সস্তায় প্রোটিন সোর্স!!!
অনেকেই প্রোটিন খেতে বললে প্রোটিনের সোর্স নিয়ে প্রশ্ন করেন। ডিম, মাছ মাংস ছাড়া কি খাবেন?
ডাল,সয়াবিন,ছোলা এগুলো কি প্রোটিনের ভালো সোর্স কিনা। কতটুকু প্রোটিন থাকে ছোলা কিংবা ডাল গুলিতে?
আজকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
চলুন তাহলে প্রথমেই এই প্রশ্নের উত্তর খুজি যে আসলেই কি ডিম মাছ বা মাংসের অল্টারনেটিভ কি কোন প্রোটিন সোর্স হতে পারে এবং এবং যদি হয় তাহলে সেই প্রোটিন সোর্স কি??
উত্তর হচ্ছে না। ডিম, মাছ ও মাংসের অল্টারনেটিভ কোন প্রোটিন সোর্স নেই। আপনি সস্তায় কোন প্রোটিনের মাধ্যমেই ডিম, মাছ বা মাংসের চাহিদা পূরন করতে পারবেন না।
এবার অনেকেই আমাকে ধরবেন কেন আপু ডালে প্রোটিন থাকে ছোলাতে তো প্রোটিন, থাকে তাহলে আপনি কেন এ কথা বলছেন? এই উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের একটু বায়োকেমিস্ট্রির দিকে যেতে হবে।
প্রোটিন আসলে কি??
প্রোটিন হচ্ছে এমন একটি খাদ্য উপাদান যা অসংখ্য এমাইনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এমাইনো এসিড আবার ২ ধরনের হয়ে থাকে এসেনশিয়াল এবং নন এসেনশিয়াল। প্রোটিনের কোয়ালিটি সাধারনত এই এসেনশিয়াল এমিনো এসিডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে হাই কোয়ালিটি প্রোটিন এবং লো কোয়ালিটি প্রোটিন এই ২ ধরনের হয়ে থাকে। আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় দশটা এমাইনো এসিড লাগে। যেগুলো আমাদের বডির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের শরীর এই এমাইনো এসিডকে উৎপাদন করতে পারে না। এখন আমি যখন প্রোটিন কোয়ালিটির কথা বলব তখন আমাকে খেয়াল রাখতে হবে অবশ্যই যেন সেই প্রোটিনে দশটা অ্যামিনো এসিড উপস্থিত থাকে।
তাহলে কোন ধরনের প্রোটিন হাই কোয়ালিটি প্রোটিন?
এনিম্যাল সোর্স থেকে আমরা যে প্রোটিন পাই। অর্থাৎ যেকোনো ধরনের মাছ,মাংস, ডিম এবং দুধ।
এবং প্লান্ট সোর্স বা এই যে যত ডাল বা যা কিছু আছে এই সব গুলি থেকে যে প্রোটিন আসে সেটা লো কোয়ালিটির প্রোটিন। যাতে ২/৩ টা এমাইনো এসিডের উপস্থিতি থাকলেও সব গুলি একটি ডালে এক সাথে পাওয়া যায়না। ২/৩ রকম ডাল মিক্স করলে হয়তো পাওয়া যেতে পারে।
এখন তাহলে বলা যেতে পারে তাহলে তো সহজ সমাধান আছে। খিচুড়ি। ৩/৪ রকমের ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করলেই তো সেটা হাই কোয়ালিটি প্রোটিন হবে। কারন সব এমাইনো এসিডই তো পাচ্ছি। আসলেও কি ব্যাপার টা এত সহজ??
জি না। এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করে সেটা হচ্ছে প্রোটিন ডাইজেস্টিবিলিটি বা আমাদের শরীরে প্রোটিন এবসর্ব হবার ক্ষমতা।
হাই কোয়ালিটি প্রোটিন বা এনিমেল প্রোটিনের ডাইজেস্টিবিলিটি এবং আমাদের শরীরে এবসর্ব হবার ক্ষমতা প্লান্ট সোর্স প্রোটিনের থেকে অনেক বেশি এবং বডি টিস্যু গঠন হবার পিছনে এনিমেল সোর্স প্রোটিনের ভুমিকা সব থেকে বেশি।
তাই সস্তার কোন প্রোটিন সোর্সই আসলে ডিম, মাছ বা মাংসের রিপ্লেসপেন্ট হতে পারবে না।
এখন আপনারা বলতে পারেন তাহলে ভেজিটেরিয়ান দের কি হবে বা কি হয়?? তারা তো এনিমেল প্রোটিন নেয় না। এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো আরেকটি পোস্টে ইনশাআল্লাহ।
Sumya Shila
Clinical Nutritionist and Diet Consultant
Child & Reproductive Nutrition Consultant,
KGN Medicare Limited (Dhanmondi)
2
অনেকেই মনে করেন শরীরে একটু চর্বি বা মাংসপেশি বাড়লেই সেটা খারাপ। কিন্তু বাস্তবটা একটু ভিন্ন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে তুলনামূলক বেশি মাংসপেশি (muscle mass) থাকলে সেটি শরীরের জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে বিশেষ করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রে।
প্রথমত, মাংসপেশি আমাদের শরীরের “গ্লুকোজ ব্যবহারকারী” টিস্যু হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, যত বেশি কার্যকর মাংসপেশি থাকবে, তত বেশি গ্লুকোজ শরীর সহজে ব্যবহার করতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করে। এজন্যই নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সহায়ক বলে ধরা হয়।
দ্বিতীয়ত, শরীরে অল্প পরিমাণ স্বাস্থ্যকর চর্বি (healthy fat) থাকা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে শক্তি জোগায়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চর্বির ধরন ও অবস্থান। অতিরিক্ত ভিসেরাল ফ্যাট (পেটের ভেতরের চর্বি) ক্ষতিকর হতে পারে, কিন্তু শরীরজুড়ে সুষমভাবে থাকা ফ্যাট তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ।
আরেকটি বিষয় হলো প্রদাহ (inflammation)। নিয়মিত নড়াচড়া করা, হাঁটা বা হালকা এক্সারসাইজ শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে যারা একদম স্থির জীবনযাপন করেন তাদের তুলনায় সক্রিয় ব্যক্তিদের শরীর কিছু ক্ষেত্রে বেশি ভালোভাবে কাজ করে।
এগুলো সাধারণ তথ্যভিত্তিক ধারণা। ব্যক্তিভেদে শারীরিক অবস্থা ভিন্ন হতে পারে। কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
Reference
Harvard Health Publishing
American Diabetes Association
Mayo Clinic
3
আপনার শরীর কি শরীরের ফ্যাট খরচ করতে পারছে ?
প্রথম দুই পর্বে আমরা ওবেসিটির মূল কারণ এবং কীভাবে তা নিখুঁতভাবে ডায়াগনোসিস করতে হয় তা জেনেছি। এবার আমরা প্রবেশ করব ওবেসিটি ম্যানেজমেন্টের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং সাইন্টিফিক পর্বে। একজন পুষ্টিবিদ হিসেবে আমার লক্ষ্য কেবল ওজন কমানো নয়, বরং রোগীর 'মেটাবলিক মেশিন' সার্ভিসিং করা।
ওবেসিটি রোগীর শরীর কেন চর্বি পোড়াতে পারে না, তার ভিতরে গেলে আমরা তিনটি প্রধান সাইন্টিফিক বাধা দেখতে পাই। এই বাধাগুলো দূর করাই হবে আমার ক্লিনিক্যাল ইন্টারভেনশন। আমাদের প্রতিটি কোষে দুটি প্রধান পথ বা পাথওয়ে আছে-
- mTOR (Growth Mode): যখন আমরা খাবার খাই (বিশেষ করে প্রোটিন ও শর্করা), তখন mTOR সক্রিয় হয়। এটি কোষের বৃদ্ধি এবং চর্বি জমার সংকেত দেয়। ওবেসিটি রোগীদের mTOR সারাক্ষণ 'অন' থাকে।
- AMPK (Repair/Burn Mode): যখন আমরা না খেয়ে থাকি বা ব্যায়াম করি, তখন AMPK সক্রিয় হয়। এটি জমানো চর্বি বের করে এবং কোষের ভেতরকার পুরনো আবর্জনা পরিষ্কার করে।
সুতরাং, ওবেসিটি রিভার্সাল মানে হলো mTOR-কে স্থির করা এবং AMPK-কে চালু করা।
একজন ওবেসিটি রোগীর মূল সমস্যা হলো তিনি 'মেটাবলিক্যালি ইনফ্লেক্সিবল'। অর্থাৎ তার শরীর চর্বি জমানোর ওয়ারহাউজে বসে থাকলেও সেই চর্বি বের করে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে না।
প্রথমেই আসুন একটু জানার চেষ্টা করি, মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি কী? সুস্থ মেটাবলিজম মানে হলো শরীর যখন খাবার খাবে তখন Glucose পোড়াবে, আর যখন খাবার খাবে না (Fasting) তখন জমানো ফ্যাট পোড়াবে।কিন্তু, ওবেসিটি রোগীদের ইনসুলিন লেভেল সবসময় হাই থাকে বলে তাদের শরীর চর্বি পোড়ানোর সুইচটি অন করতেই পারে না। ফলে তারা খাবার না পেলেই প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েন এবং ব্রেইন আবার শর্করা খাওয়ার সিগন্যাল দেয়।
Cell Metabolism (2022)-এর একটি পেপার অনুযায়ী, মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি নষ্ট হওয়া মানে হলো কোষের পাওয়ার হাউজ, মাইটোকন্ড্রিয়া তার জ্বালানি বদলানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।
আমাদের কোষের ভেতরে চর্বি পোড়ানোর জন্য ফ্যাটি অ্যাসিডকে মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে ঢুকতে হয়। এই ঢোকানোর কাজটা করে CPT-1 (Carnitine Palmitoyltransferase 1) নামক একটি এনজাইম। রক্তে যখন ইনসুলিন হাই থাকে, তখন কোষে Malonyl-CoA নামক একটি উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায়। এই Malonyl-CoA সরাসরি CPT-1 কে ব্লক করে দেয়। অর্থাৎ, যতক্ষণ আপনার রোগীর ইনসুলিন নিচে নামছে না, ততক্ষণ আপনি তাকে যত ব্যায়ামই করান না কেন, তার মাইটোকন্ড্রিয়ার দরজা ফ্যাটের জন্য বন্ধ থাকবে।
আমরা মনে হয় বুঝতে পেরেছি, কেন ফ্যাট সেলের মধ্য থেকে ফ্যাট বের হতে পারে না। তারপরও আর একটু অন্যভাবে বোঝার চেষ্টা করি। ফ্যাট সেলের গেটে দুটি এনজাইম পাহারাদার হিসেবে কাজ করে-
- LPL (Lipoprotein Lipase): এর কাজ হলো রক্ত থেকে চর্বি নিয়ে কোষের ভেতর ঢোকানো। ইনসুলিন এই এনজাইমকে কয়েকগুণ শক্তিশালী করে তোলে।
- HSL (Hormone Sensitive Lipase): এর কাজ হলো চর্বি ভেঙে রক্তে পাঠানো। কিন্তু সামান্যতম ইনসুলিনের উপস্থিতিতে এই HSL এনজাইমটি অকেজো হয়ে পড়ে।
Journal of Biological Chemistry-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইনসুলিনের সামান্য স্পাইকও HSL-এর কার্যকারিতা ৯০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। একারণেই আপনার রোগী যদি "অল্প অল্প করে সারাদিন" খায়, তবে তার HSL এনজাইম কাজ করার সুযোগই পায় না।
যখন একজন ওবেসিটি রোগী ক্যালরি অনেক কমিয়ে দেয়, তখন শরীর 'Adaptive Thermogenesis' শুরু করে। শরীর তার Resting Metabolic Rate (RMR) কমিয়ে দেয় যাতে সে শক্তি বাঁচাতে পারে। ফলে রোগী অল্প খেয়েও ওজন কমাতে পারে না। মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি ফেরাতে আমাদের Reverse Dieting বা Cyclical Keto-Fasting পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ, শরীরকে হুট করে অনেক ক্যালরি ঘাটতি না দিয়ে বরং হরমোনাল এনভায়রনমেন্ট পরিবর্তন করা।
সাম্প্রতিক রিসার্চের ভিত্তিতে আমি থেরাপিউটিক ইন্টারভেনশন বা কীভাবে ফ্লেক্সিবিলিটি ফেরানো যায় সেরকম আমি তিনটি শক্তিশালী কৌশলের কথা বলবো-
- লো-গ্লাইসেমিক লোড ও কার্বোহাইড্রেট রেস্ট্রিকশনঃ খাবারে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দিলে শরীর বাধ্য হয় জমানো গ্লাইকোজেন শেষ করতে এবং চর্বির দিকে নজর দিতে। The DIETFITS Randomized Clinical Trial (JAMA 2018)-এর সাব-অ্যানালাইসিস বলছে, যারা কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন লেভেল কমিয়েছিলেন, তাদের মেটাবলিক রেট অন্যদের চেয়ে বেশি স্থায়ী ছিল।
- টাইম রেস্ট্রিক্টেড ফিডিং (TRF) বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংঃ খাওয়ার সময়কে একটি নির্দিষ্ট উইন্ডোতে (যেমন ৮ ঘণ্টা খাওয়া এবং ১৬ ঘণ্টা না খাওয়া) সীমাবদ্ধ করা।প্রশ্ন হয়ে থাকে, কেন এটি কাজ করে? খুব সহজ উত্তর, না খেয়ে থাকা অবস্থায় ইনসুলিন লেভেল সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামে। এতে শরীরের Autophagy (কোষের আবর্জনা পরিষ্কার) শুরু হয় এবং AMPK নামক একটি এনজাইম সক্রিয় হয় যা চর্বি পোড়ানো ত্বরান্বিত করে। Satchin Panda’s research on Circadian Biology বলছে, দিনের আলো থাকতে থাকতে খাওয়া শেষ করলে শরীরের মেটাবলিক ছন্দ পুনরায় ফিরে আসে।
- জোন-২ হার্ট রেট এক্সারসাইজঃ সব ব্যায়াম চর্বি পোড়ায় না। ওবেসিটি রোগীর জন্য খুব উচ্চমাত্রার ব্যায়াম (HIIT) কর্টিসল বাড়িয়ে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আরও খারাপ করতে পারে। তাকে হালকা থেকে মাঝারি গতির ব্যায়াম (যেখানে তিনি হাঁপাবেন না কিন্তু হৃদস্পন্দন একটু বাড়বে) করতে বলুন। এটি মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা এবং কার্যকারিতা বাড়ায়।
The Matched-Weight Loss Study (2023): এই স্টাডিতে দেখা গেছে, দুই দল মানুষের ওজন সমানভাবে কমলেও যারা ফাস্টিং এবং লো-কার্বোর মাধ্যমে ওজন কমিয়েছেন, তাদের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি এবং মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি অনেক গুণ বেশি বেড়েছে। ফলে ওজন কমানোর পর তাদের পুনরায় ওজন বাড়ার ঝুঁকি (Yo-yo effect) অনেক কম ছিল।
ধারনা করতে কি পারছেন, কেন আপনার ফ্যাট কমছে না?
Md. Mehedi Hasan, Nutritionist
Institute of Nutrition and Food Science
University of Dhaka.
৪
সিরিলিক: ধর্মীয় থেকে সমাজতন্ত্রের বর্ণমালা
রাশিয়ার কথা মনে হলে একটা বর্ণমালা চোখের সামনে ভেসে উঠে। কোনো সাইনবোর্ডে বা বিজ্ঞাপনে "লাতিনের মত আবার লাতিনের মত না" একটু অন্যরকম একটা বর্ণমালায় লেখা যা দেখলে রাশিয়ার কথা মনে হয় আর জানা না থাকলে প্রশ্ন জাগে এটা কোন ভাষা?
কয়েকটি বর্ণ:
Б Г Д Ё Ж З И Й Л П Ф
Ц Ч Ш Щ Ъ Э Ю Я
সমাজতন্ত্রের যুগে পৃথিবী যেমন ভাগ হয়ে গিয়েছিল পুঁজিতন্ত্রে আর সমাজতন্ত্রে, তেমনি ইউরোপিয় বর্ণের জগতও ভাগ হয়ে গিয়েছি লাতিনে আর সিরিলিকে।
এই বর্ণমালাটির নাম সিরিলিক (Cyrillic)। বর্তমানে এটি প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি মানুষের প্রধান বর্ণমালা। ইউরোপের পূর্ব অংশ থেকে শুরু করে এশিয়ার মঙ্গোলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই লিপির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস।
সিরিলিক বর্ণমালায় লিখিত ভাষাসমূহ: বর্তমানে প্রায় ৫০টিরও বেশি ভাষা সিরিলিক বর্ণমালায় লেখা হয়।
স্লাভিক ভাষা: রুশ (Russian), ইউক্রেনীয় (Ukrainian), বেলারুশীয়, বুলগেরীয়, সার্বীয়, রুসিন, বসনিয়াক, মন্টিনিগ্রিন এবং ম্যাসেডোনীয়।
অ-স্লাভিক ভাষা: কাজাখ, কিরগিজ, মঙ্গোলীয়, আজেরবাইজানি (দাগেস্তান), চেচেন, চুভাস, ইঙ্গুশ, কালমিক, ওশেটিয়ান, রোমানি, তাতার, তাজিক ইত্যাদি।
# উৎপত্তি: ভাষাগত ও ধর্মের প্রয়োজনে
ভাষাগত কারণ: স্লাভিক ভাষাগুলোতে এমন কিছু বিশেষ ধ্বনি বা উচ্চারণ ছিল (যেমন: 'শ', 'চ', 'ঝ', 'ৎ'), যা সেই সময়ের ল্যাটিন বা গ্রিক বর্ণমালা দিয়ে হুবহু প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না। ল্যাটিন বর্ণমালা মূলত ল্যাটিন ভাষার জন্য তৈরি ছিল, ফলে স্লাভিক উচ্চারণের সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো সেখানে ধরা পড়ত না। একটি নতুন এবং স্বতন্ত্র বর্ণমালার প্রয়োজনীয়তা তাই ভাষাগত কারণেই দেখা দিয়েছিল।
ধর্মীয় কারণ: মধ্যযুগে পশ্চিম ইউরোপের গির্জাগুলো ল্যাটিন ভাষা ব্যবহার করত (রোমান ক্যাথলিক), আর পূর্ব দিকের বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ব্যবহার করত গ্রিক (ইস্টার্ন অর্থোডক্স)। বুলগেরীয় সাম্রাজ্য এবং স্লাভিক রাজারা চাইছিলেন তাদের নিজস্ব একটি পরিচয় তৈরি করতে। তারা যদি ল্যাটিন বর্ণমালা গ্রহণ করতেন, তবে তাদের ওপর রোমান পোপের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য তারা গ্রিক বর্ণমালার ওপর ভিত্তি করে কিন্তু স্লাভিকদের উপযোগী একটি নতুন লিপি তৈরি করতে উৎসাহিত করেন।
উৎপত্তি: সিরিলিক বর্ণমালার জন্ম ৯ম শতাব্দীতে। সেন্ট সিরিল এবং সেন্ট মেথোডিয়াস নামক দুই ভাই স্লাভিকদের জন্য প্রথম একটি লিপি তৈরি করেন, যার নাম ছিল গ্ল্যাগোলিটিক (Glagolitic)।
পরবর্তীতে তাদের অনুসারীরা বুলগেরিয়ায় (বিশেষ করে সেন্ট ক্লিমেন্ট অফ ওহরিড) গ্রিক উনশিয়াল লিপির ওপর ভিত্তি করে এবং স্লাভিক ধ্বনিগুলো যুক্ত করে একটি সহজতর সংস্করণ তৈরি করেন। তাদের শিক্ষক সেন্ট সিরিলের সম্মানে এর নাম রাখা হয় 'সিরিলিক'।
# সোভিয়েৎ আমলে:
সোভিয়েৎ ইউনিয়নে সিরিলিক বর্ণমালা ছড়িয়ে দেওয়া বা 'চাপিয়ে দেওয়ার' বিষয়টি ছিল মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কৌশল। ১৯১৭ সালের বিপ্লবের পর থেকে ১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
১. শুরুর দিক: ল্যাটিনাইজেশন (১৯২০-এর দশক):
মজার বিষয় হলো, শুরুতে সোভিয়েৎ ইউনিয়ন সিরিলিক নয়, বরং ল্যাটিন বর্ণমালার সমর্থক ছিল। লেনিনের আমলে মনে করা হতো সিরিলিক বর্ণমালা হলো জার সাম্রাজ্যের (Tsarist Russia) শোষণের প্রতীক।
সে সময় মধ্য এশিয়া ও ককেশাসের মুসলিম প্রধান ভাষাগুলো (যেমন: কাজাখ, উজবেক, আজেরি) আরবি লিপি ছেড়ে ল্যাটিন লিপি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম জনপদগুলোকে তুরস্কের মতো "আধুনিক" করা এবং ইসলামী বিশ্বের প্রভাব থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
২. ১৯৩০-এর দশক: স্ট্যালিনের 'সিরিলিকরণ' (Cyrillization):
১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জোসেফ স্ট্যালিন তার নীতি পরিবর্তন করেন। স্ট্যালিন চেয়েছিলেন পুরো সোভিয়েৎ ইউনিয়নে একটি একক 'সোভিয়েৎ পরিচয়' তৈরি করতে। তিনি অনুভব করেন যে, সোভিয়েৎ ইউনিয়নের সব জাতিকে এক সুতোয় বাঁধতে হলে রুশ ভাষা এবং রুশ বর্ণমালার আধিপত্য জরুরি। সিরিলিক বর্ণমালা গ্রহণ করলে রুশ ভাষা শেখা সহজ হবে এবং মস্কোর কেন্দ্রীয় শাসনের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হবে।
ল্যাটিন লিপি ব্যবহার করলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলো তুরস্ক বা পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সাথে সাংস্কৃতিক সংযোগ অনুভব করতে পারতো। সিরিলিক ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
৩. যেভাবে বাস্তবায়ন করা হলো (১৯৩৮-১৯৪০):
১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে একটি বিশাল প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে সোভিয়েৎ ইউনিয়নের প্রায় সব অ-স্লাভিক ভাষার জন্য সিরিলিক বর্ণমালা বাধ্যতামূলক করা হয়।
ভাষা সংস্কার: কাজাখ, কিরগিজ, তাতার, তাজিক এবং উত্তর ককেশাসের ভাষাগুলোর নিজস্ব ধ্বনি প্রকাশের জন্য মূল সিরিলিক বর্ণমালার সাথে কিছু অতিরিক্ত চিহ্ন বা অক্ষর যোগ করা হয়।
শিক্ষা ও মিডিয়া: স্কুল-কলেজ, সংবাদপত্র এবং সরকারি নথিপত্রে রাতারাতি বর্ণমালা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। যারা এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করত, তাদের ওপর নেমে আসত রাজনৈতিক দমন-পীড়ন।
৪. মলদোভা ও মঙ্গোলিয়ার উদাহরণ:
মলদোভা: মলদোভা মূলত রোমানীয় ভাষায় কথা বলত (যা ল্যাটিন লিপিতে লেখা হয়)। কিন্তু সোভিয়েতরা একে 'মলদোভান ভাষা' নাম দিয়ে সিরিলিকে লিখতে বাধ্য করে যাতে রোমানিয়ার সাথে তাদের কোনো সাংস্কৃতিক মিল না থাকে।
মঙ্গোলিয়া: যদিও মঙ্গোলিয়া সরাসরি সোভিয়েৎ ইউনিয়নের অংশ ছিল না, তবুও তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সোভিয়েৎ প্রভাবে ১৯৪০-এর দশকে তাদের ঐতিহ্যবাহী লিপি বাদ দিয়ে সিরিলিক গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
৫. ফলাফল ও বর্তমান প্রভাব:
সোভিয়েৎ আমলের এই 'সিরিলিকরণ' নীতি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে:
সুবিধা: এর ফলে সোভিয়েৎ ইউনিয়নের এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের নথিপত্র অন্তত পড়তে পারতো এবং রুশ ভাষা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল।
অসুবিধা: অনেক জাতি তাদের হাজার বছরের পুরনো সাহিত্য (যা আরবি বা অন্য লিপিতে ছিল) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সিরিলিক ত্যাগ করেছে যেসব ভাষা:
১৯৯১ সালে সোভিয়েৎ ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর অনেক দেশ (যেমন: আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান) একে 'সাংস্কৃতিক আগ্রাসন' হিসেবে চিহ্নিত করে পুনরায় ল্যাটিন লিপিতে ফিরে যায়।
কাজাখস্তান: ২০১৭ সালে একটি সরকারি আদেশ জারি করে ২০২৫-২০৩১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সিরিলিক থেকে ল্যাটিনে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উজবেকিস্তান: নব্বইয়ের দশকে ল্যাটিন বর্ণমালা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো সেখানে সিরিলিকের প্রভাব রয়ে গেছে।
মলদোভা: রোমানীয় ভাষার সাথে মিল রেখে এরা সিরিলিক ছেড়ে ল্যাটিন লিপি গ্রহণ করেছে।
ধরে রেখেছে যারা: অন্যদিকে স্লাভিক দেশগুলো যেমন- রাশিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ, বুলগেরিয়া ও সার্বিয়ার মতো দেশগুলোতে সিরিলিক এখনো তাদের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
যেসব ভাষা অন্য বর্ণমালা ছেড়ে সিরিলিক গ্রহণ করেছিল:
সোভিয়েত আমলে রাজনৈতিক কারণে অনেক ভাষার আদি লিপি পরিবর্তন করে সিরিলিক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল:
তুর্কি গোত্রীয় ভাষাসমূহ: কাজাখ, কিরগিজ, উজবেক, আজেরি এবং তুর্কমেন ভাষাগুলো আগে আরবি লিপি (ফার্সি ধাঁচে) এবং পরে ১৯৩০-এর দশকে অল্প সময়ের জন্য ল্যাটিন লিপিতে লেখা হতো। ১৯৪০-এর দিকে স্ট্যালিনের আমলে এগুলো বাধ্যতামূলকভাবে সিরিলিকে নিয়ে আসা হয়।
তাজিক: ফার্সি ভাষার এই শাখাটি আগে আরবি-ফার্সি লিপিতে লেখা হতো, যা পরে সিরিলিকে রূপান্তর করা হয়।
মঙ্গোলীয়: মঙ্গোলিয়ার নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী লিপি (Traditional Mongol Script) বাদ দিয়ে ১৯৪০-এর দশকে সোভিয়েত প্রভাবে সিরিলিক গ্রহণ করা হয়।
৪. একাধিক বর্ণমালায় লিখিত হয় যেসব ভাষা:
এমন ভাষা সংখ্যা অনেক, যেহেতু আমাদের আলোচনা সিরিলিক নিয়ে তাই সিরিলিক সহ একাধিক বর্ণমালায় লিখিত হচ্ছে এমন ভাষাগুলো জানার চেষ্টা করছি-
সার্বীয় (Serbian): এটি একটি অনন্য উদাহরণ যেখানে সিরিলিক এবং ল্যাটিন-উভয় লিপিই সরকারিভাবে স্বীকৃত এবং মানুষ সমানভাবে ব্যবহার করে।
তাজিক (Tajik): সরকারিভাবে সিরিলিক চললেও অনেকে ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় প্রয়োজনে আদি ফার্সি-আরবি লিপি ব্যবহার করেন।
উজবেক (Uzbek): শিক্ষা ও নথিপত্রে ল্যাটিন ব্যবহারের চেষ্টা চললেও সংবাদমাধ্যম এবং প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে সিরিলিক এখনো বেশ শক্তিশালী।
মঙ্গোলীয় (Mongolian): মঙ্গোলিয়া সরকার তাদের ঐতিহ্যবাহী লিপিটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে, ফলে বর্তমানে সিরিলিক এবং ঐতিহ্যবাহী লিপি দুটিরই ব্যবহার দেখা যায়।
এছাড়া মন্টিনিগ্রিন, বসনিয়াক ভাষা দুই বর্ণমালাইয় লেখা হয়।
একটি ভাষার বর্ণমালা মূলত তার ধ্বনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। যখন একটি দূরবর্তী বর্ণমালা (যেমন তুর্কি গোত্রীয় ভাষার উপর সিরিলিক সিরিলিক কিংবা এশিয় ভাষার উপর লাতিন) চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন সেই ভাষার মৌলিক চরিত্র অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুণ্ণ হয়। ভাষার সূক্ষ্ম উচ্চারণগুলো অনেক সময় সাধারণ লিপিতে নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে না, যার ফলে ভাষার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ম্লান হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাজকিস্তানের মানুষ যখন সিরিলিকে লিখতে শুরু করল, তারা তাদের পূর্বপুরুষদের লেখা ফার্সি বা আরবি লিপির বিশাল কাব্যভাণ্ডার পড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলল। তুর্কি যখন ১৯২৮ সালে এক রাতেই আরবি থেকে ল্যাটিন লিপিতে চলে গেল, তখন এক প্রজন্ম পরের মানুষ তাদের নিজেদের দাদাদের লেখা চিঠি পর্যন্ত পড়তে পারছিল না।
সিরিলিক বর্ণমালার ইতিহাস আর দশটা বর্ণমালার মত নয়; এটি ক্ষমতা, ধর্ম এবং পরিচয়ের রাজনীতির একটি জীবন্ত দলিল। এক হাজার বছর আগে ধর্মের বাহক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, আধুনিক যুগে এসে এটি হয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারণের হাতিয়ার হিসেবে।
একটা মজার তথ্য, সোভিয়েৎ ইউনিয়ন থেকে রুশ-বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল।
এই ছোট পরিসরে সিরিলিক বর্ণমালার ইতিহাস ও বর্তমান নিয়ে আলোচনা যথার্থ নয়, তবু চেষ্টা করলাম, লেখাকে বেশি ছোট করা গেল না!
