'সবার সেরা হতে হলে' চর্চা করুন বিশ্বসেরা দশটি অভ্যাস

১) দশ সেকেন্ড সময় নিয়ে একটা ছোট্ট হ্যাবিট প্র্যাকটিস করবেন। খুব আস্তে আস্তে করে গভীরভাবে নাক দিয়ে একবার নিঃশ্বাস নেন, তারপর আবার খুব আস্তে আস্তে নাক দিয়ে নিঃশ্বাসটা ছেড়ে দে্ন। এতে আপনি কোন পার্থক্য ফিল করেননি। কিন্তু শরীরের ভিতরে যে মেকানিজম সেখানে কিন্তু অলরেডি একটা পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। যখনই আমরা এই ধরনের ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ করি, সাথে সাথে আমাদের হার্ট রেট স্লো হয়ে যায় এবং আমাদের নার্ভাস সিস্টেম কাম ডাউন হয়ে যায় । এই প্রক্রিয়াটা আমাদেরকে খুব হেল্প করে আমাদের স্ট্রেস রিলিফ করতে।  তাই পরবর্তী সময়ে যখনই আপনার লাইফে কোনো একটা স্ট্রেস চলে আসবে, যখনই আপনি অস্থির ফিল করবেন, তখন  জাস্ট ১০সেকেন্ড সময় নিন, দুটো গভীরভাবে ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ করবেন, ব্যাস, ডান। এবং আরও একটা ইম্পর্টেন্ট জায়গায় আপনি সেটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটা হচ্ছে কোন কিছুতে রিঅ্যাকশন দেয়ার ক্ষেত্রে। যেকোনো জায়গায় কোন কিছু একটা রিঅ্যাক্ট দিতে হচ্ছে,সময় নিন, দুইটা ব্রিদিং এক্সারসাইজ প্র্যাকটিস করুন, তারপরে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন। দেখা যাবে এই ডিপ ব্রিদিং ছাড়া যে রিঅ্যাকশনটা হতো এবং এর পরে যে রিঅ্যাকশনটা দিচ্ছেন, দুটোর মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য চলে আসবে। ফলে আপনি অনেক ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন, আপনার সুবিধা বাড়বে।

২) আমি আপনার সাথে কথা বলছি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কিন্তু মাঝে মাঝে একটু ফোন দেখছি, একটা নোটিফিকেশন এসেছে, সেটা দেখছি।  অর্থাৎ আপনার সাথে কথা বলতে বলতে আমার ফোনের দিকে তাকাচ্ছি বারবার? আপনার কাছে নিশ্চয়ই এটা ভালো লাগছে না, আপনার কাছে মনে হচ্ছে যে, উনি আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এটিকে বলে ব্যাট এটিটিউট। এই প্র্যাকটিসটা নিজের মধ্যে হতে রিমুভ করবেন। নেক্সট টাইম যখনই কেউ আপনার সাথে কথা বলতে আসবে। সেটা ক্লাসমেট হোক, কলিগ হোক, যে-ই হোক, যখনই কেউ কথা বলতে আসবে, ফোনটা ফেস ডাউন করে রাখবেন। অর্থাৎ ফোনের যেন উপরের সাইডটা না দেখা যায়।কারণ নোটিফিকেশন আসলে সেখানে আপনার পপ আপ হয়। তাই, আপনি ফোনটাকে ডাউন করে রাখবেন, কথা বলার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনবেন। 

৩), 'এর পরে কি?' এই ফ্রেইজটা বা এই কোশ্চেনটা, এটা নিজেকে তিনবার জিজ্ঞেস করবেন। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে আমরা অধিকাংশ সময় চিন্তা করি, আচ্ছা, এটা করলে এটা হবে। কিন্তু আপনি এইটুকুতে থেমে যাবেন না। আপনাকে মাল্টিপল লেয়ারে চিন্তা করতে হবে, আমরা অধিকাংশ সময় ফার্স্ট লেয়ারে চিন্তা করি যে, এটা হলে এটা হবে, এই শেষ। অধিকাংশ সময় মানুষ এভাবেই ডিসিশন নেন। কিন্তু আপনি যদি আরও অ্যাডভান্সড লেয়ারে গিয়ে ডিসিশন নিতে চান, তাহলে' এর পরে কি?' এই কোশ্চেনটা তিনবার করবেন নিজেকে। এটাকে বলে লজিক্যাল থিংকিং। লজিক্যাল থিংকিং ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট।

৪) নেগেটিভ থিংকিং। থিংক করতে করতে একটা সময় আমরা লজিক্যালি থিংক করতে পারি না, আমরা ইলজিক্যালি নেগেটিভ লেয়ারে চলে যাই, নেগেটিভলি অনেক কিছু চিন্তা করতে থাকি। এটা একটা দুষ্ট চক্রের মতো, একবার যদি আপনি নেগেটিভ থিংকিং এর ফাঁদে পড়ে যান, দেখবেন যে, বারবার করে আপনি সেই চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছেন। ব্রেক করার সহজ উপায় হচ্ছে, যখনই আপনার মন কোন একটা নেগেটিভ চিন্তা আসে, আপনি  তখনি যেকোনো ছোট একটা কাজ শুরু করুন। যেমন, নিজের ডেস্কটা একটু গোছালেন, নিজের মোজা-জামা ধুলেন, কিচেনে গিয়ে দুটো প্লেট ধুলেন, গাছে পানি দিলেন। নিজের কাপড় গোছালেন। আপনি যেটা নিয়ে ভাবছেন তার সঙ্গে একদম রিলেটেড না।  যখনই আপনার মাইন্ড ওই কাজটাতে চলে যাবে, তখনই কিন্তু ওই যে নেগেটিভ থিংকিং-এর ফাঁদটা ব্রেক করবে। তাই, দিস টাইনি হ্যাবিট ইজ ভেরি পাওয়ারফুল। 

৫) নোটবুক লেখা। সেটাতে রাইট এভরিথিং ডাউন। আমরা অনেক কিছুই আমাদের মাথায় রাখার চেষ্টা করি, যে আজকে আমাকে ওইখানে বিল দিতে হবে, ওমুককে একটা ফোন দিতে হবে, ওমুক থেকে ওই জিনিসটা নিতে হবে এবং আমরা ভাবি যে আমাদের ব্রেইন সবকিছু মনে রাখবে। অনেকের ব্রেইন মনে রাখতে পারে,কিন্তু সেজন্য ব্রেইনের আবার মেমোরি খরচ হয়।  এই  মেমোরি বাঁচিয়ে রাখার জন্য, আপনার যখন যা কিছু মনে পড়বে, নতুন কোন আইডিয়া, নতুন কোন কথা,  কিছু নতুন ভাবছেন,সঙ্গে সঙ্গে রাইট ইঁট ডাউন। সেটা আপনি কাগজে বা যেকোনো অ্যাপ ব্যবহার করে হতে পারে । দেখবেন, যখন আপনি এই প্র্যাকটিসটা করা শুরু করবেন, আপনার ব্রেইনের স্পেসে অনেক র‍্যাম খালি হয়ে যাবে।  আমাদের মাইন্ড সবসময় কেন যেন একটা কুয়াশাচ্ছন্ন, একটা ধোঁয়াচ্ছন্ন ব্যাপার হয়ে থাকে কেন? আপনি যদি এই হ্যাবিটটা প্র্যাকটিস করা শুরু করেন, সবকিছু আমি লিখে রাখবো ত। তাহলে দেখবেন, আপনার মেন্টাল ক্লারিটি অনেক ইম্‌প্রুভ করেছে। 

৬) ট্রাই করবেন প্রতিটা কমিউনিকেশনে ট্রাই টু বি অথেন্টিক।  এর খুব সহজ টেকনিক হচ্ছে, তাকে একটা জেনুইন প্রশ্ন-উত্তর বা রেসপন্স করা। সে যে বিষয়ে কথা বলছে, হ্যাঁ, হুম, হুম, ও আচ্ছা এইসব না বলে প্রকৃত সে কি বলতে চাইছে তার উপরে প্রশ্ন বা উত্তর করা  ! কেউ একজন মেসেজ লিখছে, আপনি শুধু হুম লিখলেন বা কোন উত্তরই দিলেন না। এটা জেনুইন থিং নয়, এটা বেয়াদবি। জেনুইনলি কোনো কমেন্ট করবেন। যেমন- আপনি যদি কারো পোস্ট বা ভিডিওতে একটা কমেন্ট করতে চান, তাহলে একটা গদ বাঁধা কমেন্ট না করে সুন্দর একটা জেনুইন কমেন্ট করবেন। যে আসলেই কি আপনার ভালো লেগেছে অথবা ভালো লাগেনি । বিষয় নিয়ে আপনার অবজেকশন ভালো কাজে লাগে। এতে সে বা তারা রিয়েলাইজ করে যে, আপনি আসলে মনোযোগ দিয়ে তার বা তাদের কথা শুনছেন, দ্যাট উইল বিল্ড পার্সোনাল কানেকশন। 

৭) ইটস অল অ্যাবাউট ট্রাস্ট।  ট্রাস্ট বলতে অধিকাংশ সময় আমরা ভাবি যে বড় বড় ওয়াদা, বড় বড় প্রমিস, কিন্তু এতে ট্রাস্ট কি বিল্ড করা যায় না, ট্রাস্ট বিল্ড হয় স্পেশালি আমাদের ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে। যার নাম ডিপিএস অফ ট্রাস্ট। ডিপোজিট স্কিম যেটা ব্যাংকে প্রতি মাসে অল্প, অল্প করে আপনি টাকা জমাবেন এবং এভাবে জমালে আপনি পাঁচ, দশ বছর পরে দেখা যাবে  বড় অ্যামাউন্ট হবে। কিরকম স্মল ডিপোজিট? আপনি কাউকে বলেছেন, আপনি দশটার সময় আসবেন, দশটার সময় আসবেন। যদি আপনি না পারেন, তাহলে আগেই জানিয়ে দিবেন অথবা সরি বলবেন । 

৮) নেক্সট হ্যাবিটট হচ্ছে প্রতিদিন কিছুটা সময় সবকিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা বা বোরডম থাকা। হ্যাঁ, প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট থেকে অন্তত ৩০ মিনিট একদম একা বসে থাকবেন। ফোনে হাতে নিবেন না, কোন বই থাকবে না, কোন টিভি থাকবে না, কিচ্ছু থাকবে না, শুধু আপনি এবং আপনার চিন্তা। পারলে অন্ধকার ঘরে করতে পারেন অথবা যেকোনো জায়গায় আপনি রিলাক্সিং সিচুয়েশনে গিয়ে বসে থাকবেন। কারণ, বোরডম ইজ রিয়েলি ইম্পর্টেন্ট ফর আওয়ার ব্রেইন। আমাদের ব্রেইনের ক্রিয়েটিভিটি গ্রো করার জন্য এবং এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাম ডাউন করার জন্য, এটা খুবই দরকার । 

৯) নেক্সট যে হ্যাবিটটা হচ্ছে, নেভার গো টু জিরো।  প্রতিদিন আপনার নিজস্বই কিছু কাজ আছে। কিন্তু  কখনো আপনি দেখলেন যে, দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আজকের দিনে কোন প্রোডাক্টিভ কোন কাজই করা হয় নাই, এন্ড দ্যাট ইজ আ জিরো ডে। এইরকম দিন যেন তৈরি না হয়, এমন কি  ঈদের দিনও না, হ্যাঁ! কোন ডেইকে আপনি জিরো বানানোর চেষ্টা করবেন না।  যাই কিছু করেন, বাট ডোন্ট মেক ইট জিরো। প্রোডাক্টিভিটি লিস্টে আপনার যেই কাজ, সেখানে কখনোই নিজেকে জিরোতে নিবেন না। 

১০) লাস্ট হ্যাবিটটা হচ্ছে, প্রতিদিন নিজেকে অন্তত তিনবার এই কথাটা বলার চেষ্টা করবেন যে, আমি এমন একজন মানুষ, যে-কাজগুলো শুরু করি সে কাজটা আমি শেষ করি। ইটস আ পজিটিভ অ্যাফারমেশন, নিজেকে নিজে মোটিভেট ফিল করার জন্য। এতে আপনার যে আইডেন্টিটি সেটার সাথে বিল্ড হয়ে যাবে, তখন দেখবেন যে, আসলে সবগুলো কাজ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে আসছে, কারন দিস ইজ ইওর আইডেন্টিটি। 📚

আকামেনিদ সম্রাট দারিয়ুস

আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে লিডিয়া নামের একটা প্রাচীন রাজ্যে শুরু হয় ভীষণ এক বিদ্রোহ। প্রাচীনকালের সেই লিডিয়া রাজ্যটি ছিল বর্তমান তুরস্ক অঞ্চলে। ওই সময় লিডিয়া থেকে শুরু করে ভারতবর্ষের কিছু অংশ পর্যন্ত বিশাল অঞ্চল ছিল পারস্যের মহান সম্রাট দারিয়ুসের নিয়ন্ত্রণে। আর এই বিশাল সাম্রাজ্যের রাজদরবার ছিল পারস্যের মালভূমিতে। লিডিয়া থেকে রাজার প্রাসাদের দূরত্ব ছিল প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার। আর এই পুরোটা পথ জুড়েই ছিল পর্বত, নদী, মরুভূমির মতো বিশাল বিশাল বাঁধা।

তবে এত বাঁধা সত্ত্বেও লিডিয়ার সেই বিদ্রোহের খবর সম্রাট দারিয়ুস অবিশ্বাস্য দ্রুততার সাথে পেয়ে গেলেন। সাথে সাথে নির্দেশ দিলেন সেনাবাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে। শেষ পর্যন্ত সেই বিদ্রোহ দমন করতেও সক্ষম হয় দারিয়ুসের বাহিনী। শুনতে খুব সাধারণ একটা ঘটনা মনে হলেও ওই আমলে এই ধরনের যোগাযোগ ছিল প্রায় অসম্ভব। তাহলে  এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছিল কীভাবে? আসলে সম্রাট দারিয়ুসের শাশনামলে সারদিস থেকে সুসা পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটা রাজপথ ছিল। আর এর সাথে ছিল সাম্রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত এক অভিনব ডাক–ব্যবস্থা।

রাজপথের প্রতি ২৫–৩০ কিলোমিটার পরপর ছিল ডাকঘর বা রিলে স্টেশন। সেখানে প্রস্তুত থাকত নতুন ঘোড়া, খাবার, আর পাহারাদার। একজন ঘোড়সওয়ার ছুটে এসে চিঠি দিয়ে নেমে পড়ত, আর সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন ঘোড়সওয়ার ছুটে যেত পরবর্তী স্টেশনের দিকে। দিন কিংবা রাত, বৃষ্টি কিংবা তুষারপাত—সবকিছু উপেক্ষা করে এই সম্রাটের ঘোড়াচালকরা ছুটে চলত অবিরাম।

গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডটাস পারস্য জাতির লোকদের খুব একটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু তিনিও বাধ্য হয়েছেন তার লেখাতে এই ডাক ব্যবস্থার উল্লেখ করতে। যে পথ পাড়ি দিতে সাধারণ যাত্রীর লাগত প্রায় তিন মাস, সেখানে রাজকীয় বার্তা পৌঁছে যেত মাত্র সাত থেকে নয় দিনে।

যেমন বিশাল ছিল এই সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী, তেমন বিশাল ছিল এই সাম্রাজ্য, আর তেমনি কৌশলী ছিলেন আকামেনিদ সাম্রাজ্যের সম্রাটরা। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন—আকেমেনিদরা সাম্রাজ্যকে শুধু জয় করেনি, তারা সাম্রাজ্যকে প্রশাসনে রূপান্তর করেছিল। অনেকেই বলেন যে রোমানরাই নাকি প্রথম রাজপথ তৈরি করেছিল। কিন্তু প্রথমবার মহাদেশজুড়ে এই রাজপথ তৈরির কাজটি আসলে শুরু করেছিলেন আকামেনিদ সম্রাট দারিয়ুস। প্রাচীনকালে এই সাম্রাজ্যের মতো এত শক্তিশালী কোনো সাম্রাজ্যই আসলে ছিল না। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, আকামেদিনরা যদি শুধু গ্রিস জয় করতে পারতো, তাহলে আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা বলেই হয়ত কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকত না। তার বদলে সেখানে থাকত আকামেনিদদের পারস্য সংস্কৃতি।  

অনেক আধুনিক ইতিহাসবিদই মনে করেন যে, এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম সত্যিকারের ‘আধুনিক’ সাম্রাজ্য। আকেমেনিদরা বুঝেছিল যে, একটি বিশাল ভূখণ্ড শুধু সৈন্য দিয়েই ধরে রাখা যায় না। তাই তারা গড়ে তোলে স্যাট্রাপি ব্যবস্থা। প্রতিটি প্রদেশে একজন গভর্নর থাকত, কিন্তু তার ক্ষমতা সীমাহীন ছিল না। আলাদা আলাদা কর্মকর্তা কর আদায়, বিচার এবং সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকত। এর ফলে দুর্নীতি ও বিদ্রোহের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আজকের দিনের প্রশাসনিক ‘চেক এ্যান্ড ব্যালেন্সের’ আদিম রূপ দেখা যায় এই সাম্রাজ্যেই।

আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সম্মান। পারস্যের এই সাম্রাজ্য পৃথিবীর বিশাল অঞ্চল শাসন করেছিল। কিন্তু তারা যেখানে গিয়েছে সেই অঞ্চলের স্থানীয় ভাষা, আইন ও ধর্ম তারা ধ্বংস করেনি। মিশরে তারা ফারাওদের মতো শাসন করেছে, মেসোপটেমিয়ায় গিয়ে তারা ব্যাবিলনীয় রীতিনীতি বজায় রেখেছে, ইহুদিদের তারা ব্যাবিলনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিয়েছে। এই নীতি তাদের সাম্রাজ্যকে স্থিতিশীল করেছিল। কারণ মানুষ নিজেদের শাসিত মনে করেনি, বরং তারা নিজেদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছিল।

প্রাচীন পৃথিবীর সত্যিকারের পরাশক্তি ছিল এই পারসিকরা। আপনারা অনেকেই থ্রি হান্ড্রেড সিনেমাতে সম্রাট জেরেক্সিসের গ্রিস আক্রমণের ঘটনার চলচ্চিত্রায়ন দেখেছনে। টম হল্যান্ড তার পার্সিয়ান ফায়ার বইতে পাশ্চাত্য আর প্রাচ্য সংস্কৃতির মধ্যকার সেই প্রাচীন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর সেই বইতে তিনি দেখিয়েছিলেন যে, জেরেক্সিস যদি গ্রিস জয় করে ফিরত তাহলে হয়ত ইতিহাসের গতিপথই বদলে যেত। কারণ পশ্চিমাদের আজকের সভ্যতা দাড়িয়ে আছে ইউরোপের রেনেসাঁর সাফল্যের ওপর ভর করে। আর রেনেসাঁ শব্দের অর্থ হলো রিবার্থ। কিসের রিবার্থ? কিসের পুনর্জন্ম? সেই ক্লাসিক গ্রিস যুগের জ্ঞান আর প্রজ্ঞার পূর্ণজন্ম। আর জেরেক্সিস যদি সেদিন গ্রীক জয় করে ফিরে আসতো, তাহলে সেই গ্রীক জ্ঞানের ন্যারেটিভই লেখা হতো নতুন করে। @ হিমাংশু কর

 যে মানুষ সেভিংস রাখে না, তার মনে থাকে শুধু উদ্বেগ আর ভয় 

যে মানুষ সেভিংস রাখে, তার মনের ভেতর একটা শান্তি থাকে। কিন্তু যে সেভিংস রাখে না, তার মনে শুধু উদ্বেগ আর ভয় থাকে। সেভিংস নেই মানে মানসিক শান্তিও নেই।

আজ আপনি কাজে ব্যস্ত, আজ আপনি সবকিছু ঠিকভাবে চলতে দেখছেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন যদি কিছু হয়ে যায়— অসুখ বা চাকরি চলে যায়, অথবা কোনো বিপদ আসলে— আপনি কী করবেন?

আপনার হাতে তখন যে টাকা আছে, তা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এই সময়েই আপনি অনুভব করবেন— “যদি সেভিংস থাকত, তাহলে এত চিন্তা হত না।” সেভিংসের অভাব মানসিক চাপ তৈরি করে।

সেভিংস না থাকলে কী হয়?

সেভিংস না থাকলে আপনার মন শান্ত থাকে না। আপনার মনে “আজ কি হঠাৎ কিছু হয়ে গেলে?” এই ভয় কাজ করতে থাকে। এমনকি ছোট খরচেও উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই এই ভয় কাটানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় খরচ করেন, যা পরবর্তীতে আরো বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে।

কেন সেভিংস মানসিক শান্তি দেয়?

সেভিংস থাকলে—আপনার সামনে কোনো বিপদ এলে আপনি সরাসরি যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারবেন।

এটা আপনাকে সামলাতে সাহায্য করে যখন কোনো অসুবিধা আসে। সেভিংস আপনার কাছে শুধু টাকা নয়—এটা মনের শান্তি।

সেভিংস শুরু করার উপায়:

প্রথমে একটা ছোট লক্ষ্য বানান: পরবর্তী ৬ মাসের জন্য একটি সেভিংস গোল করুন। সেভিংস আলাদা করে রাখুন, হাতের কাছে না রাখাই ভালো। নিজের মাসিক খরচের ১০%-২০% সেভিংস করতে শুরু করুন। সেভিংসের জন্য অটোমেটিক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করুন, যাতে নিয়মিত টাকা জমে।

শেষ কথা :

সেভিংস নেই মানে ভয় আছে। সেভিংস আছে মানে শান্তি আছে। আজ থেকেই সেভিংস শুরু করুন—যাতে ভবিষ্যতে শান্তিতে থাকতে পারেন।


পুঁজিবাদ, সমাজবাদ ও সাম্যবাদ: আসল পার্থক্যটা কোথায়?

পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, সাম্যবাদ—এই শব্দগুলো আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজে পড়ি, টিভির বিতর্কে শুনি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহার করি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা জানি, এই তিনটি মতবাদ একে অপরের থেকে কতটা আলাদা?

পুঁজিবাদ কী?

পুঁজিবাদের সবচেয়ে সহজ অর্থ হলো—

উৎপাদনের উপায় (যেমন—কারখানা, যন্ত্রপাতি, জমি) সরকারের নয়, বরং ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় থাকে।

এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য একটাই— মুনাফা করা এবং সেই মুনাফা দিয়ে আরও পুঁজি তৈরি করা।

একটি সহজ উদাহরণ:-

ধরা যাক, কারও কাছে একটি বাস আছে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়—

মালিক বাসটি চালাবে কি না, বিক্রি করবে কি না, নাকি একেবারেই চালাবে না, এসব সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মালিকের। সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করে না।

পুঁজিবাদের চারটি মূল স্তম্ভ:

১. ব্যক্তিগত মালিকানা (Private Ownership)

কারখানা, জমি, যন্ত্র—সবই ব্যক্তিগত মালিকানায়

২. মজুরি ব্যবস্থা (Wage Labour)

শ্রমিক নির্দিষ্ট বেতন পায়, মুনাফার অংশীদার হয় না

৩. পুঁজি সঞ্চয় (Capital Accumulation)

মুনাফা থেকে আরও বিনিয়োগ, আরও ব্যবসা

৪. প্রতিযোগিতা (Competition)

খোলা বাজার, যেখানে একাধিক কোম্পানি একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে

পুঁজিবাদের জন্ম কোথায়?

পুঁজিবাদের জন্ম হয় ইউরোপের সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা (Feudal System) ভেঙে পড়ার পর।

আগে কৃষকেরা জমিদারের জমিতে কাজ করত, নিজের জমি বা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না। এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পরই মুক্ত বাজার অর্থনীতি (Free Market) গড়ে ওঠে।

শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদের নির্মম দিক

১৮ ও ১৯ শতকের শিল্পবিপ্লবের সময় গ্রাম ফাঁকা হতে থাকে, মানুষ কাজের খোঁজে শহরে চলে আসে, সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়

১. পুঁজিপতি শ্রেণি — কারখানার মালিক

২. শ্রমিক শ্রেণি — মজুরিভিত্তিক কর্মী

এর ফলাফল ছিল ভয়াবহ—দিনে ১৪–১৬ ঘণ্টা কাজ, শিশু শ্রম, অস্বাস্থ্যকর বস্তি, ধনী ও দরিদ্রের বিশাল ব্যবধান।

তবুও পুঁজিবাদ আজও টিকে আছে কেন?

