আত্মঅহংকারী, জেদি এবং ছোট ছোট কথায় সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া মানুষজন আমার কোনোদিনই পোষায় না, আমার প্রচন্ড অসৎ বলে মনে হয় এই মানুষগুলোকে...
যে কোনোসময় নিজেকে বাঁচানোর জন্য, সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য চোখেমুখে মিথ্যে কথা বলতে জানে এই মানুষগুলো....
এরকম মানুষরা খুব সহজেই যে কোনো মানুষকে ছেড়ে চলে যেতে পারে, কোনো মানুষের প্রতি মায়া থাকে না এই মানুষগুলোর ভেতর....
যত সহজে মানুষের সাথে মিশতে পারে ততই সহজে মানুষকে ভুল বুঝে দূরে সরিয়ে দিতেও পারে....
নিজের মধ্যে ডুবে থাকা ব্যক্তিরা অন্য কোনো মানুষের ভাবনায় বেশিদিন ডুবে থাকতে পারে না....
যে কোনো সম্পর্কেই ওঠানামা থাকে, কিন্তু সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হলে দুটো মানুষকেই সমান ভাবে এগিয়ে আসতে হয়....
"আমি কখনও এগিয়ে যাবো না, ও ভুল করেছে, ও ক্ষমা চাইবে, আমার কোনো দায়বদ্ধতা নেই" এরকম কথা বলা মানুষরা ভয়ঙ্কর হয়....
দিনের শেষে মাথায় হাত রেখে কাছে টানতে পারে না এরা, কেউ কাঁদলেও এদের মন গলে না, কি ভয়ানক আত্মঅহংকার ডুবে থাকতে জানে এরা....
নিজের থেকেই ভাই বোন দাদা দিদি কিংবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্ক পাতিয়ে দুদিনের মধ্যেই সেই সম্পর্ককে অস্বীকার করার এক ভয়ানক ক্ষমতা আছে এই মানুষগুলোর ভেতর....
এই মানুষরাই রিকশাচালক ভ্যানচালকদের "তুই তোকারি" করে, নিজের থেকে কম ডিগ্রিওয়ালা, কম বেতন পাওয়া লোকদের মানুষ বলে মনে করে না....
এরকম মানুষরা ভালোবেসে কোনোদিন কাউকে ফুল উপহার দিতে জানে না, কোনোদিন বৃষ্টির জল ছুঁয়ে পুরোনো কোনো স্মৃতি ভেসে ওঠে না এরকম কঠিন মানুষদের চোখে.....
কারোর শরীর স্পর্শ করার পরেও এই মানুষগুলো ভুলে যেতে জানে চেনা মানুষের ডাকনাম....
স্রেফ নিজের ভালো থাকা, ভালো মন্দ খাওয়া, নিজের জন্য দামি দামি পোশাক কেনা, ঘুরতে যাওয়া, টাকা রোজগার করার মধ্যেই সারাজীবন এই মানুষগুলো ডুবে থাকে....
আমার ভালো লাগে সহজ সরল মানুষদের, যে মানুষরা নত হতে জানে, ভেঙে পড়তে জানে, কাউকে আঁকড়ে ধরতে জানে, মেঘলা দিনে রোদ উঠলে চিৎকার করে হাসতে জানে, বৃষ্টির জল গায়ে লাগলে পুরোনো মানুষের কথা ভাবতে জানে....
সহজ মানুষরা জলের মতো নরম হয়, কোনো চালাকি নেই, কোনো দম্ভ নেই, কোনো অহংকার নেই, কাউকে অপমান করার মতো কোনো ক্ষমতাও নেই সহজ মানুষগুলোর ভেতর....
---------------------------------------------------------------02 -------------------------------------------------------------
কিছু মানুষ বড্ড বোকা হয়, সবার চালাকি বুঝেও না বোঝার ভান করে নিজের গোটাজীবনটা পার করে দেয়...
