সময় নেই বলে আর আফসোস নয়! কম সময়ে দ্বিগুণ কাজ করার এই কৌশলগুলো কি আপনি জানেন?

সারা দিন অনেক পরিশ্রম করার পরেও দিনশেষে মনে হয় কোনো কাজই ঠিকঠাক শেষ হলো না? এর মূল কারণ সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা বা প্রোডাক্টিভিটির অভাব। কাজের মান ঠিক রেখে জেনে নিন কর্মক্ষেত্রে প্রোডাক্টিভিটি বা কাজের গতি বাড়ানোর ১৫টি কার্যকরী কৌশল।

________________________________________

১. আগের রাতে টু-ডু লিস্ট (To-Do List): পরদিন কী কী কাজ করবেন, তা আগের রাতেই লিখে ফেলার অভ্যাস করুন। এতে সকালে উঠেই ভাবার পেছনে সময় নষ্ট হয় না এবং কাজের শুরুটা হয় গোছানো।

২. কঠিন কাজ সবার আগে (Eat That Frog): দিনের শুরুতে আমাদের এনার্জি ও ফোকাস সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সবচেয়ে কঠিন বা গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সবার আগে শেষ করুন।

৩. পোমোডোরো টেকনিক (Pomodoro Technique): টানা কাজ না করে ২৫ মিনিট কাজ এবং এরপর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। এই পদ্ধতি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এবং একঘেয়েমি দূর করতে দারুণ কার্যকর।

৪. মাল্টিটাস্কিং পরিহার করা: একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে গেলে কোনোটিই সঠিকভাবে হয় না। একবারে একটি কাজের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দিন (Single Tasking)। এতে ভুলের সম্ভাবনা কমে।

৫. ২ মিনিটের রুল (2-Minute Rule): যে কাজটি করতে ২ মিনিটের কম সময় লাগে (যেমন- একটি মেইল রিপ্লাই দেওয়া বা ফাইল সেভ করা), তা জমিয়ে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে করে ফেলুন।

৬. সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা: কাজের সময় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অযথা নোটিফিকেশন চেক করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে ফোকাস মোড বা ফোন সাইলেন্ট রাখুন।

৭. না বলতে শেখা: নিজের কাজের চাপ থাকলে বিনয়ের সাথে সহকর্মীদের অনুরোধ বা অপ্রয়োজনীয় মিটিংকে "না" বলতে শিখুন। সব কাজ নিজের কাঁধে নেওয়া প্রোডাক্টিভিটির শত্রু।

৮. কাজের টেবিল গুছিয়ে রাখা: অগোছালো পরিবেশ মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপনার ডেস্ক বা ওয়ার্কস্টেশন পরিষ্কার ও ছিমছাম রাখুন, এতে কাজে মনোযোগ আসবে।

৯. ব্যাচ প্রসেসিং (Batch Processing): একই ধরণের কাজগুলো একসঙ্গে করুন। যেমন- সব ইমেইল চেক করা বা ফোন কল করার জন্য দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখুন। বারবার কাজের ধরণ বদলালে ফোকাস নষ্ট হয়।

১০. পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম: শরীর হাইড্রেটেড না থাকলে মস্তিষ্ক ধীর হয়ে যায়। কাজের ফাঁকে পানি পান করুন এবং দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।

১১. ডেডলাইন সেট করা: অফিসের দেওয়া ডেডলাইনের বাইরেও নিজের জন্য একটি ব্যক্তিগত ডেডলাইন ঠিক করুন। "হাতে অনেক সময় আছে"—এই চিন্তা কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

১২. পারফেকশনিজম এর ফাঁদ: কাজ নিখুঁত করা ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত নিখুঁত করতে গিয়ে সময়ের অপচয় করবেন না। কাজ শেষ করা বা 'Done is better than perfect'—এই নীতি মেনে চলুন।

১৩. টুলস ও প্রযুক্তির ব্যবহার: কাজ সহজ করতে এক্সেল শর্টকাট, বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি অ্যাপ বা এআই টুলসের ব্যবহার শিখুন। এতে সময় বাঁচবে।

১৪. বড় কাজকে ছোট ভাগে ভাগ করা: বিশাল কোনো প্রজেক্ট দেখলে ভয় লাগা স্বাভাবিক। সেটাকে ছোট ছোট টাস্কে ভাগ করে নিন, কাজ সহজ মনে হবে।

১৫. দিনশেষে পর্যালোচনা (Review): দিনের শেষে ৫ মিনিট সময় নিয়ে ভাবুন—আজ কী কী কাজ শেষ করলেন এবং কালকের জন্য কী বাকি রইল। এটি আপনাকে ট্র্যাকে রাখতে সাহায্য করবে।

________________________________________

প্রোডাক্টিভিটি মানে রোবটের মতো কাজ করা নয়, বরং স্মার্টলি কাজ করে নিজের জন্য অবসর বের করা।



বাংলাদেশের নাম কীভাবে 'বাংলাদেশ' হল?

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Majority World

ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশের পতাকা।

Article Information


এই দেশের নাম বাংলাদেশ রাখার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। কীভাবে এই দেশের নাম বাংলাদেশ রাখা হল - এ বিষয়টিকে ইতিহাসের কয়েকটি পরিক্রমায় ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন ইতিহাসবিদরা।

বিবিসি বাংলার সাথে আলাপকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনও "বাংলাদেশ" শব্দের উৎপত্তিগত ব্যাখ্যা দেন।

যেখানে "বাংলা" শব্দের উৎপত্তি হয়েছে সংস্কৃত শব্দ "বঙ্গ" থেকে। আর্যরা "বঙ্গ" বলে এই অঞ্চলকে অভিহিত করতো বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়।

তবে বঙ্গে বসবাসকারী মুসলমানরা এই "বঙ্গ" শব্দটির সঙ্গে ফার্সি "আল" প্রত্যয় যোগ করে। এতে নাম দাঁড়ায় "বাঙাল" বা "বাঙ্গালাহ্"।

"আল" বলতে জমির বিভক্তি বা নদীর ওপর বাঁধ দেয়াকে বোঝাতো।

ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের উদ্ধৃতি দিয়ে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, "মুসলমান শাসনামলে বিশেষ করে ১৩৩৬ থেকে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত সুলতানি আমলে এবং ১৫৭৬ সালে মোঘলরা বাংলা দখল করার পরে এই অঞ্চলটি বাঙাল বা বাঙালাহ নামেই পরিচিতি পায়।"

তবে বাংলা, বাঙাল বা দেশ - এই তিনটি শব্দই ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। কোনটিই বাংলা শব্দ নয়।

এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজারা দখলদারিত্বের সময় এই বাংলাকে বিভিন্ন নাম দেন।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলাও বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসামের মতো কয়েকটি প্রেসিডেন্সি নিয়ে নাম দিয়েছিলেন "বঙ্গ"।

আরো পড়ুন:

আত্মসমর্পণের আগে পাকিস্তানী সেনাদের মুহূর্তগুলো

বাংলাদেশ যুদ্ধ জয়ের কৃতিত্ব নিয়ে পাল্টা-পাল্টি দাবী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো মুক্তিযুদ্ধ কেন বড় ফ্যাক্টর?

এই ছবি দেখেই কি আত্মসমর্পণ করেছিলেন নিয়াজী?

মুক্তিযুদ্ধে কী ছিল ভারতীয় সেনার সামরিক কৌশল

ছবির উৎস,

Akbar hossain

ছবির ক্যাপশান,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলের নাম হয় বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি।

এরপর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় গোটা বাংলায় একটা প্রশাসনিক বিভাজন হয়। বাংলার পশ্চিম অংশ হয়ে যায় পশ্চিম বঙ্গ এবং পূর্ব অংশ হয়ে যায় পূর্ব বাংলা।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের পর ১৯৪৭ সালে বঙ্গ-প্রদেশ ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত হল। সে সময় পাকিস্তানিরা পূর্ব বাংলার নাম দিতে চাইলো পূর্ব পাকিস্তান।

কিন্তু এ নিয়ে সেই সময় থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায় বাংলা।

এরপর ১৯৫৭ সালে করাচীতে পাকিস্তানের গণপরিষদের তরুণ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান বক্তৃতা দেয়ার সময় "পূর্ব পাকিস্তান" নামটির প্রতিবাদ করে বলেন যে, পূর্ব বাংলা নামের একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে।

"আর যদি পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতেই হয়, তাহলে বাংলার মানুষের জনমত যাচাই করতে হবে। তারা নামের এই পরিবর্তন মেনে নিবে কিনা - সেজন্য গণভোট নিতে হবে।"

তারপর ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে নিউক্লিয়াস নামে ছাত্রলীগের একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা পায়। যারা স্বাধীনতার পক্ষে চিন্তাভাবনা করতো। তারা এই অঞ্চলকে বলতেন স্বাধীন পূর্ব বাংলা।

ছবির উৎস,

MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান,

বাংলাদেশের পতাকা।

এরপর আসে ১৯৬৯ সাল। শুরু হয় আইয়ূব পতন আন্দোলন। সেসময় গণঅভ্যুত্থানে স্লোগান দেয়া হয় "বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।"

ইতিহাস অনুযায়ী, ওই প্রথম পূর্ব বাংলাকে "বাংলাদেশ" নামে অভিহিত করা হয়।

পরে ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, "আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ"।

ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমান "বাংলাদেশ" নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন।

এই নাম দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে "বাংলা", এরপর স্বাধীন দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দেশ। এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে "বাংলাদেশ" নামকরণ করা হয়।

এরপরও নথিপত্র-গুলোয় পূর্ব পাকিস্তান লিখতে হলেও কেউ মুখে পূর্ব পাকিস্তান উচ্চারণ করতেন না। সবাই বলতেন বাংলাদেশ।

সেই থেকে এই দেশকে আর কেউ পূর্ব পাকিস্তান বলেনি। সবাই বাংলাদেশ হিসেবেই মনে-প্রাণে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে জানান ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

ছবির উৎস,

DIBYANGSHU SARKAR

ছবির ক্যাপশান,

লাল সবুজ পতাকা ফুটে উঠছে ক্যানভাসে।

তারপর মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার যে ঘোষণা প্রচার করে - তাতেও বলা হয় এই দেশটির নাম হল "বাংলাদেশ"।

এরপর ১৯৭২ এর চৌঠা নভেম্বর যখন প্রথম সংবিধান প্রণীত ও গৃহীত হয় সেই সময়ও দেশটির সাংবিধানিক নাম দেয়া হয় "বাংলাদেশ"।

এছাড়া উনিশ শতকের সাহিত্যে অবিভক্ত বাংলাকে "বঙ্গদেশ" বা "বাংলাদেশ" বলা হতো।

বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যে "বঙ্গদেশ" শব্দের উল্লেখ আছে। কাজী নজরুল ইসলাম তিরিশের দশকে তার কবিতায় "বাংলাদেশ" নামটি ব্যবহার করেছেন। আবার সত্যজিতের চলচ্চিত্রেও উচ্চরিত হয়েছে "বাংলাদেশ" নামটি।

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাকে আখ্যায়িত করেছেন "সোনার বাংলা" বলে আর জীবনানন্দ দাস বলেছেন "রূপসী বাংলা"।








কজন ভালো অতিথি হওয়ার জন্য কেবল উপহার নিয়ে যাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং আপনার আচরণও হওয়া উচিত মার্জিত। কিছু বিষয় পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:

​১. সময়মতো পৌঁছানো এবং সময়মতো বিদায় নেওয়া:

কখনো দাওয়াতের সময়ের আগে পৌঁছাবেন না, কারণ এতে গৃহকর্তা অপ্রস্তুত থাকতে পারেন। আবার অনেক দেরি করেও যাবেন না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আড্ডা খুব বেশি দীর্ঘ করবেন না। গৃহকর্তা ক্লান্ত হওয়ার আগেই বিদায় নেওয়া একজন ভালো অতিথির লক্ষণ।

​২. ছোট উপহার সাথে রাখা:

খালি হাতে না যাওয়াই ভালো। ছোট এক প্যাকেট মিষ্টি, ফুল, বা ঘর সাজানোর কোনো ছোট জিনিস উপহার হিসেবে নিতে পারেন। এটি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

​৩. আগে থেকে নিজের সমস্যার কথা জানানো:

আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি থাকে বা আপনি যদি নিরামিষাশী হন, তবে তা দাওয়াতের অন্তত কয়েকদিন আগে বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিন। এতে হোস্টের জন্য মেনু ঠিক করা সহজ হয়।

​৪. মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকা:

আড্ডার টেবিলে বারবার ফোন চেক করা বা ফোনে কথা বলা অভদ্রতা। সবার সাথে গল্পে মনোনিবেশ করুন এবং ফোনটি পকেটে বা ব্যাগে রাখুন।

​৫. সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া:

খাবার টেবিলে খাবার পরিবেশন করা বা খাওয়ার পর থালা-বাসন গোছানোর কাজে ছোটখাটো সাহায্য করার প্রস্তাব দিন। তারা যদি মানা করেন, জোর করবেন না, কিন্তু আপনার এই সদিচ্ছা তারা মনে রাখবেন।

​৬. ঘর পরিষ্কার রাখা:

আপনি যেখানে বসেছেন বা বাথরুম ব্যবহার করলে তা পরিষ্কার রাখুন। মেজবানের ঘরের জিনিসের যত্ন নিন যাতে তাদের বাড়তি খাটুনি না হয়।

​৭. বিতর্কিত বিষয় এড়িয়ে চলা:

এমন কোনো বিষয়ে আলোচনা করবেন না যা অন্যদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে (যেমন: রাজনীতি বা ব্যক্তিগত সমালোচনা)। সবার সাথে হাসিখুশি এবং ইতিবাচক কথা বলুন।

​৮. ধন্যবাদ জানানো (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):

দাওয়াত খেয়ে আসার পরদিন একটি মেসেজ বা ফোন করে ধন্যবাদ জানান। তাদের রান্না এবং আতিথেয়তার প্রশংসা করুন। এটি মেজবানের কষ্টকে সার্থক করে তোলে।

​একজন ভালো অতিথি হওয়া মানে হলো এমনভাবে থাকা যেন আপনার উপস্থিতিতে বাড়ির মালিক আনন্দিত হন এবং পরবর্তীতে আপনাকে আবার দাওয়াত দিতে আগ্রহী থাকেন।

@ Paint with Ashraf



টাকা কেবল কাগজের নোট নয়, এটি আপনার সেই মূল্যবান সময় যা আপনি টাকা অর্জন করতে ব্যয় করেছেন।

কোনো কিছু কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই বস্তুটির বদলে আমি কি আমার জীবনের এতগুলো ঘণ্টা বা দিন বিসর্জন দিতে রাজি?

জীবনকে উপভোগ করতে কতটুকু টাকা বা সম্পদ প্রয়োজন তার একটি সীমা নির্ধারণ করুন; সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা কেবল অশান্তি আনে।

অতীতের ঋণের বোঝা ঝেড়ে ফেলুন। ঋণ আপনার ভবিষ্যৎকে বর্তমানের কাছে বন্ধক রাখে। তাই দ্রুত ঋণমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।

​•

​কেবল হিসাব রাখা বড় কথা নয়, আপনার প্রতিটি খরচ আপনার মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাই করুন।

বস্তুগত সুখ সাময়িক, কিন্তু ভালো স্মৃতির আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী।

কোনো দামী জিনিস কেনাই শেষ কথা নয়, সেটি রক্ষণাবেক্ষণে আপনার কতটুকু সময় ও অর্থ যাবে সেটিও ভাবুন।

সঞ্চয় করা মানে কেবল টাকা জমানো নয়, এটি আপনার ভবিষ্যতের 'নিরাপদ সময়' কেনা।

বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দেবেন না। সমাজ বা বিজ্ঞাপন আপনাকে যা কিনতে বলছে, তা না কিনে আপনার যা প্রয়োজন তাতে মনোনিবেশ করুন।

​কাজ আর জীবন এক নয়। আপনার চাকরি আপনার পরিচয় নয়, এটি কেবল আপনার আয়ের একটি উৎস মাত্র।

নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। আপনার উপার্জনের ক্ষমতা বাড়ালে আপনি কম সময়ে বেশি অর্থ আয় করে দ্রুত জীবনের জন্য সময় বের করতে পারবেন।

অবসর সময়ে সৃজনশীল হোন। শখের কাজ বা সৃজনশীল কাজগুলো আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দেবে, যা টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।

দামী জিনিস থাকলেই জীবনের মান উন্নত হয় না; মানসিক শান্তি এবং সুস্থ সম্পর্কই জীবনের প্রকৃত মান।

স্বনির্ভর হতে শিখুন। ছোটখাটো কাজগুলো (যেমন রান্না বা মেরামত) নিজে করতে শিখলে অর্থ এবং পরনির্ভরশীলতা দুই-ই কমে।

​নিজের আয়ের প্রতিটি পয়সা এবং ব্যয়ের সঠিক হিসাব রাখা আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।

আপনার জমানো টাকা বা মূলধন এমন জায়গায় বিনিয়োগ করুন যা আপনার অজান্তেই আয় তৈরি করবে (Passive Income)।

মনে রাখবেন, আপনি টাকা হারলে তা আবার আয় করতে পারবেন, কিন্তু হারানো সময় আর ফিরে পাবেন না।

অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করুন। অন্যের জীবনযাত্রা দেখে নিজের খরচের হার বাড়ানো একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

সেবা ও দানে আনন্দ খুঁজুন। যখন আপনার কাছে 'যথেষ্ট' থাকবে, তখন অন্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে জীবনের পূর্ণতা খুঁজে পাবেন।

​এই বাক্যগুলো অনুসরণ করলে আপনি কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছলই হবেন না, বরং আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থপূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারবেন।

___________________

@ Paint with Ashraf

Source: Your Money or Your Life




খ্রিস্টান ধর্ম কখন এবং কেন খতনা প্রথা ত্যাগ করেছে?


ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের প্রার্থনা করার ধরণও অনেকটা একই রকম। যেমন দলবদ্ধ হয়ে প্রার্থনা করা।

খ্রিস্টানরা যেটিকে ক্রিসমাস বা বড়দিন বলে সেটিকে ইহুদিরা বলে হানুক্কা। খ্রিস্টানদের ইস্টারকে ইহুদিরা বলে পাসওভার। এসব দিন খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা একই তারিখে পালন করা।

জন্মের অষ্টম দিনে প্রত্যেক ইহুদি ছেলে নবজাতকের মতো যিশুর খতনা করা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রথাটি তার অনুসারীরাই পরে পরিত্যাগ করেছে। খ্রিস্টানরা কেন বাচ্চা ছেলেদের খতনা করে না তার উত্তর বাইবেলে আছে।

নিউ টেস্টামেন্ট বা বাইবেলের দ্বিতীয় সংস্করণ অনুসারে খৎনা নিয়ে ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের মধ্যে বিবাদ দেখা দিয়েছিল ৫০ সালের দিকে এবং এর প্রধান ভূমিকায় ছিলেন সেইন্ট পল এবং সেইন্ট পিটার।  

"গির্জার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত ছিল এই খতনা নিয়ে,

রোমান ক্যাথলিকদের মতে যিনি কঠোরভাবে খ্রিষ্টান ধর্মের নির্দেশনা মেনে চলেন, খ্রিষ্টীয় জীবন রীতি অনুসরণ করেন, চার্চে থাকেন তাদেরকে সেইন্ট বলা হয়।

তখন পর্যন্ত ইহুদি ধর্মই ছিল একমাত্র একেশ্বরবাদী ধর্ম। গ্রীক, রোমান এবং মিশরীয়রা সে সময় একাধিক দেব-দেবীতে বিশ্বাস করত।

ইহুদি অনুসারীদের উদ্দেশ্যে ইলোকিম (ঈশ্বর) আব্রাহামকে (ইসলাম ধর্মে নবী ইব্রাহিম) বলেছিলেন, "এটি আমার অঙ্গীকার যা আপনাকে অবশ্যই রাখতে হবে। আপনার, আমার এবং আপনার বংশধরদের মধ্যে থাকা প্রত্যেক পুরুষের অবশ্যই খতনা করতে হবে।"

ইহুদি ছাড়াও, মুসলমানরা - যারা নবী ইব্রাহিমকে বিশ্বাস করেন - আজও এই প্রথা অব্যাহত রেখেছে। যদিও খৎনার বিষয়ে কুরআনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত আছে।


ইতিহাসে খতনা

ছেলের যৌনাঙ্গের সামনের চামড়া কেটে অপসারণ করাকে খৎনা বলে। ওই চামড়া দিয়ে যৌনাঙ্গের অগ্রভাগ ঢেকে দেয়া হয়। এটি এমন এক আচার যা ধর্মের মাধ্যমে শুরু হয়নি।  এটি বিশ্বের প্রাচীনতম অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং ধারণা করা হয় প্রায় ১৫,০০০ বছর আগে মিশরে এই প্রথা উদ্ভূত হয়েছিল।  শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক সার্জন এবং গবেষক আহমেদ আল সালেমের লেখা “অ্যান ইলাস্ট্রেটেড গাইড টু পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি” বইয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আচার-অনুষ্ঠান পালন করার জন্য, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠান করতে, সেইসাথে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের চিহ্ন হিসাবে খতনাকে তাদের সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

এই দৃষ্টিভঙ্গি ইহুদি ধর্মে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে কোন সংস্কৃতি তা অস্বীকার করেনি।

সুমেরিয়ানরা মূলত দক্ষিণ মেসোপটেমিয়া সভ্যতা বা প্রাচীন ব্যাবিলনের জনগোষ্ঠী ছিলেন। অন্যদিকে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে যারা সেমিটিক ভাষায় কথা বলতেন তাদের সেমিটিস বলা হতো।

এরও অনেক কাল আগে এবং আরব থেকে অনেক দূরে ভিন্ন সংস্কৃতিতেও খতনা প্রচলন ছিল। মায়ান এবং অ্যাজটেক সভ্যতায় এর অনুশীলন ছিল বলে জানা গিয়েছে। 

যদিও খতনা সব জায়গায় সর্বজনীনভাবে গৃহীত হয়নি। বিশেষ করে হেলেনিস্টিক যুগে। ওই যুগে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গ্রীক সংস্কৃতির শক্তিশালী প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রাচীন গ্রীকরা তাদের দেহ সুঠাম রাখতে ব্যায়াম করত এবং পুরুষের নগ্নতাকে তারা উপাসনা করত। পুরুষদের যৌনাঙ্গে সামনের চামড়া ছিল তাদের সৌন্দর্যের প্রতীক। এজন্য খতনাকে তারা ভালোভাবে নেয়নি।

 

"হেলেনিস্টিক যুগে ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে খতনার প্রথা টিকিয়ে রাখা বিশেষ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ ইহুদিদের ওপর সে সময় হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছিল এবং তারা সেই প্রভাবশালী সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে চেয়েছিল,"

হেলেনিস্টিক যুগের রাজা অ্যান্টিওকাস এপিফেনেস তৎকালীন জুডিয়ার (জেরুজালেম) বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন তারা তাদের ছেলেদের আর খতনা না করায়। ফলস্বরূপ, কিছু ইহুদি পুরুষ তাদের খতনা গোপন করার চেষ্টা করেছিল," সিনথিয়া লং ওয়েস্টফল তার বইয়ে উল্লেখ করেন।কানাডার ম্যাকমাস্টার ডিভিনিটি কলেজের নিউ টেস্টামেন্টের অধ্যাপক সিনথিয়া লং ওয়েস্টফল তার ‘পল অ্যান্ড জেন্ডার’ বইতে এ কথা বলেন।

মিয়াটাল স্টেনোসিস (Meatal Stenosis): খৎনার পর ঘর্ষণের ফলে মূত্রনালীর মুখ সরু হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাব ছিটকে পড়ে, ফোটা ফোটা হয় এবং মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয় না—যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

 প্রোস্টেট ও হার্নিয়ার ঝুঁকি: মূত্রত্যাগে অতিরিক্ত চাপের ফলে দীর্ঘমেয়াদে প্রোস্টেট প্রদাহ এবং ইনগুইনাল হার্নিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সংবেদনশীলতা হ্রাস: অগ্রভাগের হাজার হাজার স্নায়ুকোষ হারিয়ে যাওয়ায় লিঙ্গ তার স্বাভাবিক সংবেদনশীলতা হারায় এবং মিলনের প্রকৃত আনন্দ ব্যাহত হয়।

চামড়ার অস্বাভাবিক টান: অবশিষ্ট চামড়া অতিরিক্ত টাইট হয়ে যাওয়ায় ইরেকশনে টান লাগে, যা অঙ্গের স্বাভাবিক প্রসারণে বাধা দেয়।


সেন্ট পিটার ও সেন্ট পল দ্বন্দ্ব

ইহুদি ধর্ম কাউকে তার ধর্মে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করে না। কিন্তু যিশু তাঁর অনুসারীদের যতটা সম্ভব তার বাণী সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে বলেছেন।

টারসাসের পল, যিনি সম্ভবত তার কৈশোরে বা প্রারম্ভিক যৌবনে জেরুজালেমে এসেছিলেন, তিনি শৈশবে গ্রীকদের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন।

যিশু ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পরে তিনি প্রধান ধর্ম প্রচারক হয়ে পড়েন। তিনি সে সময় ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, তুরস্ক, গ্রীস এবং মিশর ভ্রমণ করেছেন, যে অঞ্চলগুলো আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।

প্রধানত যাদেরকে তারা 'বিধর্মী' অর্থাৎ অ- ইহুদি বলে অভিহিত করতেন তাদের মধ্যে যিশুর বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছিলেন তিনি।

বিধর্মীরা খতনাকে বা যৌনাঙ্গের অঙ্গচ্ছেদকে নির্বাসনের সাথে তুলনা করতো।  

"অতএব, গ্রেকো-রোমান বিশ্বে খতনাকে কলঙ্কিত ভাবা হতো এবং এটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য খুবই বেদনাদায়ক প্রক্রিয়া ছিল।"

পল ধর্ম প্রচারের সময় তাদের বলেছিলেন যে তাদের খতনা করা উচিত নয়। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে ঈশ্বরের কৃপা পাওয়ার একমাত্র উপায় হল বিশ্বাস।

"এই নিয়মটি আমি সমস্ত গির্জায় প্রতিষ্ঠা করেছি। ইতোমধ্যেই যারা খতনা করেছেন তাদেরকে কী বলা হয়েছে? তাদেরকে বলা হয়েছে তারা যেন তাদের খতনা করার কথা গোপন না করে।"

"কেউ খতনা না করলে তাকে কী বলা হয়েছে? তাকে বলা হয়েছে তার খতনা করানো উচিত হবে না। খতনা করা হোক বা না হোক তাতে কোন পার্থক্য নেই।"

"গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ঈশ্বরের আদেশগুলো মেনে চলা" - গ্রীসের করিন্থ শহরের বাসিন্দাদের কাছে তার প্রথম চিঠিতে পল এসব কথা লিখেন।


ইহুদি ধর্ম মতে পুরুষদের অবশ্যই জন্মের অষ্টম দিনে খতনা করাতে হবে। এই প্রথা ব্রিট মিলাহ নামে পরিচিত।

"পল টারসাসের একজন ইহুদি অনুসারী ছিলেন। তিনি ছিলেন রোমান নাগরিক এবং তার মধ্যে গ্রিক সংস্কৃতির প্রভাব ছিল। তিনি খুব সংস্কৃতিবান ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি হিব্রু, গ্রিক এবং রোমান সংস্কৃতির সাথে কাজ করেছিলেন। 

সমঝোতার মুহূর্ত

নিউ টেস্টামেন্ট বা বাইবেলে দ্বিতীয় সংস্করণ অনুসারে মোজেসের ( ইসলামে মুসা নবী ) আইন ও ঐতিহ্য দ্বারা প্রভাবিত কিছু ইহুদি খ্রিস্টান অ্যান্টিওখ শহরে ভ্রমণ করেছিলেন। তখন সেই আদিম খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা বিধর্মীদের বলেছিলেন যে তারা খতনা না করালে পরিত্রাণ পাবে না।

এই কারণেই পল জেরুজালেমে ফিরে আসেন এবং বিবাদ মীমাংসার জন্য ধর্ম প্রচারকদের নিয়ে একটি সভা ডাকেন। এটি ছিল জেরুজালেমের তথাকথিত কাউন্সিল।

সেখানে পল ব্যাখ্যা করেন, জুডিয়া বা জেরুজালেমের বাইরেও বিপুল সংখ্যক মানুষকে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকে টানতে পেরেছেন এবং তার এই লক্ষ্য অব্যাহত থাকবে।

যারা মূলত খৎনার বিরুদ্ধে ছিলেন কিন্তু পরে একে সমর্থন করেছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন ধর্ম প্রচারক জেমস।

তিনি বলেছিলেন, "আমাদের অবশ্যই বিধর্মীদের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের পথে বাধা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।"


খৎনা: প্রকৃতির  নিখুঁত সৃষ্টিতে হস্তক্ষেপ নাকি শয়তানি বিকৃতি?

পুরো কুরআনে খৎনার কোনো আদেশ নেই। এটি মূলত প্রাচীন ইহুদি-প্যাগান প্রথা যা ‘বাপ-দাদার ধর্ম’ হিসেবে আমাদের ওপর জেঁকে বসেছে। 

আল্লাহর সৃষ্টি যেমন, তাকে তেমনভাবেই রক্ষা করা প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।






ভাষার উৎস: মানুষ কখন ও কেন কথা বলতে শিখলো? কী বলেছিল প্রথমে?

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কে, কবে, কখন ও কেন প্রথম কথা বলেছিল?

২৫ জুন ২০১৯

আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রথম কবে কথা বলতে শিখেছিল? এখন যে হাজার হাজার ভাষায় মানুষ কথা বলে সেগুলো কি ওই একজন পূর্বপুরুষের কাছ থেকেই এসেছিল? এসব ভাষার ইতিহাস থেকে কি তার উৎস খুঁজে বের করা সম্ভব? লেখক ও ভাষা-প্রেমিক মাইকেল রোজেন সেটাই অনুসন্ধান করে দেখছেন...

"পৃথিবীতে মানুষই হলো একমাত্র প্রাণী যাদের ভাষা আছে, এই ভাষার কারণে আমরা অন্যসব প্রাণী থেকে আলাদা হয়েছি," বলেছেন নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাগি টলারম্যান।

ভাষার মাধ্যমে এই যে ভাবের বিনিময়, কথার আদান প্রদান, সেটাকে দেখা হয় বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হিসেবে। সবকিছুকে বদলে দিয়েছে এই ভাষা। আর একারণেই মানুষ ভাষার উৎস সম্পর্কে জানতে দারুণ উৎসাহী।

"জটিল যতো বিষয় আছে তার একটি এই ভাষা এবং এটিই আমাদের মানুষ বানিয়েছে, বলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানব বিবর্তন বিভাগের শিক্ষক ও নৃবিজ্ঞানী রবার্ট ফোলি।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মানুষকে বুঝতে হলে তার ভাষাও বুঝতে হবে।

ভাষার বয়স কতো

বর্তমানে পৃথিবীতে মানুষ সাড়ে ছ'হাজারের মতো ভাষায় কথা বলে। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ভাষা কোনটি?

সবচেয়ে পুরনো ভাষার নাম জানতে চাইলে আমরা অনেকেই ভাবি ব্যাবিলনীয়, সংস্কৃত কিম্বা মিশরীয় ভাষার কথা।

কিন্তু অধ্যাপক টলারম্যান বলছেন, এসব ভাষা তার ধারে-কাছেও নেই। সাধারণত আমরা বলি যে ভাষা ছ'হাজার বছর পুরনো। কিন্তু ভাষার প্রকৃত উৎস যদি খুঁজে দেখতে হয় তাহলে অন্তত ৫০ হাজার বছর পেছনে ফিরে যেতে হবে।

বহু ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন, ভাষার ইতিহাস আসলে এর চেয়েও পুরনো।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

"আমাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন যে ভাষার উৎপত্তি পাঁচ লাখ বছর আগেও হতে পারে," বলেন অধ্যাপক টলারম্যান।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ভাষার উৎস খুঁজতে আমাদের কতো পেছনে যেতে হবে?

একই পূর্বপুরুষ

পৃথিবীতে যতো ভাষা আছে সেগুলোর চরিত্র আলাদা আলাদা হলেও "এটাও সম্ভব যে বর্তমানে সব ভাষাই একজন পূর্বপুরুষের কাছ থেকে এসেছে," বলেন অধ্যাপক ফোলি।

জীববিজ্ঞানের বিবর্তনের ইতিহাসের সূত্র ধরে বিজ্ঞানীরা ভাষা কবে শুরু হয়েছিল তার কাছাকাছি যেতে পেরেছেন। জিন-বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুসারে আমরা কমবেশি সবাই এসেছি আফ্রিকার একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে।

ভাষার এই তালিকার বাইরেও হয়তো অন্যান্য ভাষাও থাকতে পারে, কিন্তু আজকের দিনে যেসব ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় সেগুলোর সবই সম্ভবত একই ভাষা থেকেই বিবর্তিত হয়েছে।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

জীবাশ্ম থেকে অনেক কিছু জানা সম্ভব।

জীবাশ্ম থেকে প্রমাণ

আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবাশ্ম থেকে কিছু ধারণা পাওয়া যায় যে আমরা ঠিক কবে থেকে কথা বলতে শুরু করেছিলাম।

অধ্যাপক ফোলি বলছেন, "কথা হচ্ছে একধরনের শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া। এটা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই আমরা শব্দ তৈরি করে থাকি।"

এটা করার জন্যে শরীরের পেশীর ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। "আমাদের বক্ষ এবং উদরের মাঝখানে যে ঝিল্লির পর্দা সেটি অন্যদের থেকে আলাদা। আমাদের কাছাকাছি যে প্রাণী, অর্থাৎ বানর বা এইপ, যারা কথা বলতে পারে না, তাদের ঝিল্লির তুলনায় আমাদের ঝিল্লিতে নার্ভের সংখ্যা বহুগুণে বেশি।"

এসব নার্ভের অর্থ হচ্ছে "আমাদের স্পাইনাল কর্ড এইপের স্পাইনাল কর্ডের চেয়ে মোটা এবং আমাদের ভার্টিব্রাল কলামও একটু বেশি প্রশস্ত।

নিয়েন্ডারথাল নামে আমাদের যে আত্মীয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যারা ছ'লাখ বছর আগেও পৃথিবীতে বেঁচে ছিল, তাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে তাদের স্পাইনাল কলামও প্রশস্ত ছিল।

কিন্তু আপনি যদি দশ লাখ বছর আগের হোমো ইরেক্টাসের দিকে তাকান, যারা মানবজাতির প্রাচীনতম পূর্বপুরুষ, তাদের দেহে এরকম ছিল না। এ থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায় যে মানুষ কবে থেকে কথা বলতে শুরু করেছিল।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কারা কথা বলেছিল প্রথম?

জিন-বিজ্ঞানের ভূমিকা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবাশ্মের রেকর্ডের বাইরেও জিন-বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে ভাষার বয়স জানা সম্ভব হচ্ছে।

"এফওএক্সপিটু নামের একটি জিন আছে। স্তন্যপায়ী প্রায় সকল প্রাণীর শরীরেই আছে এই জিন। কিন্তু মানবদেহে যেটি আছে সেটি এর রূপান্তরিত জিন," বলেন অধ্যাপক ফোলি।

"জিনের এই রূপান্তর গবেষণা করেও বোঝা যায় কেন মানুষ কথা বলতে পারে, কিন্তু শিম্পাঞ্জি পারে না। কথা বলা ও ভাষার বিকাশে এই জিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ যেসব মানুষের শরীরে এই জিনটি রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে না, তাদের কথা বলতে অসুবিধা হয়।"

মজার বিষয় হচ্ছে, এখনকার মানুষদের মতো নিয়েন্ডারথালদেরও এই এফওএক্সপিটু ধরনেরই জিন ছিল। এর ফলে ধারণা করা যায় যে তাদের মধ্যেও কোন না কোন ধরনের কথা বা ভাষা ছিল।

তবে তাদের সেই ভাষা সম্পূর্ণ এবং উন্নত ছিল কিনা সেটা ভিন্ন বিষয়।

অধ্যাপক টলারম্যান বলছেন, কথার সাথে ভাষার তফাৎ আছে। তবে কী কারণে কথা একসময় ভাষা হয়ে উঠে সেটা জিনগত তথ্যপ্রমাণ থেকে নির্ণয় করা কঠিন।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

আকারে বড় হওয়া সত্ত্বেও বিলুপ্ত হয়ে গেছে নিয়েন্ডারথাল।

মস্তিষ্কের আকার

আদি-মানবের মাথার খুলির আকৃতি থেকে কি ভাষার উৎপত্তির সময় খুঁজে বের করা সম্ভব? অবশ্যই না।

সবচেয়ে সহজ কারণ হলো আমরা ঠিক জানি না যে একটি ভাষা তৈরির জন্যে কতো বড় মস্তিষ্কের প্রয়োজন হয়। "নিয়েন্ডারথালসের মস্তিষ্ক আমাদের চেয়েও বড় ছিল। কারণ প্রাণী হিসেবেও তারা বড় ছিল," বলেন অধ্যাপক টলারম্যান।

প্রথম শব্দ কী ছিল

আমরা যখন মানবজাতির শুরুর দিকের ভাষা নিয়ে কথা বলছি, আমরা কি বলতো পারবো তখন মানুষের মুখ থেকে প্রথম কোন শব্দটি উচ্চারিত হয়েছিল?

"সৎ উত্তর হচ্ছে: আমাদের আসলে কোন ধারণাই নেই," বলেন প্রফেসর ফোলি।

মানব ইতিহাসের শুরুর দিকে যে শব্দগুলো চালু ছিল বলে ধারণা করা হয় সেগুলোর অর্থ হতে পারে 'ঈগল', 'চিতা' অথবা 'দেখো।'

অনেকে মনে করেন, আমাদের পরিবেশের আশেপাশে সহজ ও সুনির্দিষ্ট কোন জিনিসই হয়তো মানুষের মুখ থেকে প্রথম এসেছিল।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

প্রথম শব্দ হয়তো ব্যাকরণ মেনে হয়নি।

আরেকটি তত্ত্ব হচ্ছে প্রথম দিককার শব্দগুলোর মধ্যে এমন শব্দগুলোই ছিল যেগুলো আমরা এখন সবসময় ব্যবহার করি। যেমন: ইশ, হেই, ওয়াও, থ্যাংকস, গুডবাই- এধরনের শব্দ।

এসব শব্দ প্রায় সব ভাষাতেই আছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে মিল হচ্ছে যে এসবের কোন সিনটেক্স বা ব্যাকরণ নেই।

খাওয়ার সময় ভাষা তৈরি হয়েছিল?

মানবজাতির শুরুতে কথা বলা শুরু হয়েছিল একে অপরকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি খাদ্য গ্রহণ করতে গিয়েও।

আমাদের পূর্বপুরুষরা বড় বড় শিকারি প্রাণীদের হাতে নিহত পশুর মৃতদেহ থেকে মাংস খেয়ে জীবন ধারণ করতো।

"হায়েনাদের হাতে নিহত পশুদের মরদেহ থেকে মাংস খেতে হলে আপনার সাথে আরো কিছু মানুষের প্রয়োজন হতো। কারণ এটা একটা বিপদজনক কাজ ছিল," বলেন অধ্যাপক টলারম্যান।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

আদিম জীবনের একটি চিত্র।

"আপনি যখন খাবারের খোঁজে ঘর থেকে বের হলেন, একটা পশুর ভালো মৃতদেহও খুঁজে পেলেন এবং আপনার গ্রুপের লোকজনদের জানাতে চান যে আশেপাশেই ভালো খাবার আছে তখন তো একটা ভাষার দরকার হবে," বলেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা খাদ্য গ্রহণের তাড়না এবং বেঁচে থাকার চেষ্টার কারণে মানুষের মধ্যে একে অপরকে জানানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

পরচর্চা বা গসিপের ভূমিকা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, একসাথে মিলে কাজ করার ক্ষমতা থেকেও ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা তৈরি হয়েছে।

"পরস্পরকে সহযোগিতা করাই এক্ষেত্রে পালন করেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, বলেন অধ্যাপক ফোলি, "বিশেষ করে জোটবদ্ধ হওয়া এবং চারপাশে কী হচ্ছে সেটা জানার চেষ্টা করা।"

"এই আড্ডা মারার মতো করে কথা বলার গুরুত্বও কম ছিল না। টুকটাক কথা বলা, পরচর্চা বা গসিপ এগুলো প্রতিদিনেরই অংশ," বলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইতিহাসবিদ ড. লরা রাইট।






আধুনিক মানুষ এসেছে বতসোয়ানার হ্রদ এলাকা থেকে: গবেষণা

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

বর্তমানে ওই এলাকা লবণের মরুভূমি হয়ে আছে, কিন্তু এক সময় এখানে বিশাল একটি হ্রদ ছিল

৩০ অক্টোবর ২০১৯

বর্তমানে পৃথিবীতে যত মানুষ বেঁচে আছে, তাদের আদি বাসস্থান চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, বর্তমান পৃথিবীর সব মানুষের এক সময়ের বাসস্থান ছিল জাম্বেজি নদীর দক্ষিণের একটি এলাকায়।

বর্তমানে ওই এলাকা লবণের মরুভূমি হয়ে আছে, কিন্তু এক সময় এখানে বিশাল একটি হ্রদ ছিল, যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা দুই লাখ বছর আগে বসবাস করতেন।

গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পাল্টে যাওয়ার আগে পর্যন্ত, প্রায় ৭০ হাজার বছর ধরে সেখানে বসবাস করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষরা।

উর্বর সবুজ করিডোর উন্মুক্ত হওয়ার পর তারা সেখান থেকে সরে যেতে শুরু করে। এভাবে আফ্রিকার বাইরে পরবর্তী অভিবাসন প্রক্রিয়াটি শুরু হয়।

''এটা বেশ কিছুদিন ধরেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, শারীরিকভাবে আধুনিক মানুষ প্রায় দুই লাখ বছর পূর্বে আফ্রিকায় দেখা যেতে শুরু করেছে।'' বলছেন অধ্যাপক ভেনেসা হেইস, অস্ট্রেলিয়ার গার্ভান ইন্সটিটিউট অফ মেডিকেল রিসার্চের একজন জিন বিজ্ঞানী।

''কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যা নিয়ে বিতর্ক চলছে, তা হলো ঠিক কোন স্থান থেকে এই মানুষদের দেখা যেতে শুরু করে এবং কেন আমাদের পূর্বপুরুষরা পরবর্তীতে আলাদা হয়ে ছড়িয়ে যায়।''

অধ্যাপক হেইসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য এই খাতের অন্য গবেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

হ্রদ ঘেরা স্বর্গ

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

যে এলাকায় আমাদের পূর্বপুরুষের উৎপত্তির কথা বলা হচ্ছে, সেটি হলো জাম্বেজি অববাহিকার দক্ষিণের একটি এলাকা, যা উত্তর বতসোয়ানায় অবস্থিত।

গবেষকরা ধারণা করছেন যে, আমাদের পূর্বপুরুষরা আফ্রিকার বিশাল হ্রদ ব্যবস্থার কাছাকাছি বাসস্থান তৈরি করেছিলেন, যাকে বলা হয় লেক মাকগাডিকাগাদি, যা বর্তমানে শুকিয়ে দিয়ে আঁকাবাঁকা লবণ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

''এটা সত্যিই বিশাল একটা এলাকা, তখন এটা হয়তো খুব আর্দ্র আর উষ্ণ ছিল,'' বলছেন অধ্যাপক হেইস। ''এবং এটা তখন আধুনিক মানুষ ও আশেপাশের বুনো জীবজন্তুর জন্য একটি উপযুক্ত বাসস্থান তৈরি করে দিয়েছিল।''

আরো পড়ুন:

বেঁচে থাকার জন্যে কেন ৫৩৬ খৃস্টাব্দ ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ?

মানুষ কী করে অন্য প্রাণীর দুধ খেতে শিখলো?

মানুষের দ্রুত রাগের পেছনে রহস্য কী?

ছবির উৎস,

Chris Bennett, Evolving Picture, Sydney, Australia

ছবির ক্যাপশান,

নামিবিয়ার কালাকারি মরুভূমিতে স্থানীয়দের কাছ থেকে আগুন জ্বালানো শিখছেন অধ্যাপক হেইস

সেখানে প্রায় ৭০ হাজার বছর বসবাসের পরে সেই মানুষরা অন্যত্র সরে যেতে শুরু করে। পুরো অঞ্চল জুড়ে বৃষ্টির ধারা পাল্টে যাওয়ায় ১ লাখ ৩০ হাজার বছর থেকে ১ লাখ ১০ হাজার বছর আগে তিন দফায় অভিবাসন হয়। তখন তাদের সামনে তৈরি হওয়া একটি সবুজ উর্বর করিডোর দিয়ে এই অভিবাসন সম্পন্ন হয়।

প্রথম দফার অভিবাসীরা উত্তর-পূর্ব দিকে যায়, পরের দলটি যায় দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আর তৃতীয় দলটি তাদের পুরনো ঠিকানাতেই থেকে যায়, যারা এখনো সেখানে আছে।

মায়ের দিক থেকে শিশুদের মধ্যে যে ডিএনএ আসে, সেরকম শত শত ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে মানুষের পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য বের করা হয়েছে।

কিন্তু সেই ডিএনএ-র জিনগত তথ্যের সঙ্গে ভূগোল, কম্পিউটারের মাধ্যমে জলবায়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সেই সময়ে একটি চিত্র এঁকেছেন, ঠিক দুই লাখ বছর আগে আফ্রিকান মহাদেশ যেমন ছিল।

মানব ইতিহাসের পুনর্গঠন

তবে জার্নাল নেচারে প্রকাশিত এই গবেষণাকে সাধুবাদ জানালেও, একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, শুধুমাত্র ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের উৎস মূল সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে না। জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে পূর্ব আফ্রিকার মানুষের উৎস সম্পর্কে অন্য গবেষকরা ভিন্ন ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন।

লন্ডনের নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক ক্রিস স্ট্রিংগার বলছেন, মানুষের বিবর্তনের বিষয়টি জটিল একটা ব্যাপার ছিল।

''আপনি আধুনিক মাইটোকন্ড্রিয়াল বিতরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আধুনিক মানুষের উৎস হিসাবে শুধুমাত্র একটি স্থানকে চিহ্নিত করতে পারবেন না।'' তিনি বিবিসিকে বলেছেন।

''আমি মনে করি, এখানে অতিরিক্ত তথ্য বলা হচ্ছে, কারণ আপনি শুধুমাত্র জিনের ক্ষুদ্র একটি অংশকে এখানে বিশ্লেষণ করছেন, যা আমাদের উৎপত্তি সম্পর্কে পুরো তথ্য দিতে পারবে না।''

সুতরাং, হয়তো মানুষের আরো অনেক আদি বাসস্থান ছিল, যা হয়তো এখনো ঠিকভাবে সনাক্ত করা যায়নি।

মানব ইতিহাসের বিবর্তনের মাইলফলক






আঠারো হাজার বছর আগের ‘কুকুর’ নিয়ে রহস্যে বিজ্ঞানীরা

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Love Dalen

ছবির ক্যাপশান,

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণীটি হয়তো একটি কুকুর, অথবা নেকড়ে অথবা এই দুইটির মাঝামাঝি কোন প্রজাতি হতে পারে

৩ ডিসেম্বর ২০১৯

সাইবেরিয়ায় বরফের মধ্যে ১৮০০০ বছর আগেকার একটি প্রাণী ছানা পাওয়ার পর গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করছেন যে, এটি কি একটি কুকুর নাকি নেকড়ে।

কুকুরের মতো দেখতে ওই প্রাণীটি- মৃত্যু হওয়ার সময় যার বয়স ছিল দুই মাস- খুব ভালোভাবে রাশিয়ার ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ চিরহিমায়িত অঞ্চলে সংরক্ষিত হয়েছে, যার পশম, নাক এবং দাঁত, সবই অক্ষত রয়েছে।

কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষা করেও এই প্রাণীটির প্রজাতি নির্ধারণ করা যায়নি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর মানে হয়তো এটাই হতে পারে যে, এই প্রাণীটি নেকড়ে এবং বর্তমান সময়ের কুকুরের মধ্যকার বিবর্তনের একটি যোগসূত্র তুলে ধরছে।

আরো পড়ুন:

পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীগুলো

পৃথিবীর সবচেয়ে গোলগাল প্রাণী কি এগুলোই?

বাজারে রোবট কুকুর 'স্পট': কী করতে পারে

ছবির উৎস,

Sergey Fedorov

ছবির ক্যাপশান,

সতর্কতার সঙ্গ প্রাণীটিকে পরিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে, এর সারা শরীর পশমে আবৃত রয়েছে

রেডিওকার্বন ডেটিং ব্যবহার করে কবে এই প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে এবং কতদিন ধরে সেটি হিমায়িত হয়ে রয়েছে, সেটা বের করা সম্ভব হয়েছে। জিনোম বিশ্লেষণ করে বোঝা গেছে যে, এটি একটি পুরুষজাতীয় প্রাণী।

সুইডেনের সেন্টার ফর প্যালায়েজেনেটিকসের গবেষক ডেভ স্ট্যানটন সিএনএনকে বলেছেন, প্রাণীটির ডিএনএ বিশ্লেষণ করেও প্রাণীটির সঠিক প্রজাতি না পাওয়ার মানে এটা হতে পারে যে, এটি হয়তো এমন একটি প্রজাতির অংশ ছিল, যা থেকে বর্তমান কুকুর ও নেকড়ে, উভয়েই এসেছে।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

''এটি থেকে আমরা অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং এতো তথ্য থেকে আশা করা যায় যে, এটা বলা যাবে যে প্রাণীটি আসলে কী?''

ছবির উৎস,

Sergey Fedorov

ছবির ক্যাপশান,

এমনকি ছানাটির গোঁফও অক্ষত রয়েছে

ওই সেন্টারের আরেকজন গবেষক, লভ ডালেন একটি টুইটার বার্তায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে, এই প্রাণীটি কি একটি নেকড়ে ছানা নাকি ' সম্ভবত পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে পুরনো কুকুর'?

