** কিছু মানুষ সারাজীবন একে অপরকে দূর থেকে ভালোবেসে যাওয়া ছাড়া একে অপরের কাছে কোনোদিন কোনোকিছু চায় না🌸
**কিছু মানুষের উপর বেশিক্ষণ রেগে থাকা যায় না।তাদের ভুল থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের কাছে বারবার ক্ষমা চেয়ে ফিরে যাই
**কিছু মানুষকে অনলাইন দেখলেই কথা বলতে ইচ্ছে করে,কিন্তু কথা বলা হয়ে ওঠে না। কারণ কিছু মানুষকে কল্পনায় ছোঁয়া যায়,বাস্তবে না
**কিছু সম্পর্কের নাম দেওয়া যায়না, কিন্তু তবু ডুবে যেতে ইচ্ছে করে...
**কেউ কেউ মুখে কিছু না বললেও,হাত ছেড়ে যাওয়া মানুষটাকে সারাজীবন যত্নে লুকিয়ে রাখে নিজের বুকের ভেতর❤️
**বুকের ভেতর ভিড় কমেছে, এবার তুমি ফিরতে পারো। বলতে গিয়েই থমকে দেখি, তখন তুমি অন্য কারও..
** কিছু মানুষের প্রতি দুর্বলতা থাকলেও, প্রত্যাখানের ভয়ে তাঁদেরকে নিজের ভালো লাগার কথা জানাতে ইচ্ছে করে না। ভালো লাগার কথা বললেই তাঁদের ভেতর অহংকারবোধ জন্মায় মারাত্মক ভাবে.... তাঁরা তখন আর উল্টোদিকের মানুষটাকে মানুষ বলে মনে করে না...
**কিছু মানুষের প্রেমে কখনো পড়তে নেই।একবার অধিকার বোধ জন্মে গেলে মানুষগুলোর প্রতি ভালোলাগা শেষ হয়ে যায়
**ভালোবাসতে যোগ্যতা লাগে না,কিন্তু ভালোবেসে একটা সম্পর্কের দায়িত্ব নিতে যোগ্যতা লাগে!যা সবার থাকে না🌸
ভালোবাসা একটা অনুভূতি যাতে যোগ্যতার প্রশ্ন আসে না, কিন্তু ভালোবাসা কে সুস্থ ভাবে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য দায়িত্ববোধ ও যোগ্যতার দরকার
**যে মানুষটার আত্মসম্মান বোধ নেই,তাঁকে সহজেই ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলা যায়
**জমছে স্মৃতির পাহাড়, সাক্ষী আছে ঘড়ি,
ভেতর ভেতর আমরা সবাই নিজের সাথেই লড়ি....
সব বৃষ্টি মনখারাপের হয় না, অসময়ে বৃষ্টি এলে হাতের মুঠোয় জল নিয়ে মাখিয়ে দিতে ইচ্ছে করে প্রিয় মানুষের গালে। গলায় সুর না থাকলেও গান গাইতে ইচ্ছে করে, ঠান্ডা হাওয়ায় ভিজতে ইচ্ছে করে...
ঠোঙা ভর্তি গরম জিলিপি নিয়ে রাস্তার ধারে টিনের শেডের নীচে দাঁড়িয়ে খেতে ইচ্ছে করে, লাল নীল কাগজের নৌকা বানিয়ে ভাসাতে ইচ্ছে করে....
ব্যাগের মধ্যে ছাতা ঢুকিয়ে কাছের মানুষের গা ঘেষে হাঁটতে ইচ্ছে করে, রাস্তায় জমা কাদাজলে জুতো খুলে লাফাতে ইচ্ছে করে.....
গলির ভেতর ঢুকে ঠোঁট ঠোঁট ঢুকিয়ে চুমু খেতে ইচ্ছে করে, একটা সাইকেল কারোর কাছ থেকে ধার নিয়ে কোনো একটা অচেনা জায়গায় চলে যেতে ইচ্ছে করে, যেখানে কেউ আমাদের চিনবে না। নামহীন স্টেশনে বসে দুকাপ চা খেতে ইচ্ছে করে মাটির ভাঁড়ে....
খুব জোরে জাপটে ধরতে ইচ্ছে করে মানুষটাকে, যাতে হাত ফস্কে পালাতে না পারে কোনোদিন...
সব বৃষ্টি অভিমানের হয় না, সব বৃষ্টি অযত্নের হয় না, সব বৃষ্টি অনাদরের হয় না, সব বৃষ্টি কান্না লুকোনোর হয় না।
কিছু বৃষ্টিতে দুটো মানুষ একে অপরকে ভালোবাসার, কাছে আসার আবদারে ভিজিয়ে দেয় আদ্যোপান্ত...