@ বইকাল
৫
মাত্র ১২টি বর্ণ দিয়ে একটি ভাষার সব কথা লিখে ফেলা সম্ভব? যদি সম্ভব হয় তবে বেশি বর্ণ দিয়ে বর্ণমালা ভারী করার দরকার কী? রটোকাস ভাষার জন্য বর্ণমালা তৈরি করতে গিয়ে এই কথাটাই বুঝেছিলেন ডেভিড এবং ডরোথি আরউইন (David and Dorothy Irwin)।
পাপুয়া নিউ গিনির পূর্ব দিকে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ নামে একটা দেশ আছে, সেই দেশের সাথে লাগোয়া একটা দ্বীপ নাম 'বুগেনভিলা (উত্তর সলোমন দ্বীপ)', দ্বীপটি আবার পাপুয়া নিউ গিনির অংশ। সেই দ্বীপে একটা ভাষা আছে নাম রটোকাস (Rotokas)। এই ভাষাটিকে পৃথিবী হয়ত মনে রাখত না, কিন্তু ভাষাটি একটি রেকর্ড করে বসে আছে। তার বর্ণমালায় আছে মাত্র ১২টি বর্ণ। যা কম বর্ণের বিশ্ব রেকর্ড!
লাতিন থেকে ৫টি স্বরবর্ণ ও ৭টি ব্যাঞ্জনবর্ণ নিয়ে এই বর্ণমালা: A, E, G, I, K, O, P, R, S, T, U, V
কেন এতো কম:
রোটোকাস বর্ণমালা এত ছোট হওয়ার বিষয়টি ভাষাবিদদের কাছে অত্যন্ত বিস্ময়কর।
১. ধ্বনিগত সরলতা (Phonemic Simplicity)
একটি ভাষায় সাধারণত যত বেশি ধ্বনি থাকে, বর্ণমালা তত বড় হয়। আমাদের বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় যেখানে অনেক জটিল যুক্তাক্ষর বা কাছাকাছি উচ্চারণের অনেকগুলো বর্ণ (যেমন: শ, ষ, স বা B, V) থাকে, রোটোকাস ভাষায় সেসবের প্রয়োজন পড়ে না। তাদের সীমিত কয়েকটি ধ্বনি দিয়েই সব শব্দ তৈরি হয়ে যায়।
২. স্বরবর্ণের আধিক্য
রোটোকাস ভাষার শব্দগুলোর গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে ব্যঞ্জনবর্ণের চেয়ে স্বরবর্ণের ব্যবহার অনেক বেশি। এই ভাষায় শব্দগুলো সাধারণত 'ব্যঞ্জনবর্ণ + স্বরবর্ণ' (Consonant + Vowel) এই বিন্যাসে গঠিত হয়। যেমন: kaikapu (চোখ)। জটিল কোনো যুক্তবর্ণ না থাকায় খুব অল্প বর্ণ দিয়েই মনের ভাব প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
৩. ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা
পাপুয়া নিউ গিনির বোগেনভিল দ্বীপের দুর্গম এলাকায় এই ভাষার মানুষ বসবাস করে। বাইরের পৃথিবীর সাথে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অন্য ভাষার বর্ণ বা ধ্বনি তাদের ভাষায় খুব একটা প্রবেশ করতে পারেনি। এর ফলে তাদের আদি ও মৌলিক সরল রূপটি বজায় রয়েছে।
উপভাষা:
রোটোকাস ভাষার প্রধানত তিনটি উপভাষা রয়েছে (Central, Aita, এবং Pipipaia)। যে ১২টি বর্ণের কথা আমরা জানি, তা মূলত সেন্ট্রাল রোটোকাস-এর। এই উপভাষাটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং এর ব্যাকরণগত কাঠামোর কারণেই বর্ণের সংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর কোনো প্রয়োজন পড়েনি হাজার বছরেও।
একটি মজার তথ্য: রোটোকাস ভাষায় কোনো 'নাসিক্য ধ্বনি' (Nasal sound) নেই। অর্থাৎ, আমাদের 'ম' বা 'ন'-এর মতো নাক দিয়ে উচ্চারণ করতে হয় এমন কোনো বর্ণ তাদের মূল বর্ণমালায় খুঁজে পাওয়া যায় না।
বর্ণমালা তৈরির ইতিহাস:
রোটোকাস ভাষা হাজার বছর ধরে মৌখিকভাবে প্রচলিত থাকলেও এর কোনো লিখিত রূপ ছিল না। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলীয় ভাষাবিদ এবং মিশনারি দম্পতি ডেভিড এবং ডরোথি আরউইন এই ভাষার জন্য একটি লিখিত বর্ণমালা তৈরি করেন।
তারা মূলত সেন্ট্রাল রোটোকাস উপভাষার ওপর ভিত্তি করে লাতিন (রোমান) লিপি ব্যবহার করে এই ১২টি বর্ণের বর্ণমালাটি সাজান। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাইবেল রোটোকাস ভাষায় অনুবাদ করা এবং স্থানীয়দের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটানো।
কেন ১২টি বর্ণই বেছে নেওয়া হলো?
ইরউইন দম্পতি যখন এই ভাষা নিয়ে গবেষণা করেন, তখন তারা লক্ষ্য করেন যে- রোটোকাস ভাষায় ধ্বনি বা উচ্চারণের বৈচিত্র্য খুবই কম।
তারা দেখেন যে মাত্র ৬টি ব্যঞ্জনধ্বনি এবং ৫টি স্বরধ্বনি (দীর্ঘ ও হ্রস্ব ভেদে ১০টি) দিয়েই এই ভাষার সমস্ত শব্দ নিখুঁতভাবে লিখে ফেলা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় কোনো বাড়তি বর্ণ যোগ না করে ভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এই সংক্ষিপ্ত বর্ণমালাটি চূড়ান্ত করা হয়।
রোটোকাস ভাষার লিপি ও রেকর্ড:
১৯৬৯ সালে প্রথম এই বর্ণমালা ব্যবহার করে রোটোকাস ভাষায় বাইবেলের 'নতুন নিয়ম' (New Testament) প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০-এর দশকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বইয়ে এটি "বিশ্বের সংক্ষিপ্ততম বর্ণমালা" হিসেবে স্থান পায়।
এটি একটি চমৎকার উদাহরণ যে কীভাবে একটি ভাষা কোনো জটিলতা ছাড়াই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে। এই ১২টি বর্ণ দিয়ে তারা কিন্তু বড় বড় বই এবং ব্যাকরণও লিখেছে!
কারা কথা বলে এই ভাষায়:
তারা বোগেনভিলের কেন্দ্রীয় ও উত্তর অংশে ছোট ছোট গ্রামে বাস করেন। এলাকাটি বেশ দুর্গম এবং পাহাড়ি ও ঘন বনাঞ্চলে ঘেরা। তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়, মাত্র ৪,৩২০ জনের মত।
তিনটি উপভাষার মধ্যে মাত্র অল্প কিছু মানুষই 'আইতা' উপভাষায় কথা বলেন, বাকিরা বেশিরভাগই মূল রোটোকাস (সেন্ট্রাল) ব্যবহার করেন।
তারা মূলত কৃষি এবং শিকারের ওপর নির্ভরশীল ছোট একটি গোষ্ঠী। আধুনিক পৃথিবীর সাথে খুব একটা যোগাযোগ না থাকায় তাদের এই অদ্ভুত সুন্দর এবং সংক্ষিপ্ত ভাষাটি এখনো তার নিজস্ব রূপ ধরে রাখতে পেরেছে।
রটোকাস ভাষাটি কেমন, একটি উদাহরণ: @ বইকাল
Rotokas – “Vo tuariri rovoaia Pauto vuvuiua ora rasito pura-rovoreva. Vo osia rasito raga toureva, uva viapau oavu avuvai. Oire Pauto urauraaro tuepaepa aue ivaraia uukovi. Vara rutuia rupa toupaiva. Oa iava Pauto oisio puraroepa, Aviavia rorove. Oire aviavia rorova.”
English – In the beginning, God created heaven and earth. The earth was formless and empty, and darkness covered the deep water. The spirit of God was hovering over the water. Then God said, “Let there be light!” So there was light.
৭
অবচেতন মনের কাইনেটিক এ্যাকশনঃ এক অলৌকিক শক্তির বিজ্ঞান ও দর্শন
মানুষের মন এক সুবিশাল ও রহস্যময় জগত। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের মনের মাত্র ১০ শতাংশ সচেতন বা ‘কনশাস’, আর বাকি ৯০ শতাংশই অবচেতন বা ‘সাবকনশাস’। এই অবচেতন মন কেবল স্মৃতির ভাণ্ডার নয়, এটি এক প্রচণ্ড শক্তিশালী শক্তির উৎস।
যখন আমরা ‘কাইনেটিক এ্যাকশন’ (Kinetic Action) বা গতিশীল ক্রিয়ার কথা বলি, তখন আমরা আসলে অবচেতন মনের সেই সক্রিয় শক্তিকে বোঝাই যা আমাদের অজান্তেই আমাদের জীবন, শরীর এবং ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
কাইনেটিক এ্যাকশন কী?
পদার্থবিজ্ঞানে ‘কাইনেটিক এনার্জি’ বা গতিশক্তি হলো সেই শক্তি যা কোনো বস্তু তার গতির কারণে অর্জন করে। অবচেতন মনের ক্ষেত্রে ‘কাইনেটিক এ্যাকশন’ হলো ভাবনার সেই রূপান্তর যা চিন্তা থেকে কর্মে বা বাস্তবতায় পরিণত হয়। এটি এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে একটি সুপ্ত চিন্তা বা বিশ্বাস শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তব ক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়।
সহজ কথায়, আপনি যা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, আপনার অবচেতন মন সেই বিশ্বাসকে সফল করার জন্য আপনার শরীর এবং মস্তিষ্ককে দিয়ে এক ধরণের স্বয়ংক্রিয় কাজ করিয়ে নেয়—এটাই অবচেতন মনের কাইনেটিক এ্যাকশন।
আইডিওমোটর রেসপন্সঃ শরীরের ওপর মনের প্রভাব
অবচেতন মনের কাইনেটিক এ্যাকশনের একটি বৈজ্ঞানিক উদাহরণ হলো ‘আইডিওমোটর রেসপন্স’ (Ideomotor Response)। এটি এমন এক শারীরিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো সচেতন সিদ্ধান্ত ছাড়াই পেশিগুলো সাড়া দেয়।
যেমন, আপনি যখন খুব ভয়ের কিছু ভাবেন, তখন আপনার হার্টবিট বেড়ে যায় বা হাত ঘামতে শুরু করে। এখানে আপনার চিন্তা (Idea) সরাসরি শারীরিক গতিতে (Motion) রূপান্তরিত হচ্ছে।
অবচেতন মন আপনার স্নায়ুতন্ত্রের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এই কাইনেটিক প্রভাব তৈরি করে।
অভ্যাস ও স্বয়ংক্রিয় চালিকাশক্তি
আমরা যখন কোনো কাজ বারবার করি, তখন সেটি সচেতন মন থেকে অবচেতন মনে স্থানান্তরিত হয়।
গাড়ি চালানো শেখার সময় আমাদের প্রতিটি গিয়ার বা ব্রেকের কথা ভাবতে হয়। কিন্তু একবার শিখে গেলে অবচেতন মন তার ‘কাইনেটিক এ্যাকশন’ শুরু করে। তখন আপনি পাশে বসে থাকা বন্ধুর সাথে কথা বলছেন, অথচ আপনার হাত ও পা নিখুঁতভাবে গাড়ি চালাচ্ছে।
এখানে অবচেতন মন একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনের মতো কাজ করছে, যা কোনো সচেতন প্রচেষ্টা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন গতি বজায় রাখছে।
সাফল্যের পেছনে অবচেতন মনের গতিশক্তি
পৃথিবীর সফল মানুষদের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের অবচেতন মনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ‘ব্লু-প্রিন্ট’ গেঁথে গিয়েছিল।
যখন অবচেতন মন কোনো লক্ষ্যকে গ্রহণ করে, তখন এটি কাইনেটিক এ্যাকশন মোডে চলে যায়। এটি তখন আপনার চারপাশে এমন সব সুযোগ খুঁজতে শুরু করে যা আপনার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আপনি হয়তো রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, হঠাৎ একটি বিজ্ঞাপনের দিকে আপনার নজর গেল যা আপনার ব্যবসার জন্য প্রয়োজন ছিল—এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়; এটি আপনার অবচেতন মনের কাইনেটিক এ্যাকশন যা আপনার চোখকে সঠিক দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
সুপ্ত শক্তির নেতিবাচক রূপ
কাইনেটিক এ্যাকশন সবসময় যে ইতিবাচক হবে তা নয়। যদি কেউ অবচেতন মনে সারাক্ষণ রোগ, ভয় বা ব্যর্থতার চিন্তা লালন করে, তবে অবচেতন মন সেই নেতিবাচক নির্দেশকেই কার্যকর করতে শুরু করে। একে বলা হয় ‘সাইকোসোম্যাটিক’ প্রভাব।
অবচেতন মনের নেতিবাচক কাইনেটিক এ্যাকশনের ফলে মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে বা বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই অবচেতন মনের এই গতিশীল শক্তিকে সঠিক দিকে চালিত করা অপরিহার্য।
কীভাবে অবচেতন মনের কাইনেটিক এ্যাকশনকে জাগ্রত করবেন?
এই বিশাল শক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার কিছু সুনির্দিষ্ট উপায় রয়েছেঃ
১. অ্যাফারমেশন বা ইতিবাচক স্বগতোক্তিঃ
বারবার নিজেকে ইতিবাচক কথা বলা। যেমন, “আমি সুস্থ এবং আত্মবিশ্বাসী।” এই শব্দগুলো অবচেতন মনে কম্পন সৃষ্টি করে এবং ধীরে ধীরে কাইনেটিক এ্যাকশনে রূপান্তরিত হয়।
২. ভিজ্যুয়ালাইজেশন বা কল্পনাঃ
আপনি যা হতে চান বা যা অর্জন করতে চান, তা স্পষ্টভাবে চোখের সামনে দেখা। অবচেতন মন কল্পনা এবং বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। আপনি যখন গভীরভাবে কোনো দৃশ্য কল্পনা করেন, তখন আপনার অবচেতন মন সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক উদ্দীপনা তৈরি করে।
৩. ধ্যান বা মেডিটেশনঃ
ধ্যানের মাধ্যমে সচেতন মনের কোলাহল শান্ত করলে অবচেতন মনের গভীরে প্রবেশ করা সহজ হয়। শান্ত অবস্থায় দেওয়া নির্দেশগুলো অবচেতন মন দ্রুত গ্রহণ করে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু করে।
৪. ঘুমের আগের সময়টুকু ব্যবহারঃ
ঘুমানোর ঠিক আগের ৫-১০ মিনিট অবচেতন মন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময়ে আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যটি নিয়ে ভাবুন। ঘুমের মধ্যে আপনার অবচেতন মন সেই ভাবনার ওপর কাইনেটিক কাজ চালিয়ে যাবে।
অবচেতন মনের কাইনেটিক এ্যাকশন কোনো জাদু নয়, এটি মনস্তত্ত্ব ও বিজ্ঞানের এক অপূর্ব সমন্বয়। আমাদের জীবনের বর্তমান অবস্থা আমাদের অতীতের অবচেতন চিন্তারই কাইনেটিক ফলাফল।
আমরা যদি আমাদের অবচেতন মনকে একজন দক্ষ নাবিকের মতো পরিচালনা করতে পারি, তবে জীবনের প্রতিকূল স্রোত কাটিয়ে সাফল্যের বন্দরে পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়।
আপনার ভেতরে থাকা এই সুপ্ত আগ্নেয়গিরিকে চিনুন। একে ধ্বংসের জন্য নয়, বরং সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, আপনার অবচেতন মন একটি উর্বর জমি—সেখানে আপনি যা বপন করবেন, কাইনেটিক এ্যাকশনের মাধ্যমে প্রকৃতি আপনাকে ঠিক তাই ফিরিয়ে দেবে।
তাই আজ থেকেই সুন্দর, ইতিবাচক এবং বড় স্বপ্নের বীজ বপন শুরু করুন। আপনার অবচেতন মন আপনার অজান্তেই সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য অবিরাম কাজ করে যাবে। @ মিজানুর রহমান লাবু
৮
লাইফের ২০টি ফ্যাক্ট, যা তিতা হলেও সত্যি...
1. টাকা সব কিছু নয়, কিন্তু সব কিছুর জন্যই টাকার প্রয়োজন হয়: ভালোবাসা বা শান্তি টাকা দিয়ে কেনা যায় না ঠিকই, কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতা ছাড়া জীবন চালানো প্রায় অসম্ভব।
2. চাকরিতে আপনি অপরিহার্য নন: আপনি মারা গেলে বা চাকরি ছাড়লে আপনার অফিস কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কাউকে খুঁজে নেবে। কিন্তু আপনার পরিবারে আপনার শূন্যস্থান কখনোই পূরণ হবে না।
3. মানুষ আপনার ব্যক্তিত্বের চেয়ে পদের সম্মান বেশি করে: আপনার পদ বা সামর্থ্য না থাকলে দেখবেন অনেক তথাকথিত আপন মানুষও দূরে সরে গেছে।
4. সবাইকে খুশি করা অসম্ভব: আপনি যতই ভালো কাজ করুন না কেন, কেউ না কেউ আপনার সমালোচনা করবেই। সবাইকে খুশি করতে যাওয়া মানে নিজেকে হারিয়ে ফেলা।
5. অতিরিক্ত আবেগ ক্ষতির কারণ: জীবন বাস্তবতায় চলে, আবেগ দিয়ে নয়। আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই মানুষকে বেশি ভোগায়।
6. ডিগ্রি মানেই যোগ্যতা নয়: সার্টিফিকেট আপনাকে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা এবং ব্যবহারই আপনার আসল পরিচয় দেবে।
7. একাকীত্বই শেষ সত্য: দিনশেষে মানুষ একা। নিজের সমস্যাগুলো নিজেকেই সমাধান করতে হয়, অন্য কেউ শুধু সান্ত্বনাই দিতে পারে।
8. সুস্থতা সবচেয়ে বড় নেয়ামত: অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমরা শরীরের যত্ন নিই না। কিন্তু স্বাস্থ্য চলে গেলে পৃথিবীর সব সম্পদই তুচ্ছ মনে হয়।
9. সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না: আজ যা করার সুযোগ আছে, তা কালকের জন্য ফেলে রাখলে পরে শুধু আফসোসই থেকে যায়।
10. বেশি বিশ্বাস মানুষকে দুর্বল করে: অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করা মানে নিজের ধ্বংসের পথ নিজেই তৈরি করা। মানুষের রূপ বদলাতে সময় লাগে না।
11. মানুষ আপনার কষ্ট দেখে না, সফলতা দেখে: আপনি কতটা পরিশ্রম করেছেন বা কতটা কষ্টে আছেন তা কেউ দেখবে না, সবাই শুধু দেখবে আপনি সফল হয়েছেন কি না।
12. অতীত আঁকড়ে ধরা মানে বর্তমান নষ্ট করা: যা চলে গেছে তা আর ফিরে আসবে না। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে বর্তমানের আনন্দগুলোও মাটি হয়ে যায়।
13. পরিবারই একমাত্র আশ্রয়: বিপদের সময় বন্ধু-বান্ধব অনেকেই সটকে পড়ে, কিন্তু দিনশেষে পরিবারই পাশে দাঁড়ায়—যতই তিক্ততা থাকুক না কেন।
14. অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই: জীবন আপনার, তাই দায়িত্বও আপনার। অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে বা অভিযোগ করে কোনোদিন অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
15. হিংসা নিজের শান্তি নষ্ট করে: অন্যের উন্নতি দেখে হিংসা করা মানে নিজের সৃজনশীলতাকে গলা টিপে হত্যা করা।
16. সহজলভ্য মানুষের মূল্য কম: আপনি যখন সবার জন্য সবসময় উপস্থিত থাকবেন, মানুষ আপনাকে অবহেলা করতে শুরু করবে।
17. শিক্ষা সারাজীবনের প্রক্রিয়া: পড়াশোনা শেষ করলেই শেখা শেষ হয় না। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শিখতে না পারলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না।
18. নীরবতা অনেক সময় তর্কের চেয়ে ভালো: সব কথার উত্তর দিতে নেই। কিছু ক্ষেত্রে নীরব থাকাটাই সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।
19. নিজের ভালো নিজেকেই বুঝতে হবে: আপনি যদি নিজের ভালো না বোঝেন, তবে অন্য কেউ আপনাকে ব্যবহার করে নিজের ফায়দা লুটবে।
20. মৃত্যুই একমাত্র অবধারিত সত্য: আমরা যতই পরিকল্পনা করি না কেন, একদিন সব ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই যা কিছু করার, এখনই করা উচিত।
এই সত্যগুলো মেনে নিতে পারলে জীবনটা একটু সহজ মনে হতে পারে। বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই হলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ। @ লক্ষপথ
৯
সেপিওসেক্সুয়াল (Sapiosexual) হলেন এমন ব্যক্তি, যারা শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তা, মেধা, প্রজ্ঞা এবং চিন্তাশক্তির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। এরা শারীরিক আকর্ষণের বদলে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে গভীর সম্পর্ক বা যৌন উত্তেজনা অনুভব করেন।
ল্যাটিন শব্দ 'sapien' (জ্ঞানী) থেকে এই শব্দের উৎপত্তি, একে বাংলায় 'ধীকামীতা'-ও বলা হয় ।
স্যাপিওসেক্সুয়ালকে "বুদ্ধিমত্তার প্রতি যৌন আকর্ষণ" দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। অর্থাৎ কোন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও যৌনতার অনুভূতি যদি বুদ্ধিমত্তা থেকে আসে তবে তাদেরকে স্যাপিওসেক্সুয়াল বলে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ শারীরিক সৌন্দর্য ও চেহারা দেখে কারোর প্রেমে পড়ে। কিন্তু স্যাপিওসেক্সুয়ালরা কেবলমাত্র মেধা ও বুদ্ধি দিয়েই মানুষকে বিচার করে। শারীরিক সৌন্দর্যের প্রতি তাদের আকর্ষণ সাময়িক।
সায়েন্স ডিরেক্টের এক গবেষণা মতে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ স্যাপিওসেক্সুয়াল হয়। তাছাড়া বেশিরভাগ সমকামী, বাইসেক্সুয়াল, হেটেরোসেক্সুয়াল, অ্যাসেক্সুয়াল মানুষ নিজেকে স্যাপিওসেক্সুয়াল বলে দাবী করেন।
সেপিওসেক্সুয়ালিটির মূল বৈশিষ্ট্য:
--------------------------------------------
মেধার প্রতি আকর্ষণ: বুদ্ধিদীপ্ত কথোপকথন, জ্ঞান এবং সৃজনশীলতা তাদের কাছে আকর্ষণীয় ।
বাহ্যিক সৌন্দর্য গৌণ: মানুষের চেহারার চেয়ে মনন ও চিন্তা জগত তাদের বেশি মুগ্ধ করে।
গভীর সংযোগ: এরা গভীর, অর্থপূর্ণ এবং বৌদ্ধিক আলোচনার মাধ্যমে কারো সাথে সম্পর্কে জড়াতে পছন্দ করেন।
পছন্দ বা অভিযোজন: এটি অনেকেই যৌন পছন্দ (Preference) বা অভিযোজন (Orientation) হিসেবে মনে করেন, যেখানে বুদ্ধিই প্রধান আকর্ষণ।
বোকামি বা অযৌক্তিক কথা বলা মানুষ স্যাপিওদের পছন্দ না। পাশাপাশি যারা অল্পতেই রাগ দেখান, চিৎকার-চেচামেচি করেন, পরিস্থিতি শান্তভাবে সামলাতে পারেন না তারা স্যাপিওদের অপছন্দের কাতারে পড়ে।
স্যাপিওরা নিজের সঙ্গীকে নিয়ে যত বেশি জানতে পারেন তাদের প্রতি আকর্ষণ তত বেশি বৃদ্ধি পায়। সঙ্গীর সাথে গঠনমূলক বিষয়ে আলোচনা তাদেরকে যৌন মিলনের মতো আনন্দ দেয়।
স্যাপিওসেক্সুয়ালরা নিজের সঙ্গীর সাথে বিতর্ক করে বেশ আনন্দ পান। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আলোচনা তাদের পছন্দ না। তারা নিজের সঙ্গীর সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন।
ধীকামী এইসব মানুষ অনেকটা বাঁচাল স্বভাবের হন। যেকোন বিষয়ে বিষদ আলোচনা, প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন তারা। কম কথা বলা মানুষ তাদের অপছন্দ। পাশাপাশি স্যাপিওরা জ্ঞান আরোহনের প্রতি আগ্রহী।
যেকোনো ব্যাকরণগত ভুল, বানানের ভুল স্যাপিওরা অপছন্দ করেন এবং তাদের মাঝে খুঁতখুঁতে স্বভাব দেখা যায়। স্যাপিওরা যথেষ্ট রসিক হয় কিন্তু অযৌক্তিক রসিকতা তাদের বিরক্ত করে তুলে।
স্যাপিওসেক্সুয়ালদের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা পছন্দ না, তাদের বন্ধু ও প্রেমের সংখ্যা কম। তাই বেশিরভাগ মানুষই তাদেরকে অহঙ্কারী ভাবেন।
স্যাপিওসেক্সুয়ালরা সহজে প্রেমে পড়েন না। তারা প্রথমে বন্ধুত্বের মাধ্যমে মানসিক সংযোগ খোঁজেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি বৌদ্ধিকভাবে মিল খুঁজে পান, তবেই প্রেমের সূচনা ঘটে। শারীরিক আকর্ষণ তাদের কাছে দ্বিতীয়, কারণ সেটি তারা ক্ষণস্থায়ী মনে করেন।
তারা ঘৃণা করেন চিৎকার-চেঁচামেচি, আবেগের বিস্ফোরণ বা শিশুসুলভ বোকামি। বরং তারা ভালোবাসেন সেই মানুষদের, যারা নিজের অনুভূতি যুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারেন, যারা জটিল পরিস্থিতিতেও শান্ত থাকেন এবং গঠনমূলকভাবে সমাধান খোঁজেন।
স্যাপিওদের বন্ধুবলয় সাধারণত ছোট হয়। তারা সব মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন না। প্রেমের সম্পর্কের সংখ্যাও খুব সীমিত। এতে অনেকে তাদের অহংকারী বা দূরবর্তী মনে করলেও, আদতে তারা নিজস্ব মূল্যবোধে স্থির থাকেন।
বিজ্ঞান কী বলে?
------------------------
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অংশ যেমন prefrontal cortex বা temporal lobe—বিশেষভাবে সক্রিয় হয় যখন কেউ স্যাপিওসেক্সুয়াল বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। মেধা এবং বিশ্লেষণধর্মী আলোচনার সময় ডোপামিন ও অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, যা প্রেমের অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
সমাজে এই পরিচয় নিয়ে বিতর্ক:
--------------------------------------------
ইলিটিজম বা আত্মগর্বের অভিযোগ:
অনেকে মনে করেন স্যাপিওসেক্সুয়াল শব্দটি কিছুটা অহংকারসূচক বা আত্মম্ভরিতা প্রকাশ করে, যেমন “আমি শুধু বুদ্ধিমান মানুষদের ভালোবাসি” — এটা যেন অন্যদের অবজ্ঞা।
তবে এটাও সত্য:
প্রত্যেকেই ভিন্নরকমভাবে আকৃষ্ট হয়—কেউ সৌন্দর্যে, কেউ ভদ্রতায়, কেউ আবেগে, কেউ বুদ্ধিমত্তায়। স্যাপিওসেক্সুয়ালতাও সেই আকর্ষণেরই একটি ধরন
শেষ কথা:
একজন স্যাপিওসেক্সুয়ালের প্রেম শুধু সম্পর্ক নয়, একটি মানসিক যাত্রা। যেখানে শারীরিক আকর্ষণ নয়, বরং চিন্তার গভীরতা, আত্মিক সংযোগ এবং যুক্তিবোধই মূল রসদ।
আপনি যদি কখনো বুঝে থাকেন, কারো বুদ্ধিদীপ্ত কথায় আপনার মন হারিয়ে গেছে, তাহলে আপনি সম্ভবত স্যাপিওসেক্সুয়াল।
চেহারা একদিন বুড়িয়ে যাবে, কিন্তু মগজের আকর্ষণ অমর।
তাই বলতেই হয় — Beauty fades, but intelligence lasts!
চেহারার প্রেম ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু বুদ্ধির প্রেম—অমর।
মনিরা হক
১০
আপনি কি সারাদিন ব্যস্ততায় পানি খেতে ভুলে যান? তাহলে এখনই সতর্ক হন!
