সমাস হলো একাধিক পদের মিলন বা সংক্ষেপণ, যা দুটি বা ততোধিক শব্দকে একত্রিত করে একটি নতুন অর্থবহ পদ তৈরি করে, যেমন 'রাজপুত্র' (রাজার পুত্র)। প্রথাগত ব্যাকরণে সমাস ছয় প্রকার: দ্বন্দ্ব, দ্বিগু, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব; আধুনিক ব্যাকরণে দ্বিগু ও অব্যয়ীভাবকে যথাক্রমে কর্মধারয় ও তৎপুরুষের অন্তর্ভুক্ত করে চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।
সমাস কাকে বলে?
সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ বা মিলন। দুই বা ততোধিক পদের সম্পর্ক বোঝানোর জন্য তাদের সংক্ষিপ্ত করে একটি নতুন পদ গঠন করার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
উদাহরণ: 'সিংহাসন' (সিংহের আসন), 'নীলকণ্ঠ' (নীল কণ্ঠ যার)।
আধুনিক মত অনুযায়ী প্রকারভেদ
আধুনিক বাংলা ব্যাকরণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের এবং অব্যয়ীভাব সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত করে সমাসকে চার প্রকার ধরা হয়:
দ্বন্দ্ব সমাস
কর্মধারয় সমাস (দ্বিগু সমাস সহ)
তৎপুরুষ সমাস (অব্যয়ীভাব সমাস সহ)
বহুব্রীহি সমাস
প্রথাগত বাংলা ব্যাকরণে সমাস প্রধানত ছয় প্রকার:
যে সমাসে প্রত্যেকটি পদের অর্থই প্রাধান্য পায়।
দ্বন্দ্ব সমাস মূলত দুই প্রকার: সাপেক্ষ দ্বন্দ্ব (যেমন: 'ও', 'আর' দিয়ে যুক্ত) ও অসাপেক্ষ দ্বন্দ্ব (যেমন: 'ও' বা 'আর' ছাড়া কেবল পাশাপাশি বসে), যা আবার সংখ্যা ও পদের প্রকারভেদে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত (যেমন: একপদী, দ্বিপদী, বহুপদী দ্বন্দ্ব) এবং সাধারণত 'এবং', 'ও', 'আর' ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় দ্বারা ব্যাস (ব্যাসবাক্য) গঠিত হয়, যেখানে প্রতিটি পদেরই অর্থ সমান প্রাধান্য পায়; যেমন: 'পিতা ও মাতা' (পিতামাতা) বা 'হাত-পা' (হাত ও পা)।
দ্বন্দ্ব সমাসের প্রকারভেদ
গঠন ও অর্থের ভিত্তিতে:
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের মধ্যে বা সমস্যমান পদগুলোরর মধ্যে অভিন্ন সম্পর্ক বোঝায়, তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন-
মা ও বাবা = মা-বাবা,
ভাই ও বোন = ভাই-বোন;
ছেলে ও মেয়ে = ছেলে-মেয়ে,
পিতা ও পুত্র = পিতা-পুত্র;
মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত,
জিন ও পরি = জিন-পরি ইত্যাদি।
সমার্থক দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ একই অর্থবিশিষ্ট পৃথক পৃথক শব্দ হয় তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন—
জন ও মানব = জনমানব;
মামলা ও মোকদ্দমা = মামলা-মোকদ্দমা,
কথা ও বার্তা = কথাবার্তা,
ঘর ও বাড়ি = ঘরবাড়ি,
বই ও পুস্তক = বইপুস্তক,
পথ ও ঘাট = পথঘাট ইত্যাদি।
বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদ পূর্বপদের বৈরী ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন—
অহি ও নকুল = অহিনকুল,
স্বর্গ ও নরক = স্বর্গনরক,
দেব ও দানব - দেবদানব ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক শব্দ :
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
দিন ও রাত = দিনরাত,
জোয়ার ও ভাটা = জোয়ারভাটা;
