করে। মুখের চর্বি কেবল চর্বি জমে যাওয়া নয়, এটি প্রায়শই হরমোনজনিত কারণে হয়।

কর্টিসল (ধকল সৃষ্টিকারী হরমোন) পেশি ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিডকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করতে পারে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখে এবং পরোক্ষভাবে ইনসুলিনের মাধ্যমে চর্বি জমাতে সাহায্য করে।

**উচ্চ মাত্রার কর্টিসল চর্বি জমার স্থান পরিবর্তন করে দিতে পারে:

* মুখমণ্ডল (ফোলা ভাব, ডাবল চিন)

* পেট

* পিঠের ওপরের অংশ (মহিষের কুঁজের মতো)

এটি পায়ের এবং নিতম্বের পেশির ভরও কমিয়ে দিতে পারে। কর্টিসল কমানো এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা উন্নত করা মুখের ফোলা ভাবসহ সামগ্রিক চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২. ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent Fasting)

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আপনার শরীরকে ইনসুলিনের মাত্রা কমানোর এবং চর্বি পোড়ানোর মোডে যাওয়ার সময় দেয়। দিনে ২ বেলা খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং রাতের উপবাসের সময়টা দীর্ঘ করুন।

এটি ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে, অসময়ে খাওয়ার ইচ্ছা কমাতে এবং সময়ের সাথে সাথে চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

৩. কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার কমান

কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিমাণ কমালে তা ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে এবং চর্বি গলাতে সাহায্য করে। ভাত, চিনি, রুটি এবং রিফাইনড স্টার্চ যেমন চিপস, আলু, পাস্তা ইত্যাদি যথাসম্ভব কমানোর দিকে মনোযোগ দিন।

এটি সময়ের সাথে সাথে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, শক্তির ভারসাম্য এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

৪. উচ্চ মানের প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান

পর্যাপ্ত প্রোটিন পেশি ধরে রাখতে, মেটাবলিজম বাড়াতে এবং চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাও কমায় এবং পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। গরুর মাংস, ভেড়ার মাংস এবং ডিমের মতো পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারকে তালিকায় অগ্রাধিকার দিন।

৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং ঘুমকে প্রাধান্য দিন

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং কম ঘুম কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং আপনার মেটাবলিজম ব্যাহত করে। প্রতিদিন নিয়মিত, মানসম্মত ঘুম এবং মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনাকে প্রাধান্য দিন। এটি হরমোনের ভারসাম্য, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

> মুখের চর্বি হলো মেটাবলিক বা বিপাকীয় ভারসাম্যের অভাবের একটি প্রাথমিক দৃশ্যমান লক্ষণ। যখন কর্টিসল এবং ইনসুলিনের সমস্যা সমাধান করা হয়, তখন শরীরের অন্যান্য অংশের আগে মুখের পরিবর্তনগুলোই প্রথমে চোখে পড়ে। @ Health Tips Pro


6


রাশিয়া এতটাই বিশাল যে, এর এক প্রান্তে যখন সূর্য মাত্র উঠছে, অন্য প্রান্তে ঠিক একই মুহূর্তে সূর্য ডুবছে! পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রায় ৯,০০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই দেশটি মোট ১১টি টাইম জোন বা সময় অঞ্চলে বিভক্ত। রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের কালিনিনগ্রাদের মানুষ যখন সকালের নাস্তা আর কফি দিয়ে মাত্র দিন শুরু করছেন, ঠিক তখন দূর পূর্বাঞ্চলের কামচাতকার মানুষ রাতের খাবার শেষ করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি কোনো দৃষ্টিভ্রম বা কল্পনা নয় বিশ্বের বৃহত্তম এই দেশটির মানুষের জন্য এটাই প্রতিদিনের বাস্তব চিত্র।

পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় রাশিয়ার টানা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক টাইম জোন থাকার রেকর্ড রয়েছে। এর একেবারে পশ্চিম এবং পূর্ব প্রান্তের অঞ্চলের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় ১০ ঘণ্টা। সময়সূচির জটিলতা এড়াতে বছরের পর বছর ধরে রাশিয়ার রেলওয়ে পুরো নেটওয়ার্ক জুড়ে ‘মস্কো সময়’ ব্যবহার করত। এর ফলে দূর পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের ট্রেন ধরার জন্য সবসময় স্টেশন বা ট্রেনের সময়সূচিকে তাদের স্থানীয় সময়ে হিসাব করে নিতে হতো। এমনকি নতুন বছরের আগমনী ঘণ্টাও এই দেশে একে একে ১১ বার বাজে, কারণ মধ্যরাত উত্তরোত্তর পূর্ব থেকে পশ্চিমে ধাবিত হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশটি যে আসলেই কতখানি মহাবিস্ময়কর ও বিশাল, এটি তারই এক অনন্য স্মারক।

** উৎস:** ওয়ার্ল্ডডেটা.ইনফো, জিওগ্রাফি ওয়ার্ল্ড


7


ঘুম কম হয়েছিল পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। এভাবে কেউ নিজেই ব্যর্থতার একটা  অজুহাত তৈরি করে  । এটাকে বলে সেলফ হ্যান্ডিক্যাপিং। এখানে মানুষ নিজেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যাতে ব্যর্থ হলে দোষটা নিজের যোগ্যতার ওপর না পড়ে বরং বাইরের কোনো কারণের ওপর পড়ে। মস্তিষ্ক আসলে নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করতে চায়। ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার চেয়ে অজুহাত তৈরি করা অনেক সহজ মনে হয়।

গবেষণা কী বলছে

মনোবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জোনস এবং স্টিভেন বার্গলাস ১৯৭৮ সালে একটি পরীক্ষা করেছিলেন। তারা দেখেছিলেন যাদের সাফল্যের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা বেশি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন শর্ত বেছে নেয় যা তাদের পারফরম্যান্স খারাপ করে দিতে পারে। এতে তারা নিজেদের যোগ্যতাকে প্রশ্নের বাইরে রাখতে পারে।


বাস্তব জীবনের উদাহরণ

ঐশী একটা বড় চাকরির ইন্টারভিউর আগের দিন ভাবল পোশাক ঠিকঠাক নেই তাই ভালো করে প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার নেই। ইন্টারভিউ খারাপ হলে সে নিজেকে বলল পোশাকটাই সমস্যা ছিল। আসলে সে নিজের ব্যর্থতার ভয়টাকে আড়াল করার একটা উপায় খুঁজে নিয়েছিল।

সমাধান কী

প্রথমে নিজের এই প্যাটার্নটা চিনুন।

কাজ শুরুর আগে অজুহাত তৈরি হচ্ছে কিনা লক্ষ্য করুন।

ফলাফলের বদলে চেষ্টার ওপর মনোযোগ দিন।

ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন এবং সময়মতো প্রস্তুতি নিন।

এক গ্লাস জল খেয়ে একটু থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আমি কি  সত্যিই  চেষ্টা করছি নাকি নিজেকে ঠকাচ্ছি।

আপনার জীবনে কি কখনো এমন হয়েছে ?

যে ব্যর্থতার আগেই একটা অজুহাত তৈরি করে রেখেছিলেন।

@পার্থপ্রতিমরায়




মলমাস আসলে কি?

প্রতিটি প্রাচীন সভ্যতাই বছর গণনা ও পঞ্জিকা তৈরির জন্য প্রথম চাঁদকে ব্যবহার করে, কারণ মানুষ দেখেছিল চাঁদ একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর উজ্জ্বল (পূর্ণিমা) ও অন্ধকার (অমাবস্যা) হয়। অমাবস্যা-পূর্ণিমা মিলিয়ে ১ চান্দ্রমাস হয়।

অতীতে চাঁদের এই বাড়া-কমাকে নির্ভর করেই বিভিন্ন পূজা, ধর্মীয় উৎসব ও সাধারণ উৎসবের দিন নির্ধারিত হত।

আবার চান্দ্রমাস দুইভাবে নির্ধারিত হত;

প্রাচীন ভারতীয়রা চান্দ্রমাস নির্ধারিত করত যে, চাঁদ কত দিনে ১২টি রাশি ও ২৭টি নক্ষত্রকে অতিক্রম করে, এটা সাদাচোখে ২৭ দিনে হয়, তাই ভারতীয়দের মাস ২৭ দিনের ছিল।

আবার সুমের বা মেসোপোটেমিয়াতে একটি পূর্ণিমা থেকে অপর পূর্ণিমার পূর্বদিন পর্যন্ত ১ চান্দ্র মাস বিবেচনা করা হত।

কিন্তু বাস্তবে চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে একবার পরিভ্রমণ করতে সময় নেয় ২৭.৩২২ দিন, আবার পৃথিবী তো ততদিন এক জায়গায় বসে থাকে না, সূর্যের চারিদিকে পরিভ্রমণ করতে গিয়ে কক্ষপথ ধরে সামনে অগ্রসর হয়, সেক্ষেত্রে চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে যে বিন্দু থেকে পরিভ্রমণ শুরু করেছিলো বলে ধরে নিতে পারি, ঠিক ওই বিন্দুতে আসতে চাঁদের আরো ২.২ দিন সময় বেশি লেগে যায়, সেক্ষেত্রে ২৭.৩২২ দিনের সাথে এই সময়টা বৃদ্ধি করলে হয় ২৯.৫৩ দিন, বাস্তবে ২৯.৫৩ সৌরদিনে দিনে এক চান্দ্রমাস হয়।

প্রাচীন ভারতীয়রা প্রতিটি চান্দ্রমাসকে ৩০টি ভাগে ভাগ করেছিল, এই ৩০টি ভাগের প্রত্যেকটিকে বলা হয় তিথি।

অমাবস্যার পরবর্তী তিথি থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত ১৫টি তিথি নিয়ে গঠিত ভাগটি শুক্লপক্ষ বলা হয়। আবার পূর্ণিমার পরবর্তী তিথি থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত ১৫টি তিথি নিয়ে গঠিত ভাগটির নাম কৃষ্ণপক্ষ নামে অভিহিত হয়ে থাকে।

শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষ মিলিয়ে প্রতি চান্দ্র মাসে ৩০টি তিথি হয়, তিথি গুলি হল প্রতিপদ (প্রথমা), দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী, পূর্ণিমা ও অমাবস্যা।

এই তিথিগুলো প্রাকৃতিক সৌরদিনের চেয়ে কিছুটা ছোট, তাই চান্দ্রমাস সৌরমাসের চেয়ে কিছুটা ছোট হয়ে থাকে, ১২টি চান্দ্রমাস নিয়ে তৈরি হয় ১টি চান্দ্রবৎসর, দিনের হিসাব করলে চান্দ্র বৎসর হয় ৩৫৫ দিনের।

কিন্তু আমাদের পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, ফলে চান্দ্র বৎসর ও সৌরবছরের সমন্বয় মাত্র ৩ বছরে পুরো বিগড়ে যায়!

যেমন মুসলিমদের রমজান মাস দেখবেন শীতকাল থেকে গ্রীষ্মকালে চলে এসেছে, এরপর বর্ষাকালে ঢুকে যাবে। দূর্গাপূজাও অনেক আগে এরকম ঋতু পরিবর্তন করত। বর্তমানে লক্ষ্য করলে দেখবেন একবছর দূর্গাপূজা অক্টোবরের প্রথম দিকে হয়, পরের বছর মাঝামাঝি, তৃতীয় বছরে অক্টোবরের শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে, তারপর আসে মলমাস।

কারণ হল, পৃথিবী সূর্যকে ৩৬৫.২৫ দিনে পরিক্রমা করে, ফলে প্রতি চান্দ্র বৎসরের সাথে সৌরবৎসরের ১০ দিনের পার্থক্য হয়, ৩ বৎসরে এই পার্থক্যের পরিমাণ হয় ৩০ দিন, এই কারণে অতীতে প্রতি ৩ বৎসর অন্তর অতিরিক্ত একটি বাড়তি মাস যুক্ত করে চান্দ্র বৎসরের সাথে সৌর বৎসরের সমন্বয় করা হতো, এই বাড়তি মাসকেই বলা হয় মলমাস।

@বিজ্ঞানকথা





পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে “ধর্ম ও দেশপ্রেম” নিয়ে কোনো উচ্চকিত প্রদর্শন নেই। সেখানে কেউ ধর্ম নিয়ে উদ্দাম শোরগোল করে না, কেউ গলার শিরা ফুলিয়ে দেশপ্রেম প্রকাশ করে না। বরং যে দেশগুলো কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত; যেমন নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জাপান, কানাডা ।

উন্নত দেশগুলোতে দেশপ্রেম মানে হলো নাগরিক দায়িত্ব পালন, আইনের প্রতি আনুগত্য, সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান রাখা, দুর্নীতিমুক্ত থাকা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা। তারা জানে যে– দেশপ্রেম চিৎকার করে প্রমাণ করতে হয় না, কাজে দেখাতে হয়। তাই সেখানে ধর্ম ও দেশপ্রেমের চর্চা একটি নীরব, স্বাভাবিক এবং ব্যক্তিগত বিষয়।

কল্যাণরাষ্ট্রগুলোতে ধর্ম কখনো রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে শাসন করে না। প্রার্থনা, পোশাক, রীতিনীতি সবকিছুই ব্যক্তিগত। ধর্ম নিয়ে উদ্দাম শোরগোল, ধর্মের নামে সহিংসতা, লাউডস্পিকারের প্রতিযোগিতা এসব নেই।

যেসব দেশে রাষ্ট্র দুর্বল, প্রতিষ্ঠানগুলো ভঙ্গুর এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি অপরিণত; সেখানে ধর্ম ও দেশপ্রেম সবচেয়ে বড় সস্তা পণ্যে পরিণত হয়। এই দেশে আমরা দেখি– ধর্মের নামে উন্মাদনা, দেশপ্রেমের নামে গায়ের জোর, রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবসা, সমাজে নৈতিকতার ঠাহর ছাড়াই ধর্মীয় লেকচার। যদি ধর্মীয় প্রদর্শনই একটি সমাজকে নৈতিক করে তুলতো, তাহলে এতো ধর্মীয় আবহের মধ্যেও অনৈতিকতা ও দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে থাকতো না।

Transparency International-এর দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের মতো দেশগুলো নিয়মিতভাবে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় থাকে। এই দেশগুলো আবার ধর্মীয় বা দেশপ্রেমিক প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের জন্য পরিচিত।

World Happiness Report-এ দেখা যায়, সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর অধিকাংশই উত্তর ইউরোপের কল্যাণরাষ্ট্র। তাদের সাফল্যের ভিত্তি ধর্মীয় আবেগ নয়; বরং সামাজিক আস্থা, কার্যকর রাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও বৈষম্য কমিয়ে আনা।

World Justice Project Rule of Law Index-এ একই ধারা দেখা যায়। যেখানে আইনের শাসন শক্তিশালী, সেখানে নাগরিকদের দেশপ্রেম সাধারণত আচরণে প্রকাশ পায়; মুখের ভাষণে নয়। মনোবিজ্ঞানে Social Identity Theory বলে– রাজনৈতিক শক্তিগুলো মানুষের ধর্মীয় বা জাতীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে "আমরা বনাম তারা" বিভাজন তৈরি করে। এতে বাস্তব সমস্যা যেমন চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মূল্যস্ফীতি বা দুর্নীতি পেছনে চলে যায়।

এই দেশে ধর্মের চর্চা দেখা যায় রাজনৈতিক বক্তৃতায়, অন্যের ধর্ম নিয়ে বাজে মন্তব্য, ধর্মীয় পোশাকের প্রদর্শনী। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি– দুর্নীতি, অসততা, স্বজনপ্রীতি, নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, অন্যের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন।

যেসব সমাজ ভেতরে ঘুণেধরা ও ভঙ্গুর, সেখানেই “ধর্ম ও দেশপ্রেম”-এর বাহ্যিক প্রদর্শন সবচেয়ে বেশি। @অনিন্দ্য জয়


১০

"বেগুন"

"যাদের কোনও গুণ নেই তাদের আমরা "বেগুন" বলি। কিন্তু বেগুন সবজিটার কি সত্যিই কোনও গুণ নেই? বেগুন খেলে কী উপকার পায় মানুষ?" 

বেগুন ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব ফসল এবং এখানে ৪, ০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এর অস্তিত্ব রয়েছে। সিন্ধু সভ্যতার অন্তর্গত হরিয়ানার ফারমানায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননে রান্না করা বেগুনের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। এটি প্রমাণ করে যে প্রায় ৪, ০০০ বছর আগেই হরপ্পা সভ্যতার মানুষ বেগুন দিয়ে বিভিন্ন পদ তৈরি করত।

আমাদের অতি পরিচিত বর্তমান রূপের বেগুন মূলত Solanum incanum নামক এক প্রজাতির উদ্ভিদের গৃহপালিত (ডোমেস্টিকেটেড) রূপ, যাকে মানুষ বন থেকে তুলে চাষযোগ্য ফসলে রূপান্তরিত করেছে। আলু, টম্যাটো, বেগুন, লঙ্কা, ক্যাপসিকাম, তামাক, ধুতুরা, পিটুনিয়া ইত্যাদি উদ্ভিদ একই পরিবারের, অর্থাৎ এরা একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।

বন্য বেগুনকে গৃহপালিত করার কৃতিত্ব হল ভারতের মুন্ডা জনগোষ্ঠীর, তাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই উদ্ভিদটির বাছাইকৃত প্রজনন বা কৃত্রিম নির্বাচন ঘটিয়ে একে মানুষের ভোজ্য, আকারে বড় এবং কম তেতো করে তুলেছিল। ইংরেজি 'ব্রিঞ্জাল' (Brinjal) নামটি আাসে পর্তুগিজ 'বেরিনজেলা' (beringela) এর রূপান্তর।

ইউনাইডেট স্টেটস কৃষি দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুসারে বেগুনে অ্যালার্জি না থাকলে বেগুন একটি পুষ্টিকর সব্জি(তাদের মত ১% মানুষে বেগুনে থাকা কিছু যৌগে অ্যালার্জি থাকে, বিশেষ করে বেগুনের বীজ ও খোসায় থাকা কিছু যৌগের কারণে)

১০০ গ্রাম বেগুন বয়স্কদের দৈনিক ম্যাঙ্গানিজ চাহিদার প্রায় ১০% সরবরাহ করে, যা হাড় গঠন এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। পটাশিয়াম থাকে ২২৯ মিলিগ্রাম

ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট থাকে ২২ মাইক্রোগ্রাম, যা কোশের মেরামত ও কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। ভিটামিন কে ভালো পরিমাণে থাকে এবং অল্প পরিমাণে থায়ামিন (বি১), নায়াসিন (বি৩)এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে।

বেগুনি রঙের বেগুনের খোসায় নাসুনিন নামের অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্থোসায়ানিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওায় যায়, এটি সক্রিয়ভাবে কোশের ঝিল্লি রক্ষা করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং মস্তিষ্কের টিস্যুকে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখে। বেগুনে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডও রয়েছে, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। @অনিন্দ্য জয়


১১


মুড়ি খাওয়ার কী কোনো উপকারিতা আছে 

১০০ গ্রাম মুড়িতে প্রায় ৩৮১ থেকে ৪০২ ক্যালরি থাকে।

যেখানে ১০০ গ্রাম ভাতে মাত্র ১০০ থেকে ১৩০ ক্যালোরি থাকে।

মুড়িতে ফ্যাট প্রায় নেই বললেই চলে, প্রোটিন থাকে ৫% থেকে ৬%

মুড়ি মূলত চটজলদি শর্করার উৎস। তবে মুড়ির সাথে যদি চানাচুর, তেল, বা মিষ্টি মিশিয়ে খাওয়া হয় তাহলে ক্যালরির পরিমাণ আরো বাড়ে।

সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল যে মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশ উচ্চ, এর অর্থ হলো, মুড়ি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা (ব্লাড সুগার) খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যা সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ এর কাছাকাছি হয়ে থাকে (কোনো কোনো বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এটি ১০৫ পর্যন্ত হতে দেখা গেছে)।

মুড়ি ফ্যাট শূন্য এবং হালকা খাবার হলেও, চালকে ভেজে ফোলানোর কারণে এর ভেতরের জটিল কার্বোহাইড্রেট সহজ শর্করায় রূপান্তরিত হয়, তাই এটি রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ সরবরাহ করে।

ফলে মুড়ি সত্যই কৃষক-শ্রমিকদের উপযুক্ত খাবার, বাকি যারা বিশেষ পরিশ্রম করেননা, তাদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে নিয়মিত প্রচুর মুড়ি খাওয়া ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।

সুতরাং মুড়ি প্রিয় খাবার হলে, মুড়ি সাঁটানোর পরেই শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ান।

মুড়ি সহজপাচ্য, পেট ভরায় এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।

মুড়ির ভালো দিকগুলি হল - খুব সহজেই হজম হয়ে যায়। পেট খারাপ বা অ্যাসিডিটির সমস্যাতেও বিশুদ্ধ শুকনো বা ভেজা মুড়ি বেশ উপকারী (ইউরিয়া ভেজাল বা প্রচুর নুন দেওয়া থাকলে কিন্তু অপকার করবে)। @অনিন্দ্য জয়


১২


ডানহাতি মানুষের সংখ্যা কেন বেশি হল!!