এখনো ডিএনএ বিশ্লেষণ অব্যাহত রেখেছেন বিজ্ঞানীরা এবং আশা করছেন যে, এই গবেষণার মাধ্যমে কুকুরের বিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে।

এই ছানাটির নাম রাখা হয়েছে, 'ডোগোর,' রাশিয়ার ওই অঞ্চলের ইয়াকুট ভাষায় যার মানে হলো 'বন্ধু'। যার আরেকটি অর্থ হলো, সংক্ষিপ্তভাবে জানতে চাওয়া, 'এটা কি কুকুর নাকি নেকড়ে'?

ধারণা করা হয় যে, বর্তমান সময়ের কুকুর এসেছে নেকড়ে থেকে। কিন্তু ঠিক কখন থেকে কুকুর গৃহপালিত প্রাণী হয়ে উঠেছে, এ নিয়ে বিতর্ক আছে।

২০১৭ সালে প্রকাশিত হওয়া একটি গবেষণায় ইঙ্গিত দেয়া হয় যে, কুকুর প্রথম গৃহপালিত হয়ে উঠতে শুরু করে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার বছর আগে থেকে।




যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করার একশো বছর: যেভাবেই এই উদ্যোগ বিফল হয়েছিল

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

১৯৩৩ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রে মদপানের অভ্যাসটি এখনো বেশ বিতর্কিত।

১৯ জানুয়ারি ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল আজ থেকে ঠিক একশো বছর আগে।

১৯২০ হতে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানের ১৮ তম সংশোধনীর মাধ্যমে মদ তৈরি, বিপনন, আমদানি এবং পরিবহন পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল । যুক্তরাষ্ট্রে এই সময়কাল 'প্রহিবিশন যুগ' বলে বর্ণনা করা হয়।

কিন্তু যে উদ্দেশ্যে সরকার এই কাজ করেছিল, কার্যত তার উল্টো ফল হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর অ্যালকোহলের উৎপাদন, বিপনন, বিক্রি পুরোটাই চলে যায় অপরাধী চক্রের হাতে, আর সরকার বঞ্চিত হয় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে।

যার ফলে ১৯৩৩ সালে মাত্র ১৩ বছরের মাথায় এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করার সেই উদ্যোগ এভাবেই বিফল হয়। ওই ঘটনার পর আজ পর্যন্ত কোনো প্রধান রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মদ নিষিদ্ধ করার দাবি আর তোলেনি। আর এরকম একটা ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে মানুষের সমর্থনও একেবারেই নেই।

কিন্তু তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মদপানের ব্যাপারটি এখনো বেশ বিতর্কিত।

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মদপানের জন্য সর্বনিম্ন বয়সসীমা যথেষ্ট উপরে। ২১ বছরের কমবয়সীরা আইনত মদ পান করতে পারে না, তাদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি নিষিদ্ধ।

ইউরোপ বা অন্য অনেক দেশের তুলনায় মদপানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মনোভাবও বেশি রক্ষণশীল। গ্যালপ পোল সম্প্রতি এক জরিপ চালিয়ে দেখেছে এখনো দেশটির প্রতি পাঁচ জনের একজন মনে করে মদ পান নৈতিকভাবে খারাপ।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

তবে 'প্রহিবিশন যুগে'র ব্যর্থ চেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কিছু গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মদ পান নিষিদ্ধ করার জন্য।

'প্রহিবিশন পার্টি' হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। অনেকের ধারণা, এই দলের মৃত্যু ঘটেছে অনেক আগে। কিন্তু আসলে তা নয়, এটি এখনো সক্রিয়।

জিম হেজেস হচ্ছেন এই দলের কোষাধ্যক্ষ।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত নারীরা মদ পান নিষিদ্ধ করারও পক্ষে ছিলেন।

'আমরা এই ধারণা এবং এই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি', বলছেন তিনি। তবে খুব শিগগিরই যে তাদের এই আন্দোলনের পক্ষে বড়সড় জনসমর্থন পাওয়া সম্ভব হবে, সেটা স্বীকার করছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র মদ্যপান নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের গোড়ার দিকে। আন্দোলনকারীরা মূলত মদ্যপানকে অনৈতিক এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করতেন।

মেথডিস্ট চার্চের অনুসারীরা এবং আরও কিছু সংগঠন মদ পান নিষিদ্ধ করার আইনের পক্ষে জনমত গঠনে সহায়তা করে।

মদ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে নারী সমাজ:

ডক্টর জুলিয়া গারনেরি কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির মার্কিন ইতিহাসের সিনিয়র লেকচারার।

তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এই মদ্যপান বিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে নারী সমাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান টেম্পারেন্স ইউনিয়ন বা ডাব্লিউসিটিইউ বলে সংগঠনটির।

"ওরা মনে করত যে লোকজন কাজ করে যে বেতন পায়, সেটা পরিবারের পর্যন্ত আসে না, তার আগেই ওরা পানশালায় মদ খেয়ে সেই টাকা উড়িয়ে দেয়।"

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মদ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত বেশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠলো। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবিতে শুরু হলো আন্দোলন।

মদ খেয়ে বাড়ি আসা স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং সন্তানদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাও ছিল সেসময়ের এক বড় সমস্যা।

যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করা আর নারীদের ভোটাধিকারের আন্দোলন চলছিল একই সঙ্গে। প্রহিবিশন আইন পাশ হওয়ার কিছুদিন পরই ১৯ তম সংশোধনীও পাশ হয় যাতে মেয়েদের ভোটাধিকারের সুরক্ষা দেয়া হয়। যে নারীরা সেসময় ভোটাধিকারের পক্ষে আন্দোলন করছিলেন, তারা একই সঙ্গে মদ পান নিষিদ্ধ করারও পক্ষে ছিলেন। কারণ তারা মনে করতেন, নারীদের নির্যাতিত হওয়ার পেছনে পুরুষদের মদের নেশাও ছিল একটি কারণ।

ডক্টর গারনেরির মতে, এই দুটি আইনের মধ্যে অনেক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ডাব্লিউসিটিইউর মতো সংগঠন মনে করতো, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য মদ নিষিদ্ধ করার দরকার আছে।

উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যায় অভিবাসী আসছিল। এদের মধ্যে ছিল প্রচুর ক্যাথলিক এবং ইহুদি ধর্মাবলম্বী যারা এসেছিল মূলত দক্ষিণ এবং পূর্ব ইউরোপ থেকে। এই অভিবাসীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ ছিল। ইউরোপ থেকে আসা এই নতুন অভিবাসীদের মধ্যে মদ পানের অভ্যাস ছিল। এরা যেভাবে বিয়ার পান করতো, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে ছিল খুবই অস্বাভাবিক ঠেকতো। ক্যাথলিক এবং ইহুদীদের ধর্মীয় রীতি-নীতির মধ্যেই মদ্যপানের ব্যাপার আছে। যদিও সেসব রীতি-নীতি পালনে বাধা দেয়া হতো না, তারপরও মদ পান নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আসলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণেরও একটা চেষ্টা ছিল।

ছবির উৎস,

Bettmann

ছবির ক্যাপশান,

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবিতে আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠলে ১৮তম সংশোধনী বাতিল করতে হয়।

মদ্যপান নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটি কেন ব্যর্থ হয়েছিল

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ যখন শুরু হলো তখন এই মদ্যপান নিষিদ্ধ করার আন্দোলনটি আরো শক্তিশালী হয়। যারা আন্দোলন করছিলেন তারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে উৎপাদিত শস্য মদ তৈরি করার চাইতে বরং যুদ্ধের কাজে লাগানোটাই বেশি দরকার। অন্যদিকে যেসব ভাটিখানায় বিয়ার তৈরি করা হতো, সেগুলোর মালিক ছিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জার্মান অভিবাসী বা তাদের বংশধররা। কাজেই অ্যালকোল তৈরি বা পান করা, সেটাকে 'আমেরিকা-বিরোধী' বলে চিত্রিত করা খুব সহজ ছিল।

কিন্তু মদপান নিষিদ্ধ করার এই উদ্যোগ একেবারেই ব্যর্থ হয়েছিল।

কারণ শুরু থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ, বিশেষ করে যারা সচ্ছল এবং সুবিধাভোগী, তারা এই আইন একেবারেই মানতো না। এমনকি প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিং নিজেও নাকি হোয়াইট হাউজে প্রকাশ্যে মদ পরিবেশন করতেন।

শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মদ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটি বেশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ছবির উৎস,

FPG

ছবির ক্যাপশান,

১৯২০ এর দশকে নিউ ইয়র্কে জব্দ করা বিয়ার নর্দমায় ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে।

অন্যদিকে যেরকম বেআইনিভাবে মদ কেনাবেচা হচ্ছিল তাতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করল।

১৯৩০ সালে ওয়াল স্ট্রীটের শেয়ার বাজারে ধস নামলো, শুরু হলো মহামন্দা। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েই প্রতিশ্রুতি দিলেন যে তিনি নির্বাচিত হলে মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন। ১৯৩২ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার এক বছর পরই তিনি তুলে নিলেন এই নিষেধাজ্ঞা।

তবে সেই বিফল চেষ্টার শত বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে কিছু মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখেন, কোন একদিন মদ আবার নিষিদ্ধ হবে।

মদ্যপান নিষিদ্ধ করার পক্ষে সবচেয়ে সক্রিয় যে দলটি, সেই প্রহিবিশন পার্টির ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জিম হেজেস। তিনি ৫ হাজার ৬শ ভোট পান। এর আগে ২০১২ সালের নির্বাচনে পাওয়া ৫১৮ ভোটের চেয়ে অনেক বেশি, বলছেন তিনি।

তবে মিস্টার হেজেস স্বীকার করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে যদি আবার মদ্যপান নিষিদ্ধ করতে হয় জনমতে একটা পরিবর্তন আসতে হবে।

তিনি বলেন, "যদি আমরা মানুষের সমর্থন ছাড়া উপর থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেই, এটা আসলে কার্যকর করা যাবে না।"





চীনের যে সমাজে নারীদের রাজত্ব, পুরুষের কাজ শুধু শয্যাসঙ্গী হওয়া: ইতিহাসের সাক্ষী

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Patrick AVENTURIER/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

চীনের ইউনান প্রদেশে পাহাড়ের কোলে মসুও সমাজে নারীরাই সর্বেসর্বা

২৭ জুলাই ২০২১

দক্ষিণ পশ্চিম চীনে হিমালয়ের কোলে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন মাতৃতান্ত্রিক এক সম্প্রদায়ের নাম মসুও। অঞ্চলটি তথাকথিত নারী শাসিত এক অভিনব সাম্রাজ্য।

চীনের ইউনান প্রদেশে পাহাড়ের কোলে মসুও সমাজে নারীরাই সর্বেসর্বা। তাদের সমাজে পুরুষরা গৌণ। পুরুষের যৌন সংসর্গ ছাড়া যেহেতু সন্তান উৎপাদন সম্ভব নয়, তাই মসুও সমাজে পুরুষের প্রয়োজন ভবিষ্যত বংশধর তৈরির জন্য। এর বাইরে পুরুষের সাথে সম্পর্ককে তাদের সমাজে নিরুৎসাহিত করা হয়।

মসুও জনগোষ্ঠীকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন পেশায় আইনজীবী চু ওয়াই হং।

তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত কাজ করতেন সিঙ্গাপুরে একটা বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ আইনজীবী হিসাবে। ওই বছর তার শহুরে ব্যস্ত জীবন থেকে আগাম অবসর নিয়ে মিজ চু ওয়াই হং যখন তার পূর্বপুরুষের দেশ চীনে বেড়াতে যান, তখন হঠাৎই তিনি দেখা পান পাহাড়ের বাসিন্দা এই বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়ের। সঙ্গে সঙ্গে তাদের দারুণ ভাল লেগে যায় চু ওয়াই হংয়ের।

নারীদের অপরিসীম আত্মবিশ্বাস

"নারীরা সেখানে দারুণ ক্ষমতাশালী," বলছিলেন তিনি। "আপনি সেখানে গেলে দেখবেন এই সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে কী পরিমাণ আত্মবিশ্বাস- সেটা কিন্তু তাদের স্বভাবজাত। আমাদের নারীদের মধ্যে এটা সচরাচর দেখা যায় না। এরা কিন্তু সেভাবে শিক্ষিত নয়, এরা কৃষক, কিন্তু আত্মবিশ্বাসে এরা যেন টগবগ করছে!"

ছবির উৎস,

jeffreychen/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

দশ কিলোমিটার দীর্ঘ লুগু হ্রদ লিজিয়াং শহরের কেন্দ্র থেকে বিস্তৃত ইউনান প্রদেশের নিংলাং এবং সিচুয়ান প্রদেশের ইয়ানইউয়ান-এর সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত।

পাহাড়ের প্রায় ৩ হাজার মিটার উচ্চতায় অপূর্ব সুন্দর একটা হ্রদ - নাম 'লুগু লেক'। তার চারপাশে চমৎকার ঝাউবন। পাহাড়ে ঘেরা চোখ জুড়ানো দারুণ এলাকা। প্রত্যেকেই কৃষিজীবী আর খুব শান্ত ধীরস্থির জীবনযাত্রা সেখানে, ব্যাখ্যা করছিলেন মিজ ওয়াই হং।

সিঙ্গাপুরে মিজ ওয়াই হং-এর কর্মজীবন ছিল খুবই সফল। কিন্তু তা ছিল অমানুষিক রকম ব্যস্ত। রোজই প্রায় রাত বারোটা পর্যন্ত তাকে কাজ করতে হতো, প্রায়ই সপ্তাহে সাত দিন।

কয়েক দশক এভাবে চলার পর একদিন সকালে উঠে তিনি ঠিক করলেন, সাফল্য আর অর্থের বাইরে যে জীবন - তাকে জানতে তিনি বেরিয়ে পড়বেন। কাজে ইস্তফা দিলেন।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

চু ওয়াই হং যখন ২০০৬ সালে লুগু লেকে যান, তখনও সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় ছিলই না। বাইরের মানুষের প্রভাবও তেমন পড়েনি। তিনি তখনও ভাবেননি যে সেখানেই তিনি ভবিষ্যতে তার ঘর বাঁধবেন।

মসুও নারীরা চান একাধিক পুরুষ সঙ্গী

মসুও একটি ছোট প্রাচীন সম্প্রদায়। সংখ্যায় তারা ৪০ হাজারের মত। মূলত স্বনির্ভর জাতিগোষ্ঠী। কঠোর ধর্মবিশ্বাস আর সংস্কৃতি কেন্দ্রিক তাদের জীবনযাপন।

আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস,

China News Service/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মসুও নারীরা প্রকৃতির উপাসক। লুগু হ্রদকে তারা 'মায়ের' সম্মান দেন। এই হ্রদের তীরে তাদের বর্ণাঢ্য নৃত্য দেখার মত

মিজ ওয়াই হং যেদিন সেখানে গিয়ে পৌঁছন, সেদিন মসুও নারীরা তাদের প্রথাগত উজ্জ্বল সাজপোশাক পরে তাদের পাহাড়ের দেবীর উৎসব উদযাপন করছিলেন।

"তারা খুব মজা করে নাচ-গান করছিল, আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করছিল আর পর্বতের দেবীর সামনে ধূপ জ্বালাতে সবাই পাহাড় ভেঙে উপরে উঠছিল। পাহাড়ের মাথায় তাদের দেবী 'গামু'র মন্দির।

"তাদের বিশ্বাস এই দেবীই তাদের রক্ষাকর্ত্রী। তারা বলে, তাদের এই দেবী নাচগান ভালবাসেন, মদ্যপান, বহুগামিতা তার খুব পছন্দ। তাই এই দেবীকেই তারা অনুসরণ করে।

মসুও নারীদের বক্তব্য - দেবীর মত আমাদের জীবনেও একাধিক পুরুষসঙ্গী চাই। আমরা একজনের সাথে আটকে থাকতে চাই না," বিবিসিকে বলেন চু ওয়াই হং।

মসুওদের জীবন নিয়ে তিনি বই লিখেছেন 'কিংডম অফ উইমেন'। মসুওদের ভাষাও শিখেছেন তিনি, তাদের সাথে বসবাস করেছেন।

প্রথাগতভাবে মসুওরা মাতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ তাদের বংশ পরম্পরা মায়ের দিক থেকে। তাদের সমাজে মাতামহী বা প্রমাতামহী সবচেয়ে ক্ষমতাশালী। মেয়ে মায়ের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

মসুও পরিবারের কন্যারা ভাই বা ছেলের ভরনপোষণের দায়িত্ব নেয়। ছেলেরা কখনও বাসা ছেড়ে কোথাও যায় না। বোনের পরিবারেই থাকে।

"তবে ভবিষ্যত প্রজন্মে পরিবারের মাথা কে হবে, সেটা কোন্ কন্যাসন্তান পরিবারের অগ্রজ, সেটা বিচার করে তারা ঠিক করে না। পরিবারে যে কন্যা সন্তান সবচেয়ে বুদ্ধিমতী, আর সবচেয়ে পরিশ্রমী সেই পরিবারের মাথা হয়।"

ছবির উৎস,

Betsy Joles/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মসুও পরিবারের মাথা হবেন কোন নারী তা ঠিক করে দেন পরিবারের মায়ের বংশের সর্বোজ্যেষ্ঠ নারী

মেধা ও কর্মদক্ষতা বিচার করে সেটা ঠিক করে দেন পরিবারে মায়ের দিকে জীবিত সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারী, বলছিলেন মিজ ওয়াই হং। । পরিবারে সবাইকে তিনি নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দেন ভবিষ্যতে ওই পরিবার কার কর্তৃত্ব মেনে নেবে।

মসুও পুরুষের ভূমিকা কী?

মসুওদের লোক সংস্কৃতিতে তাদের বিশ্বাস যে পুরুষের ভূমিকা হল শুধু সন্তান উৎপাদনে সাহায্য করা। তাদের ব্যাখ্যায় - নারীর শরীরে নতুন জীবনের যে বীজ সুপ্ত আছে, পুরুষ তাকে অঙ্কুরিত করবে। সেই বীজে যখন প্রাণের সঞ্চার হবে, তখন থেকেই সেই শিশুর মালিক তার গর্ভধারিণী মা।

"বাবার ওই শিশুতে কোন অধিকার নেই। সে শুধু বীজে পানি দিয়ে তাকে অঙ্কুরিত করেছে। ঐটুকুই তার ভূমিকা। শিশুর জীবনে বাবার আর কোন ভূমিকাই থাকে না," বলছেন মিজ ওয়াই হং।

মসুও পরিবারে শিশুরা যেহেতু মায়ের বাড়িতে বেড়ে ওঠে, তাই ঘরে পুরুষ বলতে বাবার চেয়ে তারা বেশি চেনে মামাকে বা মায়ের বংশের যে পুরুষ সেই পরিবারে থাকেন - তাকে।

সন্তানের বাবার পিতৃত্বে কোন অধিকার থাকে না।

আমরা বাবা বলতে যেটা বুঝি মসুও সমাজে বাবারা কিন্তু সেরকম নয়। সন্তানের বড় হয়ে ওঠার ব্যাপারে তাদের কোনই দায়িত্ব থাকে না। সব দায়িত্ব নেন মামারা।

বোনের বাচ্চাদের মসুও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া, তাদের জীবনযাপন, মূল্যবোধ সবকিছু যথাযথভাবে শেখানোর দায়িত্ব মামাদের।

ছবির উৎস,

Mike Kemp/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মসুও সমাজে পুরুষদের ভূমিকা খুবই গৌণ- তারা মসুও নারীদের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে বসবাস করেন না।

'পথচলতি বিয়ে'

মসুওদের সমাজে নারী পুরুষের সম্পর্কের ব্যাপারটাও একেবারেই অন্যরকম।

বিয়ে বলে তাদের সমাজে কিছু নেই। নারী আর পুরুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কেও তারা বিশ্বাস করে না।

"মসুও সমাজে একজন পুরুষ, নারীকে বলে- আজ রাতে আমি তোমার বাসায় কাটাব। মসুওদের বাসায় প্রত্যেক নারীর আলাদা ঘর থাকে। পুরুষ এসে রাতে তার পছন্দের নারীর দরোজায় পাথর দিয়ে টোকা মারে ও তার ঘরে রাত কাটায়।"

ওই পুরুষকে সূর্য ওঠার আগেই কিন্তু ঘর থেকে চলে যেতে হয় তার নিজের বাসায়। মসুওরা এটাকে বলে 'পথচলতি বিয়ে'। তারা কখনই এই পথচলতি বিয়েকে স্থায়ী কোন এই সম্পর্ক হিসাবে দেখে না, বা দেখার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করে না। তাদের যুগল সম্পর্ক শুধু রাতের ওই মুহূর্তটির জন্যই স্থায়ী হয়," বলেন মিজ ওয়াই হং।

চু ওয়াই হং মসুওদের গ্রামে গিয়ে বেশ কয়েকবার থাকার পর গ্রামের বাসিন্দারা তাকে পাকাপাকি ভাবে থেকে যাবার অনুরোধ জানান।

নারীদের সম্মানের শিক্ষা

"আমাকে সবচেয়ে মুগ্ধ করেছিল নারীদের প্রতি মসুওদের সম্মানবোধ। মসুও সমাজে পুরুষরা ছোটবেলা থেকেই নারীদের সম্মান করতে শেখে। নারীর প্রতি সম্মানবোধ নিয়ে তারা বেড়ে ওঠে," বলেন চু ওয়াই হং।

যে কর্মপরিবেশে, যে সমাজে তিনি বড় হয়ে উঠেছেন, সেখানে দেখেছেন, প্রচুর পুরুষ সহকর্মীর মধ্যে কোন মেয়ের বক্তব্য তুলে ধরা কতবড় একটা সংগ্রাম।

তাই বলে মসুও নারীরা কিন্তু পুরুষদের কখনই হেয় করেন না।

"পুরুষপ্রধান দুনিয়ায় পুরুষরা নারীদের প্রতি যেভাবে আচরণ করে, তাদের যে চোখে দেখে, মসুও সমাজ নারীপ্রধান হলেও নারীরা কিন্তু পুরুষদের একইভাবে দেখে না। তারা পুরুষের ওপর প্রভুত্ব করে না। পুরুষদের গালমন্দ করে না। তাদের প্রতি মসুও নারীরা খুবই মমতাশীল।"

মিজ ওয়াই হং বলেন, পুরুষরাও সেই সমাজে কখনও নিজেদের অধস্তন বা অবদমিত বলে মনে করে না।

"তাদের সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে একটা সাম্য আমি দেখেছি।"

ছবির উৎস,

VCG/Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মসুও সমাজে নারীদের খুবই সম্মান করার সংস্কৃতি রয়েছে। নারীরাও পুরুষদের হেয় করেন না

আধুনিক জীবনধারার প্রভাব

মসুও এলাকায় এখন পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে তারা এখন চীনের আধুনিক জীবনধারার সাথে পরিচিত হবার সুযোগ পাচ্ছেন।

অনেক মসুও নারী একজন জীবনসঙ্গীর সাথে ঘর বাঁধার আইডিয়াও পছন্দ করতে শুরু করেছেন।

তবে, চু ওয়াই হং বলছেন সমাজে নারীর সম্পর্কে পুরুষের যে প্রচলিত ধ্যানধারণা রয়েছে প্রাচীন এই মসুও সমাজ তার অনেক কিছুকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

চু ওয়াই হং, যিনি বেশিরভাগ সময় হিমালয়ের কোলে মসুওদের গ্রামেই কাটান, মসুওদের জীবন নিয়ে তার বইয়ে তিনি লিখেছেন, মাতৃতান্ত্রিক একটা সমাজ কতটা সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হতে পারে মসুও সমাজ তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।






ক্রুসেড: যেভাবে খ্রিষ্টান আর মুসলমানদের মধ্যে শুরু হয়েছিল শত শত বছরব্যাপী ধর্মযুদ্ধ

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির ক্যাপশান,

দশম শতকে খৃষ্টান আর মুসলমানদের মধ্যে ধর্মের নামে তিনশো বছর ধরে যুদ্ধ চলেছিল, যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল পুরো ইউরোপ, এশিয়া আর আফ্রিকার বহু দেশ।

Article Information


দশম শতকে জেরুসালেমসহ প্রাচীন ফিলিস্তিনের (বর্তমানে ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও জর্ডানের অংশ) এমন কিছু জায়গাকে পবিত্র ভূমি বলে মনে করা হতো, যা ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমান- তিন ধর্মের মানুষের কাছে ছিল তীর্থস্থান।

সেই সময় জেরুসালেমসহ এসব পবিত্রভূমি ছিল মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া স্পেন, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়া মাইনরে (আধুনিক তুরস্কের যে অংশটি এশিয়ায় পড়েছে) ছিল মুসলমানদের আধিপত্য।

জেরুসালেম শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়া আর মুসলমানদের আধিপত্য ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই মূলত শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টান আর মুসলমানদের মধ্যে ধর্মযুদ্ধ। খ্রিষ্টানরা যাকে ক্রুসেড বলে বর্ণনা করেন। মুসলমানরা অনেক সময় একে জিহাদ বলে অভিহিত করেছেন। পরের তিনশো বছর ধরে খ্রিষ্টানদের ক্রুসেড চলেছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ইতিহাসবিদ ড. সোনিয়া নিশাত আমিন মনে করেন, ক্রুসেডের পেছনে ধর্ম ছাড়াও আরও অনেকগুলো উদ্দেশ্য ছিল।

তিনি বলছেন, ''ধর্মের কথা বলা হলেও এখানে শুধু ধর্ম একমাত্র বিষয় ছিল না। তিন চার শতাব্দী ধরে যেটা চলমান ছিল, তার পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। খ্রিষ্টান এবং মুসলমান- দুটি ধর্মের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই থেকেই ক্রুসেডের শুরু। কিন্তু ক্লেরমন্টে পোপ দ্বিতীয় আরবান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যেখান থেকে ক্রুসেডের সূত্রপাত হয়, তা থেকে বোঝা যায়, এর পেছনে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অর্থনৈতিক কারণও ছিল।''

''এর পেছনে ব্যবসা বাণিজ্য, ভূমির জন্য ক্ষুধা, ক্ষমতার বিস্তার, নিজেদের সাম্রাজ্য বা প্রভাব ধরে রাখা, অনেকগুলো কারণ ছিল,'' তিনি বলছেন।

ছবির ক্যাপশান,

জেরুসালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়াল এবং ডোম অফ দি রক

প্রথম ক্রুসেড

মধ্যযুগে খ্রিষ্টানদের কাছে জেরুসালেম শহরটি ছিল তাদের ধর্মীয় প্রেরণার প্রধান কেন্দ্র। কারণ এখানেই যিশু খৃষ্টের মৃত্যু হয়েছিল এবং সমাহিত করা হয়েছিল। জেরুসালেমে থাকা চার্চ অফ দি হোলি সেপালকরে শত শত বছর ধরে খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীরা আসতেন।

অন্যদিকে মুসলমানদের কাছে জেরুসালেম তৃতীয় পবিত্র নগরী, যেখান থেকে ইসলামের নবী মোহাম্মদ বেহেস্তে যাত্রা করেছিলেন বলে ইসলাম ধর্মের বিবরণে উল্লেখ করা হয়।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

ছয়শ আটত্রিশ সালে আরব মুসলমানরা এই শহর ও পবিত্র এলাকা বলে বিবেচিত ভূমি দখল করে নেয়। এই শহরের ডোম অফ দ্যা রক এবং আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের কাছে অন্যতম প্রধান ধর্মীয় স্থান।

মুসলমানরা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পরেও খৃষ্ট ধর্মাবলম্বীরা বিনা বাধায় তাদের তীর্থকেন্দ্রে আসতে পারতেন। কিন্তু প্রায় ১০৭৭ সালে সেলযুক শাসকরা তাতে কড়াকড়ি আরোপ করে। সেই সময় অনেক স্থানে খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীরা হয়রানির শিকার হন বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে।

তখন বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম আলেক্সিস কমনেনুস ভয় পেতে শুরু করেন যে, সেলযুক সাম্রাজ্য তার এলাকার দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কনস্টান্টিনোপলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। সেটা ঠেকাতে তিনি পোপের সহায়তা চান।

ছবির ক্যাপশান,

জেরুসালেমের ম্যাপ

'দ্য ক্রুসেডস: দি অথোরিটেটিভ হিস্টরি অফ দ্য ওয়ার ফর দ্য হোলি ল্যান্ড' গ্রন্থে থমাস অ্যাসব্রিজ উল্লেখ করেছেন, সম্রাটের অনুরোধের পর ১০৯৫ সালে ফ্রান্সের একটি ছোট্ট শহর ক্লেরমন্টে পোপ দ্বিতীয় আরবান ঘোষণা দেন, খ্রিষ্টান ধর্ম বিপদে রয়েছে, হামলা ও আগ্রাসনের মুখে পড়েছে। যিশুর সৈনিক হিসাবে ইউরোপকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। ইউরোপের যোদ্ধারা যদি খ্রিষ্টান ধর্মের জন্য জেরুসালেম উদ্ধারে যুদ্ধ করতে যায়, তাহলে তাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

ফলে ইউরোপের যোদ্ধাদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও অস্ত্র হাতে ক্রুসেডার দলে যোগ দেন। তাদের প্রতীক ছিল লাল রঙের ক্রস চিহ্ন।

প্রথম ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু হয় ১০৯৬ সালে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালি থেকে ক্রুসেডাররা (যাদের আরবরা ডাকতো ফ্রাঙ্কস নামে) পবিত্র ভূমি উদ্ধারের জন্য রওনা দেন। প্রায় ১০ হাজার যোদ্ধা কনস্টান্টিনোপলে সমবেত হয়।

কনস্টান্টিনোপলের সম্রাট আলেক্সিস ক্রুসেডার সমর নায়কদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন, তারা যেসব এলাকা দখল করবেন, তা তার সাম্রাজ্যের অংশ হবে।

প্রথমে পিপলস ক্রুসেড নামে সাধারণ যোদ্ধাদের একটি দল বসফরাস প্রণালী অতিক্রম করে মুসলমানদের আক্রমণ করলেও তুর্কি বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়।

থমাস অ্যাসব্রিজ লিখেছেন, প্রায় ৭৫ হাজার ক্রুসেডারের এই বাহিনী সেলযুক রাজধানী নিকায়া দখল করে। এরপর দরিলিয়ামের যুদ্ধে মুসলমান বাহিনীকে ঠেকিয়ে দেয়। ফলে তাদের জেরুসালেমের দিকে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। এরপর তারা এডেসা এবং অ্যান্টিওচ দখল করে।

এরপর ক্রুসেডাররা জেরুসালেমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেই সময় জেরুসালেমের গভর্নর ছিলেন ফাতিমিদ শাসক ইফতিখার আদ-দুলা। তখন সেখানে সহস্রাধিক সৈনিক আর চারশো অশ্বারোহী ছিল বলে ধারণা করা হয়।

ছবির ক্যাপশান,

ক্রুসেডারদের পোশাক

'দ্য ক্রুসেডস: দি অথোরিটেটিভ হিস্টরি অফ দ্য ওয়ার ফর দ্য হোলি ল্যান্ড' বইতে থমাস অ্যাসব্রিজ লিখেছেন, ১০৯৯ সালের ১৫ই জুলাই দীর্ঘ অবরোধের পর তারা জেরুসালেম দল করে। খ্রিষ্টানরা সেখানে নিষ্ঠুর আক্রমণ চালিয়েছিল। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। সেই সময় তাদের একজনের লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, ''এতো ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল যে, আমাদের লোকজনের পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত রক্তে ভরে গিয়েছিল।''

সেখানে সিনাগগে যে ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা লুকিয়ে ছিলেন, তাদেরও হত্যা করে ক্রুসেডাররা।

তেরশ শতকে ইরাকি ইতিহাসবিদ ইবন আল-আথিরের মতে, সেই সময় জেরুসালেমে ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় ধারণা করা হয়, সেই সময় নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি ছিল না।

জেরুসালেম দখল করার পর সেটি ঘিরে একটি রাজত্ব স্থাপন করে ক্রুসেডাররা। যার মধ্যে ছিল ফিলিস্তিনের বড় একটি অংশ। শহর দল করার পরে ক্রুসেডারদের অনেকে তাদের বাড়িঘরে ফিরে যান।

দ্বিতীয় ক্রুসেড

জেরুসালেম হাতছাড়া হয়ে যাওয়া মুসলমানদের জন্য ছিল বড় একটি আঘাত। ফলে মুসলমানরাও সংগঠিত হতে শুরু করে।

এগারোশ ত্রিশ সাল থেকে 'ফাঙ্কস'দের বিরুদ্ধে মুসলমানরা তাদের 'জিহাদ' বা ধর্মযুদ্ধ শুরু করে।

এগারোশ চুয়াল্লিশ সালে মসুলের গভর্নর সেলযুক জেনারেল যাঙ্গির নেতৃত্বে মুসলমানরা এডেসা আবার দখল করে নেয়।

এই খবর ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার পর খ্রিষ্টানরা দ্বিতীয় ক্রুসেডের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ফ্রান্সের রাজা সপ্তম লুইস এবং জার্মানির রাজা তৃতীয় কনরাডের নেতৃত্বে দুটি বাহিনী ১১৪৭ সালে এশিয়া মাইনর বা এখনকার তুরস্কের যে অংশটি এশিয়ায় পড়েছে সেখানে প্রবেশ করে।

ছবির ক্যাপশান,

যেভাবে ক্রুসেডাররা যুদ্ধ করতো

কিন্তু যে স্থানে প্রথম ক্রুসেডের সময় প্রথম মুসলমান বাহিনীকে পরাজিত করেছিল ক্রুসেডাররা, সেই দরিলায়ামে মুসলমান বাহিনীর হাতে রাজা তৃতীয় কনরাডের বাহিনী পরাজিত হয়।

রাজা লুইস এবং কনরাডের বাহিনী এরপর জেরুসালেমে সমবেত হয়। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, সিরিয়ার শক্ত ঘাঁটি, দামেস্কে আক্রমণ করবে।

তখন সাহায্যের জন্য যাঙ্গির উত্তরসূরি নূর আল-দ্বীনের সহায়তা চান দামেস্কের শাসক। মুসলমানদের যৌথ বাহিনীর কাছে শোচনীয় পরাজয় হয় ক্রুসেডার বাহিনীর।

তৃতীয় ক্রুসেড

এরপর নূর আল-দ্বীনের সেনাপতি শিরকুহ এবং তার ভাইপো সালাহউদ্দিন কায়রো থেকেও ক্রুসেডার বাহিনীকে বিতাড়িত করে। শিরকুহের মৃত্যুর পর সেনাপ্রধান হন সালাহউদ্দিন।

সুলতান নূর আল-দ্বীনের মৃত্যুর পর নিজের ক্ষমতা সংহত করে আয়ুবিদ রাজবংশ পত্তন করে সালাহউদ্দিন।

এগারোশ ছিয়াশি সালে রেমন্ড অফ চ্যাবলিয়ন কায়রো থেকে দামেস্কগামী মুসলিম একটি বহরকে আক্রমণ করলে জেরুসালেমের পথে রওনা হন সালাহউদ্দিন।

থমাস অ্যাসব্রিজ তার বইতে লিখেছেন, ১১৮৭ সালে হাত্তিমের যুদ্ধে খ্রিষ্টান বাহিনীকে ধ্বংস করে দেন সালাহউদ্দিন। এরপর তিনি জেরুসালেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।

ছবির ক্যাপশান,

জেরুসালেমের দখল নিচ্ছে ক্রুসেডাররা

এর ফলে শুরু হয় তৃতীয় ক্রুসেড। জেরুসালেম পুনরুদ্ধারের জন্য তখনকার পোপ অষ্টম গ্রেগরি তৃতীয় ক্রুসেডের ঘোষণা দেন।

সম্রাট ফ্রেডারিক বারবারোসা (সিরিয়ায় পৌঁছানোর পূর্বে সলিল সমাধি হয়), ফ্রান্সের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ এবং ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম রিচার্ড (রিচার্ড দ্যা লায়নহার্ট নামে পরিচিত) নেতৃত্বে ক্রুসেডাররা জেরুসালেমের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এগারোশ একানব্বই সালের সেপ্টেম্বরে রাজা রিচার্ডের বাহিনী আরসুফের যুদ্ধে সালাহউদ্দিনের বাহিনীকে পরাজিত করে। এরপর তিনি জেরুসালেমের উদ্দেশ্যে রওনা হন, কিন্তু শহর অবরোধ করতে রাজি হননি।

এগারোশ বিরানব্বই সালে রিচার্ড এবং সালাহউদ্দিনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়। এর ফলে জেরুসালেম শহরের নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে থাকলেও, আশেপাশের এলাকায় কিংডম অব জেরুসালেম পুনরায় প্রতিষ্ঠা হয়। এর মাধ্যমে অবসান হয় তৃতীয় ক্রুসেডের।

ক্রুসেডের অবসান

ইতিহাসবিদদের মতে, এরপর আরও অন্ততও বেশ কয়েকটি ক্রুসেড হয়েছে। কিন্তু সেগুলো এতো বড় মাত্রার ছিল না। বরং তখন শুধুমাত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই না হলে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ শুরু হয়।

যেমন চতুর্থ ক্রুসেড হয়েছি অষ্টম বাইজেন্টাইন সম্রাটের বিরুদ্ধে। কারণ তার ভাইপো চতুর্থ আলেক্সিসকে ক্ষমতায় বসাতে ওই ক্রুসেড ঘোষণা করেছিলেন পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ট।

আবার তেরশ শতকে ফ্রান্সের কাথারি বা আলবাইজেনসিনিয়ান গোত্রকে নির্মূল করতে একটি ক্রুসেড হয়েছে।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সোনিয়া নিশাত আমিন বলছেন, ''ক্রুসেডে কে জিতেছে, কে হেরেছে, সেটার সহজ উত্তর নেই। তবে পাশ্চাত্য সেখানে গিয়ে পুরো সফল হতে পারেনি। মুসলিম সাম্রাজ্য সেখানে আস্তে আস্তে আরও সংহত হয়েছে। হোলি ল্যান্ড নিয়ে যেসব দাবি ছিল, তিনশো বছরের যুদ্ধে উভয়পক্ষ হয়তো বুঝতে পেরেছিল যে, এখানে ইতি টানা দরকার।''

সর্বশেষ যখন ১২৯১ সালে ক্রুসেডারদের সর্বশেষ নিয়ন্ত্রিত শহর আর্ক মামলুকদের দখলে চলে যায়, এর মধ্য দিয়ে ক্রুসেডারদের শাসনও শেষ হয়ে যায়।







তৈমুর লঙের বাহিনী দিল্লিতে যেভাবে গণহত্যা ঘটিয়েছিল

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

তৈমুর লঙ দিল্লি আক্রমণ করেন ১৩৯৮ সালে

Article Information


দিল্লির দিকে রওনা হওয়ার জন্য তৈমুর লঙের ৯০ হাজার সৈনিক যখন সমরকন্দে জড়ো হয়েছিল, তখন গোটা শহর ধুলোয় ঢেকে গিয়েছিল। দিল্লি প্রায় এক হাজার মাইল দূরে।

দিল্লি অবধি পৌঁছনর রাস্তা সেসময়ে ছিল পৃথিবীর সবথেকে কঠিন রাস্তা।

হিন্দুকুশ পর্বত পেরিয়ে আসতে হত ওই পথে। আর রাস্তার পাশে যারা থাকত, তাদের তো মহান আলেকজান্ডারও পরাস্ত করতে পারেন নি।

মাঝে বহু নদী, পাথুরে রাস্তা আর মরুভূমি ছিল, যেগুলো দিল্লি পৌঁছনর রাস্তা আরও দুর্গম করে তুলত।

সেই রাস্তা যদি পেরিয়ে যেতে সক্ষম হত তৈমুরের বাহিনী, তারপরে তাদের মুখোমুখি হতে হত প্রকাণ্ড হাতির দলের।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

সমরকন্দে তৈমুর লঙের সমাধি

Skip content and continue reading

সম্রাট বাবর না আসলে ভারতের কী হতো?

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

End of content

Skip content and continue reading

সম্রাট আওরঙ্গজেব কি সত্যিই হিন্দু বিদ্বেষী ছিলেন?

৭ মার্চ ২০১৮

End of content

এদের কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, তা জানা ছিল না তৈমুরের বাহিনীর।

তবে সেই সব হাতিদের সম্বন্ধে অনেক কাহিনী শোনা ছিল সৈনিকদের।

হাতির পাল যে শুধু ঘর বা গাছ উপড়ে ফেলত তা নয়, সামনে যদি কোনও দেয়াল পড়ে যায়, তা অনায়াসে ভেঙ্গে ফেলেই নিজেদের পথ করে নিত তারা।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

তাদের শুঁড় এতই শক্তিশালী ছিল, যে কোনও সৈনিককে শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মেরে তারপরে পায়ে পিষে ফেলতে পারত তারা।

তৈমুর যখন দিল্লির দিকে এগোচ্ছেন, তখন দিল্লির অবস্থা অশান্ত। ১৩৩৮ সালে ফিরোজ শাহ তুঘলকের মৃত্যুর পরে বাংলা, কাশ্মীর আর দাক্ষিণাত্য - এই তিন ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল পুরো ভারত।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ স্যার জর্জ ডনবার তার বই 'দা হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া'তে লিখছেন, "ফিরোজের মৃত্যুর দুবছরের মধ্যেই দিল্লিতে একের পর এক পাঁচজন বাদশাহ, তার নাতিরা আর তার ছোট ছেলে রাজ্যপাট চালাচ্ছিল। দিল্লির অবস্থা এরকম ছিল যে সেটা যেন কোনও বিদেশী আক্রমণকারীকে আহ্বান জানাচ্ছিল হামলা করার জন্য।"

দিল্লি সেসময়ে হয়ে উঠেছিল অশান্ত

ছবির ক্যাপশান,

জাস্টিন মারোজির বই

সমরকন্দের বাইরে বেরিয়েই পাহাড়ি চড়াই শুরু হয়ে গিয়েছিল। তৈমুরের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ৯০ হাজার সৈনিক, তার দ্বিগুণ ঘোড়াদের কোনোভাবে পৃথিবীর ছাদটা পার করে দেওয়া।

মধ্য এশিয়ার তিব্বত মালভূমিকেই পৃথিবীর ছাদ বলে অভিহিত করা হয়।

জাস্টিন মারোজির বই 'টেমারলেন, সোর্ড অফ ইসলাম, কনকারর অফ দা ওয়ার্ল্ড (তৈমুর লঙ, ইসলামের তরবারি, বিশ্ব বিজেতা) বইতে লিখছেন, "তৈমুরের সেনাবাহিনী এমন সব এলাকা পেরচ্ছিল, যার আবহাওয়া একরকম নয়। তৈমুরের বদলে অন্য কেউ যদি ওই বাহিনীর নেতৃত্ব দিত, তাহলে ওই আবহাওয়াই তাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।"

"সমরকন্দ আর দিল্লির মধ্যে বরফে ঢাকা পাহাড় পর্বত যেমন ছিল, তেমনই আবার শরীর ঝলসিয়ে দেওয়া মরুভূমিও ছিল। আবার এমন এলাকাও ছিল যেখানে কোনও গাছপালা কিছুই নেই, সৈনিকদের খাবার পাওয়ারও কোনও উপায় ছিল না," লিখেছেন মারোজি।

তার বইতে উল্লেখ রয়েছে,"তৈমুরের বাহিনীর পুরো রসদই প্রায় দেড় লক্ষ ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই অভিযানের ছয়শ বছর পরে এখনও ওই এলাকার বরফে ঢাকা গিরিপথগুলো দিয়ে যাওয়ার সময়ে সেখানকার খারাপ আবহাওয়া নিয়ে বিরক্ত হয়।"

ছবির ক্যাপশান,

জর্জ ডানবারের বই

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

'এই নিষ্ঠুরতার দ্বিতীয় উদাহরণ নেই'

অগাস্ট মাস নাগাদ তারা কাবুলের কাছে পৌঁছিয়েছিল। আর দুমাসের মধ্যে তারা শতদ্রু নদীর তীরে পৌঁছিয়েছিল।

সেখানে তাদের পথ রোধ করেন সারঙ্গ খাঁ।

সেই লড়াই জিততে খুব একটা বেগ পেতে হয় নি তৈমুরকে।

সেখান থেকে দিল্লি আসার পথে প্রায় এক লাখ হিন্দুকে তৈমুর বন্দী করেছিলেন। দিল্লির একেবারে কাছে পৌঁছিয়ে লোনিতে নিজের শিবির গড়েছিলেন তৈমুর।

যমুনা নদীর ধারে একটা টিলায় চড়ে দিল্লির পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতেন তৈমুর লঙ।

সেই সময়ে নিজেদের মধ্যে অশান্তিতে ব্যস্ত থাকলেও দিল্লির শক্তি খুব একটা কমে যায় নি তখনও। কেল্লার প্রাচীরের ভেতরে তখনও দশ হাজার ঘোড়সওয়ার সেনা, ২৫ থেকে ৪০ হাজার পদাতিক সৈন্য আর ১২০টি হাতি তৈমুর লঙের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ছিল।

জাস্টিন মারোজি লিখছেন, "দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম লড়াইটা বাধল যখন তৈমুরের সাতশো সৈনিকের একটা অগ্রগামী দলের ওপরে মাল্লু খাঁয়ের বাহিনী হামলা করল। সেই সময়ে দিল্লি শাসন করছিলেন মুহম্মদ শাহ, কিন্তু প্রশাসন চালাতেন মাল্লু খাঁ।"

তৈমুরের একটা আশঙ্কা ছিল যে মাল্লু খাঁয়ের সৈনিকরা যদি তার ওপরে হামলা করে, তাহলে সঙ্গে থাকা প্রায় এক লাখ হিন্দু বন্দী দিল্লির সেনাদের পক্ষ নিয়ে নেবে।

"নিজের বাহিনীর পেছনে পেছনে আসা ওই বন্দীদের নিয়ে তৈমুরের আশঙ্কা এতটাই বেশি ছিল যে সেখানেই এক এক করে তাদের হত্যা করার নির্দেশ দেন তিনি। এমনকি তার সঙ্গে আসা মৌলানাদেরও আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে তারাও যেন ওই  বন্দীদের নিজেদের হাতে হত্যা করে," লিখছেন জাস্টিন মারোজি।

ডেভিড প্রাইস তার বই 'মেময়ার্স অফ দা প্রিন্সিপাল ইভেন্টস অফ মহামেডান হিস্ট্রি' বইতে লিখেছেন, "এই নিষ্ঠুরতার  দ্বিতীয় কোনও উদাহরণ মানব ইতিহাসে পাওয়া যায় না।"

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

এক লাখ হিন্দুকে বন্দী করেন তৈমুর লঙ

ভারতীয় হাতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তৈমুর

সেই সময়ে তৈমুরের একটা অন্য চিন্তাও ছিল।

আত্মজীবনী 'মুলফিজৎ তিমুরি'তে তিনি লিখেছেন, "আমার সবথেকে বড় চিন্তা ছিল শক্তিশালী ভারতীয় হাতিদের নিয়ে। সমরকন্দেই ওই হাতির দল নিয়ে অনেক কাহিনী শুনেছিলাম। তবে তাদের কতটা শক্তিশালী সেটা প্রত্যক্ষ করেছিলাম প্রথম লড়াইতেই। ওই হাতিগুলোর পিঠে বড় বড় হাওদা থাকত, আর সেখানে মাহুতের সঙ্গেই বসে থাকত মশাল ছুঁড়ে মারা সৈনিক, তীরন্দাজরা। এরকমও শোনা যেত যে হাতিদের দাঁতে বিষ লাগানো থাকত আর সৈনিকদের শরীরে সেই বিষমাখা দাঁত সরাসরি পেটে ঢুকিয়ে দিত হাতিগুলো। তীর বা বল্লম চালিয়েও হাতিগুলোকে আহত করা যেত না।"

প্রথম থেকেই তৈমুরের সেনারা আধিপত্য বিস্তার করছিল

ভারতীয় হাতিদের কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে, সেই পরিকল্পনা করছিলেন তৈমুর। তিনি আদেশ দিলেন সৈনিকরা যেন হাতির মাহুতদের তীরের নিশানা করে।

১৭ ডিসেম্বর, ১৩৯৮। মাল্লু খাঁ আর সুলতান মাহমুদের সেনাবাহিনী তৈমুরের সঙ্গে লড়াই করার জন্য দিল্লি দরওয়াজার বাইরে বেরিয়েছিল। হাতির দলকে মাঝামাঝি জায়গায় রেখেছিল তারা। সেগুলোর পিঠে হাতিয়ার নিয়ে বসেছিল সৈন্যরা।

সবকিছুই তৈমুর লক্ষ্য করছিলেন একটা উঁচু টিলার ওপরে দাঁড়িয়ে।

লড়াই শুরু হল

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মোটা গোঁফওয়ালা ভারতীয় সিপাহীদের মুখোমুখি লড়েন তৈমুর নিজেই

লড়াই শুরুর কিছুক্ষণ আগে তৈমুর জয়ের জন্য সাজদা করে দোয়া প্রার্থনা করে নেন।

যুদ্ধ বাধতেই তৈমুরের তীরন্দাজরা মাল্লা খাঁয়ের বাহিনীকে ডানদিক থেকে আক্রমণ শুরু করল।

এর জবাবে বাঁদিকে থাকা তৈমুর বাহিনীকে ডানদিকে থেকে হামলা করার আদেশ দিলেন দিলেন মাল্লু খাঁ।

তৈমুর দেখলেন একটা জায়গায় ভারতীয় হাতিগুলোর জন্য তার সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা শোরগোল উঠছে। এর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিছু উট তৈরি রেখেছিলেন, যাদের পিঠে শুকনো কাঠ আর ঘাস বাঁধা ছিল। সেই উটগুলোকে এগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি, আর শুকনো ঘাস আর কাঠে আগুন লাগিয়ে দিতে বললেন বাহিনীকে।