ধনী ও দরিদ্র = ধনীদরিদ্র;
জমা ও খরচ = জমাখরচ ইত্যাদি।
সহচর দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের সহচর হিসেবে যুক্ত হয়, তাকে সহচর দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
দয়া ও মায়া = দয়ামায়া ,
ধর ও পাকড় = ধরপাকড়,
ছল ও চাতুরী = ছলচাতুরী,
খানা ও পিনা = খানাপিনা ইত্যাদি।
অনুচর দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদটিপ পরপদের অনুচর হিসেবে যুক্ত হয় তাকে অনুচর দ্বন্দ্ব বলে। যেমন-
দোকান ও পাট = দোকানপাট;
কাল ও পরশু = কালপরশু;
গোলা ও বারুদ = গোলাবারুদ;
কাপড় ও চোপড় = কাপড়-চোপড় ইত্যাদি।
অলুক দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে,
হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে,
দেশে ও বিদেশে = দেশে-বিদেশে,
মায়ে ও ঝিয়ে = মায়ে ঝিয়ে ইত্যাদি।
সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ পরপদ উভয়ের দ্বারা সংখ্যা বোঝায়, তাকে সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
বিশ ও পঁচিশ = বিশ-পঁচিশ;
লক্ষ অথবা কোটি = লক্ষ-কোটি;
সাত ও পাঁচ = সাত-পাঁচ,
সাত ও সতেরো - সাত-সতেরো ইত্যাদি।
ক্রিয়াবিশেষণ পদের দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদেই ক্রিয়াবিশেষেণ থাকে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ পদের দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এ সমাস অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্ভুক্ত। যেমন-
আগে ও পাছে = আগে পাছে,
পাকে ও প্রকারে = পাকে-প্রকারে,
ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে ইত্যাদি।
ক্রিয়াপদের দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব-পর উভয় পদই ক্রিয়াপদ, তাকে ক্রিয়াপদের দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
লেখা ও পড়া = লেখাপড়া,
চলা ও ফেরা = চলাপেরা,
বাঁচা ও মরা = বাঁচা-মরা;
যাওয়া ও আসা = যাওয়া-আসা ইত্যাদি।
বিশেষ্য পদের দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য বা বিশেষ্যের ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিশেষ্য পদের দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
জন্ম ও মৃত্যু = জন্ম-মৃত্যু,
ধান ও পাট = ধান-পাট,
জীবন ও মরণ = জীবন-মরণ;
নদ ও নদী = নদ-নদী ইত্যাদি।
সর্বনাম পদের স্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদই সর্বনাম পদ নয়, তাকে সর্বনাম পদের দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন-
যথা ও তথা = যথা-তথা;
এটা আর ওটা = এটা-ওটা
এখানে এবং সেখানে = এখানে-সেখানে,
যা ও তা = যা-তা ইত্যাদি।
বিশেষণ পদের দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদই বিশেষণ হয়, তাকে বিশেষণ পদের দ্বন্দ্ব বলে। যেমন-
ছোট ও বড় = ছোট-বড়,
কম ও বেশি = কম-বেশি;
সহজ ও সরল = সহজ-সরল,
বাকি ও বকেয়া = বাকি বকেয়া ইত্যাদি।
একশেষ দ্বন্দ্ব :
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর মধ্যে একটি মাত্র পদ থাকে, অন্য হয়, তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
সে ও তুমি = তোমরা;