লাখ লাখ বছর ধরে বিবর্তনের ফলেই ডানহাতির সংখ্যা বেশি হয়েছে। আদিম মানুষের মস্তিষ্ক যখন আকারে বড় ও জটিল হতে লাগল, তখন টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় মস্তিষ্কের ডান ও বাম অংশের মধ্যে কাজের ভাগাভাগি শুরু হলো।

সাধারণত মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশটি ভাষা, কথা বলা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু মস্তিষ্কের বাম অংশ শরীরের ডান দিককে নিয়ন্ত্রণ করে, তাই ভাষা ও জটিল কাজের দক্ষতার সাথে ডান হাত ব্যবহারের একটি সরাসরি যোগসূত্র তৈরি হয়।

একটি বড় এবং জটিল মস্তিষ্কের জন্য দুই হাতের কাজ আলাদা করে দেওয়া বেশি শক্তি সাশ্রয়ী। সব কাজ উভয় হাতে শেখার চেয়ে একটি হাতকে নির্দিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ করে তোলা বিবর্তনের পথে বেশি কার্যকর ছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, ডানহাতি হওয়ার প্রবণতা হোমো গণের (Homo habilis এবং Homo erectus) সময় থেকেই শুরু হয়েছিল।

তবে বামহাতি মানুষ যে একেবারেই টিকে থাকত না তা নয়, যুদ্ধ বা প্রতিযোগিতামূলক খেলায় বামহাতিদের আলাদা সুবিধা থাকায় (যেমন প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়া) প্রাকৃতিক নির্বাচন উভয় বৈশিষ্ট্যকেই মানবসমাজে টিকিয়ে রেখেছে। @অনিন্দ্য জয়


১৩


সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণের সময় বার করার গাণিতিক সূত্র প্রথম কারা আবিষ্কার করেছিল?

ব্যাবিলনীয়রা প্রথম প্রায় ২৬০০ বছর আগে চন্দ্রগ্রহণ হিসাব করতে শুরু করেছিল।

ব্যাবিলনীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছিলেন যে, গ্রহণগুলোর একটি নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পুনরাবৃত্তির চক্র রয়েছে, এরপর তারা সারোস চক্র (Saros cycle) আবিষ্কার করে, এটি হলো প্রায় ১৮ বছর এবং ১১.৩ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল, তারা দেখেছিল এই সময় পার হলে সূর্য ও চন্দ্র প্রায় একই অবস্থানে ফিরে আসে এবং আগের গ্রহণের মতোই প্রায় হুবহু আরেকটি গ্রহণ ঘটে।

এই চক্র ব্যবহার করে তারা পরবর্তী গ্রহণগুলো অবলীলায় অনুমান করতে পারত, চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে এই চক্র প্রথমে সফলভাবে প্রয়োগ করা হলেও, পরে তারা সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি দক্ষতার সাথে ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীকালে গণিতে এই সূত্রগুলি গ্রিস, ইরান ও ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাচীন ভারত ও গ্রিস:

ভারতে জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ গবেষকের মতে, ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা দেশীয় বৈদিক ঐতিহ্য(ইন্দো-ইরানীয়) এবং ব্যাবিলনীয় ও গ্রিক প্রভাবের সমন্বয়ে বিকশিত হয়েছে। বিভিন্ন বেদে সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, ঋতুচক্র ও সময় গণনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রায় ১ম খ্রিস্টাব্দের বেদাঙ্গ জ্যোতিষ ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার প্রাচীনতম সংরক্ষিত গ্রন্থ। এর উদ্দেশ্য ছিল যজ্ঞ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ।

খ্রিস্টপূর্ব শেষ শতাব্দী এবং খ্রিস্টীয় প্রথম কয়েক শতাব্দীতে ব্যাবিলনীয় ও গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যার কিছু ধারণা ভারতে প্রবেশ করে।

বরাহমিহির তাঁর পঞ্চসিদ্ধান্তিকা-তে পাঁচটি জ্যোতির্বিদ্যা পদ্ধতির বিবরণ দিয়েছেন, যার মধ্যে কিছু গ্রন্থে গ্রিক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

গ্রহের গাণিতিক মডেল, ত্রিকোণমিতিক গণনা ও কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ধ্রুবকের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রভাবের কথা বহু গবেষক উল্লেখ করেছেন।

ভারতীয় বিকাশ

পরবর্তীকালে আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত, ভাস্করাচার্য প্রমুখ এই জ্ঞানকে স্বতন্ত্রভাবে উন্নত ও পরিশীলিত করেন।

ব্যাবিলনীয়দের জ্ঞান মিশর ও মধ্য প্রাচ্য হয়ে প্রাচীন গ্রিসে পৌঁছায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৫ সালের সংঘটিত একটি সূর্যগ্রহণের পূর্বাভাস গ্রিক দার্শনিক থালেস অব মিলেটাস সফলভাবে করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গ্রিকরা ব্যাবিলনীয়দের গাণিতিক মডেল ও সরোস সাইকেল আরও নিখুঁত করে, প্রাচীন গ্রিকরা সরোস সাইকেল নির্ভর একটি যন্ত্র তৈরি করে, যেটাকে অ্যান্টিকাইথেরা মেকানিজম বলে, যার সাহায্যে নিঁখুতভাবে ক্যালেন্ডার তৈরি হত।

প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট (জন্ম ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ) সর্বপ্রথম বিজ্ঞানসম্মত ও গাণিতিক উপায়ে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময়কাল এবং গ্রহণকৃত অংশের পরিমাণ নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

আবার পৃথিবীতে প্রথম সৌর ক্যালেন্ডার বা সৌর পঞ্জিকা তৈরি করেছিল প্রাচীন মিশরীয়রা, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ বা ৩০০০ অব্দের দিকে।

মিশরীয় সভ্যতা ছিল মূলত কৃষিপ্রধান। নীল নদের বার্ষিক বন্যা এবং পানির স্তরের ওঠানামার ওপর তাদের কৃষি পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল. এই বন্যার সঠিক সময় নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই তারা সূর্যের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা শুরু করে।

লুব্ধক বা সিরিয়াস নক্ষত্রের ভূমিকা উজ্জ্বলতম নক্ষত্র সিরিয়াস (Sothis) বা লুব্ধক উদিত হয়, তখনই নীল নদে বন্যা শুরু হয়. এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি সূর্যের বার্ষিক অবস্থানের সাথে জড়িত ছিল, যা তাদের সৌর ক্যালেন্ডার তৈরিতে সাহায্য করে।

মিশরীয়রা সৌর বছরকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে সাজিয়েছিল।

তখন থেকেই বছর ছিল ৩৬৫ দিনের।

মিশরীরা প্রতিটি বছরকে ৩০ দিনের ১২টি মাসে ভাগ করেছিল।

বছরের শেষে তারা আরও ৫টি অতিরিক্ত দিন যোগ করত ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য।

তাদের পঞ্জিকাটি মূলত তিনটি ঋতুতে (বন্যা, ফসল বোনা এবং ফসল কাটা) বিভক্ত ছিল।

পরবর্তীতে প্রাচীন রোমানরা মিশরীয়দের এই সৌর পঞ্জিকার মডেলটিকে ভিত্তি করেই তাদের বিখ্যাত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার তৈরি করে।

আবার বর্তমান আধুনিক বিশ্বে ব্যবহৃত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার রোমানদের তৈরি জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সংশোধিত সংস্করণ,

তাহলে আজকের ইংরেজি ক্যালেন্ডার আসলে ওই মিশরীয়দের তৈরি সৌর ক্যালেন্ডারের সংশোধিত আধুনিক সংস্করণ।  @অনিন্দ্য জয়


১৪


ধর্ম কখনোই মানুষের হৃদয়কে বিভক্ত করার জন্য জন্মায়নি। এর জন্ম হয়েছিল মানুষের বিস্ময় থেকে– জীবনের অজানার মুখোমুখি দাঁড়ানোর মুহূর্তে; আকাশের অসীমতা দেখে থমকে থাকার মুহূর্তে; নদীর অবিরাম স্রোতে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মুহূর্তে। সেই সময় থেকেই বিশ্বাস জন্ম নেয়বিশ্বাস গভীরভাবে ব্যক্তিগত। এটি আরোপ করা যায় না। মানুষ যেমন এক নয়, বিশ্বাসও এক নয়। একই প্রার্থনা, একই আচার, একই শব্দ, তবু ভেতরের অনুভূতি সব মানুষের ভিন্ন। কেউ বিশ্বাস খুঁজে পায় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে, কেউ আনন্দে, কেউ নীরব প্রশ্নের মধ্য দিয়ে। 

প্রকৃতি এক নয়। সে বৈচিত্র্যে ভরা, বিস্তৃত, অগণিত, গভীর। অরণ্যে একটিই গাছ নয়; নদী কখনও সরল নয়; আকাশ কখনও একই রঙে সীমাবদ্ধ নয়। ভিন্নতার মধ্যেই জীবনের ভারসাম্য। ক্ষুদ্রতম পোকা থেকে বিশাল পাহাড়, মহাসাগর থেকে নক্ষত্র– সবই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে। যখন আমরা এই সংযোগ ভুলে যাই, ধর্ম আচার নৈতিকতার স্থান দখল করে। আমরা দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ি। কিন্তু হিংসা, কুৎসা, দুর্নীতি, অসততা আমাদের আচরণে অনায়াসে বাসা বাঁধে। মুখে পবিত্র শব্দ, কাজে নিষ্ঠুরতা। 

বিশ্বাস মানে ভারসাম্য, সংযম ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। যদি ঈশ্বর করুণাময় হন, তবে সেই করুণা আমাদের কাজ ও কথায় ফুটে উঠতে হবে। যদি ধর্ম পবিত্র হয়, তবে তা কেবল মন্দির, মসজিদ বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তা থাকতে হবে আমাদের রাস্তায়, কথায় ও সিদ্ধান্তে। সৃষ্টিকে আঘাত করে স্রষ্টাকে খোঁজা যায় না। 

সব মানুষ একভাবে বিশ্বাস করে না। এই বৈচিত্র্য কোনো হুমকি নয়; এটি মানবজীবনেরই প্রতিচ্ছবি। যেমন প্রকৃতি ভিন্নতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকে, তেমনি সমাজও। কেউ বিশ্বাস খুঁজে পায় প্রার্থনায়, কেউ সেবায়, কেউ নীরবতায়, কেউ প্রকৃতির স্পর্শে, কেউ শিল্পে।

ধর্ম যখন গোডামির প্রতীক হয়, তখন সে মানুষকে আলাদা করে। কিন্তু বিশ্বাস যখন বিনয়ী ও অন্তর্মুখী হয়, তখন সে মানুষকে একত্র করে। সবকিছুর ভেতরে পবিত্রতাকে দেখার শক্তি ধর্মকে দুর্বল করে না; বরং তাকে নির্মল ও শক্তিশালী করে। @ আনুশেহ আনাদিল 

১৫

নিতান্তই বাধ্য না হলে ঔষধ খাবেন না। খাদ্যই পথ্য, সঠিক খাদ্য ও লাইফস্টাইল আপনাকে ঔষধমুক্ত জীবন দেবে। 

বাস্তবে কী ঘটছে তার এটাই আসল রূপ-

• স্থূলতা (Obesity)? ওষুধ।

• উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)? ওষুধ।

• ডায়াবেটিস (Diabetes)? ওষুধ।

• এলডিএল (LDL)? ওষুধ।

রোগী আসলেন। ডাক্তারের হাতে সময় মাত্র ১/২ মিনিট। ল্যাব রিপোর্ট খারাপ। প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া হলো। ৩ মাস পর আবার দেখা হবে। এই ফাঁদে আটকা পড়েছেন। তাদের ওষুধ লেখার জন্যই ঔষধের কোম্পানিগুলো তাদের প্রশিক্ষণ দেন। ওষুধ লেখার জন্যই তারা পারিশ্রমিক পান। 

এভাবে মুঠো মুঠো ওষুধ গিলতে থাকুন।

এখানে এমন কিছু বিষয় দেওয়া হলো যা তারা আপনাকে বলে না:

• টাইপ ২ ডায়াবেটিস রিভার্সিবল (পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব)।

• উচ্চ রক্তচাপও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রিভার্সিবল।

• স্থূলতা বা মেদবহুলতা রিভার্সিবল।

• ফ্যাটি লিভার এবং গাউটের (গেঁটে বাত) জন্য কোনো ওষুধের প্রয়োজন নেই। সঠিক খাবারই এটি ঠিক করতে পারে।

আমরা দেখেছি রোগীরা কীভাবে ইনসুলিন থেকে বেরিয়ে এসেছেন। ব্লাড প্রেসারের ওষুধ থেকে মুক্ত হয়েছেন। যে ওষুধগুলো তাদের সারাজীবন খেতে হবে বলা হয়েছিল, সেগুলো থেকে মুক্ত হয়েছেন। কোনো সার্জারি নেই। কোনো ম্যাজিক নেই। কোনো ভেষজ ওষুধও নেই। 

শুধু মূল কারণের চিকিৎসা করা।

আর কারণটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই একই: বছরের পর বছর ধরে চলা হাইপারইনসুলিনেমিয়া (রক্তে অতিরিক্ত ইনসুলিন) যা নীরবে আমাদের মেটাবলিক বা বিপাকীয় কার্যক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর এটি ঘটছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার (আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড) এবং এমন এক খাদ্য পরিবেশের কারণে, যা আপনাকে অসুস্থ রাখার জন্যই পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

খাবার ঠিক করুন। ইনসুলিন কমান। শরীরকে সময় দিন। ব্যস এতটুকুই। এটাই হলো আসল প্রোটোকল।

স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, গাউট, ব্রেন ফগ (মানসিক জড়তা) বা ক্লান্তির মতো রোগ নিয়ে সারাজীবন বেঁচে থাকার জন্য আপনার জন্ম হয়নি। এগুলো কোনো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নয়। এগুলো হলো আপনার জীবনযাপন পদ্ধতির (লাইফস্টাইলের) পরিণতি। এবং এগুলো থেকে আগের সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসা সম্ভব। একটি সিদ্ধান্ত। এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন [ ডায়েট প্ল্যান + ওয়ার্কআউট রুটিন ] যা আপনি সত্যিই মেনে চলতে পারবেন। @ Health Tips Pro


১৬

মিশরের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুয়েজ খাল লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই খাল ব্যবহার করে জাহাজগুলো আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে না গিয়ে সহজে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এই ঘটনাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা স্পষ্ট করে তোলে। 

উনিশ শতকের শেষদিকে সুয়েজ খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটেন। ইউরোপ থেকে এশিয়ায় দ্রুত যাতায়াতের জন্য এটি ছিল তাদের সাম্রাজ্যিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র। ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে আঘাত হানে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল মিলে সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে থেকেও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয় ব্রিটেনকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন—দুই পরাশক্তিই এই আগ্রাসনের বিরোধিতা করে।  

সুয়েজ সংকটের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়—ব্রিটেন আর এককভাবে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বড় কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে অনেকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ‘সুপারপাওয়ার’ যুগের অবসানের প্রতীক হিসেবে দেখেন। এই সংকট শুধু ব্রিটেনের অবস্থান দুর্বল করেনি, বরং উপনিবেশগুলোতেও স্বাধীনতার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে আর সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে ভেসেই ধীরে ধীরে অস্তমিত হয়েছে এক সময়ের প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। @ বাংলা ট্রিবিউন 


17


থাইল্যান্ডে ‘মৃত্যু উৎসব’

থাইল্যান্ডের নন্টাবুরি প্রদেশে অনুষ্ঠিত হ এমন একটি উৎসব, যেখানে মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং খোলা চোখে দেখার সুযোগ।  উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ‘টেস্ট ডাই’। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন আকৃতি ও নকশার কফিনে শুয়ে মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত অনুভূতি নিতে পারেন। কফিনের ভিতরে আয়না থাকায় নিজের প্রতিচ্ছবিও দেখা যায়। এছাড়া আছে জৈবিক কফিন, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে পচিয়ে দেয়।  

উৎসবে শেখানো হয় কীভাবে জীবন শেষ পর্যন্ত সুস্থ থাকবে  । “মৃত্যুর নাম শুনে অনেকে ভয় পান। কিন্তু তাদের লক্ষ্য—যাঁরা বাঁচবেন, তাঁদের জীবন যেন মসৃণ হয়।” 


এক কাপ কফি হাতে বসে অংশগ্রহণকারীরা জীবন ও মৃত্যুর গল্প শোনেন। হাসি, চোখের জল আর আত্মপ্রকাশ—সব মিলিয়ে জীবনের মূল্য বোঝা যায়। উৎসবের শেষ পর্যায়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, হাসি ও খাবার ভাগাভাগি করা হয়। জীবন মানেই শুধু বাঁচা নয়, স্মৃতি তৈরি, সম্পর্ক গড়া এবং আনন্দ ভাগাভাগি করা।

নাম যত ভয়ঙ্কর, অভিজ্ঞতা তত মজার। থাইল্যান্ডের ‘মৃত্যু উৎসব’ শেখাচ্ছে—মৃত্যুকে ভয় না করে, জীবনকে পুরোটা দিয়ে বাঁচাই আসল আনন্দ। দর্শকরা উৎসব থেকে বের হয়ে বলছেন, “এখান থেকে বের হয়ে বুঝলাম—জীবনকে অন্য চোখে দেখা যায়, এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পুরোটা দিয়ে বাঁচাই সম্ভব।”@ বাংলা ট্রিবিউন 



১৮


‘ভালো মানুষও’ টাকা চুরি করতে পারে যে রোগের কারণে!


কখনও অফিসের ক্যাশবক্স থেকে সামান্য টাকা, কখনও সহকর্মীর টেবিলে রাখা ছোটখাটো জিনিস—হঠাৎ করেই সেগুলো তুলে নিতে ইচ্ছে করে।   আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই টাকা বা জিনিসের তার কোনও প্রয়োজনও নেই। চুরি করার আগে ভেতরে এক ধরনের তীব্র অস্থিরতা কাজ করে, আর কাজটা করে ফেলার পর সাময়িক স্বস্তি আসে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় অপরাধবোধ, লজ্জা এবং আত্মগ্লানি।এ ধরনের আচরণ অনেক সময় ক্লেপটোম্যানিয়া নামের একটি মানসিক ব্যাধির লক্ষণ হতে পারে।  ক্লেপটোম্যানিয়া হলো এমন এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যেখানে ব্যক্তি চুরি করার প্রবল তাড়নাকে দমন করতে পারেন না।

এই চুরির সঙ্গে সাধারণ চুরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এখানে চুরি করা জিনিসের আর্থিক মূল্য বা ব্যক্তিগত প্রয়োজন সাধারণত গুরুত্ব পায় না। অনেক সময় তুচ্ছ কোনো জিনিস—যেমন একটি কলম, সেফটিপিন বা ছোটখাটো বস্তু—নিয়ে নেওয়াই হয়ে ওঠে প্রধান বিষয়।

গবেষকদের মতে, এই সমস্যা সাধারণত কিশোর বয়স বা তরুণ বয়সে শুরু হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ ক্লেপটোম্যানিয়ার ঘটনা রিপোর্ট করা হয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

ক্লেপটোম্যানিয়ার লক্ষণ

এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত কিছু আচরণ দেখা যায়—

প্রয়োজন নেই এমন জিনিস চুরি করার তীব্র ইচ্ছা

চুরি করার আগে তীব্র চাপ বা উদ্বেগ অনুভব করা

চুরি করার পর সাময়িক আনন্দ বা স্বস্তি পাওয়া

পরে অপরাধবোধ, লজ্জা বা অনুশোচনায় ভোগা

কখনও অপরাধবোধে চুরি করা জিনিস ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা


মুড ডিসঅর্ডার, তীব্র মানসিক চাপ বা মাদকাসক্তির সঙ্গে কখনও ক্লেপটোম্যানিয়া দেখা যায়।

কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও একই ধরনের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিকিৎসা কী? 


