পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন
পোস্টার ব্যানার ফেস্টুন
বাঙলাদেশে ভাষার ‘কিয়েক্টাবস্থা’
—
আমাদের দেশের নাম বাঙলাদেশ, জনসাধারণের মুখের সাধারণ ভাষার নাম বাঙলা। এইখানে আমি সেই বাঙলা ভাষার নানাক্ষেত্রে ও মাধ্যমে প্রয়োগে ব্যাকরণ, বানানের যে নিয়ম, সেইসবে যে ‘কিয়েক্টাবস্থা’ বিরাজ ও বিবাদমান তার বিষয়ে কতিপয় কথার চাষাবাদ করবার চেষ্টা নেব।
‘কিয়েক্টাবস্থা’ মানে ‘কী একটা অবস্থা’ এই ব্যাসবাক্যের সমস্তপদ বলা যায়। এই শব্দটা ফেইসবুকিশ লোকজনের বানানো শব্দ। এখনো অভিধানে জায়গা পেয়েছে কি না জানি না। তবে আমি আমার এই লেখায় প্রয়োগ করলাম।
আমি প্রচলিত ‘বাংলা’ বানানটিকে ‘বাঙলা’ লিখি বলেই এই লেখায়ও লিখছি। কেন লিখি, তার একটা আলাপ এইখানে আগে খানিকটা দিয়ে নিই, তারপর অন্য বিস্তারে যাব। যেহেতু ‘বাংগালি’, ‘বাঙ্গালী’ ইত্যাদি বানান বাতিল, ‘বাংলি’ বানানও হবার নয়, শুদ্ধ হচ্ছে বাঙালি। শব্দের ধারাবাহিকতাটা এই রকম: বাঙালি-বাঙলা-বাঙলাদেশ। বাঙলা বর্ণমালায় নাসিক্য ধ্বনি প্রকাশের ক্ষেত্রে 'ঙ' এবং 'ং' (অনুস্বার)-এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা বেশ দীর্ঘ। শব্দের শেষে যদি নাসিক্য ধ্বনি থাকে, তবে সেখানে অনুস্বার না লিখে 'ঙ' লেখাই বিধেয়, যেমন রঙ, সঙ বা ব্যাঙ। 'ঙ' বর্ণটি যখন এককভাবে পদের শেষে বসে, তখন তা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবেই তার নাসিক্য রূপটি প্রকাশ করে। ফলে এর নিচে আলাদা করে হলন্ত (্) চিহ্ন দেওয়ার কোনো প্রয়োজন থাকে না। উচ্চারণগতভাবেও এটি স্বচ্ছ, কারণ 'রঙ' লিখলে তা কখনোই 'রঙ্গ'-এর মতো শোনায় না, বরং একটি কোমল নাসিক্য ধ্বনিতেই শেষ হয়।
অনুস্বারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে শব্দের ব্যুৎপত্তি ও সন্ধি। সংস্কৃত বা তৎসম ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, পদান্তস্থিত 'ম্' ধ্বনির পরে যদি ক-বর্গের কোনো বর্ণ থাকে, তবে সেই 'ম' বিকল্পে 'ঙ' অথবা অনুস্বার হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্ধিজাত তৎসম শব্দে অনুস্বার ব্যবহারের আধিক্য দেখা যায়। 'সংবাদ' শব্দটি গঠিত হয়েছে 'সম্' ও 'বাদ' শব্দের সঙ্গমে। এখানে সন্ধির ব্যাকরণগত বাধ্যবাধকতা থাকায় অনুস্বার অপরিহার্য। কিন্তু যেইসব শব্দে কোনো সন্ধি নেই এবং যা মূলত তদ্ভব বা দেশি শব্দ, সেখানে অনুস্বার পরিহার করে 'ঙ' ব্যবহার করেই যৌক্তিক। এই ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই অনেক বিশেষজ্ঞ 'বাঙলা' বানানটিকে প্রমিত মনে করেন, কারণ 'বাঙলা' শব্দটির কোনো সন্ধিবিচ্ছেদ হয় না। শব্দটির ঐতিহাসিক বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায় এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে তৎসম শব্দ 'বঙ্গ'-তে। 'বঙ্গ' থেকে 'বঙ্গাল' এবং পর্যায়ক্রমে 'বাঙলা' বা 'বাংলা' শব্দের উদ্ভব। রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখায় আর চিন্তায় 'বাঙলা' বানানটি ব্যবহারের পক্ষপাতী ছিলেন। তাঁর মতে, 'ঙ' ধ্বনিটি এই ভাষার স্বকীয় কোমলতা ও ধ্বনিগত মাধুর্যকে অনুস্বারের থেকে বেশি সঠিকভাবে ধারণ করে। যদিও আধুনিককালে বাংলা একাডেমি নির্ধারিত প্রমিত নিয়মে এবং বাঙলাদেশের সাংবিধানিক দাপ্তরিক বানানে 'বাংলা' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু ধ্বনিবিদ্যার বিচারে 'ঙ' ব্যবহারের সার্থকতা অনস্বীকার্য। বিশেষত 'বাঙালি' বা 'বাংলাদেশ'-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে তৎসমজাতীয় উৎস থাকলেও লোকমুখের উচ্চারণে তা 'ঙ'-এর নাসিক্য প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে। বাঙলা বানানের এই শৃঙ্খলা রক্ষা কেবল শুদ্ধির প্রশ্ন নয়, বরং ভাষার ঐতিহাসিক ও ব্যাকরণগত গতিধারাকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যম। শব্দের শেষে 'ঙ'-এর স্বতন্ত্র অবস্থান এবং সন্ধিজাত ক্ষেত্রে অনুস্বারের সুনির্দিষ্ট ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হল আধুনিক প্রমিত রীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তদ্ভব ও দেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ঙ'-এর সাবলীল প্রয়োগ ভাষার ধ্বনিগত স্বচ্ছতা বজায় রাখে, যা 'রঙ' বা 'সঙ'-এর মতো শব্দগুলোকে উচ্চারণগত বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে। আমার বিবেচনায় হুমায়ুন আজাদ ছিলেন আমাদের দেশের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদদের একজন, তিনি লিখতেন ‘বাঙলা’ এই বানান। আর তাছাড়া ১৯৯৩ সনে বাঙলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বাঙলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাঙলা অভিধান’-এর ভূমিকায় সম্পাদক আহমদ শরীফ ‘বাঙলা’ শব্দটিই ব্যবহার করেছেন। তিনি কোথাও ‘বাংলা’ ব্যবহার করেননি। উক্ত দুই পণ্ডিত নিশ্চয়ই এইভাবে লিখলে শুদ্ধ হয় বলেই লিখতেন। হুমায়ুন আজাদ ১০ খণ্ড ব্যাকরণ রচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাংলা একাডেমির কাছে ৮০ দশকে। কিন্তু একাডেমি তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কারণ তিনি স্পষ্টবাদী। বাঙলা একাডেমি যদি হুমায়ুন আজাদের প্রস্তাবে সম্মত হত আজ আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ এবং আধুনিক বাঙলা ব্যাকরণ পেতাম।
