সুনাগরিক সঙ্ঘ-এর উপদেষ্টা পরিষদ কালেকশন বাচাই প্রকৃয়ার ফরম লিংক- https://forms.gle/FX2cpwhveHeTVQrN7
সুনাগরিক সঙ্ঘ-এর উপদেষ্টা পরিষদ কালেকশন বাচাই প্রকৃয়ার ফরম লিংক- https://forms.gle/FX2cpwhveHeTVQrN7
কাম-মিলনের জন্য "কিং এডওয়ার্ড সপ্তম" ব্যবহৃত "প্রেমের চেয়ার"
যখন সপ্তম এডওয়ার্ড সবেমাত্র যুবরাজ, তখনও মুকুটের গুরুদায়িত্ব থেকে মুক্ত, তিনি অবসর ও আনন্দ উপভোগ করতে ব্রিটিশ রাজধানী থেকে বহুদূরে অবস্থিত সুদূর প্যারিসে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন। সফরকালীন সময়ে তিনি, প্যারিসের অন্যতম বিখ্যাত পতিতালয়, "লে চাবানাইস" এর সাথে যোগাযোগ করেন। যেটি "ল্যুভর মিউজিয়ামের" অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি।
এডওয়ার্ড সপ্তম এর সম্মানার্থে ও সুবিধার্থে সেই পতিতালয়ে তাকে তার নিজস্ব একটি রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজপুত্র সময়টাকে ঠিক ঠাক উপভোগ করতে পারছিলেন না, প্রধানত তার অতিরিক্ত শারীরিক ওজন সমস্যার কারণে, তাঁর এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার জন্য, আসবাবপত্র নির্মাতা লুই সুব্রিয়ার'কে দায়িত্ব দেয়া হলে, তিনি অনবদ্য এক মাষ্টার পিস তৈরি করে ফেলেন,যার নাম দেয়া হয়েছিল "প্রেমের চেয়ার"।
চেয়ারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতের রাজা খুব ক্লান্ত না হয়েও প্রেম-কাম চালিয়ে যেতে পারেন দীর্ঘ সময় ধরে। এছাড়াও, চেয়ারটিকে একইসাথে দু'জন মহিলাকে অনায়াসে সঙ্গ দেয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিলো।
আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইসরায়েলের গোপন সহায়তার দলিল ভিত্তিক প্রমাণ ও ফিলিস্তিনসহ আরব দেশগুলোর পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ও কুটনৈতিক সহায়তা নিয়ে একটি কলাম লেখা। আমি বহুদিন ভেবে পাইনি আরবের বুকে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটিকে কেন আমরা বিরোধীতা করি? তারা অমানবিক আচরণ করছে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে তাই? তাহলে ১৯৭০ সালে কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ নামে পরিচিত জর্ডানে ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করার পরের বছর ১৯৭১ সালে সেই ফিলিস্তিনি ও ইয়াসির আরাফাত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে দাঁড়ায় কিভাবে? যদি দাঁড়াতে পারে তাহলে আমরা স্রেফ ফিলিস্তিনি ইস্যুতে কেন আমাদের একজন পরীক্ষিত মিত্রকে নিষিদ্ধ করে রাখবো? তথ্য প্রমাণের আলেচনার আগে এইসব কথায় কোন কাজে আসবে না। তাই একটি একটি করে আলোচনা শুরু করা যাক।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত ছাড়া সর্বপ্রথম যে দেশটি বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘে কথা বলেছিল সেই দেশটির নাম ইসরায়েল। আরব দেশগুলোর সঙ্গে নানা রকম সম্পর্কের কারণে ভারত তখনো ইসরায়েলের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন শুরু না করলেও গোপনে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল। ফলে গোপনেই তারা ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। ইসরায়েল তাদের রেডক্রস যা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ নামে পরিচিত তার মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে জরুরী ঔষধপত্র পাঠিয়েছিল। যার মধ্যে কলেরার টিকা ও এন্টিবায়োটিক ছিল অন্যতম। শরণার্থী শিবিরে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে মহামারী আকার নিলে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরের প্রতি স্থানীয়দের মনোভাব বিগড়ে যেতে পারতো। মরতে হতো লক্ষ লক্ষ মানুষকে। আমাদের ইতিহাসে ইসরায়েলের এই সহায়তার স্বীকৃতি নেই কেন?
রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিত্সা সরঞ্জাম, কিট, ফিল্ড হাসপাতালের সরঞ্জাম ইসরায়েল হতে এসেছিল। জাফরুল্লাহ চৌধুরী এই ফিল্ড হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত ছিল শরণার্থী শিবিরে। তিনি কি জানতেন না এইসব সরঞ্জাম কোথা থেকে আসছে? কিন্তু কোনদিন মুখ খুলেননি!
শুধু ভারতীয় নাগরিকদের চাঁদায় শরণার্থী শিবিরের মানুষের মুখে অন্ন জুটেছিল তা নয়, কেবল ঋত্বিক ঘটকই চাঁদা তুলেছিলেন তাও নয়, আমাদের ইতিহাস জানতে দেয়নি ইসরায়েলের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ও সাধারণ নাগরিকরা বাংলাদেশের জন্য চাঁদা তুলে ১ লক্ষ ইসরায়েলি লিরা যা ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশের জন্য পাঠানো হয়েছিল। যা দিয়ে শিশু খাদ্য, তাবু ও সাধারণ খাদ্য ক্রয় করা হয়েছিল। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ক্যাম্পাসে ও পথেঘাটে দাঁড়িয়ে এই চাঁদা সংগ্রহ করে। ইসরায়েলি টেলিভিশনে বাংলাদেশের যুদ্ধের চিত্র দেখে সাধারণ মানুষও ত্রাণ দিতে এগিয়ে এসেছিল। ইসরায়েলি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভারতকে গোপনে সরকারী ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু সে ত্রাণ গ্রহণের কথা মুক্তিযুদ্ধের কোন পক্ষই স্বীকার করেনি। কিন্তু আমরা যদি সত্য যাচাই করতে চাই তাহলে ১৯৭১ সালের The Jerusalem Post –এ প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে তাদের সম্পাদকীয় প্রকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ত্রাণের জন্য চাঁদা সংগ্রহের নিউজ দেখতে পাবো। রিচার্ড রিড তার গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই মানবিক ও সামরিক সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
ইসরায়েল থেকে এসেছিল ভারী অস্ত্র যা মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত বিজয় এনে দিতে মূল ভূমিকা নিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন সে সময় নানা বাস্তবতার কারণে ভারতকে অস্ত্র সহায়তা করতে পারছিল না। তখন ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে গোপন বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার অস্ত্র সরবরাহে অনুমোদন দিয়েছিলেন। যেহেতু ইসরায়েলের সঙ্গে তখন ভারতের প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই এবং আরব দেশগুলোকে চটাতে চাইছিল না, তাই ‘লিচেনস্টাইন’ নামের একটি ছোট্ট দেশের নাম ব্যবহার করে জাহাজে করে অস্ত্রগুলো পাঠানো হয়েছিল।
ইসরায়েলের পাঠানো ১০০ মি.মি. এবং ১২০ মি.মি. মর্টারগুলো ছিল দুর্ভেদ্য পাকিস্তানি বাঙ্কার ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর। ইসরায়েলি কোম্পানি 'সলতাম' এর তৈরি মর্টারগুলো ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কিছু নথিতে উজি সাব-মেশিনগান পাঠানোর উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ইসরায়েলী উজি সাব-মেশিনগান ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ইসরায়েল আরো একটি বিধ্বংসী অস্ত্র পাঠিয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ট্যাংক বিধ্বংসী সরঞ্জাম। পাকিস্তানি প্যাটন ট্যাংক মোকাবিলার জন্য এটা ছিল আধুনিক এক প্রযুক্তি। বি. রমন ছিলেন ‘র’ এর প্রাক্তন কর্মকর্তা তিনি তার 'Kaoboys of R&AW' বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত এই অস্ত্রগুলো কিনতে চেয়েছিল এবং ইসরায়েল তা দ্রুততম সময়ে পাঠিয়েছিল। মেজর জেনারেল হর্ষ মেহতা লিখিত The 1971 Indo-Pak War: A Soldier's Narrative বইতেও ইসরায়েলী অস্ত্র ব্যবহারের কথা বিস্তারিতভাবে আছে। এছাড়া ২০১৩ সালে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে নথি প্রকাশ করে সেখানে দেখা যায় ১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পি এন হাকসার ও ইসরায়েলী কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্ত্র সংক্রান্ত যোগাযোগ হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ‘মুসলিম বিশ্ব’ ছিল পাকিস্তানের নাঙ্গা সমর্থক। ফলে জাতিসংঘে ভারতের পক্ষে কথা বলা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানানোর সেই কঠিন সময়ে ইসরায়েলী পরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বা ইবানের ভূমিকার কথা না বললেই নয়। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশে চলা গণহত্যার বর্ণনা দেন। পাকিস্তানকে হানাদার বাহিনী হিসেবে তুলে ধরেন। ঠিক সেই সময় বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পাওয়া ফিলিস্তিনিরা কি করেছিল তা এখন দেখার সময় এসেছে।
ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত যে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার পক্ষেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ভারতের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়দান বলেছিলো এই ইতিহাস যখন বলার চেষ্টা করেছি তখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনই সবচেয়ে বেশি খিস্তি করেছে। এরা মানতেই চায় না আরাফাত ও ফিলিস্তিনিরা পাকিস্তানের পা চাটতে পারে। এটা প্রমাণিত হলে যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রেম দেখানোতে একটু খামতি থেকে যাবে! শত হলেও উনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন! কিন্তু "The Blood Telegram: Nixon, Kissinger, and a Forgotten Genocide" লেখক: Gary J. Bass, এই বইয়ে উল্লেখ আছে যে, অধিকাংশ আরব দেশ ও ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত ও তার পিএলও জাতিসংঘে পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে এবং ভারতকে আক্রমণকারী হিসেবে দেখিয়েছিল। তাদের পাঠানো প্রতিনিধিদের দিয়ে আশ্বস্ত করিয়েছিল। ফিলিস্তিন তখন জাতিসংঘের কোন সদস্য দেশ তো নয়ই, সাধারণ পর্যবেক্ষকও ছিল না। কিন্তু তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রতিনিধি পাঠিয়ে আরব বা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো। সেখানেই তারা তাদের কুটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে। গ্যারি জে বাস সেটাই তার বইতে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের কোন সুযোগ নেই। যদি তারা বাংলাদেশের পক্ষে থাকতো তাহলে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতো আরো আগেই। অথচ ১৯৭২ সালের ওআইসি সম্মেলনে তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে তীব্র বিরোধীতা করে।
"Kaoboys of R&AW: Down Memory Lane" লেখক B. Raman (সাবেক 'র' কর্মকর্তা) তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় ফিলিস্তিনি ও আরব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পাকিস্তানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করত এবং বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের মুভমেন্টের বিরোধিতা করত। "Arafat: From Defender to Dictator" লেখক: Said K. Aburish ও "The Last Days of United Pakistan" লেখক: G.W. Choudhury (তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী) তাদের বইতে উল্লেখ করেছেন আরাফাত ও পিএলও পাকিস্তানী সামরিক জান্তার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে মনে করতেন। পিএলও এবং আরাফাত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী মুসলিম দেশকে দুর্বল করার ভারতীয় চক্রান্ত বলে বিশ্বাস করতেন। আরাফাত এ জন্য আরব বিশ্বে পাকিস্তানের পক্ষে লবিং করেছিলেন বলে বইতে উল্লেখ করা হয়। অথচ এক বছর আগেই জর্ডানের একটা অংশ ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা দখল করে নিলে জর্ডান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গুলি করে মেরে ফেলে এক অভিযানে। তবু মুসলিম উম্মাহ প্রেম তো মিটে যাবার নয়!
বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে নিয়ে আমার আলোচনার কিছু নেই। কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষে ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ফিলিস্তিনি ও সাম্প্রতিক ইরান নিয়ে পিরিতির নেপথ্যে কি কারণ তা কিন্তু আমি জানি! আরাফাত যেমন এক বছরের মধ্যে ১০ হাজার ফিলিস্তিনির খুনিদের হয়ে লবিং করতে পারে তেমনিই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ইসরায়েলের ভূমিকাকে বাম হাত দিয়ে মুছে ফেলতে পারে একই আইডলজি দিয়েই।
কথায় বলে মুসলমান আধুনিক হলেও সে মুসলমানই! নইলে রেজা শাহ পাহলভী কেন পাকিস্তানের অখন্ডতার পক্ষে থাকবেন তখন? আরব দেশে একটি দেশ ছিল না যারা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জন্য দশটি টাকা পাঠিয়ে ছিল! ইরান পাকিস্তানকে জ্বালানি তেল, যুদ্ধবিমান রাখার ঘাঁটি করতে দিয়েছিল। জর্ডানের বাহশাহ হোসেন ছিল ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগতভাবে বন্ধু। পাকিস্তানকে জর্ডান যুদ্ধ করতে ১০টি F-104 Starfighter যুদ্ধবিমান দিয়েছিল। কুয়েত ও সৌদি আরব বাংলাদেশে যুদ্ধ করার জন্য কোটি কোটি ডলার পাকিস্তানকে দিয়েছিল। ইরাকের সাদ্দাম হোসেন তখন সোভিয়েত পক্ষে ছিল বলে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেনি ঠিকই কিন্তু ওআইসিতে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
এই সব দেশেগুলো কি উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যাকারী পাকিস্তানের পক্ষ নেয়ার? স্রেফ ইসলাম ও মুসলমান ইস্যুই এখানে কাজ করেছিল। ১৯৭৪ সালে ওআইসি সম্মেলনে সৌদি বাদশাহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশ স্বীকৃতি দিতে দুটি শর্ত দিয়েছিল, ১) বাংলাদেশকে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা, ২) পাকিস্তানের সঙ্গে সব বিরোধ মিটিয়ে ফেলা। এই দুটি শর্ত মুজিব মেনে নেননি বলে ১৫ আগস্ট তার হত্যার আগ পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বঙ্গবন্ধু বাদশাহ ফয়সালের মুখের উপর বলে দিয়েছিলেন-
"মাননীয় বাদশাহ, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এটি জনগণের ইচ্ছায় চলবে। আমি আমার দেশের কোটি কোটি অমুসলিম নাগরিকের অধিকার কেড়ে নিতে পারি না। আর পাকিস্তানের সাথে আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।"
মুজিব ও ফয়সালের এই আলাপ সম্পর্কে চারটি বই পাওয়া যায়। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি’, এবিএম মুসার ‘মুজিব ভাই’, ফারুখ চৌধুরীর ‘স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু’ ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম তকি উসমানী তার উর্দুতে লেখা আত্মজীবনী ‘ইয়াদেন’ বইতে মুজিব ও ফয়সালের মধ্যে মন কষাকষি পরিস্থিতির বর্ণনা করেন। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশীদের হজ পালন নিষিদ্ধ করে রাখে সৌদি আরব। পুরো আরব বিশ্ব, মুসলিম উম্মাহ, প্যান ইসলামিস্ট বিশ্ব কেউ মুজিবকে তাই পাকিস্তান ভাঙার জন্য ক্ষমা করেনি। সেই মুজিব তবু ফিলিস্তিনিদের ভাই ডেকেছে, তাঁর কন্যা ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘে অবস্থান নিয়েছে, সে না হয় বুঝলাম রাজনীতির হিসেব নিকেষ থেকে করা হয়েছে। কিন্তু কথিত মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির লোকজন ইসরায়েল বিষয়ে এই রকম যুক্তিহীন বৈরী কেন? একবার কেউ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইসরায়েলকে?
ধুর, আমিও যেন কেমন! ভারতকেই কেউ মানে না! বলে, ‘ভারত সাহায্য না করলেও আমার জিততাম, দেরি হইত কিন্তু জিততাম’! তারা স্বীকার করবে ইসরায়েলকে!