---------------------------------------------------------------02 -------------------------------------------------------------
শুনুন, কোনো মেয়ে যদি নিজের প্রেমিকের সাথে ঘনঘন ফেসবুকে ছবি আপলোড করে! কোনো ছেলে যদি নিজের প্রেমিকাকে ডেডিকেট করে চারটে কবিতার লাইন লেখে, তাতে আপনার এত ফাটে কেন?
কোনো মেয়ে যদি প্রেমিকের কাছ থেকে পাওয়া উপহার হোয়াটস এপের স্ট্যাটাসে দেয়, কোনো মধ্যবয়স্ক লোক যদি নিজের স্ত্রীর জন্মদিন সেলিব্রেট করার ছবি ফেসবুকের স্টোরিতে দেয়, তাতে আপনার সমস্যা কোথায়?
কোনো ছেলে যদি ভিড় রাস্তায় নিজের প্রেমিকাকে প্রপোজ করে, কোনো মেয়ে যদি তিনবেলা তার প্রেমিককে "খাওয়া হলো" কিনা জিগ্যেস করে, তাতেই বা আপনার কেন মনে হয় সবই আদিখ্যেতা?
কোনো স্ত্রী যদি রাতের খাবারটা স্বামীর হাতে খেতে চায়, কোনো পুরুষ যদি স্ত্রী ঘুম থেকে ওঠার আগে তার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে যায় বেডরুমে, তাতেই বা আপনার কেন মনে হয় তারা ভীষণ ন্যাকা?
কোনো ছেলে যদি নিজের প্রেমিকার নামের প্রথম অক্ষরটা ট্যাটু করায় নিজের হাতে, কোনো মেয়ে যদি ভিড় ট্রেনে তার প্রেমিককে জড়িয়ে ধরে থাকে, তাহলে অসুবিধেটা কোথায়?
না কোনো ন্যাকামি নয়, না কোনো আদিখ্যেতা নয়, এটাও ভালোবাসা, ভালোবাসায় কেউ চুপ শান্ত ধীর স্থির হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ চিৎকার করে নিজের ভালোবাসাকে সকলের সামনে প্রকাশ করতে চায়...
সবকিছুতেই এত বিচার কেন করেন? যে যার মতো করে ভালোবাসে, ভালোবাসতে দিন...
যদি বলেন "শো অফ" করছে, তাতেই বা কি হয়েছে! ভালোবাসারই তো "শো অফ" করছে, ভালোবাসাই তো ছড়িয়ে দিচ্ছে! রাগ হিংসে, নোংরামি তো ছড়াচ্ছে না...
ভালোবাসার "শো অফ" করা ভালো, তাতে দুটো মানুষকে দেখে আর পাঁচটা মানুষ নিজের প্রেমিক প্রেমিকার কথা ভাবে ব্যস্ত ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে....
জীবনটা কোনো কবিতা বা সাহিত্য নয়, যে নিজের জীবনটাকে যেভাবে পারে আনন্দ করে, উপভোগ করে বাঁচুক, শুধু অন্যের ক্ষতি না করলেই হলো....
দয়া করে কাউকে আপনার নিজের মতো করে বিচার করবেন না, জীবনটা জটিল না করে সহজ ভাবে বাঁচাই হলো জীবন থেকে পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার, সবার এই উপহার পাওয়ার অধিকার আছে....
---------------------------------------------------------------03 -------------------------------------------------------------
"টাকলু, পেট ভুঁড়ি, মোটা কিংবা অতিরিক্ত রোগা, বেশি কথা বলা, চশমা পরা ছেলেদেরকে ভালো লাগে না, কেমন যেন বোকা বোকা লাগে। ছেলেরা একটু জিম করবে, ফিট থাকবে, দারুণ দেখতে হবে, শরীরে সামান্যও চর্বি থাকবে না, এরকম ছেলেদের বেশি ভালো লাগে".....
এই ধরণের মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক মেয়েকেই করতে দেখি, ইনফ্যাক্ট অনেক ছেলেরাও নিজের বন্ধু বান্ধবদের উদ্দেশ্যে এরকম মন্তব্য করে থাকে....