নিজের জীবন নিয়ে কখনো বেশি কিছু ভাবে না এই মানুষগুলো, বারবার ঠকে সবার কাছে তবুও সবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় হাসিমুখে...
খুব সামান্য ইনকামেই এই মানুষগুলোর দিন চলে যায়, এই সাদামাটা মানুষগুলোর কোনো বিলাসিতা নেই, কোনও চাহিদা নেই, কোনো প্রলোভন নেই, কারোর প্রতি কোনো হিংসে নেই, কোনো লোক দেখানো আড়ম্বর নেই...
কেউ বাজে রসিকতা করলেও এই বোকাসোকা মানুষগুলো চুপচাপ সরে আসে, কারোর সাথে কোনো তর্ক বিতর্কে জড়ায় না। এই মানুষগুলোর ভেতর প্রতিবাদ নেই, চিৎকার নেই, আঘাত পেলে মুখ বুজে সরে আসে, কাউকে নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য কোথাও করে না...
কাউকে ভালোবাসলেও নিজের ভেতর চেপে রাখে, নিজের মনের কথাগুলো কখনো কাউকে বুঝতে দেয় না....
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারাটাদিন কাজ করলেও একটুও ক্লান্তি নেই মানুষগুলোর চোখেমুখে, বরং একটা স্নিগ্ধ হাসি লেগে থাকে সবসময় ঠোঁটের কোনায়...
খুব অল্প টাকা নিজের জন্য রেখে বাকিটা নিজের পরিবারের হাতে তুলে দিতে জানে এই মানুষগুলো, যদিও এই সহজ সরল মানুষগুলো নিজের পরিবারের কাছেই বোঝা হয়ে থেকে যায় গোটাজীবন....
সামান্য ভুল হলেই মানুষগুলোকে শুনতে হয় "এইটুকু কাজও মন দিয়ে করতে পারিস না? তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না".....
কিছু মানুষ নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেওয়ার পরও অযোগ্য হয়ে থেকে যায় প্রিয়জনদের কাছে....
এই ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়া আড়ম্বরহীন মানুষগুলো মুখচোরা হয় খুব, বিয়েবাড়িতে ছবি তোলার সময় একদম পেছনের সারিতে থাকে, রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে একদম কোনায় চেপে বসে, চামচের বদলে হাত ব্যবহার করে খাওয়ার সময়....
মানুষগুলো নিজের ছবি তুলতে ভালোবাসে না, কিন্তু অন্য কেউ ছবি তুলে দিতে বললে খুব যত্নে ছবি তুলে দেয়...
এই মানুষগুলো সারাজীবন বুকের ভেতর পাথর জমিয়ে সবার সামনে হাসতে পারে, সবার মন ভালো করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কাউকে গোমড়ামুখো দেখতে পছন্দ করে না.....
এই মানুষগুলো নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখে সবার আড়ালে, সবার দোষ নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নিয়ে হাসতে হাসতে সরে যেতে পারে অন্ধকারে....
নিজের মানুষদের কাছেই আজীবন ঠকতে ঠকতে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায় মানুষগুলো, তবুও তাঁরা কোনোদিন ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠে না, কারোর বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ জানায় না....
এত চালাক মানুষের ভিড়ে এরকম বোকাসোকা মানুষ কিছু থাকা ভালো, জীবনটা সহজ হয়....
এই মানুষগুলোই আমাদেকে ভালোবাসার, কর্তব্যবোধের, দায়িত্ববোধের আসল মানে শিখিয়ে দিয়ে যায়....
---------------------------------------------------------------03 -------------------------------------------------------------
গোটা_দুনিয়ার_কাছে_খারাপ_হয়ে_থাকা_ভালো
আমি দেখেছি গোটা দুনিয়ার কাছে খুব খারাপ হয়ে থাকার মধ্যে একটা আলাদাই আত্মতৃপ্তি আছে। আর কারোর প্রতি কোনো দায় থাকে না, কারোর দায়িত্ব নিতে হয় না....
রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ লুকিয়ে সবার সামনে হাসতে হয় না, "আমার ভাল্লাগছে না, আমায় একলা ছেড়ে দাও" খুব স্পষ্ট ভাবে বলা যায় মুখের উপর। মনের মিল না হলে ছেড়ে বেরিয়ে আসা যায়, সব মানুষের একটা ব্যক্তিগত আয়না থাকে যেটা আর কেউই দেখতে পায় না....
সেই ব্যক্তিগত আয়নায় নিজেকে স্বচ্ছ সুন্দর দেখতে পেলেই যথেষ্ট, অন্য কারোর কাছে ভালো হয়ে থাকার চেয়ে নিজের কাছে পরিষ্কার হয়ে থাকাটা বেশি দরকার....
আমি আমার থেকে বেশি গুরুত্ব আর কাউকেই দিই না সেই কারণে, আমি যেমন তেমনই তো বেশ ভালো আছি, অন্য কে কি ভাবলো ভাবতে গিয়েই অনেকটা সময় জীবন থেকে নষ্ট করে ফেলেছি....
তাই এখন আমার কোনো কাজের জন্য অন্য কেউ ভুল বুঝলেও তেমন খারাপ লাগে না, আগে কষ্ট পেতাম। এখন ভাবি সবাইকে একসঙ্গে সুখে রাখার ক্ষমতা ঈশ্বর আমায় দেয়নি, আমাকে কেউ খাওয়ায় না, কেউ পরায় না, তবে আমি কেন অন্যকে ভালো রাখার দায়ে নিজেকে খারাপ রাখবো!....
বরং আমি অন্যের কাছে খারাপ হয়েও নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করি, তৃপ্তি পাই তাতে....
---------------------------------------------------------------04 -------------------------------------------------------------
কেউ তোমাকে রোজ সকালে ফোন দিয়ে কিংবা মেসেজ দিয়ে ঘুম ভাঙ্গায়... আর সেটা তোমার কাছে খুবই বিরক্তিকর মনে হয়... আবার তুমি ঠিকমতো খেয়েছো কিনা ?? কি করছো ?? কোথায় যাচ্ছো ?? এসবও তোমাকে ফোন কিংবা মেসেজ দিয়ে খবর রাখতে চাইছে অথচ তুমি তাতেও বিরক্ত !!
.
ঠিক এভাবেই নিয়ম করে কেউ যদি তোমার কেয়ার নিতে থাকে আর তুমি যদি তাকে বিরক্তিকর ভেবে প্রতিনিয়ত অবহেলা করতে থাকো, তাহলে খুব বেশি দেরী নাই তোমার এই বিরক্তি অনুভবটা একদিন আফসোস এ পরিণত হয়ে যাবে... অথচ সেদিন তুমি তাকে আর পাশে পাবে না !!
.
আমরা এমনই যে, যখন কেউ পাশে থাকে তখন তাকে বুঝতে চেষ্টা করি না... তাকে জানতেও চাই না... উল্টো তাকে অপমান বা অবহেলা করে নিজেকে বড় ভাবতে শুরু করে দেই... আমাদের ভুলটা হয় তখনই যা আমরা তখন না বুঝতে পারলেও একটা সময় ঠিকই বুঝতে পারি, কিন্তু তখন কিছুই করার থাকে না !!
.
হাতের মুঠোয় হাতটা থাকা অবস্থায় আমার ঐ হাতের মর্মটা বুঝিনা... ভালোবেসে কেউ যখন অঝোরে কাঁদতে থাকে তখন চোখের নোনতা জলের তীব্র বেদনা টের পাই না... একসাথে চলতে থাকা অবস্থায় পাশের সঙ্গীর মূল্যটা বুঝিনা... রিক্সায় পাশের সিটে বসে থাকা মানুষটাকে অনুভব করি না... কিন্তু হঠাৎ যখন বাড়িয়ে রাখা হাতটা হারিয়ে যায়, যখন চোখের নোনতা জলও শুকিয়ে যায়, যখন পাশের সঙ্গীটাও হারিয়ে যায়, যখন রিক্সার পাশের সিটটাও খালি থেকে যায়, ঠিক তখনই আমরা হারে হারে টের পাই বিরাট ভুল হয়ে গেছে... কিন্তু তখন সেই ভুলের সমাধান থাকে না !!