কারণ পুঁজিবাদ সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলেছে।

আজ— আমাদের হাতে অসংখ্য পছন্দ, একই পণ্যের বহু ব্র্যান্ড, ভোক্তা-নির্ভর অর্থনীতি

তবে এর আরেকটি অন্ধকার দিকও আছে—

১. অতিরিক্ত ভোগবাদ

২. প্রকৃতির সীমাহীন শোষণ

পুঁজিবাদের প্রধান চিন্তাবিদরা:

১. অ্যাডাম স্মিথ

তিনি বলেন—বাজার চলে একটি “অদৃশ্য হাত” (Invisible Hand) দ্বারা

সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ দরকার নেই

২. জন মেনার্ড কেইন্স

মহামন্দার পর তিনি বলেন—বাজার সবসময় নিজে নিজে ঠিক হয় না

সরকারকে হস্তক্ষেপ করতেই হয়

আজকের বেশিরভাগ দেশ এই দুই মতের মিশ্রণ অনুসরণ করে।

সমাজবাদ: সমতার খোঁজ

পুঁজিবাদের বৈষম্যের প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয়—সমাজবাদ (Socialism)

এর মূল ধারণা—

উৎপাদনের উপায় সমাজের সবার আর মুনাফা বণ্টন হবে ন্যায্যভাবে

সমাজবাদের মূল নীতি

১. সুযোগের সমতা

২. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র

৩. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা

ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনাতেই “সমাজবাদী” শব্দটি রয়েছে।

বাস্তব উদাহরণ: নর্ডিক দেশ

নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক—

১. প্রায় বিনামূল্যের শিক্ষা

২. উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা

৩. কিন্তু করের হার বেশি

এটি এক ধরনের সামাজিক চুক্তি (Social Contract)।

সাম্যবাদ: সমাজবাদের চরম রূপ

সাম্যবাদ (Communism) আরও এক ধাপ এগিয়ে বলে—

১. কোনো শ্রেণি থাকবে না

২. কোনো রাষ্ট্র থাকবে না

৩. এমনকি টাকা-পয়সাও থাকবে না

এই ধারণা দেন— কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস।

রুশ বিপ্লব ও বাস্তবতা

১৯১৭ সালে লেনিন মার্ক্সের চিন্তাধারা বাস্তবে প্রয়োগ করেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়— জনগণের নামে সবকিছু রাষ্ট্রের হাতে চলে যায় একে বলা হয় রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ।

ব্যর্থতার প্রধান কারণ

১. পরিশ্রমে উৎসাহের অভাব

২. উদ্ভাবনের ঘাটতি

৩. সমবায়ী কৃষির ব্যর্থতা

ফলাফল—অকাল, দুর্ভিক্ষ এবং শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন

আজকের পৃথিবীর বাস্তব চিত্র:

আজ কোনো দেশই

পুরোপুরি পুঁজিবাদী বা পুরোপুরি সাম্যবাদী নয়।

১. আমেরিকা → পুঁজিবাদী,  কল্যাণমূলক কর্মসূচি

২. চীন → কমিউনিস্ট শাসন + মুক্ত বাজার

৩. ভারত → মিশ্র অর্থনীতি

ফ্যাসিবাদ: ভয়ংকর আরেক মতবাদ

২০ শতকে উঠে আসে— ফ্যাসিবাদ

এর বৈশিষ্ট্য—একনায়কতন্ত্র, চরম জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা। এটি না পুরো পুঁজিবাদ না পুরো সাম্যবাদ— বরং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি ব্যবস্থা।

উপসংহার

প্রতিটি মতবাদই কিছু ভালো দিয়েছে, আবার কিছু ক্ষতিও করেছে।

আজকের বিশ্ব এই সব চিন্তার মধ্যে একটি সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করছে।

📚

সাডেন ওয়েলথ সিনড্রোম (Sudden Wealth Syndrome) 

মনোবিজ্ঞান বলছে, এই 'আচমকা বড়লোক' হওয়াটা অনেকের জন্য আনন্দের চেয়ে বড় বিপর্যয় নিয়ে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়— সাডেন ওয়েলথ সিনড্রোম (Sudden Wealth Syndrome)।

আজ চলুন এই "টাকার জ্বরের" ময়নাতদন্ত করি!

সাডেন ওয়েলথ সিনড্রোম কী? এটা কি কোনো রোগ?

না, এটি কোনো শারীরিক রোগ নয়, বরং এটি একটি মানসিক ও আবেগীয় অস্থিরতা। যখন একজন মানুষ তার ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ হুট করে পেয়ে যায়, তখন তার মস্তিষ্ক সেই নতুন বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না।

সহজ উপমা: ধরুন, আপনি সারা জীবন সাইকেল চালিয়েছেন। হঠাৎ আপনাকে একটা সুপারফাস্ট 'স্পোর্টস কার' বা 'জেট বিমান' চালাতে দেওয়া হলো। কোনো ট্রেনিং ছাড়া কি আপনি সেটা কন্ট্রোল করতে পারবেন? নির্ঘাত ক্র্যাশ করবেন!

হঠাৎ আসমানি টাকাও ঠিক তেমন—সঠিক 'ড্রাইভিং স্কিল' (Money Management) না থাকলে জীবনটা দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

কেন হঠাৎ টাকা এলে জীবন 'নষ্ট' হয়ে যায়? নেপথ্যের কারণগুলো:

১. প্যারালাইসিস বাই অ্যানালাইসিস (সিদ্ধান্তহীনতা): এত টাকা দিয়ে কী করব? কোথায় রাখব? কাকে দেব? এই চিন্তায় মানুষ প্যানিক অ্যাটাক বা চরম দুশ্চিন্তায় ভোগে।

২. অদৃশ্য 'বন্ধুর' ভিড়: টাকা আসার খবর ছড়ালে দেখবেন— হারানো খালাতো ভাই, ১০ বছর আগে দেখা হওয়া বন্ধু আর পাড়ার মোড়ের 'হিতাকাঙ্ক্ষীরা' লাইন ধরছে। কে আপন আর কে টাকার কাঙাল, এটা বুঝতে না পেরে মানুষ ভুল মানুষের হাতে সম্পদ তুলে দেয়।

৩. গিল্ট বা অপরাধবোধ: "আমি কেন পেলাম? আমার অন্য আত্মীয়রা তো গরিব!"—এই অহেতুক অপরাধবোধ থেকে অনেকে উল্টোপাল্টা দান-খয়রাত করে বা বাজে খরচ করে দ্রুত সব টাকা উড়িয়ে দিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

৪. পরিচয় সংকট (Identity Crisis): এতদিন আপনি ছিলেন সাধারণ একজন মানুষ। এখন আপনি 'বড়লোক'। আপনার পুরোনো বন্ধুরা আপনাকে আর আগের মতো গ্রহণ করছে না, আবার উচ্চবিত্তদের সাথেও আপনি মিলতে পারছেন না। এই একাকীত্ব থেকে অনেকে নেশা বা ডিপ্রেশনের পথে পা বাড়ায়।

রেড ফ্ল্যাগ: টাকা আসার পর কী কী ভুল হয়?

বিলাসবহুল কেনাকাটা: ধুমধাম করে দামি গাড়ি বা অপ্রয়োজনীয় বিশাল বাড়ি কেনা (যার রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা আপনার নেই)।

বিনিয়োগের ভুল সিদ্ধান্ত: চটজলদি দ্বিগুণ করার লোভে আজেবাজে স্কিমে টাকা ঢালা।

সম্পর্ক নষ্ট করা: টাকার দাপটে কাছের মানুষদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।

এই সিনড্রোম থেকে বাঁচার 'মাস্টার প্ল্যান'

যদি কপালগুণে আপনার হাতে বড় কোনো অংক আসে, তবে নিজেকে সামলাবেন কীভাবে?

একটি 'কুলিং অফ' পিরিয়ড নিন: টাকা পাওয়ার পর প্রথম ৩-৬ মাস বড় কোনো কেনাকাটা বা বিনিয়োগ করবেন না। আপনার মস্তিষ্ককে এই বড় অংকের সাথে 'অ্যাডজাস্ট' হতে সময় দিন।

পেশাদার পরামর্শ নিন: কোনো ভালো ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার বা ট্যাক্স কনসালট্যান্টের সাথে কথা বলুন। আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অংকের হিসাব করুন।

গোপনীয়তা রক্ষা করুন: চিৎকার করে সবাইকে জানানোর দরকার নেই। সম্পদ যত নীরব থাকে, শান্তিতে থাকা তত সহজ হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন: যদি খুব বেশি অস্থির লাগে, তবে একজন থেরাপিস্টের সাথে কথা বলুন। মনে রাখবেন, টাকা আপনার দাস, আপনি টাকার দাস নন!

শেষ কথা

টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু টাকা দিয়ে 'বিপদ' কেনা খুব সহজ! হঠাৎ আসা সম্পদকে ধরে রাখার জন্য পকেটের চেয়ে মাথার শক্তি বেশি প্রয়োজন।

তাই লটারি লাগুক বা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ পান—আগে নিজের 'সফটওয়্যার' আপডেট করুন, তারপর হার্ডওয়্যার (বিলাসিতা) কিনুন!

📚 তথ্য গবেষণা ও অনুপ্রেরণায় #Muhammad_Nasim_Hossain

চিনির চেয়েও ভয়ংকর ময়দা? ইনসুলিনের আসল শত্রু কে?

​আমরা ছোটবেলা থেকে জানি, "চিনি খাওয়া খারাপ, চিনিতে ডায়াবেটিস বাড়ে।" তাই আমরা চায়ে চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিই, কিন্তু অবলীলায় বিস্কুট, পরোটা, পুরি বা সাদা পাউরুটি খেয়ে যাচ্ছি। ভাবছি—"এগুলো তো আর মিষ্টি না, এগুলো নিরাপদ।"

​কিন্তু বিজ্ঞান বলছে এক ভয়ংকর সত্য কথা— আপনার রক্তে সুগার বা ইনসুলিন স্পাইক করার ক্ষেত্রে সাদা চিনি (Table Sugar)-এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী হলো সাদা ময়দা (Refined Flour)।

​শুনতে অবাক লাগছে? চিনি তো মিষ্টি, আর ময়দা তো পানসে! তাহলে ময়দা কেন বেশি ক্ষতিকর? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বায়োকেমিস্ট্রি বা রাসায়নিক গঠনের ভেতরে।

​ ১. গ্লুকোজ বনাম ফ্রুক্টোজ (The Structure):

​চিনি (Table Sugar): চিনি বা সুক্রোজ হলো ৫০% গ্লুকোজ এবং ৫০% ফ্রুক্টোজের মিশ্রণ। আপনি যখন চিনি খান, এর অর্ধেক অংশ (ফ্রুক্টোজ) লিভারে চলে যায় প্রসেস হওয়ার জন্য (যা ফ্যাটি লিভার বানায়, কিন্তু তাৎক্ষণিক রক্তে সুগার বাড়ায় না)। বাকি অর্ধেক (গ্লুকোজ) রক্তে যায়।

​ময়দা (Maida): ময়দা হলো ১০০% স্টার্চ। আর স্টার্চ মানেই হলো হাজার হাজার গ্লুকোজের অণু দিয়ে তৈরি একটি লম্বা চেইন (Chain of Glucose)। এতে কোনো ফ্রুক্টোজ নেই। অর্থাৎ, ময়দা খাওয়া মানে আপনি সরাসরি ১০০% গ্লুকোজ খাচ্ছেন।

​২. অ্যামাইলোপেকটিন-এ (The Super Starch):

গমের মধ্যে এক বিশেষ ধরণের স্টার্চ থাকে যার নাম 'অ্যামাইলোপেকটিন-এ' (Amylopectin A)। এটি এতটাই দুর্বল বন্ধনে আবদ্ধ থাকে যে, মুখের লালায় থাকা এনজাইম (Amylase) স্পর্শ করার সাথে সাথেই এটি ভেঙে গ্লুকোজ হয়ে যায়।

​ ৩. মিহি কণা (Surface Area):

ময়দাকে মেশিনে পিষে এতটাই মিহি পাউডার করা হয় যে, এর হজম হতে কোনো সময়ই লাগে না। পেটে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি গ্লুকোজ হয়ে রক্তের স্রোতে মিশে যায়।

​গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এর খেলা:

খাবার কত দ্রুত রক্তে সুগার বাড়ায়, তার মাপকাঠি হলো জিআই (GI)।

​সাদা চিনির GI: ৬৫ (মাঝারি)

​সাদা ময়দার GI: ৮৫ (অনেক বেশি!)

​তার মানে, এক চামচ চিনি খাওয়ার চেয়ে এক টুকরো সাদা পাউরুটি বা বিস্কুট খাওয়া আপনার ইনসুলিনকে আরও দ্রুত এবং উঁচুতে (Spike) নিয়ে যায়।

ফলাফল:

এই তীব্র ইনসুলিন স্পাইক আপনার শরীরকে ৩টি নির্দেশ দেয়:

১. ফ্যাট জমাও: ইনসুলিন হলো 'ফ্যাট স্টোরেজ হরমোন'।

২. তেল বাড়াও: ইনসুলিন সিবাম বা ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় = ব্রণ (Acne)।

৩. ক্ষুধা বাড়াও: দ্রুত সুগার বেড়ে আবার দ্রুত কমে যায় (Crash), ফলে কিছুক্ষণ পরেই আবার প্রচণ্ড ক্ষুধা পায়।

মিষ্টি খাচ্ছেন না বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না। যদি সকালের নাস্তায় পরোটা, বিকেলে বিস্কুট বা নুডলস আর রাতে নানরুটি খান—তবে আপনি চিনির চেয়েও খারাপ কিছু ঢুকাচ্ছেন শরীরে। ইনসুলিন এবং ত্বক ঠিক রাখতে চাইলে চিনি এবং ময়দা—দুটোকেই 'না' বলুন। @ collected Bithi Das


কিছু 'বাসি খাবার' শরীরের জন্য বেশ উপকারী

সাধারণত আমরা 'বাসি খাবার' বলতে নষ্ট বা অস্বাস্থ্যকর কিছু বুঝি। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার রান্না করার পর নির্দিষ্ট সময় রেখে দিলে সেগুলোর পুষ্টিগুণ উল্টো বেড়ে যায়। বিশেষ করে শর্করা জাতীয় খাবারে এই পরিবর্তনটা বেশি দেখা যায়।

​নিচে এমন ৬টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যা বাসি বা ঠান্ডা করে খেলে শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে:

​১. পান্তা ভাত (Fermented Rice)

​আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাত বাসি খাবারের তালিকায় সবার উপরে। গরম ভাত পানিতে ভিজিয়ে সারারাত রাখলে তাতে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়া ঘটে।

​কেন উপকারী: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন B12, B6 এবং ক্যালসিয়াম তৈরি হয়।

​উপকারিতা: এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং এতে থাকা প্রোবায়োটিকস (উপকারী ব্যাকটেরিয়া) পেটের হজমশক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

​২. সিদ্ধ আলু (Cold Boiled Potatoes)

​আলু সিদ্ধ করার পর যদি তা সাথে সাথে না খেয়ে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করা হয়, তবে তার গুণাগুণ বদলে যায়।

​কেন উপকারী: ঠান্ডা আলুতে 'রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ' (Resistant Starch) তৈরি হয়। এটি সাধারণ শর্করার মতো রক্তে দ্রুত সুগার বাড়ায় না।

​উপকারিতা: এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

​৩. হাতে গড়া রুটি

​তাজা গরম রুটির চেয়ে কয়েক ঘণ্টা আগের বাসি রুটি শরীরের জন্য অনেক সময় বেশি উপকারী বলে মনে করা হয়।

​কেন উপকারী: রুটি রেখে দিলে এতে থাকা আর্দ্রতা কমে যায় এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) হ্রাস পায়।

​উপকারিতা: বাসি রুটি দুধে ভিজিয়ে খেলে হজমের সমস্যা কমে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর।

​৪. পাস্তা (Leftover Pasta)

​শুনতে অবাক লাগলেও, পাস্তা রান্না করার পর ঠান্ডা করে বা পুনরায় গরম করে খেলে তা শরীরের জন্য ভালো।

​কেন উপকারী: আলুর মতোই পাস্তাকে ঠান্ডা করলে এর শর্করা 'রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে' রূপান্তরিত হয়।

​উপকারিতা: এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়তে দেয় না (Insulin spike প্রতিরোধ করে)। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি ভালো কৌশল হতে পারে।

​৫. ওটস (Overnight Oats)

​ওটস সরাসরি জ্বাল দিয়ে খাওয়ার চেয়ে সারারাত দুধ বা দইয়ে ভিজিয়ে রেখে 'ওভারনাইট ওটস' হিসেবে খাওয়া বেশি জনপ্রিয় এবং স্বাস্থ্যকর।

​কেন উপকারী: দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকার ফলে ওটসের ভেতরে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড ভেঙে যায়, যা শরীরের জন্য পুষ্টি শোষণ সহজ করে তোলে।

​উপকারিতা: এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।

​৬. ডাল (Lentils)

​অনেকেই মনে করেন বাসি ডাল খেতে বেশি সুস্বাদু। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণও আছে।

​কেন উপকারী: ডাল রান্না করে রেখে দিলে এর ভেতরের প্রোটিন ও ফাইবার ভালোভাবে মিশে যায় এবং পুষ্টি উপাদানগুলো আরও স্থিতিশীল হয়।

​উপকারিতা: বাসি ডাল সহজে হজম হয় এবং এটি শরীরের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

​সতর্কতা: বাসি খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন সেটি যেন যথাযথভাবে ফ্রিজে বা নিরাপদ তাপমাত্রায় সংরক্ষিত থাকে। খাবার থেকে কোনো দুর্গন্ধ আসলে বা রং বদলে গেলে তা খাবেন না।

“রোগী ছোঁয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন।” আর সেই কথার জন্যই তাঁকে পাগল ঘোষণা করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল!

এই মানুষটির নাম ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রথম “হাইজিন হিরো”।

অষ্টাদশ শতকে ভিয়েনার এক হাসপাতালে প্রতিদিন মারা যেত অসংখ্য প্রসূতি। কেউ জানতো না কেন। ইগনাজ দেখলেন—ডাক্তাররা মর্গে মৃতদেহ পরীক্ষা করে সোজা রোগী দেখতে যান, হাত না ধুয়েই। তিনি নির্দেশ দিলেন—“হাত ক্লোরিনে ধুয়ে নিন।”

অলৌকিকভাবে প্রসূতি মৃত্যুর হার কমে গেল ৯৯%। কিন্তু তখনকার ডাক্তার সমাজ বিশ্বাস করতো—রোগ হয় দুষ্ট আত্মার কারণে, জীবাণুর কারণে নয়। ফলে তাঁকে ‘পাগল’ বলা হলো, চাকরি গেল, শেষে তাঁকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

কিন্তু সত্য চিরকাল টিকে থাকে। বহু বছর পর লুই পাস্তুর ও জোসেফ লিস্টার তাঁর তত্ত্ব প্রমাণ করেন—রোগ আসলে জীবাণু থেকেই হয়। আজ আমরা যেভাবে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার, স্টেরিলাইজার ব্যবহার করি—সবকিছুর শিকড় সেই স্যামেলওয়াইজের ভাবনায়।

আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে তাঁকেই মনে করি—যিনি নিজের প্রাণ দিয়ে শিখিয়েছিলেন,

“একটা পরিষ্কার হাত, এক পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে।”

৩টি সাইকোলজিক্যাল হ্যাবিট

আপনিও যদি চান ক্লাসে, আড্ডায় কিংবা যে কোনো ভিড়ে আপনার উপস্থিতি আলাদাভাবে অনুভূত হোক

তাহলে এই ৩টি সাইকোলজিক্যাল হ্যাবিট আজ থেকেই নিজের জীবনে ঢুকিয়ে দিন।

১. নিজের উপস্থিতি তৈরি করুন (Command Your Presence)

আপনি কথা বলার আগেই আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অনেক কিছু বলে দেয়। কুঁজো হয়ে হাঁটা, চোখ নামিয়ে কথা বলা এই অভ্যাসগুলো মানুষকে অবচেতনভাবেই আপনাকে “দুর্বল” ভাবতে শেখায়।

কী করবেন?

মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাঁটুন

কথা বলার সময় স্বাভাবিক আই কন্টাক্ট রাখুন

কথা বলুন স্পষ্ট ও ধীরভাবে

কেন কাজ করে?

আত্মবিশ্বাসই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোশাক। যখন আপনি নিজের শরীর ও কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনেন, মানুষ অজান্তেই আপনাকে সম্মান দিতে শুরু করে। আপনার উপস্থিতি তখন আর সংখ্যা থাকে না তা হয়ে ওঠে একটি পাওয়ার।

২. শব্দের অপচয় বন্ধ করুন (The Power of Silence)

অনেকে মনে করে বেশি কথা বললেই গুরুত্ব বাড়ে। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। যে সারাক্ষণ কথা বলে, মানুষ তাকে হালকা ভাবে। আর যে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না, তার কথার ওজন থাকে।

কী করবেন?

কম কথা বলুন, বেশি শুনুন

সব আলোচনায় মতামত দেওয়ার দরকার নেই

চুপ থাকতে স্বচ্ছন্দ হন

কেন কাজ করে?

আপনি যত কম কথা বলবেন, আপনার প্রতিটি শব্দ তত বেশি শক্তিশালী হবে। মানুষ তখন আপনার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করবে।

মনে রাখবেন

গভীর নদী কখনো শব্দ করে না।

৩. শোরগোল নয়, রেজাল্টে ফোকাস করুন (Silent Improvement)

অনেকেই কাজ শুরু করার আগেই ঢোল পেটায়। সাময়িক বাহবা পাওয়া যায়, কিন্তু ফোকাস নষ্ট হয়।

কী করবেন?

আপনার লক্ষ্য সবার সামনে প্রকাশ করবেন না

দুর্বলতাগুলো নিয়ে নীরবে কাজ করুন

প্রতিদিন নিজেকে ১% করে উন্নত করুন

কেন কাজ করে?

দুনিয়া আপনার পরিশ্রম দেখতে চায় না,

দুনিয়া দেখতে চায় ফলাফল।

আপনার পরিশ্রম হোক নিঃশব্দ,

কিন্তু সাফল্য হোক গগনবিদারী।

একদিন আপনার রেজাল্টই কথা বলবে

আপনাকে কিছু বলতে হবে না।

শেষ কথা

পাওয়ার কখনো চেঁচিয়ে অর্জন করা যায় না। এটা তৈরি করতে হয় ভেতর থেকে। আত্মবিশ্বাস আনুন আপনার চলনে গাম্ভীর্য আনুন আপনার কথায় উন্নতি আনুন আপনার কাজে।



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক। জরিপ, মা সমাবেশসহ অসংখ্য অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল (শিক্ষকতার বাইরে) কাজ করতে হয় তাদের। এ কাজে সরকারের বছরে প্রায় এক হাজার ৭১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়। একই সঙ্গে অপেশাদার কাজের কারণে প্রায় ৯৩ শতাংশ শিক্ষক কর্মক্লান্ত। তারা ক্লান্তির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে (লেট-স্টেজ বার্নআউট) রয়েছেন।

অপেশাদার বা অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজ শেষে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর ৯০ শতাংশ শিক্ষক পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। নন-প্রফেশনাল কাজের অতিরিক্ত চাপ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান, শিক্ষকের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার্থীদের শিখনফলে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।  



১০

চর্যাপদ হল সাধন-সঙ্গীত বা ভজন গান

বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রাচীন ও একমাত্র নির্ভরযোগ্য আদি নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া পন্থী সিদ্ধাচার্যদের সাধন-সঙ্গীত বা ভজন গান।

চর্যাপদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

আবিষ্কার: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।

প্রকাশকাল: ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ।

রচয়িতা: চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ৫১টি হলেও পুঁথিতে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে। এর রচয়িতা মূলত ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন) বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, যাদের মধ্যে লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকু পা এবং শবর পা অন্যতম।

ভাষা: এর ভাষাকে 'আলো-আঁধারি' বা সন্ধ্যা ভাষা বলা হয়, কারণ এর অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক অর্থ বোঝা কঠিন।

রচনাকাল: অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে, এটি খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছে



মানুষের মন পড়া কি সত্যিই সম্ভব?  