আমি জানি না আপনার কেমন ধরণের ছেলে পছন্দ!তবে ছেলেদের ব্যাপারে আমার একটু অন্যরকমের ভাবনা চিন্তা আছে। আপনার হয়তো বেশ রগরগে, কঠিন, বদমেজাজি, নাকউঁচু, অল্প কথা বলা ছেলে পছন্দ হতে পারে কিন্তু আমার মোটেই এই ধরণের ছেলে পছন্দ নয়....
আমার কাছে লুক্স টা ম্যাটার করে না....
আমি সেইসব ছেলেদের প্রতি মানসিক ভাবে আকর্ষিত হই যাঁরা খুব মাটির কাছাকাছি থাকে, নরম প্রকৃতির কিন্তু দৃঢ় স্বভাবের হয়.....
কোনো জিনিস অপছন্দ হলে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে না বলতে পারা ছেলেদের আমার ভালো লাগে....
দরদর করে ঘেমেও একটুও বিরক্ত না হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যে ছেলেটা গোলাপ ফুল হাতে অপেক্ষা করতে জানে, আমার ভালো লাগে সেই ছেলেটিকে....
মায়ের হাঁটুতে ব্যথা বলে সারারাত যে ছেলেটা না ঘুমিয়ে মায়ের পায়ের কাছে বসে থাকতে জানে, সেই ছেলেটির প্রতি আলাদা আকর্ষণ কাজ করে....
প্রেমিকার জন্মদিনে মাত্র ৫মিনিটের জন্য প্রেমিকাকে একবার দেখবে বলে যে ছেলেটা ভোর বেলায় উঠে ট্রেন জার্নি করে প্রেমিকার বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, সেই ছেলেটার প্রতি আলাদা মায়া কাজ করে....
স্ত্রী অফিস বেরোনোর সময় স্ত্রীর শাড়ির কুচি ঠিক করে দেওয়া, কপালে টিপ পরিয়ে দেওয়া ছেলেদের প্রতি একটা আলাদা মোহ তৈরি হয়...
প্রতি মাসে মাইনে পাওয়ার পর বাবা মাকে রেস্তোরাঁয় খাওয়াতে নিয়ে যাওয়া, ভাইবোনের জন্য উপহার কিনে আনা ছেলেদের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়....
প্রেমিকা ছেড়ে যেতে চাইলে হাউমাউ করে ফোনের ভেতর কেঁদে ওঠা ছেলেদের প্রতি একটা আলাদা মুগ্ধতা কাজ করে....
ঘরে অতিথি এলে আদর আপ্যায়ন করা, জলের গ্লাস এগিয়ে দেওয়া, চা বানিয়ে দেওয়া ছেলেদের প্রতি মুগ্ধতা সৃষ্টি হয়...
ভিড় বাসে নিজের বান্ধবীকে আগলে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেদের প্রতি একটা আলাদাই আবেগ জন্মায়....
ঘর ঝাঁট দেওয়া, ঘর গুছানো, টেবিলের ধুলো ঝেড়ে ফুলদানিতে সুগন্ধি ফুল রাখা, বাথরুম পরিষ্কার করা, স্ত্রীর জামাকাপড়গুলো কেচে দেওয়া, স্ত্রীয়ের সাথে রান্নাঘরে রান্না করা ছেলেদের প্রতি একটা শক্তপোক্ত বিশ্বাস তৈরি হয়....
দুজনের ভেতর ভীষণ রাগারাগির পরেও ফোন করে "তুমি না খেলে আমিও খাবো না" এই কথাটা বলা ছেলেদের প্রতি একটা মানসিক আকর্ষণ তৈরি হয়....
রাতের বেলা বুড়ো মায়ের গায়ের চাদরটা সরে গেল কিনা! বারবার উঁকি মেরে দেখে আসা ছেলেটার প্রতি প্রেম পায়....
অফিসের ছুটির দিনে স্ত্রীকে আরাম করতে বলে নিজেই মাছের ঝোলটা রান্না করে দারুণ ভাবে টেবিলে পরিবেশন করা ছেলেটার কাছে ঋণী হয়ে থাকতে ইচ্ছে করে....
মেয়েদের নিয়ে আমরা অনেক অনেক কিছু লিখি, এবং সেটা লেখাও উচিত। মেয়েদের বডি শেমিং প্রায়দিনই হয়....
কিন্তু ছেলেদেরও মারাত্মক ভাবে বডি শেমিং করা হয়, সেগুলো জাস্ট আমরা এড়িয়ে যায়...
বিশ্বাস করুন, "দেখতে কেমন" সেটা কোনো ম্যাটার করে না, বরং সে আপনাকে কোন চোখে দেখে, সেটা ম্যাটার করে....