পানি কম খেলে কি কি বিপদ হতে পারে:
শরীরে পানির অভাব হলে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
সারাদিন ঝিমুনি ভাব আর এনার্জি না পাওয়ার প্রধান কারণ হতে পারে ডিহাইড্রেশন।
পানি কম খেলে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায় এবং দ্রুত বলিরেখা পড়ে।
মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত পানি পায় না, ফলে সারাক্ষণ অস্বস্তি লাগে।
মাথাব্যথা আর ক্লান্তি লেগেই থাকে।
ত্বক শুকিয়ে যায়, ঠোঁট ফাটে, চেহারা নিষ্প্রভ হয়ে যায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখে দুর্গন্ধ, এমনকি উচ্চ রক্তচাপও হতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে, মনোযোগ নষ্ট হয়।
দীর্ঘদিন চললে জয়েন্ট পেইন, অ্যালার্জি আর ইমিউনিটিও দুর্বল হয়।
ভাবছেন—এগুলো ছোটখাটো সমস্যা? না! এগুলোই বড় রোগের শুরু।
সুস্থ থাকতে আজই যা করবেন:
দিনে অন্তত ৭–৮ গ্লাস পানি পান করার লক্ষ্য রাখুন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খান।
বাইরে গেলে পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
তেষ্টা না পেলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
গরমে বেশি ঘাম হলে পানি আরও বাড়ান।
খাবারে রাখুন শসা, তরমুজ, ডাবের পানি– প্রাকৃতিক হাইড্রেশন। @ বিশ্ব দর্শন
১১
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর
মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর ব্রিটিশ শাসিত বার্মার (বর্তমান মায়ানমার) রেঙ্গুনে নির্বাসিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় বাহাদুর শাহ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তবে ভারতীয়দের পরাজয় ঘটে এবং বাহাদুর শাহ ব্রিটিশদের হাতে বন্দী হন ও তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
দিল্লিতে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের এক রক্তক্ষয়ী সমাপ্তি ঘটে। দিল্লির ৮১ বছর বয়সী মুঘল শাসক বাহাদুর শাহ জাফরকে নেতা মেনে স্বাধীনতাকামীরা বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিলেন। এই স্বাধীনতা যুদ্ধে মুসলিম এবং হিন্দু—উভয় সম্প্রদায়ই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছিল।
উইলিয়াম ডালরিম্পল লিখেছেন:
> "নিহতদের মধ্যে দিল্লির বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান কবি ও শিল্পী ছিলেন। জহির দেহলভি লিখেছেন, 'তারা ছিলেন দিল্লির সুপরিচিত এবং সম্পদশালী মানুষ, যারা ছিলেন দিল্লির গর্ব। তাদের সময়ে তাদের কোনো সমকক্ষ ছিল না, ভবিষ্যতেও আমরা তাদের মতো কাউকে আর দেখব না'।"
>
দিল্লির শেষ রাজা বাহাদুর শাহ জাফর হুমায়ুনের সমাধিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকেও তাকে বন্দী করা হয় (ছবিতে যেমন দেখা যাচ্ছে)। বিজিত শহরটি—যা ছিল হিন্দুস্তানের প্রাচীন রাজধানী এবং মুঘলদের এক মহান মহানগরী—তা তখন পরিণত হয়েছিল এক জনশূন্য নিস্তব্ধ নগরীতে।
বিচারের পর বাহাদুর শাহ জাফরকে বার্মার রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়, যেখানে ১৮৬২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। এর ঠিক পরের দিন, ২১ সেপ্টেম্বর, উইলিয়াম হডসন নিজের ক্ষমতাবলে সম্রাটের দুই পুত্র মির্জা মুঘল ও মির্জা খিজর এবং নাতি মির্জা আবু বকরকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেন। লাল কেল্লা থেকে প্রায় ৩ কিমি দূরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, যা পরবর্তীকালে 'খুনি দরওয়াজা' বা রক্তক্ষয়ী ফটক নামে পরিচিতি পায়।
**উৎস:** *দ্য লাস্ট মুঘল: দ্য ফল অফ আ ডাইনেস্টি: দিল্লি, ১৮৫৭* — উইলিয়াম ডালরিম্পল। @ ইতিহাসের অধ্যায়
১২
ভালো ঘুমের জন্য কিছু টিপ্স-
১. সকালে কিছুক্ষণ সূর্যের আলোতে থাকা-সকালে অন্তত ১৫ মিনিট সূর্যের আলো তে থাকলে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক থাকে। এতে মেলাটোনিন ঠিক সময়ে নিঃসৃত হয়।
২. সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন ইন্টেইক না করা-ক্যাফেইন শরীরে ৬–৮ ঘণ্টা এক্টিভ থাকে। বিকেল ৪টার পর কফি, চা, এনার্জি ড্রিংক না খাওয়া বেটার অপশন।
৩. ভালো ঘুমের জন্য ডায়েটে কিছু খাবার এড করতে পারেন-
• গরম দুধ: এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান ও ক্যালসিয়াম মেলাটোনিন তৈরিতে সাহায্য করে।
• পাম্পকিন সিডস: ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কে ভরপুর। যা সেরোটোনিন বাড়ায় এবং পরে মেলাটোনিনে কনভার্ট হয়।
• ক্যামোমাইল টি: এতে থাকা অ্যাপিজেনিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নার্ভ ঠান্ডা রাখে+ ব্রেইনে ঘুমের সিগন্যাল দেয়।
• ডিম: এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান ও ভিটামিন B6 ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
• বাদাম (আখরোট)- বাদাম প্রাকৃতিক মেলাটোনিন ও ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর, যা ব্রেইনকে ঠান্ডা রাখে।
৪. গাট হেলথের যত্ন নেয়া- শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন আমাদের গাটে তৈরি হয়। তাই দই, ফারমেন্টেড ফুড, ফাইবার ও প্রোবায়োটিক খাবার যেমন দই, কিমচি, কেফির এগুলোর যে কোন একটা নিয়মিত খাবারের তালিকায় যোগ করা। আইবিএস থাকলে একটা ভালো প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট নেয়া।
৫. রাতের খাবার তাড়াতাড়ি সেরে ফেলা।
৬.ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা- আপনি কি জানেন প্রোটিনের ঘাটতি ঘুম নষ্ট করে দিতে পারে? দিনে প্রোটিন কম খেলে সেরোটোনিন কমে যায়, মুড খারাপ হয় এবং ঘুমে অনেক বড় প্রভাব ফেলে। তাই খাবারে মাছ, ডিম, ডাল, টোফু বা মুরগি রাখা উচিৎ।
৮. চিনি + হাই স্যুগারি ফুড বর্জন করা- অতিরিক্ত চিনি বা স্যুগারি ফুড আপনার শরীরে ইনসুলিন স্পাইক দিতে থাকে সাথে ব্লাড সুগার আপডাউন বাড়াতে পারে। যার জন্য কর্টিসল একটিভ থাকে। ঘুমে সমস্যা হয়।
৯. হাইড্রেশন ঠিক রাখা তবে সন্ধ্যার পরে পানির পরিমান কমিয়ে দেয়া।
সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করে সন্ধ্যার পরে অতিরিক্ত পানি পান থেকে বিরত থাকলে , রাতে বারবার বাথরুমে গিয়ে ঘুম ভাঙবে না।
১০.ঘুমের আগে স্ক্রিনটাইম কমানো বা রিলস না দেখা-মোবাইলের ব্লু লাইট মেলাটোনিন নিঃসরণ কমিয়ে দিতে পারে। ঘুমানোর অন্তত ৯০ মিনিট আগে ফোন, টিভি, ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা উচিত।
১১. ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে ঘুমাতে যাওয়া- ঘরে আলো কমিয়ে একটা সাউন্ড পরিবেশ তৈরি করা। ঘুমের জন্য হালকা স্মেল বেশ ভালো কাজ করে। সেন্টেড ক্যান্ডেল বা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যাবহার করা যেতে পারে৷ হালকা সুবাস (যেমন ল্যাভেন্ডার) বা মৃদু আলো ব্যবহার করতে পারো।
১২. দিনে হাঁটা বা হালকা এক্সারসাইজ করলে রাতে ঘুম গভীর হয়।
১৩.ঘুমের আগে ৫ মিনিট ব্রিদিং এক্সারসাইজ, জিকির, বা মেডিটেশন করতে পারেন।এটা টেনশন রিলিফ করে মনকে শান্ত করে। টেনশন কমলে ঘুম নিজে থেকেই আসে।
১৪. ঘুমাতে যাবার আগে গোসল করতে পারেন। এতে ফ্রেশ ফীল হয়। ঘুম আসে।
১৫. এবং সবশেষে সবথেকে ইমপর্টেন্ট ব্যাপার -ঘুমের জন্য একটা নির্দিষ্ট রুটিন ফলো করা। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠা শরীরকে সিগনাল দিতে থাকে— “এখন বিশ্রামের সময়"। এটা আপনার ঘুম আনতে হেল্প করে।
ভালো ঘুম মানে কিন্তু শুধু ফ্রেশ থাকা নয় —
ঘুম ঠিক থাকলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে, ফ্যাট বার্নিং বৃদ্ধি পায়, কর্টিসল কমে,
স্ট্রেস কমে,মুড ভালো থাকে। শরীরের হরমোনাল ব্যালেন্স ফিরে আসে।
Sumya Shila
Clinical Nutritionist and Diet Consultant
Child & Reproductive Nutrition Consultant,
KGN Medicare Limited (Dhanmondi)
পিঁপড়া একটি খুবই ক্ষুদ্র প্রাণী। কিন্তু তাদের কাজের ক্ষমতা বিশাল! তারা নিজেদের ওজনের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ গুণ পর্যন্ত বেশি ওজন বহন করতে পারে। আর এই ছোট্ট পিঁপড়ারা মাটির নিচে গড়ে তোলে এক জটিল ও সুপরিকল্পিত শহর।
তাদের এই মাটির নিচের বাসায় থাকে রানী পিঁপড়ার জন্য আলাদা ঘর, লার্ভাদের যত্ন নেওয়ার কক্ষ, খাবার মজুত করার ভাণ্ডার, এমনকি তাদের নিজেদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আলাদা জায়গাও! ভাবুন তো, তারা এত ক্ষুদ্র হয়েও কীভাবে এমন জটিল জগত তৈরি করে?
১৩
কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন
নদীর পাশে ছোট্ট একটা জলাশয়। সেই জলাশয়ে বাস করতো তিন মাছ। প্রথম মাছটি খুব বুদ্ধিমান। নাম তার চারচোখা। পরেরটি অল্প বুদ্ধিমান। নাম তার উচুচোখা। শেষেরটি একেবারেই নির্বোধ। নাম তার পদ্মলোচন।
একদিন সকালে সেই জলাশয়ের পাড়ে কিছু জেলে আসে তাদের জাল নিয়ে। মাছ তিনটি তখন মনের আনন্দে সাঁতার কাটছিল। জেলেদের দেখে চারচোখা মাছটি অন্য দুই মাছের সাথে কোন কথা না বলেই সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয়, পালতে হবে। সে মনে মনে ভাবলো, আমার এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ওই দুই মাছের সাথে আলোচনা অর্থহীন, তারা শুধু আমাকে বিভ্রান্ত করে দেবে। কারণ ওই মাছ দুটো না পালানোর পক্ষে যুক্তি সাজাবে। কারণ তারা এই জলাশয়কে খুব ভালবাসে।
বুদ্ধিমান মাছটি নিজের মনে বলল, একটুও সময় নষ্ট করা উচিত হবে না, বরং সরে যাওয়াই সঠিক কাজ হবে। এই ভেবে সে জলাশয় থেকে চুপিসারে এক লাফে চলে গেল। তারপর দ্রুত সাঁতার দিয়ে পাশের নদীতে চলে গেল।
অল্প বুদ্ধিমান মাছ উচুচোখা একটু পর টের পেল চারচোখা পালিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সে ভাবলো আমারও পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমি তা করিনি। এখন তো পালানোর উপায় নেই আর, জেলেরা একদম কাছে চলে এসেছে। কিভাবে আমি এই জেলেদের জাল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি। হঠাৎ তার মনে পড়ল, চারচোখা তাকে শিখিয়েছিল কী করে মরা মাছের ভান করতে হয়। তাই ভেবে সে তার পেট উপরের দিকে রেখে পানির জলের ঢেউয়ের সাথে নিজেকে ছেড়ে দিল।
এক জেলে মরা মাছ ভেবে সে মাছটিকে পানির ঝাপ্টায় পাশের নালার দিকে দিল। উচু চোকা মাছটি নালার পানিতে মিলিয়ে গেল।
তৃতীয় নির্বোধ মাছ পদ্মলোচন নিজের বিপদ সম্পর্কে নিজে সম্পূর্ণ উদাসীন। যখন জেলেরা জলাশয়ে জাল ফেলল, তখন সে উত্তেজিত হয়ে লাফাতে লাগলো, কিন্তু শীঘ্রই জেলেদের জালে সে বন্দি হল। যখন সে জেলেদের জালে বন্দি হল তখন সে নিজের মনে বলল, আমি যদি এখান থেকে মুক্ত হতে পারি, আমি কখনই আর ওই জলাশয়ে বাস করব না। কিন্তু ক্ষণিক বাদে জ্বলন্ত উনুনের উপর লোহার কড়াইতে তাকে ভাজা হল।
জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থা ওই নির্বোধ মাছ পদ্মলোচনের মতোই, চোখ নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই না আমাদের পদ্মলোচন কিন্তু অদুরদর্শিতার কারণে আমাদের জন্য জ্বলন্ত উনুন অপেক্ষা করছে কিন্তু কিছুতেই আমরা টের পাচ্ছি না। ©রাজিক হাসান
অনেকেই ভুল মানুষের সাথে অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেলে। ভুল জায়গায় থেকে যায়, যেখানে তারা আসলে কখনোই fit করত না। পরে তারা ভাবে, “আরও আগে বের হয়ে আসা উচিত ছিল…” “কেন এতদিন সহ্য করলাম?” জীবনের অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে গেল।
কিন্তু একটু অন্যভাবে দেখলে, অন্য কিছু বুঝা যায়। হ্যাঁ, আপনি সময় নষ্ট করেছেন। কিন্তু আপনি পুরো জীবনটা তো নষ্ট করেননি।
আপনি বুঝতে পেরেছেন, কোনটা আপনার জন্য না, কোন ধরণের মানুষ বা জায়গা আপনাকে ছোট করে।
অনেক মানুষ পুরো জীবনটাই ভুল জায়গায় কাটিয়ে দেয়, কখনো বের হয় না অথবা হতে পারে না। আপনি অন্তত বের হয়ে এসেছেন, অন্তত বুঝতে পেরেছেন।
তাই শুধু regret না করে, একটু thankful হওয়াটাও জরুরি, কারণ আপনি সময় হারিয়েছেন, কিন্তু নিজেকে হারাননি।
১৪
পড়াশোনায় ভালো করার ১০ উপায়
পড়াশোনায় ভালো ফল অর্জনের জন্য শুধু বেশি সময় ব্যয় করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতি, পরিকল্পনা এবং নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা। মনোযোগ ধরে রাখা, সময় ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা—এসব মিলেই শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে। আজকের আলোচনা এসব নিয়েই।
সঠিক স্থান নির্বাচন
কার্যকরভাবে পড়াশোনার জন্য প্রথমে দরকার উপযুক্ত পরিবেশ। এমন একটি জায়গা নির্বাচন করুন, যেখানে বিঘ্ন কম এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। স্কুল বা পাবলিক লাইব্রেরি, কফিশপ কিংবা নিজের বাসার নিরিবিলি একটি কোণ—যেকোনো স্থানই হতে পারে উপযোগী। নিজের জন্য কোন পরিবেশটি সবচেয়ে কার্যকর, তা বুঝতে কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে।
মনোযোগে বিঘ্ন কমানো
ভালো জায়গা নির্বাচন করলেও মনোযোগে বিঘ্ন আসতে পারে। এসব থেকে দূরে থাকতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। যেমন অপ্রয়োজনীয় ওয়াই-ফাই বা ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, মোবাইলের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা বা ফোন দূরে রাখা। প্রয়োজনে বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা করলে পারস্পরিক মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।
পড়ার সময় নির্ধারণ করুন
পড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করলে বিরতি নেওয়াও সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত বিরতি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, মনোযোগ উন্নত করে ও শক্তি বাড়ায়। একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো প্রায় ৫০ মিনিট পড়া, এরপর ১৫-২০ মিনিট বিরতি নেওয়া। বিরতিতে হাঁটাহাঁটি, গান শোনা, বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা, স্ট্রেচিং, মেডিটেশন, হালকা খাবার খাওয়া, গোসল করা, ঘর বা ডেস্ক গুছানো ইত্যাদি করতে পারেন।
বিরতি দিয়ে পড়াশোনা
একটানা দীর্ঘ সময় পড়ার চেয়ে বিরতি দিয়ে পড়াশোনা বেশি কার্যকর। এতে শেখা বিষয় দীর্ঘ সময় মনে থাকে। পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তে চাপ না নিয়ে আগেভাগেই নিয়মিত রিভিশন করা উত্তম।
নিজেকে উৎসাহিত করা
ছোট ছোট অর্জনের পর নিজেকে পুরস্কৃত করা অনুপ্রেরণা বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন প্রিয় খাবার খাওয়া, চা-কফি পান, ছোট গেম খেলা বা প্রিয় কোনো অনুষ্ঠান দেখা। বড় লক্ষ্য পূরণে বড় ধরনের পুরস্কারও রাখা যেতে পারে।
গ্রুপ স্টাডি
গ্রুপে পড়াশোনা করলে জটিল বিষয় সহজে বোঝা যায় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ে। পাশাপাশি এটি দায়িত্ববোধ তৈরি করে এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শেখার সুযোগ দেয়। অন্যকে বোঝানোর মাধ্যমে নিজের ধারণাও আরও দৃঢ় হয়।
অনুশীলনী পরীক্ষা
নিজেকে যাচাই করার অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হলো অনুশীলনী পরীক্ষা। ফ্ল্যাশকার্ড তৈরি, প্রশ্ন অনুশীলন, অনলাইন কুইজ বা বন্ধুদের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া—এসব পদ্ধতি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং দুর্বলতা চিহ্নিত করে।
সহায়তা নেওয়া
কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষক, সহপাঠী বা অনলাইন রিসোর্সের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে টিউটরের সহায়তাও কার্যকর হতে পারে। আধুনিক সময়ে এআই ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শেখাকে আরও সহজ করে তুলেছে।
নিজের যত্ন
ব্যস্ত পড়াশোনার মধ্যেও শারীরিক যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত সাত-আট ঘণ্টা ঘুম, সুষম খাবার ব্যায়ামে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফল, সবজি, বাদাম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
মানসিক সুস্থতা
শেখার প্রক্রিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানসিক স্বাস্থ্য চাপ কমায়, প্রোডাকটিভিটি বাড়ায় এবং জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সামাজিক যোগাযোগ, মেডিটেশন ও কৃতজ্ঞতা চর্চা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সঠিক অভ্যাস ও পরিকল্পনা অনুসরণ করলে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই নয়, দীর্ঘ মেয়াদে শেখার দক্ষতা ও স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়। এভাবেই গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। @ জানা-অজানা
সূত্র: কোর্সেরা
১৫
আচ্ছা আপনি যখন হেলথি লাইফস্টাইল অনুসরণ করার কথা ভাবেন তখন সর্বপ্রথম কি করার কথা মাথায় আসে?
উত্তর হচ্ছে হাটাহাটি করার কথা তাই নই কি!
বেশিরভাগ মানুষ এই ক্ষেত্রে ঘুম থেকে ওঠে প্রথমে হাটেন আবার যারা চাকরিজীবি তারা অফিস থেকে এসে বিকেলে বা সন্ধ্যায় হাটেন।
তারা মনে করেন হাটাহাটি অনেক উপকারী একটা এক্সারসাইজ এটাই কেপিটালিজম হেলথ ইন্ডাস্ট্রি বার বার সামনে আনে।
অবশ্যই আনবে না বা কেন?কারণ এর ফলে আপনার শরিরে জন্য বেনিফেট তো হয় না ওল্টা অতিরিক্ত কার্ডিওর ফলে কর্টিসল রিলিজ হয়ে আপনার বডির সৌন্দর্যের ভিত্তি মাসেল কে ভেংগে ফেলে কিন্তু ভুড়ি বা চর্বি ১ ইঞ্চিও কমাই না।
আপনি ঘরে রান্না করেন,জামা কাপড় ফ্রেশ করেন, গোসল করেন এইগুলো যেমন নরমাল থিং হাটাহাটি ও তেমন এর আলাদা কোন এক্সট্রা বেনিফিট নেই।
তাই যারা শুধু হাটাহাটি করে তাদের খেয়াল করে দেখবেন তাদের হাত পা চিকন কিন্তু পেট অনেক বড়।
এইবার চলেন হাটাহাটির একটু সার্জারি করা যাক,
১ মিনিট হাটলে মাত্র লস হয় ৪ ক্যালরি।
তাহলে সে হিসেবে ৩০ মিনিট হাটলে হবে (৩০×৪) = ১২০ ক্যালরি।
আপনি শুনলে অবার হবেন যে মাত্র একটা নরমাল একটা আটার রুটিতে থাকে ৯০ ক্যালরি
তার মানে মাত্র ১ পিস আটার রুটি খেলে হাটাহাটির ৪ ভাগের ৩ ভাগ বেনিফিট শেষ হয়ে গেল, আফসোস!
কোন লাভ হল বলেন?উত্তর, না হল না।
তাহলে কেন বোকার মত শুধু হাটাহাটি করেন?আমি বলব ফেট লসের জন্য রেজিস্টেন্স ট্রেনিং বা ওয়েট ট্রেনিং করার কথা কারণ,
শুধুমাত্র ১ মিনিট রেজিস্টেন্স ট্রেনিং
(পুশ আপ,পুল আপ, স্কোয়াট) এ খরচ হয় ৮ থেকে ১৫ ক্যালরির কাছাকাছি।
শুধু তাই না এক্সারসাইজ শেষ হওয়ার পর কয়েকঘন্টা কিছু না করে বসে থাকলে ক্যালরি পোড়া শেষ হবে না চলতেই থাকবে চলতেই থাকবে।
কারণ EPOC (Excess post exercise oxygen consumption) এফেক্ট এর জন্য।
(বিস্তারিত এই বিষয় এ কোন একদিন বলা যাবে যদি জানতে চান আরকি)
সাথে ফেট বার্নিং এর পাশাপাশি মাসেল ও ক্ষয় হতে দেই না আর প্রোটিন ইনটেক ভাল রাখলে মাসেল ও শক্তিশালী আর বৃদ্ধি পাবেন।
তাই অহেতুক হাটাহাটি মত নরমাল মুভমেন্ট কার্ডিও করে কর্টিসল কে ইনভাইট না করে রেজিস্টেন্স ট্রেনিং করে ছেলেদের টেস্টোস্টেরন আর মেয়েদের ইস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টোরন কে ইনভাইট দেন।
আর হেলথি ও শক্তিশালী লাইফস্টাইল লিড করেন
আপনি মহিলা বা পুরুষ হন আজ থেকেই শুরু করে দেন পুশআপ,পুলআপ,স্কোয়াট যত টা পারেন। @ Captain Green
১৬
২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (মূলত মণিপুর ও মিজোরাম) থেকে প্রায় ২৪০ জন বনি মেনাশে (Bnei Menashe) সম্প্রদায়ের সদস্য ইসরায়েলে পাড়ি জমিয়েছেন। এটি ইসরায়েল সরকারের "উইংস অফ ডন" (Wings of Dawn) বা "অপারেশন কাইন্ডনেস" নামক একটি বিশেষ পরিকল্পনার অংশ।
এই অভিবাসীদের একাংশকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল (গ্যালিলি অঞ্চল) এবং দখলকৃত ওয়েস্ট ব্যাংকের সেটেলমেন্টে স্থাপন করা হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ইসরায়েলের হারিয়ে যাওয়া ১০টি গোষ্ঠীর (Ten Lost Tribes) বংশধর বলে দাবি করেন এবং এর আগেও প্রায় ৪,০০০ জন ইসরায়েলে পাড়ি জমিয়েছেন। বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক পরীক্ষা নিরীক্ষা ও জেনেটিক প্রোফাইলিং করে ইহুদি পন্ডিতরা তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন।
ভারতে ১৩০৪ বছর ধরে বসবাস করে আসছে হাজার হাজার ইহুদি জাতির একটা গোষ্ঠীর মানুষেরা । ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী ‘ব’নেই মেনাশে’ (B’nei Menashe) সেই ধরনেরই এক বিরল নৃগোষ্ঠী, যাদের ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস ও অভিবাসনের কাহিনি বিশ্বজুড়ে গবেষক ও ইতিহাসবিদদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে । “ব’নেই মেনাশে” শব্দটি হিব্রু ভাষা থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘মনঃশির সন্তানরা’ । তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তারা প্রাচীন ইসরায়েলের ‘মনঃশি’ (Manasseh) গোত্রের বংশধর, যা বাইবেলের বর্ণিত ‘হারানো দশটি ইহুদি উপজাতি’র অন্যতম ।
এই জনগোষ্ঠীর মূল আবাসভূমি ভারতের মণিপুর ও মিজোরাম রাজ্যে বিস্তৃত, যেখানে তারা কুকি, মিজো ও চিন উপজাতির অন্তর্গত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে । ঐতিহাসিকভাবে তারা স্থানীয় প্রথা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, তাদের মধ্যে এমন কিছু ধর্মীয় আচরণ ও বিশ্বাস লক্ষ্য করা যায়, যা ইহুদি ধর্মের সঙ্গে বিস্ময়কর মিল বহন করে । এই মিলই তাদের আত্মপরিচয়ের দাবিকে শক্তিশালী করেছে এবং তাদের ইতিহাসকে ঘিরে এক গভীর অনুসন্ধানের জন্ম দিয়েছে ।
ব’নেই মেনাশে জনগোষ্ঠীর ইতিহাসের সূত্রপাত নিয়ে নানা মতভেদ থাকলেও তাদের নিজস্ব মৌখিক ঐতিহ্য এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয় । তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ অব্দে আসিরীয় সাম্রাজ্যের হাতে প্রাচীন ইসরায়েল রাজ্যের পতনের পর মনঃশি গোত্রের মানুষরা তাদের নিজভূমি থেকে বিতাড়িত হয় । এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে বাইবেল ও প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসেও উল্লেখ করা হয়েছে । ব’নেই মেনাশে জনগোষ্ঠীর মতে, সেই বিতাড়িত মানুষরা পারস্য, আফগানিস্তান, তিব্বত ও চীনের বিভিন্ন অঞ্চল অতিক্রম করে অবশেষে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে ।
যদিও এই অভিবাসন কাহিনি ইতিহাসগতভাবে সম্পূর্ণ প্রমাণিত নয়, তবুও তাদের লোককথা, গান, আচার-অনুষ্ঠান এবং কিছু প্রাচীন প্রথা এই দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে । উদাহরণস্বরূপ, তারা দীর্ঘদিন ধরে একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করে এসেছে, যা ইহুদি ধর্মের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য । এছাড়া, তাদের কিছু আচার, যেমন পশু ব/*লির নির্দিষ্ট নিয়ম, খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ, এবং নির্দিষ্ট উৎসব পালন, ইহুদি ধর্মীয় প্রথার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
বিশেষ করে ‘পাসওভার’ উৎসবের সঙ্গে মিল রেখে তাদের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালনের বিষয়টি গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে । যদিও এই উৎসবগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তবুও তাদের মূল কাঠামোয় ইহুদি ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায় । এইসব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিল ব’নেই মেনাশে জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়ের ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করেছে ।
১৯৮০-এর দশক থেকে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় । এই সময় থেকেই তারা সংগঠিতভাবে প্রথাগত ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে । এর পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন কিছু ধর্মীয় নেতা ও সংগঠন, যারা তাদের ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয় পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন । এই পুনর্জাগরণের ফলে তারা হিব্রু ভাষা শেখা, ইহুদি ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন, এবং ইহুদি ধর্মীয় বিধান মেনে চলার দিকে অগ্রসর হয় ।
এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০০৫ সালে, যখন ইজরায়েলের প্রধান রাব্বি তাদের ‘হারানো ইহুদি উপজাতি’র বংশধর হিসেবে আংশিক স্বীকৃতি প্রদান করেন । এই স্বীকৃতির ফলে তাদের জন্য ইজরায়েলে অভিবাসনের পথ উন্মুক্ত হয় । এরপর থেকে ধীরে ধীরে হাজার হাজার ব’নেই মেনাশে সদস্য ইজরায়েলে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছেন । এই অভিবাসন শুধু একটি ভৌগোলিক স্থানান্তর নয়, তাদের দীর্ঘদিনের আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানের এক বাস্তব রূপায়ণ ।
তবে এই অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ ছিল না । ইজরায়েলে যাওয়ার আগে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদি ধর্ম গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ । এছাড়া, নতুন দেশে গিয়ে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় । তবুও তারা নিজেদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকে ধরে রেখে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।
বর্তমানে আনুমানিক ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ ব’নেই মেনাশে সদস্য এখনো ভারতের মিজোরাম ও মণিপুরে বসবাস করছেন এবং তারা ভবিষ্যতে ইজরায়েলে অভিবাসনের আশায় অপেক্ষা করছেন । এই অপেক্ষা একটি উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের বহু প্রজন্ম ধরে লালিত আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি লাভের প্রত্যাশা ।
তবে, ব’নেই মেনাশে জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও বিতর্ক রয়েছে । অনেক ইতিহাসবিদ ও নৃতত্ত্ববিদ তাদের দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখেন এবং এটিকে একটি সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় পুনর্গঠনের ফল বলে মনে করেন । আবার অন্যদিকে, কিছু গবেষক তাদের মৌখিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় প্রথা ও ঐতিহাসিক স্মৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের দাবির পক্ষে যুক্তি প্রদান করেন । এই বিতর্কই প্রমাণ করে যে, ব’নেই মেনাশে জনগোষ্ঠীর ইতিহাস একটি জটিল ও বহুস্তরীয় বিষয়, যা সহজে নির্ধারণ করা সম্ভব নয় । @ Sufal Sarkar
১৭
চিনি খাওয়ার ইচ্ছা প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ৫ ঘরোয়া প্রতিকার
সামান্য চিনি খেলে খুব একটা অসুবিধা হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে এটি ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা; যেমন জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা হ্রাস, ঘুমের সমস্যা এবং অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে।
৫উপায়ে চিনি ও মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাগে আনা সম্ভব।