শিশু থেকে পরিণত বয়সের সন্তানেরা বাবাকে কীভাবে দেখে এবং সে সময় বাবাদের কোন কোন আচরণ এড়িয়ে চলা উচিত।
একজন বাবা যে সন্তানের জীবনে নিরাপত্তা, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও পথচলার নীরব দিকনির্দেশক, এ কথা সবারই জানা। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে দেখার চোখও বদলে যায়। কখনো বাবা নিরাপদ আশ্রয়, কখনো নায়ক, কখনো শিক্ষক, আবার কখনো বন্ধু। প্রতিটি বয়সে বাবার উপস্থিতি, আচরণ ও ভাষা সন্তানের মনে গভীর ছাপ ফেলে, যা তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, আত্মবিশ্বাস ও জীবনের সিদ্ধান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
১) বয়স ০-২ বছর: নিরাপদ আশ্রয়
০-২ বছর বয়সে বাবার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সন্তানের কাছে। এই বয়সের শিশুরা শুধু কথাই শোনে না ; তারা স্পর্শ, কণ্ঠ আর ভালোবাসা অনুভব করে। বাবার কোলকে তারা সবচেয়ে শান্তির জায়গা মনে করে। খেয়াল করে দেখবেন, এই বয়সের শিশুরা বাবার কোলকে নিরাপদ বোধ করে, বাবার কণ্ঠ শুনলে তাদের কান্না থেমে যায়। বাবার কাছে থাকলেই তাদের কাছে পৃথিবীটা ঠিকঠাক লাগে।
তারা কী শেখে ও লক্ষ করে
বিশ্বাস, নিরাপত্তা এবং ভালোবাসার স্পর্শে ধরা পড়ার অনুভূতি। দিনভর ক্লান্ত থাকার পর আপনি কীভাবে কাছে যান, আপনি কি তাদের জড়িয়ে ধরেন, নাকি অন্যের হাতে তুলে দেন। এসব তারা লক্ষ করে।
কী কী করবেন না
দূরে থাকা, শীতল আচরণ করা বা সব দায়িত্ব মায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া। এ সময় আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় তার কাছে।
শিশু অতি সক্রিয় বা বেশি চঞ্চল হলে করণীয় কী
৩) বয়স ৩-৫ বছর : নায়ক
এই বয়সের শিশুর চোখে বাবাই সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে মজার আর সবচেয়ে সাহসী মানুষ। অর্থাৎ তার নায়ক আপনি। কাজ থেকে ফিরে বাবার একটু সময় দেওয়া, কোলে তুলে নেওয়া, তার সঙ্গে খেলা, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া এই ছোট ছোট কাজই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ভালোবাসার ও আনন্দের মুহূর্ত।
তারা কী শেখে ও খেয়াল করে
এই বয়সে শিশুরা দেখে, ভালোবাসা আসলে কীভাবে প্রকাশ পায়। মায়ের সঙ্গে বাবা কীভাবে কথা বলেন, সন্তানেরা ভয় পেলে বাবা পাশে দাঁড়ান কি না, রেগে গেলে বাবা কী ভাষা ব্যবহার করেন, সবই তারা মনে রাখে।
কী কী করবেন না
শিশুর সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলবেন না।
মজা করলেও কখনো উপহাস করবেন না।
তাদের কখনোই বলবেন না, ‘তুমি এমন করছ কেন!’
