ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করলেই বা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেই যে তাকে যখনতখন মেসেঞ্জারে ভিডিও কল দেওয়া যায়, এমনটা নয়....
খুব মিশুকে মানুষ মানেই তাকে যখন তখন প্রেম করার বা শুয়ে পড়ার প্রস্তাব দেওয়া যায়, এমনটা নয়....
খুব শান্ত গম্ভীর মানেই তার ভীষণ এটিটিউড আছে, ভীষণ অহংকার আছে, এমনটা নয়....
ভীষণ সুন্দরী মানেই তার কোনো শিক্ষা নেই, বুদ্ধি নেই, রূপ দেখিয়ে টাকা ইনকাম করে, ছেলেদের মাথা খায়, এমনটা নয়....
সারারাত জেগে থাকলেই যে সে সবার জন্য এভেলেবেল, এমনটা নয়....
বারবার অবহেলা সহ্য করে পড়ে থাকে সম্পর্কে, তার মানেই যে তার আত্মসম্মান বোধ নেই বা সে খুব সস্তা, এমনটা নয়....
অনেক টাকা রোজগার করে, নিজের মতো ঘুরে বেড়ায় তার মানেই যে সে অসৎ পথে টাকা ইনকাম করে, সে কাউকে পাত্তা দেয় না, নিজের বাবা মাকে দেখে না, গরিব মানুষের কষ্ট বোঝে না, এমনটা নয়....
ছোট ড্রেস পরে তারমানেই সে বেশ্যা, সে সংসার করার উপযুক্ত নয়, সে কোনোদিন গুছিয়ে সংসার করতে পারবে না, এমনটা নয়....
ভালো রান্না করতে জানলেই যে মেয়েটা বিয়ের পর চারবেলা শুধু রান্নাঘরেই খুন্তি নাড়বে, আর ভালো মন্দ রান্না করবে, তার আর নিজস্ব কোনো জগৎ থাকবে না, এমনটা নয়....
দূর থেকে কাউকে দেখে বিচার করার এই বদভ্যাসটা ত্যাগ করুন....
দূর থেকে যাকে দেখে যেমনটা মনে হয়, তার সাথে একবার মিশলে সেই সমস্ত ধারণা পাল্টে যায়....
তাই যাকে ভালো লাগবে না, তাকে এড়িয়ে চলুন কিন্তু দয়া করে নিজের মতো জাস্ট কিছু একটা ভেবে নেবেন না তার সম্পর্কে.....
আর অন্যের প্রাইভেসিতে ঢোকার আগে অনুমতি নিতে শিখুন....
----------------------------------------------------------------------------------------------------- 02 ---------------------------------------------------
হাজারটা অবহেলা অপমান সহ্য করেও তুমি এতদিন যে মানুষটার পাশে ছিলে, সেই মানুষটার পাশ থেকে জাস্ট কদিনের জন্য সরে যাও....
তুমি সরে গিয়ে দেখো সে তোমায় খুঁজছে কিনা! নিজেকে তার কাছ থেকে আড়াল করে দেখো সে তোমায় গুরুত্ব দিচ্ছে কিনা!....
ভালোবাসা একতরফা হতে পারে, কিন্তু সম্পর্ক কখনোই একতরফা গড়ে ওঠে না। তাই একটা সম্পর্কে দুজনেরই দুজনের প্রতি একিরকমের ডেডিকেশন, বিশ্বাস, বন্ধুত্ব থাকা উচিত....
যে মানুষটা সারাটাদিন অপেক্ষা করে তার কাছের মানুষটার গলার আওয়াজ শোনার জন্য, থালা আগলে সারাটা রাত বসে থাকে, হাজারটা অপমান সহ্য করে, হাজারটা অভিমান জমিয়েও প্রিয় মানুষটার জন্মদিন কখনো ভুলে যায় না, বারবার অবহেলিত হয়েও প্রিয় মানুষটার জ্বর হলে ছুটে যায়, সেই মানুষটাকে ইগনোর করা পাপ....
উল্টোদিকের মানুষটা যদি নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাহলে এভাবে কোনো সম্পর্ক দীর্ঘজীবী হতে পারে না। তাই সেই মুহূর্তে নিজের থেকেই কিছুদিনের জন্য দূরত্ব বাড়িয়ে নেওয়া উচিত উল্টোদিকের মানুষটার থেকে...
দূরত্ব বাড়িয়ে নেওয়ার পর যদি উল্টোদিকের মানুষটা তোমায় খোঁজে, নিজের ভুল বুঝতে পেরে তোমার কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে বুঝে নিও সম্পর্ক এখনো ভালো আছে, জাস্ট কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পর্কটা শিথিল হয়ে গিয়েছিল.....
আর যদি তুমি দূরে সরে যাওয়ার পরও উল্টোদিকের মানুষটা তোমায় একবারও না খোঁজে, একবারও না তোমার সাথে কথা বলতে চায়, তাহলে বুঝে যেও সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গেছে, তখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো....
