সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে যে আপনাকে ভালোবাসে তাকে গ্রহণ করবেন নাকি কাউকে ভালোবেসে আপনি কাছে পেতে চাইবেন ?? এই প্রশ্নের মুখোমুখি সাধারণত আমরা অনেকেই হয়ে থাকি... দেখা যায় আপনি যাকে চান সে আপনাকে চায় না, আবার আপনাকে যে চায় তাকে আপনি চান না... অনেকটা এরকমই !!
.
আমার মতে যে আপনাকে ভালোবাসে তাকেই গ্রহণ করা উচিত যদি তার মন মানসিকতা ভালো থাকে... আপনাকে বুঝে, সম্মান করে, আপনার কথা মানে... এর চেয়ে বেশি আপনি আর কি চান ?? রুপ, চেহারা, টাকা, বাড়ি-গাড়ী এসব ?? ধরুন আপনি এসব সব পেলেন কিন্তু সে আপনাকে সম্মান করে না, আপনাকে বুঝে না, মানে না... তখন এই রুপ, চেহারা, বাড়ি-গাড়ী আপনার কোন কাজেই আসবে না !!
.
অনেকে ভাবতে পারেন যেটা না চাইতেই পাওয়া যায় সেটার উপর কোন মোহ থাকে না... কোন আকৃষ্টতা কাজ করে না... অনেকটা বোনাসের মতো মনে হয়... এবার না হয় একটু ভাবুন আপনি যেটা বোনাস মনে করছেন সেটাই বা কয়জনে পায় ?? মনে রাখবেন, যে আপনাকে ভালোবাসে সে আপনাকে পুরোটা দিয়েই ভালোবাসবে... আর যাকে আপনি পেতে চান সে আপনাকে পুরোটা দিয়ে নাও ভালোবাসতে পারে !!
.
যে আপনাকে ভালোবাসবে সে সব সময় আপনাকে হারানোর ভয়টা করে যাবে... আবার আপনি যাকে ভালোবাসবেন তাকে আপনি সব সময় হারিয়ে ফেলার ভয় করে যাবেন... এবার আপনিই বলুন হারিয়ে ফেলার ভয় করতে চান নাকি কেউ আপনাকে হারানোর ভয় করে যাক সেটা চান ?? আপনি যাকে ভালোবাসেন সে চাইলে আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারে কিন্তু যে আপনাকে ভালোবাসে সে আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া কল্পনাও করবে না !!
.
যে আপনাকে ভালোবাসে সে হয়তো আপনার মন মতো নাও হতে পারে, কিন্তু আপনি চাইলেই তাকে আপনার মনের মতো গড়ে নিতে পারেন... আপনি সবদিক থেকে পারফেক্ট খুঁজতে থাকলে কখনো কাউকে পাবেন না, কারণ পুরোপুরি পারফেক্ট কেউ হয় না... কোন না কোন কমতি সবারই থাকে, সেই কমতিটা যদি পূরণ করতে পারেন তাহলেই আপনার ভালোবাসা সার্থক !!"
---------------------------------------------------------------02 -------------------------------------------------------------
একটা সময় ছিলো যখন আমি মানুষের উপর প্রচুর আশা রাখতাম, বিশ্বাস করতাম... ভাবতাম আমার চারপাশে যারা আছে তারা প্রত্যেকই অনেক ভালো মানুষ... আমার বন্ধু, বান্ধুবী, প্রতিবেশী সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে... আমি ধারণা করতাম আমার কাছের মানুষগুলো সব সময়ই আমার পাশে থাকবে... কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করলাম আমার এসব ধারণা ভুল ছিলো !!
.
আমার জীবনে অনেকেই সুখ পাখি হয়ে এসে আমাকে আকাশে উড়িয়ে দিয়ে চলে গেছে... ছোট ভাই, বড় ভাই, বন্ধু, বান্ধুবী ও প্রেমিকা কিছুই বাদ যায়নি... কিন্তু এখন অনেকেই নাই, আবার কেউ কেউ থেকেও নাই... কারণ আমার কাছে যারা আসছিলো তারা সবাই কোন না কোন স্বার্থ নিয়ে আসছে, যখনই তাদের স্বার্থ শেষ হয়েছে ঠিক তখন থেকেই আমাকে ভুলতে তারা দ্বিতীয়বার ভাবেনি !!