এই বয়সে শিশুরা খুব বেশি ভয় পায়। আর যদি কোনোভাবে আপনিই ভয়ের কারণ হয়ে ওঠেন, তখন তারা শেখে, ভালোবাসা কষ্ট দিতে পারে। এই ধারণা ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও তাদের সঙ্গে থেকে যায়। কাজ থেকে ফিরে বাবা হিসেবে একটু সময় দেওয়া, কোলে তুলে নেওয়া, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার মতো ছোট ছোট কাজই সন্তানের কাছে আনন্দের মুহূর্ত।
৩) বয়স ৬-৯ বছর : শিক্ষক
এই বয়সে বাবাই হয়ে ওঠেন শিশুর সবচেয়ে বড় শিক্ষক। শিশুরা খেয়াল করে, সমস্যা হলে বাবা কীভাবে সমাধান করেন, মানুষজনের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, আর চাপের সময় নিজেকে কীভাবে সামলান। বাবার প্রতিদিনের আচরণই এই বয়সে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় পাঠ।
তারা কী শেখে ও খেয়াল করে
এই বয়সে শিশুরা বাবা কী বলেন, তার চেয়ে বেশি শেখে বাবার কাজ দেখে। বাবা দোকানদার বা অন্য মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, ভুল হলে কীভাবে ঠিক করেন সবকিছু তারা মনে রাখে।
কী কী করবেন না
তাদের ছোট করবেন না।
তাদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন না।
‘এসব কিছু না’ বলে তাদের দুশ্চিন্তাকে তুচ্ছ করবেন না।
৪) বয়স ১০-১২ বছর : রক্ষক
শিশুরা এ সময় খেয়াল করে, বাবা সত্যিই শুনছেন, নাকি শুধু ‘শুনছি’ বলে পাশ কাটাচ্ছেন। এ বয়সে শিশুর কাছে মনে হয় পৃথিবীটা অনেক বড় এবং কিছুটা ভয়ংকর। তখন তাদের দরকার হয় নিরাপত্তা, আর এই নিরাপত্তা তারা খুঁজে পায় বাবার কাছে। বাবা যখন বলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে আছি, তোমার কিছু হবে না’, তখন এই কথাই তাদের জন্য বড় নিরাপত্তার ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
৫) ১০-১২ বছরের সন্তানেরা বাবাকে দেখে রক্ষক হিসেবে
তারা কী শেখে ও খেয়াল করে
বাবা কথা বলার সময় মন দেন কি না।
যখন কাঁদে, তখন বাবা কীভাবে সাড়া দেন।
কী কী করবেন না
শিশু যখন কষ্ট পায় বা ভয় পায়, তখন তাদের অনুভূতিকে অবজ্ঞা করবেন না বা এড়িয়ে যাবেন না। যদি বাবা বলেন, ‘কিছু হয়নি’, তখন শিশু মনে করে তার অনুভূতি গুরুত্বহীন। বা তার কষ্টকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। এভাবে অনুভূতি উপেক্ষা করলে শিশুর মধ্যে একধরনের চাপা কষ্ট জমে থাকে, যা ট্রমার সৃষ্টি করতে পারে।
আপনার কিশোর সন্তান কি পিয়ার প্রেশারে আছে?
৬) বয়স ১৩-১৬ বছর : পথপ্রদর্শক
এই বয়সে শিশুরা নিজেদের একটি পরিচয় গড়তে চায়। তাই তারা কিছুটা দূরে সরে যেতে পারে। কিন্তু বাবা কীভাবে কথা বলেন, আচরণ করেন ও জীবন যাপন করেন তা তারা গভীরভাবে খেয়াল রাখে। বাবা রুষ্ট হলেও তাঁর উপস্থিতির মূল্য কমে না।
তারা কী শেখে ও লক্ষ করে
রাগ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, মানুষকে কীভাবে সম্মান করতে হয় এবং কোথায় সীমা টানতে হয় এসব তারা বাবার আচরণ থেকেই শেখে। বাবা ভুল করলে কীভাবে ক্ষমা চান, কিংবা হতাশ হলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান, এসব বিষয় তারা খুব মন দিয়ে লক্ষ করে।
কী কী করবেন না
কিশোরেরা মূলত সংযোগ ও বোঝাপড়া চায়। যদি পরিবারের ভেতর এই সংযোগ না থাকে, তাহলে তারা বাইরে খুঁজবে এই সংযোগ। বাইরে পাওয়া সব সংযোগ যে নিরাপদ বা সঠিক হবে, তা নিশ্চিত নয়। তাই অবিরতভাবে তাদের সমালোচনা করবেন না। আবেগগত দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করুন।
৭) বয়স ১৭-২০ বছর: আদর্শ
সন্তানকে কড়া নিয়ন্ত্রণে না রাখলেই ভালো। এই বয়সে তারা নিজের জীবন গড়তে শুরু করে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তবু বাবার প্রভাব এখনো গভীরভাবে থেকে যায়। বাবা কী মূল্যবোধ শিখিয়েছেন, কীভাবে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, আর পরিবারে তারা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে কি না এসব নিয়েই তারা ভাবতে থাকে। তাই বাবাই তার কাছে আদর্শ।
তারা কী শেখে ও লক্ষ করে
এই বয়সের কিশোরেরা দেখে, পুরুষেরা শুধু রাগী হয় না, তাদের মনও কোমল হতে পারে, আবেগ থাকে। এ ছাড়া সম্মান জোর করে নয়, অর্জন করতে হয় এসব তারা বাবার কাছ থেকে শেখে। বাবারাও অনেক সময় ভুল করেন। তখন তারা লক্ষ করে, আপনি এই ভুল কীভাবে স্বীকার করেন।
কী কী করবেন না
তাদের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা।
তাদের দরকার দিকনির্দেশনা, সমর্থন। ছায়া হয়ে থাকা নয়।
৮) বয়স ২০-২৫ বছর: বন্ধু
এখন তারা আপনাকে নিখুঁত মনে করে না, কিন্তু আপনাকে এখনো তার প্রয়োজন। কঠিন সময়ে আপনি কেমন ছিলেন—সেটাই তারা মনে রাখে।
তারা কী শেখে ও লক্ষ করে
ভালোবাসা কি শর্তসাপেক্ষ?