---------------------------------------------------------------04 -------------------------------------------------------------
বাড়িতে ডেকে আদর আপ্যায়ন করা মানুষটাও তোমায় একদিন দূরে ঠেলে সরিয়ে দিতে পারে, তোমার চোখের জল মুছিয়ে তোমার ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে দেওয়ার মানুষটাও একদিন তোমায় ন্যাকা, সস্তা, ফালতু মনে করতে পারে....
ভেঙে পড়ার সময় কাঁধ বাড়িয়ে দেওয়ার মানুষটাও একদিন তোমায় অবিশ্বাস করতে পারে, তোমায় সুন্দর জিনিস উপহার দেওয়ার মানুষটাও একদিন তোমার জীবনে বিষ ঢেলে দিতে পারে.....
তোমায় ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে ধরা মানুষটাও একদিন তোমার বুকেই ছুরি বসাতে পারে....
তোমায় গোটা পৃথিবী মানা মানুষটাও একদিন তোমায় ফোন করে বলতে পারে "আমার ঠিক আর ভালো লাগছে না এই রিলেশনশিপে থাকতে".....
তোমায় নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়া মানুষটাও তোমার ফোনকলস ইগনোর করতে পারে, তোমার প্রোফাইল সারাদিন স্টক করে তোমায় নিয়ে নিজের বন্ধুমহলে বাজে কথা বলতে পারে.....
কাজেই নিজের আবেগকে সংযত করো, এখনকার দিনে বেশি আবেগপ্রবণ হওয়া অপরাধ, ভীষণ আবেগপ্রবণ মানুষরা যে কোনও কাউকে খুব অল্প সময়ে বিশ্বাস করে ফেলে। খুব আবেগপ্রবণ মানুষরা খুব অল্প সময়ে যে কোনো কাউকে বিশ্বাস করে নিজের সমস্ত গোপন কথা খুলে বলে দেয়....
আবেগহীন হওয়া যেমন অপরাধ, তেমনই খুব আবেগপ্রবণ হওয়াও অভিশাপ, যে অভিশাপ সারাজীবন নিজেকেই বহন করে নিয়ে বেড়াতে হয়....
সত্যিই আবেগী মানুষের জীবনে অনেক ঝড় আসে, তারা প্রতিনিয়তই আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত হয় তাই একটু সংযত হওয়া উচিত যাতে তার সহজ সরল মনটাকে নিয়ে কেউ খেলতে না পারে
-----------
কারোর বিয়ে ভেঙে গেলে আমি তার কাছে গিয়ে জিগ্যেস করি না,
"কিভাবে বিয়েটা ভাঙলো, কি হয়েছিল গো?"....
কারোর চোখের তলায় বীভৎস কালি পড়লেও আমি তাকে হুট করে জিগ্যেস করি না,
"এমা চোখের তলায় এত কালি কেন? কিছু হয়েছে নাকি"....
হাসতে থাকা মানুষগুলো হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে গেলেও আমি কখনোই তাদের জিগ্যেস করি না,
"এত চুপচাপ কেন? আগে তো বেশ আনন্দে থাকতে, হঠাৎ কি এমন হলো, যে চুপচাপ হয়ে গেলে?".....
বেশিরভাগ মানুষের ভেতর একটা চাপা যন্ত্রণা থাকে, কিছু ঘেঁটে যাওয়া অতীত থাকে, কিছু নরম দুঃখ থাকে, কিছু বিশ্বাসঘাতকতার গল্প থাকে, কিছু ব্যথা আর কিছু শোক থাকে.....
আমার ভালো লাগে না সবসময় এই যন্ত্রণাগুলোকে নাড়া দিতে, যতক্ষণ না মানুষটা নিজের থেকে এসে নিজের গল্প শোনায় ততক্ষণ বারবার খোঁচা মেরে জিগ্যেস করতে আর ভালো লাগে না.....
নিজের ব্যর্থতার কথা সেই মানুষটা খুব ভালো করেই জানে, তাই তাকে বারবার প্রশ্ন করে আর আয়না দেখাতে ভালো লাগে না....
তার চেয়ে কেউ যদি চোখের জল লুকিয়ে হাসির অভিনয়ও করে, আমি সেই অভিনয় বুঝতে পেরেও চুপ থাকি, তার অভিনয়কে সম্মান করি....
কাউকেই না বেশি প্রশ্ন করবেন না যতই আপনার কাছের মানুষ হোক না কেন!
