কিশমিশ হজমশক্তি বৃদ্ধি, রক্তাল্পতা দূরীকরণ, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মতো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে। এটি আয়রন, পটাসিয়াম, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি চমৎকার উৎস, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়াও কিশমিশ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি: কিশমিশে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
রক্তাল্পতা দূর করে: এতে থাকা আয়রন এবং কপার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায় এবং লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন বি৬ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে: কিশমিশ হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, কারণ এতে পটাসিয়াম থাকে।
শক্তি বৃদ্ধি করে: কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা, গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজ থাকে, যা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং শারীরিক ক্লান্তি দূর করে।
ত্বক ও চুলের যত্ন: কিশমিশ মিনারেল, ভিটামিন সি, ই এবং কোলাজেন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ত্বক ও চুলকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
মানসিক প্রশান্তি: নিয়মিত কিশমিশ খেলে অবসাদ দূর হয় এবং মানসিক প্রশান্তি আসে।
ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে: এটি ক্যালোরির একটি ভালো উৎস হওয়ায় ওজন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করতে পারে।
বিষমুক্ত শরীর: শরীরকে দূষণমুক্ত করতে কিসমিস খান নিয়মিত। চারিদিকের দূষণে আপনি যখন জেরবার তখন সকালে খালি পেটে ভেজানো কিসমিস খেলে শরীর বিষমুক্ত হবে। ভেজানো কিসমিসের পাশাপাশি কিসমিস ভেজানো পানিও খেতে পারেন।
কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়: নিয়মিত কিসমিস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। আপনি যদি পেটের সমস্যায় নিয়মিত ভোগেন। তাহলে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ভেজানো কিসমিস খান। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে কষ্ট পান। তারা ওষুধের বদলে নিয়মিত কিসমিস খেয়ে দেখুন। শিগগিরেই সুফল পাবেন।
সংক্রমণের চিকিৎসায় সাহায্য করে: কিশমিশে পলিফেনলিক ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে যেটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে সুপরিচিত। আর এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো প্রদর্শন করায় তা জ্বরের ঝুঁকি কমাতে এবং ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। এ জন্য দিনে কয়েকটি কিশমিশ খেলে তা আপনার ঠাণ্ডা এবং অন্যান্য সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।
মিষ্টি জাতীয় খাদ্য, যেমন পায়েশ, রান্না করার সময় আমরা কিশমিশ ব্যবহার করি। আবার অনেকেই তো কিশমিশ সরাসরি খেয়ে থাকেন। তবে এই দুই পদ্ধতিতে কিশমিশ খাওয়া একেবারে ভুল।
আপনি যদি কয়েক টুকরো কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ রেখে গ্রহণ করেন তবে কিশমিশের পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়। তাই কিশমিশ খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে কিশমিশগুলোকে কিছুক্ষণ যাবৎ বিশুদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে খেতে হবে।