সংবিধানের এর মধ্যে অনেক সংশোধনী হয়ে গেছে। যদি সরকার ভাষা ও বানান সচেতন হতো, ‘বাংলাদেশ’ বানানটি ঠিক করে সংবিধানে তার স্থলে ‘বাঙলাদেশই লেখা হত। এই সত্য জেনে সংবিধানে আছে বলে আমি যদি ভুল বানান লিখি তাহলে আমার কুড়িবছর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আর কী দাম রইল? সংসদে আইন পাশ করে সংবিধান-সহ অন্যান্য নথিপত্রে ঠিক করতে হবে বলেই ভুল বানানটা মানে ‘বাংলাদেশ’ বানানটিই অভিধানে এখনো রাখা হয়েছে। সংসদে কত বড়ো বড়ো আইন পালটে যায়, অথচ এইটুকু কেউ করবার প্রস্তাব ও অবসরও পায় না।
বাঙলাদেশে বরাবরই সবসময়ই মূর্খলোকজন শাসনক্ষমতায় থাকে। এখনো করছে। তাদের শিক্ষিত জাতিগোষ্ঠী বা ভাষার উন্নতি কিংবা বানানচর্চার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাদের দরকার একপাল মূর্খ অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী যাদের ভুলিয়ে ভালিয়ে, কিনে বা জোর করে মাথার ওপর বসে তারা ক্ষমতায় যাবে। সেক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির উচিত বিষয়গুলি সরকারে নজরে আনা। তাদের কতটা আনছে বা চেষ্টা করছে সেটা আমার সন্দেহ। সেক্ষেত্রে খানিকটা দোষ তো বাংলা একাডেমির ওপরও বর্তায়।
ভাষার শাসন হচ্ছে খানিকটা নদীশাসনের মতোই ব্যাপার। নদীকে খননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ও গভীরতা বৃদ্ধি করা, পাশে পাথরের চাই ফেলে পাড়ভাঙা ও ক্ষয়রোধ করার মাধ্যমে নদীর গতি ও প্রবাহ ঠিক রাখাই হচ্ছে নদীশাসন। এর জন্যে থাকে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাঙলাদেশে যথা অর্থে নদীশাসন যেহেতু হয় না, সেহেতু ভাষাশাসনের ক্ষেত্রেও যথার্থতা আশা করতে পারি না। এইখানে ভাষাশাসনের নামে যা হয় তা হচ্ছে কচলাকচলি। বেশি কচলালে লেবুর মতো ভাষাও তিতা হয়ে যেতে পারে জেনেও আবহমান কাল ধরে বাংলা একাডেমি-সহ আরও অনেকেই এই কাজ করে যাচ্ছেন।
এই দেশে বাংলা একাডেমির পাশাপাশি আরও অনেক ভাষা ও বানানরীতি আছে, যারা একাডেমি প্রণীত রীতিকেই একটু এদিক-ওদিক, দুয়েকজায়গায় সংযোজন, বিয়োজন করে, বা নিজেদের পছন্দের বানান, উচ্চারণানুগ বানান, প্রচলিত কিংবা পুরোনো বানানকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে লেখবার ক্ষেত্রে, যেমন আনিসুজ্জামান যখন বেঁচে ছিলেন অবসরের পর বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বেশ কিছু বছর কাজ করেছিলেন, তখন আমিও ওখানেই ছিলাম যেহেতু আমি জেনেছি ওখানকার সব প্রকাশনায় তাঁর এমন বানানরীতিই চলে। আবার ওদের ‘কালি ও কলম’ নামের সাহিত্য পত্রিকায় আবুল হাসনাত বেঁচে থাকা পর্যন্ত আনিসুজ্জামান ও বাংলা একাডেমির বানানরীতি চলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কিন্তু বড়ো লেখক হলে সেই লেখকের পছন্দের বানানই রেখে দিতেন দেখেছি। ‘প্রথম আলোর’ পত্রিকারও বানানরীতি নিয়ে একটা বইও আছে, যে রীতি অনুসারে তাদের পত্রিকা ও প্রকাশনার সকল বানান চলে, ওটাও মূলত বাংলা একাডেমির দুয়েকটা বানানের এদিক-ওদিক করে লেখা। এছাড়া সম্পাদকভেদে নানা ছোটোকাগজে আলাদা বানান। আর সলিমুল্লাহ খান তো রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে টেক্কা দিতে গিয়ে ‘কী’ আর ‘কি’ এই দুই শব্দ নিয়ে বিতর্কই বাঁধিয়ে রেখেছেন রীতিমতো। ক্ষেত্রবিশেষে তিনি রবীন্দ্রনাথকেও মূর্খজ্ঞান করেন।
তারপর আছে মান বা প্রমিতভাষার বিপরীতে ফরহাদ মজহার, ব্রাত্য রাইসু, এবাদুর রহমান প্রমুখের বানান ও ভাষার অত্যাচার। এদের মধ্যে ফরহাদ মজহার প্রমিত ভাষার বিরুদ্ধে নানা কথা বললেও লেখেন কিন্তু প্রমিত বাঙলায়। আর ‘লাভ জিহাদি’ এবাদুর রহমানরা তো এই শতাব্দীর শুরুর দিকে ‘পূর্ব বাংলার ভাষা’ নামে একটা ‘উত্তরাধুনিক’ চিন্তার সংকলনও বের করেছিলেন। এবাদুর রহমান এখনো জগাখিচুড়ি ভাষাতেই লেখেন, তার ক্রিয়াপদ, বানান, শব্দ সবই উদ্ভট বলেই মনে হয় পড়ে। তার লেখায় প্রচলিত ও টিকে থাকা আরবি, ফারসি ও উর্দু শব্দের বাইরেও ঝরে যাওয়া ও নতুন নতুন অনেক আরবি, ফারসি ও উর্দুর প্রয়োগ দেখা যায়। সবথেকে মজার ও একই সঙ্গে বিরক্তিকর বিষয় হচ্ছে তিনি ‘আছে’ কে লেখেন ‘আসে’ বানানে। তিনি ‘ছ’ অক্ষর তার ভাষায় হরফের পরিবর্তে ‘স’ লেখেন। তাহলে আমার প্রশ্ন এই যে, আসা অর্থে ‘আসে’ কী বানানে লেখা হবে, ‘আশে’ বানানে? ‘আশে’ মানে তো আশায়।
ব্রাত্য রাইসু প্রমিত বাঙলার বিরুদ্ধে লেখেন একদম ব্যাকরণ মেনে, প্রায় নব্বইভাগ প্রমিত বাঙলায়। কেবল মাঝেমধ্যে দুয়েকটা শব্দ বা ক্রিয়াপদ যথা ‘হইসে’, ‘খাইসে, ‘আমারে’, বা ‘করতেসি’ বা ‘লাগাইতেসি’ টাইপ ব্যাপার করেন এবাদুরের মতোই। এইসবের ব্যাখ্যা কী? তার কবিতার বই ‘আকাশে কালিদাসের লগে মেগ দেখতেছি’ কেবল মলাটে আর নামেই। ভেতরে ‘মেগ’ বানান কিন্তু তিনি ‘মেঘ’ই রেখেছেন। মানে ভেতরের কাব্যমাল বলা যায় প্রায়ই প্রমিত বাঙলাতেই বিন্যস্ত। প্রমিতভাষা বিষয়টা মূলতই আমি মনে করি ভাষার লেখ্যরূপের জন্যে, কথ্যরূপের জন্যে নয়। ভাব প্রকাশ যেকোনো উপায়ে করতে পারলেই বলা কথা কিন্তু হয়েই যায়। তাই আসলে প্রমিত ভাষার সঙ্গে ভাষার কথ্যরূপের দ্বন্দ্ব থাকবার কথা নয়। কথা হল, ব্রাত্য রাইসু কেন প্রচলিত ব্যাকরণ, প্রমিতভাষা কাঠামো আর বানানের ‘গোয়া’ মেরে নিজের একটা লেখ্যরূপ তৈরি করছেন না জনস্বার্থে?