জাস্টিন মারোজি লিখছেন, "হঠাৎই পিঠে জ্বলন্ত কাঠ আর ঘাস নিয়ে উটগুলো হাতি বাহিনীর সামনে চলে আসে। হাতিগুলো ভয় পেয়ে উল্টো দিকে থাকা নিজেদের সৈনিকদেরই আক্রমণ করতে শুরু করে। মাল্লু খাঁয়ের বাহিনীর মধ্যেই তখন হুড়োহুড়ি পরে যায় পালানোর জন্য।"

ইতিহাসবিদ খানদামিরও তার বই 'হাবিব উস সিয়ার'-এ এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

"গাছ থেকে নারকেল ঝরে পড়লে যেরকম দেখা যায়, হঠাৎই সেরকমটা দেখা গেল। যুদ্ধক্ষেত্র ভারতীয় সৈন্যদের কাটা মাথায় ভরে উঠছিল।"

"ডানদিক থেকে তৈমুরের সেনাপতি পীর মুহম্মদ ভারতীয় বাহিনীকে তাড়া করে দিল্লির প্রাচীর পার করিয়ে দিয়ে তারপরে দম ফেললেন। এরই মধ্যে একটা হাতি আর তার পিঠে থাকা ভারতীয় সেনাদের আটক করে তৈমুরের ১৫ বছর বয়সী নাতি খলিল তার দাদুর সামনে হাজির করালো।"

লড়াইতে নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন তৈমুর

আত্মকথায় তৈমুর লিখেছেন, "আমি এক হাতে তলোয়ার আর অন্য হাতে কাটারি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। দুই হাত সমানে চলছিল। দুটো হাতির শুঁড় কেটে ফেলেছিলাম আমি। যে দুটো হাতির শুঁড় কেটে দিয়েছিলাম, সেগুলো হাঁটু ভাঁজ করে একদিকে কাত হয়ে পড়ে গিয়েছিল। ওগুলোর পিঠে বসা সৈন্যরা মাটিতে পড়ে যায়। তখনই বড় বড় গোঁফওয়ালা হিন্দুস্তানি সিপাহীরা আমার রাস্তা আটকানোর চেষ্টা করে।"

"আমি দুটো হাতই এত দ্রুত চালাচ্ছিলাম যে নিজেই নিজের শক্তি দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম। মোটা গোঁফওয়ালা সিপাহীরা একে একে আমার সামনে লুটিয়ে পড়ছিল আর আমি ধীরে ধীরে শহরের দরওয়াজার দিকে এগোচ্ছিলাম," লিখেছেন তৈমুর লঙ।

এই সময়ে তিনি আবারও ঘোড়ার পিঠে চেপে বসেন কিন্তু হঠাৎই তার হাত থেকে ঘোড়ার লাগামটা আলগা হয়ে যায়।

আত্মজীবনীতে তৈমুর লিখছেন, "ঘোড়ার লাগাম কী করে আলগা হয়ে গেল সেটা বোঝার জন্য মশালের আলোয় নিজের হাতের দিকে তাকাতেই বুঝলাম কারণটা। রক্তে আমার হাতটা ভরে গিয়েছিল, আর লাগামটা সেই জন্যই ছুটে যায়। এরপরে বাকি শরীরের দিকে তাকাই। মনে হচ্ছিল যেন আমাকে রক্তের পুকুরে ভিজিয়ে আনা হয়েছে। আমার কব্জি আর দুই পায়ে পাঁচটা চোট লেগেছিল।"

ততক্ষণে তৈমুরের বাহিনী দিল্লির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ফেলেছিল।

পরের দিন বিজয়ীর মতো দিল্লিতে প্রবেশ করেন তৈমুর লঙ।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

নিজের তাঁবুতে বসে তৈমুর লঙ

দিল্লি দখল করলেন তৈমুর লঙ

একটা তাঁবু তৈরি করে সেখানেই তৈমুরের দরবার বসানো হয়েছিল।

সেই দরবারে সুলতান মাহমুদের সভাসদ আর দিল্লির সম্ভ্রান্ত মানুষদের হাজির করানো হয়েছিল।

এর থেকেই বোঝা যায় যে দিল্লির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের দখলে করে নিয়েছেন তৈমুর লঙ।

দিল্লির সুলতান মাহমুদ আর মাল্লু খাঁ লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

জাস্টিন মারোজির কথায়, "একটা একটা করে ১০০ টা হাতি, যেগুলো বেঁচে ছিল, সেগুলোকে তৈমুরের সামনে হাজির করানো হয়। হাঁটু ভাঁজ করে বসে তৈমুরকে সালাম করে ওই হাতিগুলো। তৈমুর সিদ্ধান্ত নেন যে ওই হাতিগুলোকে তিনি তবরিজ, শিরাজ, আর্জিনজান আর শিরওয়ানের রাজকুমারীদের উপহার হিসাবে পাঠাবেন। সঙ্গে দূতও পাঠাবেন ওই সব রাজ্যে, যাতে গোটা এশিয়ায় খবর ছড়িয়ে পরে যে দিল্লি এখন তৈমুর লঙের দখলে।"

লড়াইয়ের পরে তৈমুর সেইদিকে মনোযোগ দিলেন, যার জন্য তার দিল্লির ওপরে হামলা করা।

তিনি হিসাব করতে লাগলেন যে দিল্লির রাজকোষের পরিমাণ, আর ভাবছিলেন যে তিনি দিল্লি থেকে কী কী লুঠ করে নিয়ে যাবেন।

তার সৈনিকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে লোকজনকে জানিয়ে আসছিল যে প্রত্যেককে কত অর্থ দিতে হবে তৈমুরের কাছে।

শারাফুদ্দিন আলি ইয়াজদির হিসাব মতো সেই সময়ে দিল্লির সীমানা ভেতরে তৈমুরের অন্তত ১৫ হাজার সৈন্য অবস্থান করছিল।

কিছু সৈনিক আনাজপাতি লুঠ করতে ব্যস্ত ছিল।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

দিল্লির শাহজাদা আর সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের হাজির করানো হল তৈমুরের সামনে

তৈমুর বাহিনীর নরসংহার

মুহম্মদ কাশিম ফেরিশতা তার বই 'হিস্ট্রি অফ দা রাইজ অফ মহামেডান পাওয়ার ইন ইন্ডিয়া' বইতে লিখছেন, "হিন্দুরা দেখল যে তাদের নারীদের বেইজ্জত করা হচ্ছে আর তাদের ধন সম্পত্তি লুঠপাট করছে, তখন তারা নিজেরাই ঘরের দরজা বন্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্ত্রী আর সন্তানদের খুন করে নিজেরা তৈমুর বাহিনীর ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই সময়েই দিল্লি দেখেছিল সেই নরসংহার। সব রাস্তায় শুধু মৃতদেহ। তৈমুরের বাকি সৈন্যরাও দিল্লির ভেতরে চলে আসে। দিল্লির বাসিন্দারা কয়েকদিনেই আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।"

মোগল বাহিনী দিল্লির বাসিন্দাদের তাড়িয়ে নিয়ে যায় পুরনো দিল্লির দিকে। বাসিন্দারা সেখানকার একটা মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিল।

জাস্টিন মারোজির কথায়, "তৈমুরের ৫০০ সেনার এক বাহিনী মসজিদে হামলা চালায়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের এক এক করে হত্যা করে তারা। নিহতদের মাথাগুলো কেটে নিয়ে একটা মিনার বানিয়ে ফেলে সৈন্যরা আর বাকি শরীরগুলো চিল-কাকদের খাওয়ার জন্য ফেলে রাখে। এই গণহত্যা তিন দিন ধরে চলেছিল।"

গিয়াসুদ্দিন আলি তার বই 'ডায়েরি অফ তৈমুর'স ক্যাম্পেইন ইন ইন্ডিয়া'তে লিখেছেন, "তৈমুর বাহিনী এমনভাবে দিল্লিবাসীদের ওপরে আক্রমণ করেছিল যেন একটা ক্ষুধার্ত নেকড়ের সামনে একপাল ভেড়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফল যা হয়েছিল, ধন সম্পত্তি, গয়না, হীরে জহরত আর আতরের জন্য বিখ্যাত ছিল যে দিল্লি, তা পরিণত হল এক জ্বলন্ত নরকে। চারদিক থেকে পচা গলা মৃতদেহের গন্ধ আসছিল।"

অন্যদিকে নিজের তাঁবুতে আরাম করছিলেন তৈমুর লঙ। দিল্লিতে যে নরসংহার চলছিল, তার কোনও খবর তার কাছে পৌছয় নি। তার সেনাপতিরা তৈমুরের কাছে এই খবর পৌঁছিয়ে দেওয়ার সাহস করেন নি।

তবে কোনও কোনও ইতিহাসবিদের সন্দেহ আছে যে তৈমুরের কাছে কী করে কোনও খবর গেল না।

তার কারণ, তৈমুরের বাহিনী কঠোর অনুশাসনের জন্য বিখ্যাত ছিল। ওপরতলা থেকে নির্দেশ না এলে এভাবে তারা লুঠপাট বা গণহত্যা ঘটাতে পারত না।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

নরসংহারের খবর তার কানে তুলতে সাহস পান নি তৈমুরের পার্ষদরা

লুঠের সামগ্রী নিয়ে তৈমুর বাহিনী ফিরে চলল, রেখে গেল ধ্বংসস্তূপ

লুঠপাটের নির্দেশ এসেছিল কী না তা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও দিল্লির সমৃদ্ধি দেখে তাদের চোখ কপালে উঠে যাওয়ার যোগাড় হয়েছিল।

চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সোনা, রূপা, গয়না, মুক্তা, দামী পাথর, দামী কাপড় ছড়িয়ে ছিল। তবে এসবের থেকেও তাদের আকর্ষণ ছিল দিল্লির সাধারণ মানুষদের ওপরে। তাদের দিয়ে যা ইচ্ছে কাজ করানো যাচ্ছিল।

তৈমুর বাহিনী যখন ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে শুরু করল, তখন প্রত্যেক সৈন্যের সঙ্গে সঙ্গে ১৫০ জন করে সাধারণ দিল্লিবাসী।

তৈমুর দিল্লিতে ছিলেন মাত্র দুই সপ্তাহ।

এরমধ্যে দিল্লির শাহজাদাদের আত্মসর্মপণে বাধ্য করেন তিনি। নজরানাও আদায় করেন।

বেশ কিছু হস্তশিল্পীর হাত বেঁধে সমরকন্দ নিয়ে যেতে উদ্যোগী হন তিনি।

এত সম্পত্তি লুঠ করেছিল তৈমুর বাহিনী, যে তার ওজনে খুব ধীরে ধীরেই চলতে পারছিল তারা।

আবার ফেরার পথেও ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০টা যুদ্ধে সামিল হয়েছিল তৈমুর বাহিনী, আর সেখান থেকেও লুঠপাট করেছিল।

সমরকন্দ পৌঁছিয়ে বাবার কবরে মাথা ঠেকিয়েছিলেন তৈমুর লঙ।

অন্যদিকে এক হাজার মাইল দূরের দিল্লি তখন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে দিল্লির প্রায় এক শো বছর সময় লেগেছিল।





যেভাবে সিঁড়ি থেকে পড়ে মৃত্যু হয় মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ূন

Article Information


হুমায়ূনের সম্বন্ধে একটা কাহিনী প্রচলিত আছে যে একবার তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। তার বাবা বাবর হুমায়ূনের পালঙ্ক ঘিরে তিনবার পরিভ্রমণ করে প্রার্থনা করেন, “হে খোদা, যদি জীবনের বদলে জীবন দেওয়া যায়, তাহলে আমি বাবর, আমার পুত্র হুমায়ূনের জীবনের বদলে নিজের জীবনদান করতে প্রস্তুত।"

হুমায়ূনের বোন গুলবদন বেগম 'হুমায়ূননামাতে' লিখেছেন ‘সেদিন থেকেই বাবর (পিতা) অসুস্থ হয়ে পড়লেন আর হুমায়ূন সুস্থ হয়ে উঠতে লাগলেন। একটা সময়ে বাবর পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। সম্ভাল থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হল হুমায়ূনকে।'

হুমায়ূন তার বাবার মৃত্যুর চারদিন আগে আগ্রা পৌছন। বাবর তার সব সেনাপতিকে এক জায়গায় ডেকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন যে হুমায়ূনই হবেন তার উত্তরাধিকারী। যেভাবে সেনাপতিরা বাবরের প্রতি খেয়াল রাখেন, সেই একইভাবে যেন তারা হুমায়ূনকেও আগলে রাখেন, বলেছিলেন বাবর।

আবার হুমায়ূনকেও শিক্ষা দিয়েছিলেন যে তিনি যেন প্রজাদের আর নিজের ভাইদের দিকে খেয়াল রাখেন আর তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে শাসনকাজ পরিচালনা করেন।

Skip বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন and continue reading

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মাত্র ২৭ বছর বয়সে মুঘল সাম্রাজ্যের দায়িত্ব পান হুমায়ূন

ইব্রাহিম লোদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ

হুমায়ূনের জন্ম কাবুলে, ১৫০৮ সালের ৬ মার্চ। যখন তিনি মসনদে বসলেন, তখন তার বয়স মাত্র ২৭ বছর। ওইটুকু বয়সেই তার ভাল, খারাপ – সব গুণই সামনে চলে এসেছিল। সেইসব দোষ গুণগুলো চিরজীবনই তার সঙ্গী থেকেছে, এর ফলে কখনও তিনি সফল হয়েছেন, আবার কখনও ডুবে গেছেন গভীর হতাশায়।

মাত্র ১২ বছর বয়সে হুমায়ূনকে একটা প্রদেশের দায়িত্ব দিয়ে দেন আর ১৭ বছর বয়সে যখন ভারত অভিযান শুরু করলেন বাবর, তাতেও বাবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন হুমায়ূন।

বাবর তার আত্মজীবনী ‘বাবরনামা'তে লিখেছেন, “আমি হিসার ফিরুজার গভর্নরের নেতৃত্বে হুমায়ূনকে পাঠিয়েছিলাম ইব্রাহিম লোদির সামনের সারির সৈন্যদের মোকাবিলা করতে। সে যখন লোদির সৈন্যদের পরাস্ত করতে সক্ষম হল, তাকে উপহার হিসাবে হিসার ফিরুজা জায়গীরটাই দিয়ে দিয়েছিলাম।“

“পানিপথের যুদ্ধ জয়ের পর তাকে আমি পাঠাই আগ্রার দখল নিতে। গোয়ালিয়রের রাজার তরফ থেকে তাকে একটা বড় হীরা উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। ওই হীরে এতই দামী ছিল যে সেই অর্থ দিয়ে গোটা পৃথিবীর সব মানুষকে আড়াই দিন খাওয়ানো যেত। আমি যখন আগ্রা পৌঁছাই, আমার ছেলে সেই হীরেটা আমাকে নজরানা হিসাবে দেয়। কিন্তু আমি সেটা তাকেই ফিরিয়ে দিই,” লিখেছেন বাবর।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

কম ইচ্ছাশক্তি

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বাবরের মৃত্যুর সময়ে মুঘল সাম্রাজ্য এতটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল যে তিন দিন ধরে তার মৃত্যুর খবর বাইরের কাউকে জানানোই হয় নি।

হুমায়ূন শাসনভার নেন ১৫৩০ সালের ৩০শে ডিসেম্বর।

ইতিহাসবিদ এস এম বার্কে তার বই ‘আকবর, দা গ্রেটেস্ট মুঘল’ – এ লিখেছেন, “ঘোড়া ছোটানো বা তীরন্দাজ হিসেবে হুমায়ূন পারদর্শী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধজয়কে আরও মজবুত করার ব্যাপারে তার ইচ্ছাশক্তির অভাব ছিল। নেতৃত্ব দেওয়ার প্রতিভারও খামতি ছিল তার মধ্যে। এই জন্যই খুব কাছের মানুষরাও হুমায়ূনকে ছেড়ে দূরে সরে গেছেন নানা সময়ে, অথচ সেই সময়গুলোতেই হুমায়ূনের তাদের খুব প্রয়োজন ছিল। আবার সামনে কোনও বাধা এলে ভয় না পেয়ে তা অতিক্রম করার ক্ষমতাও ছিল হুমায়ূনের।"

সম্রাট হিসাবে তার প্রথম যুদ্ধ অভিযান ছিল ১৫৩১ সালে। জৌনপুরের কাছে মাহমুদ লোদিকে সেই যুদ্ধে পরাস্ত করেন হুমায়ূন। আর শের শাহের ক্রমবর্ধমান শক্তির মোকাবিলা করার জন্য হুমায়ূনকে পূর্বদিকে অভিযান চালাতে হয় ১৫৩৪ সালে। কিন্তু বাহাদুর শাহের বিপদ থেকে নিজের মসনদ রক্ষা করার জন্য মাঝপথেই তাকে ফিরে আসতে হয়।

এর ফলে শের শাহের ক্ষমতা আগের থেকেও বেড়ে গেল। আর হুমায়ূন সেবছরই পাড়ি দিলেন মালওয়া আর গুজরাতের দিকে।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

দুবার শের শাহের কাছে পরাজিত হন হুমায়ূন

চৌসার যুদ্ধে পরাজয়

তবে হুমায়ূন শের শাহের মুখোমুখি হন আরও কয়েক বছর পরে, ১৫৩৭ সালে। সেবছরের মার্চ মাসে শের শাহকে কব্জায় আনার জন্য হুমায়ূন পূর্ব ভারতের দিকে রওনা হন। বাংলার রাজধানী গৌড় দখলও করে ফেলেন হুমায়ূন।

সেই সময়ের নামকরা ইতিহাসবিদ জোহর আফতাবচি তার বই ‘তজকিরাৎ-উল-ওকিয়ৎ’-এ লিখেছেন, “গৌড় দখল করার পরে হুমায়ূন একটা বড় সময়ের জন্য নিজের হারেমে কাটান। সেই সময়ে তিনি একেবারেই বাইরে বের হতেন না। এই সুযোগে শের শাহ বেনারস আর জৌনপুর দখল করে ফেলেন। এরপরে হুমায়ূন যখন রাজধানীর দিকে ফিরতে শুরু করেন, মাঝপথেই তাকে আটকিয়ে দেন শের শাহ।“

তিনি আরও লিখেছেন, “১৫৩৯ সালের ৭ই জুন চৌসার যুদ্ধে পরাজিত হন হুমায়ূন। ওই লড়াইতে তিনি নিজে যুদ্ধে নেমেছিলেন। তার হাতে একটা তীর বিঁধে গিয়েছিল। তিনি আদেশ দিয়েছিলেন অন্য সৈনিকদের এগিয়ে যেতে, কিন্তু একজনও সেই নির্দেশ পালন করে নি। নিজের প্রাণ বাঁচাতে হুমায়ূনকে লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। গঙ্গা পেরনোর সময়ে প্রবল স্রোতে তার ঘোড়া ভেসে যায়। সেই সময়ে একজন তার প্রাণ বাঁচায়। পরে সেই ব্যক্তিকে আধা দিনের জন্য নিজের সিংহাসনে বসিয়ে ঋণ চুকিয়েছিলেন হুমায়ূন।“

কনৌজের যুদ্ধেও হারতে হয় হুমায়ূনকে

পরের বছর, চৌসার যুদ্ধে পরাজয়ের বদলা নিতে রওনা হন হুমায়ূন। কিন্তু সেই সময়ে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সেনাপতি তাকে ছেড়ে চলে যায়। যার ফলে কনৌজের যুদ্ধে আবারও শের শাহের কাছে পরাজিত হন হুমায়ূন।

জোহর আফতাবচি লিখছেন, “আফগান সৈনিকরা হুমায়ূনের চোখের সামনেই তার তোপখানা লুঠ করছিল। হুমায়ূনের নজরে পরে এক বুড়ো হাতি, যেটা একসময়ে তার বাবার কাছে ছিল। ওই হাতিতে চেপেই তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু একটা সময়ে তার মনে হয় যে মাহুত যেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে নিয়ে যাওয়ার বদলে শত্রু শিবিরের দিকেই তাকে নিয়ে যাচ্ছে। হাওদায় লুকিয়ে থাকা এক হিজড়া হুমায়ূনকে পরামর্শ দেয় তিনি যেন তরবারি দিয়ে ওই মাহুতের মাথাটা কেটে দেন। ওদিকে আবার হুমায়ূন নিজে হাতি চালাতে পারেন না, তাই মাহুত ছাড়া তিনি তো এগোতেই পারবেন না। তখন ওই হিজড়া বলে যে সে কিছুটা হাতি চালাতে পারে, সে হুমায়ূনকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাবে। হুমায়ূন এই কথা শুনে মাহুতের মাথা কেটে ফেলেন।“

আকবরনামা গ্রন্থে আবুল ফজলও এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার বর্ণনায় হাতির পিঠে থাকা হাওদায় যে কোনও হিজড়াও ছিল, সেটা আবুল ফজলের লেখায় নেই।

আবার হায়দর মির্জা দোগলৎ তার বইতে লিখেছেন সেদিন হুমায়ূনের সঙ্গে ১৭ হাজার সৈনিক লড়াই করেছিল, কিন্তু যখন তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন, তখন একেবারে একা। মাথায় না ছিল পাগড়ি, না ছিল পায়ে জুতো। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন হুমায়ূন।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

শের শাহের কাছে বারেবারে যুদ্ধে হেরে ভারত থেকে পালাতে হয়েছিল হুমায়ূনকে

Skip বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর and continue reading

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর

End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর

ভাইদের সঙ্গে মতবিরোধ

কনৌজ থেকে আগ্রা পর্যন্ত হুমায়ূনকে যেতে হয়েছিল একটা ধার করা ঘোড়ায় চেপে। ততক্ষণে তার পরাজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়েছে।জোহর আফতাবচি লিখছেন, “আগ্রা আর কনৌজের মাঝামাঝি ভানগাঁও নামের একটা গ্রামের প্রায় হাজার তিনেক মানুষ হুমায়ূনকে আটকিয়ে দেয়। তাদের দাবী ছিল সম্রাটের সেনারা গ্রামে লুঠপাট চালিয়েছে, হুমায়ূনকে সব ফেরত দিতে হবে। হুমায়ূন তার দুই ভাই হিন্দাল আর অস্করিকে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দিলেন। কিন্তু তারা দুজন নিজেদের মধ্যেই ঝগড়া বাঁধিয়ে ফেলল। কোনও মতে ওই গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি শেষমেশ আগ্রা পৌঁছলেন।“

তবে ১৫৪০ সালেই, বাবার মৃত্যুর ঠিক দশ বছর পরে হুমায়ূনকে আগ্রা ছাড়তে হয়।

যখন আগ্রা থেকে পালাচ্ছেন হুমায়ূন, শের শাহ তার রাজপুত সেনাপতি ব্রহ্মদত গৌড়কে নির্দেশ দিলেন হুমায়ূনকে তাড়া করতে।

আব্বাস সরওয়ানি লিখছেন, “গৌড়ের ওপরে নির্দেশ ছিল যে হুমায়ূনের সঙ্গে লড়াই না করে শুধু তাকে তাড়া করার। আবার হুমায়ূনকে আটক করারও উদ্দেশ্য ছিল না। শের শাহ তাকে ভারত থেকে তাড়ানোর কথাই ভেবেছিলেন।“

এরই মধ্যে হুমায়ূনের দুই ভাই হিন্দাল এবং অস্করি ফিরে গেলেন আগ্রায়।

হুমায়ূনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয় তারা সেখানে শাসন চালাতে লাগলেন। এঁদের নামে খুতবাও পড়া হতে লাগল। শের শাহের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নিজের ভাইদের প্রস্তাব দিলেন হুমায়ূন। কিন্তু তার আরেক ভাই কামরান সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন। কিছু সৈন্য নিয়ে লাহোরের দিকে রওনা দেন হুমায়ূন।

ভারত থেকে পলায়ন, দিল্লি পুনরুদ্ধার

হুমায়ূনের বোন গুলবদন বেগম লিখছেন, “লাহোরে পৌঁছে হুমায়ূন শের শাহকে বার্তা পাঠালেন- আমি আপনার জন্য গোটা হিন্দুস্তান ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু আমাকে অন্তত লাহোরে থাকতে দিন। শের শাহের জবাব ছিল- আমি তোমার জন্য কাবুল ছেড়ে রেখেছি। তুমি সেখানে চলে যাচ্ছ না কেন? পরের ১৫ বছর হুমায়ূনকে দিল্লির মসনদ ছেড়ে ইরান, সিন্ধ আর আফগানিস্তানে কাটাতে হয়।“

একটা বিস্ফোরণে ১৫৪৫ সালের মে মাসে মৃত্যু হয় শের শাহের। ১৫৫৩ সালে মারা যান তার পুত্রও। তারপরেই তার সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করে। পরের বছর কাবুলে খবর পৌঁছায় যে সেলিম শাহ সুরির মৃত্যু হয়েছ আর তার ছেলেকে মেরে ফেলেছে তার আপন চাচারাই।

হুমায়ূন তার হারানো সাম্রাজ্য পুণরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন।

সেবছর নভেম্বর মাসে যখন হুমায়ূন কাবুল থেকে ভারতের উদ্দেশ্য রওনা হলেন, তখন তার কাছে মাত্র হাজার তিনেক সৈন্য। ভারতে প্রবেশে আগে যখন সিন্ধু নদ পারি হচ্ছেন হুমায়ূন, ১৫৫৪ সালের ডিসেম্বর মাসে, তখন সুরি বংশের তিন দাবীদার সামনে এসে গেছে। এদের মধ্যে সবথেকে প্রধান দাবীদার ছিলেন সিকান্দার শাহ। তিনি দিল্লি থেকে পাঞ্জাবের রোহতাস পর্যন্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। হুমায়ূন যুদ্ধে নামার আগে কান্দাহার থেকে বৈরাম খাঁকে ডেকে পাঠালেন। ১২ বছরের আকবরও ছিলেন সঙ্গে।

হুমায়ূন যখন ১৫৫৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি লাহোরে প্রবেশ করছেন, তখন তাকে কোনও বাধার সম্মুখীন হতে হয় নি। সরহিন্দের লড়াইতে আকবর একটা সেনাদলের নেতৃত্বও দিলেন। সিকান্দার সুরি লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালিয়ে পাঞ্জাবের জঙ্গলে আশ্রয় নিলেন। ২৩শে জুলাই, ১৫৫৫, দিল্লিতে প্রবেশ করলেন হুমায়ূন। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয় নি বেশি দিনের জন্য।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

হুমায়ূনের সমাধি

শেষের সেদিন

শেষ আফিমের বড়িটা খাবার জন্য তিনি গোলাপ জল আনতে হুকুম করেছিলেন। দিনটা ছিল ২৪ জানুয়ারি, ১৫৫৬।

এর আগে হজ থেকে ফিরে আসা কয়েকজনের সঙ্গে দুপুরে সাক্ষাত করেন তিনি। লাল পাথরের তৈরি নিজের লাইব্রেরি ঘরে তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জায়গা ঠিক করা ছিল। ওই লাইব্রেরিটা আবার ছিল ছাদের ওপরে। তাদের ছাদে নিয়ে যাওয়ার আরও একটা কারণ ছিল। জুম্মার নামাজের জন্য জড়ো হওয়া প্রজারা তাদের সম্রাটকে যাতে ছাদ থেকে দেখতে পায়।

ওই দলের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে তার গণিতজ্ঞকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন হুমায়ূন।

গুলবদন বেগম লিখছেন, “সেদিন খুব ঠাণ্ডা ছিল, জোরে হাওয়াও বইছিল। হুমায়ূন ছাদ থেকে নামতে শুরু করেন। হঠাৎই মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ আসে। সেটা শুনেই ধার্মিক হুমায়ূন সিঁড়িতেই সিজদা করার জন্য একটু ঝুঁকতে গিয়েছিলেন, আর তখনই তার পোশাকে পা জড়িয়ে যায়। সম্রাট হুমায়ূন সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে পড়তে থাকেন। তার সহচররা ধরার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সম্রাট ততক্ষণে গড়িয়ে পড়েছেন অনেকগুলো সিঁড়ি। তারা তাড়াতাড়ি নীচে নেমে দেখে সম্রাট মাটিতে পড়ে আছেন। মাথায় গভীর আঘাত পেয়েছিলেন হুমায়ূন আর তার ডান কান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।

হুমায়ূন আর চোখ মেলে তাকান নি। তিন দিন পরে তার মৃত্যু হয়।






তেলের উৎপত্তির সাথে কি ডাইনোসরের সংযোগ আছে?

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

তেলের উৎপত্তি সম্পর্কে সবচেয়ে গৃহীত তত্ত্ব "জৈব" বা “অর্গানিক” নামে পরিচিত।

Article Information


আজকের সমাজের মূল চালিকাশক্তি হল তেল। এই তেলের দখল নিয়ে বিশ্বে যুদ্ধ বেঁধেছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যও প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয় তেলকে।

বিশ্বে প্রতিদিন আট কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল উৎপাদিত হয়। এই তেলকে 'পেট্রোলিয়াম' বলা হয়ে থাকে। পেট্রোলিয়াম শব্দটি ল্যাটিন শব্দ পেত্রা এবং ওলিয়াম থেকে এসেছে।

পেত্রা অর্থ পাথর এবং ওলিয়াম অর্থ তেল। সে হিসেবে পেট্রোলিয়াম বলতে বোঝায় পাথর বা মাটি খুঁড়ে উত্তোলন করা তেল।

এই অপরিশোধিত থকথকে কালো তেল "ব্ল্যাক গোল্ড" বা "কালো স্বর্ণ" নামেও পরিচিত।

থকথকে তেলটি মূলত হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। এটি এমন এক যৌগ, যার আণবিক গঠনে প্রধানত কার্বন এবং হাইড্রোজেন থাকে।

তেল হল এমন একটি উপাদান যা লাখ লাখ বছর ধরে রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়ে এক পর্যায়ে তেলে রূপ নেয়।

কিন্তু এই তেল কোথা থেকে আসে?

এক্ষেত্রে বেশিরভাগ বিজ্ঞানী একটি তত্ত্বের পক্ষে কথা বলেন, তাদের দাবি তেলের উৎস কী এটা সহজেই বোঝা যায়।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

কিন্তু এই তেলের উৎস নিয়ে আজও নানা ধরণের ভ্রান্ত ধারণার প্রচলন রয়েছে।

Skip আরও পড়তে পারেন and continue reading

আরও পড়তে পারেন

End of আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ডাইনোসরের একটি প্রজাতি ইগুয়ানোডন ১০ মিটারের বেশি লম্বা হতে পারে।

ডাইনোসরের মিথ

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ধারণা করা হয়, আজকের অপরিশোধিত তেল মজুদের প্রায় ৭০ শতাংশ মেসোজোয়িক যুগে গঠিত হয়েছিল, যা ২৫ কোটি ২০ লাখ থেকে ছয় কোটি ৬০ লাখ বছর আগের কথা।

মেসোজোয়িক যুগ ট্রায়াসিক, জুরাসিক এবং ক্রিটেসিয়াস যুগে বিভক্ত, এটি সরীসৃপের যুগ হিসাবেও পরিচিত এবং ডাইনোসররা এই যুগেই সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল।

এই যুগই সম্ভবত ব্যাখ্যা দিতে পারবে কেন এ সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়িয়েছিল।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক রিডার মুলার সায়েন্স-নরওয়েকে বলেন, "কিছু অদ্ভুত কারণে, অনেকেরই ধারণা যে ডাইনোসর থেকে তেল আসে। কিন্তু তেল মূলত আসে কোটি কোটি ক্ষুদ্র শৈবাল এবং প্ল্যাঙ্কটন থেকে।"

এই পৌরাণিক ধারণার জন্ম কীভাবে হয়েছিল সেটা নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না, তবে এই গল্প ল্যাটিন আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

বিবিসি মুন্ডো দুই মেক্সিকান বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তারা এই বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু জানেন কি না।

এ বিষয়ে, ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অফ মেক্সিকোর ভূতত্ত্ব অনুষদের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক দারিও সোলানো এবং ইজা ক্যানালেস বলেছেন "এটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলেও, ধারণাটি ভুল।”

সোলানো বলেন, "অন্তত এই সময়ে এসে আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি, হাইড্রোকার্বন তৈরি করে এমন অনেক শিলা জুরাসিক স্তরে পাওয়া গিয়েছে, জুরাসিক যুগ হল ডাইনোসরের ভূতাত্ত্বিক সময়কাল এবং সম্ভবত এই কারণে ডাইনোসর থেকে তেল আসার ভ্রান্ত ধারণাটি প্রচলিত হয়েছে।"

"এই পৌরাণিক কাহিনীগুলোকে ভুল প্রমাণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে, প্রথমত যে পদার্থটি বেশ পরিচিত এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সেটি সম্পর্কে অজ্ঞতা দূর করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, এই পদার্থের মূল উৎস বা ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখলে এ সংক্রান্ত আধুনিক প্রযুক্তি বা এর ব্যবহারকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে,” এমনটাই বলছেন ক্যানালেস।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ভূতাত্ত্বিক স্তরের চাপ এবং তাপ ভেতরে জমতে থাকা জৈব পদার্থকে হাইড্রোকার্বনে রূপান্তরিত করে।

কিভাবে তেল গঠিত হয়?

তেলের উৎপত্তির পেছনে মূল উৎস বড় কোন সরীসৃপ নয়, বরং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী।

তেলের উৎস সম্পর্কে সর্বাধিক স্বীকৃত তত্ত্ব হল, এটি সমুদ্র এবং হ্রদগুলোর তলদেশে জমে থাকা প্রাণী এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম শৈবাল পচে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে।

এই তত্ত্বটি নির্দেশ করে যে, সূক্ষ্ম পলিদানাসহ বিভিন্ন জৈব পদার্থ বিশেষ করে, স্থলজ বা সামুদ্রিক উদ্ভিদ নদী অববাহিকায় জমা হয়।

নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ার পরে, কেরোজেন গঠিত হয়, যা নানা ধরণের জৈব পদার্থের মিশ্রণ, এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাপ ও চাপ বৃদ্ধি পেতে পেতে এক পর্যায়ে হাইড্রোকার্বন চেইন গঠন করে, ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অফ মেক্সিকোর বিজ্ঞানীরা এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

জৈব পদার্থগুলোর উপরে অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক স্তরগুলো জমতে জমতে চাপ এবং তাপ বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এতে ধীরে ধীরে জৈব পদার্থগুলো অল্প পরিমাণে অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশে হাইড্রোকার্বনে রূপ নেয়।

"সহজভাবে বললে, বিষয়টা অনেকটা সব উপাদানকে এক করে সেগুলো প্রেশার কুকারে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করার মতো (অর্থাৎ যেখানে চাপ এবং তাপের সৃষ্টি হয়)। যতক্ষণ না আসল পদার্থটি কার্বন এবং হাইড্রোজেনের চেইনে ভেঙে যায়।

মাটির নীচের স্তরেও একই রকম কিছু ঘটে। এতে ওই উপাদানগুলো শিলা থেকে রূপান্তরিত হতে থাকবে এবং তেল হয়ে মাটির নীচে জমা হতে থাকবে," মেক্সিকান বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন।

এই তত্ত্বটি সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত কারণ সমস্ত তেলের মজুদ পাললিক ভূখণ্ডে পাওয়া গিয়েছে। উপরন্তু, তারা প্রাণী এবং উদ্ভিদের জীবাশ্মের অবশিষ্টাংশের সন্ধানও পেয়েছেন।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

উত্তর সাগরে তেল উত্তোলন। হাইড্রোজেন এবং কার্বন চেইনের অক্সিডেশন (দহন) থেকে তেল পাওয়া যায়।

তেলের শক্তি কোথা থেকে আসে?

পুরনো বনভূমির জৈব উপাদানের রূপান্তর থেকেও তেল আসতে পারে।

জৈব তত্ত্বে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, যেকোনো ধরণের পদার্থে জৈব উপাদান থাকতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, স্থলজ উদ্ভিজ পদার্থ থেকে কেরোজেন উৎপন্ন হয় এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত হাইড্রোকার্বন গ্যাস থেকে তেল জমতে থাকে, মেক্সিকান বিজ্ঞানীরা এমনটাই মনে করেন।

এ নিয়ে আরেকটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, যা বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারে। সেটি হল: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বা উদ্ভিদের ক্ষুদ্রাংশ কি তেলের শক্তি এবং সৌর শক্তির সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে জু্ওপ্ল্যাঙ্কটন বা প্রাণীর ক্ষুদ্রাংশে রূপান্তর হতে পারে?

"না, এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা," ক্যানালেস বলেছেন।

"আজ তেল থেকে আমরা যে শক্তি পাই, তা হাইড্রোজেন এবং কার্বন চেইনের (হাইড্রোকার্বন) জারণ (দহন) থেকে পাওয়া যায়।"

"এটি সত্য যে শক্তি এবং পদার্থ পরস্পরকে ধারণ করতে পারে। আরও সহজ করে বললে, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এবং জুওপ্ল্যাঙ্কটন অনেকটা সৌর ব্যাটারির মতো। আপনি বরং একে একটি এনালগ সিস্টেম হিসাবে ভাবতে পারেন যে, মানুষ কীভাবে খাবার খায় এবং সেই খাবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে অক্সিডেশন প্রক্রিয়া বা হজমের মাধ্যমে কিভাবে ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আমাদের শরীরের কোষগুলো এই শক্তি বা খাবারের উপাদানগুলোর উপকারিতা নিতে পারে।" বলেন, সোলানো।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ইরাকের তেলক্ষেত্র। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে কার্বন নির্গমন ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে।

বিকল্প তত্ত্ব

কয়েকজন বিজ্ঞানী অতীতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তেলের একটি অজৈব উৎস রয়েছে এবং এটি কোন প্রাণীর অবশিষ্টাংশ ছাড়াই পৃথিবীর গভীরে গঠিত হতে পারে।

এই তত্ত্বের মধ্যে বেশ কয়েকটি ১৯ শতকের প্রথম দিকে প্রস্তাব করা হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ; রাশিয়ান রসায়নবিদ দিমিত্রি মেন্দেলিভ এসব উপাদানের প্রথম পর্যায়ের সারণী প্রকাশ করেছিলেন।

অজৈব তত্ত্বগুলো মনে করে যে, পৃথিবীর ওপরের দিকের স্তরে, কার্বন মূলত হাইড্রোকার্বন অণু বিশেষ করে, মিথেন হিসাবে বিদ্যমান থাকতে পারে।

পেট্রোলিয়ামে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোকার্বন পাওয়া গিয়েছে যা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে উৎপন্ন হয়। এজন্য জৈব জীবাশ্মের প্রয়োজন হয় না।

এই হাইড্রোকার্বনগুলো পৃথিবীর ভেতরের অংশ থেকে ভূত্বকের দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। এটি ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে বা ওপরের দিকের অভেদ্য স্তরে তেল জমাতে পারে।

এই তত্ত্বগুলোর একটি সংস্করণের কথা বলেছেন অস্ট্রিয়ান জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী টমাস গোল্ড (১৯২০-২০০৪), যিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন।

গোল্ড ১৯৯২ সালে আমেরিকান একাডেমী অফ সায়েন্সের জার্নাল পিএনএএস-এ "ডিপ হট বায়োস্ফিয়ার" শিরোনামে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছিলেন, পরে একই শিরোনামে তিনি একটি গ্রন্থ লেখেন।

গোল্ডের মতে, পৃথিবীতে হাইড্রোকার্বন জৈবিক বর্জ্য বা জীবাশ্ম জ্বালানীর কোন উপজাত নয়। তবে, এটি এমন এক উপাদান যা প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর গঠন হওয়ার সময় থেকেই ছিল।

গোল্ড স্বীকার করেছেন যে, একই ধারণা ১৯৫০ এর দশকে সোভিয়েত বিজ্ঞানীরাও দিয়েছিলেন।

পেট্রোলিয়ামের অজৈব উৎপত্তির তত্ত্বটি বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেননি।

"আমরা আমাদের একাডেমিক এবং বৈজ্ঞানিক সহকর্মীদের হয়ে সাহস করে বলেছি যে, অজৈব উৎসের তত্ত্বগুলো সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়নি এবং পরীক্ষাগারে এই উপায়ে হাইড্রোকার্বন তৈরি করা সম্ভব হয়নি," ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অফ মেক্সিকোর বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

একটি দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শেষ প্রশ্ন

যেহেতু পেট্রোলিয়ামের উৎপত্তির জৈব তত্ত্বটি সর্বাধিক গৃহীত, সম্ভবত কিছু পাঠক নিজেদের এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

যদি মেসোজোয়িক যুগে তেল তৈরির সময়ে ডাইনোসররাও পৃথিবীতে বিচরণ করতো, তাহলে এমনটাও হতে পারত যে, তাদের দেহাবশেষ এবং ডাইনোসরের জৈব পদার্থ, সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে পতিত হত। এবং বহু সময় ধরে সংকোচন এবং রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তেলে রূপ নিতো।

“এক কথায় বলা যায় যেকোনো জৈব পদার্থ থেকে তেল উৎপাদন হতে পারে," ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অফ মেক্সিকোর বিশেষজ্ঞরা তাই বলেছেন।

"তবে, এটি উল্লেখ করা জরুরি যে তেল উৎপাদন একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া, এবং বিপুল পরিমাণ পদার্থের প্রয়োজন হয়, যা শুধুমাত্র সমুদ্রে প্ল্যাঙ্কটনের বিশাল পরিমাণের কারণে অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু অন্যান্য পদার্থ এতো পরিমাণে নেই,” তারা পরিশেষে বলেন।






যে 'উলঙ্গ' যোদ্ধারা ব্রিটিশদের ভারত দখলে সহায়তা করেছিলেন

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

WILLIAM PINCH

ছবির ক্যাপশান,

অনুপগিরি গোঁসাইয়ের বিধবা মা দারিদ্রের কারণে ছেলেকে একজন সেনানায়কের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

Article Information


তিনি ছিলেন শত্রুপক্ষের মনে ভয়-ধরানো এক যোদ্ধা-নেতা। তার নিজস্ব সেনাবাহিনীতে ছিল উলঙ্গ ও জটাধারী ঘোড়সওয়ার ও পদাতিক যোদ্ধাদের দল - যুদ্ধক্ষেত্রে তারা কামানের মত অস্ত্রও ব্যবহার করতো।

কিন্তু অনুপগিরি গোঁসাই শুধু সৈনিক ছিলেন না - ছিলেন একজন সন্ন্যাসীও । তিনি ছিলেন হিন্দু দেবতা শিবের ভক্ত একজন নাগা বা নগ্ন সাধু, যাদের ভারতে খুবই সম্মানের চোখে দেখা হতো।

তারা একটি প্রধান হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্য যারা উলঙ্গ থাকেন, গায়ে মাখানো থাকে ছাই, আর মাথায় জটা।

ভারতের কুম্ভ মেলা - যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব - তাতে এদের প্রায়ই দেখা যায়।

গোঁসাই ছিলেন এমনই একজন যোদ্ধা সাধু, বলছেন উইলিয়াম আর পিঞ্চ তার লেখা বই 'ওয়ারিয়র অ্যাসেটিক অ্যান্ড ইন্ডিয়ান এমপায়ার্স'।

নাগারা 'ভয়ংকর এবং উচ্ছৃঙ্খল' এরকম একটা ধারণা থাকলেও অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই নাগারা "ভালো ভালো অস্ত্রে সজ্জিত এবং সুশৃঙ্খল" ছিলেন।

তা ছাড়া অশ্বারোহী এবং পদাতিক -দু ধরনেরই সেনা হিসেবেও তারা ছিলেন অত্যন্ত উন্নত মানের - বলছেন মি. পিঞ্চ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির একজন ইতিহাসবিদ।

উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে একজন নাগা সৈনিকের একটি পোর্ট্রেট আঁকিয়েছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জেমস স্কিনার।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

সেই ছবিতে দেখা যায়, খালি পায়ে একজন নগ্ন সাধু, তার গায়ে ঝোলানো একটি চামড়ার বেল্ট, সাথে লাগানো বাঁকা তলোয়ার, আর কিছু কয়েকটি থলিতে ভরা বারুদ, গুলি, এবং চকমকি পাথর।

তার ঘন এবং জটপাকানো চুল মাথায় এমনভাবে প্যাঁচানো যে মনে হয় যেন তিনি একটা শিরস্ত্রাণ পরে আছেন।

তার বাম হাতে লম্বা নলওয়ালা সেযুগের বন্দুক - যার নাম ছিল মাস্কেট। কপালে কমলা রঙের তিলক আঁকা।

Skip content and continue reading

End of content

ছবির উৎস,

BRITISH LIBRARY

ছবির ক্যাপশান,

একজন নাগা সন্ন্যাসী ও তার শিষ্য

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

" সেযুগে নাগাদের সুনাম ছিল আচমকা আক্রমণকারী সেনাদল হিসেবে, তা ছাড়া হাতাহাতি যুদ্ধেও তাদের পারঙ্গমতা ছিল" - লিখেছেন মি. পিঞ্চ।

"অনুপগিরি গোঁসাইয়ের নেতৃত্বে তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ পদাতিক বাহিনী গড়ে ওঠে - যারা সে সময়কার যে কোন সেরা সৈন্যদলের সাথেও পাল্লা দিতে পারতো।"

অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে অনুপগিরি এবং তার ভাই উমরাওগিরি ২০,০০০ লোকের বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন। উনবিংশ শতাব্দীতে এসে কামান এবং রকেটধারী সন্ন্যাসী সৈন্যদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

লেখক ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল অনুপগিরিকে বর্ণনা করেছেন একজন "ভীতিউদ্রেককারী নাগা সেনানায়ক" হিসেবে - যাকে হিম্মত বাহাদুর বা সাহসী বীর হিসেবে মুঘল খেতার দেয়া হয়েছিল।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং কীভাবে তারা ভারতে আধিপত্য কায়েম করলো তা নিয়ে "দি অ্যানার্কি" নামে একটি বই লিখেছেন ইউলিয়াম ডালরিম্পল।

এই বইতে তিনি লিখেছেন মির্জা নাজাফ খান নামে একজন মুঘল সেনানায়কের বাহিনীর কথা। এই বাহিনীতেই যোগ দিয়েছিলেন ভিন্ন ধরনের একদল সৈন্য: "অনুপগিরি গোঁসাইয়ের জটাধারী নাগা" - যাতে ছিল ৬,০০০ নগ্ন সাধু এবং ৪০টি কামান।

অনুপগিরির বাহিনীর ব্যাপারে উল্লেখ করা হচ্ছে তাতে কী ছিল -১০,০০০ গোঁসাইয়ের একটি সেনাদল (অশ্বারোহী ও পদাতিক সমেত), পাঁচটি কামান, রসদপত্রে ভর্তি অসংখ্য বলদে-টানা গাড়ি, তাঁবু, এবং নগদ ১২ লাখ রুপি। ২০১৯-এর মুদ্রামানে এর পরিমাণ হবে ১৬ লক্ষ ব্রিটিশ পাউন্ডের সমান।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ভারতের কুম্ভ মেলায় প্রতিবছরই নাগা সন্ন্যাসীদের দেখা যায়

অনুপগিরি ছিলেন একজন রহস্যময় ব্যক্তি - যাকে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে সফলতম সামরিক উদ্যোক্তা বা 'ভাড়াটে বাহিনী' বলা যেতে পারে।

কথাটা ভুল নয়। কারণ সে যুগে রাজারা যে সমস্ত ব্যক্তিগত বাহিনী নিয়োগ করতেন - তার সবই ছিল ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে গঠিত।

অনুপগিরির সম্পর্কে একজন সমসাময়িক ভারতীয় বলেছিলেন তিনি ছিলেন এমন একজন লোক যে "দুই নৌকায় পা রেখে নদী পার হচ্ছিলেন - যাতে কোন একটি ডুবে গেলে তিনি আরেকটিতে চলে যেতে পারেন, " কথাটি লিখেছিলেন টমাস ব্রুক - সে সময় বেনারস (এখনকার বারাণসী) শহরের একজন বিচারক।

এতে তাই অবাক হবার কিছুই নেই যে সর্বত্রই এই আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের যোদ্ধার উল্লেখ পাওয়া যায়।

"অনুপগিরিকে সর্বত্র দেখা যেতো কারণ তিনি ছিলেন এমন একজন লোক যাকে সবারই দরকার হতো। আবার তাকে যে দরকার হচ্ছে সে জন্য অনেকে ‌আবার তাকে পছন্দও করতো না। যাদের ভাড়াটে সৈনিক দরকার তাদের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রয়োজনীয় লোক। আবার কোন গোপন খবর বের করা, দুপক্ষের মধ্যে আপোষরফা করা বা কোন একটা নোংরা কাজ কাউকে টের পেতে না দিয়ে করিয়ে নেয়া - এগুলোর জন্যও লোকে তার শরণাপন্ন হতো," বলেন মি. পিঞ্চ।

নানা পক্ষের হয়ে লড়েছেন অনুপগিরি

অনুপগিরি নানা পক্ষের হয়ে লড়াই করেছেন। ১৭৬১ সালের পানিপথের যুদ্ধে তিনি মুঘল সম্রাট ও আফগানদের হয়ে মারাঠাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

তিন বছর পর তিনি মুঘল বাহিনীর হয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন বক্সারের লড়াইয়ে।

আবার দিল্লিতে পারস্যের নাজাফ খানের উত্থানেও অনুপগিরি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন।

এরও পরে তিনি যোগ দেন ব্রিটিশদের পক্ষে এবং তাদের হয়ে ১৮০৩ সালে মারাঠাদের পরাজিত করার যুদ্ধে ভুমিকা রাখেন।

ব্রিটিশদের দিল্লি দখলের যুদ্ধেও তিনি সহায়তা করেছিলেন। এটা ছিল সেই ঘটনা যার ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দক্ষিণ এশিয়ায় তথা বিশ্বে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে, লিখেছেন মি. পিঞ্চ।

মি.পিঞ্চের কথায়, অষ্টাদশ শতকে ভারতে মুঘল ও মারাঠা শক্তির পতন এবং ব্রিটিশ শক্তির উত্থানের ঘটনাগুলোকে যতই পরীক্ষা করে দেখা যায়, ততই এর পশ্চাতে অনুপগিরি গোঁসাইয়ের ভুমিকা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ছবির উৎস,

BRITISH LIBRARY

ছবির ক্যাপশান,

উনবিংশ শতাব্দীতে আঁকা এক ছবিতে একজন নাগা সাধূ

Skip বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর: and continue reading

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

অনুপগিরির জন্ম ১৭৩৪ সালে উত্তর ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বুন্দেলখন্ডে।

তার বাবা মারা যাবার পর বিধবা মা দারিদ্র্যের কারণে অনুপগিরি ও তার বড় ভাইকে একজন যোদ্ধা নেতার হাতে তুলে দেন।

এমন গল্পও আছে যে তিনি মাটির তৈরি সৈন্যদের সাথে খেলে শৈশব কাটিয়েছেন - তবে এগুলো হয়তো নিতান্তই গালগল্প।

লোকের মুখে মুখে ফেরা গল্পে আভাস পাওয়া যায় যে ১৬শ শতকে মুসলিমদের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য অনুপগিরির মতো লোকদের অস্ত্রধারী হবার অনুমতি দেয়া হয়।

তবে মি.পিঞ্চ এমন তথ্য পেয়েছেন যে অনুপগিরি মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অন্য মুসলিম নিয়োগদাতার বাহিনীতে কাজ করেছেন। এমনকি আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালির পক্ষ নিয়ে তিনি ১৭৬১ সালে যুদ্ধ করেছেন মারাঠাদের বিরুদ্ধে।

তার জীবন নিয়ে যেসব কবিতা রচিত হয়েছে তাতে তার সঙ্গীদের মধ্যে মুসলিমরা ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়।

"অনুপগিরির প্রতিভা ছিল এখানেই যে ক্ষমতার ক্ষেত্রে তার অপরিহার্যতা তিনি তুলে ধরতে পারতেন। তার জন্ম উচ্চ শ্রেণীতে হয়নি, এবং তিনি জানতেন যে কখন লড়াই করতে হবে আর কখন পালাতে হবে," মি. পিঞ্চ লেখেন, "তিনি জানতেন কীভাবে শত্রু ও মিত্র উভয় পক্ষকে বোঝাতে হয় যে তার হারাবার কিছুই নেই।"

সেটা ছিল এমন এক সময় ও স্থান যখন একজন সশস্ত্র সাধুকে দেখা হতো এমন একজন লোক হিসেবে যে মৃত্যুকে জয় করেছে, বলছেন মি. পিঞ্চ।

মি. ডালরিম্পল তার লেখায় বক্সারের যুদ্ধের নাটকীয় বর্ণনা দিয়েছেন - যে যুদ্ধের ফলে বাংলা ও বিহারে ব্রিটিশ ক্ষমতা নিশ্চিত হয়েছিল।

ওই যুদ্ধে অনুপগিরি তার উরুতে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। আহত অবস্থায় তিনি মুঘল সম্রাট সুজা-উদ-দৌলাকে বোঝান যেন তিনি রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যান।

"অনর্থক মারা যাবার মুহূর্ত এটা নয়", তিনি বলেছিলেন, "আমরা অন্য আরেকদিন সহজেই জিততে পারবো, প্রতিশোধ নিতে পারবো।"

তারা তখন নৌকা সাজিয়ে তৈরি একটি সেতু দিয়ে নদী পার হয়ে পালালেন। অনুপগিরি আদেশ দিলেন, সেতুটি যেন এর পরপরই ধ্বংস করে ফেলা হয়, যাতে আরেক দিন যুদ্ধ করার জন্য বেঁচে থাকা যায়।







হরিয়ানার দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকার মেও মুসলমান কারা?