চুরি করার সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে ভাবতে শেখানো

তাড়না এলে বিকল্প আচরণ করার অনুশীলন

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখানো

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি

এটি একটি মানসিক ব্যাধি। সহানুভূতি, সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসা পেলে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

অর্থাৎ, কখনও কখনও একজন মানুষ খারাপ উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি অদৃশ্য মানসিক তাড়নার কারণেই চুরি করে বসেন

@ বাংলা ট্রিবিউন 


১৯


তাড়াহুড়ো করে খাবার খাচ্ছেন? নীরবে ডেকে আনছেন বড় বিপদ

খাবারের গতি যদি খুব বেশি হয়, তাহলে অজান্তেই শরীরের ওপর চাপ তৈরি হয়—যার প্রভাব দেখা যেতে পারে হজম থেকে শুরু করে ওজন পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ নিয়মিতভাবে ২০–৩০ মিনিটের কম সময়ে একটি মিল শেষ করেন, তাহলে সেটিকে দ্রুত খাবার খাওয়া বলা যায়।

কারণ, শরীরের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া কাজ করে— “পেট ভরে গেছে”—এই সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ের আগেই যদি খাবার শেষ হয়ে যায়, তাহলে মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না কখন থামতে হবে।

বেশি খেয়ে ফেলার ঝুঁকি: দ্রুত খাওয়ার ফলে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত আসার আগেই অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলা হয়। এতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে।

হজমের সমস্যা: ঠিকভাবে চিবিয়ে না খেলে খাবার বড় টুকরায় পাকস্থলীতে যায়। এতে বদহজম, অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি: দ্রুত খাওয়ার সময় অনেকেই অজান্তে বেশি বাতাস গিলে ফেলেন, যা পেট ফাঁপা বা ভারী লাগার কারণ হতে পারে।  

পুষ্টি শোষণে সমস্যা: খাবার ভালোভাবে চিবানো না হলে শরীর সব পুষ্টি ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দ্রুত খাবার খান, তাদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

অপরদিকে, ধীরে-সুস্থে খাওয়া মানুষরা সাধারণত কম ক্যালরি গ্রহণ করেন—ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

খাওয়ার গতি কমাবেন কীভাবে?

মনোযোগ দিয়ে খাবার খান: খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।

ধীরে চিবান: প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান—এতে স্বাভাবিকভাবেই গতি কমবে।

মাঝখানে বিরতি নিন: কয়েক চামচ খাওয়ার পর একটু থামুন। এতে মস্তিষ্ক সংকেত ধরতে সময় পায়।

অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন: চামচ বদলানো বা ধীরে খেতে বাধ্য করে—এমন ছোট পরিবর্তনও কাজে দেয়।

ফাস্টফুড কমান: নরম ও প্রক্রিয়াজাত খাবার দ্রুত খাওয়া যায়। এর বদলে শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগে।

খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়

খাবার শুধু শরীরের জ্বালানি নয়, এটি উপভোগেরও একটি অংশ। দ্রুত খেলে সেই আনন্দটাও হারিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় নিয়ে খেলে শুধু শরীরই ভালো থাকে না—খাবারের স্বাদও বেশি অনুভব করা যায়।

@ বাংলা ট্রিবিউন 



২০


লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়া উচ্চ মাত্রায় কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জিঙ্ক মেলে উপকারী ফল লেবুতে।  

১। ভিটামিন সি এর দুর্দান্ত উৎস লেবু। সর্দি-কাশি এবং ফ্লুর মতো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এই ভিটামিন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে তাই রোজ খান লেবু।

২। লেবু কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। জার্নাল অব চিরোপ্রাকটিক মেডিসিনের একটি গবেষণা বলছে, ভিটামিন সি এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সক্ষম। এছাড়া লেবুতে ফ্ল্যাভোনয়েডও রয়েছে, যা ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল-এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। 

৩। কোলাজেন উৎপাদনের জন্য ভিটামিন সি অপরিহার্য। এই ভিটামিন ত্বক সুস্থ রাখে। 

৪। লেবুতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হজমে সহায়তা করে। লেবুতে উপস্থিত প্রধান ফাইবার পেকটিন অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ও চিনি এবং স্টার্চের হজমের হারকে ত্বরান্বিত করে।

৫। ডিহাইড্রেশনের কারণে ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা হিট স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় ব্যায়াম করার সময়ও বাড়তি পানির চাহিদা তৈরি হয়। প্রচণ্ড গরমে এক গ্লাস লেবু-পানি আপনাকে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচাতে পারে। 

৬। লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ক্যালসিয়াম অক্সালেট তৈরি করে। এটি কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া পানির অতিরিক্ত তরল হাইড্রেশন বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য পাথর দূর করতে সাহায্য করে।

৭। লেবুতে পটাসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। 

৮। বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে লেবু। 

@ বাংলা ট্রিবিউন 



২১


পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ হলো—নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে আপনার সাফল্যই তার নীরব পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মনে রাখবেন—

শত্রু আপনার রাগ চায়, আপনার ধ্বংস চায়, আপনার মনোযোগ চায়।

আপনি যত তাকে নিয়ে ভাববেন, ততই সে জিতবে।

প্রতিশোধ ক্ষণিকের তৃপ্তি দেয়, কিন্তু আত্মউন্নতি আজীবনের সম্মান এনে দেয়।

নীরবে পরিশ্রম করুন।

মানুষকে নয়, নিজের গতকালের অবস্থাকে হারানোর চেষ্টা করুন।

একদিন আপনার সাফল্যই কথা বলবে।

সেদিন কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না, কোনো তর্ক করতে হবে না। আপনার অবস্থানই হবে সবচেয়ে বড় উত্তর।

যে আপনাকে অপমান করেছে, তাকে ঘৃণা নয়—ক্ষমা করুন।

যে আপনাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে, তাকে উত্তর নয়—ফলাফল দেখান।

কারণ—

গাছ যত ফলবান হয়, ততই মাথা নত করে। আর মানুষ যত বড় হয়, ততই নীরব হয়ে যায়।

আজ থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিন—

কাউকে হারানোর জন্য নয়, নিজেকে জয় করার জন্য বাঁচবেন।

কাউকে নিচে নামানোর জন্য নয়, নিজেকে আরও উঁচুতে তোলার জন্য কাজ করবেন।

বিশ্বাস করুন, যেদিন আপনি নিজের জীবনে সফল, শান্ত ও সম্মানিত হয়ে উঠবেন—সেদিন আপনার শত্রুর সবচেয়ে বড় পরাজয় ঘটবে।

কারণ মানুষকে প্রতিশোধ নয়, নিজের উন্নতিই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

নিজেকে এতটা মূল্যবান করে তুলুন, যেন একদিন আপনার বিরোধীরাও আপনার সম্মান করতে বাধ্য হয়।

@ কাহারোল


২২


হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা গল্পের মূল মেসেজ কী?

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা গল্পের মেসেজটা কী? সাধারণ প্রতিশোধের গল্প হিশাবে পড়া হয়। জর্মন দেশের এক শহরের নাম হ্যামিলন। হ্যামিলনে অনেক ইঁদুর ছিল। মানুষ ইঁদুরের যন্ত্রণায় অস্থির। তখন আসল এক বাঁশিওয়ালা।

বাঁশি বাজিয়ে সে যেতে লাগল আর ইঁদুরেরা তার বাঁশি শুনে ঘরের কোনা কাঞ্চি থেকে বের হয়ে তার পিছু নিল।

এক পর্যায়ে বাশিওয়ালার নির্দেশে তারা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা গেল দলে বলে।

এরপর মেয়রের কাছে তার পাওনা টাকা চাইল বাঁশিওয়ালা, যে চুক্তিতে তাকে ইঁদুর তাড়ানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। যেহেতু কর্ম সমাধা হয়ে গেছে, তাই একজন পলিটিশিয়ানের মত কাজ করলেন মেয়র, টাকা দিলেন না।

বাশিওয়ালা প্রতিশোধ নিবে জানাল।

সেইন্ট জন ও পল দিবসে যখন বড়রা চার্চে ব্যস্ত ছিল তখন আবার ফিরে এলো বাঁশিওয়ালা।

রাস্তায় নেমে সে তার আরেক রঙচঙা বাঁশি বের করে শুরু করল বাজানো। এই বাঁশির সূর্য শুনে মন্ত্রমুগ্ধের মত শিশুরা নাচতে নাচতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলো। তারা বাঁশিওয়ালার পিছু নিল। আর বাঁশিওয়ালা তাদের নিয়ে হারিয়ে গেলো পাহাড়ের দিকে।

এই গল্প একটা পুরানো, বহুল প্রচলিত গল্প।  সবচাইতে পুরান সোর্স ১৩০০ সালের। গল্পটি তারও আগের। বিভিন্ন তত্ত্ব আছে এই গল্পের ইতিহাস নিয়ে। এখনো গল্পটি মানব সমাজে বিরাজমান, সার্চ এঞ্জিন এনালিসিসের টুল এসইএমরাশ দ্বারা দেখলাম, এখনো (অক্টোবর ২০২২) প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার বার পৃথিবীর মানুষ সার্চ করেন ইন্টারনেটে হ্যামিলনের বাশিওয়ালাকে নিয়ে। এই গল্প নিয়ে কন্সপিরেসি তত্ত্বও আছে, বাঁশিওয়ালা আসছিল ভিনগ্রহ থেকে, বাচ্চাদের সে ওখানেই নিয়ে যায়।

অকৃতজ্ঞের শাস্তি, এটা গল্পের ভাসমান মেসেজ। কিন্তু অন্য লেয়ারে গল্পটারে দেখলে, যদি দেখেন এই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ব্যক্তিটা কে তখন গল্পটা আরেক ভাবে বুঝার জায়গা তৈরি হয়। তার এই বাঁশিতে এত ক্ষমতা কীসের? কেন বাচ্চারা ও ইঁদুরেরা তারে অনুসরণ করেছিল?

ফ্রেঞ্চ আমেরিকান দার্শনিক রেনে জিরার্দের মিমেটিক তত্ত্ব দ্বারা বিশ্লেষণ করলে, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকে ধরতে হবে মডেল হিসেবে। মডেল হচ্ছে সে যাকে অন্য মানুষেরা অনুকরণ করছে। গল্পের বাচ্চারা অনুকারক।

জিরার্দের তত্ত্বের মূল ইনসাইট এমন, মানুষের নিজস্ব কোন ডেজায়ার নেই। সে অন্যের ডেজায়ার অনুকরণ করে।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকে বাচ্চারা যখন অনুসরণ করলো, তখন তাদের কোন সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা ছিল না। মডেল যা করেছে, তারা সেদিকে গেছে।

জিরার্দ লেখেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা নেই, মডেল আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। একজন ব্যক্তি তার মডেল দ্বারা সম্পূর্ণ বিনাশও হতে পারে, অনুকরণ সর্বদাই সেই জিনিশ যা আমাদের চিনতে ভুল করায়।

কাকে অনুকরণ করছেন, এই জিনিশ গুরুত্বপূর্ণ নিজের জীবনের জন্য, কারণ আপনি তারে আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবার জায়গায় বসিয়ে দিচ্ছেন। তাকে বানিয়ে দিচ্ছেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। সে তৈরি করছে আপনার ডেজায়ার। ফলে সেই আপনারে নিয়ন্ত্রণ করছে।

অন্য মানুষের প্রাপ্তি, সাফল্য, ভোগ, লাইফস্টাইল, জীবনাদর্শ, জীবন যাপনের তরিকা ইত্যাদি দেখে মানুষেরা নিজেদের জন্য ঐসব ডেজায়ার তৈরি করে। যারে বা যাদের সে ফলো করছে এরা যদি এমন সব কাজকর্ম করে যা অনুকারকের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিকর, অনুকারক তা বুঝতে পারবে না।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা গল্পে আরেকটা ইন্টারেস্টিং অংশ আছে। ১৩০ জন শিশু বাঁশিওয়ালার পিছে পিছে গিয়েছিল যারা চিরতরে হারিয়ে যায়। তিন জন শিশু শুধু রয়ে যায়, যারা গল্পটি বলেছিল নগরবাসীর কাছে। এই তিনজনের মধ্যে, একজন ছিল পঙ্গু, একজন অন্ধ, একজন কানে শুনত না।

অর্থাৎ, এই তিনজন তাদের তিন শারীরিক অবস্থার জন্য বাঁশিওয়ালাকে অনুসরণ করতে পারে নি। এরা মিমেসিস থেকে বেঁচে থাকতে পেরেছিল।

এখানে খুব দ্রুত আমার হিরো অডিসির কথা আনা যায়। সমুদ্র যাত্রায় এক দ্বীপে ছিল মায়াবী সাইরেনেরা। তারা সুন্দর গান গাইত, নাবিকেরা ওই গানের টানে ওইদিকে চলে যেত ও জাহাজ ধ্বংস হইত। অডিসি ভাবলেন, আমার তো এই গান শুনতেই হবে, কিন্তু কীভাবে গানের সুরে মোহগ্রস্থ হইয়া জাহাজ ঐদিকে নিয়া ধ্বংস হওয়া ঠেকানো যায়।

অডিসি তার সব নাবিকদের কানে মোম দিয়ে দিলেন, যাতে তারা কেউ সাইরেনের গান শুনতে না পায়। আর আগে তাদের বললেন, আমারে শক্ত কইরা বাইন্ধা রাখো। সাইরেনের দ্বীপের কাছাকাছি গেলে অরা আইসা গান শুনাইতে থাকলে আমি যদি বলি আমারে ছাইড়া দিতে, তখন আরও শক্ত করে বানবা।

অডিসি সাইরেনের গান শুনে অক্ষত ভাবে ফিরে আসতে পারে জাহাজ নিয়ে। 

অডিসি এইভাবে এটা করতে পারছেন, কারণ নিজের সীমাবদ্ধতা তিনি বুঝতে পারছিলেন, স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বুঝতে পারছেন, ও ওইটারে ট্যাকল দেবার উপায় বের করছেন। ডেজায়ার কেমনে কাজ করে, এটা বুঝা মানে নিজের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিটারেই বুঝতে পারা।

জিরার্দ লেখেন, যার যত বেশি মিমেটিক ডেজায়ার থাকবে, তত বেশি এই ডেজায়ার বাস্তব জীবনে প্রবেশ করবে, এবং তত বেশি এটা তার জীবনকে ধ্বংস করবে। ব্যক্তিটি হয়ে উঠবে তত বেশি অসুখী।

ভোগবাদ উৎসাহিত করতে, নিরন্তর চাহিদা তৈরি করতে মানুষের সমাজে যারা বিখ্যাত, যারা জনপ্রিয়, যাদেরকে মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মডেল হিশাবে দেখে, তাদেরকে দিয়ে নানাবিদ পণ্যের ডেজায়ার তৈরি করার কাজ করানো হয়। এর জন্য আছে ফিল্ম-বিনোদন ইন্ড্রাস্টি ও নানা ধরণের বিজ্ঞাপন।

অনুকরণ থেকে শতভাগ বাঁচার উপায় নাই যেহেতু এভাবেই সামাজিক মানুষ তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানুষ কারে অনুকরণ করবে বা করছে, এ ব্যাপারে সচেতন হতে পারে। যদি না হয়, তাহলেও সে অনুকরণ করছে, না জেনে। সচেতন অনুকরণ তারে তার নিজের সাইকোলজিক্যাল অবস্থান বুঝতে সাহায্য করবে। সে কী করছে এবং কেন। এইজন্য প্রাচীন স্টয়িক দর্শন মডেল ঠিক করতে বলে। স্টয়িকদের জন্য মডেল ছিলেন সক্রেটিস, ক্যাটো দ্য ইয়াংগার, এবং মিথিক্যাল হারকিউলিস। বিভিন্ন ধর্মেও মডেল নির্ধারণে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, ইসলামে স্পষ্টভাবে বলা আছে শেষ নবীই আদর্শ, সূফীবাদের এক কনসেপ্ট আছে আল ইনসান আল কামিল, পরিপূর্ণ মানুষ।

ধর্মসমূহের জানা ছিল সচেতনে না করলে অচেতনে মানুষ মডেল ঠিক করবে ও তাদের দ্বারা ডেজায়ার তৈরি করবে, প্রভাবিত হবে, কিন্তু মনে করবে প্রভাবিত হচ্ছে না, নিজে নিজেই কাজ করছে।

মডেল খারাপ হতে পারে অনুকারকের জন্য। আবার সব মডেল যে সকল সময় হ্যামিলনের বাশিওয়ালার মত হবে, ইচ্ছা করে ক্ষতি করাবে এমনো না। আবার অনেক ক্ষেত্রে, মডেলের কাউন্টার সিগনাল কপি করে অনুসরণকারী, এতে তার ক্ষতি হয়। ররি সাদারল্যান্ড এক লেকচারে ফান করেই বলছিলেন, তোমার সিইও সাইকেল চালাইয়া গেলে, সে স্বাস্থ্যসচেতন এই বার্তা যায়। তুমি সাইকেল দিয়া গেলে বার্তা যাবে, তুমি গরীব।

মডেলকে অনুকরণের আরেকটা দিক আছে, মিমেটিক রাইভালরি, যা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম মিমেটিক তত্ত্বের জগত লেখায়, এখানে হালকা করে উল্লেখ করে যাই।

মানুষ যখন এমন একজনের অনুকরণ করে, যে তার সাথে একই তলে অবস্থান করে, তখন তাদের মধ্যে কনফ্লিক্ট শুরু হতে পারে। একসময় দেখা যায়, তারে আগে লাইক করত কিন্তু এখন জানপ্রাণ দিয়ে শত্রুতা করে যাচ্ছে।

সে ওই ব্যক্তি নিয়া অবসেসড, তার মত হতে চায়। কিন্তু এই হতে গিয়ে, যারে দেখে তার এই চাওয়ার জন্ম নিল, সেই লোকটাই তার প্রতিদ্বন্ধী হয়ে যায়। আবার লোকটা যদি বহু আগের কেউ হয়, ধরা যাক সক্রেটিস, সেইক্ষেত্রে মিমেটিক রাইভালরির জায়গা থাকে না।

এর সমাধান হিসেবে জিরার্দ লেখেন, “To make an effective imitator, you have to openly admire the model you’re imitating, you have to acknowledge your imitation. You have to explicitly recognize the superiority of those who succeed better than you and set about learning from them”.