আরও আছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতো ভাষামূর্খ লোকজনের টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে ঢাকাইয়া কুট্টিভাষার মিশ্রণে উদ্ভট এক কথ্যভাষার নানা প্রয়োগ। এইসব রীতিকে রতিও বলা যায়। তবে ভাষা মূলত নদীর থেকেও ক্ষমতাধর। রীতি-তিথি দিয়ে ভাষার মূলস্রোতকে বাঁধা যায় না। এই স্রোত সবকিছু বলতে সবকিছুর সঙ্গে প্রবাহিত হয়।
বাংলা একাডেমি এই করে, সেই করে, এই করে না, সেই করে না। তার এইসব সীমা ও সীমাবদ্ধতারও সদর্থক কিংবা নঞর্থক নানা কারণ বিরাজমান। কিন্তু এই রূপ একটা একাডেমি যে দরকার সেইটা তো অনস্বীকার্য। আর কিছু না করুক, ভাষার একটা শৃঙ্খলার জন্যে দরকার। অভিধান অবশ্যই দরকার। ব্যাকরণ সংরক্ষণ, প্রণয়ন, নবায়ন অবশ্যই দরকার। সেই কাজগুলিই একাডেমি করে। এবং সংশ্লিষ্ট ভাষার সবথেকে পণ্ডিত লোকজনের মাধ্যমেই এই জাতীয় কাজ করানো হয়।
বাঙলাদেশের মতো জায়গায় এইসব কাজ একশভাগ নিঁখুত হবে সেই আশা করা হঠকারিতা। কিন্তু একটা ব্যাকরণ বা অভিধানের মাধ্যমে একটা পথ তো বেঁধে তারা দিচ্ছে। তা তো একটা সামগ্রিক ও সদর্থক পথ। এই পথ না থাকলে তো সমস্ত ভাষায় একটা জগাখিচুড়ি ব্যাপার হতো। এক একজন এক একভাবে সদলবলে শব্দ, ক্রিয়াপদ চাপিয়ে দিয়ে সেইরকম অবস্থা করত। আসমানি কওমের কবিগণ কিংবা ফরহাদ মজহার অ্যান্ড সন্স মিলে বখতিয়ারের ঘোড়ায় চেপে খাঁটি বাঙলা, তৎসম, তৎভব শব্দসকল লাথি দিয়ে বিদায় করে পদের ভেতরে ঢুকিয়ে দিত সব আরবি, ফার্সি আর উর্দু শব্দ। কিংবা এই প্রজন্মের ইংরেজিচোষা কচিকাঁচারা এসে ঢুকিয়ে দিত হরিবল, টেবল এই জাতীয় ইংরেজি শব্দ। কিংবা ব্রাত্য রাইসু তার একাডেমি থেকে তৈরি করত নতুন ক্রিয়াপদ আর কথ্যরীতির লেখ্যরূপ। কিংবা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এসে বানাতো কুট্টি বাঙলার অশালীন ব্যাকরণ। সলিমুল্লাহ খান ফিরে যেতেন আবার সাধুরীতিতে।
আগের যুগে মানুষ চিত্রলিপি বা ইশারাভাষায় ভাববিনিময় করত, ওইসব ভাষা একার্থে সর্বজনীন। বিদেশি ভাষার অনেক শব্দও একসময় ব্যবহৃত হতে হতে সর্বজনীনতা পায়। আটশ বছর থেকে বা দুশো বছর আগেও যেইসব আরবি, ফার্সি, হিন্দি, সংস্কৃত, ইংরিজি, উর্দু শব্দ বাঙলাভাষায় ছিল সব কিন্তু এখন আমরা ব্যবহার করি না। আমাদের মুখে মুখে সময়ের সঙ্গে যেকটা শব্দ টিকেছে ওই কটাই ব্যবহার করি। বাকি এখনো পুরোনো পুথি বা নথিপত্রেই সুপ্ত আছে।
শব্দের নিজস্ব একটা ক্ষমতা আছে। অন্য সবকিছুর মতো শব্দও টিকে থাকে। তার মানে সব শব্দ টেকে না, কিছু শব্দ টেকে। শব্দদের আমরা পাই দেয়ালের গায়ে, মশারির ছাদে, নর্দমায়, বারান্দায়, বালিশের জামায়, পানির কলে, লটারির নম্বরে, জামরুলের কষে, বাতাসের ধূলি আর সিসায়, সবখানে। আর যেইসব শব্দ কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেল বা অন্যরূপে হাজির হল তাদেরকে আমরা অন্যত্র তুলে রাখি, কিংবা অন্যত্র তারা থাকে, কখনও-সখনো তার মধ্য থেকে দু-একটা শব্দের ব্যবহার আমরা সচেতনভাবে করি। ওটা আবহ নির্মাণের জন্যে।
লেখালেখির ক্ষেত্রে মূলত জীবনযাপন, অভিজ্ঞতা, অচেতন, সার্বিক অচেতন ইত্যাকার বিষয় থেকে শব্দরা আসে, সাবলীলভাবেই আসে। আর আমার কখনোই সাবলীলভাবে আসা শব্দদের অযাচিত মনে হয় না, মনে হয় না ঝুলে গেছে, সে যে-শব্দই হোক, সংস্কৃত, হিব্রু কিংবা আঞ্চলিক, হোক তা হাজার বছরের পুরোনো। কিছু শব্দ বাক্যের প্রয়োজনে আসতেই পারে। তবে কবিতার দুর্বলতাকে ঢাকার জন্যে অনেকে বিদেশি যথা ইংরিজি, আরবি, ফারসি শব্দবহুল কাব্য রচনা করেন। এটা প্রকৃত অর্থে লেখকের দুর্বলতা।
হাজার বছর ধরে বাঙলা ভাষায় অনেক বিদেশি যথা আরবি, উর্দু, ফারসি, পর্তুগিজ, ইংরিজি, গ্রিক ইত্যাদি শব্দ ঢুকেছে। কালের বিবর্তনে, ব্যবহারের ফলে তা একভাবে বাঙলা শব্দ মানে তৎসম, অর্ধতৎসম, তৎভব, বিদেশি ইত্যাদি শব্দের রূপ পরিগ্রহ করেছে, যেমন টেবল হয়ে গেছে টেবিল, কিছু শব্দ আবার অবিকৃত থেকে গেছে, যেমন চেয়ার। কিন্তু এইগুলি আপাত হিসেবে বাঙলা শব্দরূপেই পরিগণিত হয়। কারণ এইসব শব্দ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে, মুখের ভাষায়, আচারে প্রতিনিয়ত বাহিত হচ্ছে। এইসব শব্দ দূষণীয় নয়। কারণ চেয়ারের বিকল্প কেদারা লিখলেই বরং বেমানান লাগে। এই অবস্থায় যেইসব শব্দের যথার্থ শব্দ বাঙলায় আছে, সেইসব শব্দের পরিবর্তে যদি আমি ইংরেজি, হিন্দি, ফারসি, আরবি লিখি তবে তা কাঁটার মতো লাগে।
ইদানীং যেইসব লেখক বা লোকজন ‘দিওয়ানা’ হয়ে আবার নতুনরূপে তাদের লেখাপত্রে নতুন নতুন বা পুরোনো ঝরে যাওয়া আরবি, ফার্সি, উর্দু-সহ নানা বিদিশি শব্দ প্রয়োগ দিচ্ছেন তাদের সেই হাবিবি-শব্দাবলির বেশিরভাগই কালের নিয়মে ক্ষয় হয়ে যাবে।