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির ক্যাপশান,

মেওয়াট অঞ্চলের মুসলমানরা ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন, কিন্তু এখনও হিন্দু ধর্মের অনেক রীতি মেনে চলেন তারা

Article Information


ভারতের হরিয়ানার যে অঞ্চলগুলিতে এই সপ্তাহের গোড়ার দিক থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা মুসলমানদের বলা হয় মেওয়াটি বা মেও মুসলমান। হরিয়ানার নূহ্ জেলা, যেখান থেকে এই দাঙ্গা শুরু হয়, সেখানকার ৭৯ % বাসিন্দাই মুসলমান, তবে তারা এখনও হিন্দু ধর্মের বহু রীতি-রেওয়াজ মেনে চলেন।

নূহ্ জেলার নাম কয়েক বছর আগে পর্যন্তও ছিল মেওয়াট। নূহ্ থেকে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওতেও। হিন্দু আর মুসলমান, উভয় সম্প্রদায়ের ছয় জন এই দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন, আহত ৫০-এরও বেশি।

তবে মেওয়াট শুধু হরিয়ানাতেই যে ছিল তা নয়, এর বিস্তার পূর্বদিকে মথুরার শেষপ্রান্ত থেকে শুরু হয়ে হরিয়ানার মেওয়াট জেলা আর রাজস্থানের ভরতপুর আর আলোয়ার জেলা পর্যন্ত। এই পুরো অঞ্চলের আদিবাসীদেরই মেওয়াটি বলা হয়, তা থেকেই মেওয়াটি বা মেও মুসলমান নামটি এসেছে বলে ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন।

হরিয়ানার এই মেওয়াট জেলা, বর্তমানে যার নাম নূহ্, দেশের সবথেকে পিছিয়ে থাকা জেলা বলে কেন্দ্রীয় নীতি আয়োগ ২০১৮ সালে একটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল।

Skip বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন and continue reading

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির ক্যাপশান,

হরিয়ানার যে জেলায় দাঙ্গা শুরু হয়, সেই নূহ্ প্রাচীন মেওয়াটেরই একটি অংশ

ধর্মান্তরিত হয়ে মেও মুসলমান

মেও মুসলমানরা প্রাচীন যুগ থেকেই আরাবল্লী পর্বত এলাকায় বসবাস করা আদিবাসী সমাজের মানুষ। এঁদের সঙ্গে দ্বাদশ শতাব্দীতে কোনভাবে যোগাযোগ হয় ইসলামি সুফি সন্তদের। তাদের মাধ্যমেই এদের ইসলামের প্রতি আনুগত্য এবং ধর্মান্তরণ।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ইসলামিক পণ্ডিত জাফরুল ইসলাম খান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “মেওরা মূলত রাজপুত যারা দ্বাদশ শতাব্দী থেকে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে।"

"মুহম্মদ বিন তুঘলকের আমলে ১৩৭২ সাল থেকে ১৫২৭ সাল পর্যন্ত খানজাদা রাজপুতরা এই অঞ্চল শাসন করতেন। তবে ১৫২৭ সালে বাবরের সঙ্গে খানওয়ার যুদ্ধে নিহত হন মেওয়াটের তৎকালীন রাজা হাসান খান মেওয়াটি", বলছিলেন অধ্যাপক খান।

মেওয়াটি মুসলমান এবং অ্যাক্টিভিস্ট রামজান চৌধুরী বলছিলেন, “বাবর অনেক চেষ্টা করেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষদের, বিশেষ করে রাজা হাসান খান মেওয়াটির সঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব পাতাতে। বিনিময়ে আলোয়ার অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শাসনভার তাকে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বাবর। কিন্তু রাজা হাসান রাজী হন নি। এর ফল স্বরূপ ১৫ মার্চ, ১৫২৭ সালে বর্তমান রাজস্থান রাজ্যের ভরতপুরের অন্তর্গত খানওয়ার যুদ্ধে বাবরের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন রাজা হাসান খান মেওয়াটি। তবে ১২ হাজার ঘোড়সওয়ার সৈন্যের সঙ্গে তিনি নিজেও নিহত হন যুদ্ধক্ষেত্রেই, তবুও বিদেশী আক্রমণকারীর সঙ্গে যোগ দেন নি।“

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

ছবির ক্যাপশান,

মেও মুসলমানদের অনেকেরই বেশভূষা, খাদ্যাভ্যাস বা রীতি রেওয়াজ হিন্দুদের মতোই

যেসব হিন্দু রীতি মানেন মেও মুসলমানরা

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মেওয়াট অঞ্চলেরই বাসিন্দা, হিন্দির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জীবন সিং মানভির কথায়, “এই মুসলমানদের কিন্তু জোর করে ধর্মান্তরণ হয়নি। এদের সমাজের কেউ কেউ দিল্লি অঞ্চলে গিয়ে সুফি সন্তদের সংস্পর্শে আসেন, সেখান থেকেই এদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ। তবে ইসলাম গ্রহণ করলেও পুরণো হিন্দু ধর্মের রীতি রেওয়াজ, বেশভূষা, খাদ্যাভ্যাস থেকে সরে আসেন নি তারা। সামাজিক অভ্যাসও বদলায়নি তারা, এর একটা উদাহরণ স্বগোত্রে বিয়ে না দেওয়া।"

"অন্যান্য মুসলমানদের মধ্যে স্বগোত্রে বিয়ের চল থাকলেও মেও মুসলমানরা এখনও হিন্দু রীতি অনুযায়ী নিজেদের গোত্র, এমনকি এক গ্রামের মধ্যেও বিয়ে দেয় না,” বলছিলেন অধ্যাপক মানভি।

স্বগোত্রে বিয়ে না দেওয়া ছাড়াও বিয়ের আগে ‘ভাত ভরণ’ বা সন্তান জন্মের পরে তার মঙ্গলকামনায় ‘কুয়া পূজন’ ইত্যাদি হিন্দু রীতি রেওয়াজ এখনও চলে মেও মুসলমানদের মধ্যে।

অধ্যাপক মানভির কথায়, এই রীতি রেওয়াজগুলো মেওয়াটের হিন্দু আর মুসলমান, উভয় সম্প্রদায়তেই প্রাচীন কাল থেকে এখনও পর্যন্ত চলে আসছে। আবার অ্যাক্টিভিস্ট রামজান চৌধুরী বলছেন, তাদের সমাজে বহু মানুষেরই নাম হিন্দুদের মতোই।

আবার মেওয়াট অঞ্চলের একদিকে যেহেতু মথুরা বা ব্রজ, যেখানে হিন্দুদের বিশ্বাসমতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল, তাই মেওয়াটিদের ওপরে শ্রী কৃষ্ণেরও প্রভাব থেকে গেছে ঐতিহাসিকভাবেই।

“তবে স্বাধীনতার বেশ কিছু পর থেকে এই অঞ্চলে মুৃসলিম ধর্ম প্রচারকরা আসতে শুরু করেন, মেও মুসলমানদের তারা বোঝাতে থাকেন যে কোনটা সঠিক ইসলামী রীতি নীতি। তার আগে তো এখানকার মুসলমানরা নামাজও ঠিক মতো পড়তেন না। তার পর থেকেই কুর্তা-পাজামা পরা, টুপি পরা বা দাড়ি রাখার চল শুরু হয়। আমার দাদীকে তো দেখেছি একদম হিন্দু নারীদের মতোই পোষাক পরতেন,” বলছিলেন রামজান চৌধুরী।

“আবার এই মেওয়াটি মুসলমানরাই স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী গোরক্ষকদের হামলার শিকার হয়েছেন বড় সংখ্যায়, এটাও মনে রাখতে হবে,” বলছিলেন অধ্যাপক জাফরুল ইসলাম খান।

তার কথায়, “গোমাংস বহন বা গরু জবাই করার অভিযোগে ২০১৪ সালের পর থেকে যত মুসলমানকে গোরক্ষকদের হাতে নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে অনেকেই মেও মুসলমান। সর্বশেষ যে গণধোলাই দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা হয়েছে এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে, যেখানে নাসির আর জুনেইদ নামে রাজস্থানের মেওয়াট অঞ্চলের দুই মুসলমানকে পুড়িয়ে মারা অভিযোগ আছে যার বিরুদ্ধে, সেই মনু মানেসর আবার সাম্প্রতিক দাঙ্গা ছড়ানোর পিছনেও ছিল বলে অভিযোগ উঠছে।“

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (মাঝে, খালি গায়ে, কাঁদে চাদর নিয়ে) দেশভাগের পর মেও মুসলমানদের পাকিস্তান না গিয়ে ভারতে থেকে যেতে রাজী করিয়েছিলেন - ফাইল ছবি

১৯৪৭, গান্ধী এবং মেও মুসলমান

মেওয়াট অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত রাজস্থানের আলোয়ার এবং ভরতপুরে শাসন করতেন দুই রাজা আর বর্তমান হরিয়ানার অংশটিতে ব্রিটিশ শাসন কায়েম হয়।

ব্রিটিশদের এলাকায় যাওয়ার সময়ে মেওয়াটের অন্য অঞ্চলের বাসিন্দারা বলতেন, যে “ইংরেজিতে যাচ্ছি”। গবেষকরা বলছেন, কোনও সময়েই মেওয়াটি মুসলমানদের সঙ্গে শাসকদের বিরোধ ছিল না, তবে ১৯৩০-এর পর থেকে আলোয়ারের শাসনব্যবস্থায় নিজেদের সংখ্যাধিক্যের জেরে তারা আরও বেশি ক্ষমতায়ন চাইছিলেন।

ভারতের জাতীয় সংহতি পরিষদ বা ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য ও ইসলামিক পণ্ডিত নাভেদ হামিদ বলছিলেন, “মেওয়াটি মুসলমানদের সঙ্গে আলোয়ারের রাজার বিরোধ বাঁধে। তার পিছনে কিছুটা ইন্ধন জুগিয়েছিল মুসলিম লিগ।

"এর ফল হয়েছিল আলোয়ারের শেষ রাজা তেজ সিং প্রভাকরের সেনাবাহিনী অন্তত ৩০ হাজার মেওয়াটি মুসলমানকে হত্যা করে স্বাধীনতার ঠিক আগে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক মেওয়াটি মুসলমান পাকিস্তান চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। তখনই এ খবর পৌঁছয় মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর কানে। তিনি এসেওছিলেন মেওয়াটের মুসলমানদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ভারতেই থেকে যেতে রাজি করাতে", বলছিলেন মি. নাভেদ হামিদ।

মি. গান্ধীর সেই মেওয়াট যাত্রা নিয়ে গবেষক ও লেখক, বিবেক শুক্লা বিবিসিকে জানিয়েছেন, “দিল্লির বিড়লা হাউসে সেই সময়ে থাকতেন মি. গান্ধী। মেওয়াটি মুসলমানদের এক নেতা চৌধুরী ইয়াসিন খান মি. গান্ধীর প্রার্থনা সভায় হাজির হন ১৯৪৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। তিনিই মি. গান্ধীকে জানান যে হাজার হাজার মেওয়াটি মুসলমান পাকিস্তানে যেতে মুখিয়ে আছে। তখনই মি. গান্ধী সিদ্ধান্ত নেন যে নিজে মেওয়াট গিয়ে মুসলমানদের বোঝাবেন যাতে তারা পাকিস্তান না যান।“

কয়েক সপ্তাহ পরেই মেওয়াটের ঘাসেড়া গ্রামে গিয়েছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।

আলোয়ার আর ভরতপুরের কয়েক হাজার মুসলমান ঘাসেড়া গ্রামের আশ্রয় শিবিরে ছিলেন তখন।

বিবেক শুক্লার কথায়, “মি. গান্ধী ঘাসেড়া গ্রামে পৌঁছিয়ে কিছুটা আদেশের সুরেই বলেন যে তাদের পাকিস্তান যাওয়ার কোনও দরকার নেই। ভারত তাদের এবং তারা ভারতের। এটা শুনেই মুসলমানরা পাকিস্তান যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলিয়ে ফেলেন।“

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কজন মেওয়াটি মুসলমান

'এখানকার সংস্কৃতিটাই অন্যরকম'

ওই ঘাসেড়া গ্রামে ২০১৪ সালে গিয়েছিলেন বিবিসি সংবাদদাতা সলমান রভি। গ্রামটির সবথেকে বয়স্ক মানুষ সর্দার খান বিবিসি সংবাদদাতাকে তখন বলেছিলেন, “আমার বয়স তখন দশ বছর। কিন্তু তার প্রত্যেকটা কথা আমার মনে আছে। তার (মি. গান্ধির) আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা এখানেই থেকে গিয়েছিলাম।“

মি. খান বিবিসিকে আরও বলেছিলেন, “এমনিতেই মেওয়াটের মুসলমানরা দেশভাগের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু তখন দাঙ্গা হচ্ছে, পরিস্থিতি খারাপ। চারদিকে আতঙ্কের পরিবেশ। কিন্তু আমাদের বাপ-দাদারা এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।“

মেওয়াটি মুসলমান রামজান চৌধুরী বলছিলেন, “এখানকার সংস্কৃতিটাই অন্যরকম। হিন্দুদের যে যাত্রা থেকে দাঙ্গা শুরু, সেই যাত্রীদের জন্য এখানকার মুসলমানদের বাড়িঘরে অবারিত দ্বার। এমনকি আমার নিজের বাড়িতেও বহু হিন্দু তীর্থযাত্রী গত দশদিন ধরে থাকছেন, খাচ্ছেন, আমরা তাদের জল খাওয়ানোর জন্য তাঁবু খাটাই। আবার কিছুদিন আগে একটা জলসা হয়েছিল, মেলা বসেছিল। সেখানে বহু হিন্দু এসেছিলেন।“

“যে দাঙ্গাটা হয়েছে, সেটা হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে বললে ভুল হবে। হিন্দু সমাজের কিছু গুণ্ডা আর মুসলমান সমাজের কিছু গুণ্ডার মধ্যে সংঘর্ষটা হয়েছে,” বলছিলেন মি. চৌধুরী।





আধুনিক তুরস্কের জনক মুস্তাফা কামাল -এর কামালিজম বা কামালবাদ ও তার ছয়টি ভিত্তি

ছবির উৎস,

“বন্ধুগণ, আগামীকাল আমরা প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করবো!” ১৯২৩ সালের ২৯শে অক্টোবরের আগের দিন নীতি নির্ধারকদের সাথে এক নৈশভোজে এমনটা বলেছিলেন মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক।

পরের দিন পার্লামেন্টে এক ভোটের মাধ্যমে তুরস্ক নতুন ধরনের সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

“প্রজাতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক!” “মুস্তাফা কামাল পাশা দীর্ঘজীবী হোন!” আইন প্রণেতারা এমন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

তুরস্ক প্রজাতন্ত্র ঘোষণার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিয়েছিল এবং ধীরে ধীরে একটি নতুন বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি করেছিলে। তবে এই ঘোষণার শত বছর পর আতাতুর্কের সেই লিগ্যাসি বা আদর্শ এখন হুমকির মুখে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আধুনিক তুরস্কের জনক হিসেবে পরিচিত আতাতুর্ককে অনেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উসমানীয় সাম্রাজ্য বা তুর্কী সাম্রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মূলহোতা হিসেবেও মনে করে থাকেন।

তবে তাকে নিয়ে পরস্পর বিরোধী মত থাকলেও, আতাতুর্ক যে বিংশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই।

তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি ১৫ বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর দেশটির নতুন ভূমিকা কী হবে তা সুনির্দিষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৮ সালেই উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভাঙ্গন শুরু হয়।

১৮৮১ সালে থেসালোনিকি নামে একটি গ্রিক শহরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা কামাল। এই শহরটি সাবেক উসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। এই সাম্রাজ্য কোন দিকে মোড় নিচ্ছে সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন একটি প্রজন্মের একজন সদস্য ছিলেন মুস্তাফা কামাল।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তখনো তিনি অবশ্য আতাতুর্ক উপাধি পাননি। ১৯৩৪ সালে তুরস্কের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে আতার্তুক উপাধি দেয়, যার অর্থ 'তুর্কি জাতির জনক'।

ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ এই সাম্রাজ্যটির ভৌগলিক সীমা তখন কমে আসছিল। জাতীয়তাবাদী এবং অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব রিচমন্ডের ইতিহাসের অধ্যাপক ও তুরস্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইউসেল ইয়ানিকদাগ বিবিসি মুন্ডোকে বলেন, “সেসময় সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য মনে করতো, উসমানীয় সাম্রাজ্যকে পতনের হাত থেকে বাঁচানোর একমাত্র পথ হচ্ছে একে পশ্চিমা ধারায় আধুনিকীকরণ করা।”

সেনাদের এই দলটি ধর্মনিরপেক্ষতাকে সমর্থন করতো।

তিনি বলেন, “তার মানে এই নয় যে, তারা ধর্ম কিংবা ইসলামকে পছন্দ করতো না। বরং তারা মনে করতো, ধর্ম আসলে কোন না কোন ভাবে সামাজিক উন্নয়নের গতিকে ধীর করে দিচ্ছে।”

এ কারণে মুস্তাফা কামাল আতার্তুক তার নিজের দেশের আধুনিকীকরণে কিছু সংস্কার আনেন যা তুরস্ককে চিরতরে বদলে দেয়।

এই সংস্কারগুলোর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মাধ্যমে তুর্কীদের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগ করতে দেয়ার সুযোগ তৈরি করা। তার নেতৃত্বাধীন প্রজাতন্ত্র আন্দোলনের রেশ ধরে তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ১৯২৩ সালের ২৯শে অক্টোবর তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের জন্ম ঘোষণা করা হয়।

Skip আরো পড়ুন: and continue reading

আরো পড়ুন:

End of আরো পড়ুন:

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

তুরস্কে আতাতুর্ক একজন সম্মানিত ব্যক্তি

কামালিজম বা কামালবাদ ও তার ছয়টি ভিত্তি

নতুন দেশের মৌলিক বৈশিষ্ট ছয়টি মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। কামাল আতাতুর্ক যেহেতু এই ধারণাগুলো প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাই একে কামালবাদ বা আতাতুর্কবাদও বলা হয়। এই ছয়টি ধারণা হচ্ছে প্রজাতন্ত্র, জনতুষ্টি, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং সংস্কারবাদ।

অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, তার লিগ্যাসির বা আদর্শের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ করা।

ইয়ানিকদাগ বলেন, “উসমানীয় সাম্রাজ্য ছিল বহু-জাতি, বহু-ধর্মের মিলিত একটি সাম্রাজ্য। আর তিনি জানতেন এটিই এই সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল।”

আতাতুর্কের উদ্দেশ্য ছিল এই সব জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে একটি মাত্র চেতনার অন্তর্ভুক্ত করে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের অধীনে নিয়ে আসা। এই চেতনা ছিল: পুরো তুরস্কে একটি মাত্র জাতিগোষ্ঠী থাকবে, আর সেটি হচ্ছে ‘তুর্কি জাতীয়তাবাদ’।

এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সংস্কার। এছাড়া গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ, ১৯২৬ সালের সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে উসমানীয় খিলাফত বিলুপ্ত করা, সংস্কারকৃত ল্যাটিন বর্ণমালার মাধ্যমে আরবি বর্ণমালা প্রতিস্থাপন এবং ১৯২৮ সালে আইন করে তুর্কি বর্ণমালা চালুর জন্য আতাতুর্কের কাছে তুরস্ক ঋণী।

একইভাবে, ‘আধুনিক তুর্কির প্রতিষ্ঠাতা’ ১৯২৬ সালে নতুন একটি আইন পাস করেন যার মাধ্যমে দেশটিতে ভোটাধিকার ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৪ সালে তার শাসনামলেই নারীরা ভোটাধিকার পায়। আর্জেন্টিনা, কলম্বো, মেক্সিকো বা ভেনেজুয়েলার আগে তুরস্কে এই অধিকার পায় নারীরা।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

কামালের আদর্শের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ করা।

তুরস্কে সম্মানিত

মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক আঙ্কারাকে তুরস্কের নতুন রাজধানী ঘোষণা করেন। এর আগে আঙ্কারা কয়েক হাজার বাসিন্দার ছোট একটি শহর ছিল। দেশের রাজধানীকে ভৌগলিকভাবে কেন্দ্রীয় অবস্থানে আনতে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আঙ্কারার আগে তুরস্কের রাজধানী ছিল ইস্তানবুল।

তার এই কাজের জন্য নিজের দেশে একজন সম্মানিত ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

তুরস্কের লেখক নেদিম গুরসেল বিবিসি মুন্ডোকে বলেন, “আমার মনে আছে, আমি যখন প্রাথমিক স্কুলে পড়াশুনা করতাম তখন আতাতুর্কের কীর্তি নিয়ে আমি কবিতা লিখতে শুরু করি।”

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

তুরস্কে তিনি একজন কর্তৃত্ববাদী শাসক হলেও তার পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে।

“তুরস্কে নিঃসন্দেহে তার ব্যক্তিত্বের বেশ বড় সমর্থন রয়েছে। কামালিস্ট লিগ্যাসি বা তার আদর্শ শুধু তুরস্কের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার মনে হয়, বর্তমান সময়ে এসে আমাদের তার সমালোচনাও করা উচিত,” বলেন তিনি।

“দ্য নভেল অব দ্য কনকারার” নামে একটি বই লিখেছেন তিনি যেখানে তুর্কিদের কাছে কিভাবে কনস্টান্টিনোপলের (বর্তমান ইস্তানবুল) পতন হয়েছিল সেই গল্প বলা হয়েছে।

কামাল আতাতুর্ক এবং তার সঙ্গীরা মনে করতেন যে, তুরস্ককে পাল্টে দিতে যেসব সংস্কার করা দরকার সেগুলো কার্যকর করতে হলে কর্তৃত্ববাদই সবচেয়ে ভাল উপায়।

“খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি একজন কর্তৃত্ববাদী শাসকে পরিণত হন এবং তিনি মূলত গণতন্ত্রের নাম-নিশানা মুছে দিয়েছিলেন। ১৯৩২ সালের দিকে তিনি গণতন্ত্রের কিছু উপাদান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সব মিলিয়ে তিনি একজন কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন,” বলেন আলি ইয়াইসিউগলু।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির উসমানীয় সাম্রাজ্য এবং আধুনিক তুরস্ক বিষয়ক ইতিহাসবিদ।

বিতর্কিত চরিত্র

তুরস্কের সীমানার বাইরে ইউরেশিয়ার এই দেশটিকে বদলে দেয়া ব্যক্তি সম্পর্কে আলাদা আলাদা মতামত রয়েছে।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কের এই প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে আর্মেনিয়ায় মতভেদ রয়েছে।

মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক গ্রেকো-টার্কিশ বা গ্রিস-তুরস্ক যুদ্ধে তুর্কি সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই যুদ্ধটি ১৯১৯ সাল থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দুর্বল সেনা নিয়েও তিনি এই যুদ্ধে জয় লাভ করেছিলেন।

ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থল বা তথাকথিত এশিয়া মাইনরের এই যুদ্ধে দু'পক্ষই নৃশংসতা চালিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষকে বিতাড়িত করে।

আতাতুর্ক আনাতোলিয়া (বর্তমান তুরস্ক) থেকে গ্রিক সেনা এবং জাতিগত গ্রিক বাসিন্দাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেন। পরে অবশ্য এই বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয় এবং এর নাম দেয়া হয় “গ্রিস ও তুরস্কের মাঝে জনসংখ্যা বিনিময় করা”। এ কাজটি করা হয়েছিল মূলত ভূ-রাজনৈতিক কারণে।

১৯২৩ সালের লসান চুক্তির আওতায় এই জনসংখ্যা বিনিময়ের অংশ হিসেবে ১৫ লাখ গ্রিক অর্থোডক্স খ্রিস্টানকে তুরস্ক থেকে গ্রিসে বিতাড়িত করা হয়। এদের অনেকে কখনোই তুরস্কের বাইরে বসবাস করেননি। এছাড়া মুসলিম কিছু জনসংখ্যাকেও তুরস্ক থেকে গ্রিসে বিতাড়িত করা হয়েছিল।

মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক আর্মেনিয়াতেও মতভেদের জন্ম দিয়েছিলেন। দেশটি ১৯২২ সাল পর্যন্ত একটি পরাধীন দেশ ছিল।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

২০১৮ সালে আর্মেনিয়া গণহত্যার ১০৩ বছর উপলক্ষ্যে নিহতদের স্মরণ করা হয়।

আর্মেনিয়ার জনগণ দাবি করেছিল যে, তাদের ভূখণ্ডের কিছু অংশ তুরস্কের দখলে ছিল এবং অন্যান্য কিছু এলাকা সোভিয়েত রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

“আমার মনে হয় না আর্মেনীয়রা আতাতুর্ককেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী করে। কিন্তু তিনি যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আর্মেনিয়ার গণহত্যার সময়ও নৃশংসতা অব্যাহত রেখেছিল,” বিবিসি মুন্ডোকে বলেন ইয়াইসিউগলু।

“এর কারণ হচ্ছে অনেক মানুষ বিশ্বাস করে যে, এর মাধ্যমে তুর্কীরা লাভবান হয়েছিল। সেসময় লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ১০ লাখের বেশি মানুষকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। কারণ আতাতুর্কের ঘনিষ্ঠ অনেক কর্মকর্তা ছিল “যারা গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল এবং যুদ্ধে আর্মেনীয়দের বিপক্ষে লড়াই করেছে,” বলেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওই ইতিহাসবিদ।

কুর্দি প্রশ্ন

তুরস্কের মধ্যেও একটি জাতিগত গোষ্ঠী রয়েছে যারা মনে করে কামালের প্রতিষ্ঠিত আদর্শের কারণে তারা নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। তারা হচ্ছেন কুর্দি জনগোষ্ঠী।

উসমানীয় সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যাওয়ার পর, তুরস্কে কুর্দি জনগোষ্ঠীর গতিধারা বদলে দেয়া হয়।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

২০১৫ সালে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মনিরপেক্ষ জাতি গঠনে কামালের প্রতিষ্ঠিত নতুন আদর্শের আওতায় পুরনো সাম্রাজ্যের অনেক মানুষ আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন। তার আদর্শ ছিল এক ভাষা, এক জাতিগত বিশ্বাস এবং এক সাংস্কৃতিক মতাদর্শে তুরস্ক প্রতিষ্ঠা করা।

রিচমন্ড ইউনিভার্সিটির ইউসেল ইয়ানিকদাগ বলেন, কুর্দিদের স্বকীয়তা অস্বীকার করা হচ্ছিল কারণ কামাল চেয়েছিলেন, তুরস্কে বসবাস করা সবাই মেনে নিবে যে তারা এখন ‘তুর্কী’।

ফলে ১৯৩৬ এবং ১৯৩৯ সালে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেরসিম এলাকা যা বর্তমানে তুনসেলি নামে পরিচিত সেখানকার বাসিন্দারা নতুন প্রতিষ্ঠিত তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর ফলে তুর্কী সামরিক বাহিনীর হাতে প্রাণ হারায় কুর্দি জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৩ হাজার মানুষ।

এই ঘটনা কুর্দি বিদ্রোহের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তারা এখনো তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে চলেছে।

সেসময় দেশের জাতীয়তাবাদীদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল। কারণ আতাতুর্ক তখনও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন এবং তার দত্তক নেয়া কন্যা সাবিহা গোকেন যিনি দেশটির প্রথম নারী পাইলট ছিলেন, তিনিও এই আক্রমণে অংশ নিয়েছিলেন।

“ধর্মনিরপেক্ষতা কারো কারো জন্য স্বস্তিকর হলেও অনেকের জন্য এটা ছিল কুর্দি, আর্মেনীয়, গ্রিক, চেচেন, আরব, সার্কাসিয়ানদের পরিচয়কে অস্বীকার করা,” বলেন ইয়ানিকদাগ।

আদর্শ হুমকিতে?

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আতাতুর্কের লিগ্যাসি বা আদর্শ এবং তিনি তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের আওতায় যা গড়ে তুলেছিলেন- তা এখন হুমকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতা।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এরদোয়ানের পদক্ষেপ তুরস্কের ধর্ম নিরপেক্ষতাকে হুমকিতে ফেলেছে

২০২০ সালের জুলাইয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান তুরস্কের সবচেয়ে আইকনিক স্থাপনা হাগিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার ঘোষণা দেন।

হাগিয়া সোফিয়া প্রথমে একটি ব্যাসিলিকা বা খ্রিস্টানদের গির্জা ছিল পরে যেটিকে ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদের আদেশে মসজিদে পরিণত করা হয়।

কিন্তু পরে আতাতুর্ক ১৯৩৫ সালে দেশটিকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে হাগিয়া সোফিয়াকে একটি যাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এই স্থাপনাটিকে মুসলিম বা খ্রিস্টানদের প্রার্থনা স্থল হিসেবে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেন তিনি।

এ কারণেই তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট কয়েক দশক পর সোফিয়ায় নামাজের অনুমতি দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

“আতাতুর্ককে সরাসরি আঘাত যাতে করতে না হয় সে বিষয় বরাবরই সতর্ক থাকতেন এরদোয়ান। কারণ তুরস্কে আতাতুর্কের সমর্থকরা তাকেও সমর্থন দিয়ে এসেছে। কিন্তু একই সাথে গত কয়েক বছর ধরে তিনি আতাতুর্কের প্রতিষ্ঠিত নীতি এবং আদর্শকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন,” বলেন ইতিহাসবিদ আলি ইয়াইসিউগলু।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

আতাতুর্ক হাগিয়া সোফিয়াকে ১৯৩৫ সালে যাদুঘরে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে এটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তার মতে, হাগিয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত সেটারই “উল্লেখযোগ্য এবং স্পষ্ট” ইঙ্গিত।

প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর, যেসব গির্জাকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সময় মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছিল সেগুলোকে যাদুঘরে পরিণত করা হয়। ইস্তানবুলের বিখ্যাত হাগিয়া সোফিয়া ছাড়াও একই শহরের সেইন্ট সেভিয়র অব হরা নামে আরেকটি গির্জা এবং ট্রাবজোন এলাকার আরেকটি হাগিয়া সোফিয়াকেও যাদুঘরে পরিণত করা হয়।

“গত ১০ বছর ধরে এরদোয়ানের সরকার ধীরে ধীরে এই স্থাপনাগুলোকে আবার মসজিদে রূপান্তর করতে শুরু করেছে,” বলেন ইয়াইসিগলু।

“তাদের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও নাগরিক জীবনে আবারো ইসলামকে এমন ভাবে সূচনা করার প্রতি ইঙ্গিত করে যা অবশ্যই মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের আদর্শের পরিপন্থী।”

অনেক বিশেষজ্ঞের মতো ইয়াইসিগলুও মনে করেন, এরদোয়ানের পদক্ষেপ বড় কোন নীতির অংশ যাতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ছাপ রয়েছে। একই সাথে এটি সেই সাম্রাজ্য ছোট আকারে প্রতিষ্ঠার একটি প্রয়াস যেখানে ইসলাম একটি বড় ভূমিকায় ছিল। আতাতুর্ক তার নিজের দেশকে যেমন করে গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এটা অবশ্যই তার পরিপন্থী।






বাংলা ভাষায় এত ফারসি শব্দ কীভাবে এলো?

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

BBC/Mohammad Zahid Hassan Sufi

ছবির ক্যাপশান,

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় ফারসি শব্দের আধিক্য লক্ষণীয়

Article Information


নানা সময়ে বিভিন্ন ভাষার শব্দ বাংলা ভাষায় যুক্ত হওয়ায় একে যে ‘মিশ্র ভাষা’ বলা হয়, সে কথা পাঠ্যবইয়ের বদৌলতে কমবেশি সবারই জানা। তবে এই বিদেশি শব্দগুলোর মধ্যে যে ভাষার শব্দ অনেক বেশি বাংলায় প্রবেশ করেছে, তা হলো ‘ফারসি’।

ভাষাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন বাংলা মুসলিম শাসনের অধীনে থাকায় এবং একইসঙ্গে দাপ্তরিক ও সাহিত্যকর্মে ফারসি শব্দ গ্রহণ করায় ভাষাটি থেকে বিপুল পরিমাণ শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে।

‘বাংলায় সবচেয়ে বেশি বিদেশি শব্দ ফারসির’

ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ বইতে প্রথমবারের মতো দাবি করেন যে বাংলায় সবচেয়ে বেশি আছে ফারসি ভাষার শব্দ। ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

বইটির ‘বৈদেশিক প্রভাব’ পরিচ্ছদে তিনি লিখেছেন, “সম্রাট আকবরের কালে বাঙ্গালা দেশ মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। এই সময়ে রাজসরকারের ভাষা ফারসী ছিল। এই ফারসী প্রভাব লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমল পর্যন্ত ছিল... এই দীর্ঘ ৬০০ শত বৎসরের মুসলমান প্রভাবের ফলে বাঙ্গালা ভাষায় দুই সহস্রের অধিক ফারসী শব্দ এবং ফারসীর মাধ্যমে আরবী এবং কিছু তুর্কী শব্দ প্রবিষ্ট হইয়াছে”।

অর্থাৎ, দুই হাজারেরও বেশি ফারসি শব্দ বাংলা ভাষায় আত্মীকরণ হয়েছে বলে মত ছিল এই ভাষাবিদের।

তবে ড. শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষায় যে পরিমাণ ফারসি শব্দ আছে বলে ধারণা করেছেন, সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বলে মত ছিল আরেক ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের।

সবশেষ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত, ‘বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি ফারসি উর্দু শব্দের অভিধান’ গ্রন্থে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফারসি শব্দ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ছবির ক্যাপশান,

বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত বইয়ের প্রচ্ছদ

Skip আরও পড়তে পারেন: and continue reading

আরও পড়তে পারেন:

End of আরও পড়তে পারেন:

বাংলায় ফারসির প্রচলন যেভাবে

ভাষাবিদদের মতে, বাংলা ভাষায় ফারসির প্রচলন হয়েছে মূলত মুসলমান শাসকদের হাত ধরে।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

তেরো শতকের শুরুর দিকে তুর্কি বংশোদ্ভূত শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজি পশ্চিমবঙ্গ দখলে নেয়। মূলত সেখান থেকেই বাংলায় মুসলিম শাসনের শুরু।

তবে পুরো বাংলা মুসলিম শাসকদের অধীনে যেতে আরও ১০০’শ বছর সময় লেগেছিল।

তারপর থেকে ধাপে ধাপে সুলতানি ও মোগল শাসকদের মধ্যে যারাই বাংলার শাসন ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের প্রায় সবাই ছিলেন ইরান ও আফগানিস্তান বংশোদ্ভূত, বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ও সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ।

তবে ফারসি অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে মধ্যযুগে, মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে।

ভাষাবিদ ড. শহীদুল্লাহর মতে, সম্রাট আকবরের সময়ই বাংলা মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। আর সে সময় রাজভাষা ছিল ফারসি, যা দীর্ঘ ছয়শো বছর একই অবস্থানে থেকে আধিপত্য করেছে।

ছবির উৎস,

Dhaka University Website

ছবির ক্যাপশান,

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ

ফারসি প্রভাবের কারণ

ভাষাবিদদের মতে, মূলত দুইভাবে ফারসি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রথমত দাপ্তরিক কাজে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষাটির ব্যবহার এবং দ্বিতীয়ত সাহিত্য কর্মে ফারসি শব্দের ব্যাপক উপস্থিতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুরের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশে মধ্যযুগের প্রায় ৬০০ বছর ধরে মুসলিম শাসনের বড় একটা প্রভাব রয়ে গেছে এই ভাষার মধ্যে।

“পৃথিবীর অনেক ভাষার ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেগুলো অন্য ভাষার প্রভাবের কারণে বিলুপ্ত হয়েছে বা সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক বা ব্রিটিশ শাসনামলে এবং তার আগের ৬০০ বছরের মুসলিম শাসনের পরও বাংলা ভাষা বিভিন্ন শব্দ নিজের মতো করে গ্রহণ করেছে”, বলেন তিনি।

তবে মুসলিম শাসনের দীর্ঘ সময়েও যে এই ভাষা রাজভাষা থেকে সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষায় প্রবেশ করেছে, তেমনটা মনে করেন না ড. মনজুর। বরং বাংলায় ফারসির শব্দের ব্যবহার অনেক বেশি ‘মনস্তাত্ত্বিক’ বলেই মত এই গবেষকের।

ছবির ক্যাপশান,

বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত কিছু ফারসি শব্দ

তবে অনেকের মতেই, বাংলায় ফারসির প্রবেশ ঘটেছে মুসলিম শাসনেরও আগে। অষ্টম-নবম শতকে বাণিজ্য এবং ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আসা মানুষের মাধ্যমেই বাংলার মানুষের প্রথম ফারসির সঙ্গে পরিচয় হয়।

ফারসির সঙ্গে বাংলা ভাষার সাহিত্যিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক অন্তত আটশো বছরের বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. রাফাত আলম মিশু।

তার মতে, বাংলা ফারসি প্রভাবের “মূল কারণ শাসনতান্ত্রিক এবং খানিকটা সাহিত্যিক”।

সুলতানি শাসন ও তারপর মোগল শাসনের আওতাভুক্ত সুবেদার এবং যে নবাবরা বাংলায় কাজ করেছেন তারা ধর্মীয় বিবেচনায় মুসলমান হলেও তাদের ব্যবহৃত শব্দগুলো কেবল ধর্ম সম্পর্কিত ছিল না।

“ব্যবসা বাণিজ্য, আইন-আদালত, দাপ্তরিক প্রয়োজনে, মোট কথা শাসন কাঠামোর অংশ হিসেবে এই ফারসি শব্দগুলো এসেছে”, বলেন তিনি।

তারই ধারাবাহিকতায় দৈনন্দিন জীবনের অনেক শব্দ ফারসি থেকে এসেছে বলে মনে করেন এই গবেষক।

ছবির উৎস,

Tariq Manzoor

ছবির ক্যাপশান,

অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর

কবে থেকে বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দের আধিপত্য শুরু?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

সুলতানি ও মোগল শাসনামলে বাংলা যখন দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো তখন অনুশাসন পাঠানো হতো ফারসিতে। ফলে সেসময় থেকেই এখানে সরকারি কাজে ফারসির প্রচলন শুরু হয়।

“এই ভারতবর্ষে মোগল আমল থেকে ইংরেজ আমল পর্যন্ত রাষ্ট্রভাষা ছিল ফারসি। সেখানে যারা চাকরি করতো, তাদের ফারসি শিখতে হতো”, বলেন ড. সামাদ।

ফলে একদিকে রাজভাষা হবার কারণে অন্যদিকে শিক্ষিত ব্যক্তিদের সাহিত্য আগ্রহের কারণে ফারসির চর্চা করতে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে ড. মনজুরের মতে, বাংলা অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ফারসি কখনোই প্রধান ভাষা ছিল না।

তাহলে প্রতিদিনের কথ্য ভাষায় এতো বেশি ফারসির প্রবেশ ঘটলো কী করে?

কথ্য ভাষায় ফারসি শব্দের ব্যবহারকে অনেক বেশি মনস্তাত্ত্বিক বলে মনে করেন ড. মনজুর।

তার মতে, বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দ বেশি ঢুকেছে মধ্যযুগের শেষদিকে, অর্থাৎ ১৭শ থেকে ১৮শ সালের দিকে।

সেসময় পলাশীর যুদ্ধ এবং সিপাহী বিদ্রোহে হেরে যাবার পর রাজনীতিতে ক্ষমতা হারায় মুসলমানরা।

“মুসলমান প্রধান এই অঞ্চলের মানুষ চেয়েছে তার ভাষা দিয়ে স্বকীয়তা, জাতিবোধ ও স্বাজত্যবোধ প্রকাশ করার জন্য। ফলে তারা ভাষার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আরবি ফারসি প্রয়োগ করেছে”, বলেন ড. মনজুর।

তবে সে সময়ের সাহিত্যে ফারসি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিক প্রবণতার চেয়ে বেশি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার সবটা স্থায়ী হয়নি।

এরমধ্যে যেটুকু ভাষার সাথে মিলে যায় সেটাই রয়ে গেছে বলে মনে করেন এই গবেষক।

ছবির উৎস,

Rafat Alam Mishu

ছবির ক্যাপশান,

ড. রাফাত আলম মিশু

সাহিত্যে ফারসি শব্দ

মধ্যযুগের শেষ অংশে অর্থাৎ ১৮ শতকের আগে পরে প্রচুর পরিমাণে পুঁথি সাহিত্য রচিত হয়েছে।

এতে মুসলিমদের গৌরবগাঁথা বর্ণনা করা হয়েছে, আর সেই বর্ণনায় ব্যবহার করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফারসি, আরবি, উর্দুর মতো শব্দ।

মূলত মুসলমানরা ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভাষা দিয়ে যে নিজেদের ক্ষমতা প্রকাশ করতে চেয়েছে সাহিত্যকর্মের মধ্যেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

কারণ এর আগে চর্যাপদ বা শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মতো মধ্যযুগের সাহিত্যে ফরাসি শব্দের প্রয়োগ প্রায় ছিলই না।

ফলে রাজভাষা হবার পরও যে তা জনসাধারণ খুব বেশি গ্রহণ করেছিল, তা বলা যায় না।

“রাজভাষা হিসেবে ফারসির গ্রহণযোগ্যতা তখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে- মধ্যযুগের শেষের ২০০ বছর ছাড়া- বিদেশি শব্দের হার খুবই সামান্য বা নেই বললেই চলে”, বলেন ড. মনজুর।

অন্যদিকে মধ্যযুগের শেষ দিকে এসে এই দৃশ্য অনেকটাই বদলে যায়।

ছবির ক্যাপশান,

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি ফারসি উর্দু শব্দের অভিধানের প্রচ্ছদ

“লাইলী-মজনু, এমনকি আরবি প্রভাবিত চতুর্দশ শতকে শাহ কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের রচিত সাহিত্য- ইউসুফ জুলেখাও হয়ে ওঠে ফারসি প্রভাবিত”, বলেন ড. মিশু।

আধুনিক সাহিত্যকদের মধ্যে কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার লেখায় প্রচুর ফারসি শব্দের ব্যবহার করেছেন।

তবে বাংলা ভাষায় বর্তমানে প্রচলিত বিদেশি শব্দগুলোকে আর ওই ভাষার শব্দ নেই বলেই মত ভাষাবিদদের।

কেননা ভাষার স্বাভাবিক নিয়মে যখন কোন একটি ভাষার মধ্যে অন্য ভাষার শব্দ ঢুকে, তখন শব্দটি ওই ভাষারই হয়ে যায়।

ফলে জরিমানা, কাগজ, গোলাপের মতো বহুল ব্যবহৃত ফারসি শব্দগুলো এখন বাংলা শব্দ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

কেবল এগুলোর ব্যুৎপত্তি খুঁজতে গেলে বিভিন্ন উৎস পাওয়া যাবে।

বর্তমানে এগুলো বাংলা ভাষারই সম্পদ। আর এগুলো বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করছে বলেই মত ভাষাবিবদের।

রাজভাষা ইংরেজি

ইংরেজদের আমলেও ফারসি রাজভাষা ছিল বলে জানান ড. সামাদ।

ইংরেজরা শাসন গ্রহণের পর প্রায় ১০০ বছর বাংলায় এটিই ছিল রাজভাষা।

খাজনা আদায় কিংবা সরকারি দপ্তরের কাজে তখনও ফারসিরই প্রচলন ছিল। কিন্তু সেই দৃশ্যপট বদলে যায় ১৮৩৬ সালে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ বইতে বলা হয়েছে, ১৮৩৬ সালে ফারসির পরিবর্তে ইংরেজিকে প্রধান এবং বাংলাকে দ্বিতীয় রাজভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপরই বাংলায় ফারসির প্রভাব কমতে থাকে।

মূলত অফিস-আদালত থেকে শুরু করে স্কুলে পর্যন্ত সব জায়গায় ইংরেজি চালুর ফলে একদিকে ফারসির চর্চা যেমন কমে আসে, একইসঙ্গে শুরু হয় ইংরেজির আধিপত্য।

Skip content and continue reading

End of content

বদলেছে বাস্তবতা

তবে একালে এসে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি বিদেশি শব্দের দখল হারিয়েছে ফারসি। বর্তমানে বিদেশি শব্দের মধ্যে ইংরেজি ভাষার শব্দই সবচেয়ে বেশি আছে বলে মনে করেন ভাষাবিদরা।

তবে এই পরিবর্তন কেবল বাংলার ক্ষেত্রেই হয়নি।

চীন, জাপানের মতো যে ভাষাগুলো বিদেশি শব্দ গ্রহণে বরাবরই অনীহা দেখিয়েছে, সেগুলোতেও ইংরেজি শব্দ বেশ ভালো মাত্রায় ঢুকে পড়েছে।

বিশেষ করে শিল্প বিপ্লবের পর যে অঞ্চলেই ব্রিটিশ শাসন ছড়িয়েছে তথা ইংরেজরা উপনিবেশ তৈরি করেছে সেখানেই ইংরেজির ভাষার বিস্তারের জন্য তারা নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে যে ইংরেজির আধিপত্য দেখা যাচ্ছে, তার রেশ বাংলাতেও পড়েছে বলে মনে করছেন ভাষাবিদরা।






মিশরের পিরামিড কেন তৈরি করা হয়েছিল?

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

Article Information


পৃথিবীর সপ্তমাশ্চর্যের কথা ভাবলে প্রথমেই আসে মিশরের পিরামিডের নাম।

প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে নির্মাণ করা এই বিস্ময়কর স্থাপনার কাঠামো এবং নির্মাণশৈলীর রহস্য নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই।

ভিনগ্রহ থেকে আসা কোনও এলিয়েন স্থাপনাগুলো বানিয়েছিল কিংবা শস্য সংরক্ষণের জন্য ফারাওরা এগুলো তৈরি করেছিল, এমন নানা ধারণা প্রচলিত আছে পিরামিডকে ঘিরে।

আসলেই কেন তৈরি করা হয়েছিল পিরামিড- তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

আর তাতে সাহায্য করেছে সাহারার শুষ্ক জলবায়ুতে সুরক্ষিত প্রাচীনকালের মিশরীয়দের লেখা, নির্মাণের মতো নানা প্রমাণ।

Skip আরও পড়তে পারেন: and continue reading

আরও পড়তে পারেন:

End of আরও পড়তে পারেন:

পিরামিড কী?

