দ্রুত পড়ার পদ্ধতি স্কিমিং

পড়ার বিষয় আছে প্রচুর। কিন্তু সময় কম। দ্রুত পড়ার অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারলে এ সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব। দ্রুত পড়ার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, তার মধ্যে স্কিমিং অন্যতম। এ পদ্ধতিতে অনেক অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় তথ্য জানা হবে।

স্কিমিং

পড়ার সময় স্কিমিং পদ্ধতির ব্যবহার কমবেশি অনেকেই করে থাকে, অনেক সময় না জেনেই। স্কিমিং রিডিং হলো বইয়ের পাতায় প্রতিটি লাইনে কেবল চোখ বুলিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বের করে বোঝার চেষ্টা করা।

পদ্ধতি

এ পদ্ধতিতে বইয়ের লাইন বরাবর হাতের আঙুল বা কলম ব্যবহার করা হয় যেন চোখ অন্য কোনো লাইনে সরে না পড়ে। ফলে নির্দিষ্ট শব্দগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এই পদ্ধতি মেটা গাইডিং নামেও পরিচিত।

স্কিমিং পদ্ধতিতে দক্ষ হওয়ার উপায় হলো নিয়মিত অনুশীলন করা। পাঠক কোন শব্দ কত দ্রুত শনাক্ত করতে পারছে তার ওপর নির্ভর করে পড়ার গতি। যদি শব্দটি পাঠকের অনেক পরিচিত হয়, তাহলে পড়ার গতিও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে। 

এই পদ্ধতিতে কোনো একটি অনুচ্ছেদের প্রথম এক বা দুটি বাক্য পড়ার পর শেষের বাক্যটি পড়তে হবে। পড়ার বিষয়ের মধ্যে ব্যাখ্যা বা যুক্তিগুলোর দিক নির্ধারণ করার চেষ্টা করতে হবে। বিস্তারিত পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

পড়ার সময় পড়তে হবে পড়ার উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে। পঠিত বিষয় থেকে যা যা জানা দরকার তা সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না তা দেখতে হবে। অপরিচিত শব্দ ও নতুন তথ্য কয়েকবার পড়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

শেষ অনুচ্ছেদে সাধারণত একটি উপসংহার বা সংক্ষিপ্তসার থাকে। এটিকে স্কিম করার দরকার নেই। লেখকের সামগ্রিক উদ্দেশ্য বুঝতে এটা মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। কিন্তু অন্যান্য অংশ স্কিম করে পড়ার কারণে অনেকটা সময় যেমন বেচে যাবে, তেমনি সহজে বিষয়ের গভীরে পৌঁছতে পারবে।

শিক্ষাজীবনে জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে জীবনী, সংবাদপত্র, বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লিখিত বইপত্র ও জার্নাল পড়তে হয়। এসব বিষয়ে পাঠযোগ্য লেখার পরিমাণ এতই বিশাল যে, চাইলেও সব পড়ে শেষ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্কিমিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারো। পাঠ্যপুস্তকের বিষয় হৃদয়ঙ্গম করতে বিষয়টির প্রতিটি লাইন মনোযোগ দিয়ে পড়ার পদ্ধতি বেশি কাজে দেবে। @ লিজা চৌধুরী




মন বসছে না পড়ার টেবিলে? জেনে নাও কারণ

পড়ার টেবিলে বসে আছে রাফি। ১০ মিনিট পর দেখা যায় সে বই রেখে মোবাইলে স্কুল করছে। আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বইয়ের দিকে তাকাচ্ছে।

আসলে তার পড়ায় মন বসছে না। 'পড়তে মন চাইছে না'-এ কথাটি আজকাল শিক্ষার্থীদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই 'মন চাইছে না' কি আসলে মস্তিষ্কের কাজ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, পড়ার সময়ে অলস লাগলে বা পড়ায় মন না বসার কারণ নিয়ে-

গবেষকেরা বলছেন, অলসতা অনেকটাই মস্তিষ্কের নিউরোকেমিক্যাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেয়, কাজ শুরু করে এবং শেষ করে-এই তিনটি প্রক্রিয়া মোটিভেশন বা অনুপ্রেরণা সিস্টেম মেনে। এর মূল তিনটি অংশ হলো-

>> প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স: পরিকল্পনা ও লক্ষ্য স্থির করে।

>> বেসাল গ্যাংলিয়া: কাজ শুরু করার 'স্টার্ট বাটন'।

>> ডোপামিন নেটওয়ার্ক: চালিকাশক্তির মতো কাজ করে।

যখন এ সিস্টেমের সমন্বয় হারায়, তখন শিক্ষার্থী নিজেকে অলস মনে করতে শুরু করে। বই পড়তে বসলেও মন বসে না, কাজ জমা দেওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত দেরি হয়, সহজ কাজও ভারী মনে হয়। এটি কোনো চরিত্রগত দুর্বলতা নয়; বরং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

➤প্রতিটি অংশের ভূমিকা

>> বেসাল গ্যাংলিয়া: মস্তিষ্কের স্টার্ট বাটন। এটি ধীর হলে কাজ শুরু করতে অনীহা হয়।

>> ডোপামিন: রাসায়নিক যা মস্তিষ্ককে আগ্রহী করে। কম ডোপামিন থাকলে কাজ শুরুতে অনীহা, সবকিছু নীরস মনে হয়। সামাজিক মিডিয়া, গেম বা শর্ট ভিডিও দ্রুত ডোপামিন বাড়ায়, পড়াশোনা তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় লাগে।

>> প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স: মস্তিষ্কের ম্যানেজার। এটি পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মনোযোগ ধরে রাখে। পরীক্ষার চাপ, কম ঘুম, স্ট্রেস-সবই এটি দুর্বল করে। ফলে কঠিন কাজ আরও কঠিন মনে হয়, মনোযোগ ভেঙে যায়।

➤শিক্ষার্থীদের মধ্যে অলসতা বাড়ার কারণ

শুধু মস্তিষ্ক নয়, পরিবেশ ও আধুনিক জীবনের চাপও গুরুত্বপূর্ণ। আজকের শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় বেশি তথ্য, প্রতিযোগিতা এবং বিভ্রান্তির মধ্যে বড় হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্লাস, কোচিং ও পরীক্ষার চাপ, ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের মোটিভেশন সিস্টেমকে ক্লান্ত করে। মনস্তাত্ত্বিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যর্থতার ভয়-কাজ ভুল হতে পারে এ ধারণা- শুরু করার আগে থামিয়ে দেয়। নিখুঁত হওয়ার প্রবণতাও বাধা। লক্ষ্য যদি অস্পষ্ট বা খুব বড় হয়, যেমন 'পুরো সিলেবাস শেষ করতে হবে,' মস্তিষ্ক কাজটিকে চাপ হিসেবে দেখে। কম আত্মবিশ্বাস, 'আমি পারব না'-ধারণাও অলসতা বাড়ায়।  

➤কীভাবে এই সেফ মোড নিয়ন্ত্রণে আনা যায়

শিক্ষার্থীরা কিছু কৌশল মেনে মোটিভেশন সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে-

>> কাজকে ছোট অংশে ভাগ করা: একসঙ্গে বড় অধ্যায় বা প্রকল্প দেখা মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত চাপ দেয়। প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট করে ছোট অংশ পড়া বা নোট তৈরি করা কার্যকর। ছোট কাজ মস্তিষ্ককে ডোপামিন দেয়, আগ্রহ বাড়ায়।

>> টুডু লিস্ট ও সংকেত ব্যবহার: অ্যালার্ম, স্টিক নোট বা ওয়াল ক্যালেন্ডার স্মরণ করিয়ে দেয়, কাজ কখন শুরু করতে হবে।

>> পোমোডোরো পদ্ধতি: ২৫ মিনিট পড়া এবং ৫ মিনিট বিরতি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ২ মিনিট রুলও কার্যকর-কোনো কাজ ২ মিনিট করে শুরু করলে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে বাকিটা করে।

>> ঘুম, ব্যায়াম ও সুষম খাবার: পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্ককে শক্তি দেয়, ব্যায়াম ডোপামিন ও এন্ডোরফিন বাড়ায়।

>> স্ক্রিন ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ভিডিও বা গেম দ্রুত ডোপামিন দেয়, পড়াশোনাকে তুলনায় কম আকর্ষণীয় বানায়। নির্দিষ্ট সময় ফোন বন্ধ বা স্ক্রিন ব্রেক মস্তিষ্ককে স্বাভাবিক মোটিভেশন মোডে আনে।

>> নিজেকে দোষারোপ করা বন্ধ করা: 'আমি অলস' বলার বদলে বলুন, 'আমার মোটিভেশন সিস্টেম শক্ত করতে হবে।' নেতিবাচক চিন্তা কমে যায়, উদ্যম বাড়ে।

➤কেন মস্তিষ্ক কাজ শুরু করতে চায় না?

নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, মস্তিষ্ক প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনা করে-

১. কাজটি করতে কতটা মানসিক শক্তি লাগবে এবং

২. কাজটি করলে কী ধরনের ফল বা আনন্দ পাওয়া যাবে।

যখন ফলাফলের মান কম মনে হয়, মস্তিষ্ক কাজ এড়িয়ে যেতে 'সেফ মোডে' চলে যায়। শিক্ষার্থীরা তাই বলে, 'আজ কেমন যেন লাগছে, পরে করি।'

অলসতা কোনো চরিত্রগত দুর্বলতা নয়; এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, ক্লান্তি, চাপ, ডোপামিনের ওঠানামা এবং পরিবেশগত প্রভাবের ফল। পরিবর্তনের পথ হলো মস্তিষ্ককে বোঝা এবং তার কাজের ধরন অনুযায়ী কৌশল তৈরি করা। ছোট পদক্ষেপে এগোলে ধীরে ধীরে 'আমি পারব না' বা 'এখন নয়' ধরনের প্রতিক্রিয়া কমে আসে, আর উদ্যম ফিরে আসে। সত্যিকারের শক্তি আমাদের ভেতরেই আছে-শুধু মস্তিষ্ককে তার নিজস্ব ছন্দে একটু পথ দেখাতে হবে। @ Pallab Shariare



নারীরা কীভাবে ভোটাধিকার পেলেন

১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বর। নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে তখন এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। সংসদ সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিশাল এক পিটিশন—লম্বা কাগজের রোল, যেন শেষই হয় না।

সেই কাগজে আছে ৩২ হাজারেরও বেশি নারীর স্বাক্ষর। এই পিটিশনের মূল দাবি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আনুষ্ঠানিক: “নির্বাচনী আইন সংশোধন করে নারীদের সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার দিতে হবে।”

এই আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল—“Votes for Women.” (ভোটস ফর উইমেন)।

সেই বছর নিউজিল্যান্ড বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে নারীদের ভোটাধিকার দেয়। কিন্তু এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিস্ময় ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘদিনের সংগঠিত আন্দোলন, যুক্তি, পিটিশন এবং রাজনৈতিক চাপের ফলাফল—একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রথম বড় জয়।

এই দৃশ্য শুধু একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ঘটনা ছিল না। এটা ছিল নারীদের দীর্ঘদিনের নীরব ক্ষোভের প্রকাশ, তাদের সাহসের ঘোষণা।

আর ঠিক সেই বছরই নিউজিল্যান্ড ইতিহাস তৈরি করে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা নারীদের ভোটাধিকার দেয়।

কিন্তু এই অর্জন কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিস্ময় নয়। এটা ছিল বহু দশক ধরে জমে ওঠা প্রতিবাদ, যুক্তি, সংগঠন আর সাহসের ফল।

.

উনিশ শতকে নারীর নাগরিক অধিকারহীনতা

একটি বৈশ্বিক আন্দোলনের প্রথম বড় জয়—যা পরে বদলে দেয় পুরো পৃথিবীর রাজনীতির ভাষা।

এই আন্দোলনের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় এমন এক সময়ে, যখন নারীদের রাষ্ট্রের চোখে নাগরিক হিসাবেই দেখা হত না। উনিশ শতকের শুরুতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় প্রচলিত ছিল Law of Coverture—একটি আইনি নীতি, যার অর্থ ছিল, বিয়ের পর একজন নারী তার স্বতন্ত্র আইনি সত্তা হারান। তিনি আর ব্যক্তি নন, তিনি স্বামীর অধীন এক আইনি অস্তিত্ব।

এই ব্যবস্থায় নারীর সম্পত্তির অধিকার, আয়ের অধিকার বা রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নই উঠত না। ভোটাধিকার তো দূরের কথা—রাষ্ট্রের কাছে নারী ছিলেন এমন কেউ, যার হয়ে “স্বাভাবিকভাবে” একজন পুরুষ সিদ্ধান্ত নেবে।

.

যুক্তরাষ্ট্রে আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা

এই ধারণায় প্রথম বড় আঘাত আসে ১৮৪৮ সালে, আমেরিকার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরে। সেনেকা ফলস কনভেনশনে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক ডজন নারী ও পুরুষ, যাদের মধ্যে ছিলেন এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যান্টন এবং লুক্রেশিয়া মট। তারা যে ডিক্লারেশন অব সেন্টিমেন্টস প্রকাশ করেন, তা ইচ্ছাকৃতভাবেই মার্কিন স্বাধীনতা ঘোষণার ভাষা অনুকরণে লেখা। পার্থক্য ছিল একটি জায়গায়—এখানে বলা হয়েছিল, “অল মেন অ্যান্ড উইমেন আর ক্রিয়েটেড ইক্যুয়াল।”

এই বাক্যটি শুধু একটি দাবি নয়, এটা ছিল একটি রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। সমসাময়িক পত্রিকাগুলি এই ঘোষণাকে হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে আখ্যা দেয়। এমনকি অনেক নারী অংশগ্রহণকারীও ভোটাধিকার দাবির পক্ষে ভোট দিতে দ্বিধায় ছিলেন। তবু এই ঘোষণাই ভবিষ্যতের আন্দোলনের ভাষা নির্ধারণ করে দেয়।

পরবর্তী কয়েক দশকে আমেরিকায় নারী ভোটাধিকার প্রশ্নটি ধীরে ধীরে সংগঠিত রাজনীতির অংশ হয়ে ওঠে। ১৮৬৯ সালে গঠিত হয় ন্যাশনাল ওম্যান সাফ্রেজ অ্যাসোসিয়েশন এবং আমেরিকান ওম্যান সাফ্রেজ অ্যাসোসিয়েশন। তারা একদিকে যুক্তি, আইন ও সাংবিধানিক সংস্কারের পথে হাঁটেন, অন্যদিকে জনসমর্থন গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অগ্রগতি ছিল ধীর। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে আলাদা লড়াই, আলাদা পরাজয়। ভোটাধিকার বার বার সংসদে উঠেছে, আবার বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

.

ব্রিটেনে সরকারের দমননীতি

ব্রিটেনে পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন। সেখানে সংসদীয় সংস্কারের মাধ্যমে পুরুষদের ভোটাধিকার সম্প্রসারিত হলেও নারীরা বার বার উপেক্ষিত হন। এই হতাশা থেকেই আন্দোলন ভেঙে পড়ে দুটি ভিন্ন কৌশলে। একদিকে ছিলেন শান্তিপন্থীরা, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন মিলিসেন্ট ফসেট।

তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্রকে যুক্তির মাধ্যমে বাধ্য করা সম্ভব। অন্যদিকে ছিলেন সেই নারীরা, যারা মনে করতেন যুক্তির ভাষা রাষ্ট্র শুনছে না। ১৯০৩ সালে এই ক্ষোভ থেকেই এমেলিন প্যাঙ্কহার্স্ট প্রতিষ্ঠা করেন উইমেন্স সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইউনিয়ন। তাদের স্লোগান ছিল—“Deeds, not words” (ডিডস, নট ওয়ার্ডস)। এটা ছিল কৌশলের পরিবর্তন নয়, এটা ছিল রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ঘোষণা।

১৯০৯ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে ব্রিটেনে হাজার হাজার সাফ্রেজেটকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাফ্রেজেট মানে ২০শ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটেনে নারীদের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য যারা সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কারাগারে গিয়ে তারা অনশন শুরু করেন। সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ—ফোর্স-ফিডিং। মানে জোর করে খাওয়ানো। চিকিৎসার ভাষায় একে বলা হত “জীবন রক্ষা”। বাস্তবে এটা ছিল নাক ও মুখ দিয়ে পাইপ ঢুকিয়ে জোর করে খাবার ঢোকানো, যা বহু নারীর স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি করে। ১৯১৩ সালে সরকার পাশ করে কুখ্যাত ক্যাট অ্যান্ড মাউস অ্যাক্ট—অনশনরত নারীদের মুক্তি দিয়ে সুস্থ হলেই আবার গ্রেপ্তার করার আইন। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন ভাঙা। ফল হয়েছিল উল্টা—জনমত ধীরে ধীরে নারীদের পক্ষে যেতে শুরু করে।

এই সময়েই বিশ্বের অন্য প্রান্তে ভিন্ন এক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছিল। নিউজিল্যান্ডে কেট শেপার্ড-এর নেতৃত্বে নারী ভোটাধিকার আন্দোলন তুলনামূলকভাবে কম সহিংস কিন্তু অত্যন্ত সংগঠিত রূপ নেয়। ১৮৯৩ সালের পিটিশন কেবল প্রতীকী ছিল না। এটা প্রমাণ করেছিল যে নারীরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং সংগঠিত হতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়া ১৯০২ সালে ফেডারেল পর্যায়ে শ্বেতাঙ্গ নারীদের ভোটাধিকার দেয়, যদিও আদিবাসী নারীরা তখনও বাদ পড়েন—যা এই আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে।

.

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আন্দোলনের গতি বদলে দেয়। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮—এই চার বছরে ইউরোপ ও আমেরিকায় নারীরা এমন কাজ করেন, যা আগে “পুরুষের কাজ” বলে বিবেচিত হত। অস্ত্র কারখানা, রেলওয়ে, প্রশাসন—সব জায়গায় নারীরা দায়িত্ব নেন। যুদ্ধ শেষে রাষ্ট্রের পক্ষে আর বলা সম্ভব ছিল না যে নারীরা রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য। এই বাস্তবতা আইনেও প্রতিফলিত হতে শুরু করে।

১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর রাশিয়া নারীদের ভোটাধিকার দেয়। ১৯১৮ সালে যুক্তরাজ্যে ৩০ বছরের বেশি বয়সী সম্পত্তির মালিক নারীরা ভোটাধিকার পান, ১৯২৮ সালে তা পুরুষদের সমান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯২০ সালে সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়। তবে এখানেও ইতিহাস অসম্পূর্ণ। আফ্রিকান-আমেরিকান নারীরা কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন ১৯৬৫ সালের ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট-এর পর।

উপমহাদেশে এই ইতিহাস ভিন্ন পথ নেয়। ভারতে নারী ভোটাধিকার যুক্ত ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে। ১৯১৭ সালে সারোজিনী নাইডু এবং অ্যানি বেসান্ট ব্রিটিশ সরকারের কাছে নারীদের ভোটাধিকার দাবি করেন। ধীরে ধীরে ১৯২১ সাল থেকে প্রাদেশিক পর্যায়ে সীমিত ভোটাধিকার দেওয়া হয়, যা ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে আরও বিস্তৃত হয়।

.

ভোটাধিকার অর্জনের সীমাবদ্ধতা

ভোটাধিকার অর্জনের পরও গল্প শেষ হয়নি। বহু দেশে নারীরা ভোট দিলেও সংসদে তাদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। রাজনৈতিক ভাষা ও ক্ষমতার কাঠামো বদলাতে আরও সময় লেগেছে। ভোটাধিকার ছিল প্রবেশদ্বার, গন্তব্য নয়।

সব আন্দোলন সফল হয়নি। বহু বিল সংসদে বাতিল হয়েছে। বহু নারী জেলে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের নাম ইতিহাসে লেখা হয়নি। অনেক সময় আন্দোলন ভেঙে পড়েছে, নেতারা ক্লান্ত হয়েছেন, সমাজ ফিরে গেছে পুরোনো অবস্থানে।

এই ব্যর্থতাগুলি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলি দেখায়—অধিকার অর্জন কোনো সরল রেখা নয়। এটা ওঠানামার পথ, যেখানে পরাজয়ও ভবিষ্যতের জয়ের বীজ বয়ে আনে।

ভোটাধিকার পাওয়ার পর অনেক নারী বুঝতে পারেন, আইনি অধিকার পেলেও বাস্তব ক্ষমতা এখনও দূরে। সংসদে নারীর সংখ্যা ছিল নগণ্য। রাজনৈতিক ভাষা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি—সবই ছিল পুরুষশাসিত। তারা বুঝতে পারেন, ভোটাধিকার কোনো চূড়ান্ত বিজয় নয়, এটা কেবল প্রবেশদ্বার।

আরো একটি দিক হল, ভোটাধিকার আন্দোলনের মূল গল্পগুলি পশ্চিমের দেশকেন্দ্রিক। আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যের নারীদের সংগ্রাম আরও দেরিতে, আরও নীরবে হয়েছে। অনেক জায়গায় ধর্ম, উপনিবেশবাদ ও দারিদ্র্য নারীদের কণ্ঠ আরও চেপে ধরেছে। এই অনুপস্থিতি স্বীকার করা জরুরি, কারণ এটা দেখায়, এই ইতিহাসও অসম্পূর্ণ।

এই ইতিহাসে এমন হাজারও নারী আছেন, যাদের নাম নেই কোনো বইয়ে। তারা মিছিলে হেঁটেছেন, জেলে গেছেন, পরিবার হারিয়েছেন। তাদের জন্য কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নেই, কিন্তু আজকের প্রতিটি নারী ভোটারের মধ্যে তাদের ছায়া রয়ে গেছে।

নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলন তাই কেবল নারীদের ইতিহাস নয়। এটা দেখায়, গণতন্ত্র কীভাবে ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়—চাপের মুখে, প্রশ্নের মুখে, এবং প্রায়ই রাষ্ট্রের অনিচ্ছার বিরুদ্ধে। আজ আমরা যখন ভোট দিই, তখন সেই ব্যালট পেপারে শুধু একটি পছন্দ নয়—এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা এই লড়াইয়ের ছাপও পড়ে থাকে।




,আজকের মুরগি প্রাচীন থেরোপড ডাইনোসরের বিবর্তিত রূপ

বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী,আধুনিক পাখি  যার মধ্যে মুরগিও রয়েছে, তারা প্রাচীন থেরোপড ডাইনোসরের বিবর্তিত রূপ। অর্থাৎ ডাইনোসর পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি, তাদের একটি শাখা আজও পাখি হিসেবে বেঁচে আছে।

থেরোপড ছিল দুই পায়ে হাঁটা ডাইনোসরের একটি গোষ্ঠী। এদের মধ্যেই ধীরে ধীরে পালক গড়ে ওঠে, হাড় হালকা হয়, সামনের হাত ডানায় রূপ নেয় এবং দীর্ঘ বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাচীন পাখির উদ্ভব ঘটে।

জীবাশ্ম প্রমাণ দেখায় যে, অনেক থেরোপড ডাইনোসরের দেহে পালক ছিল। তাদের হাড়ের গঠন, বিশেষ করে ফাঁপা হাড় এবং বুকে জোড়া হাড়ের উপস্থিতি আধুনিক পাখির সঙ্গে মিলে যায়। এমনকি ডিম পাড়া ও বাসা বানানোর আচরণেও মিল পাওয়া গেছে।

চীনে আবিষ্কৃত বহু জীবাশ্মে পালকের স্পষ্ট ছাপ পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে পালক প্রথমে তাপ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের কাজে ব্যবহৃত হতো। পরে সেটিই উড়ার উপযোগী গঠনে রূপ নেয়।

বিবর্তনের ধারায় ছোট ও দ্রুতগামী পালকওয়ালা থেরোপড থেকে ধীরে ধীরে এমন প্রাণীর উদ্ভব হয় যাদের শরীর আরও হালকা, লেজ ছোট এবং ডানা শক্তিশালী ছিল। এভাবেই কোটি কোটি বছরের পরিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক পাখির সৃষ্টি হয়।

তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন,আজকের মুরগি সরাসরি কোনো একটি নির্দিষ্ট ডাইনোসরের সন্তান নয়, বরং দীর্ঘ বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থেরোপড ডাইনোসরের বংশধর হিসেবে গড়ে ওঠা এক জীবিত উত্তরসূরি। @ তাইয়েবুন নেছা..



ডোপামিন: পুরুষদের জীবনে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ডোপামিন, যা মস্তিষ্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার, পুরুষদের জীবনে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। নিচে ডোপামিনের ২১টি ভূমিকা তুলে ধরা হলো:

1. মেজাজ উন্নত করে বিষণ্নতা কমাতে সহায়তা করে।

2. স্মৃতিশক্তি এবং শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।

3. মোটর নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে শরীরের সমন্বয় উন্নত করে।

4. আনন্দ এবং সন্তুষ্টির অনুভূতি সৃষ্টি করে।

5. অনুপ্রেরণা এবং পুরস্কার-প্রণোদিত আচরণে ভূমিকা রাখে।

6. মনোযোগ এবং ফোকাস বাড়াতে সহায়তা করে।

7. সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে।

8. শারীরিক কার্যকলাপে পারফরম্যান্স বাড়ায়।

9. ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

10. যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

11. প্রতিক্রিয়া সময় দ্রুত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

12. মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

13. আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

14. সামাজিক আচরণ এবং সম্পর্ক উন্নত করে।

15. উদ্যম এবং শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

16. কাজের প্রতি আগ্রহ এবং সম্পৃক্ততা বাড়ায়।

17. নতুন অভিজ্ঞতা গ্রহণে উৎসাহিত করে।

18. ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায়।

19. হজম প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

20. ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।

21. স্ট্রেস এবং উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে।


'নির্জীব বস্তু থেকে প্রাণের উৎপত্তি' বিজ্ঞানের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক রহস্য। এটি কোনো জাদুর গল্প নয় বরং কোটি কোটি বছর ধরে চলা রসায়নের জীববিজ্ঞানে রূপান্তরিত হওয়ার এক মহাকাব্য। ​চলুন তবে, গল্পটা শুরু করা যাক পৃথিবীর একদম শুরুর দিনগুলো থেকে-

পৃথিবী তখন এক উত্তপ্ত গোলক। আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, ঘন ঘন বজ্রপাত আর অতিবেগুনি রশ্মির প্রচণ্ড দাপট। বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ছিল না, বরং ছিল মিথেন, অ্যামোনিয়া, জলীয় বাষ্প আর হাইড্রোজেন। সমুদ্রের তলদেশে ছিল গরম পানির ঝরনা বা Hydrothermal Vents যা ছিল খনিজ উপাদানে ঠাসা।

বিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড উরে ১৯৫৩ সালে দেখান যে, আদিম পৃথিবীর ওই প্রতিকূল পরিবেশে সাধারণ গ্যাসগুলো থেকে প্রাণের মূল উপাদান অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, অজৈব অণু থেকে জৈব অণু তৈরির প্রথম ধাপটি ছিল স্রেফ প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ডিএনএ আসার অনেক আগে তৈরি হয়েছিল আরএনএ। এটি একাধারে তথ্য জমা রাখতে পারত এবং এনজাইমের মতো কাজ করতে পারত। এই অণুগুলো সমুদ্রের পানিতে ভাসতে ভাসতে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে শিখে গেল। এখান থেকেই শুরু হলো "বংশগতি"র প্রাথমিক রূপ।

চর্বি জাতীয় অণু পানিতে গোলক বা বুদবুদের মতো গঠন তৈরি করে। ঘটনাক্রমে কিছু আরএনএ অণু এই চর্বির আবরণের ভেতরে আটকা পড়ে যায়। তৈরি হয় প্রাণের প্রথম প্রোটো-সেল বা আদি কোষ। এটি বাইরের পরিবেশ থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে শিখল এবং ভেতরকার রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে সুরক্ষিত করল।

অনেকেই এই আবায়োজেনেসিস এবং বিবর্তনবাদকে গুলিয়ে ফেলেন। পরিষ্কার করা যাক ভেজালটা-

আবায়োজেনেসিস:

কীভাবে নির্জীব পদার্থ থেকে প্রথম এককোষী প্রাণ তৈরি হলো।

আবায়োজেনেসিস (Abiogenesis) হলো একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, যা অনুযায়ী প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর আগে আদি পৃথিবীর নির্জীব অজৈব পদার্থ (যেমন-মিথেন, অ্যামোনিয়া, জলীয় বাষ্প) থেকে ধাপে ধাপে জটিল জৈব অণু এবং পরিশেষে প্রথম এককোষী প্রাণ তৈরি হয়েছে।

ধাপসমূহ:

সরল অণু গঠন: আদি পৃথিবীর বিদ্যুৎ চমকানো ও আগ্নেয়গিরির তাপে অজৈব উপাদানগুলো থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড ও নিউক্লিওটাইডের মতো সরল জৈব অণু তৈরি হয়।

জটিল অণু (RNA/Protein):

এই সরল অণুগুলো মিলে RNA-র মতো আত্ম-প্রতিলিপি গঠনকারী অণু তৈরি করে, যা জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে।

মেমব্রেন বা আবরণী:

লিপিড অণুগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি পর্দা বা কোষঝিল্লি তৈরি করে, যার ভেতরে জৈব অণুগুলো সুরক্ষিত থাকে।

প্রথম কোষ: RNA এবং মেমব্রেনের মিলনে তৈরি হয় প্রোক্যারিওটিক বা আদি কোষ, যা পুষ্টি গ্রহণ ও বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম।

এই প্রক্রিয়াটি লক্ষ-কোটি বছর ধরে চলা রাসায়নিক বিবর্তনের ফল।

​বিবর্তনঃ

সেই প্রথম প্রাণ থেকে কীভাবে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির সৃষ্টি হলো।

আজকের পৃথিবীতে আবায়োজেনেসিস আর প্রাকৃতিকভাবে ঘটা সম্ভব নয়, কারণ এখনকার বায়ুমণ্ডলে প্রচুর অক্সিজেন আছে যা আদিম রাসায়নিক অণুগুলোকে ভেঙে ফেলে। এছাড়া, কোনো নতুন অণু তৈরি হওয়ার আগেই বর্তমানের ব্যাকটেরিয়া বা জীবরা তা খেয়ে ফেলবে।

​এই যাত্রাটি কোনো একদিনে হয়নি, এটি সম্পন্ন হতে সময় লেগেছিল কোটি কোটি বছর। প্রকৃতি যেন খুব ধৈর্য ধরে অণুর পর অণু সাজিয়ে প্রাণের এই জটিল নকশাটি তৈরি করেছে। বিষয়টির আদিম পরিবেশ ভাবার পরেই আমাদের উচিত বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করে বিতর্ক তৈরি করা। মনে রাখা উচিত, প্রকৃতির সিস্টেম বোঝার কাজ বিজ্ঞান করে, সিস্টেম হওয়ার জন্য না। @ মৃণাল নন্দী




ভালুক যেভাবে বর্জ্যকে পেশিতে রূপান্তরিত করে!