প্রমিত মানে নির্দিষ্ট সর্বজনীন একটা ভাষা কাঠামো, কেন দরকার তা বলা বাহুল্য, তবু বলি। প্রমিত বাঙলা তো আমার মাতৃভাষা নয়, আমার মাতৃভাষা আমার জন্ম-অঞ্চলের ভাষা। আর এক অঞ্চলের ভাষা এক এক রকম, ফলে অঞ্চলভেদে এই ভাষার সবটা মানুষে বোঝে না। তাই একটা আদর্শ ভাষা দরকার হয় মনের ভাব প্রকাশের জন্যে, যেই ভাষা সবক্ষেত্রে চলে। সেই ভাষাই প্রমিত ভাষা। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্যে একটি সাধারণ ভাষা প্রয়োজন। প্রমিত ভাষা এই কাজটি করে। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে সাবলীল যোগাযোগের জন্যে প্রমিত ভাষা একটি সেতু হিসেবে কাজ করে। একই কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক কাজকর্ম, গণমাধ্যম ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে প্রমিত ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। এই ভাষা জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের চিহ্ন, যা জাতীয় একতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারা বিকাশ লাভ করে। কোনো দেশের প্রমিত ভাষাটি যদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে সে দেশের মানুষ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারে। যেমন বাঙলা ভাষা এমনই স্বীকৃত। ইংরেজি ভাষা পৃথিবীতে বলা যায় প্রমিত ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটা বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আর সেই প্রমিত ভাষা প্রণয়নের জন্যে একটা একাডেমি অপরিহার্য।
একাডেমির কথা বাদ দিলাম। প্রমিত শব্দটাও বাদ দিলাম। এর একটা প্রতিশব্দ বলি, নির্দিষ্ট বা অভিন্ন। অভিধান বা ব্যাকরণ এইসব প্রাতিষ্ঠানিক শব্দও বাদ দিলাম, নিয়ম বা শৃঙ্খলা এইখান থেকে একটা শব্দ নিই। কথা বলছি একটা অভিন্ন শৃঙ্খলা কেন দরকার তা নিয়ে।
মহাবিশ্ব চলছে একটা অভিন্ন শৃঙ্খলার মধ্যে। এটা ভারসাম্য। এই কারণে সকলকিছুরই মধ্যেই সেটা আছে। কোনোটা নিজে থেকেই আছে, কোনোটাকে শৃঙ্খলার অধীনে আনা হয়েছে। সকল কিছু মূলতই শৃঙ্খলার শস্য। সকল কিছুর মধ্যে একটা হচ্ছে মানুষ। মানুষ প্রবৃত্তিগতভাবেই সৃষ্টিশীল। তাই সে শৃঙ্খলার ভেতর থেকেও একটু বিশৃঙ্খল হয়। এই বিশৃঙ্খলা তার সৃষ্টিশীলতারই জানালা। সেই জানালা কিন্তু সৃষ্টিকেই ত্বরান্বিত করে, উৎকর্ষে নিয়ে যায়।
ধ্বংসই সৃষ্টির পূর্বশর্ত। এটা একটা আপ্তবাক্য। এর মধ্যে কথা আছে, সব ধ্বংস করে দিলেই সৃষ্টি হয়ে যায় না। সৃষ্টির ক্ষমতা না থাকলে ধ্বংস করার অধিকার তৈরি হয় না। সৃষ্টির ক্ষমতা হচ্ছে শৃঙ্খলার জ্ঞান। আপনি শৃঙ্খলা জানলেই শৃঙ্খলা ভাঙতে পারবেন। তাই প্রথমে আপনাকে হয়ে আসতে হবে।
লেখ্যভাষার কিছু নিয়ম মানতে চায় না বা মানে না সকল মানুষ। প্রকৃত পণ্ডিত মানতে চান না যৌক্তিক দ্বিমতের কারণে, অল্পবিদ্যার লোকজন মানতে চান না ঘাউরামি আর আলস্যের কারণে, আর সাধারণ লোকজন মানেন না জানেন না বা জানতে চান না বলেই। এই রকম না মানা লোকের আরো প্রকার বিদ্যমান। আমি নিজেও এক প্রকার। আমিও কয়েকটা নিয়ম মানি না। তবে জেনেই মানি না। কারণ হল অনভ্যস্ততা। আমার প্রকারেরও অনেক লোক আছে। বানান নিয়েই উদাহরণ দিই: ইদ, নবি ইত্যাদি বানান অনভ্যস্ততার কারণে অনেকেই মানতে চান না। কারণ এইসব শব্দে রয়েছে হাজার বছরের ধর্মীয় আবেগ, উৎসবের অনুভূতি। মানুষের সেই অনুভূতিও কিন্তু ফেলনা নয়।
মাতৃভাষা মানে কথ্যভাষা যেটা মায়ের মুখ থেকে প্রথম শোনা হয়, সেই ভাষার নিয়ম মানুষ জন্মগতভাবেই লাভ করে। এটা তার সহজাত ক্ষমতা। তাই কথ্যভাষার লিখিত কোনো নিয়ম বা ব্যাকরণ দরকার হয় না। না নিয়মেরও একটা নিয়ম তৈরি হয়ে যায় সেটা প্রাকৃতিক শৃঙ্খলার কারণেই। তাই আমরা যখন পরস্পর মাতৃভাষা মানে আঞ্চলিকভাষায় কথা বলি তখন মনের ভাব একশোভাগই প্রকাশ করতে পারি। কিন্তু কথ্যভাষার সেই অলিখিত শৃঙ্খলা লেখ্যরূপের জন্যে নির্দিষ্ট লিখিত নিয়ম দরকার, মানে মানুষের যে কথা বলার সহজাত ক্ষমতা, সেই ক্ষমতার লেখ্যপ্রয়োগের নির্দিষ্ট নিয়ম, বলবার ক্ষেত্রে যেখানে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম দরকার হয় না। সেইটা যে দরকার যুগ যুগ ধরে ভাষাবিদরা তার প্রমাণ রেখে গেছেন। এইখানে কথ্যভাষা সংক্রান্ত যা বললাম, এই জাতীয় কথা নোয়াম চমস্কিও বলেছেন।
আমার বাড়ি কক্সবাজার। আমার মাতৃভাষা হচ্ছে আমার আঞ্চলিক ভাষা মানে কক্সবাজার অঞ্চলের কথ্যভাষা। আঞ্চলিক ভাষার কোনো মান বা প্রমিত ধরন হয় না। এই রকম বাঙলাদেশের প্রত্যেকটা অঞ্চলের কথ্যভাষাই সেইসব অঞ্চলের মানুষের মায়ের মুখের ভাষা। বাঙলা মাতৃভাষা নয়। বাঙলা সব অঞ্চলের মানুষের বোধগম্য ও পরস্পর ভাববিনিময়ের মাধ্যম, তাই এটা একটা মানভাষা। আর মানভাষাই রাষ্ট্রভাষা হয়। আমার কাছে রাষ্ট্রভাষার আগে মাতৃভাষাই অগ্রগামী। তবে সেই ভাষায় আমি সাহিত্য রচনা করব না বা সর্বসাধারণের জন্যে কোনো ভাষণ দেব না। কারণ দেশের সকল মানুষ আমার মাতৃভাষায় কথাও বলে না, আবার সকলে আমার মাতৃভাষা বোঝেও না, তারা বোঝে মানভাষা। আরেকটা উদাহরণ দিই, যেমন দেশে বসবাসকারী আদিবাসীদের ভাষাই তাদের মাতৃভাষা। কিন্তু যেহেতু তারা বাঙলাদেশের নাগরিক তাই তাদের রাষ্ট্রভাষা বাঙলা।