আপনে যদি চান, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে শিখতে, তার মত হতে বা ওইসব কোয়ালিটি অর্জন করতে, তাহলে নিজের অনুকরণটারে প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। অর্থাৎ সচেতন অনুকরণ। যারে মডেল ধরতেছেন তার সুপিরিয়রিটি মানেন। কারণ, আপনে যেগুলা চাইতেছেন তারে দেখেই, সে ঐগুলা বেশি পারে।

এই স্বীকার তার কাছ থেকে শিখতে হেল্প করে, মানসিক বাঁধা থাকবে না, সেও আপনারে হেল্প করবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে। আর বেহুদা ওই লোকের সাথে শত্রুতাও তৈরি করার ট্র্যাপে পড়তে হবে না। পরে আপনারে দেইখাও অনেকের মিমেটিক ডেজায়ার জাগ্রত হবে।

এটাই চক্র, মানব সমাজের খেলা।

আমাদের ডেজায়ার তৈরি হয় অন্যের ডেজায়ার দেখে।

আপনি কোন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুর শুনে চছেন খেয়াল করেন। লাইফে কী চান লেখায়, আমি বলছিলাম নিজের ডেজায়ার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করার কথা। এই ডেজায়ার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ হয় মূলত, কারে মডেল হিশেবে নিচ্ছেন, সেটা সচেতনে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে। @ Muradul Islam


23


পেট ভরা থাকলেও মাথায় সারাক্ষণ খাবারের চিন্তা ঘুরলে, তাকে বলা হয় ‘ফুড নয়েজ’। যার অর্থ হল- পেট ভরা থাকলেও মাথায় সারাক্ষণ খাবার খাওয়ার চিন্তা বা তাড়না কাজ করা। নিউইয়র্ক ও ব্রুকলিনের পুষ্টিবিদ ম্যাডি পাসকুয়ারিয়েলো এবং রেবেকা ডিটকফ, দুজনেই সেল্ফডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান, এমনটা হওয়ার পেছনে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক কারণ লুকিয়ে থাকে। 



কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ— যেমন বিষণ্ণতা, মানসিক রোগ বা ‘মুড সুইং’য়ের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, নারীদের মাসিকের পূর্ববর্তী লক্ষণ (পিএমএস) বা পেরিমেনোপজের মতো হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণেও খাওয়ার পর পেট খালি লাগতে পারে।

করণীয়: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার রাখা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ পরিবর্তন করা যেতে পারে।

প্রতিদিনের ক্যালরির চাহিদা সবার এক নয়, এমনকি একই মানুষের চাহিদা প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে।

যদি কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম বা ব্যায়াম (যেমন: দৌড়ানো, সাঁতার কাটা) করে, তবে শরীরের জ্বালানির চাহিদাও বেড়ে যায়।

এছাড়া গর্ভাবস্থা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও ক্যালরির চাহিদা বেশি থাকে।

করণীয়: মূল খাবারের সঙ্গে পুষ্টিকর নাস্তা যোগ করা যেতে পারে। কোনো বেলা কম খাওয়া হয়ে যাচ্ছে কি না, তা বুঝতে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত হবে।

পাকস্থলী ভরা থাকার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। যদি খুব দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে খাবার শেষ করা হয়, তবে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক সেটা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে খাওয়া শেষ করার পরও মনে হয় ক্ষুধা রয়ে গেছে।

করণীয়: খাবার শেষ করার পর অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে শরীরকে শান্ত হতে দিতে হবে। এতে দেখা যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পেট ভরা থাকার অনুভূতি চলে এসেছে।


খাবারে প্রোটিন বা আমিষ ধরনের খাবার, ফ্যাট বা চর্বি এবং আঁশের সঠিক সমন্বয় না থাকলে দ্রুত ক্ষুধা লাগে।

শুধু কার্বোহাইড্রেইট বা শর্করা (যেমন: সাদা ভাত, সাদা রুটি বা মিষ্টি) দিয়ে প্রচুর পরিমাণে খাওয়া হলে, সেই খাবার দ্রুত হজম হয়ে যাবে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করায় আবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে।

করণীয়: শুধু শর্করা না খেয়ে প্রতি বেলার খাবারে প্রোটিন, আঁশ ও ভালো চর্বি রাখতে হবে। যেমন, ফলের সঙ্গে সামান্য পনির বা বাদাম মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

যদি অনিচ্ছা সত্ত্বেও খুব সাধারণ, স্বাদহীন বা একঘেয়ে খাবার খাওয়া হয়, তবে পেট ভরলেও মন ভরে না। ফলে জিভের স্বাদের জন্য মন তখন অন্য কিছু খুঁজতে থাকে।

করণীয়: স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির সময় সেটির স্বাদ ও সুগন্ধের দিকেও নজর দিতে হবে, যেন খাবারটি উপভোগ্য মনে হয়।

অফিসের কাজের চাপ, একঘেয়েমি বা অতিরিক্ত চিন্তার সময় অনেকেই অজান্তেই চিপস, চকলেট বা স্ন্যাকস ধরনের খাবার বেশি খান, যাকে ‘ইমোশনাল ইটিং’ বা আবেগীয় খাওয়া বলা হয়।

মন খারাপ বা তীব্র মানসিক চাপের সময় শরীর সান্ত্বনা খোঁজার জন্য খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

করণীয়: নিজেকে অপরাধী না ভেবে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিতে হবে। যেমন, মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হলে চকলেটের বদলে আপেল বা দারুচিনি ছিটানো কাঠবাদাম খাওয়া যেতে পারে। @ bdnews24


25


তিমুর ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব ও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরের একটা দ্বীপ। এটা তৃতীয় দ্বীপ যেটি ইন্দোনেশিয়া আরেকটি দেশের সাথে শেয়ার করেছে।

এই দ্বীপের পূর্বাংশে পূর্ব তিমুর নামে একটি স্বাধীন দেশ আছে । এই দেশে যেতে বাংলাদেশীদের ভিসা লাগে না। দেশটির নাম তিমোর লিস্তে, ইংরেজিতে বলা হয় ইস্ট তিমুর।

পর্তুগিজরা প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে এখানে আসে এবং প্রায় ৪৫০ বছর ধরে পূর্ব তিমুর শাসন করে। তিমুর দ্বীপের পশ্চিমাংশ নেদারল্যান্ডের দখলে ছিল (যা পরে ইন্দোনেশিয়ার অংশ হয়), আর পূর্বাংশ (পূর্ব তিমুর) পর্তুগালের অধীনে থাকে।

তো এই উপনিবেশিক ধারায় এই দ্বীপে দুটো দেশ তৈরি হয়েছে। পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতার পেছনে পশ্চিমা বিশেষত অস্ট্রেলিয়ার তেল স্বার্থ আছে। দীর্ঘ পথ বেয়ে পূর্ব তিমুর স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৪৫ সালের ১৭ আগস্ট ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডের কাছ থেকে স্বাধীন হয়। কিন্তু পূর্ব তিমুর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের অধীনে থেকে যায়।

পর্তুগাল তাদের শাসন গুটিয়ে নিলে, রাজনৈতিক দল ফ্রেতিলিন (Fretilin) একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর মাত্র নয় দিন পর, ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর আক্রমণ করে এবং একে তাদের ২৭তম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে।

ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফ্রেতিলিনের নেতৃত্বে দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধ শুরু হয়।

তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইন্দোনেশিয়া গণভোটের আয়োজন করে। ৭৮.৫% জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়।

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের পর, পূর্ব তিমুর বা তিমুর লেস্তে (Timor Leste) আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এটি একবিংশ শতাব্দীর প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র।

পূর্ব তিমুরের একটা ছিটমহল আছে পশ্চিমে, নাম হলো ওকুসি-অ্যাম্বেনো (Oecusse-Ambeno)। এটি ভৌগোলিকভাবে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম তিমুর (West Timor) দ্বারা পরিবেষ্টিত, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি পূর্ব তিমুরের অংশ।

১৯৭৫ সালে ইন্দোনেশিয়া পুরো পূর্ব তিমুর আয়ত্বে নিলেও ২০০২ সালে যখন পূর্ব তিমুর পূর্ণ স্বাধীনতা পায়, তখন ওকুসি তার ঐতিহাসিক ও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার হিসেবে স্বাধীন পূর্ব তিমুর রাষ্ট্রেরই অংশ হিসেবে থেকে যায়।

মজার তথ্য: ওকুসি থেকে পূর্ব তিমুরের মূল ভূখণ্ডে যেতে হলে হয় ইন্দোনেশিয়ার ভেতর দিয়ে স্থলপথে যেতে হয় (যার জন্য পাসপোর্টের প্রয়োজন), নয়তো সমুদ্রপথে ফেরি ব্যবহার করতে হয়।

@ বইকাল





27



সফল মানুষের পথে অন্তরায় এই অভ্যাস গুলো

১. Laziness: অলসতা কখনো একদিনে ক্ষতি করে না। এটি ধীরে ধীরে আপনার লক্ষ্য, আত্মবিশ্বাস এবং সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়।

২. Excuses: "সময় পাইনি", "পরিস্থিতি ভালো ছিল না", "আমার দ্বারা হবে না" এই কথাগুলো সাময়িক স্বস্তি দিলেও আপনাকে কখনো সামনে এগিয়ে নিতে পারে না।

৩. Overthinking: অনেকেই সফল হয় না কারণ তারা কাজ শুরু করার আগেই সবকিছু নিয়ে এত বেশি ভাবে যে আর শুরুই করতে পারে না।

৪. Negative People: আপনি যাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটান, ধীরে ধীরে তাদের মতোই চিন্তা করতে শুরু করেন। তাই আপনার পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৫. Fear of Failure: ব্যর্থতা জীবনের অংশ। কিন্তু ব্যর্থতার ভয়ে চেষ্টা না করা আপনার সম্ভাবনাকে চিরতরে আটকে দিতে পারে।

৬. Procrastination: "আগামীকাল থেকে শুরু করবো" এই একটি বাক্য হাজারো স্বপ্নকে অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছে।

৭. Distractions: প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং, আড্ডা বা বিনোদনে নষ্ট করলে একসময় দেখবেন আপনার লক্ষ্য অনেক দূরে চলে গেছে।

৮. Inconsistency: একদিন ১০ ঘণ্টা কাজ করে ৫ দিন কিছু না করার চেয়ে প্রতিদিন ১ ঘণ্টা কাজ করা বেশি শক্তিশালী।

Psychology & Sceince

World Vision



28



১৯২৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালের ল্যাবে কাজ করছিলেন স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। তিনি স্ট্যাফিলোকক্কাস (Staphylococcus) নামের এক ধরণের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করছিলেন, যা মানুষের শরীরে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ তৈরি করে। ছুটিতে যাওয়ার আগে তিনি অসাবধানতাবশত ব্যাকটেরিয়া কালচার করার কিছু পাত্র (Petri dishes) না ধুয়ে টেবিলের ওপরই রেখে চলে যান।

​ফ্লেমিং যখন ছুটি কাটিয়ে ল্যাবে ফিরে আসেন, তিনি লক্ষ্য করেন যে টেবিলের ওপর রেখে যাওয়া পাত্রগুলোর একটিতে এক ধরণের ছত্রাক বা ছাতা (Mold) জন্মেছে (ঠিক যেমন আমাদের ঘরে পুরনো পাউরুটিতে নীলচে-সবুজ ছাতা পড়ে)।

​কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, ঐ ছত্রাকটির চারপাশের অংশে যে ব্যাকটেরিয়াগুলো ছিল, সেগুলো সব মারা গেছে এবং নতুন করে কোনো ব্যাকটেরিয়া সেখানে জন্মাতে পারছে না। যেন ছত্রাকটি নিজের চারপাশে একটি "সুরক্ষা বলয়" তৈরি করেছে।

​ফ্লেমিং বুঝতে পারলেন, এই ছত্রাকটি থেকে এমন কোনো রস বা উপাদান নিঃসৃত হচ্ছে যা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি সেই ছত্রাকটি নিয়ে আরও গবেষণা করলেন এবং জানতে পারলেন সেটি ছিল পেনিসিলিয়াম নোটেটাম (Penicillium notatum) নামের একটি সাধারণ ছত্রাক।

​এই ছত্রাকের নাম অনুসারেই তিনি ল্যাব থেকে পাওয়া সেই তরল উপাদানটির নাম দেন "পেনিসিলিন" (Penicillin)। এটিই ছিল পৃথিবীর প্রথম সফল অ্যান্টিবায়োটিক (ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী ওষুধ) @ md tarek


29



আমরা যখন ‘ভাইকিং’ শব্দটি শুনি, তখন সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে দাড়িঅলা এক যোদ্ধার ছবি; হাতে তলোয়ার, সমুদ্রে পালতোলা জাহাজ, আর দূরদেশে লুটপাটের অভিযান। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিজ ও জনপ্রিয় সংস্কৃতি বহুদিন ধরে এই ছবিটিকেই শক্তিশালী করেছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, প্রশ্নটি শুধু ভাইকিংরা আসলে কেমন ছিল, তা নয়; বরং আজ আমরা তাদের সম্পর্কে যে-ধারণা পোষণ করি, সেটি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, সেই বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জুলিয়া হোকানসন স্ক্যান্ডিনেভিয়ার তিনটি রাষ্ট্র-পরিচালিত জাতীয় জাদুঘরের ভাইকিং প্রদর্শনী বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, জাদুঘরগুলো কীভাবে ভাইকিং যুগের ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে এবং সেই উপস্থাপনায় সমকালীন সমাজের মূল্যবোধ কতটা প্রতিফলিত হয়। গবেষণাটি দেখায়, জাদুঘর কখনওই শুধু অতীতের নিদর্শন প্রদর্শনের স্থান নয়; বরং সেখানে বর্তমান সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও নানা উপায়ে স্থান পায়।

গবেষণায় চারটি প্রধান উপস্থাপনাগত ধারা বা ট্রোপ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমটি হলো বহুসাংস্কৃতিক ভাইকিং জগত। বিশেষ করে সুইডেন ও নরওয়ের জাদুঘরগুলোতে ভাইকিংদের এমন এক সমাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যারা দূরদূরান্তের মানুষের সঙ্গে বাণিজ্য করেছে, নতুন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছে এবং নানা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নিজেদের সমাজকে গড়ে তুলেছে। গবেষকের মতে, এই উপস্থাপনা বর্তমানের বহুসাংস্কৃতিক সমাজের মূল্যবোধেরও প্রতিফলন।

দ্বিতীয় ধারাটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় ডেনমার্কে। সেখানে ভাইকিং যুগকে আধুনিক ডেনিশ রাষ্ট্রের সূচনা-পর্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ভাইকিংরা শুধু সমুদ্রযাত্রী নয়; তারা জাতি-গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। গবেষকের মতে, এটি উনিশ শতক থেকে চলে আসা জাতীয় ইতিহাসচর্চার একটি ধারাবাহিকতা।

তৃতীয় ধারাটি তিনটি জাদুঘরেই কমবেশি উপস্থিত। সেখানে ভাইকিংদের মূলত পুরুষ নাবিক, যোদ্ধা, ব্যবসায়ী কিংবা কৃষক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এখানেই গবেষণার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রদর্শনীর লেখায় বারবার বলা হয়েছে, অধিকাংশ ভাইকিং কখনওই যোদ্ধা ছিলেন না; তারা ছিলেন কৃষক এবং সাধারণ মানুষ। কিন্তু একই সঙ্গে প্রদর্শনীর সবচেয়ে আকর্ষক স্থান দখল করে আছে তলোয়ার, ঢাল, হেলমেট, যুদ্ধাস্ত্র ও বিশাল জাহাজ। ফলে, লেখায় ভিন্ন বার্তা দিলেও প্রদর্শিত বস্তু দর্শকের মনে আবারও যোদ্ধা ভাইকিঙের ছবিটিকেই শক্তিশালী করে। গবেষক এই দ্বৈততাকে জাদুঘরের এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন; একদিকে নতুন গবেষণার তথ্য, অন্যদিকে দর্শকের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

চতুর্থ ধারাটি নারীদের ঘিরে। তিনটি জাদুঘরই এখন ভাইকিং যুগে নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কোথাও গৃহপরিচালনা ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে তাঁদের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে, কোথাও বাণিজ্য বা দীর্ঘ ভ্রমণে অংশগ্রহণের উল্লেখ রয়েছে, আবার কোথাও নারী যোদ্ধা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার কথাও এসেছে। তবে গবেষকের মতে, এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপস্থাপনাগুলো এখনও অনেকাংশে পুরুষকেন্দ্রিক ইতিহাসের কাঠামোর মধ্যেই আবদ্ধ। পুরুষকে ইতিহাসের স্বাভাবিক মানদণ্ড ধরে নেওয়া হয়, আর নারীদের আলাদা করে ব্যাখ্যা করতে হয়। ফলে, তাঁদের দৃশ্যমান করার চেষ্টাও কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই পুরুষকেন্দ্রিক বয়ানকেই আরও জোরালো করে তোলে।

গবেষণাটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে। সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্ক; তিন দেশই একই ভাইকিং ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করলেও তাদের জাদুঘরের উপস্থাপনা এক নয়। সুইডেন তুলনামূলকভাবে বহুসাংস্কৃতিকতা ও সামাজিক বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেয়, ডেনমার্ক বেশি গুরুত্ব দেয় জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসকে, আর নরওয়ে এই দুই প্রবণতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। অর্থাৎ, অতীত বদলায় না, কিন্তু সেই অতীতকে বলার ধরন সমাজভেদে বদলে যায়।

এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনাবলির সমষ্টি নয়; সেই ইতিহাস কীভাবে বলা হচ্ছে, কোন্ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কোন বিষয় তুলনামূলকভাবে আড়ালে রাখা হচ্ছে, এসবও ইতিহাসচর্চার অংশ। জাদুঘর তাই শুধু অতীতের জানালা নয়; সেটি বর্তমান সমাজের মূল্যবোধ, পরিচয়বোধ ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিচ্ছবি। ভাইকিংদের গল্প বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গবেষণাটি শেষ পর্যন্ত আমাদের ইতিহাসকেই নতুনভাবে পড়তে শেখায়।

@ মুস্তাকিম গিয়াস


30


সৌরজগতের পরিচিত গ্রহগুলোর নাম এসেছে প্রাচীন রোমান দেবদেবীদের নাম থেকে। বুধ বা Mercury হলো রোমান দেবতাদের দূত — দ্রুততার প্রতীক, আর বুধ গ্রহ সূর্যকে সবচেয়ে দ্রুত প্রদক্ষিণ করে বলে এই নাম মানানসই। শুক্র বা Venus হলো সৌন্দর্যের দেবী — আকাশে এই গ্রহ সবচেয়ে উজ্জ্বল বলে এই নাম। মঙ্গল বা Mars হলো যুদ্ধের দেবতা — লাল রঙের কারণে রক্তের সাথে মিলিয়ে এই নাম দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতি বা Jupiter হলো দেবতাদের রাজা — সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ হিসেবে এই নাম যথার্থ। শনি বা Saturn হলো কৃষির দেবতা।

ইউরেনাস ও নেপচুন আবিষ্কার হয়েছিল টেলিস্কোপের যুগে। তখনো রোমান দেবতার নামের ঐতিহ্য মেনে Uranus নামকরণ হয়েছিল আকাশের দেবতার নামে, আর Neptune নামকরণ হয়েছিল সমুদ্রের দেবতার নামে।

নতুন মহাজাগতিক বস্তু আবিষ্কার হলে নামকরণের দায়িত্ব থাকে International Astronomical Union বা IAU এর কাছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা মহাকাশের সব বস্তুর নামকরণের নিয়ম নির্ধারণ করে।

বিভিন্ন ধরনের বস্তুর জন্য আলাদা নামকরণের নিয়ম আছে। গ্রহাণুর নাম সাধারণত আবিষ্কারক দেন — তবে IAU অনুমোদন করতে হয়। ধূমকেতুর নাম হয় আবিষ্কারকের নামে — যেমন Halley's Comet। অন্য তারার চারপাশের গ্রহের নাম হয় তারার নাম এবং একটি অক্ষর মিলিয়ে — যেমন 51 Pegasi b।

চাঁদের নামকরণেও আলাদা নিয়ম আছে। বৃহস্পতির চাঁদের নাম রাখা হয় গ্রিক পুরাণের চরিত্রের নামে, শনির চাঁদের নাম রাখা হয় রোমান ও অন্যান্য পুরাণের দেবতার নামে। মঙ্গলের দুই চাঁদ Phobos ও Deimos — গ্রিক পুরাণে মঙ্গল দেবতার দুই পুত্র, যাদের অর্থ ভয় ও আতঙ্ক।

নামকরণের এই ঐতিহ্য মানবসভ্যতার হাজার বছরের পুরাণ, সংস্কৃতি ও কল্পনার সাথে মহাবিশ্বকে জুড়ে দেয় — মহাকাশের প্রতিটি বস্তু তাই শুধু একটা সংখ্যা নয়, একটা গল্পও বহন করে। @ The Earth Bangla