.
কিছুদিন আগেও আমি এমন ছিলাম যে, কেউ আমার কথা না রাখলে খারাপ লাগতো... আমাকে কেউ হার্ট করলে চোখে পানি এসে যেতো... অনেকদিন ধরে কেউ খবর না নিলে মন খারাপ করতাম... আর এখন কেউ কথা রাখা তো দূরের কথা আমি কারো কাছে কিছু আশাই করি না... এখন কেউ হার্ট করলে আমার হাসি পায়... কেউ খবর না নিলে আমারো কিছুই মনে থাকে না !!
.
অনেকে হয়তো বলবে সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে গেছে... আসলে কিছুই ঠিক হয়নি, সবকিছু আগের মতই আছে শুধু আমি নিজেই এসবের সাথে মানিয়ে নিয়েছি... আগে অল্পতেই মন খারাপ হতো এখন হয়না... অল্পতেই অভিমান করতাম এখন অভিমানও হয়না... কাউকে না কাউকে পাশে পেতে চাইতাম এখন আমার কাউকে দরকার হয়না... পার্থক্যটা এখানেই !!
.
চাইলেই একা থাকা যায়... তুমি চাইলেই নিজেকে শক্ত করে রাখতে পারো... চাইলেই তুমি কারোর উপর আশা ছাড়াই থাকতে পারবে... স্বার্থ না রেখে চলতে পারবে... অতিরিক্ত আশা মানুষকে ছোট করে রাখে আবার অতিরিক্ত স্বার্থ ও আবেগ মানুষকে তার নিজের ক্ষমতাকে জাগ্রত হতে দেয় না !!
.
তাই কখনো কারোর উপর আশা রাখতে নাই... স্বার্থ রাখতে নাই... একমাত্র আশা বিহীন মানুষই জীবনে সবচেয়ে সুখী... বাঁচতে চাইলে একাই বাঁচতে শিখো... কারণ, একা তুমি যতই সামনে যাওনা কেন চাইলেই একা পিছনে চলে আসতে পারবে... কিন্তু যদি কারোর উপর ডিপেন্ড হয়ে সামনে আগাও এবং সে যদি মাঝ পথে তোমাকে রেখে চলে যায়, তাহলে তুমি পিছনে আসতে পারবে না... হারিয়ে যাবে
---------------------------------------------------------------03 -------------------------------------------------------------
যেখানে আপনার গ্রহণযোগ্যতা নাই সেখানে আপনার না যাওয়াই ভালো... অযথা নিজেকে শো-অফ করতে যাবেন না, আপনি জানেন না এতে অনেকে আপনাকে ব্যক্তিত্বহীন ভাবে... শুধুশুধু কি দরকার নিজেকে প্রকাশ করার, দরকার হলে তারাই আপনাকে খুঁজে নিবে !!
.
আমি প্রায়ই এমন কিছু মানুষ দেখি যারা এমন এমন জায়গায় এসে হাজির হয়, যেখানে তাদের বিন্দুমাত্র দরকার নাই... অথচ তারা সেখানে গিয়ে না পারে কিছু বলতে, না পারে কিছু করতে... যার ফলে অন্যেরা এদের দেখে বিরক্তবোধ করে... অথচ তারা এসব বুঝে না !!
.
যেখানে ছোটরা মিলে আড্ডা দেয় সেখানে আপনি বড় হয়ে গেলে যেমন ভালো মানায় না তেমনি যেখানে বড়রা মিলে কথা বলে সেখানে আপনি ছোট হয়ে গেলেও তেমন ভালো দেখায় না... যেখানে দুইজন বেস্ট ফ্রেন্ড মিলে গল্প করছে কিংবা প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে গিয়েও কাবাবের হাড্ডি হওয়া ঠিক না... কখনো দুইয়ের মধ্যে তৃতীয় হতে যাবেন না, দরকার হলে সাথে আরেকজন নিয়ে যান !!
.
জুনিয়র কোন ভাই সিগারেট খাচ্ছে সেটা দেখেও যেমন না দেখার ভান করে এড়িয়ে যেতে হয় ঠিক তেমনি সিনিয়র কেউ কোন ভুল ত্রুটি বললে সেটা নিজ থেকেই সংশোধন করে বুঝে নিতে হয়... কিন্তু আপনি যদি জুনিয়রের কাছে গিয়ে ধমক দেন এতে কিন্তু আপনি নিজেই লজ্জায় পড়ে যাবেন আবার বড়দের সাথে ভুল নিয়ে তর্ক করেন তাতেও আপনি নিজেকে মূর্খতার পরিচয় দিবেন !!