কিছু ব্যথা কিছু হেরে যাওয়া অত্যন্ত ব্যক্তিগত হয়, সে যদি আপনাকে নিজের মনের অবস্থা জানাতে চায় তখন স্রেফ চুপচাপ শুনবেন....
জোর করে জানতে চাইবেন না, তাতে উল্টোদিকের মানুষটা আরও বেশি ক্ষতবিক্ষত হয়...
---------------------------------------------------------------05 -------------------------------------------------------------
এক একটা সম্পর্ক খুব ধুমধাম করে শুরু হয়, দুটো মানুষই রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেয়, দেখা হলেই চুমু খায় ঘনঘন, জড়াজড়ি করে নিজেদের ছবি দেয় ফেসবুকে, সেকেন্ডে সেকেন্ডে কাছের মানুষকে নিয়ে গুচ্ছ কবিতা লেখে....
তারপর যখন খুব ধীরে ধীরে কাছের মানুষকে খুব কাছ থেকে চিনতে শুরু করে, তখন একঘেয়েমি লাগে, বিরক্ত লাগে, উল্টোদিকের মানুষটার ছোট ছোট খুঁত গুলো বড্ড বেশি করে চোখে লাগে.....
দিনরাত ঝগড়া, অশান্তি, নোংরা খিস্তি, দোষারোপ, অপমান, পাল্টা অপমান চলতে থাকে...
অসহ্য লাগে, কতক্ষণে মুক্তি, আর কতক্ষণ! চারদশকের প্রেম কাটিয়ে আলটিমেটলি যখন সম্পর্কটা একদিন শেষ হয়, ভেতর ভেতর একটা উথালপাথাল হয় তখন, বাইরে কিন্তু দিব্যি ভালো থাকার মুখোশ পরে ঘোরে.....
এদিকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যায় দুটো মানুষের রাতের ঘুম, সকালের ব্রেকফাস্ট, দুপুরের খাবার, বিকেলে চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় দাঁড়ানো, সন্ধের বাজার....
মনে হয় যেমনই ছিল, তবুও তো ছিল মানুষটা, দমবন্ধ করা চিনচিনে যন্ত্রণা আঁকড়ে ধরে আষ্টেপৃষ্ঠে, না পারে চিৎকার করে কেঁদে উগরে দিতে সমস্তটা, আর না পারে পোয়াতি মেয়ের মতো দীর্ঘসময় বয়ে নিয়ে বেড়াতে দুঃখগুলো....
ঠিক এই মুহূর্তে এমন একটা মানুষ দরকার, যার সাথে কথা বললেই মন ভালো হয়ে যায়....
তাকে আমরা কক্ষনো দেখবো না, তাকে খুব কাছ থেকে জানার চেষ্টাও করবো না, বড্ড অচেনা হবে মানুষটা, টুকটাক কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে তাকে যতটুকু ছুঁয়ে থাকা যায়, অনুভব করা যায়, স্পর্শ করা যায়, ব্যস ওটুকুই, এর বেশি কিছু নয়....
আসলে, কিছু মানুষ নরম রোদ হয়ে আমাদের গালে আলতো হাত বুলিয়ে দিতে জানে...
কিছু মানুষের প্রেমে কোনোদিন পড়তে নেই, প্রেমে পড়লে মানুষগুলো সস্তা হয়ে যায়, অধিকার বোধ জন্মে গেলে ভালো লাগা উবে যায়....
সব ঘর তো নিজের হয় না তাই না! তবুও তো আমরা নিজেদের ঘর ভেবে কত আশ্রয়কে আপন করে ফেলি, কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলি, কত বেনামি কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ি, কত স্মৃতি জমিয়ে ফেলি.....
কিছু মানুষকে বাস্তবে রাখতে নেই, জীবনের খাতায় রাখতে নেই, শুধু মনখারাপের দিনে তাদের কাছে যেতে হয়....
কিছু মানুষকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে নেই, আবার হুটহাট খরচ করে ফেলতেও নেই, কিছু মানুষকে স্রেফ আজীবন ধরে স্মৃতির পাতায় সঞ্চয় করে যেতে হয়....
---------------------------------------------------------------06 -------------------------------------------------------------
"হিংসে" শব্দটা খুবই ছোট, কিন্তু এই ছোট্ট শব্দটাই আমাদের গোটা একটা জীবনকে শেষ করে দিতে পারে, আমাদের ক্লান্ত চোখ থেকে ঘুম আর শান্ত মন থেকে শান্তি কেড়ে নিতে পারে.....