31

১৮৭৮ সালের ১৩ জুলাই। ইউরোপের ইতিহাসে স্বাক্ষরিত হয় এমন এক চুক্তি, যা শুধু কয়েকটি দেশের সীমানাই বদলায়নি, বড় ধাক্কা দিয়েছিল শক্তিশালী উসমানীয় সাম্রাজ্যকেও।

‘বার্লিন চুক্তি’ নামে পরিচিত ওই সমঝোতায় স্বাক্ষর করে উসমানীয় সাম্রাজ্য এবং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি রাজ্য ও রাশিয়াসহ ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো।

এই চুক্তির মাধ্যমে আগের সান স্তেফানো চুক্তি সংশোধন করা হয়। একই সঙ্গে বলকান অঞ্চলে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়। কার্যত স্বাধীনভাবে চলা রোমানিয়া, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর স্বাধীনতাকেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বার্লিন চুক্তির পেছনে ছিল ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের সার্ব-তুর্কি যুদ্ধ এবং রুশ-তুর্কি যুদ্ধের দীর্ঘ সংঘাত। প্রথম সার্ব-তুর্কি যুদ্ধের সময় রাশিয়ার চাপেই সার্বিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হয়েছিল উসমানীয়দের।

প্রথম যুদ্ধে উসমানীয়রা জয় পেলেও দ্বিতীয় যুদ্ধে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপে পরাজিত হয় উসমানীয় সাম্রাজ্য। এরপর ১৮৭৮ সালের ৩ মার্চ তাদের ওপর সান স্তেফানো চুক্তি চাপিয়ে দেয় রাশিয়া।

কিন্তু বলকান অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে ইউরোপের অন্য শক্তিগুলো। সান স্তেফানো চুক্তি সংশোধন এবং বলকানের বৃহত্তর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ১৮৭৮ সালের ১৩ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বসে বার্লিন কংগ্রেস।

সেই বৈঠকের ফল হিসেবেই আসে বার্লিন চুক্তি। এর ফলে বলকান ও পূর্ব আনাতোলিয়ায় উসমানীয় সাম্রাজ্য তার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড এবং এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা হারায়। হাতছাড়া হওয়া অঞ্চলগুলোর মধ্যে ছিল ককেশাসের কার্স, আরদাহান ও বাতুম প্রদেশ।

তবে উসমানীয়দের ভূখণ্ড হারানোর ধারা এখানেই থামেনি।

১৮৭৮ সালে সাইপ্রাসের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রিটেন। ১৮৮১ সালে তিউনিসিয়া দখল করে ফ্রান্স। এরপর ১৮৮২ সালের মিসর সংকটের পর উসমানীয় সাম্রাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত মিসর প্রদেশে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটেন।

একের পর এক ভূখণ্ড হারানোর ঘটনায় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ বিশ্বাস করতে শুরু করেন, ইউরোপীয় শক্তির আরও আগ্রাসন থেকে সাম্রাজ্যকে রক্ষা করতে হলে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন।

১৮৮২ থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত তিনি অনেকাংশেই সেই লক্ষ্য অর্জন করেছিলেন। এই সময়ের মধ্যে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভূখণ্ডে নতুন করে বড় ধরনের ভাঙন ঠেকাতে সক্ষম হন দ্বিতীয় আবদুল হামিদ। @ dik dorpon



32



বাঙালির ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার হলো চিঁড়া। আর দেশীয় ধানের লাল চিঁড়ার সাথে যখন ঘরে তৈরি ফ্রেশ কেফির যুক্ত হয়, তখন তা শরীরের জন্য এক অসাধারণ পুষ্টিকর ও কার্যকরী খাবারে পরিণত হয়।

লাল চিঁড়া হলো একটি চমৎকার প্রিবায়োটিক (উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য) এবং কেফির হলো একটি শক্তিশালী প্রোবায়োটিক (জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া)। এই দুটি উপাদান যখন একসাথে শরীরে প্রবেশ করে, তখন এরা একে অপরের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মেয়েদের ও ছেলেদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য, বিশেষ করে অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সংমিশ্রণটি দারুণ ভূমিকা রাখে।

লাল চিঁড়ায় ফাইবার থাকে এবং কেফিরে থাকে বিলিয়ন বিলিয়ন ভালো ব্যাকটেরিয়া। লাল চিঁড়ার ফাইবারগুলো কেফিরের ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলোকে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে এবং অন্ত্রে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকতে সাহায্য করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া এবং পেট ফাঁপার মতো চিরচেনা সমস্যাগুলো দূর করতে হেল্প করতে পারে। 

কেফিরে থাকা ক্যালসিয়াম, ভিটামিন কে-টু এবং লাল চিঁড়ার আয়রন ও বি ভিটামিন একসাথে মিলে শরীরের হাড় মজবুত করতে, রক্তশূন্যতা দূর করতে এবং ভেতরের প্রদাহ কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এটি খাওয়ার নিয়মটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে পরিমাণমতো লাল চিঁড়া ভালো করে পানিতে ধুয়ে ঝরিয়ে নিতে হবে। এর পর সামান্য পানি দিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে এটি নরম হয়ে যায়। এরপর নরম হওয়া চিঁড়ার ওপর কেফির ঢেলে মিশিয়ে নিতে হবে। কেফিরের টক স্বাদ যদি আপনার খুব বেশি পছন্দ না হয়, তবে এর সাথে একটি পাকা কলা কিংবা সামান্য খাঁটি মধু বা এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন, যা এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুই-ই বাড়িয়ে দেবে।

পরিমাণের কথা বলতে গেলে, শুরুতে সবসময় পরিমিতি বজায় রাখা ভালো। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য এক বারের হিসেবে আধ কাপ শুকনো লাল চিঁড়া (যা ভেজানোর পর প্রায় এক কাপ হবে) এবং তার সাথে আধা কাপ থেকে এক কাপ কেফির মেশানোই যথেষ্ট। তবে আপনি যদি কেফির খাওয়ায় একদম নতুন হন, তবে প্রথম কয়েকদিন চিঁড়ার সাথে মাত্র দুই থেকে তিন টেবিল চামচ কেফির মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন, যেন আপনার পাকস্থলী এই শক্তিশালী প্রোবায়োটিকের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। শরীর অভ্যস্ত হয়ে গেলে ধীরে ধীরে কেফিরের পরিমাণ বাড়িয়ে এক কাপ পর্যন্ত করতে পারেন।

এই পুষ্টিকর খাবারটি খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সকালের নাস্তা হিসেবে। খালি পেটে বা সকালের শুরুতে এটি খেলে শরীরের অন্ত্র সারাদিনের জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীর দীর্ঘক্ষণ শক্তিতে ভরপুর থাকে। এছাড়া দুপুরের তীব্র গরমে ক্লান্তি দূর করতে কিংবা বিকেলের হালকা নাস্তা হিসেবেও এটি অনায়াসে খাওয়া যায়। তবে রাতে এটি না খাওয়াই ভালো, কারণ কেফির হজমপ্রক্রিয়াকে বেশ উদ্দীপিত করে, যা রাতের ঘুমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন সকালের নাস্তায় এই মিলটি রাখলে আপনি শারীরিক শক্তি, হজম ক্ষমতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্যে একটি দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন। @ Captain Green


33


ডুমস্ক্রলিং কী

ডুমস্ক্রলিং হলো মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক খবর, ভিডিও, পোস্ট বা রিল দেখতে থাকা—বিশেষ করে নেতিবাচক, উদ্বেগজনক বা উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়গুলো বারবার দেখা। ‘আর মাত্র এক মিনিট’ দেখব ভেবে শুরু হলেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়।

মানুষ তখন তথ্য খোঁজে না, বরং তথ্যের স্রোতে ভেসে যায়। কোনো তথ্য মিস হয়ে যেতে পারে—এই ভয় থেকে বারবার একই পেজ রিফ্রেশ করে কিংবা পুশ নোটিফিকেশন চেক করতে থাকে।

ডুমস্ক্রলিংয়ের লক্ষণ

কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো—রাতে ঘুমানোর আগে ‘আর একটু দেখি’ বলতে বলতে অনেক সময় পার করে ফেলা। মোবাইল সরিয়ে রাখার পরও মনের মধ্যে খবর বা ভিডিও ঘুরতে থাকা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন চেক করার পর দিনের শুরুতেই মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তোলা। কোনো নতুন নোটিফিকেশন না এলেও বারবার ফোন দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটিয়ে ফেলা। ফলে কর্মময় দিনের যাত্রা বিঘ্নিত হয়।

ডুমস্ক্রলিং (সোশ্যাল মিডিয়া বনাম স্লিপ সাইকেল) কীভাবে ঘুম নষ্ট করে?

১. মোবাইলের নীল আলো মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত মেলাটোনিন নামের ঘুম সহায়ক হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটায় বা তা বিলম্বিত করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।

২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে রাখে। যুদ্ধ, দুর্ঘটনা, রাজনৈতিক সংঘাত, ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি বা বিতর্কিত বিষয় দেখলে মস্তিষ্ক সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। তখন শরীর বিছানায় থাকলেও মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে না।

৩. রিল বা শর্ট ভিডিওর দ্রুত পরিবর্তন মস্তিষ্কের ডোপামিন নির্ভর ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। ফলে মস্তিষ্ক আরও নতুন কনটেন্ট খুঁজতে থাকে এবং ঘুম পিছিয়ে দেয়, কিংবা ঘুমের শুরুটায় বিঘ্ন তৈরি করে। এভাবে ঘুমাতে দেরি হয় এবং ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তখন ক্লান্তি লাগে, দিনের বেলায় কাজে বা পড়ায় মনোযোগ আসে না।

ডুমস্ক্রলিং শুধু ঘুমই নষ্ট করে না, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।

মানসিক ক্ষতি—উদ্বেগ ও মানসিক চাপ, হতাশাবোধ বাড়িয়ে দেয়, মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তিও কমে যায়।

শারীরিক ক্ষতি—ঘুমের ঘাটতি, মাথাব্যথা, চোখে ক্লান্তি, সারাদিন অবসাদ ভোগা।

সামাজিক ক্ষতি—পরিবারে সময় কম দেওয়া, বাস্তব সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া, কাজ বা পড়াশোনার ক্ষতি।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া দিয়ে সমস্যার শুরু হলেও এর পেছনে থাকে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাটানোর অভ্যাস।

সোশ্যাল ফোবিয়া কেন হয়, কাটিয়ে উঠবেন কীভাবে

রাতে ঘুম নষ্টের নীরব ঘাতক ডুমস্ক্রলিং থেকে মুক্তির উপায়

মোবাইল ব্যবহার পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাই লক্ষ্য। অর্থাৎ স্ক্রিন টাইম সীমিত করতে হবে।

মোবাইল বা ল্যাপটপের নির্দিষ্ট অ্যাপগুলোর জন্য দৈনিক সময় বেঁধে দিতে হবে। অ্যাপ ব্লকার ব্যবহার করে তা করা সম্ভব।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এবং সন্ধ্যার পর থেকেই রাতে ঘুমানো পর্যন্ত ফোন থেকে দূরে থাকা নিশ্চিত করতে হবে।

পজিটিভ কনটেন্ট নির্বাচন—সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে নেতিবাচক পেজ বা গ্রুপগুলো আনফলো বা মিউট করে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কনটেন্ট যুক্ত পেজ অনুসরণ করার বিষয়ে জানতে হবে।

অফলাইন শখ বা সৃজনশীল কাজে মনোযোগ বাড়াতে হবে। স্ক্রল করার অভ্যাস দূর করতে বই পড়া, ব্যায়াম করা, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বিছানাকে মোবাইল ব্যবহারের জায়গা বানানো যাবে না।

রাতে ফোনের নোটিফিকেশন সাইলেন্ট বা ডু-নট-ডিস্টার্ব মোডে রাখতে হবে।

শোবার আগেও বই পড়া, প্রার্থনা, ধ্যান বা হালকা সংগীতের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ফোন চার্জে দিতে হবে বিছানা থেকে বেশ দূরে।

নিজের জন্য ‘ডিজিটাল কারফিউ’ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ডুমস্ক্রলিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মানসিক রোগ না হলেও আধুনিক ডিজিটাল জীবনের একটি অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস, আসক্তি বা অ্যাডিকটিভ বিহেভিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। আমরা মনে করি, ‘খবর’ দেখছি। কিন্তু অনেক ‘খবর’ই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ভালো ঘুম, মানসিক প্রশান্তি এবং সুস্থ জীবনের জন্য রাতে মোবাইলের সঙ্গে একটা স্বাস্থ্যকর দূরত্ব তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে, প্রযুক্তির দ্বারা ব্যবহৃত হওয়া যাবে না।

@The Daily Star বাংলা


34


দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এক নির্জন দ্বীপপুঞ্জ ‘ফকল্যান্ড’। ভৌগোলিক আয়তনে ছোট হলেও, এই দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব রয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।

অবস্থান ও পরিচয়

ভৌগোলিক অবস্থান: ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ আমেরিকার মূল ভূখণ্ড (আর্জেন্টিনার উপকূল) থেকে প্রায় ৪০০ মাইল (প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার) পূর্বে অবস্থিত। এটি মূলত ৭৭৮টি ছোট-বড় দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত, যার মধ্যে ‘পূর্ব ফকল্যান্ড’ ও ‘পশ্চিম ফকল্যান্ড’ হলো দুটি প্রধান দ্বীপ।

অধিবাসী: এখানকার জনসংখ্যা খুবই কম—প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ জনের মতো (বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী)। দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ মানুষ রাজধানী স্ট্যানলি-তে বসবাস করেন। এখানকার বাসিন্দারা মূলত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত। মজার ব্যাপার হলো, দ্বীপপুঞ্জে মানুষের সংখ্যার চেয়ে পেঙ্গুইনের সংখ্যা অনেক গুণ বেশি।

ভাষা: দ্বীপপুঞ্জের সরকারি ও প্রধান ভাষা হলো ইংরেজি। এখানকার সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় ব্রিটিশ প্রভাব অত্যন্ত প্রবল।

দ্বীপটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের একটি বিদেশি অঞ্চল (British Overseas Territory) হিসেবে শাসিত হয়, যদিও আর্জেন্টিনা দীর্ঘকাল ধরে এর মালিকানা দাবি করে আসছে।

আবিষ্কার, ও দখল

১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ফকল্যান্ড প্রথম ইউরোপীয়দের নজরে আসে। প্রথমে ফরাসি অভিযাত্রী লুই অঁতোয়ান দ্য বুগেনভিল এখানে বসতি স্থাপন করেন (যাদের দেওয়া নাম ‘মালুইনস’ থেকে স্প্যানিশ ‘মালভিনাস’ এসেছে)। পরবর্তীতে স্পেন এবং ব্রিটেন পর্যায়ক্রমে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

১৮৩৩ সালে ব্রিটেন পুনরায় দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কয়েকবার হাতবদল হয়েছে। দ্বীপগুলো জনশূন্য অবস্থায় আবিষ্কৃত হয়েছিল, তাই এর কোনো আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল না। ১৮৩৩ সালের আগের ইতিহাসটি বেশ জটিল এবং কয়েকটি দেশের দাবির সাথে যুক্ত।

১৮১৬ সালে আর্জেন্টিনা স্বাধীনতা লাভের পর, ১৮২০ সালে বুয়েনস আইরেসের সরকার ফকল্যান্ডের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে। ১৮২৬ সালে তারা লুইস ভার্নেট (Louis Vernet) নামক এক জার্মান বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে দ্বীপগুলোতে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়। ১৮৩২ সালে ভার্নেটকে দ্বীপের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

@ boikal


35


১৯৭৬ সালের কথা। আমেরিকান কমিউনিকেশন স্কলার জর্জ গার্বনার তখন ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার Annenberg School-এর ডিন। তিনি আর তার সহকর্মী মিলে একটা অদ্ভুত পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন।  কয়েক হাজার টিভি প্রোগ্রাম আর পঁয়ত্রিশ হাজার চরিত্র বিশ্লেষণ করে দেখছিলেন, টিভিতে যে জগৎ দেখানো হয়, সেটা বাস্তব জগতের সাথে কতটা মেলে।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার বেশি টেলিভিশন দেখতেন, তারা বাস্তব জগৎকে তুলনামূলকভাবে বেশি বিপজ্জনক বলে মনে করতেন। তারা অপরাধের হার, সহিংসতার মাত্রা এবং নিজেরা অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা—সবকিছুকেই বাস্তবতার চেয়ে বেশি বলে অনুমান করতেন। গার্বনার এই প্রবণতার নাম দেন ‘মিন ওয়ার্ল্ড সিনড্রোম’ (Mean World Syndrome)।

Mean World Syndrome অনুযায়ী কেউ যদি অতিরিক্ত (ভায়োলেন্ট,নেগেটিভ) মিডিয়া কনজিউম করে,  তাহলে সে ব্যক্তি Paranoid  হয়ে যেতে পারে।

Paranoid ব্যক্তি অহেতুক বা অযৌক্তিকভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে অন্যরা তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

~

গার্বনারের এই থিওরি অনুযায়ী,মিডিয়া আমাদের সরাসরি কিছু করতে বলে না, বরং ধীরে ধীরে, বছরের পর বছর ধরে, আমাদের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণাকেই বদলে দেয়।

এক-দুইটা সিনেমা দেখে কেউ paranoid হয়ে যায় না। কিন্তু দিনের পর দিন যদি স্ক্রিনে সহিংসতা, অপরাধ, বিপদ — এসবই বেশি করে দেখানো হয়, তাহলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে এই বিকৃত রিয়েলিটিকে "স্বাভাবিক" ধরে নিতে শুরু করে।

Mean World Syndrome কোনো clinical বা psychiatric disorder না।  এটা একটা perception bias --পৃথিবীটাকে বাস্তবের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক ভাবার একটা প্রবণতা, যা মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।

~

খুন-ধর্ষণ-দুর্ঘটনার খবর যেহেতু বারবার স্ক্রিনে আসে, সেগুলো মনে থাকে সহজে, ফলে মস্তিষ্ক ভুল করে ভাবে যে এগুলো বুঝি খুব common।

বাস্তব জীবনে সহিংস অপরাধ যত ঘটে, টিভি ড্রামা বা নিউজে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দেখানো হয়  কারণ এসব কনটেন্ট বেশি attention পায়, বেশি ভিউ পায়।

যাদের নিজের জীবনেও কিছুটা অনিরাপত্তা আছে (যেমন যারা উচ্চ-অপরাধপ্রবণ এলাকায় থাকেন), তাদের ওপর এই প্রভাব আরও তীব্র হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, Heavy Media Consumer-দের  মধ্যে রাতে একা হাঁটতে ভয় পাওয়া এবং বিপদের ঝুঁকি বেশি করে Expect  করার প্রবণতা বেশি থাকে।

~

গার্বনার মারা যান ২০০৬ সালে।তখন সোশ্যাল মিডিয়া অল্প সংখ্যক মানুষ ব্যবহার করত ।

বর্তমানে গবেষকরা দেখছেন, এই তত্ত্ব ফেসবুক-টুইটার-টিকটকের যুগে যেন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

পোর্টল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির একটা গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সাথে,  Mean World Syndrome-এর সম্পর্ক আছে।

অ্যালগরিদম এমনভাবে ডিজাইন করা, যা বেশি engagement আনে সেটাই বেশি দেখায়।

আর ভয়, ক্ষোভ, মানুষের বিপদে পড়ার কনটেন্ট সবসময়ই বেশি engagement আনে।কারণ এগুলো সহজেই মানুষের ইমোশনাল রেসপন্স জেনারেট করে।

ফলে টিভির চেয়েও দ্রুত, আরও personalized ভাবে, একটা বিকৃত, দুনিয়ার ছবি আমাদের ফিডে বারবার ফিরে আসে।

শেষ কথা :

অনেক মানুষ ফেসবুক ও ইউটিউব সচেতনভাবে ব্যবহার করেন না। ফলে তাদের ফিডে প্রায়ই নানা ধরনের intrusive বা অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট বেশি দেখা যায়।

