যা কিছু হয় সব ভালোর জন্যই হয়
যা কিছু হয় সব ভালোর জন্যই হয়
"আক্ষেপ" ভীষণ ভারী একটা শব্দ, জীবনে অনেককিছুই হারিয়েছি, অনেক মানুষ, অনেক মুহূর্ত হারিয়েছি কিন্তু কখনো আক্ষেপ করিনি....
টাকাপয়সা বাড়িগাড়ি পাইনি বলে কখনো আক্ষেপ করিনি, প্রিয়জন ঠকিয়ে চলে গেছে বলে কখনো আক্ষেপ করিনি.....
নিজের কাছের মানুষের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়েছি, কিন্তু বুকের ভেতরে কোনো আক্ষেপ পুষে রাখিনি....
পা ভেঙে দুই মাস বিছানায় থাকাতে স্কুলের পরীক্ষা দিতে পারিনি বলে কান্নাকাটি করেছি কিন্তু কখনো আক্ষেপ করিনি, নিজের মনকে বুঝিয়েছি "যা হয়, ভালোর জন্যই হয়"......
প্রথম প্রেমে চূড়ান্ত ভাবে ঠকে যাওয়ার পরেও কোনোদিন আক্ষেপ করিনি.....
আক্ষেপ শব্দটা একটা গোটা জীবনকে কুরেকুরে শেষ করে দেয়। এক একটা দীর্ঘশ্বাস এক একটা আক্ষেপের জন্ম দেয়,আর চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে মাঝরাতে.....
আক্ষেপের একটা ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে ঠিক পেঁয়াজের মতো অনেকটা। যখনই কোনোকিছু না পাওয়ার জন্য আক্ষেপ করেছি, তখনই শুধুই কান্না ছাড়া আর কিছু জমাতে পারিনি দু হাতের মুঠোয়...
তাই নিজের জীবন নিয়ে, জীবনে না পাওয়া সুযোগ নিয়ে, হারিয়ে ফেলা মানুষজন নিয়ে আর আক্ষেপ করি না। এখন আর কোনো মানুষকে আটকে রাখি না, এখন নিজেকে বুঝিয়ে নিয়েছি কিছু মানুষ চলে যাওয়ার জন্যই আমাদের জীবনে আসে....
এখন মানুষের আসা যাওয়াটা আর কোনো ম্যাটার করে না। কেউ যদি থেকে যায় তাকে গুরুত্ব দিই, আর কেউ না থাকতে চাইলে তাকে দরজা খুলে দিই....
আর কোনো আক্ষেপ করি না কারোর জন্য, এখন অনেকটা পরিণত হয়ে গেছি। একা থাকতে শিখে গেছি, নিজেকে গোছাতে শিখে গেছি....
আর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে শিখে গেছি,
"যা কিছু হয় সব ভালোর জন্যই হয়".....
---------------------------------------------------------------02 -------------------------------------------------------------
আমরা যার প্রতি আকর্ষণ বোধ করি, তাকে পরীক্ষানিরীক্ষা না করেই ভালোবাসি। আমরা যার প্রতি আকর্ষণ বোধ করি, তার জন্য নিজের সবটা খালি করে দিতে পারি একঝটকায়....
আমরা যার প্রতি আকর্ষণ বোধ করি, তার কাছে বারবার অপমানিত হয়েও পড়ে থাকি, তার কাছে আমরা ঠকতে চাই বারবার....
আমরা আগের থেকেই ঠিক করে নিই যে এই মানুষটা আমাদের জন্য পারফেক্ট, আমাদের যত্ন নেওয়ার জন্য এই মানুষটাই পারফেক্ট। একজন অচেনাকে যাচাই না করেই ভেবেনি আমাদের আগলে রাখার ক্ষমতা এই মানুষটার আছে....
সে হয়তো পাত্তাও দেয় না আমাদের, তিনচারদিন বাদে একবার খোঁজ নেয়, অথচ আমরা তার জন্যই অপেক্ষা করি। ভাত খেতে খেতে তার কথা ভাবি, একটা রিংটোন, তার একটা গলার আওয়াজ শোনার জন্য রাতের পর রাত জেগে থাকি....
একবার সে "শুনছো" বলে ডাকলে কেমন যেন মাতাল মাতাল লাগে নিজেকে, সে যত দূরে ঠেলে দেয়, ততই কাছে যাওয়ার তীব্রতা বেড়ে যায়, জেদ চেপে যায় মাথায়। যতই সে আঘাত করে, ততই আরো আরো বেশি করে ভালোবেসে ফেলি তাকে, দূর থেকে তাকে ছুঁতে চাই, তার থেকে পাওয়া ব্যথা গুলোকে ভেতর ভেতর যাপন করি....