পিরামিড মূলত সমাধিক্ষেত্র। প্রাচীন মিশরের শাসনকর্তা ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের সমাহিত করা হতো এই বিশাল সমাধিক্ষেত্রে।

প্রায় কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার শ্রমিকদের দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রশ্ন আসে ফারাওরা কেন এই স্থাপনা নির্মাণে এত সময় ও অর্থ ব্যয় করেছিল?

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

মূলত প্রাচীন মিশরীয় সমাজে পরকালের ধারণা প্রচলিত ছিল। সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই এই বিরাট আকারের সমাধিক্ষেত্র নির্মাণ করা হয়।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো যতদিন ফারাওদের দেহ রক্ষা করা যাবে ততদিন তারা স্বর্গে বাস করবে।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে প্রকাশিত এক প্রবন্ধের তথ্যমতে, মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো যতদিন ফারাওদের দেহ রক্ষা করা যাবে ততদিন তারা স্বর্গে বাস করবে।

তবে তার জন্য পৃথিবী থেকে পরকালের যাবার সময় ‘আত্মা’র নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। এই আত্মাকে তারা ডাকতো ‘কা’ বলে।

এই ‘কা’ বেঁচে থাকার জন্য প্রসাদ আকারে খাবার, বিশ্রামের জন্য বিছানাসহ কিছু ব্যবস্থার দরকার ছিল বলে তারা মনে করতো। আর সে কারণেই প্রয়োজন পড়ে পিরামিডের।

প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো, পিরামিডের ভেতরে ফারাওদের ‘কা’ বেঁচে থাকতো।

আর তাই ফারাওদের শরীর মমীকরণ করা হতো। তারা এটাও বিশ্বাস করতো যে পরপারের যাত্রার জন্য জাগতিক সব ধরনের জিনিসই প্রয়োজন হবে ‘কা’র।

তাই ফারাওদের মৃতদেহের সঙ্গে প্রয়োজন মতো ধন-সম্পদ দিয়ে দেয়া হতো।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মিশরবিদ পিটার ডার ম্যানুয়েলিয়ান বলেন, “অনেকেই আধুনিক অর্থে জায়গাটিকে কেবল একটি সমাধিক্ষেত্র হিসেবে মনে করেন, কিন্তু এটি তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।”

“এই সুসজ্জিত সমাধিগুলোতে প্রাচীন মিশরীয় জীবনের প্রতিটি দিকের বিস্ময়কর উপস্থাপন রয়েছে- তাই এটি কেবল মিশরীয়রা কীভাবে মারা গিয়েছিল তা-ই নয় বরং তারা কীভাবে বেঁচে ছিল সেটাও বলে।”

পিরামিড নির্মাণের শুরু

পিরামিড নির্মাণের আগে মিশরীয়দের কবর দেয়ার পদ্ধতি ভিন্ন ছিল। তখন সমাধি দেয়া হতো চারকোনা ছোট আকৃতির ঘরে, যার নাম ছিল ‘মাস্তাবা’।

জাদুঘর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মিথসোনিয়ান ইন্সটিটিউশনের ওয়েবসাইটে প্রাচীন মিশর নিয়ে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে এর উল্লেখ রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৮০ অব্দের দিকে ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া আকৃতির পিরামিড নির্মাণের জন্য একটির ওপর আরেকটি– এভাবে ছয়টি ধাপে প্রথম পিরামিড নির্মাণ করা হয়েছিল।

জোসের নামের একজন ফারাওয়ের জন্য নির্মাণ করা এই পিরামিডের কোনাগুলো মসৃণ না হলেও এটাকেই প্রথম সত্যিকারের পিরামিড হিসেবে ধরা হয়।

প্রচলিত আছে, এই সমাধির নকশাকারের নাম ছিল ইমহোতেপ। তাকেই পিরামিডের প্রথম নকশাকার হিসেবে ধরা হয়।

প্রথম পিরামিড নির্মাণের পর পরবর্তী ফারাওরা আরও ভালো এবং বড় আকারের পিরামিড নির্মাণ শুরু করেন।

গিজার পিরামিড

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

প্রায় ৬০ টন ওজনের ২০ লাখ পাথর খণ্ড দিয়ে নির্মিত এই পিরামিড

পিরামিডের কথা বললে প্রথমেই যে ছবি ভেসে ওঠে তা হলো মিশরের গিজার গ্রেট পিরামিড।

৪৫০ ফুট বা ১৩৯ মিটারের বেশি উচ্চতার এই পিরামিড ‘খুফুর পিরামিড’ নামেও পরিচিত।

কায়রোর উপকণ্ঠ গিজায় অবস্থিত তিনটি পিরামিডের মধ্যে এটিই সবচেয়ে পুরাতন এবং বড়।

তবে নির্মাণের সময় খুফুর পিরামিড আরও কিছুটা উঁচু ছিল বলে ধারণা করা হয়।

প্রায় ৬০ টন ওজনের ৩০ থেকে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল আকৃতির ২০ লাখ পাথর খণ্ড দিয়ে নির্মিত এই পিরামিডটি তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে তৈরি করা হয়েছিল।

দেশটিতে ১০০’র বেশি পিরামিড অক্ষত থাকলেও এই পিরামিডটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

বিশাল আকৃতির এই কাঠামোর মাত্র কয়েকটি কক্ষেই প্রবেশ করা যায়।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪৭ মিটার দীর্ঘ ও আট মিটার উঁচু গ্র্যান্ড গ্যালারি।

ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২৫০৯ থেকে ২৪৮৩ অব্দের মধ্যে ফারাও খুফুর শাসনামলে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

পরে খাফ্রে এবং মেনকাউরে এর পাশে আরও দুইটি পিরামিড নির্মাণ করেন।

গবেষণার জন্য প্রসিদ্ধ যুক্তরাজ্যের পেনসিলভানিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়বসাইটে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে ক্লাসিকস এন্ড এনশিয়েন্ট মিডেটারিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ডোনাল্ড রেডফোর্ডের বরাত দিয়ে পিরামিড নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে বিশ থেকে তিরিশ হাজার কারিগর নিয়ে ২৩ বছরেরও কম সময়ে গিজার পিরামিড নির্মাণ করা হয়েছে।

অথচ পারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রাল তৈরিতে সময় লেগেছিল ২০০ বছরেরও বেশি।

অধ্যাপক রেডফোর্ডের মতে পিরামিড নির্মাণকারীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন কৃষক।

“পিরামিডে কাজ করা কৃষকদের ট্যাক্স বিরতি দেওয়া হতো এবং তাদের ‘শহরে’ নেয়ার পর আশ্রয়, খাদ্য এবং পোশাক দেওয়া হতো”, বলেন তিনি।

পিরামিড কি দাসরা বানিয়েছিল?

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

গিজা থেকে পাওয়া দিওরিতে খাফ্রের ভাস্কর্য

‘পিরামিড কারা বানিয়েছিল’ এই প্রশ্নের দীর্ঘ সময় ধরে প্রচলিত উত্তর ছিল ‘দাস’।

ধারণা করা হতো বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষদের ধরে এনে ‘নির্দয়’ ফারাওরা দাস বানিয়ে তাদের দিয়ে পিরামিড নির্মাণ করাতো।

আর এই ধারণার শুরু জুডিও-খ্রিস্টান ধারণা থেকে। পরে এটি জনপ্রিয়তা পায় সিসিল বি. ডি মিলের ‘দ্য টেন কমান্ডমেন্টস’র মতো হলিউড সিনেমার হাত ধরে।

কিন্তু পিরামিডের দেয়ালে আঁকা ছবিগুলো থেকে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

এ নিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বাধীনভাবে প্রকাশিত হার্ভার্ড ম্যাগাজিনে জনাথন শ’ প্রত্নতত্ত্ববিদ মার্ক লেহনারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

‘পিরামিড দাসরা বানিয়েছিল’ প্রচলিত এই ভুল ধারণার বিপরীতে যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।

মার্ক লেহনারের পিরামিড নির্মাণকারীদের বসবাসের শহর খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে লেখাটিতে পিরামিডের কারিগরদের জীবনযাপনের বেশ কয়েকটি দিক তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষ করে তারা সেখানে যে ধরনের খাবার খেতেন তা থেকে বোঝা যায় দাস বা সাধারণ কর্মী না, তারা ছিলেন ‘দক্ষ কারিগর’।

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে অ্যামেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ জর্জ রিনজার পিরামিডের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি দেখতে পান, যেখানে পিরামিড নির্মাণকারীদের ‘খুফুর বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিস্টার লেহনারের ধারণা, মিশরীয় সমাজ কিছুটা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হতো, যেখানে প্রায় প্রত্যেকেই শাসকের সেবা করতেন। মিশরীয়রা একে বলতো ‘বাক’।

সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসে তাদের উপরে থাকা লোকদেরকে কোনও না কোনও ভাবে ‘বাক’ দিতে হতো। ‘কিন্তু এটা আসলে দাসত্ব হিসেবে বিবেচ্য হতো না’, বলেন মি. লেহনার।

“এমনকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও ‘বাক’ দিতে হতো”।

পিরামিড বানানো বন্ধ করা হয়েছিল কেন?

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

তুতেনখামেনের মমির কফিনের বাইরের খোলস

পিরামিড নির্মাণের খরচ অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় ফারাওরা শেষ পর্যন্ত ওল্ড কিংডম বা প্রাচীন সাম্রাজ্যের শেষের দিকে পিরামিড নির্মাণ বন্ধ করে দেয়।

এছাড়া বিরাট আকারের পিরামিডগুলোতে ধন-সম্পদ পাওয়া যাবার কারণে মিশরীয়রা নিজেরাই সেগুলো লুট করে নিতো।

পরে পিরামিড তৈরির বদলে ভ্যালি অব কিংসের গোপন সমাধিক্ষেত্রে ফারাওদের সমাহিত করা হতো।

পিরামিড কি শস্যের গুদাম ছিল?

পিরামিড নির্মাণের প্রচলিত ধারণার মধ্যে একটি ছিল শস্যের গুদাম হিসেবে এর ব্যবহার।

ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী, জোসেফকে তার ভাইয়েরা দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয় এবং পরে ফারাওয়ের স্বপ্নের ব্যাখ্যার পর গুদামে খাদ্য সংরক্ষণ করে সাত বছরের দুর্ভিক্ষের হাত থেকে মিশরীয়দের বাঁচায়।

বাইবেলে পিরামিডের কোনও উল্লেখ না থাকলেও মধ্যযুগের বিভিন্ন গল্পে এর উল্লেখ রয়েছে।

ষষ্ঠ শতাব্দীর ফ্রাঙ্কিশ বিশপ সেন্ট গ্রেগরি অফ ট্যুরসও এই ধারণা জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছিলেন।

জন ম্যান্ডেভিলের ১৪ শতকের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্মৃতিকথায় ‘জোসেফের গুদাম ঘরের উল্লেখ করেন, যেখানে কঠিন সময়ের জন্য গম সংরক্ষণের’ বিষয়ে তিনি লিখে গেছেন।

Skip অন্যান্য খবর: and continue reading

অন্যান্য খবর:

End of অন্যান্য খবর:

কিন্তু রেনেসাঁর সময় থেকে যখন এ নিয়ে আরও ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়, তখনই এই ধারণা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

“এখন অবশ্যই আমরা জানি যে পিরামিডগুলো মূলত সমাধি কক্ষ ছিল- যদিও সেটা অনেকগুলো বিষয়ের একটি। পিরামিডের স্থাপত্যে এর আগের এবং পরের সময়ের কাঠামো, ভেতরের সুড়ঙ্গপথ এবং সেখানকার জায়গার কার্যকারিতা থেকে মিশরের পরবর্তী সময়কে বোঝা যেতে পারে,” বলেন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশরবিদ অধ্যাপক জন ডার্নেল।

পিরামিডের ভেতরের প্রধান উপাদান পাথর ও ইট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই সেখানে শস্যের জন্য খুব বেশি জায়গা থাকবে না এবং একইসঙ্গে এটি শক্তি ও প্রকৌশলের বিশাল অপচয় হবে”।

তাছাড়া প্রাচীন শস্যভাণ্ডারগুলো ছোট মৌচাক আকৃতির ছিল বলেও জানান তিনি।

একইসঙ্গে জোসেফের গল্পটি সম্ভবত মিশরের মধ্য সাম্রাজ্যের সময়ের, যা কিনা গিজার পিরামিড তৈরির কয়েক শতাব্দী পরে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক ডার্নেল।






পৃথিবীতে যে সাতটি ভাষায় সবচেয়ে বেশি মানুষ কথা বলে

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস,

Getty Images

Article Information


ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি, মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। কিন্তু পৃথিবীর একেক অঞ্চলের মানুষ একেক ভাষায় কথা বলার মাধ্যমে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামার ইন্সটিটিউট অফ লিঙ্গুইস্টিক্‌স (এসআইএল) ইন্টারন্যাশনাল-এর ভাষা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ‘এথনোলগ’ বলছে, পৃথিবীতে বর্তমানে সাত হাজার ১৬৮টি ভাষা আছে।

কিন্তু, এর ৪২ শতাংশ ভাষাই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় আছে; অর্থাৎ, তিন হাজার ৪৫টি ভাষা এখন বিলুপ্তির পথে।

এর আগেও সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ভাষা চিরতরে হারিয়ে গেছে।

তবে যেসব ভাষা পৃথিবীতে এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছে, সেগুলোর মাঝে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ভাষা কোনগুলো, আমরা কী তা জানি? কিংবা, পৃথিবীতে কোন ভাষায় মানুষ সবচেয়ে বেশি কথা বলে? এবং কোন কোন দেশে এসব ভাষা ব্যবহার করা হয়?

আজ আমরা এমন সাতটি ভাষার বিষয়ে জানবো, যেগুলোর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

পৃথিবীর বহুল ব্যবহৃত ভাষা হলো ইংলিশ।

ইংরেজি বা ইংলিশ

যদি বহুল ব্যবহৃত ভাষার কথা বলতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে প্রথমেই সেখানে ইংলিশের নাম উঠে আসবে।

পৃথিবীতে খুব অল্প কয়েকটি দেশের মাতৃভাষা ইংরেজি, কিন্তু পৃথিবীতে এমন দেশ বিরল যেখানে মাতৃভাষার পর ইংলিশকে প্রাধান্য দেয়া হয় না।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

End of সর্বাধিক পঠিত

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

এথনোলগ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮০০ কোটি মানুষের পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষই ইংলিশে কথা বলে।

যদিও পৃথিবীর মাত্র ৩৮ কোটি মানুষের মাতৃভাষা ইংলিশ এবং মাতৃভাষাভাষীর সংখ্যার বিচারে এর অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়।

এই ভাষার আঁতুড়ঘর হলো যুক্তরাজ্য, অর্থাৎ ইউনাইটেড কিংডম।

বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা না হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী জুড়ে ইংলিশের এত বিস্তৃতির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে কয়েকশো বছর ধরে পৃথিবীজুড়ে চলা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ।

ঐ সময় ব্রিটিশরা আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করে। সাধারণত উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে উদ্দেশ্য থাকে ঐ অঞ্চলে ওপর অর্থনৈতিক আধিপত্য তৈরি করা।

ভারতীয় উপমহাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসান ঘটলেও উপনিবেশবাদের প্রভাব রয়ে গেছে। ইংলিশের জনপ্রিয়তা হিসেবে এই প্রভাবকে উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের পর সারাবিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য বিস্তার করে। যুক্তরাষ্ট্রের মাতৃভাষাও ইংলিশ হওয়ায় মার্কিন সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই সেটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠে।

এথনোলগ অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট ১৪৬টি দেশে ইংলিশ ভাষাভাষী মানুষ পাওয়া যায়। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ।

উল্লেখ্য, ইংলিশ বা ইংরেজি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি ভাষা।

Skip আরও পড়ুন: and continue reading

আরও পড়ুন:

End of আরও পড়ুন:

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

বিশ্বব্যাপী ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চীনা ভাষা

ম্যান্ডারিন চাইনিজ

চীনের অধিকাংশ মানুষ কথা বলে ম্যান্ডারিন চাইনিজ ভাষায়। যদি শুধুমাত্র মাতৃভাষার কথা বিবেচনা করা হয়, তাহলে পৃথিবীতে ম্যান্ডারিন চাইনিজ ভাষাভাষীর সংখ্যাই সর্বোচ্চ।

এথনোলগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ৯৪ কোটি মানুষের মাতৃভাষা ম্যান্ডারিন চাইনিজ।

এছাড়া, পৃথিবীর প্রায় ১১০ কোটি মানুষ ম্যান্ডারিন চাইনিজে কথা বলে। সেক্ষেত্রে, ইংলিশের পরেই এর অবস্থান।

ম্যান্ডারিন ভাষাভাষীর সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল দেশ চীন। ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটিসটিকস অব চায়না-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যা ১৪০ কোটির একটু বেশি।

এথনোলগ বলছে, চীনের ৮১ শতাংশ মানুষ ম্যান্ডারিন চাইনিজে কথা বলে। এছাড়া, কানাডা, মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ মোট ৩৭টি দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যান্ডারিন ভাষাভাষী রয়েছে।

বলা হয়ে থাকে যে চীনে জন্ম নেয়া ম্যান্ডারিন চাইনিজ পৃথিবীর অন্যতম কঠিন ভাষা।

৫০০০ বছরের বিবর্তনে তৈরি এই ম্যান্ডারিন চাইনিজ সিনো-তিব্বতীয় ভাষা পরিবারের একটি ভাষা।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

বাংলার সাথে হিন্দির অনেক মিল রয়েছে।

হিন্দি

জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে হিন্দি ভাষাভাষীরা। এথনোলগ-এর তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ৬০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ হিন্দিতে কথা বলে। এদের মাঝে ৩৫ কোটি মানুষের মাতৃভাষা হিন্দি।

হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের বসবাস ভারতেই বেশি। তবে ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে হিন্দি ছাড়াও আরও অনেক ভাষা আছে। সেই হিসেবে করলে, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা হিন্দি।

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট ২২টি দাপ্তরিক ভাষার মাঝে হিন্দি অন্যতম।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৪৯ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর ভারতে হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এ দিনটি হিন্দি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

হিন্দির সাথে আরও কিছু ভাষার উচ্চারণগত মিল রয়েছে। যেমন, বাংলা, উর্দু, নেপালি, ভোজপুরি, রাজস্থানি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের পর থেকে বলিউড ইন্ডাস্ট্রি, অর্থাৎ বলিউড সিনেমার উত্থানও হিন্দি ভাষাকে বিশ্বব্যাপী নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছে।

Skip বিবিসি বাংলার আরও খবর: and continue reading

বিবিসি বাংলার আরও খবর:

End of বিবিসি বাংলার আরও খবর:

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

মাতৃভাষা হিসেবে স্প্যানিশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা।

স্প্যানিশ

পৃথিবীতে প্রায় ৫৬ কোটি মানুষ স্প্যানিশে কথা বলে। সে হিসেবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ভাষা স্প্যানিশ।

মাতৃভাষা হিসেবে পৃথিবীর প্রায় ৪৯ কোটি মানুষ স্প্যানিশে কথা বলে। এদিক দিয়ে ম্যান্ডারিনের পরেই স্প্যানিশের অবস্থান। অর্থাৎ, মাতৃভাষা হিসেবে এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা।

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোতে স্প্যানিশ ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই আছে কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেন।

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের রোমান্স শাখার ভাষা স্প্যানিশ বর্তমানে মোট ১৮টি দেশের দাপ্তরিক ভাষা।

তবে স্প্যানিশ কিন্তু শুরুতেই এতটা বহুল ব্যবহৃত ভাষা ছিল না। ব্রিটেনের মতো স্পেনও এক সময় পৃথিবীর অনেক দেশকে নিজেদের কলোনি করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেইসব কলোনিতে ভাষাটির প্রভাব রয়ে যায়। যার প্রায় সবগুলোই ল্যাটিন আমেরিকায়।

উল্লেখ্য, ইংলিশসহ মোট ছয়টি ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা বলা হয়। সেই ছয়টি ভাষার একটি স্প্যানিশ।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ফ্রেঞ্চ জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা।

ফরাসি

ফরাসি বা ফ্রেঞ্চও জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ইংরেজির পাশাপাশি ফ্রেঞ্চকে তাদের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।

এথনোলগ অনুযায়ী, বর্তমান পৃথিবীতে ফ্রেঞ্চ বা ফরাসি ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা ৩০ কোটির চেয়ে কিছুটা বেশি।

ব্রিটানিকা বলছে, বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে এর ব্যবহার আছে। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো- ফ্রান্স এবং কানাডা। এর বাইরে রয়েছে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ।

এছাড়া সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে প্রচুর ফ্রেঞ্চ ভাষাভাষী পাওয়া যায়।

স্প্যানিশের মতো ফ্রেঞ্চের বিস্তৃতির পেছনেও অন্যতম কারণ উপনিবেশবাদ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কলোনি বিস্তার করেছিলো ফ্রান্স, যার অধিকাংশই আফ্রিকা মহাদেশে। ‌এই কারণেও ফরাসি ভাষা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

পৃথিবীতে আরবি ভাষাভাষীর সংখ্যা ২৭ কোটির কিছুটা বেশি।

আরবি

এথনোলগের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে আরবি ভাষাভাষীর সংখ্যা ২৭ কোটির কিছুটা বেশি।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনের মতো মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষের মাতৃভাষা হচ্ছে আরবি।

আবার অনেক দেশের মাতৃভাষা না হলেও সেখানে ব্যাপক হারে আরবির প্রচলন রয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৩০টি দেশের দাপ্তরিক ভাষা আরবি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলজেরিয়া, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, মরক্কো, ওমান, সৌদি আরব, সুদান, সিরিয়া ইত্যাদি।

ধর্মীয় কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় অনেকে কম-বেশি আরবি লিখতে, পড়তে, বলতে জানেন।

সেমেটিক ভাষা পরিবারের বৃহত্তম ভাষা এই আরবি জাতিসংঘের অন্যতম একটি দাপ্তরিক ভাষাও।

আরবি ভাষার সাথে অন্যান্য ভাষার একটি বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। আরবি লিপি লেখা হয় ডান থেকে বামে।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলা

এথনোলগ অনুযায়ী, বর্তমান পৃথিবীতে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা ২৭ কোটির কিছুটা বেশি।

পৃথিবীর বহুল ব্যবহৃত ভাষাগুলোর মাঝে বাংলা সপ্তম। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করে বাংলাদেশে এবং এরপর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে।

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগের আগে থেকেই ভাষা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিলো।

১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নির্দেশ দেয় এবং পাকিস্তান সরকারের এমন ঘোষণার বিরোধিতা করে বর্তমান বাংলাদেশের জনগণ।

তৎকালীন পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশে এই নিয়ে আন্দোলন চলতে থাকে। সেটি সংঘাতে রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি।

সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীরা মিলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

কিন্তু সেই মিছিল যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি যায়, তখন পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। সেই গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে শহীদ হন।

তবে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর কারণে সেদিন সারাদেশে বিদ্রোহ শুরু হয়।

ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত ১৯৫৪ সালের ৭ মে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর বাংলাকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা হয়।

সবশেষে, বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য আন্দোলন এবং ভাষার অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।






বাংলাদেশে অনেকেই দুপুরে খাওয়ার পর কিছুটা ঘুমিয়ে নেন। যাকে বাংলায় বলা হয় ভাত-ঘুম।

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুমানোকে যদিও অনেক সময় আলসেমি মনে করা হয়। কিন্তু দশ থেকে কুড়ি মিনিটের ভাত-ঘুমের অনেক উপকারিতা রয়েছে।

সব বয়সের জন্যই ভাত ঘুম উপকারী।

নতুন এক গবেষণা বলছে, এটি হয়তো আপনাকে আরও বেশি দিন বাঁচতে সাহায্য করবে।





অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কি বিপদ ডেকে আনতে পারে?


যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮১ সালে পরিচালিত একটি গবেষণার দেখা গিয়েছিল, ৯৩ শতাংশ ড্রাইভারই মনে করে তারা গড়পড়তা ড্রাইভারের চেয়ে ভালো। অথচ পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিচার করলে, এরকম হওয়ার কোন সম্ভাবনাই আসলে নেই। আমাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে, যারা স্বীকার করে না যে তারা কিছু জানে না। এর ফলে যেটা দাঁড়ায়, তা হলো, নিজের জ্ঞানের অতিরিক্ত দাবি করে এরা নিজেদের জাহির করে। 


আপনি যদি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী বলে দেখাতে পারেন, তখন আপনি অন্যদেরকেও আত্মবিশ্বাসী হতে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারেন। আপনি যদি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন তখন মানুষ আপনাকে অনেক বেশি বিশ্বাস করবে, আপনার ওপর আস্থা রাখবে।

কিন্তু এখানে আবার একটা আপাত-বৈপরীত্য আছে। মনোবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় ‘ডানিং-ক্রুগার ইফেক্ট।’

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যারা নিজেদের যোগ্যতা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, সত্যিকারের অর্জনের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারাই সবচেয়ে খারাপ করে।


মানুষের মধ্যে এই যে মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখা যায়, এর উৎস কোথায়? 


যেসব মানুষ ‘নার্সিসিজম’ বা আত্ম-প্রেমে ভুগে, তাদের মধ্যে ‘সবজান্তা’ ভাবটা প্রকট।  পুরুষদের মধ্যে এরকম অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের দেখা মিলবে বেশি। 




মরিচ খেলে ঝাল লাগে কেন, ঝাল খাওয়ার ক্ষমতা বাড়াবেন কীভাবে

“ঝালের অনুভূতি তৈরি করে ক্যাপসাইসিন”- ব্যাখ্যা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের ফ্লেভার সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক ড. কিয়ান ইয়াং।মরিচ বিভিন্ন প্রজাতির হয়, বিভিন্ন আকারের হয়। একেক ধরনের মরিচের বৈশিষ্ট্য আলাদা হলেও যেটি প্রায় সব মরিচের মধ্যেই থাকে - সেটা হলো ঝাল।

মরিচ গাছের ভেতরে ‘ক্যাপসাইসিন’ নামে এক ধরনের রাসায়নিক উৎপন্ন হয়। মরিচ ঝাল লাগার কারণ হলো ক্যাপসাইসিনের উপস্থিতি।

আমরা যখন ঝাল কোনও খাবার খাই, তখন মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন আমাদের মুখে থাকা ‘পলিমোডাল’ স্নায়ুকে (পলিমোডাল নসিসেপ্টর নার্ভস) উত্তেজিত করে তোলে।

এই পলিমোডাল স্নায়ুর কাজ হলো ব্যথা, তাপমাত্রা ও ঝাল শনাক্ত করা। এছাড়া এগুলো কত তীব্র সেই ধারণা সম্পর্কেও আমাদের মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় এই স্নায়ু।

ঝাল জাতীয় কিছু খাওয়ার সময় পলিমোডাল স্নায়ু উত্তেজিত হয় এবং দেহের কেন্দ্রীয় স্নায়ুর (সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম) মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। আমাদের মস্তিষ্ক সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে সেটা কোন ধরনের অনুভূতি, তা আমাদের জানিয়ে দেয়।

মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন যখন স্নায়ুকে উত্তেজিত করে তোলে, তখন মস্তিষ্ক ঝালের মাধ্যমে সৃষ্ট ‘বার্নিং সেনসেশন’ বা ‘পুড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি’ চিহ্নিত করে।

যখন খাবারের মাধ্যমে আমরা ক্যাপসাইসিন গ্রহণ করি, তখন সেটা আমাদের জিহ্বায় পেইন রিসেপ্টরগুলোর সাথে যুক্ত হয় , নির্দিষ্টভাবে বলা যায় টিআরপিভি ওয়ান রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়। আর এটাই সেই জ্বলন্ত অনুভূতি তৈরি করে।

অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, মরিচের সবচেয়ে ঝাল অংশ হলো এর বীজ। প্রকৃতপক্ষে, মরিচের আগা থেকে নিচের দিকে বর্ধিত সাদা স্পঞ্জি স্তর বা প্ল্যাসেন্টাতেই উৎপন্ন হয় ক্যাপসাইসিন, আর এটা খেয়েই ঝাল লাগে।

কেন কিছু মানুষ অন্যদের তুলনা বেশি ঝাল বা মশলাদার খাবার সহ্য করতে পারে এ নিয়ে ভিন্ন কিছু তত্ত্ব রয়েছে।

মি. ইয়াং বলছেন "ঝাল বা মশলাদার খাবারের জন্য সহনশীলতা আসে প্রকৃতি ও পরিবেশের সংমিশ্রণে।"

“যেসব দেশে উষ্ণ আবহাওয়া, যেমন ভারতের মতো আবহাওয়া যেসব দেশে আছে, সেসব দেশে মরিচ খুব ভালোভাবে জন্মায় এবং এসব দেশের মানুষের মধ্যেও ঝাল সহ্য করার প্রবণতা বেশি, কারণ তরুণ বয়স থেকেই তারা উষ্ণ আবহাওয়ায় বসবাস করতে অভ্যস্ত - ফলে সময়ের সাথে সাথে তারা ঝাল বা মশলাদার খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যায়- এরকম একটি হাইপোথিসিস আছে।"

এক্ষেত্রে জেনেটিক্সও একটি ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, একজন ব্যক্তির মরিচের ঝাল সহ্য করার ক্ষমতার ১৮-৫৮ শতাংশ কারণ জেনেটিক্সের ওপর নির্ভরশীল। আরেকটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, ঝাল খাবার গ্রহণের ক্ষমতা নির্ভর করে মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর। এ নিয়ে গবেষণা করেছেন পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জন হেইস এবং ডাঃ নাদিয়া বায়ার্ন।

তাদের একটি গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, “মেক্সিকোতে সুঠাম দেহের অধিকারী, সাহসী ও শক্তিশালী বৈশিষ্ট্যের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে মরিচের ঝাল গ্রহণের ক্ষমতা।”

গবেষকরা বলছেন, যারা রোমাঞ্চের খোঁজে থাকেন তারা হয়তো মরিচের ঝালটাকে ভালোভাবে সামলাতে পারেন। 

কীভাবে ঝাল খাবার খাওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে পারেন?

ঝাল লাগার পর মানুষ পানি খেয়ে ঝাল কমানোর চেষ্টা করে কিন্তু পানি কিন্তু কাজে আসে না।কারণ ক্যাপসাইসিন পানি দ্রবণীয় না। এটা দুধ বা দুধজাতীয় খাবারে দ্রবীভূত হয়। তাই ঝাল কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা দুধ বা দুধজাতীয় খাবার - যেমন দই বা আইসক্রিম - খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তাদের মতে ধীরে ধীরে খাবারের মেনুতে ঝাল আইটেম যুক্ত করা হলে মানবদেহ সময়ের সাথে সাথে সেটাকে সহনীয় করে ফেলে।

“ঝাল খাবার খেয়ে যে গরম অনুভূতি হয় তা সহ্য করার জন্য ধীরে ধীরে চেষ্টা করা যেতে পারে। আস্তে আস্তে সময়ের সাথে সাথে ডায়েটে ঝাল খাবার যুক্ত করলে একটা সময় ঝাল উপভোগ্য হয়ে ওঠে” 

কারণ মরিচের উপাদানগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ক্যাপসাইসিন বায়োঅ্যাকটিভ কম্পাউন্ড - এটি আমাদের লিভারে ও রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে।এর প্রধান কাজ দেহের চর্বি কমানো।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের দীর্ঘায়ুর পেছনে এই ক্যাপসাইসিনের ভূমিকা রয়েছে।

এছাড়াও এটি লিভারকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যে সেখানে কোলেস্টেরল সিনথেসিস কম হয়। অর্থাৎ অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের উৎপাদনে এটি বাধার সৃষ্টি করে। 






বায়ু দূষণ

গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকায় সারা দিনে একজন যে পরিমাণে দূষিত বায়ু গ্রহণ করেন, তা প্রায় দুটি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর।

প্রায় দুটি সিগারেটের ক্ষতির সমান

বায়ুদূষণের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে ঢাকায়।

ঢাকায় যানজট ও নির্মাণাধীন প্রকল্পের কারণে যে পরিমাণ বায়ুদূষণ হয়, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুমানের চেয়ে ১৫০% বেশি এবং ইটভাটার কারণে যে দূষণ হয় তা ১৩৬% বেশি।

সিলেটে সবচেয়ে কম দূষণ হচ্ছে বলা হলেও সেখানকার বাতাসও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ুমানের চেয়ে ৮০% বেশি দূষিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রা থেকে ১% দূষণ বাড়লে বিষণ্ণতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা ২০ গুণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়, ঢাকায় সারা দিনে একজন যে পরিমাণে দূষিত বায়ু গ্রহণ করেন, তা প্রায় দুটি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর।

মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব

বায়ু দূষণে কারণে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে জানান মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার।

তিনি জানান, মানুষ যে প্রকৃতি ও পরিবেশ বসবাস করছে সেটির ভারসাম্য না থাকলে মানসিক চাপ তৈরি হয় - যা মানুষের 'ওয়েল বিইং' বা ভালো থাকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তবে শুধু বায়ুদূষণই যে বড় ধরণের মানসিক রোগ তৈরি করে - বিষয়টা এমন নয়।

তার মতে, যারা অল্পতে উদ্বিগ্ন হন তাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা বায়ু দূষণের ফলে তীব্র হয়ে ওঠে।

যার কারণে মনোযোগে সমস্যা হতে পারে, মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

বায়ু দূষণ

বায়ু দূষণের মূল কারণ

গবেষণায় বায়ু দূষণের প্রধান তিনটি উৎসের কথা বলা হয়েছে সেগুলো হল যানবাহনের ধোঁয়া বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের ধোঁয়া - যা বেশ মারাত্মক।

এরপরই রয়েছে শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট ধুলা। তৃতীয় স্থানে আছে ইটভাটার ধোঁয়া।

গত তিন বছর ধরে বায়ুর মান সূচকে ঢাকা সবচেয়ে দূষিত না হলেও দ্বিতীয় দুষিত শহর হিসেবে স্থান পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি বিষণ্ণতায় ভুগছেন ৬৫ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সীরা।

কী করছে সরকার

ঢাকায় যেভাবে ফিটনেস-বিহীন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে এবং নিয়মনীতি ছাড়া উন্নয়ন কাজ চলছে ও ইটভাটা গড়ে উঠছে - সে জন্য বায়ুদূষণ মোকাবিলাকে 'বড় চ্যালেঞ্জ' হিসেবে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

তবে এর মধ্যে কিছু পরিকল্পনা হাতে নেয়ার কথাও জানান তিনি।

এতে রয়েছে ২০১৫ সাল নাগাদ 'ফায়ার ব্রিক' বা আগুনে পুড়িয়ে তৈরি ইট ব্যবহার বন্ধ করে 'নন-ফায়ার ব্রিক' বা কনক্রিট ব্লক ব্যবহার বাড়ানো। এবং ধীরে ধীরে সব ইটের ভাটা বন্ধ করা।

মি. হাওলাদার বলেন, “ইট ভাটা বন্ধের কাজ ধীরে ধীরে চলছে।”

ঢাকার যে পুরনো ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি সরানো সেইসাথে দূষণ কমিয়ে কিভাবে নির্মাণ কাজ করা যায় সে বিষয়ে রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার কথা জানান তিনি।

ছবির উৎস,

Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

গবেষণায় বায়ু দূষণের তৃতীয় প্রধান উৎস ইট ভাটা।

বিভিন্ন দফতরের সাথে এই সমন্বয় করা বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করলেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার কথা তিনি জানান।

তিনি বলেন, “বিষয়টা কঠিন। কিন্তু সব মন্ত্রণালয়কে এগুলো অ্যাড্রেস করতে হবে। এর সাথে জনস্বাস্থ্য জড়িত। এগুলো তো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।”

২০১৯ সালে বায়ুদূষণ ছিল বাংলাদেশে মৃত্যু ও অক্ষমতার দ্বিতীয় বড় কারণ। ওই বছর প্রায় ৮৮ হাজার মৃত্যুর জন্য বায়ুদূষণকে দায়ী করা হয়।

এক্ষেত্রে বায়ুদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিত হয়ে কাজ করারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।





ধূমপান: বিড়ি, সিগারেট, তামাক গ্রহণ না করেও যেভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন


কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন, বা বাড়িতে বসে আছেন এক জায়গায়, কাছেই কেউ ধূমপান করছে আর সেই ধোঁয়া আপনার নিঃশ্বাসে ঢুকছে , এরকম পরিস্থিতিতে নিশ্চয়ই অনেকে পড়েছেন। এটাই হলো প্যাসিভ স্মোকিং বা পরোক্ষ ধূমপান ।

অর্থাৎ ধূমপায়ীর ধূমপানের ধোঁয়া নিঃশ্বাসে গ্রহণ করা। এটাকে সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোকিংও বলা হয়।

যখন কেউ ধূমপান করেন সব ধোঁয়া কিন্তু তার ফুসফুসে যায় না, এটা আশেপাশে থাকা মানুষের নিঃশ্বাসেও প্রবেশ করে।

যারা এই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হোন অর্থাৎ অধূমপায়ীরাও ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকিতে থাকেন। অর্থাৎ একজন ধূমপায়ী নিজেও যেমন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন, তেমনি আশেপাশের মানুষদেরও এই ঝুঁকিতে ফেলে দেন।

কারা পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে আছেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি বছর ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় তামাক গ্রহণের কারণে। এর মধ্যে ১২ লাখ মানুষই প্যাসিভ স্মোকিং অর্থাৎ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার।

অনেকেই জীবনের শেষ সময়ে নানাবিধ শারিরীক অসুস্থতায় ভুগছেন।

ধূমপায়ীদের আশেপাশের সকলেই এর ঝুঁকিতে থাকে।

শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সকলেই পরোক্ষ ধূমপানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে থাকে শিশুরা।

এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের জন্যও এটা বেশ ক্ষতিকর। গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে। মিসক্যারেজের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, এমনকি সন্তান জন্ম দেয়ার পরও এই প্রভাব থেকে যেতে পারে।

শিশুর কম ওজন হওয়া, জন্মের সময় নানাবিধ সমস্যাসহ শিশু মৃত্যুর কারণও হতে পারে এই পরোক্ষ ধূমপান।

ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সব ধরনের তামাক ক্ষতিকর এবং এর নিরাপদ কোন স্তর নেই।

সংস্থাটির মতে, সিগারেটের পরোক্ষ ধোঁয়ায় প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৭০টি উপাদান ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা অ্যাঙ্গেলা চিওবানু বলেছেন, “অধূমপায়ীরা যখন পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন, তখন তাদের ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে ২০-৩০ শতাংশ”। এছাড়া হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ায় পরোক্ষ ধূমপান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রতি বছর ৬৫ হাজার শিশু মারা যায়। যে শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে, তারা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। Kwit (Google Play): এটি একটি WHO-অনুমোদিত অ্যাপ, যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধুমপানের আসক্তি কাটাতে সাহায্য করে।




স্তন্যদান নিয়ে ৭টি ভুল ধারণা এবং যেসব বিষয় আপনার জানা উচিৎ


কর্মস্থলে যেন নারীরা তাদের শিশুসন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন, সেজন্য আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুকের দুধ খাওয়ানোর হার যেন বাড়ানো যায়, সেজন্যে বার্ষিক প্রচারাভিযানের সময় জাতিসংঘ এই আহ্বান জানায়।

জাতিসংঘ বলছে, যেসব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় না, এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের মৃত্যুর আশংকা যারা কেবল বুকের দুধ খায় তাদের তুলনায় ১৪ গুন বেশি। জাতিসংঘ বেতন-সহ মাতৃ-কালীন ছুটি চালু, বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য কাজের মাঝে বিরতি, এবং কর্মস্থলে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়েদের জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে।

স্তন্যদান নিয়ে এখনো অনেক মিথ বা ভুল ধারণা চালু আছে, যা শুনে মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে বহুল প্রচলিত কিছু ধারণা যে আসলে একদম ভুল, দুজন বিশেষজ্ঞ তা ব্যাখ্যা করেছেন আমাদের কাছে। এদের একজন ক্যাটরিওনা ওয়েইট, যিনি ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের ক্লিনিকাল ফার্মাকোলজি এন্ড গ্লোবাল হেলথের অধ্যাপক এবং উগান্ডার কাম্পালায় মেকরিয়ার ইউনিভার্সিটি কলেজ অব হেলথ সায়েন্সের ফেলো। অপরজন অ্যালেস্টেয়ার সাটক্লিফ, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনারেল পিডিয়াট্রিক্সের অধ্যাপক।

মিথ ১: বুকের দুধ খাওয়ালে সাধারণত স্তনে ব্যথা এবং স্তনবৃন্তে ঘা হয়

প্রফেসর ওয়েইট: এর উত্তর দেয়া একটু কঠিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর শুরুর দিকে কিছু অস্বস্তি হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক, এবং এতে অভ্যস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত শুরুতে স্তনবৃন্তে কালশিটে পড়া কিংবা যন্ত্রণা হওয়া একদম স্বাভাবিক। কিন্তু বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণে আসলে স্তনে ব্যথা বা যন্ত্রণা হয় না। যদি কারও এমন হয় তাহলে মনে করতে হবে স্তনবৃন্তে হয়তো কোন ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়েছে, অথবা এটি ঠিকভাবে শিশুর মুখে দেয়া হচ্ছে না। শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি হলে সেটা একেবারেই স্বাভাবিক, এবং নতুন মায়েদের এই বিষয়টার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে কারও যদি বেশ ব্যথা বা যন্ত্রণা হয়, সেটি নিয়ে ডাক্তার, নার্স বা ধাত্রীর সঙ্গে কথা বলা উচিৎ।


মিথ ২: একেবারে শুরুতেই স্তন্যদান শুরু না করলে পরে আর করা যায় না

প্রফেসর সাটক্লিফ: স্তন্যদানে মায়েদের উৎসাহিত করে এমন যে কোন কিছুই আসলে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য নানা দিক দিয়ে উপকারী। মানুষের আচরণের ওপর কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কৃত্রিম বিধিনিষেধ আরোপ করার এই ব্যাপারটার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে এটা ঠিক যে জন্মের পরপরই শিশুকে যদি মা স্তন্যদান শুরু করেন তার অনেক উপকারিতা আছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুষ্টি। স্তন্যদান শুরু করার আরেকটা উপকারিতা হচ্ছে এটি ইউটেরাস বা জরায়ুর সংকোচন প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে। আর এর ফলে সন্তান প্রসব পরবর্তীকালে জরায়ুতে যে রক্তক্ষরণ হয়, সেটি থামানো বা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া সন্তান প্রসবের পর প্রথম কয়েকদিন মায়ের শরীরে কোলোস্ট্রাম নামে প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি পদার্থ তৈরি হয়। এটি খুবই সমৃদ্ধ একটি উপাদান যা স্তন্যদান প্রক্রিয়া শুরুতে অবদান রাখে।


মিথ ৩: বুকের দুধ খাওয়ালে কোন ঔষধ খাওয়া যায় না

প্রফেসর ওয়েইট: বিশ্বের যে কোন জায়গাতেই মায়েরা সাধারণত এই প্রশ্নটাই প্রথম করেন। তারা জানতে চান, ‘যে কোন ঔষধ কি আমার শিশুর জন্য নিরাপদ?’ কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক ঔষধই আসলে খুবই কম মাত্রায় শিশুর কাছে পৌঁছায়। কোন ডাক্তার যদি বলে আপনাকে ঔষধ খেতে হবে, তখন তাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন। কিন্তু এমন সম্ভাবনাই বেশি যে এই ঔষধ নিরাপদে আপনি গ্রহণ করতে পারেন। একজন শিশুর আসলে সবচেয়ে বেশি দরকার একজন সুস্থ-সবল মা। সংক্রমণ, ডিপ্রেশন বা সাধারণ ব্যথা-বেদনার জন্য সাধারণত যেসব ঔষধ খেতে হয়, সেগুলো খুব সম্ভবত নিরাপদ।

স্তন্যদান করলে যেসব ঔষধ গ্রহণ করা যাবে না, সেগুলোর সংখ্যা আসলে খুবই কম। সাধারণত ক্যান্সার বা এরকম কোন গুরুতর নির্দিষ্ট রোগের ঔষধ এগুলো। এছাড়া অন্য কিছু ঔষধ আছে যেগুলো ব্যবহারের আগে এর ঝুঁকি এবং উপকারিতা ভালোভাবে বিবেচনা করে দেখতে হয়। স্তন্য-দানকারী কোন মাকে যখন কোন ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, তখন তিনি যেন এই ঔষধের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দোকানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায় এমন কিছু ঔষধের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যেমন ঠাণ্ডা বা ফ্লুর ঔষধ- কারণ এর মধ্যে এমন উপাদান থাকে যা বুকের দুধ কমিয়ে দিতে পারে। আর হার্বাল বা ভেষজ ঔষধের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিৎ, কারণ আপনি আসলে জানেন না এর মধ্যে কী আছে। এসব ঔষধ কিন্তু ভালো করে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।


মিথ ৪: কেবল সাধারণ খাবার খাওয়া উচিৎ এবং বুকের দুধ দেয়ার আগে মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিৎ

প্রফেসর ওয়েইট: স্তন্যদানের সময় খাওয়া যাবে না এরকম কোন খাবার আসলে নেই। তবে আপনার বুকের দুধে ঠিক কী পুষ্টি উপাদান থাকবে, তা নির্ভর করে আপনি কী ধরণের খাবার খাচ্ছেন তার ওপর।


তবে কিছু কিছু খাবারের বেলায় মা হয়তো একটি প্যাটার্ন দেখতে পাবেন। যেমন আমার একটি সন্তানের বেলায় আমি খেয়াল করেছিলাম, যতবারই আমি কমলার মতো কোন টক ফলের জুস খাচ্ছি, আমার বাচ্চার মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠছে। আপনি কি খাবার খেলে আপনার সন্তান কিরকম আচরণ করছে সেরকম একটি প্যাটার্ন আপনি অনেক সময় খেয়াল করতে পারেন। কিন্তু আসলে এরকম কোন খাবার নেই যেটা আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকর, বা যেটা আপনার পরিহার করা উচিৎ।


মিথ ৫: আপনি বুকের দুধ খাওয়াতে চাইলে কখনোই ফর্মুলা দুধ খাওয়াতে পারবেন না


প্রফেসর ওয়েইট: এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। তবে মায়ের স্তনে কী পরিমাণ দুধ তৈরি হবে সেটা নিয়ন্ত্রিত হয় চাহিদা এবং সরবরাহের ভিত্তিতে। নারীর দেহের গঠন আসলে এত চমৎকারভাবে তৈরি যে শিশুর জন্য এটি যথেষ্ট দুধ তৈরি করতে পারে। শিশু যখন স্তনবৃন্ত চুষতে থাকে, সেটি নারীর শরীরের হরমোনকে যতটুকু দুধ দরকার, ততটুকু দুধ তৈরি করতে সংকেত দেয়। কাজেই একজন মা, তিনি একেবারেই একটি ছোট শিশু, বড় শিশু নাকি যমজ সন্তানকে দুধ খাওয়াচ্ছেন – তার শরীরে সেই অনুপাতে যথেষ্ট দুধ তৈরি হবে।

আর শিশুকে ফর্মুলা দুধ দেয়া শুরু করলে, নারীদেহে এই সংকেত এবং দুধ উৎপাদন চক্রে একটা ব্যাঘাত ঘটে। তখন নারীর শরীর যথেষ্ট সংকেত পায় না যে তার শিশুর আরও দুধ দরকার। কোন মায়ের বুকে যখন যথেষ্ট দুধ আসে না, এবং তিনি শিশুকে ফর্মুলা দুধ দিতে শুরু করেন, তাতে হয়তো একটা সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যাবে, কিন্তু এর ফলে সমস্যাটা কিন্তু আরও গুরুতর রূপ নেবে।

আবার কোন নারীর যখন রাতে ঘুম হচ্ছে না, বা অসুস্থ, কিংবা ভীষণ ক্লান্ত, তখন তার সঙ্গী হয়তো শিশুকে কিছু ফর্মুলা দুধ দিচ্ছেন, যাতে করে শিশুর মা কিছুটা বিশ্রাম পান। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এই নারী আবার স্তন্যদান শুরু করতে পারবেন না। কাজেই ফর্মুলা দুধ দিলে স্তন্যদান বন্ধ হয়ে যাবে এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। তবে ফর্মুলা দুধ দিলে তা স্তন্যদানের ক্ষেত্রে খুব সহায়ক হয় না।


মিথ ৬: অসুস্থ অবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ানো ঠিক নয়

প্রফেসর সাটক্লিফ: না, এটাও একটা মিথ। কেবল যদি কোন নারীর এইচআইভি বা হেপাটাইটিস হয়, তখনই কেবল শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিষেধ। কারণ বুকের দুধের মাধ্যমে এসব ভাইরাস শিশুর দেহে সংক্রমিত হতে পারে। এরকম ঘটনা আগে ঘটতে দেখা গেছে। মা যদি অসুস্থও থাকেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি সন্তানকে বুকের দুধ দিয়ে যেতে পারেন, কারণ মায়ের শরীরে এমন এন্টিবডি তৈরি হয়, যা সন্তানকেও সুরক্ষা দেয়। এরকম ঘটনা খুবই বিরল যে কোন মায়ের রোগ স্তন্যদানের মাধ্যমে তার শিশুর দেহে সংক্রমিত হয়েছে।


মিথ ৭: এক বছরের বেশি ধরে স্তন্যদান করলে শিশুকে দুধ ছাড়ানো কঠিন

প্রফেসর ওয়েইট: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হচ্ছে সন্তানকে ছয় মাস পর্যন্ত কেবল বুকের দুধই খাওয়ানো উচিৎ। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিলেও যতদিন ইচ্ছে বুকের দুধ দেয়া চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। বুকের দুধ কখন বন্ধ করতে হবে তার কোন বাঁধা-ধরা সময় নেই। যুক্তরাজ্যের মতো উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে বেশিরভাগ শিশুকেই এক হতে দুই বছর বয়সের মধ্যে বুকের দুধ দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে, যেমন উগান্ডায় দুই হতে তিন বছর বয়স পর্যন্ত কিন্তু শিশুকে বুকের দুধ দেয়া হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যতটা সময় ধরে শিশুকে কেবল বুকের দুধ দেয়ার সুপারিশ করে, তত দীর্ঘ মাতৃ-কালীন ছুটি মায়েরা সাধারণত পান না, এটা সারা দুনিয়া জুড়েই একটা সমস্যা।





হজমশক্তি বাড়ানোর ৫টি উপায় কী কী?

হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা বৃদ্ধির মতো সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় খাবার খেলেও শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। 

১. পর্যবেক্ষণ:

প্রথমেই যেটি করতে হবে সেটি হচ্ছে, এক জন ব্যক্তির কোন খাবার খেলে সমস্যা হচ্ছে সেটি খেয়াল করতে হবে। পুষ্টিবিদ ডা. তাসনিম হাসিন পাপিয়া জানান, আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ বোঝেই না যে কোন খাবারে তাদের সমস্যা হচ্ছে। এজন্য তারা ধীরে ধীরে প্রায় সব ধরণের খাবার বাদ দিতে থাকে। যেমন, তেলে ভাজা খাবার, দুধ বা দগ্ধজাতীয় খাবার, টক খাবার ইত্যাদি।

যেমন অনেকের ল্যাকটো বা দুধ হজম করতে সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবার একেবারে বাদ না দিয়ে ধীরে ধীরে সেটার সহ্য ক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ দুধ হজমে দরকারি ল্যাকটেজ নামে এক ধরণের এনজাইম শরীরে নিঃসরণ বন্ধ হয়ে গেলেও তা আবার নিঃসরণ শুরু করা সম্ভব। আর এ জন্যই কোন খাবারে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় বা সমস্যা হয় সেটি জানাটা জরুরী।

এছাড়া অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের অভাবেও হজমশক্তি দুর্বল হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিলে তা শক্তিশালী করা সম্ভব।

হজমশক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া বা একে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া সবার জন্য এক রকম হয় না। ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। সেক্ষেত্রে দেখতে হবে যে কার কোন খাবারের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

ছবির ক্যাপশান,

কোন ধরণের খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয় তা খেয়াল করতে হবে।

২. শারীরিক ব্যায়াম:

সব ধরণের শারীরিক ব্যায়াম হজমশক্তিকে বাড়ায় না বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। মেটাবলিজম বা হজমশক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ মানুষের কোমরের দিকটায় বা ডায়াফ্রামের উপর থেকে শুরু করে নিচ পর্যন্ত থাকে বলে জানান তারা। তাদের মতে, যেসব ব্যায়াম শরীরের মাঝের অংশের কর্মকাণ্ড যত ভাল হবে হজম প্রক্রিয়া তত সুন্দর হবে।

শরীরের মাঝের অংশের কর্মকাণ্ড বাড়াতে হলে বিশেষ ধরণের কিছু ব্যায়াম করতে হবে। যেমন, চেয়ারে বসার ক্ষেত্রে রিভলভিং চেয়ার ব্যবহার করলে শরীরের নড়াচড়া সহজ হয়। একই সাথে বসার ক্ষেত্রে যদি টুইস্টিং পদ্ধতি অর্থাৎ শরীরের উপরের অংশ একদিকে এবং নিচের অংশ আরেক দিকে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে হজম প্রক্রিয়া ভাল হয়।

এছাড়া কিছু ব্যায়াম করা যায়। যেমন, শুয়ে ৯০ ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে দুই পা উঁচু করে রাখতে হবে এবং পা দুটি চক্রাকারে অর্থাৎ বাম থেকে ডানে এবং ডান থেকে বামে ঘোরাতে হবে। এটা খুব ভাল কাজ করে।

স্পট জগিং বা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি জগিং করা যায় বা হালকা করে লাফানো-এ ধরণের ব্যায়ামও খুব উপকারী।

ছবির ক্যাপশান,

পুষ্টিবিদরা বলছেন, শরীরের মাঝের অংশে চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম হজমপ্রক্রিয়াকে সহজতর করে।

৩. খাবার:

হজমশক্তি সবল করতে হলে খাবারের প্রকারটা বুঝতে হবে। যেমন খাবারে যদি শাক থাকে তাহলে সেটি অবশ্যই তেল দিয়ে রান্না করতে হবে। আবার মাংস জাতীয় কিছু খেলে সাথে যাতে লেবু থাকে সেটি খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া প্রতিবার খাওয়া শেষ করে অল্প পরিমাণ লেবু-পানি খেলে সেটি হজমের ক্ষেত্রে খুব ভাল কাজ করে। এছাড়া খাবার খাওয়া শুরু করার আগে জিহ্বাতে অল্প একটু লবণ স্পর্শ করিয়ে খাবার খেলে সেটিও হজমে সাহায্য করে।

এছাড়া গাট ব্যাকটেরিয়া যা হজম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে সেগুলো বেশি খাওয়া যেতে পারে। প্রাকৃতিক ভাবে এই ব্যাকটেরিয়ার সবচেয়ে ভাল উৎস হচ্ছে দই।

ডা. তাসনিম হাসিন পাপিয়া বলেন, "যাদের হজমে সমস্যা হয় তাদের জন্য ইয়োগার্ট থেরাপি বা দই খাওয়াটা উপকারী হতে পারে।"

তিনি বলেন, দিনের কোন একটা সময় দেড়শ থেকে দুইশ এমএল দই খাওয়া যেতে পারে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম:

রাত জেগে থাকাটা হজমের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে বলে জানান পুষ্টিবিদরা। পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার বলেন, রাতের বেলা এমনিতেই পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। সেই সাথে রাতের বেলা ফুসফুসের বেশিরভাগ অংশ অব্যবহৃত থাকে।

যার কারণে পুরোপুরি শ্বাস নেয়া সম্ভব হয় না। আর জেগে থাকলে মানুষের সব ইন্দ্রিয় কাজ করে বলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় যা হজম প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণেই হজমশক্তিকে বাড়াতে হলে বা একে বেশি কর্মক্ষম করতে হলে রাতে ঘুমানো জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

৫. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম:

পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার বলেন, শারীরিক বিভিন্ন ক্রিয়া কতটা ভালভাবে কাজ করবে তা অনেকটাই নির্ভর করে যে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেনের সরবরাহ আছে কিনা। আর হজম বা শোষণ প্রক্রিয়ার জন্যও অক্সিজেনের বিকল্প নেই। সে কারণেই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করাটা জরুরী বলে মনে করেন এই পুষ্টিবিদ। তিনি বলেন, নাক দিয়ে লম্বা করে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে লম্বা করে শ্বাস ছাড়লে দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে। যাতে হজম সহজ হয়।






আমরা প্রায়ই ভাবি— “এ তো শুধু একটা সিট! এর আবার কী মানে?” কিন্তু মনোবিজ্ঞানে বলা হয়, মানুষের কোনো পছন্দই পুরোপুরি হঠাৎ নয়।

 আপনি যেখানে বসতে চান,

সেখানে লুকিয়ে থাকে আপনার—

 নিরাপদ থাকার অজানা চাহিদা

 মানুষের কাছে আসার বা দূরে থাকার মন

 নিজের উপর বিশ্বাসের পরিমাণ

 নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ইচ্ছা

 আর একাকীত্ব বনাম সংযোগের ভেতরের দ্বন্দ্ব

একটা সিট বাছাই মানে শুধু জায়গা বাছাই নয়—

এটা আসলে বলে দেয়, এই মুহূর্তে আপনার মন কী চাইছে।

চলুন দেখি—


  নম্বর সিট

আপনি নিরাপত্তা ও স্থিরতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। হঠাৎ পরিবর্তন, অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আপনি দ্রুত মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

এই পছন্দের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই মানুষদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায়—

 নিরাপত্তা ও স্থিরতা খুব গুরুত্বপূর্ণ

 অনিশ্চয়তা বা হঠাৎ পরিবর্তনে অস্বস্তি

 অভিজ্ঞ বা দায়িত্বশীল মানুষের পাশে থাকলে স্বস্তি

 বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেকবার ভাবেন

 ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা

 শৈশবে অস্থিরতা বা বাড়তি দায়িত্ব থাকলে এই প্রবণতা তৈরি হয়

 সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য, কিন্তু সাবধানী

 ভেতরে ভেতরে আশ্বাস ও ভরসার চাহিদা বেশি

 শৈশবে যদি অস্থির পরিবেশ, অনিশ্চয়তা বা অল্প বয়সে দায়িত্ব নিতে হয়ে থাকে, এই প্রবণতা তৈরি হতে পারে।


  নম্বর সিট

আপনি নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চান না।

আপনার মনে হয়— “আমি এখানে আছি, এটা মানুষ দেখুক।” মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটি আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ।

এই মানুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়—

 নিজের উপস্থিতি মানুষ লক্ষ্য করুক—এটা ভালো লাগে

 আত্মবিশ্বাস তুলনামূলক ভালো

 কথা বলা ও নিজেকে প্রকাশ করতে স্বচ্ছন্দ

 সামাজিক পরিবেশে এনার্জি পান

 প্রশংসা পেলে আরও ভালো কাজ করেন

 সম্পর্কের মধ্যে মূল্যায়ন চান

 অবহেলা বা উপেক্ষায় দ্রুত কষ্ট পান

 শৈশবে অবহেলা থাকলে এই চাহিদা বেশি হতে পারে

 অবহেলা বা উপেক্ষা আপনাকে দ্রুত আঘাত করে, বিশেষত যদি ছোটবেলায় তা অনুভব করে থাকেন।


  নম্বর সিট

আপনি দায়িত্ব নিতে জানেন, কিন্তু সেটার মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়— আগলে রাখা। মনোবিজ্ঞানে একে বলা যায় 𝙥𝙧𝙤𝙩𝙚𝙘𝙩𝙞𝙫𝙚 𝙥𝙚𝙧𝙨𝙤𝙣𝙖𝙡𝙞𝙩𝙮।

এই মানুষদের বৈশিষ্ট্য—

 দায়িত্ব নিতে স্বাভাবিক ঝোঁক

 প্রিয় মানুষকে আগলে রাখার মানসিকতা

 ক্ষমতার চেয়ে সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ

 নিজের কষ্ট চেপে রেখে অন্যকে সাহায্য করেন

 পরিবারকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা

 সহজে “না” বলতে পারেন না

 দীর্ঘদিন দিতে দিতে মানসিক ক্লান্তি আসে

 ভেতরে ভেতরে স্বীকৃতির চাহিদা থাকে

 দীর্ঘদিন এভাবে দিলে মানসিক ক্লান্তি আসে এবং ভেতরে ভেতরে স্বীকৃতির অভাব অনুভূত হয়।


  নম্বর সিট

আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাধীনতা। কেউ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে বা নজর রাখছে—এই ভাবনাই আপনাকে অস্থির করে তোলে।

এই মানুষদের মধ্যে দেখা যায়—

 স্বাধীনতা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন

 নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি অপছন্দ

 নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চান

 আবেগের বাঁধনে চাপ অনুভব করেন

 সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখেন

 অতীতে বেশি নিয়ন্ত্রণে বড় হলে এই প্রবণতা আসে

 কাছে আসেন, কিন্তু বাঁধা পড়তে চান না

 বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা রাখতে স্বস্তি পান

 অতীতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে বড় হলে এই প্রবণতা গড়ে ওঠে।


  নম্বর সিট

আপনি মানসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং পরিস্থিতি বুঝে চলতে পারেন। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় 𝙚𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡𝙡𝙮 𝙧𝙚𝙜𝙪𝙡𝙖𝙩𝙚𝙙 𝙥𝙚𝙧𝙨𝙤𝙣𝙖𝙡𝙞𝙩𝙮।

এই মানুষদের মধ্যে দেখা যায়—

 ঝামেলা ও নাটক এড়িয়ে চলেন

 𝙚𝙭𝙩𝙧𝙚𝙢𝙚𝙨 এ না গিয়ে মাঝামাঝি পথ খোঁজেন

 পরিস্থিতি বুঝে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন

 আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ভালো

 দ্বন্দ্ব হলে শান্ত থাকার চেষ্টা করেন

 নিজের কষ্ট অনেক সময় প্রকাশ করেন না

 সবাইকে বুঝতে গিয়ে নিজেকে ভুলে যান

 শান্ত পরিবেশে সবচেয়ে ভালো থাকেন

 তবে নিজের কষ্ট প্রকাশ না করার প্রবণতায় আপনি কখনো কখনো নিজেকে ভুলে যান।


  নম্বর সিট

আপনার মন খুব সংবেদনশীল এবং সহানুভূতিশীল।

এই পছন্দের সঙ্গে যুক্ত থাকে—

এই ধরনের মানুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়—

 অন্যের আবেগ সহজেই বুঝে ফেলেন

 মানুষকে খুশি রাখতে চান

 নিজের চাহিদা পিছিয়ে দেন

 সম্পর্কের জন্য অনেক ত্যাগ করেন

 “সবাই ভালো থাকুক”—এই চিন্তায় নিজেকে ভুলে যান

 সীমা না টানলে মানসিকভাবে ক্ষয়ে যান

 অপরাধবোধে ভোগার প্রবণতা

 প্রশংসা না পেলে নিজেকেই দোষ দেন

 প্রশংসা না পেলে নিজেকেই দোষ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।


  নম্বর সিট

আপনি আগে পর্যবেক্ষণ করেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেন।

আপনার মন সহজে খুলে যায় না—এটা আত্মরক্ষার কৌশল। মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটি 𝙨𝙚𝙡𝙛-𝙥𝙧𝙤𝙩𝙚𝙘𝙩𝙞𝙤𝙣।

এই মানুষদের বৈশিষ্ট্য—

 সহজে কাউকে বিশ্বাস করেন না

 ভেতরে ভেতরে অনেক চিন্তা করেন

 আবেগ প্রকাশে সংযত

 অতীতে আঘাত পেলে এই প্রবণতা দেখা যায়

 কম মানুষকে কাছে আনেন

 কিন্তু যাকে আনেন—গভীরভাবে আনেন

 সম্পর্ক হলে স্থায়ী ও গভীর হয়

 নিজেকে রক্ষা করার প্রবণতা বেশি

 অতীতে আঘাত পেলে এই প্রবণতা আরও দৃঢ় হয়।


  নম্বর সিট

আপনার জীবনে সম্পর্ক ও সংযোগ খুব প্রয়োজন।

এই মানুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়—

 সম্পর্ক ও সংযোগ খুব প্রয়োজন

 মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে

 হাসিখুশি ও আবেগপ্রবণ

 একাকীত্ব সহ্য করতে কষ্ট হয়

 কাছের মানুষই শক্তি

 অবহেলায় দ্রুত ভেঙে পড়েন

 আবেগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা

 ভালোবাসা পেলে খুব উজ্জ্বল থাকেন

 অবহেলা হলে আপনি দ্রুত ভেঙে পড়তে পারেন এবং আবেগে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


  নম্বর সিট

আপনি বাস্তববাদী, স্থির ও মাটিতে পা রাখা মানুষ।

মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই মানুষরা—

 অযথা নাটক পছন্দ করেন না

 বাহ্যিক বাহবা খুব দরকার নেই

 নিজের সীমা ও সামর্থ্য জানেন

 চাপের মধ্যে স্থির থাকতে পারেন

 আবেগ নিয়ন্ত্রণ ভালো

 সম্পর্কেও বাস্তব প্রত্যাশা রাখেন

 জীবন গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসেন

 নিজের মূল্য নিজেই বোঝেন

 আপনি নিজের মূল্য নিজেই বোঝেন।


  নম্বর সিট

আপনি নেতৃত্ব নিতে ভয় পান না এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল।

এই প্রবণতা আসে 𝙝𝙞𝙜𝙝 𝙨𝙚𝙡𝙛-𝙗𝙚𝙡𝙞𝙚𝙛 থেকে।

এই মানুষদের মধ্যে দেখা যায়—

 নিজের উপর প্রবল ভরসা

 সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা

 নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চান

 মানুষের নজরে থাকতে অস্বস্তি নেই

 দুর্বলতা প্রকাশ করতে চান না

 অন্যদের কাছে কখনো কঠিন মনে হতে পারেন

 দায়িত্বের চাপ ভেতরে ভেতরে বহন করেন

 একা হলেও সিদ্ধান্তে অটল থাকেন

 আপনার দৃঢ় অবস্থান অনেক সময় অন্যদের কাছে কঠিন মনে হতে পারে, যদিও উদ্দেশ্য নেতিবাচক নয়।



একজন মানুষ এক সময়ে এক সিট,

আরেক সময়ে অন্য সিট বেছে নিতে পারে।

কারণ—

 সিট বদলায় না

 মনের চাহিদা বদলায়

নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সম্পর্ক, নাকি নিজের জায়গা—

এই মুহূর্তে আপনার মন যেটা চাইছে,

এই পছন্দ সেটাই প্রকাশ করছে। @ Counselling Psychologist 



৪৮টি পয়েন্ট সচেতনতার মানচিত্র— 

 𝙉𝙚𝙫𝙚𝙧 𝙊𝙪𝙩𝙨𝙝𝙞𝙣𝙚 𝙩𝙝𝙚 𝙈𝙖𝙨𝙩𝙚𝙧 অর্থ: সবসময় উর্ধ্বতনদের নিরাপদ অনুভব করান।

 মনস্তত্ত্ব: অনেক 𝙖𝙪𝙩𝙝𝙤𝙧𝙞𝙩𝙮 𝙛𝙞𝙜𝙪𝙧𝙚 নিজের অবস্থান বা অহং হুমকির মুখে পড়লে প্রতিরোধমূলক ও প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ করে। এটি 𝙞𝙣𝙨𝙚𝙘𝙪𝙧𝙞𝙩𝙮-𝙙𝙧𝙞𝙫𝙚𝙣 𝙥𝙤𝙬𝙚𝙧 𝙧𝙚𝙨𝙥𝙤𝙣𝙨𝙚।


 𝙉𝙚𝙫𝙚𝙧 𝙋𝙪𝙩 𝙏𝙤𝙤 𝙈𝙪𝙘𝙝 𝙏𝙧𝙪𝙨𝙩 𝙞𝙣 𝙁𝙧𝙞𝙚𝙣𝙙𝙨, 𝙇𝙚𝙖𝙧𝙣 𝙩𝙤 𝙐𝙨𝙚 𝙀𝙣𝙚𝙢𝙞𝙚𝙨 অর্থ: অন্ধ বিশ্বাস ঝুঁকিপূর্ণ; বিরোধীরাও কখনো কখনো বেশি হিসেবি ও নির্ভরযোগ্য হতে পারে।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙀𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙖𝙩𝙩𝙖𝙘𝙝𝙢𝙚𝙣𝙩 বিচারবুদ্ধিকে দুর্বল করে, পক্ষপাত তৈরি করে এবং বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা কমায়।


 𝘾𝙤𝙣𝙘𝙚𝙖𝙡 𝙔𝙤𝙪𝙧 𝙄𝙣𝙩𝙚𝙣𝙩𝙞𝙤𝙣𝙨 অর্থ: সব পরিকল্পনা সবার সঙ্গে ভাগ করা নিরাপদ নয়।

 মনস্তত্ত্ব: অতিরিক্ত খোলামেলা হলে মানুষ সহজেই আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া বদলে ফেলতে পারে বা সুবিধা নিতে পারে।


 𝘼𝙡𝙬𝙖𝙮𝙨 𝙎𝙖𝙮 𝙇𝙚𝙨𝙨 𝙏𝙝𝙖𝙣 𝙉𝙚𝙘𝙚𝙨𝙨𝙖𝙧𝙮 অর্থ: প্রয়োজনের বেশি কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 মনস্তত্ত্ব: নীরবতা অন্যদের মধ্যে 𝙪𝙣𝙘𝙚𝙧𝙩𝙖𝙞𝙣𝙩𝙮 তৈরি করে, যা অনেক সময় 𝙥𝙤𝙬𝙚𝙧 𝙞𝙢𝙗𝙖𝙡𝙖𝙣𝙘𝙚 তৈরি করে।


 𝙂𝙪𝙖𝙧𝙙 𝙔𝙤𝙪𝙧 𝙍𝙚𝙥𝙪𝙩𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 অর্থ: আপনার সামাজিক ভাবমূর্তি আপনার বাস্তবতার সমান শক্তিশালী।

 মনস্তত্ত্ব: মানুষ আচরণ বিশ্লেষণের চেয়ে ইমেজের ওপর বেশি নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়।


 𝘾𝙤𝙪𝙧𝙩 𝘼𝙩𝙩𝙚𝙣𝙩𝙞𝙤𝙣 𝙖𝙩 𝘼𝙡𝙡 𝘾𝙤𝙨𝙩𝙨 অর্থ: দৃশ্যমানতা প্রভাব তৈরি করে।

 মনস্তত্ত্ব: মানুষের মস্তিষ্ক যা বেশি দেখে, তাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাবান ধরে নেয় (𝙖𝙫𝙖𝙞𝙡𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 𝙗𝙞𝙖𝙨)।


 𝙂𝙚𝙩 𝙊𝙩𝙝𝙚𝙧𝙨 𝙩𝙤 𝘿𝙤 𝙩𝙝𝙚 𝙒𝙤𝙧𝙠 𝙛𝙤𝙧 𝙔𝙤𝙪 অর্থ: অনেক সময় আপনার কাজ অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙋𝙤𝙬𝙚𝙧 𝙙𝙮𝙣𝙖𝙢𝙞𝙘𝙨-এ 𝙘𝙧𝙚𝙙𝙞𝙩 ও 𝙚𝙛𝙛𝙤𝙧𝙩 সবসময় সমানভাবে ভাগ হয় না—এটা বোঝা আত্মরক্ষার জন্য জরুরি।


 𝙈𝙖𝙠𝙚 𝙋𝙚𝙤𝙥𝙡𝙚 𝘾𝙤𝙢𝙚 𝙩𝙤 𝙔𝙤𝙪 অর্থ: সবসময় নিজে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন নয়।

 মনস্তত্ত্ব: অতিরিক্ত 𝙖𝙫𝙖𝙞𝙡𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 𝙥𝙚𝙧𝙘𝙚𝙞𝙫𝙚𝙙 𝙫𝙖𝙡𝙪𝙚 কমিয়ে দেয়; 𝙙𝙞𝙨𝙩𝙖𝙣𝙘𝙚 আকর্ষণ বাড়ায়।


 𝙒𝙞𝙣 𝙏𝙝𝙧𝙤𝙪𝙜𝙝 𝘼𝙘𝙩𝙞𝙤𝙣𝙨, 𝙉𝙚𝙫𝙚𝙧 𝙏𝙝𝙧𝙤𝙪𝙜𝙝 𝙒𝙤𝙧𝙙𝙨 অর্থ: কাজ কথার চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য।

 মনস্তত্ত্ব: মানুষের মস্তিষ্ক 𝙘𝙤𝙣𝙨𝙞𝙨𝙩𝙚𝙣𝙘𝙮-কে বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখে।


 𝘼𝙫𝙤𝙞𝙙 𝙩𝙝𝙚 𝙐𝙣𝙝𝙖𝙥𝙥𝙮 𝙖𝙣𝙙 𝙩𝙝𝙚 𝙐𝙣𝙡𝙪𝙘𝙠𝙮 অর্থ: নেতিবাচক মানসিকতা সংক্রামক।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙀𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙘𝙤𝙣𝙩𝙖𝙜𝙞𝙤𝙣-এর মাধ্যমে আশপাশের মানুষের আবেগ আমাদের উপর প্রভাব ফেলে।


 𝙈𝙖𝙠𝙚 𝙋𝙚𝙤𝙥𝙡𝙚 𝘿𝙚𝙥𝙚𝙣𝙙𝙚𝙣𝙩 𝙤𝙣 𝙔𝙤𝙪 অর্থ: অপরিহার্য হয়ে উঠলে প্রভাব বাড়ে।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘿𝙚𝙥𝙚𝙣𝙙𝙚𝙣𝙘𝙮 অনেক সময় 𝙢𝙖𝙣𝙞𝙥𝙪𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 ও 𝙘𝙤𝙣𝙩𝙧𝙤𝙡-এ রূপ নেয়—এটা বোঝা মানসিক সুরক্ষার জন্য জরুরি।


 𝙐𝙨𝙚 𝙎𝙚𝙡𝙚𝙘𝙩𝙞𝙫𝙚 𝙃𝙤𝙣𝙚𝙨𝙩𝙮 𝙖𝙣𝙙 𝙂𝙚𝙣𝙚𝙧𝙤𝙨𝙞𝙩𝙮

অর্থ: আংশিক সত্য ও সীমিত উদারতা বিশ্বাস তৈরি করতে পারে।

 মনস্তত্ত্ব: মানুষ ছোট সত্যের মাধ্যমে 𝙩𝙧𝙪𝙨𝙩 তৈরি করে, পরে বড় বিষয়েও বিশ্বাস করে ফেলে।


 𝘼𝙥𝙥𝙚𝙖𝙡 𝙩𝙤 𝙋𝙚𝙤𝙥𝙡𝙚’𝙨 𝙎𝙚𝙡𝙛-𝙄𝙣𝙩𝙚𝙧𝙚𝙨𝙩 অর্থ: মানুষ তখনই সাহায্য করে, যখন তাতে নিজের লাভ দেখে।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙎𝙚𝙡𝙛-𝙞𝙣𝙩𝙚𝙧𝙚𝙨𝙩 মানব আচরণের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি।


 𝙋𝙤𝙨𝙚 𝙖𝙨 𝙖 𝙁𝙧𝙞𝙚𝙣𝙙, 𝙒𝙤𝙧𝙠 𝙖𝙨 𝙖 𝙎𝙥𝙮 অর্থ: বন্ধুত্বের আড়ালে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

 মনস্তত্ত্ব: দুর্বল 𝙗𝙤𝙪𝙣𝙙𝙖𝙧𝙮 থাকলে মানুষ 𝙚𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙚𝙭𝙥𝙡𝙤𝙞𝙩𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣-এর শিকার হয়।


 𝘾𝙧𝙪𝙨𝙝 𝙔𝙤𝙪𝙧 𝙀𝙣𝙚𝙢𝙮 𝙏𝙤𝙩𝙖𝙡𝙡𝙮 অর্থ: প্রতিশোধের সুযোগ না রাখা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙀𝙭𝙩𝙧𝙚𝙢𝙚 𝙘𝙤𝙣𝙛𝙡𝙞𝙘𝙩 𝙢𝙞𝙣𝙙𝙨𝙚𝙩 দীর্ঘমেয়াদে 𝙩𝙧𝙖𝙪𝙢𝙖 ও ধ্বংসাত্মক আচরণ তৈরি করে।


 𝙐𝙨𝙚 𝘼𝙗𝙨𝙚𝙣𝙘𝙚 𝙩𝙤 𝙄𝙣𝙘𝙧𝙚𝙖𝙨𝙚 𝙍𝙚𝙨𝙥𝙚𝙘𝙩 𝙖𝙣𝙙 𝙃𝙤𝙣𝙤𝙧 অর্থ: উপস্থিতির অভাব অনেক সময় মূল্য বাড়ায়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙎𝙘𝙖𝙧𝙘𝙞𝙩𝙮 𝙚𝙛𝙛𝙚𝙘𝙩 মানুষের মস্তিষ্কে আকর্ষণ ও গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।


 𝘽𝙚 𝙐𝙣𝙥𝙧𝙚𝙙𝙞𝙘𝙩𝙖𝙗𝙡𝙚 অর্থ: আচরণে অতিরিক্ত পূর্বানুমেয় হবেন না।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙋𝙧𝙚𝙙𝙞𝙘𝙩𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 মানুষের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে; 𝙪𝙣𝙥𝙧𝙚𝙙𝙞𝙘𝙩𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 অন্যকে মানসিকভাবে সতর্ক ও অস্থির রাখে।


 𝘼𝙫𝙤𝙞𝙙 𝙄𝙨𝙤𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 অর্থ: সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙄𝙨𝙤𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 মানুষের 𝙫𝙪𝙡𝙣𝙚𝙧𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 বাড়ায়; 𝙨𝙤𝙘𝙞𝙖𝙡 𝙘𝙤𝙣𝙣𝙚𝙘𝙩𝙞𝙤𝙣 মানসিক নিরাপত্তা ও বাস্তবতা যাচাই করতে সাহায্য করে।


 𝙆𝙣𝙤𝙬 𝙒𝙝𝙤 𝙔𝙤𝙪’𝙧𝙚 𝘿𝙚𝙖𝙡𝙞𝙣𝙜 𝙒𝙞𝙩𝙝 অর্থ: কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলছেন, তা বোঝা জরুরি।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙀𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙞𝙣𝙩𝙚𝙡𝙡𝙞𝙜𝙚𝙣𝙘𝙚 ও 𝙥𝙚𝙧𝙨𝙤𝙣𝙖𝙡𝙞𝙩𝙮 𝙖𝙬𝙖𝙧𝙚𝙣𝙚𝙨𝙨 না থাকলে মানুষ সহজেই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।


 𝘿𝙤𝙣’𝙩 𝘾𝙤𝙢𝙢𝙞𝙩 𝙩𝙤 𝘼𝙣𝙮𝙤𝙣𝙚 অর্থ: অতি দ্রুত আবেগীয় প্রতিশ্রুতি দেবেন না।

 মনস্তত্ত্ব: অতিরিক্ত 𝙘𝙤𝙢𝙢𝙞𝙩𝙢𝙚𝙣𝙩 𝙖𝙪𝙩𝙤𝙣𝙤𝙢𝙮 কমায় এবং 𝙢𝙖𝙣𝙞𝙥𝙪𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣-এর সুযোগ তৈরি করে।


 𝙋𝙡𝙖𝙮 𝙩𝙝𝙚 𝙁𝙤𝙤𝙡 𝙩𝙤 𝘾𝙖𝙩𝙘𝙝 𝙩𝙝𝙚 𝙁𝙤𝙤l অর্থ: সব সময় নিজের দক্ষতা প্রকাশ করা বুদ্ধিমানের নয়।

 মনস্তত্ত্ব: মানুষের অহং তাকে আত্মতুষ্ট করে তোলে; এই অবস্থায় সে কম সতর্ক থাকে।


 𝙐𝙨𝙚 𝙎𝙪𝙧𝙧𝙚𝙣𝙙𝙚𝙧 𝙩𝙤 𝙂𝙖𝙞𝙣 𝙋𝙤𝙬𝙚𝙧 অর্থ: সাময়িকভাবে নত হওয়া কখনো কখনো কৌশল হতে পারে।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙎𝙩𝙧𝙖𝙩𝙚𝙜𝙞𝙘 𝙧𝙚𝙩𝙧𝙚𝙖𝙩 মানুষকে পরিস্থিতি বোঝার সময় দেয় এবং 𝙞𝙢𝙥𝙪𝙡𝙨𝙞𝙫𝙚 ক্ষতি এড়ায়।


 𝘾𝙤𝙣𝙘𝙚𝙣𝙩𝙧𝙖𝙩𝙚 𝙔𝙤𝙪𝙧 𝙁𝙤𝙧𝙘𝙚𝙨 অর্থ: শক্তি একাধিক জায়গায় ছড়াবেন না।

 মনস্তত্ত্ব: বিভক্ত মনোযোগ মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়; ফোকাস 𝙘𝙤𝙜𝙣𝙞𝙩𝙞𝙫𝙚 𝙘𝙤𝙣𝙩𝙧𝙤𝙡 শক্তিশালী করে।


 𝘽𝙚 𝙖 𝙋𝙚𝙧𝙛𝙚𝙘𝙩 𝘾𝙤𝙪𝙧𝙩𝙞𝙚𝙧 অর্থ: সামাজিক পরিবেশে সৌজন্য ও কূটনৈতিক আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙇𝙞𝙠𝙚𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 ও 𝙚𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙧𝙚𝙜𝙪𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।


 𝙍𝙚𝙞𝙣𝙫𝙚𝙣𝙩 𝙔𝙤𝙪𝙧𝙨𝙚𝙡𝙛 অর্থ: সময় ও পরিস্থিতির সাথে নিজেকে বদলাতে শিখুন।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙋𝙨𝙮𝙘𝙝𝙤𝙡𝙤𝙜𝙞𝙘𝙖𝙡 𝙛𝙡𝙚𝙭𝙞𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 মানসিক স্থিতি ও আত্মসম্মান রক্ষা করে।


 𝙆𝙚𝙚𝙥 𝙔𝙤𝙪𝙧 𝙃𝙖𝙣𝙙𝙨 𝘾𝙡𝙚𝙖𝙣 অর্থ: সরাসরি দোষ নিজের ঘাড়ে না নেওয়া হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘽𝙡𝙖𝙢𝙚-𝙨𝙝𝙞𝙛𝙩𝙞𝙣𝙜 একটি পরিচিত 𝙥𝙤𝙬𝙚𝙧 𝙩𝙖𝙘𝙩𝙞𝙘; সচেতন না হলে মানুষ 𝙜𝙪𝙞𝙡𝙩-𝙩𝙧𝙖𝙥-এ পড়ে।


 𝘾𝙧𝙚𝙖𝙩𝙚 𝙖 𝘾𝙪𝙡𝙩-𝙇𝙞𝙠𝙚 𝙁𝙤𝙡𝙡𝙤𝙬𝙞𝙣𝙜 অর্থ: অভিন্ন বিশ্বাস মানুষকে একত্রিত করে।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙂𝙧𝙤𝙪𝙥 𝙞𝙙𝙚𝙣𝙩𝙞𝙩𝙮 মানুষের 𝙘𝙧𝙞𝙩𝙞𝙘𝙖𝙡 𝙩𝙝𝙞𝙣𝙠𝙞𝙣𝙜 কমিয়ে দেয়—এখানেই 𝙢𝙖𝙣𝙞𝙥𝙪𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 শুরু হয়।


 𝘽𝙚 𝘽𝙤𝙡𝙙 অর্থ: আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি সম্মান আদায় করে।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘾𝙤𝙣𝙛𝙞𝙙𝙚𝙣𝙘𝙚 মানুষের কাছে 𝙘𝙤𝙢𝙥𝙚𝙩𝙚𝙣𝙘𝙚-এর প্রতীক হিসেবে ধরা পড়ে, যদিও তা সবসময় সত্য নাও হতে পারে।


 𝙋𝙡𝙖𝙣 𝙩𝙤 𝙩𝙝𝙚 𝙀𝙣𝙙 অর্থ: শুধু শুরু নয়, শেষটাও ভেবে এগোন।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘼𝙣𝙩𝙞𝙘𝙞𝙥𝙖𝙩𝙤𝙧𝙮 𝙩𝙝𝙞𝙣𝙠𝙞𝙣𝙜 মানুষকে 𝙚𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙨𝙝𝙤𝙘𝙠 ও ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচায়।


 𝙈𝙖𝙠𝙚 𝙎𝙪𝙘𝙘𝙚𝙨𝙨 𝙇𝙤𝙤𝙠 𝙀𝙛𝙛𝙤𝙧𝙩𝙡𝙚𝙨𝙨 অর্থ: পরিশ্রম আড়ালে রাখা হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙎𝙤𝙘𝙞𝙖𝙡 𝙘𝙤𝙢𝙥𝙖𝙧𝙞𝙨𝙤𝙣 মানুষকে নিজেকে কম মূল্যায়ন করতে বাধ্য করে।


 𝘾𝙤𝙣𝙩𝙧𝙤𝙡 𝙩𝙝𝙚 𝙊𝙥𝙩𝙞𝙤𝙣𝙨 অর্থ: সীমিত বিকল্প দিয়ে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙁𝙖𝙡𝙨𝙚 𝙘𝙝𝙤𝙞𝙘𝙚 মানুষের স্বাধীনতার অনুভূতি তৈরি করলেও বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।


 𝙋𝙡𝙖𝙮 𝙩𝙤 𝙋𝙚𝙤𝙥𝙡𝙚’𝙨 𝙁𝙖𝙣𝙩𝙖𝙨𝙞𝙚𝙨 অর্থ: কঠিন বাস্তবতার বদলে আকর্ষণীয় স্বপ্ন দেখানো হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙀𝙨𝙘𝙖𝙥𝙞𝙨𝙢 মানুষকে বাস্তবতা এড়াতে শেখায়, ফলে সে সহজে প্রভাবিত হয়।


 𝙁𝙞𝙣𝙙 𝙏𝙝𝙚𝙞𝙧 𝙒𝙚𝙖𝙠𝙣𝙚𝙨𝙨 অর্থ: মানুষের দুর্বল দিক শনাক্ত করা হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙀𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙫𝙪𝙡𝙣𝙚𝙧𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 𝙚𝙭𝙥𝙡𝙤𝙞𝙩 করা হলে মানুষ 𝙜𝙪𝙞𝙡𝙩, 𝙛𝙚𝙖𝙧 বা 𝙙𝙚𝙥𝙚𝙣𝙙𝙚𝙣𝙘𝙮-তে আটকে যায়—এটি গুরুতর মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।


 𝘼𝙘𝙩 𝙇𝙞𝙠𝙚 𝙖 𝙆𝙞𝙣𝙜 𝙩𝙤 𝘽𝙚 𝙏𝙧𝙚𝙖𝙩𝙚𝙙 𝙇𝙞𝙠𝙚 𝙊𝙣𝙚

অর্থ: নিজেকে সম্মান করলে অন্যরাও সম্মান করে।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙃𝙚𝙖𝙡𝙩𝙝𝙮 𝙨𝙚𝙡𝙛-𝙧𝙚𝙨𝙥𝙚𝙘𝙩 স্পষ্ট 𝙗𝙤𝙪𝙣𝙙𝙖𝙧𝙮 তৈরি করে; কিন্তু 𝙚𝙣𝙩𝙞𝙩𝙡𝙚𝙢𝙚𝙣𝙩 হলে তা 𝙣𝙖𝙧𝙘𝙞𝙨𝙨𝙞𝙨𝙢-এ রূপ নিতে পারে।


 𝙈𝙖𝙨𝙩𝙚𝙧 𝙩𝙝𝙚 𝘼𝙧𝙩 𝙤𝙛 𝙏𝙞𝙢𝙞𝙣𝙜 অর্থ: সঠিক সময়ে কথা বা কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙏𝙞𝙢𝙞𝙣𝙜 𝙚𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙞𝙢𝙥𝙖𝙘𝙩 নির্ধারণ করে; ভুল সময়ে সত্য কথাও প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে।


 𝙄𝙜𝙣𝙤𝙧𝙚 𝙒𝙝𝙖𝙩 𝙔𝙤𝙪 𝘾𝙖𝙣’𝙩 𝙃𝙖𝙫𝙚 অর্থ: যা পাওয়া যায় না, তা নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখানো।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘿𝙚𝙩𝙖𝙘𝙝𝙢𝙚𝙣𝙩 𝙚𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙧𝙚𝙜𝙪𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 বাড়ায় এবং 𝙤𝙗𝙨𝙚𝙨𝙨𝙞𝙫𝙚 চিন্তা কমায়।


 𝘾𝙧𝙚𝙖𝙩𝙚 𝙎𝙥𝙚𝙘𝙩𝙖𝙘𝙡𝙚𝙨 অর্থ: চমক ও নাটকীয়তা দিয়ে মনোযোগ ধরে রাখা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙊𝙫𝙚𝙧-𝙨𝙩𝙞𝙢𝙪𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣 মানুষের 𝙘𝙧𝙞𝙩𝙞𝙘𝙖𝙡 𝙩𝙝𝙞𝙣𝙠𝙞𝙣𝙜 দুর্বল করে এবং আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত বাড়ায়।


 𝙏𝙝𝙞𝙣𝙠 𝙁𝙧𝙚𝙚𝙡𝙮, 𝘽𝙚𝙝𝙖𝙫𝙚 𝙇𝙞𝙠𝙚 𝙊𝙩𝙝𝙚𝙧𝙨 অর্থ: ভেতরে আলাদা ভাবলেও বাহ্যিক আচরণে মিশে থাকা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙎𝙤𝙘𝙞𝙖𝙡 𝙘𝙤𝙣𝙛𝙤𝙧𝙢𝙞𝙩𝙮 নিরাপত্তা দেয়, তবে অতিরিক্ত হলে আত্মপরিচয় হারানোর ঝুঁকি থাকে।


 𝙎𝙩𝙞𝙧 𝙩𝙝𝙚 𝙒𝙖𝙩𝙚𝙧𝙨 𝙩𝙤 𝘾𝙖𝙩𝙘𝙝 𝙁𝙞𝙨𝙝 অর্থ: ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘾𝙝𝙖𝙤𝙨 মানুষের 𝙖𝙣𝙭𝙞𝙚𝙩𝙮 বাড়ায়; 𝙖𝙣𝙭𝙞𝙤𝙪𝙨 অবস্থায় মানুষ বেশি 𝙨𝙪𝙜𝙜𝙚𝙨𝙩𝙞𝙗𝙡𝙚 হয়।


 𝘿𝙚𝙨𝙥𝙞𝙨𝙚 𝙩𝙝𝙚 𝙁𝙧𝙚𝙚 𝙇𝙪𝙣𝙘𝙝 অর্থ: বিনামূল্যের পেছনে লুকানো শর্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙍𝙚𝙘𝙞𝙥𝙧𝙤𝙘𝙞𝙩𝙮 𝙥𝙧𝙚𝙨𝙨𝙪𝙧𝙚 মানুষকে অজান্তেই বাধ্যবাধকতায় ফেলে।


 𝘼𝙫𝙤𝙞𝙙 𝙁𝙞𝙡𝙡𝙞𝙣𝙜 𝙂𝙧𝙚𝙖𝙩 𝙎𝙝𝙤𝙚𝙨 অর্থ: অন্যের ছায়ায় না থেকে নিজের পথ তৈরি করা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘾𝙤𝙣𝙨𝙩𝙖𝙣𝙩 𝙘𝙤𝙢𝙥𝙖𝙧𝙞𝙨𝙤𝙣 𝙞𝙙𝙚𝙣𝙩𝙞𝙩𝙮 𝙘𝙤𝙣𝙛𝙪𝙨𝙞𝙤𝙣 ও 𝙨𝙚𝙡𝙛-𝙙𝙤𝙪𝙗𝙩 বাড়ায়।


 𝙎𝙩𝙧𝙞𝙠𝙚 𝙖𝙩 𝙩𝙝𝙚 𝙇𝙚𝙖𝙙𝙚𝙧 অর্থ: নেতৃত্ব দুর্বল হলে পুরো দল দুর্বল হয়।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙂𝙧𝙤𝙪𝙥 𝙙𝙮𝙣𝙖𝙢𝙞𝙘𝙨-এ 𝙡𝙚𝙖𝙙𝙚𝙧-𝙘𝙚𝙣𝙩𝙧𝙞𝙘 𝙥𝙤𝙬𝙚𝙧 𝙨𝙩𝙧𝙪𝙘𝙩𝙪𝙧𝙚 থাকে—এটা বোঝা আত্মরক্ষার জন্য জরুরি।


 𝙒𝙞𝙣 𝙃𝙚𝙖𝙧𝙩𝙨 𝙖𝙣𝙙 𝙈𝙞𝙣𝙙𝙨 অর্থ: আবেগকে স্পর্শ করে আনুগত্য তৈরি করা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙀𝙢𝙤𝙩𝙞𝙤𝙣𝙖𝙡 𝙖𝙥𝙥𝙚𝙖𝙡 যুক্তির চেয়ে দ্রুত বিশ্বাস তৈরি করে, তাই মানুষ সহজে প্রভাবিত হয়।


 𝙐𝙨𝙚 𝙩𝙝𝙚 𝙈𝙞𝙧𝙧𝙤𝙧 𝙀𝙛𝙛𝙚𝙘𝙩 অর্থ: অন্যের আচরণ প্রতিফলিত করা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙈𝙞𝙧𝙧𝙤𝙧𝙞𝙣𝙜 𝙚𝙢𝙥𝙖𝙩𝙝𝙮 তৈরির কৌশলও হতে পারে, আবার 𝙢𝙖𝙣𝙞𝙥𝙪𝙡𝙖𝙩𝙞𝙤𝙣-এর হাতিয়ারও হতে পারে।


 𝙋𝙧𝙚𝙖𝙘𝙝 𝘾𝙝𝙖𝙣𝙜𝙚 𝙂𝙧𝙖𝙙𝙪𝙖𝙡𝙡𝙮 অর্থ: হঠাৎ বড় পরিবর্তনের বদলে ধীরে পরিবর্তন আনা।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙎𝙪𝙙𝙙𝙚𝙣 𝙘𝙝𝙖𝙣𝙜𝙚 মানুষের 𝙩𝙝𝙧𝙚𝙖𝙩 𝙧𝙚𝙨𝙥𝙤𝙣𝙨𝙚 সক্রিয় করে; 𝙜𝙧𝙖𝙙𝙪𝙖𝙡 𝙘𝙝𝙖𝙣𝙜𝙚 𝙧𝙚𝙨𝙞𝙨𝙩𝙖𝙣𝙘𝙚 কমায়।


 𝘿𝙤𝙣’𝙩 𝘼𝙥𝙥𝙚𝙖𝙧 𝙏𝙤𝙤 𝙋𝙚𝙧𝙛𝙚𝙘𝙩 অর্থ: সামান্য দুর্বলতা দেখানো।

 মনস্তত্ত্ব: অতিরিক্ত নিখুঁততা অন্যের মধ্যে ঈর্ষা ও প্রতিরোধ তৈরি করে।


 𝙆𝙣𝙤𝙬 𝙒𝙝𝙚𝙣 𝙩𝙤 𝙎𝙩𝙤𝙥 অর্থ: কখন থামতে হবে, তা বোঝা জরুরি।

 মনস্তত্ত্ব: 𝙊𝙫𝙚𝙧-𝙘𝙤𝙣𝙩𝙧𝙤𝙡 ও 𝙤𝙫𝙚𝙧-𝙚𝙭𝙩𝙚𝙣𝙨𝙞𝙤𝙣 শেষ পর্যন্ত 𝙨𝙚𝙡𝙛-𝙨𝙖𝙗𝙤𝙩𝙖𝙜𝙚-এ রূপ নেয়।


 𝘽𝙚 𝙁𝙤𝙧𝙢𝙡𝙚𝙨𝙨 অর্থ: পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।

 মনস্তত্ত্ব: 𝘼𝙙𝙖𝙥𝙩𝙖𝙗𝙞𝙡𝙞𝙩𝙮 মানসিক শক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

@ Counselling Psychologist 





মানসিক সহনশীলতার ১১টি বৈজ্ঞানিক নীতি,

যা আপনার জীবনে গভীর পরিবর্তন এনে দিতে পারে।


 এক ধাপ করে সামনে এগিয়ে যান

জীবনে কঠিন সময় আসবেই—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কঠিনতা মানে থেমে যাওয়া নয়।

Resilience মানে হলো—ব্যথা, হতাশা বা ক্লান্তি সত্ত্বেও একটি ছোট কাজ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।


 খারাপ দিনেও এক ইমেল পাঠানো

 এক পাতা পড়া

 পাঁচ মিনিট হাঁটা

 ছোট কোনও কাজ শেষ করা


এই ছোট্ট পদক্ষেপগুলো মস্তিষ্কের Reward System সক্রিয় করে—ডোপামিন বাড়ায়—যা হতাশা থেকে মানুষকে বের করে আনে।

ধীরে ধীরে ছোট পদক্ষেপগুলোই বড় পরিবর্তন তৈরি করে।


 বিশ্বাস রাখুন—আপনি নিজের জীবন পরিবর্তন করতে পারেন

সহনশীল মানুষ নিজেদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে মনে করেন না। তারা জানেন— সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও, তারা নিজেদের মনোভাব, সিদ্ধান্ত, আচরণ এবং প্রচেষ্টা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।


এটাকে বলা হয় Internal Locus of Control —

যারা বিশ্বাস করে “আমার জীবনের দায়িত্ব আমার”, তারা বেশি সফল, শান্ত, এবং কম স্ট্রেসে থাকে।


আপনি যখন বিশ্বাস করবেন যে “আমি চাইলে আমার জীবন বদলাতে পারি”, তখন আপনি অজুহাত খোঁজা বন্ধ করবেন এবং সমাধান খোঁজা শুরু করবেন।


 জীবন বদলালে—পরিকল্পনাও বদলাতে হবে

কোনো পরিকল্পনাই ১০০% নিখুঁত ভাবে চলে না।

জীবনে চাকরি বদলাবে, মানুষ চলে যাবে, সম্পর্ক ভাঙবে, সুযোগ হারাবে—নতুন পথ আসবে।

Resilience মানে হলো—

স্থিতিস্থাপকতা, পরিবর্তনের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়া।

যখন কোনও পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, তখন প্রশ্ন করুন:

“ঠিক আছে, এবার নতুন কৌশল কী?” পরিকল্পনা বদলানো মানে হার মানা নয়— এটা আপনার পরিপক্বতার প্রমাণ।


 নিজের প্রয়োজন স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন

অনেক মানুষ কষ্টে ডুবে থাকে শুধু এজন্য যে তারা কথা বলে না। কেউই আপনার মনের কথা পড়ে ফেলতে পারবে না।

 সাহায্য চান

 নিজের সীমা জানিয়ে দিন

 নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করুন

 সম্পর্কগুলিতে স্পষ্টভাবে বলুন আপনি কী চান

সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়— এটা আত্মসম্মান এবং আত্ম-যত্ন।


 নতুন অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার জন্য খোলা মনে থাকুন

জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতা কিছু না কিছু শিখিয়ে যায়।

কষ্টও শেখায়—

ভালোবাসাও শেখায়—

ভুলও শেখায়।

যখন আপনি নতুন কিছু জানতে চান, নতুন দক্ষতা শিখতে চান, নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে চান— তখন মস্তিষ্কে নতুন Neural Pathway তৈরি হয়, যা মানসিক শক্তি বাড়ায়। জীবন কম ভয়ের লাগে কারণ আপনি জানেন— যা-ই আসুক, আপনি শিখে নিতে পারবেন।


 নিজের অনুভূতিগুলো সুস্থ উপায়ে প্রকাশ করুন

Resilience মানে অনুভূতি চাপা দেওয়া নয়।

মানুষ ভেঙে পড়ে যখন সে:

 না কাঁদে

 না বলে

 না লেখে

 না বোঝায়

 সব কিছু চেপে রাখে


সুস্থ উপায়ে আবেগ প্রকাশ মানে:

 বিশ্বাসযোগ্য কারও সাথে কথা বলা

 ডায়েরি লেখা

 হাঁটা

 কাঁদা

 নিজেকে শান্ত হওয়ার সময় দেওয়া

এরপর ঠাণ্ডা মাথায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া—

এইটাই Emotional Resilience।


 নতুন পরিস্থিতির সাথে নমনীয়ভাবে খাপ খাইয়ে নিন

জীবন সবসময় আপনাকে নতুন পরিস্থিতিতে ফেলে—

নতুন চাকরি, নতুন সম্পর্ক, নতুন মানুষ, নতুন নিয়ম।

যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন— “কেন এমন হলো?”