​মানুষসহ অধিকাংশ প্রাণীর ক্ষেত্রে, দিনের পর দিন প্রস্রাব করতে না পারা শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমা হওয়ার কারণে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে, আমেরিকান ব্ল্যাক বিয়ার এবং গ্রিজলি ভালুকের এমন এক জৈবিক "সুপারপাওয়ার" বা বিশেষ ক্ষমতা বিবর্তিত হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা একটানা সাত মাস পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই মলমূত্র ত্যাগ না করে থাকতে পারে। শীতনিদ্রার সময় ভালুকের কিডনি সামান্য পরিমাণে প্রস্রাব তৈরি করতে থাকে, কিন্তু তা শরীর থেকে বের হয় না। পরিবর্তে, মূত্রাশয় প্রস্রাবের প্রধান উপাদান ইউরিয়াকে পুনরায় রক্তপ্রবাহে শুষে নেয়।

​একবার রক্তে ফিরে আসার পর, একটি বিশেষ বিপাকীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভালুকের শরীরকে বিষাক্ত করার পরিবর্তে, এই ইউরিয়া ভেঙে যায় এবং এতে থাকা নাইট্রোজেন বিমূর্ত হয়ে যায়। এরপর এই নাইট্রোজেন লিভারে বা যকৃতে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে এটি প্রোটিনের মূল উপাদান 'অ্যামিনো অ্যাসিড' তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

এই অবিশ্বাস্য অভ্যন্তরীণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য চক্রটি ভালুককে পুরো শীতকাল জুড়ে তাদের পেশি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের টিস্যুগুলো ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যদিও তারা এই সময়ে এক গ্রাম খাবারও গ্রহণ করে না। এটি প্রকৃতির এমন এক বিস্ময়কর ব্যবিস্থাপনা, যা একটি বর্জ্য পদার্থকে জীবন রক্ষাকারী শক্তির উৎস হিসেবে বদলে দেয়।



: ওভারথিঙ্কিং থামানোর ম্যাজিক

মাঝরাত। চারপাশ নিস্তব্ধ, অথচ আপনার মাথার ভেতরে যেন এক বিশৃঙ্খল কনসার্ট চলছে। পুরোনো ভুল, আগামীর ভয় আর অহেতুক 'কী হতো যদি...' গল্পের জালে আমরা জড়িয়ে পড়ি। এই ওভারথিঙ্কিং বা অতিচিন্তা আসলে মনের এক প্রকার ক্লান্তি, যা আমাদের প্রশান্তিটুকু শুষে নেয়।

রাত নামলে মস্তিষ্কের এই 'অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা' থামাতে নিচের কৌশলগুলো ট্রাই করতে পারেন:

১. 'ব্রেইন ডাম্প' বা শব্দে মুক্তি

মাথার ভেতর জট পাকিয়ে থাকা চিন্তাগুলোকে কাগজে নামিয়ে ফেলুন। যখন আপনি মনের বিশৃঙ্খলাকে ডায়েরির পাতায় বন্দী করবেন, তখন মস্তিষ্ক অনেকটা হালকা বোধ করে। অগোছালো ভাবনাগুলো তখন আর শত্রু মনে হয় না।

২. ৫-৪-৩-২-১ টেকনিক

চিন্তার সুতো যখন ছিঁড়ে যাচ্ছে, তখন বর্তমানে ফিরুন।

* চোখ মেলে ৫টি জিনিস দেখুন।

* ৪টি শব্দ অনুভব করুন।

* ৩টি জিনিসের স্পর্শ নিন।

* ২টি ঘ্রাণ নিন।

* ১টি ভালো কথা নিজেকে বলুন।

  এটি আপনার মস্তিষ্ককে কাল্পনিক জগৎ থেকে বর্তমানে আছড়ে ফেলবে।

৩. চিন্তার জন্য 'সময়' বরাদ্দ করুন

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কার্যকর! সারাদিন নিজেকে বলুন, "এই বিষয় নিয়ে আমি কাল সকালে ১০টায় ভাবব।" যখন আপনি চিন্তাকে নির্দিষ্ট সময় দেবেন, তখন মাঝরাতে সে আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর অধিকার হারাবে।

৪. শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ (Box Breathing)

গভীরভাবে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড আটকে রাখুন এবং ৪ সেকেন্ড ধরে ছাড়ুন। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি আপনার Parasympathetic Nervous System-কে শান্ত করে, যা শরীরকে সংকেত দেয় যে—"সব ঠিক আছে, এখন ঘুমানোর সময়।"

শেষ কথা: অতীতকে আপনি বদলাতে পারবেন না, আর ভবিষ্যৎ এখনো জন্মই নেয়নি। মাঝরাতে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে পুরো পৃথিবীর ভার নিজের কাঁধে নেবেন না। আপনি কেবল একজন মানুষ, কোনো সুপার কম্পিউটার নন। নিজেকে কিছুটা বিরতি দিন।

রাতটা ঘুমের হোক, ভাবনার অন্তহীন সমুদ্রের নয়।

১০


সম্পর্ক নষ্ট না করে ভিন্নমত উপস্থাপনের কৌশল

দৈনন্দিন জীবনে মতের অমিল হওয়াই স্বাভাবিক। সেটা দুপুরে কী খাবেন এর মত ছোট ব্যাপার হোক, বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়, ভিন্ন মত আসবেই। আমাদের সবারই আলাদা ভাবনা আছে। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই মতভেদ ধীরে ধীরে তর্কে গড়ায় এবং অজান্তেই একটা সুন্দর সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আসলে দ্বিমত পোষণ মানেই ঝগড়া করা নয়। সম্মান অটুট রেখে, অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করেও ভিন্ন মত প্রকাশ করা যায়। কীভাবে সেটা সম্ভব—সহজ, বাস্তব আর কাজে লাগার মত কিছু উপায় নিয়েই এই লেখা।

১. আলোচনার গুরুত্ব ও উপযোগিতা বিচার

তর্কে জড়ানোর আগে একবার ভাবুন, এর ফলটা পরে কী হতে পারে। অনেক সময় আমরা রাগ বা আবেগে এমন কথাবার্তায় জড়িয়ে পড়ি, যা পরে সম্পর্কের ওপর স্থায়ী দাগ ফেলে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, সব তর্কে নামতে নেই। কোনটা দরকার, কোনটা নয়, সেটা বেছে নিতে হয়। একে বলা হয় “পিক ইয়োর ব্যাটলস”।

নিজেকে সহজ করে প্রশ্ন করুন, এই কথা বললে কি সত্যিই কোনো সমাধান তৈরি হবে? নাকি শুধু ঝগড়া বাড়বে? যদি দেখেন সামনে থাকা মানুষটি যুক্তি বা তথ্য শুনতেই রাজি নয়, তাহলে চুপ থাকাই অনেক সময় সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত। চুপ থাকা মানে হার মানা নয়। বরং এটা নিজের শক্তি বাঁচিয়ে রাখা আর মানসিক শান্তি ধরে রাখার একটা বুদ্ধিমান উপায়।

২. জয় পাওয়ার চেয়ে বোঝার মানসিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

যখন আমরা তর্ককে যুদ্ধ মনে করি, তখন স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সামনে থাকা মানুষটাকে হারানো। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় কাউকে তর্কে হারালেও তার মনে আপনার জন্য সম্মান তৈরি হয় না। বরং রাগ বা বিরক্তি জমে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখানে লক্ষ্য হওয়া উচিত কাউকে বদলে দেওয়া নয়, তার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। এটাকে বলা হয় “কানেকশন ওভার কনভার্শন”।

এই জায়গায় আপনার আসল কাজ হল অপর পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করা। তিনি কেন কোনো বিষয়কে ঠিক মনে করছেন, তার পেছনে কী অভিজ্ঞতা বা ভাবনা কাজ করছে এটা বুঝতে পারলে কথাবার্তার উত্তেজনা অনেকটাই কমে যায়। তখন তর্কের জায়গায় আসে সহানুভূতি, আর সেই পরিবেশে সমাধান খুঁজে পাওয়াও অনেক সহজ হয়।

৩. স্পষ্ট উদ্দেশ্য আর সম্মতির গুরুত্ব

কঠিন কোনো বিষয় নিয়ে কথা শুরু করার সবচেয়ে ভাল উপায় হল শুরুতেই নিজের ভাল উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার করে বলা। ধরুন আপনি বললেন, “আমি নিজের মতামত দিতে আসিনি, শুধু তোমার কথাটা বুঝতে চাই”—এতেই অনেক সময় সামনে থাকা মানুষের ভেতরের প্রতিরক্ষার দেয়ালটা নরম হয়ে যায়।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কাউকে জোর করে আলোচনায় টেনে না আনা। কথা বলার আগে তার অনুমতি নেওয়া, বা তাকে “না” বলার সুযোগ দেওয়া মানে তাকে সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণটা দেওয়া। এই নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই শান্ত রাখে এবং সে তখন বেশি যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারে।

৪. বিচারক হবেন না, বরং ৫ শতাংশ নিয়ম প্রয়োগ করুন

আমরা যখন কাউকে সঙ্গে সঙ্গে ভুল প্রমাণ করতে যাই, তখন সে বিষয়টাকে আক্রমণ হিসাবেই নেয়। তখন আর যুক্তি কাজ করে না, বরং প্রতিরোধ আরও শক্ত হয়। তাই বিচারকের ভূমিকায় না গিয়ে গবেষকের মত কৌতূহলী হওয়াই ভাল।

ভাবুন, তার জীবনের কোন অভিজ্ঞতা বা কোন পরিস্থিতি তাকে এমন ভাবতে শিখিয়েছে? সেটা জানার চেষ্টা করুন। এখানে একটি কাজে লাগার মত কৌশল আছে—“৫ শতাংশ নিয়ম”। মানে, তার কথার মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ হলেও এমন কিছু খুঁজে বের করুন, যেটা যুক্তিসংগত বা সত্য হতে পারে, এবং সেটা খোলাখুলি স্বীকার করুন। এতে আলোচনা শত্রুতার জায়গা থেকে সরে এসে ধীরে ধীরে সহযোগিতার দিকে এগোয়।

৫. উপযুক্ত সময় আর জায়গা বেছে নেওয়া জরুরি

কথাবার্তা কোথায় আর কখন হচ্ছে, তার ওপর আলোচনার মান অনেকটাই নির্ভর করে। সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্টে বা সবার সামনে তর্কে জড়ালে বিষয়টা সহজেই অহংকারের লড়াইয়ে বদলে যায়। তখন মানুষ সত্য বোঝার চেয়ে নিজের সম্মান রক্ষা করতেই বেশি ব্যস্ত থাকে।

তাই গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল কোনো কথা হলে সেটাকে ব্যক্তিগত পরিসরে বলা ভাল—এটাকে বলা হয় “প্রাইভেট ডিসকোর্স”। শান্ত, চাপমুক্ত পরিবেশে কথা বললে মানুষের স্নায়ুর টান টান ভাব কমে, মাথা ঠাণ্ডা থাকে, আর যুক্তি দিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে আলোচনা বেশি ফলপ্রসূ হয়।

৬. নিজের সীমাবদ্ধতা খোলাখুলি বলার সাহস

যখন আমরা নিজেকে সব জানি, কখনও ভুল করি না এমনভাবে তুলে ধরি, তখন সামনে থাকা মানুষটা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কারণ তার মনে হয়, এখানে কথা বলার জায়গা নেই। কিন্তু আপনি যদি বলেন, “এই বিষয়টা নিয়ে আমারও সব পরিষ্কার না, তবে আমি এভাবে বুঝেছি”—তাহলে কথাবার্তা হঠাৎ করেই অনেক বেশি মানবিক হয়ে যায়।

নিজের দুর্বলতা বা সংশয় স্বীকার করা মানে দুর্বল হয়ে পড়া নয়। বরং এটা আত্মবিশ্বাসেরই লক্ষণ।

৭. কথার গতি কমান, নীরবতাকে কাজে লাগান

রাগ বা উত্তেজনার সময় আমরা সাধারণত দ্রুত কথা বলা শুরু করি। আমরা ভাবি যত দ্রুত আমাদের ভাবনা প্রকাশ করব, তত দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু বাস্তবে এতে সামনে থাকা মানুষটি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং যুক্তির জায়গা দখল করে নেয় আবেগ। 

এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর কৌশল হল সচেতনভাবে কথা বলার গতি কমানো। অপরপক্ষকে তার কথা শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন, যাতে সে অনুভব করে যে তাকে সত্যিই শোনা হচ্ছে। এই ছোট্ট বিরতিটিই আপনার মস্তিষ্ককে আবার শান্তভাবে ভাবতে সাহায্য করবে এবং উত্তেজিত পরিস্থিতিকে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা করে আনবে।

৮. আপনার শব্দ বাছাই আলোচনার দিক ঠিক করে দেবে

কোন শব্দে কথা বলছেন, সেটাই অনেক সময় ঠিক করে দেয় আলোচনা ঝগড়ায় যাবে, নাকি সমাধানের দিকে এগোবে। সরাসরি “কেন” দিয়ে প্রশ্ন করলে সেটা প্রায়ই অভিযোগের মত শোনায়। তাই সম্ভব হলে “কীভাবে” বা “কী” দিয়ে প্রশ্ন করুন।

যেমন, “তুমি কেন এটা করলে?” বললে সামনে থাকা মানুষটা আত্মপক্ষ সমর্থনে নেমে পড়ে। কিন্তু যদি বলেন, “কী কারণে তোমার মনে হয়েছে এটা করা ঠিক ছিল?”—তাহলে সেটা শুনতে হয় জানার আগ্রহের মত, দোষারোপের মত নয়।


.১১


যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে

সব আলোচনা যে শেষ পর্যন্ত ভালভাবে এগোবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। যদি দেখেন সামনে থাকা মানুষটি অতিরিক্ত রেগে যাচ্ছে, চিৎকার করছে বা ব্যক্তিগত আক্রমণে নামছে, তখন নিজেকে ও পরিস্থিতিকে বাঁচাতে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আবেগ সামলানো এবং ‘মিররিং’ এড়ানো

অপরপক্ষ যখন চিৎকার শুরু করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদেরও চিৎকার করে জবাব দিতে ইচ্ছা করে। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘মিররিং’—অর্থাৎ, সামনে যা পাচ্ছি সেটারই প্রতিফলন ঘটানো। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত করতে হলে ঠিক উল্টাটা করতে হয়। অপরপক্ষ যত জোরে কথা বলবে, আপনি তত ধীরে ও নিচু স্বরে কথা বলুন। এতে পরিবেশে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়, যা অনেক সময় উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে।

• কৌশলগত বিরতি বা ‘ট্যাকটিক্যাল পজ’

তীব্র রাগের সময় আমাদের যুক্তি দিয়ে ভাবার ক্ষমতা কমে যায়, আর আবেগ পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ঠিক এই সময় কয়েক সেকেন্ডের বিরতি অনেক কাজে দেয়। এক গ্লাস পানি খাওয়া, জানালা দিয়ে বাইরে তাকানো, বা বসার ভঙ্গি বদলানোর মত ছোট কাজ শরীরকে একটা সংকেত দেয়—সব ঠিক আছে, বিপদ নেই।

• সম্মান বজায় রেখে সরে আসা ও সীমা টেনে দেওয়া

সব আলোচনার শেষ টানতেই হবে—এমন কোনো কথা নেই। বিশেষ করে যখন কথা গালাগালি বা ব্যক্তিগত অপমানের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। মনে রাখবেন, কারো অশিষ্ট আচরণ সহ্য করা আপনার দায়িত্ব নয়। এই অবস্থায় নিজেকে ছোট না করে, শান্ত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় নিজের সীমা জানানোই সবচেয়ে সঠিক কাজ। আপনি বলতে পারেন, “যে ধরনের ভাষা ও আচরণ এই আলাপে আসছে, আমি তাতে অস্বস্তি বোধ করছি, তাই এই আলোচনায় থাকতে চাচ্ছি না।” এভাবে সরে আসা পরাজয় নয়। বরং এটা নিজের মানসিক শান্তি, আত্মসম্মান এবং সুস্থ থাকার জন্য নেওয়া একটি সাহসী ও পরিণত সিদ্ধান্ত।

কখন আলোচনা শেষ করবেন

যদি দেখেন কথোপকথন বার বার একই বৃত্তে ঘুরছে, সামনে থাকা মানুষটি ব্যক্তিগত আক্রমণে নামছে, বা আপনি নিজে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন—এটাই লক্ষণ যে আলোচনা আর ফলপ্রসূ হবে না। তখন সঙ্গতিপূর্ণ ও শান্তভাবে আলাপ শেষ করা সবচেয়ে ভাল। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে আপনি আলাপ শেষ করতে পারেন।

আপনি যত ভালো কাজই করুন ভুল সহকর্মী থাকলে আপনার ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে। বাংলাদেশের কর্পোরেট জবে ক্যারিয়ার ধ্বংস হওয়ার সবচেয়ে অবমূল্যায়িত কারণ হলো ভুল সহকর্মী। অনেকেই মনে করে কাজ ভালো করলেই নিরাপদ। বাস্তবতা হলো অফিসে পারফরমেন্সের পাশাপাশি মানুষও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

১. ভুল সহকর্মী আপনার কাজের কৃতিত্ব নষ্ট করে দেয়ঃ

বাংলাদেশের বহু অফিসে দেখা যায় একজন কাজ করে আর অন্যজন বসের সামনে গল্প সাজিয়ে নিজের নামে চালিয়ে দেয়। আপনি যত ভালো কাজই করুন যদি সহকর্মী আপনার অবদান হালকা করে তুলে ধরে তবে আপনার ভ্যালু কমে যায়।

২. নেগেটিভ সহকর্মী বসের কাছে আপনার ইমেজ নষ্ট করেঃ

রিয়াল ফ্যাক্ট হলো বস সবসময় সরাসরি সবকিছু দেখে না। অনেক সিদ্ধান্ত হয় ফিডব্যাকের উপর। ভুল সহকর্মী আড়ালে গিয়ে আপনার ভুল বড় করে আর সাফল্য ছোট করে তুলে ধরে।

৩. ভুল সহকর্মী টিমের ভেতরে বিশ্বাস ভেঙে দেয়ঃ

কর্পোরেট বাংলাদেশে টিমওয়ার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একজন ভুল মানুষ গোপনে তথ্য লুকায় দোষ চাপায় এবং বিভ্রান্তি তৈরি করে। এতে পুরো টিমের উপর বসের আস্থা নষ্ট হয় যার ভুক্তভোগী আপনি।

৪. ক্যারিয়ার গ্রোথ থেমে যায় কিন্তু আপনি বুঝতেও পারেন নাঃ

অনেক সময় প্রোমোশন আটকে যায় কারণ আপনার নামে নেগেটিভ ইমেজ তৈরি হয়েছে। আপনি শুধু দেখেন ফলাফল পাচ্ছেন না কিন্তু বুঝতে পারেন না সমস্যার উৎস সহকর্মী।

৫. মানসিক চাপ বাড়িয়ে পারফরমেন্স নামিয়ে দেয়ঃ

বাংলাদেশের কর্পোরেট জবে স্ট্রেস এমনিতেই বেশি। ভুল সহকর্মীর কারণে অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব সরাসরি আপনার কাজের মানে পড়ে।

৬. আপনাকে অপ্রয়োজনীয় কনফ্লিক্টে জড়িয়ে ফেলেঃ

ভুল সহকর্মী নিজের ভুল ঢাকতে আপনাকে সামনে ঠেলে দেয়। এতে আপনি অকারণে বসের নজরে নেগেটিভ হয়ে যান। বাস্তবে বহু কর্মী এই কারণেই চাকরি হারিয়েছে।

৭. আপনার পেশাদার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ঃ

বাংলাদেশের কর্পোরেট জগৎ ছোট। একজন সহকর্মী যদি আপনার সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়ায় সেটা অন্য অফিসেও পৌঁছে যায়। এতে ভবিষ্যৎ সুযোগ নষ্ট হয়।

৮. শেখার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়ঃ

ভালো সহকর্মী শেখায়। ভুল সহকর্মী লুকায়। তথ্য শেয়ার করে না। আপনাকে পিছিয়ে রাখে যেন সে নিজে এগিয়ে থাকে।

৯. দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ারের দিক পরিবর্তন হয়ে যায়ঃ

অনেক দক্ষ মানুষ ভুল সহকর্মীর কারণে ফিল্ড পরিবর্তন করে অথবা কর্পোরেট ছেড়ে দেয়। এটা বাংলাদেশের বাস্তব কর্পোরেট ট্র্যাজেডি।

১০. ভালো কাজ একা যথেষ্ট নয় সঠিক মানুষ দরকার

কর্পোরেট ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে স্কিলের পাশাপাশি পরিবেশ দরকার। ভুল সহকর্মী সেই পরিবেশ ধ্বংস করে দেয়।


১২


প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে কোষ আছে গড়ে প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন। আর, অণুজীব (মাইক্রোঅর্গানিজম) আছে গড়ে প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন!

শরীরের এই অণুজীবের প্রায় ৮০–৯০ ভাগই বাস করে আপনার অন্ত্রে (গাট)! বাকিটা মুখগহ্বর, ত্বক, যোনি ইত্যাদি স্থানে। এগুলো প্রধানত- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাই, প্রোটোজোয়া এবং অন্যান্য অণুজীব।

পেটের এই ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন উপকারী ও ক্ষতিকর জীবাণুর বিশাল কলোনিটাকে বলে গাট মাইক্রোবায়োম। এই জীবাণুগুলো একসাথে আপনার শরীরের এক রকম ‘সিক্রেট অঙ্গ’ হিসেবে কাজ করে! (যা ভারসাম্যহীন হলে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য উলটপালট হয়ে যাবে!)

গাট মাইক্রোবায়োম হলো একটা জীবাণুর শহর। এই শহরে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী হলো ব্যাকটেরিয়া। গাট মাইক্রোবায়োমে থাকা অণুজীবদের ৯০–৯৫ ভাগই হলো ব্যাকটেরিয়া!

প্রতিটি মানুষ শরীরে যে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন অণুজীব বহন করে তার সবই উপকারী নয়। কিছু অণুজীব ক্ষতিকর হতে পারে। এর মধ্যে উপকারী জীবাণুদের বলে প্রোবায়োটিকস। যেমন- বিফিডোব্যাকটেরিয়া, ল্যাকটোব্যাসিলাস, স্ট্রেপ্টোফিলাস ইত্যাদি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া। এই প্রোবায়োটিকস আপনার শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী! তারা সবরকম ক্ষতিকর অণুজীবকে কন্ট্রোলে রাখে, হজম, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টি শোষণ ইত্যাদিতে সাহায্য করে!

গাট মাইক্রোবায়োম স্বাভাবিক অবস্থায় এক চমৎকার ভারসাম্যে থাকে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রা, প্রসেসড ফুড, চিনি, অ্যান্টিবায়োটিক, ফার্মার ওষুধ, দূষণ ইত্যাদি এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে! গাট মাইক্রোবায়োম ভারসাম্য নষ্ট হওয়া মানে– ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমা, আর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়া।

এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কোনো ছোট বিষয় না। এটা পুরো শরীরের ইমিউন, হরমোন, মস্তিষ্ক, হজম ও বিপাক ক্রিয়াকে নষ্ট করতে পারে!

বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতিটি উপাদান ও কালচার– খাবার, পানি, বাতাস, ঔষধ, মানসিক চাপ, অতি-পরিচ্ছন্নতা এসব একজোট হয়ে গাটের অনুজীব কলোনির ওপর ননস্টপ আক্রমণ চালাচ্ছে! উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের গণহত্যা করছে!

আর এর ফল প্রকাশ পাচ্ছে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, আইবিএস, ডায়াবেটিস, পিসিওএস, ডিপ্রেশন, স্কিন ডিজিজ, অটোইমিউন ইত্যাদি রোগের মাধ্যমে!

কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের বি/ষা/ক্ত আক্রমণে আজ আপনার গাট মাইক্রোবায়োম বিধ্বস্ত!

প্রোবায়োটিক ফুড খেয়ে গাটের ভারসাম্য পুনরায় কিছুটা ফিরিয়ে আনা যায়।

প্রোবায়োটিক ফুড হলো এমন খাবার যেগুলিতে জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া (প্রোবায়োটিকস) থাকে। প্রোবায়োটিক ফুড খেলে এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া আপনার অন্ত্রে পৌঁছে যায়। যা নিয়মিত খেলে আপনার অন্ত্রে ভালো ও খারাপ জীবাণুর ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।


প্রোবায়োটিক ফুডের উপকারীতা—

- প্রোবায়োটিক ফুড খেলে আপনার শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ে। এই ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, যার ফলে খাবার ভালোভাবে ভাঙে, পুষ্টি উপাদান সহজে শোষিত হয়, পেট সুস্থ থাকে!

- প্রোবায়োটিকস শরীরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, ভাইরাস ও প্যারাসাইটের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যাতে এগুলো অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে অসুখ না ঘটায়! এর ফলে পেটের ইনফেকশন, গ্যাস, ফুলে ওঠা, বদহজমের মতো সমস্যা কমে যায়।

- ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিউট্রিয়েন্ট তৈরিতে সাহায্য করে, যেমন কিছু B-ভিটামিন এবং ভিটামিন-K!

- প্রোবায়োটিকস রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এগুলো আপনার ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর জীবাণু চিনে নিতে ও মোকাবিলা করতে প্রশিক্ষণ দেয়!