শেষে এসে বলি কবিতালেখক, গদ্যকার, আমলা, ভাষণবাজ, সুযোগসন্ধানী, প্রতিক্রিয়াশীল বুদ্ধিজীব, সাম্প্রদায়িক পণ্ডিত প্রমুখ ভাষা নিয়ে বছর দশেক কচলাকচলি বা ধস্তাধস্তি করলেই ভাষা বদলায় না। ভাষা বদলায় গণমানুষের মুখে মুখে, পড়ায়, লেখায়, গ্রহণবর্জনের রুচি, শিক্ষা ও ক্ষমতায় দীর্ঘসময় ধরে, যুগের পর যুগ ধরে।
—
(লেখাটি ছোটো কাগজ ‘নিসর্গ’-এর ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত)
এক সিম থেকে অন্য সিমে এমবি ট্রান্সফার অথবা গিফট করুন:
Robi
Robi-তে সহজেই এমবি ট্রান্সফার করা যায়।
কিভাবে করবেন:
ডায়াল করুন *121*8441#
তারপর অন্য নম্বরে কত MB পাঠাবেন সেটি সিলেক্ট করুন
Airtel
Airtel-এ Robi-এর মতো একই পদ্ধতি।
কিভাবে করবেন:
ডায়াল করুন *121*8441#
এমবি ট্রান্সফারের জন্য নম্বর ও পরিমাণ নির্বাচন করুন
Banglalink (BL)
BL-এ Internet Gift Service আছে।
কিভাবে করবেন:
ডায়াল করুন *5000*55#
রিসিপিয়েন্ট নম্বর দিন
প্যাক সিলেক্ট করে কনফার্ম করুন
Grameenphone (GP)
GP-তে সরাসরি এমবি ট্রান্সফার অপশন Gift Pack দেওয়া যায়।
কিভাবে করবেন:
ডায়াল করুন *121*1500#
যাকে এমবি দিতে চান, তার নম্বর লিখুন
নির্দিষ্ট ইন্টারনেট প্যাক বেছে নিয়ে কনফার্ম করুন
Teletalk
Teletalk-এ MB Transfer দেওয়া যায়।
কিভাবে করবেন:
ডায়াল করুন *111#
মেনু থেকে “Data Gift” অপশন নির্বাচন করুন
রিসিভার নম্বর দিয়ে কনফার্ম করুন
মানে হলো GP ছাড়া সব অপারেটরে সরাসরি MB ট্রান্সফার সম্ভব। GP-তে কেবল গিফট আকারে পাঠানো যায়।
Grameenphone (GP)
ফোন ডায়ালার ওপেন করুন।
টাইপ করুন *121*1500# এবং কল/সেন্ড চাপুন (মেনু খুলবে)।
মেনু থেকে Balance Transfer / Send Balance সিলেক্ট করুন (অথবা প্রম্পট অনুযায়ী এগোন)।
রিসিভারের নাম্বার লিখুন (১১-সংখ্যার ফরম্যাট: 01XXXXXXXXX) এবং OK।
যে পরিমাণ পাঠাবেন সেটি লিখুন (উদাহরণ: 50)।
কনফার্ম করতে বলা হলে Confirm/Yes/1 চাপুন।
সফল হলে SMS মেসেজ পাবেন — একই সাথে আপনার ব্যালেন্স কেটে যাবে।
Robi
ডায়াল করুন *140*181#।
মেনুতে Balance Transfer অপশন সিলেক্ট করুন।
রিসিভারের নাম্বার লিখুন (01XXXXXXXXX)।
এমাউন্ট লিখে Confirm চাপুন।
সফল হলে কনফার্মেশন SMS আসবে।
Banglalink
ডায়াল করুন *100*2*1#।
নির্দেশনা অনুযায়ী Send Balance / Balance Transfer মেনু খুলুন।
রিসিভার নম্বর দিন → পরিমাণ দিন → কনফার্ম করুন।
সফল হলে SMS পাবেন।
Airtel
ডায়াল করুন *141*8#।
মেনু থেকে Balance Transfer সিলেক্ট করুন।
রিসিভারের নম্বর দিন → এমাউন্ট দিন → কনফার্ম করুন।
SMS কনফার্মেশন পেয়ে ট্রান্সফার সম্পন্ন।
Teletalk
ডায়াল করুন *124#।
মেনু থেকে Balance Transfer অপশন নির্বাচন করুন।
রিসিভার নম্বর, এমাউন্ট দিন ও সাবমিট/কনফার্ম করুন।
সফল হলে SMS মেসেজ পাবেন।
সাধারণ নোট ও টিপস
সাধারণত সামান্য ট্রান্সফার ফি কাটা হয় (প্রায় ১–৫ টাকা) — অপারেটর অনুযায়ী।
অপারেটরের মধ্যে একই নেটওয়ার্কে ট্রান্সফার করা যায়; ভিন্ন অপারেটরের মধ্যে সাধারণত সরাসরি সম্ভব না।
ট্রান্সফার সফল না হলে: কনফার্মেশন SMS রাখুন এবং অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে জানান।
নাম্বার ব্লক না করে কল আসা বন্ধ করার উপায়:
নাম্বার ব্লক না করে কল আসা বন্ধ করার বেশ কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনি নিচের পদ্ধতিগুলোর যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন:
১. ডু নট ডিস্টার্ব (Do Not Disturb) মোড
এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। এতে আপনার ফোন সচল থাকবে, ইন্টারনেট চলবে, কিন্তু কল আসলে রিং বাজবে না বা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে না।
* **কিভাবে করবেন:** ফোনের **Settings > Sound & Vibration > Do Not Disturb** অপশনে যান।
* **সুবিধা:** আপনি চাইলে নির্দিষ্ট কিছু প্রিয় মানুষের (Favorite Contacts) কল আসার অনুমতি দিয়ে বাকি সব বন্ধ রাখতে পারেন।
২. কল ফরওয়ার্ডিং (Call Forwarding)
আপনার কলগুলো এমন কোনো নাম্বারে ফরওয়ার্ড করে দিন যা বর্তমানে বন্ধ।
* **কিভাবে করবেন:** ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে `**21*01700000000#` (বা যেকোনো বন্ধ নাম্বার) লিখে ডায়াল করুন।
* **বন্ধ করতে:** `##21#` ডায়াল করুন।
৩. নির্দিষ্ট নাম্বারের জন্য সাইলেন্ট রিংটোন
আপনি যদি চান কেবল নির্দিষ্ট কিছু মানুষ আপনাকে কল দিয়ে না পাক, কিন্তু আপনি তাদের ব্লকও করতে চাচ্ছেন না, তবে এটি করতে পারেন।
* **কিভাবে করবেন:** ওই কন্টাক্টে গিয়ে **Edit** অপশনে যান এবং রিংটোন হিসেবে কোনো 'Silent' অডিও ফাইল সেট করে দিন। এতে কল আসবে কিন্তু আপনি বিরক্ত হবেন না।
৪. এয়ারপ্লেন মোড ও ওয়াইফাই (Airplane Mode + Wi-Fi)