শরীরে ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি এবং জিংকের ঘাটতি থাকলে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। শরীরে এই পুষ্টি উপাদানগুলো বাড়ানোর জন্য পালংশাক, কলা, দুধ ও মটরশুঁটির মতো খাবার খান। এতে করে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমতে থাকবে।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক বাটি ডাল, দুই ধরনের সবজি, রুটি, ভাত, সালাদ এবং একটি স্বাস্থ্যকর মিষ্টি পদ রাখতে পারেন। আয়ুর্বেদ অনুসারে, সারা দিনের খাবারে মিষ্টি, টক, নোনতা, ঝাল, তেতো ও কষ—এই ছয়টি স্বাদই থাকা উচিত।
মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কার্যকরভাবে দমন করার জন্য আপনাকে সঠিক সময়ে খেতে হবে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে খাবার খেলে আপনার শরীর নিরাপদ বোধ করে। শরীর বুঝতে শুরু করে কখন পরবর্তী খাবারের থেকে শক্তি পাবে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে। অসময়ে বা অনিয়মিত বিরতিতে খাবার খেলে শরীর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে হরমোন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে কর্টিসল এবং ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
বেশির ভাগ সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা ভেবে ভুল করি আমরা। ফলে অনেকে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে, সঠিক হজমে সহায়তা করতে এবং শক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পানি পান করা ছাড়াও শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে লেবুপানি, ডাবের পানি এবং ভেষজ চায়ের মতো পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে।
চিনির প্রতি আপনার আকাঙ্ক্ষা কমাতে, আম, আপেল, তরমুজ ও খেজুরের মতো মিষ্টি ফল এবং মিষ্টিআলু ও গাজরের মতো সবজির প্রাকৃতিক চিনিযুক্ত খাবার খান। এগুলো মিষ্টিজাতীয় খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এগুলো আপনার শরীর হঠাৎ দুর্বল করে দেবে না বা শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ হবে না। @আজকের পত্রিকা সূত্র: ফেমিনা
১৮
নিজেকে ভালোবাসার এই ১০ সূত্র জানেন তো
অন্য়ের সঙ্গে নিজের তুলনা বন্ধ করুন
ছোটবেলা থেকে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মাধ্য়মে বড় হতে হয়। তাই অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটা বিপজ্জনক হতে পারে। এ পৃথিবীতে অন্য কারও সঙ্গে নিজের তুলনা করার কোনো মানে হয় না। কারণ আপনি একজনই এবং আপনার মতো কেবল আপনিই। তুলনা না করে নিজের এবং নিজের যাত্রার ওপর মনোযোগ দিন। শুধু এ মানসিক শক্তির পরিবর্তনই আপনাকে অনেকটা মুক্ত অনুভব করতে সাহায্য করবে।
অন্য়ের মতামতকে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভাববেন না
সব সময় সমাজ আপনাকে কী ভাবে বা আপনার কাছে কী আশা করে, তা নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনি সবাইকে খুশি করতে পারবেন না; বরং এটি সময়ের অপচয় করবে। পাশাপাশি আপনার নিজের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার যাত্রায় এ ভাবনা কেবল আপনার গতি কমিয়ে দেবে।
নিজেকে ভুল করার সুযোগ দিন
কেউই নিখুঁত নয়, সবাই ভুল করে। তবে বয়স যত বাড়ে, ব্যর্থ না হওয়ার জন্য তত বেশি চাপ নিই আমরা। এবার নিজেকে কিছুটা ছাড় দিন। ভুল করুন, যাতে আপনি তা থেকে শিখতে এবং উন্নতি করতে পারেন। আপনার অতীত গ্রহণ করুন। আপনি অতীতে যা ছিলেন, সেখান থেকে আজকের আপনি এবং ভবিষ্যতে যা হবেন, সে পথে আপনি ক্রমাগত পরিবর্তিত ও বিকশিত হচ্ছেন, এটি মনে রাখুন।
বাহ্যিক সৌন্দর্যই সব নয়
পৃথিবীর অনেক কিছুই আপনাকে এই শক্তিশালী সত্য থেকে বিভ্রান্ত করতে চায়। কখনো কখনো, এমনকি আপনার নিজের ভেতরেও নিজেকে অপর্যাপ্ত বলে মনে হতে পারে। এখানেও সেই একই কথা—নিজেকে তুলনা করবেন না কারও সঙ্গে। নিজের ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করুন। সেসব কাজ নিয়মিত অনুশীলন আপনাকে আত্মবিশ্বাসী, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং সত্য়িকার অর্থে সুখী করে তুলতে পারে।
বিষাক্ত মানুষদের সঙ্গ ছাড়তে ভয় পাবেন না
যদি এমন কেউ থাকে, যে আপনার জীবনে বিষাক্ততা নিয়ে আসছে, তাহলে তাদের থেকে দূরে সরে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর এ কাজটি করতে ভয় পাবেন না। এটি মুক্তিদায়ক এবং সুখী জীবনযাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পরিস্থিতি বা মানুষ আপনার মানসিক শক্তি কেড়ে নিচ্ছে, তাদের থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়াটা অভদ্রতা বা অন্যায় নয়।
ভালো সিদ্ধান্ত নিতে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন
আমরা প্রায়ই নিজেদের সঠিক কাজটি করার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করি। অথচ বেশির ভাগ সময় আমরা মনে মনে জানি, কোনটা সবচেয়ে ভালো। মনে রাখবেন, আপনার অনুভূতিগুলো যুক্তিসংগত। আপনি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না। আপনি নিজেকে অন্য যে কারও চেয়ে ভালো চেনেন, তাই নিজের সেরা সমর্থক নিজেই হয়ে উঠুন।
নিজেকে অগ্রাধিকার দিন
এটা করার জন্য অপরাধ বোধে ভুগবেন না। বিশেষ করে নারীরা অন্যদের অগ্রাধিকার দিতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। যদিও এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থান রয়েছে, তবে এটি এমন কোনো অভ্যাস হওয়া উচিত নয়, যা আপনার মানসিক বা আবেগীয় সুস্থতার ক্ষতি করে।
শরীর ও মস্তিষ্কের বিশ্রামের জন্য সময় রাখুন
পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলে কাজেও মন দেওয়া যায় না, আবার মনও ভালো থাকে না। প্রতিদিন শরীর ও মস্তিষ্ক যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, প্রিয় গান শোনা, সিনেমা দেখে কাটানো ইত্যাদির মাধ্য়মে শরীর ও মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় এবং আবার কাজ করার জন্য শক্তি সঞ্চয় করে।
সাধারণ জিনিসের মধ্যে সৌন্দর্য খুঁজে নিন
প্রতিদিন আপনার চারপাশে হাজারো সুন্দর জিনিস লুকিয়ে রয়েছে। গাছের পাতা থেকে শুরু করে ফুল, প্রজাপতি, চাঁদ এমনকি কারও ব্যবহার আপনাকে মুগ্ধ করতে পারে। সেগুলোর ইতিবাচক শক্তি আপনার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রকৃতি ও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান।
নিজের প্রতি সদয় হোন
আশপাশের অনেকেই আপনার বিপদে বা ক্রান্তিকালে পাশে নাও থাকতে পারে। কিন্তু নিজে নিজের ওপর আস্থা হারাবেন না। অনিচ্ছা নিয়ে কোনো কাজ করবেন না। নিজের জীবন উদ্যাপন করুন। নিজের পছন্দ ও অপছন্দের গুরুত্ব দিন। তাহলেই প্রকৃত সুখী হতে পারবেন। @ আজকের পত্রিকা সূত্র: হেলথ লাইন
১৯
আলিঙ্গনে বাড়ে মানসিক প্রশান্তি, বলছে গবেষণা
মতে, আনন্দে বা দুঃসময়ে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরার প্রবণতা আমাদের আদিম পূর্বপুরুষ থেকে আসা এক সহজাত প্রবৃত্তি। বন্য প্রাণীরাও যেমন একে অপরের গায়ের লোম পরিষ্কার করে বা মমতা দিয়ে গা ঘষে সামাজিক বন্ধন তৈরি করে, মানুষের ক্ষেত্রেও স্পর্শ তেমনি নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক। আমাদের ত্বকের ভেতরে থাকা ‘সি-ট্যাকটাইল’ নামক বিশেষ স্নায়ু গ্রাহকগুলো হালকা স্পর্শে উদ্দীপিত হয়। এটি সরাসরি মস্তিষ্ককে শান্ত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। যখন কেউ কাউকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে তখন শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ বা ‘বন্ডিং হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মুহূর্তেই ভীতি ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে মনে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।
আলিঙ্গনের স্থায়িত্ব ও স্বাস্থ্য়ের ওপর এর প্রভাব
স্পর্শের ধরন এবং স্থায়িত্বের ওপর এর শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা নির্ভর করে। ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির গবেষণায় দেখা গেছে:
১০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন আপনাকে মানসিকভাবে সচেতন ও সতর্ক করে তোলে। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমায়।
২০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য়ের জন্য বিস্ময়করভাবে কার্যকর। দীর্ঘ আলিঙ্গন শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃৎপিণ্ড শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়।
শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আলিঙ্গনের উপকারিতা
স্পর্শের উপকারিতা শুরু হয় জন্মের একদম প্রথম মুহূর্ত থেকেই। নবজাতকের সঙ্গে মা-বাবার ‘স্কিন-টু-স্কিন’ কন্টাক্ট বা ত্বকের স্পর্শ শিশুর হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এটি শিশুর কান্না কমাতেও সহায়ক। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কার্যকর। ২০০৬ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা যখন প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তখন কেবল সঙ্গীর হাত ধরলেই তাঁরা তাৎক্ষণিক মানসিক শান্তি অনুভব করেন। এমনকি অপরিচিত কারও সহানুভূতিশীল হালকা স্পর্শও মানুষের সামাজিক একাকিত্ব বা বর্জনের কষ্ট কমাতে সাহায্য করতে পারে।
রোগপ্রতিরোধে আলিঙ্গনের ভূমিকা
নিয়মিত আলিঙ্গন আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত প্রিয়জনদের জড়িয়ে ধরেন, তাঁদের সাধারণ সর্দি-জ্বর হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। এমনকি তাঁরা অসুস্থ হলেও খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রিয়জনের নিয়মিত স্নেহপূর্ণ স্পর্শ শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে, যা বার্ধক্যের অনেক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
ডিজিটাল যুগে ‘স্পর্শের আকাল’ ও স্কিন হাঙ্গার
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে আমরা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাই অনলাইন বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। ফলে মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি দেখা করা বা স্পর্শের অভাব প্রকট হচ্ছে। করোনা মহামারির লকডাউনের সময় বিশ্বজুড়ে মানুষ ‘স্কিন হাঙ্গার’ বা স্পর্শের তীব্র ক্ষুধার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। জাপানে তো এখন টাকা দিয়ে জড়িয়ে ধরা বা পাশে ঘুমানোর জন্য ‘কাডল ক্যাফে’ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করে, হাজার হাজার ডিজিটাল সংযোগ কখনোই মানুষের সরাসরি একটি উষ্ণ স্পর্শের বিকল্প হতে পারে না। @আজকের পত্রিকা সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
২০
প্রতিদিন ১৫ মিনিট ‘বিরক্ত’ থাকলে নতুন আইডিয়া আসবে মাথায়, বলছে গবেষণা
বিরক্তি হতে পারে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বিষয়! না, অবাক হওয়ার কিছু নেই। গবেষকেরা জানাচ্ছেন এই তথ্য।
আজকের ডিজিটাল যুগে আমরা একমুহূর্তও বিরক্ত হতে চাই না। বাসের জন্য অপেক্ষা করছি? মোবাইল ফোন বের করি। লিফটের জন্য ১৫ সেকেন্ড দাঁড়াতে হবে? স্ক্রলে ডুবে যাই। একঘেয়েমি, বিরক্তি বা বোরড শব্দগুলো শুনলে আমাদের চোখে অলস বা নেতিবাচক ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে একদম উল্টো কথা। আপনি যদি সৃজনশীল হতে চান কিংবা জীবনের গভীর কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজতে চান, তবে আপনার প্রথম কাজ হলো ‘বিরক্ত’ হওয়া। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর্থার সি ব্রুকস এবং গবেষক স্যান্ডি ম্যান বলছেন, ‘এই যে আমরা বিরক্তিকে ভয় পাচ্ছি, এটাই আমাদের জীবনের বড় ক্ষতি করছে।’
বিরক্তি যখন সৃজনশীলতার জ্বালানি
‘একাডেমি অব ম্যানেজমেন্ট ডিসকভারিজ’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা খুব বিরক্তিকর কোনো কাজ করার পর সৃজনশীল কাজে হাত দিয়েছেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ইউনিক এবং বুদ্ধিদীপ্ত আইডিয়া বের করতে পেরেছেন। এর কারণ হলো, যখন আমাদের মস্তিষ্ক বাইরের জগৎ থেকে কোনো উদ্দীপনা বা স্টিমুলেশন পায় না, তখন সে বাধ্য হয়ে নিজের ভেতরে উদ্দীপনা খুঁজতে থাকে। এই ‘ভেতরে যাওয়া’ থেকেই জন্ম নেয় দারুণ সব আইডিয়া।
মস্তিষ্কের বিশ্রামঘর
যখন আমাদের করার কিছু থাকে না, তখন মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ সচল হয়। একে বলা হয় ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক। এটি তখনই কাজ শুরু করে, যখন আমরা কোনো নির্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকি না। এই মোডেই আমরা জীবনের বড় বড় প্রশ্ন, যেমন জীবনের অর্থ কী, আমি কিসে সুখী এসব নিয়ে ভাবার সুযোগ পাই। স্মার্টফোনের স্ক্রল আমাদের এই নেটওয়ার্কটিকে বন্ধ করে দেয়, যার ফলে আমাদের জীবনে অর্থহীনতা বা শূন্যতা বোধ বেড়ে যাচ্ছে।
মোবাইল ফোনের আসক্তি ও ডোপামিন লুপ
আমরা যখনই বিরক্ত বোধ করি, মোবাইল ফোন বের করে ডোপামিন নামক হরমোনের সাময়িক আনন্দ পেতে চাই। অধ্যাপক ব্রুকস বলছেন, ‘এটি একটি মরণফাঁদ। আমরা যত বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছি, আমাদের বিরক্তি সহ্য করার ক্ষমতা তত কমছে। এর ফলে আমরা সাধারণ কাজেও আনন্দ পাচ্ছি না, যা বিষণ্নতা ও উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’
বিরক্তি বোধ হলে যা করবেন
একঘেয়েমি বা বিরক্তি বোধ হলেই যে ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে হবে, এমন নয়। বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে এমন কিছু করতে হবে, যাতে কোনো মনোযোগের প্রয়োজন থাকে না।
মোবাইল ফোন ছাড়া হাঁটুন: পরিচিত কোনো রাস্তায় গান বা পডকাস্ট ছাড়াই হাঁটুন। আপনার মনকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দিন।
জিম বা ড্রাইভিং: জিমে ব্যায়াম করার সময় বা গাড়ি চালানোর সময় রেডিও বা মোবাইল ফোন বন্ধ রাখুন। শুধু নিজের চিন্তার সঙ্গে সময় কাটান।
ডিজিটাল ফাস্টিং: সন্ধ্যা ৭টার পর মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, খাওয়ার টেবিলে সেটি না রাখা এবং মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে লম্বা বিরতি নেওয়া জরুরি।
প্রাপ্তি কী
আপনি যদি দিনে অন্তত ১৫ মিনিট স্বেচ্ছায় ‘বিরক্ত’ হতে পারেন, তবে দেখবেন—
আপনার নতুন সব কাজের আইডিয়া আসছে।
আপনি আপনার চাকরি বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কম বিরক্ত বোধ করছেন।
আপনার মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ছে।
জীবনের উদ্দেশ্য এবং খুশি সম্পর্কে আপনি পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন।
এরপর যখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন বা কারও জন্য অপেক্ষা করবেন, তখন পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি বের করবেন না। একটু বিরক্ত হোন, মস্তিষ্ককে অলসভাবে ঘুরে বেড়াতে দিন। কে জানে, হয়তো জীবনের সেরা আইডিয়াটা সেই মুহূর্তেই আপনার মাথায় আসবে! @আজকের পত্রিকা সূত্র: সাইকোলজি টুডে
২১
ডোপামিন ডেকর: যেভাবে ঘর সাজালে মন ভালো থাকবে
দিন শেষে যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেয়ে আমরা যখন ঘরে ফিরি, তখন তা কি শুধুই ইট-পাথরের কাঠামোতে ফেরা, নাকি শান্তির নীড়ে? আধুনিক অন্দরসজ্জার দুনিয়ায় এখন আর সুদৃশ্য আসবাব বা ছিমছাম সাজই শেষ কথা নয়। বিশ্বজুড়ে এখন অন্দরসজ্জার এক নতুন জোয়ার চলছে, যার নাম ডোপামিন ডেকর। এটি শুনতে কিছুটা বৈজ্ঞানিক মনে হলেও এর মূলমন্ত্র খুবই সহজ— এমনভাবে ঘর সাজানো, যাতে দিন শেষে ঘরে পা রাখলে মস্তিষ্কে ডোপামিন বা সুখী হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি শুধু চোখের আরামই দেবে না; বরং আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এক অদৃশ্য ঢাল হয়ে থাকবে।
মিনিমালিজম বনাম ডোপামিন ডেকর
এক দশক ধরে আমরা অল্পেই সুখী বা মিনিমালিজম অথবা লেস ইজ মোর তত্ত্বে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। যেখানে ঘর হতো একদম ছিমছাম, রং হতো সাদা, অফ হোয়াইট বা ধূসর। কিন্তু ডোপামিন ডেকর বলছে একেবারে উল্টো কথা। এটি ম্যাক্সিমালিজম বা প্রাচুর্যে বিশ্বাসী। এর মূল দর্শন হলো, আপনার যা ভালো লাগে, যে রং আপনাকে আনন্দ দেয় এবং যে বস্তু আপনাকে হাসায়, তা-ই আপনার ঘরবাড়ির সাজে প্রধান অনুষঙ্গ হওয়া উচিত। এটি মূলত ভিজ্যুয়াল থেরাপি, যা বিষণ্নতা এবং একঘেয়েমি কাটিয়ে মন তাৎক্ষণিক চনমনে করে তুলবে।
যেভাবে সাজাতে পারেন আপনার ব্যক্তিগত স্বর্গ
রঙের ব্যবহার
ডোপামিন ডেকরের বড় হাতিয়ার হলো রঙের খেলা। নিউট্রাল রঙের বদলে দেয়ালে ব্যবহার করুন আপনার পছন্দের উজ্জ্বল রং। সেটি হতে পারে টকটকে লাল, শর্ষে হলুদ, ইলেকট্রিক ব্লু বা ফিরোজা। রং নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বিজ্ঞান বলে, উজ্জ্বল রং সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। আবার পুরো দেয়াল রাঙাতে না চাইলে রঙিন পর্দা, বর্ণিল কুশন কভার বা গাঢ় রঙের জ্যামিতিক নকশার কার্পেট দিয়েও ঘরে বৈচিত্র্য আনতে পারেন।
স্মৃতি ও ব্যক্তিগত সংগ্রহ
আপনার পছন্দের কোনো ভ্রমণের স্যুভেনির, ছোটবেলার প্রিয় কোনো খেলনা বা নিজের হাতে আঁকা ছবি—সবই ডোপামিন ডেকরের অংশ। শেলফে সাজিয়ে রাখা পুরোনো বই বা বন্ধুর দেওয়া চিরকুটগুলো ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেয়ালে ঝুলিয়ে দিন। এগুলো দেখলে অবচেতন মনেই আপনি ফিরে যাবেন সুখস্মৃতিতে।
টেক্সচার ও প্যাটার্নের মিশ্রণ
শুধু চোখের আরাম নয়, স্পর্শের অনুভূতিও মন ভালো করে। ভেলভেটের সোফা, সুতির নরম কুশন আর হাতে বোনা টেক্সচার্ড কার্পেটের মিশ্রণ ঘরে গতিময়তা আনে। জ্যামিতিক নকশা বা ফ্লোরাল প্রিন্টের মিশেলে ঘর করে তুলুন বৈচিত্র্যময়।
সবুজের ছোঁয়া ও আলো
অন্দরসজ্জায় ইনডোর প্ল্যান্টের গুরুত্ব রয়েছে। জানালার পাশে সারি সারি ক্যাকটাস, মানিপ্ল্যান্ট বা ঘরের কোণে বড় কোনো টবে রাখা মনস্টেরা শুধু অক্সিজেনই দেয় না; বরং চোখ ও মনে শান্তি দেয়। দিনের বেলা প্রচুর প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস ঘরে ঢুকতে দিন। আর রাতের জন্য ব্যবহার করুন ওয়ার্ম লাইট। নিয়ন সাইন বা রঙিন ল্যাম্পশেডের ব্যবহার আপনার ব্যক্তিগত কোণটি করে তুলবে মায়াবী ও আরামদায়ক।
কেন আপনার জন্য এ পরিবর্তন দরকার
চারপাশের পরিবেশ সরাসরি আমাদের চিন্তা ও কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। বর্তমানে আমাদের অতি যান্ত্রিক জীবনে ঘর হওয়া চাই মানসিক চাপ কমানোর কেন্দ্র বা স্ট্রেস-রিলিফ সেন্টার। ডোপামিন ডেকরের বড় সুবিধা হলো, এর কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। এটি গতানুগতিক শিকল ভেঙে আপনাকে নিজের মতো করে বাঁচার ও প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়।
ঘর যদি আপনার শৈশব, শখ আর প্রিয় রঙে সেজে ওঠে, তবে বাইরের পৃথিবীর শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ঘরে ফেরামাত্রই আপনার মন হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। অন্দরসজ্জা যখন আপনার ব্যক্তিত্বের আয়না হয়ে ওঠে, তখনই আপনি খুঁজে পাবেন দীর্ঘস্থায়ী প্রশান্তি। তাই আজই আপনার ঘর রূপান্তর করুন সুখী হরমোনের কারখানায়!
সূত্র: এলে ডেকর ও অন্যান্য
২২
চামচ থেকে চপস্টিকের যাত্রা
প্রাচীনকালে এশিয়ায় চামচ ছিল মৌলিক ও প্রাচীন হাতিয়ার। প্রত্নতাত্ত্বিক ও লিখিত প্রমাণ বলছে, দশম শতক পর্যন্ত উত্তর চীন, কোরিয়া এবং জাপানের কিছু অংশে প্রধান দানাশস্য ছিল মিলেট বা কাউন। মিলেটের দানা চালের চেয়ে ছোট হওয়ায় এটি সাধারণত জাউ বা পরিজ হিসেবে রান্না করা হতো। এটি খাওয়ার জন্য চামচই ছিল মার্জিত ও সুবিধাজনক মাধ্যম। তবে প্রথম শতকে চীনে গমের ব্যবহার বাড়তে শুরু করলে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। গম থেকে ময়দা তৈরির জন্য যাঁতার ব্যাপক প্রচলন চপস্টিক তৈরির পথ সহজ করে। ময়দা দিয়ে তৈরি নুডলস ও ডাম্পলিং খাওয়ার জন্য চামচের চেয়ে চপস্টিক অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়। পরবর্তী সময়ে এগারো শতক থেকে ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ চীন হয়ে কোরিয়া এবং জাপানে চালের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়লে চপস্টিকের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। চাল যেহেতু দলা পাকিয়ে থাকে, তাই তা চপস্টিক দিয়ে তোলা সহজ ছিল। ফলে ধীরে ধীরে চামচ হটিয়ে চপস্টিক এশীয় টেবিলের রাজত্ব দখল করে নেয়।
চপস্টিক দিয়ে মিনিটে ৩৭ চাল খেয়ে রেকর্ড
শৈল্পিক বিবর্তন ও রন্ধনশৈলী
চপস্টিকের এই আধিপত্যের পেছনে রান্না পদ্ধতিরও বড় ভূমিকা ছিল। প্রাচীন চীনে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য খাবার ছোট ছোট টুকরা করে দ্রুত রান্না করার পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়। এই ছোট টুকরাগুলো কড়াই থেকে তোলা বা খাওয়ার জন্য চপস্টিক হয়ে ওঠে আদর্শ সরঞ্জাম। এ ছাড়া কনফুসীয় দর্শনে টেবিলের ওপর ছুরি বা ছুরিজাতীয় সরঞ্জাম রাখা ছিল যুদ্ধ ও বর্বরতার প্রতীক। খাবারের টেবিল হবে শান্তি ও সৌজন্যের জায়গা—এ বিশ্বাস থেকে চপস্টিক হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক মার্জিত বোধের পরিচয়।
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও আদবকেতা
চপস্টিকের ব্যবহার পুরো এশিয়াকে এক সুতোয় গাঁথলেও এর রূপ দেশভেদে ভিন্ন। জাপানে সাধারণত বার্নিশ করা কাঠের চপস্টিক দেখা যায়। ভিয়েতনামে বাঁশের ব্যবহার বেশি আর কোরিয়ায় ঐতিহাসিকভাবে ধাতব চপস্টিক জনপ্রিয়। কোরিয়া একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যেখানে আজও চামচ ও চপস্টিকের একটি সেট একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। এটি তাদের দীর্ঘকালীন খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির অংশ।
চপস্টিক ব্যবহারের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও আদবকেতা রয়েছে, যা প্রতিটি সংস্কৃতির মানুষ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। যেমন ভাতের ভেতর চপস্টিক খাড়া করে গেঁথে রাখা নিষিদ্ধ। টেবিলের ওপর আড়াআড়ি করে রাখা এড়িয়ে চলা হয়, আবার চপস্টিক দিয়ে পাশের কাউকে নির্দেশ করা অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয়। এ নিয়মগুলোর কোনোটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার থেকে এসেছে। আবার কোনোটি কেবলই সৌজন্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।
আধুনিক চ্যালেঞ্জ ও পরিবেশ
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ চপস্টিক দিয়ে খাবার খান। জাপানি সুশি, চীনা রেস্তোরাঁ বা ভিয়েতনামি ফোরের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে চপস্টিক এখন এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে পশ্চিমেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে পরিবেশগত সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। শুধু চীনেই প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ওয়ান-টাইম বা একবার ব্যবহারযোগ্য চপস্টিক তৈরি হয়, যা পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর বিকল্প হিসেবে এখন টেকসই উপাদান এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য চপস্টিক ব্যবহারের প্রচারণা জোরদার করা হচ্ছে।
চপস্টিক ধরার সহজ নিয়ম
অনেকের কাছে চপস্টিক ব্যবহার করা কঠিন মনে হলেও সঠিক কৌশল জানা থাকলে এটি অত্যন্ত মার্জিত একটি প্রক্রিয়া। চপস্টিক ধরার সঠিক ধাপগুলো হলো:
একটি চপস্টিক পেনসিল ধরার মতো করে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে ধরুন। এটি হবে ওপরের চপস্টিক, যা নড়াচড়া করবে।
দ্বিতীয় বা নিচের চপস্টিকটি বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়া এবং অনামিকার ওপর স্থিরভাবে বসান।
নিচের চপস্টিকটি স্থির রেখে ওপরেরটি পেনসিলের মতো নড়িয়ে খাবার ধরতে হয়।
কবজি নয়, আঙুল দিয়ে চপস্টিক চালনা করা এবং খুব বেশি চাপ না দিলেই সহজে এর ব্যবহার শিখে যাবেন।
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস, চায়নিজ ফুড হিস্ট্রি
২৩
ঘর গোছানোর ভাইরাল ১২-১২-১২ নিয়ম কি আসলেই কার্যকর
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমাদের ঘরদোর প্রায়ই অগোছালো হয়ে পড়ে। কাজের চাপ, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে ঘরের যত্ন নেওয়া অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ড্রয়িংরুমে জমে থাকা পার্সেলের স্তূপ, ড্রেসিং টেবিলে এলোমেলো প্রসাধনী কিংবা ঘরের বিভিন্ন চেয়ারে জমানো লন্ড্রির কাপড়—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হয়। ঘরে পুনরায় সুশৃঙ্খল করতে ১২-১২-১২ নামক একটি পদ্ধতি বর্তমানে ইন্টারনেটে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু সে পদ্ধতি কি আসলেই কাজ করে? জেনে নেওয়া যাক।
১২-১২-১২ পদ্ধতিটি কী?
ঘর গোছানোর এ কৌশলে বড় কোনো কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়। এর মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে মোট ৩৬টি জিনিসের মধ্যে। নিয়মটি হলো, আপনাকে ৩৬টি জিনিস খুঁজে বের করতে হবে যেখান থেকে—
১২টি জিনিস আপনি ফেলে দেবেন। সেগুলোর মধ্যে থাকবে ছেঁড়া কাগজ, ভাঙা কলম বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ— যেগুলো কোনো কাজে আসবে না।
১২টি জিনিস দান করে দেবেন। যেগুলো আপনার কাজে লাগছে না; কিন্তু অন্য কারও কাজে লাগবে।
১২টি জিনিস সঠিক জায়গায় রাখবেন। যেগুলো ঘরে যত্রতত্র পড়ে রয়েছে; কিন্তু ঠিক জায়গায় গুছিয়ে রাখতে হবে।
এ নিয়মটি আসলে কতটা সহজ
এ পদ্ধতিটি দৈনন্দিন সাধারণ কাজ, যেমন বাসন মাজা বা কাপড় গুছিয়ে রাখার চেয়ে কিছুটা আলাদা। প্রতিদিন সুনির্দিষ্টভাবে ১২টি করে জিনিস দান করা বা ফেলে দেওয়ার মতো করে খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ব্যস্ত জীবনযাত্রায় এটি অনেক সময় বাড়তি মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে আলমারি বা ড্রয়ারের মতো নির্দিষ্ট কোনো অগোছালো অংশে এ নিয়ম প্রয়োগ করলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।
পুরোনো নোটবুক বা প্রসাধনীর মতো স্তূপ হয়ে থাকা জিনিসের ভিড়ে এ নিয়মটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। সাধারণত মানুষ অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন যুক্তি খোঁজে, যা ঘর আরও অগোছালো করে তোলে। ১২-১২-১২ পদ্ধতি মূলত এ দ্বিধা কাটিয়ে অপ্রয়োজনীয় বস্তু বর্জন করতে শেখায়। এটি কেবল ঘর গোছানোর কৌশল নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি আসক্তি কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।
সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
এ পদ্ধতির বড় গুণ হলো এটি আপনাকে কঠোর হতে শেখায়। অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো অন্যের কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতাও আছে। আপনার ঘর খুব অগোছালো হলে এক দিনেই বড় কোনো পরিবর্তন আশা করবেন না। যেহেতু আপনি দিনে ৩৬টি জিনিস নিয়ে কাজ করছেন, তাই পুরো ঘর ঝকঝকে করতে আপনাকে বেশ ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা এক নিমেষে সরাতে চাইলে এটি হয়তো সেরা সমাধান নয়।
আপনার কি এ পদ্ধতি অনুশীলন করা উচিত?