সে, তুমি ও আমি - আমরা ইত্যাদি।
পদের সংখ্যা ও গঠনের ভিত্তিতে:
একপদী দ্বন্দ্ব: যেখানে দুটি পদ একটি পদে পরিণত হয়, কিন্তু ব্যাস বাক্যটি দুটি পদই রাখে।
উদাহরণ:
জামা ও কাপড় = জামাকাপড়
ক্ষীর ও ননী = ক্ষীরননী
দ্বিপদী দ্বন্দ্ব: দুটি পদ মিলে দুটি পদই রাখে (সাধারণত)।
উদাহরণ:
রাজা ও মন্ত্রী = রাজা-মন্ত্রী
অগ্নি ও জল = অগ্নি-জল
বহুপদী দ্বন্দ্ব/বহুপদনিষ্পন্ন দ্বন্দ্ব: দুইয়ের অধিক পদ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি পদ গঠন করে, যেখানে প্রতিটি পদেরই প্রাধান্য থাকে।
উদাহরণ:
সাহেব-বিবি-গোলাম (সাহেব ও বিবি ও গোলাম)
হাত-পা-নাক-মুখ-চোখ (হাত ও পা ও নাক ও মুখ ও চোখ)
মূল কথা: দ্বন্দ্ব সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি পদের সমান প্রাধান্য এবং 'ও', 'আর', 'এবং' এর ব্যবহার (সাপেক্ষ দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে)।
যে সমাসে সংখ্যাবাচক পদের সাথে বিশেষ্যের মিলন হয় এবং পরপদ প্রধান হয়। (যেমন: তিন কড়ির সমাহার = তিনকড়ি)।
দ্বিগু সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের মিলন ঘটে এবং যা সমষ্টি বা সমাহার অর্থ প্রকাশ করে, যেমন 'সপ্তাহ' (সপ্ত অহের সমাহার) বা 'পঞ্চবটী' (পঞ্চ বটের সমাহার)। এই সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হয় এবং সমস্তপদটি একটি বিশেষ্য পদ রূপে গণ্য হয়, যা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বোঝায়, যেমন 'ত্রিলোকী' (তিন লোকের সমাহার)।
দ্বিগু সমাসের বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ:
সংজ্ঞা: যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ প্রধান হয়ে সমাহার বা সমষ্টি অর্থ প্রকাশ করে, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
পূর্বপদ: সংখ্যাবাচক শব্দ (যেমন: সপ্ত, পঞ্চ, শত)।
পরপদ: বিশেষ্য পদ (যেমন: অহ, বট, অব্দ)।
ব্যাসবাক্যে: 'সমাহার', 'সমষ্টি', 'মিলন' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
শতাব্দী: শত অব্দের সমাহার।
চৌরাস্তা: চৌ রাস্তার সমাহার।
পঞ্চবটী: পঞ্চ বটের সমাহার।
ত্রিভুজ: ত্রিভুজের সমাহার।
দশমী: দশ অহের সমাহার।
প্রকারভেদ (ঐচ্ছিক):
দ্বিগু সমাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
সমাহার দ্বিগু: যেখানে সমাহার বা সমষ্টি অর্থ প্রাধান্য পায় (যেমন: সপ্তশতী)।
তদ্ধিতার্থক দ্বিগু: যেখানে সমাহার অর্থ না বুঝিয়ে সংখ্যাবাচক অংশটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায় (যেমন: একক, দুইপদী)।
অনেক ব্যাকরণবিদ দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্তও করে থাকেন।
নিপাতনে সিদ্ধ দ্বিগু সমাসের উদাহরণ:
সপ্তর্ষি: সাতজন ঋষির সমাহার (সাধারণ দ্বিগু) হলেও, এটি হিন্দু পুরাণের সাতজন নির্দিষ্ট ঋষিকে বোঝায়, যা একটি বিশেষ নাম বা সমষ্টিরূপে নিপাতনে সিদ্ধ।
পঞ্চনদ: পাঁচ নদীর সমাহার, কিন্তু এটি একটি নির্দিষ্ট স্থানের নাম, যা নিপাতনে সিদ্ধ দ্বিগু।
দ্বিগু (শব্দটি): দুই গরুর মূল্যে কেনা—এখানে 'দুই' সংখ্যা, 'গো' বা 'গর্ব' (গরু) বিশেষ্য, কিন্তু 'দ্বিগু' শব্দটি শুধু সংখ্যা বোঝানোয় এটি একটি বিশেষ অর্থে (মূল্যে কেনা) প্রচলিত।
গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য:
সাধারণ দ্বিগু সমাসে সমষ্টি বা সমাহার অর্থ প্রধান থাকে (যেমন: পঞ্চবটি = পাঁচ বটির সমাহার)।
নিপাতনে সিদ্ধ দ্বিগু সমাসে অনেক সময় বিশেষ নাম, ব্যক্তি বা অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রাধান্য পায় (যেমন: সপ্তর্ষি)।
অব্যয় পদ চেনার প্রধান উপায়
১. রূপের পরিবর্তন হয় না
অব্যয় পদের লিঙ্গ, বচন, পুরুষ, কাল অনুযায়ী কোনো পরিবর্তন হয় না।
উদাহরণ:
সে আজ আসবে।
তারা আজ আসবে।
“আজ” শব্দটি বদলায়নি → অব্যয় পদ
২. কারকচিহ্ন গ্রহণ করে না
অব্যয় পদ কে, রে, এর, এ, তে ইত্যাদি কারকচিহ্ন নেয় না।
ভুল: আজকে, এখনের, তখনে
সঠিক: আজ, এখন, তখন
৩. বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক প্রকাশ করে
অব্যয় পদ সাধারণত সময়, স্থান, কারণ, শর্ত, সম্পর্ক, সংযোগ বোঝায়।
উদাহরণ:
সে কারণ অসুস্থ।
তুমি যদি আসো, আমি যাব।
৪. একা বসেও অর্থ প্রকাশ করে
অনেক অব্যয় পদ একাই অর্থবোধক হয়।
উদাহরণ:
হ্যাঁ, আমি রাজি।
না, আমি যাব না।
৫. প্রশ্ন করলে উত্তর হয় না
অব্যয় পদ সাধারণত কে? কী? কত? কেমন?—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় না।
বিশেষণ ও বিশেষ্যের মিলনে গঠিত সমাস, যেখানে বিশেষণ পদটি প্রধান হয়। (যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম)।
কর্মধারয় সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের মিলন ঘটে এবং সমস্তপদে পরপদের অর্থই প্রধান হয়ে ওঠে; যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। এটি মূলত তৎপুরুষ সমাসের একটি প্রকারভেদ, যেখানে পূর্বপদটি উত্তরপদকে বিশেষিত করে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
গুণ বা অবস্থা প্রকাশ: পূর্বপদটি (বিশেষণ) উত্তরপদ (বিশেষ্য)-এর গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়।
অর্থের প্রাধান্য: পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রকাশিত হয়।
বিভক্তি লোপ: সমস্তপদে সাধারণত শূন্য বিভক্তি থাকে, তাই এটি তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
উদাহরণ:
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম (নীল - বিশেষণ, পদ্ম - বিশেষ্য, পদ্মের রং নীল)
কাঁচা যে মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচা - বিশেষণ, মিঠা - বিশেষ্য, মিঠার গুণ কাঁচা)
খাস যে মহল = খাসমহল (খাস - বিশেষণ, মহল - বিশেষ্য, মহলের ধরন)
হেড যে মাস্টার = হেডমাস্টার (হেড - বিশেষণ, মাস্টার - বিশেষ্য, মাস্টারের পদ)
পরম যে ঈশ্বর = পরমেশ্বর (পরম - বিশেষণ, ঈশ্বর - বিশেষ্য)
কর্মধারয় সমাস প্রধানত চার প্রকার: সাধারণ কর্মধারয়, উপমান কর্মধারয়, উপমিত কর্মধারয়, এবং রূপক কর্মধারয়, তবে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়কে আলাদাভাবে ধরা হয় এবং দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয়ের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়; মোট মিলিয়ে এর প্রকারভেদ বিভিন্ন ব্যাকরণে ভিন্ন হলেও মূল চারটি ভাগ এবং দ্বিগু ও মধ্যপদলোপী সমাস গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ:
