প্রিয় মানুষটার অভাব কখনো অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করা যায় না... ঠিক এই মুহূর্তে আপনি যার সাথে আছেন তার অনুপস্থিতিতে আপনি আর নতুন কাউকে দিয়ে পূরন করতে পারবেন না সে যতই ভালো মানুষ হোক না কেন... যদি পারেনও তবুও আপনার মনে হবে কোথায় যেন কিসের শূন্যতা ঠিকই রয়ে আছে !!

.

এই শূন্যতা একদিনেই কারো জন্য তৈরী হয়না... কারো সাথে চলতে চলতে একটা দীর্ঘ সময়ের পর এই শূন্যতা অনুভব করা যায়... মানুষ কখনো দু'দিনের পরিচয়ে কারো জন্য কষ্ট পায়না, কাঁদে না... মানুষ তখনই কষ্ট পায় কিংবা কাঁদে যখন তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে কেউ চলে যায় !!

.

বন্ধুদের সাথে মুভি দেখতে দেখতে হঠাৎ তার কথা মনে পড়বে... কিংবা রিকশাতে পাশের সিটটাতে তাকে অনুভব হবে... অথবা ফেইসবুকেও অনেকের সাথে কথা হলেও ঐ একজনের সাথে কথা না হলে কেমন যেন ফেইসবুকটাও পানসে মনে হয়... এসব যা কিছুই হোক না কেন একজনের অভাব অন্যকেউ পূরণ করতে পারেনা !!

.

পৃথিবীর সবকিছুর অভাবই কোন না কোন কিছু দিয়ে পূরণ করা যায় কিন্তু মানুষের অভাব অন্য কোন মানুষ দিয়ে কখনো পূরণ করা যায় না... যে চলে যায় বা হারিয়ে যায় তার অস্তিত্ব ওখানেই শেষ... তার অস্তিত্ব নিয়ে অন্যকেউ আসেনা... এ জন্যই মানুষের অভাব অপূরণীয় !!"


---------------------------------------------------------------02 -------------------------------------------------------------

কখনো কখনো নিজের ইচ্ছা থাকলেও নিষ্ঠুর হতে হয়... বুকের মধ্যে হ্যাঁ টা চেপে রেখে নিষ্ঠুর ভাবে না বলে দিতে হয়... সব সময় হ্যাঁ বলে নিজেকে অন্যের কাছে উজার করে চলতে গেলে একটা সময় হয়তো নিজের অধিকার ও প্রায়োরিটি দুইটাই হারিয়ে যায়... তখন অন্যের কাছে নিজের কোন ইচ্ছা ও মূল্যবোধের দাম পাওয়া যায় না !!

.

তোমার সাথে মিশতে পারা মানুষগুলোর ইচ্ছাতেই যখন তুমি পুতুলের মত উঠছো ও বসছো, ঠিক তার সাথে সাথেই নিজের অধিকারটুকুও তাদের হাতে দিয়ে দিচ্ছো... তখন হয়তো কিছুই বুঝা যায় না, কিন্তু একটা সময় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে দেখা যায় তারাই পিঠে ছুঁড়ি মেরে দেয় !!

.

একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, নিরীহ কিংবা ভালো মানুষগুলোই সাধারণত বেশি কষ্ট পেয়ে থাকে... তাই সব সময় নিজেকে অন্যের কাছে পুতুল সেঁজে কষ্ট পাওয়ার তো কোন মানি হয় না !!

.

একটি পুতুল কিনে এনে নিজের ইচ্ছে মত যা খুশি তাই করা যায়, কিন্তু মানুষকে পুতুলের মত মনে করে তাদের মন নিয়ে যা খুশি করা যায় না... পুতুলকে ভালো না লাগলে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া যায়, কিন্তু পুতুলের মত মানুষকে তা করা যায় না... তাই তীব্র কষ্টটুকু বোঝার আগেই পুতুল থেকে বেড়িয়ে ক্ষানিকটা সময় নিষ্ঠুর হতে হয় !!

.

এই সামান্য একটু নিষ্ঠুর থাকতে পারলেই অনেক সময় কষ্টগুলোর কাছ থেকে নিজেকে মুক্তি পাওয়া যায়... নিজের অধিকারটুকু ও দাম হারিয়ে যায় না, সেই সাথে নিজের ব্যাক্তিত্ব তুলে ধরা যায় !!