এর উত্তরটি নির্ভর করে আপনার জীবনযাত্রার ওপর। যদি আপনার ঘরে প্রচুর অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড় থাকে এবং আপনি সেগুলো ফেলতে মায়া বোধ করেন, তবে এ নিয়মটি আপনার জন্য দারুণ একটি উৎসাহ হতে পারে। এটি আপনাকে শেখাবে কীভাবে অল্প অল্প করে এগিয়েও বড় লক্ষ্য অর্জন করা যায়।
যাঁরা সারা দিন বাইরে থাকেন বা খুব দ্রুত ঘর গুছিয়ে ফেলতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ২০ মিনিটের ঝটপট পদ্ধতি বা ছুটির দিনে পুরো ঘর একসঙ্গে গোছানো বেশি কার্যকর। ১২-১২-১২ পদ্ধতিটি একটু ধীরগতির। যাঁরা নতুন করে ঘর গোছানোর অভ্যাস গড়তে চাইছেন এবং অল্প অল্প করে প্রতিদিন এগোতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি চমৎকার শুরু হতে পারে।
ঘর গোছানোর কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম সবার জন্য সমান কাজ নাও করতে পারে। তবে ১২-১২-১২ নিয়মটি আপনাকে অন্তত এটুকু শেখাবে, অগোছালো ঘর মানে কেবল ময়লা পরিষ্কার নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় মায়া ত্যাগ করে জীবন সহজ করা।
সূত্র: গুড হাউস কিপিং ও অন্যান্য
২৪
ভদ্রতা ও উদারতার মূল তফাত
ভদ্রতা মূলত সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার একটি কৌশল। সমাজ স্বীকৃত নিয়মকানুন মেনে চলা, সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং মুহূর্তটিকে স্বস্তিদায়ক রাখাই ভদ্রতার মূল লক্ষ্য। যখন আমরা ‘প্লিজ’ বলি বা কারও কথায় সায় দিই, তখন আমরা আসলে সামাজিক শিষ্টাচার পালন করি। এটি অনেকটা যন্ত্রে তেল দেওয়ার মতো। এ শিষ্টাচার সামাজিক মিথস্ক্রিয়া সচল রাখে। উদারতা বা দয়া মানে শিষ্টাচারের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যের প্রকৃত প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। উদারতা কেবল মুহূর্তটিকে ভালো রাখার চেষ্টা করে না; বরং অন্যের প্রয়োজনে সক্রিয়ভাবে হাত বাড়িয়ে দেয়। ভদ্রতা যেখানে অস্বস্তি এড়িয়ে চলতে চায়, উদারতা সেখানে সত্য বলার জন্য বা প্রকৃত সাহায্যের জন্য প্রয়োজনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও সৃষ্টি করতে পারে।
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী কুন ঝাও এবং তাঁর সহকর্মীদের গবেষণা ‘বিগ ফাইভ’ পারসোনালিটি মডেলের মাধ্যমে এ পার্থক্যটি আরও স্পষ্ট করেছেন। তাঁদের মতে, একজন ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্যকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ভদ্রতা হলো, সামাজিক রীতিনীতিকে শ্রদ্ধা করা এবং নেতিবাচক আবেগ দমন করা। এটি মূলত ‘ক্ষতি না করার’ মানসিকতা। এখানে খেয়াল রাখতে হয়, আপনার আচরণ বা কথা যেন কাউকে আঘাত না করে। সহমর্মিতা বা করুণা হলো অন্যের কল্যাণের জন্য মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়া এবং সক্রিয়ভাবে সাহায্য করা। অর্থাৎ অন্যের কষ্টের মাত্রাটা বুঝে সমব্যথী হওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা খুব ভদ্র, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ভাগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ সৎ। কিন্তু যখন তাঁরা কাউকে অন্যায়ের শিকার হতে দেখেন, তখন তাঁরা সব সময় এগিয়ে আসে না। অর্থাৎ এক কথায় গা বাঁচিয়ে চলেন। অন্যদিকে, সহমর্মী ব্যক্তিরা নিয়ম রক্ষার চেয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেন না। তাঁরা নিজের শেষ সক্ষমতা পর্যন্ত চেষ্টা করেন সমস্যার সমাধান করার জন্য।
বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন
আমাদের কঠিন সময়ে বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া থেকে এ পার্থক্যটি সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’, ‘যা হয় ভালোর জন্যই হয়’ বা ‘ইতিবাচক থাক’—এ কথাগুলো সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নিরাপদ। কিন্তু এগুলো বিপদে পড়া মানুষের মানসিক বা বাস্তব কোনো উপকারে আসে না। এটি কেবল সেই মুহূর্তের অস্বস্তি কাটানোর একটি উপায়, যা ওই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নিজেও বোঝেন। ফলে তাঁর মধ্যে একধরনের হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ‘বিষয়টি সত্যিই খুব কঠিন’, ‘তোমার এখন কী প্রয়োজন?’ বা কোনো কথা না বলে কেবল পাশে গিয়ে বসা, এগুলো হলো উদারতা। এর মানে হলো, বন্ধু যখন ভুল পথে যাচ্ছে, তখন তাঁকে সোজাসুজি কঠিন সত্যটা জানানো, যা হয়তো ভদ্রতার খাতিরে অন্য কেউ বলবেন না। কিন্তু সেটাও বলতে হবে বুঝিয়ে। আপনি কঠিন সত্য মুখের ওপর বলে দিয়ে তাঁকে কষ্টে ফেলে হেঁটে যেতে পারেন না।
ভদ্রতা আরামদায়ক
এখন মনে হতেই পারে, আমরা কেন উদারতার চেয়ে ভদ্রতা বিষয়টিকে বেশি বেছে নিই? কারণ, ভদ্রতা নিরাপদ। এর একটি নির্দিষ্ট শৈলী আছে, যা আমরা ছোটবেলা থেকে শিখি। জানাজায় গিয়ে ‘আপনার কষ্ট আমি বুঝতে পারছি’ বলাটা সহজ এবং নিরাপদ। কিন্তু কারও শোকের ভাগীদার হওয়া বা তাঁর একাকিত্ব দূর করতে দীর্ঘ সময় পাশে বসে থাকাটা কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। ভদ্রতা অনেক সময় সততার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ব্যবসায়িক বা পেশাদার ক্ষেত্রে কেবল ‘ভদ্র’ থাকার নেশায় আমরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় কঠিন আলোচনা এড়িয়ে যাই, যা দীর্ঘ মেয়াদে তাদের ও আমাদের ক্ষতির কারণ হয়। পরের বার যখন কেউ আপনার সামনে ভেঙে পড়বে বা আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হবে, তখন নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি কেবল ‘ভদ্র’ হতে চান, নাকি ‘সদয়’ হতে চান? আপনার উত্তরটি হয়তো কারও জীবনে অর্থবহ প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: সিলিকন ক্যানেলস
২৫
ক্যাঙারু আইল্যান্ড: যে দ্বীপ কোয়ালাদের টিকে থাকার শেষ ভরসা
অস্ট্রেলিয়ার প্রতীক বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইউক্যালিপটাসগাছের ডালে গুটিসুটি হয়ে বসে থাকা আদুরে প্রাণী কোয়ালা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রাণীরা এক ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। একদিকে বন উজাড় আর জলবায়ু পরিবর্তন, অন্যদিকে ‘ক্ল্যামাইডিয়া’ (Chlamydia) নামক এক মরণব্যাধি। যে রোগ তাদের বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। এই মহাসংকটের মাঝে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলের ‘ক্যাঙারু আইল্যান্ড’ এখন কোয়ালাদের টিকে থাকার শেষ আশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মরণব্যাধি ও কোয়ালাদের বিপন্নতা
অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডের কোয়ালাদের মধ্যে ক্ল্যামাইডিয়া মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাকটেরিয়াজনিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কোয়ালারা অন্ধত্ব, বন্ধ্যাত্ব এবং নিউমোনিয়ার শিকার হচ্ছে। মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগ প্রাণঘাতী না হলেও কোয়ালাদের জন্য এটি নিশ্চিত মৃত্যু। মূল ভূখণ্ডের কোনো কোনো এলাকায় প্রায় ৮৮ শতাংশ কোয়ালাই এই রোগে আক্রান্ত। কিন্তু ক্যাঙারু আইল্যান্ডের কোয়ালারা এখনো এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ১৯২০-এর দশকে পশম-বাণিজ্যের হাত থেকে বাঁচাতে মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০টি কোয়ালা এই দ্বীপে আনা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা এখন প্রায় ১০ হাজার। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় বাইরের সংক্রমণ এখানে পৌঁছাতে পারেনি।
জেনেটিক দুর্বলতা
রোগমুক্ত হলেও এই দ্বীপের কোয়ালারা অন্য এক সংকটের মুখোমুখি। বর্তমানের হাজার হাজার কোয়ালা মাত্র ২০টি পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে। তাই এদের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য অত্যন্ত কম। বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছেন, দীর্ঘকাল নিজেদের মধ্যে প্রজননের ফলে এদের শারীরিক বিকৃতি দেখা দিচ্ছে। যেমন কারও মেরুদণ্ড বাঁকা, আবার কারও প্রজনন অঙ্গে ত্রুটি। বিজ্ঞানীরা একে ‘এক্সটিংক্টন ভের্টেক্স’ বা বিলুপ্তির ঘূর্ণিপাক বলছেন। যেখানে জিনগত দুর্বলতার কারণে একটি পুরো প্রজাতি হঠাৎ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের উদ্ধার পরিকল্পনা
অ্যাডিলেডের ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী কারেন বার্ক ডা সিলভা এবং জুলিয়ান বিম্যান কোয়ালাদের এই দুই সংকট থেকে বাঁচাতে ভিন্ন এক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। ২০২৪ সালে দাতা সংস্থা ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে তারা দ্বীপে ১ হাজার ৩০০ একর জমি কিনে একটি অভয়ারণ্য তৈরি করেছেন। এখানে দ্বীপের প্রায় ১০ শতাংশ কোয়ালা নিরাপদে বসবাস করছে। এ বছরের শেষ নাগাদ বিজ্ঞানীরা মূল ভূখণ্ডের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে এমন কিছু পুরুষ কোয়ালা দ্বীপে আনবেন, যারা স্বাস্থ্যবান এবং ক্ল্যামাইডিয়া মুক্ত। উদ্দেশ্য হলো, তাদের সঙ্গে দ্বীপের নারী কোয়ালাদের প্রজনন ঘটিয়ে পরবর্তী প্রজন্মে জিনগত বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা। যখন দ্বীপের কোয়ালারা জিনগতভাবে শক্তিশালী এবং রোগমুক্ত হয়ে উঠবে, তখন তাদের আবার অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে এই পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থান
এই প্রকল্প শুধু বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল নয়, ২০২৬ সালের বসন্তে এই অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আর সেখান থেকে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান আসবে। গবেষকেরা এই কাজে স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর সাহায্য নিচ্ছেন। এই জনগোষ্ঠীদের কাছে দ্বীপটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিজ্ঞানীদের মতে, কোয়ালারা বর্তমানে অনেক সমস্যায় জর্জরিত। যদি এখনই ক্যাঙারু আইল্যান্ডের এই রোগমুক্ত এবং শক্তিশালী জিন সমৃদ্ধ কোয়ালাদের রক্ষা করা না যায়, তাহলে হয়তো দেরি হয়ে যাবে অনেক। এই প্রকল্প সফল হলে তা বিশ্বের অন্যান্য বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি আদর্শ মডেল হয়ে থাকবে।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, শুধু প্রকৃতিকে সারিয়ে তোলাই মানুষের কাজ নয়। মানুষের নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্যও প্রকৃতিকে সুস্থ রাখা প্রয়োজন। ক্যাঙারু আইল্যান্ডের এই লড়াই আসলে সেই হারানো ভারসাম্য ফিরে পাওয়ারই লড়াই।
সূত্র: বিবিসি
২৬
খেজুরের পুষ্টিগুণ
খেজুরকে অনেকে প্রাকৃতিক এনার্জি ফুড বলেন। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানান পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
শক্তির উৎস
খেজুরে গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ ও সুক্রোজের মতো প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। তাই রোজা ভাঙার পর শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়। শুধু রোজার সময়েই নয়, এখন সারা বছর এটি খাওয়া হয়। ব্যায়াম করার পর, শিশুদের খাবারে কিংবা যেকোনো সময় এটি খাওয়া হয় বাংলাদেশে।
খাদ্য আঁশ
খেজুরে প্রচুর আঁশ রয়েছে, যা হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
পটাশিয়াম
এটি হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন
খেজুর হাড় শক্ত করতে এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক যৌগ রয়েছে, যা শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
খেজুর দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপায়
আমাদের দেশের আবহাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র হওয়ায় খেজুর দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
ফ্রিজে রাখা
পরিষ্কার ও শুকনো বায়ুরোধী পাত্রে রেখে ফ্রিজে রাখলে খেজুর কয়েক মাস ভালো থাকে।
ফ্রিজারে সংরক্ষণ
ফ্রিজারে রাখলে খেজুর এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে।
শুকিয়ে রাখা
খেজুর হালকা রোদে শুকিয়ে নিলে আর্দ্রতা কমে যায় এবং সংরক্ষণ সহজ হয়।
বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার
বাতাস ঢুকতে পারে না এমন পাত্রে রাখলে খেজুরের স্বাদ ও গুণাগুণ দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন থাকে।
খেজুরের পেস্ট তৈরি
খেজুর ব্লেন্ড করে পেস্ট বানিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে বিভিন্ন খাবারে সহজে ব্যবহার করা যায়।
২৭
প্রতিদিনের ৪ অভ্যাস
তিনটি ভালো কাজের তালিকা করুন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় দিনের অন্তত তিনটি ভালো বা ইতিবাচক ঘটনার কথা মনে করুন বা প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করুন। এটি আপনার মনকে না পাওয়ার বেদনা থেকে সরিয়ে পাওয়ার আনন্দে পূর্ণ করবে।
নিজের সমস্যার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে অন্তত একজনকে প্রতিদিন সাহায্য করুন। এতে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে এবং নিজের কষ্টের চেয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোটা বড় হয়ে উঠবে।
ধ্যান বা মেডিটেশন করুন। বেশি নয়, প্রতিদিন মাত্র ২ মিনিট শান্ত হয়ে বসুন এবং নিজের নিশ্বাসের দিকে খেয়াল করুন। এটি আপনাকে বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে শেখাবে এবং দুশ্চিন্তা কমাবে।
সুখী জীবনের জন্য যা বাদ দেবেন
রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস বলেছিলেন, ‘সুখী জীবনের জন্য খুব সামান্য কিছুর প্রয়োজন। এটি পুরোটাই আপনার নিজের ভেতরে, আপনার চিন্তার ধরন বা দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে।’ তাই সুখের জন্য কিছু বিষয় জীবন থেকে বাদ দিন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
অপরিবর্তনীয় বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা: যা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।
আত্মসন্দেহ: নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আপনি যথেষ্ট ভালো—এ বিশ্বাস বজায় রাখুন।
তুলনা করা: অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা বন্ধ করুন। কেবল নিজের অতীতের চেয়ে বর্তমানের উন্নতির দিকে নজর দিন।
অভিযোগ ও অজুহাত: অভিযোগ করলে সমস্যার সমাধান হয় না। অভিযোগ করা মানে নিজেকে পরিস্থিতির শিকার হতে দেওয়া। তাই সেটা বন্ধ করুন। আর অজুহাত দেওয়া মানে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে থাকা। সেটিও বন্ধ করে জীবনের দায়িত্ব নিজে নিন।
নিয়ম আঁকড়ে থাকা: অভিভাবক বা সমাজের বেঁধে দেওয়া নিয়ম সব সময় ভালো ফল বয়ে আনে না। নিয়ম বা প্রথায় আটকে না থেকে বরং আপনি নিজে কিসে খুশি, তা খুঁজে বের করুন।
অতীত আঁকড়ে থাকা: অতীত মানে যাকে আর ফেরানোর পথ নেই। তাই সেটি আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। এ ছাড়া অতিরিক্ত নেতিবাচক বিষয় দেখা, শোনা ও পড়া বন্ধ করুন। এগুলো আপনার ওপর নিয়ন্ত্রণহীন চাপ সৃষ্টি করে।
একটি টিপস
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় নিন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন ‘আজ আমি সুখী থাকব।’ সুখ আসলে একটি সিদ্ধান্ত, যা প্রতিদিন নিতে হয়।
সূত্র: মিডিয়াম, স্টার্স ইনসাইডার, জেন হ্যাবিটস
২৮
সমালোচনা সামলানোর ৫ কৌশল জেনে রাখুন
মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো নিজের প্রশংসা শুনতে পছন্দ করা। কিন্তু সত্য হলো, আপনার সীমাবদ্ধতাগুলো নিজের চেয়ে অন্যরা ভালো দেখতে পায়। তাই কখনো কখনো সমালোচনা হয় আপনাকে নিয়ে। এটি সহ্য করা বা অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য গ্রহণ করা আমাদের অনেকের জন্যই কঠিন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে উন্নতির জন্য গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিজের দক্ষতা বাড়াতে সমালোচনাকে ভয় না পেয়ে বরং তাকে শেখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
গঠনমূলক বনাম ধ্বংসাত্মক সমালোচনা
সমালোচনা দুই ধরনের হতে পারে। ডেল কার্নেগির মতে, যেকোনো নির্বোধ ব্যক্তি সমালোচনা বা অভিযোগ করতে পারে। কিন্তু ধৈর্য ও আত্মসংযম দেখানোর জন্য উন্নত চরিত্রের প্রয়োজন। গঠনমূলক সমালোচনা সেটাই, যা আপনার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়, যাতে আপনি উন্নতি করতে পারেন। এটি পেশাদারি এবং সম্মানের সঙ্গে জানানো হয়। অন্যদিকে নেতিবাচক সমালোচনা শুধু আঘাত করার বা নিচু করার জন্য করা হয়। তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক, নিজের মনকে উন্মুক্ত রাখলে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব।
সমালোচনা সামলানোর ৫ কৌশল
শোনার ধৈর্য: বক্তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ‘অ্যাকটিভ লিসেনিং’-এর তিনটি সূত্র মনোভাব, মনোযোগ ও সমন্বয় মেনে চলুন। প্রশ্ন করে বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝে নিন।
নিজের প্রতি সদয় থাকা: মানুষমাত্রই ভুল হয়। ভুলের জন্য নিজেকে খুব বেশি দোষারোপ না করে বরং তা থেকে কী শেখা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন।
একটি পরিকল্পনা তৈরি করা: যে ভুলটি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে এড়াতে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করুন।
নোট নেওয়া: একই ভুলের জন্য বারবার সমালোচনা শোনা বিরক্তিকর। তাই প্রধান পয়েন্টগুলো লিখে রাখুন।
ধন্যবাদ জানানো: সমালোচনা হজম করা কঠিন হলেও আপনার উন্নতির জন্য অন্য পক্ষ যে সময় দিয়েছে, তার জন্য বিনম্রভাবে ধন্যবাদ জানান। এটি আপনার ব্যক্তিত্বের গভীরতা প্রকাশ করে।
জীবনের নিয়মে ক্যারিয়ারের বিকাশ
গাছ যেমন শুরুতে সঠিক পুষ্টি না পেলে পরে সার দিলেও লাভ হয় না, ক্যারিয়ারের বিষয়টিও ঠিক তেমন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যদি কঠোর পরিশ্রম ও সমালোচনা সহ্য করতে না শেখেন, তবে কয়েক বছর পর আপনার চেয়ে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীরা আপনাকে ছাড়িয়ে যাবে। তারুণ্যে আরামদায়ক জীবনের পেছনে ছুটবেন না। এখনকার সংগ্রাম আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে শান্তিময় করবে। নিজের আত্মসম্মান বা প্রাইড বিসর্জন দিয়ে হলেও শুরুতে কাজ শিখে নিতে হয়। যখন আপনি দক্ষ হয়ে উঠবেন,
সূত্র: মিডিয়াম, ভিএন এক্সপ্রেস
২৯
জুতার দুর্গন্ধ দূর করার ৪ উপায়
জুতার দুর্গন্ধ অনেক সময় বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। নতুন জুতা হলেও এক বা দুই দিন ব্যবহারের পর ভেতরে দুর্গন্ধ হতে পারে। মূলত ঘাম এবং জুতার ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ হয়। তাই বলে জুতা ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। ঘরে থাকা কিছু উপকরণ ব্যবহার করেও এই সমস্যার খুব সহজে সমাধান করা যায়।
বেকিং সোডা ব্যবহার করুন
বেকিং সোডা জুতার ভেতরের আর্দ্রতা শোষণ করতে বিশেষ কাজে দেয়। এটি জুতার দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
জুতার ভেতর সময়ের সঙ্গে ঘাম জমে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা দুর্গন্ধের মূল কারণ। এ সমস্যা দূর করতে জুতার ভেতর হালকা বেকিং সোডা সমানভাবে ছড়িয়ে দিন, যাতে সব অংশে এটি পৌঁছায়। এরপর জুতা ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন। এই সময়ে বেকিং সোডা ঘাম ও ব্যাকটেরিয়া শোষণ করে এবং জুতার ভেতরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। চাইলে বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবু বা টি ট্রি তেল মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে জুতার ভেতরের দুর্গন্ধ দূর হয়। পরের দিন সকালে জুতা হালকা নেড়ে বা টোকা দিয়ে বাকি পাউডার বের করে ফেলুন। এতে এটি ব্যবহার করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ থাকবে।
সাদা ভিনেগার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন
সাদা ভিনেগার হলো প্রাকৃতিক উপাদান, এর মধ্যে হালকা অ্যাসিড থাকে। এই হালকা অ্যাসিড জুতার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ফলে এর দুর্গন্ধ দূর হয়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ব্যবহার হওয়া জুতায় ভিনেগার খুব কার্যকর। কারণ, এটি ভেতরের আর্দ্রতা কমায় এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে। ভিনেগার ব্যবহার করার জন্য সমান পরিমাণে পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে তৈরি করুন। চাইলে এতে কয়েক ফোঁটা লেবু বা টি ট্রি তেল মিশিয়ে দিতে পারেন। স্প্রে তৈরি হলে তা জুতার ভেতরে ছিটিয়ে দিয়ে শুকাতে দিন। শুকানোর সময় ভিনেগারের অ্যাসিড এবং গন্ধ উড়ে যাবে। আর জুতা হয়ে উঠবে দুর্গন্ধহীন এবং ব্যবহার উপযোগী।
হাতে ডিপ ক্লিনিং করুন
যদি কোনো জুতা অনেক দিন পরিষ্কার করা না হয় বা দীর্ঘ সময় ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে হাতে ডিপ ক্লিনিং করা সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে জুতার ভেতরের দুর্গন্ধ যেমন দূর হয়, তেমনি বাইরে জমে থাকা ময়লাও ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। শুরু করার জন্য সমান পরিমাণ বেকিং সোডা, সাদা ভিনেগার এবং পানি মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি এমন ভাবে তৈরি করুন যেন খুব পাতলা বা খুব ঘন না হয় এবং যাতে সহজে জুতার ভেতর ও বাইরের অংশে ঘষা যায়। এরপর একটি পুরোনো টুথব্রাশ ব্যবহার করে পেস্টটি জুতার ভেতর ও বাইরে ভালোভাবে ঘষুন। বিশেষ করে জুতার আঙুলের অংশ, তলা ও লাইনিং। সব অংশে পেস্ট ছড়ানোর পর জুতা সরাসরি রোদে শুকাতে দিন। সূর্যের আলো ও বাতাস এর ভেতরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করুন
সাধারণ স্নিকার্সের ক্ষেত্রে ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করে দ্রুত পরিষ্কার করা যায়, যদি এটি আপনার বাড়িতে থাকে। এ জন্য প্রথমে জুতার লেস এবং ইনসোল আলাদা করুন। জুতাগুলো একটি মেশ ব্যাগে দিয়ে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এর সঙ্গে কয়েকটি পুরোনো তোয়ালে রাখতে পারেন, যাতে মেশিনে জুতার আঘাত কম হয়। এ জন্য হট ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। জুতা শুকানোর জন্য রোদে বা ভালো বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন।
জুতা দীর্ঘদিন গন্ধহীন রাখার টিপস
মোজা ব্যবহার করুন: বন্ধ জুতার সঙ্গে সব সময় মোজা পরুন। এতে ঘাম আগে মোজায় জমে।
ফ্রিজে রাখুন: জুতা জিপলক ব্যাগে ভরে রাতভর ফ্রিজে রাখুন। ঠান্ডা তাপমাত্রা অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
একাধিক জুতা ব্যবহার করুন: একই জুতা বেশি দিন পরবেন না। অন্তত ২৪ ঘণ্টা বিরতি দিন, যাতে এর আর্দ্রতা পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। এ জন্য একাধিক জোড়া জুতা রাখুন।
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস
৩০
যে ১০ট অজুহাত দেবেন না
১. ‘আমি খুব ব্যস্ত’: ব্যস্ততা সবারই আছে। এটি কোনো একচেটিয়া সমস্যা নয়। আসলে আমরা যা পছন্দ করি বা যা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তার জন্যই সময় বের করি। ব্যস্ততার দোহাই না দিয়ে সময় ব্যবস্থাপনায় নজর দিন।
২. ‘আমি খুব ক্লান্ত’: এটি ইচ্ছাশক্তির অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি ক্লান্তি সত্যিই বাধা হয়, তাহলে আপনার খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের মান উন্নত করুন। ক্লান্তি যেন আপনার স্বপ্নকে থামিয়ে না দেয়।
৩. ‘আমি অসুস্থতা বোধ করছি’: সত্যিই অসুস্থ হলে বিশ্রাম নিন। কিন্তু আলসেমি ঢাকতে এই অজুহাত ব্যবহার করবেন না। নিজের শারীরিক অবস্থার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই।
৪. ‘আইডিয়াটি ভালো কি না নিশ্চিত নই’: কোনো আইডিয়াই শতভাগ নিশ্চিত নয়। কাজ শুরু না করলে আপনি কখনোই জানবেন না, এটি কাজ করবে কি না। বাজারের তথ্য সংগ্রহ করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরু করুন।
৫. ‘এটি সঠিক সময় নয়’: নিখুঁত সময়ের অপেক্ষা করতে করতে অনেক অসাধারণ আইডিয়া অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। এখনই শুরু করার পথ খুঁজুন, নিখুঁত সময় হয়তো কখনোই আসবে না।
৬. ‘আমি জানি না কীভাবে শুরু করব’: বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সব তথ্যই হাতের নাগালে। শেখার মানসিকতা থাকলে ‘কীভাবে শুরু করব’ এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
৭. ‘আমি ভীত’: সফল মানুষও ভয় পান, কিন্তু তাঁরা ভয় নিয়েই কাজ শুরু করেন। ভয়কে জয় করার একমাত্র উপায় হলো কাজ শুরু করে দেওয়া।
৮. ‘এটি আমার অভ্যাসের বাইরে’: কমফোর্ট জোনের বাইরে যেতে আমরা সবাই ভয় পাই। কিন্তু অনিশ্চয়তাকে উপভোগ করতে শিখুন। দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে এলে প্রাপ্তির ঝুলি অনেক বড় হবে।
৯. ‘আমি খুব অল্প বয়সী বা খুব বৃদ্ধ’: ব্যবসার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। অল্প বয়সে থাকে প্রাণশক্তি, আর বয়সের সঙ্গে আসে প্রজ্ঞা। নিজের বয়সকে অজুহাত না বানিয়ে শক্তিতে রূপান্তর করুন।
১০. ‘এটি অসম্ভব’: সত্যিকারের উদ্যোক্তাদের অভিধানে ‘অসম্ভব’ বলে কিছু নেই। কোনো কাজ যদি অন্য কেউ পেরে থাকে, তবে আপনিও পারবেন। আর কেউ না পেরে থাকলে আপনিই হবেন প্রথম।
অজুহাতের মুখোমুখি কেন হবেন
অজুহাত সাময়িক আরাম দিলেও তা আপনার উন্নতির পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। জীবনকে পূর্ণভাবে বাঁচার প্রথম শর্তই হলো নিজের দায়ভার নিজে নেওয়া। অতীত আপনার অভিজ্ঞতা হতে পারে, কিন্তু আপনার পরিচয় নয়। গতকাল আপনি কী ছিলেন, তা বড় কথা নয়, আজ আপনি কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেটাই নির্ধারণ করবে আপনার আগামীকাল কেমন হবে। আমরা নিজেদের অবচেতন মনে সারাক্ষণ কিছু নেতিবাচক ভাবনা ভাবি। যেমন ‘আমি পারব না’, ‘আমার ভাগ্য খারাপ’, ‘এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে’। এই গল্পগুলো বদলে ফেলুন। নিজেকে বিজয়ী হিসেবে কল্পনা করলে বাস্তবও বদলাতে শুরু করবে। স্বপ্ন দেখা শুধু শুরু, কিন্তু সেই স্বপ্নকে ছুঁতে প্রয়োজন অবিরাম এবং শক্তিশালী কর্মতৎপরতা। ছোট ছোট পদক্ষেপের বদলে বড় অর্জনের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যান্ত্রিকভাবে বেঁচে থাকা নয়, বরং প্রতিটি কাজে প্রাণশক্তি আর ভালোবাসা ঢেলে দিন। আপনার ভিশন বা স্বপ্ন যখন আপনার প্যাশন হয়ে উঠবে, তখন কোনো বাধাই আর আপনাকে থামাতে পারবে না।
অজুহাত দেওয়া বন্ধ করার ৭ কৌশল
নিজের দায়িত্ব নিন: আপনার ভাগ্য আপনার হাতেই। অতীত যেমনই হোক, বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করে ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করা সম্ভব।
দৃষ্টিভঙ্গি বদলান: সমস্যাকে বাধা হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখুন। আপনার জীবনের প্রতিটি ঘটনাই আপনাকে এই মুহূর্তে নিয়ে এসেছে। এখন আপনি হয় নিজেকে বদলে ফেলবেন, না হয় অজুহাত দেবেন।
সীমাবদ্ধ বিশ্বাসগুলো খুঁজুন: আমরা অবচেতন মনে নিজেদের সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক গল্প বলি (যেমন ‘আমি সফল হওয়ার যোগ্য নই’)। এই ভুল বিশ্বাসগুলোই অজুহাত তৈরি করে।
না বলা ছাড়ুন, চেষ্টা করুন: নিজেকে নেতিবাচক কথা বলা বন্ধ করুন। ‘আমি এটি করতে পারব না’; এর বদলে ‘আমি এটি শিখতে পারব’ বলা শুরু করুন
শিক্ষা নিন: যারা অজুহাত দেয়, তারা নিজেদের ভুল থেকে শেখে না, বরং অন্যকে দোষারোপ করে। সফল ব্যক্তিরা প্রতিটি ভুল বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যান।
অতিরিক্ত চিন্তা বন্ধ করুন: খুব বেশি চিন্তা করলে ‘অ্যানালাইসিস প্যারালাইসিস’ তৈরি হয়, যা কাজ শুরু করতে বাধা দেয়। বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে আজই অ্যাকশনে নামুন।
স্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করুন: আপনার ভিশন বা লক্ষ্য যদি শক্তিশালী হয়, তবে অজুহাত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ান।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, হেডস্পেস