এসব কনটেন্টের একটি বড় অংশ ভয়, রাগ, উদ্বেগ বা হতাশার মতো নেতিবাচক আবেগ তৈরি করে। অনেক সময় বয়স্কদের ফেসবুক বা ইউটিউব ফিড দেখলে মনে হয়, যেন পৃথিবী কালই ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাই ফিডে বারবার নেতিবাচক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট এলে 'Not Interested' অপশন ব্যবহার করা, প্রয়োজনে সেই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে Unfollow বা Block করাএবং নিজের দেখা কনটেন্ট সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমরা যা দেখি, পড়ি ও শুনি, তা ধীরে ধীরে আমাদের পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বা perception-কে প্রভাবিত করতে পারে। অতিরিক্ত নেতিবাচক সংবাদ বা কনটেন্টের প্রতি অবিরাম এক্সপোজার anxiety depression বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা  মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Ref:

| Gerbner, G., & Gross, L. (1976). Living with television: The violence profile. Journal of Communication, 26(2), 172-199

| Gerbner, G., & Morgan, M. (2010). The Mean World Syndrome: Media Violence & the Cultivation of Fear. Media Education Foundation

| Morgan, M., & Shanahan, J. (2010). The state of cultivation. Journal of Broadcasting & Electronic Media, 54(2), 337-355

@ Farhad Hossain



36


"ফুগু সাশিমি"

ফুগু নামের এই মাছে টেট্রোডোটক্সিন বিষ আছে৷ যা সায়নাইডের চেয়ে ১২০০ গুন বেশি মারাত্মক৷ একটি মাছের বিষ দিয়ে ৩০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

জাপানে এই মাছ সবাই কাটতে ও রান্না করতে পারেনা। এর জন্য লাইসেন্সধারী রাধুনী বা শেফ হতে হয়। ফুগু রান্নার লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষাটি অত্যন্ত কঠিন। দুই তিন বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পরীক্ষায় বসতে হয়। পরীক্ষায় একটি ফুগু মাছ নিখুঁতভাবে কেটে বিষাক্ত অংশগুলো সম্পূর্ণ আলাদা করতে হয় এবং সেই মাছ রান্না করে নিজে খেয়ে পাস-ফেল নির্ধারণ করতে হয়। 

ফুগু মাছ খুব পাতলা স্লাইস করে কাটা হয়, যা দেখতে প্রায় স্বচ্ছ কাঁচের মতো লাগে। স্লাইস গুলো প্লেটের ওপর চমৎকার ফুলের পাপড়ির মতো সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। যাঁরা এই মাছ খেয়েছেন, তাঁদের মতে এর স্বাদ অত্যন্ত মৃদু এবং অনন্য।

অভিজ্ঞ শেফরা মাছ কাটার সময় খুব সামান্য (নিরাপদ মাত্রার) বিষ মাছে রেখে দেন। এর ফলে ফুগু খাওয়ার সময় জিহ্বা এবং ঠোঁটে এক ধরণের হালকা অবশ বা শিরশিরে অনুভূতি তৈরি হয়, যা ভোজনরসিকদের কাছে এক অন্যরকম রোমাঞ্চ এনে দেয়।

@don media


37



ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক আবিষ্কার রয়েছে, যা আমাদের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। তেমনই একটি বিস্ময়কর নিদর্শন হলো Plimpton 322—প্রায় ৩,৭০০ বছর পুরোনো একটি পোড়ামাটির ট্যাবলেট, যা বর্তমান ইরাকের প্রাচীন ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সময়কার। বর্তমানে এটি Columbia University Rare Book & Manuscript Library-তে সংরক্ষিত রয়েছে।

এই ট্যাবলেটে কিউনিফর্ম লিপিতে খোদাই করা রয়েছে বিশেষ কিছু সংখ্যার তালিকা। ১৯৪৫ সালে গবেষকরা লক্ষ্য করেন, এগুলোর মধ্যে এমন অনেক সংখ্যা রয়েছে যা আজ আমরা Pythagorean triples নামে চিনি, অর্থাৎ এমন তিনটি সংখ্যা, যা সমকোণী ত্রিভুজের বাহুগুলোর সম্পর্ক পূরণ করে। এর অর্থ, ব্যাবিলনীয় গণিতবিদরা পিথাগোরাসের জন্মেরও এক হাজার বছরের বেশি আগে সমকোণী ত্রিভুজের এই গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক সম্পর্ক সম্পর্কে জানতেন এবং তা ব্যবহার করতেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার। অনেক ভাইরাল পোস্টে বলা হয়, "পিথাগোরাসের উপপাদ্য প্রথম ব্যাবিলনীয়রাই আবিষ্কার করেছিলেন।" ইতিহাস কিন্তু এতটা নিশ্চিত নয়। বরং গবেষকদের মধ্যে সাধারণ ঐকমত্য হলো, তারা এই সম্পর্কটি ব্যবহারিক গণনা ও জ্যামিতিক সমস্যার সমাধানে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতেন। কিন্তু আধুনিক অর্থে উপপাদ্যের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ তারা লিখে গিয়েছিলেন এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে UNSW Sydney-এর গণিতবিদ ড্যানিয়েল ম্যানসফিল্ড ও নরম্যান ওয়াইল্ডবার্গার Plimpton 322 নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত ত্রিকোণমিতিক সারণি হতে পারে এবং সম্ভবত প্রাসাদ, মন্দির, খাল বা অন্যান্য বড় স্থাপনার নকশা ও জরিপের কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে এখনো সব ইতিহাসবিদ ও গণিতবিদ একমত নন; বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও বিতর্ক এখনও চলছে।

তবুও একটি বিষয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে ব্যাবিলনীয়দের গণিত ছিল তাদের সময়ের তুলনায় অসাধারণ উন্নত। তারা sexagesimal system পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, যার প্রভাব আজও আমরা সময় (৬০ সেকেন্ড, ৬০ মিনিট) ও কোণের (৩৬০°) হিসাবের মধ্যে দেখতে পাই। @Mahfuz Ahmed Chy


38


দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে আমরা সবাই কমবেশি কেনাকাটা করি, আর অনেকেই এটি উপভোগও করি। তবে আমাদের মধ্যে কিছু লোকের জিনিস কেনার জন্য মাঝে মাঝে যে তাড়না থাকে সেটি অনেক সময় সীমার বাইরে চলে যায়। যেটি কিনা কেনাকাটার আসক্তি হিসেবে অভিহিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে "ওনিয়ম্যানিয়া" বা বাধ্যতামূলক ক্রয় ব্যাধি ( Compulsive Buying Disorder,CBD) বলে।

কেনাকাটার আসক্তি হল একটি আচরণগত আসক্তি। উদ্বেগ ও বিষন্নতার মত নেতিবাচক অনুভূতি এড়ানোর জন্য বাধ্যতামূলক কেনাকাটার উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। সাময়িক স্বস্তির জন্য মানুষ তাদের জীবনের চাপ ও অসুবিধা গুলো থেকে মুক্তি পেতে কেনাকাটার দিকে ঝুকে পড়ে, ফলে এটি নেশায় পরিণত হয়। যা পরবর্তীতে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে।

গবেষকদের ভাষ্যমতে, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এটি একটি মানসিক রোগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মনোবিজ্ঞানী প্যাট্রিক ট্রটজকের করা একটি ব্রেন ইমেজিং গবেষণা অনুসারে, কিশোর কিশোরীদের পছন্দসই জিনিসপত্রের ছবি দেখানোর ফলে মস্তিষ্কের ডোপামিনার্জিক রিওয়ার্ড সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। অর্থাৎ কেনাকাটা নেশার মতো কারণ এটি মস্তিষ্কে ডোপামিনের তীব্রতা বৃদ্ধি করে, মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও বিপণন কৌশলকে এমনভাবে  ব্যবহার করা হয় যা ক্রেতাদের আবেগপ্রবণতার সাথে জড়িত এবং আসক্ত ব্যক্তিদের আবেগপ্রবণ প্রকৃতিকে লক্ষ্য করার জন্যই এমনভাবে ডিজাইন করা হয়। ফলশ্রুতিতে  কিশোর-কিশোরীরা সহ আরো অন্যান্য বয়সের মানুষ এটির প্রতি ঝুঁকে পড়ে।    

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমেই বুঝতে হবে এটি কেন হয়।কেনাকাটা সাময়িক মুক্তি দিলেও বাস্তবিক অর্থে কেনাকাটা কোন পরিতৃপ্তিদায়ক কার্যকলাপ নয়। তবে তাৎক্ষণিক মুক্তির পরিবর্তে এমন জিনিস গুলোতে অর্থ ব্যয় করা উচিত, যেটা জীবনের মান উন্নত করে। যেমন- ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় অথবা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা যেতে পারে কিংবা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ক্রয় করা যেতে পারে। ডোপামিনের উদ্দীপনা পেতে কেনাকাটা করা ভালো। তবে সেটির জন্য সীমা নির্ধারণ করা অতীব প্রয়োজনীয়।

@Samiya Rahman Mim


39


চারিদিকে কেবল রক্ত আর রক্ত। কু দসের অলিগলি, পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত রক্তে প্লাবিত। দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মস্তক ও ছিন্নভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এদিক-সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে; শিশু, বৃদ্ধ কিংবা নারী- কেউই এই নৃশংসতা থেকে রেহাই পায়নি। ঐতিহাসিক ইবনুল আসির রহ. লিখেছেন, সেই দিন ক্রুসেডাররা মসজিদুল  অ|কসায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নির্মমভাবে শহীদ করেছিল। এদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ইমাম, আলেম এবং পরহেজগার ব্যক্তি ছিলেন। এমনকি, শুধুমাত্র মুসলমানদের সহায়তা করার সন্দেহে তারা ইহুদিদেরও রেহাই দেয়নি; তাদেরকে তাদের উপাসনালয়ের ভেতর অবরুদ্ধ করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে।

আজ ১৫ই জুলাই। ১০৯৯ সালের ঠিক এই দিনটিতেই এক ন্যাক্কারজনক ও নৃশংস ইতিহাসের মধ্য দিয়ে জেরুজালেমে মুসলিম শাসনের পতন ঘটেছিল। এই পতনের ফলে খলিফা উমর (রা.)-এর রেখে যাওয়া পবিত্র আমানত আবারও ক্রুসেডারদের হস্তগত হয়। অবশ্য এই মহাবিপর্যয়ের পেছনে মুসলমানদের নিজস্ব গাফিলতি ও দায়ই ছিল সবচেয়ে বেশি।

১০৯৭ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম শাসকগণ যখন চরম উদাসীনতা এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-হানাহানিতে লিপ্ত, ঠিক তখনই খ্রিষ্টান বিশ্বে এক ঐক্যের ডাক আসে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য একই পতাকাতলে সমবেত হতে থাকে; যার মাধ্যমে সূচনা হয় প্রথম ক্রুসেডের। এই অভিযানের চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল জেরুজালেম তথা বায়তুল মুক|দ্দাস। ক্রুসেডার বাহিনী আনাতোলিয়ার ভূখণ্ডে সেলজুকদের পরাজিত করে একপর্যায়ে জেরুজালেমের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছায়।

তখনও জেরুজালেমে সেলজুক শাসন বিরাজমান ছিল। তবে সেলজুকদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শিয়া ফাতেমিরা এক ভিন্ন পরিকল্পনা আঁটে। ১০৯৮ সালে চলমান ক্রুসেড যুদ্ধের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফাতেমিরা তুর্কিদের হাত থেকে বায়তুল মুক|দ্দাস দখল করে নেয়। এই উদ্দেশ্যে তারা ক্রুসেডারদের সাথে এক ধরনের সমঝোতা বা চুক্তিও করেছিল। ফাতেমিরা ভেবেছিল ক্রুসেডাররা তাদের সাথে আপস করবে, কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ভুল ভাঙে। কারণ, ক্রুসেডারদের মূল লক্ষ্যই ছিল জেরুজালেম সম্পূর্ণরূপে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

১০৯৯ সালের ৭ই জুন ক্রুসেডাররা বায়তুল মুকাদ্দাস শহর অবরোধ করে। কু দসের জানবাজ সৈনিকরা বীরত্বের সাথে লড়াই শুরু করেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পবিত্র ভূখণ্ড রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। সুদীর্ঘ এক মাস অবরোধের পর, ১৫ই জুলাই পবিত্র ভূমি আল-কু দসের পতন নিশ্চিত হয়। পরাজয় অবধারিত দেখে ফাতেমি সেনাপতি ইফতিখার উদ-দৌলা নিজের ও তাঁর সেনাবাহিনীর নিরাপদ প্রস্থানের অনুরোধ জানান। ক্রুসেডাররা সেই অনুমতি দিলে তিনি সসৈন্যে নিরাপদে মিশরে ফিরে যান। কিন্তু পেছনে ফেলে যান হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে, যাঁদের ভাগ্যে জালিমদের অবর্ণনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা শাহাদাত লিখে রেখেছিলেন।

জেরুজালেমের এই পতন ইসলামের ইতিহাসে ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়। এই পরাজয়ের গ্লানি মুসলমানদের পরবর্তী প্রায় ৯০ বছর বয়ে বেড়াতে হয়েছিল। অবশেষে, ইতিহাসের পাতায় আবির্ভুত হন আরেক মহান বীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবি। তাঁরই যোগ্য নেতৃত্বে ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে বায়তুল মুকাদ্দাসের দ্বার মুসলমানদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হয় এবং পবিত্র ভূমি মুক্ত হয়। @ Searching History


40


আলবার্ট আইনস্টাইন মোজা পরতে খুব একটা পছন্দ করতেন না। একবার তিনি মজা করে বলেছিলেন, মোজার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর আঙুলের দিকটা খুব তাড়াতাড়ি ছিঁড়ে যায়। তখন নতুন মোজা কিনতে হয়, পুরোনোটা ফেলে দিতে হয়, আবার একই ঝামেলা শুরু হয়। তাঁর যুক্তি ছিল সহজ—যে জিনিস বারবার সমস্যা তৈরি করে, সেটিকে বাদ দিলেই তো সমস্যার সমাধান!

এই কথা শুনে অনেকেই হেসেছিলেন। কারণ সাধারণ মানুষ যেখানে ছেঁড়া মোজা বদলানোর কথা ভাবেন, আইনস্টাইন সেখানে মোজাকেই বাদ দিয়ে দিলেন।  

ঘটনাটি যতই মজার হোক, এর মধ্যে তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পায়। আইনস্টাইন এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইতেন না। তিনি বুঝতেন, মানুষের মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি সীমিত। যদি সেই শক্তি পোশাক-পরিচ্ছদ, আড়ম্বর বা ছোটখাটো সামাজিক নিয়মের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়, তাহলে বড় প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ কমে যায়।

আসলে আমরা অনেক সময় জীবনে এমন সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে ব্যস্ত থাকি, যেগুলো হয়তো সমস্যাই নয়। আমরা সমস্যার চারপাশে ঘুরপাক খাই, কিন্তু খুব কমই নিজেকে জিজ্ঞেস করি—“এটা কি সত্যিই প্রয়োজনীয়?”

দার্শনিকভাবে দেখলে, আইনস্টাইনের মোজা না পরার অভ্যাস আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়। জীবনের সব জটিলতার সমাধান খুঁজে বের করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়। কখনো কখনো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হলো অপ্রয়োজনীয় জটিলতাকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া। কারণ যে সমস্যা না থাকলেই চলে, তার সমাধান খোঁজারও প্রয়োজন নেই।

তাই আইনস্টাইনের মোজা না পরার গল্পটি শুধু একজন বিজ্ঞানীর বিচিত্র অভ্যাসের গল্প নয়। এটি এমন একজন মানুষের গল্প, যিনি মহাবিশ্বের রহস্য নিয়ে ভাবতে ভাবতে বুঝেছিলেন—জীবনকে সহজ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় ঝামেলাগুলোকে অযথা গুরুত্ব না দেওয়া।

হয়তো সে কারণেই পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ মোজা পরে বিখ্যাত হয়েছেন, কিন্তু মোজা না পরেও কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন মাত্র একজন—আলবার্ট আইনস্টাইন।

Sujit Chy



41


আমাদের সচেতন মন হলো জাহাজের ক্যাপ্টেনের মতো, যে কেবল দিকনির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই বিশাল জাহাজটি চালানোর জন্য নিচে যে শক্তিশালী ইঞ্জিন কাজ করে, সেটিই হলো অবচেতন মন। এটি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, অবচেতন মন সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ তথ্য প্রসেস করতে পারে। যখন আমরা কোনো লক্ষ্য বা বিশ্বাসের ওপর তীব্রভাবে গুরুত্ব দিই, তখন অবচেতন মন সেই নির্দেশটি গ্রহণ করে এবং মহাবিশ্বের অসীম শক্তির সাথে সংযোগ স্থাপন করে সেই ফলাফলটি আমাদের জীবনে নিয়ে আসে। একেই আমরা মিরাকল বলি।

নিরাময়ের মিরাকল: প্লাসবো ইফেক্ট

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘প্লাসবো ইফেক্ট’ এক বিস্ময়কর জাদুর মতো। অনেক সময় রোগীকে স্রেফ চিনির বড়ি দিয়ে বলা হয় এটি খুব দামী ওষুধ, এবং দেখা যায় রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন।

কেন এমন হয়? কারণ রোগীর অবচেতন মন বিশ্বাস করে নিয়েছে যে সে সুস্থ হচ্ছে। এই বিশ্বাসের ফলে অবচেতন মন শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ক্যানসার বা প্যারালাইসিসের মতো মরণব্যাধি থেকেও মানুষ কেবল মনের জোরে সুস্থ হয়ে ওঠার অসংখ্য উদাহরণ ইতিহাসে আছে। এই নিরাময় বা হিলিং হলো অবচেতন মনের এক শ্রেষ্ঠ কারিশমা।

টেলিপ্যাথি এবং ইনটুইশনঃ অদৃশ্য সংযোগের ম্যাজিক

আমরা অনেক সময় বলি, "এই মাত্র তোমার কথা ভাবছিলাম আর অমনি তোমার ফোন চলে এল!" একে আমরা কাকতালীয় বলি, কিন্তু এটি আসলে অবচেতন মনের এক উচ্চতর স্তরের যোগাযোগ। আমাদের অবচেতন মন মহাজাগতিক চেতনার সাথে যুক্ত। এখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ইনটুইশন’ বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়।

কোনো বিপদ আসার আগে মন কু ডাক দেওয়া বা স্বপ্নে কোনো ঘটনার পূর্বাভাস পাওয়া—এসবই অবচেতন মনের কারিশমা। এটি সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে এমন কিছু তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছে দেয় যা সচেতন মনের পক্ষে ধরা অসম্ভব।

সফলতার ম্যাজিকঃ ভিজুয়ালাইজেশনের শক্তি

বিশ্বের বড় বড় অ্যাথলেট, বিজ্ঞানী এবং শিল্পীরা তাদের সাফল্যের পেছনে ‘ভিজুয়ালাইজেশন’ কে প্রধান শক্তি হিসেবে দেখেন।

যখন কেউ অবচেতন মনে গভীরভাবে কোনো ছবি আঁকে যে সে জয়ী হয়েছে, তখন তার স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেম সেটিকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। অবচেতন মন তখন এমন সব সুযোগ এবং মানুষকে জীবনে টেনে আনে, যা সাফল্যের পথ প্রশস্ত করে। সাধারণ মানুষের চোখে মনে হয় ব্যক্তিটি ‘লাকি’ বা তার জীবনে ‘ম্যাজিক’ ঘটছে, কিন্তু আসলে এটি ছিল তার সুপরিকল্পিত অবচেতন প্রোগ্রামিং-এর ফল।

মিরাকল ঘটানোর চাবিকাঠি

অবচেতন মনের এই কারিশমাকে জাগ্রত করার জন্য কিছু বিশেষ প্রক্রিয়া রয়েছে-

১. দৃঢ় বিশ্বাসঃ

সন্দেহ মিরাকলের প্রধান শত্রু। অবচেতন মন কেবল তখনই কাজ করে যখন আপনি কোনো বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত থাকেন।

২. অ্যাফারমেশনঃ

বর্তমান কালে ইতিবাচক বাক্য বারবার উচ্চারণ করা। যেমন— "আমি সুস্থ হচ্ছি", "আমি সফল হচ্ছি"। এটি ধীরে ধীরে অবচেতন মনে গেঁথে যায়।

৩. আলফা স্টেটঃ

ঘুমানোর ঠিক আগে এবং ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পরে আমাদের মন সবচেয়ে বেশি গ্রহণক্ষম থাকে। এই সময়ে কোনো ইচ্ছা অবচেতনকে দিলে তা জাদুর মতো কাজ করে।

কোয়ান্টাম ফিজিক্স ও মিরাকল

আধুনিক কোয়ান্টাম ফিজিক্স বলছে, এই মহাবিশ্ব মূলত শক্তি বা এনার্জি দিয়ে তৈরি। আমাদের প্রতিটি চিন্তা এক একটি কম্পন।

যখন আমাদের অবচেতন মনের কোনো গভীর ইচ্ছা মহাবিশ্বের শক্তির কম্পনের সাথে মিলে যায়, তখন ‘সিনক্রোনিসিটি’ বা অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরি হয়। যা আমরা চাই, তা-ই আমাদের জীবনে ধরা দেয়। একেই আমরা মিরাকল বলি। অর্থাৎ, মিরাকল কোনো বাইরের শক্তির দান নয়, এটি আমাদের চেতনার সাথে মহাবিশ্বের একাকার হয়ে যাওয়া।

ম্যাজিক বা মিরাকল আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরের কোনো বিষয় নয়। আমরা প্রত্যেকেই এক একজন জাদুকর, যার হাতে রয়েছে অবচেতন মনের জাদুর কাঠি।

জীবনের প্রতিটি সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করার ক্ষমতা আমাদের ভেতরেই সুপ্ত আছে। যদি আমরা আমাদের অবচেতন মনের অসীম শক্তিকে চিনতে শিখি এবং তাকে সঠিক পথে চালিত করি, তবে প্রতিদিনের সাধারণ জীবনই হয়ে উঠবে এক একটি মিরাকল।

আপনি যা বিশ্বাস করেন, তা-ই আপনার জীবনে মিরাকল হয়ে ধরা দেয়। তাই নিজেকে ছোট মনে না করে নিজের ভেতরের এই অলৌকিক কারিশমাকে জাগিয়ে তুলুন। কারণ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যাজিক আপনার নিজেরই অস্তিত্ব, আর সেই ম্যাজিকের নিয়ন্ত্রক আপনার মন। @গল্পের ফেরিওয়ালা


42


হাঙ্গেরির Eötvös Loránd University-র গবেষকরা ৩৮টি পোষা কুকুর, ২২টি পোষা বিড়াল আর ১৬-২৪ মাস বয়সী ১৯টি শিশুকে নিয়ে একটা মজার পরীক্ষা চালিয়েছেন। মালিক বা অভিভাবক তাদের সামনেই একটা সাধারণ থালা-বাসন মাজার স্পঞ্জ লুকিয়ে রাখতেন, তারপর মিথ্যে করে সেটা খুঁজতে খুঁজতে বলতেন, "আমি তো খুঁজে পাচ্ছি না, এখন কী করব?"