.

এই নিষ্ঠুর হওয়ায় কষ্টটুকু ক্ষানিকটা সময় থাকলেও পরবর্তীতে বাজে রকমের তিক্ত কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া যায়... এই নিষ্ঠুরতায় কোন দোষ নেই, নেই কোন ভুলও... ভালো থাকতে হলে নিষ্ঠুর হওয়া শিখতে হয় !!


---------------------------------------------------------------03 -------------------------------------------------------------

মেয়েরা সাধারণত একদম ভদ্র গোছানো ছেলেদের তেমন একটা পছন্দ করে না... তাদের পছন্দের তালিকায় ছেলেদের একটু বখাটে টাইপের হতে হবে... মাথার চুলগুলো এলোমেলো থাকবে... শার্টের বোতাম খোলা থাকবে... হাতে সিগারেট থাকবে... গায়ের জামা কাপড় খুব একটা পরিস্কার হবে না... সব মিলিয়ে একটু পাগল টাইপের ছেলেদের মেয়েরা পছন্দ করে !!

.

মেয়েরা যেটা সবচেয়ে নিজের করে পেতে চায় সেটা হলো অধিকার... তারা অধিকার খাটাতে পছন্দ করে... কি করবে, কোথায় যাবে, কিভাবে চলবে, এসবকিছু তারা নিজের মনের মতো করে নিতে চায়... তাই বখাটে ছেলে সিগারেট খেলে তাকে মানা করবে... শার্টের বোতাম আটকে রেখে চলতে বলবে... এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে রাখতে বলবে... স্মার্ট থাকতে বলবে !!

.

এসব কিছু বলে বলে ছেলেটার প্রতি মেয়েটার আগ্রহ বাড়তে থাকে... যখন বখাটে ছেলেটা মেয়েটার কথামত সবকিছু শুনে নিজেকে মেনে চলে, তখন ধীরে ধীরে ছেলেটার প্রতি মেয়েটা দুর্বল হয়ে যায়... এই দুর্বল হওয়ার কারণ হলো 'মায়া'... নেশায় পড়লে কোন এক সময় নেশা কেটে যায়, কিন্তু কারো উপর একবার মায়া পড়ে গেলেই সে মায়া আর কাটানো যায় না !!

.

পরিবারে প্রতিটা মেয়েই দেখবে বাসার সবকিছু খুব সুন্দর করে গুছিয়ে রাখে... নিজের হাত দিয়ে প্রতিটা জিনিসপত্র মুছে মুছে যত্নে রেখে দেয়... কোন কিছু নষ্ট হয়ে গেলেও সেটা সহজে ফেলে দেয় না... দরকার হলে অন্য কাজে লাগায় তবুও সেটা ধরে রাখে... এসব কিছু হয় মায়ার জন্যই... তেমনি ভাবে যে বখাটে ছেলেটাকে নিজের মন মতো গুছিয়ে নিয়ে আসলো তাকেও হারাতে দেয় না... ভালোবাসতে শুরু করে !!

.

মেয়ে যদি ভালো হয় তাহলে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবে যে ছেলেটার রিলেশন হওয়ার আগে কোন কিছুই তেমন ঠিক ছিলো না, অথচ এখন তার সবকিছুই গোছানো ও সুন্দর... আগের সাথে বর্তমান সব যেন আকাশ পাতাল তফাৎ... এর কারণ কি..? এর কারণ হলো, মেয়েটা মানে তার প্রেম তাকে বদলে দিয়েছে !!

.

একদম ভদ্র ও সহজ সরল ছেলে দেখলে মেয়েরা মনে করে ও তো এমনিতেই মানুষ হয়ে বসে আছে... একে আর মানুষ বানানোর দরকার নাই... তাই তো দেখা যায় ভদ্র ও গোছানো ছেলেদের প্রেমিকা থাকে না... একটা ভদ্র ও গোছানো ছেলেদের মেয়েরা যতদিন মনে রাখে তারচেয়ে বেশি দিন মনে রাখে অগোছালো ও পাগল টাইপের ছেলেদের !!