তাহলে কষ্টে থাকবেন।

যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন— “এবার মানিয়ে নেব কীভাবে?” তাহলে উন্নত হবেন। নমনীয় মানুষরা কম স্ট্রেসে থাকে এবং দ্রুত এগিয়ে যায়।


 নিজের শক্তিগুলো চিনুন এবং ব্যবহার করুন

প্রতিটি মানুষের ভেতরেই শক্তি আছে—

কিন্তু অনেকেই তা জানেই না।

 কেউ সমস্যার সমাধানে দক্ষ

 কেউ শান্ত থাকতে পারে

 কেউ শুনতে পারে

 কেউ কঠোর পরিশ্রম করতে পারে

যখন আপনি নিজের শক্তি জানেন, কঠিন সময়ে আপনি সেগুলোর উপর ভরসা করতে পারেন এবং নিজেকে মনে করাতে পারেন— “আমি পারব।” এটাই আত্মবিশ্বাসের আসল উৎস।


 নিজের এনার্জি রক্ষা করুন এবং পুনর্জীবিত করুন

সারা সময় ক্লান্ত থাকলে আপনি কখনোই সহনশীল হতে পারবেন না। আপনার শরীর–মন দুটোই এনার্জি চায়। তাই সময় দিন:

 ঘুম

 ব্যায়াম

 প্রকৃতি

প্রার্থনা বা মেডিটেশন

 হবি

 একান্ত সময়

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— যেখানে দরকার, “না” বলতে শিখুন। কারণ সব কিছু করা যায় না, কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর জন্য এনার্জি রাখা জরুরি।


 সমস্যাকে ভয় না পেয়ে সমাধানের দিকে এগিয়ে যান

জীবন সমস্যা থাকবেই, এটাই বাস্তব। কিন্তু সমস্যা এড়িয়ে গেলে তা আরও বড় হয়, আর সমাধান খুঁজলে তা ছোট হয়ে যায়।

Resilient মানুষ কী করে?

 সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে

 বিকল্প উপায় খোঁজে

 সেরা পদক্ষেপটি বেছে নেয়

এভাবে সমস্যা যত বেশি সমাধান করবেন, নিজের ওপর আস্থা তত বাড়বে: “যাই ঘটুক—আমি সামলে নেব।”


 একটি শক্তিশালী Support System তৈরি করুন

মানুষ একা বাঁচার জন্য তৈরি নয়। জীবন কঠিন হলে যাদের উপর ভরসা করা যায়— তারা হলো আপনার প্রকৃত সম্পদ।

 পরিবার

 বন্ধু

 পরামর্শদাতা

 সাপোর্টিভ কমিউনিটি

এই মানুষগুলো আপনাকে মনে করিয়ে দেয়—

“আপনি শক্তিশালী।” এটাই Resilience-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


 শেষ কথা—Resilience এমন একটি গাছ, যা আপনি প্রতিদিন একটু একটু করে বড় করেন -যে গাছের শিকড় হলো—

 আত্মবিশ্বাস

 নমনীয়তা

 অনুভূতি প্রকাশ

 অভিজ্ঞতা থেকে শেখা

 সাপোর্ট সিস্টেম

 ছোট ছোট পদক্ষেপ

 নিজেকে যত্ন

একদিন আপনি দেখবেন—

আপনার ভেতরের গাছ এতটাই বড় হয়েছে যে ঝড় এলেও আপনি টলে যাবেন, কিন্তু ভেঙে পড়বেন না।

এটাই প্রকৃত Resilience।


 আপনি যদি মানসিকভাবে ক্লান্ত, ভেঙে পড়া বা দিশেহারা অনুভব করেন— মনে রাখবেন এই পৃথিবীতে আপনি একা নন। প্রয়োজনে মনোবিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। @ Counselling Psychologist 






একটা আদর্শ ছাত্রের সারাদিনের রুটিন:


 সকাল (৫:৩০–৮:৩০)


৫:৩০ AM – ঘুম থেকে ওঠা ও স্নান

টাটকা মন এবং শরীর পেতে সকালে ঘুম থেকে ওঠা জরুরি।

দাঁত ব্রাশ, মুখ ধোয়া, হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন (১৫-২০ মিনিট)।

তারপর স্নান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া।


৬:৩০ AM – প্রাতঃরাশ ও পত্রিকা পড়া

স্বাস্থ্যকর প্রাতঃরাশ: দুধ, ডিম, ফল বা হালকা ভাত/রুটি।

দৈনিক খবর ও সাধারণ জ্ঞান বাড়ানোর জন্য ১৫ মিনিট পত্রিকা পড়া।


৭:০০ AM – পড়াশোনা (গুরুত্বপূর্ণ বিষয়)

সকাল বেলা মন সতেজ থাকে, তাই কঠিন বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ার জন্য এই সময় আদর্শ।


 সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা (স্কুল/কলেজ টাইম)

শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ সহকারে ক্লাস করা।

নোট নেওয়া ও প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে না কুণ্ঠানো।

শিক্ষকের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা।


 দুপুর ২টা–৪টা (বিরাম ও বিশ্রাম)

২:৩০ PM – দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম

পুষ্টিকর খাবার খাওয়া (ডাল-ভাত, সবজি, মাছ/ডিম)।

৩০-৪৫ মিনিট বিশ্রাম (ঘুম না হলে অন্তত চোখ বন্ধ করে থাকা)।


 বিকেল ৪টা–৬টা


৪:০০ PM – হোমওয়ার্ক/নোটস তৈরি

স্কুলে শেখা বিষয়গুলো ঝালিয়ে নেওয়া ও হোমওয়ার্ক শেষ করা।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সংক্ষিপ্ত নোটস তৈরি।


৫:৩০ PM – খেলা বা শরীরচর্চা

মাঠে খেলাধুলা করলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

না হলে হেঁটে আসা বা ঘরের বাইরে কিছুক্ষণ সময় কাটানো।


 সন্ধ্যা ৬টা–রাত ৯টা


৬:৩০ PM – হালকা নাস্তা ও পড়াশোনা (দ্বিতীয় দফা)

আগের দিনের পড়া রিভিশন, নতুন কিছু শেখা, বই পড়া।


৮:০০ PM – রাতের খাবার

হালকা ও সহজপাচ্য খাবার (রুটি-সবজি/হালকা ভাত)।


৮:৩০ PM – দিনের সারাংশ লিখে রাখা বা পড়ার সময়সূচি বানানো

আজ কী শিখলাম এবং কাল কী পড়ব—এটা লিখে রাখা দারুণ অভ্যাস।


 রাত ৯টা–১০টা


৯:০০ PM – নিজের সময়

১৫-২০ মিনিট নিজের পছন্দের কিছু করা (বই পড়া, গান শোনা, মায়ের সঙ্গে কথা বলা)।

তারপর ঘুমের প্রস্তুতি।


১০:০০ PM – ঘুমানো

৭-৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি, যাতে শরীর ও মন পুনরায় কর্মক্ষম হয়।


মানসিক প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?


 ১. আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে হবে:

প্রতিদিন কিছুটা চ্যালেঞ্জ নিতে হবে—মোবাইল কম দেখা, সকালে উঠা, অলসতা এড়ানো। প্রথমে কষ্ট হবে, কিন্তু ধৈর্য ধরে চালিয়ে গেলে অভ্যাসে পরিণত হবে।


 ২. নিজেকে ছোট করে না দেখে ধাপে ধাপে উন্নতি করা:

একদিনে "আদর্শ" হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন একটু করে ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।


 ৩. অনুপ্রেরণার উৎস তৈরি করতে হবে:

নিজের লক্ষ্য লিখে রাখুন, পছন্দের কারো মতো হতে চাইলে তার জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করুন।


 ৪. নিজের সময়কে ভালোবাসতে শিখুন:

সবার দিন ২৪ ঘণ্টা। যারা সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে জানে, তারাই এগিয়ে যায়।


রুটিন মেনে চললে কী কী লাভ হবে?


 ১. পড়াশোনার ফলাফল ভালো হবে

 ২. আত্মবিশ্বাস ও মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে

 ৩. ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে

 ৪. পরিবার ও শিক্ষকদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব

 ৫. সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা গড়ে উঠবে

 ৬. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে

 ৭. একঘেয়েমি বা হতাশা থেকে মুক্ত থাকা যাবে

 ৮. নিজের জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে

 ৯. অন্যদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার মতন একজন হওয়া যাবে


আদর্শ ছাত্র হওয়া মানে শুধু ভালো রেজাল্ট করা নয়, বরং নিজের সময়, শক্তি ও লক্ষ্যকে সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারা। একটি সুশৃঙ্খল রুটিন সেই পথেই এগিয়ে দেয়। আজ যদি একজন ছাত্র তার রুটিনকে গুরুত্ব দেয়, আগামী দিনে তার সাফল্য আর কেউ আটকাতে পারবে না।  @ Counselling Psychologist 





বাংলার ৭ রাজবংশ

বাংলার ইতিহাস বুঝতে হলে এখানকার শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা জানা জরুরি। প্রাচীন ও মধ্যযুগে বিভিন্ন রাজবংশের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি। বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রাচীন বাংলার রাজবংশ, তাদের শাসনকাল, অবদান ও বৈশিষ্ট্য থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই পরীক্ষার্থীদের জন্য বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন, বাংলার কয়েকটি রাজবংশের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মৌর্য সাম্রাজ্য

খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের হাত ধরে এ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্রাট অশোকের সময় উত্তরবঙ্গ (পুণ্ড্রবর্ধন) মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বগুড়ার মহাস্থানগড়ে পাওয়া ব্রাহ্মী লিপি মৌর্য শাসনের অন্যতম প্রমাণ। অশোক কলিঙ্গ যু*দ্ধের পর বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলে এই অঞ্চলেও ধর্মের প্রসার ঘটে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোও শক্তিশালী হয়।

গুপ্ত সাম্রাজ্য

চতুর্থ শতকে সমুদ্রগুপ্তের দিগ্বিজয়ের ফলে বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। গুপ্ত শাসনকালকে ভারতীয় উপমহাদেশের সোনালি যুগ বলা হয়। কারণ এ সময়েই সাহিত্য, বিজ্ঞান ও স্থাপত্যকলার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল। তবে ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গুপ্তদের পতনের পর রাজা শশাঙ্ক গৌড় জনপদে বাংলার প্রথম স্বাধীন-সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

পাল রাজবংশ

বাংলার ইতিহাসে দীর্ঘতম রাজবংশ হলো পাল বংশ। অষ্টম শতকে (৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ) অরাজকতা বা মাৎস্যন্যায় দূর করে জনগণের সমর্থনে গোপাল ক্ষমতায় বসেন। পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। রাজা ধর্মপাল পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার নির্মাণ করেন। পাল আমলেই বাংলার শিল্পকলা ও শিক্ষা আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।

সেন রাজবংশ

পালদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একাদশ শতকের শেষভাগে বিজয় সেন বাংলায় সেন রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা মূলত কর্ণাটক থেকে এসেছিলেন। সেন শাসকেরা ছিলেন হিন্দুধর্মের ক*ট্টর অনুসারী। তাঁদের আমলেই সমাজে কৌলীন্য প্রথা ও ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রাধান্য বাড়ে।  

দিল্লি সালতানাত

১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি নদীয়া আ*ক্রমণের মাধ্যমে লক্ষ্মণ সেনকে প*রাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। তিনি প্রথমে বিহারের ওদন্দবিহার জয় করেছিলেন। যদিও তিনি পুরো বাংলা দ*খল করতে পারেননি, তবে উত্তর ও পশ্চিমবাংলায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি তিনিই স্থাপন করেন।

স্বাধীন সুলতানি আমল

১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও পুরো বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ছিলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনপদগুলোকে একত্র করে নাম দেন ‘শামস-ই-বাঙালিয়ান’ বা ‘শাহ-ই-বাঙ্গালা’। তাঁর আমল থেকেই ‘বাঙ্গালা’ বা ‘বাঙালি’ পরিচয়টি সুসংহত হতে শুরু করে।

মুঘল শাসন ও সুবা বাংলা

১৫৭৬ সালে রাজমহলের যু*দ্ধে দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করে সম্রাট আকবর বাংলা জয় করলেও বারো ভূঁইয়াদের বাধার কারণে মুঘল শাসন পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগে। ১৬১০ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবাদার ইসলাম খান ঢাকাকে রাজধানী করার পর বাংলায় প্রকৃত মুঘল আধিপত্য শুরু হয়। মুঘলরা বাংলাকে বলত ‘জান্নাতাবাদ’ বা ‘ন*রকপুরী সমৃদ্ধিশালী’ (নেয়ামতপূর্ণ জাহা*ন্নাম)। @  জানা-অজানা 360




বাংলার প্রধান শাসনামল এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাসকের নাম জেনে নেওয়া যাক:

প্রাচীন যুগ:

শশাঙ্ক: শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক। তিনি গৌড়ের রাজা হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন এবং আনুমানিক ৫৯০ থেকে ৬২৫ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। শশাঙ্ক বাংলাকে একটি শক্তিশালী এবং স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক যুদ্ধ করেছিলেন।

পাল বংশ: পাল বংশ বাংলার অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশ ছিল। আনুমানিক অষ্টম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই বংশ বাংলা শাসন করেছিল। পাল রাজাদের মধ্যে ধর্মপাল এবং দেবপাল অন্যতম বিখ্যাত শাসক ছিলেন। তাঁদের সময়ে পাল সাম্রাজ্য অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

সেন বংশ: পাল বংশের পতনের পর সেন বংশ বাংলার শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে। দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন রাজারা বাংলা শাসন করেছিলেন। সেন রাজাদের মধ্যে বিজয় সেন এবং লক্ষ্মণ সেন অন্যতম বিখ্যাত শাসক ছিলেন। লক্ষ্মণ সেনের সময়ে বাংলার সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের বিকাশ ঘটেছিল।

সুলতানি ও মধ্যযুগ:

তুর্কি শাসন: ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর নেতৃত্বে বাংলায় তুর্কি শাসন শুরু হয়। বখতিয়ার খলজী লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা জয় করেছিলেন। তুর্কি শাসনের শুরুতে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বাধীন সুলতানি আমল: তুর্কি শাসনের পর বাংলায় কয়েক শতাব্দী ধরে স্বাধীন সুলতানি আমল চলে। এই সময়ে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ, আলাউদ্দিন হোসেন শাহের মতো বিখ্যাত সুলতানরা বাংলা শাসন করেছিলেন। তাঁদের সময়ে বাংলায় স্থাপত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল।

বারো ভূঁইয়া: স্বাধীন সুলতানি আমলের শেষের দিকে বাংলার কিছু অংশে বারো ভূঁইয়াদের আধিপত্য গড়ে ওঠে। বারো ভূঁইয়ারা ছিলেন বাংলার স্থানীয় জমিদার এবং শাসকরা। তাঁরা মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য বাংলাকে স্বাধীন রাখতে পেরেছিলেন।

মুঘল আমল:

সুবাহদাররা: সতেরো শতাব্দীর শুরুতে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলাকে জয় করেন। মুঘলরা বাংলাকে একটি সুবাহ বা প্রদেশ হিসেবে শাসন করত। মুঘল সুবাহদাররা যেমন শায়েস্তা খান, মীর জুমলা বাংলা শাসন করেছিলেন। তাঁদের সময়ে বাংলায় কৃষি, শিল্প এবং বাণিজ্যের বিকাশ ঘটেছিল।

স্বাধীন নবাবরা: আঠারো শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলার সুবাহদাররা স্বাধীনভাবে রাজত্ব শুরু করেন। মুর্শিদ কুলি খান ছিলেন প্রথম স্বাধীন নবাব। তাঁর পরে আলীবর্দী খান এবং সিরাজউদ্দৌলা বাংলা শাসন করেছিলেন। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হন।

ঔপনিবেশিক আমল:

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি: পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে। লর্ড ক্লাইভ ছিলেন বাংলার প্রথম ব্রিটিশ গভর্নর। কোম্পানি বাংলার রাজস্ব আদায় এবং বাণিজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

ব্রিটিশ রাজ: ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি বাংলার শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১৯ ৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজ বাংলা শাসন করেছিল। এই সময়ে বাংলায় পশ্চিমা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আইনের প্রচলন ঘটেছিল।

বাংলার ইতিহাস অনেক বৈচিত্র্যময় এবং আকর্ষণীয়। বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন শাসক এবং রাজবংশের শাসনে বাংলা উন্নত হয়েছে এবং অনেক কিছু শিখেছে।




কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না? অকারণে সময় ন'ষ্ট হচ্ছে? তাহলে আজ থেকেই ৫ সেকেন্ড রুল অনুসরণ করুন।

৫ সেকেন্ড রুল কি?

কোনো কাজ শুরু করার আগে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আপনার কাছে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় থাকে! বাস্তবে আমাদের ব্রেন খুব কমফোর্টেবল জোনে থাকতে চায়। আমরা যাতে রিলাক্সে থাকি, আনন্দ ফুর্তি করি, তার জন্য ব্রেন আমাদের সারাক্ষণ প্ররোচিত করে।

আমরা যখন বিশ্রাম করি, কিংবা যখনই মজার খাবার খাই বা ফানি ভিডিও দেখি, তখন ব্রেনে ডুপামিন নামক কেমিক্যাল রিলিজ হয়। ফলে আমাদের মধ্যে একটা আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়।

এই অবস্থা থেকে বের হবার জন্য আপনার কিছুটা এক্টিভ এনার্জির প্রয়োজন হয়, যেটা আপনাকে তখনই কাজ শুরু করতে বাধ্য করবে। কিন্তু আপনার ব্রেন চায় না আপনি ওই এনার্জিটা খরচ করেন। তাই, কাজটি না করার জন্য  ব্রেন অসংখ্য অজুহাত তৈরি করে, কাজ করার সময় কি কি সমস্যা হতে পারে তা বড় করে দেখায়। তত্ত্বটি দিয়েছেন মার্কিন লেখক মেল রবিনস।

ব্রেনের এই অজুহাত বন্ধ করার জন্য ৫ সেকেন্ডের জন্য সচেতন হয়ে যান। নিজেকে বলুন, "ইয়েস, এক্ষুণি এই মুহূর্তে আমি এটা করবো।" কোনো কাজ যদি ৫ সেকেন্ডের মধ্যে শুরু না করেন, তাহলে আপনার ব্রেন আপনার সাথে ট্রিকস্ খেলতে শুরু করবে।

আপনার মনে হবে, ঠিক আছে, আর দশ মিনিট যাক, সময় তো আর চলে যাচ্ছে না! এতে দেখা যায় আপনি দশ মিনিটের বদলে এক ঘন্টা সময় পার করে দিয়েছেন, কিন্তু কাজ শুরু করতে পারেননি।

ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন, আজ থেকে প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে হাঁটবেন। ভোরে যখন আপনার ঘুম ভাঙল আপনি ভাবলেন, একটু পরেই না হয় বের হই, সকালে না হেঁটে বিকেলে হাঁটলেও তো অসুবিধা নেই! আমি নিশ্চিত থাকুন, বিকেলেও আপনার ব্রেন কোনো না কোনো অজুহাত তৈরি করবেই। এর থেকে মুক্তির সহজ উপায় হচ্ছে ঘুম ভে'ঙে যাওয়ার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে হাঁটতে বেরিয়ে যাওয়া।

সারাদিনে আপনার সামনে এরকম অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে এক্টিভ এনার্জি প্রয়োগ করার প্রয়োজন পড়ে। সেজন্য কোনো কাজ করতে সিদ্ধান্ত নেবার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে কাজটি শুরু করে দিন। যদি আপনি এটা বার বার করতে থাকেন, তখন এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে। ভুলবেন না, আপনার সাফল্য অর্জনের পথে অলসতাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাধা। -সংগৃহীত।







মানুষ হিসেবে আমরা পৃথিবীতে ৩ লক্ষ বছর ধরে থাকলেও, আমরা লিখতে শিখেছি মাত্র ৫,০০০ বছর আগে। অর্থাৎ আমাদের ইতিহাসের ৯৮% সময় সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো লিখিত দলিল নেই!

প্রত্নতাত্ত্বিকরা ইরাকের প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতা (Mesopotamia) থেকে কিছু মাটির চাকতি বা ট্যাবলেট খুঁজে পেয়েছেন। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এগুলো ৫,০০০ বছর পুরনো। সেখানে বিশেষ কিছু চিহ্ন খোদাই করা ছিল। এটাই হলো পৃথিবীর প্রথম "লিপি" যাকে বলা হয় কিউনিফর্ম (Cuneiform)।

প্রায় একই সময়ে মিশরেও হায়ারোগ্লিফিক্স (Hieroglyphics) বা চিত্রলিপি শুরু হয়েছিল। তবে এর আগেও মানুষ চিহ্ন ব্যবহার করত।প্রায় ৩০-৪০ হাজার বছর আগেও মানুষ গুহার দেয়ালে পশুর ছবি আঁকত। কিন্তু একে ঠিক লেখা বলা যায় না। কেননা, একটি মহিষের ছবি দেখে শুধু 'মহিষ' বোঝানো যায়। কিন্তু "আমি গতকাল তিনটি মহিষ শিকার করেছি এবং কাল আমি বাজারে যাব"—এই জটিল বাক্যটি শুধু ছবি দিয়ে বোঝানো সম্ভব ছিল না।যখন মানুষ নির্দিষ্ট শব্দের জন্য নির্দিষ্ট চিহ্ন ঠিক করল, তখনই সেটা "লেখা" হয়ে উঠল। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনটি ঘটেছিল মাত্র ৫,০০০ বছর আগে।

বিষয় টা অনেকটা এরকম, একটি ২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে মানব ইতিহাসকে সাজানো হলো। তাহলে আমরা লিখতে শিখেছি মাত্র রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে! অর্থাৎ দিনের শেষ ১২ মিনিটেই আমাদের জানা সমস্ত লিখিত ইতিহাস সীমাবদ্ধ।





ম্পর্কটি টক্সিক?


সব সম্পর্কেই ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু যখন কোনো সম্পর্কে বারবার এমন আচরণ দেখা যায় যা মানসিকভাবে ক্লান্ত করে, আত্মসম্মানকে আঘাত করে বা নিজের মতো করে বাঁচার জায়গা কমিয়ে দেয়, তখন সম্পর্কটি ধীরে ধীরে টক্সিক হয়ে উঠতে পারে।

কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলে বোঝা যায় সম্পর্কটি স্বাস্থ্যকর নয়:

১. বারবার অসম্মান করা

কথার মাধ্যমে ছোট করা, অপমান করা বা অন্যদের সামনে হেয় করা।

২. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা

কোথায় যাবেন, কার সাথে কথা বলবেন, কী করবেন এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া।

৩. সব দোষ আপনার ওপর চাপানো

যেকোনো সমস্যার জন্য সবসময় আপনাকেই দায়ী করা।

৪. মানসিকভাবে ক্লান্ত লাগা

সম্পর্কে থাকার পর শান্তি পাওয়ার বদলে সবসময় চাপ, দুশ্চিন্তা বা অস্বস্তি অনুভব হওয়া।

৫. নিজের মতো থাকতে না পারা

নিজের মতামত, পছন্দ বা অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় লাগা।

৬. বারবার একই কষ্টদায়ক আচরণ

একই সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরও কোনো পরিবর্তন না হওয়া।

সুস্থ সম্পর্কে সম্মান, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে। যদি কোনো সম্পর্কে এগুলোর অভাব দেখা যায় এবং তা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে সম্পর্কটি টক্সিক।





মানুষের স্বভাবের এক অদ্ভুত দিক হলো নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে অনেক সময় অন্যকে ছোট করার প্রবণতা। ইতিহাসের পাতায়, কর্মক্ষেত্রে কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিল বাঁকে প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ এই কৌশল অবলম্বন করে। কখনো সরাসরি, কখনো কৌশলে, কখনোবা মিথ্যার মোড়কে সাজিয়ে। লক্ষ্য একটাই— নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা, প্রতিদ্বন্দ্বীকে অযোগ্য প্রতিপন্ন করা। প্রতিদ্বন্দ্বীকে কলঙ্কিত করে নিজেকে পরিচ্ছন্ন প্রমাণ করা যেন এক অঘোষিত নিয়ম।

১৯৭৭ সালে একদল গবেষক লক্ষ্য করেন, কিছু প্রাইমেট (শিম্পাঞ্জি) পুরুষ সদস্য নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে তারা নারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় Mate Derogation Strategy, যেখানে কেউ অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় দেখানোর চেষ্টা করে। রাজনীতি, কর্মক্ষেত্র, একাডেমিক প্রতিযোগিতা এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও কেউ কেউ এই কৌশল ব্যবহার করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হয় প্রতিদ্বন্দ্বীর ভাবমূর্তি নষ্ট করা, নিজেকে তুলনামূলকভাবে ভালো প্রমাণ করা এবং সামাজিক সমর্থন আদায় করা।

ম্যাটিং স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে অন্যকে ছোট করা কিংবা মিথ্যা রটানো বিবর্তনের ফল হলেও, এটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এই আচরণ সামাজিক আস্থা নষ্ট করে, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। কর্মক্ষেত্রে এটি 'টক্সিক কালচার' তৈরি করে। রাজনীতিতে মিথ্যা রটনা সামাজিক বিভাজন বাড়ায়। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, তত বেশি এই ধরনের কৌশল প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। সত্য যাচাই ও নৈতিকতা চর্চার মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারি।

মিথ্যা দিয়ে গড়ে তোলা সাফল্য, মরীচিকার মতো "দূর থেকে উজ্জ্বল মনে হলেও, কাছে গেলে ফাঁপা হয়ে ভেঙে পড়ে"।

সে সমাজই উন্নত, যেখানে প্রত্যেকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সহানুভূতিশীল এবং বিনয়ী ।।

— সাম্মা হিবা - Samma Hiba

— দীপায়ন তূর্য Deepayan Turja




ভাইকিং সভ্যতা ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় ও প্রভাবশালী একটি অধ্যায়। মূলত স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অঞ্চল—বর্তমান নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক—থেকে উঠে আসা ভাইকিংরা অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করেছিল। এই সময়কালকে ইতিহাসে সাধারণত “ভাইকিং যুগ” বলা হয়।

ভাইকিংরা শুধু যোদ্ধা হিসেবেই পরিচিত ছিল না; তারা ছিল দক্ষ নাবিক, বণিক ও অভিযাত্রী। তাদের তৈরি লম্বা কাঠের জাহাজ, যাকে “লংশিপ” বলা হতো, সেই সময়ের প্রযুক্তির দিক থেকে অত্যন্ত উন্নত ছিল। এই জাহাজগুলো দ্রুতগামী ও হালকা হওয়ায় ভাইকিংরা সহজেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে পৌঁছাতে পারত। এর মাধ্যমে তারা ব্রিটেন, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড এমনকি উত্তর আমেরিকার কিছু অংশেও অভিযান চালিয়েছিল বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।

ভাইকিংদের সমাজ ছিল শক্তিশালী গোত্রভিত্তিক। প্রতিটি গোত্রের নেতৃত্ব দিতেন একজন প্রধান বা রাজা। তারা যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী ছিল এবং প্রায়ই নতুন অঞ্চল দখল বা সম্পদ অর্জনের জন্য সমুদ্রযাত্রা করত। তবে ভাইকিংরা শুধু আক্রমণই করত না; তারা অনেক জায়গায় স্থায়ী বসতিও গড়ে তুলেছিল এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ভাইকিং সংস্কৃতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাদের পৌরাণিক বিশ্বাস। তারা বহু দেবতার পূজা করত, যেমন বজ্রের দেবতা থর এবং জ্ঞানের দেবতা ওডিন। তাদের কাহিনি, গান ও পুরাণগুলো পরবর্তীতে ইউরোপীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে রাজনৈতিক পরিবর্তন, খ্রিস্টধর্মের বিস্তার এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রের উত্থানের কারণে ভাইকিং যুগের অবসান ঘটে। তবুও তাদের সাহসী অভিযান, নৌ প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব আজও ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ভাইকিং সভ্যতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অনুসন্ধান ও সাহস মানব ইতিহাসকে কতটা গভীরভাবে বদলে দিতে পারে।





কেন অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, সে বিষয়ে কিছু কারণ ব্যাখ্যা করা হলো৷

▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬

​১. ছোটখাটো বিষয়ে প্রতিনিয়ত অশান্তি:

কাছাকাছি থাকলে অনেক সময় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়। নিয়মিত দেখা হওয়ার ফলে ব্যক্তিগত জীবন, সময়সূচী বা সিদ্ধান্ত নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে ছোটখাটো তর্কাতর্কি হতে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে দাঁড়ায়।

​২. হুটহাট চলে আসা:

বাবা-মায়েরা অনেক সময় না জানিয়েই সন্তানের বাসায় চলে আসেন। ভালোবাসা থেকে আসলেও, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে এটি নিজের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ বলে মনে হতে পারে। এতে মনে হয় জীবনটা এখনো পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই।

​৩. বড় সিদ্ধান্তগুলো পারিবারিক আলোচনায় পরিণত হওয়া:

কাছাকাছি থাকলে ক্যারিয়ার, সম্পর্ক বা আর্থিক বিষয়ে বাবা-মায়ের মতামত বা প্রভাব অনেক বেশি থাকে। দূরে থাকলে এই সিদ্ধান্তগুলো সন্তান নিজের মতো করে নিতে পারে, যা তাকে আরও স্বাবলম্বী করে তোলে।

​৪. পুরোনো পারিবারিক পরিচয়ে আটকে থাকা:

পরিবারের কাছে সন্তান সবসময় আগের মতোই থাকে—হয়তো সে শান্ত, নয়তো চঞ্চল বা দায়িত্বহীন। কাছাকাছি থাকলে মানুষ বড় হয়েও সেই পুরোনো ইমেজে আটকে থাকে। দূরে গেলে মানুষ নিজের নতুন একটি পরিচয় গড়ার সুযোগ পায়।

​৫. স্বনির্ভর হওয়ার পথে বাধা:

কাছাকাছি থাকলে যেকোনো সমস্যায় বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করা সহজ হয়। এটি সাময়িকভাবে ভালো মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। দূরে থাকা মানুষকে নিজের বিপদ নিজেই সামলাতে শেখায়।

​৬. পারিবারিক প্রত্যাশার চাপ:

বাবা-মায়ের পছন্দমতো জীবন সাজানোর একটা পরোক্ষ চাপ সবসময় থাকে। দূরে থাকলে মানুষের নিজের ইচ্ছাশক্তি প্রবল হয় এবং সে নিজের মতো করে জীবন গড়ার সাহস পায়।

​৭. সারাক্ষণ নজরদারিতে থাকার অনুভূতি:

একই এলাকায় থাকলে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন বাবা-মায়ের পরিচিত মহলে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সবসময় নজরে থাকার অনুভূতি থেকে বাঁচতে অনেকে দূরে চলে যান।

​৮. সবসময় ‘ছোট বাচ্চা’ মনে করা:

সন্তান যত বড়ই হোক, বাবা-মায়েরা অনেক সময় তাদের ছোট বাচ্চার মতো শাসন বা উপদেশ দিতে থাকেন। এই আচরণ থেকে মুক্তি পেতে এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সম্মান পেতে অনেকে দূরত্ব বেছে নেন।

​৯. পারিবারিক অনুষ্ঠানের গুরুত্ব কমে যাওয়া:

অতিরিক্ত দেখা হওয়ার ফলে পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোর আনন্দ হারিয়ে যায় এবং সেগুলো রুটিন মাফিক কাজে পরিণত হয়। দূরত্ব থাকলে একে অপরের প্রতি টান বাড়ে এবং দেখা হওয়ার সময়গুলো স্মরণীয় হয়ে থাকে।





পুরুষ ও নারীর মস্তিষ্কে সেরোটোনিন : বিজ্ঞানের চোখে এক কৌতূহলী পার্থক্য 

পুরুষ ও নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের পার্থক্য কি কেবল সামাজিক, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর জৈবিক রহস্যবিখ্যাত PNAS (Proceedings of the National Academy of Sciences) জার্নালে প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণা এই প্রশ্নের এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে ।

 গবেষণার মূল তথ্য:

বিজ্ঞানীরা PET (Positron Emission Tomography) স্ক্যান ব্যবহার করে জীবন্ত মানুষের মস্তিষ্কে সরাসরি সেরোটোনিন উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন ।

 গবেষণায় দেখা গেছে....

উৎপাদন হার : পুরুষদের মস্তিষ্ক নারীদের তুলনায় গড়ে ৫২% বেশি হারে সেরোটোনিন তৈরি বা সিন্থেসিস (Synthesis) করে ।

প্রভাবিত অঞ্চল : এই পার্থক্য সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মস্তিষ্কের কোর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাস অঞ্চলে, যা আমাদের আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে ।

 কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

সেরোটোনিনকে বলা হয় "মুড স্টেবিলাইজার" । এটি আমাদের ঘুম, মেজাজ এবং আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করে । এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেরিয়ে আসে:

১. মুড ডিজঅর্ডারের ঝুঁকি : পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারীদের মধ্যে বিষণ্নতা (Depression) বা উদ্বেগের (Anxiety) হার পুরুষদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ । মস্তিষ্কে সেরোটোনিন তৈরির এই গতির পার্থক্য এর অন্যতম কারণ হতে পারে ।

২. হরমোনের ভূমিকা : নারীদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ওঠানামা সেরোটোনিন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে ।

৩. চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত : এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, মানসিক রোগের চিকিৎসায় পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা বা পার্সোনালাইজড (Personalized) পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে ।

 একটি জরুরি সতর্কতা : বেশি সেরোটোনিন মানেই পুরুষরা "বেশি সুখী" বা "সব সময় শক্তিশালী"—বিষয়টি মোটেই এমন নয় ।

রিসেপ্টর গ্যাপ : গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন গ্রহণের রিসেপ্টর সংখ্যা অনেক সময় বেশি থাকে, যা কম উৎপাদনকেও পুষিয়ে দেয় ।

প্রকাশভঙ্গি : পুরুষদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা স্ট্রেস অনেক সময় রাগ বা খিটখিটে মেজাজ হিসেবে প্রকাশ পায়, যা অনেক সময় শনাক্ত করা কঠিন হয় ।

সারকথা : লিঙ্গভেদে আমাদের মস্তিষ্কের রাসায়নিক গঠন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সবার জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ । বিজ্ঞান যত এগোচ্ছে, আমরা ততই বুঝতে পারছি যে—সুস্থ থাকার জন্য কেবল ইচ্ছাশক্তি নয়, শরীরের ভেতরের এই জটিল রসায়নকেও বুঝতে হবে ।

তথ্যসূত্র : Diksic et al.,





পারিবারিক বা বংশগত ট্রমা কাটিয়ে উঠতে চাও? 

এই যে তুমি, আর এই তোমার সেই নার্সিসিস্ট বাবা-মা—যাদের তুমি সহ্য করতে পারো না। 

ভবিষ্যতের প্রজন্মকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আগে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন। 

বংশগত ট্রমা ভাঙা মানে এই নয় যে, তোমাকে তোমার পরিবারের সবার সাথে ঝগড়া করতে হবে, তাদের ঘৃণা করতে হবে। এর মানে হলো তাদের ভুলগুলো নিজের জীবনে আর কন্টিনিউ হতে না দেয়া। তুমি যখন সচেতনভাবে নিজের নেতিবাচক স্বভাবগুলো বদলে ফেলবে, তুমি তখন তোমার সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর এবং সুস্থ পৃথিবী রেখে যাবে। তুমিই হচ্ছো তোমার বংশের সেই 'চেইন ব্রেকার'।

বংশপরম্পরায় চলে আসা ভুল বা ট্রমার চেইন ভাঙার এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সাহসী। তুমি যখন সচেতনভাবে নিজের স্বভাব পরিবর্তন করো, তখন তুমি কেবল নিজের বর্তমানকে নয়, তোমার ভবিষ্যতের প্রজন্মকেও একটি বিষাক্ত পরিবেশ থেকে মুক্তি দিচ্ছো।

তুমি কি তোমার পরিবারের এমন কোনো অভ্যাস বা স্বভাব খুঁজে পেয়েছ যা তুমি নিজের জীবনে আর দেখতে চাও না? তাহলে আজই সেটি ভাঙার ৫টি পদক্ষেপ নাও:

১. ডিটাচড অবজারভেশন

প্রথম কাজ হলো নিজেকে একজন দর্শক হিসেবে দেখা। যখনই তোমার মনে হবে তুমি তোমার বাবা-মা বা পূর্বপুরুষদের মতো কোনো নেতিবাচক আচরণ করছ (যেমন: অহেতুক রাগ বা কন্টোল করার চেষ্টা), তখন থেমে যাও।

মনে মনে বলো, "এটি আমার আসল সত্তা নয়, এটি আমার পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া একটি পুরনো সফটওয়্যার।" এই আলাদা করার ক্ষমতা তোমাকে ওই আবেগের দাস হতে দেবে না।

২. ক্ষমার নতুন সংজ্ঞা

ক্ষমা মানে এই নয় যে, তাদের অন্যায়কে তুমি মেনে নিচ্ছ। ক্ষমা মানে হলো সেই ভারমুক্ত হওয়া যা তোমাকে অতীতে আটকে রেখেছে।

তাদের এমন মানুষ হিসেবে দেখো, যারা নিজেরাও হয়তো কোনো না কোনো ট্রমার শিকার ছিল। তারা যা পায়নি, তা তোমাকে দিতে পারেনি। এই উপলব্ধি তোমার ভেতরের তিক্ততা কমিয়ে দেবে। তুমি তাদের ক্ষমা করছো নিজের শান্তির জন্য, তাদের জন্য নয়।

৩. নতুন সীমানা নির্ধারণ

বংশগত ট্রমা কাটানোর জন্য অনেক সময় পরিবারের সাথে মানসিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি হয়। একে বলে 'হেলদি বাউন্ডারি'।

তোমার মানসিক শান্তি নষ্ট করে এমন আলোচনায় অংশ নেওয়া বন্ধ করো। ইগো দিয়ে নয়, বরং নিজের সুস্থতার জন্য বিনয়ের সাথে 'না' বলতে শিখ। মনে রাখবে, তুমি সবার প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য জন্মাওনি।

৪. নিউট্রিশন

ট্রমা কেবল মনে থাকে না, এটি কোষেও জমা থাকে। তাই শরীরকে সুস্থ রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তোমার প্রিয় 'রিয়েল ফুড' বা প্রাকৃতিক খাবারের অভ্যাসটি ধরে রাখ। হেলদি প্রোটিন, ফ্যাট, ভেজিটেবলস তোমার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। শরীর যখন পুষ্টি পায়, তখন মনস্তাত্ত্বিক লড়াই সহজ হয়ে যায়।

৫. ভবিষ্যৎ ভার্সনের সাথে কনভার্সেশন

প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে তোমার সেই ভার্সনটির সাথে কথা বল, যে এই সব ট্রমা কাটিয়ে উঠে একজন সফল এবং শান্ত মানুষে পরিণত হয়েছে।

নিজেকে প্রশ্ন কর, "আমার ওই সফল ভার্সনটি এই পরিস্থিতিতে কী করত?" সেই উত্তর অনুযায়ী কাজ করা শুরু কর। এভাবেই ধীরে ধীরে তোমার ব্যক্তিত্বের রূপান্তর ঘটবে।

তুমি তোমার অতীত বেছে নিতে পারনি, কিন্তু তুমি কোন অতীত তোমার সন্তানদের দেবে—সেটি বেছে নেওয়ার ক্ষমতা তোমার হাতে আছে।

এই ৫টি ধাপ মেনে চললে তুমি কেবল একজন সুস্থ মানুষ হিসেবেই গড়ে উঠবে না, বরং তোমার বংশের এক মহান 'চেইন ব্রেকার' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

Red Pill 2





অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের যে ধারা বিশ্বকে বদলে দিয়েছিল, তার অন্যতম বড় অবদান ছিল জেমস ওয়াটের উন্নত বাষ্প ইঞ্জিন। স্কটিশ উদ্ভাবক James Watt এমন একটি বাষ্প ইঞ্জিন তৈরি করেন যা আগের যেকোনো ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও শক্তিশালী ছিল। এই উদ্ভাবনই পরে শিল্পখাতে বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করে।

এর আগে বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের ধারণা থাকলেও সেগুলো ছিল খুবই অদক্ষ এবং বেশি জ্বালানি খরচ করত। বিশেষ করে Thomas Newcomen-এর তৈরি ইঞ্জিন মূলত খনি থেকে পানি তোলার কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু জেমস ওয়াট সেই ইঞ্জিনকে উন্নত করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেন যেখানে আলাদা কনডেনসার ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ইঞ্জিনের শক্তি অপচয় কমে যায় এবং কার্যক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।

জেমস ওয়াটের এই উন্নত ইঞ্জিন দ্রুতই বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। কারখানা, বস্ত্রশিল্প, খনি এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বাষ্পশক্তির ব্যবহার শিল্প উৎপাদনকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে শুরু হয় Industrial Revolution, যা মানুষের কাজের ধরণ, অর্থনীতি এবং শহরায়নের ধারা পুরোপুরি বদলে দেয়। বাষ্প ইঞ্জিন শুধু কারখানায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তীতে এটি রেলগাড়ি এবং জাহাজ চালানোর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এর ফলে পণ্য পরিবহন দ্রুত ও সহজ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

জেমস ওয়াটের অবদান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে শক্তির পরিমাপের একক “ওয়াট” তার নাম থেকেই নেওয়া হয়েছে। তার উদ্ভাবন প্রমাণ করে যে একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে।

আজকের আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তির অনেক ভিত্তিই গড়ে উঠেছে জেমস ওয়াটের সেই ঐতিহাসিক বাষ্প ইঞ্জিনের ওপর।





ব্ল্যাক ডেথ: যখন মৃত্যু শাসন করেছিল ইউরোপ

একটি রোগ—যা শহর নয়, পুরো গ্রাম মুছে দিয়েছিল মানচিত্র থেকে। রাস্তা ফাঁকা, দরজা বন্ধ, আর চারদিকে শুধু মৃত্যু।

এটা শুধু মহামারি ছিল না— এটা ছিল একটি দুঃস্বপ্ন।

Mystery / Shock Fact

১৪শ শতকে ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে Black Death।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এটি কোটি কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। কিছু এলাকায় জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মারা যায়।

Historical Story

মানুষ বুঝতেই পারছিল না—কি ঘটছে। কেউ ভাবত এটি ঈশ্বরের শাস্তি, কেউ আবার সন্দেহ করত প্রতিবেশীদের।

ভয় এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে অনেকেই নিজের পরিবারকেও ছেড়ে পালিয়ে যেত। পুরো ইউরোপ এক অদৃশ্য আতঙ্কে ঢেকে যায়।

Unknown Detail

এই মহামারি শুধু মানুষকে হত্যা করেনি—

এটি সমাজকেও বদলে দিয়েছিল।

• শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের মূল্য বেড়ে যায়

• সামন্ততান্ত্রিক (feudal) ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে

• সাধারণ মানুষ পায় অধিক ক্ষমতা ও সুযোগ

অর্থাৎ—মৃত্যুর এই ঢেউ একটি নতুন সমাজের জন্ম দেয়।

মৃত্যু থেকে পরিবর্তন

Black Death ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর বিপর্যয়গুলোর একটি।

কিন্তু এর মধ্য থেকেই  ইউরোপের ভবিষ্যৎ বদলে যায়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— কখনও কখনও সবচেয়ে অন্ধকার সময়ই সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।

আপনাদের কি মনে হয় ?

Black Death না ঘটলে কি ইউরোপের সমাজ এত দ্রুত বদলাত? Comment এ আপনার মতামত লিখুন, অপেক্ষায় রইলাম । @: সম্রাট রায় চৌধুরী।





চিনে নিন ডার্ক সাইকোলজির ৫টি ভয়ংকর ফাঁদ!

একবার ভেবে দেখুন তো! আপনি হয়তো কাউকে নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করেন, নিজের সব গোপন কথা তাকে বলেছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার মনে হতে শুরু করল, আপনার চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত— সবকিছু যেন অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে!

আপনি কি আসলেই নিজের জীবন নিজে চালাচ্ছেন? নাকি অন্য কারও তৈরি করা কোনো গেমের পুতুল হয়ে গেছেন? জেনে নিন এমন ৫টি কৌশল, যা দিয়ে মানুষ আপনার মন নিয়ে খেলতে পারে:

১. গ্যাসলাইটিং (Gaslighting): আপনাকে নিজের কাছেই পাগল প্রমাণ করা!

এটি এমন একটি কৌশল, যেখানে কেউ আপনাকে আপনার নিজের স্মৃতি বা চিন্তার ওপর সন্দেহ করতে বাধ্য করবে। ধরুন, সে আপনার সাথে কোনো খারাপ আচরণ করল। আপনি যখন সেটা নিয়ে কথা বলবেন, সে এমনভাবে উত্তর দেবে যেন, "তুমি বেশি চিন্তা করছ!" বা "এমন তো কিছুই হয়নি!"

ধীরে ধীরে আপনি নিজের চোখের দেখা বা মনের অনুভূতির ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন এবং তার কথার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন।

২. লাভ বোম্বিং (Love Bombing): ভালোবাসার নামে ফাঁদ!

সম্পর্কের শুরুতেই কেউ যদি আপনাকে অতিরিক্ত সময় দেয়, বারবার আপনার প্রশংসা করে বা ভবিষ্যতের বড় বড় স্বপ্ন দেখায়— তবে একটু সাবধান হোন!

এর উদ্দেশ্য হলো আপনাকে মানসিকভাবে তার প্রতি আসক্ত করে তোলা। একবার আপনি তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেলে, সে হঠাৎ করেই দূরত্ব তৈরি করবে। তখন আপনি কনফিউজড হয়ে যাবেন এবং তাকে পাওয়ার জন্য তার সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবেন।

৩. সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট (Silent Treatment): নীরবতার শাস্তি!

এটি শুধু ইগো বা রাগ দেখানো নয়, এটি এক ধরনের মানসিক শাস্তি। ধরুন, আপনাদের মধ্যে কোনো সমস্যা হলো এবং সে হঠাৎ করেই আপনার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। আপনার কোনো কথার উত্তর দিচ্ছে না।

মনোবিজ্ঞান বলছে, এই নীরবতা মানুষের মস্তিষ্কে 'প্রত্যাখ্যান' (Rejection) হিসেবে কাজ করে, যা শারীরিক ব্যথার মতোই কষ্টদায়ক। তখন আপনি মরিয়া হয়ে তার কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং তার নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়ে যাবে।

৪. ভয় ও অভাব তৈরি করা (Fear + Scarcity Trick):

"এটিই শেষ সুযোগ!" বা "এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে সব শেষ!"— এমন কথা আমরা প্রায়ই শুনি। কেউ যখন আপনার মনে ভয় বা কোনো কিছুর অভাববোধ তৈরি করবে, তখন আপনার লজিক্যাল বা যৌক্তিক চিন্তাভাবনা কাজ করা বন্ধ করে দেবে।

এই সুযোগে মানুষ আপনাকে ইমোশনাল বা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে, যা হয়তো আপনার জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।

৫. প্রোজেকশন (Projection): নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো!

যে মানুষটা নিজে অপরাধী, সে-ই অন্যকে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করে! ধরুন, কেউ বিনা কারণেই আপনাকে সন্দেহ করছে বা দোষারোপ করছে। এর মানে হতে পারে, সে নিজেই হয়তো সেই ভুলটা করছে এবং নিজের অপরাধবোধ থেকে বাঁচতে সেই দোষটা আপনার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে (Projecting)।

এর ফলে আপনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন, আর আসল অপরাধীর দোষ আড়ালেই থেকে যাবে।

শেষ কথা:

ডার্ক সাইকোলজি জানার মানে এই নয় যে আপনি এসব কৌশল দিয়ে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করবেন। বরং এর উদ্দেশ্য হলো নিজের সচেতনতা বাড়ানো। আপনি যখন এই খেলাগুলো বুঝতে পারবেন, তখন আর কেউ আপনাকে হাতের পুতুল বানাতে পারবে না।

"খেলায় সবসময় সে-ই জেতে, যে খেলার কৌশলগুলো বুঝতে পারে!"

নিজেকে নিরাপদ রাখুন, সচেতন থাকুন। @ Rohit Baagdii 




২০ মিনিট গাছের দিকে তাকালেই স্ট্রেস নাটকীয়ভাবে কমে যায়!

