অনুসর্গ হলো বাংলা ব্যাকরণের এমন কিছু অব্যয় শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে শব্দ বিভক্তির মতো বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে সাহায্য করে, যেমন: 'জন্য', 'থেকে', 'সঙ্গে', 'দিয়ে', 'পানে', 'মত' ইত্যাদি; এদেরকে কর্মপ্রবচনীয়ও বলা হয় এবং এরা কারক সম্পর্ক বোঝাতে ও বাক্যের অর্থ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুসর্গের মূল ধারণা
কাজ: বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে তাদের কারক সম্পর্ক নির্ধারণ করে এবং বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট করে তোলে, অনেকটা বিভক্তির মতো কাজ করে কিন্তু আলাদাভাবে বসে।
উদাহরণ: "আমি তোমার জন্য পড়ি" (এখানে 'জন্য' অনুসর্গ), "সে আমার চেয়ে ভালো" (এখানে 'চেয়ে' অনুসর্গ)।
অন্য নাম: কর্মপ্রবচনীয়।
কিছু সাধারণ অনুসর্গ
মতো, যেমন, ন্যায়: (ছেলেটি বীরের মতো লড়ছে)
জন্য, তরে, হেতু, নিমিত্ত: (তোমার জন্য বই এনেছি)
থেকে, চেয়ে, হতে, হইতে: (সে বাড়ি থেকে এলো)
সঙ্গে, সাথে, সহ, সনে, দিয়ে, কর্তৃক: (আমি বন্ধুর সঙ্গে গেলাম)
বিনা, বিহনে, ছাড়া, ব্যতীত: (তুমি বিনা আমি অচল)
পর, পরে, মধ্যে, মাঝে, অবধি, পর্যন্ত: (সে আমার পরে আসবে)
প্রকারভেদ
অনুসর্গকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
সাধারণ অনুসর্গ: যেমন - প্রতি, বিনা, জন্য, থেকে, সঙ্গে ইত্যাদি।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: যা ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত, যেমন - দিয়ে, কর্তৃক, চেয়ে ইত্যাদি।