ছোট বাচ্চা বিড়ালের (kittens) সঠিক যত্নের জন্য উষ্ণতা, ঘনঘন খাবার, এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ১ মাসের কম বয়সী বাচ্চার জন্য ক্যাট মিল্ক রিপ্লেসার (KMR) বা ড্রপারে দুধ এবং ৪ সপ্তাহ পর সিদ্ধ মাছ/মাংস ও শুকনো খাবার (kitten food) দিতে হবে। প্রতিদিন পরিষ্কার পানি ও একটি উষ্ণ, শান্ত ঘুমানোর জায়গা দিন। ৬-৮ সপ্তাহে প্রথম ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক ঔষধের জন্য ভেটেরিনারি পরামর্শ নিন। বাচ্চা বিড়াল পালনের বিস্তারিত নিয়মাবলী:
১ মাস বা তার কম বয়সী বাচ্চার যত্ন:
খাবার: একদম ছোট বাচ্চাদের গরুর দুধ দেওয়া যাবে না, এতে ডায়রিয়া হতে পারে। Pet.com.bd এর পরামর্শ অনুযায়ী, পেট শপ থেকে কেনা 'Kitten Formula' বা 'KMR' ছোট ফিডার/সিরিঞ্জ দিয়ে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর খাওয়াতে হবে।
উষ্ণতা: বাচ্চাদের শরীর উষ্ণ রাখতে হবে। একটি ঝুড়িতে নরম কাপড় বিছিয়ে নিরাপদ জায়গায় রাখুন।
টয়লেট: খাওয়ালে পর হালকা গরম পানিতে ভেজা টিস্যু বা কাপড় দিয়ে বাচ্চার পেটের নিচ ও মলদ্বার আলতো করে মুছতে হবে, যাতে সে পটি/পি করে।
১ মাস বা তার বেশি বয়সী বাচ্চার যত্ন:
খাবার: এসময় থেকে সিদ্ধ মাছ (কাঁটা ছাড়া), সেদ্ধ মুরগির মাংস, বা AmarPet.com এর পরামর্শ অনুযায়ী ভালো মানের ক্যাট ফুড দিতে পারেন।
পটি ট্রেনিং: একটি ছোট পাত্রে ক্যাট লিটার (Cat Litter) বা শুকনো বালি রেখে সেখানে বিড়ালটিকে রাখুন। খাবারের পর সে নিজে থেকেই সেখানে পটি করতে শিখবে।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা:
ভেটেরিনারি চেকআপ: জন্মের ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম ভ্যাকসিন এবং পশু চিকিৎসকের পরামর্শে কৃমিনাশক ঔষধ দিন।
পরিচ্ছন্নতা: বিড়াল খুব পরিষ্কার প্রাণী। লিটার বক্স প্রতিদিন বা ২ দিন পর পর পরিষ্কার করুন।
খেলার ছলে আদর: বাচ্চার সাথে খেলা করুন, এতে সে মানুষের সাথে মিশতে শিখবে।
করণীয় ও বর্জনীয়:
খাবার: মাছ/মাংস সিদ্ধ করে দিন, মসলাযুক্ত খাবার একদম নয়।
পানি: সবসময় পরিষ্কার পানি খেতে দিন।
পরিবেশ: ঝুড়ি বা বিছানা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
ইসলামের দৃষ্টিতে বিড়াল পালন করা সম্পূর্ণ জায়েজ বা বৈধ, তবে এটি সরাসরি কোনো ‘সুন্নত’ নয়। অর্থাৎ, বিড়াল পুষলে আলাদা কোনো সুন্নতের সওয়াব পাওয়া যায় না, তবে বিড়ালের প্রতি দয়া বা যত্নশীল হলে সওয়াব পাওয়া যায়।
বিড়াল পালন সংক্রান্ত ইসলামের মূল নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:
বৈধতা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বিড়াল পালনে কখনো নিষেধাজ্ঞা দেননি। প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বিড়াল খুব ভালোবাসতেন এবং লালন-পালন করতেন।
বিড়াল অপবিত্র নয়: বিড়াল কোনো নাপাক প্রাণী নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিড়াল তোমাদের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করে। বিড়ালের মুখের উচ্ছিষ্ট খাবার বা পানি নাপাক বা অপবিত্র নয়।
পালনের প্রধান শর্ত: বিড়ালকে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দিতে হবে। তাকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া বা আটকে রেখে না খাইয়ে মারা কবিরা গুনাহ।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে (৫৭৪৫) এসেছে যে— এক মহিলাকে একটি বিড়াল আটকে রেখে না খাইয়ে মেরে ফেলার কারণে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তাই ঘরে বিড়াল রাখলে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও যত্ন নিতে হবে।