২৪ ফেব্রুয়ারি। ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি এক বিশেষ আজ্ঞাপত্র বা ‘পাপাল বুল’ জারির মাধ্যমে বর্তমানে বহুল প্রচলিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন করেন। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ত্রুটি সংশোধন করতে প্রবর্তিত এ নতুন পদ্ধতিতে বছর থেকে ১০ দিন কমিয়ে আনা হয়। ক্যাথলিক দেশগুলো দ্রুত এ ক্যালেন্ডার গ্রহণ করলেও বিশ্বের অনেক দেশ এটি গ্রহণে দীর্ঘ সময় নিয়েছিল। আজো সময়ের নির্ভুল হিসাব রক্ষায় এ ক্যালেন্ডারই বিশ্বজুড়ে আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত।
৩১
হিডেন হাঙ্গার আসলে কী
হিডেন হাঙ্গার বা লুকানো ক্ষুধা এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন মানুষ পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ করেও শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায় না। দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশের কঙ্কালসার শিশুদের দেখলেই আমরা অপুষ্টি বুঝি। কিন্তু এই হিডেন হাঙ্গার সেভাবে বোঝা যায় না। অর্থাৎ এই অপুষ্টি বাইরে থেকে চট করে ধরা যায় না। শিশু দেখতে সুস্থ-সবল মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে সে জিংক, আয়রন, আয়োডিন বা ভিটামিনের তীব্র ঘাটতিতে ভুগতে পারে।
কেন থাকছে লুকানো ক্ষুধা
পুষ্টিবিদদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রাই এর জন্য দায়ী। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার; যেমন ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, চিনিযুক্ত পানীয় এবং সিরিয়াল, বর্তমানে শিশুদের প্রধান খাদ্য। এগুলোতে ক্যালরি ও চর্বি প্রচুর থাকলেও ভিটামিন, মিনারেল বা আঁশ একদমই থাকে না। শুধু তা-ই নয়, বর্তমানে বেছে খাওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যে বেশি। অনেক শিশু শুধু কয়েক ধরনের সেফ ফুড বা পছন্দের খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা ফলমূল বা শাকসবজি এড়িয়ে চলে। ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্যময় পুষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়।
বিপণন কৌশলের ফাঁদে পড়ে অনেকে অনেক সময় পুষ্টিগুণ নিয়ে মাথা ঘামান না। রঙিন প্যাকেট আর কার্টুন চরিত্রের মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর খাবার শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। অনেক সময় ‘প্রাকৃতিক’ বা ‘স্বাস্থ্যকর’ লেবেল দেখে মা-বাবাও বিভ্রান্ত হন। বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাপনে সময়ের অভাবে বাবা-মায়েরা ঝটপট তৈরি করা যায় এমন খাবার শিশুদের হাতে তুলে দেন। এটি পেট ভরায় ঠিকই, কিন্তু পুষ্টির চাহিদা মেটায় না। এ থেকেই তৈরি হয় হিডেন হাঙ্গার।
পরিণাম যা হতে পারে
শরীরে অণুপুষ্টির সামান্য ঘাটতিও বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। যেমন—
মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জড়তা।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া।
দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি এবং মনোযোগের অভাব।
আচরণের পরিবর্তন ও খিটখিটে মেজাজ।
ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ এবং হাড়ের সমস্যার ঝুঁকি।
মা-বাবার করণীয়
আপনার সন্তান বড় হচ্ছে মানেই সে সুস্থ থাকছে, এমনটি নয়। তাকে প্রকৃত অর্থে সুস্থ রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে—
প্রাকৃতিক খাবারে গুরুত্ব দিন: ডাল, শাকসবজি, ফলমূল, হোল গ্রেইন এবং চর্বিহীন প্রোটিনকে খাবারের তালিকায় অগ্রাধিকার দিন।
রঙিন থালা: খাবারে যত বৈচিত্র্য থাকবে, পুষ্টির মান তত বাড়বে। থালায় বিভিন্ন রঙের সবজি রাখার চেষ্টা করুন।
প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান: যে খাবারের শেলফ লাইফ বা মেয়াদ যত বেশি, তাতে পুষ্টির গুণাগুণ তত কম। তাই প্যাকেটজাত খাবার সীমিত করুন।
রোল মডেল হোন: শিশু আপনাকে যা করতে দেখবে, তা-ই শিখবে। আপনি নিজে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে আপনার সন্তানও তা খেতে আগ্রহী হবে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি সন্তানের বৃদ্ধি বা আচরণ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে একজন রেজিস্টার্ড পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। সামান্য কিছু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন তার জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মনে রাখবেন, হিডেন হাঙ্গার শুধু শিশুদের নয়, বয়স্ক বা স্থূলকায় ব্যক্তিদেরও হতে পারে। তাই ‘কী খাচ্ছি’; তার চেয়ে ‘কতটুকু পুষ্টি পাচ্ছি’; সেদিকে নজর দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: হেলথ শর্টস, মিভাসালেড
৩২
জেনে নিন জাপানের জানা-অজানা ১৫ তথ্য
জাপান পৃথিবীর এমন একটি দেশ, ভ্রমণপ্রেমীদের তালিকায় যা প্রায় সব সময় শীর্ষে থাকে। পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্র একই সঙ্গে প্রাচীন ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অসাধারণ সমন্বয়। শত শত বছরের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ধরে রেখেও জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জাপানকে অনেকেই শুধু সুস্বাদু খাবার, অ্যানিমে সংস্কৃতি বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য চেনেন। তবে দেশটির জীবনধারা, সামাজিক নিয়ম, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো জানলে জাপানকে আরও ভিন্নভাবে আবিষ্কার করা যায়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিশ্বে অনন্য জাপান
রাজধানী টোকিওর মতো ব্যস্ত মেগাসিটিতেও রাস্তাঘাট প্রায় ময়লামুক্ত থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে ডাস্টবিন খুব কম দেখা যায়। জাপানিদের বিশ্বাস, নিজের ময়লা নিজেই পরিষ্কার রাখা নাগরিক দায়িত্ব। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও ছোটবেলা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেখানো হয়।
বিশ্বের জনবহুল শহর টোকিও
টোকিও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বাস এই বিশাল নগরীতে। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শহরের পরিবহনব্যবস্থা ও নগরপরিকল্পনা অত্যন্ত উন্নত ও সুসংগঠিত।
বিশ্বের অন্যতম বড় মাছের বাজার
টোকিওর সুকিজি মাছের বাজার দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক খাদ্য বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিদিন হাজার টনের বেশি মাছ বিক্রি হতো সেখানে। এ বাজারের, বিশেষ করে টুনা মাছের নিলাম বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। ২০১৮ সালে বাজারের বড় অংশ টয়োসু এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হলেও সুকিজির বাইরের বাজার এখনো পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
প্রায় পুরো দেশ একই জাতিগোষ্ঠীর
জাপানের প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী জাপানি। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রবণতার কারণে দেশটি তুলনামূলকভাবে সাংস্কৃতিকভাবে সমজাতীয়।
ক্যানজাত খাবারের রেস্টুরেন্টও রয়েছে
জাপানে এমন অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের ক্যানজাত খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি জাপানে অসংখ্য ভেন্ডিং মেশিন রয়েছে, যেগুলোতে পানীয়, খাবার এমনকি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসও পাওয়া যায়।
দীর্ঘায়ুর জন্য পরিচিত জাপান
জাপান বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু জনগোষ্ঠীর দেশ। দেশটির মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৮৪ বছর। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মাছ ও সবজি বেশি খাওয়া, কম চর্বিযুক্ত খাবার এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন দীর্ঘায়ুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শতাধিক সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
জাপানে প্রায় ১১০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আগ্নেয়গিরি দেশটির ভূপ্রকৃতি ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বছরে দেড় হাজারের বেশি ভূমিকম্প
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় জাপানে প্রতিবছর দেড় হাজারের বেশি ভূমিকম্প হয়। অধিকাংশই ছোট হলেও বড় ভূমিকম্পের জন্য দেশটি সব সময় প্রস্তুত থাকে।
দেশের দুই-তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল
জাপানের প্রায় ৬৭ শতাংশ এলাকা বনাঞ্চল। ফলে শহুরে উন্নয়ন থাকলেও প্রকৃতির উপস্থিতি দেশটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পানির নিচে ডাকবাক্স
জাপানের সুসামি শহরে প্রায় ৩০ ফুট পানির নিচে একটি ডাকবাক্স রয়েছে। এটি বিশ্বের গভীর পানির নিচের ডাকবাক্স হিসেবে পরিচিত। এটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
সহজে না গলা আইসক্রিম
জাপানে এমন আইসক্রিম তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ আইসক্রিমের তুলনায় অনেক দেরিতে গলে। এটি মূলত খাদ্যবিজ্ঞান গবেষণার একটি উদ্ভাবন।
একসময় বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল
১৭ শতক থেকে জাপান প্রায় ২০০ বছর বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। এই সময় দেশটি নিজস্ব সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামো সংরক্ষণে মনোযোগ দেয়।
ভবনের ভেতর দিয়ে মহাসড়ক
ওসাকায় একটি মহাসড়ক ভবনের মাঝ দিয়ে চলে গেছে। সেখানে আধুনিক স্থাপত্য প্রযুক্তির কারণে ভবনের ভেতরে শব্দ শোনা যায় না।
দীর্ঘ উপকূল
জাপানের উপকূলরেখা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ। উপকূলজুড়ে রয়েছে মৎস্যবন্দর, পাহাড়ি ক্লিফ ও পর্যটন এলাকা।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য
জাপানের সংস্কৃতিতে মাথা নিচু করে সম্মান জানানো, বসন্তে চেরি ফুল উৎসব, চা অনুষ্ঠানের মতো ঐতিহ্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ। অতিথিকে সম্মান দেখাতে উপহার দেওয়ার সংস্কৃতিও জনপ্রিয় দেশটিতে। বাড়িতে ঢোকার আগে জুতা খুলে রাখা সামাজিক নিয়ম হিসেবে মানা হয় সেখানে।
প্রায় দুই হাজার বছরের ইতিহাস ধারণ করেও জাপান আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয় জাপানকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে।
সূত্র: দ্য প্ল্যানেট ডি
কেন সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে রাখা হয় তোয়ালে, যেভাবে এলো এই রীতি
এই প্রথাকে ব্রিটিশ শাসনামলের অবশিষ্টাংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর ঐতিহাসিক কারণ হল, একসময় রাস্তাঘাট কাঁচা ছিল এবং গাড়িতে এসি ছিল না। কর্মকর্তারা ঘোড়ায় চড়ে পরিদর্শনে যেতেন। তখন ঘাম মুছতে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাদা তোয়ালে ছিল অপরিহার্য। ব্রিটিশরা চলে গেছে, ঘোড়াও বিদায় নিয়েছে, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তোয়ালে রয়ে গেছে ক্ষমতার চিহ্ন হিসেবে। প্রশ্ন —এই ডিজিটাল যুগেও এমন ঔপনিবেশিক ‘তোয়ালে প্রথা’ কি খুব বেশি প্রয়োজন? সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
৩৩
এসি ও ‘সামার কোল্ড’
একটানা এসি ঘরে থাকলে ফুসফুসের বারোটা বাজতে বাধ্য। কিন্তু এই দহনে এসি ছাড়া থাকাও অসম্ভব। এসি শুধু ঘর ঠান্ডা করে না, বাতাসের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও শুষে নেয়। তাই ঘরের আদর্শ আর্দ্রতা হওয়া উচিত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। অথচ এসি চললে তা নিমেষে ২০ শতাংশে নেমে আসে।
এই শুষ্ক হাওয়া সরাসরি আমাদের নাকের ভেতরকার মিউকাস স্তরের ওপর প্রভাব ফেলে। আস্তরণটি শুকিয়ে গেলে ভাইরাস বা দূষণ রোখার স্বাভাবিক ক্ষমতা শরীর হারিয়ে ফেলে। ফলে হাঁচি, কাশি ও অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে থাকে। সাইনাস বা শ্বাসকষ্টের রোগীর জন্য এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। একেই চিকিৎসকরা অনেক সময় ‘সামার কোল্ড’ বলে থাকেন।
এ ছাড়া অনেকেই দীর্ঘক্ষণ এসি চালালেও তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেন না। এসির ফিল্টারে ধুলাবালি, ব্যাকটিরিয়া এবং ক্ষতিকারক ছত্রাক জমা হয়। যন্ত্রটি চালু করলেই সেই বিষাক্ত কণাগুলো সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে অন্তত মাসে একবার এসির সার্ভিসিং করানো উচিত।
কারণ এসি চালালেও ঘরের আর্দ্রতা ধরে রাখা জরুরি। এর জন্য ‘হিউমিডিফায়ার’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই যন্ত্রটি ঘরের ভেতরের জলীয় বাষ্পের ভারসাম্য ঠিক রাখে। ফলে শ্বাসযন্ত্র শুকিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। বিশেষ করে যাঁদের হাঁপানি বা সিওপিডি-র মতো পুরনো রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি রক্ষাকবচ হতে পারে। বাতাসে অক্সিজেনের সঠিক মাত্রা বজায় থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে ইনডোর প্ল্যান্টের জুড়ি নেই। স্নেক প্ল্যান্ট, এরিকা পাম বা পিস লিলি ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখতে পারেন। এই গাছগুলো বাতাস থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন শুষে নেয় এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে এসির কৃত্রিম ঠান্ডার মাঝেও মিলবে খানিকটা সজীবতা। মনে রাখবেন, সচেতন থাকলেই এসি ঘরে থেকেও সুস্থ থাকা সম্ভব। @ যুগান্তর
৩৪
কোলনে কতক্ষণ মল জমে থাকলে হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য?
খাবার হজম হওয়ার পর যে বর্জ্য তৈরি হয়, তা ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে বৃহদান্ত্রে পৌঁছায়। এরপর তা রেকটামে জমা হয় এবং চাপ তৈরি হলে তা শরীরে থেকে বেরিয়ে যায়। তাতে আপনার দূষিত পদার্থ মলমূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে পড়ে। তাই পেট ঠিকমতো সাফ না হলেই আপনার শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই ‘গাট ট্রানজিট টাইম’ প্রক্রিয়াটি কত ধীর বা দ্রুতগতিতে হচ্ছে, তার ওপর আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে— আপনি কতটা সুস্থ কিংবা অসুস্থ।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন আপনার পর্যাপ্ত পানি ও ফাইবারজাতীয় খাবার খাওয়া না হয়। আর তাতেই হজম স্বাস্থ্য অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।
গবেষণা বলছে, কোলনে কতক্ষণ মল জমে থাকছে, তা আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মল কতটা ধীরে বা দ্রুতগতিতে চলাচল করছে, তার ওপর নির্ভর করে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের গঠন বদলে যায়। এর জেরে যেমন মেটাবলিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয়, ঠিক তেমনই শরীরে প্রদাহ বাড়তে থাকে। আবার অনেক সময়ে স্নায়বিক রোগও দেখা দেয়।
মল যত বেশি শক্ত হয়, গাট ট্রানজিট টাইমে তত বেশি সময় লাগে। এ প্রক্রিয়া যত ধীর গতিতে হবে কিংবা বর্জ্য পদার্থ যত বেশি সময় ধরে কোলনে থাকবে, অন্ত্রে তত বেশি অ্যামোনিয়া ও ফেনলের মতো ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হবে।
আর এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি অন্ত্রের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আর এটাই হলো— কোষ্ঠকাঠিন্য। মল শক্ত হওয়ায় গাট ট্রানজিট টাইমে সময় লাগে এবং শরীর থেকে বর্জ্য বেরোতে পারে না। সাধারণত ২৪–৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত মল শরীরে থাকতে পারে। এর বেশি সময় থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আবার এর চেয়ে কম সময়ে মল শরীর থেকে বেরিয়ে গেলে কিংবা গাট ট্রানজিট টাইম দ্রুতগতিতে হলে ডায়ারিয়া হয়ে যায়।
আর মল দ্রুত শরীর থেকে বেরিয়ে গেলে তখন শরীর খাবার থেকে ঠিকমতো পুষ্টি শোষণ করতে পারে না। শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি হয়। ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়।
সে জন্য হজম স্বাস্থ্য ভালো রাখা উচিত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার খাওয়া উচিত। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, দানাশস্য রাখুন। দই, ইডলি, দোসার মতো প্রোবায়োটিক রোজের পাতে রাখুন। দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। এর পাশাপাশি তরল খাবারও খান। আর নিয়মিত ব্যায়াম করুন। হাঁটলেও শরীর ভালো থাকে। প্রতিদিন মলত্যাগের একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, দীর্ঘক্ষণ ধরে মল শরীরে থাকলে কোন কোন গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে—
১. কোলোরেক্টাল ক্যানসার
২. ব্রেস্ট ক্যানসার
৩. পার্কিনসনস ও অ্যালঝেইমার্সের মতো স্নায়বিক রোগ
৪. হৃদরোগ ও কিডনি রোগ
৫. ডায়াবিটিস ও ওবেসিটি
৩৫
গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়া কি উচিত?
গরমে ঠান্ডা পানি পান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা হঠাৎ করে খুব ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বাইরে তীব্র রোদে থাকার পর সঙ্গে সঙ্গে বরফঠান্ডা পানি পান না করাই ভালো।
তিনি জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করলে—
শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে
ফুসফুসে কফ জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে
সর্দি-কাশির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়
দাঁতে সংবেদনশীলতা বা ব্যথা দেখা দিতে পারে
তাই একেবারে বরফ ঠান্ডা পানি না খেয়ে স্বাভাবিক পানি ও সামান্য ঠান্ডা পানি মিশিয়ে পান করাই উত্তম। এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে।
এছাড়া খালি পেটে হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এটি হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে।
গরমের এই সময়ে প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের পানি, ঘরে তৈরি ফলের রস, ঘোল বা শরবত খাওয়া যেতে পারে। তবে এসব পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে ভালো হয়, বাইরের বদলে ঘরেই স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরি করে পান করা। এতে গরমে শরীর থাকবে সতেজ ও সুরক্ষিত।
৩৬
স্ক্রিম থেরাপি
এটি কেবল জোরে চিৎকার করা নয়, বরং মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা শৈশবের ট্রমা বা অবদমিত আবেগ বের করে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া।
স্ক্রিম থেরাপি আসলে কী?
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রাইমাল থেরাপি’। এর মূল ধারণা হলো, আমাদের অবদমিত আবেগগুলো শরীরের ভেতরে একটি চাপ তৈরি করে। চিৎকার সেই চাপের জন্য একটি ‘রিলিজ ভালভ’ হিসেবে কাজ করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একা চিৎকার করার চেয়ে একজন প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের উপস্থিতিতে এটি করা বেশি নিরাপদ। থেরাপিস্ট আপনাকে আপনার পুরনো ট্রমাগুলো পুনরায় অনুভব করতে এবং চিৎকারের মাধ্যমে সেগুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করেন।
বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও উপকারিতা
যদিও স্ক্রিম থেরাপির দীর্ঘমেয়াদী উপকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তবে এর কিছু তাৎক্ষণিক ইতিবাচক দিক লক্ষ্য করা যায়। যেমন-
আবেগীয় মুক্তি: এটি জমানো আবেগকে তীব্রভাবে প্রকাশের সুযোগ দেয়, যা অনেক সময় শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।
মানসিক চাপ হ্রাস: শরীরের পেশিতে জমে থাকা উত্তেজনা চিৎকারের মাধ্যমে প্রশমিত হয়।
আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি: নিজের আবেগের গভীরতা এবং ট্রিগারগুলো বুঝতে সাহায্য করে।
ক্ষমতায়ন: যারা শৈশবে চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের জন্য চিৎকার করা নিজের কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
ঝুঁকি ও সতর্কতা
সবকিছুর মতোই এর কিছু সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি রয়েছে:
১. ভোকাল কর্ডের ক্ষতি: খুব ঘনঘন বা ভুল পদ্ধতিতে চিৎকার করলে কণ্ঠনালীর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
২. আগ্রাসন বৃদ্ধি: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রাগের মাথায় চিৎকার করলে রাগ না কমে বরং তা আরও বেড়ে যেতে পারে।
৩. অন্যদের জন্য ভীতিকর: প্রেক্ষাপট ছাড়া চিৎকার আশেপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
নিরাপদভাবে ‘স্ক্রিম থেরাপি’ অনুশীলনের ধাপ
আপনি যদি নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য এটি চেষ্টা করতে চান, তবে বিশেষজ্ঞরা নিচের ধাপগুলো অনুসরণের পরামর্শ দেন:
উদ্দেশ্য ঠিক করুন: আপনি কি রাগ ঝাড়তে চান নাকি দুশ্চিন্তা কমাতে চান? শুরুতেই তা মনে মনে স্থির করে নিন।
উপযুক্ত স্থান নির্বাচন: নির্জন কোনো জায়গা বা শব্দ নিরোধক ঘর বেছে নিন যাতে অন্য কেউ আতঙ্কিত না হয়। প্রয়োজনে বালিশের ভেতরে মুখ দিয়ে চিৎকার করতে পারেন।
শারীরিক প্রস্তুতি: শুরুর আগে গভীর শ্বাস নিন এবং শরীর শিথিল করুন। সরাসরি চিৎকার শুরু না করে গুনগুন করে গান গেয়ে বা হামিং করে কণ্ঠনালীকে প্রস্তুত করে নিন।
পরবর্তী শান্ত প্রক্রিয়া: চিৎকার শেষে হঠাৎ করে স্বাভাবিক কাজে ফিরবেন না। কিছুক্ষণ ধ্যান করুন, ডায়েরি লিখুন বা হালকা হাঁটাহাঁটি করে মনকে শান্ত করুন।
বিশেষজ্ঞের অভিমত:
স্ক্রিম থেরাপি কখনোই প্রথাগত ‘টক থেরাপি’র বিকল্প নয়। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও মনের গভীরের ক্ষত সারাতে পেশাদার মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি চিৎকার করার পর আপনি আরও বেশি বিপর্যস্ত বোধ করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে এই অনুশীলন বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত।
সূত্র: কাম অবলম্বনে
সকাল না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে গোসল করলে শরীর ও মন দুটোই সতেজ হয়ে ওঠে। ঘুমঘুম ভাব কেটে গিয়ে দিনের কাজ শুরু করা সহজ হয়। এছাড়া রাতে শরীরে জমে থাকা ঘাম ও মৃত কোষ ধুয়ে যাওয়ায় ত্বক পরিষ্কার ও ফ্রেশ থাকে।
অন্যদিকে, রাতে গোসলেরও রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। সারাদিন বাইরে থাকার ফলে শরীরে জমে থাকা ধুলাবালি, ঘাম ও দূষণ সহজেই দূর করা যায়। এতে পরিষ্কার শরীরে ঘুমানো সম্ভব হয় এবং বিছানাও তুলনামূলক কম নোংরা হয়। যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের জন্য রাতের গোসল বিশেষভাবে উপযোগী বলে মনে করেন অনেকে।
৩৭
লবণ বেশি খেলে আপনার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবার আগে।
লবণ খেলে শরীরে পানির ধারণক্ষমতা বাড়ে ঠিকই, কিন্তু পরিমাণের অতিরিক্ত লবণ খেয়ে ফেললেই শরীরের ক্ষতি। রান্নাতে ঠিকমতো লবণ না হলে অনেকেই পাতে কাঁচা লবণ খান। এভাবে সারা দিনে কতটা লবণ বা সোডিয়াম শরীরে প্রবেশ করে তার হিসাব থাকে না।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, লবণ বেশি খেলে হার্টের ক্ষতি হবে, কোলেস্টেরল বাড়বে। তা ঠিকই। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, লবণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে কিডনির। লবণ থেকে ক্রনিক কিডনির রোগ হওয়ায় অসম্ভব নয়। এমনটাই দাবি করেছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিয়োলজির গবেষকরা।
আপনার কিডনি শরীরের প্রাকৃতিক ছাঁকনি হিসাবে কাজ করে। এটি শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ করে এবং তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু বেশি লবণ খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। এই সোডিয়াম কিডনির রক্তনালিতে অতিরিক্ত জল টেনে আনে। ফলে চাপ সৃষ্টি হয়, যা রক্তনালিকে শক্ত ও সংস্বণার্ণ করে দেয়, যে কারণে কিডনি তার স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত অতিরিক্ত লবণ খান, তাদের কিডনির কার্যক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। বিশেষ করে আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় ক্যালশিয়াম বার করে দেয়, যা পরবর্তী কালে কিডনিতে পাথর জমার কারণ হয়ে ওঠে।
ভাতের পাতে কাঁচা লবণ কিংবা রান্নায় দেওয়া লবণই যে শরীরে ঢোকে তা কিন্তু নয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজত স্ন্যাক্স, চিপস, ইনস্ট্যন্ট নুড্লস, মাখন, পাউরুটি চিজ়, বিস্কুট ও বিভিন্ন সস থেকেও লবণ ঢোকে শরীরে।
এ হিসাব মতো একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্কের সারা দিনে পাঁচ-ছয় গ্রাম লবণ বা এক চামচের মতো লবণ খাওয়া উচিত। তবে উচ্চ রক্তচাপ কিডনির রোগ আগে থেকেই থাকলে কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। লবণ আছে এমন স্ন্যাক্স খাওয়াও চলবে না। কেবল রান্নায় যেটুকু লবণ দেওয়া হচ্ছে, সেটুকুই খেতে হবে।
কী ধরনের লবণ খাচ্ছেন, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ, সাদা লবণের থেকে সি সল্ট বা সৈন্ধব লবণ খাওয়াই ভালো। সৈন্ধব লবণের দানা হয় বড় বড়। অনেক সময় ডেলার মতোও হয়। আর এর রঙও ধবধবে সাদা নয়। কিছুটা লালচে ভাব থাকে। প্রক্রিয়াকরণের আগের পর্যায় হলো— এই সৈন্ধব লবণ। যারা রোজ কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম বেশি করেন, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লবণ খাওয়ার পরিমাণ স্থির করতে হবে।
৩৮
নিয়মিত দৌড়ানোর অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা উপকারী
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ভেরিওয়েল হেলথ দৌড়ানোর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা তুলে ধরেছে।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখে
প্রতিদিন দৌড়ালে হৃদযন্ত্র আরও কার্যকরভাবে কাজ করে। এতে শরীরের পেশিতে বেশি অক্সিজেন পৌঁছে যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং অকালমৃত্যুর সম্ভাবনাও হ্রাস করতে পারে।
ঘুম স্বাস্থ্যকর করে
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে। সপ্তাহের কর্মদিবসে সকালে মাত্র ৩০ মিনিট দৌড়ালেও ঘুমের উন্নতি হয়। আবার এক ঘণ্টা দৌড়ালে ঘুমের সময় ও মান—দুটোই বাড়তে পারে।
জয়েন্ট ও মেরুদণ্ডের জন্য উপকারী
অনেকে মনে করেন দৌড়ালে হাঁটু বা পিঠে ব্যথা বাড়ে। তবে গবেষণা বলছে, নিয়মিত দৌড়ালে জয়েন্ট শক্তিশালী হয় এবং তা সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এমনকি হাঁটু প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিও কমতে পারে। নিয়মিত দৌড়ানো ব্যক্তিদের মেরুদণ্ডও তুলনামূলক সুস্থ থাকে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়
দৌড়ানোর মতো ব্যায়াম নতুন স্নায়ুকোষ তৈরিতে সহায়তা করে এবং বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা কমাতে ভূমিকা রাখে। এতে স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও বাড়ে। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত দৌড়ালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইকারী শ্বেত রক্তকণিকা সক্রিয় করে এবং শ্বাসনালীর ক্ষতিকর জীবাণু দূর করতে সহায়তা করে।
হাড় মজবুত করে
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দৌড়ান তাদের হাড়ের ঘনত্ব বেশি থাকে। বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে হাড়ে খনিজ উপাদান বাড়াতে এটি সহায়ক।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
দৌড়ানোর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, যা হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থাকে সুস্থ রাখে। এটি রক্তনালীর কার্যক্ষমতা বাড়ায়, রক্তচাপ কমায় এবং অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্তনালীতে চর্বি জমা) প্রতিরোধে সহায়তা করে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি
অনেকেই দৌড়ানোর পর নিজেকে বেশি চাঙ্গা ও প্রফুল্ল মনে করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট করে তিন সপ্তাহ দৌড়ালেও মেজাজ, মনোযোগ ও ঘুমের মান উন্নত হয়। এটি উদ্বেগ ও বিষণ্নতার লক্ষণ কমাতেও সাহায্য করে।
দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়
নিয়মিত দৌড়ানোর মতো শারীরিক ব্যায়াম দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের ক্যানসার ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
৩৯
কেন ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা, আর ২৪ ঘণ্টায় ১ দিন?