কিন্তু মানুষের অবচেতন মন (Subconscious Mind) এমন কিছু সিগন্যাল শরীরের মাধ্যমে প্রকাশ করে যা পুরোপুরি লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।

আপনি যদি এই মনস্তাত্ত্বিক ইশারাগুলো বুঝতে শেখেন, তাহলে খুব সহজেই আন্দাজ করতে পারবেন

সামনের মানুষটির মনে আপনার জন্য আসলে কী চলছে।

আজকের এই পোস্টে জানবেন এমন ৫টি কার্যকর সাইকোলজি টেকনিক, যেগুলো খেয়াল করলে আপনি মুহূর্তেই কাউকে Read করতে পারবেন।

১. মিররিং ইফেক্ট (The Mirroring Trick)

কথা বলার সময় লক্ষ্য করুন

সামনের মানুষটি কি অজান্তেই আপনার মতো করে বসছে?

আপনার কথা বলার টোন, হাতের ভঙ্গি কিংবা স্টাইল কি সে কপি করছে?

সাইকোলজি বলে:

যখন কেউ আপনার প্রতি ভেতরে ভেতরে আকৃষ্ট বা ইমপ্রেসড হয়, তখন তার অবচেতন মন আপনার সাথে একটি কানেকশন তৈরি করতে চায়।

এই কারণেই সে আপনাকে মিরর করতে শুরু করে।

এটা নকল নয় এটা হলো সম্মান আর সংযোগের এক নীরব ভাষা।

২. বিহেভিয়ার চেঞ্জ সিগন্যাল (The Appearance Reflex)

আপনার সামনে এলেই কি মানুষটির আচরণ বদলে যায়?

বারবার চুল ঠিক করা, পোশাক গুছিয়ে নেওয়া, কিংবা গলার স্বর হালকা নরম বা গম্ভীর হয়ে যাওয়া?

সাইকোলজি বলে:

আপনার উপস্থিতিতে সে নিজের সেরা ভার্সনটা দেখাতে চায়।

এই আচরণটি প্রমাণ করে সে চায় আপনার পুরো ফোকাস শুধু তার দিকেই থাকুক।

সে চায় আপনি তাকে নোটিস করুন।

৩. রিঅ্যাকশন চেক (The Group Laugh Secret)

গ্রুপে সবাই একসাথে কোনো জোকসে হাসলে খেয়াল করুন

হাসির মুহূর্তে সে প্রথমে কার দিকে তাকায়?

সাইকোলজি বলে:

হাসি হলো মানুষের সবচেয়ে অসতর্ক মুহূর্ত।

এই সময় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার প্রিয় বা সবচেয়ে কাছের মানুষের দিকেই তাকায়।

যার দিকে তাকিয়ে সে হাসে বুঝে নিন, তার মনে সেই ব্যক্তির জায়গাটা বিশেষ।

৪. ডিটেইল ডিটেক্টিভ (The Attention Grip)

আপনি হয়তো অনেক আগে সাধারণ কোনো কথা বলেছিলেন

কিন্তু সে এখনো সেটা মনে রেখেছে।

আপনার পছন্দ-অপছন্দ, ছোট অভ্যাস কিংবা জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তার মনে গেঁথে আছে।

সাইকোলজি বলে:

যখন কেউ আপনার ছোট ছোট বিষয়েও গভীর মনোযোগ দেয় এবং বারবার আপনার কাছে আসার সুযোগ খোঁজে

তখন সে কেবল ইমপ্রেস করতে চায় না, বরং আপনার জীবনে নিজের জায়গা তৈরি করতে চায়।

৫. প্রক্সিমিটি ম্যাগনেট (The Physical Intent)

ভিড় বা গ্রুপে থাকলেও কি সে সবসময় কোনো না কোনোভাবে আপনার কাছেই থাকে?

কথা বলার সময় একটু ঝুঁকে আসা বা অকারণেই কাছে দাঁড়িয়ে পড়া এগুলো কি কাকতালীয়?

সাইকোলজি বলে:

আমাদের মন যাকে পছন্দ করে, শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পার্সোনাল স্পেস-এ যেতে চায়।

এই কাছে আসার প্রবণতা আসলে এক নীরব বার্তা

“আমি তোমার সান্নিধ্য চাই।”

শেষ কথা

এই সাইকোলজি টেকনিকগুলো আপনাকে মানুষ বোঝার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।

তবে মনে রাখবেন

এই জ্ঞান কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা ঠকানোর জন্য নয়।

বরং মানুষের অনুভূতি বুঝে, তাদের সাথে সুন্দর, সম্মানজনক আর গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যই এটি ব্যবহার করা উচিত। @ 



জীবনের কিছু চরম  শিক্ষা-১


যখন আপনি অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করেন, তখন আপনি নিজের উন্নতির গতি কমিয়ে দেন। তাই নিজের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন আপনি নিজেই।

​ক্ষমা করা মানে এই নয় যে অপর ব্যক্তি যা করেছে তা সঠিক ছিল; ক্ষমা মানে হলো নিজের মনের ভেতর জমে থাকা বিষ থেকে নিজেকে মুক্ত করা।

​আপনি যা হারিয়েছেন তার জন্য আফসোস না করে, আপনার কাছে যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া শিখুন; এটিই সুখী হওয়ার সহজ উপায়।

​আপনার প্রাকৃতিক দক্ষতা এবং বিশ্বের প্রয়োজনীয়তা যখন এক বিন্দুতে মেলে, তখনই আপনি আপনার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা 'ধর্ম' খুঁজে পান।

​ফলের আশা ত্যাগ করে কাজের প্রক্রিয়ার ওপর মনোযোগ দিন; কর্ম ঠিক থাকলে ফল এমনিতেই আসবে।

​জীবন তখনই সার্থক হয় যখন আপনি অন্যের উপকারে আসতে পারেন। জীবনের মূল লক্ষ্যই হলো সেবা।

​বড় কিছু অর্জনের জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন। বীজ রোপণ করার পর দিনই যেমন ফল পাওয়া যায় না, সফলতার ক্ষেত্রেও তাই।

​•

​চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চিন্তা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে দূর না করে সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে শিখুন।

​একা থাকা মানেই একাকীত্ব নয়। নির্জনতা হলো নিজের সাথে সময় কাটানো এবং নিজের ভেতরকে চেনা।

​আপনার সকালটা যেভাবে শুরু হবে, আপনার সারাদিন সেভাবেই কাটবে। তাই দিনের শুরুটা হোক গঠনমূলক কোনো কাজের মাধ্যমে।

​যখনই উত্তেজিত বা অস্থির বোধ করবেন, দীর্ঘ শ্বাস নিন। আপনার নিঃশ্বাসই আপনার মনকে শান্ত করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

​ব্যর্থতা মানে হেরে যাওয়া নয়, বরং এটি একটি ইঙ্গিত যে আপনাকে অন্য কোনো পথে চেষ্টা করতে হবে।

আপনি যে ধরনের মানুষের সাথে সময় কাটাবেন, আপনার চিন্তাধারাও ঠিক তেমন হয়ে উঠবে। তাই ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকুন।

​কথা বলার চেয়ে অন্যের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা অনেক বড় একটি গুণ। এটি সম্পর্ককে মজবুত করে।

​কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিই দুঃখের মূল কারণ। বস্তু বা মানুষের প্রতি মায়া রাখুন, কিন্তু মোহগ্রস্ত হবেন না।

​সব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই। মাঝে মাঝে নীরবতা বজায় রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

​নিজের মূল্য নির্ধারণের চাবিকাঠি অন্যের হাতে দেবেন না। আপনি ভেতর থেকে যেমন, সেটাই আপনার আসল সম্পদ।

​অতীত নিয়ে অনুশোচনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করতে শিখুন।

_______________________

Source: Think Like a Monk


জীবনের কিছু চরম  শিক্ষা-


অপ্রয়োজনীয় চিন্তা বর্জন করুন: যে বিষয়গুলো আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না, সেগুলো নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন।

​বাস্তবসম্মত হোন: কল্পনাপ্রসূত নেতিবাচক চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন এবং বাস্তবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিন।

​চিন্তা হোক ফলপ্রসূ: প্রতিটি চিন্তার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকা উচিত।

​•

​অতীতকে যেতে দিন: অতীত নিয়ে পড়ে থাকা মানে বর্তমানের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।

​ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা কমান: ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আপনাকে বর্তমানের কাজ থেকে বিচ্যুত করে।

​তথ্য হজম করা শিখুন: সব তথ্য আপনার জন্য প্রয়োজনীয় নয়; শুধু আপনার কাজে লাগে এমন তথ্য গ্রহণ করুন।

​নিজের সত্য জানুন: অন্যদের মতামতের চেয়ে নিজের বিচারবুদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দিন।

​মানসিক প্রশান্তি সবচেয়ে বড় সম্পদ: মনের অস্থিরতা আপনার কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

​সরলতা বজায় রাখুন: জীবনকে জটিল করবেন না; সহজ চিন্তাই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবে।

​দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন: অতিরিক্ত চিন্তা করে সময় নষ্ট করার চেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজে নামা ভালো।

​নিজের ভুলের দায়ভার নিন: যখন আপনি নিজের ভুলের দায়িত্ব নেবেন, তখনই আপনি তা সংশোধনের শক্তি পাবেন।

​লক্ষ্যে অটল থাকুন: মনোযোগ বারবার পরিবর্তন করলে সাফল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

​ভাবনা নয়, কাজে গুরুত্ব দিন: আপনি কী ভাবছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি আসলে কী করছেন।

​•

​নিজের সীমাবদ্ধতা জানুন: সব কিছু আপনি একবারে করতে পারবেন না, এটি মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

​প্রতিটি দিন একটি নতুন সুযোগ: আজকের দিনটি কীভাবে কাটাবেন, তা আপনার সকালের চিন্তার ওপর নির্ভর করে।

​নিজের ওপর বিনিয়োগ করুন: আপনার মস্তিষ্ক আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার; একে ধারালো রাখুন।

​অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করুন: আপনার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত আপনার গতকালের নিজের সাথে।

​জীবন ক্ষণস্থায়ী: তাই অর্থহীন বিষয় নিয়ে চিন্তা করে এই মূল্যবান সময় অপচয় করবেন না।

_________________

​সূত্র: থিংক স্ট্রেইট




খেসারির ডাল বা খেসারি কলাই।

খেসারি ডালে ২০-৩০% প্রোটিন থাকে! যা ডালের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ! এজন্য খেসারি হলো কম খরচে আমিষের উত্তম একটি উৎস।

ইতিহাস বলে, প্রায় ৮,০০০ বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলে এটা চাষ করা হতো। এরও আগে তুরস্ক ও সিরিয়ার উর্বর ক্রিসেন্ট এলাকায় চাষ শুরু হয়। পরে মানুষ এশিয়া এবং আফ্রিকায় নিয়ে আসে।

খেসারি যেকোন জলবায়ুতে টিকে থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন বিধায় ফলন হয় প্রচুর, কিন্তু খরচ আর শ্রম প্রয়োজন হয় কম! ফলে বঙ্গে যখন খরা মৌসুম চলতো, তখন কৃষকরা ব্যাপক পরিমাণে খেসারি উৎপাদন করতো।

অতীতে বঙ্গের একজন গৃহস্থ নারী কেবল খেসারি ডাল দিয়েই পুরো এক বেলার খাবার রান্না করে ফেলত– খেসারির খিচুড়ি, খেসারি দিয়ে তেঁতুলের ঝোলের তরকারি, খেসারি ভর্তা, পেঁয়াজু, খেসারির ডালভাজি ইত্যাদি। গ্রামবাংলার মানুষ প্রতি দিনের খাবারের অংশ হিসেবে খেসারি ডাল খেত।

খেসারি ডাল খাদ্য হিসেবে পুষ্টিকর হলেও এতে β-ODAP নামক নিউরোটক্সিন থাকে।

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়ে যায়, দীর্ঘসময় ধরে শুধুমাত্র খেসারি ডালই খাদ্য হিসেবে খেতে থাকলে ল্যাথিরিজম নামক পায়ের প্যারালাইসিস হয়।

ভারতের স্বাধীনতার পরও বহু দশক ধরে জমিদাররা চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক ব্যবস্থায় কৃষকদেরকে শোষণ করেছে। মজুরি হিসেবে তাদেরকে টাকা না দিয়ে দিয়েছে সস্তা খেসারি। খেসারি বিক্রি করে অন্য খাবার কেনা যেতো না। কৃষকদেরকে বাধ্য হয়ে কেবলমাত্র খেসারি খেয়ে বেঁচে থাকতে হতো।

না খেয়ে মারা যাওয়া কিংবা খেয়ে পঙ্গুত্ব বরণের মধ্যে দরিদ্র কৃষকরা বেছে নিয়েছিল পরেরটিকেই। যখন এই শ্রমিকরা ল্যাথিরিজমে আক্রান্ত হত, তাদেরকে ছাঁটাই করা হতো। তখন তারা কাজ হারিয়ে পাটনা, বেনারস, বোম্বে, কলকাতা ইত্যাদি বড় বড় শহরে গিয়ে ভিক্ষা শুরু করতো। এসব শহরের ভিক্ষুকদের বড় অংশ ছিল এই ল্যাথিরিজমে আক্রান্ত খেসারি খাওয়া শ্রমিক।

১৯৩০–৫০ এর দশক থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে খেসারি ডালের চাষ, বিক্রি ও মানবখাদ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৬১ সালের Prevention of Food Adulteration Act এর আওতায় অনেক জায়গায় খেসারিকে মানুষের খাবার হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

ফলে একটি সাশ্রয়ী ও টেকসই ফসল কৃষকদের হাতছাড়া হয়ে যায়।

পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা যায়, খেসারি নিজে এককভাবে বিপজ্জনক নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি একঘেয়ে খাওয়া ও চরম দারিদ্র্যেই ল্যাথিরিজম হয়। তবু ভয় ও পুরোনো নীতির কারণে নিষেধাজ্ঞা বহু বছর বহাল থাকে।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের চীফ ড. বিজয়নাথ মিশরা খেসারি ডাল নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেন। উত্তর প্রদেশের ৯ হাজার মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালান ড. মিশরা। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগেরই খাবারের একটি বড় অংশ ছিল খেসারি ডাল। তাদের মধ্যে খোঁড়া বা পা কাঁপার প্রবণতা মোটেই দেখা যায়নি। তার মতে, "যদি স্বাভাবিকভাবে খেসারি ডাল খাওয়া হয় এবং ডালের সাথে অন্যান্য খাবার খাওয়া হয়, তখন নিউরোল্যাথিরিজমের কোনো অস্তিত্বই দেখা যায় না। কেবল খেসারি খেলেই ল্যাথিরিজম হয়ে যাবে, এমন নয়। ইতিহাস ঘাঁটলে চোখে পড়ে কেবল খরা ও অন্যান্য দুর্যোগের কারণে দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চলেই ল্যাথিরিজমের প্রকোপ হয়েছে।"

ড. বিজয়নাথ মিশ্রার মতো এই ধরনের গবেষণার ভিত্তিতেই ২০১৬ সালে ভারত সরকার খেসারি ডালের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। বাংলাদেশেও এর চাষ ও বিক্রিতে কোনো বাধা নেই।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) এবং বিএআরআই (BARI) ইতিমধ্যে খেসারির এমন কিছু জাত উদ্ভাবন করেছে (যেমন বিনাকেশারি-১) যেগুলোতে টক্সিনের মাত্রা অত্যন্ত নগণ্য।

যদি টানা ৩ থেকে ৬ মাস প্রতিদিনের মোট খাদ্যের ৩০% থেকে ৫০% বা তার বেশি খেসারি ডাল হয়, তবেই ল্যাথিরিজম হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বর্তমানে এটা প্রমাণিত, যদি খেসারি ডাল ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে ওই পানি ফেলে ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া হয় তাহলে কোন সমস্যা হয় না।

তারপরও কারো যদি ভয় লাগে তাহলে ডাল সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে খাবেন।

খেসারি উপযুক্ত পরিবেশে প্রতি হেক্টরে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে, আর অনুকূল পরিবেশ না থাকলে তা এক টনের নিচে নেমে আসে। একইসাথে, অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশে, পানির অভাবে টক্সিনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।

এই ফসল সঠিক ব্যবস্থাপনায় এবং বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকায় মানুষকে পুষ্টি দিতে পারে। 

অধিক ক্রুড প্রোটিন থাকার কারণে গবাদিপশুর সেরা প্রোটিন জাতীয় খাবার হতে পারে খেসারি। @ Captain Green



 ডঃ সিসিল সিলাস মিড

অস্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিস্ট মিশনারী ডঃ সিসিল সিলাস মিড (Dr. Cecil Silas Mead) সেই বিরল মানুষদের মধ্যে অন্যতম প্রধান একজন । তিনি বিদেশি হয়েও বাংলার মাটিতে এসে যে কাজটি করেছিলেন, তা কোনো ধর্মীয় আগ্রাসন নয়, ছিল শিক্ষার মাধ্যমে আত্মমর্যাদা, মানবিক অধিকার এবং সামাজিক পুনর্গঠনের এক মৌলিক প্রয়াস । বিশেষ করে নমঃশূদ্র সমাজের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও বহুমাত্রিক ।

উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের প্রথম ভাগের পূর্ববঙ্গ ছিল ভয়াবহ সামাজিক বৈষম্যে জর্জরিত । নমঃশূদ্ররা সংখ্যায় বিপুল হলেও সামাজিক মর্যাদায় ছিলেন অস্পৃশ্য । শিক্ষার অধিকার কার্যত নিষিদ্ধ, গ্রাম্য বিদ্যালয়ে প্রবেশেও বাধা, সরকারি চাকরি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রবেশ প্রায় অসম্ভব । ব্রাহ্মণ্য সমাজব্যবস্থা তাদের ‘অস্পৃশ্য’ পরিচয়ে আটকে রেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল । এই বাস্তবতায় ডঃ সিসিল সিলাস মিড যখন পূর্ববঙ্গে আসেন, তখন তিনি প্রথমেই বুঝেছিলেন, এই সমাজকে বদলাতে হলে ধর্মীয় বিতর্ক নয়, প্রয়োজন শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং সংগঠিত সামাজিক উদ্যোগ ।

ডঃ মিডের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল নমঃশূদ্র সমাজের জন্য শিক্ষাকে বাস্তব ও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা । তিনি বিদ্যালয় স্থাপন করেন, শিক্ষক তৈরি করেন, স্থানীয় ভাষায় পাঠ্যক্রম গড়ে তোলেন । এই শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, ছিল মানুষ হিসেবে নিজেকে জানার ও প্রতিষ্ঠা করার শিক্ষা । তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নমঃশূদ্র শিশুদের প্রথমবার বলা হয়েছিল যে তারা জন্মসূত্রে নিচু নয়, তারা মানুষ, তাদেরও চিন্তা করার অধিকার আছে, প্রশ্ন করার অধিকার আছে । এই কথাগুলো আজ সহজ শোনালেও, তখন তা ছিল সামাজিক বিপ্লবের সমান ।

শিক্ষার পাশাপাশি তিনি নমঃশূদ্র সমাজের সামাজিক সংস্কারেও গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন । বাল্যবিবাহ, কুসংস্কার, আত্মঘৃণা, এই সবকিছু থেকে মুক্তির জন্য তিনি যে সাংগঠনিক কাজ করেছেন, তা ছিল সুদূরপ্রসারী । তিনি নমঃশূদ্র সমাজকে ভাঙতে চাননি, ভেতর থেকে শক্ত করতে চেয়েছিলেন । বিদেশি হয়েও তিনি স্থানীয় মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও বাস্তবতাকে সম্মান করতেন । এই কারণেই তাঁর উদ্যোগগুলো টিকে ছিল এবং মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করেছিল ।

ডঃ সিসিল সিলাস মিডকে যদি বন্ধু, সুহৃদ বা দীনবন্ধু বলা হয়, তাহলে সেটা কোনো অতিশয়োক্তি নয় । তবে তিনি ত্রাণকর্তা ছিলেন না দয়ার জায়গা থেকে, ছিলেন সহযোদ্ধা । তিনি নমঃশূদ্র সমাজকে কখনো ‘উদ্ধারের বস্তু’ হিসেবে দেখেননি, দেখেছিলেন পরিবর্তনের সক্ষম এক মানবগোষ্ঠী হিসেবে । এখানেই তাঁর কাজের মৌলিকত্ব । উপনিবেশিক যুগে বহু মিশনারি এসেছেন, কিন্তু সবাই নিপীড়িত সমাজের সামাজিক আত্মমর্যাদা গড়ে তোলার কাজে যুক্ত হননি । ডঃ মিড সেই বিরল ব্যতিক্রম ।

বেদনাদায়ক হল, আজ নমঃশূদ্র সমাজের প্রায় ৯৫% মানুষ তাঁর নামই জানেন না । কোনো পাঠ্যবইয়ে নেই, কোনো সমাজ ইতিহাসে গুরুত্ব দিয়ে নেই, কোনো রাজনৈতিক স্মৃতিচর্চায় নেই । এই বিস্মৃতিও কাকতালীয় নয় । যাঁরা নমঃশূদ্র সমাজকে ইতিহাসে অদৃশ্য রাখতে চেয়েছেন, তাঁরাই সেই সমাজের বন্ধুদেরও অদৃশ্য করে দিয়েছেন । ফলে ডঃ মিড আজ শুধু ইতিহাসের প্রান্তে পড়ে থাকা একটি নাম ।

এই কারণেই বলা যায়, প্রত্যেক নমঃশূদ্র ঘরে ডঃ সিসিল সিলাস মিডের ছবি প্রয়োজন, তাঁকে প্রতিদিন একবার নমস্কার করা প্রয়োজন । কারণ এটা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার বিষয় । প্রতিদিন তাঁকে একবার নমস্কার করা মানে কোনো ধর্মীয় আচারের অনুকরণ নয়, নিজেদের ইতিহাসকে সম্মান করা, সুহৃদ বন্ধুকে সম্মান করা । যাঁরা আমাদের জন্য আলো জ্বালিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ না করলে সেই আলো নিভে যায় । ইতিহাসকে স্মরণ করা মানেই আত্মপরিচয়কে আরও দৃঢ় করা ।

ডঃ সিসিল সিলাস মিড আমাদের শেখান যে মুক্তি সবসময় নিজের ভেতর থেকেই আসে, কিন্তু অনেক সময় বাইরের কেউ সেই মুক্তির দরজাটা খুলে দেয় । তিনি নমঃশূদ্র সমাজকে সম্পূর্ণ মুক্তি না দিলেও, তিনি তাদের হাতে চাবিটা তুলে দিয়েছিলেন । সেই চাবি ছিল শিক্ষা, সম্মান ও আত্মমর্যাদা আর সংগঠনের শক্তি ।

আজ যখন নমঃশূদ্র সমাজ নিজের ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায়, তখন ডঃ সিসিল সিলাস মিডকে পুনরাবিষ্কার করা অপরিহার্য । তিনি বিদেশী হয়েও কোনো বিদেশি নায়ক নন, তিনি এই মাটিরই আমাদের ইতিহাসের অংশ । তাঁকে না জানার অর্থ, নিজের লড়াইয়ের শেকড় না জানা । আর যে সমাজ নিজের শেকড় ভুলে যায়, তার ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে ।. @ Sufal Sarkar




১৬

মধ্যবিত্তের 'স্যান্ডউইচ' জীবন: 

আমরাই সেই মহান 'মধ্যবিত্ত'! যারা সকালের নাস্তায় ডিমের দাম বাড়লে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসি, আর রাতে শুয়ে স্বপ্ন দেখি ইলন মাস্কের সাথে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার। আমরা খাই 'স্ট্রেস' কমানোর খাবার! বিরিয়ানি বা চিনিযুক্ত চা আমাদের কাছে স্রেফ খাবার নয়, সারাদিনের অপমানের 'ট্রিট'।

ফলাফল: আমাদের ডিএনএ-তে পুষ্টির বদলে জমার হয় সুগার আর প্রেশার। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য হাজারটা লুপহোল আর বড় বড় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রাখে।

মধ্যবিত্ত: আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যে সৎভাবে ট্যাক্স দেয়, কিন্তু লাইনে দাঁড়ালে আপনার জন্য কোনো 'কোটা' নেই। আপনি যেন সেই ট্রেনের যাত্রী, যার কাছে টিকিট আছে কিন্তু বসার সিট নেই!