আমরা বেশিরভাগ কেউই প্রিভিলেজড নই, সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি, আমাদেরকে প্রতিটা পরিস্থিতি সাথে লড়তে হয়, আমরা যে সব লড়াইয়ে জিতি, এমনটা নয়!....
আমরা হেরে যাই, মুখ থুবড়ে পড়ি, ফ্রাস্ট্রেটেড হই, তারপর আমরা নিজেদের সাথে অন্যের তুলনা করি, তার থেকেই জন্ম নেয় এক গভীর হিংসেবোধ....
পৃথিবীতে খুব কম মানুষই এমন আছে, যাদের ভেতর কোনোকিছুর জন্য কোনো হিংসেবোধ কাজ করে না...
আমরা মুখ থুবড়ে পড়া মানুষরা বেশিরভাগ সময় অন্যের সাথে নিজের তুলনা টেনে আনি খুব তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ ব্যাপারে....
অমুকের এত টাকা আছে অথচ ওর থেকে আমি পরিশ্রম করি বেশি তবুও আমার টাকা নেই কেন....
তমুককে দেখতে কত সুন্দর! আমাকে দেখতে নয় কেন....
অমুকের বর কত যত্ন নেয়, অমুকের প্রেমিকা একটুও সন্দেহ করে না, অমুকের প্রেমিক কত কি উপহার দেয়, তমুকের মা বাবা কত ভালো, নিজের ছেলে মেয়ের মন বুঝতে পারে, তমুকের পরিবার কত ভালো.....
যেন মনে হয় সবাই খুব ভালো আছে এবং সুস্থ ও সুন্দর আছে একমাত্র আমাকে বাদ দিয়ে....
বিষয়টা হলো, হিংসে শুধুমাত্র মানুষকে নয়, সম্পর্কগুলোকেও শেষ করে দেয়....
শুনুন, আমরা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে মেয়েরা কেউই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাইনি, তাই আমাদের সমস্ত ইচ্ছেগুলোকে আমাদেরই পূরণ করতে হবে.....
হ্যাঁ আমাদের লড়াই করতে হবে, জীবনে লড়াই না করে যারা সবকিছু পেয়ে যায়, তাদের সাফল্যের কাহিনী বা ব্যর্থতার গল্প শোনার জন্য কারোর ভেতর কোনো ইন্টারেস্ট থাকে না....
আপনি লড়াই করে সাফল্য পেলে সব্বাই আপনাকে নিজের অনুপ্রেরণা বানাবে, যাতে আপনার সাফল্যের কাহিনী শুনে অনেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে, নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করুন....
নিজের ভেতরের হিংসেটাকে জেদে পরিণত করুন, আর অন্য অনেকের চেয়ে নিজেকে অনেক উঁচুতে প্রতিষ্ঠিত করুন....
আমরা যারা নিজের কাছে যা কিছু আছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট নই, তাদের মনের ভেতর একটাই জেদ থাকা উচিত,
"অমুকের কাছে যা কিছু আছে, একদিন আমার কাছেও থাকবে, কিংবা তার থেকেও বেশি থাকবে" ব্যস এটুকু ভাবলেই আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারবো....
আজ হয়তো হচ্ছে না, একদিন ঠিক হবে, শুধু বারবার ভেঙে পড়ার পরেও উঠে দাঁড়ানোর জেদ থাকতে হবে....
বারবার ব্যর্থতা থেকে ফ্রাস্ট্রেশন আসবেই, যতবেশি ফ্রাস্ট্রেটেড হই আমরা, ততবেশি কাজ করার শক্তি কমে আসে...
হ্যাঁ আমাদের কাছে হয়তো অনেককিছুই নেই, কিন্তু আমাদের ভেতর জেদ থাকলে একদিন আমরা সাফল্য পাবোই, কোনো না কোনো ভাবে পাবোই....
**নিজের হিংসেকে জেদে পরিণত করো। আর যখনই ভাববে একশো শতাংশ ভাববে, একটু কম করে না জীবনের কাছ থেকে কিছু চাইবে, আর না কিছু ভাববে, যার যত অল্প চায় তারা সেটুকু কোনোদিন পায় না। তাই অনেকটা বেশি করে ভাববে, দেখবে একশো শতাংশ চাইলে পঞ্চাশ শতাংশ পাবে, আর পঞ্চাশ শতাংশ চাইলে আরো কম। সুতরাং একশো শতাংশ ভাবা ভালো
---------------------------------------------------------------07 -------------------------------------------------------------
মোটা মানুষকে মোটা বা রোগা মানুষকে রোগা বললেই সেটা বডি শেমিংএর পর্যায়ে চলে যায় না। যখন কোনো মোটা মানুষকে দেখে হাসাহাসি করা হয় কিংবা রোগা মানুষকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয় তখন সেটা বডি শেমিংএর পর্যায়ে যায়....