- যখন শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়া কমে যায়, যেমন- অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর। তখন প্রোবায়োটিক ফুড সেই ঘাটতি পূরণ করে।

- এছাড়াও, প্রোবায়োটিকস ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে, একজিমার মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে, ইউরিনারি ও ভ্যাজাইনাল হেলথে ভারসাম্য বজায় রাখে, অ্যালার্জি ও সর্দি-কাশি কমায় এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখে।

প্রোবায়োটিক ফুড এমন সব খাবার যেগুলো তৈরি করার সময় তাতে প্রচুর জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট জন্মায় এবং খাবারে থেকে যায়। এই জীবিত অণুজীব তৈরির প্রক্রিয়াটা হলো গাঁজানো (ফারমেন্টেশন)। গাঁজন একধরনের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট খাবারের সুগার ও স্টার্চ ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড, অ্যালকোহল বা গ্যাসে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু মারা যায়, আর উপকারী জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে খাবার দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়, নতুন স্বাদ ও গন্ধ তৈরি হয়, আর প্রোবায়োটিকস জীবিত থাকে। সব প্রোবায়োটিক ফুডই ফারমেন্টেড, কিন্তু সব ফারমেন্টেড ফুড প্রোবায়োটিক নয়!


এদেশে সহজলভ্য ও মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই কিছু প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক ফুড—

- কেফির, ফারমেন্টেড ফুডের রাজা!

- টক দই, বাড়িতে তৈরি টক দইয়ে জীবিত ভালো ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে।

- গাঁজানো আচার, লবণ-পানিতে ফারমেন্ট করে তৈরি আচার।

- সাওয়ারক্রাউট

- কিমচি

- ঘরে তৈরি ভিনেগার

- ফারমেন্টেড সবজি

- পান্তা ভাত, এই ঐতিহ্যবাহী ফারমেন্টেড ফুডে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া প্রচুর থাকে।

- ঘরে তৈরি পনির, বিশেষ করে যেগুলো পাস্তুরাইজড নয়।

- কাঁচা দুধ

ভুলভাবে খেলে প্রোবায়োটিক ফুড আপনার কোনো উপকারে আসবে না।

- সকালে খালি পেটে প্রোবায়োটিক ফুড খাওয়া সবচেয়ে উত্তম। খালি পেটে খেলে প্রোবায়োটিকস দ্রুত অন্ত্রে পৌঁছে যায়। কিংবা হালকা খাবার খাওয়ার ১৫–৩০ মিনিটের মধ্যে খাওয়া যেতে পারে।

- প্রোবায়োটিক ফুড, যেমন টক দই, পান্তা ভাত, কেফির, গাঁজানো সবজি ইত্যাদি ঠান্ডা অবস্থায় বা রুম টেম্পারেচারে খেতে হবে। গরম করে খেলে কোনো উপকার থাকবে না।

- একসাথে বেশি না খেয়ে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে নিয়মিত খাওয়াই উত্তম। নিয়মিত না খেয়ে দুই-এক দিন খেলে লাভ নেই। আর অতিরিক্ত খেলে গ্যাস, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি হতে পারে।

- প্রোবায়োটিকের সাথে প্রিবায়োটিক ফুড খেলে ফলাফল দ্বিগুণ হয়।

- পানি পর্যাপ্ত খেতে হবে, কারণ প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কাজ করতে হাইড্রেশন লাগে।

- নতুন নতুন খাওয়া শুরু করলে প্রথম ২–৩ দিনে হালকা গ্যাস বা পেট ফাঁপা হতে পারে, এটা স্বাভাবিক।

- প্রাকৃতিক জীবনযাপন ও প্রাকৃতিক খাবারে না ফিরলে শুধু প্রোবায়োটিক ফুড দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কোনো ফায়দা নাই!

প্রোবায়োটিক ফুড সবচেয়ে বেশি উপকার করে—

- অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের পর গাট ব্যাকটেরিয়া পুনর্গঠনের জন্য

- হজমের সমস্যা থাকলে, যেমন গ্যাস, ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া

- দুশ্চিন্তা, হতাশা, ঘুমের সমস্যা থাকলে

- ত্বকের সমস্যা, এলার্জি থাকলে

- বাচ্চা, বয়স্ক ও দুর্বল মানুষদের ক্ষেত্রে হজম ও রোগপ্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে @ Captain Green

১৩


প্রায় ৩ হাজার বছর আগে প্রাচীন চীনা সভ্যতা শিজিয়াহে (Shijiahe) কীভাবে হঠাৎ করে বিলুপ্ত হয়ে গেল।  

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব আর্থ সায়েন্সেস–এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক যুগান্তকারী গবেষণায় জানা গেছে, টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ বন্যাই এই সভ্যতার পতনের প্রধান কারণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ন্যাশনাল সায়েন্স রিভিউস–এ।

গবেষকদের মতে, ইয়াংজে নদী অঞ্চলে প্রথমে প্রায় এক হাজার বছরের দীর্ঘ খরা দেখা দেয়। এর পরপরই শুরু হয় দীর্ঘ সময়ের অস্বাভাবিকভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত। এই আকস্মিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে নদীতে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগই শেষ পর্যন্ত শিজিয়াহে সভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

কীভাবে ঘটেছিল এই বিপর্যয়? গবেষকরা ইয়াংজে নদীর তলদেশ থেকে সংগ্রহ করা পলি (sediment) নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ওই অঞ্চলে একসঙ্গে খরা ও অতিবৃষ্টির বিরল সমন্বয় ঘটেছিল। এর ফলে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বড় বন্যা হয়—যা নদীতীরবর্তী যে কোনো সভ্যতার জন্যই মারাত্মক হতে পারত। এসব বন্যা ঘটেছিল তথাকথিত “ইয়াংজে বন্যা পর্ব”–এ, যখন প্রবল বর্ষণ ও তীব্র প্লাবন ছিল নিয়মিত ঘটনা।

এই প্রাচীন দুর্যোগের পেছনের বিজ্ঞানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় বলা হয়েছে, পূর্ব এশীয় মৌসুমি বায়ু ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল, যা পৃথিবীর কক্ষপথে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের কারণে উদ্দীপিত হয়। এর ফলেই দীর্ঘ খরার পর হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং সৃষ্টি হয় বিধ্বংসী বন্যা।

এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রাচীন সভ্যতার রহস্যজনক পতনের ব্যাখ্যাই দেয় না; বরং জলবায়ু পরিবর্তন ও মানব ইতিহাসের জটিল সম্পর্ক সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। আজ যখন বিশ্ব আবার জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন অতীতের এই অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়—পরিবেশের বড় পরিবর্তনের সঙ্গে মানব সমাজ কীভাবে লড়াই করেছে, আর কোথায় গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীরা সবাই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের সঙ্গে যুক্ত।

সূত্র: National Science Reviews–এ প্রকাশিত গবেষণা

১৪

মাইক্রোওয়েভ‑ফ্রি প্লাস্টিক -এর স্বাস্থ্যঝুঁকি 

মাইক্রোওয়েভ‑ফ্রি প্লাস্টিক বিশেষ করে খাবারের রিহিটিং করার জন্য ব্যবহার হয়। গবেষণা বলছে যে এর সাথে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে, যদিও ফলাফল সবসময় একরকম না এবং অনেকটা নির্ভর করে প্লাস্টিকের ধরন ও ব্যবহারের পরিস্থিতির উপর।

প্লাস্টিকের “Microwave‑safe” লেবেলটি শুধু বোঝায় যে পাত্রটি মাইক্রোওয়েভে গরম করলে গলে যাবে না বা তার আকৃতি নষ্ট হবে না — এটা বোঝায় না যে প্লাস্টিক থেকে কোন রাসায়নিক খাবারে ঢোকে কি না। অনেক বিশেষজ্ঞও এই ভুল ধারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

গবেষণা অনুযায়ী প্লাস্টিকের কিছু রাসায়নিক খাবারে মাইক্রোওয়েভ গরম করার সময় বের হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে গরম, তেলচর্বিযুক্ত বা অ্যাসিডিক খাবারের ক্ষেত্রে। যেমন Bisphenol A পলিকার্বোনেট প্লাস্টিক থেকে গরমে নিঃসৃত হতে পারে এবং খাবারের মধ্যে পৌছাতে পারে। এছাড়া BPA‑free প্লাস্টিকেও বিকল্প রাসায়নিক (যেমন BPS, BPF) থাকতে পারে, যেগুলো হরমোনে ব্যাঘাত বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণা ও এক্সপার্ট মতামত থেকে জানা যায়,  প্রধান সমস্যাগুলো হল, হরমোন ব্যাঘাত (Endocrine disruption) — BPA, phthalates ও তাদের বিকল্প রাসায়নিকগুলি মানুষের হরমোন সিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ঝুঁকি বেশি। তাছাড়া অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি — যেমন ক্যান্সার, মেটাবলিক বা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা তো আছেই। তথ্য:বিজ্ঞানবর্ণালী


১৫

জীবনের সাফল্যের জন্য দশটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

১. যারা আপনাকে ভুল বুঝতে চায়, তাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা ছেড়ে দিন। আপনার সময় এবং শক্তি দুটোই মূল্যবান।

​২. নিজের শান্তিকে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি সম্পদ মনে করুন এবং একে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করুন।

​৩. যেখানে আপনার সম্মান নেই, সেখান থেকে নীরবে সরে আসুন। আপনি যা মেনে নেবেন, মানুষ আপনাকে ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করবে।

​৪. হুটহাট প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, অনেক অশান্তি কেবল আপনার মনোযোগ না পেলেই ধামাচাপা পড়ে যায়।

​৫. কাজের জন্য কেবল 'ইচ্ছাশক্তি' বা অনুপ্রেরণার অপেক্ষায় থাকবেন না; বরং নিয়ম বা শৃঙ্খলার মধ্যে অভ্যস্ত হোন। অনুভূূতি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু শৃঙ্খলা সাফল্য আনে।

​৬. অন্যকে বদলানোর চেষ্টা না করে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। অস্থির না হয়ে স্থিরভাবে পরিস্থিতি সামলানোই হলো প্রকৃত শক্তি।

​৭. সবাই আপনাকে বুঝবে—এমন আশা করা ছেড়ে দিন। সবার কাছে জবাবদিহি করার প্রয়োজন নেই।

​৮. নিজের অনিচ্ছায় কাউকে 'হ্যাঁ' বলা মানে নিজেকে 'না' বলা। তাই অপরাধবোধ না রেখে প্রয়োজনমতো না বলতে শিখুন।

​৯. যারা নিজের সাথেই সৎ নয়, তাদের কাছে সততা আশা করা বোকামি। মানুষের স্বভাব মেনে নিলে কষ্ট কম হবে।

​১০. শান্তির চেয়ে দামি কিছু নেই; তাই যে কাজে বা যে সম্পর্কে আপনার মনের শান্তি নষ্ট হয়, সেটি আপনার জন্য অনেক বেশি ব্যয়বহুল। তা বর্জন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


১৬


ইমপালস বায়িং

তুমি যত টাকা ওড়াও, তার বেশিরভাগই বেহুদা। আবেগে আবেগাপ্লুত হয়ে ওড়াই দাও। তুমি যদি টাকা জমাতে চাও কিংবা বাজে খরচ থেকে নিজেকে Marked Safe করতে চাও, তাহলে এই পোস্টটা তোমার জন্যে।

১. হুট করে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে আমরা যে কোনো কিছু পারচেজ করে ফেলি, এটাকে বলে ইমপালস বায়িং।

যখনই কোনো দামী জিনিস দেখে মনে হবে "এটা আমার লাগবেই", সাথে সাথে কিনবা না। নিজেকে ৩০ দিনের একটা কুলিং পিরিয়ড দাও। ৩০ দিন পরও যদি দেখো যে জিনিসটার প্রতি তোমার আগ্রহ একই আছে, তখন কিনে ফেলো।

কিন্তু, ৯৯% ক্ষেত্রে দেখবে, ৩০ দিন পর ওটা কেনার ইচ্ছাই মরে গেছে। এটা হলো ইমপালস বায়িং থামানোর সেরা ওষুধ।

(২) যেতে যেতে পথে, পূর্ণিমা রাতে হুট করে একটা আইসক্রিম খাও কিংবা সারাদিনে ১০ টাকা রিকশা ভাড়া দাও, সেটাও নোটপ্যাডে বা অ্যাপে লিখে রাখো। মাস শেষে যখন দেখবে তোমার "টুকটাক" খরচের যোগফল দিয়ে একটা প্লেন টিকেট কেনা যেত, তখন অটোমেটিক তোমার বিবেকের ঘণ্টা বাজবে এবং পরের মাসে হাত এমনিতেই গুটিয়ে আসবে।

(৩) ডিজিটাল দুনিয়ায় আমরা টাকা খরচ করি কিন্তু ফিল পাই না। তাই প্লাস্টিক মানি বা কার্ড ব্যবহার কমাও, ক্যাশ টাকা ব্যবহার করো। কার্ড ঘষলে ব্রেইন ব্যথা পায় না, কিন্তু পকেট থেকে যখন ৫০০ টাকার কড়কড়ে নোটটা বের করে দিবা, তখন কলিজায় একটু হলেও টান লাগবে। এই 'পেইন অফ পেমেন্ট' তোমাকে ফালতু খরচ থেকে আটকাবে।

(৪)আর খরচ করার আগে একটা মারাত্মক ক্যালকুলেশন করবে, টাকাকে সময়ে কনভার্ট করা। ধরো তুমি ঘণ্টায় ১০০ টাকা আয় করো। এখন ৩০০০ টাকার একটা জুতা কেনার আগে ভাববে, "এই জুতাটার জন্য আমাকে ৩০ ঘণ্টা বা প্রায় ৪ দিন গাধার মতো খাটতে হয়েছে।" যখনই জিনিসের দামকে নিজের শ্রমের ঘামের সাথে মেলাবে, দেখবে অনেক কিছুই আর কিনতে ইচ্ছা করছে না।

(৫) মার্কেটিংয়ের ফাঁদ থেকে বাঁচাটা জরুরি। ডিসকাউন্ট বা সেল দেখলেই দৌঁড় দিও না। মনে রাখবে, ১০০০ টাকার জিনিস ৭০০ টাকায় কেনা মানে ৩০০ টাকা লাভ না, বরং ৭০০ টাকা খরচ। যে জিনিস তোমার দরকারই ছিল না, সেটা অর্ধেক দামে কেনাও লস। সেল বা 'বাই ওয়ান গেট ওয়ান' হলো তোমার পকেট কাটার স্মার্ট ফাঁদ।

(৬) ট্রিগার পয়েন্টগুলো রিমুভ করা। অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়াতে যেসব ব্র্যান্ড বা ইনফ্লুয়েন্সার তোমাকে সারাদিন নতুন জামা, গ্যাজেট বা রেস্টুরেন্টের লোভ দেখায়, তাদের নির্দয়ভাবে আনফলো বা আনসাবস্ক্রাইব করো। চোখের সামনে না থাকলে, কেনার ইচ্ছাও জাগবে না। আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড।

(৭) এনভেলপ ইউজ করো। মাসের শুরুতে স্যালারি পাওয়ার পর বিভিন্ন খামে টাকা ভাগ করে ফেলো।

যেমন :  যাতায়াত, খাওয়া, বিনোদন।

বিনোদনের খামে যদি ২০০০ টাকা থাকে, তবে মাসের ১৫ তারিখে সেটা শেষ হয়ে গেলে বাকি ১৫ দিন তোমাকে ঘরে বসে সিনেমা দেখেই কাটাতে হবে, কোনোভাবেই অন্য খাম থেকে টাকা ধার করা যাবে না।

এই স্ট্রিক্ট ডিসিপ্লিনটা যদি একবার নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারো, দেখবে মাস শেষে তোমার কাছে শুধু টাকা না সাথে একটা ভালো ফিলিংসও থাকবে।


১৭


কাজে অলসতা দূর করতে...

অনেক সময় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করার পরিবর্তে আমরা সময় নষ্ট করি, কাজ করতে অযথা দেরি করি। এই অভ্যাসটিকে প্রোক্রাস্টিনেশন (অলসতা বা ঢিলেমি) বলা হয়। প্রোক্রাস্টিনেশন শুধু সময়ের অপচয় ঘটায় না, বরং মানসিক চাপ, কর্মদক্ষতার হ্রাস এবং জীবনে লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণও হয়ে দাঁড়ায়। তাই এটি দূর করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা, মনোযোগ এবং আচরণগত পরিবর্তন জরুরি। লিখেছেন তাসকিন

প্রোক্রাস্টিনেশন কেন হয়?

প্রোক্রাস্টিনেশনের কারণ অনেক। অনিশ্চয়তা বা কাজের জটিলতা মানুষকে কাজ শুরু করতে বাধা দেয়। ভয়ভীতি কিংবা সারফেকশনিজমও এক ধরনের বিলম্বের কারণ হতে পারে। কখনো কখনো কাজের প্রতি আগ্রহের অভাব বা অপ্রিয় কাজগুলোকে এড়িয়ে যাওয়াই প্রোক্রাস্টিনেশনের মূল কারণ। মানসিক অবস্থা, শারীরিক ক্লান্তি ও সময় বাবস্থাপনার অভাবও প্রভাব ফেলে।

কীভাবে প্রোক্রাস্টিনেশন দূর করা যায়?

কাজ ভাগ করা এবং প্রাধান্য দেওয়া বড় কোনো কাজ বা প্রজেক্ট কখনো শুরু করা কঠিন মনে হয়। তাই এটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিটি অংশকে আলাদা লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করলে কাজকে সহজভাবে সামলানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি দীর্ঘ রিপোর্ট লেখা বা কোনো প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করা হলে পুরো কাজটিকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায় যেমন গবেষণা, ড্রাফট লেখা, সম্পাদনা এবং ফাইনাল প্রেজেন্টেশন। প্রতিটি বাগের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করলে চাপ কমে যায় এবং কাজ সম্পন্ন করার প্রেরণা বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া কাজের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন অংশটি সবচেয়ে জরুরি বা কঠিন, সেটিকে প্রথমে শেষ করার চেষ্টা করুন। এতে মানসিক চাপ হ্রাস পায় এবং ছোট ছোট সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে মনোবল বৃদ্ধি পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বড় কাজও সহজ মনে হবে। 

১৮


মনোযোগ বজায় রাখার কৌশল

কাজ করার সময় মনোযোগ বজায় রাখা প্রোক্রাক্টিনেশন কমানোর অন্যতম চাবিকাঠি। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ইত্যাদি এড়িয়ে চলা জরুরি।

নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পোমোডোরো পদ্ধতি খুব কার্যকর। এতে ২৫-৩০ মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ মনোনিবেশের সঙ্গে কাজ করা হয় এবং এরপর ৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়া হয়। এই নিয়মিত চক্র মনকে সতেজ রাখে, মনোযোগ বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় ঘরে কার্যকরভাবে কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

নিজেকে মোটিভেট করা

কাজের প্রতি উদ্দীপনা ও প্রেরণা ধরে রাখতে ছোট ছোট সাফল্যকেও উদযাপন হিসেবে দেখুন। প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার পর নিজেকে ছোট পুরস্কার দিন। উদাহরণস্বরূপ, একটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট শেষ করার পর কফি, চকলেট বা হালকা খাবার গ্রহণ করা বা ছোট বিরতি নেওয়া মনকে সতেজ ও উদ্যমী রাখে। নিয়মিত প্রণোদনা গ্রহণের মাধ্যমে কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় এবং পরবর্তী কাজের জন্য উদ্দীপনা বজায় থাকে।

পারফেকশনিজমকে নিয়ন্ত্রণ করা

অনেক সময় মানুষ কাজের নিখুঁততা খুঁজে কাজ শুরু করতে পিছিয়ে যায়। প্রোক্রাক্টিনেশনের অন্যতম কারণই পারফেকশনিজম। মনে রাখুন, সবসময় নিখুঁততা অর্জন করা প্রয়োজন নয়। কাজকে ছোট অংশে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করলে মানসিক চাপ কমে এবং ফলাফলও সন্তোষজনক হয়।

মানসিক চাপ কমানো

চাপ, উদ্বেগ এবং মানসিক অস্থিরতা প্রোক্রাস্টিনেশনের অন্যতম প্রধান কারণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধ্যান বা যোগব্যায়াম মনকে স্থিতিশীল ও শান্ত রাখে। এ ছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা হটি মনকে রিফ্রেশ করে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কম হলে কাজের গতি বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো কাজ শেষ করা সহজ হয়।

সহায়তা নেওয়া

প্রয়োজন হলে একা কাজ না করে সহকর্মী, শিক্ষক বা বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কাজ ভাগাভাগি করলে দায়িত্বের বোঝা হালকা হয় এবং কাজ দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া একে অপরের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা কাজে নতুন উদ্দীপনা যোগ করে এবং সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়।

সময় ব্যবস্থাপনা ও ডেডলাইন নির্ধারণ

কাজের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করা প্রোক্রাক্টিনেশন কমানোর অন্যতম কৌশল। দিনের কোন সময়ে আপনি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন, সেই সময়টিকে কাজের জন্য বরাদ্দ করুন। কাজকে সময়ের সেগমেন্টে ভাগ করুন যেমন ২৫-৩০ মিনিটের জন্য কাজ এরপর পাঁচ মিনিটের বিরতি। এভাবে কাজ করলে তা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ডেডলাইন নির্ধারণও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি অংশের জন্য নির্দিষ্ট শেষ সময় রাখলে কাজকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু ও শেষ করার অভ্যাস তৈরি হয়। মোবাইল বা কম্পিউটারে রিমাইন্ডার ব্যবহার করলে কোনো কাজ ভুলে যাওয়ার ঝুঁ*কি কমে এবং প্রতিটি কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা সহজ হয়। @ খবরের কাগজ 

১৯


সব পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই

আধুনিক জীবনে ইঁদুর দৌড়ে আমরা প্রায়ই হাঁপিয়ে উঠি। সাফল্য, খ্যাতি আর অন্যের স্বীকৃতির পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই নিজেদের আসল পরিচয়। অথচ জেই শেঠির বিখ্যাত বই ‘থিংক লাইক আ মংক’ আমাদের শেখায়, কীভাবে সন্ন্যাসীর মতো চিন্তা করে এই কোলাহলপূর্ণ পৃথিবীতেও প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। চলুন, বইটির নির্যাস থেকে নেওয়া জীবন বদলানো কিছু দর্শন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

আমরা নিজেদের কীভাবে দেখি? বইটিতে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক কথা বলা হয়েছে—‘আপনি নিজে যা ভাবেন আপনি তা নন। অন্যরা আপনার সম্পর্কে যা ভাবেন, আপনি তাও নন। বরং আপনি হলেন তাই, যা আপনি মনে করেন যে অন্যরা আপনাকে ভাবছে।’ এই জটিল চিন্তা থেকে বের হতে না পারলে আমরা আজীবন অন্যের কাল্পনিক প্রত্যাশা পূরণেই ব্যস্ত থাকব।

কর্মের দর্শন ও উদ্দেশ্য (ধর্ম)

জীবনের উদ্দেশ্য কী? লেখক বলছেন, আপনার প্রাকৃতিক দক্ষতা এবং বিশ্বের প্রয়োজনীয়তা যখন একবিন্দুতে মেলে, তখনই আপনি আপনার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ‘ধর্ম’ খুঁজে পান। তবে বড় কিছু অর্জনের জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন। বীজ রোপণের পরদিনই যেমন ফল পাওয়া যায় না, সফলতার ক্ষেত্রেও তা-ই। আর এই যাত্রায় ফলের আশা ত্যাগ করে কাজের প্রক্রিয়ার ওপর মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, ব্যর্থতা মানে হেরে যাওয়া নয়, এটি কেবল একটি ইঙ্গিত যে আপনাকে অন্য পথে চেষ্টা করতে হবে। জীবন তখনই সার্থক হয়, যখন আপনি অন্যের উপকারে আসতে পারেন। জীবনের মূল লক্ষ্যই হলো সেবা। 

মানসিক প্রশান্তি ও ক্ষমা

মনের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ বা বিষ আমাদের শান্তি কেড়ে নেয়। ক্ষমা করা মানে অন্য ব্যক্তির কাজকে সমর্থন করা নয়; বরং নিজেকে সেই বিষ থেকে মুক্ত করা। পাশাপাশি যা হারিয়েছে তা নিয়ে আফসোস না করে, যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হতে শেখা। কৃতজ্ঞতাই সুখী হওয়ার সহজতম উপায়। অতীত নিয়ে অনুশোচনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিই দুঃখের মূল কারণ।

মন ও চিন্তার নিয়ন্ত্রণ

চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চিন্তাই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে জোর করে দূর না করে সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে শিখুন। আর যখনই খুব অস্থির বা উত্তেজিত বোধ করবেন, তখন গভীর শ্বাস নিন। আপনার নিশ্বাসই মনকে শান্ত করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই; মাঝেমধ্যে নীরবতা বজায় রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

একাকিত্ব বনাম নির্জনতা

আমরা একা থাকতে ভয় পাই, কিন্তু একা থাকা মানেই একাকিত্ব নয়। নির্জনতা (Solitude) হলো নিজের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের ভেতরকে চেনা। নিজের মূল্য নির্ধারণের চাবিকাঠি অন্যের হাতে দেবেন না। আপনি ভেতর থেকে যেমন, সেটিই আপনার আসল সম্পদ।

সম্পর্ক ও পরিবেশ

আপনি যে ধরনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবেন, আপনার চিন্তাধারাও ঠিক তেমন হয়ে উঠবে। তাই ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকা জরুরি। সম্পর্কের ক্ষেত্রে কথা বলার চেয়ে অন্যের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা অনেক বড় গুণ। দিনের শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সকালটা যেভাবে শুরু হবে, সারা দিন সেভাবেই কাটবে। তাই দিনের শুরুটা হোক গঠনমূলক কোনো কাজের মাধ্যমে।

সন্ন্যাসীর মতো চিন্তা করার অর্থ এই নয়, সংসার ত্যাগ করে বনে চলে যেতে হবে। এর অর্থ হলো, সংসারে থেকেও মোহমুক্ত থাকা, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা। আজ থেকেই এই ছোট ছোট পরিবর্তন নিজের জীবনে আনতে শুরু করুন, দেখবেন জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর ও অর্থবহ হয়ে উঠেছে। @ সাব্বির হোসেন


২০


কীভাবে এল ৪২০?