---------------------------------------------------------------04 -------------------------------------------------------------


তোমার দৃষ্টির আড়ালে যে তোমাকে ফলো করে কিংবা তোমাকে না জানিয়ে তোমার আইডিতে ঘুরে, মেসেজ চেক করে, তুমি ফোনে কার কার সাথে কথা বলো তাও খেয়াল করে যাচ্ছে, তারমানে এই নয় যে সে তোমাকে অবিশ্বাস করে... মূলত সে তোমাকে হারানোর ভয়টা রোজ করে যাচ্ছে !!

.

যে মানুষটা তোমাকে হারানোর ভয়ে এসব করে যাচ্ছে সে অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসে... আর যে ভালোবাসে সে একটু সন্দেহ করার অধিকার রাখতেই পারে, এটা অন্যায়ের কিছুনা... তবে অতিরিক্ত সন্দেহ করাটা আবার অন্যায়, এতে মানুষকে ছোট করা হয় !!

.

সম্পর্কে ক্ষানিকটা সন্দেহ কিংবা হারানোর ভয়টা থাকা বঞ্চনীয়... নতুবা সম্পর্কের কোন স্বাদ পাওয়া যায়না... যে সম্পর্কে কোন হারানোর ভয় নাই কিংবা বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই সে সম্পর্ক অনেকটা হাল ছেরে দেয়ার মতই বুঝায় !!

.

যে বলে আমি তোমাকে একটুও সন্দেহ করিনা কিংবা চোখ বুঝে বিশ্বাস করি, সে মানুষটা তোমাকে কিভাবে ভালোবাসে তা জানা নাই... যার মনে তোমার জন্য বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই, তার মনে তোমার জন্য একটুও হারানোর ভয়ও নাই... যে যত ভালোবাসে সে ততই হারানোর ভয় করবে !!

.

ক্ষানিকটা সন্দেহকে কেন্দ্র করে কাউকে ভুল বুঝা ঠিক না, যে ভালোবাসে সে হারানোর ভয়ে একটু হলেও সন্দেহ করে... সন্দেহ করতে না চাইলেও অনেক সময় চলে আসে, আর সন্দেহ করাটাও হলো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ... ভালোবাসা শুধুই অন্ধ বিশ্বাসকে ঘিরে নয়, একটু সন্দেহ করার মাঝেও হারানোর ভয় নামক ভালোবাসা বিদ্যমান !!"

 


---------------------------------------------------------------05 -------------------------------------------------------------

সব কাজের ফল পেতে হয়... বিশ্বাস করো তুমি আজ যে কাজটা করবে কোন একদিন তার ফল তুমি ঠিকেই পাবে... ভালো করলে ভালো হবে খারাপ করলে খারাপ... তবুও তোমার কাজের পাওনা তোমাকে পেতেই হবে... মানুষ ছেড়ে কথা বললেও প্রকৃতি তোমাকে ছাড়বে না !!

.

কারো সাথে প্রতারণা করবে..? কিছুদিন পর তুমিই কারো না কারোর কাছে প্রতারণার স্বীকার হবে... কারো বিশ্বাস ভঙ্গ করবে..? দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা হলেই টের পাবে কেউ তোমার বিশ্বাস নিয়ে খেলা করছে... কাউকে ঠকতে যাবে..? দেখবে তুমি নিজেই অন্য কারোর কাছে ঠকে আছো !!

.

কথায় আছে, 'যেমন কর্ম তেমন ফল'... কিন্তু এখনকার দিনে এইটা অনেকেই মাথায় নেয় না... সবাই এটা শুনলে মেকি হাসি দেয়... অনেকেই বলে এসব কথার দাম নাই... কতো মানুষে কতো কিছুই করতেছে তাদের কিছুই হয় না, তেমনি আমারো হবে না !!

.

আরো একটা প্রবাদ বাক্য আছে যে, 'ওস্তাদের মার শেষ রাতে'... তাই যারা ভাবছো যে কিছুই হবে না তারা কোন একদিন ঠিকেই বুঝবা যে শেষ রাত কাকে বলে..? কত ধানে কত চাল..? তখন কিছুই করতে পারবে না !!

.

ছেলে হয়ে যদি একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছো... খারাপ কাজে লিপ্ত হয়েছো... জেনে রাখো, তোমার ভবিষৎ সঙ্গীও এমনই হবে যে একাধিক ছেলের সাথে বিছানায় শুয়েছে !!

.

