ঘরে তৈরি সুগন্ধি বা হ্যান্ডমেড পারফিউম (Handmade Perfume) ত্বকের জন্য কোমল এবং এটি সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত। নিচে মাত্র ৩টি মূল উপাদান দিয়ে খুব সহজে স্প্রে পারফিউম বানানোর পদ্ধতি দেওয়া হলো:
প্রয়োজনীয় উপকরণ
এসেনশিয়াল অয়েল (Essential Oils): আপনার পছন্দের সুঘ্রাণের তেল (যেমন: ল্যাভেন্ডার, জেসমিন, চন্দন, বা লেমনগ্রাস)।
ভদকা (Vodka) বা রাবিং অ্যালকোহল (70% - 90%): ২ টেবিল চামচ (এটি সুগন্ধি ছড়িয়ে দিতে এবং দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে)।
ডিস্টিলড ওয়াটার (Distilled Water) বা মিনারেল ওয়াটার: ২ টেবিল চামচ।
একটি খালি স্প্রে বোতল: (গাঢ় রঙের কাঁচের বোতল হলে পারফিউম দীর্ঘস্থায়ী হয়)।
সুঘ্রাণের পারফেক্ট কম্বিনেশন (নোটস)
একটি ভালো পারফিউমে ৩ ধরণের নোট বা সুঘ্রাণ থাকে। আপনি মোট ৩০-৪০ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল নিচের অনুপাতে মেশাবেন:
বেস নোট (Base Note): সুগন্ধি দীর্ঘস্থায়ী করে (যেমন: চন্দন, ভ্যানিলা, বা সিডারউড) — ১০-১২ ফোঁটা।
মিডল নোট (Middle Note): পারফিউমের আসল সুঘ্রাণ (যেমন: গোলাপ, জেসমিন, বা ল্যাভেন্ডার) — ১৫-২০ ফোঁটা।
টপ নোট (Top Note): বোতল খুললেই প্রথম যে ঘ্রাণ পাওয়া যায় (যেমন: লেবু, কমলা, বা বারগামট) — ৫-১০ ফোঁটা।
পারফিউম তৈরির ধাপসমূহ
অ্যালকোহল ও তেল মেশানো: প্রথমে স্প্রে বোতলে ২ টেবিল চামচ অ্যালকোহল নিন। এবার এতে আপনার পছন্দমতো বেস, মিডল এবং টপ নোটের এসেনশিয়াল অয়েলগুলো ফোঁটায় ফোঁটায় ঢালুন।
মিশে যাওয়া ও অপেক্ষা: বোতলের মুখ বন্ধ করে জোরে জোরে ঝাঁকান। উপাদানগুলো ভালোভাবে মিশে যাওয়ার পর বোতলটি কোনো অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গায় ৪৮ ঘণ্টা থেকে ১ সপ্তাহ রেখে দিন। যত বেশি দিন রাখবেন, সুঘ্রাণ তত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
পানি যোগ করা: সময় পার হওয়ার পর বোতলটি বের করে তাতে ২ টেবিল চামচ ডিস্টিলড ওয়াটার বা মিনারেল ওয়াটার যোগ করুন।
চূড়ান্ত ঝাঁকুনি: বোতলটি আবার ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল আপনার নিজস্ব হ্যান্ডমেড পারফিউম।
ব্যবহারের নিয়ম ও সংরক্ষণ
ব্যবহার: প্রতিবার ব্যবহারের আগে বোতলটি হালকা ঝাঁকিয়ে নিন। কবজি, গলা এবং কানের পেছনে (Pulse Points) স্প্রে করলে ঘ্রাণ বেশিক্ষণ থাকে।
সংরক্ষণ: সরাসরি রোদ থেকে দূরে কোনো ঠান্ডা ও অন্ধকার স্থানে রাখলে এটি ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।