আমাদের নিত্যদিনের কথাবার্তায়, আলাপে কাউকে প্রতারক, অসৎ বা নেতিবাচক চিন্তার বোঝাতে অথবা ব্যঙ্গ করে প্রায়ই বলি 'ও তো একটা ৪২০।' এই সংখ্যাটি কীভাবে একজন মানুষের চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে গেল, তা আসলে বেশ আগ্রহ জাগানিয়া।

মূলত এর পেছনে রয়েছে উপমহাদেশের আইন, ইতিহাস এবং ভাষার সামাজিক ব্যবহার। '৪২০' সংখ্যাটির উৎস ব্রিটিশ শাসনামলের ইন্ডিয়ান পেনাল কোড (Indian Penal Code বা IPC)। ১৮৬০ সালে প্রণীত এই দণ্ডবিধিতে বিভিন্ন অপরাধের জন্য আলাদা আলাদা ধারা বা সেকশন নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ধারা ৪২০ (Section 420) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই ধারার শিরোনাম হলো- 'Cheating and dishonestly inducing delivery of property', অর্থাৎ প্রতারণার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যের সম্পত্তি বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।

আইনগতভাবে IPC-এর ৪২০ ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে প্রতারণা করে, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা, সম্পত্তি বা মূল্যবান কিছু আদায় করে নেয়, তবে সে অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। ফলে আইন ও প্রশাসনের চোখে ৪২০ মানেই প্রতারণা এবং প্রতারক ব্যক্তি। 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি আইনি ধারার নম্বর কীভাবে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে চরিত্রগত অপবাদে পরিণত হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সমাজে আইনের প্রভাব ও লোকজ ভাষার বিবর্তনের মধ্যে। ব্রিটিশ আমল থেকেই আদালত, পুলিশ এবং মামলা-মোকদ্দমা সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। সংবাদপত্রে, আদালতের রায় নিয়ে আলোচনায় কিংবা থানার ভাষায় 'চার শ কুড়ি মামলা' বা '৪২০ ধারায় গ্রেপ্তার'- এ শব্দগুলো নিয়মিত শোনা যেত। ধীরে ধীরে মানুষ বুঝে নেয়, ৪২০ মানে এমন একজন ব্যক্তি যে ঠকায়, ধোঁকা দেয় এবং বিশ্বাসভঙ্গ করে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে '৪২০' শব্দটি আইনি পরিভাষা ছাড়িয়ে কথ্য ভাষায় ঢুকে পড়ে। তখন আর কাউকে সত্যিই আইনের ৪২০ ধারায় অভিযুক্ত হতে হয় না; বরং কেউ যদি বন্ধুকে ঠকায়, ব্যবসায় অসততা করে বা চালাকি করে লাভবান হতে চায়, তাহলেই তাকে মজা করে কিংবা ব্যঙ্গ করে '৪২০' বলা হয়। এভাবে সংখ্যাটি একটি প্রতীকে রূপ নেয়- প্রতারণা ও অসততার প্রতীক। ভারত ও বাংলাদেশে চলচ্চিত্র, নাটক এবং সাহিত্যেরও এখানে বড় ভূমিকা রয়েছে। বহু হিন্দি ও বাংলা সিনেমা, নাটকে '৪২০' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে প্রতারক চরিত্র বোঝাতে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংখ্যার ব্যবহার মানুষের কাছে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও রসিকতাপূর্ণ। কাউকে সরাসরি 'তুমি অসৎ' বা 'তুমি প্রতারক' বললে তা আঘাতমূলক হতে পারে। কিন্তু 'তুমি তো একটা ৪২০' বললে কথাটা একই অর্থ বহন করলেও তা তুলনামূলকভাবে হালকা, ব্যঙ্গাত্মক এবং অনেক সময় হাস্যরসের মোড়কে বলা যায়। এ কারণেও সংখ্যাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, '৪২০' কোনো রহস্যময় বা কুসংস্কারজাত সংখ্যা নয়। এর পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট একটি আইনি ধারা, ঔপনিবেশিক ইতিহাস এবং সমাজের ভাষাগত রূপান্তর। আইন থেকে লোকজ ভাষা, আর লোকজ ভাষা থেকে সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে এই সংখ্যা। @ ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র

২১


জাপানিজ জীবনদর্শন 'কাইজেন' (Kaizen)

নতুন বছরে আমরা অনেকেই বড় বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করি। কেউ ভাবি এবার পদোন্নতি পেতেই হবে, কেউ ভাবি নতুন কোনো কঠিন স্কিল শিখে ফেলব। কিন্তু মাস খানেক যেতেই সেই উদ্যম ফিকে হয়ে আসে। বড় লক্ষ্যের বিশালতা আমাদের অনেক সময় মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দেয়। ঠিক এই জায়গাতেই জাদুর মতো কাজ করে জাপানিজ জীবনদর্শন 'কাইজেন' (Kaizen)। দ্বিতীয় বিশ্বযু*দ্ধ পরবর্তী বিধ্ব*স্ত জাপানকে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার পেছনে এই কাইজেন দর্শনের অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে টয়োটা থেকে শুরু করে গুগল-বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের এই নীতিতে উদ্বুদ্ধ করে।

➤কাইজেন কী

জাপানি শব্দ 'কাই' (পরিবর্তন) এবং 'জেন' (ভালো)-এর সমন্বয়ে গঠিত এই দর্শনের মূল কথা হলো-'ভালোর জন্য নিরন্তর পরিবর্তন'। তবে এটি রাতারাতি কোনো অলৌকিক পরিবর্তনের কথা বলে না। বরং এটি শেখায় প্রতিদিন খুব সামান্য কিন্তু নিয়মিত উন্নতির অভ্যাস। ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানে একে বলা হয় 'কন্টিনিউয়াস ইমপ্রুভমেন্ট'।

➤কেন 'কাইজেন' প্রয়োগ করা দরকার

১. বড় লক্ষ্যের চাপ কমায় আমরা যখন বড় কোনো প্রজেক্ট বা ক্যারিয়ার পরিবর্তনের কথা ভাবি, আমাদের মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে ভয় পায় এবং কাজ পিছিয়ে দেয় (Procrastination)। কাইজেন বলে, প্রজেক্টটি ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন যাতে সেটি করতে আপনার অলসতা না আসে।

২. ১ শতাংশের বিস্ময়: আপনি যদি প্রতিদিন আপনার কাজের দক্ষতা মাত্র ১ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারেন, তবে গাণিতিক হিসেবে বছর শেষে আপনি বর্তমানের চেয়ে প্রায় ৩৭ গুণ বেশি দক্ষ হয়ে উঠবেন। ক্যারিয়ারে এই সামান্য ব্যবধানই আপনাকে সাধারণ কর্মী থেকে টপ-পারফর্মার-এ পরিণত করবে। 

৩. অপচয় রোধ: কাইজেন পদ্ধতিতে কাজের অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো ছেঁটে ফেলা হয়। অফিসে আপনার ডেস্কে ফাইল গোছানো থেকে শুরু করে ইমেইল আদান-প্রদান-প্রতিটি ধাপে কীভাবে সময় বাঁচানো যায়, সেই ছোট ছোট সংস্কারই কাইজেন।

➤৫-এস (5S) ফ্রেমওয়ার্ক: কর্মক্ষেত্র গোছানোর মূলমন্ত্র

জাপানিরা কাইজেন বাস্তবায়নে '৫-এস' পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা যেকোনো পেশাজীবীর জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

Seiri (Sort): আপনার কর্মক্ষেত্র থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল বা ডিজিটাল ডেটা সরিয়ে ফেলুন।

Seiton (Set in Order): প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো এমনভাবে রাখুন যেন হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়।

Seiso (Shine): নিয়মিত নিজের কর্মস্থল ও কাজের টুলসগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখুন।

Seiketsu (Standardize): ভালো কাজের পদ্ধতিগুলোকে একটি নিয়মে রূপ দিন।

Shitsuke (Sustain): এই নিয়মগুলো অভ্যাসে পরিণত করুন এবং ধৈর্য ধরে বজায় রাখুন।

➤যেভাবে শুরু করবেন

ক্যারিয়ারে কাইজেন প্রয়োগের জন্য কোনো আকাশছোঁয়া পরিকল্পনার দরকার নেই। কাল অফিসে গিয়ে কেবল নিচের তিনটি ছোট কাজ করার চেষ্টা করুন-

কাজের শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটির জন্য মাত্র ১৫ মিনিট নিবিড় মনোযোগ দিন।

অফিস থেকে বের হওয়ার আগে আপনার ডেস্ক গুছিয়ে রাখুন, যা আগামীকাল সকালে আপনাকে সতেজভাবে কাজ শুরু করতে সাহায্য করবে।

প্রতিদিন নতুন অন্তত একটি প্রফেশনাল টার্ম বা টেকনিক শিখুন। বিখ্যাত উদ্যোক্তাদের মতে, সাফল্য আদতে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বড় সাফল্যের জন্য অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় না থেকে আজকের দিনটি গতকালের চেয়ে মাত্র ১ শতাংশ ভালো করার চেষ্টা করুন। এই ছোট পদক্ষেপই আপনাকে নিয়ে যাবে সাফল্যের শিখরে। লেখা: @  Md Ashikur Rahman


২২


প্রেজেন্টেশন স্কিল বাড়াতে যা করবেন

এর আগে আমরা প্রেজেন্টেশন স্কিলের গুরুত্ব সম্পর্কে লিখেছি। তবে প্রেজেন্টেশন স্কিল কীভাবে ভালো করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে ইত্তেফাক ক্যারিয়ার-এর পাঠকদের অনেকেই ই-মেইল ও ফেসবুকের মাধ্যমে পরামর্শ চেয়েছেন। এবার থাকছে প্রেজেন্টেশন ভালো করার কিছু কৌশল নিয়ে আলাপ।

১. কনটেন্ট ভালোভাবে বুঝে নিন

আপনি কী বলছেন তা নিজে আগে ভালোভাবে বোঝা জরুরি। মুখস্থ নয়, আত্মস্থ করুন। ভাবনা থেকে বলুন। বুলেট পয়েন্ট লিখে রাখুন, যা গাইড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

২. কাঠামো সাজান

একটি ভালো প্রেজেন্টেশনের তিনটি ধাপ-

ভূমিকা: কী নিয়ে বলবেন ও কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ।

মূল অংশ: যুক্তি, উদাহরণ, তথ্য দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা।

উপসংহার: মূল অংশটি সংক্ষেপে আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া।

৩. চর্চা করুন

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রেজেন্টেশন করার চর্চা করতে পারেন।

মঞ্চভী*তি থাকলে বন্ধু বা পরিবারের কারোর সামনে উপস্থাপনের চর্চা করুন। 

আপনার প্রেজেন্টেশনটি কত সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা, সেটি করতে পারছেন কিনা, টাইম কিপিংয়ের মাধ্যমে লক্ষ রাখুন।

৪. টেক্সট কম, ছবি বেশি

লম্বা-লম্বা টেক্সট লেখার চেয়ে স্লাইডে বুলেট পয়েন্ট লিখলে এবং তা মুখে ব্যাখ্যা করলে সেটি শ্রোতাদের বেশি আকৃষ্ট করে। স্লাইড সাজান পরিমিতভাবে। বেশি রঙচঙে করার দরকার নেই। একটা থিম ধরে রাখুন। ফন্টেও ভারসাম্য রাখুন।

৫. বডি ল্যাঙ্গুয়েজ

ভালো প্রেজেন্টেশনের জন্য দর্শক বা শ্রোতার চোখে চোখ রাখুন। আই-কনটাক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া হাত নাড়া, বাচনভঙ্গির দিকেও খেয়াল রাখুন। কথা বলার সময় মাঝে মাঝে ছোট বিরতি নিন। গতি যেন খুব বেশি না হয়, আবার খুব ধীরও না হয়।

৬. প্রশ্নের উত্তর দিন

যেকোনো প্রেজেন্টেশনে ভালো করতে হলে ইন্টার‍্যাকশন দরকার। শ্রোতাদের প্রশ্ন করুন, তাদের মধ্যে থেকেও কারোর কথা শুনুন। এরপর অন্যদের কাছ থেকে পালটা প্রশ্ন নিন। এই আলাপচারিতা তৈরি হলে প্রেজেন্টেশন আরো আকর্ষণীয় হবে।

৭. আত্মবিশ্বাসী হোন, মুখে হাসি রাখুন

প্রথমদিকে নার্ভাস হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু মুখ গম্ভীর করবেন না। চেহারায় হাসি ধরে রাখুন। যে বিষয়ে কথা বলছেন, ধরে নিন আপনিই এতে সেরা। এই আত্মবিশ্বাসই আপনাকে ভালো প্রেজেন্টেশন দিতে সাহায্য করবে।

কাজ শেষে কেন প্রয়োজন 'পোস্টম*র্টেম অ্যানালাইসিস'

একটি বড় প্রজেক্ট শেষ হলো। মাসব্যাপী হা*ড়ভাঙা খাটুনি, বিনিদ্র রজনী আর টানটান উত্তেজনার অবসান। ফলাফল যাই হোক-সাফল্য বা ব্যর্থতা-আমরা সাধারণত প্রজেক্ট শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পরের কাজে ঝাঁ*পিয়ে পড়ি। কিন্তু এখানেই আমরা একটি বড় ভুল করে ফেলি। কোনো কাজ শেষ হওয়ার পর তার চুলচেরা বিশ্লেষণ না করলে সাফল্যের স্থায়িত্ব বা ব্যর্থতার শিক্ষা-দুটোই অধরা থেকে যায়। মনোবিজ্ঞান এবং ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় 'পোস্ট-ম*র্টেম অ্যানালাইসিস'।

পোস্টমর্টেম কী এবং কেন?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে মৃ/ত্যুর কারণ জানতে পোস্টম*র্টেম করা হয়। পেশাদার জীবনে এটি কোনো কাজের মৃ*ত্যুর বিশ্লেষণ নয়, বরং সেই কাজের 'জীবনবৃত্তান্ত' পর্যালোচনা। একটি প্রজেক্ট বা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ঠান্ডা মাথায় বসা এবং নির্মোহভাবে বিচার করা যে কী ঠিক ছিল আর কী ভুল ছিল।

সোভিয়েত মনোবিজ্ঞানী ব্রমা জেইগারনিক বলেছিলেন, অসম্পূর্ণ কাজ আমাদের মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করে। তেমনি অসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ আমাদের ক্যারিয়ারে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। পো*স্টম*র্টেম অ্যানালাইসিস সেই লুপ বা চক্রটি ভে*ঙে দেয়।

➤বিশ্লেষণের চারটি স্তম্ভ

এই জটিল প্রক্রিয়াটিকে চারটি সহজ প্রশ্নে ভাগ করা যায়-

সাফল্যের ময়নাতদন্ত (What went well?):

আমরা অনেক সময় শুধু ভুল খুঁজি। কিন্তু কোন কৌশলটি আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করেছে, সেটি চিহ্নিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই ভালো দিকগুলোই হবে আপনার ভবিষ্যতের 'বেস্ট প্র্যাকটিস'।

ভুলের ব্যবচ্ছেদ (What went wrong?):

কোথায় আমাদের পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল? বাজেট কেন বাড়ল? কিংবা পরীক্ষার হলে কেন জানা উত্তর ভুল হলো? কোনো ব্লেম-গেম বা দোষারোপ ছাড়া বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই এই ধাপের সার্থকতা।

শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা (What did we leam?):

প্রতিটি কাজ আমাদের নতুন কিছু শেখায়। টেকনিক্যাল দক্ষতা থেকে শুরু করে মানুষের সাথে আচরণের কৌশল-এই নতুন শিক্ষাগুলো লিখে রাখা জরুরি।

ভবিষ্যৎ রূপরেখা (Next steps):

পরের বার একই ধরনের কাজ করার সময় আমরা কোন ভুলগুলো বর্জন করব? এই ধাপটিই মূলত আপনাকে সাধারণ থেকে অসাধারণে পরিণত করবে।

➤পড়াশোনায় ও ক্যারিয়ারে এর প্রভাব:

শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতে পারে 'গেম চেঞ্জার'। একটি সেমিস্টার শেষে যদি কোনো শিক্ষার্থী তার পড়ার রুটিন ও ফলাফল নিয়ে পোস্টমর্টেম করে, তবে পরের সেমিস্টারে তার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে, করপোরেট জগতে বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এখন প্রতিটি ক্যাম্পেইন শেষে বাধ্যতামূলকভাবে পোস্টমর্টেম মিটিং করে। এতে টিমের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

➤কীভাবে শুরু করবেন?

পোস্টমর্টেম করার জন্য খুব জটিল কোনো সফটওয়‍্যারের প্রয়োজন নেই। একটি ডায়েরি বা এক্সেল শিটই যথেষ্ট। কাজের শেষে নিজেকে অন্তত ৩০ মিনিট সময় দিন। নিজের কাজের দুর্বলতাগুলো স্বীকার করার সাহস অর্জন করুন। মনে রাখবেন, আজকের ভুলগুলোই কালকের অভিজ্ঞতার মূলধন।

বিখ্যাত উদ্যোক্তাদের মতে, যারা নিজেদের কাজের পোস্টমর্টেম করে না, তারা আসলে অভিজ্ঞ নয়; তারা কেবল একই বছর বারবার যাপন করে। তাই ক্যারিয়ার বা পড়াশোনায় যদি প্রকৃত উন্নয়ন চান, তবে কাজ শেষে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর অভ্যাস করুন। @  Md Ashikur Rahman


২৩


সিভি, রেজ্যুমে ও কাভার লেটার: পার্থক্য কী?

চাকরিতে আবেদন করার সময় আমাদের সবারই কমবেশি সিভি বা রেজ্যুমে ও কাভার লেটার প্রয়োজন হয়। ইউরোপ বা ব্রিটেনে সিভির চল বেশি থাকলেও আমেরিকায় রেজ্যুমের প্রাধান্য বেশি। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সিভি-রেজ্যুমে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখা দরকার; সিভি, রেজ্যুমে ও কাভার লেটার এক নয়।

অনেকেই এই তিনটিকে এক করে ফেলেন যদিও এদের মধ্যে কাঠামোগত এবং উপস্থাপনার দিক দিয়ে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

সিভি (Curriculum Vitae)

সিভি বা কারিকুলাম ভিটাই শব্দটি এসেছে লাতিন ভাষা থেকে। এর আক্ষরিক অর্থ হলো জীবনের পথ! সিভি দেখতে ক্ষুদ্র। এটি মূলত দুই থেকে তিন পাতার হয়। এর পাঠক হয়তো মাত্র কয়েকজন, কিন্তু চাকরি সন্ধানীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। সিভিতে আপনার জীবনের যাবতীয় প্রায় সবকিছু লেখা থাকে যেমন- আপনার ক্যারিয়ারের লক্ষ্য, শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, অর্জন, প্রকাশনা, সম্মাননা ইত্যাদি।

সিভি সাধারণত সময়ানুক্রমিক হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক পর্যায় থেকে এর শুরু হয়। কাজের প্রয়োজন অনুসারে যত পেছনে যাওয়া যায়, ততটাই উল্লেখ করা হয়।

সিভি সাধারণত বিভিন্ন কাজের আবেদনের সময় অপরিবর্তিত থাকে। তবে নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি।

রেজ্যুমে (Resume)

Resume শব্দটি ফরাসি যার অর্থ সংক্ষিপ্ত বিবরণী। রেজ্যুমে হলো CV-র সংক্ষিপ্ত রূপ যেখানে ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকে। রেজ্যুমে সাধারণত এক পাতার হয়ে থাকে। এতে পুরো জীবনবৃত্তান্ত থাকে না। সংক্ষিপ্ত হবার কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।  

সর্বজনীন কোনো গঠন না থাকায় ব্যক্তি ও কাজের বা আবেদনের ওপর ভিত্তি করে রেজ্যুমের গঠন ভিন্ন হয়। এখানে কেবল যে কাজের জন্য অবেদন করছেন, সে কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়া থাকে।

রেজ্যুমের তথ্য সময়ানুক্রমিক হতে পারে। আবার কাজভিত্তিকও হতে পারে। অর্থাৎ নির্ধারিত কাজের জন্য আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে রেজ্যুমে সাজানো। অবশ্য অনেকে দুই ধরনকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন। রেজ্যুমে লেখা তাই ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভরশীল।

অনেক সময় রেজ্যুমের তথ্য বুলেট লিস্ট আকারে দেওয়া থাকে। এতে চাকরিদাতা কম সময়ের মধ্যে আবেদনকারী সম্পর্কে ধারণা পান।

কাভার লেটার (Cover Letter)

সিভি ও রেজ্যুমে অনেকটা এক রকম হলেও কাভার লেটার কিছুটা আলাদা। এর মূল উদ্দেশ্য চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আপনার যোগ্যতা যথাসম্ভব সংক্ষেপে তুলে ধরা।

চাকরির আবেদনের সময় কাভার লেটার সাধারণত সিভি বা রেজ্যুমের সঙ্গে লিখে দিতে হয়। নাম থেকেই বোঝা যায় যে এটি এক ধরনের চিঠি বা পত্র। এটি লিখতেও হয় চাকরিদাতা বরাবর। এতে থাকে সম্বোধন, কিছু প্যারাগ্রাফ ও সমাপ্তি।

এক কথায় বলা যায়, সিভি ও রেজ্যুমের সঙ্গে কাভার লেটার পরিপূরক ভূমিকা পালন করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য কাভার লেটার তৈরির সময় যে ব্যপারগুলোতে ফোকাস করতে হবে সেগুলো হলো-

-আপনি যে কাজের জন্য আবেদন করছেন তা কীভাবে আপনাকে উদ্দীপ্ত করে।

-এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে আপনি কেন আগ্রহী।

-আপনাকে আপনার নির্বাচিত ক্যারিয়ারে আসার জন্য কোন ব্যাপারটা অনুপ্রাণিত করে। @ গুলশান হাবিব রাজীব


২৪


জেইগারনিক ইফেক্ট (Zeigarnik Effect)

অসম্পূর্ণ কাজের মানসিক চাপকে সাফল্যের শক্তি বানান!

অনেক সময় দেখা যায়, একটি কাজ শেষ করার পর আমরা তা দ্রুত ভুলে যাই, কিন্তু কোনো কাজ অর্ধেক করে রেখে দিলে সেটি বারবার আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায়। কেন এমন হয়? মস্তিষ্কের এই অদ্ভুত প্রবণতাকেই মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'জেইগারনিক ইফেক্ট'।

১৯২০-এর দশকে সোভিয়েত মনোবিজ্ঞানী ব্লুমা জেইগারনিক লক্ষ করেন, রেস্তোরাঁর ওয়েটাররা সেই অর্ডারগুলো বেশি মনে রাখতে পারেন-যেগুলোর বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। কিন্তু বিল দেওয়ার সাথে সাথেই তারা অর্ডারগুলো ভুলে যান। তার গবেষণার সারকথা হলো- 'মানুষ সম্পূর্ণ কাজের চেয়ে অসম্পূর্ণ বা বাধাগ্রস্ত কাজগুলোর কথা বেশি মনে রাখে।'

➤এটি যেভাবে প্রভাবিত করে

জেইগারনিক ইফেক্ট মূলত আমাদের মস্তিষ্কের একটি রিমাইন্ডার সিস্টেম। যখন আমরা কোনো কাজ শুরু করি কিন্তু শেষ করি না, তখন মস্তিষ্ক একটি মানসিক উত্তেজনা (Psychic Tension) তৈরি করে। এটি আমাদের অবচেতন মনে কাজটির কথা মনে করিয়ে দিতে থাকে।

অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে: কোনো অধ্যায় অর্ধেক পড়ে ঘুমাতে গেলে দেখবেন ঘুমানোর আগে বারবার ওই পড়ার কথা মনে পড়ছে।

ক্যারিয়ার-রিলেটেড কাজে: অফিসের কোনো জরুরি ইমেইল ড্রাফটে রেখে দিলে সেটি বারবার মাথায় আসবে এবং অন্য কাজে মনোযোগ দিতে বাধা দেবে। একে বলা হয় 'কগনিটিভ ইচ' (Cognitive Itch) বা মানসিক 'চুল*কানি'।

➤ইফেক্টের ইতিবাচক প্রয়োগ

কাজ শুরু করার জড়তা কাটানো : আমরা অনেক সময় বড় কাজ দেখে ভয়ে শুরুই করি না। জেইগারনিক ইফেক্ট অনুযায়ী, আপনি যদি কাজটি মাত্র ৫ মিনিটের জন্য শুরু করেন, তবে আপনার মস্তিষ্ক সেটি শেষ করার জন্য ভেতর থেকে তাড়না দেবে। তাই শুরু করাটাই অর্ধেক কাজ শেষ করার সমান।  

এই মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাটি যেমন আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়াতে পারে, তেমনি সঠিক কৌশলে একে ব্যবহার করলে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে অসাধারণ ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

কৌশলী বিরতি (Strategic Breaks): পড়তে পড়তে বা কাজ করতে করতে যখন আপনি খুব ভালো ফ্লো-তে থাকবেন, ঠিক তখনই একটি ছোট বিরতি নিন। যেহেতু কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, বিরতির সময় আপনার মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে ওই বিষয়টি নিয়ে ভাববে। ফলে ফিরে এসে পুনরায় কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে।

টু-ডু লিস্টের ব্যবহার: মাথায় যখন অনেক অসম্পূর্ণ কাজের চিন্তা ঘুরপাক খায়, তখন সেগুলো কাগজে লিখে ফেলুন। এতে মস্তিষ্ক মনে করে যে কাজটির একটি ব্যবস্থা হয়েছে, ফলে মানসিক চাপ কমে এবং বর্তমান কাজে মনোযোগ দেওয়া যায়।

জটিল সমস্যার সমাধান: কোনো জটিল অঙ্কের বা কোডিংয়ের সমাধান না মিললে জোর করে বসে না থেকে কিছুক্ষণ অন্য কাজ করুন। অসম্পূর্ণ কাজের জেইগারনিক ইফেক্টের কারণে আপনার মস্তিষ্ক ব্যাকগ্রাউন্ডে সমাধান খুঁজতে থাকবে এবং হঠাৎ করেই আপনার মাথায় আইডিয়া চলে আসবে।

সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জেইগারনিক ইফেক্ট আমাদের শেখায় যে, বড় কাজের পাহাড় দেখে বসে না থেকে ছোট একটি অংশ অন্তত শুরু করা উচিত। একবার শুরু করে দিলে আপনার মস্তিষ্কই আপনাকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে। @  Md Ashikur Rahman


২৫


পার্কিনসন্স ল : সময়ের সঠিক ব্যবহার

কোনো একটি কাজ শেষ করার জন্য আমাদের যদি সাতদিন সময় দেওয়া হয়, তবে দেখা যায় সেই কাজটির পেছনে পুরো সাতদিনই ব্যয় হচ্ছে। আবার একই কাজ যদি মাত্র দুই দিনে শেষ করার তাগিদ থাকে, তবে আশ্চর্যজনকভাবে আমরা তা দুই দিনেই সম্পন্ন করতে পারি। এই যে সময়ের সঙ্গে কাজের প্রসারণ, একেই বলা হয় 'পার্কিনসন্স ল' (Parkinson's Law)। ১৯৫৫ সালে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ সিরিল নর্থকোট পার্কিনসন এক প্রবন্ধে প্রথম এই ধারণাটি দেন। তার মতে, 'একটি কাজ ঠিক ততটুকুই বিস্তৃত হয়, যতটুকু সময় সেটি শেষ করার জন্য বরাদ্দ করা থাকে।' অর্থাৎ, হাতে বেশি সময় থাকলে আমাদের মস্তিষ্ক কাজটিকে জটিল করে ফেলে এবং আমরা আলস্য বা দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নিই।

➤এটি আমাদের যেভাবে প্রভাবিত করে

পার্কিনসন্স ল মূলত আমাদের কর্মদক্ষতা বা প্রোডাক্টিভিটি-তে একটি বড় বাধা। যখন আমাদের হাতে অনেক সময় থাকে, তখন আমরা সেই সময়ের সদ্ব্যবহার করার চেয়ে তা পূরণের চেষ্টা করি। যেমন-

একটি ইমেইল লিখতে হয়তো মাত্র ১০ মিনিট লাগে, কিন্তু আপনি যদি ভাবেন এটি লাঞ্চের আগে পাঠাবেন, তবে দেখা যাবে ওই এক ঘণ্টা সময় আপনি ওই একটি ইমেইলের পেছনেই খরচ করছেন।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এক মাস সময় থাকলে আমরা প্রথম ২০ দিন বেশ ঢিলেঢালাভাবে কাটাই, অথচ শেষ ১০ দিনে ঠিকই পুরো সিলেবাস শেষ করি।

➤পার্কিনসন্স ল প্রয়োগের উপায়

ক্যারিয়ার বা পড়াশোনায় এই নিয়মের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।

কৃত্রিম ডেডলাইন তৈরি করা:

কোনো কাজ শেষ করার আসল যে সময়সীমা (D*eadline) আছে, তার আগেই নিজের জন্য একটি কাল্পনিক ডে*ডলাইন ঠিক করুন।  

কাজের গুরুত্ব বুঝে সময় বরাদ্দ:

সব কাজকে সমান সময় না দিয়ে কাজের কাঠিন্য অনুযায়ী সময় ভাগ করুন। বড় কাজের জন্য ছোট ছোট সময়সীমা বা 'টাইম বক্সিং' করলে কাজের গতি বাড়ে।

পারফেকশনিজমের ফাঁ*দ থেকে মুক্তি:

অনেক সময় আমরা নিখুঁত করতে গিয়ে সাধারণ একটি কাজকে টেনে লম্বা করি। পার্কিনসন্স ল বলে, কাজের পেছনে অকারণে অতিরিক্ত সময় দিলে কাজের মান সবসময় বাড়ে না, বরং সময় নষ্ট হয়।

টাইমার ব্যবহার করা হাতের কাজটি করার সময় ঘড়িতে অ্যালার্ম বা টাইমার সেট করে নিতে পারেন। এতে আপনার মস্তিষ্ক সজাগ থাকবে যে আপনার হাতে সময় কম, ফলে মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।

সময় ব্যবস্থাপনার মূল কথা কেবল কঠোর পরিশ্রম নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সাথে সময়ের ব্যবহার। পার্কিনসন্স ল বুঝতে পারলে আপনি সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন। কম সময়ে কাজ শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুললে আপনি কেবল অধিক উৎপাদনশীলই হবেন না, বরং নিজের জন্যও পর্যাপ্ত অবসর খুঁজে পাবেন। লেখা: মো. আশিকুর রহমান

২৬


আপনার বড় শত্রু আপনি নিজেই 

আমরা প্রায়ই বাইরের মানুষকে শত্রু মনে করি; কিন্তু প্রকৃত শত্রু বাস করে আমাদের মনে। এর নাম অহংকার। যেহেতু এর বসবাস মনে, তাই নিয়ন্ত্রণও আমাদের হাতে। আমরা হয় একে বাড়তে দিই, নয়তো দমিয়ে রাখি। এটি কোনো কাল্পনিক দৈত্য নয়; বরং এটি আমাদের 'আমি' বা 'শ্রেষ্ঠত্বের' বোধ। যখনই মনে হবে, আপনি নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাবছেন বা নিজের অর্জন নিয়ে অতিরিক্ত গর্ব করছেন, বুঝবেন আপনার ভেতরের শত্রু জেগে উঠছে। তখনই একে থামানো জরুরি।

কথা বনাম শোনা

অহংকার আপনাকে অনর্গল কথা বলতে উৎসাহিত করে, নিজের গুণগান গাইতে শেখায়। কিন্তু নম্রতা আপনাকে অন্যের কথা শোনার ক্ষমতা দেয়। মনে রাখবেন, যিনি বলেন তিনি শুধু যা জানেন তা বলেন; কিন্তু যিনি শোনেন, তিনি নতুন কিছু শেখেন।

'সব জান্তা' মনোভাবের বিপর্যয়

অহংকারের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, এটি শেখার দরজা বন্ধ করে দেয়। অহংকারী মানুষ নিজেকে সবকিছু জানে বলে ভাবতে শুরু করেন। একজন প্রকৃত শিক্ষার্থী সব সময় জানে যে সে সবকিছু জানে না। নতুন কিছু শিখতে হলে বিনয়ী হতে হবে এবং নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে হবে।

ফোকাস: নিজের ওপর নাকি অন্যের ওপর?

