গোপন প্রেম
গোপন প্রেম
"সবার জীবনে একটা গোপন প্রেম থাকলে, জীবনটা খুব সুন্দর হয়। যে প্রেমের কথা দুটো মানুষ ছাড়া আর কেউ কোনোদিন জানবে না".....
আমি আগে এমনটাই ভাবতাম, কিন্তু যত বয়স বেড়েছে ততই ধারণা পাল্টেছে। গোপন শব্দটাই একটা ভয়ঙ্কর শব্দ, গোপন কোনোকিছুই বেশিদিন ভালো নয়....
গোপন প্ৰেম হোক বা গোপন মান অভিমান, রাগ, দুঃখ, ব্যথা, গোপন সম্পর্ক! কোনোকিছুই বেশিদিন ভালো নয়.....
কোনো মানুষের প্রতি যে কোনো অনুভূতিই একটা সময়ের পর স্বীকৃতি পেতে চায়, একটা মর্যাদা চায়, একটা সম্মান চায়।
যে কোনো গোপন প্রেম একটা প্রাণখোলা বারান্দা চায়, যে বারান্দায় বসে বর্ষাদিনে চায়ের কাপ হাতে রাস্তায় জমা কাদায় বাচ্চাদের হুটোপুটি করতে দেখা যায়....
যে বারান্দায় রোদ উঠলে ন্যাপথলিন মাখানো পুরোনো কাপড় গরম করে নেওয়া যায়....
যে বারান্দায় গোলাপ ফুলের টব রাখা যায়, খুব মেঘ করলে গরম গরম চপ ভেজে যে বারান্দায় বসে রবীন্দ্রগান শোনা যায়....
লুকিয়ে চুরিয়ে প্রেম করার একটা বয়স থাকে, সেই বয়সটা পেরোনোর পর গোপন প্রেমটা বড্ড তড়পায়, সাংঘাতিক কষ্ট দেয়....
একটা বয়সের পর দুটো মানুষ একে অপরের হাত ধরে মাথা উঁচু করে রাস্তায় হাঁটতে চায়, সংসার পাততে চায়, মাসকাবারির বাজারের ফর্দ করতে করতে ছিঁড়ে যাওয়া বোতাম লাগাতে চায় জামায়...
সব প্ৰেম একটা বয়সের পর বটগাছ হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে চায়, সমস্ত ঝড়বৃষ্টি পেরিয়েও একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে চায়....
আর যে প্রেমকে সারাজীবন আড়ালে গোপনে বাঁচিয়ে রাখতে হয়, যে প্রেম কোনোদিনই মাথা তুলে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে না, যে প্রেমের ব্যাপারে চিৎকার করে কোনোদিনই কাউকে বলা যায় না!
সেই প্রেম সারাজীবনই শুধু ব্যথা দিয়ে যায়, সেই প্রেম সারাজীবন কষ্ট দেয়, ভেতর ভেতর মরে যায় মানুষ নিজের প্রেমটাকে গোপন রাখতে রাখতে....
আড়ালে আবডালে লুকিয়ে সম্মান বা শ্রদ্ধা করা যায় কোনো মানুষকে....
কিন্তু গোপনে আড়ালে লুকিয়ে সারাজীবন প্রেম করা যায় না, ইনফ্যাক্ট লুকিয়ে লুকিয়ে কারোর সাথেই সারাজীবন সম্পর্ক রাখাও উচিত নয়...
যে সম্পর্ক সকলের সামনে সম্মান পায় না, সেই সম্পর্কে থাকা দুটো মানুষও একটা সময়ের পর থেকে একে অপরকে অসম্মান করতে শুরু করে....
একে অপরকে অপমান করতে শুরু করে, একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করে....
গোপন প্রেম বা সম্পর্ক একসঙ্গে অনেকগুলো জীবন নষ্ট করে দেয়, দুটো পরিবারকে শেষ করে দেয়....
------------------------
একটা বয়সের পর কাকে আমাদের পাশে মানাবে'র থেকেও বেশি জরুরি!কে আমাদের পাশে থাকবে সারাজীবন🌸
----------------------------------------------------------------
2.