.
পরীক্ষায় ফেল করলে আফসোস করে বলি, আরেকটু যদি ভালো করে পড়তাম... কোন খেলায় হেরে গেলে আফসোস করে বলি, আরেকটু যদি প্র্যাক্টিস করতাম... কোনকিছু মিস হয়ে গেলে আফসোস করে বলি, আরেকটু যদি আগে আসতাম... ঠিক তেমনি ভাবেই যখন জীবন থেকে কেউ হারিয়ে যায়, তখনও আফসোস করে বলি এভাবে অবহেলা না করলেও পারতাম !!
.
জীবনে আফসোস শব্দটা অনেক খারাপ... ভীষণ কষ্টের... সবকিছুর কোন না কোন সমাধান থাকলেও আফসোসের কোন সমাধান থাকে না... তাই এই মুহূর্ত থেকে আমাদের এমন কিছু করা উচিত কিংবা উচিত না যাতে কোন এক সময় এটা নিয়ে আফসোস করে বলতে না হয় আহারে... আফসোসের আরেকটি কষ্টের বিষয় হচ্ছে যখন আফসোস করা হয় তখন আসলে কিছুই করার থাকে না !!
.
তাই এখনো সময় আছে যে মানুষটা তোমার জীবনে আছে তাকে বুঝতে শিখো... যে তোমার নিয়মিত যাবতীয় খোঁজ রাখে তাকে মূল্য দাও... নিজের দিকে অাঙুলটা ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে দেখো, ক’টা মানুষই বা তোমার খোঁজ নিচ্ছে ?? ব্যস্ত শহরে খোঁজ নেয়ার মতো মানুষের সংখ্যা খুবই কম... তবুও যদি কেউ তোমার খোঁজ নেয়, তাহলে তুমি তো ভাগ্যবান কিংবা ভাগ্যবতী !!"
---------------------------------------------------------------05 -------------------------------------------------------------
আমরা প্রত্যেকই জীবনসঙ্গী হিসেবে পারফেক্ট মানুষ আশা করি... একদম মনের মতো করে হতে হবে... মানুষটার কথাবার্তা, আচার আচরণ, ব্যবহার, চলাফেরা, ড্রেস-আপ সবকিছুই যেন পছন্দ মতো হয়... যদি তুমি এভাবেই আশা করে জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে খুঁজতে থাকো, তাহলে আমি বলবো তোমার দাঁড়ি চুল পেকে যাবে তবুও তুমি এমন মানুষ পৃথিবী তন্নতন্ন করে খুঁজলেও পাবে না !!
.
ছেলেটা দেখতে সুন্দর, কথাবার্তা ও ব্যবহারও ভালো শুধু তার ড্রেস স্টাইল তোমার পছন্দ হয়নি... তুমি পছন্দ করো টি-শার্ট, অথচ সে পড়ে বেড়ায় ফুলহাতা ঢিলেঢালা শার্ট... তাই বলে কি ছেলেটা ভালোবাসার অযোগ্য হয়ে গেল ?? কিংবা মেয়েটার সবকিছুই ঠিক আছে, শুধুমাত্র তোমার পছন্দমত হিজাব আর চশমা পড়ে না কিংবা তার ড্রেসআপে তুমি মুগ্ধ নও, তাই বলে কি তাকে ভালোবাসা যায় না ?? এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে !!
.