.
মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় তার কথায়, চলাফেরায় ও উপস্থিতিতে... আপনি যেখানে যে পরিস্থিতিতে উপস্থিত হবেন সেই পরিস্থিতি উপরেই ভিত্তি করে মানুষ আপনাকে জাজ করতে শিখবে... সিগারেট, জুয়া ও মদের আড্ডায় আপনি ভালো মানুষ হয়ে গেলেও মানুষ আপনাকে ভালো ব্যক্তি বলে গণ্য করবে না... ব্যক্তিত্ব বড় দামি জিনিস, এটাকে রক্ষা করতে শিখুন !!
.
অন্যকে অনুসরণ নয়, নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করুণ যাতে অন্যেরা আপনাকে অনুসরণ করে... এতে আপনার আলাদা একটা ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পাবে... শাহরুখ, সালমান, ক্যাটরিনা, দিপীকা হয়ে লাভ নাই, কারণ এতে আপনাকে কেউ এসব নামে ডাকবে না... তারচেয়ে নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যাতে মানুষ আপনার নাম ধরে নিজেকে গড়ে তুলতে চায় !!"
---------------------------------------------------------------04 -------------------------------------------------------------
ছেলেদের বাম কাঁধ মেয়েদের জন্য বড় এক পাওয়া... প্রচন্ড ডিপ্রেশনের সময় যে মেয়ে তার প্রিয় মানুষের কাঁধে মাথা রেখে নিঃশ্বাস ছাড়তে পারে সেই মেয়েটা বড় ভাগ্যবতী... সে বুঝে এই কাঁধটা তার কতটা দরকার !!
.
মেয়েদের কোল ছেলেদের কাছে পরম সুখের... প্রচন্ড টেনশনের সময় যে ছেলে তার প্রিয় মানুষের কোলে মাথা রেখে দু'চোখ জুড়িয়ে নিতে পারে, সেই ছেলেটা বড় ভাগ্যবান... সে বুঝে এই কোলটা তার কতটা আপন !!
.
যে মেয়ে প্রচন্ড ডিপ্রেশনের সময় কোন ছেলের কাঁধ পায় না, সে বড় দু:খী... যে ছেলে প্রচন্ড টেনশনের সময় কোন মেয়ের কোল পায় না, সেও বড় দূর্ভাগা... জগতে এরকম দুঃখী ও দূর্ভাগার সংখ্যা মোটেও কম নেই... শুধুমাত্র সঠিক সময়ে তাদের দেখা হয় না !!
.
আফসোস, যখন কেউ মনের মত প্রিয় মানুষ চায় তখন সে পায় না... কিন্তু যখন সে চায় না তখন নিজে এসেই ধরা দেয়... কিছু মানুষ আকাশের চাঁদ খুঁজতে গিয়ে পুরো আকাশটাই হারিয়ে ফেলে... সবার আকাশে পূর্ণিমা রাত আসে কিন্তু সেই রাতে কেউ জোৎস্না হয়ে সবার ঘরে আসেনা... সময় বড় রোমাঞ্চকর... সময় বড্ড নিষ্ঠুর অভিমানী !!
.
তুমি সবকিছু নিজের মন মতো পাবে না... সময় তোমাকে যেটা দিয়ে সেটাই তোমার জন্য প্রাপ্য... অন্যথায় তুমি যা পাবে তা ধরে রাখতে পারবে না, না হয় ধরে রাখতে দিবে না... তাই অপেক্ষা করো কেউ একজন আসবেই... তাকে ধরে রাখতে হবে না, সে নিজেই তোমাকে ধরে রাখবে !!"
---------------------------------------------------------------05 -------------------------------------------------------------
"কাউকে যদি ভালোবাসতেই হয় তাহলে পুরোটা দিয়েই ভালোবাসুন... কোন কমতি রাখতে যাবেন না... আপনি যেভাবে পারেন, যতটুকু পারেন নিজের সাধ্যমতো সবটুকু দিয়েই ভালোবেসে যান... কোন লুকোচুরি রাখতে যাবেন না, কোন কিছু আড়াল কিংবা গোপন রাখতে যাবেন না... ভালোবাসলে পুরোটাই, না হলে একটুও না... স্রেফ থাকতে চেষ্টা করুণ !!
