কৃষিতে 'সার' হলো এমন পদার্থ যা মাটিতে প্রয়োগ করলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং পুষ্টির অভাব পূরণ হয়। সারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: জৈব সার (Organic) এবং রাসায়নিক সার (Inorganic/Chemical)।
সারের প্রধান প্রকারভেদ ও কাজ
উদ্ভিদের সুষম বৃদ্ধির জন্য ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) এবং পটাশিয়াম (K) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রাসায়নিক সার (Chemical Fertilizers): এগুলো দ্রুত কাজ করে এবং সুনির্দিষ্ট পুষ্টি সরবরাহ করে।
ইউরিয়া (Urea): ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে। এটি গাছের পাতা সবুজ করতে এবং দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
টিএসপি (TSP) / ডিএপি (DAP): এগুলো ফসফরাস সমৃদ্ধ। গাছের শিকড় মজবুত করতে এবং ফুল-ফল ধারণে সহায়তা করে।
এমওপি (MOP/Potash): এতে পটাশিয়াম থাকে যা গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফলের আকার ও স্বাদ উন্নত করে।
জৈব সার (Organic Fertilizers): এগুলো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এবং মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী করে।
গোবর সার ও কম্পোস্ট: মাটির গঠন উন্নত করে এবং পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার): এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং পরিবেশবান্ধব।
সার প্রয়োগের নিয়ম ও সময়
সময়: সাধারণত সকালেই সার প্রয়োগ করা সবচেয়ে ভালো, কারণ দিনের আলোতে গাছ খাদ্য তৈরি করতে পারে।
পদ্ধতি: গাছের গোড়া থেকে কিছুটা দূরে চারদিকে ছড়িয়ে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে পানি দিতে হবে। সরাসরি গাছের কাণ্ডে সার লাগানো ক্ষতিকর।
পর্যায় অনুযায়ী: চারা অবস্থায় নাইট্রোজেন ও ফসফরাস (যেমন DAP) এবং ফুল-ফল আসার সময় পটাশ সার (যেমন MOP) বেশি প্রয়োজন হয়।