আপনি যদি চান কেউ আপনাকে কল না দিতে পারুক কিন্তু আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, তবে এটি সেরা উপায়।
* **কিভাবে করবেন:** ফোনের **Airplane Mode** অন করুন। এরপর আবার **Wi-Fi** অন করে নিন। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকবে কিন্তু আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
৫. থার্ড পার্টি অ্যাপ (যেমন: Truecaller)
Truecaller-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি 'Unknown Numbers' বা 'Spam' কলগুলো অটোমেটিক রিজেক্ট করার অপশন চালু করতে পারেন। এতে আপনাকে ম্যানুয়ালি ব্লক করতে হবে না।
শেয়ার করে টাইম লাইনে রেখে দিন।
মোবাইলের ফেইক কল শর্টকাট।
মোবাইলে ফেইক কল শর্টকাট বানানোর সহজ উপায় নিচে দিলাম (Android ও iPhone আলাদা করে):
Android ফোনে ফেইক কল শর্টকাট
পদ্ধতি ১: অ্যাপ ব্যবহার করে (সবচেয়ে সহজ)
Play Store থেকে নিচের যেকোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে পারেন:
Fake Call - Prank
Fake Call App
কিভাবে শর্টকাট বানাবেন:
অ্যাপ ইনস্টল করে ওপেন করুন।
কলার নাম, নাম্বার, ছবি সেট করুন।
কল আসার সময় (৫ সেকেন্ড/১০ সেকেন্ড ইত্যাদি) ঠিক করুন।
অ্যাপের ভিতরে “Create Shortcut” বা “Add to Home Screen” অপশন থাকলে সেটি চাপুন।
হোম স্ক্রিনে শর্টকাট তৈরি হয়ে যাবে — এক ট্যাপেই ফেইক কল আসবে।
পদ্ধতি ২: পাওয়ার বাটন শর্টকাট (কিছু অ্যাপে থাকে)
কিছু ফেইক কল অ্যাপে সেটিংসে গিয়ে Power button trigger বা Shake to call চালু করা যায়।
পাওয়ার বাটন ৩ বার চাপলে ফেইক কল আসবে
ফোন ঝাঁকালেও কল আসবে (যদি অপশন থাকে)
iPhone এ ফেইক কল শর্টকাট
iPhone-এ সরাসরি ফেইক কল ফিচার নেই, তবে:
পদ্ধতি ১: শর্টকাট অ্যাপ দিয়ে (সিমুলেশন)
Shortcuts অ্যাপ ওপেন করুন।
নতুন Shortcut তৈরি করুন।
“Show Notification” বা “Play Sound” ব্যবহার করে কলের মতো নোটিফিকেশন বানান।
Home Screen-এ Add করুন।
(নোট: এটা পুরো কল স্ক্রিন দেখাবে না, শুধু নোটিফিকেশন টাইপ কাজ করবে।)
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ফেইক কল মজা বা জরুরি পরিস্থিতি থেকে বের হতে ব্যবহার করা যায়।
কিন্তু কারও সাথে প্রতারণা বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরির জন্য ব্যবহার করা উচিত না।
হঠাৎ ফোনের টাচ কাজ না করলে সমাধান:
হঠাৎ ফোনের টাচ কাজ করছে না এই সমস্যার কিভাবে সমাধান করবেন।
মোবাইলের টাচ (Touch Screen) সমস্যা হলে আগে বুঝতে হবে সমস্যাটা সফটওয়্যার নাকি হার্ডওয়্যার। অনেক সময় ঘরে বসেই ঠিক করা যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে সার্ভিস সেন্টারই বেস্ট অপশন। নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিত গাইড দিলাম
১️.সাধারণ টাচ সমস্যা কী কী?
টাচ কাজ করে না / মাঝে মাঝে কাজ করে
এক জায়গায় চাপ দিলে অন্য জায়গায় কাজ করে (Ghost touch)
স্ক্রল নিজে নিজে হয়
কিছু অংশে টাচ একদম কাজ করে না
স্ক্রিন ল্যাগ করে বা দেরিতে রেসপন্স দেয়
২️. আগে সহজ সমাধানগুলো ট্রাই করুন (ঘরে বসে)
১. ফোন রিস্টার্ট করুন
অনেক সময় সাময়িক সফটওয়্যার বাগের কারণে টাচ কাজ করে না।
ফোন বন্ধ করে ১–২ মিনিট পরে চালু করুন।
২. স্ক্রিন পরিষ্কার করুন
নরম কাপড় (মাইক্রোফাইবার হলে ভালো) দিয়ে পরিষ্কার করুন
তেল, ঘাম, পানি থাকলে টাচ ঠিকমতো কাজ করে না
কেমিক্যাল বা পানি সরাসরি স্ক্রিনে দেবেন না
৩. স্ক্রিন প্রটেক্টর খুলে দেখুন
খারাপ বা সস্তা টেম্পার গ্লাস হলে টাচ সমস্যা করে
খুলে ব্যবহার করে দেখুন, ঠিক হলে নতুন ভালো গ্লাস লাগান।
৪. চার্জার খুলে চেক করুন
খারাপ চার্জার বা কেবল ব্যবহার করলে Ghost touch হয়
চার্জার খুলে টাচ চেক করুন
অন্য চার্জার দিয়ে চেষ্টা করুন
৩️. সফটওয়্যার সমস্যা হলে করণীয়
৫. Safe Mode এ চালু করুন
Safe Mode এ থার্ড পার্টি অ্যাপ বন্ধ থাকে
যদি Safe Mode এ টাচ ঠিক থাকে → কোনো অ্যাপ সমস্যা করছে
করণীয়:
নতুন ইনস্টল করা অ্যাপ আনইনস্টল করুন
গেম, লঞ্চার, ক্লিনার অ্যাপ আগে চেক করুন
৬. টাচ ক্যালিব্রেশন (কিছু ফোনে থাকে)
Play Store এ “Touch Screen Calibration” অ্যাপ পাওয়া যায়
নির্দেশনা অনুসরণ করুন
৭. সফটওয়্যার আপডেট করুন
Settings → Software Update
পুরনো বাগের কারণে টাচ সমস্যা হতে পারে
৮. Factory Reset (শেষ চেষ্টা)
ডাটা ব্যাকআপ নিন আগে
Reset এর পরেও সমস্যা থাকলে হার্ডওয়্যার সমস্যা নিশ্চিত।
৪️. হার্ডওয়্যার সমস্যা হলে লক্ষণ
স্ক্রিন ভাঙা বা ফাটল আছে
ফোন পড়ে গেছে / পানিতে ভিজেছে
স্ক্রিনের নির্দিষ্ট অংশে টাচ কাজ করে না
রিস্টার্ট বা রিসেটেও কাজ হয় না
ঘরে বসে হার্ডওয়্যার ঠিক করা ঝুঁকিপূর্ণ
তবুও জেনে রাখুন সমস্যা কোথায় হতে পারে:
টাচ স্ক্রিন কানেক্টর ঢিলা
ডিসপ্লে প্যানেল নষ্ট
পানি ঢুকে শর্ট হয়েছে
এসব ক্ষেত্রে ডিসপ্লে পরিবর্তন বা প্রফেশনাল রিপেয়ার দরকার।
৫️.কখন অবশ্যই সার্ভিস সেন্টারে যাবেন?