.
আপনি যাকে ভালোবাসেন কিন্তু যদিও সে আপনাকে ভালোবাসেনা তবুও তাকে ভালোবেসে যান... অন্তত দিন শেষে নিজেকে বলতে পারবেন আপনার ভালোবাসায় ভেজাল ছিলো না... আপনি সৎ ছিলেন... ভালোবাসতে সবাই পারে কিন্তু সৎ থেকে ভালোবাসতে সবাই পারেনা... সেটা বড় কঠিন কাজ !!
.
সৎ থেকে ভালোবেসেও যদি আপনি ঠকে যান, তবুও আফসোস করতে যাবেন না... কারণ আপনি ঠকে গেলেও আপনার ভালোবাসে ঠকে যায়নি... ঠকেছে তো সে যে মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় করে আসছিলো... খোঁজ নিয়ে দেখেন আফসোস তো সেই করছে এখন যে সঠিক সময়ে আপনাকে বুঝতে পারেনি... আপনাকে ঠকিয়ে সে আরো বড়সড় ভাবে ঠকে আছে !!
.
ছেলেটা বোকা কিংবা মেয়েটা অবুঝ, হয়তো আপনার ভালোবাসার মিথ্যে অভিনয় সে ধরতে পারিনি... তাই আপনি দিনের পর দিন তাকে ভালোবাসার মিথ্যে অভিনয় করে ঠকালেন, তাকে ব্যবহার করলেন এবং সর্বশেষ ছেড়ে চলে আসলেন... ভাববেন না যে আপনি জিতেছেন... জিতেছে তো সে, কারণ সে আপনাকে নতুন করে চিনতে পারলো !!
.
কাউকে ঠকিয়ে কখনো নিজেকে বড় করা যায় না... ঠাকতে ঠকাতে আপনি হয়তো একটু বড় হবেন কিন্তু এমন একদিন আসবে সেদিন নিজে এমন ভাবে ঠকে যাবেন তখন আর নিজেকে দাড় করানোর জন্য কোন পথ খুঁজে পাবেন না... পৃথিবীতে মানুষ সবাইকে ঠকিয়ে হয়তো পাড় পেয়ে যেতে পারে কিন্তু বিবেকের কাছে এসে সে নিজেই বন্দী হয়ে যায়... বিবেককে ঠকানো যায় না !!
.
বিবেক এমন এক আদালত যে আদালতে মিথ্যে বলে সান্তনা দেয়া যায় না... নিজেকে আনিয়ে বানিয়ে বলে বুঝানো যায় না... বিবেকের আদালতে কখনো মিথ্যের জয় হয়নি... বিবেককে মিথ্যে বলে বুঝানো যায় না... যে একবার বিবেকের কাঠগড়ায় এসে আসামি হয়ে যায় সে সারাজীবনের জন্যই আসামি হয়ে যায়... পৃথিবীর সবচেয়ে ভারি ও স্থায়ী বোঝা হলো বিবেকের কাঠগড়ায় আসামি হওয়া, যে আসামির কখনো মুক্তি হয়না... যে বোঝা কখনো সরানো যায় না !!
---------------------------------------------------------------06 -------------------------------------------------------------
চোখের দিকে তাকিয়েও যদি কাছের মানুষটা চোখের ভাষাটা না বুঝে, তাহলে তোমার মনের অবস্থা বুঝার ক্ষমতা ঐ মানুষটার নাই... চোখ তবুও দেখা যায়, মন তো দেখারও সুযোগ নাই... চোখের ভাষা বুঝার ক্ষমতা যার যতো বেশি, মনের কথা বুঝার ক্ষমতাও তার ততো বেশি !!
.
মানুষটা কাঁদছে তখন তুমি কাছে টেনে চোখের পানি আলতো করে মুছে না দিয়ে যদি প্রশ্ন করো কাঁদছো কেন ?? তখন মানুষটার কষ্টটা আরো বেশিই হয়... কানের কাছে মুখে এনে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে বলা মানে এই নয় যে তার সত্যি কষ্ট হচ্ছে... বরং তুমি তাকে বুঝতে চেষ্টা করো, সে তোমাকে কিছু বলতে চায় !!