সাধারণ কর্মধারয় সমাস
সাধারণ কর্মধারয় সমাস হলো সেই কর্মধারয় সমাস, যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের মিলন ঘটে এবং ব্যাসবাক্যে 'যে', 'যিনি', 'যাহা' ইত্যাদি পদ ব্যবহৃত হয়; এখানে পরপদের অর্থই প্রধান হয়, যেমন: 'নীল যে পদ্ম' = নীলপদ্ম, 'শান্ত যে শিষ্ট' = শান্তশিষ্ট।
উদাহরণ
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম
শান্ত যে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট
খাস যে মহল = খাসমহল
রক্ত যে চন্দন = রক্তচন্দন
যিনি গিন্নি তিনি মা = গিন্নিমা
হেড যে মাস্টার = হেডমাস্টার
উপমান কর্মধারয় সমাস
উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন এক ধরনের কর্মধারয় সমাস যেখানে সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকে এবং তুলনাটি বাস্তব হয়, অর্থাৎ উপমেয় (যার তুলনা করা হচ্ছে) এবং উপমানের (যার সাথে তুলনা) মধ্যে একটি সাধারণ ধর্ম বা গুণ বিদ্যমান থাকে, যেমন: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল, যেখানে 'শুভ্র' এবং 'লাল' হলো সাধারণ গুণ।
সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য:
উপমান: যে বস্তুর সাথে তুলনা করা হয় (তুলনীয় বস্তু)।
উপমেয়: যার তুলনা করা হয় (প্রত্যক্ষ বস্তু)।
সাধারণ ধর্ম: যে গুণ বা ধর্মটির জন্য তুলনা করা হয়।
চেনার উপায়: ব্যাসবাক্যে 'ন্যায়', 'সদৃশ', 'মতো' ইত্যাদি শব্দ থাকে এবং উপমেয় ও উপমানের মধ্যে একটি বাস্তব ও সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকে (বিশেষ্য + বিশেষণ)।
উদাহরণ:
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র (শুভ্রতা একটি বাস্তব গুণ)
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা (রাঙা বা লাল রং)
চন্দনের মতো স্নিগ্ধ = চন্দনস্নিগ্ধ (স্নিগ্ধতা)
শশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত (ব্যস্ততা)
উপমান ও উপমিতের পার্থক্য:
উপমান কর্মধারয়: সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকে (যেমন: তুষারশুভ্র)।
উপমিত কর্মধারয়: সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকে না, শুধু উপমেয় ও উপমানের তুলনা হয় (যেমন: মুখ (উপমেয়) চন্দ্রের (উপমান) ন্যায় = মুখচন্দ্র)।
উপমান কর্মধারয় সমাসে তুলনাটি বাস্তব সত্য হয়, যা উপমিত কর্মধারয় সমাস থেকে একে আলাদা করে।
উপমিত কর্মধারয় সমাস
উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন এক ধরনের কর্মধারয় সমাস যেখানে উপমেয় পদের সাথে উপমানের তুলনা করা হয়, কিন্তু সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকে না এবং সমস্ত পদে উপমেয় পদটি (যা তুলিত হচ্ছে) আগে আসে, যেমন: মুখচন্দ্র (মুখ চাঁদের ন্যায়), পুরুষসিংহ (পুরুষ সিংহের ন্যায়), যা বাস্তবসম্মত তুলনা নয় (পুরুষ কখনও সিংহ হতে পারে না) এবং উভয় পদই বিশেষ্য বা নামপদ।
উদাহরণ ও ব্যাসবাক্য
মুখচন্দ্র : মুখ (উপমেয়) + চন্দ্রের (উপমান) ন্যায় = মুখ চাঁদের ন্যায় (এখানে মুখকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হয়েছে, কিন্তু 'সুন্দর' বা 'শুভ্র'র মতো গুণের উল্লেখ নেই)।
