আবেগ (Emotion) বলতে মনের আকস্মিক ও তীব্র অনুভূতিকে বোঝায়, যেমন—আনন্দ, দুঃখ, ভয়, ঘৃণা ইত্যাদি, যা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট কারণের প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে আসে এবং শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তনের (যেমন—হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, কান্না) সাথে যুক্ত থাকে; ব্যাকরণে, এটি এমন শব্দ যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে মনের ভাব প্রকাশ করে, যেমন—"আহা!", "ওরে!"।
আবেগ শব্দের মূল অর্থ ও বৈশিষ্ট্য:
অনুভূতি: আনন্দ, দুঃখ, রাগ, ভয়, ভালোবাসা ইত্যাদি তীব্র মানসিক অবস্থা।
প্রতিক্রিয়া: কোনো ঘটনা বা অভিজ্ঞতার ফলে সৃষ্ট মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন।
স্বাধীন ব্যবহার (ব্যাকরণে): বাক্যের গঠন থেকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত হয় এবং বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
উদাহরণ:
"আহা! কী সুন্দর দৃশ্য!" (আনন্দ প্রকাশ)
"ওরে! বাপরে, কী ভয়!" (ভয় প্রকাশ)
আবেগের প্রকারভেদ ও উদাহরণ
আবেগকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়, তবে প্রধান ভাগগুলো হলো:
১. মৌলিক বা প্রাথমিক আবেগ (Basic Emotions): এগুলো সব মানুষের মধ্যে দেখা যায় এবং সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হয় না।
আনন্দ (Happiness): সন্তুষ্টি, খুশি বা তৃপ্তির অনুভূতি। উদাহরণ: পরীক্ষায় ভালো ফল করে আনন্দিত হওয়া।
দুঃখ (Sadness): হতাশা, ক্ষতি বা বিষণ্ণতার অনুভূতি। উদাহরণ: প্রিয়জনের বিয়োগে কষ্ট পাওয়া।
ভয় (Fear): কোনো বিপদের আশঙ্কা থেকে তৈরি হয়, যা 'লড়াই বা পলায়ন' (fight or flight) প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। উদাহরণ: অন্ধকারে একা হাঁটতে ভয় লাগা।
রাগ (Anger): হতাশা, অবিচার বা হুমকির প্রতিক্রিয়া। উদাহরণ: অন্যায়ের প্রতিবাদে ক্ষিপ্ত হওয়া।
ঘৃণা/বিতৃষ্ণা (Disgust): কোনো কিছু অপছন্দ বা অপ্রীতিকর লাগা। উদাহরণ: নোংরা বা পচা খাবার দেখলে বিতৃষ্ণা আসা।
বিস্ময় (Surprise): অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটলে যে ক্ষণস্থায়ী অনুভূতি হয়। উদাহরণ: হঠাৎ কেউ চমকে দিলে অবাক হওয়া।
২. জটিল বা মাধ্যমিক আবেগ (Complex/Secondary Emotions): এগুলো মৌলিক আবেগের মিশ্রণ বা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার ফল।
লজ্জা (Shame): নিজের কাজের জন্য অনুশোচনা বা বিব্রত বোধ করা। উদাহরণ: ভুল করে সবার সামনে পড়লে লজ্জা পাওয়া।
ঈর্ষা (Jealousy/Envy): অন্যের ভালো কিছু দেখে নিজের মধ্যে খারাপ লাগা। উদাহরণ: বন্ধুর নতুন গাড়ি দেখে ঈর্ষা করা।
অপরাধবোধ (Guilt): কিছু ভুল করার কারণে অনুশোচনা। উদাহরণ: কাউকে কষ্ট দিয়ে অপরাধবোধে ভোগা।
৩. আবেগ সূচক পদ (Interjections): বাংলা ব্যাকরণে, যে শব্দগুলো কোনো পদের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি মনের ভাব প্রকাশ করে, যেমন: "আহা!", "ওহ!", "কী!" ইত্যাদিও আবেগের উদাহরণ।
আবেগের প্রকারভেদ (বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে):
আবেগ শব্দ বাক্যে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়ে মনের ভাব প্রকাশ করে। ভাব প্রকাশের দিক থেকে এদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রশংসাবাচক: বাহ! কী সুন্দর!
বিরক্তিসূচক: ছিঃ! কী জঘন্য!
আতঙ্কসূচক: ওরে বাবা! কী ভয়!
বিস্ময়সূচক: ওমা! এ কী কাণ্ড!
করুণাসূচক: আহা! কী দুঃখ!
সিদ্ধান্তবাচক: হ্যাঁ, তাই বটে।
সম্বোধনসূচক: ওহে! শোনো।
আবেগের প্রকারভেদ (মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে):
মনোবিজ্ঞানে আবেগের বিভিন্ন মডেল রয়েছে, তবে সাধারণভাবে মৌলিক আবেগগুলো হলো:
আনন্দ (Joy): সুখ, আনন্দ, ভালো লাগা।
দুঃখ (Sadness): বিষণ্ণতা, হতাশা, বেদনা।
রাগ (Anger): ক্রোধ, বিরক্তি, ক্ষোভ।
ভয় (Fear): আতঙ্ক, উদ্বেগ, ভয় পাওয়া।
বিস্ময় (Surprise): অবাক হওয়া, হতবাক হওয়া।
ঘৃণা/বিরক্তি (Disgust): অপছন্দ, বিতৃষ্ণা।
বিশ্বাস (Trust): ভরসা, আস্থা।
প্রত্যাশা (Anticipation): অপেক্ষা, আশা।
এই মৌলিক আবেগগুলো থেকে আরও অনেক জটিল ও সূক্ষ্ম আবেগের সৃষ্টি হয়, যেমন - ভালোবাসা, ঈর্ষা, লজ্জা, গর্ব ইত্যাদি।