.
হাত গুটিয়ে থাকা মানে এই নয় যে সে তোমার হাতটা ধরতে চায় না, বরং তুমি তার হাতটা শক্ত করে ধরে বলো মন খারাপ কিসের আমি তো আছি... রাগ করে আমার সাথে কথা বলবা না মানে এই নয় যে তুমি চুপ করে থাকো, বরং তুমি আরো বেশি করে কথা বলে তার রাগটা ভাঙ্গাও !!
.
সব সময় সব না বলা মানে না নয়... বরং কিছু সময় না বলার পিছনেও হ্যাঁ লুকিয়ে থাকে... তোমার সেই হ্যাঁ বুঝতে পারাটাই আসল কাজ... রাগ করে খাবে না বলার পর তুমি একা খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে তাহলে তুমি তাকে বুঝলে কোথায় ?? সব রাগ মানে রাগ না, কিছু রাগ অভিমানের মতো !!
.
মেয়েরা অনেক সময় ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও না বলে তোমাকে বুঝার জন্য... ছেলেরা অনেক সময় ইচ্ছা না থাকার স্বত্বেও হ্যাঁ বলে তোমাকে খুশি রাখার জন্য... এটার মানে এই নয় যে সে মিথ্যা বলছে, বরং তুমি তাকে কতটা বুঝতে পারছো সেটাই সে বুঝতে চায় !!
.
চোখের ভাষাটা যদি মুখ দিয়ে বলা লাগে তার চেয়ে কষ্টকর হতাশার অনুভূতি আর কোন কিছুতে নাই... মুখের কথা থেকে চোখের ভাষাটা বুঝা বেশি জরুরী... মুখ থেকে মিথ্যাও বলা যায় কিন্তু চোখের ভাষা কখনো মিথ্যা হয়না... জগতে চোখের ভাষা বুঝতে পারার মতো একটা মানুষ খুঁজে পাওয়া বড্ড কঠিন
---------------------------------------------------------------07 -------------------------------------------------------------
যে তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে যাচ্ছে তার সাথে যতটা পারো ভালো ব্যবহার করে যাও... অন্তত তাকে তোমার বুঝানো উচিত তোমাকে সে যতটা খারাপ ভাবে, তুমি ঠিক ততটা খারাপ নও... এতে কি লাভ ?? লাভ একটাই অন্তত তুমি তার কাছে ভালো হয়ে থাকলে... তোমার এই ভালো থাকাটা তাকে আরো তীব্র যন্ত্রণা দিবে !!
.
কেউ তোমার বিশাল বড় ক্ষতি করলো যেটা তুমি কখনো কল্পনায়ও ভাবো নাই... বিনিময়ে তুমি তার কোন ক্ষতি কইরো না, বরং তাকে এমন একটা উপকার করে যাও যেটা সে কখনো ভাবে নাই... উপকার করেই তার জীবন থেকে পালিয়ে যাও... ট্রাস্ট মি, সে তোমাকে পাগলের মতো করে খুঁজে যাবে... প্রতিরাতে অস্থিরতায় কাটবে শুধুমাত্র একটা সরি বলার জন্য !!
.
যে তোমার প্রতি মুহূর্তে সমালোচনা করে বেড়ায় তুমি তার সমালোচনা না করে তার খোঁজ খবর রাখো... মনে রাখো, সমালোচক তোমার শোভাকাঙ্খী... কারণ, সমালোচক শুধু তোমার দোষ গেয়েই বেড়ায় না তোমার ভুল ত্রুটিও ধরিয়ে দেয়... এরা তোমাকে নিয়ে ভাবে... আর কেউ তোমাকে নিয়ে ভাবছে এটা অবশ্যই তোমার জন্য বড় পাওয়া !!
.
যে তোমাকে মেরে রক্তাক্ত করে ভাসিয়ে দিয়ে গেলো, তুমি তাকে রক্তাক্ত করতে যেওনা... দরকার হলে কখনো নিজের রক্ত দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়ে দিয়ে চলে আসো... ট্রাস্ট মি, পরবর্তীতে সে তার বাবা মায়ের পড়ে তোমাকেই বেশি ভালোবাসবে, মনে রাখবে... শুধু ভালোবাসবেই না, সারাজীবন তোমার কাছে ছোট হয়ে থাকবে ও মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তোমাকে মনে রাখবে !!