পুরুষসিংহ : পুরুষ (উপমেয়) + সিংহের (উপমান) ন্যায় = পুরুষ সিংহের ন্যায় (পুরুষকে সিংহের সাথে তুলনা করা হয়েছে, কিন্তু 'সাহসী' বা 'বলিষ্ঠ'র মতো গুণের উল্লেখ নেই)।
চক্ষুলতা : চক্ষু (উপমেয়) + লতার (উপমান) ন্যায় = চক্ষু লতার ন্যায় (চক্ষুকে লতার সাথে তুলনা, যা বাস্তবসম্মত নয়)।
করপদ্ম : কর (উপমেয়) + পদের (উপমান) ন্যায় = কর পদের ন্যায় (হাতকে পদ্মের সাথে তুলনা)।
রূপক কর্মধারয় সমাস
রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে উপমেয় (যার তুলনা করা হচ্ছে) ও উপমানের (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে) মধ্যে অভেদ বা 'রূপ' কল্পনা করা হয় এবং ব্যাসবাক্যে 'রূপ' বা 'ই' শব্দ যোগ করে সমাসবদ্ধ পদ গঠন করা হয়, যেমন: মনমাঝি (মন রূপ মাঝি), ক্রোধানল (ক্রোধ রূপ অনল), বিষাদসিন্ধু (বিষাদ রূপ সিন্ধু) ইত্যাদি, যেখানে উপমান (মাঝি, অনল, সিন্ধু) পূর্বে এবং উপমেয় (মন, ক্রোধ, বিষাদ) পরে বসে।
বৈশিষ্ট্য ও গঠন:
অভেদ কল্পনা: এই সমাসে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না, বরং এদের অভিন্নতা বোঝানো হয়।
'রূপ' বা 'ই' যোগ: ব্যাসবাক্যে 'রূপ' বা 'ই' (যেমন: বিষাদ রূপ সিন্ধু) ব্যবহার করা হয়, যা সমাসবদ্ধ পদে সাধারণত লুপ্ত থাকে।
পদক্রম: উপমান পদটি (যেমন: মাঝি, অনল) আগে আসে এবং উপমেয় পদটি (যেমন: মন, ক্রোধ) পরে আসে।
উদাহরণ:
ক্রোধানল (ক্রোধ রূপ অনল)
মনমাঝি (মন রূপ মাঝি)
সুখসাগর (সুখ রূপ সাগর)
জীবনপ্রদীপ (জীবন রূপ প্রদীপ)
জ্ঞানবৃক্ষ (জ্ঞান রূপ বৃক্ষ)
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন এক ধরনের কর্মধারয় সমাস, যেখানে ব্যাসবাক্যের মাঝখানের পদটি (মধ্যপদ) উহ্য বা লুপ্ত হয়ে যায়, কিন্তু সমাসবদ্ধ পদে তার অর্থ বজায় থাকে; যেমন: ঘৃত মিশ্রিত অন্ন (ঘৃতান্ন) থেকে 'মিশ্রিত' পদটি লুপ্ত হয়েছে, আবার সিংহ চিহ্নিত আসন (সিংহাসন) থেকে 'চিহ্নিত' পদটি উহ্য হয়েছে।
সংজ্ঞা:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
উদাহরণ:
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (এখানে 'চিহ্নিত' পদটি লুপ্ত)।
ঘৃত মিশ্রিত অন্ন = ঘৃতান্ন (এখানে 'মিশ্রিত' পদটি লুপ্ত)।
রাজা কর্তৃক কৃত = রাজকৃত (এখানে 'কর্তৃক' বা 'করা' অংশটি লুপ্ত)।
পীত যে অম্বরের = পীতাম্বর (এখানে 'যে' বা 'অম্বরের' অংশটি লুপ্ত)।
নীল যে উৎপল = নীলুৎপল (এখানে 'যে' বা 'উৎপল' অংশটি লুপ্ত)।
দ্বিগু সমাস: সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থাকলে এটি কর্মধারয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন: পঞ্চবটি (পাঁচ বটের সমাহার)।
তৎপুরুষ সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
১. পূর্বপদের বিভক্তি (যেমন: কে, রে, দিয়ে, হতে, র, তে ইত্যাদি) বিলুপ্ত হয়।
২. সমস্তপদে পরপদের অর্থই প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়।
তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদ ও উদাহরণ:
বিভক্তি ভেদে তৎপুরুষ সমাস প্রধানত নয় প্রকার:
১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ: পূর্বপদে ২য়া বিভক্তি (কে, রে) লোপ পায়।