ইগো আমাদের আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে। এটি সারাক্ষণ শুধু নিজের স্বার্থ বা ইমেজের ওপর মনোযোগ দেয়। বিপরীতে, নম্রতা আমাদের মনকে অন্যের ওপর ফোকাস করতে শেখায়। সত্যিকার অর্থে সফল মানুষ শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না; তাঁরা ভাবেন, কীভাবে অন্যকে এগিয়ে নেওয়া যায়। 

প্রলোভন ও তুলনা

অহংকার আমাদের শুধু অন্যকে খুশি করার বা ইমপ্রেস করার প্রলোভন দেখায়। আমরা যা পেয়েছি, তাতে সন্তুষ্ট থাকি না; অন্যের জীবনের দিকে তাকাই। এমন সময় নিজের লক্ষ্য এবং মূল্যবোধের দিকে মনোযোগ দিন। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে, নিজের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ এবং কী অর্জন করতে চান-সেদিকে মনোযোগ দিন।

সাফল্য ও ব্যর্থতার সঠিক পাঠ

জীবন সব সময় সমানভাবে যায় না। সাফল্য ও ব্যর্থতা উভয় ক্ষেত্রে অহংকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। সাফল্য মানেই শ্রেষ্ঠত্ব নয়। ব্যর্থ হলে মনে করবেন না, আপনি প্রতারিত হয়েছেন বা জন্মগতভাবে ব্যর্থ; বরং এটি নতুন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ।

নিজেকে একটি দেয়ালের মতো ভাবুন। কোনো দেয়াল এক দিনে তৈরি হয় না। ছোট ছোট সৎ কর্ম এবং বিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চরিত্র গড়ে ওঠে। অহংকারকে পাশে সরিয়ে, মাথা উঁচু করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া-এটিই প্রকৃত বিজয়। লেখা: সাব্বির হোসেন


২৭


পাবলিক স্পিকিংয়ে দক্ষ হওয়ার ১০টি কার্যকর কৌশল

পাবলিক স্পিকিংয়ের কথা ভাবলেই অনেকের বুক ধড়ফড় করে, হাতের তালু ঘেমে যায়। কিন্তু সত্য হলো, এটি কোনো জন্মগত প্রতিভা নয়; চর্চার মাধ্যমে শেখা যায়। সঠিক প্রস্তুতি ও কৌশল থাকলে আপনি ভ*য়কে জয় করে একজন আত্মবিশ্বাসী বক্তা হয়ে উঠতে পারেন। চলুন জেনে নিই, পাবলিক স্পিকিংয়ে দক্ষ হওয়ার ১০টি টিপস:

নার্ভাস হলে অনুশীলন করুন

বক্তব্যের আগে নার্ভাস লাগা খুবই স্বাভাবিক। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপা বা গলা শুকিয়ে আসা-এসব শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এগুলোকে ব্যর্থতার লক্ষণ ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এই নার্ভাসনেস আপনাকে আরও সতর্ক করে তোলে। এ জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিষয়টি ভালোভাবে বুঝুন, নোট করুন এবং বারবার অনুশীলন করুন। আয়নার সামনে, বন্ধুর সামনে বা নিজেকে ভিডিও করে অনুশীলন করলে দ্রুত উন্নতি সম্ভব।

শ্রোতাদের সম্পর্কে জানুন

বক্তব্য তৈরি করার আগে ভাবুন আপনি কাদের সামনে কথা বলবেন। শিক্ষার্থী, পেশাজীবী নাকি সাধারণ মানুষ? শ্রোতাদের বয়স, আগ্রহ ও প্রেক্ষাপট বুঝে ভাষা, উদাহরণ ও তথ্যের গভীরতা ঠিক করুন।

বক্তব্য গুছিয়ে নিন

আপনার বক্তব্যর কাঠামো তৈরি করুন। বিষয়, সাধারণ উদ্দেশ্য, নির্দিষ্ট লক্ষ্য, কেন্দ্রীয় ধারণা ও মূল পয়েন্ট লিখে রাখুন। মনে রাখবেন, প্রথম ৩০ সেকেন্ডে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন

সব সময় শ্রোতাদের দিকে মনোযোগ রাখুন। তাদের চোখের ভাষা, ভঙ্গি ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ করুন। এতে আপনি বক্তব্যের গতি ও উদাহরণ সামঞ্জস্য করতে পারবেন। একেবারে মুখস্থ বা যান্ত্রিক বক্তব্য দেওয়ায় আগ্রহী শ্রোতার মনোযোগ হারাতে পারেন। জীবন্ত যোগাযোগই ভালো উপস্থাপনার চাবিকাঠি।

নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করুন

নিজের মতো থাকুন। রোবটের মতো নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে, আর শ্রোতারা আপনাকে একজন বাস্তব মানুষ হিসেবে দেখবে।

গল্প, রসিকতা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যোগ করুন

একটি মজার গল্প বা হালকা রসিকতা বক্তব্যকে প্রাণবন্ত করে তোলে। শ্রোতারা সাধারণত ব্যক্তিগত ছোঁয়া পছন্দ করে, আর গল্প সেটিই এনে দেয়।  

আউটলাইন ব্যবহার করুন

নোট বা স্লাইড থেকে পুরো বাক্য পড়লে শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ নষ্ট হয়। বরং কিছু শব্দ, চিত্র বা সংকেত ব্যবহার করুন। এতে আপনি মূল পয়েন্ট মনে রাখতে পারবেন এবং সরাসরি শ্রোতাদের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারবেন।

বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করুন

পাবলিক স্পিকিং শুধু মুখের কথা নয়, শরীরও কথা বলে। দাঁড়ানোর ভঙ্গি, চোখের যোগাযোগ ও অঙ্গভঙ্গি মিলিয়ে আপনার বার্তা আরও শক্তিশালী হয়।

অপ্রয়োজনীয় অঙ্গভঙ্গি বাদ দিন

নার্ভাস হলে অনেকে এক পা থেকে অন্য পায়ে দুলতে থাকেন, আবার কেউ একেবারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন-দুটোই সমস্যা। চলাফেরা হোক ধীর, পরিকল্পিত ও অর্থবহ। প্রতিটি নতুন পয়েন্টে অবস্থান বদলালে বক্তব্য আরও প্রাঞ্জল হয়।

শুরুতে মনোযোগ আকর্ষণ করুন

'আজ আমি আপনাদের 'ক' বিষয় নিয়ে কথা বলব'-এভাবে শুরু করলে অনেকের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। বরং চমকপ্রদ তথ্য, আকর্ষণীয় ঘটনা বা সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করুন। শেষে বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এবং একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়ে শেষ করুন, যা শ্রোতারা মনে রাখবে।

ভিডিও দেখুন, নিজেকে আবিষ্কার করুন

নিজের উপস্থাপনার ভিডিও দেখা খুব কার্যকর। এতে বোঝা যায় কোথায় অপ্রয়োজনীয় দোলানো বা চোখের যোগাযোগের ঘাটতি আছে। নিয়মিত অনুশীলন ও রেকর্ডিং আপনাকে একজন আত্মবিশ্বাসী বক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে।

মনে রাখুন:

ভালো যোগাযোগ কখনোই নিখুঁত হয় না। কিন্তু প্রতিদিনের অনুশীলন, ক্লাস, মিটিং বা ছোট পরিসরে বক্তব্যের অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করে। ভ*য় নয়, প্রস্তুতিই আপনাকে একজন স্মরণীয় বক্তায় পরিণত করবে। @ আজকের পত্রিকা 

২৮


টু-মিনিট রুল : দীর্ঘসূত্রতা দূর করার সহজ টোটকা

আমরা প্রায়ই ছোট ছোট কাজ জমিয়ে রাখি। একটি ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, টেবিলটা একটু গুছিয়ে রাখা কিংবা একটা ফোন কল করার ক্ষেত্রেও আলসেমি করি। আমরা ভাবি, 'এ তো মাত্র দুই মিনিটের কাজ, পরে করে নেব।' কিন্তু এই ছোট ছোট কাজগুলোই এক সময় পাহাড় সমান হয়ে আমাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। এই চক্র ভাঙার সবচেয়ে সহজ অস্ত্র হলো টু-মিনিট রুল।

কী এই টু-মিনিট রুল?

এই নিয়মটি খুব সাধারণ: 'যদি কোনো কাজ করতে দুই মিনিটের কম সময় লাগে, তবে সেটি পরে করার জন্য জমিয়ে না রেখে এখনই করে ফেলুন।' এটি শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমাদের মস্তিষ্কের একটি স্বভাব হলো অসম্পূর্ণ কাজের বোঝা বয়ে বেড়ানো। যখন আমরা দুই মিনিটের কাজগুলো দ্রুত শেষ করে ফেলি, তখন মস্তিষ্ক অনেক বেশি হালকা বোধ করে এবং বড় কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।

এটি যেভাবে কাজ করে

শুরু করার জড়তা কাটায়:

যেকোনো বড় কাজের সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো শুরু করা। এই রুলটি আমাদের মস্তিষ্ককে ফাঁকি দেয়। কাজটা যেহেতু ছোট, তাই মস্তিষ্ক খুব একটা বাধা দেয় না।

মানসিক প্রশান্তি দেয়:

ছোট ছোট কাজ শেষ করার মাধ্যমে আপনি একটি 'Sense of Accomplishment' বা জয়ের অনুভূতি পান, যা আপনাকে বড় কাজে উৎসাহ দেয়। 

বিশৃঙ্খলা রোধ করে:

ঘর অগোছালো হওয়া বা ইনবক্সে মেইল জমে যাওয়া মূলত দুই মিনিটের আলস্যের ফল। এই নিয়ম মানলে অগোছালো অবস্থা তৈরিই হয় না।

জেমস ক্লিয়ার-এর সংস্করণ:

নতুন অভ্যাস গড়তে বিখ্যাত লেখক জেমস ক্লিয়ার (Atomic Habits) এই নিয়মটিকে নতুন অভ্যাস গড়ার কাজে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, যেকোনো বড় অভ্যাসকে দুই মিনিটের একটি ছোট সংস্করণে নিয়ে আসুন।

ব্যায়াম করা: দুই মিনিট শরীরচর্চা করুন।

বই পড়া: মাত্র এক পৃষ্ঠা পড়ুন।

লেখালিখি: মাত্র দুই লাইন লিখুন। উদ্দেশ্য হলো অভ্যাসের 'শুরু' করাটাকে সহজ করা। একবার শুরু করে ফেললে সেটি চালিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

ক্যারিয়ার ও দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ

অফিসে:

কোনো ফাইলের ওপর স্বাক্ষর করা, ডেস্কের কাপটা ধুয়ে রাখা, বা ক্যালেন্ডারে একটি মিটিং নোট করা।

বাসায়:

খাওয়ার পর প্লেটটি ধুয়ে রাখা, ময়লাগুলো ডাস্টবিনে ফেলা বা কাপড় গুছিয়ে রাখা।

ব্যক্তিগত:

কাজে কাউকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়া বা প্রয়োজনীয় কোনো অ্যাপ আপডেট দেওয়া।

সতর্কতা

টু-মিনিট রুল মানে এই নয় যে সারাদিন শুধু ছোট ছোট কাজই করবেন। এর উদ্দেশ্য হলো বড় কাজের ফাঁকে ছোট ছোট কাজগুলো যাতে আপনার মনোযোগ নষ্ট না করে, তাই সেগুলোকে দ্রুত শেষ করে ফেলা। @ মো. আশিকুর রহমান


২৯

 ‘প্যানজেনেসিস’ (Pangenesis) তত্ত্ব 

চার্লস ডারউইনকে আমরা সাধারণত ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ বা ন্যাচারাল সিলেকশন তত্ত্বের জনক হিসেবেই জানি। কিন্তু ডারউইন বিশ্বাস করতেন যে বিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি প্রাকৃতিক নির্বাচন হলেও এটিই একমাত্র শক্তি নয়। ১৮৬০-এর দশকে তার তত্ত্বের ওপর আসা কিছু কঠিন তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু ধারণা গ্রহণ করেছিলেন, যা ছিল মূলত ল্যামার্কীয় (Lamarckian) চিন্তাধারার অংশ। এই প্রেক্ষাপটেই ১৮৬৮ সালে তিনি প্রস্তাব করেন ‘প্যানজেনেসিস’ (Pangenesis) তত্ত্ব এবং ‘জেমিউল’ (Gemmules) নামক কাল্পনিক কণার ধারণা।

১৮৫৯ সালে ‘অন দ্য অরিজিন অফ স্পিসিস’ প্রকাশের পর ডারউইন এক বিশাল তাত্ত্বিক সংকটের মুখে পড়েন। সে সময়ের প্রচলিত ধারণা ছিল ‘মিশ্রিত বংশগতি’ বা Blending Inheritance। এই ধারণা অনুযায়ী, পিতা ও মাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে মিশে যায় (যেমন লাল ও সাদা রং মিশলে গোলাপি হয়)। স্কটিশ ইঞ্জিনিয়ার ফ্লেমিং জেনকিন (Fleeming Jenkin) বিষয়টির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেন, যদি বংশগতি এভাবে কাজ করে, তবে কোনো নতুন উপকারী বৈশিষ্ট্য পপুলেশনে টিকে থাকতে পারবে না, বরং কয়েক প্রজন্মের মধ্যেই তার প্রভাব ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে হতে একসময় হারিয়ে যাবে। এই সমালোচনা ডারউইনকে নিতান্ত ভাবিয়ে তুলেছিল। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ডারউইনকে এমন একটি বংশগতি বা ইনহেরিটেন্স মডেল দাঁড় করাতে হয়েছিল যা ব্যাখ্যা করতে পারবে যে কীভাবে নতুন প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশন পপুলেশনে তৈরি হয় এবং টিকে থাকে।

এই সংকটের উত্তর হিসেবে পরিবেশ এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কীভাবে বংশগতিকে প্রভাবিত করে, তার কার্যকারণ ব্যাখ্যা করার জন্য ১৮৬৮ সালে প্রকাশিত তার বই ‘The Variation of Animals and Plants Under Domestication’-এ ডারউইন ‘প্যানজেনেসিস’ নামক একটি অনুকল্প (Hypothesis) প্রস্তাব করেন। ডারউইনের প্যানজেনেসিস তত্ত্বের মূল কথা ছিল: পরিবেশ জীবের ওপর প্রভাব ফেলে এবং জীবদ্দশায় অর্জিত এই পরিবর্তনগুলো পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হতে পারে। অর্থাৎ, ডারউইন এখানে জঁ-ব্যাপ্টিস্ট লামার্কের ‘অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি’ (Inheritance of Acquired Characters) নীতিকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের সহায়ক শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

প্যানজেনেসিস তত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘জেমিউল’ নামক অতিক্ষুদ্র, অদৃশ্য কিছু কণা। এই অনুকল্প অনুযায়ী শরীরের প্রতিটি দেহকোষ (Somatic Cell)—তা সে পেশীকোষ হোক বা হাড়ের কোষ—নিজস্ব প্রতিলিপি হিসেবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা বা ‘জেমিউল’ নিঃসরণ করে। এই জেমিউলগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সারা শরীর ঘুরে বেড়ায়। শেষ পর্যন্ত এই কণাগুলো প্রজনন অঙ্গে (জননকোষ বা Gametes) গিয়ে জমা হয়। যখন প্রজনন ঘটে, তখন পিতা ও মাতার শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা এই জেমিউলগুলো মিলিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে।

ডারউইন মনে করতেন, যদি কোনো প্রাণী তার জীবদ্দশায় কোনো অঙ্গ বেশি ব্যবহার করে (যেমন কামারের হাতের পেশী শক্তিশালী হওয়া), তবে সেই অঙ্গ থেকে পরিবর্তিত বা শক্তিশালী জেমিউল নির্গত হবে। এই জেমিউলগুলো জননকোষে গিয়ে জমা হবে এবং সন্তানের মধ্যেও সেই শক্তিশালী পেশীর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাবে। এভাবেই ডারউইন পরিবেশগত প্রভাব এবং বংশগতির মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছিলেন।

বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে যেখানে একজন বিজ্ঞানী তার নিজের তত্ত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে উল্টোটা আবিষ্কার করে বসেন। চার্লস ডারউইনের এক দূর সম্পর্কের ভাই, ভিক্টোরিয়ান যুগের বহুশাস্ত্রবিদ ফ্রান্সিস গ্যাল্টন (Francis Galton) ডারউইনের এই তত্ত্বটি দ্বারা এতটাই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে তিনি এটি পরীক্ষাগারে প্রমাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। গ্যাল্টনের যুক্তি ছিল খুব সরল: যদি ডারউইনের ধারণা সত্য হয়, জেমিউলগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে চলাচল করবে, তবে এক প্রাণীর রক্ত অন্য প্রাণীর দেহে প্রবেশ করালে দাতার বৈশিষ্ট্য গ্রহীতার সন্তানের মধ্যে প্রকাশ পাওয়ার কথা। কারণ রক্তের সাথে দাতার জেমিউলও গ্রহীতার দেহে চলে যাবে।

--------------------------------------------------------------------------

১৮৭০-এর দশকে গ্যাল্টন তার এই যুগান্তকারী পরীক্ষার জন্য ভিন্ন ভিন্ন জাতের খরগোশ বেছে নেন। এর মধ্যে একটি ছিল সাধারণ জাতের খরগোশ এবং অন্যটি ছিল ‘সিলভার-গ্রে’ (Silver-grey) বা রুপালি-ধূসর রঙের বিশেষ জাতের খরগোশ। গ্যাল্টন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এক জাতের খরগোশের দেহ থেকে রক্ত নিয়ে অন্য জাতের খরগোশের দেহে সঞ্চালন (Transfusion) করেন। তিনি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে রক্তের পরিমাণ যেন যথেষ্ট হয় যাতে প্রচুর সংখ্যক জেমিউল স্থানান্তরিত হতে পারে। এরপর তিনি রক্ত গ্রহণকারী খরগোশগুলোর মধ্যে প্রজনন ঘটান।

গ্যাল্টন আশা করেছিলেন (এবং ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী হওয়ার কথা ছিল) যে, রক্ত গ্রহণকারী খরগোশের সন্তানদের মধ্যে দাতা খরগোশের কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে। যেমন, সাধারণ খরগোশের গায়ে সিলভার-গ্রে রঙের ছোপ দেখা যাবে বা তাদের কানের গঠনে পরিবর্তন আসবে।

কিন্তু ফলাফলে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রজনন ঘটানোর পরেও খরগোশগুলোর সন্তানদের মধ্যে দাতা খরগোশের কোনো বৈশিষ্ট্যই প্রকাশ পেল না। সিলভার-গ্রে খরগোশের রক্ত নেওয়া সাধারণ খরগোশগুলো হুবহু সাধারণ খরগোশের মতোই বাচ্চা জন্ম দিল। রক্তের মাধ্যমে কোনো ‘বংশগতির কণা’ বা জেমিউল স্থানান্তরিত হয়নি বা হলেও তা বংশগতিতে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

এই পরীক্ষার ফলাফল গ্যাল্টনকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিল যে, ডারউইনের ‘জেমিউল’ ধারণাটি সম্ভবত ভুল। তিনি প্রমাণ করলেন যে, বংশগতির উপাদান রক্তে ভেসে বেড়ায় না বা দেহকোষ (Soma) থেকে জননকোষে স্থানান্তরিত হয় না। ১৮৭১ সালে রয়্যাল সোসাইটিতে গ্যাল্টন তার এই গবেষণাপত্রটি পাঠ করেন, যা ডারউইনের প্যানজেনেসিস তত্ত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল।

--------------------------------------------------------------------------

এর পর বিবর্তন তত্ত্বকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান জার্মান বিবর্তনতত্ত্ববিদ অগাস্ট ভাইসম্যান (August Weismann)। তাকে অনেকেই ডারউইনের পরে উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ বিবর্তনববিদ হিসেবে গণ্য করেন। ভাইসম্যানের যুগান্তকারী অবদান ছিল ‘জার্ম প্লাজম থিওরি’ এবং ‘ভাইসম্যান ব্যারিয়ার’, যা নব্য-ডারউইনতত্ত্বের (neo-Darwinism) জন্ম দেয়। ১৮৮৩ সালে অগাস্ট ভাইসম্যান তার বিখ্যাত ‘জার্ম প্লাজম থিওরি’ প্রস্তাব করেন।

ভাইসম্যান জীবদেহের কোষগুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করেন:

১. সোমাটোপ্লাজম (Somatoplasm) বা দেহকোষ: এগুলো হলো শরীরের সাধারণ কোষ (যেমন—পেশী, হাড়, ত্বক, স্নায়ু ইত্যাদি), যা জীবের দৈনন্দিন কাজ এবং জীবনধারণের জন্য দায়ী। এই কোষগুলো জীবের মৃত্যুর সাথে সাথেই মারা যায় এবং পরবর্তী প্রজন্মে কোনো তথ্য পাঠায় না। ২. জার্মপ্লাজম (Germplasm) বা জননকোষ: এগুলো হলো শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু উৎপাদনকারী কোষ। ভাইসম্যানের মতে, শুধুমাত্র এই কোষগুলোর মধ্যেই বংশগতির তথ্য বা ‘হেরিডিটরি মেটেরিয়াল’ থাকে।

ভাইসম্যানের তত্ত্বের মূল কথা ছিল—বংশগতি বা ইনহেরিটেন্স শুধুমাত্র জার্মপ্লাজমের মাধ্যমেই ঘটে। দেহকোষ বা সোমাটোপ্লাজমের কোনো পরিবর্তন জার্মপ্লাজমকে প্রভাবিত করতে পারে না। অর্থাৎ, বংশগতি হলো জার্মপ্লাজমের ধারাবাহিকতা (Continuity of Germplasm), দেহকোষের ধারাবাহিকতা নয়। জার্ম প্লাজম থিওরি থেকেই উঠে আসে জীববিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—‘ভাইসম্যান ব্যারিয়ার’। সহজ কথায়, ভাইসম্যান ব্যারিয়ার নির্দেশ করে যে, বংশগতির তথ্যের প্রবাহ কেবল একমুখী (One-way street): জার্মপ্লাজম → দেহকোষ। দেহকোষের কোনো তথ্য জননকোষে ফিরে আসতে পারে না।

এর অর্থ হলো, আপনি যদি জিমে গিয়ে ব্যায়াম করে শক্তিশালী পেশী তৈরি করেন (দেহকোষের পরিবর্তন), তবে সেই তথ্য আপনার শুক্রাণু বা ডিম্বাণুর ডিএনএ-তে (জার্মপ্লাজম) প্রবেশ করবে না। ফলে আপনার সন্তান শক্তিশালী পেশী নিয়ে জন্মাবে না। এই ধারণাটি ল্যামার্কবাদ এবং ডারউইনের প্যানজেনেসিসকে সরাসরি বাতিল করে দেয়।

ভাইসম্যান তার তত্ত্ব প্রমাণের জন্য এবং ল্যামার্কের ‘অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি’ ভুল প্রমাণের জন্য একটি ঐতিহাসিক পরীক্ষা চালান। তিনি পরীক্ষাগারে ইঁদুরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা করেন। তিনি ৬৮টি সাদা ইঁদুর নেন এবং তাদের সবার লেজ কেটে দেন। এরপর এই লেজকাটা ইঁদুরগুলোর মধ্যে প্রজনন ঘটান। তাদের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর দেখা গেল, তাদের সবার লম্বা লেজ রয়েছে। ভাইসম্যান সেই প্রজন্মের ইঁদুরের লেজও কেটে দেন এবং পুনরায় প্রজনন ঘটান।এভাবে তিনি টানা বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে ইঁদুরের লেজ কেটে পরীক্ষা চালান। কিন্তু প্রতিবারই নতুন প্রজন্মের ইঁদুরগুলো স্বাভাবিক লম্বা লেজ নিয়েই জন্মায়। কোনো প্রজন্মের ইঁদুরের লেজ এমনকি সামান্য ছোটও হয়নি।

এই পরীক্ষা থেকে ভাইসম্যান চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেন যে, পরিবেশগত প্রভাব বা দেহের কোনো অঙ্গহানি (Somatic change) বংশগতিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। ল্যামার্কের তত্ত্ব ভুল এবং ডারউইনের প্যানজেনেসিস বা জেমিউল ধারণা ভিত্তিহীন।

অগাস্ট ভাইসম্যানের এই আবিষ্কার বিবর্তন জীববিজ্ঞানের জন্য ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। তিনি প্রমাণ করেন যে, বিবর্তন বা ন্যাচারাল সিলেকশন কাজ করে শুধুমাত্র সেই ভ্যারিয়েশন বা প্রকরণের ওপর যা জার্মপ্লাজমে (আজকের ভাষায় ডিএনএ বা জিনে) ঘটে। এটি বিবর্তনকে ‘সফট ইনহেরিটেন্স’ (পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত বংশগতি) থেকে বের করে ‘হার্ড ইনহেরিটেন্স’ (জিনগত বংশগতি)-এর দিকে নিয়ে যায়।

ভাইসম্যানের এই কঠোর প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং ল্যামার্কবাদের সম্পূর্ণ বর্জন—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে ‘নব্য-ডারউইনtottw’ (Neo-Darwinism)। পরবর্তীতে মেন্ডেলের সূত্র পুনরাবিষ্কৃত হলে দেখা যায় যে ভাইসম্যানের জার্মপ্লাজম আসলে মেন্ডেলের ‘ফ্যাক্টর’ বা জিনেরই ধারক, যা আধুনিক মলিকুলার বায়োলজির ভিত্তি স্থাপন করে। @ বে ওয়াল্ড

৩০


আত্মবিশ্বাস কি বাস্তবতাকে প্রভাবিত করতে পারে?

ডাক্তাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন— ‘আপনার ছেলে আর ফিরবে না। ও 'ব্রেন ডেড' (Brain Dead)। লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

ঘটনাটি ২০১৫ সালের। টেক্সাসের এক হাসপাতালে ২৭ বছরের তরুণ জর্জ পিকারিং (জুনিয়র) ম্যাসিভ স্ট্রোক করে কোমায় চলে যায়। ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঘোষণা দেন, তার মস্তিষ্ক আর কাজ করছে না। তারা ‘টার্মিনাল উইনিং’ বা লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কিন্তু বাবা জর্জ পিকারিং (সিনিয়র) এটা মানতে পারছিলেন না। তাঁর মনে হচ্ছিল, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। ছেলের হার্টবিট তখনো চলছে, শরীর উষ্ণ। তিনি ডাক্তারদের কাছে আরও একটু সময় ভিক্ষা চাইলেন। কিন্তু হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, ‘ব্রেন ডেড’ রোগীর লাইফ সাপোর্ট বেশিক্ষণ রাখা যায় না।

উপায় না দেখে মরিয়া হয়ে উঠলেন বাবা। তিনি পি/স্ত/ল হাতে সোজা আইসিইউ-তে ঢুকে পড়েন এবং ডাক্তারদের হু/ম/কি দেন— ছেলে পুরোপুরি মা/রা না যাওয়া পর্যন্ত কেউ যেন মেশিনে হাত না দেয়! পুলিশ এসে পুরো হাসপাতাল ঘিরে ফেলে। প্রায় তিন ঘণ্টা চলে এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি।

ঠিক সেই উত্তপ্ত মুহূর্তেই ঘটে মিরাকল!