সে বারবার অপমান করে তাড়িয়ে দিলেও আমরা কোনোদিন অপমান করতে পারি না তাকে, বরং তার থেকে অপমান পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করি....
আসলে ভীষণভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটা ভীষণরকম জাঁকানো যন্ত্রণার দরকার, যাকে জাপটে ধরে সারাটা জীবন "বেঁচে আছি, ভালো আছি" বলা যায়...
---------------------------------------------------------------03 -------------------------------------------------------------
শুনুন, এই বছর বেঁচে গেলে একটা কাজ করবেন। নিজের জীবন থেকে নেগেটিভ মানুষগুলোকে দয়া করে সরিয়ে দেবেন.....
আপনাকে না চিনে জেনে, আপনার সাথে না মিশে, না কথা বলে শুধুমাত্র অন্যের কথায় আপনাকে যারা অত্যন্ত "খারাপ মানুষ" মনে করে। বিশ্বাস করুন তাদের জন্য আপনি যাই কিছু করুন না কেন! দুটো কিডনি দিয়ে দিলেও তাদের কাছে "খারাপ মানুষ" হয়েই থাকবেন.....
তাই এই সমস্ত নেগেটিভ মানুষদের দয়া করে নিজের জীবন থেকে সরিয়ে দেবেন.....
পরিবারের লোকও যদি আপনাকে নিয়ে কেচ্ছা রটায়, সবসময় খোঁটা দিয়ে কথা বলে, তাঁদেরকেও বাদ দিন নিজের জীবন থেকে.....
খুব কম মানুষেরই ধারণা পাল্টায়, খুব কম মানুষ ফিরে এসে আমাদের চোখে চোখ রেখে বলতে পারে, "সরি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম, পারলে ক্ষমা করে দিও".....
যাঁরা ক্ষমা চায়, যাঁরা অন্যের কথায় আপনাকে জাজ করেনি কোনোদিন, যোগাযোগ কম থাকলেও যাঁরা আপনাকে নিয়ে নিন্দে করেনি কখনো, যাঁরা আপনার দুর্বলতা জানা সত্ত্বেও আপনাকে সস্তা মনে করেনি, একমাত্র তাঁদেরকেই আপনার জীবনে রাখুন.....
আর একধরণের মানুষকে সরিয়ে দেবেন নিজের জীবন থেকে, যাঁরা সারাটাক্ষণ দুঃখ ছড়াতে ভালোবাসে। এই ধরণের মানুষকে জীবনে রাখা মানেই ধীরে ধীরে আপনি ডিপ্রেশনে চলে যাবেন....
একটা সামান্য বেসুরো গলায় গান গাইলেই যারা কমেন্টে বক্সে এসে বলে যায় "ইসসস কি বাজে"! একটু ভালো পোশাক পরলেই যারা বলতে শুরু করে "এই সময়ে দাঁড়িয়েও আপনার এত ভালো পোশাক পরতে ইচ্ছে করছে?"
একটা সামান্য প্রেমের কবিতা লিখলেই যারা বলতে থাকে "এত প্রেম পাচ্ছে এখনো!"
একটা নাচ করলেই, একটা আঁকা আঁকলেই যারা অখাদ্য কমেন্ট করতে থাকে, তাদেরকে ব্লক করে দেবেন....
আপনার যা ইচ্ছে মনে হয়, আপনি করুন (অন্যের ক্ষতি না করে)! হ্যাঁ এখন খুব খারাপ সময় চলছে, কিন্তু খারাপ সময়ে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে ভালো থাকতে শেখানোই হলো বেঁচে থাকার আসল মানে....
কোনো অসুস্থ মানুষকে যেমন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন এই সময়ে, তেমনই নিজেকে ভালো রাখার জন্যও নিজের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন.....
সমস্ত নেগেটিভ লোকজনদের বাদ দিন জীবন থেকে....
জীবন এমনিতেই সুন্দর, শুধু জীবনটাকে সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে শিখলেই আপনি ভালোভাবে বাঁচতে শিখে যাবেন....
---------------------------------------------------------------04 -------------------------------------------------------------
মানুষ সম্পর্ক লুকোতে পারে, প্রিয়জনের নাম লুকিয়ে রাখতে পারে কিন্তু আবেগগুলো লুকোতে পারে না।
মানুষ রাগ, ক্ষোভ, অপমান লুকোতে পারে, কিন্তু অভিযোগ লুকাতে পারে না।
মানুষ ভেঙে পড়লেও চুপ থাকতে পারে, কিন্তু তার দুই চোখ বলে দেয় তার একটা আশ্রয়ের দরকার প্রচন্ড, একটা কোলের দরকার।
মানুষ কান্না, দুঃখ, যন্ত্রণা, চিৎকার লুকোতে পারে, কিন্তু গভীর অভিমান লুকাতে পারে না।
মানুষ কাছের মানুষকে সবার আড়ালে সরিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু কাছের মানুষটাকে হারিয়ে ফেলার ভয় লুকোতে পারে না....