আধুনিক সভ্যতার সবকিছুই ১০ ভিত্তিক বা দশমিক পদ্ধতিতে পরিমাপ করা হয়। অথচ ঘড়ির কাঁটার হিসাবটি ভিন্ন। ১০ ঘণ্টার বদলে ২৪ ঘণ্টায় বিভক্ত এক দিন আর প্রতি ঘণ্টা ১০০ মিনিটের বদলে ৬০ মিনিটে সীমাবদ্ধ। কিন্তু কেন? এ রহস্যের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে সুদূর মেসোপটেমীয় সভ্যতায়। আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে নেয়া একটি গাণিতিক সিদ্ধান্ত আজও নির্ধারণ করে দিচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব।
আঙুলের কর থেকে সংখ্যাতত্ত্ব
সময় গণনার এ ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতির আদি কারিগর সুমেরীয়রা। ধারণা করা হয়, পদ্ধতিটি এসেছে মানুষের হাতের আঙুল গণনার কৌশল থেকে। বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যবহার করে এক হাতের বাকি চার আঙুলের ১২টি কর গণনা করা যায়। এভাবে অন্য হাতের ৫টি আঙুল ব্যবহার করে পাঁচবার ১২ গণনা করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০। এ জাদুকরী সংখ্যাটিই পরবর্তী ৫ হাজার বছর ধরে গণিতের রাজত্ব দখলে রেখেছে।
১০-এর তুলনায় ৬০ সংখ্যাটির ব্যবহারিক সুবিধা অনেক বেশি। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব নিউ ব্রান্সউইকের বিশেষজ্ঞ মার্টিন উইলিস মনরোর মতে, ৬০ সংখ্যাটিকে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১০, ১২, ১৫, ২০ ও ৩০—দিয়ে কোনো ভগ্নাংশ ছাড়াই ভাগ করা যায়। প্রাচীনকালে কর আদায়, হিসাবরক্ষণ বা জমি মাপার ক্ষেত্রে এ সহজ বিভাজন পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত কার্যকর।
মিসরীয়দের ২৪ ঘণ্টা ও নক্ষত্রের হিসাব
দিনের ২৪ ঘণ্টার ভাগটি এসেছে প্রাচীন মিসরীয়দের হাত ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দের ধর্মীয় টেক্সট থেকে জানা যায়, তারা রাতকে ১২টি ভাগে বিভক্ত করেছিল। মিসরীয় কফিনের ভেতর পাওয়া ‘স্টার ক্লক’ থেকে ধারণা করা হয়, নক্ষত্রমণ্ডলী বা রাশিচক্রের ওপর ভিত্তি করে তারা এ ১২ ভিত্তিক বিভাজন করেছিল। পরবর্তীতে দিনের আলোর সময়কেও একইভাবে ১২ ভাগে ভাগ করার ফলে পূর্ণ দিবসটি ২৪ ঘণ্টায় রূপ নেয়।
ব্যাবিলনীয়দের অবদান ও মিনিটের জন্ম
সুমেরীয়দের পর ব্যাবিলনীয়রা (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-৫৪০ অব্দ) এ লিগ্যাসি এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা লক্ষ্য করেছিল, সূর্য আকাশে নিজের পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসতে প্রায় ৩৬০ দিন সময় নেয়। ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতির অনুসারী হওয়ায় ৩৬০ সংখ্যাটি তাদের কাছে ছিল অত্যন্ত সুবিধাজনক। এ হিসাব থেকেই তারা বছরে ১২ মাস আর মাসে ৩০ দিনের ধারণা তৈরি করে।
ব্যাবিলনীয়রা মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি মাপার জন্য বড় সময়কে ছোট অংশে ভাগ করতে শুরু করে। তারা তাদের দ্বিগুণ ঘণ্টা বা ‘বেরু’-কে ৬০ ভাগে ভাগ করে ‘উশ’ নাম দেয়, যা আজকের ৪ মিনিটের সমান। এই উশ-কে আবার ৬০ ভাগে ভাগ করে তারা নাম দেয় ‘নিন্দা’ । যদিও তারা একে সময়ের চেয়ে দূরত্বের একক হিসেবেই বেশি দেখত, গ্রিক জ্যোতির্বিদরা পরবর্তীতে এ নিখুঁত হিসাব গ্রহণ করেন এবং তা আধুনিক ঘড়ির সেকেন্ড ও মিনিটে পরিণত হয়। @ বণিক বার্তা
বিবিসি অবলম্বনে
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০ সাল। এই দিনে মাত্র ২৪ বছর বয়সী আমেরিকান তরুণ ক্লাইড টমবো অ্যারিজোনার লোয়েল অবজারভেটরিতে বসে সৌরজগতের বামন গ্রহ ‘প্লুটো’ আবিষ্কার করেন। মজার বিষয় হলো, মহাকাশ বিজ্ঞানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই কেবল প্রবল আগ্রহ আর মাত্র ১৩ ইঞ্চির একটি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তিনি এই অসাধ্য সাধন করেছিলেন।
৪০
বিশ্বের প্রাচীনতম ভাষা কোনটি?
এটি একটি জটিল প্রশ্ন যার কোনো একক উত্তর নেই। খা যাচ্ছে, এটি একটি জটিল প্রশ্ন যার কোনো একক উত্তর নেই।
বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি ভাষা প্রচলিত আছে। কিন্তু আমরা কি জানি, এই বিশাল শব্দভাণ্ডারের শুরুটা হয়েছিল কোথায়? কোন ভাষাটি পৃথিবীর বুকে প্রথম উচ্চারিত বা লিখিত হয়েছিল?
পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্যারেথ রবার্টসের মতে, মানুষ কথা বলতে বা ইশারা ভাষা ব্যবহার করতে শিখেছে লিখতে শেখার হাজার হাজার বছর আগে। কিন্তু প্রাচীন সেই সব কথ্য ভাষার কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই, কারণ সেগুলো পাথর বা মাটির মতো স্থায়ী মাধ্যমে ধরে রাখা হয়নি।
সুমেরীয় বনাম মিশরীয়: কে আগে?
ভাষার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শনের লড়াইয়ে সমানে সমান অবস্থানে আছে দুটি প্রাচীন সভ্যতা: সুমেরীয় এবং মিশরীয়।
সুমেরীয় কিউনিফর্ম: বর্তমান ইরাক অঞ্চলে মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার বছর আগে কীলক আকৃতির এই লিখন পদ্ধতির উদ্ভব হয়। মূলত বাণিজ্যের হিসাব রাখার জন্য কাদার চাকতিতে এই চিহ্নগুলো ব্যবহার করা হতো।
মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিক: প্রায় একই সময়ে মিশরেও চিত্রলিপি বা হিয়েরোগ্লিফিকের বিকাশ ঘটে। মজার ব্যাপার হলো, সুমেরীয়রা আগে লিখতে শুরু করলেও ইতিহাসে প্রথম ‘পূর্ণাঙ্গ বাক্য’ পাওয়া গেছে মিশরীয় লিপিতে। ফারাও সেথ-পেরিবসেনের সমাধিতে পাওয়া সেই বাক্যের অর্থ— 'তিনি তার পুত্র রাজা পেরিবসেনের জন্য দুই ভূমিকে একত্রিত করেছেন।'
বর্তমানে টিকে থাকা প্রাচীনতম ভাষা কোনটি?
অনেকেই অবাক হতে পারেন এটি জেনে যে, প্রাচীন সেই সব ভাষার অধিকাংশই আজ মৃত। তবে অধ্যাপক রবার্টসের মতে, যদি প্রশ্ন করা হয়—আজও পৃথিবীতে কথা বলা হয় এমন কোন ভাষার লিখিত রূপ সবচেয়ে পুরনো? তবে উত্তর হবে গ্রিক। এই ভাষার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন এবং বর্তমানের আধুনিক গ্রীক ভাষার মধ্যে একটি সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে, যা অন্য অনেক প্রাচীন ভাষার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
কেন সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন?
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লেয়ার বোয়ার্ন একটি চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'একটি ভাষার বয়স নির্ধারণ করা কোনো শিশুর বয়স বলার মতো নয়; এর কোনো নির্দিষ্ট জন্মদিন নেই।' আজ আমরা যে ভাষাগুলোতে কথা বলি, তার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের বিবর্তন। কোনো গুহাচিত্র থেকে শুরু হওয়া আদি-লিখন (Proto-writing) কালক্রমে বর্ণমালায় রূপ নিয়েছে। হয়তো মাটির নিচে এমন কোনো লিপি এখনো চাপা পড়ে আছে যা আমাদের জানা সমস্ত ইতিহাসকে বদলে দিতে পারে। ততদিন পর্যন্ত সুমেরীয় কিউনিফর্ম এবং মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিক্সকেই আমরা ভাষার ইতিহাসের আদিমতম স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করতে পারি।
৪১
জাপানের সামুরাই বীরদের অজানা ইতিহাস
মধ্যযুগীয় জাপানের ‘সামুরাই’ শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে অসীম সাহস, আনুগত্য আর ত্যাগের এক রোমাঞ্চকর আখ্যান। ‘শোগান’ থেকে শুরু করে ‘স্টার ওয়ার্স’—বিশ্ব চলচ্চিত্রের পর্দায় আমরা যে বর্মধারী যোদ্ধাদের দেখি, তারা যতটা না ঐতিহাসিক, তার চেয়ে বেশি কাল্পনিক। কিন্তু ব্রিটিশ মিউজিয়ামের নতুন এক প্রদর্শনী বলছে, সামুরাইদের প্রকৃত ইতিহাস আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জটিল, বৈচিত্র্যময় ও বিস্ময়কর।
কুসংস্কারের বেড়াজালে বীরত্ব
১৮ শতকের ছাপচিত্র ‘উকিয়ো-ই’ প্রিন্ট থেকে আজকের ভিডিও গেম, টিভি, শো কিংবা চলচ্চিত্র—সামুরাইদের মতো এত বেশি মিথ বা রূপকথা আর কোনো গোষ্ঠীকে নিয়ে তৈরি হয়নি। ধারণা করা হয়, তারা ছিলেন আজন্ম যোদ্ধা ও মৃত্যুভয়হীন এক অনন্য জাপানি গোষ্ঠী।
তবে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে তাদের নিয়ে হওয়া প্রদর্শনীর কিউরেটর রোসিনা বাকল্যান্ড বিবিসিকে জানান, সামুরাইরা কোনো একক বা অপরিবর্তিত গোষ্ঠী ছিল না। ১০ম শতাব্দীতে তারা মূলত রাজদরবারের ‘ভাড়াটে সৈন্য’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীকালে তারা গ্রামীণ অভিজাত শ্রেণিতে রূপান্তরিত হয়।
মজার বিষয় হলো, আমরা যে ‘বুশিদো’ বা বীরত্বের কোডের কথা শুনি, শুরুর দিকে সামুরাইরা তা সবসময় মেনে চলত না। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা সুযোগসন্ধানী ছিল; অতর্কিত হামলা বা প্রতারণা তাদের কৌশলের অংশ ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য সম্মান নয়, বরং জমি এবং সামাজিক মর্যাদা অর্জন।
যখন ‘সংস্কৃতিই শক্তি’
সামুরাইদের উত্থানের মূলে ছিল রাজকীয় উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব। ১১৮৫ সালে মিনামোতো গোত্র নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, যা সম্রাটের দরবারের সমান্তরালে পরিচালিত হয়। তবে শাসকরা দ্রুত বুঝতে পারেন যে, কেবল তলোয়ার দিয়ে রাজ্য চালানো সম্ভব নয়। তাই তারা কনফুসীয় দর্শনের ওপর ভিত্তি করে শাসন ব্যবস্থা সাজান। এই দর্শনে সামরিক শক্তির পাশাপাশি ‘সাংস্কৃতিক দক্ষতা’ ছিল অপরিহার্য।
ফলে সামুরাইরা কেবল যুদ্ধেই নয়, বরং চিত্রকলা, কবিতা, থিয়েটার এবং চা-চক্রের মতো মার্জিত শিল্পকলায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। ১৯ শতকের একটি সামুরাই চিত্রিত পাখার প্রদর্শন এ দাবির সপক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ দেয়।
বৈচিত্র্য ও বিদেশী প্রভাব
সামুরাইরা যে কেবল নিজেদের ঐতিহ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তার প্রমাণ মেলে তাদের বর্মে। ১৫৪৩ সালে জাপানে ইউরোপীয় আগ্নেয়াস্ত্র আসার পর পর্তুগিজ নকশায় সামুরাইদের বর্ম তৈরি শুরু হয়, যা বন্দুকের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে সাহায্য করত। এই অভিযোজন ক্ষমতা তাদের আধুনিকতার পরিচয় দেয়।
সামুরাই নারী: ঘরের ভেতরের শাসক
টোকুগাওয়া শোগুনাতের (১৬০৩-১৮৬৮) শান্তিপ্রিয় সময়ে সামুরাইদের ভূমিকা পাল্টে যায়। তারা তখন যোদ্ধার বদলে বনে যান আমলা, ট্যাক্স সংগ্রাহক বা পাহারাদার। এ সময় আঞ্চলিক লর্ডদের (দাইমিও) স্ত্রী-সন্তানদের এডো (বর্তমান টোকিও) শহরে কার্যত ‘জিম্মি’ হিসেবে রাখা হতো।
স্বামীদের অনুপস্থিতিতে এ সামুরাই নারীরাই বিশালাকার পরিবার ও ব্যবসা সামলাতেন। তারা কর্মচারী তদারকি, সন্তানের শিক্ষা ও আনুষ্ঠানিক আচার-অনুষ্ঠান রক্ষায় নেতৃত্ব দিতেন। প্রদর্শনীতে থাকা পোশাক, শিষ্টাচারবিষয়ক পুস্তিকা ও অন্যান্য সামগ্রী সে ইতিহাস তুলে ধরে। ইতিহাসে তোমো গোজেনের মতো নারী যোদ্ধাদের কথাও উল্লেখ আছে, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে পুরুষদের সমান বীরত্ব দেখিয়েছেন।
ধ্বংস ও কাল্পনিক পুনর্জন্ম
১৮৬৯ সালে মেইজি যুগে সামুরাই প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়। ঠিক তখনই শুরু হয় ‘সামুরাই নস্টালজিয়া’। ১৯ শতকের শেষে নিতোবে ইনজোর লেখা ‘বুশিদো: দ্য সোল অব জাপান’ বইটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়। থিওডোর রুজভেল্টের মতো বিশ্বনেতারাও বইটির ভক্ত ছিলেন। ২০ শতকে এ ভাবমূর্তিকে রাজনৈতিক প্রচারণার কাজেও ব্যবহার করা হয়।
বিশ্ব সংস্কৃতিতে প্রভাব
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামুরাই নতুনভাবে চলচ্চিত্রে ফিরে আসে। আকিরা কুরোসাওয়া নির্মিত ‘সেভেন সামুরাই’ (১৯৫৪) চলচ্চিত্রটি হলিউডকে নতুন পথ দেখায়। এ সিনেমা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয় ‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ বা সার্হিও লিওনের স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন ছবিগুলো।
৪২
বেড়ে ওঠার জায়গা মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে দেয়
‘প্রকৃতি বনাম পরিবেশ’ বিতর্কের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক চমকপ্রদ সত্যের মুখোমুখি হচ্ছেন। মানুষের বেড়ে ওঠার জায়গা বা সংস্কৃতি কেবল পোশাক বা ভাষাই ঠিক করে দেয় না, বরং এটি মস্তিষ্ককেও নতুন করে ‘রি-ওয়্যার’ বা স্নায়বিক বিন্যাস করে দেয়।
গবেষণা বলছে, মানুষের চিন্তা, আচরণ, মূল্যবোধ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন গড়ে ওঠে জিনগত বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশের যৌথ প্রভাবে। তবে পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ব্যক্তিত্ব নির্মাণে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় সামাজিক বাস্তবতায় এ প্রভাব আরো স্পষ্ট। শহর-গ্রাম, অঞ্চলভেদে সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ও সামাজিক কাঠামোর পার্থক্য মানুষের মানসিক গঠন ও আচরণে ভিন্নতা তৈরি করে। রাজধানীতে বড় হওয়া একজন তরুণ সাধারণত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত, প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছন্দ। বিপরীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা বড় হয় তারা বেশি সংযত। পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে তারা অগ্রাধিকার দেয়। দুজনেরই সমান মেধা থাকতে পারে, কিন্তু পরিবেশ তাদের ব্যক্তিত্বকে ভিন্নভাবে গড়ে তোলে।
জিন আর পরিবেশ: কোনটা কতটা দায়ী
দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন—মানুষ যেমন হয়, সেটা কি জন্মগত, না পরিবেশের ফল? আধুনিক গবেষণা বলছে ব্যক্তিত্ব দুটোরই মিশ্রণ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন যমজভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আসে জিন থেকে। বাকি অংশ গড়ে ওঠে পরিবার, শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও জীবনের অভিজ্ঞতার মতো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ।
মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ-এর ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাব বেশি হলেও, ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব প্রায় ৬০ শতাংশ। আপনি কতটা মিশুক হবেন কিংবা কতটা নিয়মানুবর্তী হবেন, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনি কোথায় বড় হয়েছেন তার ওপর। অর্থাৎ, জন্মের সময় আমরা কিছু প্রবণতা নিয়ে আসি, কিন্তু সেগুলো কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আমরা কোথায় বড় হচ্ছি তার ওপর।
শহর-গ্রাম বিভাজন
শহর ও গ্রামের সামাজিক কাঠামোর পার্থক্য ব্যক্তিত্ব গঠনে স্পষ্ট প্রভাব ফেলে। গ্রামে বড় হওয়া মানুষ সাধারণত সমষ্টিকেন্দ্রিক—পরিবার, প্রতিবেশী ও আত্মীয়তার বন্ধন সেখানে বেশি শক্ত। ফলে সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে শহুরে জীবনে প্রতিযোগিতা বেশি, সময়ের চাপ তীব্র। এখানে বেড়ে ওঠা মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি আত্মনির্ভরশীল, লক্ষ্যভিত্তিক ও পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এ বৈশিষ্ট্যগুলো কর্মজীবনে অনেক সময় সুবিধা এনে দেয়, আবার সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্বও তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের সমাজ মূলত পরিবারকেন্দ্রিক। এখানে ‘আমি’ থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ‘আমরা’। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এ ধরনের সমাজে বড় হওয়া মানুষ নিজের পরিচয় তৈরি করে সম্পর্কের ভেতর দিয়ে। এর প্রভাব পড়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ধরনেও। অনেক বাংলাদেশী তরুণ ক্যারিয়ার বা বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় পরিবারকে অগ্রাধিকার দেন। এটি ব্যক্তিত্বে দায়িত্ববোধ তৈরি করলেও, কখনো কখনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রকাশে দ্বিধাও তৈরি করে। অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোয় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্র সত্তাকে গুরুত্ব দেয়া হয়।
শিক্ষা ও ভাষার প্রভাব
কোন মাধ্যমে পড়াশোনা করা হয়েছে সেটিও ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে। ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষিত অনেক তরুণ আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, আত্মপ্রকাশে তুলনামূলক সাবলীল হন। আবার বাংলা মাধ্যমে বড় হওয়া শিক্ষার্থীরা দেশীয় সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত থাকেন।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অর্থাৎ সরকারি, বেসরকারি, মাদ্রাসা বা ইংরেজি মাধ্যম প্রত্যেকটি আলাদা মূল্যবোধ ও আচরণগত কাঠামো তৈরি করে। যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তিত্বে ছাপ ফেলে।
বদলানোর সুযোগ আছে কি?
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ব্যক্তিত্ব বদলানোর সুযোগ আছে কি না? বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিত্ব স্থির কিছু নয়। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে, যেমন উচ্চশিক্ষা, চাকরি, বিদেশে বসবাস, বড় কোনো সংকট বা সাফল্যে মানুষের ভাবনা ও আচরণ বদলে যেতে পারে। কাজ বা পড়াশোনার জন্য যারা বিদেশে যান, তারা আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। আবার একই সঙ্গে নিজের শিকড় নিয়েও বেশি সচেতন হন। অর্থাৎ নতুন পরিবেশ পুরনো ব্যক্তিত্বকে মুছে দেয় না, বরং তার ওপর নতুন স্তর যোগ করে।
আমরা কে—এ প্রশ্নের উত্তর এক লাইনে দেয়া যায় না। আমরা আমাদের জন্মসূত্রে পাওয়া বৈশিষ্ট্য, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক কাঠামো ও জীবনের অভিজ্ঞতার সম্মিলিত ফল। তবে একথা নিশ্চিত—যেখানে আমরা বড় হই, সে জায়গার ছাপ আমাদের চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্তে গভীরভাবে রয়ে যায়। দ্রুত নগরায়ন, অভিবাসন ও বৈশ্বিক যোগাযোগের যুগে এ প্রভাব আরো জটিল হচ্ছে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম একই সঙ্গে গ্রাম, শহর ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির সংস্পর্শে বেড়ে ওঠছে—ফলে ব্যক্তিত্বও হচ্ছে বহুমাত্রিক।
৪৩
বন্য প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে স্বৈরশাসন, আছে সমতার পাঠও
কিছু প্রাণী সমাজ চলে কঠোর শাসনের অধীনে যেখানে একজন বা কয়েকজন নেতা লৌহমুষ্টিতে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করে। আবার কিছু সমাজে দেখা যায় বিস্ময়কর সমতা, সহনশীলতা আর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এ দুই চরম বাস্তবতার মাঝখানে লুকিয়ে আছে মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এক ক্ষুদ্র স্বৈরশাসকের উত্থান
বিশ শতকে মানব স্বৈরশাসকদের পাশাপাশি গবেষকদের নজর কেড়েছিল এক ব্যতিক্রমী ‘স্বৈরাচারী’—ইংল্যান্ডের সাফোক অঞ্চলের ইঁদুর, যার নাম দেয়া হয়েছিল ‘বিল’।
১৯৫০-এর দশকের শুরুতে ব্রিটিশ পরিবেশবিদ পিটার ক্রোক্রফট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে ইঁদুরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে তিনি কল্পনাও করতে পারেননি, একটি সাধারণ ইঁদুরের মধ্যে তিনি এক প্রতাপশালী স্বৈরশাসককে খুঁজে পাবেন। ক্রোক্রফট সে ইঁদুরটির নাম দিয়েছিলেন 'বিল'। বিলের সঙ্গে যখনই অন্য কোনো ইঁদুরকে রাখা হতো, বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সে প্রচণ্ড হিংস্রতায় প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। অল্প সময়ের মধ্যেই সে সবাইকে বশীভূত করে খাঁচার একক অধিপতি হয়ে ওঠে। ক্রোক্রফট অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, মানুষের তৈরি রাজনৈতিক ইতিহাসের নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকদের আচরণের সঙ্গে এ ক্ষুদ্র প্রাণীটির কোনো পার্থক্য নেই।
প্রাণীজগতে স্বৈরতন্ত্র
স্বৈরতন্ত্র কেবল ইঁদুরের খাঁচাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বেবুন, ব্যান্ডেড মঙ্গুজ, নগ্ন মোল র্যাটসহ বহু প্রাণীর সমাজে তথাকথিত ‘ডমিন্যান্স হায়ারার্কি’ রয়েছে। যেখানে শীর্ষে থাকা সদস্যরা দলের অন্যদের খাবার, সঙ্গী ও সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।
চাকমা বেবুন
দক্ষিণ আফ্রিকার চাকমা বেবুনদের সমাজে আধিপত্যশীল পুরুষ বেবুনই দলকে পরিচালনা করে। খাবার সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রজনন সবকিছুতে তার প্রভাব। সবচেয়ে ভালো খাবার ও সঙ্গী কেবল তারই প্রাপ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব স্বৈর বেবুন স্ত্রীদের ভয় দেখিয়ে ও তাড়া করে অন্য পুরুষদের থেকে দূরে রাখে। কখনো কখনো এর পরিণতি হয় মর্মান্তিক। গর্ভবতী স্ত্রী বেবুন গাছ থেকে পড়ে গর্ভপাতের ঘটনাও ঘটে। তবে শুধু পুরুষ নয়, উচ্চপদস্থ স্ত্রী বেবুনরাও নিচুস্তরের স্ত্রীদের ওপর কর্তৃত্ব দেখায়। সামাজিক মর্যাদা এখানে উত্তরাধিকারসূত্রে মায়ের কাছ থেকে আসে।
নগ্ন মোল র্যাটদের সমাজে রয়েছে ‘রানী’। তিনিই একমাত্র প্রজননক্ষম নারী ও আগ্রাসী আচরণের মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন। দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় অন্যরা বাধ্য হয় এ শাসন মেনে নিতে।
কেন টিকে থাকে স্বৈরতন্ত্র?
গবেষকদের মতে, প্রাণীজগতে স্বৈরতন্ত্র মূলত টিকে থাকে পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কারণে। অনেক প্রজাতির ক্ষেত্রে দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া পরিবেশ, খাদ্যসম্পদের অসম বণ্টন ও চলাচলের সীমাবদ্ধতা কিছু সদস্যকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। সহিংসতা ও ভয় এখানে সরাসরি ভূমিকা রাখে। প্রভাবশালী প্রাণীরা নিয়মিত আগ্রাসনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়, যা বিদ্রোহের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রাণীজগতে অসমতা নিয়ে প্রশ্ন করার মতো কোনো সামাজিক কাঠামো নেই। ফলে শক্তিশালীর শাসনকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে মেনে নেয়াই সেখানে টিকে থাকার সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।
শান্তির বিকল্প উদাহরণ
তবে প্রাণীজগতে স্বৈরতন্ত্রই শেষ কথা নয়। ব্রাজিলের আটলান্টিক অরণ্যে বসবাসকারী নর্দার্ন মুরিকি বানরদের বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে শান্ত প্রাইমেট। এখানে নেই কোনো স্বৈরশাসক। খাবার ভাগাভাগি, সহনশীলতা আর ধৈর্যই এ সমাজের ভিত্তি।
নর্দার্ন মুরিকি
উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ কারেন স্ট্রায়ার জানান, মুরিকিরা খুব কমই সংঘাতে জড়ায়। খাবার বা পানির উৎসে একজন আগে পৌঁছালে অন্যজন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে। এ বানরদের পুরুষ ও নারীর আকার প্রায় সমান। ফলে কেউ কাউকে গায়ের জোরে ভয় দেখাতে পারে না। বিজ্ঞানীরা একে 'রিল্যাক্সড সোসাইটি' বা শিথিল সমাজ বলেন। স্ত্রী বানররা একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, ফলে কারো একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে ওঠে না।
গবেষকদের মতে, মানুষ ও প্রাণী এক নয়। তবে প্রাণী সমাজ আমাদের আয়না দেখায়। সহযোগিতা, সমতা আর সহনশীলতা দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে শক্তিশালী করে। নৃতাত্ত্বিক মার্সি একানায়াকে-ওয়েবার বলেন, আমরা যখন সহযোগিতার পথে হাঁটি, তখন এক ধরনের ‘সুপার অর্গানিজমে’ পরিণত হই। অসম্ভব কাজও তখন সম্ভব হয়ে যায়।
বিবিসি অবলম্বনে
৪৪
যাত্রাপথে বসে থেকেও কেন ক্লান্ত হই আমরা?
