উক্তি বলতে সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা বক্তার বলা কথা, বক্তব্য বা বচনকে বোঝানো হয়, যা সরাসরি বা পরিবর্তিত রূপে প্রকাশ করা যায়; ব্যাকরণে এটি 'প্রত্যক্ষ উক্তি' (সরাসরি বক্তব্য, উদ্ধৃতি চিহ্নসহ) ও 'পরোক্ষ উক্তি' (পরিবর্তিত রূপ) হিসেবে দুই প্রকার। সহজ কথায়, যা কেউ বলেছে, তাই উক্তি, যেমন - "আমি কাল যাব," সে বলল (প্রত্যক্ষ), অথবা সে বলল যে সে কাল যাবে (পরোক্ষ)।
উক্তির সংজ্ঞা:
কোনো বক্তার বলা কথা বা বক্তব্যকে উক্তি (Quotation/Speech) বলে।
এটি অন্য কারো দেওয়া বক্তব্যকে তার মূল রূপে বা পরিবর্তিত রূপে উপস্থাপন করা।
বক্তার আসল কথা হুবহু উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখা হয়, যেমন: "সে বলল, 'আমি এখন যাব'"।
প্রত্যক্ষ উক্তির বৈশিষ্ট্য
সরাসরি উপস্থাপন: বক্তার বলা কথাগুলো কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।
উদ্ধৃতি চিহ্ন: কথাগুলো সবসময় উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রাখা হয় (যেমন: " " বা ' ')।
কমা: উদ্ধৃত করার আগে একটি কমা (,) ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ
"শিক্ষক বললেন, 'তোমরা মন দিয়ে পড়ো।'" (এখানে শিক্ষকের কথা সরাসরি বলা হয়েছে)।
"রাহুল বলল, 'আমি আজ স্কুলে যাব।'"।
পরোক্ষ উক্তির সাথে পার্থক্য
প্রত্যক্ষ উক্তি: বক্তার কথা যেমন আছে তেমনই তুলে ধরা হয়।
পরোক্ষ উক্তি: বক্তার কথা নিজের ভাষায় পরিবর্তন করে বলা হয়, এখানে উদ্ধৃতি চিহ্নের প্রয়োজন হয় না।
বক্তার কথা নিজের ভাষায় পরিবর্তন করে বলা হয়, যেমন: "সে বলল যে সে তখন যাবে"।
পরোক্ষ উক্তির বৈশিষ্ট্য:
উদ্ধৃতি চিহ্নের ব্যবহার নেই: বক্তার কথা উদ্ধৃত করার জন্য কোনো কমা বা উদ্ধৃতি চিহ্ন ( ", “ ”) ব্যবহৃত হয় না।
'যে' বা অন্য সংযোজক অব্যয়: অনেক সময় 'যে' (that) বা অনুরূপ শব্দ ব্যবহার করা হয় (যেমন: বলল যে, জানাল যে)।
সর্বনামের পরিবর্তন: 'আমি' পরিবর্তিত হয়ে 'সে/তিনি', 'তুমি' পরিবর্তিত হয়ে 'আমি/সে/তিনি' ইত্যাদি হয়।
কাল (Tense) পরিবর্তন: সাধারণত, প্রত্যক্ষ উক্তির কাল পরিবর্তিত হয় (যেমন: 'আজ' পরিবর্তিত হয়ে 'সেদিন', 'কাল' পরিবর্তিত হয়ে 'পরদিন')।
রিপোর্টিং ভার্ব (Reporting Verb): 'বলল', 'জানাল', 'জিজ্ঞেস করল', 'জানালেন' ইত্যাদি রিপোর্টিং ভার্ব ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
প্রত্যক্ষ: রহিম বলল, “আমি আজ স্কুলে যাব না।”
পরোক্ষ: রহিম বলল যে, সে সেদিন স্কুলে যাবে না।
প্রত্যক্ষ: শিক্ষক বললেন, “কাল তোমাদের ছুটি।”
পরোক্ষ: শিক্ষক বললেন, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