নষ্ট সম্পর্কে পড়ে থাকার চেয়ে একা থাকা ভালো।
আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে সস্তা বানাই প্রিয় মানুষদের কাছে, আমরাই প্রয়োজনের থেকে বেশি যত্ন নিই প্রিয় মানুষটার, নিজের ইচ্ছেগুলোকে দমিয়ে উল্টোদিকের মানুষটার ইচ্ছেটাকে গুরুত্ব দিই সবসময়, আর সেখানেই সবচেয়ে বড় ভুল করি....
যে মানুষ নিজেকে গুরুত্ব দেয় না, তাকে কেউ কোনোদিন গুরুত্ব দেবে না, এটাই সমাজের নিয়ম...
একটা সম্পর্কে সবকিছুই সমান সমান হয়, কেউ একজন বেশি গুরুত্ব পাবে, আর কেউ একজন কোনো গুরুত্বই পাবে না, এভাবে সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকে না....
একটা সম্পর্কে দুজনকেই দুজনের ইচ্ছেটাকে গুরুত্ব দেওয়াটা দরকার। একজনের চাহিদা পূরণ হবে, আর একজনের কোনো চাহিদা পূরণ হবে না, এভাবে সম্পর্ক সুন্দর হয় না, বরং "বোঝা" হয়ে যায় একটা সময়ের পর....
তাই আমি মনে করি, কিছু কিছু সময় নিজের থেকেই সামান্য দূরত্ব বাড়িয়ে দেখে নেওয়া উচিত উল্টোদিকের মানুষটা আদৌ আমাদের পরোয়া করছে কিনা!
সামান্য দূরত্ব বাড়িয়ে দেখে নেওয়া উচিত সম্পর্কটা আদৌ ভালো আছে কিনা!.
----------------------------------------------------------------------------------------------------- 03 ---------------------------------------------------
"জীবনে চাহিদা যত কম থাকবে জীবন ততই বেশি সুন্দর হবে" আমি এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নই....
সবার জীবন এক সরলরেখায়, এক যুক্তিতে, এক নিয়মে, এক সূত্রে চলে না....
এক একজনের জীবনে চাহিদা খুব কম থাকে, সেটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু যার জীবনে অনেক চাহিদা আছে, অনেক ইচ্ছে আছে, অনেক স্বপ্ন আছে তাকে কেনই বা কম্প্রোমাইজ করতে হবে, তাকে কেনই বা মানিয়ে নিতে হবে? তাকে কেনই বা নিজের চাওয়াপাওয়া গুলোর সাথে বোঝাপড়া করতে হবে.....
ব্যাপারটা হলো, যার জীবনে অল্প চাহিদা আছে, সেও যেমন সুন্দর, আবার যার জীবনে অনেক অনেক চাহিদা আছে সেও সুন্দর। শুধু নিজের সমস্ত চাহিদাগুলোকে পূরণ করার পথটা জানতে হবে....
নিজেকে পরিশ্রম করতে হবে, নিজের ইচ্ছেগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে, সেগুলো নিয়ে দিনরাত খোলা চোখে স্বপ্ন দেখতে হবে....
এবং সবচেয়ে যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, জীবনের কাছে যাদের বিশাল চাহিদা আছে তারা যেন নিজের জীবনে নিজের মতোই একজন লাইফ পার্টনার পায়....
জীবনের কাছে অনেক অনেক চাহিদা থাকা মানুষগুলোর এমন একজন পার্টনার থাকা দরকার, যে পার্টনার সেই চাহিদাগুলোকে গুরুত্ব দেবে এবং দুজনে মিলে দিনরাত পরিশ্রম করে সেইসব চাহিদাগুলোকে, স্বপ্ন গুলোকে পূরণ করবে....
আমার যদি ফ্ল্যাট কিনতে ইচ্ছে হয়, সেই ফ্ল্যাটটাকে নিজের মতো সাজাতে ইচ্ছে হয়, তাহলে যেন আমার পার্টনারও একইসাথে ফ্ল্যাট কেনার এবং ফ্ল্যাটটাকে সাজানোর স্বপ্নটা দেখে। দুজনে মিলে একসঙ্গে লড়াই করলেই জীবনে সব স্বপ্ন পূরণ হতে পারে....
একা একা লড়াই করে নিজের ইচ্ছেগুলো পূরণ করা ভীষণ শক্ত, অসম্ভব নয়, তবে শক্ত। সেই জায়াগায় দুজনে মিলে যদি একটাই স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্নটাকে যদি একসঙ্গে পূরণ করার জন্য পরিশ্রম করে, তাহলে জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে....