মেয়ে হয়ে একাধিক ছেলেদের ঠকিয়েছো... প্রতারণা করেছো... জেনে রাখো, তোমার জীবনে এমনই এক পুরুষ আসবে যে অসংখ্যবার প্রতারিত হয়েছে... তখন তোমাকে বিশ্বাস করার মতো তার কাছে কোন পথই খোলা নেই... তোমাকে দেয়ার অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না !!

.

খাবারের বিল না দিয়ে, বাসের ভাড়া না দিয়ে অনেকেই চলে যায়... কিছুদিন পর জানা যায় ঠিক তাদেরই অতি মূল্যবান কিছু হারিয়েছে... অন্যের পেটে লাত্থি মেরে নিজের পেট পুরা করা যায় না... পুরা করতে পারলেও হজম হবে না... বমি আসবে, ডাইরিয়া হবে !!

.

তাই তুমি যাকে ঠকিয়েছো, কাল নিজে ঠকার জন্য প্রস্তুত হও... যার বিশ্বাস ভঙ্গ করে হাত তালি দিচ্ছো, দেখে নাও কে তোমার হাত তালি বন্ধ করে দেয়... যার পাওনা না দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে মুরগীর কলিজা খাচ্ছো, দেখে নাও কে তোমার পা দুটো টেনে মাটিতে বসিয়ে সামনে বাটি ধরিয়ে দেয় !!

.

তোমার জন্য কারো চোখের এক ফোটা পানিও যদি ঝড়ে, তাহলে জেনে নাও ঠিক তোমারও ঐ এক ফোটা পানি না ঝড়া পর্যন্ত মৃত্যু হবেনা... তাই এখনো সময় আছে নিজেকে বদলানোর... না হলে প্রকৃতি তোমাকে ছাড়বে না... প্রকৃতির শাস্তি বড় ভয়াভয়... ভীষণ কঠিন... ভীষণ কষ্টের !



---------------------------------------------------------------06 -------------------------------------------------------------

তোমার অজান্তেই তুমি এমন কিছু ভুল করে থাকো যা তোমার প্রিয় মানুষটা একদমই আশা করে না... তোমার ভুল গুলো হয় জোড় করা, হুমকি দেয়া, খামখেয়ালি করা ইত্যাদি... এগুলো তোমার কাছে পৈশাচিক আনন্দ হলেও তার অনেক বড় কিছু !!

.

কেউ তোমাকে ভালোবাসে বিধায় এই নয় যে, তার কাছ থেকে তুমি সব রকমের সুযোগ নিতে চাইবে... তাকে পরীক্ষা করবে তোমাকে কতটুকু ভালোবাসে এই জন্য... ভালোবাসায় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হল বিশ্বাস... যদি তোমার ভালোবাসা যাচাই করতে হয় তাহলে তুমি বুঝে নাও তোমার বিশ্বাসের অভাব ছিল... তুমি এখনো তাকে মন থেকে ভালোবাসতে পারোনি !!

.

প্রতিটি মানুষের নিজস্ব আলাদা একটা ব্যাক্তিত্ব ও সিকিউরিটি থাকে যা সে কাউকে জানতে দেয় না... কারণ পুরোটাই যদি জানিয়ে দেয় তাহলে সে মূল্যহীন হয়ে পড়বে... আর একটা মানুষকে তুমি যতই ভালোবাসো না কেন মূল্যহীন করে দেয়ার অধিকার তোমার নাই !!

.

প্রতিটা মানুষেই ব্যাক্তিস্বাধীনতা পেতে চায়... ক্ষানিকটা সময় নিজের মত করে থাকতে চায়... দিনের আশিভাগ সময় যে তোমাকে নিয়ে ভাবে তাকে অন্তত বিশভাগ সময় নিজেকে নিয়ে ভাবতে দেয়া উচিত... নিজের মত করে চলতে দেয়া উচিত... যদি এইটুকু অধিকারও তুমি কেঁড়ে নাও তাহলে তার নিজস্ব ব্যাক্তিত্ব বলতে অার কিছুই থাকলো না !!

.

মুখে মুখে ভালোবাসির কথা সবাই বলতে পারে কিন্তু কাজে কতটুকু করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়... ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস করা, সম্মান করা এগুলো অতুলনীয়... আর এগুলো জোড় করে, হুকুম করে, কিংবা খামখেয়ালি করে পাওয়া বা করা যায় না... নিজের বিবেক দিয়ে অর্জন করতে হয় !!

.