মানুষ তীব্র রোদেও হেঁটে যেতে পারে, তবুও তার দীর্ঘশ্বাস বলে তার একটা ছায়ার দরকার....
মানুষ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে কিন্তু ভালোবাসায় পড়লে তার অনুভূতিগুলোকে লুকোতে পারে না, আয়নায় নিজেকে দেখলেই বুঝতে পারে, সে কাউকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছে...
---------------------------------------------------------------05 -------------------------------------------------------------
যাদেরকে ছোট বেলা থেকে শুনতে হয় "অসুন্দর, বাজে দেখতে", যারা নিজেদেরকে কখনো সুন্দর মনে করে না, যাদের পকেটে টাকা নেই, যাদের মাথায় বুদ্ধি কম, যারা ছোটবেলায় লাস্ট বেঞ্চে বসতো,
তারা খুব ভালোভাবে বুঝে যায়, যে তাদের জন্য কোথাও কোনো মানুষ কোনোদিন অপেক্ষা করবে না, তাদের জন্য কোনো মানুষ ঘরের কোনায় বসে হাউমাউ করে কাঁদবে না।
তারা বুঝে যায়, শেষ ট্রেনে করে তাদের জন্য কেউ বাড়ি ফিরবে না, তাদের জন্মদিনে কেউ তাদের কোনো সারপ্রাইজ দেবে না। ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের কথা ভেবে কেউ ফাঁকা স্টেশনে বসে মেসেজ দেবে না.....
তারা বুঝে যায়, তাদের জন্য কেউ ভাতের থালা আগলে ঘুমভর্তি চোখ নিয়ে জেগে থাকবে না। গায়ের চাদর সরে গেলে তাদের গায়ে চাদর জড়িয়ে দেবে না, ঠান্ডা লাগলে ফ্যান অফ করে দেবে না....
তারা বুঝে যায়, বৃষ্টির দিনে তাদের কেউ ছাতা ধরিয়ে দেবে না হাতে, প্রখর রোদে ফিরলে ঘরে রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মোছানোর একটা লোকও থাকবে না তাদের কাছে....
তারা খুব ভালোভাবে বুঝে যায়, তারা ঘরে না থাকলে কেউ তাদের বিছানা ঝেড়ে দেবে না, ধুলো ভর্তি তাক ঝেড়ে মুছে ফুলদানি সাজিয়ে রাখবে না....
তারা বুঝে যায়, জ্বর হলে মিনিটে মিনিটে কেউ ফোন করে তাদের খবর নেবে না, ওষুধ এগিয়ে দেবে না....
এই মানুষগুলো নিজের মনখারাপ নিজেরাই সারিয়ে ফেলে, নিজেরাই মাথা ব্যথার ওষুধ খেয়ে খালিপেটে ঘুমিয়ে পড়ে, নিজেদের জন্য নিজেরাই ভাত রান্না করে, সময় পেলে নিজেদের ঘর নিজেই গোছায়, ঠান্ডা লাগলে মাঝরাতে নিজেরাই ফ্যান অফ করতে ওঠে....
এদের কারোর কাছেই কোনো এক্সপেক্টেশন থাকে না, সবার আড়ালে লুকিয়ে বাঁচিয়ে চোখ নীচু করে হেঁটে যায়।যে মানুষগুলোর কেউ থাকে না, সেই মানুষগুলো ভেতর ভেতর হাজার বার মরে গিয়ে নিজের জন্য বাঁচতে শিখে যায়....
একটা সময়ের পর এই মানুষগুলো এতটাই শক্ত হয়ে যায় যে নিজের জীবনে আর কাউকেই হুটহাট ভিড় বাড়াতে দেয় না....
** আমাদের জীবনে সবচেয়ে খারাপ সময়গুলোতে সবচেয়ে ভালো মানুষগুলো আসে!কিন্তু তাদের বিশ্বাস করার মতো আর কোনও ক্ষমতা বেঁচে থাকে না আমাদের ভেতর -------
** সব মানুষই এক একটা চিঠির মতো হয়।কিছু চিঠি আগলে রাখা উচিত গোটাজীবন,আর কিছু চিঠি পড়ার পর ছিঁড়ে ফেলা উচিত
**প্রতিহিংসা কেবল অন্যকে পোড়ায় না,প্রতিহিংসাতে মানুষ নিজেও পুড়তে পুড়তে শেষ হয়ে যায়"
**দুনিয়ায় এমন কিছু ভিখারি আছে,যারা প্রাক্তনের থেকে পাওয়া উপহার বর্তমান প্রেমিক/প্রেমিকাকে দেয় 😒