আমাদের ভুলটা হয় কোথায় জানো ?? আমরা পারফেক্ট মানুষ খুঁজতে গিয়ে নিজের পছন্দটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেই... একটুও ছাড় দিতে চাই না... একটুও সেক্রিফাইস করতে চাই না... ঠিক এভাবেই পারফেক্ট মানুষ খুঁজতে খুঁজতে একসময় নিজেই আন-পারফেক্ট হয়ে যাই... তখন আর কিছু করার থাকে না !!
.
বেশিরভাগ রিলেশন হয়ে যাওয়ার পর যে সমস্যাটা হয় তা হলো, মিস-আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর জন্য... অর্থাৎ উভয়েই একে অপরের মাঝে এমন কিছু আশা করে থাকে যা কেউই কাউকে সঠিক সময়ে দিতে পারে না... এই কারণে অনেকে রিলেশনে হ্যাপি হতে পারে না... এর জন্যই অনেকে মনে মনে ভাবে সে হয়তো তার জন্য পারফেক্ট না... অনেকে আবার রিলেশন ব্রেকাপও করে দেয় !!
.
মনে রাখতে হবে কোন মানুষই পারফেক্ট হয়ে জন্ম নেয় না... একটা মানুষকে পারফেক্ট হতে হলে কারোর সহযোগিতা লাগে... দিক নির্দেশনা দিতে হয়... পৃথিবীর সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ কিংবা সুন্দরী নারীরও কিন্তু খুঁত আছে... সবাই তার নিজ নিজ জায়গা থেকেই পারফেক্ট... প্রত্যেক মানুষকেই কেউ না কেউ পছন্দ করে... সবার মাঝেই দোষগুণ বিদ্যমান !!
.
আফসোস হয় তাদের প্রতি যারা পারফেক্ট মানুষের আশায় আশায় একের পর এক রিলেশন করতেই থাকে কিন্তু বিয়ে করতে পারে না... তাই পারফেক্ট মানুষ না খুঁজে যে মানুষটা এখন তোমার সাথে আছে তাকে পারফেক্ট বানাও... তোমার পছন্দ-অপছন্দ গুলো তাকে শেয়ার করো... সে যদি সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে থাকে তাহলে সে অবশ্যই তোমার পছন্দ-অপছন্দ মেনে নিয়ে একদিন সে পারফেক্ট হয়ে উঠবে... কথা দিলাম !!" 🙂
---------------------------------------------------------------06 -------------------------------------------------------------
কাউকে তুমি মনে প্রাণে খুব করে চাইছো অথচ সে তোমাকে কোন গুরুত্বই দেয় না... আবার যাকে তুমি প্রতিনিয়ত কেয়ার করে যাচ্ছো কিন্তু সে তোমার বিন্দুমাত্র খোঁজ রাখে না... যার সামান্য একটু কষ্ট দেখলে তোমার সহ্য হয় না কিংবা তুমি পাগলের মতো হয়ে যাও, অথচ তোমার কষ্ট দেখলে তার যেন কোন অনুভূতি নাই বরং সে নিজের মতো করেই চলছে... ঠিক তখনই মনে হবে মানুষটা বুঝি কঠিন পাথর... হৃদয়হীন একটা মানুষ !!
.
অথচ তুমি হয়তো জানো না যাকে দেখলে তোমার পাথর মনে হয় কিংবা হৃদয়হীন মনে হয়, সেও কোন একদিন কাউকে খুব করে চেয়েছিলো কিন্তু পায়নি... সেও কোন একদিন কাউকে প্রতিনিয়ত খোঁজ রেখে গেছে কিন্তু তার খোঁজ রাখেনি... সেও কোন একদিন কারোর কষ্ট দেখে পাগল হয়েছিলো কিন্তু তার কষ্টের সময় কারোর মনে নাড়া দেয়নি... তাই আজ সে পাথর হয়ে গেছে... হৃদয়হীন হয়ে গেছে !!
.