বিশ্বাস করো, যে তোমাকে ভালোবাসে সে তোমার কাছে কিছুই চায় না... শুধু একটা জিনিসই চায় তুমি যাতে তাকে বুঝতে পারো, চিনতে পারো এইটুকুই... আর কিচ্ছু না... তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে নিজের মতো নয়, তার মতো করেই ভালোবাসতে চেষ্টা করো... মানুষটা তোমার সাথে চলতে চলতে একটা সময় তোমার মতো করে পুরোটাই মানিয়ে নিবে... শুধুমাত্র তাকে একটু সময় দিতে হবে... এতে তার ভালোবাসার যতার্থ মূল্য দেয়া হয় !!

.

তুমি হয়তো কখনো টের পাওনি তোমার এসব খামখেয়ালি কান্ড দেখে তোমার প্রিয় মানুষটা হয়তো চুপ করে থাকে ঠিকেই কিন্তু মনে মনে নিঃশব্দে বলে - "তুমি আমাকে এখনো বুঝতে পারলে না !



---------------------------------------------------------------07 -------------------------------------------------------------

"অভিমানের একটা ভাষা আছে... খুবই মিষ্টি একটা ভাষা... যেটা কথা দিয়ে নয়, চোখ আর অন্তর দিয়ে অনুভব করে সেই ভাষা বুঝতে হয়... কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, খুব কম মানুষই এই অভিমানের ভাষা বুঝে... অভিমানের ভাষা না বুঝলে এর চেয়ে কষ্ট আর কোন কিছুতেই হয়না... অভিমান করতেও আর ইচ্ছা করে না !!

.

মেয়েরা অভিমানী হয়, এরা বড্ড অভিমান প্রিয়... তারা খুব সুন্দর করে অভিমান করতে জানে... কিছু বলবে না, চুপচাপ করে গাল ফুলিয়ে বসে থাকবে... এরা অভিমান করতে যতটা পছন্দ করে তারচেয়ে বেশি পছন্দ করে যে অভিমান ভাঙ্গাতে পারে তাকে... কিন্তু বেশিরভাগ বোকা ছেলেরা কোনটা রাগ আর কোনটা অভিমান সেটাই বুঝেনা !!

.

মেয়েরা যেমন অভিমানী হয়, তেমনি ছেলেরা আবার রাগীও হয়... ছেলেদের রাগের জন্যও কিছু মেয়েরা অভিমানও করতে পারে না... ছেলেদের এই ফালতু রাগের জন্য কিছু মেয়েদের মনের নিষ্পাপ অভিমান গুলো শুকিয়ে শুকিয়ে মরে যায়, অথচ বোকা ছেলেরা বুঝতেই পারলো না তার পাশের মানুষটার মনে কি চলতেছে... ছেলেরা যে অবুঝ !!

.

যে মেয়েটা আইস্ক্রিম দেখলেই চিৎকার দিয়ে ওঠে, সে মেয়েটা যখন তোমাকে খাবেনা বললো, আর তুমি সেটাই বিশ্বাস করলে... আহা ! ছেলে তুমি তো বোকা... সব না এর উত্তর না হয় না... কিছু না বলার মাঝেও হ্যাঁ লুকিয়ে থাকে, যেটা তোমাকে বুঝতে হবে... তুমি যখন দুইটা আইস্ক্রিম নিয়ে এসে তার সামনে ধরবে, তুমি বুঝতেই পারবে না তার অভিমান গুলোও আইস্ক্রিমের মত গলে কখন শেষ হয়ে যাবে !!

.

অভিমানের চেয়ে রাগ বড্ড ভালো... রাগ ঝেড়ে ফেললেই শেষ, কিন্তু অভিমান হৃদয়কে পাথর বানিয়ে দেয়... অভিমান ঝেড়ে ফেলা যায়না, অভিমান বুঝতে হয়... অভিমান ভাঙ্গাতে হয় !!

.

ছেলে, ভালোবাসতে হলে তোমার অভিমানের ভাষা বুঝতে হবে... সংসার করতে গেলে বউয়ের রেগে যাওয়ার না বলা কথাগুলোর কারণ জানতে হবে... মনে রাখো, মেয়েদের কাছে সেই ছেলেই প্রিয় যে তার অভিমান ভাঙ্গাতে পারে... আবার সেই ছেলেই খুবই বিরক্তিকর যে অভিমানই বুঝে না ভাঙ্গাবে তো দূরের কথা !



