পুরুষ ক্রিয়া বলতে বাংলা ব্যাকরণে বক্তা, শ্রোতা বা অন্য ব্যক্তি/বস্তুর (যাকে 'ক্রিয়ার আশ্রয়' বলা হয়) সাপেক্ষে ক্রিয়াপদের রূপ পরিবর্তনকে বোঝায়, যা মূলত উত্তম পুরুষ (আমি, আমরা), মধ্যম পুরুষ (তুমি, তোমরা) এবং প্রথম পুরুষ (সে, তারা, ব্যক্তি/বস্তু)—এই তিন ভাগে বিভক্ত এবং ক্রিয়াপদের শেষে 'ই', 'ও', 'এ' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়ে পুরুষ অনুযায়ী ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয় (যেমন: করি/করো/করে, করছি/করছ/করছে).
পুরুষের প্রকারভেদ:
উত্তম পুরুষ (First Person): বক্তা যখন নিজের সম্পর্কে কথা বলেন (যেমন: আমি করি, আমরা খাচ্ছি).
মধ্যম পুরুষ (Second Person): যখন শ্রোতার সাথে কথা বলা হয় (যেমন: তুমি করো, তোমরা খাচ্ছ).
প্রথম পুরুষ (Third Person): বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে কথা বলা হলে (যেমন: সে করে, তারা খাচ্ছে, নদী বইছে).
উদাহরণ (চলিত ও সাধু):
করি (উত্তম পুরুষ): আমি করি, আমরা করি / আমি করিতেছি, আমরা করিতেছি.
করো (মধ্যম পুরুষ): তুমি করো, তোমরা করো / তুমি করিতেছ, তোমরা করিতেছ.
করে (প্রথম পুরুষ): সে করে, তারা করে / সে করিতেছে, তাহারা করিতেছে.
সহজ কথায়, 'পুরুষ' হলো ব্যাকরণে ক্রিয়াকে যিনি বা যা সম্পাদন করছেন (বক্তা, শ্রোতা বা অন্য কেউ), তার পরিচয়, এবং সেই অনুযায়ী ক্রিয়াপদের রূপ পরিবর্তিত হয়.