স্ক্রিন ভাঙা
ফোন পানিতে পড়েছে
নিজে ট্রাই করে ঠিক হয়নি
ফোন গরম হয়ে টাচ কাজ করে না
৬️. ভবিষ্যতে টাচ সমস্যা এড়াতে
ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন
ফোন পানিতে/ভেজা হাতে ব্যবহার করবেন না
শক্ত কভার + ভালো টেম্পার গ্লাস লাগান
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।
মোবাইলে ওয়ান হ্যান্ড ক্যামেরা মোড।
মোবাইলে ওয়ান-হ্যান্ড ক্যামেরা মোড বলতে এমন ফিচার বোঝায়, যেটা দিয়ে এক হাতেই সহজে ছবি বা ভিডিও তোলা যায়। অনেক স্মার্টফোনে এটা বিল্ট-ইন থাকে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সেটিংস বদলে নিতে হয়।
নিচে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড অনুযায়ী কিভাবে চালু করবেন:
Samsung (One UI)
Settings > Advanced features > One-handed mode
Gesture বা বাটন দিয়ে স্ক্রিন ছোট করে এক হাতে ব্যবহার করা যায়।
ক্যামেরা অ্যাপে শাটার বাটন স্ক্রিনের যেকোনো জায়গায় ট্যাপ করলেও কাজ করে (কিছু মডেলে)।
Xiaomi / Redmi
Settings > Additional settings > One-handed mode
স্ক্রিন সাইজ ছোট হয়ে যায়।
ক্যামেরায় Volume button দিয়ে ছবি তুলতে পারেন (এক হাতে সুবিধা)।
Realme
Settings > Convenience tools > One-handed mode
ক্যামেরা সেটিংসে গিয়ে Volume button কে Shutter হিসেবে সেট করা যায়।
Apple (iPhone)
iPhone-এ আলাদা One-handed mode নেই, কিন্তু Reachability আছে:
Settings > Accessibility > Touch > Reachability
ক্যামেরায় Volume up/down দিয়ে ছবি তোলা যায়।
iPhone-এ শাটার বাটন ড্র্যাগ করে যেকোনো পাশে নেওয়া যায়।
অতিরিক্ত টিপস (সব ফোনের জন্য)
Volume button দিয়ে ছবি তুলুন।
Palm gesture (হাত দেখিয়ে ছবি তোলা) থাকলে চালু করুন।
Voice command (যেমন “Capture”, “Smile”) চালু করলে স্পর্শ ছাড়াই ছবি তুলতে পারবেন।
মোবাইলে এক মিনিটে পাঁচটি সুপার শর্টকাট।
মোবাইলে এক মিনিটে কাজ দ্রুত করার জন্য ৫টি সুপার শর্টকাট (Android ও iPhone দুটোর জন্যই কাজে লাগবে):
১️⃣ ক্যামেরা দ্রুত চালু
Android: পাওয়ার বাটন দুইবার চাপুন
iPhone: লক স্ক্রিনে বামে সোয়াইপ করুন
মুহূর্তে ছবি তুলতে পারবেন
২️⃣ স্ক্রিনশট
Android: পাওয়ার + ভলিউম ডাউন একসাথে
iPhone (Face ID): সাইড বাটন + ভলিউম আপ
দ্রুত স্ক্রিন সেভ
৩️⃣ গুগল/স্পটলাইট সার্চ
Android: হোম স্ক্রিনে উপরে সার্চ বার ব্যবহার
iPhone: হোম স্ক্রিনে নিচে সোয়াইপ
অ্যাপ, কন্ট্যাক্ট, ফাইল এক সেকেন্ডে খুঁজুন
৪️⃣ ফ্ল্যাশলাইট চালু
Android: নোটিফিকেশন বার নামিয়ে টর্চ আইকন
iPhone: কন্ট্রোল সেন্টার খুলে টর্চ
অন্ধকারে তৎক্ষণাৎ আলো
৫️⃣ ভয়েস টাইপিং
কিবোর্ডে মাইক আইকনে ট্যাপ করুন
কথা বলেই টাইপ করুন, সময় বাঁচান
মোবাইলে Screenshot থেকে Text কপি করার উপায়।
একদম সহজভাবে বলছি
মোবাইলে Screenshot থেকে টেক্সট কপি করার কয়েকটা সহজ উপায় আছে—Android আর iPhone দুটোই কভার করছি।
Android ফোনে
উপায় ১: Google Photos ব্যবহার করে
Screenshot নিন
Google Photos খুলুন
Screenshot খুলে নিচে “Lens” / “Copy text from image” অপশন ট্যাপ করুন
যেটুকু টেক্সট চান সিলেক্ট করুন
Copy চাপুন
প্রায় সব নতুন Android ফোনেই এটা কাজ করে।
উপায় ২: Google Lens সরাসরি
Google Lens অ্যাপ খুলুন
Screenshot সিলেক্ট করুন
টেক্সট হাইলাইট হবে
কপি করে নিন
উপায় ৩: Samsung ফোন হলে
Samsung Gallery → Screenshot খুলুন → নিচে T (Extract text) আইকনে চাপুন → কপি
iPhone (iOS) এ
Live Text ব্যবহার করে
Screenshot নিন
Photos অ্যাপে খুলুন
টেক্সটের উপর চেপে ধরে রাখুন
সিলেক্ট করে Copy করুন
iOS 15 বা তার পরের ভার্সনে এই ফিচার আছে।
অ্যাপ ছাড়া অনলাইন উপায় (সব ফোনে কাজ করে)
ব্রাউজারে যান:
imgocr.com অথবা onlineocr.net
Screenshot আপলোড করুন
টেক্সট কপি করুন
টিপস
ছবিতে টেক্সট যত clear হবে, কপি তত ভালো হবে
ঝাপসা বা খুব ছোট লেখা হলে ভুল আসতে পারে।
কল হিস্ট্রি লুকানোর সুপার ট্রিক।
কল হিস্ট্রি লুকানোর “সুপার ট্রিক”, কিন্তু লিগ্যাল + সেফ পথে বলছি।
১) ফোনের বিল্ট-ইন ট্রিক
কল হিস্ট্রি আলাদা করে ডিলিট করা যায় (পুরোটা না)
অনেক ফোনে আছে “Hide/Private mode”
Settings → Privacy / Security → Private space
২) App Lock ব্যবহার করো (সবচেয়ে সেফ)
Call Log / Phone app-এ লক লাগাও
App Lock / Fingerprint Lock থাকলে কেউ ঢুকতেই পারবে না
হিস্ট্রি থাকবে, কিন্তু চোখে পড়বে না
৩) Secure Folder / Private Space
(Samsung, Xiaomi, Oppo-তে খুব কাজের)
আলাদা Secure Folder
ওইখানে আলাদা Phone/Contacts
বাইরের কল লগে কিছুই দেখাবে না
৪) থার্ড-পার্টি Dialer App
কিছু Dialer-এ থাকে Hidden calls / Archive
নির্দিষ্ট নাম্বার “archive” করে রাখলে মূল লিস্টে আসে না
৫) Notification লুকাও
Lock screen-এ কল নোটিফিকেশন বন্ধ
Settings → Notifications → Phone → “Hide on lock screen”
৬) Pro-level (কিন্তু লিগ্যাল)
Dual Apps / Second Space
কাজের নাম্বার একদিকে, পার্সোনাল আরেকদিকে
কল হিস্ট্রি পুরো আলাদা