"লোকে কী বলবে?" আমরা রিকশাওয়ালার সাথে ২ টাকা নিয়ে দরদাম করি, কিন্তু বড় শোরুমে গিয়ে ঠকছি জেনেও হাসি মুখে ক্রেডিট কার্ড ঘষি—কেবল 'স্ট্যাটাস' বাঁচাতে! এই ইগোই আমাদের বড় হওয়ার পথে প্রধান দেয়াল। 




রেফ্রিজারেটর আসার অনেক আগে, রাশিয়া ও ফিনল্যান্ডের মানুষ দুধ সংরক্ষণের এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করত—তারা দুধের বালতিতে একটি ব্যাঙ ফেলে দিত। তাদের জানা ছিল, ইউরোপীয় ব্রাউন ফ্রগ (Rana temporaria) নামের এই ব্যাঙ দুধকে টক হওয়া থেকে রক্ষা করে। আজকের দিনে তাদের এই কাজ অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু এটি ব্যাঙের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি কার্যকর প্রয়োগ ছিল। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট লেবেদেভ আবিষ্কার করেন যে এই ব্যাঙের ত্বক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল যৌগ নিঃসরণ করে, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং দুধ নষ্ট হওয়া ঠেকায়। 



১৭

'মানি সাইকোলজি' 

১. 'মানি অন দ্য ব্রেইন': টাকা কি আমাদের সহানুভূতি কমিয়ে দেয়?

বিজ্ঞানীদের একটি বিখ্যাত পরীক্ষা আছে (Monopoly Experiment)। দেখা গেছে, খেলায় যখন কাউকে কৃত্রিমভাবে বেশি টাকা দেওয়া হয়, তখন তার হাঁটাচলা, কথা বলার ধরন বদলে যায়। সে অন্য খেলোয়াড়দের প্রতি কম সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ে এবং নিজেকে বেশি 'যোগ্য' ভাবতে শুরু করে।

সহজ কথা: টাকা যখন বেশি আসে, তখন আমাদের ব্রেইনের Prefrontal Cortex-এ এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা আমাদের 'এম্প্যাথি' বা অন্যের দুঃখ বোঝার ক্ষমতাকে কিছুটা ঝাপসা করে দিতে পারে। টাকা তখন নিরপেক্ষ থাকে না, সে হয়ে ওঠে 'অহংকারের জ্বালানি'।

২. ডোবামিন আর টাকার নেশা: টাকা কি ড্রাগস?

আপনি যখন লটারিতে টাকা পান বা ব্যবসায় লাভ করেন, তখন আপনার ব্রেইনে Dopamine-এর বন্যা বয়ে যায়। ঠিক যেমনটা ঘটে কোনো আসক্তির ক্ষেত্রে।

মজার ব্যাপার হলো, টাকা খরচ করার সময়ের চেয়ে টাকা পাওয়ার আগের মুহূর্তের উত্তেজনা ব্রেইনের কাছে বেশি আনন্দদায়ক!

অর্থাৎ, টাকা তখন কেবল সম্পদ নয়, সে তখন আপনার নিউরনের জন্য একটা 'সুড়সুড়ি'। এই কারণেই অনেক ধনী ব্যক্তি আরও টাকার পেছনে ছোটেন, কারণ তাদের ব্রেইন ওই ডোবামিন হাই-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

৩. 'মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং': আপনার টাকা কি আলাদা আলাদা খোপে থাকে?

অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থ্যালার দেখিয়েছেন, আমরা টাকাকে নিরপেক্ষ ভাবি না।

কষ্ট করে উপার্জিত ১০০০ টাকা আমরা খুব সাবধানে খরচ করি।

কিন্তু রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া বা উপহারের ১০০০ টাকা আমরা খুব সহজেই উড়িয়ে দেই!

টাকা কিন্তু একই, কিন্তু আমাদের ব্রেইন একেক টাকাকে একেক 'চরিত্র' দেয়। কুড়িয়ে পাওয়া টাকাটা যেন 'বখাটে বন্ধু', আর উপার্জিত টাকাটা 'লক্ষ্মী সন্তান'!

৪. টাকার ‘জেনেটিক মেমোরি’ ও আপনি

আমরা আগের আর্টিকেলে জেনেছি দারিদ্র্যের ছাপ জিনে থাকে। ঠিক তেমনি, যাদের পূর্বপুরুষেরা হঠাৎ ধনী হয়েছিলেন বা চরম অভাব থেকে উঠে এসেছেন, তাদের টাকার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি (Money Script) ভিন্ন হয়।

কেউ টাকা জমিয়ে রাখতে রাখতে 'কিপটেমি'র পর্যায়ে চলে যান (বংশগত ভয় থেকে), আবার কেউ টাকা পেলেই সব খরচ করে ফেলেন—যেন টাকাটা হাত থেকে পালিয়ে যাবে!

সিদ্ধান্ত: টাকা তাহলে কী?

টাকা আসলে একটা 'Magnifier' বা আতশিকাঁচ।

টাকা আপনার ভেতরের আসল চরিত্রটাকে বড় করে দেখায়। আপনি যদি দয়ালু হন, টাকা আপনাকে মহৎ করে তুলবে। আর যদি ভেতরে জটিলতা থাকে, টাকা সেটাকে আরও উসকে দেবে।

টাকা নিরপেক্ষ হতে পারে ব্যাংকের খাতায়, কিন্তু আপনার রক্তে আর মগজে সে চরম Bias বা পক্ষপাতদুষ্ট!

আপনার কী মনে হয়?

টাকা কি মানুষের স্বভাব নষ্ট করে, নাকি মানুষের লুকানো স্বভাবটা বের করে আনে?

আপনার পকেটে টাকা থাকলে কি আপনি নিজেকে একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী (নাকি একটু বেশি গম্ভীর) অনুভব করেন?



১৮

প্রধান শিক্ষকের কাছে লেখা আব্রাহাম লিংকনের ঐতিহাসিক চিঠি

মাননীয় মহোদয়,

আমার পুত্রকে জ্ঞান অর্জনের জন্য আপনার কাছে পাঠালাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন এটাই আপনার কাছে আমার প্রত্যাশা। আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন সব মানুষই ন্যায়পরায়ণ নয়, সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়। তাকে এও শেখাবেন;  প্রত্যেক খারাপের মাঝেও একজন বীর থাকতে পারে, প্রত্যেক স্বার্থপর রাজনীতিবিদের মাঝেও একজন নিঃস্বার্থ নেতা থাকেন। তাকে শেখাবেন, পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চাইতে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান।‌‌

তাকে শেখাবেন, কীভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কীভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়।  হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দেবেন। যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন একথা বুঝতে শেখে, যারা অত্যাচারী তাদেরকে নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য দিয়ে সহজেই কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তাও তাকে শেখাবেন।

আমার পুত্রকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে নকল করে পাস করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। নিজের ওপর তার যেন পূর্ণ আস্থা থাকে, এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুলও মনে করে।

তাকে শেখাবেন,  ভালো মানুষের  প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে। আমার পুত্র যেন হুজুগে মাতাল জনতার পথ অনুসরণ না করে এ শিক্ষাও তাকে দেবেন। সে যেন সবার কথা শোনে এবং সত্যটা  ছেঁকে যেন শুধু ভালোটাই শুধু গ্রহণ করে এ শিক্ষাও তাকে দেবেন। সে যেন শেখে দুঃখের মাঝেও কীভাবে হাসতে হয়। আবার কান্নার মাঝে লজ্জা নেই, সে কথাও তাকে বুঝতে শেখাবেন। যারা নির্দয়,  নির্মম তাদেরকে সে যেন ঘৃণা করতে শেখে।  আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ থেকে সাবধান থাকে। আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন কিন্তু সোহাগ করবেননা, কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তান যেন বিপদে ধৈর্যহারা না হয়, থাকে যেন তার সাহসী হবার ধৈর্য। তাকে এ শিক্ষাও দেবেন, নিজের প্রতি তার যেন পূর্ণ আস্থা থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানব জাতির প্রতি।


১৯

সরিষার তেল রান্নায় ব্যবহারের আগে কিছু বিষয় জেনে নিন

উচ্চ তাপে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উত্তম ফ্যাটগুলো হলো—

- ঘি, মাখন

এটা সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরাপদ, উচ্চ তাপে খুব স্থিতিশীল, অক্সিডেশন কম, হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে, খাবারের স্বাদ-ঘ্রাণ বাড়ায়, অল্পেই কাজ হয়। ভাজা, ভুনা, তরকারি সবখানে ব্যবহারযোগ্য।

- পশু চর্বি

বিশেষ করে গরুর চর্বি ভাজাপোড়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী, উচ্চ স্মোক পয়েন্ট বিশিষ্ট, ডিপ ফ্রাই এর জন্য খুবই উত্তম, একই চর্বি বারবার ব্যবহারেও সমস্যা হয়না। এজন্য আগে ফাস্টফুডে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।

- নারকেল তেল

স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকায় এটাও উচ্চ তাপে বেশ স্থিতিশীল, তাপ সহনশীল, অক্সিডেশন কম। ভাজা, ঝোল, রান্নায় বেশ উপযোগী।

ঘি, মাখন, পশুচর্বি, নারকেল তেল এসবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় তাপমাত্রা কমলে সহজেই জমে সলিড বা সেমি সলিড হয়ে যায়। এই জমে যাওয়া একদমই খারাপ কিছুনা। বরং উল্টো ব্যাপার। যে ফ্যাট ঠান্ডায় জমে সেটাই সাধারণত তাপে বেশি স্থিতিশীল। এই কারণেই ঘি, মাখন, চর্বি, নারকেল তেল রান্না ও ভাজায় সবচেয়ে উত্তম!

যেটা ঠান্ডায় জমে, সেটা ধমনীতেও জমে ব্লক হবে এটা মূলত ব্রেইনওয়াশিং!

এখন সরিষার তেল কেমন?

সরিষার তেল বাজারের নিকৃষ্ট রিফাইন্ড তেলের চেয়ে বেশি নিরাপদ। কিন্তু তারমানে এই না যে, এটা ইচ্ছামতো ঢেলে ঢেলে খাবেন! যেহেতু এটা বীজ তেল তাই রান্নায় ব্যবহারের আগে কিছু বিষয় জেনে নেয়া উত্তম।

সরিষার তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে, কিন্তু অল্প পরিমাণে। এটা ঘি বা নারকেল তেলের মতো স্যাচুরেটেড নয়, আবার সূর্যমুখী/সয়াবিনের মতো অতিরিক্ত পলিআনস্যাচুরেটেডও নয়। সরিষার তেলে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাট প্রায় ৭–৮%, মনো-আনস্যাচুরেটেড (MUFA) প্রায় ৬০%, পলি-আনস্যাচুরেটেড (PUFA) প্রায় ৩০% থাকে। এই MUFA-dominant প্রোফাইলটাই সরিষার তেলের বড় সুবিধা, অন্যান্য বীজ তেলের তুলনায়। কারণ তাপে PUFA এর চেয়ে MUFA বেশি স্থিতিশীল। তাই মাঝারি তাপের রান্নায় সরিষার তেল তুলনামূলক নিরাপদ।

সহজলভ্য হওয়ায় বাংলায়, উত্তর ভারতে শত শত বছর ধরে এটি দিয়ে ভাজা, ঝোল, ভুনা সব হচ্ছে।

তবে উচ্চ তাপে ডিপ ফ্রাই, বারবার ব্যবহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটা অস্বাস্থ্যকর।

আমি কখনো বলিনি সরিষার তেল সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। আমি বলেছি মানুষ তো তেল ব্যবহারে অভ্যস্ত, তেল ছাড়া চলেনা। তাই নিয়মিত রান্নাবান্নার তেল হিসেবে নিকৃষ্ট রিফাইন্ড তেলের চেয়ে এটা বেশি নিরাপদ। কোল্ডপ্রেস হলে বেশি ভাল।

রিফাইন্ড সিড অয়েল ব্যাপারটা সম্পূর্ণই কর্পোরেট কারবার!

কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের স্বাস্থ্য ও ঐতিহ্য ধ্বংসের কারবার!

কাজেই জীবন, জীবিকা, দেশের স্বার্থে রিফাইন্ড অয়েল বর্জন করুন।

রাইসব্র‍্যান, সয়াবিন, পাম, সানফ্লাওয়ার যেটাই হোক, রিফাইন্ড তেলের প্রসঙ্গ পুরোই বাদ!

এদেশে স্থানীয়ভাবে তৈলবীজ থেকে তেল বের করার দুটি প্রধান পদ্ধতি আছে কোল্ডপ্রেস (ঐতিহ্যবাহী ঘানিতে) ও হটপ্রেস (এক্সপেলার মেশিনে)।

কোল্ডপ্রেস পদ্ধতি স্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে উত্তম। এতে তেলের গুণাগুণ, রঙ, ঘ্রাণ, স্বাদ সবই ভাল হয়। প্রাচীনকাল থেকে পশুশক্তি কাজে লাগিয়ে এভাবে তেল উৎপাদন হতো। এখন মেক্যানিক্যালিও এটা উৎপাদন হয়। শুধু চাপ দিয়ে তেল বের করা হয়।

আরেকটি তুলনামূলক নিরাপদ যেটি তা হলো হটপ্রেস পদ্ধতি। তেলবীজ ভেজে বা হালকা গরম করে তারপর এক্সপেলার মেশিনের মেকানিক্যাল প্রেসারে তেল বের করা হয়। তবে উত্তাপের কারণে কিছুটা গুণাগুণ নষ্ট হয়।

সরিষা, তিল, তিসি, কুসুম, বাদাম, সূর্যমুখী এসব বেশিরভাগ বীজ তেলেই থাকে PUFA (polyunsaturated fat), যা তাপে খুব অস্থির। তাই কোল্ডপ্রেস হলেও উচ্চ তাপে রান্না করলে এই ফ্যাট সহজে অক্সিডাইজ হয়। এজন্য বীজ তেলে উচ্চ তাপের রান্না, ভাজাপোড়া করা অস্বাস্থ্যকর।

কোল্ডপ্রেস হোক বা যাই হোক যেকোনো বীজ তেলের ব্যবহার হতে হবে কম তাপে অথবা কাঁচা। কোল্ডপ্রেস বীজ তেলের ব্যবহার হবে সালাদ, ভর্তা, ভাত, ডাল ইত্যাদির উপর অল্প ঢেলে কিংবা রান্নার শেষে ফিনিশিং অয়েল হিসেবে। তাহলেই স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন। (আর রিফাইন্ড বীজ তেল কিন্তু কাঁচা খাওয়া যায় না!)

তেল-চর্বি খাওয়া মানুষের জন্য সমস্যা না!

মানুষের সমস্যা হয় নিকৃষ্ট রিফাইন্ড অয়েল খেয়ে আর বীজ তেলে ভাজাপোড়া খেয়ে। এটা ক্লিয়ার না করেই মানুষের কাছে তেল-চর্বিটাকে পুরো ভিলেন বানিয়ে দেয়া হচ্ছে, সবখানে বলা হচ্ছে তেল খারাপ, চর্বি খারাপ, তেল ছাড়া রান্না করতে হবে, চর্বি ফেলে দিতে হবে!

অথচ সুস্থ থাকতে নিয়মিত হেলদি ফ্যাট খাওয়া খুবই প্রয়োজনীয়!

ঐতিহ্য থেকে সরে যাওয়াতেই মূলত আমরা তেলচর্বির সঠিক ব্যবহার জানিনা।

যাইহোক আজ জেনে নিন - উচ্চতাপের রান্না ও ভাজার জন্য ঘি, মাখন, পশুর চর্বি, নারকেল তেল উপযোগী; হালকা তাপের রান্নায় ও কাঁচা খাওয়ায় কোল্ডপ্রেসড সরিষা, তিল, তিসি, চিনাবাদাম ইত্যাদি বীজের তেল উপযোগী; আর হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস কনফার্ম করার জন্য পাম, সয়াবিন, রাইসব্র‍্যান, সানফ্লাওয়ার, সাফফ্লাওয়ার ইত্যাদি রিফাইন্ড তেল উপযোগী! @ Captain Green



২০

জীবনের কিছু চরম  শিক্ষা-


যখন কোনো নেতিবাচক চিন্তা আসে, তখন তাতে জড়িয়ে না পড়ে একজন নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে তা দেখুন।

​মন একটি চমৎকার যন্ত্র, কিন্তু এটি যখন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়।

​আপনার ভালো থাকা বা খারাপ থাকা বাইরের পরিস্থিতির ওপর নয়, বরং আপনি আপনার ভেতরের শক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করছেন তার ওপর নির্ভর করে।

​পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিজের হৃদয়কে সবসময় খোলা রাখুন। এটি বন্ধ হয়ে গেলেই আপনি শক্তিহীন বোধ করবেন।

​অতীতকে ধরে রাখা মানে হলো নিজের ভেতরে আবর্জনা জমিয়ে রাখা। এগুলোকে যেতে দিন।

​ব্যথাকে ভয় পাবেন না। ব্যথা বা কষ্ট হলো শক্তির একটি রূপ। একে এড়িয়ে না গিয়ে এর মধ্য দিয়ে যেতে শিখুন, তাহলেই এটি আপনাকে আর কষ্ট দেবে না।

​আপনার ভয়ের কারণগুলো আসলে আপনার মনের তৈরি করা দেয়াল। এই দেয়ালগুলো অতিক্রম করলেই প্রকৃত স্বাধীনতা পাওয়া যায়।

আপনি যদি আপনার আরামদায়ক সীমানা বা কম্ফোর্ট জোনের ভেতরে আটকে থাকেন, তবে আপনি কখনোই আপনার প্রকৃত রূপ খুঁজে পাবেন না।

​অনিশ্চয়তাকে আলিঙ্গন করুন। জীবন অনিশ্চিত এবং এটাই জীবনের সৌন্দর্য। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা বন্ধ করুন।

​মুক্তি মানে সব সমস্যা সমাধান করা নয়, বরং সমস্যাগুলো থাকলেও শান্ত থাকতে শেখা।

​•

​বর্তমানে বাস করুন। অধিকাংশ সময় আমরা হয় অতীতে পড়ে থাকি অথবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। কিন্তু জীবন কেবল 'এখনই' ঘটছে।

​একদিন আমরা সবাই মারা যাব—এই সত্যটি মনে রাখলে জীবনকে অনেক বেশি মূল্যবান এবং অর্থবহ মনে হয়।

​প্রতিযোগিতা ছেড়ে দিন। পৃথিবীর সাথে লড়াই করার চেয়ে নিজের ভেতরের অস্থিরতার সাথে সন্ধি করা বেশি জরুরি।

​জীবন যেভাবে আপনার সামনে আসে, তাকে সেভাবেই গ্রহণ করতে শিখুন। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা মানেই অশান্তি।

​নিজেকে প্রশ্ন করুন: "আমি আসলে কে?"—এই একটি প্রশ্নই আপনাকে গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির দিকে নিয়ে যাবে।

​সুখ কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত। আজই সিদ্ধান্ত নিন যে যাই ঘটুক না কেন, আপনি শান্ত এবং আনন্দিত থাকবেন।

________________________

সূত্র: The Untethered Soul



২১


হাসলে যে যে স্বাস্থ্য উপকা্রীতা পাওয়া যায়  

হাসি এমন আবেগের প্রকাশ যা আমাদের মন এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুন কাজ করে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, জোরে হাসলে শুধু আমাদের মনই হালকা রাখে তা নয়,বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। হাসি থেরাপির আরও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যেমন-

১) মানসিক চাপ কমানো : গবেষণায় দেখা গেছে ,হাসি কর্টিসলের মাত্রা কমায়। এর ফলে মন সব ধরনের চাপ ভালোভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।

২) হৃদরোগের স্বাস্থ্য: যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে,অনেক চাপের মধ্যে থাকলেও হাসি হৃৎস্পন্দন এবং রক্তচাপ কমায়।

৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি : হাসি এমন এক অনুভূতি যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যার ফলে শরীর অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

৪) ব্যথা কমায় : হাসির সময় নিঃসৃত এন্ডোরফিন প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।

৫) শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি : হাসি একটি দুর্দান্ত ব্যায়াম। এটি রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে এবং পেশি শিথিল করে। হাসি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য হাসি থেরাপি খুবই উপকারী হতে পারে। হাসতে হলে, আপনি কমেডি শো দেখতে পারেন অথবা বন্ধুদের সাথে রসিকতাও করতে পারেন।

হাসি, সামাজিক সংযোগ এবং আত্মবিশ্বাস

হাসি এমন এক অভিব্যক্তির প্রকাশ যা অন্যদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়। সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে কাউকে হাসতে দেখলে পর্যবেক্ষকের মস্তিষ্কের মিরর নিউরন সক্রিয় হয়, যার ফলে তার মধ্যেও হাসি সংক্রমিত হয় । এই প্রকাশ সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। তথ্যসূত্র : জনকণ্ঠ  

২২

একটি চমৎকার গল্প এবং কিছু শিক্ষা

জাপানের তাকামায়া গ্রামে একজন জ্ঞানী ও বৃদ্ধ কৃষক বাস করতেন। কৃষক লোকটির একটা সুন্দর ও শক্তিশালী ঘোড়া ছিল।

কৃষি কাজে , ভারী জিনিস বহনে ও নিত্যদিনের চলা ফেরায় ঘোড়াটিকে তিনি ব্যবহার করতেন।

একদিন ঘোড়াটি হারিয়ে গেলো। তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেলো না।

কৃষকের স্ত্রীর খুব মন খারাপ।কিন্তু কৃষক লোকটির কোন অস্থিরতা নেই। তার কোন আফসোস নেই।

হারিয়ে যাওয়া ঘোড়ার জন্য তার কোন দুঃচিন্তা নেই। তাকে দেখে মনে হচ্ছে কোন কিছুই যেন হারায়নি।

আসে পাশের প্রতিবেশীরা এসে বললো,

"তোমার কি দুর্ভাগ্য ! একটা মাত্র ঘোড়া তাও হারিয়ে গেলো "

এই কথা শুনে কৃষক লোকটি একটু মৃদু হেসে বললো , "হতে পারে "

তার কিছুদিন পর ঘোড়াটি আবার কৃষকের বাড়ি ফিরে আসলো এবং তার সাথে আরোও তিনটি বন্য ঘোড়া।

কৃষকের বাড়িতে অনেক আনন্দ।

শুধু হারানো ঘোড়া ফিরে আসেনি , তার সাথে আবার আরোও তিনটা ঘোড়া।

প্রতিবেশীরা আবার দেখতে আসলো , সবাই লোকটিকে বলতে থাকলো ,

"তোমার কি সৌভাগ্য , হারানো ঘোড়া ফিরে পেয়েছো সেই সাথে আবার তিনটা বাড়তি ঘোড়া "

কৃষক আগের মতই হাসি মুখে বললো , "হতে পারে"

দুই দিন পর কৃষকের একমাত্র ছেলে একটা বন্য ঘোড়ায় চড়তে চেষ্টা করে। কিন্তু ঘোড়া থেকে ছিটকে পড়ে যায়।

এবং পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙে ফেলে।

এই খবর শুনে প্রতিবেশীরা এসে খুবই আফসোস করলো।

কৃষককে দুঃখ করে বললো ,

"এমন করে ছেলের পা ভেঙে গেলো , সত্যিই বড় দুর্ভাগ্য ! "

কথা শুনে কৃষক লোকটি মুচকি হেসে বললো , "হতে পারে"

পরদিনই কৃষকের বাড়িতে রাজার সৈন্যরা এসে হাজির।

যুদ্ধের জন্য তারা গ্রামের যুবক ছেলেদেরকে ধরে নিয়ে যেতে এসেছে।

কিন্তু কৃষকের ছেলের ভাঙা পা দেখে তাকে না নিয়েই চলে গেলো।

এইবার প্রতিবেশিরা এসে সবাই বললো ,

"তোমারতো দেখছি অনেক বড় সৌভাগ্য , ছেলেকে আর যুদ্ধে গিয়ে মরতে হবে না "

মৃদু হেসে কৃষকের একই উত্তর , "হতে পারে "

বৃদ্ধ কৃষকই ঠিক। এক জীবনে ভালো-মন্দ সবকিছুকেই মেনে নিতে হয়। -সংগৃহিত।



২৩

নিউজিল্যান্ডে যেসব পাখি বাস করে, তারা কেউই উড়তে পারে না

নিউজিল্যান্ডে পাখিরা উড়তে শেখেনি— কারণ সেখানে কোনো শিকারি ছিল না!

বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? কিন্তু এটাই সত্যি! নিউজিল্যান্ডের কিছু পাখি নাকি উড়তেই পারে না! ভাবছেন কেন?

লক্ষ লক্ষ বছর ধরে নিউজিল্যান্ড ছিল এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সেখানে ছিল না কোনো সাপ, বা বড় কোনো শিকারি প্রাণী। ফলে সেখানকার কিছু পাখিদের শিকারিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য উড়তে শেখার প্রয়োজনই পড়েনি!

আর এ কারণেই, ধীরে ধীরে তারা উড়ার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে!

যেমন:

কিউই পাখি (Kiwi):

নিউজিল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক হলেও, এই পাখি একদম উড়তে পারে না!

কাকাপো (Kakapo):

পৃথিবীর একমাত্র নিশাচর এবং উড়তে না পারা তোতাপাখি!

এটা প্রমাণ করে, প্রকৃতি যদি নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তাহলে প্রজাতির আচরণও বদলে যায়! সত্যিই দারুণ এক তথ্য, তাই না? -সংগৃহীত।


২৪

বিখ্যাত "ব্যর্থ ব্যক্তির গল্প" যারা পৃথিবী বদলে দিয়েছেন:

১। মাত্র চার মাস পর টমাস এডিসনকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল; তার শিক্ষক তাকে মানসিকভাবে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছিলেন। পরে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা আবিষ্কারক হয়ে ওঠেন।

২। চার্লস ডারউইনকে চিকিৎসাবিদ্যা ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, তার বাবা তিক্তভাবে বলেছিলেন: "তুমি তোমার কল্পনা ছাড়া আর কিছুই পরোয়া করো না!" তিনি শেষ পর্যন্ত  জীববিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।

৩। "সৃজনশীলতার অভাব" এর জন্য ওয়াল্ট ডিজনিকে একটি সংবাদপত্রের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর তিনি বিশ্বব্যাপী প্রজন্মের কাছে প্রিয় একটি বিনোদন সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।

৪। বিথোভেনের সঙ্গীত শিক্ষক তাকে সম্পূর্ণ প্রতিভাহীন বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কালজয়ী কিছু মাস্টারপিস রচনা করেছিলেন।

৫। আলবার্ট আইনস্টাইন চার বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতেন না এবং তার শিক্ষক তাকে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তিনি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হয়ে উঠেন।

৬। আর্ট স্কুলের প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর অগাস্ট রডিনের বাবা তাকে "বোকা" ঘোষণা করেছিলেন। রডিন এখন সর্বকালের সেরা ভাস্করদের একজন হিসেবে পরিচিত।

৭। সম্রাট ফার্দিনান্দ বিখ্যাতভাবে মোজার্টের "দ্য ম্যারেজ অফ ফিগারো"-এর সমালোচনা করেছিলেন "অনেক বেশি নোট" হিসেবে। আজ, মোজার্টের প্রতিভা প্রশ্নাতীত।

৮। দিমিত্রি মেন্ডেলিফ রসায়নে গড় নম্বর অর্জন করেছিলেন, তবুও তিনি পরে পর্যায় সারণী তৈরি করেছিলেন, যা বিজ্ঞানকে মৌলিকভাবে রূপান্তরিত করেছিল।

৯৷ ফোর্ড অটোমোবাইলের কিংবদন্তি স্রষ্টা হেনরি ফোর্ড মৌলিক সাক্ষরতার সাথে লড়াই করেছিলেন এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জনের আগে একাধিকবার দেউলিয়া ঘোষণা করেছিলেন।

১০৷ যখন মার্কনি রেডিও আবিষ্কার করেছিলেন এবং বাতাসের মাধ্যমে শব্দ প্রেরণের বর্ণনা দিয়েছিলেন, তখন তার বন্ধুরা তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান, ভেবেছিলেন যে তিনি তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। কয়েক মাস পরে, তার আবিষ্কার সমুদ্রে অসংখ্য জীবন বাঁচিয়েছিল।

শিক্ষা:

অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গিকে কখনই আপনার সম্ভাবনা সংজ্ঞায়িত করতে দেবেন না। মহত্ত্ব প্রায়শই ব্যর্থতা দিয়ে শুরু হয়। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন!

-সংগৃহীত।


২৫

পোলিও টিকা আবিষ্কারের ইতিহাস

বিশ শতকের প্রথমার্ধে পোলিও ছিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর রোগগুলোর একটি। শিশুদের হঠাৎ পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দেওয়া এই ভাইরাসঘটিত রোগ সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিত। তখনো কার্যকর কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি, কারণ পোলিও ভাইরাস নিয়ে গবেষণাই ছিল প্রায় অসম্ভব। এই অচলাবস্থার মাঝেই যারা পোলিও নিয়ে কাজ করেন তাঁদের একজন হলেন  জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডার্স।

১৮৯৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের দিনে আমেরিকার কানেকটিকাটে তাঁর  জন্ম। না তিনি বিজ্ঞান নয় বরং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য পড়ে  শিক্ষকতাও করেছেন। কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরে যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। বিজ্ঞানের প্রতি গভীর আকর্ষণ তাঁকে আবার হার্ভার্ডেই ফিরিয়ে আনে, এবার ব্যাকটেরিয়োলজি ও ইমিউনোলজি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দেরিতে শুরু করলেও গবেষণায় তাঁর অগ্রগতি ছিল বিস্ময়কর।

১৯৪০-এর দশকে পোলিও ভাইরাস নিয়ে গবেষণার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল একটি বিশ্বাস—এই ভাইরাস শুধু স্নায়ুকোষেই বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে গবেষণার জন্য জীবন্ত প্রাণীর স্নায়ুকোষ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না, যা ছিল জটিল, ব্যয়বহুল এবং সীমিত। এন্ডার্স এই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করলেন। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলে তাঁর ল্যাবরেটরিতে ফ্রেডরিক সি. রবিন্স ও থমাস এইচ. ওয়েলারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এক সাহসী পরীক্ষা শুরু করেন।

১৯৪৯ সালে তাঁরা প্রথম দেখান, পোলিও ভাইরাস মানুষের স্নায়ুকোষ ছাড়াও অন্যান্য টিস্যু—যেমন ত্বক, কিডনি বা কিছু যোগ কলাতেও—সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে, তাও টেস্ট টিউবের মধ্যে বা কালচার মাধ্যমে। এই আবিষ্কার ছিল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এক বৈপ্লবিক আবিষ্কার। এর ফলে পোলিও ভাইরাসকে প্রথমবারের মতো নিরাপদে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, বিপুল পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। ভাইরাসকে আলাদা করে শনাক্ত করা, বিভিন্ন টাইপে ভাগ করা এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পথ খুলে যায়।

এই একটি আবিষ্কার ছাড়া পোলিও টিকা আবিষ্কারের ইতিহাস কল্পনাই করা যায় না। বিজ্ঞানী জোনাস সল্কের নিষ্ক্রিয় (killed) পোলিও টিকা কিংবা অ্যালবার্ট সাবিনের মুখে খাওয়ার জীবন্ত (attenuated) টিকা—দুটির ভিত্তিই ছিল এন্ডার্সদের গবেষণা। তাই অনেকেই তাঁকে বলেন, “পোলিও টিকা আবিষ্কারের নেপথ্যের কারিগর ”।

এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৫৪ সালে জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডার্স, ফ্রেডরিক রবিন্স ও থমাস ওয়েলার যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। নোবেল ভাষণে বলা হয়—তাঁদের কাজ পোলিও ভাইরাস গবেষণাকে বাস্তব ও ফলপ্রসূ করে তুলেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানোর পথ খুলে দিয়েছে।

এন্ডার্স শুধু পোলিওতেই থেমে থাকেননি। পরবর্তীকালে তিনি হাম (measles) ভাইরাস নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন, যা ভবিষ্যতে হামের টিকা তৈরিতে সাহায্য করে। অথচ ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অনাড়ম্বর—খ্যাতি বা প্রচারের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। ছাত্র ও সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন এক ধৈর্যশীল শিক্ষক ও চিন্তাশীল বিজ্ঞানী হিসেবে।

১৯৮৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, ৮৮ বছর বয়সে জন ফ্রাঙ্কলিন এন্ডার্সের জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গবেষণা আজও সচল —প্রতিটি শিশুর শরীরে দেওয়া পোলিও টিকার ফোঁটায়, প্রতিটি গবেষণাগারে ভাইরাস কালচারের আধুনিক পদ্ধতিতে। @পঞ্চানন মণ্ডল

২৬

ভিন্ন মত দমনের প্রবণতা

মানব সভ্যতার ইতিহাস জুড়ে ভিন্ন মত দমনের প্রবণতা দেখা গেছে। প্রাচীন গ্রিসে সক্রেটিসকে বিষপানে হত্যা করা হয়েছিল তাঁর দার্শনিক মতের জন্য, গ্যালিলিওকে গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে বলার অপরাধে, এবং আজও সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নমত পোষণকারীরা হেনস্তার শিকার হন। কেন আমরা ভিন্ন মতকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারি না? কেন বিপরীত ধারণা আমাদের মনে আঘাত হানে? বৈজ্ঞানিক গবেষণা এই প্রশ্নের কিছু মর্মান্তিক উত্তর দেয়।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এফএমআরআই স্ক্যানারের নিচে শোয়ানো হয়। যখন তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের বিপরীত তথ্য দেখেন, তখন তাঁদের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা, যে অংশ শারীরিক বিপদের মুহূর্তে সক্রিয় হয়, জ্বলে ওঠে। ভিন্ন মত শোনার সময় আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক সেভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখায়, যেমনটি কোনো শিকারির সামনে পড়লে দেখাত। এই আবিষ্কার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ : আমরা ভিন্ন মতকে আক্ষরিক অর্থেই হুমকি হিসেবে অনুভব করি, নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বিমত হিসেবে না।

হার্ভার্ডের স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. রবার্ট স্যাপলস্কির মতে, বিবর্তনের লক্ষ লক্ষ বছরে মানুষের মস্তিষ্ক এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে দলীয় ঐক্য বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগে গোত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানেই মৃত্যু। তাই মস্তিষ্ক এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা দলের মতের সাথে মিল না রাখাকে বিপদ সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষ নিজের মতের বিপরীত তথ্য পড়ার সময় তা খণ্ডন করার জন্য অধিক সময় ব্যয় করে, বোঝার চেষ্টা করার জন্য নয়। এই ঘটনা 'নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত' নামে পরিচিত, আমরা নিজের বিশ্বাসকে সমর্থন করে এমন তথ্য অনায়াসে গ্রহণ করি, কিন্তু বিপরীত তথ্য এলে তা নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনামূলক হয়ে যাই।

এই পক্ষপাত এতটাই শক্তিশালী যে ক্যালটেকের গবেষকরা দেখিয়েছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের বিপরীত তথ্য পড়ার সময় মস্তিষ্কের যুক্তি ও বিচার বিশ্লেষণের অংশগুলো কম সক্রিয় হয়, বরং আবেগ ও আত্মরক্ষামূলক অংশগুলো বেশি সক্রিয় হয়। আমরা তখন যুক্তি খোঁজার চেয়ে নিজের মত রক্ষার কৌশল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

নিজের মতামত শুধু কিছু ধারণা নয়, তা আমাদের পরিচয়ের অংশ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যান কাহনেম্যানের মতে, যখন কেউ আমাদের মতের বিরোধিতা করে, তখন আমাদের মস্তিষ্ক তা আত্মসম্মানের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে। ভিন্ন মত শোনার অর্থ দাঁড়ায় "আমি যা ভাবি তা ভুল হতে পারে, যা আমার অস্তিত্বের ভিত নাড়িয়ে দেয়।"

প্রিন্সটনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল ব্যক্তি নিজেদের মতকে পরিচয়ের অংশ বানিয়ে ফেলেন, তারা ভিন্ন মতের মুখোমুখি হলে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন, রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। এই শারীরিক প্রতিক্রিয়াই আমাদের ভিন্ন মতকে দমনে উদ্বুদ্ধ করে।

ভিন্ন মত দমন করলে গ্রুপথিঙ্ক নামক এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে দলের সবাই একমত হওয়াকে সঠিক সিদ্ধান্ত ভেবে বসে। নাসার চ্যালেঞ্জার দুর্ঘটনার তদন্তে দেখা গেছে, ইঞ্জিনিয়াররা ও-রিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ভিন্ন মতকে দমন করেন। ফলাফল? সাত নভোচারীর মৃত্যু।

বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ইতিহাস দেখায়, প্রতিটি বড়ো আবিষ্কারই প্রথমে দমনের শিকার হয়েছে। কোপার্নিকাসের হেলিওসেন্ট্রিক মডেল চার্চের মতের বিপরীতে যাওয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছিল। লুই পাস্তরের জীবাণু তত্ত্ব চিকিৎসক সম্প্রদায় উপহাস করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভিন্নমতের কারণেই।

তাহলে কি আমরা এই বিবর্তনীয় প্রবণতার কাছে আত্মসমর্পণ করব? বৈজ্ঞানিক গবেষণা আশার আলো দেখায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালিসন গোপনিক দেখিয়েছেন, শিশুরা ভিন্নমত নিয়ে কৌতূহলী হয়, তারা দ্বিমতকে শেখার সুযোগ হিসেবে নেয়। এই শিশুসুলভ কৌতূহল আমাদেরও ফিরে পেতে হবে।

ভিন্ন মত শোনার সময় সচেতনভাবে নিজেকে প্রশ্ন করা যায় "এতে কি আমি নতুন কিছু শিখতে পারি? আমার মত কি সত্যিই অকাট্য? অন্য কোণ থেকে বিষয়টি দেখলে কি নতুন মাত্রা খুলে যায়?"

মনোবিজ্ঞানী কার্ল রজার্স বলেছিলেন, "যখন আমি কাউকে শুনি, তখন আমি নিজেকে বদলাতে দিই, আর সেই পরিবর্তনই হল শেখার মূল কথা।" ভিন্ন মত শোনা মানে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা নয়, বরং নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ নেওয়া। মস্তিষ্কের সেই প্রাচীন অ্যামিগডালাকে একটু পিছিয়ে দিয়ে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করতে হবে, যুক্তি ও বিচারকে সামনে আনতে হবে।

বিজ্ঞান আমাদের শেখায়, জ্ঞান বৃদ্ধি পায় ভিন্নমতের সংঘর্ষে। আজ আমরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করি কারণ থমাস এডিসন ও নিকোলা টেসলা ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। আমরা আধুনিক চিকিৎসা পেয়েছি কারণ কেউ কেউ গ্যালেনের ভুল তত্ত্বের বিরোধিতা করেছিলেন। ভিন্নমত দমন করে আমরা নিজেদেরই বিকাশের পথ রুদ্ধ করি। প্রকৃতি বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, আর মানব মতের বৈচিত্র্যও সেই বৈচিত্র্যেরই অংশ।

(তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। আমার ভুল থাকতে পারে, তবে নোট দিলে কৃতজ্ঞ থাকব, বানানেও নোট দিতে পারেন)


২৭

 'ম্যানুফ্যাকচারড ডিমান্ড' বা কৃত্রিম চাহিদা

আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগে বোতলজাত পানি কিনে খাওয়ার কথা ভাবতেই পারতো না মানুষ! পানি ছিল বাতাস বা সূর্যের আলোর মতো। অথচ আজ বোতলজাত পানি কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের একটি গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি। মানুষ এখন প্রাকৃতিক পানির চেয়ে বোতলজাত পানিকেই সবচেয়ে নিরাপদ আর বিশুদ্ধ মনে করে!

এই পরিবর্তনটি এমনি এমনি আসেনি। এটি সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে! একে বলে 'ম্যানুফ্যাকচারড ডিমান্ড' বা কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা।

১৯৭০ ও ৮০-র দশকে কোকাকোলা ও পেপসির মতো সংস্থাগুলো ব্যবসায় খানিক মন্দার মুখে পড়েছিল। চিনিযুক্ত পানীয়র সাথে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের কানেকশন নিয়ে মানুষ সচেতন হচ্ছিল, ফলে কোমল পানীয়র বিক্রি কমতে শুরু করে।

ওদের তখন নতুন একটি ব্যবসার দরকার ছিল। এমন কিছু যা সবাই ব্যবহার করে, যা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং যা বড় আকারে লাভজনক।

ওরা বেছে নিল পানিকে!

কিন্তু পানি বিক্রি করা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। পানি অমূল্য, যা পাওয়া যায় বিনামূল্যে।

তাই পানি বিক্রি করতে কোম্পানিগুলো প্রথমে প্রাকৃতিক পানির প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে শুরু করে!

ধারাবাহিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বোতলজাত পানিকে উপস্থাপন করা হলো: "বিশুদ্ধ" "হাইজিনিম" "নিরাপদ" "বৈজ্ঞানিকভাবে শোধিত"!

আর স্বাভাবিক পানিকে বুঝানো হলো: "ক্ষ্যাত" "দূষিত" "জীবাণুযুক্ত" "অপরিশোধিত"!

এই প্রচারণাগুলো বারবার প্রচার করার ফলে মানুষের মনস্তত্ত্ব বদলে গেল। হাতে ব্র‍্যান্ডেড পানির বোতল রাখাটা আধুনিকতা ও দায়িত্বশীল জীবনের প্রতীক হয়ে উঠল। আর স্বাভাবিক পানি, বাইরের পানি খাওয়াটা হয়ে গেল এক ধরণের ক্ষ্যাত, লজ্জাজনক এবং স্বাস্থ্য-অসচেতনতা!

ওরা কিন্তু পানি নিয়ে তেমন কিছুই করেনি, শুধু মানুষের মাইন্ডসেট নিয়ে খেলেছিল!

বোতলজাত পানির ভেতরে আসলে কী থাকে?

বেশিরভাগ বড় ব্র্যান্ড আসলে লোকাল সাপ্লাইয়ের পানিই বোতলে ভরে বিক্রি করে! 'অ্যাকুয়াফিনা' বা 'দাসানি'র মতো কোম্পানিগুলো এটা প্রকাশ্যে স্বীকারও করেছে! বিজ্ঞাপনে সাগর, নদী, ঝরনার ভিজুয়াল থাকলেও আসলে ওরা ট্যাপের পানিকেই ফিল্টার ও ট্রিটমেন্ট করে বোতলজাত করে। অনেক সময় তাও করে না!

অনেক স্টাডিতে দেখা গেছে, যে এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত, সেখানের ট্যাপের পানি অনেক সময় এসব বোতলের পানির চেয়েও বেশি মানসম্পন্ন হয়! স্বাদ পরীক্ষা (Blind taste test) করলে অধিকাংশ মানুষই ট্যাপের পানি আর বোতলের পানির পার্থক্য বুঝতে পারে না।

মানুষ আসলে পানির দাম দিচ্ছে না, দিচ্ছে বোতল, ব্র্যান্ডিং, পরিবহন আর বিজ্ঞাপনের দাম!

ঐতিহ্যগতভাবে মানুষ যে পানি পান করত, তাতে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান থাকত এবং বৈচিত্র্যময় অণুজীব থাকত, যার এক্সপোজারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ায় সাহায্য হতো।

নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি অবশ্যই জীবন রক্ষাকারী। কিন্তু অতিরিক্ত জীবাণুমুক্ত বা ওভার-প্রসেসড পানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়া আপনার শরীরের অভিযোজন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে!

তার মানে দূষিত পানি খাবেন সেটা না। যার কমনসেন্স আছে সে বুঝবে কোনটা আসলেই দূষিত পানি।

নিরাপদ পানি আর অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত পানির মধ্যে পার্থক্য আছে। অনেক সময় রিভার্স অসমোসিস পদ্ধতিতে পানিকে এমনভাবে পরিশোধিত করা হয় যে তাতে কোনো মিনারেল থাকে না, পরে কৃত্রিমভাবে সামান্য মিনারেল যোগ করা হয়। এটি ব্যবসার জন্য ভালো হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিনের হাইড্রেশনের জন্য উত্তম নাও হতে পারে!

বোতলজাত পানির তো শুধু এতটুকুই না, আরো আছে বিশাল পরিমাণে প্লাস্টিক দূষণ, ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক ও পরিবেশ দূষণ!

আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব মানুষ বোতলজাত পানি কেনার সামর্থ্য রাখে না, তাদেরও শেখানো হয় প্রাকৃতিক পানি তাদের জন্য ততটা নিরাপদ না! এলাকায় সরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন না করে বরং কর্পোরেট নির্ভরশীলতা বাড়ানো হচ্ছে।

এখানে আপনার জন্য একটা লেসন আছে। আপনি যদি বিনামূল্যের জিনিসকেই লেবেল মেরে বিক্রি করতে চান, তবে আগে মানুষকে বিশ্বাস করান যে, ফ্রি পাওয়া মাল বিপজ্জনক, আমার ব্র‍্যান্ডেড মাল তোমাদের জন্য নিরাপদ! আর পাবলিক তো ব্র‍্যান্ডমারা খেতে রেডিই আছে। পাবলিকের ব্র‍্যান্ড মেরে বর্তমানে আপনি সহজেই মালামাল হতে পারেন! @Captain Green


২৮

 ফ্যাক্টসগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার সবচেয়ে ভালো লাগে?

১. মনোবিজ্ঞান বলে, আপনি তখনই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন, যখন আপনি বুঝতে পারেন যে, আপনি একা সবকিছু করতে পারেন।

২. "আপনি যদি কখনও একা না হন তবে আপনি কখনোই নিজেকে জানতে পারবেন না।" - পাওলো কোয়েলহো

৩. "একজন মানুষের পক্ষে যা সে মনে করে যে সে ইতিমধ্যেই জানে তা তার পক্ষে শেখা অসম্ভব।" - এপিক্টেটাস

৪. "আপনার কাছে দুটি বিকল্প আছে, আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণ করা বা আপনার মনকে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া।" - পাওলো কোয়েলহো

৫. মনোবিজ্ঞান বলে, ব্যাখ্যা দিয়ে আপনার সময় নষ্ট করবেন না: লোকেরা কেবল তা শুনতে চায় যা তারা শুনতে চায়।

৬. আপনি যদি একজন ভাল স্ত্রী পান তবে আপনি সুখী হবেন; যদি আপনি একজন খারাপ স্ত্রী পান তবে আপনি একজন দার্শনিক হয়ে যাবেন।" - সক্রেটিস

৭. "প্রত্যেকেরই অন্য লোকেদের কীভাবে তাদের জীবন পরিচালনা করা উচিত সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে বলে মনে হয়, তবে তার নিজের সম্পর্কে কিছুই নয়।" - পাওলো কোয়েলহো

৮. মনোবিজ্ঞান বলে, শ্রদ্ধা ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রকাশের একটি।

৯. মনোবিজ্ঞান বলে আপনি যদি কারো কাছ থেকে কিছু আশা না করেন তবে আপনি কখনই হতাশ হবেন না।

১০. মনোবিজ্ঞান বলে, আত্মবিশ্বাসই মুখ্য। আপনি যদি নিজেকে বিশ্বাস না করেন তবে কেউ বিশ্বাস করবে না।



২৯

ফল এবং সবজির মধ্যে পার্থ্যক্য

ফল এবং সবজি! এই দুই এর মধ্যে আমরা প্রায়ই আমরা তালগোল পাকিয়ে ফেলি৷ এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ টমেটো। টমেটোকে আমরা সবজি হিসেবে চিনলেও মূলত এটি একটি ফল৷

অবশ্য শুধু টমেটোয় নয়, বরং বেগুন, মরিচ, কুমড়ো, শসা, মটর, ভুট্টা এগুলো সবই এক ধরণের ফল। কিন্তু এদেরকে কেন ফল বলে?