উদাহরণ: বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন, রথকে দেখা = রথদেখা।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ: পূর্বপদে ৩য়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক) লোপ পায়।
উদাহরণ: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া, শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ: পূর্বপদে ৪থী বিভক্তি (কে, রে, জন্যে, নিমিত্ত) লোপ পায়।
উদাহরণ: দেবকে দত্ত = দেবদত্ত, হজের নিমিত্ত যাত্রা = হজযাত্রা।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ: পূর্বপদে ৫মী বিভক্তি (হতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পায়।
উদাহরণ: খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া, বিলাত হতে ফেরত = বিলাতফেরত।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ: পূর্বপদে ৬ষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) লোপ পায়।
উদাহরণ: চায়ের বাগান = চাবাগান, রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ: পূর্বপদে ৭মী বিভক্তি (এ, অ, তে) লোপ পায়।
উদাহরণ: গাছে পাকা = গাছপাকা, দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
৭. নঞ তৎপুরুষ: না-বাচক অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে সমাস হয়।
উদাহরণ: ন আচার = অনাচার, ন বিশ্বাস = অবিশ্বাস।
৮. উপপদ তৎপুরুষ: কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়।
উদাহরণ: পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ, জল দেয় যা = জলদ।
৯. অলুক তৎপুরুষ: যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না।
উদাহরণ: গায় পড়া = গায়েপড়া, কলের গান = কলের গান।
তৎপুরুষ সমাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি উইকিপিডিয়ার এই নিবন্ধটি দেখতে পারেন।
যে সমাসে পূর্বপদটি অব্যয় হয় এবং তার অর্থই প্রাধান্য পায়। (যেমন: যথারীতি = রীতি + যথা)।
অব্যয়ীভাব সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে পূর্বপদে একটি অব্যয় বা উপসর্গ (যেমন: আ, প্রতি, উপ, যথা, অনু, গর, নি, বে) থাকে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়ে ওঠে, এবং সমাসের শেষে পরপদটি বিশেষ্য হয়; যেমন: দিন দিন (প্রতিদিন), কূলের সমীপে (উপকূল), মিলের অভাব (গরমিল), যা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।
মূল বৈশিষ্ট্য
পূর্বপদ: একটি অব্যয় বা উপসর্গ (যেমন: আ, প্রতি, উপ, যথা, অনু, গর, নি, বে) থাকে।
পরপদ: একটি বিশেষ্য পদ থাকে।
অর্থ: অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রকাশিত হয়।
উদাহরণ:
দিন দিন = প্রতিদিন (এখানে 'প্রতি' অব্যয়টির অর্থ প্রধান)।
কূলের সমীপে = উপকূল ('উপ' অব্যয়টি নৈকট্য বোঝাচ্ছে)।
মিলের অভাব = গরমিল ('গর' উপসর্গটি অভাব বোঝাচ্ছে)।
মরণ পর্যন্ত = আমরণ ('আ' অব্যয়টি 'পর্যন্ত' অর্থ প্রকাশ করছে)।
বিভিন্ন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস
অব্যয়ীভাব সমাস বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, যেমন:
নৈকট্য/সামীপ্য: উপকূল (কূলের সমীপে)
পৌনঃপুনিকতা/বিপ্সা: প্রতিদিন (দিন দিন)