.
যাকে ভালোবেসে প্রতি মুহূর্তই খোঁজ খবর রাখলে, কেয়ার করলে, অথচ তার কোন ভালোবাসাই পেলে না বরং অবহেলা পেয়েছো... তো কি হইছে ?? তোমার অজান্তেই তুমি একদিন বদলে যাবে... ট্রাস্ট মি, তুমি তার কাছ থেকে অবহেলা পেয়ে যতটা না কষ্ট পাইছো সে ঠিক তার চেয়ে বেশি কষ্ট পাবে তোমার বদলে যাওয়া দেখলে... তোমার মুভ অন করা দেখলে !!
.
যে তোমাকে বলে তুমি কিছু করতে পারবেনা, তোমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা, তার সাথে অযথা তর্ক করে কোন লাভ নাই... বরং তুমি তোমার মতো করেই চলতে থাকো... তোমার জবাব কথা দিয়ে নয়, তোমার কাজই তোমার জবাব দিয়ে দিবে... প্রতিশোধ সব সময় মুখ দিয়ে নিতে হয়না, মাঝে মাঝে কাজের মাধ্যমেও দারুণ প্রতিশোধ নেওয়া যায় !!
.
মনে রেখো, সব সময় যে যেমন তার সাথে তেমনই করতে হবে এমনতো কোথাও লিখা নাই... মাঝে মাঝে নিজের জাত ও তার জাতের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হয়... খারাপের সাথে খারাপটাই করলে কাটাকাটি হয়ে গেলো এতে কোন জয় পাওয়া যায় না... বরং খারাপের সাথে ভালো কাজটাই করেও এক ধরনের জয় পাওয়া যায় আর অপরজনকে শুধুই তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভোগানো যায় !!
---------------------------------------------------------------08-------------------------------------------------------------
কাউকে প্রথমবার অবহেলা করে দেখো সে তোমার উপর আরো দিগুণ আকৃষ্ট হয়ে তোমার কাছে চলে আসবে... পরে আবার তাকে দ্বিতীয়বারের মতো অবহেলা করে দেখো ঠিক আবারো তোমার কাছে চলে আসবে... ঠিক তৃতীয়বারের মতো অবহেলা করে দেখো তখন সে নিজেকে একটু সময় দিবে যে তোমাকে ছাড়া সে থাকতে পারে কিনা... কিছুদিন হয়তো কষ্ট করে থাকবে পরে না থাকতে পেরে আবারো তোমার কাছে চলে আসবে... এই তৃতীয়বারের মতো তোমার কাছে আসাটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ... কারণ সে তোমাকে ছাড়া থাকতে না পেরেই চলে আসছে... কিন্তু চতুর্থবারের মতোও যদি তাকে ফিরিয়ে দাও তখন সে একবুক হতাশা আর দুঃখ নিয়ে এমন ভাবে হারিয়ে যাবে আর তাকে খুঁজে পাবে না... আর সে তোমার কাছে ছুটে চলে আসবে না... কারণ তোমার বারবার অবহেলা তখন তার সহ্য করার মতো শক্তি থাকে না !!
.
পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন অস্পর্শনীয় শাস্তি হলো অবহেলা করা... ইগনোর করা... মানুষ সব রকমের শাস্তি সহ্য করতে পারলেও অবেহেলা কেউই সহ্য করতে পারে না... সবাই সবকিছু মেনে নিতে পারে কিন্তু অবহেলা কেউই মনে নিতে পারে না... অবহেলা করার চেয়ে বড় শাস্তি আর কাউকে কোন কিছুতে দেওয়া যায় না !!
.
মনে রাখবে, কোনকিছু একবার দুইবার তিনবার পর্যন্ত হারিয়ে গেলে তা হয়তো খুঁজে পাওয়া যায় কিংবা কেউ হয়তো তিনবারের মতো তোমার কাছে ছুটে চলে আসবে... কিন্তু কোনকিছু চতুর্থবারের মতো হারিয়ে গেলে তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না... চতুর্থবারের মতো কাউকে তাড়িয়ে দিলে সে হয়তো আর ফিরে আসে না... বড্ড ভুল হয়ে গেলো যে তোমার !!"