জীবনের কাছে প্রচুর প্রচুর চাহিদা থাকা জীবনে দুঃখ পাওয়ার কারণ হতে পারে না, যদি আমরা সেইসব চাহিদা গুলোকে পূরণ করার সঠিক পথ খুঁজে পাই....
অন্যের ঘাড়ের উপর নিজের সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে দিনরাত "আমার কোনো স্বপ্ন পূরণ হলো না, আমি জীবনে কিছুই পেলাম না" বলে ঘ্যানঘ্যান করলে জীবন থেকে দুঃখ কোনোদিন কমবে না....
দুজনে মিলে লড়াই করতে হবে, আর তার জন্য একজন সঠিক লাইফ পার্টনার থাকা আবশ্যিক। জীবনে প্রচুর চাহিদা থাক, শুধু সেই চাহিদাগুলোকে পূরণ করার মতো জেদ, ইচ্ছে, সাহস ও আত্মবিশ্বাসও যেন থাকে, তাহলেই কোনো রাস্তা কঠিন হয়....
----------------------------------------------------------------------------------------------------- 04 ---------------------------------------------------
তোমার সাথে হাসিখুশি ভাবে কথা বলতে থাকা মেয়েটা যদি হঠাৎ করেই চেঞ্জ হয়ে যায় কিংবা তোমার সাথে আগের মতো কথা বলে না অথবা নিজেকে গুটিয়ে রাখছে, তাহলে তুমি ধরে নিতে পারো মেয়েটা তোমার উপর দুর্বল হয়ে পড়েছে... এবং সে যে দুর্বল হয়েছে এটা যাতে তুমি বুঝতে না পারো তাই সে নিজেকে একটু তোমার থেকে এড়িয়ে চলছে !!
.
মেয়েরা সহজই কোন ছেলের উপর দুর্বল হয়ে পড়ে না, কিন্তু যদি কারোর উপর দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে সেটা বেশ খুব বড়সড় ভাবেই পড়ে... তোমার সাথে ঠিকমত কথা না বললেও প্রতিনিয়ত তোমার খোজ ঠিকই রাখবে... তুমি কোথায় যাও কি করো এসবও সে ঠিকই দেখেশুনে রাখবে কিন্তু তোমাকে বুঝতে দিবে না !!
.
তোমার খারাপ কোন কাজে সে কষ্ট পাবে... গভীর রাতে একা একা কাঁদবে... কেউ তোমাকে নিয়ে বাজে কিছু বললে প্রতিবাদ করবে... প্রয়োজনে তোমাকেও শাসন করবে বকাঝকা করবে যাতে তুমি নিজেকে বুঝতে পারো, তবুও তোমাকে যে ভালোবাসে এটা সে বলবে না... মেয়েরা দরকার পরলে শত্রুকেও বলে থাকে কিন্তু যাকে ভালোবাসে তাকে বলে না !!
.
অপরদিকে ছেলে মানুষগুলো বড্ড বোকা... আমিও বোকা... ছেলেরা আসলে বুঝে না, বুঝতেও চায় না... বরং উল্টো ভুল বুঝতে শুরু করে... হাসিখুশি ভাবে কথা বলা মেয়েটা যদি বদলে যায়, তখন ছেলেটা মনে করে মেয়েটা তার উপর রেগে আছে... তাকে দেখতে পারে না, সহ্য হয়না, ইত্যাদি... এসব ভেবে ছেলেটাও নিজেকে গুটিয়ে নেয় !!
.
অথচ ছেলেটা জানে না যে মেয়েটা তাকে পছন্দ করে, তাই সে নিজের ইচ্ছামতো চলতে থাকে... ঠিক এভাবেই ছেলেরা তাদের মতো করে সরে যায় আর মেয়েরাও সবকিছু লুকিয়ে রাখে... ধীরে ধীরে মেয়েদের দুর্বলতাও কমতে শুরু করে... তারপর একটা সময় হারিয়ে যায় ভালোবাসা !!
.
অধিকাংশ ছেলেই মনে করে আজো তাদের কেউ ভালোবাসেনি, পছন্দ করেনি, তার উপর কেউ দুর্বলও হয়ে পড়েনি... কিন্তু তা আসলে নয়, প্রত্যেক ছেলের উপরই কোন না কোন মেয়ের একটা সময় হলেও ভালোবাসা জন্মেছিলো... কিন্তু খুব কম সংখ্যক ছেলেই সেই ভালোবাসা ধরতে পেরেছে... বুঝতে পেরেছে !!
.
ছেলেরা বুঝে না আর মেয়েরা বলে না এই দুই সমীকরণের জন্যই অধিকাংশ মেয়েই তাদের পছন্দের মানুষটিকে কাছে পায় না... মেয়েদের বুক ফেটে চৌচির হয়ে যাবে তবুও তারা মুখ ফুঁটে বলবে না ভালোবাসি... আহা লজ্জাবতী, বড়ই আফসোস !!
19 May 2018