মানুষের ক্লান্তি নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারণা বেশ সরল, কাজ করলে ক্লান্তি আসে, পরিশ্রম করলে শরীর ভেঙে পড়ে। কিন্তু ভ্রমণ এই ধারণাকে নীরবে প্রশ্ন করে। কারণ এখানে ক্লান্তি আসে এমন এক অবস্থান থেকে যেখানে শরীর ও মন দুটোই কাজ করে, কিন্তু আমরা তা টের পাই না।
বাস বা গাড়ির ভেতরে বসে থাকা মানে শরীর পুরোপুরি বিশ্রামে আছে, এমনটা ভাবা ভুল। চলমান যানবাহনের প্রতিটি ব্রেক, বাঁক, গতি ও কম্পন আমাদের শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মেরুদণ্ড, ঘাড়, কোমর ও পেটের পেশিগুলো অজান্তেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমন্বয় করে চলে, যেন শরীর ভারসাম্য হারিয়ে না ফেলে। এই কাজগুলো দৃশ্যমান নয়, কিন্তু একটানা চলতে থাকে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘মাইক্রো-মাসকুলার অ্যাডজাস্টমেন্ট’। কোনো একক মুহূর্তে এটি ক্লান্তিকর মনে না হলেও, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে এই অদৃশ্য পরিশ্রম শরীরকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে দেয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে বসে থাকা। হাঁটা বা স্বাভাবিক নড়াচড়ার সময় পায়ের পেশিগুলো রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। কিন্তু ভ্রমণের সময় সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। রক্ত চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে, অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, ফলে শরীরে একধরনের ভারী ভাব জন্ম নেয়,যাকে আমরা সাধারণ ভাষায় বলি ‘ক্লান্তি’।
শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কও যাত্রাপথে বিশ্রাম পায় না। বরং উল্টোটা ঘটে। গাড়ি চলার সময় মস্তিষ্ককে একসঙ্গে বহু তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, চোখের সামনে বদলে যাওয়া দৃশ্য, কানে ভেসে আসা শব্দ, শরীরের নড়াচড়া, ভেতরের কানে থাকা ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী ভেস্টিবুলার সিস্টেমের সংকেত। আপনি দৃশ্যত কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না, কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন না, কোনো সমস্যার সমাধানও করছেন না। মস্তিষ্ক কাজ করছে, অথচ তার শ্রমের কোনো ‘আউটপুট’ নেই। এই অবস্থাকে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় ‘লো লেগেল কগনেটিভ ওয়ার্কলোড’। যা আশ্চর্যজনকভাবে খুব দ্রুত মানসিক ক্লান্তি ডেকে আনে।
এই একঘেয়েমির কারণে অনেক সময় মস্তিষ্ক ঢুকে পড়ে এক বিশেষ অবস্থায়, যাকে বলা হয় ‘হাইওয়ে হিপনোসিস’। চারপাশের গতি ও শব্দ একঘেয়ে হয়ে গেলে মন আধা-সচেতন অবস্থায় চলে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই অবস্থায় সতর্কতা কমে যায়, শরীর ঝিমিয়ে পড়ে, এবং ভ্রমণের শেষে ক্লান্তি আরো স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংবেদনগত দ্বন্দ্ব। আমাদের চোখ ও মন অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাঠায়। ধরুন, আপনি গাড়ির ভেতরে বসে আছেন, মন বলছে আপনি চলছেন, কিন্তু চোখ যদি বই বা ফোনের পর্দায় স্থির থাকে, তখন এই দুই সংকেতের মধ্যে অমিল তৈরি হয়। এই দ্বন্দ্ব স্নায়ুতন্ত্রকে বিভ্রান্ত করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থায় থাকলে তৈরি হয় একধরনের অবসন্নতা। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘সোপাইট সিনড্রোম’, যেখানে দীর্ঘ যাত্রা মানুষকে নিস্তেজ ও ঘুমকাতুরে করে তোলে।
এর সঙ্গে যোগ হয় যানবাহনের ভেতরের বাতাস। বাস বা গাড়ির কেবিন সাধারণত বন্ধ পরিবেশ। অনেক সময় সেখানে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়, বিশেষ করে জানালা বন্ধ থাকলে বা এয়ার কন্ডিশনারে রিসার্কুলেশন মোড চালু থাকলে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে গেলে মানুষের মনোযোগ কমে যায়, মাথা ভারী লাগে, এবং ক্লান্তি দ্রুত আসে। গরম বা গুমোট পরিবেশ এই অনুভূতিকে আরো তীব্র করে তোলে।
তবে এই ক্লান্তি অনিবার্য নয়। ভ্রমণের সময় মাঝেমধ্যে শরীর নড়াচড়া করা, সম্ভব হলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা হালকা স্ট্রেচ করা রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। জানালা খুলে বা তাজা বাতাস ঢুকিয়ে ভেতরের পরিবেশ বদলালে মস্তিষ্ক কিছুটা সতেজ থাকে। পর্যাপ্ত পানি পান শরীর ও মনের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। গান, পডকাস্ট বা অডিওবুকের মতো অর্থবহ শব্দ মস্তিষ্ককে একঘেয়েমি থেকে বের করে আনে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ভ্রমণকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় সময় না ভেবে, নিজেকে সচেতনভাবে আরাম দেয়ার সময় হিসেবে দেখলে ক্লান্তির অনুভূতিও অনেকটাই কমে যায়।
৪৫
ইংরেজি মাসের নামকরণের ইতিহাস: ক্যালেন্ডারের পাতায় পৌরাণিক উপাখ্যান
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ইংরেজি বছর গণনা করা হয়। এ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১২ মাসে এক বছর। আর মাসগুলোর নামের পেছনে লুকিয়ে আছে আড়াই হাজার বছরের পুরনো রোমান ইতিহাস, পৌরাণিক দেবতা ও রাজাদের গল্প।
জানুয়ারি
বছরের প্রথম মাসটির নাম এসেছে রোমান দেবতা 'জানুস'-এর নাম থেকে। রোমের অধিবাসীরা জানুসকে আরম্ভের দেবতা হিসেবে পুজো দিত। কোনো কিছু শুরু করার আগে তারা এ দেবতার নাম খুবই সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করত। আর এ কারণেই ইংরেজি বছরের প্রথম মাসটির নাম ‘জানুস’ রাখা হয়। অন্য একটি তথ্য মতে, দেবতা ‘জানুস’ এর দুটি মুখ ছিল। একটি সম্মুখে, অপরটি পশ্চাতে। রোমের অধিবাসীরা বিশ্বাস করত, সামনের মুখটি তাকিয়ে আছে আগামীকালের অর্থাৎ ভবিষ্যতের দিকে, আর পেছনের মুখটি অতীতের দিকে। কেউ কেউ মনে করেন, পূর্বোক্ত মতের সঙ্গে মিল রেখে জানুয়ারিকে ইংরেজি বছরের প্রথম মাস করা হয়।
ফেব্রুয়ারি
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি। নামটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘ফেব্রুয়ালিয়া’ থেকে। এটি ছিল প্রাচীন রোমের একটি পবিত্রতা বা শুদ্ধিকরণ উৎসব। রোমানরা বিশ্বাস করত, নতুন বছর শুরুর আগে এই মাসে নিজেদের পাপমুক্ত ও শুদ্ধ করতে হয়। রোমের দ্বিতীয় রাজা নুমা পম্পিলিয়াস মাসটিকে ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন।
মার্চ
প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে মার্চ ছিল বছরের প্রথম মাস। এর নাম রাখা হয়েছে রোমান যুদ্ধের দেবতা 'মার্স'-এর নামানুসারে। শীত শেষ হওয়ার পর এ মাসেই সাধারণত রোমান সৈন্যরা নতুন উদ্যমে যুদ্ধে বের হতো, তাই মাসের নাম রাখা হয়েছিল বীরত্ব ও যুদ্ধের দেবতার নামে।
এপ্রিল
ইংরেজি বছরের চতুর্থ মাস এপ্রিল। এ মাসের নামকরণ নিয়ে মতানৈক্য আছে। কারো মতে, গ্রিক প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি থেকে 'আপ্রিলিস' নামটির উৎপত্তি। আবার অনেকের মতে, লাতিন শব্দ 'আপেরিরে' থেকে এটি এসেছে, যার অর্থ 'উন্মোচিত হওয়া' বা 'খোলা'। এপ্রিল বেসন্তের প্রবেশপথ। বসন্তকালে এ মাসেই ফুলের কুঁড়ি ফোটে আর প্রকৃতি উন্মোচিত হয় বলে এমন নাম।
মে
ইউরোপে বসবাসরত রোমান উর্বরতার দেবী ‘মায়া/ মেইয়া’-এর নামানুসারে বছরের পঞ্চম মাসের নামকরণ হয় মে। মায়াকে বসন্ত ও প্রবৃদ্ধির দেবীও বলা হয়। বসন্তের পূর্ণতায় প্রকৃতি যখন ফলে-ফুলে ভরে ওঠে, তখন এই দেবতাকে স্মরণ করা হতো। মায়া ছিলেন গ্রিকপুরাণে বর্ণিত পৃথিবী ধারণকারী ‘এটলাস’-এর আত্মজা।
জুন
জুন মাসের নামকরণ করা হয়েছে রোমানদের প্রধান দেবী 'জুনো'-এর নামে। তিনি ছিলেন দেবরাজ জুপিটারের স্ত্রী। জুনো নারী, চাঁদ, বিয়ে, শিকার ও মাতৃত্বের দেবী হিসেবে পরিচিত। রোমানরা মনে করত জুন মাসে বিয়ে করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের।
জুলাই
এই মাসটির নাম আগে ছিল 'কুইন্টিলিস', যার অর্থ ছিল 'পঞ্চম মাস' (যেহেতু বছর শুরু হতো মার্চ থেকে)। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ অব্দে বিখ্যাত রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের সম্মানে এ মাসের নাম পরিবর্তন করে 'জুলাই' রাখা হয়। জুলাই জুলিয়াস সিজারের জন্মমাস।
আগস্ট
জুলাইয়ের মতো এ মাসের নামও এক সময় ছিল 'সেক্সটিলিস' বা 'ষষ্ঠ মাস'। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম অব্দে রোমান সম্রাট অগাস্টাস সিজারের কৃতিত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে এই মাসের নাম বদলে 'আগস্ট' রাখা হয়।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর
মজার বিষয় হলো, শেষের চারটি মাসের নাম এসেছে স্রেফ তাদের সংখ্যার হিসেবে। যখন ক্যালেন্ডার ১০ মাসে ছিল, তখন এ মাসগুলো যে অবস্থানে ছিল, সেই সংখ্যার লাতিন নামই আজ রয়ে গেছে:
সেপ্টেম্বর: লাতিন শব্দ 'সেপ্টেম' থেকে, যার অর্থ সাত।
অক্টোবর: লাতিন শব্দ 'অক্টো' থেকে, যার অর্থ আট।
নভেম্বর: লাতিন শব্দ 'নভেম' থেকে, যার অর্থ নয়।
ডিসেম্বর: লাতিন শব্দ 'ডিসেম' থেকে, যার অর্থ দশ।
৪৬
‘হ্যালো’ শব্দের জন্ম ইতিহাস নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে। ওল্ড হাই জার্মান শব্দ ‘হালা’ থেকে এর উৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন, যা মূলত ফেরিওয়ালা বা মাঝিদের ডাকার জন্য ব্যবহৃত হতো। আবার ১৫শ শতাব্দীর ফরাসি শব্দ ‘হোলা’ থেকেও এর যোগসূত্র পাওয়া যায়, যার অর্থ ছিল ‘থামো!’ বা ‘শোনো!’
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এক সময় ‘হ্যালো’-এর অন্তত ডজনখানেক বানান প্রচলিত ছিল। বিখ্যাত লেখক চার্লস ডিকেন্স তার লেখায় সবসময় ‘হুল্লো’ ব্যবহার করতেন। আবার টেলিফোনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল চেয়েছিলেন ফোনে কথা বলার শুরুতে মানুষ ‘অহয়!’ বলুক। কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী টমাস এডিসন ‘হ্যালো’ ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সমর্থন দেন, কারণ টেলিফোনের যান্ত্রিক গোলযোগের মধ্যেও এই শব্দটি স্পষ্ট শোনা যেত। শেষ পর্যন্ত এডিসনের জয় হয় এবং ‘হ্যালো’ হয়ে ওঠে বিশ্বজনীন।
একটি শব্দ, হাজারো অভিব্যক্তি
ভাষাবিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো দুরান্তি বলেন, ‘হ্যালো’ শুধু একটি শব্দ নয়, এটি বলার ধরন আপনার মনের অবস্থাও বুঝিয়ে দেয়। যদি কেউ শেষ বর্ণটি টেনে বলে ‘হ্যালোওওও?’, তার মানে সে প্রশ্ন করছে আপনি ঠিকমতো শুনছেন কি না। আবার ডিজিটাল যুগে চ্যাটিংয়ের সময় ‘হেই’ বলাটা অনেক সময় বন্ধুত্বের চেয়ে একটু বেশি কিছু বা ফ্লার্ট করার ইঙ্গিত দেয়। সংক্ষেপে ‘হাই’ বলাটা অনেক সময় পেশাদার বা কিছুটা গাম্ভীর্যপূর্ণ মেজাজ প্রকাশ করে।
ডিজিটাল যুগের ‘হ্যালো’
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের সম্ভাষণ জানানোর রীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে আমরা সবসময় ‘অনলাইন’ থাকি, তাই প্রতিবার কথা শুরুর আগে ‘হ্যালো’ বলার প্রয়োজন পড়ে না। দীর্ঘ শব্দের বদলে মানুষ এখন ছোট ‘হাই’ বা স্রেফ একটি হাত নাড়ানোর ইমোজি ব্যবহার করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে নতুন কোনো শব্দ ‘হ্যালো’র জায়গা করে নেবে।
বিবিসি অবলম্বনে
৪৭
লুসিড ড্রিম: নিজের ইচ্ছেমতো স্বপ্ন দেখার কৌশল
স্বপ্ন—আমাদের অবচেতন মনের অলৌকিক মঞ্চ। কখনো তা সুখের, আবার কখনো দুঃখের। সাধারণত আমরা কী স্বপ্ন দেখব, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু যদি বলি আপনার স্বপ্নের চাবিকাঠি এখন আপনার হাতে। আপনি নিজেই আপনার স্বপ্নের পরিচালক হতে পারেন। জ্বি, এমন এক পদ্ধতি আছে যা নিজের ইচ্ছেমতো স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেয়। এ পদ্ধতিকেই বলে লুসিড ড্রিমিং।
কী এই লুসিড ড্রিম?
মনোবিজ্ঞানের একটা মজার বিষয় লুসিড ড্রিমিং। এটি এমন ধরনের স্বপ্ন, যেখানে ব্যক্তি স্বপ্নের মধ্যেও সজাগ থাকেন এবং তিনি স্বপ্ন দেখছেন তা বুঝতে পারেন, কিন্তু ঘুম ভাঙ্গে না। শুধু তা-ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে স্বপ্ন দেখা ব্যক্তি স্বপ্নের ঘটনা, পরিবেশ, উপস্থিত ব্যক্তি- সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করতে পারেন।
এমনটা হয় মূলত চেতন ও অবচেতন মনের একটি বিরল সংমিশ্রণে। সাধারণত লুসিড ড্রিমিং এর সময় স্বপ্ন হয় বেশ পরিষ্কার, অনুভুতিগুলো হয় খুবই তীব্র, প্রায় বাস্তবের মতন। ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্নে আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই কথাটি লুসিড ড্রিমিংয়ের বেলায় খাটে না!
লুসিড ড্রিমের ইতিহাস
লুসিড ড্রিম বর্তমানে বেশ চর্চিত বিষয় হলেও এটি কোনো নতুন তত্ত্ব নয়। বরং সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এ ধরনের স্বপ্ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে এসেছে।
প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার প্রত্নলিপিতে ঘুমের মধ্যেই চেতনার জাগরণ সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হিন্দু ধর্মগ্রন্থেও স্বপ্ন ও গভীর নিদ্রার মধ্যকার সচেতনতার উল্লেখ আছে। তিব্বতের ভিক্ষুরা ‘স্বপ্ন যোগ’ ও ‘যোগ নিদ্রা’-র মাধ্যমে স্বপ্নের ভেতর ধ্যান ও জাগরণের অনুশীলন করতেন।
৪১৫ খ্রিষ্টাব্দে সেইন্ট অগাস্টিনের এক চিঠিতে এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ আছে, যিনি স্বপ্ন দেখার সময় জানতেন তিনি স্বপ্ন দেখছেন। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলও লিখেছিলেন, মানুষ ঘুমন্ত অবস্থাতেও স্বপ্ন সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
১৭ শতকে ইংরেজ লেখক স্যার টমাস ব্রাউন তার ‘রিলেজিও মেডিচি’ গ্রন্থে লুসিড ড্রিমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আর ১৯ শতকে ফরাসি চিন্তাবিদ মারি-জ্যাঁ-লিওন ‘ড্রিমস অ্যান্ড দ্য ওয়েস টু ডিরেক্ট দেম: প্রাকটিক্যাল অবজারভেশনস’ বইয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণের ধারণা ব্যাখ্যা করেন। তাকেই আধুনিক লুসিড ড্রিম গবেষণার পথিকৃৎ হিসেবে ধরা হয়।
কখন হয় লুসিড ড্রিম?
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের ঘুমকে দুটো পর্যায়ে ভাগ করা যায়- র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা রেম (REM) এবং নন-রেম (Non-REM)। ঘুমের ৯০ মিনিট পর রেম পর্যায়ে মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়—চোখ কাঁপে, হৃদযন্ত্রের গতি বেড়ে যায়। এ সময়েই সবচেয়ে প্রাণবন্ত স্বপ্ন দেখা যায়, আর সেখানেই ঘটে লুসিড ড্রিম।
বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ওয়াকারের মতে, তখন মস্তিষ্কের ল্যাটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স আংশিক সক্রিয় থাকে, ফলে মানুষ ঘুমন্ত হয়েও যুক্তি সাজাতে পারে। লুসিড ড্রিমের ওপর একজন ব্যক্তি ঠিক কতটুকু কর্তৃত্ব খাটাতে পারবেন, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। অনেকে লুসিড ড্রিমে নিজের অস্তিত্ব টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেগে ওঠেন। আবার অনেকে দিব্যি স্বপ্নের ঘটনা নিজের ইচ্ছেমতো বদলাতে থাকেন।
লুসিড ড্রিমিং চর্চার পদ্ধতি
কীভাবে লুসিড ড্রিম উপভোগ করা যেতে পারে, অনেকেই হয়তো তা জানতে আগ্রহী। তাদের জন্য সুখবর, বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে লুসিড ড্রিম আয়ত্তের জন্য বেশ কিছু অনুশীলন প্রস্তুত করেছেন। চলুন জেনে নিই কিভাবে আপনি নিজের স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণ করবেন।
বাস্তবতা পরীক্ষা: এ পদ্ধতিতে দিনে কয়েকবার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে আপনি জেগে আছেন নাকি স্বপ্ন দেখছেন। এক সময় অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে আপনি স্বপ্নের মাঝেও এ প্রশ্ন করতে এবং স্বপ্নের মাঝেও নিজেকে সজাগ রাখতে পারবেন।
স্বপ্নলিপি: ঘুম ভেঙে সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্ন লিখে রাখুন, এতে অবচেতন মন সজাগ হয়।
ঘুম ভেঙে আবার ঘুম: প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর জেগে উঠে পুনরায় ঘুমালে সরাসরি রেম (REM) পর্যায়ে ঢুকে পড়া যায়, যা লুসিড ড্রিমের সম্ভাবনা বাড়ায়।
মাইল্ড পদ্ধতি (MILD): Mnemonic induction of lucid dreams বা MILD পদ্ধতিতে আপনাকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিজেকে বারবারবলতে হবে, ‘আজ আমি লুসিড ড্রিম দেখব’। এ পদ্ধতি প্রয়োগের সবচেয়ে ভালো সময় হতে পারে আগের পদ্ধতিতে ৫ ঘণ্টা পর জেগে পুনরায় ঘুমোতে যাওয়ার আগে।
সতর্কতা
যাদের মানসিক উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। লুসিড ড্রিমে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার ফলে ঘুমের বিশ্রাম নষ্ট হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে মানুষ বাস্তব আর স্বপ্নের পার্থক্য বুঝতে হিমশিম খায়। তাই মানসিকভাবে স্থির না হলে চর্চা না করাই ভালো।
লুসিড ড্রিম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক বিস্ময়। ঘুমের ভেতরও যেখানে মানুষ নিজেকে চেনার নতুন জানালা খুলে দেয়। কেউ চাইলেই কিছু অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নের পরিচালক হতে পারে। স্বপ্নের জগতে জেগে থাকার এ রহস্য হয়তো মানবমনের পরবর্তী অধ্যায়ের চাবিকাঠি।
৪৮
মস্তিষ্কের চার বাঁক: কোন বয়সে আপনার চিন্তাধারা বদলে যায়
মানুষের মস্তিষ্ক সারা জীবন একইভাবে কাজ করে না। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত এটি চারটি প্রধান সন্ধিক্ষণে নিজের গঠন পরিবর্তন করে। সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ৪ হাজার সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশ মোটেও সরলরৈখিক নয়। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
গবেষণার প্রধান লেখক আলেকসা মাউসলি জানান, ৯, ৩২, ৬৬ এবং ৮৩ বছর বয়সে আমাদের মস্তিষ্কে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের ভিত্তিতে মানুষের জীবনকালকে ৫টি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।
শৈশব (জন্ম থেকে ৯ বছর): এই সময়ে মস্তিষ্কে নিউরাল সংযোগের ব্যাপক প্রসার ঘটে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক কিছুটা কম দক্ষ হয়ে পড়ে। গবেষকদের মতে, ভাষা শেখা ও হাঁটাচলার মতো জটিল দক্ষতা অর্জনের জন্যই সম্ভবত মস্তিষ্ক এই সময় এমন ধীরস্থিরভাবে কাজ করে।
কৈশোর ও তারুণ্য (৯ থেকে ৩২ বছর): এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়। এই সময়ে মস্তিষ্ক নিজেকে আরো দক্ষ ও দ্রুত করে তুলতে শুরু করে। গবেষকদের মতে, ১৮ বা ২১ বছর বয়সে আমরা কাউকে প্রাপ্তবয়স্ক বললেও, আদতে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত মস্তিষ্কের গঠন পুরোপুরি স্থিতিশীল হয় না।
পূর্ণ বয়স্ককাল (৩২ থেকে ৬৬ বছর): এটি মস্তিষ্কের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং স্থিতিশীল সময়। এই তিন দশকে মানুষের বুদ্ধিমত্তা, আচরণ ও ব্যক্তিত্বে তেমন বড় কোনো পরিবর্তন আসে না।
প্রারম্ভিক বার্ধক্য (৬৬ থেকে ৮৩ বছর): এই বয়সে মস্তিষ্ক বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে এর সবটুকুই নেতিবাচক নয়। গবেষক কেটি ইনসেল জানান, এই সময়ে স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমলেও মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পায়।
শেষ বার্ধক্য (৮৩ বছর ও তদূর্ধ্ব): এই পর্যায়ে মস্তিষ্কের কানেক্টিভিটি কমে গেলেও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল আরো বেশি গুরুত্ব পায়। অনেকটা বিকল্প রুটে বাস চলাচলের মতো, মস্তিষ্ক তার হারানো সংযোগগুলোর অভাব পূরণে প্রধান কেন্দ্রগুলোকে আরো বেশি সক্রিয় করে তোলে।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্টিস্ট সেথ গ্রান্ট বলেন, মস্তিষ্ক একবার তৈরি হয়ে স্থির হয়ে যায় না। এটি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনবরত নিজেকে পরিবর্তন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে কেন নির্দিষ্ট বয়সে মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে কিংবা কেন বার্ধক্যে বিশেষ কিছু আচরণ দেখা দেয়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে সাহায্য করতে পারে।
৪৯
স্যামহেইন থেকে হ্যালোইন- ইউরোপীয়দের অদ্ভুত বিশ্বাস
হ্যালোইনের গল্প শুরু হয়েছিল প্রায় দুই হাজার বছর আগে, কুয়াশায় মোড়া প্রাচীন কেল্টিক ভূমিতে। কেল্টিক জাতি ছিল ইউরোপের প্রাচীন জনগোষ্ঠীগুলোর একটি, যারা খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ সাল থেকেই আজকের আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বসবাস করত। তাদের বিশ্বাস ছিল, ৩১ অক্টোবর রাতটি বছরের অন্য সব রাতের থেকে আলাদা। এ দিনই ফসল তোলার মৌসুম শেষ হয়, আর শুরু হয় দীর্ঘ, কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের রাতগুলোর। তারা একে বলত ‘স্যামহেইন’ এমন এক রাত, যখন জীবিত ও মৃতের জগতের সীমারেখা ভেঙে যায়।
কেল্টিকরা বিশ্বাস করত, এ রাতে মৃতদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসে। কেউ প্রিয়জনদের দেখতে আসে, কেউ বা নিয়ে আসে অশুভ শক্তি ও দুর্ভাগ্য। তাই নিজেদের সুরক্ষার জন্য তারা জ্বালিয়ে রাখত বৃহৎ অগ্নিকুণ্ড , মুখে পরত পশুর চামড়ার মুখোশ, যেন আত্মারা তাদের চিনতে না পারে। আর আত্মাদের শান্ত রাখতে বাড়ির দরজায় রেখে দিত খাবারের থালা। তাদের বিশ্বাসে, আগুন ছিল রক্ষার প্রতীক, আর অন্ধকার ছিল রহস্যের প্রতীক।
শত শত বছর পর ইউরোপজুড়ে খ্রিস্টধর্ম ছড়িয়ে পড়লেও কেল্টিকদের প্রাচীন এই বিশ্বাস হারিয়ে যায়নি। অষ্টম শতাব্দীতে গির্জাগুলোতে ঘোষণা করা হয়, ১ নভেম্বর হবে “অল সেন্টস ডে” অর্থাৎ শহীদ ও সাধুদের স্মরণ দিবস। এর আগের রাতটি পরিচিত হলো ‘অল হ্যালোজ ইভ’ নামে, যা সময়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত হয়ে দাঁড়াল ‘হ্যালোইন’।
সেই সময়ের মানুষরা প্রাচীন বিশ্বাসকে পুরোপুরি ভুলে যায়নি। তারা মোমবাতি জ্বালাত, মুখে মুখোশ পরত, আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আত্মাদের গল্প বলত।
আজকের হ্যালোইনের মূল শিকড় সেখানেই।
হ্যালোইনের সবচেয়ে প্রতীকী উপাদান, জ্বলজ্বলে মিষ্টিকুমড়ো, যার পেছনে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের এক পুরোনো লোককথা। সেখানে বলা হয়, এক ধূর্ত মানুষ ছিল, নাম “স্টিঞ্জি জ্যাক”। সে একবার কৌশলে শয়তানকে বোকা বানায়। কিন্তু মৃত্যুর পর না স্বর্গ তাকে গ্রহণ করে, না নরক। চিরকাল অন্ধকারে ঘুরে বেড়াতে থাকা জ্যাক হাতে রাখে এক জ্বলন্ত কয়লা, যা সে রাখে এক ফাঁপা শালগমের ভেতরে, আলো হিসেবে পথ দেখার জন্য।
তার স্মরণে, মানুষ শালগম, বিট ও আলু খোদাই করে ভয়ানক মুখ বানাতে শুরু করে, যেন অশুভ আত্মারা ভয় পেয়ে পালায়। এই খোদাই করা মুখগুলোই পরবর্তীতে পরিচিত হয় “জ্যাক-ও’-ল্যান্টার্ন” নামে।
যখন আয়ারল্যান্ডের অভিবাসীরা ১৮০০ সালের দিকে আমেরিকায় আসে, তারা পায় এক নতুন সবজি, মিষ্টিকুমড়ো। এটি ছিল বড়, সহজে খোদাইযোগ্য এবং উজ্জ্বল কমলা রঙের। তখন থেকেই শালগমের জায়গা নেয় কুমড়ো, এবং এই জ্বলজ্বলে ফলটি হয়ে ওঠে আধুনিক হ্যালোইনের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক।
হ্যালোইনকে ঘিরে শত শত বছর ধরেই ছিল নানা অদ্ভুত, রহস্যময় আচার-অনুষ্ঠান। আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে পরিবারগুলো আয়োজন করত “ডাম সাপার” এটি এমন এক নৈশভোজ, যেখানে সবাই একসাথে বসে সম্পূর্ণ নিঃশব্দে খাবার খেত। টেবিলে রাখা হতো একটি ফাঁকা চেয়ার, মৃত প্রিয়জনদের জন্য, যাঁরা নাকি অদৃশ্য অতিথি হয়ে সেই রাতে ফিরে আসতেন।
তরুণীরা মোমবাতির আলোয় আয়না দেখত, ভবিষ্যতের স্বামীর মুখ দেখার আশায়। প্রেমিক-প্রেমিকার নামে বাদাম একসাথে আগুনে ফেলা হতো; যদি তারা একসাথে জ্বলে উঠত, মনে করা হতো তাদের ভালোবাসা চিরস্থায়ী। যখন হ্যালোইন ইউরোপ থেকে আমেরিকায় পৌঁছায়, এটি নেয় এক নতুন রূপ।
শিশুরা দরজায় দরজায় যেত, গান গাইত, প্রার্থনা করত — বদলে পেত চকলেট, কুকিজ বা ফল। এই প্রথাটিই পরবর্তীতে রূপ নেয় জনপ্রিয় “ট্রিক-অর-ট্রিটিং” এ। প্রাচীন আগুনের কুণ্ড পরিণত হয় মোমবাতির আলোয় কুমড়োতে, আর ভয় পরিণত হয় উৎসবে। ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি এসে হ্যালোইন হয়ে ওঠে সাজগোজ, সৃজনশীলতা ও আনন্দের প্রতীক।
এ এমন এক রাত, যেখানে যে কেউ সাজতে পারে যে কোন কিছু। জাদুকর, দানব, ভূত কিংবা সুপারহিরো।
আজ হ্যালোইন শুধু আমেরিকায় নয়, উদযাপিত হয় কানাডা, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর নানা দেশে। জাপানে বিশাল কস্টিউম প্যারেড নামে রাস্তায় হ্যালোইনের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে একে ঘিরেও ঘটেছে নানা অদ্ভুত ঘটনা। ২০১১ সালে রোমানিয়ায় সরকার জারি করে এক অদ্ভুত আইন — “ উইচ ট্যাক্স ”!
অর্থাৎ, সেখানে জাদুকরী ও ভবিষ্যৎবক্তারা সরকারিভাবে ‘পেশাদার’ হিসেবে স্বীকৃত, এবং তাদের ট্যাক্স দিতে হয়। প্রাচীন স্যামহেইনের আগুন থেকে শুরু করে আজকের কুমড়োর আলো ,হ্যালোইন যুগে যুগে মানুষের বিশ্বাস, ভয়, রহস্য আর কল্পনাকে একত্র করেছে।
একসময় এটি ছিল আত্মাদের ভয় পাওয়ার রাত, আজ তা হয়ে উঠেছে আত্মাকে স্মরণ করার উৎসব।
৫০
আইসক্রিমের জন্ম
সালটা ১৯০৫, যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর মাত্র ১১ বছরের ফ্র্যাঙ্ক অ্যাপারসনের ভুলে এ আবিষ্কারের সূচনা। সেদিন বারান্দায় বসে গ্লাসে করে সোডা পাউডার আর পানি মিশিয়ে খাচ্ছিল অ্যাপারসন। অবচেতনে একসময় গ্লাসের সোডা-পানি রেখেই ঘরে চলে আসে সে। নাড়ানোর কাঠিটিও গ্লাসে রয়ে গিয়েছিল। রাতে ঠান্ডায় জমে গিয়েছিল মিশ্রণটি, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে অ্যাপারসন পেল তার জীবনের প্রথম বরফজমা আইস পপ। কৌতূহলবশত সে এক কামড় দিয়েছিল, আর তাতেই জন্ম নেয় ইতিহাসখ্যাত এক মিষ্টান্ন।
শুরুতে সে এর নাম দেয় ‘এপসিকল’। পাড়ায় এ বরফের গোলা বিক্রি করে উপার্জন করতে শুরু করে ফ্রাঙ্ক। অচিরেই এটি তার পাড়ার বাচ্চাদের প্রিয় খাবারে পরিণত হয়। তবে বাচ্চাদের মুখে ঘুরে ঘুরে এপসিকল পপসিকলে পরিণত হয়। পরবর্তীতে পপসিকলই এর স্থায়ী নাম হয়ে যায়।
বাণিজ্যিক যাত্রা
১৯২০-এর দশকের শুরুতে অ্যাপারসন বুঝতে পারেন, তার এ আবিষ্কার আর স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তিনি এটি নিয়ে যান ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোর বিখ্যাত বিনোদনকেন্দ্র নেপচুন বিচে। দর্শনার্থীরা ভিড় জমায় তার ঠাণ্ডা আইস পপের স্টলে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় পপসিকলের বাণিজ্যিক যাত্রা।
১৯২৪ সালে অ্যাপারসন তার আবিষ্কারের জন্য পেটেন্ট নেন। শুধু বরফজমা খাবার নয়, ব্যবহৃত কাঠির ধরন সম্পর্কেও এতে বিস্তারিত নির্দেশনা ছিল। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ফ্রাঙ্কের পপসিকল ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন এ জনপ্রিয়তার স্বাদ ধরে রাখতে পারেননি।
১৯২০-এর দশকের শেষ দিকে অ্যাপারসন জো লো কোম্পানির কাছে পপসিকলের স্বত্ত্ব বিক্রি করে দেন। নতুন মালিক সংস্থাটি দ্রুতই এটি দেশজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। মহামন্দার সময় কোম্পানি চালু করে দুই কাঠির পপসিকল। যা মাঝখান থেকে ভেঙে দুইজন ভাগ করে খেতে পারত। দামও ছিল মাত্র পাঁচ সেন্ট। সেসময় এটি শুধু ডেজার্ট নয়, অর্থনৈতিক সান্ত্বনার প্রতীক হয়ে ওঠে।
আইসক্রিম যুদ্ধ: ‘ফ্রোজেন সাকার ওয়ার’
কিন্তু সাফল্যের সঙ্গে এল প্রতিদ্বন্দ্বিতাও। চকোলেট-ডুবানো আইসক্রিম বার তৈরি করে খ্যাতি পাওয়া গুড হিউমার কোম্পানি জো লো’র বিরুদ্ধে কপিরাইট মামলা করে। শুরু হয় আইনি লড়াই, ইতিহাসে এটি ‘দ্য ফ্রোজেন সাকার ওয়ার’ নামে পরিচিত। কয়েক বছর ধরে চলা এই মামলা ১৯৩৩ সালে আপসের মাধ্যমে শেষ হয়। চুক্তি অনুযায়ী, পপসিকল ফলভিত্তিক বরফজমা মিষ্টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, আর গুড হিউমার নিয়ন্ত্রণ করবে দুধ বা ক্রিমভিত্তিক আইসক্রিম পণ্য।
সবচেয়ে মজার বিষয়, এ দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত টেকেনি। সময়ের পরিক্রমায় দুই কোম্পানিই পরে একই করপোরেট মালিকানার অধীনে আসে। দুটো প্রতিষ্ঠানই এখন ইউনিলিভার কোম্পানির মালিকানাধীন।