ভুল হলে কি ক্ষমা পাওয়া যায়?
কারণ ছাড়া কি ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলা যায়?
কী কী করবেন না
এই বয়সে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হয় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আবেগের স্বীকৃতি। ভালোবাসা চুপচাপ রেখে দিলে তারা অনেক সময় মনে করে, তারা আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই এ সময় স্পষ্টভাবে বলা জরুরি, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বা ‘আমি তোমার জন্য গর্বিত’।
ভুল-বোঝাবুঝি হলে তা মেরামত করার সাহস দেখানো দরকার, ক্ষমা চাইতে বা ক্ষমা দিতে কার্পণ্য করা উচিত নয়।
মনে রাখতে হবে, সম্পর্ক সারানোর জন্য সময় কখনো শেষ হয়ে যায় না, আর সন্তানের পাশে দাঁড়াতে কখনো দেরি হয় না।
সূত্র: সেন্টার ফল মেল সাইকোলজি
World Vision (বিশ্ব দর্শন
আজকের দিনে পড়াশোনায় ভালো করার পাশাপাশি শিশুদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা খুব জরুরি। জীবনমুখী দক্ষতা শিশুকে আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল করে তোলে।
শিশুদের বয়স অনুযায়ী কোন কোন জীবনমুখী দক্ষতা (Life Skills) শেখানো উচিত, তা নিয়ে এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হয়েছে।
•
২ থেকে ৩ বছর বয়স: প্রাথমিক স্বাবলম্বী হওয়া শেখানো
এই বয়সে শিশুরা খুব কৌতূহলী থাকে। তাদের ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা শুরু করা উচিত।
> খেলার পর খেলনাগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে রাখা।
> একটু সাহায্যের মাধ্যমে নিজে নিজে পোশাক পরা।
> ময়লা কাপড় নির্দিষ্ট জায়গায় (Laundry basket) রাখা।
> খাবার বা জল মেঝেতে পড়লে তা পরিষ্কার করা শেখানো।
•
৪ থেকে ৫ বছর বয়স: জরুরি অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা ও নিজের যত্ন
এই বয়সে শিশুরা বড়দের কাজ দেখে শিখতে চায়। তাদের শেখানো উচিত:
> নিজের পুরো নাম, বাড়ির ঠিকানা এবং মা-বাবার ফোন নম্বর মুখস্থ রাখা।
> জরুরি অবস্থায় কীভাবে সাহায্য চাইতে হয় তা শেখানো।
> ঘর পরিষ্কারের ছোট ছোট কাজে সাহায্য করা।
> নিজে ব্রাশ করা এবং চুল আঁচড়ানো।
•
৬ থেকে ৯ বছর বয়স: দায়িত্ব নিতে শেখা
এই সময়ে শিশুরা তাদের কাজের দায়িত্ব নিতে শুরু করে। ৯ বছর বয়সের মধ্যে এই দক্ষতাগুলো তাদের অভ্যাসে পরিণত হওয়া উচিত:
> নিজের বিছানা নিজে গোছানো।
> নিজে নিজে স্নান করা।
> টাকা-পয়সা বা লেনদেনের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া।
> বাজারের ফর্দ তৈরি করতে সাহায্য করা।
> অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা।
•
১০ থেকে ১২ বছর বয়স: বাস্তব জীবনের কাজের প্রস্তুতি
এটি কিশোর বয়সের ঠিক আগের ধাপ। তাই এখন তাদের আরও কিছু বড় দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে:
> মা-বাবা বাড়িতে না থাকলে কিছুক্ষণ একা নিরাপদে থাকা।
> সহজ কোনো খাবার (যেমন- নুডলস বা স্যান্ডউইচ) তৈরি করা।
> নিরাপদভাবে জামাকাপড় ইস্ত্রি করা।
•
১৩ থেকে ১৫ বছর বয়স: আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠা
এই বয়সে সন্তানরা নিজেদের জগত তৈরি করতে চায়। তাই বাইরের দুনিয়ার জন্য তাদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন:
> পুরো খাবার নিজে রান্না করতে শেখা।
> একা বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করা এবং দাম মেটানো।
> প্রাথমিক চিকিৎসার (First Aid) জ্ঞান থাকা।
> ছোট ভাই-বোনদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব নেওয়া।
•
শিশুদের শুধু পড়াশোনা নয়, বরং জীবনের এই ছোট ছোট দক্ষতাগুলো শেখালে তারা ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা অর্জন করবে। এতে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
____________________
কিন্তু জীবনে আপনাকে শিখতেই হবে:
১/ ডিসিশন নেওয়ার স্কিল
২/ ইমোশন কন্ট্রোল
৩/ না বলতে পারার ক্ষমতা
৪/ আত্মবিশ্বাস তৈরি করার স্কিল
৫/ নিজের কাজ উপস্থাপন করা
৬/ নেগোশিয়েশন বা দর কষাকষি
৭/ টাকা ম্যানেজমেন্ট
৮/ নেটওয়ার্কিং ও সম্পর্ক তৈরি
৯/ সময় ম্যানেজমেন্ট
১০/ ফোকাস ধরে রাখা
১১/ ব্যর্থতার পর কামব্যাক করা
১২/ ক্রিটিকাল থিংকিং
১৩/ ডিসিপ্লিন
১৪/ সমস্যা সমাধানের দক্ষতা
১৫/ নিজের শেখার সিস্টেম বানানো
মনে রাখবেন, ডিগ্রি আপনাকে চাকরি দিতে পারে। কিন্তু এই স্কিলগুলো শেখাই প্রতিনিয়ত আপনার লেভেল আপ করবে।
২১ বছর হওয়ার আগেই এই ২১ টা স্কিল শিখে রাখুন-
১| Communication skill _
সুন্দর ভাবে কথা বলা এবং নিজের কথা গুলো গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারা।
২| Public Speaking _ মানুষের সামনে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে পারা।
৩| Time Management _ সময়কে ঠিক ভাবে কাজে লাগানো।
৪| Money Management _ টাকা সেভ, খরচ ও ইনভেস্ট করতে শেখা।
৫| Digital skill _ Canva, Google Docs, AI tools এবং basic editing জানা।
৬| Content writing _ সুন্দর ভাবে লিখতে পারা।
৭| Marketing skill _ নিজের কাজ বা প্রোডাক্ট মানুষের কাছে পৌঁছাতে শেখা।
৮| Networking _ ভালো সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষমতা।
৯| Emotional Control _ রাগ, কষ্ট আর হতাশা সামলানো।
১০| Decision Making _ দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখা।
১১| Problem Solving _ যেকোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা।
১২| Basic English skill _ অন্তত basic English বলতে ও বুঝতে পারা।
১৩| Negotiation skill _ নিজের প্রাপ্য বুঝে নিতে পারা।
১৪| Self-Discipline _ মন না চাইলেও কাজ চালিয়ে যাওয়া।
১৫| Adaptability _ নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারা।
১৬| Social media management _ Facebook, Instagram etc peofessionally ব্যবহার করা।
১৭| Leadership skill _ মানুষকে গাইড ও মটিভ করতে পারা।
১৮| Critical Thinking _ সবকিছু blindly বিশ্বাস না করে চিন্তা করা।
১৯| Stress Management _ চাপের মধ্যেও শান্ত থাকতে পারা।
২০| Learning skill _ দ্রুত নতুন কিছু শেখার অভ্যাস তৈরি করা।
২১| Self-confidence _ সবসময় নিজের উপর বিশ্বাস রাখা।