মূলত উদ্ভিদের ফুল থেকে যেগুলো বৃদ্ধি পায় সেগুলোকে ফল বলে। আর অপর দিকে ফুল বাদে উদ্ভিদের যেকোনো অঙ্গ থেকে বৃদ্ধি পেলে তাকে বলে সবজি৷ ফলের ক্ষেত্রে ভিতরে বীজ থাকে। অপরদিকে সবজির ক্ষেত্রে মূল, কান্ড এবং পাতার মাধ্যমে এর সৃষ্টি হতে পারে। অপরে যে সকল সবজির নাম বলা হয়েছ সে সবগুলোই ফুল থেকে সৃষ্টি হয়েছে৷ তাই তাদেরকে সবজি বলা ভুল হবে। বরং তাদেরকে বলতে হবে ফল!


৩০

পেটের মেদ বা 'ভুঁড়ি' নীরবে আপনার টেস্টোস্টেরন বা জীবনীশক্তিকে চুরি করে চলেছে 

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পেটের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা আজকাল অনেক পুরুষেরই নিত্যদিনের রুটিন। হয়তো পুরোনো শার্টের বোতাম লাগাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, অথবা বন্ধুদের আড্ডায় 'ভুঁড়ি' নিয়ে দু-চারটে রসিকতা হজম করতে হচ্ছে। আমাদের সমাজে পুরুষের এই ক্রমবর্ধমান পেটকে অনেক সময় 'সুখ' বা 'সচ্ছলতার' প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়! কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হওয়া এই পেটের মেদ বা 'ভুঁড়ি' আসলে মোটেও চুপচাপ বসে থাকে না। আধুনিক মেটাবলিক বিজ্ঞান বলছে, আপনার পেটে জমে থাকা এই চর্বি নীরবে আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—আপনার টেস্টোস্টেরন বা জীবনীশক্তিকে চুরি করে চলেছে। সহজ কথায়, ভুঁড়ি বাড়লে শুধু শার্টের বোতামই টাইট হয় না, আপনার ভেতরের আসল শক্তিও কমতে থাকে।

​পেটের এই গভীর স্তরের চর্বিকে বলা হয় 'ভিসারাল ফ্যাট' (Visceral fat)। এটি ত্বকের নিচের সাধারণ চর্বির মতো কেবল একটি নিষ্ক্রিয় আস্তরণ নয়; বরং এটি নিজেই একটি জীবন্ত এবং অত্যন্ত সক্রিয় হরমোন তৈরির কারখানা। এই ভিসারাল ফ্যাটের ভেতরে 'অ্যারোমাটেজ' (Aromatase) নামক এক বিশেষ ধরনের এনজাইম বা উৎসেচক থাকে। এর কাজ শুনলে আপনি হয়তো চমকে যাবেন! এই অ্যারোমাটেজ এনজাইম আপনার শরীরের অতি প্রয়োজনীয় পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনকে চুরি করে, তাকে সরাসরি নারী হরমোন 'ইস্ট্রোজেন'-এ রূপান্তরিত করে ফেলে। অর্থাৎ, আপনার পেটের চর্বি যত বাড়বে, আপনার শরীর তত বেশি নারী হরমোন তৈরি করতে শুরু করবে এবং পুরুষ হরমোনের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেবে।

​এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ফলাফল কী? সারাদিন ক্লান্ত লাগা, পেশির জোর কমে যাওয়া, অকারণে বিষণ্ণতা, বুকে চর্বি জমা বা প্রজনন স্বাস্থ্যের অবনতি—এগুলো সবই টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার বাস্তব লক্ষণ। আমাদের ইন্টিগ্রেটেড হেলথ থিওরি এবং প্রাচীন আয়ুর্বেদ এই বিষয়টিকে আরও গভীরে গিয়ে ব্যাখ্যা করে। আয়ুর্বেদে বলা হয়, যখন আমাদের হজমের আগুন বা 'অগ্নি' দুর্বল হয়ে পড়ে (যাকে মলাবব্ধতা বা মেটাবলিক ধীরগতি বলা যেতে পারে), তখন শরীরে 'আম' বা মেটাবলিক বর্জ্য জমতে থাকে। এই জমে থাকা দূষিত পদার্থ মেদ হিসেবে জমা হয়ে শরীরের সূক্ষ্ম স্রোতস বা চ্যানেলগুলোকে আটকে দেয়। ফলে পুষ্টির অভাবে শরীরের চূড়ান্ত ওজস বা জীবনীশক্তি (যাকে আধুনিক বিজ্ঞানে আমরা ভাইটালিটি বলছি) ঠিকমতো তৈরি হতে পারে না।

​তাই পেটের মেদ কমানো মানে শুধু দেখতে আকর্ষণীয় হওয়া বা সিক্স-প্যাক বানানো নয়; এটি আপনার লুণ্ঠিত হরমোনকে পুনরুদ্ধার করার বাঁচার লড়াই। পেটের চর্বি কমানোর জন্য জিমে গিয়ে শত শত ক্রাঞ্চ বা সিট-আপ করাই শেষ কথা নয়। এর আসল সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার মেটাবলিজম ঠিক করার মাঝে—অতিরিক্ত চিনি, শর্করা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা, রক্তে ইনসুলিনের মাত্রাকে শান্ত রাখা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে লিভারকে ফ্যাটমুক্ত রাখার মাধ্যমে। পেটের মেদকে আর নিরীহ ভেবে প্রশ্রয় দেবেন না, কারণ এটি শুধু আপনার ফিগারই নষ্ট করছে না, নীরবে আপনার জীবনীশক্তির শেকড়ও কেটে দিচ্ছে।




আমাদের দেশের শিক্ষ্যাবস্থা একটা সার্কাস!! জার্মানিতে ৪ ধরনের স্কুল আছে, অর্থাৎ মেধা অনুসারে বাচ্চাদের স্কুল ও ভাগ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি মেধাবী বাচ্চারা যায় গিম্নেজিয়ামে। আরেকটু কম মেধাবীরা যায় গেজামটশুলে তে, আরো কম মেধাবীরা যায় রেয়ালশুলে তে, আর একদম কম মেধাবী বাচ্চারা যায় হউপশুলে তে। প্রথম দুই স্কুল থেকে সরাসরি  ইউনিভার্সিটিতে পড়া যায়। বাকিগুলো থেকে ইউনিভার্সিটিতে পড়া যায় না। ওরা আউসবিল্ডুং করে অর্থাৎ ডিপ্লোমা, ভোকেশনাল ট্রেনিং।



৩১

 “ডিসআর্মিং টেকনিক” (হাতিকে রাস্তায় চলতে দেখলে আশপাশের কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করবেই)

সব সমালোচনাই যে ভাল উদ্দেশ্যে করা হয়—তা কিন্তু নয়। অনেক সময় কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই আমাদের দিকে একের পর এক নেতিবাচক কথা বা অপমান ছুড়ে দেয়। তখন আমাদের সামনে সাধারণত দুইটা পথ খোলা থাকে।

একটা হলো—অস্বাস্থ্যকর রাগে জড়িয়ে পড়ে চিৎকার করা, তর্কে জড়ানো বা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা।

আরেকটা হলো—রাগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে, শান্ত ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। এই দ্বিতীয় পথটিকেই বলা যায় “ডিসআর্মিং টেকনিক”।

এই কৌশলটি কাজ করে কয়েকটি সহজ নীতির ওপর—

অপর পক্ষের কথার মধ্যে সামান্য হলেও সত্যের অংশ খুঁজে বের করা এবং সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে একমত হওয়া

সমালোচনাকারীর অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করা

তার অভিযোগ বা সমালোচনা সম্পর্কে আরও পরিষ্কারভাবে জানতে চাওয়া

নিজের অনুভূতি বোঝাতে “আমার মনে হয়” বা “আমি অনুভব করি” ধরনের বাক্য ব্যবহার করা

একটি ছোট উদাহরণ

ধরা যাক, হেনরির এক বন্ধু তার সাথে কফি খেতে দেখা করতে এসে রেগে গিয়ে বলল—

“তুমি সবসময় দেরি করো! তুমি একদম অগোছালো!”

আগে হলে হেনরি হয়তো সঙ্গে সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন করত, রেগে যেত, আর সেখান থেকে ঝগড়া শুরু হতো। কিন্তু এবার সে ডিসআর্মিং টেকনিক ব্যবহার করল।

সে শান্তভাবে বলল—

“হ্যাঁ, সত্যি বলতে আমি খুব বেশি গোছানো মানুষ নই।” (আংশিকভাবে একমত হওয়া)

তারপর যোগ করল—

“তুমি কি এতে খুব বিরক্ত বোধ করছ?” (সহানুভূতি ও আরও জানার চেষ্টা)

ফলাফল কী হলো?

বন্ধুর রাগ অনেকটাই কমে গেল, আর সে নিজের ভেতরের হতাশার কথাগুলো খুলে বলতে শুরু করল।

কেন এই কৌশল কাজে দেয়?

ডিসআর্মিং টেকনিক ব্যবহার করলে আপনি নিজেকে শান্ত রাখতে পারেন, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারেন এবং সমালোচনাকে পরিণতভাবে সামলানোর তৃপ্তি লাভ করেন। কখনো কখনো, এতে সম্পর্কও আগের চেয়েও ভালো হয়ে উঠতে পারে।

নৈতিক শিক্ষা:

রাগের কাছে হারলে ক্ষতি আমাদেরই হয়। কিন্তু সংযম ও প্রজ্ঞা দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে পারলে, আমরা শুধু নিজের সম্মানই রক্ষা করি না—সম্পর্কও বাঁচিয়ে রাখি।@ লিনুস রোজারিও 


৩২

মানুষের মিথ্যা মুখোশ ভাঙতে পারে  বিশুদ্ধতার চর্চা

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজচ্যুতির ভয় তাদেরকে তাড়া করে। কারণ সমাজের সাহায্য ছাড়া তাদের জীবনধারণ কঠিন শুধু নয়; প্রায় অসম্ভব। এজন্যই প্রায় শতভাগ মানুষ সমাজের ভ্যালিডেশনের জন্য মুখর হয়ে থাকি। সমাজে যার যার রেপুটেশন বা খ্যাতি বজায় রাখতে রাখতে কখন যে আমরা নিজের 'inner voice' হারিয়ে ফেলি তা আর মনেও করতে পারি না। এই রেপুটেশন বা খ্যাতি হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। যে ফাঁদ মানুষকে এমনকি জঘন্য দানবেও পরিণত করতে পারে।

লেটস ডাইভ ইনটু দি ডীপ।

প্রকাশ্যে যে মানুষটি অসম্ভব ভালো, অন্ধকার রুমে তারও এমনকিছু দুর্বলতা থাকতে পারে- যা সে সামাজিক রেপুটেশন বা খ্যাতি বজায় রাখার স্বার্থে সবসময় মানুষের চোখের আড়ালে রাখে। এতে করে পৃথিবীর সামনে সে অনুকরণযোগ্য থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো- এই ধারাবাহিকতা তাকে একসময় মুখোশধারী অথবা নম্র ভাষায় বললে 'অভিনেতা' হিসেবে গড়ে তোলে। এই অভিনেতা স্বত্ত্বাটা যখন কারো সত্যিকারের আইডেন্টিটি হয়ে ওঠে ঠিক তখন থেকেই মানুষের আত্মার মৃত্যু ঘটতে থাকে। আর এজন্যই মানুষ তার সামাজিক রেপুটেশন হারানোর শঙ্কায় কম্প্রোমাইজড হয়।

ধরুন, কোনো একজন নেতা তার স্ত্রীর প্রতি পরম মমতা ও ভালোবাসা অনুভব করেন। কিন্তু এরপরও তার আত্মার আরেকটা অংশ নতুন ও সুন্দরী নারীদের প্রতি আসক্ত। এবং সুযোগ মতো সে তার আসক্তি চরিতার্থ করায় সংযম বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। এমন নেতাদের 'হানিট্র্যাপে' ফেলা সহজ। কিন্তু ঐ নেতা যদি আত্মিকভাবে শক্তিশালী হয়, তাহলে সে সংযম বজায় রেখে চলবে। যদি ভুলও করে, তা নিজের কাছে স্বীকার করে নিজেকে শুধরে নেবে। যদি শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয়, মানে ব্লাকমেইলিংয়ের স্বীকার হয়, তবু নিজের আত্মার কাছে দায়বদ্ধতার কারণে এবং অকপট দৃঢ়তার কারণে ভালোবাসার মানুষটিকে হারানোর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সত্য ফেস করবে। শাস্তির ভয় অথবা সমাজচ্যুত হওয়ার ভয় তাকে মিথ্যুক করে তুলবে না।

আমাদের পৃথিবী অসংখ্য গভীরতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সমস্যাগুলোর বেশিরভাগই মানুষের মিথ্যা মুখোশ বজায় রাখতে গিয়ে সমাধান করা যাচ্ছে না। যেমন ধরুন, ট্রাম্প সাহেব যদি বলেন যে- হ্যা, এই এই অপকর্ম অতীতে আমি করে ফেলেছি। এরপর তিনি যে কনসিকোয়েন্স ফেস করবেন তারমধ্যে ইমপিচমেন্ট অন্যতম। কিন্তু ধরা যাক তিনি হঠাৎ করেই এমন স্পিরিচুয়াল পাওয়ার অনুভব করলেন যে- কোনো কনসিকোয়েন্স-ই তাকে আর ভীত বা দিশাহীন করে না। এবং সবশেষে তিনি পৃথিবীর সামনে ক্ষমা চেয়ে কনসিকোয়েন্স ফেস করতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন।

শুনতে রূপকথার গল্পের মতো লাগছে, রাইট?

কিন্তু এটাই বিশুদ্ধতার পথ। পৃথিবীর মানুষ যদি এই বিশুদ্ধতায় ফিরতে পারি, সমাজকে যদি সত্যপন্থী বানাতে পারি (এবং সেটা অসম্ভব নয়। জাস্ট মানুষকে ভুলভ্রান্তি সহকারে গ্রহণ করার মতো একটি সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।), সেক্ষেত্রে পৃথিবী আবারও সুন্দর হতে শুরু করবে।

এমন একটি স্বপ্নময়, সত্যপন্থী, সুন্দর পৃথিবীর আকাঙ্ক্ষায় -আবদুল মালেক স্বাধীন,


৩৩


মানুষের মন বোঝার ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ৩টি জাদুকরী উপায়

পৃথিবীটা একটা বড় দাবার বোর্ড, আর এখানে সফল হতে হলে শুধু গায়ের জোর নয়, মনের জোর আর বুদ্ধির প্রয়োজন। আজ থেকে কেউ আপনাকে অবহেলা বা ছোট করার সাহস পাবে না, যদি আপনি এই ৩টি গোপন কৌশল মনে রাখেন:

১. অপমানের জবাব যখন একটি মুচকি হাসি (The Power of Smile)

কেউ যখন আপনাকে অপমান করে বা কথা শুনিয়ে দেয়, আমরা সাধারণত রেগে যাই বা পালটা ঝগড়া করি। কিন্তু আজ থেকে তা করবেন না।

কৌশল: কেউ অপমান করলে একদম শান্ত থেকে তার চোখের দিকে তাকিয়ে শুধু একটি মুচকি হাসি দিন।

কেন এটি কাজ করে: আপনার এই অপ্রত্যাশিত ব্যবহার বা 'স্মাইল' সামনের মানুষটার আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে করে দেবে। সে বুঝতে পারবে না যে আপনি কেন রাগছেন না। আপনার নীরব হাসিই হবে তার জন্য সবথেকে বড় অপমান। মনে রাখবেন, যারা নজরে আসতে চায়, কেবল তাদেরই সমালোচনা করা হয়।

২. মিথ্যাবাদীকে ধরার সহজ উপায় (Catching a Liar)

আপনার কি মনে হচ্ছে সামনের মানুষটি আপনাকে বানিয়ে বানিয়ে কোনো গল্প বলছে বা মিথ্যে কথা বলছে?

কৌশল: তাকে সেই একই কথা আবার রিপিট করতে বা পুনরায় বলতে বলুন।

কেন এটি কাজ করে: মানুষ যখন মিথ্যে বলে, তখন সে একটি কাল্পনিক গল্প তৈরি করে। একই মিথ্যে বারবার সাজিয়ে বলা খুব কঠিন। সে যতবার একই কথা বলবে, তত বেশি ঘাবড়ে যাবে এবং তার কথার মধ্যে গরমিল ধরা পড়বে। তার নার্ভাসনেস দেখেই আপনি বুঝে যাবেন সে মিথ্যে বলছে।

৩. রাগী মানুষকে শান্ত করার গোপন চাবিকাঠি (The Magic of Name)

আপনার সামনে কেউ প্রচণ্ড রেগে চিৎকার করছে বা খুব বাজে ব্যবহার করছে? তাকে শান্ত করার এক অদ্ভুত কৌশল আছে।

কৌশল: কথা বলার সময় বারবার তার নাম ধরে ডাকুন। যেমন: "করিম ভাই, আপনি একটু শান্ত হোন" বা "সুমন, তোমার কথা আমি বুঝতে পারছি।"

কেন এটি কাজ করে: সাইকোলজি বা মনস্তত্ত্ব বলে, মানুষের কাছে সবথেকে প্রিয় শব্দ হলো তার নিজের 'নাম'। রাগের মাথায় কেউ যখন নিজের নাম শোনে, তখন তার মস্তিষ্কে একটি 'ইমোশনাল সুইচ' অন হয়ে যায়। নাম শুনলেই মানুষের রাগ নিজে থেকেই নরম হতে শুরু করে এবং সে আপনার প্রতি অনেক বেশি নমনীয় হয়ে পড়ে।

শেষ কথা

শক্তি কখনো পেশিতে থাকে না, শক্তি থাকে আপনার মাথায়। আপনি পরিস্থিতিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন, সেটাই আপনার আসল পরিচয়।

@ Rohit Baagdii


৩৪

ভাতের মেডিসিনাল প্রয়োগ:  ভাতের পানি‘কাঞ্জি’ নিয়ে কিছু কথা

​বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘পান্তা ভাত’ বা ভাতের ফারমেন্টেড পানিকে আমরা সাধারণত নিছক পহেলা বৈশাখের অনুষঙ্গ বা গ্রামের সাধারণ খাবার হিসেবেই দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান যখন ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ বা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নিয়ে তোলপাড় করছে, তখন ফিরে তাকাতে হচ্ছে হাজার বছর আগের আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের দিকে। আয়ুর্বেদে গাজন প্রক্রিয়ায় তৈরি ভাতের এই পানিকে ‘কাঞ্জি’, ‘আমানি’ বা ‘তুষাম্বু’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এটি কেবল একটি পানীয় নয়, বরং অন্ত্রের স্বাস্থ্য (Gut Health) পুনরুদ্ধার এবং ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও জীবন্ত ‘প্রোবায়োটিক থেরাপি’।

​আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি এবং ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের আলোকে বিশ্লেষণ করলে কাঞ্জির জাদুকরী ক্ষমতার কারণ খুব সহজেই বোঝা যায়। ভাতকে যখন পানিতে ভিজিয়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে ফারমেন্ট বা গাজন হতে দেওয়া হয়, তখন সেখানে ‘ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া’ (Lactic Acid Bacteria - LAB) এবং কিছু উপকারী ইস্টের বংশবৃদ্ধি ঘটে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো ভাতের স্টার্চকে ভেঙে ল্যাকটিক এসিড এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি এসিড (SCFA), বিশেষ করে ‘বিউটাইরেট’ (Butyrate) তৈরি করে। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, এই বিউটাইরেট হলো আমাদের অন্ত্রের কোষ বা কোলোনোসাইটগুলোর প্রধান খাবার, যা অন্ত্রের লাইনিং বা আস্তরণকে মজবুত করে এবং ‘লিকি গাট’ (Leaky Gut) রোধ করে। এছাড়া ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ভাতে থাকা ‘ফাইট্যাটিক এসিড’ (Phytic acid) নামক অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট ভেঙে যায়, ফলে ভাতে থাকা আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং বি-ভিটামিনগুলোর বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি (Bioavailability) বহুগুণে বেড়ে যায়।

​তবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোবায়োটিক ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে সবাই যদি পান্তা বা কাঞ্জি খাওয়া শুরু করেন, তবে তা উপকারের বদলে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। যেকোনো থেরাপিউটিক খাবারের মতোই এর একটি নির্দিষ্ট প্রয়োগবিধি রয়েছে। আয়ুর্বেদ এবং ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন—উভয় শাস্ত্রেই স্পষ্টভাবে বলা আছে, কাঞ্জি সবার শরীরের জন্য উপযোগী নয়। এটি কারও জন্য ‘অমৃত’, আবার কারও জন্য আক্ষরিক অর্থেই ‘বিষ’।

​কাঞ্জি কাদের জন্য অমৃত? যাদের অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার চরম অভাব (যেমন কড়া অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স করার পর), যারা আইবিএস-সি (IBS-C বা কোষ্ঠকাঠিন্য) এবং ক্রনিক ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন, তাদের জন্য কাঞ্জি সুপারফুডের মতো কাজ করে। আয়ুর্বেদের ভাষায় যাদের শরীর অত্যন্ত রুক্ষ, শুষ্ক বা ‘বাত’ প্রকৃতির, এই প্রোবায়োটিক পানীয় তাদের অন্ত্রে আর্দ্রতা ফেরায়, রুচি বাড়ায় এবং মল নির্গমন প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করে। দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বা অবসাদ কাটাতে কাঞ্জি তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দেয়।

​কাঞ্জি কাদের জন্য বিষ? প্রথমত, আয়ুর্বেদ মতে কাঞ্জি অম্ল (টক) রস যুক্ত এবং এটি শরীরে ‘পিত্ত’ ও ‘কফ’ দোষ বৃদ্ধি করে। তাই যাদের ক্রনিক এসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক আলসার, জিইআরডি (GERD) বা বুক জ্বালাপোড়া আছে, কাঞ্জি তাদের পাকস্থলীর অম্লতা আরও বাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলবে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায়, যেকোনো ফারমেন্টেড বা গাজনকৃত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ‘হিস্টামিন’ (Histamine) থাকে। যাদের হিস্টামিন ইনটলারেন্স, হাঁপানি (Asthma), সাইনাস বা অ্যালার্জি এবং ত্বকের সমস্যা (যেমন একজিমা বা সোরিয়াসিস) রয়েছে, কাঞ্জি তাদের শরীরে ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহজনক রেসপন্স ট্রিগার করবে। দ্বিতীয়ত, যারা সিবো (SIBO - Small Intestinal Bacterial Overgrowth) বা ক্যান্ডিডা ওভারগ্রোথে ভুগছেন, কাঞ্জি তাদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই বিষ। সিবো রোগীদের ক্ষুদ্রান্ত্রে আগে থেকেই ব্যাকটেরিয়ার অস্বাভাবিক আধিক্য থাকে; তারা যদি কাঞ্জির মাধ্যমে আরও ব্যাকটেরিয়া (তা উপকারী হলেও) শরীরে প্রবেশ করান, তবে পেটে প্রচণ্ড গ্যাস, ব্লটিং এবং তীব্র ব্যথা তৈরি হবে।

​সর্বোপরি, এই থেরাপি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘ফুড সেফটি’ বা খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আমরা প্রায়ই প্লাস্টিক বা মেটালের পাত্রে ভাত ভিজিয়ে রাখি। ফারমেন্টেশনের ফলে পরিবেশটি অম্লীয় (Acidic) হয়ে যায়, যা প্লাস্টিকের পাত্র থেকে ‘বিসফেনল-এ’ (BPA) বা মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং মেটালের পাত্র থেকে ভারী ধাতু গলিয়ে ভাতের পানিতে মিশিয়ে দিতে পারে। এটি এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টর হিসেবে কাজ করে থাইরয়েড বা হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট করে।

​তাই বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ উপায়ে কাঞ্জি তৈরি করতে হলে অবশ্যই মাটির হাঁড়ি বা কাঁচের পাত্র ব্যবহার করতে হবে। চালের আর্সেনিক ঝুঁকি এড়াতে ভাত রান্নার আগে চাল ভালোভাবে ধুয়ে মাড় ফেলে রান্না করতে হবে এবং ফারমেন্টেশনের জন্য ফোটানো বা ফিল্টার করা নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে হবে। সঠিক পাত্রে, সঠিক মানুষের জন্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে তৈরি করা এই কাঞ্জি হতে পারে আধুনিক যুগের দামি প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্টের সবচেয়ে সস্তা ও কার্যকর মেটাবলিক বিকল্প। @ Probal Kumar Mondal