---------------------------------------------------------------08-------------------------------------------------------------


যে আসবে সে এমনেই আসবে... তাকে খুঁজে নিয়ে আসতে হবে না... কালবৈশাখী ঝড়ের মতো করে হঠাৎ চলে আসবে... বই পড়তে পড়তে হঠাৎ কারো চিরকুট চোখের সামনে ভেসে উঠবে... হঠাৎ কোন রং নাম্বার থেকে ফোন কলে জানিয়ে দিবে আমি এসে গেছি !!

.

যে তোমার হবে সে তোমার হবেই... সেটা যেভাবেই হোক না কেন... ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়... তোমার জন্য যার জন্ম হয়েছে সে ভুল পথে হাঁটতে হাঁটতে একদিন তোমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে যাবে... তুমি যার জন্য জন্ম হয়েছো সে যতই দূরে থাকুক না কেন, কোন একদিন তার দরজায় ভুল করে হলেও তুমি হাজির হয়ে যাবে !!

.

মনে রেখো, সবকিছুই আগে থেকেই রেডি করা... তুমি ঠিক যেমন তোমার জন্য ঠিক তেমনই কাউকে বানানো হয়েছে... একটুও এদিক সেদিক হবে না... সময়মত সে চলে আসবে... এর মাঝে তোমার জীবনে যত মানুষই আসুক না কেন তা শুধু ক্ষনিকের... ক্ষনিকের হয়ে ভেসে আসা মানুষগুলো অতিথি পাখির মতো এসে মনে নাড়া দিয়ে চলে যায় !!

.

যার হাতে হাত রেখে দিনের পর দিন ঘুরে বেড়াচ্ছো সেও যদি তোমার না হয়ে থাকে, তবুও তুমি তাকে পাবে না... কোন না কোন কারণে তোমাদের বিচ্ছেদ হবেই... কালেমা পড়ে কবুল বলার আগ পর্যন্ত তুমি কাউকে সিউর দিয়ে বলতে পারবে না সে তোমার হবেই... বিয়ের আসর থেকে মেয়ে পালিয়ে যায় কিংবা বিয়ে ভেঙ্গে যায় এমন ঘটনা অনেক আছে !!

.

তবে কেন কাউকে পাবার জন্য এতো আয়োজন..? কেন অন্যের জন্য নিজেকে পরিবর্তন..? তুমি তোমার মতো করেই থাকো... দরকার হলে নিজের জন্য নিজেকে পরিবর্তন করো তবুও অন্য কারোর জন্য না... নিজেকে এমন ভাবে তৈরী করো যাতে সবাই তোমার জন্য পথ চেয়ে বসে থাকে... যে নিজেকে ভালোবাসতে জানে তার ভালোবাসার অভাব হয় না !!

.

যে তোমাকে ভালোবাসবে সে শুধু তোমাকে না, তোমার ভালো-মন্দ, দোষ-গুন সব কিছুই ভালোবাসবে... যদি তুমি কারোর জন্য নিজেকে পরিবর্তন করো তাহলে তুমি তার হাতের পুতুল হয়ে গেলে... সে যেভাবেই চাইছে তুমি সেভাবেই নাচতেছো... আর কারোর হাতের পুতুল হয়ে যাওয়া মানে হলো তুমি মূল্যহীন !!

.

অধিকার খাটাতে সবাই পছন্দ করে... তবে সবক্ষেত্রে অধিকার মেনে নেওয়াটা বোকামি... যদি কারোর ইচ্ছা অনিচ্ছা প্রাধান্য দিতেই থাকো তাহলে একদিন তুমি তোমাকে খুঁজে পাবে না... তোমার ইচ্ছা অনিচ্ছাগুলো তার অধিকারের কাছে মাটিচাপা পড়ে যাবে... এভাবে যখন তার সম্পূর্ণ অধিকার খাটিয়ে ফেলবে তারপর সেও তোমাকে ছুঁরে ফেলে দিবে... তাই নিজের মতো করে চলো... নিজের মতো করে বাঁচো !!

.

মনে রেখো, যদি কাউকে পাবার জন্য তুমি নিজেকে পরিবর্তন করতে থাকো তবে ধরে নাও তুমি তার জন্য নয়, বরং অন্য কারোর জন্য নিজেকে পরিবর্তন করে যাচ্ছো !!"