"ক্রিয়ার ভাব" (Kriyar Bhab) বলতে বোঝায় ক্রিয়াপদের সেই অবস্থা বা ধরন যা দিয়ে কাজ করার রীতি, প্রকার বা বক্তার মনোভাব প্রকাশ পায় (যেমন: নির্দেশ, আদেশ, প্রশ্ন), যা সাধারণত নির্দেশক, অনুজ্ঞা, সাপেক্ষ ও আকাঙ্ক্ষা—এই চার প্রকার হতে পারে। অন্যদিকে, "vab" সম্ভবত Swedish "VAB" (Vård Av Barn)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ অসুস্থ সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ছুটি, যা বাংলা "ক্রিয়ার ভাব" থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ধারণা।
ক্রিয়ার ভাবগুলো হলো:
'নির্দেশক ভাব' হলো ক্রিয়ার এমন একটি রূপ যা সাধারণ ঘটনা, সত্য বা প্রশ্ন প্রকাশ করে, যেমন—"তারা বাড়ি যাবে" (They will go home), যা একটি স্বাভাবিক কাজকে নির্দেশ করছে, আবার "তুমি কি খেয়েছো?" (Have you eaten?) -এর মতো প্রশ্নও নির্দেশক ভাবের উদাহরণ, যেখানে কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়। এটি কোনো আদেশ, ইচ্ছা বা অনুমানের পরিবর্তে বাস্তবতাকে বোঝায়।
নির্দেশক ভাবের বৈশিষ্ট্য:
সাধারণ ঘটনা: কোনো কিছু ঘটানো বা ঘটার সম্ভাবনা বোঝানো [সে স্কুলে যায় (He goes to school)]
প্রশ্ন জিজ্ঞাসা: কোনো তথ্য জানতে চাওয়া বা প্রশ্ন করা [তুমি কোথায় যাচ্ছো? (Where are you going?)
তথ্য প্রকাশ: কোনো বিষয় সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেওয়া [আমরা কাল খেলব (We will play tomorrow)]
উদাহরণ:
"সে আজ স্কুলে যাবে।" (ঘটনা), "বৃষ্টি পড়ছে।" (সত্য)।
সংক্ষেপে, নির্দেশক ভাব ক্রিয়ার মাধ্যমে বক্তার বাস্তব, নিরপেক্ষ বা জিজ্ঞাসামূলক মনোভাব প্রকাশ করে।
অনুজ্ঞা ভাব মূলত আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয়, নিষেধ, আশীর্বাদ, বাচক ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়; যেমন: 'চুপ করো' (আদেশ), 'মন দিয়ে পড়ো' (উপদেশ), 'মিথ্যা বলবে না' (নিষেধ), 'একটা গান শোনাও' (অনুরোধ)।
অনুজ্ঞা ভাবের কয়েকটি প্রয়োগ:
আদেশ/আজ্ঞা: 'চুপ করো', 'যাও'।
অনুরোধ/প্রার্থনা: 'আমাকে একটু সাহায্য করো', 'দয়া করে এখানে এসো'।
উপদেশ/পরামর্শ: 'সদা সত্য কথা বলবে', 'মন দিয়ে পড়াশোনা করো'।
অনুমতি: 'এখন আসতে পারো' (যদিও এটি 'পারো' ক্রিয়াপদ দিয়ে আসে)।
নিষেধ: 'মিথ্যা বলবে না', 'ওখানে যাস না'।
আশীর্বাদ/শুভকামনা: 'তোমার মঙ্গল হোক', 'চিরজীবী হও' (এখানেও ক্রিয়ার অনুজ্ঞা রূপ ব্যবহৃত হয়)।
সংক্ষেপে, অনুজ্ঞা ভাব বক্তার অভিপ্রায় অনুযায়ী শ্রোতাকে কোনো কাজ করতে বা না করতে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়, যা সরাসরি আদেশ থেকে শুরু করে বিনয়ী অনুরোধ পর্যন্ত হতে পারে।
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব হলো বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়ার এমন একটি রূপ যেখানে বক্তা সরাসরি কোনো ইচ্ছা, প্রার্থনা, আদেশ বা শুভকামনা প্রকাশ করে, যেমন 'সে যাক', 'বৃষ্টি আসুক', বা 'তোমার মঙ্গল হোক' — যা একটি কাজ সম্পন্ন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বোঝায়। এটি বাক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বক্তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে এবং অন্যান্য ভাবের (যেমন নির্দেশক, অনুজ্ঞাসূচক, প্রশ্নবোধক) থেকে ভিন্ন।
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ:
সরাসরি ইচ্ছা প্রকাশ: বক্তা যা চায়, তা সরাসরি বলে দেয়।
উদাহরণ:
"সে যাক।" (বক্তার ইচ্ছা)
"বৃষ্টি আসুক।" (প্রকৃতির প্রতি বা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা)
"তোমার মঙ্গল হোক।" (শুভকামনা)
"তুমি পড়ো।" (আদেশ বা অনুরোধের সুরে ইচ্ছা)
"আমি যেন ভালো ফল পাই।" (আকাঙ্ক্ষা/প্রার্থনা)
"যদি সে আসত, তবে ভালো হতো।" (সম্ভাবনা)
"যাও, তুমি সুখী হও।" (আশীর্বাদ/ইচ্ছা)।
আকাঙ্ক্ষা (বাক্যের গুণ হিসেবে):
ব্যাকরণের ভাষায়, 'আকাঙ্ক্ষা' একটি বাক্যের গুণও বটে, যার অর্থ হলো বাক্য সম্পূর্ণ করার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ, তা পূরণ হওয়া। আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব হলো ক্রিয়ার সেই রূপ যা এই ধরনের ইচ্ছা বা আগ্রহকে প্রকাশ করে।
সংক্ষেপে, আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব হলো বক্তার মনের ভেতরের কোনো কামনা বা বাসনাকে ক্রিয়া পদের মাধ্যমে প্রকাশ করার ভঙ্গি।
সাপেক্ষ ভাব হলো ক্রিয়ার এমন একটি রূপ যেখানে একটি কাজ সম্পন্ন হওয়া অন্য একটি কাজের ওপর নির্ভরশীল থাকে; অর্থাৎ, একটি শর্ত বা সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়াটি ঘটে, যেমন— "যদি সে পড়ত, তবে পাশ করত" (পড়ার ওপর পাশ করা নির্ভরশীল) অথবা "সে গেলে আমি আসতাম" (তার যাওয়া সাপেক্ষ)। এটি ক্রিয়ার ভাব বা ধরন প্রকাশের একটি প্রকার, যা শর্তমূলক বা অনির্দেশ্য পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
"যদি বৃষ্টি আসত, তাহলে আমি যেতাম।" (বৃষ্টি আসার ওপর যাওয়া নির্ভরশীল).
"তিনি থাকলে আমার কষ্ট হতো না।" (তাঁর থাকাটা কষ্টের কারণ ছিল).
সাপেক্ষ ভাবের বৈশিষ্ট্য:
এটি সাধারণত 'যদি', 'তবে', 'তাহলে' ইত্যাদি শব্দ দিয়ে শুরু হয় বা এই ধরনের সম্পর্ক প্রকাশ করে.
এতে দুটি ক্রিয়ার (একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা) মধ্যে নির্ভরশীলতা থাকে.