উক্তি পরিবর্তন বলতে প্রত্যক্ষ উক্তি (Direct Speech) থেকে পরোক্ষ উক্তি (Indirect Speech) অথবা পরোক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে রূপান্তরকে বোঝানো হয়, যেখানে বক্তার মূল কথাকে সামান্য পরিবর্তন করে বা সরাসরি উদ্ধৃত করে প্রকাশ করা হয়, যেমন "সে বলল, 'আমি ভালো আছি'" থেকে "সে বলল যে সে ভালো আছে" বা এর বিপরীতটি, যা বাক্য গঠনের নিয়ম ও কালের পরিবর্তন করে সম্পন্ন করা হয়।
পরিবর্তনের মূল নিয়ম:
যোজক অব্যয় ব্যবহার: প্রত্যক্ষ উক্তিতে উদ্ধৃতি চিহ্ন (' ' বা “ ”) ব্যবহৃত হয়, পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধৃতি চিহ্ন (' ') বাদ দিয়ে 'যে', 'যাতে', 'যাতে করে', 'যিনি', 'যদি', 'কিনা' ইত্যাদি যোজক অব্যয় (Conjunction) ব্যবহার করতে হয়।
ক্রিয়া পদের পরিবর্তন: 'বলল', 'বললেন' ইত্যাদির পরিবর্তন: 'বলল' থাকলে 'বলল', 'বললেন' থাকলে 'বললেন', তবে 'প্রশ্ন করল' হলে 'জিজ্ঞাসা করল', 'আদেশ করল' হলে 'আদেশ দিল' ইত্যাদি হবে।
কাল (Tense) পরিবর্তন: বর্তমান কাল → অতীত কাল, ভবিষ্যৎ কাল → অতীত কাল/অন্য রূপ ধারণ করে (যেমন: 'আসব' → 'আসবে' বা 'আসবে বলে')।
বক্তা/ সর্বনাম পরিবর্তন: 'আমি', 'তুমি', 'সে' ইত্যাদির পরিবর্তন: আমি → সে/তিনি, তুমি → সে/তিনি/আমি, আমরা → তারা/তাঁরা ইত্যাদি।
সময় ও স্থান নির্দেশক পরিবর্তন: 'আজ' → 'সেদিন', 'গতকাল' → 'আগের দিন', 'এখানে' → 'সেখানে' ইত্যাদি।
বাক্যের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তন:
প্রশ্নবোধক: জিজ্ঞাসা করল/জিজ্ঞাসা করলেন, 'কি/কিনা' যোগ। যেমন: "তুমি কি যাবে?" → "সে জিজ্ঞাসা করল যে সে যাবে কিনা।"
অনুজ্ঞাসূচক: আদেশ দিল/অনুরোধ করল/বলল, 'যে' বা ' to' (যদি বাংলায় আসে) ব্যবহার। যেমন: "মনোযোগ দাও" → "শিক্ষক বললেন যে মনোযোগ দিতে।"
প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন (উদাহরণ)
প্রত্যক্ষ: শিক্ষক বললেন, "তোমরা মন দিয়ে পড়াশোনা কর।"
পরোক্ষ: শিক্ষক বললেন যে আমরা যেন মন দিয়ে পড়াশোনা করি।
প্রত্যক্ষ: সে বলল, "আমি আগামীকাল আসব।"
পরোক্ষ: সে বলল যে সে পরের দিন আসবে।
প্রত্যক্ষ: তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কোথায় যাচ্ছ?"
পরোক্ষ: তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে আমি কোথায় যাচ্ছি।
পরোক্ষ: সে বলল যে সে ভালো নেই।
প্রত্যক্ষ: সে বলল, "আমি ভালো নেই।"
পরোক্ষ: বক্তা বললেন যে গতকাল তিনি বাজারে গিয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষ: বক্তা বললেন, "গতকাল আমি বাজারে গিয়েছিলাম।"