হাজারটা অবহেলা অপমান সহ্য করেও তুমি এতদিন যে মানুষটার পাশে ছিলে
সেই মানুষটার পাশ থেকে জাস্ট কদিনের জন্য সরে যাও....
তুমি সরে গিয়ে দেখো সে তোমায় খুঁজছে কিনা!
নিজেকে তার কাছ থেকে আড়াল করে দেখো সে তোমায় গুরুত্ব দিচ্ছে কিনা!....
ভালোবাসা একতরফা হতে পারে---------------------
কিন্তু সম্পর্ক কখনোই একতরফা গড়ে ওঠে না। তাই একটা সম্পর্কে দুজনেরই দুজনের প্রতি একই রকমের ডেডিকেশন, বিশ্বাস, বন্ধুত্ব থাকা উচিত........
যে মানুষটা সারাটাদিন অপেক্ষা করে তার কাছের মানুষটার গলার আওয়াজ শোনার জন্য, থালা আগলে সারাটা রাত বসে থাকে, হাজারটা অপমান সহ্য করে, হাজারটা অভিমান জমিয়েও প্রিয় মানুষটার জন্মদিন কখনো ভুলে যায় না, বারবার অবহেলিত হয়েও প্রিয় মানুষটার জ্বর হলে ছুটে যায়, সেই মানুষটাকে ইগনোর করা পাপ....
উল্টোদিকের মানুষটা যদি নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাহলে এভাবে কোনো সম্পর্ক দীর্ঘজীবী হতে পারে না। তাই সেই মুহূর্তে নিজের থেকেই কিছুদিনের জন্য দূরত্ব বাড়িয়ে নেওয়া উচিত উল্টোদিকের মানুষটার থেকে...
দূরত্ব বাড়িয়ে নেওয়ার পর যদি উল্টোদিকের মানুষটা তোমায় খোঁজে, নিজের ভুল বুঝতে পেরে তোমার কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে বুঝে নিও সম্পর্ক এখনো ভালো আছে, জাস্ট কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পর্কটা শিথিল হয়ে গিয়েছিল.....
আর যদি তুমি দূরে সরে যাওয়ার পরও উল্টোদিকের মানুষটা তোমায় একবারও না খোঁজে, একবারও না তোমার সাথে কথা বলতে চায়, তাহলে বুঝে যেও সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গেছে, তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো....
নষ্ট সম্পর্কে পড়ে থাকার চেয়ে একা থাকা ভালো।
আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে সস্তা বানাই প্রিয় মানুষদের কাছে, আমরাই প্রয়োজনের থেকে বেশি যত্ন নিই প্রিয় মানুষটার, নিজের ইচ্ছেগুলোকে দমিয়ে উল্টোদিকের মানুষটার ইচ্ছেটাকে গুরুত্ব দিই সবসময়, আর সেখানেই সবচেয়ে বড় ভুল করি....
যে মানুষ নিজেকে গুরুত্ব দেয় না, তাকে কেউ কোনোদিন গুরুত্ব দেবে না, এটাই সমাজের নিয়ম...
একটা সম্পর্কে সবকিছুই সমান সমান হয়, কেউ একজন বেশি গুরুত্ব পাবে, আর কেউ একজন কোনো গুরুত্বই পাবে না, এভাবে সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকে না....
একটা সম্পর্কে দুজনকেই দুজনের ইচ্ছেটাকে গুরুত্ব দেওয়াটা দরকার। একজনের চাহিদা পূরণ হবে, আর একজনের কোনো চাহিদা পূরণ হবে না, এভাবে সম্পর্ক সুন্দর হয় না, বরং "বোঝা" হয়ে যায় একটা সময়ের পর....
তাই আমি মনে করি, কিছু কিছু সময় নিজের থেকেই সামান্য দূরত্ব বাড়িয়ে দেখে নেওয়া উচিত উল্টোদিকের মানুষটা আদৌ আমাদের পরোয়া করছে কিনা!
সামান্য দূরত্ব বাড়িয়ে দেখে নেওয়া উচিত সম্পর্কটা আদৌ ভালো আছে কিনা!.....