— কিন্তু সরাসরি কারো কাছে সাহায্য চাননি। গবেষণাটি ছাপা হয়েছে বিশ্বখ্যাত জার্নাল Animal Behaviour-এ।

ফলাফল রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। ৭৫ শতাংশেরও বেশি কুকুর আর শিশু কোনো প্রশিক্ষণ বা পুরস্কার ছাড়াই নিজে থেকে জিনিসটা দেখিয়ে দিয়েছে অথবা তুলে এনেছে। অথচ বেশিরভাগ বিড়াল পুরো ঘটনাটা মনোযোগ দিয়ে দেখেও কিছুই করেনি। এমনকি লুকানো জিনিসটা যখন বিড়ালের প্রিয় খেলনা বা খাবার ছিল, তখনও মাত্র ৪০ শতাংশ বিড়াল সেদিকে এগিয়ে গেছে বা ইশারা করেছে — বাকিরা নির্বিকার।

গবেষকদের মতে, শুধু মানুষের সাথে ঘর করা বা ভালোবাসার সম্পর্ক থাকলেই স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্যের আচরণ তৈরি হয় না। এর জবাব লুকিয়ে আছে বিবর্তনের ইতিহাসে — কুকুরের পূর্বপুরুষ নেকড়েরা দল বেঁধে শিকার করত, একে অপরকে সহযোগিতা করাটা তাদের রক্তে ছিল। বিড়ালের পূর্বপুরুষরা ছিল একা চলা শিকারী, তাই দলগত সহযোগিতার তাগিদ তাদের মধ্যে গড়ে ওঠেনি। তাই সত্যিই যদি চাবি হারিয়ে ফেলেন, আপনার বিড়াল হয়তো একবার তাকিয়ে দেখবে, কিন্তু খুঁজে দেওয়ার আশা কম। @ mohakal


43


৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে রোমান শহর পম্পেই এক মর্মান্তিক পরিণতির মুখোমুখি হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই, পাথর ও বিষাক্ত গ্যাসের স্তূপে পুরো শহরটি সম্পূর্ণভাবে ঢাকা পড়ে যায়, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। তবে এই ভয়ানক দুর্যোগের একটি বৈজ্ঞানিক দিক হলো, ছাইয়ের এই স্তর শহরটিকে সময়ের সাথে ধ্বংস হওয়া থেকে অদ্ভুতভাবে সংরক্ষণ করে রাখে। প্রায় ১৭০০ বছর পর ১৮ শতকে খননকার্যের মাধ্যমে পম্পেই পুনরাবিষ্কৃত হয়, আর তখন প্রত্নতাত্ত্বিকরা অবাক হয়ে দেখেন শহরের ভবন, রাস্তা, দেয়ালচিত্র এমনকি মানুষের দেহাবশেষের ছাঁচও অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। ছাইয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া শূন্যস্থানে প্লাস্টার ঢেলে বিজ্ঞানীরা মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষের অবস্থান ও অভিব্যক্তির নিখুঁত ছাঁচ তৈরি করতে সক্ষম হন। পম্পেই আজ প্রাচীন রোমান জীবনযাত্রা বোঝার জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে বিবেচিত।  @ Ahmed Pipul


44


জাপান ভাত পাগল জাতি! তবে জাপানিজরা প্রতিদিন যে ভাত খায়, সেটি আমাদের দেশের ঝরঝরে ভাতের মতো নয়। এদের সাধারণ ভাত তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নরম ও আঠালো। তাই আমাদের মতো ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার প্রচলন এখানে নেই।

এখানে ভাতকে একটি আলাদা বাটিতে পরিবেশন করা হয়, আর মাছ, মাংস, তরকারি বা অন্যান্য খাবার ছোট ছোট আলাদা বাটিতে দেওয়া হয়। এরপর চপস্টিক দিয়ে একটু ভাত খাওয়া হয়, তারপর তার সঙ্গে তরকারি খাওয়া হয়। তারা এই ভাত তরকারি কখনোই হাতে খায় না। 

ধারণা করা হয়, প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ বছর আগে কোরিয়া ও চীন থেকে এই স্টিকি রাইস জাপানে প্রবেশ করে। এই চালে অ্যামাইলোপেকটিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকায় রান্নার পর এটি নরম এবং আঠালো হয়ে যায়। জাপানিজরা ভাত এতটাই পছন্দ করে যে তারা দুপুর ও রাতে ভাত খাওয়া ছাড়াও ভাতের তৈরি আরও অনেক ধরনের খাবার খায়। যেভাবে আমরা সিঙ্গারা, সমুচা বা অন্যান্য স্ন্যাক্স খাই, তারা ঠিক সেভাবেই এগুলো খায়।

ভাতের তৈরি এসব খাবারের মধ্যে জাপানের অন্যতম বিখ্যাত খাবার হলো মোচি। ভাপে সিদ্ধ স্টিকি রাইসকে বড় কাঠের পাত্রে রেখে ভারী কাঠের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আঠালো মণ্ডে পরিণত করা হয়। এরপর এর সঙ্গে চিনি ও বিভিন্ন ফ্লেভার মিশিয়ে আমাদের দেশের রসগোল্লার মতো আকার দেওয়া হয়।  

স্টিকি রাইস দিয়ে সেকিহান তৈরি করা হয়। এটি স্টিকি রাইস এবং লাল আজুকি বিন দিয়ে রান্না করা হয়। আজুকি বিন অনেকটা আমাদের শিমের বিচি বা মটরের মতো একটি দানাদার শস্য। এই বিনের কারণে ভাতে হালকা লালচে রং আসে। জাপানি সংস্কৃতিতে এই লাল রং সৌভাগ্য এবং অশুভ শক্তি থেকে রক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।  

এছাড়া ভাতের মধ্যে ডিম, চিকেন, স্যামন বা টুনা মাছ এবং মেয়োনিজের পুর দিয়ে ত্রিভুজ আকৃতির ভাতের বল বানানো হয়, যাকে তারা অনিগিরি বলে। এই অনিগিরি তারা সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত, বাসে, ট্রেনে, ক্লাসে, অফিসে প্রায় সব জায়গাতেই খায়।  

এছাড়া জাপানের দুনিয়া বিখ্যাত সুশি তো আছেই। আমরা সুশি বলতেই কাচা, আধা কাচা, সিদ্ধ মাছ বুঝি। কিন্তু এমন একটা সুশি নেই যেটা বানাতে ভাত লাগে না। বেসিক্যালি এক লোকমা ভাতের উপড়ে মাছ বা মাছের ডিম বা তেমপুরা দেওয়া হয়। এরপরেই এটি সুশি হয়!

সব শেষে তারা ভাত এতটাই পছন্দ করে যে ভাত দিয়ে আমাদের দেশের টোস্ট বিস্কুটের মতো কুড়মুড়ে বিস্কুটও তৈরি করে, যাকে তারা রাইস ক্র্যাকার বলে।  

@ বিল্লাল হোসাইন



৪৫


শিক্ষা আর কেবল একটি সামাজিক সেবা নয়; এটি এখন ক্ষমতার নতুন পরিকাঠামো। যারা প্রযুক্তিগত দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করবে, ভবিষ্যৎও তাদের হাতেই থাকবে। যেসব দেশ এ বাস্তবতা বুঝেছে, তারা আর শিক্ষার মান নিয়ে তর্কে সময় নষ্ট করছে না; বরং তারা পরিমাপ করছে জ্ঞান কত দ্রুত বাস্তব সক্ষমতায় রূপ নিচ্ছে। আর বাকিরা এখনো বিংশ শতাব্দীর শিক্ষা ব্যবস্থায় সামান্য সংস্কার এনে সেটাকেই অগ্রগতি বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

গুগল, অ্যাপল ও আইবিএমের মতো টেক জায়ান্টরা এখন কর্মী নিয়োগে ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান কিছু পদে ডিগ্রির শর্তই তুলে দিয়েছে। নিয়োগদাতারা আর জানতে চান না আবেদনকারী কতটা মুখস্থ করেছে; তারা জানতে চান, অনিশ্চয়তার মধ্যে সে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয় এবং কত দ্রুত নতুন কিছু শিখতে পারে।

যারা কঠিন সমস্যা সমাধানে এআইকে কাজে লাগাতে পারবে এবং যারা কেবল এআইয়ের দেয়া উত্তর ভোগ করবে—এ দুই শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে।  এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে: শিক্ষায় এআই কি হুমকি, নাকি সুযোগ? আমার উত্তর—এটি একটি সুযোগ, তবে কেবল সেইসব প্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা এআইকে কেন্দ্র করে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলতে প্রস্তুত। এর অর্থ হলো মূল্যায়ন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন, কারণ এখন আর জ্ঞান পুনরুৎপাদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং বিচক্ষণতা, বিচারক্ষমতা এবং বাস্তব প্রয়োগের দক্ষতা প্রদর্শনই মুখ্য। তাই পরীক্ষা হওয়া উচিত একজন শিক্ষার্থী এআই ব্যবস্থাকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা ও সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করতে পারে, সে নিজের চিন্তাভাবনা পুরোপুরি এআইয়ের কাছে সমর্পণ করেছে কিনা, তা নয়। এ পরিবর্তন ঘটলে এআই শিক্ষার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের হাতিয়ার হতে পারে। এতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিউটরিংয়ে অতিরিক্ত ব্যয় কমবে। শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য একদিন, এক সপ্তাহ বা এক মাস অপেক্ষা করতে হবে না। তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন দিয়ে দেবে এআই। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আস্থা হারানো প্রযুক্তিবিশ্বের আরো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন। পিটার থিয়েল তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে স্টার্টআপ শুরু করতে ১ লাখ ডলার করে দিচ্ছেন। ওয়াই কম্বিনেটর উদ্যোক্তাদের জন্য এক ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে বহু বছরের অভিজ্ঞতা কয়েক মাসের মধ্যেই অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।  শিক্ষা এখন কৌশলগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান নির্ধারক। তা না হলে কানাডা, জার্মানি, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন অন্য দেশগুলোর অর্থে প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিকর্মীদের দ্রুত আমদানি করতে বিশেষ ভিসা চালু করবে? একটি দেশ যদি কেবল বিদেশে রফতানির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে, তবে তা মূলত অন্য অর্থনীতিকে ভর্তুকি দেয়ারই নামান্তর। তাই শিক্ষা সংস্কারকারীদের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—কীভাবে একজন মানুষের অর্জিত জ্ঞানকে যত দ্রুত সম্ভব নিজের দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তার আগেই যেন অন্য কোনো দেশ সেই সুবিধা নিয়ে যেতে না পারে। @ ইরিনা ভলনিৎসকা: biNik barrta


46


ইংরেজরা যেমন দীর্ঘদিন ভারতবর্ষ শাসন করেছিল, তেমনি স্প্যানিশরাও আর্জেন্টিনা অঞ্চলে ১৫৮০ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত ২৩৬ বছর ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রেখেছিল।

স্পেনের এই ঔপনিবেশিক শাসন আর্জেন্টিনার ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। ১৫১৬ সালে স্প্যানিশ নাবিকদের আগমনের মাধ্যমে ইউরোপীয়দের পদার্পণ ঘটে।

প্রথমদিকে স্থানীয় আদিবাসীদের তীব্র প্রতিরোধ এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে স্প্যানিশরা স্থায়ীভাবে বসতি গড়তে পারেনি। পরে ১৫৮০ সালে বুয়েনস আইরেস পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর তাদের প্রশাসনিক শাসন গঠিত হয় এবং অঞ্চলটি স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের একটি উপনিবেশে পরিণত হয়।

স্পেনের প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার এবং উপনিবেশের সম্পদ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন। আর্জেন্টিনার উর্বর ভূমি, গবাদি পশু এবং কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে তারা উপনিবেশিক অর্থনীতি গড়ে তোলে।

স্থানীয় জনগণের জমি দখল, জোরপূর্বক শ্রম এবং বিভিন্ন ধরনের শোষণের মাধ্যমে স্প্যানিশ শাসন পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে ইউরোপ থেকে আসা গুটিবসন্ত, হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ এবং যুদ্ধের ফলে বিপুল সংখ্যক আদিবাসীর মৃত্যু ঘটে। অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বা সময়ের সঙ্গে অন্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে মিশে যায়।

স্প্যানিশ শাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। স্প্যানিশদের একটি বড় অংশ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বৈবাহিক ও পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, যার ফলে মিশ্র বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়।

একই সঙ্গে স্প্যানিশ ভাষা ও ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম পুরো অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বহু আদিবাসী ভাষা ও ঐতিহ্য হারিয়ে যায় বা দুর্বল হয়ে পড়ে। আজকের আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রভাষা, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সমাজব্যবস্থায় সেই স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব এখনও স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।

এই দীর্ঘ পরাধীনতার অবসান শুরু হয় উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে। ইউরোপে নেপোলিয়নের আক্রমণে স্পেন দুর্বল হয়ে পড়লে ১৮১০ সালের মে মাসে বুয়েনস আইরেসে মে বিপ্লব (May Revolution) সংঘটিত হয় এবং স্প্যানিশ ভাইসরয়ের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

এরপর কয়েক বছরের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং জেনারেল হোসে দে সান মার্তিন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ১৮১৬ সালের ৯ জুলাই আর্জেন্টিনা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে ২৩৬ বছরের স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং আর্জেন্টিনা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

Collected from - তথ্যলিপি



47


আপনি যত বেশি কোনো চিন্তাকে জোর করে থামানোর চেষ্টা করবেন, ততই সেই চিন্তা বারবার ফিরে আসতে পারে।

এটাকে বলা হয় "White Bear Effect"।

চিন্তার সাথে যুদ্ধ না করে, তাকে লক্ষ্য করুন—তারপর ধীরে ধীরে মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে যান।

আপনি কি কখনও লক্ষ্য করেছেন—যে চিন্তাটা ভুলে যেতে চান, সেটাই বারবার মাথায় আসে?

ধরুন, আমি যদি এখন আপনাকে বলি—

"পরবর্তী ৩০ সেকেন্ডে সাদা ভাল্লুকের কথা একদম ভাববেন না।"

কী হলো?

সম্ভবত আপনার মাথায় এখনই সাদা ভাল্লুকের ছবিটা চলে এসেছে।

এটিই মনোবিজ্ঞানে White Bear Effect বা Ironic Process Theory নামে পরিচিত।

যখন আমরা কোনো চিন্তাকে জোর করে দমন করার চেষ্টা করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই চিন্তাটিকে বারবার পরীক্ষা করতে থাকে—"আমি কি এখনও এটা ভাবছি?" আর এই প্রক্রিয়াতেই চিন্তাটি আরও বেশি ফিরে আসে।

একটা ছোট্ট গল্প...

রাফি আজ পড়তে বসেছে।

আগামী সপ্তাহে পরীক্ষা।

বই খুলেই সে নিজেকে বলল,

"আজ কোনো টেনশন করব না।"

দুই মিনিটও যায়নি...

হঠাৎ মনে হলো—

"যদি পরীক্ষায় খারাপ করি?"

সে আবার নিজেকে বলল,

"না না! এটা ভাবা যাবে না।"

কিন্তু যতবার নিজেকে বলছে "ভাবব না",

ততবার সেই চিন্তাটাই আরও জোরে ফিরে আসছে।

শেষ পর্যন্ত বই সামনে খোলা থাকলেও পড়ার চেয়ে টেনশন নিয়েই বেশি সময় কেটে গেল।

কেন এমন হয়?

কারণ আমাদের মস্তিষ্ক যখন বলে,

"এটা ভাববে না।"

তখন মস্তিষ্কের আরেকটা অংশ বারবার খোঁজে—

"আমি কি এখনও ওই চিন্তাটা ভাবছি?"

আর এই খোঁজার কারণেই চিন্তাটা আবার ফিরে আসে।

মনোবিজ্ঞানে এটাকে বলা হয় White Bear Effect।

তাহলে কী করবেন?

1. চিন্তাটিকে আসতে দিন।  নিজেকে বলুন, "আমি এই চিন্তাটা লক্ষ্য করছি।" 

2. এর সঙ্গে যুদ্ধ না করে ধীরে ধীরে মনোযোগ অন্য কোনো কাজে নিয়ে যান। 

3. মনে রাখুন, চিন্তা মানেই বাস্তবতা নয়।

চিন্তাকে থামানোর চেষ্টা করার চেয়ে, তাকে পর্যবেক্ষণ করতে শেখা অনেক বেশি কার্যকর।

মনে রাখবেন...

মনের সাথে যুদ্ধ করলে মন জেতে।

Radiyo



48


আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভেতরে ভেতরে ফাঁপা হয়ে গেছে। পাশ করানোর অযাচিত প্রবণতা, শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া, অভিভাবকদের উদাসীনতা, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। 

আমাদের সংস্কৃতি তো বড়দের সম্মান করা, পা ছুঁয়ে কদমবুসি করা, ছোটদের স্নেহ করা, আদর করে মাথায় হাত রাখা। শিক্ষাগুরুকে সম্মান করা এবং তার কথা অক্ষরে অক্ষরে মান্য করা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। বড়দের আড্ডাস্থলে ছোটরা যাবে না, বড়দের সামনে ধূমপান করবে না, সালাম-আদাব-নমস্কার দেবে—এসবই তো আমাদের সংস্কৃতির শিক্ষা। অথচ এখন আমরা চারপাশে কী দেখছি? 

কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতার মূলভাব হলো শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের অগাধ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন。দিল্লির বাদশাহ আলমগীর উপলব্ধি করেছিলেন যে, যিনি জ্ঞান দান করেন, তিনি সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাই নিজ সন্তান যাতে শিক্ষকের যথাযথ সেবা ও সম্মান করতে শেখে, তা নিশ্চিত করা একজন আদর্শ পিতার কর্তব্য 

জ্ঞানদান ও সম্মান: শিক্ষকতা পেশাটি অত্যন্ত মহিমান্বিত। তাই পদমর্যাদায় বাদশাহ বা সম্রাট হলেও শিক্ষকের আসনে শিক্ষকই সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী。 [1, 2]

আদর্শ শিক্ষা ও বিনয়: বাদশাহ আলমগীর চেয়েছিলেন তার পুত্র যেন নিজ হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে দেয়। কারণ বিনয় ও শিক্ষাগুরুর প্রতি এই সম্মানবোধই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে。

পিতার কর্তব্য: কেবল শাসন বা অর্থ দিয়ে সন্তানকে বড় করলেই হয় না, বরং শিক্ষকের প্রতি সঠিক আদব ও সৌজন্যবোধ শেখানো প্রত্যেক অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব。



49


Honey Trap

পৃথিবীর ইতিহাসে "হানিট্রাপ" নামটা আধুনিক হলেও এই কৌশলের ব্যবহার চলছে হাজার হাজার বছর ধরে — প্রেম, রূপ বা যৌন আকর্ষণকে অস্ত্র বানিয়ে শত্রুকে কাবু করা, রাজ্য দখল করা, কিংবা গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। নিচে বিশ্বের কিছু সবচেয়ে বিখ্যাত ও প্রাচীন এমন কাহিনী তুলে ধরা হলো, প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত।

১. দালিলা (Delila) ও শিমশোন (Samson) (বাইবেলের কাহিনী)

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো হানিট্রাপ কাহিনীগুলোর একটি এটি। ইসরায়েলি বীর শিমশোনের গায়ে ছিল অতিমানবিক শক্তি, কারণ জন্মের আগে থেকেই তার মা ঈশ্বরের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন যে তার চুল কখনো কাটা হবে না। বহুবার চেষ্টা করেও ফিলিস্তিনিরা তাকে ঘায়েল করতে পারেনি। শেষে তারা বেছে নিল সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র — প্রেম। শিমশোন প্রেমে পড়লেন সুন্দরী দালিলার, আর ফিলিস্তিন সর্দাররা তাকে বিপুল রৌপ্যমুদ্রার লোভ দেখিয়ে রাজি করাল শক্তির রহস্য বের করতে। তিনবার মিথ্যা বলার পর নাছোড় দালিলার কাছে শেষমেশ হার মানলেন শিমশোন, বলে দিলেন আসল কথা। ঘুমন্ত অবস্থায় চুল কামিয়ে শক্তিহীন করে তাকে বন্দী ও অন্ধ করা হলো। তবে গল্পের শেষটা তার পক্ষেই গেল এক অর্থে — কারাগারে চুল আবার বাড়লে, মন্দিরে হাসির পাত্র বানানোর দিনই শেষ শক্তি দিয়ে তিনি দুই স্তম্ভ ভেঙে নিজেসহ পুরো মন্দির ধ্বংস করে দেন।

(Samson Option: ইসরাইল যদি কখনো মনে করে সে বিলুপ্ত হবে বা একেবারে ধ্বংস হবে তবে পারমাণবিক বোমা দিয়ে সবাইকে মেরে সে নিজেও ধ্বংস হবে। এটা ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি স্ট্রাটেজি)

২. শি শি — চীনের প্রথম "রাষ্ট্রীয়" হানিট্রাপ

চীনের "চার মহাসুন্দরী"-র একজন শি শি-কে বলা হয় বিশ্বের প্রথম সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় হানিট্রাপ অভিযানের নায়িকা। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে ইউয়ে রাজ্য উ রাজ্যের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। প্রতিশোধের ছক কষতে ইউয়ের মন্ত্রী খুঁজে বের করেন সাধারণ এক কাপড়কাচা মেয়ে শি শি-কে, যার রূপ ছিল কিংবদন্তিতুল্য। বছরের পর বছর তাকে নাচ-গান-শিষ্টাচার শিখিয়ে "উপহার" হিসেবে পাঠানো হয় উ রাজ্যের রাজার কাছে। রাজা এমন মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন যে রাজকাজ ফেলে তার জন্য বিশাল প্রাসাদ বানাতে থাকেন, বিশ্বস্ত মন্ত্রীর সতর্কবাণী উপেক্ষা করেন। এই ফাঁকে ইউয়ে সৈন্য পুনর্গঠন করে শেষমেশ উ রাজ্যকে ধ্বংস করে দেয়।

৩. ডিয়াওচান ও তিন রাজ্যের চক্রান্ত

হান রাজবংশের পতনকালে স্বৈরাচারী সেনাপতি দং জুওকে রক্ষা করতেন তারই পালক পুত্র, তৎকালীন সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা লু বু। অস্ত্রে এই জুটিকে হারানো অসম্ভব দেখে মন্ত্রী ওয়াং ইউন কৌশল নেন তার অপরূপ সুন্দরী পালিতা কন্যা দিয়াওচানকে দিয়ে। গোপনে তাকে বাগদান করান দুজনের সঙ্গেই, ফলে পিতা-পুত্রের মাঝে জন্ম নেয় তীব্র ঈর্ষা ও অবিশ্বাস। শেষে ক্রোধে অন্ধ লু বু নিজ হাতেই হত্যা করেন দং জুওকে। মজার বিষয় — ঐতিহাসিকদের মতে দিয়াওচান পুরোপুরি ইতিহাসের চরিত্র নন; মূল ইতিহাসগ্রন্থে শুধু এক দাসীর উল্লেখ আছে, এই বিস্তারিত ও বিখ্যাত রূপ এসেছে চতুর্দশ শতাব্দীর উপন্যাস "রোমান্স অব দ্য থ্রি কিংডমস" থেকে।

৪. ক্লিওপেট্রা — প্রেমকে কূটনীতিতে রূপান্তর

মিশরের শেষ ফারাওকে ইতিহাস প্রায়ই শুধু "প্রলোভনদাত্রী" হিসেবে আঁকে, বাস্তবতা আরও জটিল। বহুভাষী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার এই রানি জানতেন রোমের সামনে টিকে থাকতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কূটনীতিও লাগবে। ভাইয়ের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে কোণঠাসা অবস্থায় জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে মৈত্রী তাকে সিংহাসন ফিরে পেতে সাহায্য করে। সিজারের মৃত্যুর পর তিনি হাত মেলান মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে, চ্যালেঞ্জ জানান উদীয়মান অক্টাভিয়ানকে। অ্যাকটিয়ামের যুদ্ধে পরাজয়ের পর দুজনেই আত্মহত্যা করেন, মিশর পরিণত হয় রোমান প্রদেশে। এখানে প্রেম অস্ত্র ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটা ছিল তার বিশাল রাজনৈতিক দাবার ছকের একটা মাত্র ঘুঁটি।

৫. মাতা হারি — সবচেয়ে কুখ্যাত (ও বিতর্কিত) গুপ্তচরী

প্রকৃত নাম মার্গারেথা জেলে, এই ওলন্দাজ নারী প্যারিসের মঞ্চে "মাতা হারি" ছদ্মনামে বিখ্যাত হন লাস্যময় প্রাচ্য-অনুপ্রাণিত নাচের জন্য। ইউরোপজুড়ে সামরিক কর্মকর্তা-রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে জার্মানির হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে, দাবি করা হয় প্রেমিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পাচার করতেন। ১৯১৭ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, বয়স তখন ৪১। তবে ইতিহাসবিদরা এখন বহুলাংশে একমত যে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ ছিল দুর্বল ও পরিস্থিতিগত — যুদ্ধকালীন প্যারানয়ায় একজন "স্বাধীনচেতা বিদেশিনী"-কে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল বলেই অনেকে মনে করেন।

৬. কেজিবির "সোয়ালো" — ঠান্ডা যুদ্ধের সাংগঠনিক হানিট্রাপ

সোভিয়েত কেজিবি এই কৌশলকে নিয়ে যায় শিল্পের পর্যায়ে। বিশেষ প্রশিক্ষিত নারী এজেন্টদের ডাকনাম ছিল "সোয়ালো" — যাদের কাজ পশ্চিমা কূটনীতিক-সাংবাদিকদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে আপত্তিকর তথ্য জোগাড় করা, যা পরে ব্ল্যাকমেইলে ব্যবহৃত হতো। পুরুষ সংস্করণের ডাকনাম ছিল "রেভেন"। কেজিবি ছেড়ে পশ্চিমে আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন কর্মকর্তাদের বয়ানে উঠে এসেছে এই প্রশিক্ষণের কথা, যদিও এর অনেকটাই রয়ে গেছে অর্ধ-কিংবদন্তি আর নথিভুক্ত ইতিহাসের মাঝামাঝি কোনো ধূসর অঞ্চলে।

৭. ক্রিস্টিন কিলার ও প্রোফিউমো কেলেঙ্কারি

১৯৬৩ সালে ব্রিটিশ রাজনীতি কেঁপে ওঠে যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জন প্রোফিউমো ও ঊনিশ বছর বয়সী মডেল ক্রিস্টিন কিলারের সম্পর্ক নিয়ে। জটিলতা বাড়ে যখন জানা যায়, কিলার একই সময়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সোভিয়েত নৌ-কূটনীতিকের সঙ্গেও — ঠান্ডা যুদ্ধের উত্তেজনায় যা জাতীয় নিরাপত্তার আশঙ্কা তৈরি করে। প্রোফিউমো পার্লামেন্টে সম্পর্ক অস্বীকার করলেও সত্য বেরিয়ে আসে, লজ্জায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই কেলেঙ্কারি তৎকালীন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এতটাই নষ্ট করে যে পরের নির্বাচনে এর প্রভাব পড়েছিল বলে মনে করা হয়।

৮. আনা চ্যাপম্যান — একবিংশ শতাব্দীর গ্ল্যামারাস গুপ্তচর

২০১০ সালে এফবিআই একযোগে গ্রেপ্তার করে দশজন রুশ "স্লিপার এজেন্ট"-কে, যারা বছরের পর বছর সাধারণ মার্কিন নাগরিকের ছদ্মবেশে বাস করছিলেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন আনা চ্যাপম্যান — নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী পরিচয়ে থাকা তরুণী, যার ছবি রাতারাতি ছেয়ে যায় বিশ্ব গণমাধ্যমে। ঠান্ডা যুদ্ধ (Cold war) যুগের ধাঁচেই ভিয়েনা বিমানবন্দরে বন্দী বিনিময় হয়, রাশিয়ায় আটক পশ্চিমা গুপ্তচরদের বদলে ফেরত পাঠানো হয় তাদের। দেশে ফিরে চ্যাপম্যান আরও বড় তারকা বনে যান — টিভি অনুষ্ঠান, ম্যাগাজিন কভার, সবখানেই তার মুখ।

এই কাহিনীগুলোর মধ্যে একটা মিল লক্ষণীয় — হাজার বছর আগে হোক বা আধুনিক যুগে, ঘনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসকে অস্ত্র বানানোর কৌশল প্রায় একই রকম থেকে গেছে।

- Al Alife



50

বেলুচিস্তান।

অনেক বড় ছিল। বেলুচিরা ৩০০০ বছর যাযাবর জীবনে ছিল। ১২শ শতকে রাষ্ট্র হয় স্থায়ী হয় বলে। স্বাধীন ছিল, ১৯ শতকে বৃটিশরা দখল করলে ইরানের সাথে চুক্তির ফলে বড় অংশ ইরানের হয় যা একটি প্রদেশ তবে দুইটি অঞ্চল, সিস্তান ও বেলুচিস্তান। একাংশ আফগানিস্তানে পড়ে। আফগানের নিমরুজ প্রদেশে ৬০% বেলুচি, ২৫% পসতু, বাকীরা অন্য।

সুতরাং বাংলার মত বেলুচিদের একাংশ পশ্চিম বেলুচিস্তানে যা ইরানে ও  আফগানে।

বিপদে পড়লে তারা জায়গা দিবে, পশ্চিবঙ্গ যেমন আমাদের শরনার্থীকে জায়গা দিয়েছিল ৭১-এ।

পাকিস্তানের ৪৪% এর সমান এলাকা বেলুচিস্তান। বাংলাদেশের দ্বিগুনের চেয়ে বড়। ৩,৪৭,১৯০ বর্গ কিলোমিটার। লোক মাত্র দেড় কোটি। ৬৫% জায়গা পাহাড়ী, ২৫% মরুভুমি। ১০% নদী ও চাষযোগ্য ভুমি। তবে পাকিস্তানের সবচাইতে বড় খনিজ এলাকা।

তামা বিশ্বের অন্যতাম।

ষ্বর্ণ, কয়লা, গ্যাস বিশাল মওজুদ, চলে পুরা পাকিস্তানে।

তারপর শিশা, ডলোমাইট, দস্তা, মারবেল, গ্রানাইট, চুনাপাথর অনেক। তাহলে এ প্রদেশের মাথাপীছু আয় মাত্র ১৬২১ ডলার। আর পাঞ্জাব ও সিন্ধুর মাথাপীছু আয় ২০০০ ডলারের উপরে।

এখানে প্রায় সব খনিজ বেলুচির, তাদের উন্নয়ন নাই্ কেন? দারিদ্র্যতার মুল কারণ দুর্বল অবকাঠামো। সেটা পাঞ্জাবীরা করে না, ইউরোপ বানায় ইসলামাবাদকে ও রাওয়ালপিন্ডিকে।


১৯৪৭ সালে  ব্রিটিশ বিভাজনের আগে বেলুচিস্তান চারটি প্রধান রাজ্য যথাক্রমে কালাত, মাকরান, লাসবেলা ও খারান একটি স্বাধীন বেলুচিস্তান ছিল।১৯৪৭ সালের ১১ আগষ্ট পাকিস্তানের জিন্নাহ ও বেলুচিস্তানের শাসক" খান অব কালাত " মীর আহমেদ ইয়ার খানের মধ্যে চুক্তিতে বেলুচিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়।১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট পাকিস্তান স্বাধীন হলে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অংশ হতে অস্বীকৃতি জানায়।১৯৪৮ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানের ৭ম বালুচ রেজিমেন্ট জোরপূর্বক বেলুচিস্তান দখল করে নেয়। ১৯৪৮ সালের জুলাই  মাসে মীর মোহাম্মদ ইয়ার খানের ভাই প্রিন্স আব্দুল করিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।এই জোরপূর্বক দখলদারিত্ব আজ পর্যন্ত বেলুচিস্তানের সাধারণ জনগণ মেনে নেয়নি। ১৯৪৮  , ১৯৫৮ - ১৯৫৯ , ১৯৬৩-১৯৬৯  এবং ১৯৭৩-১৯৭৭ সাল দীর্ঘ সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে বেলুচ মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হয়েছে। পাকিস্তানের অধিকাংশ খনিজ সম্পদ হচ্ছে বেলুচিস্তানে। কিন্তু বেলুচিস্তানের মানুষকে তেল , গ্যাস ও বিদ্যুৎ বঞ্চিত করে তার সবকিছুই নিয়ে যায় পাকিস্তান ও চীন। ১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানীরা এভাবেই বাংলাদেশের ৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার লুট করে নিয়ে গিয়েছিল।

পাকিস্তান জুড়ে চীনের ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ৮০ শতাংশের উপরে হচ্ছে বেলুচিস্তানে। চীন ও পাকিস্তানের সিপেক ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের প্রায় সিংহভাগ বেলুচিস্তানে। এই বেলুচিস্তান পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে গেলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে যাবে।এত বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ হারালে চীন পাকিস্তানের ঘাড়ে বসে জোর করে হলেও নিজেদের অর্থ আদায় করবে।

আমেরিকা ও চীনের হাতে তুলে দেওয়া পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি ও খনিজ সম্পদ বেলুচদের দখলে। বেলুচিস্তান স্বাধীন হলে আমেরিকা ও চীন দুই দেশের নতুন স্বার্থ তৈরি হবে খনিজ সম্পদের স্বর্গ বেলুচিস্তান নিয়ে। চীনের ১ থেকে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের উপর চীনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। 

সোনা , তামা ও কয়লার মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদের রিয়্যালিটি বেলুচিস্তানকে না দিয়ে পাকিস্তান নিয়ে যায়।

পাকিস্তানের গড় দারিদ্র্যতা যেখানে মাত্র ২৮ শতাংশ , সেখানে বেলুচিস্তানের দারিদ্রতা ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ পাকিস্তানীরা বেলুচিস্তানের মুসলমানদের সব দিক থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

বেলুচিস্তান প্রদেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে পাকিস্তানীরা সকল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

বেলুচিস্তানের ৮৫ শতাংশ মানুষকে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পর্যন্ত দেয় না পাকিস্তান। বেলুচিস্তানের ৭০ শতাংশ এলাকায় পাকিস্তানীরা বিদ্যুৎ পর্যন্ত দেয়নি। বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষদের কাজ না দিয়ে গদাদর ও সিপেক অঞ্চলে চীনের সাথে পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলের বহিরাগতদের দিয়ে বেলুচদের উপর বছরের পর বছর ধরে অবিচার করছে পাকিস্তান।

কয়েক হাজার বেলুচ ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতাদের নির্বিচারে পাকিস্তানীরা গুম ও হত্যা করেছে।দশ হাজার বেলুচ মানুষের আজ পর্যন্ত কোন খোঁজ নেই। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানীরা এসব মানুষকে নিখোঁজ করে রেখেছে।১৯৭৩-১৯৭৭ সালের পাকিস্তান ও বেলুচিস্তানের যুদ্ধে ৫,৩০০ বেলুচ মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পাকিস্তানীরা।২০০০ সালের পর থেকে প্রায় ২০০০ বেলুচ মুসলমানদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ভয়েস পর বেলুচ মিসিং পারসন্স ও লেমকিন ইনস্টিটিউট এর মতে , " শুধুমাত্র ২০০৪ সালের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৭০০০ থেকে ২১,০০০ বেলুচ নাগরিককে গুম করে রেখেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।"কিল অ্যান্ড কিডন্যাপ' এভাবেই বছরের পর বছর ধরে নিরীহ বেলুচদের হত্যা করেছে পাকিস্তানীরা।

বেলুচিস্তানের রাস্তায় রাস্তায় হাফ উইডো তথা অর্ধ বিধবা নারীদের দেখা মিলবে। এদের স্বামীকে অপহরণ করে পাকিস্তানের মিলিটারি নিয়ে যাওয়ার পর তারা আর ফিরেনি। সাউথ এশিয়ান টেরোরিজম পোর্টাল ( SATP) এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী , " শুধুমাত্র ২০০০ সাল থেকে বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের ৩,৫০০ নিরাপত্তা কর্মী মারা গেছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালে মাত্র এক বছরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ১,২২৯ জন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সদস্য মারা গেছে। ২০২৬ সালেও বেলুচিস্তানে ৮০০ এর অধিক পাকিস্তানী সেনাবাহিনী  মারা গেছে। বেলুচিস্তান সেনাবাহিনী , নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে ৫ লাখ সদস্যের একটি বাহিনী পাকিস্তান দখলদার বাহিনীকে হটিয়ে দিতে প্রস্তুত। গত ৭৯ বছর ধরে " আমরা বালুচের সন্তান " এই পরিচয়কে আঁকড়ে ধরে হাসতে হাসতে জীবন দিচ্ছে বেলুচিস্তানের মুসলমান।" মা চুকে বালুচানি" ওদের জাতীয় সঙ্গীত। বেলুচরা পাকিস্তানের " পাক সার জমিন সাদবাদ " গাইতে রাজী নয়। পাকিস্তানের জাতীয় পতাকাকে ওরা এখন আর নিজেদের পতাকা মনে করে না। @ লুডিস ড্রিম