বাবা তাঁর ছেলের হাত ধরে বারবার ডাকছিলেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন, ছেলে তাঁর হাতে আলতো করে চাপ দিচ্ছে। ডাক্তাররা প্রথমে বিশ্বাস করেননি, কিন্তু বাবার জেদের কাছে হার মেনে আবার চেক করেন। দেখা যায়, ছেলে সত্যিই সাড়া দিচ্ছে! অর্থাৎ, সে 'ব্রেন ডেড' ছিল না, বরং গভীর কোমায় ছিল।

ছেলের জ্ঞান ফেরার পর বাবা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর জেল হয়েছিল। কিন্তু কারাগার থেকে তিনি যখন বের হন, তখন তাঁকে রিসিভ করতে এসেছিল তাঁর সেই ছেলে— যাকে পৃথিবী মৃ/ত ঘোষণা করেছিল! ছেলেটি এখন পুরোপুরি সুস্থ।

সায়েন্স বা মেশিন সব সময় শেষ কথা বলে না, কখনও কখনও ভালোবাসার বিশ্বাস মেশিনের রিডিংকেও ভুল প্রমাণ করে দেয়।

৩২

আমরা অনেকেই কঠোর পরিশ্রম করি, তবুও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পাই না। 

কারণটা হয়তো পরিশ্রমের অভাব নয় বরং জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সময়মতো না শেখা। চলুন জেনে নিই সেই ৫টি মূল্যবান শিক্ষা—

১। আপনার পরিচিত বৃত্ত (Your Circle)—

আপনি কাদের সাথে সময় কাটান, সেটাই নির্ধারণ করে আপনার ভবিষ্যৎ। যদি আপনি এমন ৫ জন মানুষের সাথে চলেন যারা সবসময় অভিযোগ করে, তবে ষষ্ঠ অভিযোগকারী হবেন আপনিই। তাই সচেতনভাবে এমন মানুষের সঙ্গ বেছে নিন যারা ইতিবাচক, পরিশ্রমী এবং স্বপ্নবান। আপনার সার্কেলই আপনার লেভেল নির্ধারণ করে।

২। ডিগ্রি বনাম দক্ষতা (Skill vs Degree)—

ডিগ্রি আপনাকে একটি পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু দক্ষতা আপনাকে সাফল্য এনে দেয়। আজকের পৃথিবীতে কেউ আপনার মার্কশিট নয়, আপনার কাজ দেখতে চায়। আপনি কী সমস্যার সমাধান করতে পারেন সেটাই আসল। তাই নিজের একটি শক্তিশালী ও অনন্য দক্ষতা গড়ে তুলুন।

৩। স্বাস্থ্যই সম্পদ (Health is Wealth)—

আমরা অর্থ উপার্জনের জন্য শরীরকে অবহেলা করি, আর পরে সেই অর্থ ব্যয় করি স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়ার জন্য। মনে রাখবেন, অসুস্থ রাজার চেয়ে সুস্থ দিনমজুর অনেক বেশি সুখী। নিজের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন এটিই আপনার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

৪। লোকে কী বলবে? (What People Will Say)—

অন্যের মতামতের ভয়ে আমরা অনেক সময় নিজের স্বপ্নকে পিছনে ফেলে দিই। ভাবুন, আপনি মাঠের একজন ব্যাটসম্যান আর বাকিরা গ্যালারির দর্শক। আপনি আউট হলে বা ছক্কা মারলে তারা শুধু প্রতিক্রিয়া দেবে কিন্তু আপনার হয়ে খেলবে না। তাই মানুষের কথায় নয়, নিজের লক্ষ্যে ফোকাস রাখুন।

৫। সময়ের সঠিক ব্যবহার (Value of Time)—

ধরুন, প্রতিদিন সকালে আপনার অ্যাকাউন্টে ৮৬,৪০০ টাকা জমা হয়, আর দিন শেষে তা শূন্য হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিটি টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে চাইবেন। ঠিক তেমনি প্রতিদিন আমরা পাই ৮৬,৪০০ সেকেন্ড। একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। সময়ের সঠিক ব্যবহারই সাফল্যের চাবিকাঠি।

শেষ কথা:

সাফল্য কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। এটি সঠিক অভ্যাস, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সঠিক মানসিকতার ফল। এই ৫টি শিক্ষার মধ্যে কোনটি আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।-সংগৃহীত।

চাকা এলো কেমন করে

'চাকা' সভ্যতার অগ্রগতিতে বিশাল পরিবর্তন এনে পৃথিবীর চেহারা বদলে দিয়েছে। ধারণা করা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় মৃৎশিল্পের হাতিয়ার হিসেবে চাকার ব্যবহার শুরু হয়। এরপর চাকা পরিবহন ও যান্ত্রিক ব্যবস্থায় অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

চাকা আবিষ্কারের ইতিহাস

সভ্যতার ক্রমবিকাশের ফলে প্রস্তর যুগে মানুষ ভারী ভারী পাথর দিয়ে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করতে শুরু করে। কিন্তু ভারী পাথর একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়া কষ্টকর ছিল। ফলে মানুষ ভেবে চলে-কীভাবে কম পরিশ্রমে ভারী বস্তু অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে সেই সমস্যা সমাধানে মানুষ সমতল কাঠের তল ব্যবহার করে মালামাল পরিবহন করতে শুরু করে। কিন্তু এতেও মালামাল স্থানান্তরে অনেক কষ্ট হতো। সেই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে মানুষ সিলিন্ডার আকৃতির কাঠের গুঁড়ির ধারণা নিয়ে আসে এবং তা ধীরে ধীরে মানবসভ্যতাকে কাঠের চাকা ব্যবহার করার দিকে নিয়ে যায়। তবে সমস্যার শেষ হয় না, কারণ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কাঠ ক্ষয় হয়ে চাকায় ফাটল ধরে ভেঙেও যেত। প্রাচীন চীন ও তুর্কির মতো যেসব এলাকায় কাঠের সংকট ছিল, সেখানে কাঠের পরিবর্তে পাথরের চাকা ব্যবহার করা হতো। পাথরের চাকা অনেক ভারী হলেও বেশ টেকসই ছিল। 

গ্রিসের নতুন চাকা

নিরেট কাঠের চাকা ব্যবহারের যুগ শেষ হওয়ার পর প্রাচীন গ্রিসে এক নতুন ধরনের উন্নত চাকা আবিষ্কৃত হয়। এই চাকাগুলো ছিল ইংরেজি 'H' অক্ষরের মতো। অতিরিক্ত ভারের কারণে যেন ভেঙে না যায়, সেজন্য এসব চাকায় একাধিক তক্তা ব্যবহার করা হতো। আগের চাকার তুলনায় এগুলো টেকসই ও ভার বহনে বেশি কার্যকর হওয়ায় দীর্ঘ সময় এসব চাকার তেমন পরিবর্তন হয়নি। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ সাল নাগাদ ইউরোপ, ভারত ও চীনে বিভিন্ন ধরনের চাকার ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। তারা চাকার মধ্যে স্পোকের ব্যবহার শুরু করে। ফলে চাকা যেমন অনেক হালকা হয়, তেমনি গতিও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তখনো চাকা ক্ষয়ের সমস্যা থেকেই যায়। তারও প্রায় এক হাজার বছর পর ব্রোঞ্জ আবিষ্কৃত হলে চাকার চারপাশে ধাতব আবরণ দেওয়া শুরু হয়। এর ফলে চাকার স্থায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়।

আধুনিক চাকা

১৮ শতকের শুরুর দিকে চাকায় বিয়ারিং ও ধাতব এক্সেলের ব্যবহার শুরু হয়। এর ফলে গতি বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। ১৮৪৪ সালে চার্লস গুডইয়ার চাকার অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে ভলকানাইজড রাবার ব্যবহার করেন। এই নতুন চাকাগুলো মসৃণভাবে চলাচলের পাশাপাশি শক্তিশালী গ্রিপও প্রদান করে। ১৮৮৮ সালে আয়ারল্যান্ডে John Boyd Dunlop নিউমেটিক টায়ার আবিষ্কার করেন, যার ফলে চলাচল আরো আরামদায়ক হয় এবং একই সঙ্গে চাকার স্থায়িত্বও অনেক বৃদ্ধি পায়। ডানলপের চাকাতেই প্রথম পুরু রাবারের শক্ত স্তরের পরিবর্তে বাতাস দিয়ে ভরা টিউব ব্যবহার করা হয়, যা রাস্তার উঁচু-নিচু ঝাঁকুনি অনেক ভালো শোষণ করতে পারে। @ তানজিলা মেহের নন্দিতা


৩৪

নতুন তথ্য

আমরা সর্বোচ্চ ২০ কিলোহার্টজ পর্যন্ত শব্দ শুনতে পাই। বয়স বাড়লে সেই সীমা নেমে আসে ১২–১৫ কিলোহার্টজ পর্যন্ত। ডলফিনদের মতো প্রাণী ১৬০ কিলোহার্টজ এর বেশি শুনতে পারে না। কিন্তু এমন একটি ছোট পতঙ্গ আছে যার শ্রবণশক্তি মানুষের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি!

গ্রেটার ওয়াক্স মথ (Greater Wax Moth) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে তীক্ষ্ণ শ্রবণশক্তির অধিকারী প্রাণী। এই মথ ৩০০ কিলোহার্টজ পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারে। যা প্রাণীজগতে অন্য কোন প্রাণীর পক্ষে সম্ভব নয়।

স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ স্ট্রাথক্লাইড এর গবেষকরা এ তথ্য আবিষ্কার করেছেন। তাদের মতে, মথের প্রধান শত্রু হলো বাদুড়। বাদুড় শিকার করার সময় উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ ছড়িয়ে শিকার খুঁজে বের করে। মথের কান বিশেষভাবে তৈরি, যাতে তারা বাদুড়ের শ্রবণসীমার বাইরের শব্দও শুনতে পারে। এভাবেই চলছে বাদুড় আর মথের মধ্যে এক অদৃশ্য শব্দযুদ্ধ। বাদুড় আক্রমণ করে শব্দ দিয়ে, আর মথ টিকে থাকে তার থেকেও শক্তিশালী শ্রবণশক্তি দিয়ে।

গ্রেটার ওয়াক্স মথ কেবল বাদুড় থেকে বাঁচতে এমন ক্ষমতা তৈরি করেনি, বরং আমাদের জন্যও নিয়ে আসছে নতুন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা। বিজ্ঞানীরা মথের কানের গঠন অনুকরণ করে ক্ষুদ্র ও সংবেদনশীল মাইক্রোফোন তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যা বাতাসে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ সনাক্ত করা অনেক সহজ করে তুলতে পারে।@ তাসিনুল সাকিফ

৩৫

তিরুপতি মন্দিরে দেবদাসী

দক্ষিণের তিরুপতি মন্দিরে দেবদাসী সংগ্রহের প্রাচীন পদ্ধতি সম্পর্কে খ্রিস্টান মিশনারি অ্যাবে জে এ র্দুবা এক সমীক্ষায় লিখেছেন–“বছরের একটি বিশেষ দিনে এই মন্দিরের পুরোহিতেরা ভগবান বেঙ্কটেশ্বরের প্রতিমূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বের করতেন এবং পথে যত সুন্দরী মেয়ে চোখে পড়ত তাঁদেরকে দেবদাসী করার দাবি জানাত। শুধু কুমারী মেয়েই নয়, সুন্দরী বিবাহিত মেয়েদেরও দাবি করত তাঁরা। এ থেকেই বোঝা যায়, দেবদাসী করার জন্য মেয়েদেরকে জোর করেই তুলে আনা হত।” দুবার এহেন মন্তব্য। গবেষক পণ্ডিত জি জি ফ্রজার পশ্চিম আফ্রিকায় দেবদাসী সংগ্রহের যে অভিনব উপায়ের উল্লেখ করেছেন, তা থেকে জানা যায়–মেয়েদের জোর করে তুলে এনে দেবদাসী থেকে গণিকা বানানো হত। ফ্রিজার লিখেছেন–“পুরোহিতরা একটা বিশেষ দিনে নগরের পথে পথে ঘুরে বেড়াত এবং সেদিন দুয়ারের বাইরে যত কুমারী মেয়ে পেত তাঁদের সবাইকে ধরে নিয় যেত মন্দিরে দেবদাসী করার জন্যে।”

রাজ্য জয় করে রাজারা যেমন গোরু-ছাগলের মেয়েদের মতো তুলে আনত, তেমনই সেইসব মেয়েদের ধরে ধরে দেবদাসী তথা গণিকায় পরিণত করত। আদতে এভাবেই দেবতাদের বউ বানানোর অছিলায় মেয়েদেরকে গণিকা বানিয়ে গণভোগ্যা বানিয়ে নিত সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। ১৮৬৭-৬৮ সালে জন শর্ট লন্ডনের অ্যানথ্রোপলজিক্যাল সোসাইটিতে ভারতের দেবদাসীদের প্রসঙ্গে একটি বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ করেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে–মন্দিরে দেবদাসীদের কুমারীত্ব’ বহিরাগত ধনীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হত। তারপর তাঁরা গণিকাবৃত্তিতে নিয়োজিত হত।

৩৬

চিড়া: শক্তির উৎস নাকি হজমের শত্রু?

​বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনে, বিশেষ করে সকালের নাস্তায় বা গরমের দিনে প্রশান্তি পেতে দই-চিড়ার কোনো তুলনা নেই। ধানের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রক্রিয়াজাত রূপ হলো এই চিড়া, যাকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ‘পৃথুকা’ (Prithuka) বলা হয়। সিরিজের একেবারে শেষ পর্বে আজ আমরা আলোচনা করব চিড়ার পুষ্টিগুণ, মেটাবলিক প্রভাব এবং আয়ুর্বেদীয় সতর্কতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিয়ে। কারণ, যে চিড়াকে আমরা সহজে হজমযোগ্য হালকা খাবার মনে করি, বিজ্ঞান ও শাস্ত্রের দৃষ্টিতে তার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন!

আমরা অনেকেই মনে করি চিড়া খুব হালকা বা লঘুপাক খাবার। কিন্তু আয়ুর্বেদ সংহিতায় চিড়াকে স্পষ্টভাবে ‘গুরু’ বা হজমে অত্যন্ত ভারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একে বলা হয়েছে ‘বিষ্টম্ভী’—অর্থাৎ এটি অন্ত্রে গিয়ে মল বা গ্যাস আটকে রাখতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করতে পারে। ধানকে আংশিক সিদ্ধ করে, ভেজে তারপর পিটিয়ে চিড়া তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ার কারণে এটি শরীরকে তাৎক্ষণিক বল বা পুষ্টি (বৃষ্য) দিলেও, এটি হজম করতে পাকস্থলীর এনজাইম বা ‘অগ্নি’-এর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই কারণেই আয়ুর্বেদে শুকনো চিড়া খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায়, চিড়া বা ফ্লাটেন্ড রাইস (Flattened Rice) হলো ‘প্রি-জেলটিনাইজড স্টার্চ’ (Pre-gelatinized starch)। ধান সিদ্ধ (Parboiling) করার কারণে ধানের খোসায় থাকা বি-ভিটামিন এবং আয়রন চালের দানার গভীরে শোষিত হয়। তাই সাধারণ সাদা চালের চেয়ে চিড়ায় আয়রন ও ভিটামিনের পরিমাণ বেশি থাকে, যা রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

​কিন্তু মেটাবলিক স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে চিড়ার একটি বড় দুর্বলতা রয়েছে। ধানকে যখন পিটিয়ে চ্যাপ্টা করা হয়, তখন এর ‘সারফেস এরিয়া’ (Surface Area) বা উপরিভাগের আয়তন বহুগুণ বেড়ে যায়। এর মানে হলো, চিড়া খাওয়ার পর আমাদের লালারস এবং পাচক রস খুব দ্রুত এর স্টার্চকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করতে পারে। ফলে সাধারণ ভাতের চেয়ে চিড়ার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশ হাই থাকে।

যারা ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ফ্যাটি লিভার বা পিসিওএস (PCOS)-এ ভুগছেন, তাদের জন্য দুধ, কলা ও চিনি দিয়ে মাখানো চিড়া আক্ষরিক অর্থেই একটি ‘সুগার বোম্ব’ (Sugar Bomb)। এটি খাওয়ার পর রক্তে দ্রুত সুগার স্পাইক হয়। এছাড়া বাজারে এখন যে ধবধবে সাদা ও পাতলা চিড়া পাওয়া যায়, তা অতিরিক্ত পলিশ করা বা মেশিনে ঘষা ধান থেকে তৈরি, যাতে ফাইবারের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় থাকে। মেটাবলিক সুস্থতা এবং ফুড সেফটি নিশ্চিত করতে বাজার থেকে অবশ্যই লাল ধান বা ঢেঁকি ছাঁটা চালের (Unpolished) লালচে ও মোটা চিড়া সংগ্রহ করতে হবে।

​চিড়া খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি বা ‘সংস্কার’:

চিড়াকে স্বাস্থ্যকর ও মেটাবলিক-বান্ধব করতে হলে এর প্রস্তুতিতে কিছু বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন বা ‘মডিফিকেশন’ আনতে হবে:

​১. দই-চিড়া (প্রোবায়োটিক কম্বিনেশন): চিড়া কখনোই শুধু পানিতে ভিজিয়ে বা শুকনো খাবেন না। টক দইয়ের (প্রোবায়োটিক) সাথে ভিজিয়ে খেলে চিড়ার ভারীত্ব বা ‘গুরু’ ভাব কেটে যায় এবং এটি হজম করা সহজ হয়। চিনি বা মিষ্টি ফলের বদলে সামান্য ফাইবার যুক্ত ফল বা বীজ (যেমন- চিয়া সিড) যোগ করলে এর সুগার স্পাইক অনেকটাই কমে যায়।

২. পোহা (Poha) বা সবজি-চিড়া: চিড়াকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাওয়ার পদ্ধতি হলো একে রান্না করে খাওয়া। চিড়া ধুয়ে পানি ঝরিয়ে তার সাথে প্রচুর পরিমাণে সবজি (ফাইবার), চিনাবাদাম (প্রোটিন ও ফ্যাট) এবং কারিপাতা বা সরিষা ফোড়ন (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি মসলা) দিয়ে রান্না করলে চিড়ার গ্লাইসেমিক লোড (GL) একদম কমে যায়। ফাইবার ও ফ্যাট যুক্ত হওয়ার কারণে এটি আর সুগার স্পাইক করতে পারে না এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।

৩৭

প্রাণীজগতের সবচেয়ে ত্যাগী বাবা-মা ‘অক্টোপাস’।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রাণীর মধ্যে একটি অক্টোপাস। তাদের জীবন-ধারণ আকৃতির সবকিছুই আমাদেরকে বিস্মিত করে। সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে সন্তানের জন্য তাদের অপরিসীম ত্যাগ ও ভালোবাসা। বাচ্চাদের পৃথিবীর আলো দেখাতে নিজের জীবন দিতে হয় বাবা অক্টোপাসকে। প্রাণী জগতের অন্যান্য অনেক প্রাণীদের মতো অক্টোপাসের প্রজনন ঘটে মিলনের মাধ্যমে। পুরুষের দেহে হেক্টোস ও টাইনোস নামে একটি বাহু রয়েছে। মিলনের সময় তারা এটির মাধ্যমে শুক্রানু স্থানান্তর করে থাকে স্ত্রী অক্টোপাসের দেহে। পৃথিবীর বিস্ময়কর এই প্রাণীর মিলন প্রক্রিয়া থাকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত। এই মিলন থেকে উৎপন্ন হয় অক্টোপাসের ডিম এবং পরবর্তীতে জন্ম নেয় বাচ্চা। তবে এর জন্য জীবন দিয়ে খেসারত দিতে হয় পুরুষ অক্টোপাসকে। কারণ যৌন মিলন করার দুই মাসের মধ্যেই মারা যায় তারা। সন্তানের জন্য বাবা অক্টোপাসের এই ত্যাগ পৃথিবীর জন্য বিস্মকর। শুধু তাই নয় বাচ্চাদের জন্য জীবন দিয়ে থাকে স্ত্রী অক্টোপাসও। সেজন্য প্রাণী জগতের সবচেয়ে ত্যাগী বলা হয় মা অক্টোপাসকে। মা অক্টোপাস ডিম পাড়ে সাগরের নিচে কোনো সুরক্ষিত নুড়িপাথরের গুহায়। তারপর ডিমগুলো যাতে কাঁকড়া বা অন্য কোনো প্রাণী খেতে না পারে সে জন্য নিজেই পাহারা দিয়ে থাকে। এভাবে অনেক দিন থাকার পর ডিম ফুটে জন্ম নেয় বাচ্চা।

বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, ডিম পাড়ার পর মা অক্টোপাস তার বাহু বিছিয়ে শুয়ে থাকে গুহার সামনে। এসময় সাইকনের সাহায্যে সৃষ্টি করতে থাকে এক ধরনের তরঙ্গ। যার কারণে কোনো কিছুর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে না ডিমের উপর। এমনকি ডিমের মধ্যে বাতাস, এমনকি ডিমের মধ্যে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করে রাখে মা অক্টোপাস। এরকমভাবে প্রায় তার সময় ব্যয় করে বাচ্চাদের জন্য, এই পুরো সময় কোন কিছুই খায় না তারা, সেজন্য মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে যায় মা অক্টোপাসের। সন্তানের প্রতি তাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের জন্য অক্টোপাসকে বলা হয় প্রাণী জগতের সবচেয়ে ত্যাগী মা। সাগরে বিস্ময়কর এই প্রাণীর সবকিছুই অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিছু দিক দিয়ে মানুষের সাথে মিল রয়েছে তাদের আচরণে, সমুদ্রে নিজের স্ত্রী অক্টোপাসকে প্রায়ই বিরক্ত করার চেষ্টা করে পুরুষ অক্টোপাস।

তখন স্ত্রী অক্টোপাসও বসে থাকে না বরং পুরুষ অক্টোপাসের জ্বালাতন থেকে বাঁচতে অদ্ভুত এক কৌশল অবলম্বন করে সে। তারা সমুদ্র তলায় জমে থাকা ঝিনুকের খোসাসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা জ্বালাতনের কারণে রেগে গেলে পুরুষ অক্টোপাসের দিকে সব আবর্জনা ছুড়ে মারে স্ত্রী অক্টোপাস। তখন বাধ্য হয়ে যেতে হয় পুরুষ সঙ্গীকে কিংবা আবর্জনা ছুড়ে মেরে নিজেই সরে যায় স্ত্রী অক্টোপাসটি।

অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন, সাগরের নিচে এমন খুনসুটি প্রায়ই করে থাকেন অক্টোপাস দম্পতি। শুধু সঙ্গী নয় শত্রু থেকেও বাঁচার জন্য অসাধারণ কৌশল রয়েছে অক্টোপাসের কাছে। আত্মরক্ষার জন্য চতুর্দিকে এক ধরনের কালি ছুঁড়ে দেয় তারা।এক প্রকার রাসায়নিক অস্ত্রের মতো এর মধ্যে থাকে ডায়োসিজ নামে এক ধরনের পদার্থ কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ করে রাখে অক্টোপাসের শত্রুকে। শুধু তাই নয় এ কালির কারণে নষ্ট হয়ে যায় শত্রুর মুখের স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তিও। শত্রু থেকে বাঁচার জন্য পালানোর প্রয়োজন হয় না অক্টোপাসকে। এদের জন্য অসাধারণ ছদ্মবেশ ধারণের ক্ষমতা রয়েছে, এক মুহূর্ত সময় পেলে নিজেদের আকৃতি পাল্টে ফেলে এরা। তারপর অক্টোপাসকে আর চিনতে পারে না শত্রু অক্টোপাস। সাগরে বিস্ময়কর এই প্রাণীর দেহে কোনো হাড়ের অস্তিত্বই নেই। তাই ছোটোখাটো আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে তাদের বাহু। তবে তাদের হয়েছে উৎপাদনক্ষমতা, সেজন্য কোন বাহু বিচ্ছিন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত সেটা ঠিক হয়ে যায় নিজে নিজেই।

৩৮

হাউস ডাস্ট মাইট কী?

হাউস ডাস্ট মাইট হলো অতি ক্ষুদ্র জীব, যেগুলো চোখে দেখা যায় না।

এগুলো সাধারণত: বিছানার চাদর, বালিশ, তোশক, পর্দা, কার্পেট, নরম খেলনা-এর মধ্যে থাকে। এরা কামড়ায় না, কিন্তু এদের মল ও দেহের অংশে অ্যালার্জি হয়।

হাউস ডাস্ট মাইট অ্যালার্জির লক্ষণ:

নাক ও চোখের লক্ষণ:

1. বারবার হাঁচি

2. নাক দিয়ে জল পড়া

3. নাক বন্ধ থাকা

4. নাকে চুলকানি

5. চোখ লাল হওয়া ও জল পড়া

শ্বাসতন্ত্রের লক্ষণ:

1. শ্বাস নিতে কষ্ট

2. বুকে চাপ বা আঁটসাঁট ভাব

3. রাত বা ভোরে কাশি

4. হাঁপানির অ্যাটাক বেড়ে যাওয়া

ত্বকের লক্ষণ:

ত্বকে চুলকানি

একজিমা বা র‍্যাশ বেড়ে যাওয়া

লক্ষণগুলো সাধারণত রাতে, ঘুমের সময় বা ঘর পরিষ্কার করার সময় বেশি হয়।

হাউস ডাস্ট মাইট থেকে আরাম পাওয়ার উপায়:

এই পোকা থেকে একশ শতাংশ মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়.

যে যে উপায়গুলো অবলম্বন করলে হাউস ডাস্ট মাইট অনেকটা কমানো যাবে :

বিছানা ও কাপড় সংক্রান্ত:

সপ্তাহে অন্তত ১ বার গরম জলে (≥৬০°C) চাদর, বালিশের কভার ধোবেন

তোশক ও বালিশে ডাস্ট মাইট প্রুফ কভার ব্যবহার করুন

নরম খেলনা কম রাখুন, বা নিয়মিত ধুয়ে রোদে শুকান

ঘর পরিষ্কার রাখা:

প্রতিদিন ঝাড়ু না দিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন

কার্পেট, ভারী পর্দা এড়িয়ে চলুন

ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কম রাখুন

বাতাস ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ:

ঘরের আর্দ্রতা ৫০% এর নিচে রাখুন

রোদ ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন

এয়ার কন্ডিশনার বা ডিহিউমিডিফায়ার উপকারী

ব্যক্তিগত অভ্যাস:

ঘর পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন

সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ও নাক ধুয়ে নিন

চিকিৎসা (ডা*ক্তারের পরামর্শে):

অ্যান্টি*হিস্টামিন

নাজাল স্টে*রয়েড স্প্রে

হাঁ*পানি থাকলে ইনহেলার

কিছু ক্ষেত্রে অ্যা*লার্জেন ইমিউনো*থেরাপি

৩৯

পৃথিবীর প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে ৯ জনই ডানহাতি। অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি। একটা ছোট্ট পরীক্ষা করেও দেখতে পারেন। আপনার আশপাশের দশ জন মানুষকে দেখুন তো, তাদের মধ্যে একজনের বেশি বাঁহাতি আছে কিনা। থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এভাবে যদি ২০ জন তার আশপাশের মানুষদের পরীক্ষা করে, তাহলে হয়তো সবাই মাত্র একজন করেই বাঁহাতি খুঁজে পাবেন না। কারণ, পুরো পৃথিবীতে প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষই ডানহাতি। এরমধ্যে আবার খুব কম মানুষ আছে, যারা দুই হাতেই সমান পারদর্শী। মজার ব্যাপার হলো, আপনি পৃথিবীর যে দেশেই যান না কেন, এই একই হিসাব পাবেন। এমন কোনো দেশ নেই যেখানে বাঁহাতিদের সংখ্যা বেশি। কিন্তু কেন? কেন আমাদের বেশিরভাগই একটা ডান হাতকে বেশি গুরুত্ব দিই?