যা অবশ্যই করা যাবে না:
কারো ফোন হ্যাক করা
আইন বা প্রমাণ লুকানোর চেষ্টা
স্পাই অ্যাপ
[শেয়ার করে টাইম লাইনে রেখে দিন]
মোবাইলের ডিসপ্লে বন্ধ রেখে ভিডিও করার উপায়।
মোবাইলের ডিসপ্লে বন্ধ রেখে ভিডিও রেকর্ড করার কয়েকটা সহজ উপায় বলছি—বিশেষ করে ফেসবুক কনটেন্ট বানানোর কাজে লাগবে।
১️⃣ থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে (সবচেয়ে সহজ)
এই অ্যাপগুলো স্ক্রিন অফ বা ব্ল্যাক স্ক্রিন রেখে ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।
Android এ জনপ্রিয় অ্যাপ
Background Video Recorder
Quick Video Recorder
Secret Video Recorder
ব্যবহার পদ্ধতি:
Play Store থেকে অ্যাপ ইনস্টল করুন
অ্যাপ খুলে Camera permission দিন
“Record with screen off / Background recording” অপশন অন করুন
রেকর্ড শুরু করুন
পাওয়ার বাটন চাপলে স্ক্রিন অফ হলেও ভিডিও চলতে থাকবে
স্ট্যাটাস বারে ছোট আইকন বা ভাইব্রেশন দিয়ে বুঝাবে যে রেকর্ডিং চলছে।
২️⃣ ফোনের পাওয়ার বাটন ট্রিক (কিছু Android এ কাজ করে)
কিছু ফোনে:
ক্যামেরা খুলে ভিডিও রেকর্ড শুরু করুন
পাওয়ার বাটন একবার চাপুন
স্ক্রিন বন্ধ হবে, কিন্তু ভিডিও চলতে থাকবে।
সব ফোনে কাজ করে না (Brand/Model ভেদে)।
৩️⃣ Samsung ফোন হলে (Secure Folder ট্রিক)
Samsung ইউজারদের জন্য:
Secure Folder এর ভিতরে থার্ড-পার্টি recorder অ্যাপ ব্যবহার করলে
স্ক্রিন প্রায় ব্ল্যাক দেখায়, অথচ ভিডিও রেকর্ড হয়
৪️⃣ iPhone এ বাস্তবতা (সীমাবদ্ধ)
iPhone-এ পুরোপুরি স্ক্রিন অফ রেখে ভিডিও রেকর্ড করা সিস্টেম লেভেলে সম্ভব না
তবে:
Guided Access + থার্ড-পার্টি অ্যাপ দিয়ে
স্ক্রিন ডিম / লক টাইপ ফিল আসতে পারে
কিন্তু Android এর মতো ফ্রি না।
ফেসবুক কনটেন্ট বানানোর সময় টিপস
ফোন ভাইব্রেশন অফ রাখুন
নোটিফিকেশন সাইলেন্ট করুন
মাইক যেন কাপড়ে ঢেকে না যায়
গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল শর্টকাট
এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল শর্টকাট দেওয়া হলো যেগুলো Android ও iPhone দুটোতেই কাজে লাগে (কিছু নির্দিষ্ট iOS/Android নিয়ে আলাদা অংশসহ) — এগুলো আপনাকে দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করবে :
সাধারণ শর্টকাট
কপি / কাট / পেস্ট
কাজAndroidiPhoneকপিCtrl + C (বহু কিবোর্ডে)Cmd + CকাটCtrl + XCmd + Xপেস্টCtrl + VCmd + V
Undo / Redo
কাজAndroidiPhoneUndo Shake phone (অনেক ক্ষেত্রে)Cmd + ZRedo Shake phone (অনেক ক্ষেত্রে)Cmd + Shift + Z
Android-এ দ্রুত শর্টকাট
সিস্টেম শর্টকাট
Power + Volume Down — স্ক্রিনশট
Power + Volume Up (লম্বা ধরে) — Google Assistant
Volume Up + Volume Down — DND (অনেক ডিভাইসে)
Text নির্বাচন
ডাবল-ট্যাপ কোনো শব্দ — নির্বাচন
ট্যাপ ও হোল্ড + ড্র্যাগ — সিলেকশন বাড়ান
Quick Settings
দুইবার নিচ থেকে স্লাইড — Quick settings
একবার স্লাইড + ইকন ট্যাপ — দ্রুত টগল (Wi-Fi, Bluetooth ইত্যাদি)
iPhone-এ দ্রুত শর্টকাট
অ্যানিমেশন / Control Center
নিচ থেকে উপর স্লাইড — Control Center
ডান থেকে নিচে স্লাইড — Notification Center
Assistive Touch শর্টকাট
সেটিংস → Accessibility → Touch → AssistiveTouch → শর্টকাট দিন:
স্ক্রিনশট
Siri
Control Center
কীবোর্ড শর্টকাট (যদি ব্লুটুথ কীবোর্ড থাকে)
কাজAndroidiPhoneহোমAlt + HomeCmd + Hঅ্যাপ স্যুইচAlt + TabCmd + Tabসিলেক্ট সবCtrl + ACmd + A
টেক্সট এডিট/নেভিগেশন শর্টকাট (অনেক কিবোর্ডে)
Ctrl + Arrow — শব্দে শব্দে কিউরসর চলে
Shift + Arrow — টেক্সট সিলেকশন
টিপস
কপি-পেস্ট ও Undo/Redo দ্রুত শেখা সবচেয়ে বেশি সময় বাঁচায়
কাস্টম শর্টকাট চাইলে Android: Buttons remapper, iPhone: Shortcuts app ব্যবহার করুন
মোবাইল অপারেটরের ফ্রি ইন্টারনেট অফার যাচাইয়ের ডায়াল কোড:
বাংলাদেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরে ফ্রি ইন্টারনেট অফার যাচাই / একটিভ করার ডায়াল/USSD কোড (যেমন গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক) সাধারণত নির্দিষ্ট সময় ও অফারের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকে। নিচে জনপ্রিয় অফারের কোডগুলো দেওয়া হলো
ফ্রি ইন্টারনেট (উদাহরণ – ১ GB ফ্রি)
এই ধরনের বিশেষ ফ্রি ইন্টারনেট অফারগুলো নির্দিষ্ট ইভেন্ট বা সময়ে দেয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে:
গ্রামীণফোন (GP): *121*1807#
রবি (Robi): *41807#
বাংলালিংক (Banglalink): *121*1807#
টেলিটক (Teletalk): *111*1807#
মনে রাখবেন এই কোডগুলো সাধারণত অস্থায়ী / সময়ভিত্তিক অফারের জন্য থাকে এবং সবসময় সব গ্রাহকের জন্য চালু নাও থাকতে পারে।
আপনার থাকা ইন্টারনেট ব্যালান্স যাচাইয়ের কোড
ফ্রি অফার ছাড়াও আপনার ইন্টারনেট ব্যালান্স/বাকি ডাটা যাচাই করতে নিচের কোডগুলো ব্যবহার করতে পারেন:
GP (ইন্টারনেট ব্যালান্স): *121*1*4#
Robi (ইন্টারনেট ব্যালান্স): *8444*88# বা *3#
Banglalink (ইন্টারনেট ব্যালান্স): *121*1#
Teletalk (ইন্টারনেট ব্যালান্স): *152#