পর্যন্ত: আমরণ (মরণ পর্যন্ত)
অভাব: গরমিল (মিলের অভাব), নির্বিঘ্ন (বিঘ্নের অভাব)
সাদৃশ্য: উপগ্রহ (গ্রহের সদৃশ)
যোগ্যতা: অনুপযুক্ত (যোগ্যতাহীন)
মনে রাখার কৌশল
শব্দের শুরুতে 'আ', 'প্রতি', 'ফি', 'উপ', 'যথা', 'অনু', 'গর', 'নি', 'বে' ইত্যাদি উপসর্গ বা অব্যয় থাকলে সাধারণত অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
বহুব্রীহি সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে সমাসবদ্ধ পদটি পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থই প্রাধান্য না দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থ বা তৃতীয় কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়। যেমন: বহুব্রীহি (বহু ব্রীহি আছে যার = ধনী ব্যক্তি), দশানন (দশ আনন যার = রাবণ), নীলকণ্ঠ (নীল কণ্ঠ যার = শিব), চক্রপাণি (চক্র ধারণ করেন যিনি = বিষ্ণু) ইত্যাদি।
সংজ্ঞা:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটিরই প্রাধান্য থাকে না, বরং একটি নতুন ও তৃতীয় অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। এই সমাসে সাধারণত 'যার', 'যাতে', 'যিনি', 'যাহা' ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ ও ব্যাখ্যা:
বহুব্রীহি = বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = একজন ধনী ব্যক্তি।
দশানন = দশ আনন (মুখ) যার = রাবণ (দশটি মুখওয়ালা)।
নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ (গলা) যার = শিব (নীল গলাওয়ালা)।
চক্রপাণি = চক্র (শঙ্খ বা সুদর্শন চক্র) পাণি (হাতে) যার = বিষ্ণু।
বহুব্রীহি সমাস প্রধানত আট প্রকার। এগুলো হলো: সমানাধিকরণ, ব্যাধিকরণ, নঞ্, মধ্যপদলোপী, সংখ্যাবাচক, অলুক, ব্যতিহার এবং উপমান বহুব্রীহি সমাস। এই সমাসগুলোতে পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটিরই প্রাধান্য না থেকে তৃতীয় একটি অর্থ প্রাধান্য পায়।
বহুব্রীহি সমাসের প্রকারভেদ ও উদাহরণ:
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি: উভয় পদে একই বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: নীলকণ্ঠ - নীলের কণ্ঠ যার)।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: উভয় পদে ভিন্ন ভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: চক্রপাণি - চক্র (ষষ্ঠী) পাণি (সপ্তমী) যার)।
নঞ্ বহুব্রীহি: 'নঞ' (না) বাচক অব্যয় যুক্ত হয় (যেমন: অজ্ঞাত - ন (অ) জ্ঞাত)।
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: সমাসবদ্ধ পদ থেকে মধ্যপদ লোপ পায় (যেমন: বিড়াল তপস্বী - বিড়ালের ন্যায় তপস্বী)।
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: সংখ্যাবাচক পদ ও বিশেষ্য পদ যুক্ত হয় (যেমন: পঞ্চানন - পঞ্চ (পাঁচ) আনন (মুখ) যার)।
অলুক বহুব্রীহি: সমাসবদ্ধ পদে বিভক্তি লোপ পায় না (যেমন: গায়ে পড়া - গায়ে পড়া)।
ব্যতিহার বহুব্রীহি: একই শব্দ দুইবার ব্যবহৃত হয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝায় (যেমন: হাতে হাতে - হাতে হাতে যে লড়াই)।
উপমান বহুব্রীহি: উপমান ও উপমেয় পদের মিল থাকে (যেমন: চন্দ্রমুখী - চন্দ্রের ন্যায় মুখ যার)।