অনেকে ভাবেন, এটা হয়তো পরিবার থেকে এসেছে। কথাটা পুরোপুরি ভুল নয়। এশিয়া, আফ্রিকা বা আরবের অনেক দেশে বাঁ হাতকে অপরিষ্কার বা অশুভ মনে করা হয়। সেখানে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের জোর করে, এমনকি শাস্তি দিয়ে বাঁ হাত বেঁধে রেখে ডানহাতি বানানো হয়। এসব দেশে বাঁহাতির সংখ্যা তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেক কম।

কিন্তু আসল কথা হলো, যেসব দেশে এমন কোনো সামাজিক চাপ নেই, সেখানেও বাঁহাতিরা সংখ্যালঘু! এই কারণেই বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। কী সেই রহস্য?

এশিয়া, আফ্রিকা বা আরবের অনেক দেশে বাঁ হাতকে অপরিষ্কার বা অশুভ মনে করা হয়। সেখানে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের জোর করে, এমনকি শাস্তি দিয়ে বাঁ হাত বেঁধে রেখে ডানহাতি বানানো হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই খেলাটা শুরু হয় আমাদের জন্মের অনেক আগে, মায়ের পেটে থাকতেই! এক গবেষণায় আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানে দেখা গেছে, মাত্র ১০ সপ্তাহের একটা ছোট্ট ভ্রূণও তার ডান হাতটা বাঁ হাতের চেয়ে বেশি নাড়াচাড়া করে। আর ১৫ সপ্তাহ বয়সেই বেশিরভাগ শিশু ডানদিকের বুড়ো আঙুল চুষতে শুরু করে!

বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের জিনের নকশাতেই ডানহাতি হওয়াটা যেন একটা ডিফল্ট সেটিং হিসেবে ঠিক করা আছে। প্রায় ৪০টির মতো জিন আছে, যারা আমাদের মস্তিষ্ককে এমনভাবে তৈরি করে যেন সে স্বাভাবিকভাবেই ডান হাতকে তার প্রধান শক্তি হিসেবে মানে।

কিন্তু তারপরেও তো কিছু মানুষ বাঁহাতি হয়। কেন? আসলে এর পেছনে নির্দিষ্ট একটা কারণ নেই। এটা মূলত একটা র‍্যান্ডম ব্যাপার। যখন মায়ের পেটে একটা শিশুর মস্তিষ্ক তৈরি হতে থাকে, তখন কিছু রাসায়নিক অণুর সামান্য তারতম্যের কারণেই হয়তো কেউ কেউ বাঁহাতি হয়ে যায়। এর পেছনে আলাদা কোনো জিন বা পরিবেশের প্রভাব নেই।

বিজ্ঞানীরা আরও ভেবেছিলেন, ডানহাতি হলে হয়তো বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। তাই আমাদের পূর্বপুরুষেরা বেশিরভাগ ডানহাতি ছিলেন। তারা যখন প্রথম পাথর বা কাঠের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শেখে, তখন থেকেই হয়তো ডান হাতের কদর বাড়ে। প্রায় পাঁচ লাখ বছর আগের পুরানো যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করেও প্রত্নতাত্ত্বিকরা দেখেছেন, সেগুলো ডান হাতে ব্যবহারের জন্যই বেশি সুবিধাজনক ছিল।

এক গবেষণায় আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানে দেখা গেছে, মাত্র ১০ সপ্তাহের একটা ছোট্ট ভ্রূণও তার ডান হাতটা বাঁ হাতের চেয়ে বেশি নাড়াচাড়া করে।

মনোবিজ্ঞানী পল রডওয়ে আরও একটা মজার তত্ত্ব দিয়েছেন। তিনি বলছেন, এর পেছনে হয়তো যুদ্ধ-বিগ্রহের সম্পর্ক আছে। মধ্যযুগের কোনো তলোয়ার যুদ্ধের কথা ভাবুন। বেশিরভাগ মানুষের হৃৎপিণ্ড থাকে শরীরের বাঁ দিকে। একজন ডানহাতি যোদ্ধা যখন তলোয়ার চালাবে, সে সহজেই প্রতিপক্ষের বাঁ দিকে আঘাত করতে পারবে। মানে, যুদ্ধে একজন ডানহাতির হাতে একজন বাঁহাতির মারা পড়ার আশঙ্কা বেশি ছিল। ফলে যারা ডানহাতি, তারাই যুদ্ধ থেকে বেশি বেঁচে ফিরত। আর এই বাড়তি সুবিধার কারণেই হয়তো পৃথিবীতে ডানহাতিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ভাবতে পারেন, তাহলে বাঁহাতিরা টিকে থাকল কীভাবে? বাঁহাতিদেরও একটা বড় সুবিধা ছিল। তারা সংখ্যায় কম বলে তাদের চালচলন বোঝা খুব কঠিন ছিল! যুদ্ধে বা খেলায় একজন বাঁহাতি প্রতিপক্ষকে সামলানো খুবই কঠিন। কারণ, তাঁরা উল্টোদিক থেকে মারে। ক্রিকেটের কথাই ভাবুন। শুরুতে যে হিসেব দিয়েছিলাম, তাতে ১১ জন ক্রিকেটারের মধ্যে একজনের বেশি বাঁহাতি থাকার কথা নয়। কিন্তু খুঁজে দেখুন, প্রতিটি দলে একাধিক বাঁহাতি খেয়োলাড় আছে। কারণ, বাঁহাতিরাও কিছু বাড়তি সুবিধা করতে পারে। অনেক দল আবার ব্যাট করতে একজন বাঁহাতি ও একজন ডানহাতি ক্রিকেটার নামান। এতে প্রতিপক্ষের বোলাররা বিভ্রান্ত হন। 

অর্থাৎ, আমাদের সংস্কৃতি বা সমাজ হয়তো ঠিক করে দেয় যে, আমরা কোন হাত ব্যবহার করব। কথাটা ঠিক। কিন্তু আসল কাজটা হয়ে যায় আমাদের জন্মের আগেই। আমাদের জিনের কারণেই মস্তিষ্ক ডান হাতকে একটু বেশি পছন্দ করে। তবে বাঁহাতিরা সংখ্যায় কম হওয়ায় পায় বাড়তি সুবিধা!

৪০


অনবরত রিল বা শর্টস দেখার কারণে আপনার মস্তিষ্কে কী ঘটছে, জানেন?

শেষ কবে এমন একটা দিন কাটিয়েছেন, যেদিন ফেসবুক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে একটিও রিল বা শর্টস দেখেননি?

প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা কঠিনই হওয়ার কথা। কারণ, স্বল্পদৈর্ঘ্যের এসব ভিডিও আমাদের জীবনযাপনের অংশ হয়ে গেছে। মজা করে অনেকে এমনও বলেন, ‘রাত ১১টায় ইউটিউবে একটা শর্টস দেখতে শুরু করেছিলাম। “একটু পর” দেখি রাত ৩টা বাজে!’

ফেসবুকে একটি রিলের দৈর্ঘ্য হতে পারে সর্বোচ্চ তিন মিনিট। ইনস্টাগ্রামে ৯০ সেকেন্ড। ইউটিউবের একেকটি শর্টস অবশ্য এক মিনিটের বেশি নয়। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলোই আমাদের একরকম নেশায় ফেলে দেয়। একবার দেখা শুরু করলে আমরা দেখতেই থাকি। কিন্তু অনবরত রিল বা শর্টস দেখার কারণে আপনার মস্তিষ্কে কী ঘটছে, সেটা কি জানেন?

সম্প্রতি চীনের গবেষকেরা একটি বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, এই অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্কে, মানসিক স্বাস্থ্যে ও আচরণে কী কী প্রভাব ফেলে।

শিক্ষাবিষয়ক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সাইয়ের (PSY) মনোবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রি রাইজিক বলছেন, ছোট ছোট ভিডিও দেখার অভ্যাস মানুষের মস্তিষ্কে নানা রকম পরিবর্তন আনতে পারে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে একটি হলো, আরও বেশি হিংসাত্মক বা পরশ্রীকাতর হয়ে পড়া। অন্যের সাফল্য বা জীবনযাত্রা দেখে হিংসা অনুভব করা।

২০২৫ সালে চীনের ইন্টারনেট উন্নয়নের ৫৪তম পরিসংখ্যান প্রতিবেদন অনুসারে, শুধু চীনেই শর্টস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা চীনের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৫ শতাংশের বেশি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ কিশোর–কিশোরী ও বয়স্ক ব্যক্তি।

চীনের তিয়ানজিন নরমাল ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা ১১২ কলেজশিক্ষার্থীর ওপর একটি গবেষণা করেছিলেন। রিল বা শর্টস আমাদের মস্তিষ্কে কী প্রভাব ফেলে, তা-ই উঠে এসেছে এ গবেষণায়—

১. ঈর্ষা ও আসক্তি:-

ঈর্ষাকাতর মানুষের রিল বা শর্টসে আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অনেক সময় তাঁরা নেতিবাচক আবেগ থেকে মনকে ভুলিয়ে রাখতে কিংবা অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে বারবার শর্টসের কাছে ফিরে যান।

২. মস্তিষ্কের পরিবর্তন:-

শর্টসে আসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের যে অংশগুলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, সেই অংশে। তার মানে এই নয় যে শর্টস বা রিল আমাদের মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে; বরং এই অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে।

৩. জিনের ভূমিকা:-

গবেষণায় এমন কিছু জিন পাওয়া গেছে, যেগুলোর কার্যকারিতা ছোট ছোট ভিডিওর আসক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এতে বোঝা যায়, এ ধরনের আসক্তির প্রবণতা আংশিকভাবে জন্মগতও হতে পারে।

৪. কিশোর-কিশোরীদের আসক্তি:-

কিছু নির্দিষ্ট জিন বয়ঃসন্ধিকালে বেশি সক্রিয় থাকে, এর ফলে কিশোর–কিশোরীদের শর্টস বা রিলসে আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

১. বদলে যেতে পারে পুরস্কার গ্রহণের অভ্যাস

যেসব রিল বা শর্টসে দৃশ্য দ্রুত পরিবর্তন হয় বা যা আমাদের আবেগকে নাড়া দেয়, সেগুলো মস্তিষ্ককে একরকম ‘পুরস্কৃত’ করে। একে বলা যেতে পারে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’। মস্তিষ্ক যদি এ ধরনের উদ্দীপনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সে এ রকম ‘পুরস্কার’ আরও চাইতে শুরু করে। ফলে ভিডিও দেখার আসক্তি বাড়ে।

২. মনোযোগ হ্রাস:-

আমাদের মস্তিষ্কের ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ অংশটি পরিকল্পনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট ভিডিও বেশি দেখলে এই অংশের কার্যক্ষমতা কমতে পারে, ফলে ভিডিও দেখা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে পরিকল্পনা করা কঠিন বলে মনে হয়।

৩. তথ্য গ্রহণের ধরন বদলে যেতে পারে:-

মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ছোট ভিডিও ও খণ্ডিত তথ্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ ও জটিল বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে এবং ধীরগতির তথ্য প্রক্রিয়াকরণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা হতে পারে:-

অনেকে নেতিবাচক আবেগ, যেমন দুঃখ বা ঈর্ষা থেকে বাঁচতে শর্টস বা রিল দেখে, যা স্বল্প মেয়াদে কাজ করলেও দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক আবেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে গবেষণা বলছে, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওর কিছু ইতিবাচক দিক থাকতে পারে, তবে অতিরিক্ত দেখলে অভ্যাসগত পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। আবার এ ধরনের অভ্যাস সবার ওপর একই রকম প্রভাব ফেলবে, তা-ও নয়। ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ফল আলাদা হতে পারে।

এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবে সচেতন থাকাটা জরুরি, বিশেষ করে কিশোর–কিশোরীদের জন্য। সূত্র : ডেভ ইউ এ।।


৪১


মাত্র ১৫ মিনিট রোদে রাখলেই মাশরুম হয়ে উঠতে পারে পুষ্টির শক্তিশালী উৎস

আপনার রান্নাঘরেই খুব সহজ একটি উপায়ে মাশরুমের পুষ্টিগুণ অনেক বাড়ানো সম্ভব-শুধু একটু রোদে রাখলেই।

সাধারণ বাটন বা কাপ মাশরুম যদি সরাসরি দুপুরের রোদে ১৫ থেকে ৬০ মিনিট রাখা হয়, তাহলে এতে একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা মানুষের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরির প্রক্রিয়ার মতো কাজ করে।

সূর্যের UV-B রশ্মি মাশরুমের ভেতরে থাকা এরগোস্টেরল নামের উপাদানকে ভিটামিন D₂-তে রূপান্তর করে। ফলে মাশরুমের পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

সবচেয়ে ভালো ফল পেতে:মাশরুম স্লাইস করে কেটে নিন। গিল (নিচের অংশ) ওপরে রেখে ট্রেতে রাখুন

সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে রোদে দিন

এতে বেশি অংশ আলো পায় এবং ভিটামিন ডি বেশি তৈরি হয়।

এই সহজ পদ্ধতিতে একটি পরিবেশনে ভিটামিন ডি প্রায় শূন্য থেকে ৭০০ IU-এরও বেশি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রয়োজনের ১০০%-এরও বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, এভাবে রোদে রাখা মাশরুম শরীরে ভিটামিন ডি বাড়াতে খাদ্য সাপ্লিমেন্টের মতোই কার্যকর হতে পারে।

এটি বিশেষভাবে উপকারী:যারা ভেগান যারা এমন অঞ্চলে থাকেন যেখানে সারা বছর পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যায় না,যারা ইমিউনিটি ও হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করতে চান

অর্থাৎ খুব সামান্য পরিশ্রমেই একটি সাধারণ বাজারের খাবারকে পুষ্টিগুণে ভরপুর সুপারফুডে পরিণত করা সম্ভব।


৪২


স্কুটি ও স্কুটারের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, নারীদের পছন্দ কোনটি

মাহফুজা মিম

দুই চাকার যানবাহনের জগতে স্কুটি ও স্কুটার শব্দ দুটি প্রায়ই একে অন্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে গঠন, ব্যবহারিক দিক ও লক্ষ্যভিত্তিক নকশায় এ দুই ধরনের যানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। 

স্কুটি ও স্কুটারের মৌলিক পার্থক্য

স্কুটার মূলত শক্ত কাঠামোয় নির্মিত। আকারে বড় ও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ইঞ্জিনযুক্ত দুই চাকার যান এটি। ইঞ্জিন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় দীর্ঘ পথ চলাচল, নিয়মিত অফিস যাতায়াত বা মহাসড়কে ব্যবহারের জন্য স্কুটার তুলনামূলক বেশি উপযোগী। স্কুটারের চাকার আকার বড় হয় এবং এর ভারসাম্য ধরে রাখার সক্ষমতাও বেশি।

অন্যদিকে স্কুটি আকারে ছোট ও হালকা। এটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। স্কুটির ইঞ্জিন ক্ষমতা সাধারণত কম হয়। ফলে বাহনটি শহরের ভেতরে স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য বেশি ব্যবহার করা হয়। কম ওজনের কারণে স্কুটি চালানো, ঘোরানো ও পার্ক করা সহজ। অনেক ক্ষেত্রে স্কুটির সিট উচ্চতা কম থাকে, যা খাটো গড়নের ব্যবহারকারী বা চালকদের জন্য সুবিধাজনক।

ব্যবহারিক দিক থেকে পার্থক্য

বসার জায়গা প্রশস্ত হলেও ওজন বেশি হওয়ায় নতুন চালকদের জন্য স্কুটার সামলানো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বিপরীতে স্কুটি সহজ স্টার্ট, হালকা স্টিয়ারিং ও কম জ্বালানি খরচের কারণে দৈনন্দিন কাজে বেশি ব্যবহারবান্ধব।

রক্ষণাবেক্ষণের দিক থেকেও স্কুটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। যন্ত্রাংশ সহজে পাওয়া যায় এবং মেরামতের খরচও কম হয়। স্কুটার শক্তিশালী হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

বাংলাদেশে নারীদের পছন্দ কোনটি

বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে স্কুটি ব্যবহারের প্রবণতা স্পষ্টভাবে বেশি। শহরাঞ্চলে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীরা স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য স্কুটি বেছে নিচ্ছেন। এর প্রধান কারণ হলো স্কুটির হালকা ওজন, সহজ নিয়ন্ত্রণ ও আরামদায়ক পরিচালনা।

অনেক নারী চালক জানান, স্কুটি চালাতে আত্মবিশ্বাস বেশি পাওয়া যায়। যাতায়াতের জন্য কারো ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না। এছাড়া যানজটপূর্ণ সড়কেও স্কুটি সহজে সামলানো যায়। পাশাপাশি পোশাক ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও বাহনটি তুলনামূলক সুবিধাজনক বলে মনে করেন অনেকে।

তবে কিছু নারী চালক আছেন, যারা নিয়মিত দীর্ঘ পথ চলাচল করেন বা শক্তিশালী যান পছন্দ করেন, তাদের একটি অংশ স্কুটার ব্যবহার করেন। সংখ্যায় কম হলেও এই ব্যবহারকারীরা মূলত অভিজ্ঞ চালক।

ডিজাইনে পরিবর্তনের ধারা

তবে স্কুটি বা স্কুটার এদের কোনোটিতেই সাধারণত প্রচলিত গিয়ার থাকে না। বাইকের মতো পায়ে বা হাতে গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলা নেই বলেই চালানো সহজ। তবে এদের মেকানিজম সম্পর্কে নিচের তথ্যগুলো জেনে রাখা যেতে পারে:

অটোমেটিক গিয়ার সিস্টেম

আধুনিক সব স্কুটি এবং স্কুটারে সিভিটি (কন্টিনিউয়াসলি ভ্যারিয়েবল ট্রান্সমিশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যেখানে চালক শুধু থ্রটল (এক্সিলারেটর) ঘোরালে ইঞ্জিনের গতি অনুযায়ী গিয়ার নিজে নিজেই পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ চালককে আলাদা করে কোনো গিয়ার শিফট করতে হয় না।

গিয়ার লিভারের অনুপস্থিতি

বাইকের ক্ষেত্রে বাম পায়ে গিয়ার লিভার ও ডান হাতে ক্লাচ থাকে। কিন্তু স্কুটি বা স্কুটারে বাম হাতে সাধারণত পেছনের ব্রেক ও ডান হাতে সামনের ব্রেক থাকে। এখানে ক্লাচ বা গিয়ার লিভারের কোনো অস্তিত্ব নেই।


৪৩

গ্যামোফোবিয়া আসলে কী?

সহজ কথায়, গ্যামোফোবিয়া হলো দীর্ঘমেয়াদী কোনো সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া বা বিয়ের প্রতি তীব্র ও অস্বাভাবিক ভয়। এটি সাধারণ ‘নার্ভাসনেস’ বা বিয়ের আগে সামান্য দুশ্চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি গভীর। গ্রিক শব্দ ‘গ্যামোস’ (বিয়ে) এবং ‘ফোবোস’ (ভয়) থেকে এ শব্দের উৎপত্তি। যাদের এ ফোবিয়া আছে, তারা কোনো মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসলেও সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি বা আইনি বন্ধনে জড়াতে গেলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

গ্যামোফোবিয়া কতজনের আছে তা সঠিকভাবে জানা কঠিন। অনেকেই এ ভয় নিজের মধ্যে চেপে রাখেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন এবং ৫ জন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ১ জন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এ ধরণের ফোবিয়ায় আক্রান্ত হন।

এটি কেন হয়?

'গ্যামোফোবিয়া' রাতারাতি জন্ম নেয় না। এর পেছনে থাকতে পারে অতীত বা শৈশবের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা। শৈশবের ট্রমা যেমন বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ বা প্রতিনিয়ত ঝগড়া দেখে বড় হওয়া শিশুরা মনে করে সব সম্পর্কের শেষটাই বুঝি কষ্টের। হৃদয় ভাঙার ভয় এর পেছনে অন্যতম কারণ। অতীতে কোনো প্রিয়জনের কাছে মারাত্মকভাবে প্রতারিত হলে মানুষ নিজেকে বাঁচাতে একটি মানসিক দেয়াল তৈরি করে। বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (BPD) বা আত্মবিশ্বাসের অভাব অনেক সময় প্রতিশ্রুতির ভয় বাড়িয়ে দেয়। পরিত্যক্ত হওয়ার ভয়ও গ্যামোফোবিয়ার কারণ হতে পারে।

এছাড়া অন্য ভীতিগুলো যেমন ফিলোপোবিয়া (Philophobia) বা ভালোবাসার প্রতি ভয়, পিস্টানথ্রোফোবিয়া (Pistanthrophobia) অর্থাৎ অন্যকে বিশ্বাস করা বা প্রিয়জনের কাছে আঘাত পাওয়ার ভয় এবং জেনোফোবিয়া (Genophobia) মানে যৌন সম্পর্ক বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার ভয় থেকেও গ্যামোফোবিয়া হতে পারে।

তবে অনেকক্ষত্রে সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় চাপও ভূমিকা রাখে। অনেক সংস্কৃতিতে আবেগ বা ভালোবাসার গুরুত্ব না দিয়ে বিয়ে দেয়া হয়, যা ভয় তৈরি করতে পারে।

লক্ষণ

যখনই সম্পর্কের গভীরতা বা বিয়ের প্রসঙ্গ আসে, গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে কিছু শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে যেমন- কাঁপুনি, মাথা ঘোরা বা হালকা অনুভব করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, পেটে অস্বস্তি বা বদহজম। এছাড়া সুখি দম্পতিদের দেখলে অযথা বিরক্ত হওয়া বা অস্থির বোধ করা।

গ্যামোফোবিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা যা করতে পারেন

দীর্ঘস্থায়ী অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলতে অক্ষম হওয়া। সম্পর্কে থাকা অবস্থায় চরম উদ্বেগ অনুভব করা এবং সম্পর্কটি ভেঙে যাওয়ার ভয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তা করা। সুখি বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কোনো দম্পতিকে দেখলে অস্থিরতা অনুভব করা। মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়া বা হঠাৎ সম্পর্ক শেষ করে দেয়া।

ফোবিয়া বনাম স্বাধীনতা

অনেকে গ্যামোফোবিয়াকে কেবল ‘ব্যাচেলর লাইফ’ এনজয় করার বাহানা মনে করেন। কিন্তু দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। একজন স্বাধীনচেতা মানুষ স্বেচ্ছায় একা থাকতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে, গ্যামোফোবিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি ভেতরে ভেতরে সঙ্গী চাইলেও তার অবচেতন মনের ভয়ের কাছে হেরে যান। এর ফলে তারা অনেক সময় অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রিয় মানুষকে দূরে ঠেলে দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নেবেন?

যদি আপনি নিয়মিত প্যানিক অ্যাটাক অনুভব করেন বা আপনার উদ্বেগ দৈনন্দিন জীবন ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মুক্তির উপায় কী?

সঠিক চিকিৎসায় গ্যামোফোবিয়া সম্পূর্ণ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

১. সিবিটি (CBT): কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির মাধ্যমে নেতিবাচক চিন্তার ধরণ পরিবর্তন করা হয়।

২. এক্সপোজার থেরাপি: ধাপে ধাপে প্রতিশ্রুতির ভয়কে জয় করতে সাহায্য করা হয়।

৩. যোগাযোগ: সঙ্গীর সঙ্গে নিজের ভয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা চিকিৎসার একটি বড় অংশ।

সম্পর্কে জড়ানোর ভয় মানেই আপনি খারাপ মানুষ নন। এটি একটি মানসিক অবস্থা যা প্রতিকারযোগ্য। নিজেকে সময় দিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, ভয়কে পাশ কাটিয়েই সুন্দর আগামীর পথ তৈরি হয়। @ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ 

৪৪

স্মার্টনেস

কেউ কিছু বললে তার পাল্টা জবাব দেওয়াটাই স্মার্টনেস। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সব বলের জবাব ব্যাট দিয়ে দিতে নেই, কিছু বল 'লিভ' (Leave) করতে হয়। রাস্তায় কুকুর ঘেউ ঘেউ করলে আপনি কি পাল্টা ঘেউ ঘেউ করেন? নিশ্চয়ই না।

তেমনি কিছু মানুষের কাজই হলো আপনাকে উস্কানি দেওয়া, আপনাকে আপনার জায়গা থেকে নিচে নামানো।

এদের সাথে তর্কে জড়ানো মানে—নিজের স্ট্যান্ডার্ড তাদের লেভেলে নামিয়ে আনা।

যখন আপনি চুপ থাকেন, তখন সামনের মানুষটা বিভ্রান্ত হয়ে যায়।

সে ভাবে—"কী ব্যাপার? ও রিয়্যাক্ট করছে না কেন?"

আপনার এই নীরবতা তাকে মানসিকভাবে হারিয়ে দেয়।

মনে রাখবেন, খালি কলসি বাজে বেশি।

যাদের ভেতরে সারবত্তা নেই, তারাই চিৎকার করে নিজেকে প্রমাণ করতে চায়।

আর যারা নিজের ক্ষমতা জানে, তারা চুপচাপ কাজ করে যায়।

তর্ক করে আপনি হয়তো ক্ষণিকের জন্য জিতে যাবেন, কিন্তু সম্পর্ক বা মানসিক শান্তি হেরে যাবে।

তাই যেখানে আপনার কথার মূল্য নেই, সেখানে শব্দ খরচ করবেন না।

আপনার এনার্জি খুব দামী, ওটা ফালতু লোকের পেছনে নষ্ট করবেন না।

চুপ থাকার প্র্যাকটিস কীভাবে করবেন?


১. ইগনোর করার আর্ট (Art of Ignoring)

কেউ আপনাকে অপমান করলে বা খোঁচা দিলে সঙ্গে সঙ্গে রেগে যাবেন না।

বরং একটা মুচকি হাসি দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যান।

আপনার এই হাসিটা তার কাছে চড়ের চেয়েও অপমানজনক হবে।

তাকে বুঝিয়ে দিন—"তোমার কথা আমার গায়ে লাগে না।"


২. প্রতিক্রিয়া বনাম উত্তর (React vs Respond)

সব কথায় রিয়্যাক্ট করবেন না।

আগে ভাবুন—"এই কথাটা কি আমার জীবনের জন্য জরুরি?"