কেউই জন্ম থেকেই কেউ পাথর হয় না... হৃদয়হীন হয় না... প্রতিটা মানুষের পাথর কিংবা হৃদয়হীন হওয়ার পিছনে একটা গল্প রয়েছে... একটা অতীত রয়েছে... অতীতের সেই গল্প এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়... এখনো সে অতীতের কথা ভেবে রাত কাটিয়ে দিতে পারে কিন্তু নতুন কারোর জন্য তার মনে বিন্দুমাত্র অনুভূতি হয়না... সে চাইলেও আগের মতো হতে পারে না... হতে পারাটা যেন তার কাছে অসম্ভব !!
.
অতীতে জীবন থেকে কেউ চলে গেলে শুধু মানুষটাই চলে যায়, আর রেখে যায় ভয়াবহ স্মৃতি... স্মৃতি বড্ড খারাপ, এরা চলে যায় না, মুছেও যায় না, শুধু ধীরে ধীরে হৃদয়টা পাথর বানিয়ে দেয়... সেই পাথর হৃদয়ে নতুন করে আর কারোর স্মৃতি আঁকানো যায় না... জীবনে যদি স্মৃতি বলতে কিছু না থাকতো তাহলে বোধয় কোন মানুষের মনে দুঃখ বলে কিছু থাকতো না... কেউ এখন কাঁদলেও অতীত ভেবে কাঁদে আবার পরে কাঁদলেও এখনকার কথা ভেবে কাঁদবে !!
.
যাকে দেখলে তোমার পাথর মনে হয়, তাকে নরম করতে যেও না... যে মানুষটা হৃদয়হীন, তার হৃদয়ে অনুভূতি ঢালতে যেও না... যে মানুষটা নিষ্ঠুর, তাকে দয়ালু করতে যেও না... কোন লাভ নাই, যে যেমন তাকে তার মতই থাকতে দাও... পৃথিবীতে মানুষ জোড় করে সবকিছুই পেতে পারে কিন্তু কারোর মনের এক টুকরো জায়গাও জোড় করে নেওয়া যায় না !!
.
পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষই হয়তো কাউকে ভালোবাসার কথা বলে, কেউ কেউ সত্যিকার অর্থেও ভালোবেসে পায় না আবার কেউ মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় করে কারোর মনে ভালোবাসার জোয়ার বয়ে দিতে পারে... মজার বিষয় হচ্ছে অধিকাংশ মানুষই সত্যিকারের ভালোবাসা ধরতে পারে না, চিনতে পারে না... তবুও ভুল মানুষকে এখনো ভালোবেসে কেউ কেউ পাথর হয়ে থাকবে ঠিকই কিন্তু সেই পাথরে নতুন কারোর আঁচড় লাগতে দিবে না !!
---------------------------------------------------------------07 -------------------------------------------------------------
মুখের উপর তর্ক করা মানুষগুলোকে আমরা সাধারণত দেখতেই পারি না... অনেকেই আছে যারা এই টাইপের মানুষগুলোকে ঘৃণার চোখে দেখে... এদেরকে আমরা বেয়াদব বলে থাকি... কিন্তু একটু লক্ষ করে দেখা যায় এরাই সাধারণত ভালো মানুষ হয়... সৎ মনের মানুষ হয় !!
.
যারা এই টাইপের মানুষ তাদের মনে কোন প্যাঁচ থাকে না... এরা যা করবে তোমার সামনেই করবে... অপমান করলে সবার মাঝেই করবে সম্মান দিলে সবার সামনেই দিবে... সামনে তালি আর পিছনে গালি দেয়ার চেয়ে এইটা অনেক ভালো গুণ !!
.