মানুষ মূলত এক নৈতিক অস্তিত্ব। নৈতিকতাই মনুষ্যত্বের ভিত্তি, যা মানুষকে পশু থেকে আলাদা করেছে। ধর্ম আলাদা কিছু নয়, নৈতিকতা ও সংস্কৃতির অংশ মাত্র। 



৩৫


গ্যালিপলি অভিযানের ইতিহাস

এই অভিযানের প্রথম অনুপ্রেরণা এসেছিল রাশিয়ার কাছ থেকে। পূর্ব আনাতোলিয়ায় তাদের সামরিক অভিযানকে সহজতর করার জন্য তারা ব্রিটিশদের অনুরোধ করেছিল এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে যা উসমানীয়দের (Ottomans) মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেবে। দীর্ঘ বিতর্কের পর, ব্রিটিশরা চার্চিল কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি অভিযানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়; এটি ছিল একটি নৌ-অভিযান যার লক্ষ্য ছিল "গ্যালিপলি উপদ্বীপে (দার্দানেলেসের পশ্চিম উপকূল) বোমাবর্ষণ করা এবং সেটি দখল করা, যার মূল লক্ষ্য ছিল কনস্টান্টিনোপল।"

নৌ-যুদ্ধে পরাজয়ের পর, মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা ১৯১৫ সালের ২৫শে এপ্রিল ভোরে গ্যালিপলি উপদ্বীপের দুটি স্থানে অবতরণ শুরু করে। কিন্তু উসমানীয়রা তাদের দুর্গের ভেতরে অবস্থান করে বারবার ব্রিটিশদের আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকে।

অভিযানের শেষে ব্রিটিশদের একমাত্র প্রকৃত সাফল্য ছিল মূলত তাদের সৈন্য প্রত্যাহার (evacuation)। এটি উপদ্বীপের পশ্চিম তীরে ১৮-১৯শে ডিসেম্বর এবং উপদ্বীপের একদম শেষ প্রান্তে ১৯১৬ সালের ৮-৯ই জানুয়ারি সংঘটিত হয়েছিল।

এই যুদ্ধে ব্রিটিশ পক্ষে ২,১৩,৯৮০ জন হতাহত হয়েছিল এবং উসমানীয়দের ১,২০,০০০ জন নিহত ও আহত হয়েছিল। এটি মিত্রশক্তি এবং এর উদ্যোক্তাদের জন্য, বিশেষ করে উইনস্টন চার্চিলের জন্য একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল পরাজয় ছিল।

উসমানীয়দের এই বিজয়ের পর, কেন্দ্রীয় শক্তির (Central Powers) মনোবল ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

৩৬


‎আপনার দাঁড়ানোর ভঙ্গি কি আপনার অজান্তেই আপনার সব গোপন কথা বলে দিচ্ছে? আমাদের অবচেতন মন আমাদের শরীরকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তা আমাদের ব্যক্তিত্বের এক আয়না। আমরা মুখে যা বলি, তার চেয়ে আমাদের শরীর বা ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ অনেক বেশি শক্তিশালী। আপনি যখন কারও সামনে দাঁড়ান, আপনার শরীর নিচের এই ৪টি বার্তার যেকোনো একটি পৌঁছে দেয়:

‎১. সোজা হয়ে দাঁড়ানো: আত্মবিশ্বাসের প্রতীক

‎যারা বুক টানটান করে একদম সোজা হয়ে দাঁড়ায়, তারা মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ভঙ্গিটি প্রমাণ করে যে—‎আপনি নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন। আপনি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ভয় পান না। আপনার আত্মবিশ্বাস অন্যদের কাছে আপনাকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

‎২. পকেটে হাত রাখা: রিল্যাক্স নাকি ইনসিকিউরিটি?

‎অনেকেই কথা বলার সময় বা দাঁড়িয়ে থাকার সময় পকেটে হাত রাখেন। এর দুটি মানে হতে পারে—‎হয় আপনি খুব ক্যাজুয়াল বা রিল্যাক্সড অনুভব করছেন। অথবা, আপনি ভেতরে ভেতরে কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন এবং নিজের হাত লুকিয়ে নিজেকে নিরাপদ রাখতে চাইছেন। এটি অনেক সময় ‘ইনসিকিউরিটি’ বা হীনম্মন্যতার লক্ষণও হতে পারে।

‎৩. বুকের ওপর হাত আড়াআড়ি রাখা: প্রতিরক্ষামূলক ভঙ্গি

‎বুকের ওপর দুই হাত আড়াআড়ি (Folded Arms) করে দাঁড়িয়ে থাকা মানে আপনি নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। এর অর্থ হলো—আপনি কিছুটা রক্ষণশীল বা ‘ডিফেন্সিভ’। আপনি সামনের মানুষটিকে খুব সহজে বিশ্বাস করছেন না। আপনি আলোচনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নন বা কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন।

‎৪. হাত পিছনে করে দাঁড়ানো: ‘পাওয়ার পোজ’ বা নেতৃত্বের ভঙ্গি

‎পৃথিবীর বড় বড় নেতাদের খেয়াল করবেন, তাঁরা প্রায়ই হাত পিছনে রেখে দাঁড়ান। একে বলা হয় পাওয়ার পোজ। কেন এটি এত শক্তিশালী?

‎হাত পিছনে রাখা মানে আপনি আপনার সামনের দিকটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখছেন। এটি বুঝিয়ে দেয় যে আপনি কাউকে ভয় পান না। এটি কর্তৃত্ব এবং নেতৃত্বের (Leadership) প্রতীক। যারা এই ভঙ্গিতে দাঁড়ায়, তারা জন্মগতভাবেই সাহসী এবং হার না মানা মানসিকতার হয়।

‎আজ থেকেই নিজের ব্যক্তিত্ব বদলে ফেলুন

‎বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কেবল অন্যের মন পড়ার জন্য নয়, এটি নিজের ব্যক্তিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি উপায়। আপনি যখন সচেতনভাবে আপনার দাঁড়ানোর ভঙ্গি ঠিক করবেন, তখন আপনার মস্তিষ্কও সেই অনুযায়ী কাজ করা শুরু করবে।

‎মনে রাখবেন

‎আপনার এক একটি ভঙ্গি আপনার চারপাশের মানুষের কাছে আপনার ইম্প্রেশন তৈরি করে। আপনি যদি একজন সত্যিকারের লিডার বা আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে চান, তবে আজ থেকেই আপনার দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে নজর দিন।


৩৭

মিষ্টি আলু 

মিষ্টি আলুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট- বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর মতো ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে।

এছাড়াও মিষ্টি আলুতে আছে উচ্চ আঁশ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন।

শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর মিষ্টি আলু।

মিষ্টি আলু নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স/জিআই (Glycemic Index/GI) ফুড। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫০।

মিষ্টি আলুতে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ থাকলেও তা ধীরে ধীরে রক্তের সঙ্গে মিশে ফলে শরীরে প্রয়োজন মাফিক শক্তির জোগান অব্যাহত থাকে। এইজন্যই যে সব ক্রীড়াবিদ রক্তের নিম্নচাপে আক্রান্ত তাদেরকে মিষ্টি আলু খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মিষ্টি আলু ইরিটিবেল বাউয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসের মত পেটের রোগেও উপকারী।

মিষ্টি আলুর ফাইবার বা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে মিষ্টি আলু বিশেষ উপকারী। পরিপাকনালী থেকে মিষ্টি আলু ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিপজ্জনক উপাদানগুলো শুষে নেয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে কমলা শাঁসযুক্ত মিষ্টি আলু। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিনয়েড এবং ভিটামিন এ ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

বিটা ক্যারোটিন, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এর উপস্থিতির কারণে

মিষ্টি আলু আরথ্রাইটিস, অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় ধরণের প্রদাহ/ ইনফ্লামেশন কমাতে কার্যকরী।

হৃপিন্ডের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো মিষ্টি আলু। এতে থাকে পটাসিয়াম শরীরের কোষে তরল ইলেকট্রোলাইটেসর ভারসাম্য বজায় রাখে।

রাঙা আলুতে উপস্থিত ভিটামিন ডি, হাড় এবং জয়েন্টকে মজবুত করে। ফলে বুড়ো বয়সে নানাবিধ হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

কিডনি ভালো রাখতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু। কিন্তু এতে আছে অক্সালেট, যাদের কিডনি বা পিত্তথলির সমস্যা তাদের মিষ্টি আলু না খাওয়াই ভালো।

মিষ্টি আলু বিটা ক্যারটিনের ভালো উৎস যা মূলত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়। এটা কেবল চোখের স্বাস্থ্যই ভালো রাখে না বরং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং বয়সের গতি ধীর করে।

আয়রন হল এমন একটি খনিজ যা শ্বেত ও লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে ইমিউন সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়াতে দারুন কাজে আসে। আর এই খনিজটি প্রচুর পরিমাণে আছে রাঙা আলুতে।

মিষ্টি আলু সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে চাঙা রাখে, মানসিক অবসাদ কমায়।

মিষ্টি আলু বিটা ক্যারটিনের ভালো উৎস যা মূলত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়। এটা কেবল চোখের স্বাস্থ্যই ভালো রাখে না বরং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং বয়সের গতি ধীর করে।

আয়রন হল এমন একটি খনিজ যা শ্বেত ও লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে ইমিউন সিস্টেমের ক্ষমতা বাড়াতে দারুন কাজে আসে। আর এই খনিজটি প্রচুর পরিমাণে আছে রাঙা আলুতে।

ঝলসানো বা সেঁকা আলু খুবই সুস্বাদু। গ্রামে মাটির উনুনে রান্না শেষের গরম কয়লায় পুড়িয়ে খাওয়া হয়। শহরাঞ্চলে ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে গ্যাসের চুলায় পোড়ানো যায়।

সিদ্ধ করেও খাওয়া যায়। সুপ ও স্টু বানাতেও এ সবজিটি ব্যবহার করা যায়। মিক্সড সবজি বা ঘাটা বা ডালনা বা লাবড়াতেও যোগ করা যায়।


৩৮

আম্রপালী' ছিলেন শ্রেষ্ঠ সুন্দরী এবং নর্তকী

স্বাদের দিক থেকে অনেকের কাছেই 'আম্রপালী' আম খুবই প্রিয়। আকারে ছোট কিন্তু মিষ্টির দিক থেকে যেন সকল আমকে পিছনে ফেলে দিয়েছে 'আম্রপালী'। কিন্তু এই আমটার নামকরণ কোথা থেকে হল জানেন?

আম্রপালী জন্মেছিলেন আজ থেকে ২,৫০০ বছর আগে ভারতে। তিনি ছিলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী এবং নর্তকী। 

আম্রপালী বাস করতেন বৈশালী শহরে। বৈশালী ছিল প্রাচীন ভারতের গণতান্ত্রিক একটি শহর, যেটি বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের অর্ন্তগত।

মাহানামন নামে এক ব্যক্তি শিশুকালে আম্রপালীকে আম গাছের নিচে খুঁজে পান। তার আসল বাবা-মা কে ইতিহাস ঘেঁটেও তা জানা যায়নি। যেহেতু তাকে আম গাছের নিচে পাওয়া যায় তাই তার নাম রাখা হয় আম্রপালী। সংস্কৃতে আম্র মানে আম এবং পল্লব হল পাতা। অর্থাৎ, আমগাছের নবীন পাতা।

কিন্তু শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিতেই আম্রপালীকে নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তার রুপে চারপাশের সব মানুষ পাগল হয়ে যান। দেশ-বিদেশের রাজপুত্রসহ রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে যান। নানা জায়গায় থেকে তাকে নিয়ে দ্বন্দ, ঝগড়া আর বিবাদের খবরও আসতে থাকে। সবাই তাকে একনজর দেখতে চান, বিয়ে করতে চান। এ নিয়ে আম্রপালীর মা-বাবা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। তারা তখন বৈশালীতে সকল গণমান্য ব্যক্তিকে এর একটি সমাধান করার জন্য বলেন। কারণ, সবাই আম্রপালীকে বিয়ে করতে চান। তখন বৈশালীর সকল ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তি মিলে বৈঠকে বসে নানা আলোচনার পর যে সিদ্ধান্ত নেন তা হল, আম্রপালীকে কেউ বিয়ে করতে পারবেন না। কারণ তার রূপ। সে একা কারো হতে পারে না। আম্রপালী হবে সবার। সে হবে একজন নগরবধু, মানে সোজা বাংলায় বারবনিতা।

এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ইতিহাসে এভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কাউকে বারবনিতা বানানো হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল! দিনে দিনে আম্রপালী বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন।  


তখন প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার। শোনা যায়, তার স্ত্রীর সংখ্যা নাকি ৫০০ ছিল! নর্তকীদের নাচের এক অনুষ্ঠানে তিনি এক নর্তকীর নাচ দেখে বলেছিলেন, এ নর্তকী বিশ্বসেরা। তখন তার একজন সভাসদ বলেন- মহারাজ, এই নর্তকী আম্রপালীর নখের যোগ্য নয় !

বিম্বিসারের এই কথাটি নজর এড়ায়নি। তিনি তার সেই সভাসদের থেকে আম্রপালী সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে তাকে পাবার বাসনা করেন।

কিন্তু তার সভাসদ বলেন, সেটা সম্ভব নয়। কারণ, তাহলে আমাদের যুদ্ধ করে বৈশালী রাজ্য জয় করতে হবে ।

এত কথা শুনে বিম্বিসারের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ছদ্মবেশে বৈশালী রাজ্যে গিয়ে আম্রপালীকে দেখে আসবেন। 

তারপর বহু চড়াই উৎরাই শেষে তার আম্রপালীর সাথে দেখা করার সুযোগ আসে। আম্রপালীর প্রাসাদ আম্রকুঞ্জে। কিন্তু সে দেখে, এত কোন নারী নয় ; যেন সাক্ষাৎ পরী ! করাজা সাথে সাথে তাকে তার রাজ্যের রাজরাণী বানানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু আম্রপালী জানান, তার রাজ্যের মানুষ এটা কখনোই মেনে নেবেন না। তাই রাজাকে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেন।

 বিম্বিসারের সন্তান অজাতশত্রুও বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসেন। তখন গৌতম বুদ্ধর সময়কাল । পরে সব কিছু দান করে বাকী জীবন গৌতম বুদ্ধের চরণেই কাটিয়ে দেন ইতিহাস বিখ্যাত সেই রমণী আম্রপালী! (সংগৃহীত)  



পিঁপড়ার শস্য-বীজ সংগ্রহ করার কৌশল


বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করলেন যে, পিঁপড়ারা শীতের জন্য প্রয়োজনীয় শস্য ও বীজ সংগ্রহ করার পর তাদের বাসস্থানে সংরক্ষণ করার ঠিক আগে, সেই বীজগুলোর প্রত্যেকটিকে দুই ভাগে ভাগ করে, যাতে ওগুলো বৃষ্টির পানির সংস্পর্শে আসলেও অঙ্কুরোদগম না হয় এবং খাওয়ার উপযোগী থাকে।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন যখন তারা দেখলেন, পিঁপড়ার বাসায় সংরক্ষিত প্রতিটি ধনিয়ার বীজ দুই টুকরার পরিবর্তে চার টুকরায় বিভক্ত করা। গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, একটি ধনিয়ার বীজ দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পরেও অঙ্কুরিত হবে, তবে এটি চার ভাগে বিভক্ত হলে আর অঙ্কুরিত হবে না!  প্রশ্ন হলো, এই ক্ষুদ্র প্রাণীরা কীভাবে এত সব জানে? অভিজ্ঞতা। প্রাণীদের কাছ থেকে আমাদেরও অনেক কিছু শেখার আছে।  



৪০


1 টন AC মানে আসলে কী?


অনেকে বলে, “আমার বাসায় 1 টন এসি আছে।” কিন্তু এই “1 টন” মানে কী?

ধরেন আপনার সামনে ১,০০০ কেজি বরফ আছে । ১ টন এসি মানে এমন একটা এসি, যা এক দিনে ১ টন(১০০০ KG) বরফ গলাতে যত তাপ দরকার, ঠিক সেই পরিমাণ তাপ রুম থেকে বের করে দিতে পারে।


★ ১ টন ইনভার্টার এসি দিনে ৮ ঘণ্টা চালালে এক মাসে খরচ কতো হয়?


ধরি এসিটা ঘণ্টায় ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খায় (আসলেও একটু কম খেতে পারে)।

 দিনে ৮ ঘণ্টা × ১ ইউনিট = ৮ ইউনিট

 ৩০ দিনে = ৮ × ৩০ = ২৪০ ইউনিট


বাংলাদেশে বিদ্যুতের গড় দাম ধরি ৮ টাকা/ইউনিগ

 তাহলে মাসে খরচ = ২৪০ × ৮ = প্রায় ১,৯২০ টাকা

তাই, এক মাসে আনুমানিক ১,৯০০–২,০০০ টাকা খরচ হতে পারে ৮ ঘণ্টা করে চালালে।


★ ইনভার্টার আর নন-ইনভার্টার এসির মধ্যে পার্থক্য কী?


AC কে যদি একটি Car ইঞ্জিন মনে করি, তাহলে -

একটি নন-ইনভার্টার AC হলো, এমন একটি Car, যেটি শুধুমাত্র ফুলস্পিডে যেতে পারে অথবা থেমে থাকতে পারে। এটা চালু হলে, ফুল পাওয়ারে চলে, রুম ঠান্ডা হলে আবার বন্ধ হয়। পরে আবার চালু হয়। এভাবে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়।

ইনভার্টার এসি একটা স্মার্ট Car এর মতো যেটা স্পিড কমাতে-বাড়াতে পারে। রুম গরম থাকলে, এটা দ্রুত কাজ করে আর রুম ঠান্ডা হয়ে গেলে ধীর গতিতে চলে - বারবার অন-অফ হওয়া ছাড়াই। তাই বিদ্যুৎ অনেক বিদ্যুৎ খরচ বাঁচায়।  



২০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ সরণি

১। নিজেকে কখনো বড় করে প্রকাশ করবেন না। এতে আপনি ছোট হবেন।

২। ভুল স্বীকার করার মানসিকতা দেখান। "Thank you", "Please" এই কথাগুলো বলতে দ্বিধা করবেন না।

৩। কারো কাছে নিজের সিক্রেট শেয়ার করবেন না বা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।

৪। অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা করতে যাবেন না।

৫। পরচর্চা করবেন না। যে ব্যক্তি আপনার সামনে অন্যের নিন্দা করে, সে নিশ্চিতভাবে অন্যের সামনে আপনার নিন্দা করে।

৬। গাধার সাথে তর্ক করতে যাবেন না। তর্কের শুরুতেই গাধা আপনাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে, তারপর আপনাকে সবার সামনে অপদস্থ করবে।

৭। পরে করব ভেবে কোনো কাজ ফেলে রাখবেন না। আপনি যদি তা করেন শতকরা ৮০ ভাগ সম্ভাবনা কাজটি আপনি আর কখনোই করতে পারবেন না।

৮। টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে প্রিয়জনদের বঞ্চিত করবেন না।

৯। স্ত্রীর কারণে বাবা-মাকে বা বাবা মায়ের কারণে স্ত্রীকে অবহেলা করবেন না।

১০। সবাইকে সন্তুষ্ট করতে যাবেন না। এতে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব হারাবেন।

১১। ঝুঁকি ছাড়া সাফল্য আসে না। তাই জীবনে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিতে ভয় পাবেন না।

১২। স্মার্টফোনে আসক্ত হবেন না। গুগলে জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন না।

১৩। মনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেরি করবেন না। কারণ, এই একটি কাজের বিলম্বের জন্য আপনি সারাজীবন পস্তাতে পারেন।

১৪। রিলেশনসিপে অসুখী হলে সেটা আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। যে সম্পর্ক মানসিক যন্ত্রণা দেয়, ভেতরে অশান্তি সৃষ্টি করে তা জীবন থেকে দ্রুত মুছে ফেলুন।

১৫। আপনি কখনোই জানেন না যে আপনি স্বপ্নপূরণের ঠিক কতটা কাছাকাছি। তাই, কখনোই লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করবেন না। বেশিরভাগ মানুষ সাফল্য লাভের কাছাকাছি গিয়ে হাল ছেড়ে দেয়।

১৬। যেটা হাতছাড়া হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আফসোস করবেন না।

১৭। কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলবেন না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না।

১৮। বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে একান্ত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও করবেন না। 

১৯। যে আপনার কথা শোনার জন্য প্রস্তুত নয়, তাকে কিছু শেখাতে যাবেন না। সে ঠকবে, ভুল করবে, ধাক্কা খাবে; তারপর একসময় ঠিকই আপনার মূল্য বুঝতে পারবে।

২০। নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন না। যেখানে আপনার সম্মান নেই সেখান থেকে এখনই নিজেকে গুটিয়ে নিন।



৪২


"রাগে আমরা চিৎকার করি কেন?" 


একদিন এক শিক্ষক তার ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলেন:

“তোমরা বলতে পারো, রেগে গেলে মানুষ চিৎকার করে কেন?” 

একজন ছাত্র উত্তর দিলো: “কারণ রেগে গেলে মানুষ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।”

শিক্ষক হেসে বললেন: “ঠিক আছে, কিন্তু যার উপর রাগ করছি, সে তো সামনেই আছে, তাই না? তাহলে চিৎকার করে কথা বলার প্রয়োজন কেন?”

 কেউ ঠিক উত্তর দিতে পারলো না।

তখন শিক্ষক ব্যাখ্যা করলেন:-

“যখন দুইজন মানুষ রেগে যায়, তখন তারা একে অপরের অন্তর থেকে দূরে সরে যায়। এই ‘রাগ’ সেই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আর সেই মানসিক দূরত্ব পেরিয়ে কথা পৌঁছাতে হলে মানুষ চিৎকার করে। যত দূরত্ব বাড়ে, তত শব্দ বাড়ে।

কিন্তু যারা একে অপরকে ভালোবাসে, তারা যখন কথা বলে, তখন তারা নরম স্বরে, ধীরে বলে। কারণ তারা হৃদয়ের খুব কাছাকাছি থাকে।

আর যারা সত্যিকারের প্রেমে পড়ে, তাদের তো চিৎকার বা কথারও প্রয়োজন পড়ে না।

একে অন্যের চোখে চোখ রাখলেই সব কথা, অনুভূতি বুঝে ফেলে।

কারণ তখন তাদের অন্তর এক হয়ে যায়। তখন কথা হয় ‘অন্তরে অন্তরে’।”

 তাই রাগে চিৎকার নয়, ভালোবাসায় নীরবতার ভাষা খুঁজুন।

 রাগ দূরত্ব বাড়ায়, ভালোবাসা হৃদয়কে কাছে আনে।

 জীবনের সম্পর্কগুলো হোক হৃদয়ের বন্ধনে বাঁধা।

 (মূল ভাবনা: ব্রাজিলের বিখ্যাত এবং বেস্টসেলার লেখক পাওলো কোয়েলহো | 30 SEC READING: “Why do we shout in anger?” থেকে অনুপ্রাণিত)




৪৩



ফ্যাশনে পরিণত হওয়ার আগে জিন্স বা ডেনিমের গল্পটা ছিল বেশ হৃদয়বিদারক! 


পশ্চিম আফ্রিকায় একটি মোটা-টেকসই কাপড় দাসশ্রেণীর মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হত যাতে তারা ক্ষেত-খামার এবং বাড়িতে কাজ করার সময় পরতে পারে। এই মোটা-টেকসই কাপড়টি ছিল কখনও ডেনিম বা কখনও রুক্ষ সুতি বা লিনেন - যাকে প্রকাশ্যে "নিগ্রো কাপড়" হিসাবে উল্লেখ করা হত। দাসদেরকে ডেনিম পরতে দেওয়ার উদ্দেশ্য বলা হত কাপড়ের দীর্ঘস্থায়িত্বতা, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য ছিল দাসদেরকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা। এটি শুধুমাত্র কাপড়ের ব্যাপার ছিল না, এটি ছিল জাত বা বর্ণ পরিচয়ের ব্যাপার। দাসশ্রেণীর মানুষদের নিজের পোশাক বেছে নেওয়ার অনুমতি ছিল না, তাদের ইউনিফর্ম হিসেবে ডেনিম পরতে দেওয়া হত।

দ্যা আইরনি?