যদি না হয়, তবে সেটা ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

জীবনের রিমোট কন্ট্রোল অন্যের হাতে দেবেন না।


৩. কাজ দিয়ে জবাব (Action Speaks)

মুখে বড় বড় কথা না বলে, কাজে করে দেখান।

আপনার সাফল্য যখন চিৎকার করবে, তখন নিন্দুকেরা এমনিতেই চুপ হয়ে যাবে।

শব্দ দিয়ে নয়, রেজাল্ট দিয়ে মুখ বন্ধ করুন।

শেষ কথা

চুপ থাকা মানে দুর্বলতা নয়। চুপ থাকা মানে হলো—আমি জানি আমি কে, তাই আমার চিৎকার করে কাউকে সেটা প্রমাণ করার দরকার নেই।

বাঘ শিকারের সময় শব্দ করে না, শুধু লম্ফ দেয়। আপনিও বাঘ হোন, বিড়াল নয়।


৪৫

মিথেন এবং গ্রীনহাউস প্রভাব -

গ্রীনহাউস প্রভাব হলো একটি প্রক্রিয়া যেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কিছু নির্দিষ্ট গ্যাস সূর্যের তাপকে আটকে রাখে এবং পৃথিবীকে উষ্ণ রাখে। এই গ্যাসগুলোর মধ্যে মিথেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম হলেও তাপ আটকে রাখার ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। 

মিথেন পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অংশ। অল্প পরিমাণে এটি প্রয়োজনীয় কারণ এটি পৃথিবীর তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে মিথেনের ঘনত্ব প্রায় ১.৯৪ পিপিএম, যা নিরাপদ এবং প্রাকৃতিকভাবে প্রয়োজনীয়। তবে যদি ঘনত্ব ১ শতাংশের বেশি হয়, তবে এটি অক্সিজেনকে স্থানচ্যুত করে শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। ৫ থেকে ১৫ শতাংশ ঘনত্বে মিথেন বাতাসে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই স্বাভাবিক মাত্রায় মিথেন অপরিহার্য হলেও অতিরিক্ত মাত্রা ক্ষতিকর। 

মিথেন বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন হয়। প্রাকৃতিকভাবে এটি জলাভূমি, মহাসাগর এবং ভূগর্ভস্থ গ্যাসের ভাণ্ডার থেকে নিঃসৃত হয়। মানব কার্যকলাপও উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখে—ধান চাষ, গবাদি পশু পালন, গোবর ব্যবস্থাপনা, কয়লা খনন, তেল ও গ্যাস উত্তোলন এবং ল্যান্ডফিল হলো প্রধান উৎস। মিথেন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কারণ এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করে, ভূমি-স্তরের ওজোন তৈরি করে এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এটি জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

নিয়ন্ত্রণের উপায় -

- কৃষি খাতে: ধানক্ষেতে Alternate Wetting and Drying (AWD) সেচ পদ্ধতি মিথেন নিঃসরণ কমায় এবং পানি সাশ্রয় করে। নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাতও নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। গবাদি পশুর খাদ্যে বিশেষ উপাদান যেমন সামুদ্রিক শৈবাল যোগ করলে হজমের সময় মিথেন উৎপাদন কমে। গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য অ্যানারোবিক ডাইজেস্টার ব্যবহার করলে মিথেন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া রোধ হয়। 

- জ্বালানি খাতে: তেল ও গ্যাস উত্তোলন ও পরিবহনের সময় লিকেজ কমানো, কয়লা খনি থেকে মিথেন সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা, এবং পাইপলাইন ও অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যকর কৌশল। 

- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ল্যান্ডফিল থেকে মিথেন সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জৈব বর্জ্য আলাদা করে কম্পোস্ট তৈরি, এবং উন্নত বর্জ্যপানি শোধনাগার ব্যবহার নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। 

আন্তর্জাতিক উদ্যোগ 

গ্লোবাল মিথেন প্লেজ গ্রহণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক মিথেন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানো। জাতীয় নীতি ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করে। 

আমরা ল্যাবরেটরিতে চমৎকার গবেষণা ও আবিষ্কার করছি, কিন্তু এগুলো মাঠ পর্যায়ে কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ হচ্ছে না এবং প্রকৃত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই গবেষণা শুধু তত্ত্বে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব প্রয়োগে মনোযোগী হতে হবে। আমাদের আরও অগ্রসরভাবে চিন্তা করতে হবে যাতে গবেষণা থেকে অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা যায়, পরিবেশ রক্ষা করা যায় এবং টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করা যায়। @ সাইন্স হান্টার

৪৬


প্যাগানিজম (Paganism) বা পৌত্তলিকতাবাদ

এটি মূলত একটি ছাতা শব্দ (umbrella term), যা দ্বারা ঐতিহাসিকভাবে সেইসব ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকে বোঝানো হয়, যা আব্রাহামিক ধর্মগুলোর (যেমন: ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদি ধর্ম) অন্তর্ভুক্ত নয়। প্যাগানিজমের মূল ধারণা ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

উৎপত্তি ও অর্থ:

ল্যাটিন শব্দ 'paganus' থেকে এর উৎপত্তি, যার আক্ষরিক অর্থ 'গ্রামীণ' বা 'গ্রাম্য'। চতুর্থ শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে যারা পুরনো বহুদেববাদী ধর্ম পালন করত, খ্রিস্টানরা তাদের বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার শুরু করে।

বহুদেববাদ (Polytheism):

প্যাগানিজমে বিশ্বাসীরা সাধারণত একক ঈশ্বরে বিশ্বাসের পরিবর্তে একাধিক দেব-দেবীর উপাসনা করেন।

প্রকৃতি পূজা:

এদের বিশ্বাসে প্রকৃতি অত্যন্ত পবিত্র। তারা ঋতুচক্র, গাছপালা এবং প্রাকৃতিক উপাদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে।

প্রাচীন ঐতিহ্য:

এটি কোনো একক ধর্ম নয়, বরং গ্রিক, রোমান, কেল্টিক এবং নর্ডিকসহ বিভিন্ন প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর প্রথা ও বিশ্বাসের সমষ্টি।

আধুনিক প্যাগানিজম (Neo-paganism):

বর্তমানে অনেকে স্বেচ্ছায় নিজেদের 'প্যাগান' হিসেবে পরিচয় দেন এবং প্রাচীন এই ধারাগুলোকে নতুনভাবে চর্চা করেন। এর মধ্যে উইক্কা (Wicca), ড্রুইড্রি (Druidry) এবং হিদনিজম (Heathenry) অন্যতম।

সনাতনীরাও কি প্যাগান হিসেবে পরিচয় দেয়?

না, সাধারণত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বা হিন্দুরা প্রথাগতভাবে 'প্যাগানিজম' (Paganism) পড়ে না বা নিজেদের 'প্যাগান' মনে করে না। তবে বর্তমানে কিছু উচ্চশিক্ষিত বা গবেষক পর্যায়ে এই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো লক্ষ্য করুন:

প্যাগানিজমের সংজ্ঞা:

'প্যাগান' শব্দটি মূলত প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিস্টানদের দ্বারা ব্যবহৃত হতো এমন লোকদের বোঝাতে যারা একেশ্বরবাদী (খ্রিস্টান, ইহুদি বা ইসলাম) ধর্ম পালন করত না। ইউরোপের প্রকৃতি-পূজারি বা বহুদেববাদী প্রাচীন ধর্মগুলোকে প্যাগান বলা হয়।

ভুল ধারণা:

অনেক পাশ্চাত্য লেখক বা খ্রিস্টান মিশনারিরা হিন্দুদের 'প্যাগান' বলে অভিহিত করেন কারণ হিন্দুধর্মেও প্রকৃতি পূজা ও বহুদেববাদ রয়েছে। তবে হিন্দুরা সাধারণত এই তকমাটি গ্রহণ করে না, কারণ প্যাগানিজমের সাথে হিন্দুধর্মের দার্শনিক ও শাস্ত্রীয় কাঠামোর অনেক পার্থক্য রয়েছে।

সনাতন ধর্মের স্বতন্ত্রতা:

সনাতন ধর্ম একটি প্রাচীন ও সুসংগঠিত শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য (যেমন বেদ, গীতা), যা প্যাগানিজমের মতো কেবল আঞ্চলিক বা লোকজ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি।

বর্তমান প্রেক্ষাপট:

আধুনিক যুগে কিছু হিন্দু বুদ্ধিজীবী এবং 'নিও-প্যাগান' (Neo-Pagan) গোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরণের সংহতি বা গবেষণা লক্ষ্য করা যায়, যেহেতু উভয় পক্ষই আব্রাহামিক ধর্মের বাইরের প্রাচীন ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কাজ করে।

ঐতিহাসিকভাবে শব্দটি কখনও কখনও নেতিবাচক অর্থে বা 'বিধর্মী' বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে এটি একটি বৈচিত্র্যময় আধ্যাত্মিক পথ হিসেবে স্বীকৃত। @ মৃণাল নন্দী

৪৭

 পঞ্চানন কর্মকার বাংলা ভাষা বিস্তার লাভ করার জন্য তার অবদান।

 পরিচয়

পঞ্চানন কর্মকার (প্রায় ১৭৩১–১৮০৪) ছিলেন একজন বাঙালি শিল্পী ও মুদ্রণ প্রযুক্তিবিদ, যিনি বাংলা অক্ষর নির্মাণের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তাঁকে বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম জনক বলা হয়।

 বাংলা মুদ্রণের সূচনা ও তাঁর ভূমিকা

১৮শ শতকে যখন ইউরোপীয় মিশনারিরা ভারতে ছাপাখানা স্থাপন শুরু করেন, তখন বাংলা ভাষায় বই ছাপার জন্য উপযুক্ত হরফ ছিল না। এই সময়ে ইংরেজ মুদ্রাকর চার্লস উইলকিন্স বাংলা হরফ তৈরির উদ্যোগ নেন।

এই কাজে প্রধান কারিগরি সহায়তা দেন পঞ্চানন কর্মকার। তিনি হাতে খোদাই করে বাংলা অক্ষরের ধাতব ছাঁচ (type) তৈরি করেন। তাঁর তৈরি হরফ ব্যবহার করেই প্রথম দিকের বাংলা বই মুদ্রিত হয়।

 গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা

১৭৭৮ সালে প্রকাশিত A Grammar of the Bengal Language (লেখক: নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড) — এই গ্রন্থটি ছিল প্রথম মুদ্রিত বাংলা ব্যাকরণ বই।

এই বই মুদ্রণের জন্য যে বাংলা টাইপ ব্যবহার করা হয়, তা নির্মাণে পঞ্চানন কর্মকারের অবদান ছিল অসাধারণ।

 অবদান ও গুরুত্ব

বাংলা মুদ্রণশিল্পের সূচনায় অগ্রণী ভূমিকা

প্রথম ধাতব বাংলা হরফ নির্মাণ

বাংলা ভাষার বই প্রকাশ সহজতর করা

ভবিষ্যৎ বাংলা ছাপাখানার ভিত্তি স্থাপন

তাঁর কাজের ফলেই পরবর্তীকালে বাংলা সংবাদপত্র ও সাহিত্য দ্রুত বিকাশ লাভ করে।

 কর্মস্থল

তিনি মূলত হুগলি অঞ্চলে কাজ করতেন এবং ইংরেজ মুদ্রাকর ও মিশনারিদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 মৃত্যু

প্রায় ১৮০৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না, কিন্তু বাংলা মুদ্রণ ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয়।

পঞ্চানন কর্মকার শুধু একজন কারিগর ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিক মুদ্রণযুগের অন্যতম স্থপতি। তাঁর অবদান ছাড়া বাংলা ভাষার মুদ্রিত সাহিত্য এত দ্রুত বিকশিত হতো না।


 বাংলা মুদ্রণশিল্পের ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক বিবরণ)

 ১️⃣ প্রারম্ভিক যুগ (১৭৭০–১৮০০)

বাংলা মুদ্রণশিল্পের সূচনা ১৮শ শতকের শেষভাগে।

চার্লস উইলকিন্স প্রথম বাংলা হরফ তৈরি করার উদ্যোগ নেন।

এই কাজে কারিগরি সহায়তা করেন পঞ্চানন কর্মকার।

১৭৭৮ সালে প্রকাশিত A Grammar of the Bengal Language ছিল প্রথম বাংলা হরফে মুদ্রিত গ্রন্থ।

এটাই বাংলা ছাপাখানার সূচনা।

 ২️⃣ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস যুগ (১৮০০–১৮৩০)

বাংলা মুদ্রণশিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে Serampore Mission Press-এর মাধ্যমে।

প্রতিষ্ঠাতা: উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান, উইলিয়াম ওয়ার্ড

এখানে বহু বাংলা ধর্মগ্রন্থ, অভিধান ও পাঠ্যপুস্তক ছাপা হয়।

১৮১৮ সালে প্রকাশিত সমাচার দর্পণ ছিল প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।

 ৩️⃣ বাংলা সংবাদপত্র ও নবজাগরণ (১৮৩০–১৯০০)

এই সময়ে বাংলা মুদ্রণ ও সাংবাদিকতা শক্তিশালী হয়।

সংবাদ প্রভাকর (সম্পাদক: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত**)

অমৃতবাজার পত্রিকা

বঙ্গদর্শন (সম্পাদক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়**)

এই সময়ে মুদ্রণশিল্প বাংলা সাহিত্য, শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

 ৪️⃣ লাইনোটাইপ ও আধুনিক প্রযুক্তি (১৯০০–১৯৭০)

ধাতব হরফ থেকে লাইনোটাইপ মেশিনে রূপান্তর।

বই, পত্রিকা ও শিক্ষাব্যবস্থায় মুদ্রণের ব্যাপক বিস্তার।

স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রচারে ছাপাখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 ৫️⃣ অফসেট ও ডিজিটাল যুগ (১৯৭০–বর্তমান)

৪৮

সুন্দরবনের জন্মকথা

সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি, যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমান সুন্দরবন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত, যার প্রায় ৬৬ শতাংশ বাংলাদেশের এবং ৩৪ শতাংশ ভারতের অংশে অবস্থিত। এই বন গড়ে উঠেছে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর সম্মিলিত বদ্বীপীয় অববাহিকায়, যেখানে নদীর মিঠা পানি ও সমুদ্রের লবণাক্ত পানির সংমিশ্রণে একটি অনন্য বাস্তুসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সুন্দরবনের ভূতাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে ওঠে টারশিয়ারি যুগ ও প্রারম্ভিক প্লাইস্টোসিন যুগে, যখন ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে হিমালয় পর্বতমালার জন্ম হয়েছিল। তবে বর্তমান সুন্দরবনের ভৌগোলিক কাঠামো মূলত হোলোসিন যুগের সৃষ্টি। প্রায় ১১,৭০০ বছর আগে থেকে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে এই বদ্বীপীয় ভূমির বিস্তার ঘটে। প্রায় ৭,০০০ বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা একটি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছালে নদীর পলি ও জোয়ারের পানির মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি হয়, যা ম্যানগ্রোভ বনভূমির বিকাশের জন্য আদর্শ পরিবেশ গড়ে তোলে। এই সময় থেকেই আধুনিক সুন্দরবনের জন্ম ধরা হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠের ওঠানামাও সুন্দরবনের জন্মে বড় ভূমিকা রেখেছে। শেষ বরফযুগে, প্রায় ১৮,০০০ বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠ বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১০০ মিটার নিচে ছিল এবং তৎকালীন বঙ্গীয় বদ্বীপ ছিল শুষ্ক ভূমি। পরে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ফলে নদীর প্রবাহ ও সমুদ্রপৃষ্ঠ উভয়ই বাড়তে থাকে। ফলে মধ্য হোলোসিন যুগে সমুদ্রপৃষ্ঠ সামান্য উঁচুতে উঠলে উত্তরাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং পরবর্তীকালে পলি সঞ্চয়ের মাধ্যমে বর্তমান সুন্দরবনের অবয়ব গড়ে ওঠে। মোদ্দাকথা,নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো দিয়ে বয়ে আসা পলি জমে জন্ম হয়েছে সুন্দরবনের। সুন্দরবনের জন্মের সময় এই এলাকায় কাদা-মাটির ওপর এমন এক পরিবেশ গড়ে ওঠে, যেখানে সাধারণ গাছ টিকতে পারে না, কিন্তু ম্যানগ্রোভ গাছ সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। এভাবেই প্রথম সুন্দরী, গরান, কেওড়া, গেওয়া ও গোলপাতার মতো গাছ জন্ম নিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই গাছগুলো একে অন্যকে ধরে ধরে একটি বিশাল বনভূমিতে পরিণত হয়।

নামকরণের দিক থেকে ধারণা করা হয়, সুন্দরবনের নাম এসেছে সুন্দরী গাছ থেকে। কারণ একসময় এই গাছ ছিল বনের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন প্রজাতি। আবার কেউ কেউ বলেন, এটি এসেছে “সমুদ্র বন” বা “সুন্দর জঙ্গল” শব্দ থেকে। মোগল ও ব্রিটিশ আমলে এই বনকে সরকারি নথিতে ‘বাদা’ বা ‘মহাল’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো, যেমন মধু মহাল বা গোল মহাল। মানুষের সঙ্গে সুন্দরবনের সম্পর্কও অনেক পুরোনো। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মৌর্য যুগ থেকে শুরু করে পাল ও মোগল আমল পর্যন্ত মানুষ এখানে বসবাস করেছে। নদীর ধারে পুরোনো ইটের স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে যে একসময় এখানে জনবসতি ছিল। ১৭৫৭ সালের পর ব্রিটিশ শাসনামলে সুন্দরবন প্রথম বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে এবং ১৮৭৫ সালে এর বড় অংশ সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত হয়। বর্তমানে এই সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭-এ ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল।


৪৯


মাথায় সিঁদুর পরার প্রথা হিন্দু সংস্কৃতির একটি প্রাচীন আচার। 

এটি বিবাহিত নারীর সামাজিক পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের চিহ্ন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে সিঁদুর পরা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের দাবি ও মিথ প্রচলিত আছে, যেগুলোর বাস্তবে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অনেক সময় বলা হয় সিঁদুর পিটুইটারি গ্রন্থির সক্রিয়তা বাড়ায়, কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত একটি অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি, যা বাইরের কোনো পদার্থ লাগানোর মাধ্যমে প্রভাবিত হয় না। সিঁথির ওপর সিঁদুর লাগালে সেটি সরাসরি এই গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাছাড়া ত্বকের ওপর কিছু প্রয়োগ করলে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরের গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে যায়, এ ধারণারও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

এমন কোনো গবেষণাও নেই যা প্রমাণ করে সিঁদুর হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, বাহ্যিক প্রসাধনী বা রঙের মাধ্যমে নয়। তাই সিঁদুরকে হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান হিসেবে ভাবা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে কেউ সিঁদুর পরলে যদি মানসিকভাবে শান্তি, আত্মবিশ্বাস বা ইতিবাচক অনুভূতি পান, সেটি মূলত সাংস্কৃতিক ও মানসিক প্রভাবের ফল, যাকে বিজ্ঞান প্লাসিবো ইফেক্ট (Placebo effect) হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এটি সরাসরি কোনো শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটায় না। অর্থাৎ সিঁদুর পরলেই মানসিক উদ্বেগ দূর হবে বা রাগ ও চাপ কমবে, এমন কোনো কথা নেই।

অনেকেই মনে করেন সিঁদুরের ঔষধি গুণ আছে এবং এটি চুল বা স্বাস্থ্যের উপকার করে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, সিঁদুরের প্রকৃত কোনো ঔষধি গুণ নেই। চর্ম বা শরীরের স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য কোনো বৈজ্ঞানিক উপাদানও এর মধ্যে নেই। তাই সিঁদুরকে ঔষধি উপাদান হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আধুনিক বাজারে পাওয়া কিছু সিঁদুরে Lead oxide বা অন্যান্য ভারী ধাতু পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বক ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ উপাদান দিয়ে তৈরি সিঁদুর ব্যবহার করা জরুরি।

সার্বিকভাবে দেখা যায়, সিঁদুরের আসল গুরুত্ব সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর সঙ্গে যুক্ত অনেক প্রচলিত বিশ্বাস মানুষের ঐতিহ্য ও অনুভূতির অংশ হলেও, সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

৫০

ব্লকচেইন

আমাদের প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেম হলো কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত( centralized).অর্থাৎ আমরা যেকোনো লেনদেনের জন্য বা অর্থ রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রিত সিস্টেমের উপর ভরসা রাখি। এতে সমস্যা হলো আমাদের যেকোনো তথ্য চাইলে কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানটি দেখতে বা তথ্যের পরিবর্তন করতে পারে। আবার কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানটি হ্যাকের শিকার হলে আমাদের যাবতীয় তথ্য ও অর্থ ফাঁস বা চুরি হয়ে যেতে পারে সহজেই। আর এই centralized system এর বিপরীতে সৃষ্টি হলো decentralized system.

Blockchain এর ধারণার প্রথম বিকাশ ১৯৯১ সালের দিকে শুরু হলেও ২০০৯ সালে এটার সুশৃঙ্খল ও প্রতিষ্ঠিত রূপ দেয় সাতোশি নাকামোতো( যার পরিচয় জানা যায়নি) নামে একজন ব্যক্তি । সাতোশি নাকামোতো Bitcoin নামে একটি ডিজিটাল মুদ্রা চালু করে, যে মুদ্রাটা Blockchain প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে চালু হয়।

ব্লকচেইনের কাজের ধরন বিষয়ে জেনে নেওয়ার আগে কিছু শব্দের ব্যাখ্যা আগে দেখে নেওয়া যাক-

নোড: প্রতিটি ব্যবহারকারী( কম্পিউটার বা ডিভাইস) যাদের কাছে ব্লকচেইনের তথ্যের কপি থাকে।

লেজার( ledger): হিসাবের খাতা বা হিসাব বহি।

হ্যাশ( Hash): একটি অনন্য( ইউনিক) কোড যা তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়।

জেনেসিস ব্লক: প্রথম ব্লক বা একেবারে শুরু ব্লক।

ডিসেন্ট্রালাইজড( বিকেন্দ্রীকৃত): কেন্দ্রীয় কোনো একক ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত।

এবারে তাহলে শুরু করা যাক-

ব্লকচেইন হলো কোনো তথ্যের একটি decentralized distributive ledger যেটার কপি সকল নোডের কাছে থাকে। ব্লকচেইনে প্রতিটা লেনদেনের তথ্য একেকটি ব্লক আকারে থাকে যেখানে ব্লকগুলো আরেকটার সাথে যুক্ত থাকে। এমন হাজারো, লক্ষাধিক ব্লকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটি ব্লকচেইন।

প্রতিটা ব্লকের তিনটা অংশ থাকে-

।. Data

।।. Hash

।।।. Previous block of Hash(Prev Hash)

প্রথম অংশে থাকে লেনদেনের তথ্য। অর্থাৎ কোন তারিখে, কার কাছে কি পরিমাণ অর্থের বিনিময় ঘটেছে সেই তথ্য। আর এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী ধাপ Hash স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে। এখানে Data এর কোনোরকম পরিবর্তন থাকলে সেইটার যে Hash তৈরি হবে তা অন্য যেকোনো Hash এর থেকে আলাদা থাকবে। একটা Hash এর সাথে অন্য কোনো Hash এর মিল থাকবে না। আর তৃতীয় নম্বর ধাপ টা হলো পূর্ববর্তী ব্লকের Hash. অর্থাৎ যেকোনো ব্লকে তার পূর্ববর্তী ব্লকের Hash(Prev. Hash) টি সংরক্ষিত থাকে। এইভাবে একটার সাথে আরেকটা ব্লক পরপর শিকলের ন্যায় যুক্ত থাকে। কোনো ব্লকচেইনের জেনেসিস ব্লকটাতে কোনো Prev. Hash থাকে না। এর Prev. Hash code থাকে সব শূন্য।

তাহলে সবগুলোকে একবারে এইভাবে বলা যেতে পারে-

ব্লকচেইনে যাবতীয় লেনদেনের তথ্য ব্লক আকারে সংরক্ষিত থাকে। প্রতিটা লেনদেনের তথ্যের জন্য প্রতিটা ব্লক হয়ে থাকে। আর প্রতিটা ব্লকের তিনটা অংশের মধ্যে একটা অংশ লেনদেনের তথ্য। আর প্রতিটা তথ্যের জন্য একটা Hash তৈরি হয়। আর তৃতীয় ধাপটাতে প্রত্যেক ব্লকে পূর্বের ব্লকের Hash থাকে।

Blockchain প্রযুক্তিকে বর্তমান প্রযুক্তির মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত মনে করা হয়। কারণ-

১। ব্লকচেইনের তথ্য কোনো একক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে না থেকে প্রতিটা ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে থাকে এবং তা বিতরণযোগ্য। অর্থাৎ কারোর কাছ থেকে কোনো তথ্য হারিয়ে গেলেও তা আবার অন্য কোনো নোড থেকে সংগ্রহ করে নেওয়া সম্ভব।

২। হ্যাকিং এর মাধ্যমে কোনো ব্লকচেইনের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে যখন কোনো ব্লকের তথ্যে গড়মিল করার চেষ্টা করা হয় তখন ঐ ব্লকটার Hash পরিবর্তন হয়ে যায়। এরফলে এর পরবর্তী ব্লকের Prev. Hash পরিবর্তন হয়, তারপরে ব্লকের ক্ষেত্রেও তাই হয়ে এইভাবে হ্যাক হওয়া ব্লকের পরের থেকে সবগুলো ব্লকের Hash পরিবর্তন হয়ে যায়। তাতে সহজেই কোনো ব্লকে হ্যাকের চেষ্টা করা হয়েছে তা চিহ্নিত করা যায় এবং পরের সবগুলো ব্লকের কার্যকারিতা বন্ধ করে দেওয়া যায়।

৩। ব্লকচেইনের নিরাপত্তার সবথেকে শক্তিশালী রূপ হলো Proof of Work(PoW)। PoW এর ক্ষেত্রে Blockchain এ নতুন কোনো ব্লক যুক্ত করতে তাকে ন্যূনতম নির্দিষ্ট সময়ের( Bitcoin এর জন্য ১০ মিনিট) জন্যে ঐ ব্লকের তথ্যে অতিবাহিত( বা জটিল গাণিতিক হিসাবের জন্য) করতে হয় এবং অধিকাংশ মানুষের নিশ্চিতকরণ ভোটের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ কোনো ব্লক সময় নিয়ে তৈরি করার পরেও তা যদি ন্যূনতম ৫১% মানুষের সম্মতি না পায় তাহলে সেই ব্লকটা ব্লকচেইনে যুক্ত হয় না। আর এই ভোটের ও জটিল গাণিতিক হিসাবের কাজটি যারা করে তাদের মাইনার বলে। তাতে হ্যাকারকে পরপর কোনো অনেকগুলো ব্লকের তথ্যে গড়মিল করতে হলে অনেক অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় সেইসাথে অধিকাংশের 'হ্যাঁ' বোধক সম্মতির প্রয়োজন হয়। যদি অধিকাংশের সম্মতি না পায় তাহলে সেখানে কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

Blockchain এ চাইলে নিজেও কোন নিজের থেকে একটা Blockchain শুরু করা যেতে পারে। বর্তমানে সাধারণের ব্যবহারের জন্যে নিজ থেকে কোনো Blockchain শুরু করতে হলে Etherium ব্লকচেইনে করা যেতে পারে। এরজন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখা, Etherium Blockchain এর জন্য এই ল্যাংগুয়েজের নাম হলো Solidity. Solidity language এর মাধ্যমে নিজের একটা Contract Address তৈরি করে নিজের Blockchain শুরু করা যেতে পারে।

অসুবিধা-

১। অফেরতযোগ্য লেনদেন: ব্লকচেইনের কাজ শুধু একমূখী। একবার একটা ব্লক তৈরি হয়ে গেলে সেই ব্লক টা লকড হয়ে যায় এবং আর তাতে কোনোরকম তথ্যের ফেরত পাওয়া যায় না। কোনোকারণে ভুলে আমরা অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্টে বড় পরিমাণের অর্থ দিয়ে দিলে এবং পরবর্তীতে পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক নিজে থেকে ঐ টাকাটা আমাদের একাউন্টে আবার ফেরত দিতে পারে। এই কাজটা Blockchain এ যে ব্যবহারকারী কাছে গেছে সে না চাইলে আর পাওয়া যাবে না। আর যে ব্যবহারকারীর কাছে অর্থ চলে গেছে সে অপরিচিত থাকলে তার সাথে যোগাযোগের অন্য কোনো উপায় নেই।

২। অধিকাংশকে নিজে নিয়ন্ত্রণ করা। বড় বড় Blockchain( Bitcoin, Etherium, BNB Chain etc.) এর ক্ষেত্রে এইটা সম্ভব না হলেও যেসব ব্লকচেইনের ডিজিটাল মুদ্রার দাম অনেক কম সেসব Blockchain এর কয়েনের 50% এর বেশি নিজে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় যদি সামর্থ্য থাকে।

৩। কোনোভাবে কেউ Private key জেনে ফেললে তা আর পরবর্তীতে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। এই Private Key ব্যবহার করেই ব্যবহারকারী নিজ একাউন্টে প্রবেশের অনুমতি পায়।

Blockchain নিয়ে কিছু ভুল ধারণা-

১। ১০০% নিরাপদ : মনে করা হয় Blockchain প্রযুক্তি হলো ১০০% নিরাপদ। কিন্তু তা নয়, আদতে মানুষের সৃষ্টি কোনোকিছুকেই পূর্ণরুপে নিরাপদ বলা যায় না। তবে বর্তমানে তথ্য নিরাপত্তার প্রযুক্তির মধ্যে Blockchain প্রযুক্তি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট।

২। Blockchain মানেই Bitcoin: Blockchain আসলে এমন একটা প্রযুক্তি যেখানে অর্থের লেনদেন Decentralized করেছে। Bitcoin আসলে একটা ডিজিটাল মুদ্রা যার প্রোগ্রাম করা হয়েছে Blockchain কে ভিত্তি করে। Bitcoin ছাড়া পুরো ক্রিপ্টো কারেন্সি-ই গড়ে উঠেছে Blockchain কে ভিত্তি করে।

অদূর ভবিষ্যতে Blockchain Technology অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এইটার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে ততোটাই নিজেকে এগিয়ে রাখা যাবে।