চুপচাপ থাকা কিছু মানুষ গুলো হয় টেপ রেকর্ডারের মত... এরা তোমার সব কথাগুলো শুনে মগজে সেভ করে রাখবে... তখন ভালো-মন্দ তোমাকে কিছুই বলবে না... কিন্তু তোমার অনুপস্থিতে তোমার কথাগুলো জার্জ করে সবাইকে 4G নেটওয়ার্কের মত ছড়িয়ে দিবে... এরা সামনে ফিটফাট ও ভিতরে সদরঘাট টাইপের হয় !!
.
তর্ক করা মানুষগুলোর সাধারণত রক্ত গরম হয়... রক্ত গরম বলে এরা রাগী টাইপের হয়ে থাকে... আবার আমরা অনেকেই রাগী মানুষ দেখতে পারি না... কিন্তু এটা জানি না যে, রাগ খারাপ হলেও রাগী মানুষগুলো খারাপ হয় না... রাগী মানুষদের থাকে আত্মসম্মান বোধ ও প্রবল ব্যক্তিত্ব... এরা নিজের চরিত্রে সহজে আঁচড় লাগতে দিবে না এতে যাই হোক না কেন !!
.
রাগী মানুষগুলোর বাহিরে যতটা রাগ দেখায় ভিতরে তারচেয়ে শতগুনে বেশি ভালোবাসা বয়ে বেড়ায়... তবে এদের একটা দূর্ভাগ্য যে, এরা সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে ভিতরের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না... যার কারণে এরা অনেকের চোখেই ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকে !!
.
যার রাগ যত বেশি তার ভালোবাসাও ঠিক ততটাই বেশি... যার রক্ত যত গরম তার মনও ঠিক ততটাই নরম... যে তোমাকে যতবেশি কষ্ট দেয়, সেই তোমার আড়লে ততটাই কষ্ট পায়... যে তোমাকে দেখতেই পারেনা সেই তোমাকে আড়ালে খুঁজে বেড়ায় !!
.
রাগী ছেলেরা অনেক দায়িত্ববান ও কর্তব্যমূখী হয়... এরা যদি কোন দায়িত্ব পায় তাহলে সেটা ঠিকভাবে পালন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়... রাগী মেয়েরা ভীষণ সংসারিক হয়... বউ হিসাবে রাগী মেয়েরা অনেক ভালো... এরা মায়া মমতা দিয়ে সংসার আগলে রাখতে জানে !!
.
তাই তর্ক করা কিংবা রাগী মানুষদের অন্য চোখে দেখো না... কারণ এরা তোমাকে চোখে অাঙুল দিয়ে তোমার ভুলটা ধরিয়ে দিবে... আর এরকম মানুষ জীবনে খুব কম পাওয়া যায় !!"
---------------------------------------------------------------08-------------------------------------------------------------
আমরা_ভীষণ_সাদামাটা_ও_অযোগ্য
কিছু মানুষের প্রতি চূড়ান্ত শারীরিক আকর্ষণবোধ জন্মালেও আমরা কখনোই তাদেরকে কাছে পাওয়ার স্বপ্ন দেখি না....
আমরা কিছু মানুষকে কোনোদিন ভুলেও স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখি না। আমরা তাদেরকে সবসময় দূর থেকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি, ইনফ্যাক্ট তাদেরকে সামনে থেকে দেখার দুরন্ত ইচ্ছেটাকেও চেপে রাখি ভীষণ ভাবে.....
কিছু মানুষের প্রতি শারীরিক আকর্ষণের থেকেও বেশি মানসিক আকর্ষণ বোধ কাজ করে আমাদের ভেতরে....
মাঝেমধ্যে শুধু মনে হয় মানুষটাকে যদি একবার সামনে থেকে দেখতে পেতাম, তাহলে গোটাজীবনটা ওই মানুষটার নামে লিখে দিতাম.....
মাঝেমধ্যে মনে হয় মানুষটার সাথে যদি একটা মুহূর্ত দূর থেকেও কাটাতে পারতাম, তাহলেও আমাদের জীবনটা স্বার্থক হতো...
বেশি কিছু চাইতাম না, মানুষটার সাথে একটা সাদামাটা বিকেল কাটাতে চাইতাম....