গাছের দিকে তাকালে স্ট্রেস কমে যাওয়ার বিষয়টি কেবল মানসিক প্রশান্তি নয়, বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নিউরো-বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানের ভাষায় একে 'প্রকৃতির থেরাপিউটিক প্রভাব' বলা হয়।

মূলত আমাদের শরীরে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের প্রধান কারণ হলো কর্টিসল (Cortisol) হরমোন। ২০১৯ সালে মিশিগান ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে:

মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকলে রক্তে কর্টিসলের মাত্রা দ্রুত গতিতে কমতে শুরু করে। একে বিজ্ঞানীরা 'নেচার পিল' (Nature Pill) বা প্রকৃতির ওষুধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, কৃত্রিম আলো বা স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে অথবা যখন আমরা স্ট্রেসে থাকি, তখন আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের 'সিমপ্যাথেটিক' সিস্টেম সক্রিয় থাকে (যা আমাদের উত্তেজিত রাখে)। গাছের সবুজ রঙ এবং পাতার নড়াচড়া দেখলে আমাদের প্যারা-সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়।

এটি শরীরকে 'Rest and Digest' মোডে নিয়ে যায়, যার ফলে হৃদস্পন্দন ধীর হয় এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়।

মানুষের চোখ এবং মস্তিষ্ক গাছের ডালপালা, পাতা বা মেঘের বিন্যাসের জ্যামিতিক নকশা বা ফ্র্যাক্টাল প্যাটার্ন প্রসেস করতে খুব পছন্দ করে।

যখন আমরা এই জটিল কিন্তু সুশৃঙ্খল প্রাকৃতিক নকশার দিকে তাকাই, তখন মস্তিষ্কে আলফা ওয়েভ (Alpha Waves) উৎপন্ন হয়। এই তরঙ্গটি আমাদের গভীর শিথিলতা এবং ধ্যানের (Meditation) মতো মানসিক অবস্থা তৈরি করে।

গবেষকদের মতে, গাছপালা নিজেদের রক্ষার জন্য বাতাসে এক ধরণের জৈব যৌগ ছাড়ে, যাকে ফাইটনসাইড বলা হয়।

আমরা যখন গাছের আশেপাশে থাকি, তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই যৌগটি আমাদের শরীরে ঢোকে।

এটি আমাদের রক্তে NK (Natural Killer) Cells বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষের সংখ্যা বাড়ায়, যা সরাসরি উদ্বেগ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

এজন্য শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতিকে কিছু সময় দেয়া উচিত। @ Wildology Bangla




কেন কৈশোর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আপনার মুখে ব্রণ উঠেই চলেছে?

কেন ক্রিম, মলম, ফেসওয়াশ ব্যবহার করেও আপনার অ্যাকনি, একজিমা, সোরিয়াসিস, চুলকানি সারছে না?

যদি মনে করেন এসব আপনার ত্বকের দোষ, তার মানে আপনি নিজের দেহ সম্পর্কে কিছুই জানেন না!

সবাই ত্বকের সমস্যাকে শুধু ত্বকের সমস্যা হিসেবেই ভাবে। কিন্তু আসলে আপনার মুখে ব্রণ ওঠা, ত্বকে চুলকানি, একজিমা দেখা দেওয়া, কিংবা সোরিয়াসিসের মতো অটোইমিউন সমস্যা এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সূত্রপাত হয় পেটের ভেতরে!

বলা যেতে পারে, আপনার ত্বক আসলে আপনার পেটের ডিসপ্লে স্ক্রিন!

ভেতরে কী ঘটছে, তা সবার আগে ত্বকেই প্রকাশ পায়! এই কানেকশনকে বলা হয় 'গাট-স্কিন এক্সিস'।

অন্ত্র (Gut) হলো শরীরের ফিল্টার ফ্যাক্টরি ও প্রধান বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র। এর কাজ ভালো জিনিস রক্তে পাঠানো, আর খারাপ জিনিস শরীর থেকে বের করে দেওয়া।

রক্ত হলো শরীরের ভেতরের নদী। এই নদী ফ্যাক্টরি থেকে পুষ্টি নিয়ে যায় এবং বর্জ্য বয়ে নিয়ে আসে।

ত্বক হলো শরীরের সবচেয়ে বড় নিষ্কাশন পথ (Largest Elimination Organ)।

যখন লিভার ও অন্ত্র ঠিকমতো বর্জ্য সামলাতে পারে না, তখন তা ত্বকের মাধ্যমেই ঠেলে বের হয়, ফলে তৈরি হয় ইনফ্লামেশন, ব্রণ, র‍্যাশ ইত্যাদি।

সমস্যা শুরু হয়, যখন অন্ত্রের দেয়াল (Gut Barrier) বিধ্বস্ত হয়। স্ট্রেস, প্রসেসড ফুড, রিফাইন্ড তেল, ঘুমের অভাব, অ্যান্টিবায়োটিক এসব কারণে অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে intestinal permeability বাড়ে (একে লিকি গাট নামেও বলা হয়)। ফলে হজম না হওয়া খাদ্য, টক্সিন, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, বর্জ্য সরাসরি রক্তে ঢুকে টক্সিন ওভারলোড ঘটায়! তখন লিভার এই বি/ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে। লিভার যখন টক্সিন পরিষ্কার করে কুলিয়ে উঠতে পারে না, তখন শরীর তার সবচেয়ে বড় নিষ্কাশন পথ ত্বক দিয়ে ঘাম ও তৈলাক্ত পদার্থর সঙ্গে রক্তের টক্সিন বাইরে পুশ করে দিতে চায়! আর এই পুশ করার সময়ই ত্বকে সৃষ্টি হয় অসহ্য ইনফ্লামেশন! যাকে বাইরে থেকে ব্রণ, লাল চাকা চাকা একজিমা, সোরিয়াসিস, চুলকানি ইত্যাদি রুপে দেখা যায়!

আপনার ত্বকের প্রতিটি সমস্যার ধরনের সঙ্গে পেটের গন্ডগোলের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আছে—

- ব্রণ (Acne) এর কারণ হতে পারে গাট মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যহীনতা (Dysbiosis), ইনসুলিন স্পাইক, ইনফ্লামেশন। পেটের ভালো-খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা, অর্থাৎ পেটের ভেতরে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে মুখে ব্রণ দেখা যায়।

- একজিমা এর কারণ হতে পারে লিকি গাট, ইমিউন সিস্টেমের অতিপ্রতিক্রিয়া। হজম না হওয়া খাবার রক্তে ঢুকে ইমিউন সিস্টেমকে উত্তেজিত করে তোলে। এই উত্তেজনা ত্বকে চুলকানি, শুষ্কতা ও লালচে ভাব তৈরি করে।

- সোরিয়াসিস এর কারণ হতে পারে অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া, অন্ত্রের ইনফ্লামেশন ও মাইক্রোবায়োম বিপর্যয়। অটো-ইমিউন ডিজঅর্ডারে আপনার শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে ত্বকের কোষকেই আক্রমণ করে। বেশিরভাগ অটো-ইমিউন সমস্যা শুরু হয় পেটের সেই লিকি গাট থেকেই!

বাইরে কৃত্রিম ক্রিম, লোশন, মলম মাখলে ক্ষতি ছাড়া, লাভ নেই! স্কিন ডিজিজ কোনো অভিশাপ না, এটা আপনার শরীরের হিলিং রেসপন্স।

আপনার ত্বককে সুন্দর, মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে হলে দেহের সেই ফিল্টার ফ্যাক্টরি অন্ত্রকে ঠিক করাই একমাত্র উপায়। আপনার ত্বকে সব সমস্যা চিরতরে ঠিক হয়ে যাবে, এজন্য শুধু আপনার ভেতরটা ঠিক করতে হবে!

ত্বক সুস্থ করতে হলে 'গাট হিলিং প্রটোকল' প্রয়োজন। এমন একটা উত্তম প্রটোকল হলো '4R Healing' (remove, repair, reinoculate, relax)—

- Remove

সব ক্ষতিকর, অপ্রাকৃতিক জিনিস বাদ দিন। ময়দা, চিনি, প্রসেসড ফুড, রিফাইন্ড অয়েল (পাম, সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, কর্ন, রাইস ব্র্যান), বাইরের ভাজাপোড়া এগুলো পেটের খারাপ ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, ইনফ্লামেশন ও লিকি গাট তৈরি করে। অনেকের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাদ্য ও আটা, ময়দা ত্বকের প্রদাহ বাড়ায়। প্রয়োজনে ৩–৪ সপ্তাহ ডায়েটে গ্লুটেন ও ডেইরি পুরোপুরি বাদ দিয়ে শরীরের অবস্থা দেখুন।

- Repair

অন্ত্রের দেয়াল মেরামত করুন। অন্ত্রের জন্য গ্লুটামিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি অন্ত্রের কোষগুলোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়ালের কোষ মেরামতে সহায়তা করে। লাল মাংসে ভালো পরিমাণে গ্লুটামিনসহ বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, কারণ এটি একটি কমপ্লিট প্রোটিন সোর্স। তবে মাছ, ডিম, দুধ, মুরগি এবং কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারেও (যেমন বাঁধাকপি) এটি পাওয়া যায়।হাড়ের স্যুপে (বোন ব্রোথ) থাকা কোলাজেন ও গ্লুটামিন অন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল মেরামতের জন্য সেরা। কোলাজেন, ওমেগা-৩, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খান।

ভিটামিন ডি পেতে রোদে যান।

এখানে বলে রাখি, চিনি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের নেশা থাকলে আপনি যখন পর্যাপ্ত ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট খাবেন তখন নেশা চলে যাবে।

- Reinoculate

ভালো ব্যাকটেরিয়া ফিরিয়ে আনুন। প্রোবায়োটিক (টক দই, কেফির, ফারমেন্টেড ফুড) ও প্রিবায়োটিক (কলা, রসুন, পেঁয়াজ, ফল, শাকসবজি, হোলগ্রেইন, বাদাম, বীজ) খান। প্রোবায়োটিক ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, আর প্রিবায়োটিক ভালো ব্যাকটেরিয়াদের বেঁচে থাকার খাবার।

- Relax

স্ট্রেস কমান। ব্রিদিং এক্সারসাইজ, মেডিটেশন করুন। ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুম হলো গাটের প্রধান মেরামতের সময়। রাত জাগা বা অপর্যাপ্ত ঘুম সরাসরি অন্ত্রের দেয়ালের ক্ষতি এবং প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়াও, এই প্রটোকলে আরো কিছু সহজ অভ্যাস রয়েছে—

- Hydration

পানি হলো শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার। পর্যাপ্ত পানি পান করা লিভার ও কিডনিকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, যা ত্বকের উপর চাপ কমায়।

- Regular Exercise 

নিয়মিত ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে, স্ট্রেস হরমোন (কর্টিসল) কমায় এবং স্বাভাবিক মলত্যাগে সাহায্য করে। এই সবকটিই অন্ত্র ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

- Patience

অন্ত্র মেরামত এবং ত্বকের উন্নতি হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস, এমনকি বছরও লাগতে পারে। কিন্তু সময় লাগা মানে এই না যে, আপনি সুস্থ হবেন না বা এই প্রটোকল কার্যকর না। মনে রাখা জরুরি যে, এটি একটি জার্নি, ইন্সট্যান্ট সমাধান না!

আপনার অসুস্থতা অনুযায়ী চিকিৎসা ও সমাধান পেতে প্রয়োজনে একজন প্রাকৃতিক চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ এর শরনাপন্ন হোন।

Mission: Captain Green



লিপস্টিকের বিষ: ক্যাডমিয়ামের নীরব আক্রমণ

সৌন্দর্যের পণ্য কি বদলে দিচ্ছে আমাদের আচরণ?

কল্পনা করুন, আপনি প্রতিদিন সকালে যে লিপস্টিকটি ব্যবহার করেন, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক নীরব ঘাতক। আপনার প্রিয় সেই শেডটিই হয়তো ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে আপনার মেজাজ, আপনার আচরণ, এমনকি আপনার মনও। এটা কোনও কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়, বরং আমাদের চারপাশের বর্তমান বাস্তবতা।

সম্প্রতি এক উদ্বেগজনক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে প্রচলিত প্রায় সবকটি লিপস্টিকের নমুনাতেই ক্যাডমিয়াম নামক এক ভয়ংকর বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার প্রসাধনী শিল্পে সচেতনতা ও কঠোর নিয়মকানুনের প্রয়োজনীয়তা আরও একবার প্রকট করে তুলে ধরেছে। শুধু তাই নয়, এই ক্যাডমিয়াম আমাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগ সৃষ্টির পাশাপাশি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যাডমিয়াম একটি ভারী ধাতু যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার (IARC) গ্রুপ ১-এর কার্সিনোজেন হিসেবে স্বীকৃত । অর্থাৎ, এটি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত।

ক্যাডমিয়ামের ভয়াবহতা বোঝার জন্য ১৯১২ সালে জাপানের তোয়ামা প্রিফেকচারের ঘটনা মনে করা যেতে পারে। সেখানে জিনজু নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে অদ্ভুত এক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। বয়স্ক মহিলারা প্রথমে হাঁটু ও পিঠে ব্যথা অনুভব করেন, যা ধীরে ধীরে অসহনীয় হয়ে ওঠে। রোগটি এতটাই কষ্টদায়ক ছিল যে স্থানীয়রা এর নাম দেয় "ইটাই-ইটাই", যার অর্থ "ব্যথা-ব্যথা রোগ"।

আসলে কী ঘটেছিল? ওপরের দিকে একটি জিঙ্ক খনি থেকে ক্যাডমিয়াম দিয়ে দূষিত পানি জিনজু নদীতে মিশছিল। সেই পানি দিয়ে সেচ করা ধানের ক্ষেতে জন্মানো চাল খেয়ে গ্রামবাসীরা ক্যাডমিয়ামের শিকার হন। দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে এই বিষ তাদের হাড়ে জমতে থাকে। হাড় এতটাই নরম হয়ে যেত যে সামান্য নড়াচড়াতেই ভেঙে যেত।

দীর্ঘমেয়াদে এই ধাতু শরীরে জমতে থাকলে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, হাড় দুর্বল ও ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

লিপস্টিক নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রসাধনী পণ্যগুলোর একটি। এটি ঠোঁটে রঙ ও আকর্ষণীয়তা যোগ করে, কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক সব রাসায়নিক।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাডমিয়াম লিপস্টিকে মূলত দুভাবে আসে—হয় রঙের পিগমেন্ট হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ করা হয়, অথবা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দূষণ হিসেবে মিশে যায় । প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ, কাঁচামাল এবং উৎপাদন সরঞ্জাম থেকে এই দূষণ ঘটতে পারে, বিশেষ করে যেখানে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নেই।

২০২৫ সালের একটি গবেষণায় পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চল ট্রারখেল-এ পাওয়া গেছে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিপস্টিকে ক্যাডমিয়ামের গড় ঘনত্ব ছিল ১.৩৫ মিগ্রা/কেজি । অন্যদিকে, ভারতের ভোপাল অঞ্চলের ২০টি লিপস্টিক নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে সব নমুনাতেই ক্যাডমিয়ামের মাত্রা ইউএসএফডিএ-র নির্ধারিত সীমা ৩ পিপিএম-এর নিচে থাকলেও, কিছু নমুনায় হ্যাজার্ড কোশিয়েন্ট (HQ) ১-এর উপরে ছিল, যা সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্দেশ করে। হ্যাজার্ড কোশিয়েন্ট হলো একটা সংখ্যা যা বলে দেয় কোনো রাসায়নিক বা দূষণ আমাদের শরীরের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—যদি এটা ১-এর কম হয় তাহলে নিরাপদ, আর ১-এর বেশি হলে ক্ষতি হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এবং কানাডার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্যাডমিয়ামের জন্য ৩ পিপিএম (মিগ্রা/কেজি) সীমা নির্ধারণ করেছে। তবে জার্মানির নির্ধারিত সীমা আরও কঠোর—মাত্র ০.১ পিপিএম।

লিপস্টিক ব্যবহারের সময় ক্যাডমিয়াম শরীরে প্রবেশের প্রধান পথ দুইটি।

১. ত্বকের মাধ্যমে শোষণ: ঠোঁটের চামড়া অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় এটি রাসায়নিক পদার্থ সহজেই শোষণ করে নেয়।

২. মুখের মাধ্যমে: খাওয়া বা পান করার সময় অজান্তেই কিছু না কিছু লিপস্টিক পেটের ভেতর চলে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ ব্যবহারে দৈনিক ক্যাডমিয়াম গ্রহণের পরিমাণ খুব কম হলেও, যারা দিনে বারবার লিপস্টিক ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ গ্রহণযোগ্য দৈনিক সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ক্যাডমিয়ামের মানবদেহে অর্ধায়ু (হাফ-লাইফ) ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, একবার শরীরে প্রবেশ করলে এটি দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকে এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে।

ক্যাডমিয়াম শুধু কিডনি বা হাড়ের জন্যই ক্ষতিকর নয়, এটি আমাদের মস্তিষ্কের জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা (ব্লাড-ব্রেইন বেরিয়ার, BBB) ক্যাডমিয়ামকে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। কিন্তু এই বাধা পুরোপুরি কার্যকর নয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাডমিয়াম দুইভাবে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে—নাকের মিউকোসা বা ঘ্রাণশক্তি সম্পর্কিত স্নায়ুর মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে। ক্যাডমিয়াম রক্ত-মস্তিষ্ক বাধার ভেদ্যতা বাড়িয়ে দিতে পারে, এভাবে এটি মস্তিষ্কে সহজে প্রবেশের সুযোগ পায়।

একবার মস্তিষ্কে প্রবেশ করলে ক্যাডমিয়াম নানা জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষের ক্ষতি করতে শুরু করে। ক্যাডমিয়াম মস্তিষ্কের কোষে রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন প্রজাতি (ROS) তৈরি করে। এই মুক্ত মূলকগুলো (ফ্রি র‍্যাডিকেল) কোষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এরা কোষের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন প্রোটিন, ডিএনএ এবং কোষের ঝিল্লিকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র। ক্যাডমিয়াম মাইটোকন্ড্রিয়ার স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে কোষ শক্তি উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে।

ক্যাডমিয়াম স্নায়ুকোষে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে, যা স্নায়ু সংকেত প্রেরণের জন্য অপরিহার্য।

২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাডমিয়াম দেওয়া ইঁদুরের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সেরোটোনিন আমাদের মেজাজ ভালো রাখে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যাকে প্রায়ই 'সুখের হরমোন' বলা হয়। অন্যদিকে, ডোপামিন আমাদের প্রেরণা ও আনন্দ দেয়। এই দুটির মাত্রা কমে গেলে বিষণ্ণতা, উদাসীনতা, অনুপ্রেরণার অভাব এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

একই গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাডমিয়াম মস্তিষ্কে প্রদাহজনক মার্কার বা চিহ্নিতকারী (যেমন ইন্টারলিউকিন-৬, মায়লোপেরক্সিডেজ) বাড়িয়ে দেয়, যা নিউরোইনফ্লেমেশন বা স্নায়ুর প্রদাহ সৃষ্টি করে।

২০১১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন মাত্রার ক্যাডমিয়ামের সাথে স্ট্রেস বা চাপ যুক্ত হলে ইঁদুরের আগ্রাসী আচরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এটি সেরোটোনিন ও ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৩ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাডমিয়াম ক্লোরাইড (CdCl₂)-এর সংস্পর্শে আসা ইঁদুরের মস্তিষ্কে নানা প্রতিকূল পরিবর্তন ঘটে—এসিটাইলকোলিনেস্টেরেজ (AChE) ও বিউটাইরাইলকোলিনেস্টেরেজ (BChE)-এর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম কমে যায় এবং নিউরোইনফ্লেমেশন বা স্নায়ুর প্রদাহ বেড়ে যায়।

মানুষের ওপর ক্যাডমিয়ামের আচরণগত প্রভাব নিয়ে গবেষণাগুলো বেশ জটিল এবং সেগুলোর ফলাফল মিশ্র।

১৯৯২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার তেগু কারেকশনাল ইনস্টিটিউশনে এক গবেষণায় দেখা গেছে, সহিংস অপরাধীদের চুলে ক্যাডমিয়ামের মাত্রা ছিল ০.৫৬ পিপিএম, যেখানে অসহিংস অপরাধীদের ছিল ০.৪২ পিপিএম। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেল, ক্যাডমিয়ামের উচ্চমাত্রা সহিংস আচরণের প্রবণতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে হওয়া বেশ কয়েকটি গবেষণায় শিশুদের চুলে ক্যাডমিয়ামের মাত্রা বেশি থাকার সাথে শেখার অক্ষমতা, ডিসলেক্সিয়া (মস্তিষ্কের একটি সাধারণ সমস্যা, যাতে মানুষ অক্ষর ও শব্দ সঠিকভাবে চিনতে ও পড়তে কষ্ট পায়—যদিও তার চোখ ভালো এবং বুদ্ধি একদম স্বাভাবিক), বুদ্ধিমত্তার স্তর (IQ) হ্রাস এবং আচরণগত সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২০০৯ সালে ৫৪৯ জন শিশুর ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ ক্যাডমিয়াম এক্সপোজারের সাথে প্রত্যাহারমূলক আচরণ, সামাজিক সমস্যা ও মনোযোগের ঘাটতি সম্পর্কিত।

তবে ২০২৩ সালে তুরস্কে ২২৮ জন কিশোর-কিশোরীর ওপর করা একটি গবেষণায় ক্যাডমিয়ামের সাথে আগ্রাসনের কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। রক্তে (r=০.০৫), প্লাজমায় (r=০.০২) এবং প্রস্রাবে (r=০.১১) ক্যাডমিয়ামের মাত্রা ও আগ্রাসনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল দুর্বল এবং পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয় (p>০.০৫)। অথচ সীসা, পারদ ও ম্যাঙ্গানিজের মাত্রা আগ্রাসনের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক দেখিয়েছে।

এই ভিন্ন ফলাফল থেকে বোঝা যায়, ক্যাডমিয়ামের প্রভাব বুঝতে হলে আরও বৃহৎ পরিসরের ও দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ক্যাডমিয়ামকে নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের সাথেও যুক্ত করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের একটি পর্যালোচনা নিবন্ধে দেখা গেছে, ক্যাডমিয়ামের দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শ আলঝেইমার রোগ (Alzheimer's Disease), পারকিনসন রোগ (Parkinson's Disease) এবং অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS)-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ক্যাডমিয়াম মস্তিষ্কের কোষে জমা হয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, মাইটোকন্ড্রিয়ার ক্ষতি ও নিউরোইনফ্লেমেশন সৃষ্টি করে, যা এই রোগগুলোর প্যাথোফিজিওলজিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশশীল হওয়ায় তারা ক্যাডমিয়ামের নিউরোটক্সিক প্রভাবের জন্য সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। গর্ভাবস্থায় মায়ের মাধ্যমে ক্যাডমিয়াম ভ্রূণে প্রবেশ করতে পারে এবং বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশু ক্যাডমিয়ামের সংস্পর্শে আসতে পারে।

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের দাবাওশান মাইন এলাকায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর চুলে ক্যাডমিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, সামাজিক সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি, এমনকি আগ্রাসী আচরণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনা নিবন্ধে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিকাশের পর্যায়ে (বয়ঃসন্ধির আগে) ক্যাডমিয়ামের সংস্পর্শ নিউরোবিহেভিয়োরাল ও জ্ঞানীয় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে নানা রোগের জন্ম দিতে পারে।

লিপস্টিকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অল্প অল্প করে ক্যাডমিয়াম শরীরে জমতে থাকলে তা যে শুধু ক্যান্সার বা কিডনির রোগই তৈরি করে তাই নয়, এটি আমাদের মস্তিষ্কের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বলছে, ক্যাডমিয়াম নিউরোটক্সিক এবং এটি আমাদের মেজাজ, আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

সুতরাং, সৌন্দর্যের পণ্য যেন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি না হয়ে ওঠে, সেজন্য সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। নীরব এই বিষ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। এটিকে চিনতে হবে, সচেতন হতে হবে এবং সুরক্ষিত থাকতে হবে। কারণ, আমরা হয়তো সঠিক সময়ে জানতে পারব না কখন এই নীরব বিষ আমাদের নিজেদেরই অচেনা করে দিচ্ছে।।

— দীপায়ন তূর্য

— সাম্মা হিবা

বই: হিংস্রতার উৎস সন্ধানে





ঘরে সিগারেটের ধোঁয়া ১২ বছর বয়সে শিশুকে অ্যান্টিসোশ্যাল করে তোলে

ছোট্ট অ্যালেক্সের বাবা প্রতিদিন বাসায় সিগারেট খেতেন। অ্যালেক্স যখন মাত্র ৪ বছরের তখন থেকেই প্রায়ই কাশতে শুরু করে। রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতো, চোখ লাল হয়ে যেত। মা ভাবতেন হয়তো ঠান্ডা লেগেছে বা বয়স বাড়লে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ১২ বছর বয়সে অ্যালেক্সের আচরণ পুরোপুরি বদলে যায়। স্কুলে বন্ধুদের সাথে ছোটখাটো বিষয়ে ঝগড়া শুরু হয়, মারামারি করে, শিক্ষকদের কথা না মেনে নিয়ম ভাঙে। বাড়িতে রেগে গেলে জিনিসপত্র ছুঁড়ে মারে। মা এখনও ভাবেন ❝বয়স বাড়লে ঠিক হয়ে যাবে❞। কিন্তু কানাডার একটি বিশাল গবেষণা বলছে—❝বাবার সিগারেটের ধোঁয়াই অ্যালেক্সের মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে আগ্রাসন বাড়িয়ে দিয়েছে❞। এই ধোঁয়া শুধু ফুসফুসে সমস্যা করে না, শিশুর বিকাশমান মস্তিষ্ককে নীরবে বিষিয়ে তোলে।

১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে কানাডার কুইবেক প্রদেশে জন্ম নেওয়া হাজার হাজার শিশুকে নিয়ে শুরু হয় Quebec Longitudinal Study of Child Development (শিশু বিকাশের উপর কানাডার কুইবেক লংগিটুডিনাল স্টাডি)। গবেষক লিন্ডা পাগানি (Université de Montréal) এবং তার দল এই শিশুদের জন্ম থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত অনুসরণ করেন। তাদের প্রশ্ন ছিল খুব সোজা: প্রথম ৭-৮ বছর বাড়িতে সেকেন্ডহ্যান্ড সিগারেটের ধোঁয়া (বাবা-মায়ের সিগারেটের ধোঁয়া) থাকলে শিশুর আচরণে কী হয়? এই গবেষণায় মোট ২,০৫৫ জন শিশুর তথ্য নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১,০৩৫ জন শিশুর ওপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়।

ধোঁয়ার এক্সপোজার মাপা হয়েছে খুব সতর্কভাবে—পিতামাতারা ৭ বার রিপোর্ট দিয়েছেন (শিশুর ১.৫ বছর থেকে ৭.৫ বছর বয়স পর্যন্ত)। তারপর ১২ বছর বয়সে শিশুরা নিজেরাই তাদের আচরণের কথা বলেছে। তারা বলেছে কতটা মারামারি করে, রাগ করে, স্কুলে নিয়ম ভাঙে বা পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি অনুভব করে। ২০১৭ সালে Indoor Air জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল দেখে সবাই চমকে যায়।

ঘরে সিগারেটের ধোঁয়া যত বেশি, ১২ বছর বয়সে অ্যান্টিসোশ্যাল বা সমাজবিরোধী আচরণ তত বেশি। প্রতি এক ইউনিট ধোঁয়া বাড়ার সাথে সাথে দেখা গেছে: কন্ডাক্ট প্রবলেম (মারামারি, নিয়ম ভাঙা) ১৯% বেশি , প্রো-অ্যাকটিভ বা পরিকল্পনাকৃত আগ্রাসন ১১% বেশি, রি-অ্যাকটিভ বা পরিকল্পনাবিহীন আগ্রাসন ১৩% বেশি, স্কুলে অস্বাভাবিক আচরণ ১৪% বেশি এবং পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি ১০% বেশি।

গবেষকরা সব ধরনের অন্য কারণ বাদ দিয়ে দেখেছেন—বাবা-মায়ের আয়, শিক্ষা, মানসিক সমস্যা, এমনকি বাবা-মায়ের নিজের আগ্রাসী স্বভাব—সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার পরও এই সম্পর্ক একই রয়ে গেছে। যাদের ঘরে কখনো সিগারেটের ধোঁয়া ছিল না, তাদের তুলনায় সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা শিশুরা অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। গবেষক লিন্ডা পাগানি বলেন, ❝প্রথম ৭-৮ বছর ঘরের সিগারেটের ধোঁয়া শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। এটা শুধু ফুসফুস নয়, আচরণও বদলে দেয়।❞ গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে সেকেন্ডহ্যান্ড সিগারেটের ধোঁয়া (বিশেষ করে সাইডস্ট্রিম ধোঁয়া, যা জ্বলন্ত সিগারেট থেকে বের হয়) অক্সিজেনের অভাব ঘটিয়ে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশমান অংশকে দুর্বল করে। এতে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (যে অংশ রাগ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ করে) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শিশু ছোটখাটো বিষয়ে রেগে যায়, আক্রমণাত্মক হয় এবং স্কুলে সমস্যা তৈরি করে। এই ধোঁয়া শিশুর মস্তিষ্ককে ❝নিউরোটক্সিক্যান্ট❞ বা স্নায়ুবিষ হিসেবে বিষিয়ে তোলে—যা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।

সারকথা হল, এই গবেষণা স্পষ্ট করে বলছে—বাড়িতে ধূমপান মানে শুধু নিজের ক্ষতি নয়, শিশুর ভবিষ্যৎও নষ্ট করা। কিন্তু সুখের খবর হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে এই ঝুঁকি অনেক কমে যায়। আজ থেকেই বাড়িতে তামাকের ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন। শিশুরা শান্ত, সুস্থ ও সফল হোক—এটাই আমাদের সবার চাওয়া।।

— সাম্মা হিবা

— দীপায়ন তূর্য

বই: হিংস্রতার উৎস সন্ধানে





শোনো, জীবনের এক অমোঘ সত্য তোমাকে বলি—যখনই তুমি তোমার দুর্ভাগ্যের কথা বারবার বলো, তুমি আসলে অবচেতনভাবে সেই দুর্ভাগ্যকেই তোমার বাস্তবতায় স্থায়ী করে দাও!

অসুস্থতা হোক, অভাব হোক, কিংবা নিজেকে দুর্ভাগা মনে করা—কারণটা যাই হোক না কেন, তুমি তোমার মনোযোগ আর শক্তি যেদিকে দেবে, সেই জিনিসটাই তোমার জীবনে ডালপালা মেলবে এবং প্রাণ পাবে।

মনে রেখো, আমরা প্রতি মুহূর্তে আমাদের চিন্তা আর কথা দিয়ে আমাদের চারপাশের জগতটাকে নতুন রূপ দিচ্ছি। তাই নিজের ভেতরের নেতিবাচকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করো। সব সময় সুস্থতার কথা বলো, সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখো আর নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখো। সবসময়।

হয়তো এখনই তুমি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেখতে পাচ্ছ না, কিন্তু বিশ্বাস রাখো—তুমি আসলে তোমার ভবিষ্যতের জন্য বীজ বুনছ।

আসল রহস্যটা কী জানো? আমাদের মস্তিষ্ক কল্পনা আর বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তুমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে তাকে যা বলবে, সে সেটাকেই সত্যি বলে মেনে নেবে। আর ঠিক এভাবেই তুমি তোমার বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং নিজের পছন্দমতো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।

তোমাকে একটি ছোট কাজ দিচ্ছি—

আজ থেকে আগামী এক সপ্তাহ নিজের কোনো অভাব বা সমস্যার কথা কাউকে বলবে না। এমনকি নিজের মনেও না। বরং যা তুমি পেতে চাও, সেটা নিয়ে কথা বলো, সবসময় ভাবো। তুমি কি প্রস্তুত নিজের বাস্তবতা বদলে ফেলার এই চ্যালেঞ্জ নিতে?

Red Pill 2





ধূমপান ও হিংস্র আচরণ

জেমস, ৪৫ বছর বয়সী একজন আমেরিকান, ১৭ বছর বয়স থেকে ধূমপান শুরু করেছেন এবং প্রায় ২৮ বছর ধরে প্রতিদিন সিগারেট খাচ্ছেন। তার স্ত্রী বলেন, জেমস আগে খুব শান্ত ছিলেন, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার মেজাজ একেবারে খিটখিটে হয়ে গেছে। ছোটখাটো কথায় রেগে যান, চিৎকার করেন এবং মাঝে মাঝে ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলেন। জেমস নিজেও কখনো ভাবেননি যে তার হাতের ওই সিগারেটই ধীরে ধীরে তার মেজাজ আর আচরণ পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। কিন্তু আমেরিকার NESARC নামের এক বিশাল সমীক্ষা বলছে, জেমসের মতো লক্ষ লক্ষ ধূমপায়ী আছেন যারা জানেনই না যে তাদের সিগারেট তাদেরকে ধীরে ধীরে সহিংস করে তুলছে। NESARC-এর পুরো নাম National Epidemiologic Survey on Alcohol and Related Conditions। ২০০১-২০০২ সালে আমেরিকার সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ এই বিশাল সমীক্ষা শুরু করে। প্রথম ধাপে ৪৩,০৯৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং ২০০৪-২০০৫ সালে আবার ৩৪,৬৫৩ জনের সঙ্গে কথা বলা হয়। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. অ্যালান এস. লুইস এবং তার দল এই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে একটা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন—যারা দুইবারের সমীক্ষাতেই ধূমপানের অভ্যাস একই রেখেছেন, তাদের সহিংস আচরণের ধরন কেমন? ২০১৬ সালে Nicotine & Tobacco Research জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় শেষ পর্যন্ত ২৯,৯৭১ জন মানুষের তথ্য নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ২২,৫২৯ জন কখনো ধূমপান করেননি বা আগে করলেও ছেড়ে দিয়েছেন, আর ৭,৪৪২ জন প্রতিদিন ধূমপান করেন। ফলাফল দেখে সবাই চমকে গিয়েছিলেন। প্রতিদিন ধূমপান করা মানুষদের অন্যের ওপর সহিংসতা, অর্থাৎ মারামারি বা আক্রমণের হার যারা ধূমপান করেন না তাদের তুলনায় ২.৫ গুণ বেশি। নিজের ওপর সহিংসতা, যেমন আত্মহত্যার চেষ্টা বা নিজেকে ক্ষতি করার প্রবণতা ২.১ গুণ বেশি এবং নিজেই সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকি ১.৭ গুণ বেশি। গবেষকরা অনেক কিছু বাদ দিয়ে দেখেছেন—মানসিক অসুস্থতা, মদ্যপান, অন্যান্য মাদক, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, আয়, সম্পদ—সবকিছু হিসেব করে দেখেছেন, কিন্তু সম্পর্কটা একই রয়ে গেছে। এটি আমেরিকার সবচেয়ে বড় জাতীয় সমীক্ষাগুলোর একটি বলে বিবেচিত হয় । সবচেয়ে আশার কথা হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে সত্যিই উন্নতি হয়। যারা আগে ধূমপায়ী ছিলেন কিন্তু পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের সহিংস আচরণ কখনো ধূমপান না করা মানুষদের চেয়েও অনেক কম। ডা. অ্যালান লুইস বলেছেন, প্রতিদিন ধূমপান করা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই সহিংসতা নিয়ে যেকোনো গবেষণায় ধূমপানের বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এবং ধূমপান ছাড়ানোর প্রোগ্রামগুলো সহিংসতা কমাতেও সাহায্য করতে পারে এটা সবাইকে জানাতে হবে। এ ছাড়া ২০২১ সালের কোক্রেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে ধূমপান ত্যাগ করার সাথে সাথে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রা অনেক কমে যায় এবং সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। এই পরিবর্তন পরোক্ষভাবে সহিংস আচরণের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়। মেলবোর্নের রয়্যাল হাসপাতালের ডা. সারাহ হোয়াইট বলেছেন, আমরা এখন নিশ্চিতভাবে জানি যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না, মন আর মেজাজকেও ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। আর সবচেয়ে সুন্দর খবর হলো, এখনই ধূমপান ছেড়ে দিলে আবার সেই শান্ত, সুন্দর এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব।।

— সাম্মা হিবা

— দীপায়ন তূর্য

বই:  হিংস্রতার উৎস সন্ধানে 





আপনি কি জানেন?

একটি হাতির শুঁড়ে কোনো হাড় নেই, তবুও এতে প্রায় ৪০,০০০টিরও বেশি পেশি রয়েছে। অন্যদিকে, পুরো মানবদেহে মোটামুটি মাত্র ৬০০টি পেশি থাকে। অর্থাৎ, একটি হাতির শুঁড়েই মানুষের পুরো শরীরের তুলনায় প্রায় ৭০ গুণ বেশি পেশি রয়েছে।

এই অসাধারণ গঠন হাতির শুঁড়কে প্রাণিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বহুমুখী অঙ্গগুলোর একটি বানিয়েছে। এতগুলো পেশি জটিলভাবে সাজানো থাকার কারণে হাতি তার শুঁড়কে সহজেই বাঁকাতে, ঘোরাতে, পেঁচাতে এবং যেকোনো দিকে প্রসারিত করতে পারে। ফলে এটি একই সঙ্গে শক্তিশালী এবং অত্যন্ত নমনীয়।

হাতির শুঁড় আসলে তার নাক এবং উপরের ঠোঁটের মিলিত রূপ। এই শুঁড় দিয়ে হাতি বড় গাছ উপড়ে ফেলতে পারে, ভারী জিনিস তুলতে পারে, আবার খুব সূক্ষ্মভাবে একটি ঘাসের পাতাও তুলে নিতে পারে।

শুধু খাবার তোলার জন্য নয়, হাতি তার শুঁড় ব্যবহার করে ঘ্রাণ নেওয়া, স্পর্শ করা এবং অন্য হাতির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যও।  @ Ahmed Pipul



নারীর ৮০ ভাগ সমস্যার সমাধান আত্মনির্ভরশীলতায়

 সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে বহু আলোচনা হলেও বাস্তবতা হলো—অনেক নারী এখনও নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক সমস্যার মধ্যে বসবাস করেন। পারিবারিক নির্ভরতা, আর্থিক অক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক বাধা—এসব কারণে নারীরা প্রায়ই নিজের অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। কিন্তু গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বারবার দেখিয়েছে, যখন একজন নারী আত্মনির্ভরশীল হন—অর্থনৈতিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে—তখন তার জীবনের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়।

আত্মনির্ভরশীলতা নারীর জন্য শুধু আয় করার সুযোগ নয়; এটি আত্মসম্মান, স্বাধীনতা এবং নিরাপদ জীবনের শক্ত ভিত্তি। তাই বলা হয়—নারীর প্রায় ৮০ ভাগ সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে আত্মনির্ভরশীলতায়।

আত্মনির্ভরশীলতা নারীর সমস্যার সমাধান কেন

১. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীর মর্যাদা বাড়ায়

অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী পরিবার ও সমাজে আলাদা সম্মান পান। যখন একজন নারী নিজের আয় করতে পারেন, তখন তাকে আর কারও কাছে ছোট হতে হয় না। অর্থনৈতিক শক্তি তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মজীবী নারীরা পারিবারিক সিদ্ধান্তে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন এবং তাদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২. নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়

অর্থনৈতিক নির্ভরতার কারণে অনেক নারী নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হন। কিন্তু আত্মনির্ভরশীল নারী চাইলে অন্যায় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া নারীদের মধ্যে পারিবারিক সহিংসতা সহ্য করার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। কারণ তাদের কাছে বিকল্প পথ থাকে।

৩. শিক্ষিত ও দক্ষ নারী পরিবারকে এগিয়ে নেয়

আত্মনির্ভরশীলতা শুধু চাকরি নয়, দক্ষতা ও শিক্ষার সাথেও সম্পর্কিত। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ নারী নিজের সন্তানদের শিক্ষায় বেশি মনোযোগ দেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মজীবী বা শিক্ষিত মায়েদের সন্তানদের স্কুলে উপস্থিতি ও শিক্ষার মান তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো হয়। ফলে আত্মনির্ভরশীল নারী একটি প্রজন্মকে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারেন।

৪. পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়

যে নারী নিজের উপার্জন করেন বা দক্ষতার মাধ্যমে পরিবারে অবদান রাখেন, তার মতামত পরিবারে গুরুত্ব পায়। সংসারের বড় সিদ্ধান্ত—সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্পদ ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়ে তার সক্রিয় ভূমিকা থাকে। এতে পরিবার আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

৫. আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়

আত্মনির্ভরশীলতা নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিজের যোগ্যতায় কিছু অর্জন করার অনুভূতি মানুষকে মানসিকভাবে শক্ত করে তোলে। কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা বা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নারী সমাজের সঙ্গে যুক্ত হন এবং নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারেন।

৬. দারিদ্র্য কমাতে নারীর ভূমিকা বাড়ে

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, যখন নারীরা আয় করতে শুরু করেন, তখন পরিবারের দারিদ্র্য কমে যায়। নারীরা সাধারণত পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি ব্যয় করেন। ফলে পুরো পরিবারের জীবনমান উন্নত হয়।

৭. সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়

আত্মনির্ভরশীল নারী সমাজে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন। সমাজে তাদের মতামত গুরুত্ব পায়, নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয় এবং তারা অন্য নারীদেরও অনুপ্রাণিত করেন। এভাবে আত্মনির্ভরশীল নারী শুধু নিজের জীবনই নয়, সমাজকেও পরিবর্তন করতে পারেন।

গবেষণার আলোকে বাস্তবতা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লে সামাজিক উন্নয়নও দ্রুত হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর একাধিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব পরিবারে নারীরা আয় করেন, সেখানে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক কম। একইভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর কর্মসংস্থান বাড়লে পরিবারে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানও উন্নত হয়।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি ও নারীর উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার ফলে হাজার হাজার নারী আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা শুধু নিজের জীবন বদলাননি, বরং পুরো পরিবারের আর্থিক ভিত্তি শক্ত করেছেন।

 নারীর সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নির্ভরশীলতা। যখন একজন নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না, তখন তাকে অনেক অন্যায় পরিস্থিতি মেনে নিতে হয়। কিন্তু আত্মনির্ভরশীলতা সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে দেয়।

আত্মনির্ভরশীল নারী শুধু নিজের জীবনই বদলান না—তিনি পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। তাই নারীর শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো শুধু নারীর জন্য নয়, পুরো সমাজের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সুতরাং বলা যায়—নারীর জীবনের প্রায় ৮০ ভাগ সমস্যার কার্যকর সমাধান লুকিয়ে আছে আত্মনির্ভরশীলতায়। @@ SAM Motivation

তথ্যসূত্র

Bangladesh Bureau of Statistics – Labour Force Survey

UN Women – Women’s Economic Empowerment Reports

World Bank – Gender Equality and Development Studies




কিছু পাখি কেন মানুষের মতো কথা বলে

লেখা:

অনিক রায়

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৭: ১০

কিছু পাখি কেন মানুষের মতো হুবহু কথা বলতে পারে?ছবি: উইকিপিডিয়া

পাখির কথা বলা নিশ্চয়ই কখনো শুনেছেন। আপনার নিজেরই হয়তো একটা কথা বলা পাখি আছে। ভাবুন তো, আপনার পোষা ছোট্ট পাখিটি আপনাকে স্পষ্ট ভাষায় বলছে, ‘কেমন আছ!’ ১৯৯৫ সালে পাক নামে একটি ছোট্ট বাজরিগার পাখি ঠিক এমনই এক কাণ্ড ঘটিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিল! মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে এই বিস্ময়কর পাখিটি গুনে গুনে ১ হাজার ৭২৮টি শব্দ শিখে ফেলেছিল।

শুধু শব্দই নয়, পাক নিজে নিজে দ্যাটস হোয়াট ইটস অল অ্যাবাউট-এর মতো দারুণ সব বাক্যও তৈরি করতে পারত। কিন্তু কখনো কি আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন কিছু পাখি মানুষের মতো হুবহু কথা বলতে পারে? অন্য পাখিরা কেন শুধু কিচিরমিচির করেই দিন পার করে? চলুন, আজ নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী টিমোথি রাইটের গবেষণার হাত ধরে এই মজার রহস্যটি ভেদ করি!

পাখিরা বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে সঙ্গীকে ডাকে বা বিপদের সংকেত দেয়ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক রাইটের মতে, পৃথিবীর প্রায় সব পাখিরই নিজস্ব ভাষা বা যোগাযোগের মাধ্যম আছে। তারা বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে সঙ্গীকে ডাকে বা বিপদের সংকেত দেয়। কিন্তু আমরা যখন বলি পাখি কথা বলছে, তখন আমরা মূলত মানুষের কথার নকল বা মিমিক্রির কথাই বোঝাই। তোতাপাখি, ময়না, স্টার্লিং বা কাকজাতীয় পাখিরা এই নকল করার কাজে দারুণ ওস্তাদ!

আরও পড়ুন

০৬ নভেম্বর ২০২৫

অধ্যাপক রাইটের মতে, পৃথিবীর প্রায় সব পাখিরই নিজস্ব ভাষা বা যোগাযোগের মাধ্যম আছে। তারা বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে সঙ্গীকে ডাকে বা বিপদের সংকেত দেয়।

পাখিরা কেন আমাদের কথা নকল করে

এর পেছনের সবচেয়ে বড় কারণটি হলো সামাজিক বন্ধন। তোতাপাখিরা সাধারণত বন্য পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে খুব শক্ত জুটি বেঁধে থাকে। কিন্তু যখন একটি পাখিকে খাঁচায় বা মানুষের বাড়িতে পোষা হয়, তখন সে তার নিজের প্রজাতির অন্য পাখিদের দেখতে পায় না।

তখন সে ভাবে, আশেপাশে তো আমার মতো কেউ নেই, এই মানুষগুলোই তো আমার পরিবার! তাই আপনাকে নিজের দলের অংশ ভেবে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করার জন্যই সে আপনার কথাগুলো নকল করতে শুরু করে। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে তাকে শুভ সকাল বলেন, তবে সে-ও একসময় এই শব্দটিকে তার প্রতিদিনের ভাষার অংশ বানিয়ে নেবে।

তোতাপাখিরা সাধারণত বন্য পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে খুব শক্ত জুটি বেঁধে থাকেছবি: এর্নেস্তো এঙ্কার্লিন / অভিস

পাখিদের এই মানুষের মতো কথা বলার পেছনে দারুণ কিছু শারীরিক ও স্নায়বিক কারণ আছে। এই পাখিদের মস্তিষ্কে সং সিস্টেম নামে একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক থাকে, যা তাদের জটিল সব শব্দ খুব দ্রুত শিখতে সাহায্য করে।

মানুষের গলার ওপরে যেমন ল্যারিংক্স থাকে, পাখিদের বুকের অনেক গভীরে থাকে সিরিংক্স নামে একটি বিশেষ অঙ্গ। এটি বাতাসের চাপ ব্যবহার করে এত নিখুঁতভাবে শব্দ তৈরি করতে পারে, যা মানুষের গলার চেয়েও অনেক বেশি কর্মক্ষম!

আরও পড়ুন

১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

পাখিদের মস্তিষ্কে সং সিস্টেম নামে একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক থাকে, যা তাদের জটিল সব শব্দ খুব দ্রুত শিখতে সাহায্য করে।

পাখিরা কি সত্যিই বোঝে তারা কী বলছে

আপনার পোষা পাখিটি হয়তো আপনাকে পরিষ্কার গলায় ডাকছে, কিন্তু সে কি আসলেই কথাটার মানে বোঝে? বিজ্ঞানী রাইট বলছেন, পাখিরা সাধারণত কোনো কাজের সঙ্গে শব্দকে মেলাতে খুব ওস্তাদ। যেমন, তারা হয়তো ডোরবেলের শব্দ নকল করে, কারণ তারা জানে এই শব্দটা করলেই বাড়ির সবাই হুড়মুড় করে ছুটে আসবে! আবার খাবার বললে যে খেতে দেওয়া হবে, এটাও তারা খুব ভালো বোঝে। তবে তারা মানুষের মতো পুরো বাক্যের ব্যাকরণগত অর্থ বুঝে কথা বলে না; বরং এটি তাদের কাছে একগুচ্ছ শব্দের সমষ্টি মাত্র।

চিক্যাডি নামে একধরনের পাখি বিপদের সংকেত দিতে ডি শব্দ ব্যবহার করেছবি: উইকিপিডিয়া

অবশ্য বন্য পরিবেশে পাখিদের নিজস্ব ভাষাতেও দারুণ ব্যাকরণ আছে! যেমন চিক্যাডি নামে একধরনের পাখি বিপদের সংকেত দিতে ডি (D) শব্দটি ব্যবহার করে। বিপদ যত বড়, তাদের ডাকে 'ডি' শব্দের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে!

আরও পড়ুন

০৯ জুলাই ২০২৫

বন্য পরিবেশে মানুষের মতো কথা বলা পাখি খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে, যদি না কারও খাঁচা থেকে পালানো পাখি অন্য বন্য পাখিকে সেটা শিখিয়ে থাকে।

পাখিদেরও আছে আঞ্চলিক ভাষা!

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মানুষের মতো পাখিদেরও আলাদা আঞ্চলিক ভাষা আছে! বিজ্ঞানী রাইট কোস্টারিকায় ইয়েলো-ন্যাপড অ্যামাজন প্যারট নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেন, এক এলাকার পাখিরা ডাকছে ‘ওয়াহ ওয়াহ’ করে, আর অন্য এলাকার পাখিরা ঠিক একই পরিস্থিতিতে ডাকছে ‘উইপ উইপ’ করে! এটি প্রমাণ করে যে মানুষের ভাষার মতোই পাখিরাও তাদের পরিবেশ থেকে ভাষা শেখে।

কোস্টারিকায় ইয়েলো-ন্যাপড অ্যামাজন প্যারটছবি: চার্লস জে শার্প / শার্প ফটোগ্রাফ / উইকিপিডিয়া

বন্য পরিবেশে মানুষের মতো কথা বলা পাখি খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে, যদি না কারও খাঁচা থেকে পালানো পাখি অন্য বন্য পাখিকে সেটা শিখিয়ে থাকে। তবে একটু কান পাতলেই হয়তো আপনি আমাদের চারপাশের পাখিদের ডাকের মধ্যেই নতুন কোনো আঞ্চলিক ভাষা আবিষ্কার করে ফেলতে পারেন!

লেখক: ফ্রন্টেন্ড ডেভলপার, সফটভেঞ্চ

সূত্র: পপুলার সায়েন্স