ব্লু ইন্ডিগো জিন্স বুননের প্রক্রিয়া, ডাইং করার প্রসেস সবকিছুই পশ্চিম আফ্রিকার ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। ব্লু ডেনিমের রঙের সৌন্দর্য, টেকনোলোজি - অনেক কিছুই দাসদের নিজের আবিষ্কার। এর কয়েক দশক পরে, ১৮৭৩ সালে, লেভি স্ট্রস এবং জ্যাকব ডেভিস পেটেন্ট করেছেন যা আমরা এখন ব্লু জিন্স নামে জানি। সময়ের সাথে সাথে ডেনিম কেবল একটা নির্দিষ্ট স্টাইলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি প্রতিনিয়ত বিকশিত হয়েছে।কাউবয়রা ডেনিম পরতে শুরু করল, কারখানার শ্রমিকরা ডেনিমকে আপন করে নিল।

কবি, শিল্পী, কর্মী, সঙ্গীতজ্ঞ - প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতে বর্ণবাদ এবং দাসপ্রথার বিরুদ্ধে পরিবর্তনকামী মানুষদের দৈনন্দিন পোশাক হয়ে উঠল ডেনিম।

আজ ডেনিম সর্বত্র। কিন্তু ডেনিমের প্রতিটি সেলাইয়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক ভুলে যাওয়া ইতিহাস।

আমরা কেবল স্টাইলের জন্য এটি পছন্দ করি সেটা নয়, বরং আমরা তাদের ঐতিহ্য বহন করি যাদেরকে বর্ণবাদ আর দাসত্বের পোশাক হিসেবে ডেনিমকে পরতে দেওয়া হয়েছিল, যারা কখনও ডেনিমকে নিজের জন্য পছন্দ করে বেছে নিতে পারেনি।  



৪৪



মেয়েদের বহুল ব্যবহৃত সেফটিপিন কে, কীভাবে আবিষ্কার করেছিল?


বস্তুটি ছোট কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। বিশেষত নারীদের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তো অপরিহার্য।

জামার সঙ্গে উড়ুক্কু ও'ড়না কিংবা ব্লা'উজের সঙ্গে শাড়ির আঁ'চল আটকে রাখতে সেফটিপিনের ব্যবহার বহু পুরোনো।

১৮৪৯ সালে উদ্ভাবিত হয় সেফটিপিন। উদ্ভাবনের গল্পটাও বেশ মজার।

যুক্তরাষ্ট্রের যন্ত্রকৌশলী ওয়াল্টার হান্ট (Walter Hunt) তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে ১৫ ডলার ধার করেছিলেন। কিছুতেই সে ধার শোধ দিতে পারছিলেন না। ভাবছিলেন, এমন কিছু একটা তৈরি করা যায় কি না, যার উপার্জিত অর্থ দিয়ে ধারটা শোধ করা যায়। 

ভাবতে ভাবতে লম্বা তারের টুকরা বেঁকিয়ে দিলেন সেফটিপিনের আকার। মাথার দিকটায় লাগিয়ে দিলেন একটা খাপ, যাতে গায়ে ফুটে না যায়। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল সেফটিপিন।

১৮৪৯ সালের ১০ই এপ্রিল রীতিমতো পেটেন্ট করিয়ে নিলেন। সেই পেটেন্ট বিক্রি করে পেলেন ৪০০ ডলার। ধার শোধ তো হলোই, দিনে দিনে লাখ লাখ ডলারের মালিক হয়ে উঠলেন।  -সংগৃহীত। 



৪৫

চীনের গ্রেট ওয়াল 


প্রাচীন যুগে চীনারা যখন শান্তিতে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিল তখন তারা গ্রেট ওয়াল নির্মাণ করল। চীনারা ভেবেছিল এটার উচ্চতার জন্য কেউ টপকে তাদের আক্রমণ করতে পারবে না।

গ্রেট ওয়াল নির্মাণের প্রথম ১০০ বছরের মধ্যেই চীনারা তিনবার আক্রান্ত হয়। আশ্চর্যের বিষয় কোনোবারই আক্রমণকারীদের দেয়াল টপকানোর বা ভাঙার প্রয়োজন হয়নি। কারণ, প্রত্যেকবারই আক্রমণকারীরা দেয়াল পাহারারত রক্ষীদের উৎকোচ দিয়ে সামনের গেট দিয়ে ঢুকে গেছে। চীনারা অনেক পরিশ্রম করে মজবুত দেয়াল তৈরি করেছিল; কিন্তু তারা দেয়াল পাহারা দেওয়া রক্ষীদের চরিত্র মজবুত করতে কোনো পরিশ্রম করেনি।

তাহলে দেখা যাচ্ছে দেয়াল মজবুত করা থেকে চরিত্র মজবুত করার প্রশ্নটিই আগে আসে। শুধু দেয়াল মজবুত করার ফলাফল শূন্য।

তাই অনেক আগেই একজন প্রাচ‍্যদেশীয় দার্শনিক বলে গেছেন, তুমি যদি কোনো সভ্যতা ধ্বংস করতে চাও, তাহলে তিনটি কাজ করো :

১৷ যে জাতিকে পদানত করতে চাও তার পারিবারিক গঠন আগে ধ্বংস করো। পারিবারিক গঠন ধ্বংস করতে হলে সংসারে মায়ের ভূমিকাকে খাটো করে দেখাও, যাতে সে গৃহবধূ পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে।

২৷ শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দাও। এটা করতে হলে শিক্ষককে প্রাধান্য দিয়ো না। সমাজে তাঁর অবস্থান নীচু করে দেখাও, যাতে তাঁর ছাত্ররাই তাঁকে উপহাস করে।

৩৷ তরুণসমাজ যেন অনুসরণ করার মতো কোনো রোলমডেল না পায়, তাই তাদের জ্ঞানীদের নানাভাবে অপমান করো। রোলমডেলদের নামে অসংখ্য মিথ্যা কুৎসা রটাও, যাতে তরুণসমাজ তাঁদের অনুসরণ করতে দ্বিধাবোধ করে।



৪৬


 'দ্য জাঙ্গল বুক' 

সাল ১৮৬৭। ভারতের উত্তর প্রদেশের এক জঙ্গলে সন্ধান পাওয়া যায় এক শিশুর। বয়স ছয় হবে। সে নেকড়ের পালের সাথে ছুটছিল। চার পায়ে। উদ্ধার করে তাকে পাঠানো হয় মিশনারির এক আশ্রমে। সেখানেই তার নাম রাখা হয় দিনা শনিচর।

নেকড়েই লালন পালন করছিল দিনাকে। নেকড়ের পালের সাথে থাকতো এক গুহায়। তাকে মানুষের আদব কায়দা শেখানো কঠিন হয়ে পড়ে। মাংস ছাড়া কিছুই খেত না। সোজা হয়েও দাঁড়াতে পারেনি সে। অবশেষে ৩৪ বছর বয়সে মারা যায় দিনা। মৃত্যুর কারণ যক্ষা।

এর ২৭ বছর পর প্রকাশিত হয় 'দ্য জাঙ্গল বুক' গল্পগুচ্ছ। অনেকেই ধারণা করেন, গল্পগুলো দিনাকে কেন্দ্র করেই লেখা। যদিও লেখক কখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। অথচ গল্পে মোগলির বসার ভঙ্গি, চলাফেরা, আচরণ অনেকটা দিনার সাথে মিলে যায়। তাছাড়া গল্পে লেখক ভারতীয় বন্য পরিবেশ, সংস্কৃতি ও কুসংস্কার ফুটিয়ে তুলেছেন। 



৪৭


এক গ্লাস পানি কতটা ভারী?

একজন মনোবিজ্ঞানী স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীদের সামনে এক গ্লাস পানি উঁচু করে ধরলেন। তখন সবাই ভেবেছিল তিনি হয়ত গ্লাস অর্ধেক খালি না অর্ধেক ভর্তি এই প্রশ্নটি করবেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না।

তিনি হাসিমুখে প্রশ্ন করলেন, ”এই এক গ্লাস পানি কতটা ভারী?" উত্তর আসলো, "২৫০ এমএল থেকে ৩০০ এমএল এর মধ্যে।" 

তখন মনোবিজ্ঞানী বললেন, "এর প্রকৃত ওজন এখানে কোনো ব্যাপার না, আসল ব্যাপারটা হলো আমরা গ্লাসটিকে কতক্ষণ ধরে রাখছি!"

তিনি বলে চললেন, "যদি আমি এটাকে এক মিনিটের জন্য ধরে রাখি, তবে কোনো সমস্যা হবে না। যদি এটাকে এক ঘন্টা ধরে রাখি তবে আমার হাতে ব্যথা অনুভূত হবে। আর যদি একদিনের জন্য এভাবে ধরে থাকি তবে আমি প্যারালাইজড হয়ে যাব। প্রতিটা ক্ষেত্রে এর মূল ওজনে কোনো পরিবর্তন হয় না। কিন্তু ধরে রাখার সময় বাড়ার সাথে সাথে এটি ভারী থেকে ভারীতর লাগতে শুরু করে।

তিনি আরও বিশদে গিয়ে বললেন, "আমাদের জীবনের চাপ এবং উদ্বেগগুলো এই গ্লাসের পানির মতো, যা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবলে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু এই চাপ আর উদ্বেগ যদি আমরা সারাদিনের জন্য ধরে রাখি, তবে তা আমাদের নতুন কিছু করার সামর্থ্য কেড়ে নিতে পারে। তাই চাপ কখনোই অধিক সময় পর্যন্ত টানতে যাবেন না। এটাকে খুব অল্প সময়ে ছেড়ে দিতে হবে, অর্থাৎ গ্লাস নামিয়ে রাখতে হবে।"

এই বলে তিনি গ্লাসটি হাত থেকে টেবিলে নামিয়ে রাখলেন।


শিক্ষণীয়:

জীবনে বিভিন্ন রকম চাপ থাকবেই। ওগুলো নিয়ে আপনি যত বেশি ভাববেন, ততই হতাশ হয়ে পড়বেন। তাই ভালো থাকতে চাইলে চাপ বা উদ্বেগগুলোকে ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলুন, আর যতটুকু সম্ভব ভারমুক্ত থেকে জীবনকে উপভোগ করুন। পরিবার সংসার দীর্ঘকাল ধরে রাখতে হয় বলেই এগুলো অনেক ভারী মনে হয়।


৪৮

 নিকোলাস কোপার্নিকাস

সৌরকেন্দ্রিক মডেলের কথা উঠলেই যার নামটি  আমাদের সামনে ভেসে ওঠে, তিনি নিকোলাস কোপার্নিকাস। কিন্তু এই বিপ্লবী ধারণার শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সামোসের অ্যারিস্টার্কাস প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাব করেছিলেন—পৃথিবী নয়, সূর্যকে কেন্দ্রে রেখে পৃথিবী বছরে একবার ঘোরে । তাঁর এই ধারণা সময়ের তুলনায় এতটাই এগিয়ে ছিল যে সমসাময়িক দার্শনিক ধারায় তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আর্যভট্ট যিনি বলেছিলেন পৃথিবী গোল এবং এটি নিজ অক্ষের উপর প্রতিদিন ঘোরে এবং সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রদের যে আমরা ঘুরতে দেখি তা পৃথিবীর সাপেক্ষে নক্ষত্রদের আপাত গতির ফল, যা ছিল অসামান্য বৈজ্ঞানিক অন্তর্দৃষ্টি। যদিও তাঁর মডেল আধুনিক অর্থে সৌরকেন্দ্রিক ছিল না, তবু আপাত গতি ও পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যায় তাঁর যুক্তি পরবর্তী চিন্তাধারার ভিত্তি গড়ে দেয়।

মধ্যযুগে প্রচলিত টলেমি-র ভূ-কেন্দ্রিক মহাবিশ্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আল-হাইসাম (আলহাজেন), তিনি টলেমীয় ব্যবস্থার গাণিতিক ও ভৌত অসামঞ্জস্য নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। আল-বিরুনি পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্ভাবনা নিয়ে নিরপেক্ষ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা করেন।

এই দীর্ঘ বৌদ্ধিক অভিযাত্রার এক ঐতিহাসিক পরিণতি ঘটে ১৫৪৩ সালে, যখন নিকোলাস কোপার্নিকাস (জন্ম- ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ খ্রি, মৃত্যু ২৪ মে ১৫৪৩ খ্রি)  প্রকাশ করেন On the Revolutions of the Celestial Spheres (১৫৪৩ খ্রি)। সেখানে তিনি সুসংহতভাবে দেখান গ্রহদের জটিল আপাত গতি অনেক সহজে ব্যাখ্যা করা যায় যদি সূর্যকে কেন্দ্রে ধরা হয়। এটি ছিল কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞানের নয়, মানবচিন্তারও এক মৌলিক রূপান্তর। পৃথিবী যে মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয় এই উপলব্ধি দর্শন, ধর্ম, ও বিজ্ঞানের সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টলেমি-র ভূকেন্দ্রিক মডেল ছিল স্বীকৃত সত্য। এই মডেলে পৃথিবী স্থির, আর সূর্যসহ সব গ্রহ-নক্ষত্র তাকে কেন্দ্র করে ঘোরে। কিন্তু বাস্তব পর্যবেক্ষণে গ্রহদের আপাত পশ্চাদ্গমন (retrograde motion), উজ্জ্বলতার পরিবর্তন, কক্ষপথের জটিলতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই ব্যবস্থাকে ক্রমশ জটিলতর করতে হয়েছিল।।

কোপার্নিকাস এখানেই মৌলিক প্রশ্নটি তুললেন: যদি সমস্যার সমাধান এত জটিল হয়, তবে কি প্রাথমিক অনুমানেই ভুল আছে? তাঁর ভাবনা ছিল আশ্চর্য রকম সরল—পৃথিবী নয়, সূর্যকে কেন্দ্রে বসিয়ে ভাবা। তখনই বহু জটিলতা যেন নিজে থেকেই সরে দাঁড়ায়। গ্রহদের পশ্চাদ্গমন আর আলাদা কোনো রহস্য থাকে না; এটি হয়ে ওঠে আপেক্ষিক গতির স্বাভাবিক ফল। পৃথিবী নিজেই যখন চলমান, তখন আকাশের দৃশ্যও ভিন্নভাবে প্রতিভাত হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

কোপার্নিকাসের এই হেলিওসেন্ট্রিক মডেলের কয়েকটি বৈপ্লবিক দিক ছিল—

পৃথিবীর দ্বৈত গতি: পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরে (আহ্নিক গতি) এবং সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে (বার্ষিক গতি)। দিন-রাত ও ঋতুচক্রের ব্যাখ্যায় এটি ছিল অসাধারণ অন্তর্দৃষ্টি।

গ্রহগতির সরল ব্যাখ্যা: মঙ্গল বা বৃহস্পতির পশ্চাদ্গমন কোনো অদ্ভুত আচরণ নয়; দ্রুতগামী পৃথিবী ধীরগতির গ্রহকে অতিক্রম করলে দৃশ্যত এমনটাই দেখা যায়।

মহাবিশ্বের স্কেলের পুনর্বিবেচনা: নক্ষত্রদের প্যারাল্যাক্স ধরা না পড়ায় কোপার্নিকাস যুক্তি দেন নক্ষত্ররা হয়তো অকল্পনীয় দূরে। অর্থাৎ মহাবিশ্ব মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক অনেক বড়।

কোপার্নিকাসের কাজ আধুনিক অর্থে “সম্পূর্ণ সঠিক” হয়তো ছিল না—তিনি গ্রহদের বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় সেটিই স্বাভাবিক। পরে ইওহানেস কেপলার উপবৃত্তাকার কক্ষপথের নিয়ম আবিষ্কার করে মডেলটিকে নিখুঁত করেন।

কোপার্নিকাসের তত্ত্বের সমর্থন ও প্রচার করে বৈজ্ঞানিক সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ধর্মের ধ্বজাধারীরা জিওরদানো ব্রুনোকে জ্যান্ত পু ড়িয়ে মারে।

কোপার্নিকাসের কাজের ওপর দাঁড়িয়েই গ্যালিলিও গ্যালিলেই দূরবীণে আকাশ দেখে কোপার্নিকাসের মডেলকে  দৃশ্যমান করেন, ইওহানেস কেপলার গ্রহগতির নিখুঁত নিয়ম আবিষ্কার করেন, আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষের সূত্রে আকাশ ও পৃথিবীর পদার্থবিদ্যাকে একসূত্রে বাঁধেন। এক অর্থে, আধুনিক বিজ্ঞানের স্থাপত্যে কোপার্নিকাস ভিত্তিপ্রস্তরটি স্থাপন করেছিলেন। এই কারণেই কোপার্নিকাসের অবদান একটি সমীকরণ বা মডেলের সীমা ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে যুগান্তকারী। এটি এক নবচেতনার উন্মোচন, বিশ্ববোধের এক গভীর বিপ্লব। @ পঞ্চানন মণ্ডল 



৪৯



নারী ও টেস্টোস্টেরন

টেস্টোস্টেরন শুধু পুরুষদের শরীরেই তৈরি হয় না, নারীদের শরীরেও কিছুটা সামান্য তৈরি হয়, এবং নারীদের স্বাস্থ্য ও মন নিয়ন্ত্রণে এর বড় ভূমিকা আছে, তবে নারীদের শরীরে পুরুষদের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ কম তৈরি হয়, যেটা বেড়ে বা কমে গেলে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হয়।

মহিলাদের শরীরেও টেস্টোস্টেরন একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌন হরমোন, যা ডিম্বাশয় এবং অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে উৎপাদিত হয়। এটি মূলত প্রজনন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করা (libido), হাড় ও পেশীর শক্তি বজায় রাখা, মেজাজ ভালো রাখা এবং সামগ্রিক কর্মশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

মহিলাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের প্রধান ভূমিকা:

এটি নারীদের প্রজনন আকাঙ্ক্ষা বা লিবিডো-র অন্যতম মূল চালিকাশক্তি।

হাড় ও পেশীর স্বাস্থ্য: এটি পেশীর পরিমাণ (muscle mass) বাড়াতে এবং হাড়ের ঘনত্ব বা শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

শক্তি ও মেজাজ: শরীরের শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি এবং মেজাজ ভালো রাখতে এটি সাহায্য করে ।

প্রজনন স্বাস্থ্য: ডিম্বাশয়ের সুস্থতা এবং সামগ্রিক প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে।

সাধারণত, নারীদের শরীরে ৩৫ বছরের পর থেকে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে শুরু করে। এই হরমোনটির ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে ক্লান্তি, প্রজনন ইচ্ছা হ্রাস এবং হাড়ের দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক নারীদের শরীরে জেনেটিক বা বংশগত কারণে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেশি হতে পারে। আবার বিভিন্ন রোগের কারণেও হয়, যেমন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)। এছাড়া, কনজেনিটাল অ্যাড্রিনাল হাইপারপ্লাসিয়া (CAH) নামক জেনেটিক ব্যাধিও মহিলাদের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন তৈরিতে প্ররোচিত করে ।

সাধারণত মহিলাদের মধ্যে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি হলে লিবিডো বা প্রজনন আকাঙ্খা বেড়ে যেতে পারে। তবে, অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন পিসিওএস (PCOS)-এর মতো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যা বন্ধ্যাত্ব, ব্রণ, এবং পুরুষালি শারীরিক বৈশিষ্ট্য (যেমন মুখে লোম) তৈরি করতে পারে।

আবার স্বাভাবিকের চেয়ে কম টেস্টোস্টেরন তৈরি হলে সাধারণত লিবিডো কমে যায়, আবার খুব উচ্চ মাত্রায় টেস্টোস্টেরনও অনেক ক্ষেত্রে নারীদের মানসিক চাপ বা শারীরিক অস্বস্তির কারণ হয়। যেহেতু পুরুষের শরীরে নারীদের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ টেস্টোস্টেরন হরমোনের বেশি তৈরি হয়, তাই পুরুষ হয় জ্বলন্ত আগুন আর নারী হয় চাই চাপা  আগুন। পুরুষের এই মাত্রাতিরিক্ত হরমোনাল চাহিদা তার যৌবন, মন-মানসিকতা এবং যোগ্য প্রজন্ম তৈরিতে সাহায্য করে।


৫০


 "Reciprocity Trap"।  "পুরুষ কিসে আটকায়"

পশু-পাখিকে শিকার করার জন্য বিভিন্ন ফাঁদ আছে সে সমস্ত ফাঁদ পেতে পশু পাখি শিকার করা হয়। ঠিক একই ভাবে পুরুষদেরকেও শিকার করা হয়, আর এর জন্য ফাঁ'দ হিসেবে কাজ করে মে'য়েরা। পৃথিবীতে এমন পুরুষ খুব কমই পাবেন, যারা মেয়েদের আবদার ফেরাতে পারে। মনে আছে? একটা হাইপ ক্রিয়েট হয়েছিল মিডিয়ায়, "পুরুষ কিসে আটকায়", পুরুষ আটকায় নারীতে।

এবার মেইন টপিকে আসি: মনোবিজ্ঞানে একটা কনসেপ্ট আছে "Reciprocity Trap"। মানে হলো, কেউ যদি আপনাকে ছোট্ট একটা উপহার দেয়, বা সামান্য একটা ভালোবাসার ইঙ্গিত দেয়, তখন মানুষ মনে করে তাকে কিছু ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই ফাঁদে পুরুষরা সহজেই ধরা পড়ে। যেমন:

একটা মেয়ে যদি হালকা আবদার করে বলে, আমাকে এই জিনিসটা এনে দিবে?, অধিকাংশ পুরুষই সেটা ফিরিয়ে দিতে পারে না। কারণ তাদের মাথায় ঢুকে যায়, ও আমাকে ভালোবাসে। পথে বা অফিসে দেখা যায়, কোনো মেয়ে কারো কাছে নিয়মিত সাহায্য চাইলে ছেলেটা ভাবতে শুরু করে, এবং একটা সুপ্ত বাসনায় তাকে সাহায্য করে। যদিও বাস্তবে মেয়েদের পার্টনার থাকে। এছাড়া মেয়েটা হয়তো কেবল তার সুবিধা নিচ্ছে।

আমি আরও কিছু ঘটনা উল্লেখ্য করছি:

১। এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোমান্টিক সম্পর্কের ভান করে অর্থনৈতিক লাভ নেওয়ার প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান। যেমন: সোশ্যাল মিডিয়ায় মে'য়েরা সম্পর্কের নাটক তৈরি করে, উপহার, মোবাইল, বা টাকা দাবি করে, তারপর হঠাৎ উধাও হয়ে যায়।

২। আরেকটা উদাহরণ দিই, বিয়ে ঠিক হওয়ার আগেই মেয়ে ছেলেকে "ড্রিম প্রজেক্ট" দেখায়। যেমন, বাড়ি বানাবে, গাড়ি কিনবে, সুখী সংসার করবে। ছেলে সব সঞ্চয় ঢেলে দেয়। কিন্তু বিয়ের পরে ডিভোর্স হয়ে যায়, আর সে আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ে। এটাকে বলা হয় কাবিন ব্যবসা।

৩। অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষরা "হিরো কমপ্লেক্সে" ভোগে, মানে, একজন মেয়ের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে সে নিজেই সমস্যায় জড়িয়ে যায়। তবে এর মানে এই নয় যে সব মেয়ে এমন। এখানে আসল বিষয়টা হলো, চালাকি আর সরলতা। যে মেয়ে কৌশলী, সে জানে কীভাবে ফাঁদ এড়িয়ে চলতে হয় এবং সত্যিই পুরুষকে ভালোবাসতে হয়। আর যে ছেলে সচেতন, সে জানে কোনটা আবেগ আর কোনটা প্রলোভন।

বার সাইকোলজিক্যাল দিক থেকে শিক্ষা নেওয়ার বিষয় হলো: আবেগের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত হয়। তাই পুরুষদের জন্য দরকার Self-Awareness নিজেকে চিনতে শেখা, নিজের দুর্বলতা বোঝা। কারণ শিকার ফাঁদে পড়ে না, শিকার পড়ে নিজের ক্ষুধার কারণে। আর পুরুষদের নারীর ক্ষুধা সব সময় থাকে। তাই যতটা সম্ভব একজন পুরুষের উচিত! মেয়েলি বিষয়গুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখা।