জিহ্বায় ঘা বা মাউথ আলসার হওয়ার পেছনে সাধারণ কিছু অসাবধানতা থেকে শুরু করে শারীরিক জটিলতা পর্যন্ত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। নিচে প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
১. পুষ্টির অভাব
শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলে জিহ্বায় ঘা হতে পারে। বিশেষ করে:
ভিটামিন বি-১২, বি-২ (রিবোফ্লাভিন) এবং ফলিক অ্যাসিডের অভাব।
আয়রন বা জিঙ্কের স্বল্পতা।
২. আঘাতজনিত কারণ
অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত আঘাতের কারণেও ঘা হয়:
খাওয়ার সময় বা কথা বলার সময় অসাবধানতায় জিহ্বায় কামড় লাগলে।
খুব শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজার সময় আঘাত পেলে।
খুব গরম খাবার বা পানীয়তে জিহ্বা পুড়ে গেলে।
দাঁতের ধারালো অংশ বা কৃত্রিম দাঁতের (ডেনচার) ঘর্ষণে।
৩. জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস
অতিরিক্ত ঝাল, টক বা অ্যাসিডিক খাবার (যেমন লেবু, আনারস) খেলে।
তামাক, জর্দা, গুল বা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে।
মানসিক চাপ (Stress) এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।
কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের সমস্যা।
৪. সংক্রমণ ও অন্যান্য রোগ
ভাইরাল সংক্রমণ: যেমন জ্বর বা ঠান্ডা লাগলে, অথবা হাত-পা-মুখের রোগ (Hand-Foot-Mouth Disease)।
ছত্রাক সংক্রমণ: মুখে ইস্ট বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন (Oral Thrush) হলে।
ডায়াবেটিস বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।
৫. গুরুতর সতর্ক সংকেত
সাধারণত এই ঘা ১-২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে যদি জিহ্বার কোনো ঘা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না শুকায়, তবে তা জিহ্বার ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
করণীয়: প্রচুর পানি পান করুন, লবণ-গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করুন এবং সুষম খাবার গ্রহণ করুন। বিস্তারিত জানতে আপনি Mayo Clinic-এর ক্যানকার সোর গাইড দেখতে পারেন।