কোনো একটা নদীর পাড়ে বসে আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া দুই একটা খারাপ ঘটনার কথা যদি শোনাতে পারতাম মানুষটাকে। অতীতের স্মৃতি মনে করতে করতে গলাটা ভারী হয়ে গেলে, চোখের কোনটা ভিজে উঠলে মানুষটা আমাদের দিকে একটা রুমাল এগিয়ে দিতো....
মায়ের দিব্যি কেটে বলছি, ওই রুমালটুকু নিয়েই আমরা ফিরে আসতাম ঘরে....
কিংবা মানুষটার সাথে জীবনে একবার হলেও পাহাড়ে যেতে চাইতাম। একটা সূর্য ওঠা ভোরের সাক্ষী থাকতাম আমরা দুজনেই, মানুষটাকে ন্যূনতম ছোঁয়ার চেষ্টা করতাম না...
শুধু দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখতাম রোদের প্রথম আলো যখন মানুষটার মুখে এসে পড়ে, তখন কাকে বেশি পবিত্র লাগে, ওই মানুষটাকে নাকি রোদের আলোটাকে?
মানুষটার কয়েকটা ছবি তুলে নিতাম লুকিয়ে লুকিয়ে, তারপর সারাজীবন আগলে আগলে মানুষটাকে জমিয়ে রাখতাম বুকের ভেতর। খুব কান্না পেলে ছবিটা দেখে কাঁদতাম, খুব আনন্দ হলে ছবিটার সাথে কথা বলতাম, খুব রাগ হলে ছবিটার সামনে চুপচাপ বসতাম....
কিংবা কোনো একটা বৃষ্টির দিনে আমরা দুজন পাশাপাশি বসে থাকতাম চোখে চোখ রেখে, ওই মুহূর্তটুকু আমরা লুকিয়ে বাঁচিয়ে রাখতাম....
ওই মুহূর্তটুকু কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারোর কোনোদিন থাকতো না....
হ্যাঁ, সারাজীবন আমরা কিছু মানুষকে এভাবেই দূর থেকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকতাম, এভাবেই মানুষটাকে ভালোবাসায়, অভিমানে, প্রার্থনায় রেখে দিতাম....
আসলে আমরা ভীষণ সাধারণ, দামি গিফ্টস দেওয়ার টাকা নেই আমাদের কাছে, বিশাল কিছু ল্যাভিস লাইফ আমরা কেউই লিড করি না, রাতের বেলা আমাদের ঘরে এখনো লোডশেডিং হয়, গরম লাগলে এখনো ছাদে মাদুর পেতে শুই....
কাছের মানুষটাকে দামি রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর মতো প্রিভিলেজড আমরা নই, এখনো আমরা সেদ্ধ ডালভাত খাই রোজ সকালে....
ডিগ্রি ফিগ্রী তেমন বিশাল নেই, সাধারণ চাকরি করি, দেখতেও অসাধারণ নই আমরা....
আমরা ভিড়ে মিশে যাওয়া লোক, আমাদের দিকে কারোর চোখ আটকে যায় না....
আমাদের দেখে কেউ কবিতা লেখে না, আমাদের জন্য কেউ শোবার ঘরে সুগন্ধি ফুল সাজিয়ে রাখে না....
আমরা ভীষণ সাদামাটা, আমাদের মতো মানুষদের যোগ্যতা খুবই কম হয়, যাঁকে আমরা ভালোবাসি, তাঁকে ছোঁয়ার অধিকার আমাদের থাকে না....
যাঁদের আমরা ভালোবাসি, আমরা তাঁদের কাছে চিরকালই অযোগ্য হয়েই থেকে যাই....
ভালোবাসার মানুষকে জীবনে না রাখতে পারাও একটা অভিশাপ.....
আর সেই অভিশাপটা আমরা চিরকাল বহন করি স্বগর্বে...