বাহ্যিক ভাবে সুন্দর হওয়াটা অপরাধ নয়, কিংবা সবার সামনে বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করাও অপরাধ নয়....
কিন্তু এই "বাহ্যিক সৌন্দর্যের" সংজ্ঞা এক একজনের কাছে এক একরকম, এবং সেটা খুবই স্বাভাবিক....
আমার কোনো কালো মেয়েকে পছন্দ হতেই পারে, তারমানে এই নয় আমি সমস্ত ফর্সা চামড়ার মেয়েদের শেমিং করবো! আমার খুব টানা টানা চোখ পছন্দ হতেই পারে, তারমানে এই নয় যে যার খুব চোখ ছোট, তাকে আমি ভীষণ অপছন্দ করবো!....
আমার লম্বা ফিগারওয়ালা ছিপছিপে ছেলে পছন্দ হতেই পারে, কিন্তু তারমানে এই নয় যে আমি মোটা ভুঁড়িওয়ালা ছেলেদের শেমিং করবো....
কারোর নাভি সুন্দর, কারোর বুকের খাঁজ সুন্দর, কারোর বুক সুন্দর, কারোর নাক, কারোর বডি, কারোর চুল সুন্দর আবার কারোর গোটা ব্যক্তিত্ব সুন্দর এবং এই সবকিছু নিয়ে প্রশংসা করা মানেই এই নয়, যাঁর মধ্যে এইজিনিস গুলো নেই, তাঁকে ঘেন্না করবো....
সবরকমের শরীর মডেল হিসেবে নির্বাচিত হতে পারে, শুধু দেখার চোখ থাকতে হয়। একজন খাঁটি ফটোগ্রাফারই পারে সবরকমের শরীরের ভেতর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে....
আর সবচেয়ে বড় কথা, বাহ্যিক দিক থেকে সবাইকে সুন্দর হওয়ারও দরকার নেই। যে সুন্দর হতে চায় তার একশো ভাগ অধিকার আছে নিজেকে সুন্দর করে সাজানোর....
আবার যে সুন্দর নয়, সেও তার নিজের মতো থাক...
আমি মনে করি সবরকমের শরীরের ভেতর কিছু না কিছু সৌন্দর্য আছে, শুধু সেটা ফুটিয়ে তোলার জন্য এক জোড়া নিখুঁত চোখ চাই....
এমনকি নগ্নতাও সুন্দর, কিন্তু সেই নগ্নতাকে ফুটিয়ে তুলতে জানতে হয়। নগ্নতা আর অশ্লীলতার মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে.....
**হ্যাঁ আমি মনে করি কেউ অতিরিক্ত মোটা হলে বা অতিরিক্ত রোগা হলে তাকে বলাই যায় ভালোভাবে। মা তো রোজই বলে "এত রোগা হচ্ছিস কেন"? কোনও মোটা বন্ধুকে দেখলে বলি "আর কত মোটা হবি, এবার একটু কমা, নইলে বয়স বাড়লে কত রোগে ধরবে" নিশ্চই এগুলো বডি শেমিং নয়। আজকে জয়া আহসানের ছবিতে কমেন্ট করলাম, "আপনার নাভিটা কি সুন্দর, ইসসস আমার নাভির ফুটো খুব ছোট, আমার ওরকম সুন্দর নাভি চাই" তাতে দেখলাম একজন এসে বলছে "এটা একটা ছেলে বললে নাকি বডি শেমিং হতো" আমি জানি না, ছেলেরা বললে কেনই বা বডি শেমিং হতো? আর আমার কথাটার মধ্যেই বা কোথায় বডি শেমিং লুকিয়েছিল? কারোর সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসা করা মানেই বডি শেমিং!!!
হ্যাঁ এবার যদি কেউ বলে "আমি তোমার নাভিটা চাটতে চাই" সেক্ষেত্রে অবশ্যই এটাকে বডি শেমিং বলে। আমি দেখেছি কোনো ফর্সা মেয়ের বা কোনো সুন্দর ছেলে বা মেয়ের তারিফ করলেই লোকে এখন বলে "এমা তুমি রেসিস্ট? এইতো এত বড় বড় লেখা লেখো কালো মেয়েদের নিয়ে,মানসিক সৌন্দর্য নিয়ে"....
কি আশ্চর্য, আমি বুঝি না সুন্দর হওয়া কি পাপ? কেউ সুন্দর হলে তার প্রশংসা করলেই সেটা রেসিজম কেন হবে?? আমি তো কোনো কালো মেয়ে নিয়ে হাসাহাসি করিনি....
যাইহোক আজকাল এসব নিয়ে তর্কে জড়াতে বিরক্ত লাগে, তাই সরে আসি।
---------------------------------------------------------------08 -------------------------------------------------------------
মেসেজের রিপ্লাই না পেলেও, ছবিতে করা কমেন্টের রিপ্লাই না পেলেও কিছু মানুষের অভিমান হয় না, খারাপ লাগে না, বিরক্ত লাগে না, শুধু সারাদিনে মানুষটার প্রোফাইলে একবার হলেও গিয়ে দেখে আসে, কিছু লিখলো কিনা! কিছু শেয়ার করলো কিনা! কতক্ষন অনলাইন আছে! কোনো ছবি পোস্ট করলো কিনা!....
মনে মনে পছন্দের মানুষটাকে ভেবে কত গল্প করে, ব্যস! তারা জানে কোনোদিন মানুষটাকে হয়তো সামনে থেকেও দেখতে পাবে না, তবুও এটুকুতেই তারা ভালো থাকে....
জীবনের কাছে কোনো চাওয়া পাওয়া, দাবি দাওয়া নেই ওদের! যেখান থেকে যতটুকু ভালোবাসা, অবহেলা, যন্ত্রণা পায়, সবটাই জমিয়ে রাখে.....
কারোর কাছে কিচ্ছু খরচ করে না, উগরে দেয় না, কারোর কাছে আঘাত পেলে চুপচাপ সরে আসে, কিন্তু অপমান করতে জানে না কাউকেই এরা। ভালোবাসা পেলে যেভাবেই হোক আগলে রাখে, কিন্তু মুখ ফুটে দৃঢ় গলায় বলে না কোনোদিন,
"আমি ভালোবাসি তোমায়, তোমায় সারাজীবনের মতো পেতে চাই একার করে! আমি চাই তুমি আমার ব্যক্তিগত সম্পদ হয়ে আমায় ঘিরে থাকো, ভোরের শিশির হয়ে আমার গায়ে ঝরে পড়ো!".....
এরা কাছের মানুষকে দেখলে চোখ নামিয়ে নেয়, জোর গলায় চিৎকার করে বলতে পারে না কখনোই,
"আমরা যাদের চোখের বালি, বুঝিয়ে দেবো ওদের,
স্নেহের ছায়া বাড়তে থাকে, যায় না পুড়ে রোদে".....
এরা বলতে পারে না গুছিয়ে নিজের মনের কথা, কিন্তু একটা মানুষের জন্য জীবন দিয়ে দিতে পারে, এদের চোখে চোখে অনেক গল্প থাকে, তবে চোখের ভাষা পড়ে নেওয়ার দক্ষতা ঈশ্বর সবাইকে দেয় না!....
ঠোঁটের কোনায় একটা নরম হাসি ঝুলিয়ে এরা ঘরের যাবতীয় কাজ চুপচাপ করে যায়, বাবার চশমা সারিয়ে আনা, মায়ের ওষুধ এনে দেওয়া, টেবিলের ধুলো ঝেড়ে দেওয়া, সকালের রান্না করা, বইয়ের তাক গোছানো, পাশের বাড়ি রহমান জেঠিমার বাজার করে এনে দেওয়া...
এদের কারোর প্রতি কোনো রাগ নেই, কোনো আক্ষেপ নেই, কোনো দীর্ঘশ্বাস নেই, কোনো অভিমান নেই, কোনো কান্না নেই, কোনো ব্যথা নেই, আবার ভালোবাসা পাওয়ার কোনো চাহিদাও নেই.....
এরা কাউকে কখনো আটকায় না, কেউ পিঠের মধ্যে ছুরি বসিয়ে ছেড়ে যেতে চাইলেও দরজা খুলে দেয়! দুইদিন রাত জাগে, বুকের বাঁ দিকটা চিনচিন করে হালকা, মাঝেমধ্যে মদ খায়, আবার আগের মতো নিজের ছন্দে ফিরে যায়....
কিছু মানুষ এমনই হয়, এই মানুষগুলোকে যারা নিজের জীবনে পায়, তাদের মতো সুখী মানুষ এই পৃথিবীতে নাই...